কলকাতা, সোমবার ২৩ জানুয়ারি ২০১৭, ৯ মাঘ ১৪২৩

 

রবিবার | রেসিপি | আমরা মেয়েরা | দিনপঞ্জিকা | শেয়ার | রঙ্গভূমি | সিনেমা | নানারকম | টিভি | পাত্র-পাত্রী | জমি-বাড়ি | ম্যাগাজিন

পুরভোটের আগেই পাহাড়ের
জন্য একগুচ্ছ প্রকল্প মমতার

দেবাঞ্জন দাস, কার্শিয়াং: পাহাড়ে চার পুরসভায় খুব শীঘ্রই ভোট। গোর্খা জনমুক্তি মোর্চার একচেটিয়া আধিপত্যে ইতিমধ্যেই কার্যত চিড় ধরেছে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উন্নয়নের জোয়ারে। পাহাড়ে পিছিয়ে পড়া বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর আর্থ-সামাজিক মানোন্নয়নে একের পর এক উন্নয়ন পর্ষদ গড়ে বিমল গুরুং অ্যান্ড কোম্পানির মৌরসিপাট্টা অনেকটাই স্তিমিত করে দিয়েছেন মমতা। পাহাড়ের সামগ্রিক উন্নয়নের সেই ধারা এবারের সফরেও অব্যাহত রাখলেন মুখ্যমন্ত্রী।

রবিবার কার্শিয়াংয়ের গোথেল স্কুল ময়দানে সাতদিনের উত্তরবঙ্গ উৎসবের সূচনা করে মমতা ঘোষণা করলেন—পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর সার্বিক উন্নয়নের লক্ষ্যে পাহাড়ে তৈরি হচ্ছে আরও তিনটি পর্ষদ। উন্নয়ন পর্ষদ হবে গুরুং ও খস জনগোষ্ঠীর জন্য। একইভাবে পাহাড়ের সংখ্যালঘু (মুসলমান, খ্রিস্টান, বাংলা এবং হিন্দিভাষী জনগোষ্ঠী) মানুষের জন্যও তৈরি হচ্ছে ‘পাহাড়িয়া মাইনরিটি বোর্ড’। এদিন দুপুরে কার্শিয়াংয়ের মঞ্চ থেকে মুখ্যমন্ত্রী যখন নতুন উন্নয়ন পর্ষদ গঠনের ঘোষণা করলেন, উল্লাস আর করতালিতে গোটা সভাস্থলে তখন যেন সমুদ্র গর্জন। পাহাড়ি এলাকার অনগ্রসর শ্রেণির মানুষের জন্য ক্ষমতায় আসার পর এই নিয়ে মোট ১৫টি উন্নয়ন পর্ষদ গড়লেন মমতা। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, আর্থিক নানা প্রতিবন্ধকতার মধ্যেও তৃণমূলস্তরে উন্নয়ন পৌঁছে দিতে পর্ষদগুলিকে এখনও পর্যন্ত রাজ্য সরকার দিয়েছে ২৬৮.৭৪ কোটি টাকা। উন্নয়নের জন্য টাকার অভাব হবে না। তিনটি নতুন পর্ষদ ছাড়াও গোর্খাল্যান্ড টেরিটোরিয়াল অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের (জিটিএ) পরিচালনায় চলা বিভিন্ন স্কুলের শিক্ষক-শিক্ষিকাদের নিয়মিতকরণ, এনএইচ ১০ এবং ৫৫ নতুন করে সংস্কারের কাজ শুরু, ১০০ শয্যা বিশিষ্ট ইএসআই হাসপাতাল আর পাহাড়ের ৯০জন অভাবী-মেধাবি পড়ুয়াকে এককালীন ১০ হাজার টাকা করে সাহায্য প্রদান—মুখ্যমন্ত্রীর একের পর এক ঘোষণায় সভাস্থলে তখন তুমুল উল্লাস। ঘোষিত প্রকল্প আর তার বাস্তব রূপায়ণের এহেন মেলবন্ধনে তৃণমূল সুপ্রিমো যে মোর্চা প্রধান বিমল গুরুং আর তাঁর সঙ্গীদের রক্তচাপ আরও বাড়িয়ে দিয়ে গেলেন, তা মানছেন পাহাড়ের সবমহলই। উত্তরবঙ্গ উৎসবের সূচনার সঙ্গেই এদিন ছিল হিমাল-তরাই-ডুয়ার্স স্পোর্টস ফেস্টিভালের পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানও। গত নভেম্বর মাস থেকে উত্তরবঙ্গের সাত জেলার ৫৪০টি ক্লাব সংগঠনের প্রায় ন’হাজার প্রতিযোগীকে নিয়ে শুরু হয়েছিল এই ‘খেল উৎসব’। এদিন বিভিন্ন বিভাগের সেরাদের পুরস্কৃত করেন মুখ্যমন্ত্রী। ট্রফি আর সার্টিফিকেট ছাড়াও সেরারা কেউ পেলেন মোটর সাইকেল, কেউ স্কুটি, কেউ ল্যাপটপ আবার কেউবা গৃহস্থালির সরঞ্জাম। অংশগ্রহণকারী প্রতিটি ক্লাব পেয়েছে ২৫ হাজার টাকা। আর হাতখরচের জন্য প্রতিযোগীরা পেয়েছেন দেড় হাজার করে টাকা। এখানেই থেমে থাকেননি মুখ্যমন্ত্রী। মঞ্চ থেকে জানিয়ে দিলেন, আজ যারা পুরস্কার পেল, তাদের একটা করে ছোট চাকরি করে দেব। এরপরই উত্তরবঙ্গের এডিজি এন রমেশবাবুকে তাঁর নির্দেশ, আজ যারা পুরস্কৃত হয়েছেন, নামের তালিকা তৈরি করে ডিজি সুরজিৎ কর পুরকায়স্থকে পাঠিয়ে দিন। আমি ফাইলে সই করে দেব। প্রশাসনিক সূত্রে জানা গিয়েছে, পুরস্কৃতদের সিভিক ভলেন্টিয়ার পদে নিয়োগ করা হবে।

এরকম সব উপহারের পাশাপাশি পাহাড়বাসীকে আরও উন্নয়নের স্বপ্নে বিভোর করে দিয়ে গেলেন মমতা। বললেন—পুরসভা আর জিটিএ হাতে থাকলে, আরও অনেক কিছু করতে পারতাম। উন্নয়নের ধারা অব্যাহত থাকলে, গোর্খাল্যান্ডের প্রয়োজন কীসের? কোনও নাম না করে সে উত্তরও দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। বলেছেন, ছোট জায়গায় থাকলে হবে না। মাতৃভূমির সেবা করতে হবে। পাহাড়ের উন্নয়নের জন্য যা দরকার, তা এই সরকার করবেই।

 

 






?Copyright Bartaman Pvt Ltd. All rights reserved
6, J.B.S. Haldane Avenue, Kolkata 700 105
 
Editor: Subha Dutta