কলকাতা, সোমবার ২৩ জানুয়ারি ২০১৭, ৯ মাঘ ১৪২৩

 

রবিবার | রেসিপি | আমরা মেয়েরা | দিনপঞ্জিকা | শেয়ার | রঙ্গভূমি | সিনেমা | নানারকম | টিভি | পাত্র-পাত্রী | জমি-বাড়ি | ম্যাগাজিন

গঙ্গাসাগরে পর পর দেহ উদ্ধারে
অস্বস্তিতে সরকার
, ক্ষুব্ধ মমতা

নিজস্ব প্রতিনিধি, দক্ষিণ ২৪ পরগনা: গঙ্গাসাগর মেলায় স্নান সেরে ফেরার সময় কচুবেড়িয়া জেটিঘাটে ভিড়ের চাপ ও হুড়োহুড়িতে বাঁশের ব্যারিকেড ভেঙে তীর্থযাত্রীদের মৃত্যু নিয়ে এমনিতে অস্বস্তিতে রয়েছে প্রশাসন। মেলা শেষ হয়ে যাওয়ার পরও গত পাঁচদিন ধরে নদী থেকে আরও পাঁচটি মৃতদেহ উদ্ধার হওয়াতে সেই অস্বস্তি কয়েকগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। প্রশ্ন উঠেছে, ঠান্ডায় যদি সেদিন মারা গিয়ে থাকে, তাহলে এই দেহগুলি জলে গেল কী করে? ঘটনার দিন জেলাশাসকসহ প্রশাসন ও পুলিশের কর্তারা কেন ভালো করে বিষয়টি যাচাই করলেন না? ভিড়ের চাপে হুড়োহুড়িতে বাঁশের ব্যারিকেড ভাঙার পর কেউ জলে পড়ে গিয়েছে কি না তা খুঁজে দেখা হল না কেন? রাজ্য প্রশাসনের শীর্ষ কর্তারাও এ নিয়ে চাপে পড়ে গিয়েছেন। কেউ সঠিক জবাব দিতে পারছেন না। খোদ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ওই ঘটনার পর থেকে জেলাশাসক পিবি সেলিমের উপর চটে রয়েছেন। কারণ, ওই ঘটনার জন্য সারা দেশে সরকারের স্বচ্ছ ভাবমূর্তিতে ধাক্কা লেগেছে। সমালোচনা শুনতে হয়েছে তাঁর সরকারকে। তীর্থযাত্রীদের কাছে মাথা হেঁট হয়েছে। স্বভাবতই জেলাশাসককে সরিয়ে দেওয়ার বিষয় নিয়ে মোটামুটি স্থির করে ফেলেছেন মুখ্যমন্ত্রী। রাজ্য প্রশাসনের ঘনিষ্ঠমহলে সে কথা তিনি বলেছেন।

নবান্ন সূত্রে জানা গিয়েছে, নদীয়া জেলায় থাকার সময় শৌচাগার নিয়ে ভালো কাজের জন্য ইউনিসেফের পুরস্কার পান জেলাশাসক পিবি সেলিম। তাতে মুখ্যমন্ত্রীর নেকনজরে চলে আসেন। মুখ্যমন্ত্রী ভেবেছিলেন, এ জেলাতে ভালো কাজ করবেন জেলাশাসক। যথেষ্ট আস্থাও রেখেছিলেন। জেলাশাসক তাঁর কাজের সুবিধার জন্য নদীয়া থেকে বেশ কয়েকজন অনুগত অফিসার ও এক অতিরিক্ত জেলাশাসককে এ জেলায় বদলি করে নিয়ে এসেছিলেন। তাঁর পছন্দ নয়, এমন একাধিক অফিসারকে সরিয়ে দিয়েছেন। এর বিরুদ্ধে কেউ কথা বলার সাহস পাননি। কারণ, রাজ্য প্রশাসনের আমলা মহল জানে পিবি সেলিমের মাথায় মুখ্যমন্ত্রীর আশীর্বাদ রয়েছে।

কিন্তু পর পর দু’টো গঙ্গাসাগর মেলা নিয়ে জেলাশাসক বিতর্কে জড়িয়ে পড়ায় মুখ্যমন্ত্রী যথেষ্ট হতাশ ও যারপনাই ক্ষুব্ধ হয়েছেন। ২০১৬ সালে গঙ্গাসাগর মেলার সময় জনস্বাস্থ্য দপ্তরের দেওয়া দেড় কোটি টাকা সরকারি নিয়মকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে ই টেন্ডার ছাড়াই খরচ করেন। তার কোনও রেকর্ড ছিল না। এজন্য সেই সময় খুব গোপনে কাকদ্বীপের তৎকালীন বিডিওকে ওই টাকার ফলস রসিদ তৈরি করতে বলা হয়। এ নিয়ে বিডিওর সঙ্গে জেলাশাসকের মতবিরোধ হয়। শেষ পর্যন্ত বিষয়টি মুখ্যমন্ত্রীর নজরে যাওয়াতে বিডিওকে কাকদ্বীপ থেকে নবান্নে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। পরবর্তী সময় এ নিয়ে জেলাশাসক পিবি সেলিমকে সতর্ক করেন মুখ্যমন্ত্রী। প্রশাসনিক সভায় সকলের সামনে তিনি জেলাশাসককে বলে ফেলেন, সেলিম এমন কোনও কাজ করবে না, যার জন্য পরবর্তী জেলাশাসককে ফ্যাসাদে পড়তে হয়। এটা মনে রেখে কাজ করবে।

এরপরই জেলায় টাকা খরচের বিষয়ে নজরদারির জন্য নবান্ন ঘনিষ্ঠ এক আমলাকে পাঠানো হয়। এবার সাগরমেলার সময় মুখ্যমন্ত্রী বার বার জেলাশাসক ও আধিকারিকদের সতর্ক করে দিয়েছিলেন। বলেছিলেন, পলি সঠিকভাবে কাটার কাজের পাশাপাশি তীথর্যাত্রীদের নিরাপদে স্নান ও বাড়ি ফেরার বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখতে হবে। এ বিষয়ে কোনও গাফিলতি বরদাস্ত করা হবে না। জেলাশাসকের ঢিলেমি এবং মেলা পরিচালনার সঙ্গে যুক্ত পুলিশ ও প্রশাসনের অন্য আধিকারিকদের সঙ্গে পিবি সেলিমের বনিবনা ও সমন্বয়ের অভাবের জেরে কচুবেড়িয়াতে ভিড়ের চাপে পদপিষ্টের জন্য চলে গিয়েছে এতগুলি প্রাণ। জেলাশাসক পিবি সেলিম অবশ্য আগের মতো বলেছেন, ঠান্ডায় মারা গিয়েছে। পরবর্তী সময়ে দেহ উদ্ধারের বিষয়ে তাঁর প্রতিক্রিয়া খোঁজ করে দেখতে হবে।

 






?Copyright Bartaman Pvt Ltd. All rights reserved
6, J.B.S. Haldane Avenue, Kolkata 700 105
 
Editor: Subha Dutta