কলকাতা, সোমবার ২৩ জানুয়ারি ২০১৭, ৯ মাঘ ১৪২৩

 

রবিবার | রেসিপি | আমরা মেয়েরা | দিনপঞ্জিকা | শেয়ার | রঙ্গভূমি | সিনেমা | নানারকম | টিভি | পাত্র-পাত্রী | জমি-বাড়ি | ম্যাগাজিন

মাওবাদী এলাকায় দুর্ঘটনা - নাশকতার সম্ভাবনা উড়িয়ে দিচ্ছে না রেলমন্ত্রক
অন্ধ্রে লাইনচ্যুত হীরাখণ্ড এক্সপ্রেস, মৃত ৩৯, আহত ৬০

কুনেরু ও নয়াদিল্লি, ২২ জানুয়ারি (পিটিআই): শনির দশা কাটছে না ভারতীয় রেলের! কানপুরের পর এক মাসের ব্যবধানে ফের দুর্ঘটনার কবলে পড়ল দূরপাল্লার ট্রেন। এবারের দুর্ঘটনায় মৃত্যু হয়েছে কমপক্ষে ৩৯ জনের। আহত প্রায় ৬০ জন। মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। শনিবার রাত ১১টা নাগাদ অন্ধ্রপ্রদেশের বিজয়নগর জেলার কুনেরু স্টেশনের কাছে লাইনচ্যুত হয় জগদলপুর-ভুবনেশ্বর হীরাখণ্ড এক্সপ্রেস। এই দুর্ঘটনায় নাশকতার তত্ত্ব উড়িয়ে দিচ্ছে না রেলমন্ত্রক। পুরো ঘটনার তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন রেলমন্ত্রী সুরেশ প্রভু। রেলওয়ে সুরক্ষা কমিশনারের নেতৃত্বে তদন্ত করা হবে বলে জানিয়েছেন রেলমন্ত্রকের মুখপাত্র অনিল সাক্সেনা। পাশাপাশি, দুর্ঘটনায় মৃতদের পরিবারকে দু’লক্ষ টাকা করে ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে বলে ঘোষণা করেছেন রেলমন্ত্রী। সেই সঙ্গে হীরাখণ্ড এক্সপ্রেস দুর্ঘটনায় গুরুতর জখমদের ৫০ হাজার টাকা ও সামান্য জখমদের ২৫ হাজার টাকা করে সাহায্য দেওয়া হবে। রেলের বোর্ডের চেয়ারম্যান এ কে মিতালকে সঙ্গে নিয়ে রবিবার দুর্ঘটনাস্থলে পৌঁছান সুরেশ প্রভু। এই দুর্ঘটনায় দুঃখপ্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।

রবিবার পূর্ব উপকূলীয় রেলের মুখ্য জনসংযোগ আধিকারিক জে পি মিশ্র জানান, ট্রেনটি জগদলপুর থেকে ভুবনেশ্বর আসছিল। ন’টি কামরা বেলাইন হয়েছে। এর মধ্যে দু’টি বাতানুকূল, চারটি স্লিপার, দু’টি সাধারণ ও একটি গার্ড তথা যাত্রী কামরা লাইনচ্যুত হয়েছে। যেখানে দুর্ঘটনাটি ঘটেছে, সেই এলাকাটি মাওবাদী অধ্যুষিত অঞ্চল। তাই সাধারণতন্ত্র দিবসের প্রাক্কালে নাশকতার আশঙ্কা উড়িয়ে দিচ্ছে না রেলমন্ত্রক। তবে, এই দুর্ঘটনার পিছনে মাওবাদীদের হাত রয়েছে বলে প্রাথমিক তদন্তের পর মানতে চাইছে না ওড়িশা পুলিশ। অন্ধ্র-ওড়িশা সীমান্ত লাগোয়া অঞ্চলে দুর্ঘটনাটি ঘটেছে। ওড়িশার মুখ্যমন্ত্রী নবীন পট্টনায়েক বলেন, হীরাখণ্ড এক্সপ্রেস লাইনচ্যুত হওয়ার ঘটনায় মাওবাদীদের হাত থাকার এখনও কোনও তথ্য-প্রমাণ মেলেনি। কিন্তু রেলের মুখপাত্র অনিল সাক্সেনার বক্তব্য, তদন্ত হলেই দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ জানা সম্ভব। হীরাখণ্ড এক্সপ্রেসের চালক যে বয়ান দিয়েছেন তাতে জানা গিয়েছে, তিনি একটি বিস্ফোরণের মতো শব্দ শুনতে পান এবং প্রবল ঝাঁকুনি অনুভব করেন। তখনই তিনি আপদকালীন ব্রেকে চাপ দিতে বাধ্য হন। আরপিএফের মহানির্দেশক এস কে ভগতও নাশকতার আশঙ্কা উড়িয়ে দেননি।

দুর্ঘটনার পর অন্ধ্রপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী চন্দ্রবাবু নাইডুকে ফোন করে খোঁজ খবর নেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনাথ সিং। লাইনচ্যুত কামরা থেকে যাত্রীদের বের করে আনার জন্য জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীর ১০০ জন সদস্যকে ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে। পাশাপাশি, রাজ্যের উদ্ধারকারীদলকে সাহায্য করতে পৌঁছেছে ওড়িশার বিপর্যয় মোকাবিলা দল। ট্রেন দুর্ঘটনায় রাজ্যের যে সমস্ত সওয়ারির মৃত্যু হয়েছে, তাঁদের পরিবারকে পাঁচ লক্ষ টাকা করে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার কথা ঘোষণা করেছেন অন্ধ্রের মুখ্যমন্ত্রী চন্দ্রবাবু নাইডু। তিনি ওড়িশার মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গেও ফোনে কথা বলেন।

দুর্ঘটনার জেরে বিজয়নগর রুটে পাঁচটি ট্রেন বাতিল করা হয়েছে। আটটি ট্রেন ঘুরপথে চালানো হচ্ছে। হীরাখণ্ড এক্সপ্রেসের অক্ষত যাত্রীদের উদ্ধার করে আনার জন্য রিলিফ ট্রেন পাঠানো হয়েছে। গত নভেম্বর ও ডিসেম্বর মাসে কানপুরে পর পর দু’টি রেল দুর্ঘটনা ঘটে। তারপরই নতুন বছরের শুরুতেই বেলাইন হীরাখণ্ড এক্সপ্রেস। পর পর এই তিনটি দুর্ঘটনা রেলের যাত্রী সুরক্ষার বিষয়টিকে বড়সড় প্রশ্নচিহ্নের সামনে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে।

 






?Copyright Bartaman Pvt Ltd. All rights reserved
6, J.B.S. Haldane Avenue, Kolkata 700 105
 
Editor: Subha Dutta