কলকাতা, সোমবার ২৩ জানুয়ারি ২০১৭, ৯ মাঘ ১৪২৩

 

রবিবার | রেসিপি | আমরা মেয়েরা | দিনপঞ্জিকা | শেয়ার | রঙ্গভূমি | সিনেমা | নানারকম | টিভি | পাত্র-পাত্রী | জমি-বাড়ি | ম্যাগাজিন

আজ নেতাজির ১২০তম জন্মবার্ষিকী
কোচবিহারের শৌলমারি আশ্রমের প্রয়াত সাধুকে ঘিরে
তাঁর স্মৃতি হাতড়ে বেড়াচ্ছেন দেশ-বিদেশের অনেকেই

সত্যেন পাল, শৌলমারি (কোচবিহার), বিএনএ: নেতাজির নামকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা আবেগ ও নানান কাহিনি কোচবিহারের শৌলমারিকে আজও পিছু ছাড়েনি। বাসিন্দাদের দাবি, ৬০’এর দশকে শৌলমারি আশ্রমের সাধুর সঙ্গে নেতাজির মিল খুঁজে পেয়েছিলেন অনেকেই। এটাই কার্যত মিথ হয়ে গিয়েছে। সেই সময় এনিয়ে দেশ জুড়ে তোলপাড় হয়েছিল। তবে পাঁচ দশক পরে এখনও আশ্রম প্রাঙ্গণে এসে নেতাজির সঙ্গে সাধুর যোগসূত্র খোঁজার চেষ্টা করেন অনেকেই। সোমবার নেতাজির জন্মদিন, তার আগে রবিবার স্থানীয় বাসিন্দারা শৌলমারি আশ্রমে এসে সেই প্রসঙ্গই উত্থাপন করলেন। তবে আশ্রম কর্তৃপক্ষ স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, শৌলমারি আশ্রমের সাধু শ্রীমৎ সারদানন্দজি মহারাজ তাঁর জীবদ্দশাতেই বলে গিয়েছিলেন তিনি নেতাজি নন। কিন্তু তারপরেও এনিয়ে নানা দিক থেকে খোঁজখবর চলেছে।

শৌলমারি আশ্রমের পরিচালন কমিটির সদস্য রজতকান্তি ভদ্র বলেন, শ্রীমৎ সারদানন্দজি একজন উচ্চমার্গের সাধক ছিলেন। জীবদ্দশাতেই তিনি সকলের সামনে বলে গিয়েছেন তিনি নেতাজি নন। তবে অনেকেই এখানে নানা কৌতূহল থেকে এসেছেন। খোঁজখবরও করে গেছেন।

কোচবিহার ও আলিপুরদুয়ার জেলার সীমানা লাগোয়া শৌলমারিতে ১৯৫৯ সালে এই আশ্রমটি গড়ে উঠেছিল। এখানেই সারদানন্দজি থাকতেন। কথিত আছে তিনি ১৯৬৬ সাল পর্যন্ত এখানে ছিলেন। এখানে এখনও সেই সাধকের সাধনার বেদিটি রয়েছে। আম, সবেদা, শাল, চাঁপা, অশোক, বকুল, আমলকি গাছ দিয়ে আশ্রমের সামনের অংশ ঘেরা রয়েছে। এই আশ্রমের সাধুর সঙ্গে অনেকেই নাকি নেতাজির মিল খুঁজে পেয়েছিলেন। এরপরই চলেছে দীর্ঘ অনুসন্ধান। বাসিন্দাদের দাবি, সেই কৌতূহল আজও মেটেনি। সেই সময় নেতাজির বংশধর সহ কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা দপ্তরের আধিকারিকরাও শৌলমারিতে এসে খোঁজখবর শুরু করেছিলেন। মুখোপাধ্যায় কমিশনের সদস্যরাও এই আশ্রমে এসেছিলেন। শৌলমারির সাধুকে ঘিরে নানান কাহিনি আজও মানুষের মুখে মুখে ফেরে। দেশে বিদেশে আজও শৌলমারির আশ্রমকে ঘিরে নানা ধরনের চর্চা হয়। তবে বাসিন্দাদের দাবি, শৌলমারির সাধু তাঁর ছবি কখনও তুলতে দিতেন না। এখনও আশ্রমের কোনও ছবি তুলতে দেওয়া হয় না। এক্ষেত্রে আশ্রম কর্তৃপক্ষের দাবি, নানা ধরনের বিভ্রান্তি এড়াতেই আশ্রম ও সংলগ্ন জায়গার ছবি তুলতে দেওয়া হয় না। আশ্রমটিও বেশিরভাগ সময় তালাবন্ধ করে রাখা হয়।

এদিন আলিপুরদুয়ারের প্রাক্তন শিক্ষক নৃপেন চন্দ, স্থানীয় শিক্ষক অর্ধেন্দু বণিক আশ্রমে এসেছিলেন। তবে দরজা বন্ধ থাকায় তাঁরা ভেতরে যেতে পারেননি। নৃপেনবাবু বলেন, দিদিমার হাত ধরে ছোটবেলায় এই আশ্রমে এসেছিলাম। একজন সাধককে এখানে দেখেছিলাম। নেতাজির সঙ্গে তাঁর নামকে জড়িয়ে অনেক কথাও শুনেছিলাম। এখনও এই আশ্রমে এলে তাঁর কথা মনে পড়ে। অন্যরকম অনুভূতি হয়। এই বিশ্বাস থেকেই এখানে এসেছি। মধ্যপ্রদেশ থেকে এসেছিলেন ধর্মরাজ ভারতী। তিনি বলেন, সাধকের বেদিতে মোমবাতি জ্বালাতে না পেরে ফিরে যাচ্ছি। টোটো চালক আবেদুল মিঞা বলেন, শৈশবে শুনতাম ওই সাধুই নাকি নেতাজি। তবে অত গভীরভাবে বুঝতে পারিনি। বইতেও অনেক কিছু পড়েছি। তবে বিশ্বাসটা থেকে গিয়েছে। স্থানীয় যুবকরা বলেন, দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ও বিদেশ থেকেও এখানে অনেকে আসেন। অনেকেই নেতাজির ব্যাপারে খোঁজখবর করেন।

 

 






?Copyright Bartaman Pvt Ltd. All rights reserved
6, J.B.S. Haldane Avenue, Kolkata 700 105
 
Editor: Subha Dutta