কলকাতা, সোমবার ২৩ জানুয়ারি ২০১৭, ৯ মাঘ ১৪২৩

 

রবিবার | রেসিপি | আমরা মেয়েরা | দিনপঞ্জিকা | শেয়ার | রঙ্গভূমি | সিনেমা | নানারকম | টিভি | পাত্র-পাত্রী | জমি-বাড়ি | ম্যাগাজিন

কার্যকর ফেব্রুয়ারি থেকে
অপব্যবহার রুখতে ৭৮ লক্ষ রেশন গ্রাহককে
আর ২ টাকায় চাল
-গম দেওয়া হবে না

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: গত বছর বিধানসভা ভোটের আগে রাজ্য সরকারের সিদ্ধান্তের পরিপ্রেক্ষিতে যে রেশন গ্রাহকরা দু’ টাকা কেজি দরে চাল-গম পাওয়ার সুযোগ পেয়ে আসছিলেন, তাঁদের একটা বড় অংশ (প্রায় ৭৮ লক্ষ মানুষ) তা হারাতে চলেছেন। যেখানে এখন প্রায় ১ কোটি ৩৫ লক্ষ মানুষের এই সুবিধা পাওয়ার কথা। আগামী মাস থেকে ওই ৭৮ লক্ষ রেশন গ্রাহক অনেক বেশি দামে ও কম পরিমাণে চাল-গম পাবেন রেশন দোকান থেকে। কারণ ওই গ্রাহকদের রাজ্য সরকারের দুই নম্বর খাদ্য সুরক্ষা প্রকল্পের আওতায় আনা হয়েছে। ওই প্রকল্পে মাসে মাথাপিছু এক কেজি করে চাল ও গম দেওয়া হয়। দাম পড়ে যথাক্রমে ১৩ এবং ৯ টাকা। যেখানে এতদিন তাঁদের দু’ টাকা কেজি দরে মাসে পাঁচ কেজি করে চাল ও গম প্রাপ্য ছিল।

বিধানসভা ভোটের আগে রাজ্য সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল, যে রেশন গ্রাহকরা কেন্দ্র ও রা঩জ্যের খাদ্য সুরক্ষা প্রকল্পের আওতায় আসেননি, তাঁরা চাইলে রেশন দোকান থেকে ভরতুকিতে সরবরাহ করা চাল-গম পাবেন। পুরানো রেশন কার্ড দেখিয়ে ওই গ্রাহকদের দু’ টাকা কেজি দরে চাল-গম দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়। যেসব ক্ষেত্রে গোটা পরিবার বাদ পড়েছে, সেখানে গ্রাহকদের নতুন রেশন কার্ড নেওয়ার জন্য তিন নম্বর ফরমে আবেদন করতে বলা হয়। পরিবারের কোনও সদস্যর নাম বাদ গেলে চার নম্বর ফরমে আবেদন করতে বলা হয়। খাদ্য দপ্তর সূত্রে পাওয়া পরিসংখ্যানে দেখা যাচ্ছে, তিন নম্বর ফরমে আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে মোট ১ কোটি ৩৫ লক্ষ ২৮ হাজার ৫৫৪ জন রেশন গ্রাহককে নতুন কার্ড দেওয়া হচ্ছে। এর মধ্যে রাজ্য সরকারের দুই নম্বর খাদ্য সুরক্ষা প্রকল্পের কার্ড পাচ্ছেন ৭৮ লক্ষ ১৮ হাজার ৯৩৪ জন। রাজ্য সরকারের এক নম্বর খাদ্য সুরক্ষা প্রকল্পে দু’ টাকা কেজি দরে চাল-গম দেওয়া হয়। আবেদনকারীদের মধ্যে ওই প্রকল্পের আওতায় এসেছেন ১৬ লক্ষ ১৩ হাজার ১৫৫ জন।

খাদ্যমন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক আগেই জানিয়েছেন, আবেদনকারীদের আর্থিক অবস্থা খতিয়ে দেখে ঠিক করা হয়েছে কে কোন প্রকল্পের আওতায় আসবেন। জেলাগুলির ক্ষেত্রে জেলা প্রশাসন এই খতিয়ে দেখার কাজ করেছে। কলকাতায় পুরসভার মাধ্যমে তা করা হয়েছে। আর্থ সামাজিক সমীক্ষার রিপোর্ট খতিয়ে দেখার পাশাপাশি বাড়িতে লোক পাঠিয়ে অনুসন্ধান করা হয়েছে। খাদ্য দপ্তর সূত্রে বলা হচ্ছে, বহু অবস্থাপন্ন মানুষ রেশন কার্ড বাঁচিয়ে রাখার জন্য আবেদন করেছিলেন। এই আবেদনকারীদের একটা বড় অংশ রেশনের চাল-গম তুলবে না। এরকম রেশন গ্রাহকদের জন্য বিপুল ভরতুকিতে খাদ্য সরবরাহ করলে তা বাইরে বেশি দামে পাচার হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সরকারি অর্থের অপচয় আটকাতে সরকারকে সাবধানতা অবলম্বন করতে হয়েছে। বহু রেশন গ্রাহক নতুন কার্ড তুলবেন না বা নিলেও চাল-গম নেবেন না বলেও মনে করছে খাদ্য দপ্তর। ওই গ্রাহকদের বরাদ্দ বাতিল করে দেওয়া হবে। এতে সরকারের অনেক টাকা বেঁচে যাবে। যে গ্রাহকরা নতুন কার্ড তুলবেন না, তাঁরা পুরানো কার্ড দেখিয়ে কেরোসিন তেল নিতে পারবেন। পুরানো কার্ড পরিচয়পত্র হিসাবে ব্যবহার করা যাবে। তবে রেশন ডিলারদের আশঙ্কা, ফেব্রুয়ারি মাস থেকে নতুন ব্যবস্থা চালু হওয়ার পর দু’ টাকার চাল-গম বন্ধ হয়ে গিয়েছে দেখে গ্রাহকরা অশান্তি বাধাতে পারেন। এই ঝক্কি সামলাতে হবে ডিলারদের। আগের ও এখনকার মিলিয়ে মোট ১ কোটি ১৯ লক্ষ ৭৬ হাজার ৮২২ জন দুই নম্বর রাজ্য খাদ্য সুরক্ষা প্রকল্পের আওতায় থাকছেন। এক নম্বর প্রকল্পের আওতায় থাকা রেশন গ্রাহকের সংখ্যা ৭৪ লক্ষ ৯০ হাজার ৩০৯ জন। সব মিলিয়ে রাজ্যের খাদ্য সুরক্ষা প্রকল্পের আওতায় থাকছে প্রায় ১ কোটি ৯৫ লক্ষ রেশন গ্রাহক।

কেন্দ্রীয় সরকারের যে খাদ্য সুরক্ষা প্রকল্প রয়েছে, তাতে রাজ্যের কোটা কেন্দ্র কয়েক বছর আগেই নির্ধারণ করে দিয়েছে। এই কোটা প্রায় ৬ কোটি ১ লক্ষ। কোটা আগে পুরোপুরি পূরণ করতে পারেনি রাজ্য সরকার। তিন নম্বর ফরমে নতুন আবেদনকারীদের মধ্যে থেকে প্রায় ৪১ লক্ষ জনকে কেন্দ্রীয় প্রকল্পের আওতায় এনে কোটা পূরণ করেছে রাজ্য। এই প্রকল্পের জন্য কেন্দ্রীয় সরকার তিন টাকা কেজি দরে চাল ও দু’ টাকা কেজি দরে গম সরবরাহ করে। রাজ্য সরকার চালের উপর প্রতি কেজিতে অতিরিক্ত এক টাকা ভরতুকি দিয়ে সরবরাহ করে। রাজ্য সরকারের খাদ্য সুরক্ষা প্রকল্পে ভরতুকির পুরো আর্থিক দায় রাজ্যকে নিতে হয়। এই খাতে রাজ্যের বছরে এখন প্রায় ৫৩০০ কোটি টাকা ভরতুকি দিতে হবে বলে মনে করা হচ্ছে।

চার নম্বর ফরমে আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে মোট ২১ লক্ষ ১৪ হাজার ৯২০ জন নতুন কার্ড পাবেন। এখানেও প্রায় ১৭ লক্ষ রেশন গ্রাহককে কেন্দ্রীয় প্রকল্পের আওতায় আনা হচ্ছে। বাকি প্রায় চার লক্ষ রেশন গ্রাহক রাজ্য প্রকল্পের আওতায় আসছেন। কেন্দ্রীয় প্রকল্পের আওতায় আগেই চলে এসেছিল এমন প্রায় ১০ লক্ষ ৬০ হাজার গ্রাহকের কার্ড আগে নানা কারণে (মূলত গ্রাহকদের খুঁজে না পাওয়ার জন্য) বিলি করা যায়নি। ওই কার্ডগুলিও এবার বিলি করার জন্য পুরসভা ও পঞ্চায়েতের কাছে পাঠানো হয়েছে। সব মিলিয়ে মোট ১ কোটি ৬৭ লক্ষ ৪ হাজার ৭১টি নতুন কার্ড বিলি করা হচ্ছে।

 






?Copyright Bartaman Pvt Ltd. All rights reserved
6, J.B.S. Haldane Avenue, Kolkata 700 105
 
Editor: Subha Dutta