কলকাতা, সোমবার ২৩ জানুয়ারি ২০১৭, ৯ মাঘ ১৪২৩

রবিবার | রেসিপি | আমরা মেয়েরা | দিনপঞ্জিকা | শেয়ার | রঙ্গভূমি | সিনেমা | নানারকম | টিভি | পাত্র-পাত্রী | জমি-বাড় | ম্যাগাজিন

সরস্বতী পুজোর মুখে ক্যাশলেস ব্যবস্থার জন্য তৈরি কুমোরটুলিও

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: এবার সরস্বতী পুজোর আগে ক্যাশলেস ব্যবস্থার সঙ্গে সড়োগড়ো হয়ে নিতে চাইছেন কুমোরটুলির মৃৎশিল্পীরাও। পটুয়াদের ঘরে ঘরে আসছেন মোবাইল ওয়ালেট সংস্থার সেলসম্যানরা। অনেকে কিনে নিচ্ছেন কার্ড সোয়াইপ মেশিন। কোনও আচমকা ঘোষণা হলেও যাতে প্রতিমা বিক্রিতে ভাটা না পড়ে, তার জন্য ক্যাশলেস ব্যবস্থা চালু করে ফেলেছেন একাধিক শিল্পী।

বাগদেবীর আরাধনা এখনও ন’দিন বাকি। তার আগে রবিবার কুমোরটুলির পটুয়াপাড়ায় গিয়ে দেখা গেল, অনেকেই স্টুডিওর দেওয়ালে বা নির্মীয়মাণ প্রতিমার গায়ে বিজ্ঞাপন দিয়েছেন, মোবাইল ওয়ালেটের ক্যাশলেস পরিষেবা পাওয়া যাবে বলে। অনেককে দেখা গেল, কার্ড সোয়াইপ মেশিন রেখেছেন। প্রতিমা কেনার পর ক্রেতা ক্রেডিট বা ডেবিট কার্ড দিলে সমস্যা হবে না। প্রতিমার দাম ক্রেতার অ্যাকাউন্ট থেকে সরাসরি চলে যাবে শিল্পীর অ্যাকাউন্টে।

কথা হচ্ছিল শিল্পী বাবু পালের সঙ্গে। ১০০টিরও বেশি ছোট থেকে বড় প্রতিমা বানাচ্ছেন তিনি। তিনি বললেন, কয়েকদিন আগে পর্যন্তও প্রায় প্রতিদিন নতুন নতুন সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছে রিজার্ভ ব্যাংক। এটিএম বা ব্যাংক থেকে টাকা তোলার ক্ষেত্রে এখনও সমস্ত বিধিনিষেধ উঠে যায়নি। ৮ নভেম্বর প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নোট বাতিলের ঘোষণার পর এখনও ১০০ শতাংশ স্বাভাবিক অবস্থা ফিরে এসেছে বলে তো মনে হয় না। এই পরিস্থিতিতে এসে পড়েছে সরস্বতী পুজো। তাই আমরা অনেকেই কোনও ঝুঁকি না নিয়ে ক্যাশলেস ব্যবস্থায় সড়োগড়ো হওয়ার চেষ্টা করছি। মৃৎশিল্পী সুজিত পাল বলেন, টাকা তোলার তেমন সমস্যা না থাকলেও অনেকেই আমাদের কাছে এসে জিজ্ঞাসা করছেন, কার্ডে ‘পেমেন্ট’ করা যাবে তো? বিভিন্ন সংস্থার কর্মীরা আমাদের কাছে এসে ওই পরিষেবা দিতে চাইছেন। কিছু ক্ষেত্রে কার্ড সোয়াইপ করার মেশিন বিনামূল্যে দিচ্ছেন। তাহলে নেব না কেন? কুমোরটুলিতে মৃৎশিল্পীদের বিক্রিবাটা সরস্বতী পুজোর পর অনেকদিন আর সেভাবে নেই। ধীরে ধীরে শুরু হবে দুর্গা প্রতিমা তৈরির প্রাথমিক কাজকর্ম। তা শুরু হতে হতে তাও বৈশাখ-জ্যৈষ্ঠ মাস লেগে যাবে। কিন্তু পটুয়াপাড়ার প্রতিমার সাজের দোকানগুলিতে সারাবছরই বিক্রিবাটা চলে। বিয়ের মরশুমে বরের মাথার টোপর থেকে শুরু করে শোলা এবং থার্মোকলের নানা শো-পিস বিক্রি হয় এই দোকানগুলিতে। সেই দোকানগুলির প্রায় সবক’টিতেই অবশ্য ক্যাশলেস ব্যবস্থা চালু করে দেওয়া হয়েছে। বিশ্বনাথ দে, নবকুমার রাইল, রঞ্জিত সরকাররা ইতিমধ্যেই এই নতুন ব্যবস্থায় বেশ সড়োগড়ো হয়ে উঠেছেন।

তবে নোট বাতিল এবার কিছুটা হলেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে সরস্বতী প্রতিমার বাজারে। সেই বিষয়েই কথা হচ্ছিল শিল্পী জগন্নাথ পালের সঙ্গে। তিনি বলেন, এবার বড় বড় প্রতিমার বায়না প্রায় নেই বললেই চলে। গত বছর এক শিল্পী ২৩ ফুট লম্বা একটি প্রতিমা বানিয়েছিলেন। এবার সরস্বতী পুজোয় সেরকম কোনও কাজ কুমোরটুলিতে হচ্ছে না বলে তিনি জানান। তাছাড়া, কারিগরদের পারিশ্রমিক অনেকটা বেড়ে যাওয়ায় এবং সেই হারে সরস্বতী প্রতিমার দাম না বাড়ায় অনেকে কাজ কমিয়ে দিয়েছেন। আগে ডিসেম্বর মাসের শুরু থেকে শিল্পীরা কারিগরদের এনে সরস্বতী প্রতিমা তৈরির কাজে হাত লাগাতেন। এবার সেই কাজ প্রায় সবাই শুরু করেছেন ডিসেম্বরের ২৫-২৬ তারিখ নাগাদ। যত প্রতিমা বানানো হয়েছে, তার বেশিরভাগটাই পুজোর দু’-তিনদিন আগে থেকে এখানেই বিক্রি হবে। ক্রেতারা এসে পছন্দ করে কিনে নেবেন। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বা ক্লাবের প্রতিমা তিন-চারদিন আগেই মণ্ডপে পৌঁছে দিতে হবে বলে জানান ওই শিল্পী।

বলাগড়ে গুজবের ঘটনায় এবার কঠোর পুলিশ-প্রশাসন, গ্রেপ্তার ১১, এলাকায় মাইকিং

বিএনএ, চুঁচুড়া: ছেলেধরা সন্দেহে দুই মহিলাসহ তাদের গাড়ির চালককে গণধোলাইয়ের ঘটনায় ১১ জন হামলাকারীকে গ্রেপ্তার করল বলাগড় থানার পুলিশ। ধৃতদের রবিবার চুঁচুড়া আদালতে পাঠানো হয়। বেশ কয়েকদিন ধরে ছেলেধরা, জঙ্গিসহ ছড়িয়ে পড়া নানা ধরনের গুজব সম্পর্কে মানুষের সচেতনতা বাড়াতে এদিন সকাল থেকেই বলাগড় ব্লকের প্রতিটি গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় প্রশাসন ও শাসকদলের তরফে পৃথকভাবে প্রচার শুরু হয়েছে। দু’তরফেই গুজবে কান না দেওয়ার জন্য সাধারণ মানুষের কাছে আবেদন করা হচ্ছে। পাশাপাশি কাউকে সন্দেহজনক মনে হলে আইন হাতে না তুলে নিয়ে বিষয়টি প্রশাসন বা স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের নজরে আনার অনুরোধ করা হচ্ছে।

বলাগড়ের বিধায়ক অসীম মাজি বলেন, পাশের জেলার মতোই আমাদের জেলাতেও ব্যাপক গুজব ছড়িয়ে পড়েছে। গুজবের ভয়ে সাধারণ মানুষ সন্ধ্যার পরে রাস্তায় বেরতে ভয় পাচ্ছেন। মানুষের এই আতঙ্ক দূর করতে পুলিশ-প্রশাসন ও আমরা দলের তরফে প্রতিটি গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় মাইকে প্রচার করা হচ্ছে।

প্রশাসন ও শাসকদল আতঙ্ক কাটানোর জন্য মাইকে প্রচার শুরু করলেও এখনও আতঙ্কে সিঁটিয়ে রয়েছেন এলাকার মানুষ। বাসিন্দারা বলছেন, গত কয়েকদিন ধরেই বিভিন্ন জায়গায় মানুষ গণপিটুনির শিকার হচ্ছে। স্বাভাবিকভাবেই এলাকার মানুষ আতঙ্কে রয়েছেন। যেভাবে যেখানে সেখানে যাকে তাকে মারধর করা হচ্ছে। তাই সন্ধ্যার পর মানুষ বাড়ি থেকে বেরতে ভয় পাচ্ছে। সন্ধ্যার পরেই রাস্তাঘাট শুনশান হয়ে যাচ্ছে।

প্রসঙ্গত, শনিবার সন্ধ্যায় বলাগড়ের আসানপুর কালীতলায় ছেলেধরা সন্দেহে কল্যাণীর বাসিন্দা অঞ্জু ঘোষ ও মেয়ে অপর্ণা ঘোষ ও তাঁদের গাড়ির চালককে মারধর করে গাড়িতে আগুন লাগিয়ে দেয় এলাকার বাসিন্দারা। গন্ডগোলের খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে হাজির হলে এলাকার মানুষ পুলিশের ওপরেও চড়াও হয়। ইট ছোঁড়ার পাশাপাশি তীর ছোঁড়ে গ্রামবাসীরা। তাতে এক সিভিক ভলান্টিয়ার জখম হন। এরপর বিশাল পুলিশ বাহিনী ও র্যাফ এলাকায় গিয়ে উত্তেজিত জনতাকে ছত্রভঙ্গ করে। সন্দেহের বশে দুই মহিলাসহ তিন জনের ওপর হামলা ও তাদের গাড়ি পুড়িয়ে দেওয়া এবং পুলিশের ওপর হামলার অভিযোগে ঘটনাস্থল থেকে ১৫ জনকে আটক করে। তাদের মধ্যে ৪ জনকে ছেড়ে দেওয়া হলেও ১১ জনকে গ্রেপ্তার করে চুঁচুড়া আদালতে পাঠায় পুলিশ।

বি সি রায় হাসপাতালে শিশুমৃত্যু, গাফিলতির অভিযোগে উত্তেজনা

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: রবিবার সকালে ফুলবাগানের বি সি রায় শিশু হাসপাতালে তিন বছরের বাচ্চার মৃত্যুতে চিকিৎসায় গাফিলতির অভিযোগ উঠল। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে হাসপাতাল চত্বরে উত্তেজনা ছড়ায়। রূপম সর্দার নামে বসিরহাটের ওই বাচ্চাটির বাড়ির লোকজন ক্ষোভে ফেটে পড়েন। পরিস্থিতি সামলাতে পুলিশ আসে।

বাচ্চাটির বাবা রাজকুমার সর্দার, বাড়ির লোকজন ও ঘটনাস্থলে উপস্থিত আরও বাচ্চার বাবা-মায়েরা জানান, জ্বর ও আনুষঙ্গিক সমস্যা নিয়ে বৃহস্পতিবার রূপমকে ভরতি করা হয় শিশু হাসপাতালে। তার অবস্থা ভালোই ছিল। শুক্রবার তাকে অন্য ওয়ার্ডে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়। সেই সময় সে দিব্য হেঁটেই গিয়েছিল। কিন্তু ওইদিন রাতে অবস্থা জটিল হয়। তাঁরা এ জন্য কয়েকজন নার্স ও আয়াকে দায়ী করেন। তাঁদের অভিযোগ, নার্স ও আয়ারা জ্বর কমাতে রূপমকে বরফঠান্ডা জলে স্নান করায়। ওইটুকু বাচ্চা সেই ধকল নিতে পারেনি। তার তীব্র শ্বাসকষ্ট শুরু হয়। অবস্থার অবনতি হতে থাকে। শনিবারও পরিস্থিতির বিশেষ পরিবর্তন হয়নি। এদিন সকালে সে মারা যায়। এদিন বিকালে বি সি রায়ের অধ্যক্ষা ডাঃ মালা ভট্টাচার্যকে ফোনে না পাওয়ায় প্রতিক্রিয়া মেলেনি।

প্রসঙ্গত, রাজ্যের শিশু চিকিৎসা এবং পড়াশুনার সবচেয়ে বড় এবং রেফারেল এই হাসপাতাল ও কলেজে নার্স-আয়াদের একাংশের দুর্ব্যবহারের অভিযোগ দীর্ঘদিনের। অনেকেই মনে করেন, এখানে যত গন্ডগোল হয়, তার সিংহভাগের সঙ্গে চিকিৎসার পরিষেবার যত না সম্পর্ক, তার চেয়ে বেশি সম্পর্ক নার্সদের ও চতুর্থ শ্রেণির কর্মীদের একাংশের দুর্ব্যবহার, নানা গাফিলতি এবং আসি যাই বেতন পাই মানসিকতার। বহুবার নানা তদন্ত কমিটির রিপোর্টেও একই কথা উঠে এলেও পরিস্থিতির যে বিন্দুমাত্র বদল হয়নি, তা ফের প্রমাণিত হল রবিবার।

অবৈধ সম্পর্কের জেরে চুঁচুড়ায় খুন, মায়ের অভিযোগ পুত্রবধূ ও ৩ বন্ধুর বিরুদ্ধে

বিএনএ, চুঁচুড়া: শনিবার রাতে চুঁচুড়া থানার মল্লিক কাসেমহাট লাগোয়া একটি পুকুরের পাড় থেকে দেবাশিস মণ্ডল (৩৩) নামে এক যুবকের মৃতদেহ উদ্ধারকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে। এই ঘটনায় মৃতের মা উন্নতি মণ্ডল পুত্রবধূ, ছেলের শ্বশুরবাড়ির লোকজন ও তিন বন্ধুর বিরুদ্ধে খুনের অভিযোগ দায়ের করেছেন। যদিও দেবাশিসের শাশুড়ি এদিন সংবাদমাধ্যমের কাছে দাবি করেন, মদ্যপ অবস্থায় বাইক চালিয়ে ফেরার সময়ে দুর্ঘটনায় জখম হয় দেবাশিস। খবর পেয়েই তিনি দেবাশিসের মাকে খবর দিয়েছিলেন। তাঁদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ ভিত্তিহীন।

উন্নতিদেবীর দায়ের করা অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ দেবাশিসের তিন বন্ধু ও স্ত্রীকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করছে। অন্যদিকে, রবিবার দেবাশিসের মৃত্যুর খবর চাউর হতেই কপিডাঙা এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। মৃতের আত্মীয় ও এলাকার মানুষ উত্তেজিত হয়ে দেবাশিসকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে যাওয়া তিন বন্ধুর বাড়িতে ভাঙচুর শুরু করে। গন্ডগোলের খবর পেয়ে চুঁচুড়া থানার পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পুলিশ জানিয়েছে, উভয় পক্ষের বক্তব্যকে সামনে রেখে সমস্ত সম্ভাবনার দিক খোলা রেখেই তদন্ত চলছে। মৃতদেহটির ময়না তদন্ত করানো হয়েছে। তিন বন্ধু ও মৃতের স্ত্রীসহ বেশ কয়েক জনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, মল্লিক কাসেমহাট লাগোয়া কপিডাঙার বাসিন্দা পেশায় দিনমজুর দেবাশিসের সঙ্গে পাশের এলাকার শ্রাবণীর বিয়ে হয়। বিয়ের পরেও শ্রাবণীর সঙ্গে এলাকারই এক যুবক তথা স্বামীর বন্ধুর সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক চলতে থাকে। মৃতের মা উন্নতি মণ্ডল বলেন, শ্রাবণীর সঙ্গে দেবাশিসের বন্ধু প্রমিতের সঙ্গে বিয়ের পরেও সম্পর্ক ছিল। বিষয়টি জানাতে পারার পর এই নিয়ে ছেলের সঙ্গে শ্রাবণীর গন্ডগোল হয়। তারপর আলোচনার মাধ্যমে সাময়িক গন্ডগোল মিটে গেলেও বউমা ওই ছেলেটির সঙ্গে গোপনে যোগাযোগ রাখছিল।

তিনি জানান, শনিবার সন্ধ্যায় ছেলেকে প্রতিবেশী তিন বন্ধু ডেকে নিয়ে যায়। বউমা ও তার মায়ের মদতে ছেলেকে ডানকুনিতে নিয়ে গিয়ে প্রচুর মদ খাওয়ায়। তারপর পিটিয়ে খুন করার পর ছেলের শ্বশুরবাড়ির কাছে একটি পুকুরের পাড়ে ফেলে রেখে রাত সাড়ে এগারোটা নাগাদ আমাকে খবর দেয়। তাঁর দাবি, ছেলের মুখের ডানদিক সহ শরীরের একাধিক জায়গায় আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। বাপেরবাড়ির মদতে তিন প্রতিবেশীই ছেলেকে খুন করেছে। আমি তাদের শাস্তি চাই।

আলিপুর সেন্ট্রাল জেলে নেতাজির সেলে তাঁকে শ্রদ্ধা জানাবেন বন্দিরা

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: আজ সোমবার নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর জন্মজয়ন্তীতে আলিপুর সেন্ট্রাল জেলে তাঁর স্মৃতি-বিজড়িত সেলে বসে কথায় ও গানে তাঁকে শ্রদ্ধা জানাবেন বন্দিরা। স্বদেশী গানের ওই আসরে অংশ নেবেন বিচারাধীন এবং দণ্ডপ্রাপ্ত বেশ কিছু বন্দি। গত কয়েকদিন ধরে তাঁরা জেলের চার দেওয়ালের মধ্যে তালিম দিয়েছেন। জানা গিয়েছে, স্বাধীনতা সংগ্রামে এই বীর সৈনিকের অবদানকে তুলে ধরা হয়েছে একটি লেখায়। আর তাতেই স্বাধীনতা সংগ্রামীদের গৌরবময় নানা কাহিনীর মাঝে মাঝে রয়েছে দেশাত্মবোধক সংগীত। এর পাশাপাশি অনুষ্ঠানের তালিকায় রয়েছে আবৃত্তি, শ্রতিনাটক প্রভৃতি।

ইতিমধ্যে জেলের পিছনে হেরিটেজ ভবন সংলগ্ন ওই সেলটির ঝাড়পোছ একেবারে শেষ পর্যায়ে। সেলে পড়েছে নতুন রং-এর প্রলেপ। লাগানো হয়েছে নতুন আলো। নেতাজির আবক্ষ মূর্তিটিও পরিষ্কার করা হয়েছে। জেল সূত্রের খবর, ওইদিন নেতাজির জন্ম মুহুর্তে জেল কর্তৃপক্ষের তরফে ফুল-মালা দিয়ে শ্রদ্ধা জানানো এবং সংক্ষিপ্ত বক্তব্য রাখার পরই শুরু হবে বন্দিদের নিবেদিত ওই স্বদেশি গানের আসর। সন্ধ্যায় ওই সেলের কাছে জ্বালিয়ে দেওয়া হবে মাটির প্রদীপ এবং মোমবাতি। জেলের কর্মীদের একাংশের কথায়, এই জেলে এই মহান মানুষটির সেল থাকায় আমরা অত্যন্ত গর্ব অনুভব করি। আর তাই শুধুমাত্র ২৩ জানুয়ারি তাঁর জন্মদিনেই নয়, ২৬ জানুয়ারি, ১৫ আগস্ট, শহিদ দিবস, বালেশ্বর আত্মোৎসর্গ দিবস- এই বিশেষ বিশেষ দিনেও জেলের তরফে নেতাজি সুভাষ চন্দ্র বসুর এই সেলে পুষ্পার্ঘ দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়।

ইংরেজ আমলে কলকাতায় একটি জনসভায় জ্বালাময়ী ভাষণ দেওয়ার কারণে ইংরেজ পুলিশ নেতাজিকে গ্রেপ্তার করেছিল। পরে তাঁর স্থান হয় আলিপুর সেন্ট্রাল জেলের ওই নির্জন স্থানের একটি ‘বিশেষ’ সেলে। বেশ কিছুদিন তাঁকে সেখানে ২৪ ঘন্টা কড়া প্রহরায় আটকে রাখা হয়েছিল। কিন্তু ইংরেজ পুলিশ তাঁকে ওই ছোট সেলের মধ্যেও দমিয়ে রাখতে পারেনি। ওই সেলেই বসেই তিনি গভীর রাত পর্যন্ত পড়াশোনা চালিয়ে যেতেন। যা দেখে তাজ্জব বনে গিয়েছিল প্রহরারত পুলিশ বাহিনী। সেই কথা গোয়েন্দারা লালবাজারের সদর দপ্তরকে রিপোর্টে জানিয়েছিলেন। জেল সূত্রের খবর, শুধু তাই নয়, ওই সেলে থাকার সময় তাঁকে কোনওভাবেই বিচলিত হতে দেখা যায়নি। সেখানে তিনি ছিলেন একেবারেই ধীর, স্থির এবং শান্ত।

জানা গিয়েছে, নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু আলিপুর সেন্ট্রাল জেল থেকে ছাড়া পাওয়ার পর দীর্ঘদিন ওই সেলটি অনাদারেই পড়েছিল। ওই সেলের দরজা বন্ধ অবস্থায় ছিল। সেখানে নোংরা-আবর্জনা ভরতি ছিল। পরবর্তী সময় সেলটি সাফসুতরো করা হয়। সেখানে বসানো হয় নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর একটি আবক্ষ মূর্তি। সেই মূর্তিটিকে ঘিরেই বছরভর শ্রদ্ধা জানিয়ে আসছেন জেলের বন্দিরা। অনেকেরই বক্তব্য, এই সেলটির কথা সেভাবে প্রচার করা হয়নি। সরকার থেকে যদি এবিষয়ে উদ্যোগ নেওয়া হয়, তাহলে অনেকেই এই সেলটির অনেক না জানা ‘কথা-কাহিনি’ জানতে পারবেন।

অশোকনগরে সায়েন্স পার্কে রোপওয়ে মেরামতের সময় দুর্ঘটনায় মৃত কর্মী

বিএনএ, বারাসত: রবিবার দুপুরে অশোকনগর পুরসভার সায়েন্স পার্কে রোপওয়ে রক্ষণাবেক্ষণের কাজ চলার সময় দুর্ঘটনায় এক কর্মীর মৃত্যু হয়েছে। মৃতের নাম শিবু সাউ (৫৫)। তাঁর বাড়ি ওড়িশায়। জানা গিয়েছে, মেরামতের কাজের জন্য পুরসভার পক্ষ থেকে গত দশদিন আগে রোপওয়ে বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। এদিন সকাল থেকে তিনজন কর্মী রোপওয়েতে উঠে রক্ষণাবেক্ষণের কাজ করছিলেন। দু’জন কাজ শেষ করে নেমে যান। কিন্তু, শিবুবাবু কাজ করার সময় রোপওয়ের একটি তার ছিঁড়ে তাঁর শরীরে জড়িয়ে যায়। ঝুলন্ত অবস্থায় দীর্ঘক্ষণ সেখানে আটকে থাকেন।

এই অবস্থায় খবর দেওয়া হয় দমকল কর্মীদের। দমকল কর্মীরা এসে প্রথমে উদ্ধার করার চেষ্টা করেও পারেননি। পরে, উঁচু মই নিয়ে এসে তাঁকে সাড়ে তিন ঘন্টা পর উদ্ধার করা হয়। এরপর স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পথেই তাঁর মৃত্যু হয়। গাফিলতির অভিযোগ তুলে রক্ষণাবেক্ষণকারী সংস্থার বিরুদ্ধে পুরসভার পক্ষ থেকে থানায় অভিযোগ জানানো হবে বলে জানা গিয়েছে।

বোড়ালে গুলিবিদ্ধ যুবক, অভিযুক্তের বাড়ি ভাঙচুর

নিজস্ব প্রতিনিধি, দক্ষিণ ২৪ পরগনা: সোনারপুরের গড়িয়া সংলগ্ন বোড়ালের রক্ষিতের মোড়ে দু’টি গোষ্ঠীর মধ্যে মারামারির সময় গুলিবিদ্ধ হন এক ব্যক্তি। শনিবার বেশি রাতে ওই ঘটনার জেরে রবিবার আহত ব্যক্তির পরিচিতরা হামলাকারী শ্যামল বিশ্বাসের বাড়িতে ঢুকে ব্যাপক তাণ্ডব চালায়। ঘরের আসবাবপত্র ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যায় পুলিশ। পরে গুলি চালানোর ঘটনায় যুক্ত শ্যামলকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তার হেপাজত থেকে ৯ এম এম রিভলভার উদ্ধার করেছে।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, শনিবার রাতে রক্ষিতের মোড়ে বিশ্বনাথ শীলসহ চারজন বন্ধু পানীয় খেতে খেতে আড্ডা দিচ্ছিলেন। তার কিছুটা দূরে অন্য একটি দল মদ খাচ্ছিল। সেই দলে ছিল শ্যামল বিশ্বাসসহ তার সঙ্গীরা। ওই সময় মোটরবাইক নিয়ে দু’জন যাচ্ছিলেন। মোটরবাইকের সঙ্গে শ্যামলের ধাক্কা লাগে। তা নিয়ে বচসা বাধে। শ্যামলররা মোটরবাইকের আরোহীকে মারধর করায় প্রতিবাদ জানাতে ছুটে আসেন বিশ্বনাথবাবু। তা নিয়ে মারামারি হয়। পরে তা থেমে যায়। এরপর বিশ্বনাথ শীল যখন বাড়ি যাচ্ছিলেন, সেই সময় শ্যামল বিশ্বাস গুলি চালায়। তাতে জখন হন বিশ্বনাথবাবু।

বাড়িতে হামলার জের
দক্ষিণ দমদমের দুই কাউন্সিলারকে ডেকে ধমক জেলা নেতৃত্বের

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: দমদমে তৃণমূলের এক কাউন্সিলারের বাড়িতে অন্য এক দলীয় কাউন্সিলারের লোকজনের হামলা চালানোর ঘটনায় চরম অস্বস্তিতে পড়েছে জেলা নেতৃত্ব। তাই রবিবার সকালেই বিবাদমান দুই কাউন্সিলারকে সল্টলেকের বাড়িতে ডেকে বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করলেন জেলা তৃণমূলের সভাপতি জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক। এই ধরনের ঘটনা যাতে আগামী দিনে না ঘটে, তার জন্য দুই কাউন্সিলারকেই সতর্ক করে দিয়েছেন জ্যোতিপ্রিয়বাবু। তিনি স্পষ্টই জানিয়ে দিয়েছেন, যাদের জন্য দলের ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর সিদ্ধান্ত নিতে দল কোনওভাবেই দেরি করবে না। আগামী দিনে এই ঘটনা ঘটলে, তা রাজ্য নেতৃত্বকেও জানানো হবে বলে তিনি তাঁদের হুঁশিয়ার করে দেন।

শনিবার রাতে তৃণমূলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের জেরে দমদমে যশোর রোড অবরোধ করে তৃণমূল কাউন্সিলারের লোকজন। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে নতুন করে দক্ষিণ দমদমে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছিল। অভিযোগ, শনিবার রাতে দক্ষিণ দমদম পুরসভার ২৩ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল কাউন্সিলার কেয়া দাসের বাড়ির সামনে কয়েকজন দলীয় কর্মী গিয়ে অশ্রাব্য ভাষায় গালাগালি করে, কেয়াদেবীর বাড়ির কাঁচ ভেঙে দেয়। বাধা দিতে গেলে তাঁর দেওর ও শাশুড়িকে নিগ্রহ করা হয়। প্রতিবেশীরা বাধা দিতে গেলে দুই মহিলার শাড়ি ধরে টানাটানি করা হয় বলেও তিনি অভিযোগ করেছেন। অভিযোগের তির পুরসভারই ১৩ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলার প্রবীর পালের (কেটি) লোকজনের বিরুদ্ধে। শনিবার রাতেই এই নিয়ে কেয়াদেবী দমদম থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

এদিকে, এই ঘটনার প্রতিবাদে রাতেই কেয়াদেবীর অনুগামীরা যশোর রোড অবরোধ শুরু করে। তাদের দাবি, অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার না করা পর্যন্ত এই অবরোধ চলবে। দীর্ঘক্ষণ অবরোধের জেরে রাতেও যশোর রোডে যান চলাচল বন্ধ হয়ে ব্যাপক যানজটের সৃষ্টি হয়। খবর পেয়ে দমদম থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে গ্রেপ্তারের আশ্বাস দিয়ে অবরোধ তুলে দেয়। কেয়া দাসের অভিযোগ, দুষ্কৃতীরা আমার বাড়ির সামনে এসে বলছিল, তারা কেটি পালের লোকজন। এইভাবে দলের একজন কাউন্সিলার আমার বাড়িতে যেভাবে হামলা চালালেন, তা আমি ভাবতেই পারছি না। আমি দলের সর্বস্তরে বিষয়টি জানিয়েছি।

যদিও এই অভিযোগ সম্পূর্ণভাবে অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত প্রবীর পাল। তিনি বলেন, কেয়াদি’র সঙ্গে কালু নামে একটি ছেলে থাকে। সে আমাদেরই তৃণমূল ছাত্র পরিষদের জিৎ নামে একটি ছেলেকে মারধর করে। রাতে জিতের বন্ধুরা কালুর খোঁজে গিয়েছিল। তারা কেয়াদির বাড়িতে যায়নি। তারপর তারা ফিরেও আসে। কিন্তু, খুবই দুঃখের বিষয়, এই ঘটনাটি কেয়াদি রাজনীতির রং লাগাচ্ছেন। আমি গোটা বিষয়টি জেলা সভাপতিকে জানিয়েছি।

তৃণমূল সূত্রের খবর, মাস কয়েক আগেই দমদমে সভা করে গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব মিটিয়ে ফেলার জন্য সমস্ত কাউন্সিলারকেই নির্দেশ দিয়েছিলেন জেলা তৃণমূলের সভাপতি। কেননা, এই পুরসভায় কাউন্সিলারদের মধ্যে একাধিক গোষ্ঠী রয়েছে। যা নিয়ে গোলমাল প্রকাশ্যে আসে মাঝেমধ্যেই। তা নিয়ে দলীয় নেতৃত্ব এমনিতেই বিব্রত। তার উপর এবার বিধানসভা ভোটে দমদম বিধানসভা কেন্দ্রেও দলীয় প্রার্থী ব্রাত্য বসুর জয়ের মার্জিন অনেকখানি কমে গিয়েছিল। কী করে এই ঘটনা ঘটল, তা নিয়েও দলীয় নেতৃত্ব তদন্ত কমিটি গঠন করেছিল। তখনই দলীয় কাউন্সিলারদের নির্দেশ দেওয়া হয়, গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব ভুলে এক হয়ে এখন থেকেই কাজ করতে হবে। তা না হলে লোকসভা ভোটে তার ফল ভুগতে হবে। কিন্তু, তারপর কয়েক মাস যেতে না যেতেই এই ঘটনায় মুখ পুড়েছে জেলা নেতৃত্বের।

গন্ডগোল পাকানো কর্মীরা দু টুকরো
ভাঙড়ে একঘরে নকশালপন্থীরা ফের অশান্তি ছড়াতে মরিয়া

নিজস্ব প্রতিনিধি, দক্ষিণ ২৪ পরগনা: মুখ্যমন্ত্রী পাওয়ার গ্রিডের কাজ বন্ধের কথা ঘোষণা করেছেন। তারপরও জমি জীবিকা বাস্তুতন্ত্র ও পরিবেশ রক্ষা কমিটির নকশাল গোষ্ঠীর নেতা অলীক চক্রবর্তী ও শর্মিষ্ঠা চৌধুরিরা ভাঙড়ের স্বাভাবিক অবস্থা ফিরিয়ে আনার বিরোধিতা করায়, আন্দোলনকারীদের মধ্যে স্পষ্টত বিভাজন হয়ে গিয়েছে। কারণ, এলাকার মানুষ চাইছেন, অনেক হয়েছে। এবার দোকানবাজার খুলে যাক। গাড়ি চলাচল করুক। বাচ্চারা স্কুলে যাক। পুলিশ ও প্রশাসন এলাকার দায়িত্ব হাতে তুলে নিক। কিন্তু নকশালপন্থীরা এখনও অশান্তি পাকানোর মতলব আঁটছে। এই কারণে আন্দোলনকারীদের একটা বড় অংশ সরে গিয়েছে। কোণঠাসা হয়ে গিয়েছে নকশাল গোষ্ঠীর লোকজন। তা বুঝতে পেরে রবিবার সাংবাদিক বৈঠক ডেকে কেন আন্দোলন জারি রাখা হচ্ছে তার সপক্ষে সাফাই দিলেন নকশাল নেতারা। যুক্তিহীন কথা বলে গেলেন। বললেন, পাওয়ার গ্রিডের কাজ বন্ধের কথা মৌখিকভাবে বলেছে সরকার। লিখিতভাবে মুখ্যমন্ত্রীকে তা জানাতে হবে। পাশাপাশি এই আন্দোলন জমি জীবিকা রক্ষা কমিটি করছে। কিন্তু সেই কমিটির নেতা অলীকবাবুদের না ডেকে মুখ চেনা কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলেছেন মুকুল রায়। প্রশাসনকে অলীকবাবুদের ডাকতে হবে। তাই আন্দোলন উঠে গেল বলে কেউ ঘোষণা করে দিল, তা কখনই মেনে নেওয়া যাবে না। আন্দোলন চলবে।

পাওয়ার গ্রিডকে ইস্যু করে ভাঙড়ের এই অশান্তির পিছনে জমি হাঙরদের উসকানি ও শাসকদলের দু’টি গোষ্ঠীর চাওয়া-না পাওয়ার লড়াই যে রয়েছে তা এলাকার মানুষ অনেক আগে থেকে বুঝেছে। ভাঙড়-২ ব্লক রাজারহাট ও নিউটাউন সংলগ্ন। গত কয়েকবছর ধরে ওই এলাকার ১০টি পঞ্চায়েতে কে প্রধান হবে, কে পঞ্চায়েতের টিকিট পাবেন, তা ঠিক হয়ে আসছে মধুভাণ্ডের শেয়ার কে কত দিতে পারে। দলের শীর্ষ নেতারাও তা জানেন। শাসকদলের ওহিদুল, নান্নু হোসেন, কাইজার আহমেদ শিবিরের অনুগতরা চেয়েছিল ভাঙড়ের কোটি কোটি টাকার মধুভাণ্ড জমির কারবার, মাটির বরাত, নির্মাণ কাজের নিয়ন্ত্রণ ও চাষিদের কম টাকা দিয়ে কোম্পানিকে বেশি দামে জমি বিক্রির মধ্যে দিয়ে মুনাফা করার একচেটিয়া অধিকার আরাবুল ও তাঁর পরিবারের হাত থেকে কেড়ে নেওয়া হোক। রাজনৈতিকভাবে এটা করা গেলে মধুভাণ্ডের অধিকার তাদের হাতে চলে আসবে।

কিন্তু দলের নেতারা তাতে সায় না দেওয়াতে উপরতলার নেতাদের কড়কে দিতে গোপনে জমি আন্দোলনকারীদের সঙ্গে হাত মেলালেন সংশ্লিষ্টরা। শনিবার মুকুল রায়ের সঙ্গে তৃণমূল ভবনে আন্দোলনকারীদের মধ্যে যে বৈঠক হয়েছিল, তাতে আন্দোলনকারী হিসাবে হাজির মাছিভাঙার মিজানুর আলম, বকডোবার শেখ শামিম, শেখ মোস্ত, শেখ কালু প্রত্যেকেই এলাকায় জমির কারবারি ও শাসকদলের আরাবুল বিরোধী শিবিরের অনুগত বলে পরিচিত। বৈঠকে ভাঙড়-১ এর কাইজার আহমেদও ছিলেন।

দলীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, মুকুলবাবু তা ধরতে পেরে সংশ্লিষ্টদের ডেকে ম্যানেজ করে নেন। তাতেই প্রমাদ গোনে নকশাল নেতারা। কারণ, তৃণমূলের এই বড় অংশ সরে যাওয়াতে আন্দোলনের গতি যে ধীর হয়ে গেল তা বোঝা যায় শনিবার রাত থেকে। আন্দোলন ভেঙে বেরিয়ে যাওয়া ওই অংশ রাস্তা থেকে ইট সরানো থেকে গাছির গুঁড়ি সরাতে যায়। তা নিয়ে অবশ্য একপ্রস্থ বিরোধ হয়। রাতে মিজানুরের বাড়ি ঘেরাও করে বিক্ষোভ চলে। নিজেদের শক্তি বোঝাতে রবিবার ভাঙড়ের ডিবডিবাতে প্রকাশ্য সভা করেন নকশাল গোষ্ঠীর নেতারা। সেখানে লোকজন থাকলেও আগের মতো ভিড় ছিল না। নকশাল নেত্রী শর্মিষ্ঠা চৌধুরি বলেন, আমাদের মাওবাদী বলা হচ্ছে। তা ঠিক নয়। আমাদের দলের নাম সিপিআইএম এল রেড স্টার। তাছাড়া মাওবাদী হলেই কি খারাপ হয়ে যায়। মানুষ বিপদে পড়লে রাজনৈতিক দল তাদের পাশে দাঁড়ায়। আমাদের দল সেই কাজ করেছে। ভাঙড়-২ ব্লকের যুব সভাপতি কাশেবুল খান বলেন, নকশালদের সঙ্গে এখন এলাকার অধিকাংশ মানুষ নেই। তা বুঝতে পেরে আবোলতাবোল বলছে। এদিন জনজীবন স্বাভাবিক করার জন্য বাধা দিলেও মানুষ এর জবাব দেবে। সরকার ও প্রশাসন নজর রাখছে।

পলতায় ছেলেধরা সন্দেহে ভবঘুরেকে পিটিয়ে খুন

বিএনএ, বারাকপুর: বর্ধমান, নদীয়া, হুগলির পর এবার উত্তর ২৪ পরগনা জেলার বারাকপুর। শনিবার বিকালে বারাকপুর মহকুমার নোয়াপাড়া থানায় পলতার পাঁচ নম্বর এলাকায় দু’জন ভবঘুরেকে ছেলেধরা সন্দেহে এলাকার লোকজন গণপিটুনি দেয়। খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভরতি করে। সেখানেই একজনের মৃত্যু হয়। রবিবার রাত পর্যন্ত মৃতের নাম-পরিচয় জানা যায়নি। ঘটনার পর ২৪ ঘণ্টা কেটে গেলেও পুলিশ এখনও পর্যন্ত এই ঘটনায় পুলিশ কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি।

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, শনিবার বিকালের দিকে প্রথমে পাঁচ নম্বর এলাকায় একজন ভবঘুরেকে দেখে কয়েকজন যুবক জিজ্ঞাসাবাদ করে। কিন্তু, ঠিকমতো জবাব দিতে না পারায় এলোপাথাড়ি মারতে থাকে। ছেলেধরা পাড়ায় ঢুকেছে বলে এলাকায় রটে যায়। সঙ্গে সঙ্গে এলাকায় শতাধিক লোকজন জমায়েত হয়ে তাকে পেটাতে থাকে। এই ঘটনার জের মিটতে না মিটতেই ওই এলাকাতেই আরও একজন ভবঘুরে দেখে তাকেও কয়েকজন তাড়া করে। সে ভয়ে ছুটে পালাতে থাকে। ফলে, এলাকার লোকজনের সন্দেহ বেড়ে যায়। তাকে ঘিরে ধরে গণধোলাই চলে। খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে দু’জনকে উদ্ধার করে বারাকপুর বিএন বসু হাসপাতালে ভরতি করে। সেখানেই রাতে একজনের মৃত্যু হয়। কে বা কারা গুজব রটিয়ে এই ধরনের ঘটনা ঘটাল তা জানতে পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে।

ত্বকের খুঁত ঢাকতে ৬০ লক্ষের লেজার মেশিন এনআরএস-

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ত্বকের খুঁত ঢাকা, অবাঞ্ছিত দাগ বা জড়ুল তোলা এবং একইসঙ্গে সৌন্দর্যায়নের কাজ এবার বিনামূল্যে হবে এনআরএস মেডিকেল কলেজ হাসপাতালেও। হাসপাতালের ত্বক বিভাগে এসেছে ৬০ লক্ষ টাকা দামের লেজার মেশিন। এই লেজারের মাধ্যমে এইসব কাজ সহজে করা যাবে বলে দাবি করেন এখানকার ত্বক বিভাগের প্রধান ডাঃ অলক রায়।

হাসপাতাল সূত্রের খবর, নির্মাতা সংস্থার প্রতিনিধিদের কাছ থেকে আজ, সোমবার থেকে যন্ত্র চালানোর প্রাথমিক প্রশিক্ষণ নেবেন এখানকার চিকিৎসকরা। এরপর বৃহস্পতিবার চালু হয়ে যাবে পরিষেবা। বিভাগীয় প্রধান অলকবাবু বলেন, আমাদের আউটডোরের পাশেই ওটিতে যন্ত্রটি থাকবে। সপ্তাহে একদিন এই যন্ত্রের মাধ্যমে দাগ, জড়ুল ইত্যাদি তোলার কাজ করা হবে। প্রসঙ্গত, এই নিয়ে এনআরএস হল তৃতীয় সরকারি হাসপাতাল যেখানে এল এই আধুনিক লেজার। পিজি হাসপাতাল ও স্কুল অব ট্রপিক্যাল মেডিসিনে এই ধরনের লেজার আছে।

২৭ জানুয়ারি পাণ্ডুয়া পঞ্চায়েত সমিতির
সভাপতির বিরুদ্ধে অনাস্থা ভোট, স্বস্তিতে তৃণমূল

বিএনএ, চুঁচুড়া: পঞ্চায়েত সমিতি বামেদের দখলে থাকলেও বামেদের নির্বাচিত সদস্যদের নিয়েই সহসভাপতির বিরুদ্ধে অনাস্থা পাশ করিয়েছে তৃণমূল। তবে পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতির বিরুদ্ধে অনাস্থা আনার আগেই ১৩ জন বাম সদস্যকে দলে টেনে কিছুটা স্বস্তিতে তৃণমূল। তাই হঠাৎ করে বড় কোনও অঘটন না ঘটলে ২৭ জানুয়ারি তলবিসভার দিনেই পাণ্ডুয়া পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতির বিরুদ্ধেও অনাস্থা পাশ করাবে তৃণমূল।

পাণ্ডুয়ার সঙ্গে শাসকদলের গোষ্ঠী কোন্দল ওতোপ্রতোভাবে জড়িত। তাই অনাস্থা পাশ করানো বা নতুন সভাপতি নির্বাচনের ক্ষেত্রে গোষ্ঠী কোন্দল মিটিয়ে পাণ্ডুয়ার তৃণমূল নেতারা এক হতে পারেন কি না সেটাই এখন দেখার। যদিও শাসক দলের নেতাদের দাবি কোনও গোষ্ঠী কোন্দল নেই। আর সভাপতি নির্বাচন নিয়েও কোনও গন্ডগোল হবে না।

পাণ্ডুয়া পঞ্চায়েত সমিতির সহ সভাপতি তথা তৃণমূল কংগ্রেসের হুগলি জেলা কমিটির সদস্য অসিত চট্টোপাধ্যায় বলেন, ২৭ জানুয়ারি অনাস্থার তলবিসভাতেই একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রমাণ করে পঞ্চায়েত সমিতি আমাদের দখলে আসবে। এজন্য অনাস্থা আনার আগেই আমরা দলগতভাবে আলোচনা করে পঞ্চায়েত সভাপতি হিসাবে চম্পা হাজরার নাম স্থির করেছি।

প্রসঙ্গত, ৪৬ আসন বিশিষ্ট পাণ্ডুয়া পঞ্চায়েত সমিতির ৩৪টি আসন বামেদের ও ১২টি তৃণমূল কংগ্রেসের দখলে যায়। নভেম্বরের শেষ সপ্তাহে পঞ্চায়েত সমিতির সহসভাপতি ইস্তফা দেন। তারপর নিয়ম অনুযায়ী নতুন সহসভাপতি নির্বাচনের দিন ৪৬ জনের মধ্যে মোট ২১ জন সদস্য উপস্থিত হন। তাঁরা সর্বসম্মতভা঩বে অসিত চট্টোপাধ্যায়কে সহসভাপতি হিসাবে নির্বাচিত করেন। এরপর পঞ্চায়েত সমিতির সহসভাপতি সহ মোট ২৫ জন সদস্য সভাপতির বিরুদ্ধে ১০ জানুয়ারি মহকুমা শাসকের কাছে অনাস্থাপত্র জমা দেন। তারপরেই তৃণমূল কংগ্রেসের এক নির্বাচিত সদস্য মারা যান।

অনাস্থা জমা দেওয়ার পরেই বামফ্রন্ট থেকে আসা ১৩ জন নির্বাচিত সদস্য আনুষ্ঠানিকভাবে তৃণমূল কংগ্রেসে যোগ দেন। ইতিমধ্যেই ২৭ জানুয়ারি পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি নির্বাচনের জন্য তলবিসভার দিন ঠিক করে দেয় প্রশাসন। তাই তলবিসভার দিনে যাতে সভাপতির পদ নিয়ে দলের সদস্যদের মধ্যে কোনও গন্ডগোল না হয় সেজন্য ব্লক ও জেলা তৃণমূল নেতৃত্ব আলোচনায় বসে। ওই বৈঠক থেকেই ভাবী সভাপতি হিসাবে খন্যান থেকে নির্বাচিত চম্পা হাজরার নাম চূড়ান্ত করা হয়।

জবরদখল সরাতে দোকানিদের নোটিস, না মানলে ভাঙা হবে ফেব্রুয়ারির গোড়াতেই

বিএনএ, চাঁপদানি: শহরের মূল রাস্তাগুলির কোথাও ফুটপাতের দখল নিয়েছেন ব্যবসায়ীরা, কোথাও আবার বেআইনি পার্কিংয়ে সংকীর্ণ হয়ে গিয়েছে রাস্তা। ফলে যানবাহনের গতি কমার পাশাপাশি মাঝেমধ্যেই ঘটছে ছোটখাট দুর্ঘটনাও। তাই মাসখানেক আগেই প্রতিটি পুরসভাকে তাদের এলাকার প্রধান রাস্তা, ফুটপাত খালি করার নির্দেশ দেয় পুর ও নগরোন্নয়ন দপ্তর। সেই নির্দেশিকা আসার পরেই চাঁপদানি পুরসভার প্রধান রাস্তাগুলিকে জবরদখল করা, ফুটপাত থেকে নির্মাণ সরিয়ে নেওয়ার জন্য ব্যবসায়ীদের নোটিস পাঠানোর কাজ শুরু করেছে পুরসভা।

চাঁপদানি পুরসভার চেয়ারম্যান সুরেশ মিশ্র বলেন, দপ্তরের নির্দেশ অনুযায়ী প্রথমে আমরা জিটি রোড, আরবিএস রোড ও পিবিএম রোডে যে সমস্ত জবরদখল রয়েছে, তা মুক্ত করার পরিকল্পনা নিয়েছি। পরবর্তী সময়ে শহরের সমস্ত রাস্তা একইভাবে দখলমুক্ত করা হবে। সুরেশবাবু বলেন, আমরা সমস্ত জবরদখলকারীকে নোটিস দিয়েছি। তারপরেও তাঁরা নিজেদের অবৈধ নির্মাণ সরিয়ে না নিলে ফেব্রুয়ারির প্রথম সপ্তাহ থেকে প্রশাসনকে সঙ্গে নিয়ে পুরসভার কর্মীরা তা ভেঙে দেবেন।

পুরসভা সূত্রে জানা গিয়েছে, চাঁপদানির মুখার্জি গলি থেকে ভদ্রেশ্বর বাজার পর্যন্ত জিটি রোডের দু’পাশে অধিকাংশ জায়গাতেই রাস্তার ধারে থাকা ব্যবসায়ীরা তাঁদের নিজস্ব জায়গা ছাড়িয়ে রাস্তার উপর পর্যন্ত নিজেদের পসার সাজিয়ে বসেন। চাঁপদানি ফাঁড়ির সামনে থেকে বৈদ্যবাটির দিকে যাওয়ার সময়ে রাস্তার ডানদিকে বেশ কিছুটা এলাকায় সাধারণ মানুষের যাতায়াতের জন্য ফুটপাত রেলিং দিয়ে ঘিরে দেওয়া হয়েছিল পুরসভার তরফে। বর্তমানে ওই ফুটপাত লাগোয়া জায়গা ব্যবসায়ীরা পুরোটাই দখল করে নিয়েছেন। ফুটপাতের বাইরেও প্রতিদিন বিকালে হকাররা তাঁদের রকমারি পসরা সাজিয়ে বসেন। একই অবস্থা বাঁদিকের ফুটপাতেরও। সেখানে আবার বেশ কিছুটা জায়গায় কংক্রিটের দেওয়াল তুলেও দোকান সাজিয়ে বসেছেন ব্যবসায়ীরা।

জিটি রোডের মতো গুরুত্বপূর্ণ রাস্তার দু’দিক দখল হওয়ায় ব্যস্ত সময়ে যানজটের পাশাপাশি ছোটখাট দুর্ঘটনাও ঘটছে। একই ঘটনা ঘটছে আরবিএস রোড ও পিবিএম রোডে। তাই পুর দপ্তরের নির্দেশ আসার পরেই সমস্ত কাউন্সিলারদের নিয়ে বৈঠক করে মূল তিনটি রাস্তার জবরদখল উচ্ছেদ করার সিদ্ধান্ত নেয়। এজন্য দিন পনেরো আগে পুরসভার তরফে ব্যবসায়ীদের জবরদখল করা অংশ রাস্তা থেকে সরিয়ে নেওয়ার জন্য মাইকিংও করেছে। কিন্তু, তাতেও কাজ না হওয়ায় ব্যবসায়ীদের নোটিস দিচ্ছে। পুরসভার নোটিস পাওয়ার পরেই মাথায় হাত পড়েছে রাস্তার উপর পসরা সাজিয়ে বসা হকারসহ ব্যবসায়ীদের।

জিটি রোডের ধারে জামাকাপড়ের পসরা নিয়ে বসা মইদুল শেখ বলেন, এই দোকানের আয় থেকেই কোনও রকমে সংসার চালাই। কয়েকদিন আগেই পুরসভা দোকান সরিয়ে নেওয়ার জন্য নির্দেশ দিয়েছে। চিঠি পাওয়ার ১০ দিনের মধ্যে দোকান না সরালে পুরসভা ভেঙে দেবে বলে জানিয়ে দিয়েছে। এই অবস্থায় কী করব? কীভাবে সংসার চালাব কিছুই বুঝতে পারছি না।

কল্যাণী বিশ্ববিদ্যালয়
অনলাইনে ফরম জমা দেওয়া চালু না হওয়ায় কলেজ ভোটে একক দাপট তৃণমূলের

হরিহর ঘোষাল, বারাকপুর, বিএনএ: কল্যাণী বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে থাকা কলেজে ছাত্র সংসদ নির্বাচনে এবার প্রথম অনলাইনে ফরম তোলা ও জমা নেওয়া, ‘নোটা’ চালু হওয়ার কথা ছিল। এছাড়া ভোটগ্রহণ কেন্দ্রে নজরদারি ক্যামেরা বসানো হবে বলে ঠিক ছিল। এই বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে নোটিসও জারি করা হয়েছিল। আচমকাই অনলাইনে ফরম জমা নেওয়ার সিদ্ধান্ত থেকে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ পিছিয়ে আসে। তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে থাকা কলেজে কোথাও ছাত্র সংসদ নির্বাচন হয়, তাহলে এবার সেখানে নোটা এবং সিসি ক্যামেরা চালু হতে চলেছে।

বিরোধী ছাত্র নেতাদের বক্তব্য, তৃণমূল ছাত্র পরিষদকে বোর্ড পাইয়ে দিতে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ অনলাইনের সিদ্ধান্ত এবার কার্যকরী করার সিদ্ধান্ত থেকে পিছিয়ে এসেছে। যদিও বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে। তাদের যুক্তি সব কলেজে পরিকাঠামো না থাকার কারণে এবার তা চালু করা যায়নি।

কল্যাণী বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে নদীয়া জেলায় ১৮টি কলেজে এবং মর্শিদাবাদ জেলায় ১৬টি কলেজে নির্বাচন হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু, নদীয়া জেলায় কোথাও এসএফআই মনোনয়নপত্র জমা দিতে পারেনি। একই অবস্থা বিজেপির ছাত্র সংগঠন এবিভিপি। জেলার ১৮টি কলেজেই ফের তৃণমূল ছাত্র পরিষদ বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়ী হয়েছে। ফলে, বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের ঘোষণা মতো ২৮ জানুয়ারি নির্বাচন হওয়ার কথা থাকলেও জেলার কোনও কলেজে আর ছাত্র সংসদ নির্বাচন হচ্ছে না।

মনোনয়নপত্র জমা দিতে না পারার কারণ হিসাবে এসএফআইয়ের নদীয়া জেলার সম্পাদক শান্তনু সিংহ বলেন, আমরা জেলার অধিকাংশ কলেজেই এবার নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার জায়গায় ছিলাম। কিন্তু, মনোনয়নপত্র তোলার দিন জেলার বিভিন্ন প্রান্তে কলেজে যাওয়ার রাস্তায় বিভিন্ন মোড়ে মোড়ে বহিরাগতরা আমাদের ছেলেদের বাধা দিয়েছে। বহু কলেজের ভিতরে বহিরাগতরা দাপিয়ে বেড়িয়েছে। পলাশীতে আমাদের প্রস্তাবিত প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র ছিঁড়ে দেওয়া হয়েছে। বাধা দিতে গেলে মারধর করা হয়েছে। সব জায়গায় বহিরাগতরা এসে কলেজের দখল নিয়েছে। ফলে, মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার কোথাও কোনও পরিস্থিতি ছিল না। অনলাইনে ফরম তোলা, জমা দেওয়ার নির্দেশিকার পরও কর্তৃপক্ষ সিদ্ধান্ত থেকে পিছিয়ে আসে। আসলে ওদের বোর্ড পাইয়ে দেওয়ার এটা একটা কৌশল। যদিও অধিকাংশ কলেজে অনলাইনে ফরম তোলা গিয়েছে। কিন্তু, জমা দেওয়ার জন্য অনলাইন কার্যকরী করা হয়নি।

এবিভিপি’র নদীয়া জেলার প্রমুখ দীপঙ্কর মণ্ডল বলেন, অনলাইনে ফরম তোলা এবং জমা নেওয়া হবে জেনে এবার ভালোভাবে নির্বাচন হবে ভেবেছিলাম। কিন্তু, বাস্তবে তো কিছুই হল না। সেই আগের মতো নিয়ম বহাল রাখা হয়। ফলে, ওরা মনোনয়নপত্র জমা দিতে দেয়নি। নির্বাচন হলে ওদের পরাজয় নিশ্চিত ছিল। তার জন্যই সব জায়গায় বহিরাগত এনে ওরা সন্ত্রাস করে কলেজগুলি দখল করে নিল। এর থেকে প্রমাণিত গণতন্ত্রে ওরা বিশ্বাসী নয়।

তৃণমূল ছাত্র পরিষদের নদীয়া জেলার সভাপতি অয়ন দত্ত বলেন, ওদের হয়ে কেউ প্রার্থী হতে চাইছে না। ফলে, নিজেদের দুর্বলতা ঢাকতে এখন আমাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা সন্ত্রাসের অভিযোগ করছে। কোথাও বহিরাগত এনে সন্ত্রাস হয়নি। সব অভিযোগ ভিত্তিহীন। বিনা রক্তপাতে জেলার সব কলেজেই আমরা বোর্ড গঠন করেছি। অন্যদিকে, নদীয়া জেলার মতোই মুর্শিদাবাদ জেলাতেও ১৬টি কলেজে নির্বাচন হওয়ার কথা ছিল। অধিকাংশ কলেজেই বিরোধী ছাত্র সংগঠন মনোনয়নপত্র জমা দিতে পারেনি। ফলে, বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় সেখানেও তৃণমূল ছাত্র পরিষদ জয়ী হয়েছে।

কল্যাণী বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার দেবাংশু রায় বলেন, লিন্ডো কমিশনের অধিকাংশ নিয়ম মেনেই আমরা নির্বাচন করছি। তাঁকে জিজ্ঞাসা করা হয়, অনলাইনের ফরম তোলা, জমা দেওয়ার নোটিস দেওয়ার পরও কেন সিদ্ধান্ত থেকে পিছিয়ে এলেন? তিনি বলেন, নোটিস দেওয়ার পর কলেজগুলির সঙ্গে আমরা বৈঠক করি। অনেক কলেজেই এখনও অনলাইনে ফরম জমা নেওয়ার মতো পরিকাঠামো নেই। ফলে, আমরা এবার চালু না করলেও সামনের বছর থেকেই এই নিয়ম কার্যকরী করব বলে ঠিক করেছি।

জাগুলিতে মহিলার শ্লীলতাহানি, অভিযুক্ত সিভিক ভলান্টিয়ার

বিএনএ, বারাকপুর: শনিবার রাতে হরিণঘাটা থানার জাগুলিতে এক গৃহবধূর শ্লীলতাহানি করার অভিযোগ উঠল সিভিক ভলান্টিয়ারের বিরুদ্ধে। পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, ওই গৃহবধূর বাড়ি রাজবেড়িয়া এলাকায়। তিনি জাগুলিতে একটি বিউটি পার্লারে কাজ করেন। রাতে কাজ সেরে টোটো করে বাড়ি ফিরছিলেন। সেই টোটোতে একজন সিভিক ভলান্টিয়ার ছিল। সে ওই মহিলাকে নানা কুৎসিত অঙ্গভঙ্গি করতে থাকে। এরপরই ওই গৃহবধূ টোটো থামিয়ে চিৎকার করতে থাকেন। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে ওই সিভিক কর্মী পালিয়ে যায়। রাতেই থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে।

ডাকাতির আগেই ধৃত পাঁচ সশস্ত্র দুষ্কৃতী

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ডাকাতি করার আগেই পুলিশের জালে ধরা পড়ল পাঁচ সশস্ত্র দুষ্কৃতী। শনিবার রাতে সল্ট লেকের এ ই ব্লকে। পুলিশ জানিয়েছে, ধৃতদের নাম অঙ্কিত ধাবি, প্রভাত সিং, মহেশ কেলাত, হংসরাজ কেলাত এবং জিতেন মণ্ডল। জিতেন ছাড়া বাকিরা মধ্যপ্রদেশের ভীমবাঁধের বাসিন্দা। জিতেনের নিউ টাউনে বাড়ি। শনিবার গভীর রাতে এ ই ব্লকের একটি বাড়ির তলায় এই পাঁচ দুষ্কৃতীকে সন্দেহজনকভাবে ঘুরতে দেখে বিধাননগর উত্তর থানার পুলিশের টহলদারি দল। সঙ্গে সঙ্গে তাদেরকে আটক করে থানায় নিয়ে আসা হয়। দেহ তল্লাশি করতে একাধিক অস্ত্রও পাওয়া যায়। জেরায় ওই পাঁচজন স্বীকার করে, ডাকাতির উদ্দেশ্যে তারা এলাকায় এসেছিল। তবে এই দুষ্কৃতীরা এর আগেও ডাকাতি বা অন্য দুষ্কৃতীমূলক কাজকর্ম করেছে কি না, পুলিশ তা খতিয়ে দেখছে।

জগদ্দলে যুবকের রক্তাক্ত দেহ উদ্ধার

বিএনএ, বারাকপুর: শনিবার রাতে জগদ্দল থানার মণ্ডলপাড়া টালা মাঠ এলাকায় একটি রক্তাক্ত মৃতদেহ পুলিশ উদ্ধার করেছে। মৃতের নাম সুমিত বড়ুয়া (৩০)। স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, গত বছর নিজের স্ত্রীকে গলা টিপে খুন করার অভিযোগ রয়েছে সুমিতের বিরুদ্ধে। এই ঘটনার পর সে জেলে ছিল। জেল থেকে ছাড়া পাওয়ার পর স্থানীয় লোকজন তাকে এলাকায় ঢুকতে দেয়নি। এলাকায় তার বিরুদ্ধে তোলাবাজি করার অভিযোগ ছিল। দু’দিন আগে এলাকার লোকজনকে ভয় দেখাতে বুড়িবটতলায় বোমাবাজিও করেছে। জানা গিয়েছে, শনিবার রাতে আগ্নেয়াস্ত্রসহ কয়েকজন শাগরেকে নিয়ে সে এলাকায় ঢুকতে গিয়েছিল। এলাকার লোকজন তাড়া করে তাদের এলাকাছাড়া করে। রাতেই হাত-পা বাঁধা অবস্থায় তার রক্তাক্ত মৃতদেহ পুলিশ উদ্ধার করে। ধারাল অস্ত্র দিয়ে তাকে খুন করা হয়েছে। বারাকপুর পুলিশ কমিশনারেটের এক কর্তা বলেন, প্রাথমিক তদন্তে মনে হচ্ছে, পুরানো শত্রুতার জেরেই এই ঘটনা ঘটেছে। পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে।

আগুন শিয়ালদহে ব্যাগ কারখানায়

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ব্যাগ কারখানায় আগুন লেগে আতঙ্ক ছড়াল শিয়ালদহ এলাকায়। রবিবার বিকাল ৩টে ৫০ নাগাদ পূরবী সিনেমার কাছে একটি ব্যাগের কারখানায় আগুন লেগে যায়। একটি বাড়ির নীচে এই কারখানাটি ছিল। এদিন তা বন্ধ ছিল। কারখানা ছাড়াও এখানে আরও অনেক দোকান রয়েছে। ঘিঞ্জি এলাকায় আগুন দেখে আতঙ্কিত হয়ে পড়েন বাসিন্দারা। ভয়ে সকলে বাইরে এসে চিৎকার শুরু করেন। খবর পেয়ে আসে দমকলের ১১টি ইঞ্জিন। বন্ধ করে দেওয়া হয় ওই এলাকা দিয়ে যান চলাচল। ছুটির দিন হওয়ায় যানজট পোহাতে হয়নি সাধারণ মানুষকে। প্রায় ঘণ্টা তিনেক পরে আগুন আয়ত্তে নিয়ে আসে দমকল। অগ্নিকাণ্ডে কেউ হতাহত হননি।

মক পার্লামেন্টে জয়ী যাদবপুর বিদ্যাপীঠ

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: রাজ্যস্তরের প্রেসিডেন্সি ডিভিশনের মক পার্লামেন্ট প্রতিযোগিতায় বিজয়ী হল যাদবপুর বিদ্যাপীঠ। শিক্ষা দপ্তর এই প্রতিযোগিতার আয়োজন করেছিল। বরো এবং জেলাস্তরে প্রথম স্থান অর্জন করে রাজ্যস্তরের প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করে কলকাতার এই নামী স্কুল। রাজ্যস্তরে একাধিক ডিভিশন করে দেওয়া হয়েছে। তার মধ্যে কলকাতা পড়ে এই প্রেসিডেন্সি ডিভিশনে। এই দলে কলকাতা বাদে নদীয়া, হাওড়া, দুই ২৪ পরগনা এবং মুর্শিদাবাদ ছিল। তাদের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে প্রথম স্থান পেয়েছে যাদবপুর বিদ্যাপীঠ।

স্বরূপনগরে ৬২০টি কচ্ছপ উদ্ধার, গ্রেপ্তার ২

বিএনএ, বারাকপুর: রবিবার দুপুরে স্বরূপনগর থানার লবণগোলা গ্রাম থেকে একটি গাড়ি থেকে প্রচুর কচ্ছপ পুলিশ বাজেয়াপ্ত করেছে। জানা গিয়েছে, গাড়িতে ৬২০টি কচ্ছপ ছিল। পাচার হওয়ার জন্য গাড়িতে সেগুলিতে রাখা হয়েছিল। গাড়িতে দীপক দাস এবং শ্যামল দেবনাথ নামে দু’জন বসেছিল। পুলিশ তাদের গ্রেপ্তারও করেছে। দীপকের বাড়ি গাইঘাটা এবং শ্যামলের হাবড়া থানা এলাকায়। কচ্ছপ পাচারের জন্য কোথায় নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল তা জানতে পুলিশ ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ করবে বলে জানা গিয়েছে।

 






?Copyright Bartaman Pvt Ltd. All rights reserved
6, J.B.S. Haldane Avenue, Kolkata 700 105
 
Editor: Subha Dutta