কলকাতা, সোমবার ২৩ জানুয়ারি ২০১৭, ৯ মাঘ ১৪২৩

রবিবার | রেসিপি | আমরা মেয়েরা | দিনপঞ্জিকা | শেয়ার | রঙ্গভূমি | সিনেমা | নানারকম | টিভি | পাত্র-পাত্রী | জমি-বাড় | ম্যাগাজিন


উত্তরবঙ্গ উৎসব উপলক্ষে রবিবার শিলিগুড়িতে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা। নিজস্ব চিত্র

সীমান্তে হাই অ্যালার্ট, স্পেশাল অপারেশন শুরু এসএসবি’র
কেএলও’র সঙ্গে উত্তর-পূর্বাঞ্চলের আরও তিনটি নিষিদ্ধ
জঙ্গি সংগঠন সাধারণতন্ত্র দিবস বয়কটের ডাক দিল

সংবাদদাতা, আলিপুরদুয়ার: এবার যৌথভাবে সাধারণতন্ত্র দিবস বয়কটের ডাক দিল কেএলও’র সঙ্গে উত্তর-পূর্বাঞ্চলের আরও তিনটি নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন এনডিএফবি, পিডিসিকে ও এনএলএফটি। কেএলও ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের জঙ্গি সংগঠনগুলির হুমকির পরিপ্রেক্ষিতে ও সাধারণতন্ত্র দিবসের আগে অসম-বাংলা আন্তঃরাজ্য ও ভারত-ভুটান আন্তর্জাতিক দুই সীমান্তে সাত দিনের স্পেশাল অ্যালার্ট অপারেশন শুরু করে দিল সশস্ত্র সীমা বল (এসএসবি)। সিকিম থেকে কুমারগ্রামের সংকোশ পর্যন্ত এসএসবি’র ৫৮টি বর্ডার আউট পোস্টে (বিওপি) রবিবার থেকেই এই স্পেশাল অ্যালার্ট অপারেশন চালু করে দেওয়া হয়েছে। একইভাবে আলিপুরদুয়ার জেলা পুলিশও সীমান্তবর্তী থানা ও ফাঁড়িগুলিতে হাই অ্যালার্ট জারি করেছে।

সম্প্রতি অসম, কোচবিহার ও ত্রিপুরা থেকে হিন্দি ও বাংলাভাষীদের সরে যাওয়ার হুমকি দিয়েছিল কেএলও’র সঙ্গে পিডিসিকে ও এনএলএফটি। এই হুমকির পরিপ্রেক্ষিতে বাঙালি জনমুক্তি বাহিনী নামে অন্য একটি সংগঠনও পালটা হুমকি দিয়েছিল। এবার সাধারণতন্ত্র দিবস বয়কটের আহ্বানে তিন জঙ্গি সংগঠনের সঙ্গে দোসর হয়েছে এনডিএফবিও। রবিবার কেএলও’র প্যাডে চারটি জঙ্গি সংগঠন ইংরেজিতে লেখা দু’পাতার প্রেস বিবৃতিতে এই বয়কটের ডাক দিয়েছে। প্রেস বিবৃতির নীচে রয়েছে কেএলও চিফ জীবন সিংহ, এনএফএফটি প্রধান সেংফুই বরাক, পিডিসিকে প্রধান জেকে লিজাং ও এনডিএফবি প্রধান সোরাই গাওরার স্বাক্ষর।

এসএসবি’র জলপাইগুড়ি রেঞ্জের ডিআইজি এইচএস গ্যাডগিল জানিয়েছেন, ২৬ জানুয়ারির আগে দুই সীমান্তে সাত দিনব্যাপী স্পেশাল অ্যালার্ট অপারেশন চালু করা হয়েছে। বিওপিগুলিতে হাই অ্যালার্ট জারি করা হয়েছে। এবিষয়ে রাজ্য ও অসম পুলিশের সঙ্গেও সমন্বয় রাখা হচ্ছে। আলিপুরদুয়ারের পুলিশ সুপার আভারু রবীন্দ্রনাথন বলেন, জঙ্গি সংগঠনগুলির এই হুমকি নিয়ে আমরা সারা বছরই সতর্ক থাকি। ২৬ জানুয়ারির আগে ও জঙ্গি সংগঠনগুলির এই হুমকির পরিপ্রেক্ষিতে দুই সীমান্তে থানা ও ফাঁড়িগুলিকে সতর্ক করা হয়েছে। সীমান্তে হাই অ্যালার্ট জারি করা হয়েছে।

ডুয়ার্সে নারী, তক্ষক, গন্ডারের শিং, অন্যান্য বন্যজন্তুর দেহাংশ ও চন্দন কাঠ পাচার রোধে সারা বছর ধরে নজরদারির কাজ করছে এসএসবি। এবার ২৬ জানুয়ারির আগে বিশেষ পরিপ্রেক্ষিতে দুই সীমান্তে থাকা এসএসবি’র বিওপিগুলিতে দফায় দফায় পেট্রোলিং শুরু হয়েছে। সীমান্তে সাদা পোশাকেও নজরদারি চলছে। সীমান্তে অজানা ব্যক্তিকে দেখলেই তল্লাশি করছে এসএসবি জওয়ানরা। অপারেশনের অঙ্গ হিসাবে এসএসবি’র প্রশিক্ষিত পাইলট প্রজেক্টের জওয়ানরা সীমান্তে বসবাসকারী বাসিন্দাদের সঙ্গে নিবিড় সংযোগও গড়ে তুলছে।

মালদহে নাবালিকার বিয়ে রুখতে গিয়ে হেনস্তার শিকার স্বনির্ভর গোষ্ঠীর মহিলারা

বিএনএ, মালদহ: নাবালিকার বিয়ে রুখতে গিয়ে এবার স্বনির্ভর গোষ্ঠীর মহিলারা হেনস্তার শিকার হলেন। রবিবার বিকালে মালদহ জেলার ইংলিশবাজার থানার লক্ষ্মীঘাট সাইপাড়াতে ঘটনাটি ঘটেছে। খবর পেয়ে ইংলিশবাজারের পুলিশ ও প্রশাসন ঘটনাস্থলে গিয়ে স্বনির্ভর ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের দুই মহিলাকে উদ্ধার করে। একইসঙ্গে পরিবারের কাছে মুচলেকা নিয়ে ওই বিয়ে বন্ধ করা হয়েছে। তাৎপর্যপূর্ণভাবে নরহাট্টার সাইপাড়া গ্রামের নবম শ্রেণির যে ছাত্রীর বিয়ে দেওয়া হচ্ছিল সে কন্যাশ্রী প্রকল্পের উপভোক্তা। এই ঘটনা প্রকাশ্যে আসতেই জেলা প্রশাসনের মাথায় চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে। এদিকে রবিবার সকালে মালদহের কালিয়াচকের গুধুয়া গ্রামে এক ব্যক্তি আক্রান্ত হয়েছেন। ওই ব্যক্তির দাবি, প্রতিবেশীর নাবালিকা কন্যার বিয়ে আটকে দেওয়াতেই তাঁর উপরে হামলা হয়েছে। যদিও কালিয়াচক থানায় কোনও অভিযোগ এখনও হয়নি বলে জানা গিয়েছে।

ইংলিশবাজারের বিডিও দেবর্ষি মুখোপাধ্যায় বলেন, খুবই মর্মান্তিক ঘটনা যে কন্যাশ্রী প্রকল্পভুক্ত একটি নাবালিকাকে বিয়ে দিয়ে দেওয়া হচ্ছিল। একটি স্বেচ্ছাসেবী ও স্বনির্ভর গোষ্ঠীর দুই মহিলা জয়শ্রী কর্মকার ও বেবি আচার্য্য ওই বিয়ে রুখে দিয়েছেন। কিন্তু ওই কাজ করতে গিয়ে তাঁরা বিপদের মুখে পড়েছিলেন। আমাকে বিষয়টি তাঁরা জানালে পুলিশ ও প্রশাসনিক সহযোগিতা করা হয়েছে। শেষপর্যন্ত বিয়ে বন্ধ হয়েছে এবং আমরা ওই পরিবারের কাছ থেকে মুচলেকা নিয়েছি। সাইপাড়ার নাবালিকার বাবা আবু তালেব বলেন, আমার সাতটি সন্তান। বিয়ে দিতে হবে তো। তাই তৃতীয় মেয়েকে ভালো পাত্র পেয়ে বিয়ে দিচ্ছিলাম। কিন্তু কথা দিয়েছি ১৮ বছরের আগে আর বিয়ে দেব না।

স্থানীয় ও প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, রতুয়া ব্লক লাগোয়া নরহাট্টার লক্ষ্মীঘাট সাইপাড়া একটি প্রত্যন্ত গ্রাম। সেখানেই আবু সাহেব তাঁর নবম শ্রেণি পড়ুয়া মেয়ের এদিন বিয়ের আয়োজন করেছিলেন। ওই মেয়েটি রতুয়ার কোকলামারির একটি স্কুলে পড়ে। বেবী ও জয়শ্রীদেবী স্থানীয় এলাকায় এদিন হস্তশিল্পের প্রশিক্ষণ দিতে গিয়ে বিষয়টি জানতে পারেন। তারপরেই তাঁরা সেখানে বিয়ে বন্ধ করতে চলে যান। কিন্তু অভিযোগ ওই পরিবার ও স্থানীয়দের রোষের মুখে পড়ে তাঁরা ঘেরাও হয়ে যান। শুধু তাই নয় তাঁদের হেনস্তাও করা হয়। ওই দু’জনই বিষয়টি কোনওভাবে বিডিও দেবর্ষিবাবুকে জানালে প্রশাসনিক ও পুলিশ তৎপরতা শুরু হয়। ওই গ্রামে পুলিশ ও প্রশাসনের কর্তারা গিয়ে মহিলাদের উদ্ধার করেন শুধু তাই নয় বিয়েও বন্ধ করে দেন। রাত পেরলেই জাতীয় শিশুকন্যা দিবস। তার প্রাক্কালে বিয়ে না করার জন্যে সরকারি সাহায্যপ্রাপ্ত একটি পরিবারের নাবালিকা বিয়ের চেষ্টা ঘিরে হইচই পড়েছে।

জেলা পরিষদের উদ্যোগে রীতিমতো কার্ড ছাপিয়ে পিকনিকের আয়োজন, বিতর্ক

বিএনএ, রায়গঞ্জ: তৃণমূল কংগ্রেস পরিচালিত উত্তর দিনাজপুর জেলা পরিষদের উদ্যোগে রীতিমতো কার্ড ছাপিয়ে পিকনিকের আয়োজনকে ঘিরে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। জেলা পরিষদের বাম সদস্যদের একাংশের অভিযোগ এভাবে কার্ড ছাপিয়ে জেলা পরিষদ পিকনিকের আয়োজন করতে পারে না। টাকা কোথা আসবে? কংগ্রেস এই পিকনিক বয়কট করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। জেলা পরিষদ এই ঘটনায় যথেষ্ট অস্বস্তিতে পড়েছে। এনিয়ে জেলা পরিষদের একেক পদাধিকারী একেক রকম কথা বলেছেন।

কালিয়াগঞ্জ থেকে নির্বাচিত জেলা পরিষদের সদস্য সিপিএমের আলমগির সরকার বলেন, জেলা পরিষদের পক্ষ থেকে আমাদের কার্ড দিয়ে পিকনিকের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। জেলা পরিষদ পিকনিক করার জায়গা নয়। পিকনিকের জন্য আমাদের কাছ থেকে কোনও টাকা নেওয়াও হয়নি। তাহলে এই টাকার উৎস কী? রায়গঞ্জ থেকে নির্বাচিত জেলা পরিষদের সদস্য কংগ্রেসের নার্গিস খাতুন বলেন, পিকনিকের কার্ড পেয়েছি। এবিষয়ে দলই যা সিদ্ধান্ত নেওয়ার নেবে। রায়গঞ্জ পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি তথা রায়গঞ্জ ব্লক কংগ্রেস সভাপতি লিয়াকৎ আলি বলেন, জেলা পরিষদের পিকনিকের কার্ড পেয়েছি। আমরা ওই পিকনিক বয়কট করছি। জেলা পরিষদের সহকারি সভাধিপতি তৃণমূল কংগ্রেসের পূর্ণেন্দু দে বলেন, পিকনিকের জন্য একটি কার্ড করা হয়েছে একথা ঠিক। তবে জেলা পরিষদের কোনও ফান্ড ব্যবহার করে ওই পিকনিক করা হচ্ছে না। যাঁরা আমাদের দল থেকে নির্বাচিত ও যাঁরা পরে আমাদের দলে যোগদান করেছেন এমন সদস্যদের কাছ থেকে চাঁদা নিয়ে ওই পিকনিকের আয়োজন করা হয়েছে। যদিও নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক জেলা পরিষদে তৃণমূল কংগ্রেসের এক সদস্য জানান, পিকনিকের জন্য তাঁর কাছ থেকে কোনও টাকা নেওয়া হয়নি। এদিকে জেলা পরিষদের সভাধিপতি তৃণমূল কংগ্রেসের আলেমা নূরী আবার বলেন, পিকনিকের বিষয়ে বৈঠকে আলোচনা করা হয়েছে। তবে ওই বৈঠকে বিরোধীরা ছিলেন না। যাঁরা এসব অভিযোগ তুলছেন তাঁরা আমার কাছে এসে কেন জিজ্ঞাসা করছেন না? আমাকে জিজ্ঞাসা করলে আমি এর উত্তর দিয়ে দেব। টাকা জেলা পরিষদের নিজস্ব ফান্ড থেকেই খরচ করা হবে। অতিরিক্ত জেলাশাসক (জেলা পরিষদ) বিনয় শিকদার বলেন, আমি ছুটিতে রয়েছি। বিষয়টি আমার জানা নেই।

জেলা পরিষদ সূত্রে জানা গিয়েছে, আজ, সোমবার, ২৩ জানুয়ারি জেলা পরিষদের উদ্যোগে ওই পিকনিকের আয়োজন করা হয়েছে। বিভিন্ন মহলে পিকনিকের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। বিকেল ৫টায় কর্ণজোড়া পার্কে ওই পিকনিকের আয়োজন করা হয়েছে। পিকনিকে মেনু নানারকম পকোড়া, কয়েক ধরনের মাছ, ফ্রায়েড রাইস, ভাত, মুরগি ও খাসির মাংস রাখা হয়েছে। এতে কিছু সংযোজন-বিয়োজনও হতে পারে।

মালদহে বিজেপি’র বৈঠক থেকে পঞ্চায়েত নির্বাচনের প্রস্তুতির নির্দেশ

বিএনএ, মালদহ: মালদহে রাজ্য কার্যকারিণী সভা থেকে পঞ্চায়েত নির্বাচনের প্রস্তুতি নেওয়ার নির্দেশ দিল রাজ্য বিজেপি। দলের সর্বভারতীয় সভাপতি অমিত শাহের দেওয়া রূপরেখা অনুসারে রাজ্যের সর্বত্র বাড়ি বাড়ি একটি বিশেষ স্টিকার লাগিয়ে কেন্দ্রীয় সরকারের কাজের প্রচার করা হবে। সেই সঙ্গে বুথ কমিটিগুলিকে নজরদারি করার জন্যে পরিদর্শক কমিটি ও কর্মকর্তাদের বুথে গিয়ে দিনকয়েক করে থাকার নির্দেশ সর্বভারতীয় সভাপতি দিয়েছেন। রবিবার রাজ্য কার্যকারিণী বৈঠকের শেষদিনে রাজ্যের সংগঠন সম্পাদক প্রতিনিধিদের ওই পরিকল্পনার কথা জানিয়ে দেন। এদিকে দলের রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ এদিনই দাবি করেছেন যে, পশ্চিমবঙ্গের যা পরিস্থিতি তাতে যে কোনওদিন রাষ্ট্রপতি শাসনের জন্যে আবেদন করতে হবে।

দু’দিনের বৈঠক শেষে এদিন দিলীপবাবু বলেন, পঞ্চায়েতের জন্যে আমরা প্রস্তুত হচ্ছি। ২৩-৩০ জানুয়ারি প্রশাসনিক ভবনের সামনে রাজ্য জুড়ে বিক্ষোভ কর্মসূচি হবে। ৬ ফেব্রুয়ারি কলকাতায় কেন্দ্রীয় সমাবেশ করা হবে। সেখানে প্রধান বক্তা থাকবেন দলের সর্বভারতীয় সভাপতি অমিত শাহ। কিন্তু রাজ্য সরকার এখনও আমাদের সেই সভার অনুমতি দেয়নি। প্রয়োজনে সেদিন একাধিক বড় মিছিল ও আইন অমান্য করা হবে। এ প্রসঙ্গেই রাজ্য সরকারের সমালোচনা করে তিনি বলেন, যেভাবে বিরোধীদের বিশেষত বিজেপি’র মুখবন্ধ করার চেষ্টা হচ্ছে তাতে যেকোনও দিন আমি গ্রেপ্তার হতে পারি। রাজ্যে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি যে জায়গায় গিয়েছে তাতে রাষ্ট্রপতি শাসন চাইতে আর বেশিদিন অপেক্ষা করতে হবে না। আমরা ইতিমধ্যেই রাজ্যপালের কাছে স্মারকলিপি দিয়ে পরিস্থিতি পর্যালোচনা করার অনুরোধ করেছি।

বিজেপি সূত্রে জানা গিয়েছে, শনিবার রাতে নোটবাতিল নিয়ে সমর্থন সূচক প্রস্তাব ও ভীম অ্যাপ সমস্ত প্রতিনিধিদের দেওয়া হয়। রবিবার বৈঠকের শেষ দিনে দলের সংগঠন সম্পাদকের প্রস্তাব বিষয়ক পর্ব ছিল। আগামী দিনের সাংগঠনিক কর্মসূচির রূপরেখা হিসাবে দলের সর্বভারতীয় সভাপতির দেওয়া রূপরেখা তুলে ধরা হয়। ওই পরিকল্পনা অনুসারে পণ্ডিত দীনদয়াল উপাধ্যায়ের ছবি সহ কেন্দ্রীয় প্রকল্প সর্ম্পকিত একটি স্টিকার বিজেপি কর্মীরা রাজ্যের সর্বত্র বাড়ি বাড়ি লাগিয়ে দেবেন। এতে একদিকে যেমন কেন্দ্রীয় প্রকল্পের প্রচার হবে, তেমনি বাড়িতে বাড়িতে বিজেপি সম্পর্কিত বক্তব্যও পৌঁছে যাবে। একইসঙ্গে সর্বত্র বুথের নজরদারি কমিটি তৈরি করা হবে। প্রতি বুথ থেকে একজন করে প্রচারক তৈরি করা হবে। জেলা কর্মকর্তাদের অন্তত একটি করে বুথ নির্বাচন করে সেখানকার কর্মীরা বাড়ি গিয়ে থেকে সাধারণ মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ তৈরি করবে। বৈঠকে সর্বভারতীয় সভাপতি’র নাম করে বলা হয়, প্রথমে পঞ্চায়েত তারপরে লোকসভা এবং সর্বশেষে আগামী বিধানসভার মাধ্যমে এরাজ্যে ক্ষমতায় আসার কাজ নিশ্চিত করতে হবে। রাজ্য নেতৃত্বেরও পর্যবেক্ষণ যে এরাজ্যে বিজেপি’র জন্যে অনুকূল পরিবেশ তৈরি হয়েছে। বস্তুত ওই পর্যবেক্ষণ থেকেই এদিন প্রবীণদের একটি কমিটি তৈরি করা হয়েছে, তেমনি দলের বুদ্ধিজীবী কমিটিকে নবকলেবরে সাজানো হয়েছে। সাপ্তাহিক কাজের বুলেটিন প্রকাশ করে বিতরণ করার সিদ্ধান্ত এদিনের বৈঠক থেকে নেওয়া হয়েছে। দলের সংগঠন সম্পাদক ও সভাপতি, দু’জনেই সামগ্রিক পরিকল্পনা প্রয়োগের মধ্যে দিয়ে পঞ্চায়েত নির্বাচনের জন্যে প্রস্তুত হওয়ার ঘোষণা করেছেন।

রায়গঞ্জে উদ্ধার জার্মান নাগরিক এখন সুস্থ

বিএনএ, রায়গঞ্জ: রায়গঞ্জ জেলা হাসপাতালে চিৎিসাধীন জার্মান নাগরিক চিকিৎসায় সাড়া দিচ্ছেন। সিটি স্ক্যান থেকে শুরু করে তাঁর নানা শারীরিক পরীক্ষার রিপোর্টে বড়সড় কোনও সমস্যা ধরা পড়েনি। পাশাপাশি ওই ব্যক্তির সম্পর্কে এখনও কোনও তথ্য সংগ্রহ করতে পারেনি পুলিশ ও জেলা প্রশাসন। উল্লেখ্য, শুক্রবার রাতে রায়গঞ্জ থানার পুলিশ শক্তিনগর থেকে ডায়াটার হোলজার নামে ৭২ বছর বয়স্ক ওই জার্মান নাগরিককে উদ্ধার করে জেলা হাসপাতালে ভরতি করে। ওই ব্যক্তি কোথা থেকে রায়গঞ্জে এসে পৌঁছালেন, তিনি কী উদ্দেশ্যে এদেশে এসেছিলেন, তাঁর বৈধ কাগজপত্রই বা কোথায় রয়েছে এসব বিষয়ে এখনও কোনও কিছু স্পষ্ট করে জানা যায়নি। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ইতিমধ্যেই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের মাধ্যমে জার্মান দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। জেলা হাসপাতালের সুপার গৌতম মণ্ডল বলেন, ওই ব্যক্তি চিকিৎসায় সাড়া দিচ্ছেন। তিনি এখন সুস্থই রয়েছেন। তাঁর বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষায় তেমন কোনও সমস্যা ধরা পড়েনি। পুলিশ ওই ব্যক্তিকে ভরতি করেছে। তারাই ব্যবস্থা নেবে। যতক্ষণ পুলিশ কোনও ব্যবস্থা না নিচ্ছে ততক্ষণ তিনি এখানেই থাকবেন।

অমৃতিতে মদের আসরের প্রতিবাদ করে দম্পতি সহ আক্রান্ত ৪

বিএনএ, মালদহ: বাড়ির কাছে মদের আসর বসানোর প্রতিবাদ করায় একই পরিবারের চার জন আক্রান্ত হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। শনিবার রাতে মালদহের ইংলিশবাজার থানার অমৃতির বানিয়াগ্রামে ঘটনাটি ঘটেছে। যদিও ঘটনার পর ২৪ ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও থানায় কোনও অভিযোগ হয়নি। মদ্যপ দুষ্কৃতীদের আক্রমণে জখম এক অন্তঃসত্ত্বা মহিলা ও তাঁর স্বামী মালদহ মেডিকেলে চিকিৎসাধীন আছেন। তাঁদেরই অভিযোগ, এক প্রতিবেশী নিয়মিত বাড়ির পাশে সঙ্গীসাথীদের নিয়ে মদের আসর বসাত। শনিবার বিরক্ত হয়ে তার প্রতিবাদ করাতেই তারা বাড়িতে চড়াও হয়ে ওই গৃহবধূকে মারধর করে। স্ত্রী’কে বাঁচাতে স্বামী ও পরিবারের আরও দুই সদস্য জখম হন। পরে অন্য প্রতিবেশীরা চলে এলে দুষ্কৃতীরা পালিয়ে যায়। রাতেই জখম ওই দম্পতিকে মালদহ মেডিকেলে চিকিৎসার জন্য ভরতি করা হয়। ইংলিশবাজার থানার আইসি পূর্ণেন্দু কুণ্ডু বলেন, অমৃতি থেকে কেউ কোনও অভিযোগ রবিবার দায়ের করেনি। নির্দিষ্ট অভিযোগ হলে অবশ্যই পদক্ষেপ করা হবে।

কোচবিহার সংশোধনাগার থেকে পালিয়ে গেল ৩ বন্দি

বিএনএ, কোচবিহার: রবিবার কোচবিহার জেলা সংশোধনাগার থেকে তিনজন আজাপ্রাপ্ত বাংলাদেশি বন্দি পালিয়ে গিয়েছে। একজনকে রাতে ধরা সম্ভব হলেও বাকিরা পলাতক রয়েছে। সংশোধনাগার সূত্রে জানা গিয়েছে তিনজনই বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী হিসাবে ধরা পড়েছিল। তাদের বয়স ১৮-৪০ বছরের মধ্যে। এদিন দুপুরে তারা সংশোধনাগারের ভেতর কাজ করছিল। সেই সময় সংশোধনাগারের নর্দমার লোহার জালি সরিয়ে তারা পালিয়ে যায়। সংশোধনাগার কর্তৃপক্ষ বিষয়টি জানতে পেরে খোঁজাখুজি শুরু করে। সুটকাবাড়ি এলাকা থেকে সংশোধনাগারের কর্মীরা একজন বন্দিকে ধরতে পেরেছে। তবে বন্দি পালিয়ে যাওয়ার খবর পুলিশকে দিতে সংশোধনাগার কর্তৃপক্ষ দেরি করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। সংশোধনাগার কর্তৃপক্ষ এনিয়ে কোনও মন্তব্য করতে চায়নি।

প্রাথমিকভাবে সংশোধনাগার কর্তৃপক্ষের ধারণা ওই বন্দিরা আগে থেকেই পালানোর পরিকল্পনা করেছিল। ঘটনায় সংশোধনাগারের কর্মীদের কোনও গাফিলতি রয়েছে কি না তা দেখা হচ্ছে। আজ সোমবার কারা দপ্তরের পদস্থ কর্তারা সংশোধনাগার পরিদর্শনে আসবেন। কারা পরিদর্শক খোকন মিঞা এদিন রাতে সংশোধনাগারে গিয়ে ঘটনার ব্যাপারে খোঁজখবর করেন। তিনি বলেন, তিনজন বন্দি সংশোধনাগার থেকে পালিয়ে গিয়েছিল। একজন বন্দিকে ধরা সম্ভব হয়েছে। দু’জনের খোঁজ চলছে।

উত্তর দিনাজপুরে পৃথক দুর্ঘটনায় মৃত ১, আহত ২৪

বিএনএ, রায়গঞ্জ: রবিবার ইটাহার ও রায়গঞ্জে পৃথক দু’টি পথ দুর্ঘটনায় এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে এবং ২৪ জন আহত হয়েছেন। এদিন দুপুরে ইটাহারের মানাইনগরে চাকলা সেতু সংলগ্ন এলাকায় ট্রাক্টরের সঙ্গে সংঘর্ষে এক মোটর বাইক আরোহীর মৃত্যু হয়। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃতের নাম আবদুল সামাদউদ্দিন(৫০)। মৃতের বাড়ি ইটাহার থানার কাপাসিয়ায়। স্ত্রীকে নিয়ে মোটর বাইকে চেপে তিনি চাঁচল-ইটাহার সড়ক ধরে ইটাহারের দুর্গাপুরে মেয়ের বাড়িতে যাচ্ছিলেন। সেই সময়ে চাকলা সেতুর সামনে চাঁচলগামী একটি ট্রাক্টর মোটর বাইকটিকে ধাক্কা দিলে দু’জনেই আহত হন। স্থানীয়রাই তাঁদের দু’জনকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক আবদুল সামাদউদ্দিনকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। পুলিশ ট্রাক্টরটিকে আটক করেছে। তবে ট্রাক্টরের চালক পলাতক। এদিকে, এদিন সকালে রায়গঞ্জের সোহরাই মোড়ে একটি পিকআপ ভ্যান উলটে গেলে চালক সহ ২৩ জন যাত্রী আহত হন। আহতদের সকলকে রায়গঞ্জ জেলা হাসপাতালে ভরতি করা হয়। পিকআপ ভ্যানটিতে চেপে শ্রমিকরা মহারাজা এলাকা থেকে রায়গঞ্জে আসছিলেন। পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে।

আর্থিক সংকটের জেরে এবছর কাটছাঁট
করা হল বেঙ্গল ট্রাভেল মার্টের অনুষ্ঠান

সংবাদদাতা, শিলিগুড়ি: আর্থিক সংকটের জেরে কাটছাঁট করা হল বেঙ্গল ট্রাভেল মার্ট অনুষ্ঠানের। ইস্টার্ন হিমালয়া ট্যুর অ্যান্ড ট্রাভেল অপারেটর অ্যাসোসিয়েশন (এতোয়া) ও রাজ্য পর্যটন দপ্তরের উদ্যোগে এবং উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন দপ্তরের সহযোগিতায় আগামী ২৭ তারিখ থেকে ২৯ তারিখ পর্যন্ত শিলিগুড়ির দাগাপুরের একটি বিনোদন পার্কে এই পর্যটন মেলা অনুষ্ঠিত হতে চলেছে। এবছর উদ্যোক্তাদের লক্ষ্য ছিল বেশি করে বিদেশের পর্যটন সংস্থাগুলিকে মেলাতে নিয়ে আসা। যাতে বিদেশে বাংলার পর্যটনকে তুলে ধরা যায়। গত ২৫ অক্টবর বেঙ্গল ট্রাভেল মার্টের নিজস্ব ওয়েবসাইট চালু করে দেশ বিদেশের পর্যটন সংস্থাগুলিকে অনলাইন রেজিস্ট্রেশন করার সুযোগ করে দেওয়া হয়েছিল। বিভিন্ন দেশ থেকে বেশকিছু রেজিস্ট্রেশন নথিভুক্ত হয়েছিল। কিন্তু আর্থিক সংকটের জেরে উদ্যাক্তারা নেপাল, ভুটান, বাংলাদেশ এবং শ্রীলঙ্কা ছাড়া আর কোনও দেশের পর্যটন সংস্থাকেই আনতে পারছে না।

এতোয়ার কার্যকরী সভাপতি সম্রাট স্যান্যাল বলেন, দেশের অন্যান্য রাজ্যের এবং বিদেশি পর্যটন সংস্থাগুলি যাতে বাংলার পযর্টন নিয়ে কাজ শুরু করে তার জন্যই আমরা গত দুবছর ধরে বেঙ্গল ট্রাভেল মার্টের আয়োজন করছি। প্রথমবারই এতে ভালো সাড়া পাওয়ায় এবছর বিদেশের বড় পর্যটন সংস্থাগুলিকে আনার লক্ষ্য ছিল। ভারতের প্রতিবেশী দেশগুলির পাশাপাশি বুলগেরিয়া, আমেরিকা, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া, রাশিয়া প্রভৃতি দেশের পর্যটন সংস্থাগুলি রেজিস্ট্রেশন করেছিল। কিন্তু তাদের যাতায়াত খরচ, তিনদিনের থাকাখাওয়ার ব্যবস্থা করতে গিয়ে অনেকটাই খরচ বেড়ে যাচ্ছিল। ফান্ডে অতো টাকা নেই দেখে পর্যটন দপ্তরের সঙ্গে আলোচনা করে ওই বিদেশি সংস্থাগুলিকে বাদ রেখেছি। তবে প্রতিবেশী বাংলাদেশ, নেপাল ও ভুটান ও শ্রীলঙ্কার একটি সংস্থাকে আনা হবে। এই চারটি দেশ এবং বিভিন্ন রাজ্যের পর্যটন সংস্থা মিলিয়ে ১৪৪ জন পর্যটন ব্যবসায়ী মেলায় অংশগ্রহণ করবেন। কাটছাট করেও মেলার বাজেট ১ কোটি ২৭ লক্ষ টাকা হয়েছে। কিন্তু বাজেটের পুরো টাকা এখনও ওঠেনি। আর্থিক সংকটের কথা স্বীকার করেছেন রাজ্য পর্যটন দপ্তরের অতিরিক্ত নির্দেশক সুনীল আগরওয়াল। তিনি বলেন, মেলার জন্য দপ্তর থেকে ৩০ লক্ষ টাকা দেওয়া হয়েছে। এতোয়ার পক্ষ থেকেও কয়েক লক্ষ টাকা জমা পড়েছে। কিন্তু তবুও বাজেটে ঘাটতি রয়েছে। উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন দপ্তর থেকে ৩০ লক্ষ টাকা পাওয়ার আশা রয়েছে। ওই টাকা পেলে কিছুটা সমস্যা মিটবে।

অবশ্য রবিবার সকালে বেঙ্গল ট্রাভেল মার্টের প্রচার উপলক্ষে এক বাইক র্যালির সূচনা করতে এসে সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দেন উত্তরবঙ্গ উন্নয়নমন্ত্রী রবীন্দ্রনাথ ঘোষ। তিনি বলেন, পর্যটন মেলা নিয়ে কিছু সমস্যা হয়েছে। তা সমাধানের চেষ্টা করছি। এদিন উত্তরবঙ্গ উন্নয়নমন্ত্রীর পাশাপাশি পর্যটনমন্ত্রী গৌতমদেবও র্যালির সূচনা করেন। ১২৩ জন বাইক চালক র্যালিতে অংশগ্রহণ করেন। সকাল ৯টায় উত্তরায়ন থেকে র্যালি শুরু করে শহরের বিভিন্ন প্রান্ত ঘুরে দাগাপুরের বিনোদন পার্কে গিয়ে শেষ হয়।

দক্ষিণ দিনাজপুরে নোটকাণ্ড
টাকার জন্য রোজ ব্যাংকে আসছেন ভুক্তভোগী  গ্রাহকরা,
আরবিআই’র নির্দেশিকার অপেক্ষায় কর্তৃপক্ষ

সংবাদদাতা, বালুরঘাট: ঝুরঝুরে ২০০০ টাকার নোট ব্যাংকে জমা দিয়ে বিপাকে হিলির বাসিন্দারা। ওইসব জমা পড়া নোটের বদলে নয়া নোট গ্রাহকদের হাতে তুলে দেওয়ার ব্যাপারে এখনও পর্যন্ত আরবিআই থেকে কোনও নির্দেশিকা ব্যাংকে এসে পৌঁছায়নি। তাই গ্রাহকরা টাকার জন্য প্রতিদিন ওই রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের হিলি শাখায় এলেও ব্যাংক কর্তৃপক্ষ জানিয়ে দিচ্ছে টাকা পেতে আরও কিছুদিন অপেক্ষা করতে হবে। গ্রাহকদের অভিযোগ, এক সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও তাদের জমা করা টাকা এখন পর্যন্ত দেওয়া হচ্ছে না। যদিও ব্যাংক কর্তৃপক্ষের দাবি, নোট বদলের নির্দেশিকা এলেই গ্রাহকদের অ্যাকাউন্টে টাকা জমা করে দেওয়া হবে।

ওই রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের বালুরঘাটের প্রধান শাখার চিফ ম্যানেজার পি কে ভট্টাচার্য বলেন, ঝুরঝুরে টাকাগুলির স্ক্যান করে তা আরবিআইতে ই-মেল করা হয়েছে। এখনও পর্যন্ত ওদিক থেকে কোনও উত্তর এসে পৌঁছায়নি। উত্তর এলেও আমরা সেইমতো ব্যবস্থা নেব।

হিলি ব্লকের যুব তৃণমূল কংগ্রেসের সভাপতি সুদীপ মহন্ত বলেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নোট বাতিলের সীমান্তের কারণে আজ হিলির সাধারণ মানুষের হয়রানি হতে হচ্ছে। গ্রাহকদের টাকা দ্রুত ফেরতের ব্যবস্থা ব্যাংক কর্তৃপক্ষ না করলে আমরা বৃহত্তর আন্দোলনে পথে নামব। হিলির সিদাইয়ের বৃদ্ধা সুভাষী দাস বলেন, আমি বৃদ্ধভাতা হিসাবে সরকার থেকে যে টাকা পাই সেই টাকা দিয়ে সংসার খরচ চালাই। ব্যাং঩কে টাকা জমা করে বিপাকে পড়েছি। কীভাবে এখন সংসার চালাব বুঝতে পারছি না। তিওরের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী গোপাল অধিকারি বলেন, বীজ বিক্রি করে মাসে মাত্র ৫০০০ টাকা আয় হয়। কিন্তু এই মাসের আয়ের ৪০০০ টাকাই ঝুরঝুর করে ভেঙে পড়েছে। ওই টাকা ব্যাংকে জমা করেছি। কিন্তু এখন টাকা পাচ্ছি না। ধার করে সংসার চালাতে হচ্ছে। স্থানীয় কৃষক জামাত আলি মণ্ডল, সুরজিৎ সরকার, পিণ্টু চৌহান, রাজু সরকাররা ব্যাংকে ঝুরঝরে টাকা জমা করে এখনও তা না পেয়ে ব্যাংক কর্তৃপক্ষের উপর ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন।

গৌড়বঙ্গের ৩ জেলায় সহায়ক মূল্যে ধান কেনার বেহাল পরিস্থিতি প্রকাশ্যে

বাংলা নিউজ এজেন্সি: গৌড়বঙ্গের তিন জেলা মালদহ, উত্তর ও দক্ষিণ দিনাজপুরে সহায়ক মূল্যে ধান কেনার বেহাল পরিস্থিতি প্রকাশ্যে এসেছে। সরকারি তরফে সরাসরি ধান কেনা চালু হওয়ার প্রায় একমাসের মাথায় শনিবার মালদহে তিন জেলা নিয়ে প্রশাসনিক বৈঠক থেকেই এই চিত্র প্রকাশ্যে এসেছে। তিন জেলার প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, ১৯ জানুয়ারি পর্যন্ত মালদহে ৩১২৫ মেট্রিক টন ধান কেনা হয়েছে এবং মাত্র ৩৪১০ জন কৃষক নাম নথিভুক্ত করেছেন। একই সময়ে উত্তর দিনাজপুরে ৩৫২০ জন কৃষক নাম নথিভুক্ত করেছেন কিন্তু ধান বিক্রি করেছেন ২৪৮৪ জন। এজেলায় ৪৩৯২ মেট্রিক টন ধান কেনা হয়েছে। দক্ষিণ দিনাজপুরে ১৭৩০ মেট্রিক টন ধান বিক্রি করেছেন ১৬৩৮ জন কৃষক। যেখানে নাম নথিভুক্ত করেছেন ৪৮৬২ জন কৃষক।

খাদ্য দপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, বস্তুত এই বেহাল অবস্থা দেখেই কো-অপারেটিভ সোসাইটিগুলিকে বেশি করে ময়দানে নামানোর পরিকল্পনা নেওয়া হলেও তা এখনও কার্যকর হয়নি। গত শনিবার খাদ্যমন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক এই সোসাইটিগুলিকে বেশি করে ময়দানে নামানো নিয়ে বৈঠক করেন। সেখানে তিন জেলাকে বেশি করে ধান সংগ্রহে জোর দিতে বলা হয়েছে।

উত্তর দিনাজপুরের জেলাশাসক আয়েষা রানি বলেন, এখানে মিল মালিকদের সঙ্গে একটি সমস্যার জেরে ধান কেনার প্রক্রিয়া কিছুটা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে গরিব কৃষকরা যাতে সহায়ক মূল্যে ধান বিক্রির সুযোগ পান তা নিশ্চিত করা হবে। মালদহের ভারপ্রাপ্ত খাদ্য নিয়ামক সুদেষ্ণা পোদ্দার বলেন, যেখানে যেখানে ধান উৎপন্ন হয় যেমন গাজোল সেখানে প্রচুর সংখ্যক কৃষক নাম নথিভুক্ত করেছেন। ধান কেনার লক্ষ্যমাত্রা পূরণ না হওয়ার কোনও কারণ নেই। কৃষকরা ধান বিক্রিতে আগ্রহী নয় এমনটাও বাস্তব নয়। শনিবারের বৈঠক মূলত কো-অপারেটিভ সোসাইটিগুলিকে নিয়ে করা হয়েছে। তারাই ধান কেনায় মুখ্য ভূমিকা নেয়। দক্ষিণ দিনাজপুরের জেলা খাদ্য নিয়ামক অমরেন্দ্র নাথ রায় বলেন, কিষান মাণ্ডিগুলিতে কেন্দ্রীয় শিবির করা হয়েছিল। সেগুলি দূরে হওয়ায় অনেক কৃষক হয়ত আসতে চাননি। আমরা ইতিমধ্যেই ৩২টি কো-অপারেটিভকে ধান কেনা কাজের দায়িত্ব দিয়েছি। ফলে সমস্যা হবে না।

গত শনিবার মালদহের সানাউল্লাহ মঞ্চে তিন জেলার আধিকারিক ও কো-অপারেটিভ সোসাইটি নিয়ে খাদ্যমন্ত্রী বৈঠক করেন। সেখানেই জেলাগুলি ১৯ জানুয়ারি পর্যন্ত যে খতিয়ান পেশ করেছে তাতেই ধান কেনার বিবর্ণ চিত্র সামনে এসেছে। বস্তুত আগেই আশঙ্কা করা হয়েছিল যে অভাবী বিক্রির সময় পেরিয়ে যাওয়ার পরে সরকার ধান কিনতে নামায় বেশি ধান সংগ্রহ করা যাবে না। এখন পর্যন্ত সরকারি খতিয়ানও সেদিকেই ইঙ্গিত করছে। পাশাপাশি সরকারি সূত্রেই জানা গিয়েছে, তিন জেলার মধ্যে কেবলমাত্র দক্ষিণ দিনাজপুরে কো-অপারেটিভ সোসাইটিগুলি ধান কিনতে নেমেছে। বাকি দুই জেলার মধ্যে মালদহে ১৭টি এবং উত্তর দিনাজপুরে নয়টি সরকারি কেন্দ্রীয় শিবির হলেও কোনও কো-অপারেটিভ এখনও পর্যন্ত ধান কিনতে নামেনি। এরমধ্যে মালদহ ও উত্তর দিনাজপুরে ধান কেনার লক্ষ্যমাত্রা আগেরবারের থেকে বাড়িয়ে যথাক্রমে ২ লক্ষ ৫৬ হাজার এবং ২ লক্ষ ৮৬ হাজার ১০০ মেট্রিক টন করা হয়েছে। দক্ষিণ দিনাজপুরে লক্ষ্যমাত্রা কমিয়ে ১ লক্ষ ৯৭ হাজার ৩০০ মেট্রিক টন করা হয়েছে।

জটেশ্বরে ক্লাবে জুয়ার আসরে পুলিশের হানা, সম্পাদকের বিরুদ্ধে মামলা

সংবাদদাতা, আলিপুরদুয়ার: ফালাকাটার জটেশ্বরের একটি ক্লাবে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান উপলক্ষ করে চলা জুয়ার আসর বন্ধ করে দিল পুলিশ। গোপন সূত্রে শনিবার রাতে পুলিশ ওই ক্লাবে হানা দিয়ে ১২ জন জুয়াড়িকে গ্রেপ্তার করেছে। ক্লাবের ভেতরে জুয়ার বোর্ড থেকে উদ্ধার হয়েছে ১৩ হাজার ৫০০ টাকা। এই ঘটনায় এলাকায় ইতিমতো চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। পুলিশ ওই ক্লাবের সম্পাদকের বিরুদ্ধে মামলা করে ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে।

ফালাকাটা থানার আইসি বিনোদ গজমেড় বলেন, গোপন সূত্রে খবর পেয়ে শনিবার রাতে অভিযান চালিয়ে জটেশ্বরের একটি ক্লাবে জুয়ার আসর থেকে ১২ জন জুয়াড়িকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। জুয়ার বোর্ড থেকে নগদ টাকা ও জুয়ার সরঞ্জামও বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। ধৃতদের রবিবার আদালতে পাঠানো হয়েছে। ক্লাবের সম্পাদকের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে ঘটনার তদন্ত শুরু করেছি। পুলিশ জানিয়েছে, ধৃত ১২ জন জুয়াড়ির মধ্যে পাঁচজন এলাকার দাগি আসামী। তাদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময়ে এলাকায় বন্দুক ছিনতাই ও প্রতারণার অভিযোগ রয়েছে। ঘটনার তদন্তে নেমে পুলিশ জানতে পেরেছে, রাতে ক্লাবে নিয়মিত জুয়ার আসর বসানোর জন্য প্রতিদিন ক্লাবকে তিন হাজার টাকা করে দেওয়া হত।

হিলিতে অবৈধভাবে মজুত ৫০টি রান্নার গ্যাসের সিলিন্ডার উদ্ধার, ধৃত ১

সংবাদদাতা, বালুরঘাট: শনিবার সন্ধ্যায় হিলির ত্রিমোহিনীতে অবৈধভাবে রান্নার গ্যাস বিক্রি করার অভিযোগে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করল হিলি থানার পুলিশ। পুলিশ জানিয়েছে, ধৃত ব্যক্তির নাম মিলন নন্দী। তার বাড়ি ত্রিমোহিনীতে। দীর্ঘদিন ধরে মিলন নন্দী বেআইনিভাবে রান্নার গ্যাস বিক্রি করতেন। গোপন সূত্রে খবর পেয়ে এদিন তার বাড়িতে হানা দিয়ে ৫০টি গ্যাস ভরতি সিলিন্ডার উদ্ধার করে। ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। ধৃতকে রবিবার আদালতে পাঠানো হয়েছে। হিলি থানার ওসি সঞ্জয় মুখোপাধ্যায় বলেন, গোপন সূত্রে খবর পেয়ে ত্রিমোহিনীর এক ব্যক্তির কাছে ৫০টি গ্যাস ভরতি সিলিন্ডার পাওয়া গিয়েছে। ধৃতের কাছে এতগুলি গ্যাস সিলিন্ডার কীভাবে এল তার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।

রাতে ইসলামপুর বিএড কলেজের নাইট গার্ডকে আটকে রেখে দুষ্কৃতী তাণ্ডব

সংবাদদাতা, ইসলামপুর: শনিবার গভীর রাতে ইসলামপুর থানার মিলনপল্লি এলাকার বিএড কলেজের নাইট গার্ডকে আটকে রেখে অফিস রুমের আলমারি খুলে কাগজপত্র তছনছ করে একদল সশস্ত্র দুষ্কৃতী তাণ্ডব চালায়। কলেজ পরিচালন সমিতির সম্পাদক বিশ্ব মণ্ডল বলেন, একদল সশস্ত্র দুষ্কৃতী কলেজের পাঁচিল টপকে ভেতরে ঢোকে। নাইট গার্ডকে একটি ঘরে আটকে রেখে অফিসের আলমারিগুলি খুলে জরুরি কাগজপত্র তছনছ করে। আমাদের সন্দেহ দুষ্কৃতীরা টাকাপয়সা লুট করতে এসেছিল। এবিষয়ে পুলিশে অভিযোগ জানানো হয়েছে। ইসলামপুর মহকুমা পুলিশ আধিকারিক কেবি সিং বলেন, সম্ভবত চুরি করতে তারা এসেছিল। ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে।

বালুরঘাটের ট্যাংক মোড়ে বই঩মেলার হোর্ডিং, বিতর্ক

সংবাদদাতা, বালুরঘাট: বালুরঘাট শহরের ট্যাংক মোড়কে প্রশাসন নো হোর্ডিং জোন ঘোষণা করলেও প্রশাসন আয়োজিত বইমেলার হোর্ডিং সেখানে লাগানোয় বিতর্ক ছড়িয়েছে। উল্লেখ্য, কয়েক সপ্তাহ আগেই দক্ষিণ দিনাজপুরের জেলাশাসক ও পুরসভার হস্তক্ষেপে ট্যাংক মোড়কে ‘নো হোর্ডিং জোন’ হিসাবে ঘোষণা করা হয়। তা নিয়ে নোটিসও টাঙানো হয়। অথচ সেই নিয়মকে উপেক্ষা করে জেলা প্রশাসন আয়োজিত বইমেলার বড় হোর্ডিং লাগানোয় বিভিন্ন মহলে চর্চা শুরু হয়েছে। জেলা বইমেলা কমিটির সহ সম্পাদক তথা তৃণমূলের বালুরঘাট ব্লক সভাপতি বিপ্লব খাঁ বলেন, ওখানে কে হোর্ডিং লাগিয়েছে তা জানা নেই। বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখছি। স্থানীয় বিধায়ক আরএসপি’র বিশ্বনাথ চৌধুরি বলেন, বিষয়টি খুবই নিন্দনীয়। প্রশাসনই যদি নিয়ম ভাঙে তবে সাধারণ মানুষ তো নিয়ম ভাঙতে উৎসাহিত হবে। বিষয়টিতে প্রশাসনের গুরুত্ব দেওয়া উচিত।

জলপাইগুড়ির হোম থেকে অন্যত্র শিশু পাঠানোর কাজ শুরু হল

বিএনএ, জলপাইগুড়ি: ডিরেক্টরেট অব চাইল্ড রাইটস অ্যান্ড ট্রাফিকিংয়ের নির্দেশ অনুযায়ী রবিবার জলপাইগুড়ি জেলা প্রশাসন শহরের কেরানি পাড়ায় অবস্থিত স্পেশালাইজড অ্যাডপশন এজেন্সির অন্তর্গত শিশুহোম থেকে শিশুদের অন্যত্র স্থানান্তরিত করার কাজ শুরু করল। প্রসঙ্গত, এই হোম কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে জেলার সিডব্লুসি’র অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত চলছে। সিডব্লুসি’র অভিযোগ, ২০১৫ সালের আগে হোম কর্তৃপক্ষ বেশ কয়েকটি শিশুর হিসেবে দিতে পারেনি। যদিও এই অভিযোগ ভিত্তিহীন বলে আগেই হোম কর্তৃপক্ষ দাবি করেছে। এই অবস্থায় গত ১৬ তারিখে ডিরেক্টরেট অব চাইল্ড রাইটস অ্যান্ড ট্রাফিকিং নির্দেশ দেয় এই হোমে থাকা শিশুদের কোচবিহার, উত্তর দিনাজপুর ও দক্ষিণ দিনাজপুরের শিশুহোমে স্থানান্তরিত করতে হবে। সেই অনুযায়ী এদিন জলপাইগুড়ি জেলা প্রশাসন হোমে থাকা ১৪টি শিশুর মধ্যে ১১টি শিশুকে তিন জেলায় পাঠানোর উদ্যোগ নেয়। বাকি তিনজন শিশুর বয়স নিয়ে প্রশাসনের ধন্দ থাকায় তাদের আপাতত জলপাইগুড়ি সদর হাসপাতালের নিওনেটাল কেয়ার ইউনিটে ভরতি রাখা হয়েছে। এনিয়ে সিডব্লুসি’র চেয়ারম্যান বেবি উপাধ্যায় ও সদস্য সুবোধ সরকার জানান, তিনটি শিশুকে হাসপাতালে রাখা হয়েছে। তাদের উল্লেখিত বয়স নিয়ে একটা ফারাক দেখা গিয়েছে। সবকিছু খতিয়ে দেখে প্রশাসনের নির্দেশ অনুযায়ী দ্রুত এদেরও নির্দিষ্ট হোমে পাঠানো হবে।

রায়গঞ্জে সরকারি কর্মচারীদের সম্মেলন

বিএনএ, রায়গঞ্জ: রবিবার রায়গঞ্জের ইনস্টিটিউট মঞ্চে কনফেডারেশন অব স্টেট গর্ভনমেন্ট এমপ্লয়িজ ফেডারেশনের দশম ত্রিবার্ষিক জেলা সম্মেলনের প্রকাশ্য সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সম্মেলনে রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের বকেয়া মহার্ঘভাতা অবিলম্বে মিটিয়ে দেওয়ার দাবি জানানো হয়। জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে সংগঠনের সদস্যরা সম্মেলনে হাজির হন। সম্মেলনে যোগ দিয়ে আইএনটিইউসির রাজ্য সভাপতি রমেন পান্ডে বলেন, ত্রিপুরা, মণিপুরের মতো রাজ্যগুলিতেও পশ্চিমবঙ্গের থেকে বেশি মহার্ঘভাতা দেওয়া হচ্ছে। সেখানে আমাদের রাজ্য পিছিয়ে রয়েছে। আমরা এই বিষয়টি নিয়ে মামলাও করেছি। এদিনের সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন জেলা কংগ্রেস সভাপতি মোহিত সেনগুপ্ত, সংগঠনের জেলা সম্পাদক সুযশ মুখ্যোপাধ্যায় সহ অন্যান্যরা।

অন্যদিকে, এদিন বিধানমঞ্চে ওয়েষ্ট বেঙ্গল সাবঅর্ডিনেট এগ্রিকালচার অ্যান্ড হর্টিকালচার সার্ভিসেস অ্যাসোসিয়েশনের ৪৭তম দ্বিবার্ষিক রাজ্য সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সম্মেলন শুরুর আগে সকালে সংগঠনের পক্ষ থেকে একটি মিছিল হয়। রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের বকেয়া মহার্ঘভাতা দেওয়ার দাবি তোলা হয়। এছাড়াও চুক্তি ভিত্তিক কর্মীদের স্থায়ীকরণ, শূন্যপদে কর্মী নিয়োগের দাবিও জানানো হয়েছে। সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের কেন্দ্রীয় কমিটির সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য সুমিত ভট্টাচার্য, জেলা সভাপতি দেবাশিস দত্ত সহ অন্যান্য নেতৃত্ব।

উচ্ছেদ হওয়াদের পুনর্বাসন দেবে ফাঁসিদেওয়া পঞ্চায়েত সমিতি

বিএনএ, শিলিগুড়ি: সড়ক সম্প্রসারণের জন্য ফাঁসিদেওয়া ব্লকের ঘোষপুকুরে প্রায় ১০০ দোকানঘর উচ্ছেদ হওয়ায় বিপাকে পড়েছেন ব্যবসায়ীরা। এতে স্থানীয় বাসিন্দারাও কেনাকাটা করতে গিয়ে সমস্যায় পড়েছেন। মূলত রাস্তার পাশেই পূর্তদপ্তরের জমিতে এই দোকানগুলি তৈরি হয়েছিল। গত কয়েক দশক ধরে শতাধিক পরিবারের দোকান চালিয়েই রুটিরুজি চলছিল। সম্প্রতি সড়ক সম্প্রসারণের জন্য ব্যবসায়ীদের জায়গা ছেড়ে দিতে হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে ওই ব্যবসায়ীদের পুনর্বাসনের ব্যাপারে উদ্যোগী হয়েছে ফাঁসিদেওয়া পঞ্চায়েত সমিতি। পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি বিশ্বজিৎ নন্দী বলেন, ঘোষপুকুরে একটি সরকারি প্রায় দেড় একর জমি দীর্ঘদিন অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে রয়েছে। ওই জমিতে একটি মার্কেট কমপ্লেকস গড়ে তোলা যেতে পারে। জমি পেতে শীঘ্রই জেলাশাসকের কাছে পঞ্চায়েত সমিতি থেকে একটি প্রস্তাব পাঠানো হবে। জমি পেলে পঞ্চায়েত সমিতি থেকে মার্কেট কমপ্লেকস তৈরি করে উচ্ছেদ হওয়া ব্যবসায়ীদের পুনর্বাসন দেওয়া সম্ভব হবে।

মঙ্গলবার থেকে রয়্যাল বেঙ্গল সাফারি শুরু

বিএনএ ও সংবাদদাতা, শিলিগুড়ি: রবিবার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কার্শিয়াংয়ের অনুষ্ঠান মঞ্চ থেকে বেঙ্গল সাফারি পার্কের রয়্যাল বেঙ্গল সাফারির উদ্বোধন করেন। সাফারি পার্কের ডিরেক্টর অরুণ মুখোপাধ্যায় বলেন, এদিন পার্কে বেড়াতে আসা কয়েকজন শিশুকে দিয়ে ফিতে কেটে রয়্যাল বেঙ্গল সাফারির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়। আগামী মঙ্গলবার থেকে বাঘ সাফারি শুরু হবে। ৫০ টাকার টিকিট কেটে বিশেষ গাড়িতে করে পর্যটকরা বাঘ সাফারির সুযোগ পাবেন। শনিবারই দুই রয়্যাল বেঙ্গল বাঘ স্নেহাশিস এবং শীলাকে সাফারির জন্য নির্দিষ্ট জঙ্গলে ছেড়ে দেওয়া হয়। এদিন একই সঙ্গে পার্কের ভেতরে তৈরি অ্যানিমেল কিচেন, স্টোর রুম এবং পশু চিকিৎসা কেন্দ্রেরও উদ্বোধন করা হয়।

অন্যদিকে, মখ্যমন্ত্রী কার্শিয়াংয়ের ওই একই মঞ্চ থেকে শিলিগুড়ি জেলা হাসপাতালের সংস্কার হওয়া ব্লাড ব্যাংকের উদ্বোধন করেন। হাসপাতালের রোগী কল্যাণ সমিতির চেয়ারম্যান রুদ্রনাথ ভট্টাচার্য বলেন, ব্লাড ব্যাংকটি সংস্কার করে অত্যাধুনিক করে তোলা হয়েছে। এজন্য প্রায় ২১ লক্ষ টাকা খরচ করা হয়েছে। এখন যা কাঠামো হয়েছে তাতে আমরা রক্ত বিভাজনের লাইসেন্সের জন্য আবেদন করব। ব্লাড ব্যাংকের ভেতরেই এখন প্রতিদিন ২০-২৫ জন রক্তদান করতেও পারবেন।

সাংবাদিকদের ক্রিকেট ম্যাচ

বিএনএ, কোচবিহার: রবিবার কোচবিহারের রাজবাড়ি স্টেডিয়ামে নির্বাচন দপ্তরের সঙ্গে সংবাদ মাধ্যমের প্রতিনিধিদের ক্রিকেট ম্যাচ হয়েছে। এদিনের ম্যাচে নির্বাচন দপ্তরের বিভিন্ন স্তরের আধিকারিকরা হাজির ছিলেন। মূলত ভোটদান সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধির জন্যই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। তবে এদিনের ম্যাচে সাংবাদিকরা জয়ী হয়েছেন। এদিন অনেকেই ম্যাচটি উপভোগ করেন। জেলা নির্বাচন দপ্তরের অফিসার ইন চার্জ শান্তনু কর্মকার বলেন, এদিন সংবাদমাধ্যম ও নির্বাচন দপ্তরের মধ্যে ক্রিকেট ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

 






?Copyright Bartaman Pvt Ltd. All rights reserved
6, J.B.S. Haldane Avenue, Kolkata 700 105
 
Editor: Subha Dutta