কলকাতা, সোমবার ২৩ জানুয়ারি ২০১৭, ৯ মাঘ ১৪২৩

রবিবার | রেসিপি | আমরা মেয়েরা | দিনপঞ্জিকা | শেয়ার | রঙ্গভূমি | সিনেমা | নানারকম | টিভি | পাত্র-পাত্রী | জমি-বাড় | ম্যাগাজিন

মিলনমেলায় চলছে ভাঙা-গড়া, সময়ে বইমেলার স্টল শেষ করা নিয়ে দুঃশ্চিন্তা

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: শনিবার রাতে শেষ হয়েছে বিশ্ব বঙ্গ বাণিজ্য সম্মেলন। আর তার তিন দিনের মাথায় ৪১তম কলকাতা আন্তর্জাতিক বইমেলার উদ্বোধন। এই অল্প সময়ের মধ্যে মিলনমেলা প্রাঙ্গণ বইমেলার উপযোগী হয়ে উঠবে কি না, তা নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে। কারণ, বিশ্ব বঙ্গ বাণিজ্য সম্মেলনের জন্য বই মেলার স্টল তৈরির কাজে হাতই দেওয়া যায়নি। তার উপর এখন সম্মেলনের যাবতীয় কাঠামো খোলার কাজ চলছে। তাই শেষ মুহূর্তে ঘুম উড়েছে উদ্যোক্তাদের। ফলে ২৫ জানুয়ারির আগে কীভাবে প্রায় ৬০০ স্টল তৈরি হবে, তা নিয়ে এখন দুঃশ্চিন্তায় রয়েছেন গিল্ডের কর্তারা। যদিও তাঁদের আশা, সময়ের মধ্যেই সব কাজ শেষ হবে।

রবিবার বিকালে মেলা প্রাঙ্গণে গিয়ে দেখা গেল, ভাঙা-গড়ার কাজ চলছে। একদিকে, বাণিজ্য সম্মেলনের বিরাট বিরাট হোর্ডিং খোলার জন্য কসরত চালিয়ে যাচ্ছেন কর্মীরা। লোহার কাঠামোগুলিকে হাতুড়ি দিয়ে ভাঙার আপ্রাণ চেষ্টা করছেন। আরেকদিকে বেঙ্গল বিজনেজ সামিটের বড় বড় পোস্টারগুলি ছিঁড়ে এক জায়গায় স্তূপাকার করে রাখা হয়েছে। অসংখ্য ছোট-মাঝারি কাঠের টুকরো পড়ে রয়েছে। আরেকদিকে, বই মেলার জন্য স্টল তৈরির কাজ চলছে। এমন অনেক স্টল চোখে পড়ল, যেখানে স্রেফ কাঠামোই তৈরি হয়েছে। যেমন, থিম কান্ট্রি কোস্টা রিকার কাছে কয়েকটি ছোটখাট স্টলের এই অবস্থা। আবার শাসক দলের পত্রিকা জাগো বাংলার স্টলের প্রস্তুতির ধরন দেখে মনে হল, তাঁদের কম করে তিন থেকে চারদিন লেগে যেতে পারে। প্রতি বছরের মতো এবারও গ্রাম বাংলার আদলেই তাদের স্টল তৈরি হচ্ছে।

অর্ধেকের বেশি স্টলে ভিতরের সজ্জা চলছে। প্লাইউড লাগানোর কাজ শেষ পর্যায়ে। কিন্তু তারপরও সেখানে অন্তত ৪০ থেকে ৬০ শতাংশ কাজ বাকি রয়েছে। কোথাও আবার সেই প্লাইগুলির উপর রংয়ের প্রলেপ পড়ছে। কিন্তু বিশ্ব বঙ্গ বাণিজ্য সম্মেলনের কাঠামো খোলা আর বই মেলার স্টল তৈরির কাজ একসঙ্গে চলছে বলে মসৃণভাবে কাজ করা যাচ্ছে না বলেই অনেক কর্মী জানাচ্ছেন। তাঁদের মতে, সম্মেলনের জন্য রাজ্য সরকারের তরফে যে তাঁবু তৈরি করা হয়েছে, তার আশপাশে স্টল তৈরির কাজ করতে গিয়ে সমস্যা হচ্ছে। কারণ, কয়েকটি তাঁবু খোলার কাজ চলছে। বড় বড় লোহার কাঠামো খুলে ছড়িয়ে পড়ে রয়েছে। একই সঙ্গে সেখানেই কাঠের কাঠামো তৈরি করতে হচ্ছে স্টল কর্মীদের। তবে পাঁচটির মধ্যে তিনটি তাঁবু রেখে দিচ্ছে গিল্ড। সেখানে ছোট স্টল তৈরি করা হবে। এদিন মেলা প্রাঙ্গণ পরিদর্শনে আসেন পাবলিশার্স অ্যান্ড বুকসেলার্স গিল্ডের সভাপতি শুধাংশু দে। তিনি বলেন, শনিবার রাতে আমরা মাঠ পেয়েছি। তারপর থেকে জোর কদমে কাজ চলছে। আশা করছি উদ্বোধনের আগেই সমস্ত স্টলের কাজ শেষ হয়ে যাবে।

গিল্ড কর্তা এই কথা বললেও, পুরোপুরি নিশ্চিন্ত হতে পারছেন না কর্মী থেকে প্রকাশনা সংস্থার কর্তারা। এবছর এরকম পরিস্থিতি হবে, সে ব্যাপারে কেউ ঘনাক্ষরেও টের পাননি। কর্মীদের এখন সারা রাত কাজ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সূত্রের খবর, দু’দিনের মাথায় কী করে এই কাজ শেষ হবে, তা নিয়ে চিন্তিত গিল্ডের কর্তাদের একাংশও। যদিও মুখে বলছেন, কাজ হয়ে যাবে। এদিকে, এবারের বইমেলায় মুখ্যমন্ত্রীর ছ’টি বই প্রকাশিত হওয়ার কথা রয়েছে। তবে তা নিয়েও সংশয় রয়েছে। কারণ, চারটি বইয়ের নাম পাওয়া গেলেও, দুটির নাম আসেনি। এখনও বইয়ের কভার, ডিজাইন ইত্যাদি বাকি রয়েছে। এই চারটি বইয়ের নাম হল সিঙ্গুর জয়ী, নামাঞ্জলী, ব্যক্তিত্ব (কবিতার বই) এবং খুশবু নামে একটি উর্দু বই।

ব্যাংকিং, বিদ্যুৎসহ কয়েকটি বড় শিল্প নোট বাতিলের
জেরে লাভবান হয়েছে, বলছে সমীক্ষা

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি নোট বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর থেকে বিরোধীরা বলে আসছে, দেশের অর্থনীতিতে বড় ধাক্কা দেবে এই সিদ্ধান্ত। এতে ছোট ব্যাবসা থেকে শুরু করে গোটা শিল্পক্ষেত্র যেমন মার খাবে, তেমনই দেশের সামগ্রিক উৎপাদন বা জিডিপিও কমবে। তবে সামগ্রিকভাবে এই মতের সঙ্গে একাত্ম হতে পারছে না শিল্পসংস্থাগুলি। দেশের একটি প্রথম সারির বণিকসভা সমীক্ষা করে জানাচ্ছে, বিদ্যুৎ, ওষুধ, জ্বালানি তেল, তথ্যপ্রযুক্তি ও বৈদ্যুতিন যন্ত্রাংশ এবং ফিনান্স ও ব্যাংকিং সেক্টরের ব্যাবসা বাড়বে নোট বাতিলের সিদ্ধান্তে। তবে অবশ্যই মার খাবে ছোট ও মাঝারি শিল্প এবং কৃষি, বলছে ওই সমীক্ষা।

সমীক্ষাটি বলছে, নোট বাতিলের জেরে চলতি আর্থিক বছরের শেষ ত্রৈমাসিকে সবচেয়ে ক্ষতির মুখে পড়েছে ছোট দোকান, গ্রামের ব্যাবসা। চাহিদা কমার কারণেই মার খেয়েছে ভোগ্যপণ্য ব্যাবসা, ক্ষুদ্র, ছোট ও মাঝারি শিল্প। অন্তত ৮১.৫ শতাংশ ছোট ব্যাবসা মার খেয়েছে নোট বাতিলকাণ্ডে, বলছে সমীক্ষা। তবে বড় শিল্পগুলি প্রাথমিকভাবে হয়তো বিষয়টিতে খুব একটা ধাক্কা খায়নি। কিন্তু সমীক্ষা বলছে, দীর্ঘমেয়াদে এক্ষেত্রে লাভবান হবে সেই সংস্থাগুলি। নোট বাতিলের জেরে চাহিদা কমায় তার প্রভাব পড়বে মুদ্রাস্ফীতিতে। তা মুদ্রাস্ফীতি কমাতে সাহায্য করবে বলে মনে করছে সমীক্ষা। তার হাত ধরেই শিল্প চাঙা হবে, আশা বণিকসভার।

নোট বাতিল নানা সেক্টরে কতটা প্রভাব ফেলল, তার হিসাব কষতে গিয়ে সমীক্ষাটি বলছে, কৃষি ক্ষেত্রে খারাপ প্রভাব পড়েছে ৭৭.৮ শতাংশ। সিমেন্টে খারাপ প্রভাব ৭৪.১ শতাংশ। সার ও কীটনাশক ব্যাবসায় সেই প্রভাব ৬৩ শতাংশ, অটোমোবাইল বা গাড়ির ব্যাবসায় ৮১.৫ শতাংশ, পোশাকশিল্পে ৭৭.৮ শতাংশ, রিয়েল এস্টেট বা আবাসন শিল্পে ৮৮.৯ শতাংশ, রিটেলে ৭৭.৮ শতাংশ কুপ্রভাব পড়ছে, জানাচ্ছে সমীক্ষা।

এর বিপরীত হিসাব বলছে, নোট বাতিলে ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে যে শিল্পগুলিতে, তার মধ্যে অন্যতম ব্যাংকিং এবং ফিনান্স ব্যাবসা। এই ব্যাবসায় ৯৬.৩ শতাংশ ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে। এর পর রয়েছে বিদ্যুৎ। তার হার ৯২.৬ শতাংশ। জ্বালানি ব্যাবসায় ৮৮.৯ শতাংশ, তথ্যপ্রযুক্তিতে ৮৫.২ শতাংশ, ওষুধ শিল্পে ৮১.৫ শতাংশ ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে, বলছে বণিকসভার সমীক্ষা।

আগামী ১ ফেব্রুয়ারি সংসদে বাজেট পেশ করবেন অর্থমন্ত্রী অরুণ জেটলি। বণিকমহলের বক্তব্য, নোট বাতিলের জেরে সমস্যার আঘাত পড়ছে বেশ কিছু সেক্টরে। যত তাড়াতাড়ি কেন্দ্রীয় সরকার বাজেটে সেগুলির সুরাহা করতে পারবে, ততই মঙ্গল হবে অর্থনীতির।

নোট বাতিলের শেষ ১০ দিনে জমা পড়া টাকার কাটাছেঁড়া
শুরু করল সরকার, নজরে মেয়াদি আমানতও

নয়াদিল্লি, ২২ জানুয়ারি (পিটিআই): নোট বাতিল পরবর্তী টাকা জমার উপর নজরদারির সীমা বাড়াল সরকার। এবার ডিমানিটাইজেশন (নোট বাতিল)-এর শেষ ১০ দিনে খোলা নয়া অ্যাকাউন্টগুলিতে জমা পড়া টাকার পরিমাণ, ঋণ পরিশোধ, ই-ওয়ালেটে পাঠানো টাকা এবং আমদানি ব্যবসায় অগ্রিম টাকা পাঠানোর উপর কাটাছেঁড়া শুরু করল আয়কর বিভাগ ও এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট।

৫০০ ও ১০০০ টাকার নোট বাতিলের পর যে সমস্ত অ্যাকাউন্টে প্যান নম্বর ছাড়া ৫০ হাজার টাকার বেশি জমা করা হয়েছে, সেগুলিতে ইতিমধ্যে পদক্ষেপ শুরু করেছে আয়কর বিভাগ। তারা সরকারি ক্ষমতা ব্যবহার করে সেই সমস্ত ব্যক্তিকে খুঁজে বের করার চেষ্টা চালাচ্ছে। এর ফলে বড় অঙ্কের কর আদায় হবে বলে আশা দপ্তরের। নামপ্রকাশে অনিচ্ছুক আয়কর বিভাগের এক আধিকারিক একথা জানিয়েছেন।

শুধু নোট বাতিলের শেষ ১০ দিনে খোলা নয়া অ্যাকাউন্ট বা ই-ওয়ালেটে টাকা পাঠানো হয়, বিভিন্ন ব্যাংকে আরটিজিএস বা অন্যান্য মাধ্যমে কত টাকা পাঠানো হয়েছে তার উপরও নজর রাখছে সরকারি এজেন্সিগুলি। পাশাপাশি, নোট বাতিলের পর খোলা নয়া লোন অ্যাকাউন্ট ও মেয়াদি আমানতে জমা পড়া টাকা নিয়ে কাটাছেঁড়া করছে তারা। আয়কর বিভাগ জানতে পেরেছে, দেশের ৬০ লাখের বেশি অ্যাকাউন্টে দু’লাখ বা তার বেশি টাকা জমা পড়েছে। যার মোট পরিমাণ ৭ লক্ষ ৩৪ হাজার কোটি টাকা। এছাড়া, উত্তর-পূর্বের রাজ্যগুলিতে জমা পড়েছে ১০ হাজার ৭০০ কোটি টাকারও বেশি। পাশাপাশি ওই আধিকারিক জানিয়েছেন, ইডি ও আয়করের পাওয়া তথ্য মতে দেশের বিভিন্ন সমবায় ব্যাংকের অ্যাকাউন্টে জমা পড়া মোট টাকার পরিমাণ ১৬ হাজার কোটির বেশি। যেখানে আঞ্চলিক গ্রামীণ ব্যাংকগুলিতে জমা পড়েছে ১৩ হাজার কোটি টাকারও বেশি।

‘তাড়াহুড়ো হলে কমতে পারে জিডিপি’
জিএসটি কাউন্সিলের ‘বেআইনি’ সিদ্ধান্ত লাগু নিয়ে
হুঁশিয়ারি, কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রীকে চিঠি আধিকারিকদের

নয়াদিল্লি, ২২ জানুয়ারি (পিটিআই): তাড়াহুড়ো করে পণ্য পরিষেবা কর (জিএসটি) লাগু হলে আরও কমতে পারে দেশের জাতীয় বৃদ্ধির (জিডিপি) হার। নোট বাতিলের পর জিডিপি কমার শঙ্কার মধ্যেই এমনই জানাল কেন্দ্রীয় শুল্ক দপ্তরের গ্রুপ বি গেজেটেড এক্সিকিউটিভ অফিসারদের সংগঠন। এই মর্মে তারা কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী অরুণ জেটলিকে একটি চিঠিও দিয়েছে। সেখানে ‘অল ইন্ডিয়া অ্যাসোসিয়েশন অব গ্রুপ বি সেন্ট্রাল এক্সাইজ গ্যাজেটেড এক্সিকিউটিভ অফিসার্স’ (এআইএজিবিসিইজিইও) জিএসটি কাউন্সিলের নেওয়া সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। পাশাপাশি, কাউন্সিলের সংবিধান স্বীকৃত ক্ষমতার কথা উল্লেখ করে ‘বেআইনি’ সিদ্ধান্তের জন্য আইনি পদক্ষেপের হুঁশিয়ারিও দিয়েছে তারা। যার জেরে জিএসটি লাগু পিছিয়ে যেতে পারে।

গত ১৬ জানুয়ারি রাজ্যগুলিকে নিয়ে বৈঠকে বসেছিল জেটলির নেতৃত্বাধীন জিএসটি কাউন্সিল। সেখানে রাজ্যগুলিকে জলসীমার ১২ নটিক্যাল মাইলের মধ্যে আর্থিক কার্যকলাপে কর আদায়ের অধিকার দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি, যে সমস্ত সংস্থার বার্ষিক ব্যবসার পরিমাণ দেড় কোটি টাকার কম, সেরকম ৯০ শতাংশ সংস্থার কর নির্ধারণ ও আদায় করার অধিকার রাজ্যগুলিকে দেওয়া হবে বলেও কাউন্সিলের বৈঠকে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। আর এই দু’টি বিষয় নিয়েই আপত্তি রয়েছে আয়কর আধিকারিকদের সংগঠনের। বিষয়টিকে তারা ‘বেআইনি’ বলেও উল্লেখ করেছে।

সংগঠন জানিয়েছে, এটা বলার বাকি রাখে না যে, জিএসটি কাউন্সিলের নেওয়া বেআইনি সিদ্ধান্ত যদি কেন্দ্র বাস্তবায়িত করে, তাহলে জিএসটি লাগু করতে অহেতুক দেরি হবে। জেটলিকে দেওয়া চিঠিতে ওই সংগঠনটি আরও জানিয়েছে, ৫০০ ও ১০০০ টাকার নোট বাতিলের ফলে দেশের জিডিপি কমপক্ষে ১ শতাংশ কমতে পারে। আর এই পরিস্থিতিতে যদি আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার ফলে জিএসটি লাগু আরও দেরি হয়, তাহলে জিডিপি আরও কমতে পারে। ফলে আর্থিকভাবে ভুগতে পারে দেশ। এপ্রসঙ্গে, তারা কাউন্সিলের সংবিধান স্বীকৃত অধিকার নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে।

এআইএজিবিসিইজিইও’র মতে, জলসীমার ১২ নটিক্যাল মাইলের মধ্যে আর্থিক কার্যকলাপে কর আদায়ের অধিকার রয়েছে কেন্দ্রীয় সরকারের হাতে। একইসঙ্গে, রাজ্য বা কেন্দ্রীয় জিএসটি বা আইজিএসটি আদায়ের অধিকারও কেন্দ্রের।

ত্রিপুরায় রোজভ্যালির ৫টি সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করল ত্রিপুরা সরকার

আগরতলা, ২২ জানুয়ারি (পিটিআই): রোজভ্যালির সমস্ত স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করার প্রক্রিয়া শুরু করে দিল ত্রিপুরা সরকার। গতকাল রাতেই এই চিটফান্ড সংস্থার পাঁচটি সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে বলে রবিবার সরকারের তরফে জানানো হয়েছে। ত্রিপুরার মোট ২০টি এলাকায় রোজভ্যালির স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তি রয়েছে। সাব ডিভিশন্যাল ম্যাজিস্ট্রেট সমিত রায়চৌধুরির নেতৃত্বে গতকালই বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে পাঁচটি সম্পত্তি। এর মধ্যে একটি বিনোদন পার্ক, একটি চা বাগান এবং একটি বহুতল আবাসনও রয়েছে।

গত ২০ বছর ত্রিপুরায় চিটফান্ডের ব্যবসা করে আসছিল রোজভ্যালি। সংস্থার বিভিন্ন আমানত প্রকল্পে টাকা রেখে প্রতারিত হয়েছেন রাজ্যের বহু মানুষ। সম্প্রতি ত্রিপুর বিধানসভায় আমানতকারীদের অধিকার সুরক্ষা সংক্রান্ত আইন পাশ করায় বাম সরকার। সেই আইন মোতাবেক শুক্রবার অর্থ দপ্তরের প্রধানসচিব এম নাগারাজু এক বিজ্ঞপ্তি জারি রাজ্যের প্রতিটি জেলার প্রশাসনকে জানিয়ে দেন, রোজভ্যালির সমস্ত স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করতে হবে। সমিত রায়চৌধুরির নেতৃত্বে একটি কমিটিও গঠন করে দেওয়া হয়। সেই মতো কমিটি রোজভ্যালির সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করার কাজ শুরু করেছে। সমিতবাবু এদিন বলেছেন, সরকারের বিজ্ঞপ্তি অনুয়ায়ী জেলায় জেলায় রোজভ্যালির সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করার পদক্ষেপ করা হয়েছে। প্রাথমিক পর্যায়ে ওই চিটফান্ড সংস্থার মোট পাঁচটি সম্পত্তি সরকার বাজেয়াপ্ত করেছে।

প্রোমোটার ও ডেভেলপারদের নিয়ন্ত্রণে রুল
তৈরি নিয়ে কেন্দ্র
-
রাজ্য বিরোধের আশঙ্কা

কৌশিক ঘোষ, কলকাতা: নানা ছোট-বড় ইস্যুতে কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের মধ্যে টানাপোড়েন এখনও চলছে। কেন্দ্রীয় সরকার নির্মাণশিল্পে যুক্ত ডেভেলপার-প্রোমোটারদের উপর বেশ কিছু নিয়ন্ত্রণ আরোপ করার জন্য যে নতুন আইন তৈরি করেছে, সেটি কার্যকর করার বিষয়টি কি এই তালিকায় ঢুকতে চলেছে, সেই প্রশ্ন উঠছে। চলতি বছরের মে মাস থেকে রিয়েল এস্টেট (রেগুলেশন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট) বা ‘রেরা’ আইনটি গোটা দেশে কার্যকর করতে হবে বলে কেন্দ্রীয় সরকার জানিয়ে দিয়েছে। আইনের বিজ্ঞপ্তি কয়েকমাস আগেই জারি করে দিয়েছে কেন্দ্র। এই আইনটি কার্যকর করার জন্য সব রাজ্যকে বিধি বা রুল তৈরি করতে হবে। অক্টোবর মাসের মধ্যে রুল সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তি জারি করতে বলেছিল কেন্দ্র। রাজ্য সরকার এখনও তা করেনি। কয়েকদিন আগে দিল্লিতে কেন্দ্রীয় আবাসন ও দারিদ্র দূরীকরণ মন্ত্রক আইন কার্যকর করা নিয়ে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক ডাকে। কেন্দ্রীয় আবাসনমন্ত্রী ভেঙ্কাইয়া নাইডু ও মন্ত্রকের শীর্ষ আধিকারিকরা ছাড়াও ওই বৈঠকে রাজ্য সরকারগুলির সংশ্লিষ্ট দপ্তরের আধিকারিকরা ছিলেন। ওই বৈঠকের কার্যবিবরণীতে দেখা যাচ্ছে, অন্ধ্রপ্রদেশ, অরুণাচলপ্রদেশ, ছত্তিশগড়, হরিয়ানা, হিমাচলপ্রদেশ, ঝাড়খণ্ড, কর্ণাটক কেরল, তামিলনাড়ুসহ কয়েকটি রাজ্য জা঩নিয়ে দিয়েছে, আগামী মাসের মধ্যে তারা রুল সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তি জারি করে দেবে। পাঞ্জাব ও উত্তরাখণ্ড সরকারের তরফেও জানানো হয়েছে, সেখানে বিধানসভা ভোটের পর্ব মিটে যাওয়ার পর বিজ্ঞপ্তি জারি করা হবে। ইতিমধ্যে গুজরাত, মধ্যপ্রদেশ, মহারাষ্ট্র, উত্তরপ্রদেশ, দিল্লি ছাড়াও কয়েকটি কেন্দ্র শাসিত এলাকা রুলের বিজ্ঞপ্তি যে জারি করে দিয়েছে, সেটার উল্লেখও আছে। এই তালিকায় পশ্চিমবঙ্গের কোনও উল্লেখ নেই।

রাজ্যের আবাসনমন্ত্রী শোভন চটোপাধ্যায়ের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি অবশ্য দাবি করেন, রুল তৈরির কাজ চলছে। রুলের খসড়া ইতিমধ্যে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন পক্ষের মতামতের জন্য পাঠানো হয়েছে। একই সঙ্গে শোভনবাবু জানিয়ে দিয়েছেন, বাস্তবের সঙ্গে সংগতি রেখে এবং পরিবেশের যাতে কোনও ক্ষতি না হয়, সেদিকে নজর রেখে রুল তৈরি করবে রাজ্য। তাঁর দাবি, অধিকাংশ রাজ্য এখনও রুল তৈরি করতে পারেনি।

শোভনবাবু বাস্তবের সঙ্গে সংগতি রেখে রুল করার কথা বলায় এই ইস্যুতে কেন্দ্রের সঙ্গে রাজ্যের বিরোধ বাধবে কি না, সেব্যাপারে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। কারণ দিল্লির বৈঠকে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী বলেন, তাঁরা জেনেছেন, কয়েকটি রাজ্য এমনভাবে রুল করছে, যাতে আইনটি লঘু হয়ে যায়। এ ব্যাপারে কেন্দ্র কোনওরকম সমঝোতা করবে না। যে আইনটি তৈরি হয়েছে, তার ভিত্তিতে রাজ্য সরকারগুলিকে রুল তৈরি করতে হবে। এ ব্যাপারে কোনও বিচ্যুতি বরদাস্ত করা হবে না।

রাজ্যগুলি আইনের বাইরে গিয়ে কীভাবে রুল তৈরি করছে, তা নিয়ে দিল্লির বৈঠকে আলোচনা হয়। মূলত দু’টি বিষয় নিয়ে বেশি বিরোধ হচ্ছে। একটি হল, কী ধরনের নির্মাণ প্রকল্প এই আইনের আওতার আসবে, তা নিয়ে। আইনে বলা আছে, অন্তত ৫০০ বর্গমিটার এলাকার উপর তৈরি নির্মাণ বা আটটির বেশি ফ্লাট হলে তা রেরা আইনের আওতায় আসবে। রাজ্য সরকার চাইলে এই মাত্রা কমাতে পারে, কিন্তু বাড়াতে পারবে না। কিন্তু কোনও কোনও রাজ্য রেরা আইনে অন্তর্ভুক্তিকরণের মাপকাঠি বাড়াতে চাইছে। নির্মীয়মাণ প্রকল্পগুলি আওতায় আনা নিয়ে জটিলতা আছে। আইনে বলা আছে, কমপ্লিশন সার্টিফিকেট (সিসি) দেওয়া না হ঩লেই ওই প্রকল্পটিকে নির্মীয়মাণ বলে ধরতে হবে। সেক্ষেত্রে প্রকল্পটি রেরা আইনের আওতায় চলে আসবে। কোনও কোনও রাজ্য কাজ শুরু হয়ে গিয়েছে এমন প্রকল্পকে রেরা আইনের আওতায় আসবে না বলে রুল জারি করছে। এটা চলবে না বলে কেন্দ্র জানিয়ে দিয়েছে।

নবান্ন সূত্রের খবর, কেন্দ্র ও রাজ্যের বিরোধ চরমে ওঠায় সরকারি আধিকারিকরা রেরা আইনের রুল তৈরির বিষয়টি নিয়ে খুব সতর্কতার সঙ্গে এগচ্ছেন। কারণ বিষয়টি খুব স্পর্শকাতর। সরকারের শীর্ষপর্যায় থেকে সবুজ সংকেত পাওয়া গেলে ত঩বেই রুল চূড়ান্ত করা হবে। কেন্দ্রীয় সরকার যে রুল তৈরি করেছে, সেটিকে খসড়া হিসাবে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন পক্ষের কাছে পাঠিয়েছে রাজ্য সরকার। তা নিয়ে আপত্তি উঠেছে। কেন্দ্রীয় সরকারের তৈরি খসড়া রুলের সঙ্গে রাজ্যের তৈরি রুলের যে পার্থক্য হবে, সেটা প্রায় নিশ্চিত।

রেরা আইনে প্রতি রাজ্যে এক বা একাধিক রিয়েল এস্টেট রেগুলেটরি অথরিটি এবং তার অ্যাপিলেট ট্রাইব্যুনাল তৈরি করতে হবে। এই আইনের আওতায় আসা নির্মাণকারী ও সংশ্লিষ্ট পক্ষকে অথরিটির কাছে নথিভুক্ত করতে হবে। প্রকল্পের বিস্তারিত বিবরণ, মূল্য, রূপায়ণে কত সময় লাগবে প্রভৃতি অথরিটিকে জানাতে হবে। আইন বা শর্ত লঙ্ঘন করলে জরিমানা ও জেলের ব্যবস্থা আছে আইনে। মূলত ক্রেতার স্বার্থ রক্ষার দিকে তাকিয়ে এই আইন করেছে কেন্দ্র।

শিল্পসংস্থার সংযুক্তিকরণে এবার কড়া দাওয়াই সেবি’র

শুভজিৎ অধিকারী, কলকাতা: বাজারে শেয়ার ছাড়ার ক্ষেত্রে শিল্পসংস্থার সংযুক্তিকরণে কড়া দাওয়াইয়ের সিদ্ধান্ত নিল সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ বোর্ড অব ইন্ডিয়া (সেবি)। পরিবর্তন করা হল সংযুক্তিকরণ কিংবা সংস্থার অংশীদারিত্ব গ্রহণের সাবেক নিয়মকানুন। এরই পাশাপাশি সেবির আন্তর্জাতিক পরামর্শদাতা পর্ষদ (আইএবি)’র কাজের পরিধি আরও বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। কেন্দ্রীয় সরকারের শিল্প-বাণিজ্য সংক্রান্ত সুশাসন দেওয়ার প্রশ্নে সেবির এই পরিকল্পনা বলে জানা গিয়েছে। আর সংস্থা-সংযুক্তিকরণের কড়া দাওয়াইয়ের পিছনে কর ফাঁকি রোখা কিংবা তালিকা বহির্ভূত বড় বড় কোম্পানির উপর নজরদারি চালানোই প্রধান উদ্দেশ্য বলে মনে করছেন আর্থিক বিশেষজ্ঞরা।
এতদিন শেয়ার বেচে বাজার থেকে বেশি টাকা তুলতে চটজলদি সংযুক্তিকরণের পথে হাঁটত বড় শিল্প সংস্থাগুলি। এই সংযুক্তিকরণের নির্দিষ্ট কিছু নিয়মকানুন থাকলেও তালিকা বহির্ভূত সংস্থাগুলির উপর ঠিকঠাক নজরদারি সম্ভব হত না সেবির পক্ষে। এবার নয়া নিয়মে সেই কাজ অনেক সহজ হবে বলে সেবি’র পরিচালন কর্তাদের আশা।
সম্প্রতি সেবি’র পরিচালন বোর্ডের এক বৈঠকে সংযুক্তিকরণ প্রক্রিয়াকে বেশকিছু কঠোর নিয়মের মধ্যে বাঁধার সিদ্ধান্ত হয়। এবার থেকে নয়া নিয়মেই কোনও বড় সংস্থা বা সেবি’র তালিকাভুক্ত সংস্থাকে সংযুক্তিকরণের উদ্যোগ নিতে হবে। এক্ষেত্রে নতুন কী সিদ্ধান্ত নিয়েছে সেবি?
শেয়ার বেচে বাজার থেকে টাকা তুলতে গেলে কোনও শিল্পসংস্থার প্রথম ও প্রধান কাজ হল নাম নথিভুক্তিকরণ। তারপরই ওই সংশ্লিষ্ট শিল্পসংস্থা নিজের অংশীদারিত্ব বাজারে বিক্রি করার ছাড়পত্র পায়। এভাবে দেশে বড় বড় ঩শিল্পসংস্থাগুলি তাদের শেয়ার বিক্রি করে সংস্থার পরিকাঠামো উন্নয়ন কিংবা সম্প্রসারণে বাজার থেকে টাকা তোলে। সেবি’র তালিকাভুক্ত এইসব কোম্পানি তালিকায় নাম না থাকা সংস্থার সঙ্গে সংযুক্তিকরণ ঘটিয়ে একদিকে যেমন নিজেদের ব্যাবসার বহর বাড়ায়, তেমনই বাড়ে সংস্থার মোট সম্পদের পরিমাণও। ফলে বাজারে বেশি শেয়ার ছেড়ে বেশি টাকা তোলার চেষ্টা করে সংস্থাগুলি। এই সংযুক্তিকরণ হয়ে থাকে কোনও তালিকা বহির্ভূত ছোট কিংবা বড় সংস্থার সঙ্গে।
সেবি’র নয়া নিয়ম বলছে, তাদের তালিকাভুক্ত বড় শিল্পংস্থাগুলি কোনও তালিকা বহির্ভূত কোম্পানির সঙ্গে একত্রীকরণ করলে, সংশ্লিষ্ট সংস্থা’র (সেবির নথিভুক্ত নয়) ব্যাবসা সম্পর্কিত পূর্ণাঙ্গ তথ্য ও সংস্থার কার্যবিবরণী প্রকাশ করা বাধ্যতামূলক। সেই তথ্য ও কার্যবিবরণী সেবির কাছে জমাও দিতে হবে। এবং তা করতে হবে ইনিসিয়াল পাবলিক অফারিং (আইপিও) ছাড়ার আগে। এছাড়াও সেবি’র নতুন নিয়মে বলা হয়েছে, সংযুক্তিকরণের ক্ষেত্রে তালিকা বহির্ভূত ছোট শিল্পসংস্থার মোট সম্পদের ২৫ শতাংশের নীচে অংশীদারিত্ব নেওয়া যাবে না এবং এই পদ্ধতি মেনে দুটি সংস্থার সংযুক্তিকরণ হলে স্বভাবতই তালিকাভুক্ত হয়ে পড়বে দ্বিতীয় সংস্থাটি। সেবি এক বিবৃতিতে বলেছে, এই নয়া নিয়মে একদিকে যেমন সংযুক্তিকরণে স্বচ্ছতা আসবে, তেমনই সব শ্রেণির পাবলিক শেয়ার হোল্ডাররাও ন্যায়সংগত ও পক্ষপাতহীন সুবিধা পাবেন।
অন্যদিকে, শিল্প-বাণিজ্য সংক্রান্ত সুশাসনের প্রশ্নে সেবি’র আন্তর্জাতিক পরামর্শদাতা পর্ষদের কাজকর্মে স্বচ্ছতা আনতে বেশকিছু কড়া পদক্ষেপ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে সেবির বোর্ড মিটিংয়ে। বিশেষ করে পর্ষদের সদস্য নিয়োগ ও অপসারণের ক্ষেত্রে দীর্ঘ পর্যালোচনার উপর জোর দেওয়া হয়েছে। অত্যন্ত স্বচ্ছতার সঙ্গে নিয়োগ ও অপসারণের প্রক্রিয়াকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার কথা বলা হয়েছে। এরই পাশাপাশি পর্ষদের কাজকর্মে প্রতিপদে মূল্যায়ন করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। নির্দিষ্ট লক্ষ্যকে সামনে রেখে কাজের পরিধি বাড়ানো, নীতি-নির্ধারণ এবং সামাজিক দায়বদ্ধতা পালনে আর বেশি সক্রিয় হতে হবে আইএবি’কে। মূল্যায়নের ক্ষেত্রে এগুলি মানদণ্ড হিসাবে ধরা হবে এবং আইএবি’র প্রতিটি পদক্ষেপ সম্পর্কে অবগত করতে হবে শেয়ার হোল্ডারদের।

কলাকার অ্যাওয়ার্ড

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: প্রতি বছরের মতো এবারও রবিবার সায়েন্স সিটি অডিটোরিয়ামে ‘কলাকার অ্যাওয়ার্ড’ অনুষ্ঠিত হল। সেখানে বলিউড ও টলিউডের একাধিক শিল্পী হাজির ছিলেন। এ বছর ছিল এই অনুষ্ঠানের ২৫ বছর। এদিন টলিউডের সেরা অভিনেতা ও অভিনেত্রীর পুরস্কার পান আবির চট্টোপাধ্যায় (বোমকেশ পর্ব) ও শ্রাবন্তী (শিকারি)। সেরা ছবির পুরস্কার জিতে নেয় শিকারি। জুলফিকার ছবির জন্য সেরা পরিচালকের সম্মান পান সৃজিত মুখোপাধ্যায়। জনমনোরঞ্জনের জন্য সেরা হিন্দি ছবির পুরস্কার পায় মস্তিজাদে। এই ছবির জন্যই সেরা অভিনেতার সম্মান পান তুষার কাপুর। পুরস্কৃত করা হয় সানি লিওনেকেও। এছাড়া ছোট পরদার ‘নাগিন টু’, ‘তারক মেহতা কি উলটা চশমা’ এবং ‘এক রিস্তা সাজেদারি কি’ একাধিক পুরস্কার পায়। গানের জগতের নতুন তারকা সারেগামাপা-১৬ এর শিল্পী সেঁজুতি দাস পান উদীয়মান শিল্পীর পুরস্কার। বিশেষ সম্মান দেওয়া হয় গৌতম ঘোষকে। এছাড়াও সম্মান জানানো হয় জিনাত আমন, সুভাষ ঘাই, রঞ্জিৎ, বরুণ চন্দ প্রমুখকে।

বাজেটে বড় অংকের কর ছাড়ের প্রত্যাশা বিমাশিল্পে

মুম্বই, ২২ জানুয়ারি (পিটিআই): এবার বাজেটে বড় অংকের কর ছাড়ের প্রত্যাশা করছে বিমাশিল্প। সরকারি, বেসরকারি বিমাসংস্থাগুলি চাইছে, নোট বাতিলের দুর্ভোগ লাঘবে সরকার আয়কর ছাড়ের ঊর্ধসীমা বাড়ানোর পাশাপাশি বিমাশিল্পেও কর হ্রাসের ব্যবস্থা করুক। তা হলে নতুন করে চাঙা হওয়ার রসদ পাবে বিমা ব্যাবসা। রবিবার মুম্বইয়ে এডেলউইস টোকিও লাইফ ইনসিওরেন্সের ম্যানেজিং ডিরেক্টর দীপক মিত্তাল বলেছেন, আমরা আশা করছি, বিমাক্ষেত্রে কর কমানোর ব্যাপারে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করবে। তাতে বিভিন্ন বিমা প্রকল্পে বিনিয়োগ করতে আগ্রহ বাড়বে সাধারণ মানুষের। একই সুর শোনা গিয়েছে ম্যাক্স লাইফ ইনসিওরেন্সের শীর্ষকর্তা রাজেশ সুদের গলাতেও। তিনি বলেছেন, শোনা যাচ্ছে, আয়কর আইনের সরলীকরণ করবে সরকার। এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট কমিটি পরামর্শও দিয়েছে। বিশ্ব অর্থনীতির নিরিখে এই সরলীকরণের প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। ম্যাক্স বুপা হেলথ ইনসিওরেন্সের ম্যানেজিং ডিরেক্টর আশিস মেহরোত্রা বলেছেন, গত বছর বাজেটে স্বাস্থ্যবিমা ক্ষেত্রের পরিধি বাড়াতে বিভিন্ন উদ্যোগের কথা ঘোষণা করেছিল সরকার। তাতে সকল শ্রেণির মানুষের কাছে উন্নত স্বাস্থ্য পরিষেবা পৌঁছে দেওয়া অনেকটাই সহজ হয়েছে। এবার সাধারণ বিমা ক্ষেত্রে কর ছাড়ের সুখবর আশা করছি।

‘অ্যামওয়ে ক্যুইন’

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: এবার সংসারের প্রতিদিনের ব্যবহার্য জিনিসপত্র বা কনজিউমার ড্যুরেবল ব্যাবসায় নামল অ্যামওয়ে ইন্ডিয়া। কুকওয়্যার রেঞ্জ দিয়ে তারা এই ব্যাবসা শুরু করছে। সম্ভারের নাম দেওয়া হয়েছে ‘অ্যামওয়ে ক্যুইন’। এর মধ্যে থাকছে ঢাকনাসহ চার লিটারের স্টক পট, ঢাকনাসহ দেড় লেটার এবং দু’লিটারের দু’টি সসপ্যান, একটি আলাদা ঢাকনা এবং একটি স্টক পট স্টিমার। সংস্থার দাবি, ভিটালক টেকনোলজিতে তৈরি হয়েছে এই কুকিং রেঞ্জ, যা খাদ্যের স্বাদ এবং গুণমান ধরে রাখে। এতে রান্না করার সময় যেমন জল কম লাগে, তেমনি প্রায় তেলবিহীন রান্নায় সাহায্য করে এই বাসনগুলি। একইসঙ্গে তা জ্বালানি সাশ্রয় করে বলেও দাবি করেছে সংস্থাটি। আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে আ্যমওয়ে এই ব্যাবসায় সেরার জায়গা দখল করবে বলে আশা রাখছে।

 






Copyright Bartaman Pvt Ltd. All rights reserved
6, J.B.S. Haldane Avenue, Kolkata 700 105
 
Editor: Subha Dutta