কলকাতা, সোমবার ২৩ জানুয়ারি ২০১৭, ৯ মাঘ ১৪২৩

রবিবার | রেসিপি | আমরা মেয়েরা | দিনপঞ্জিকা | শেয়ার | রঙ্গভূমি | সিনেমা | নানারকম | টিভি | পাত্র-পাত্রী | জমি-বাড় | ম্যাগাজিন

মৃতদের তালিকায় দুর্গাপুরের একটি পরিবারেরই তিনজন
বীরভূম ও মুর্শিদাবাদে পৃথক দুর্ঘটনায় মৃত ১০, জখম ৫৫

সংবাদদাতা, বোলপুর, কান্দি ও বহরমপুর: রবিবার বীরভূম ও মুর্শিদাবাদ জেলায় পৃথক দুর্ঘটনায় ১০জনের মৃত্যু হয়েছে। জখম হয়েছেন অন্তত ৫৫জন। এরমধ্যে বীরভূমের ইলামবাজারে নয়ানজুলিতে ট্যুরিস্ট বাস উলটে পাঁচজনের মৃত্যু ও ৪৫জন জখম হয়েছে। কান্দিতে বাস ও ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষে তিনজনের মৃত্যু ও ১০জন জখম হয়েছে। অন্যদিকে লালগোলায় ট্রাক্টরের ধাক্কায় দুই সাইকেল আরোহীর মৃত্যু হয়েছে। এই ঘটনায় একটি বাইকে আগুন ধরিয়ে দেয় উত্তেজিত জনতা।

পুলিশ জানিয়েছে, ইলামবাজারের দুর্ঘটনায় মৃতরা হলেন কার্তিক মিশ্র(৪৫), তাঁর স্ত্রী শান্তা মিশ্র(৪০), তাঁদের মেয়ে পূজা মিশ্র(১৭), রাহুল মাহাত(১৭) ও ভারতী ঘোষ(৪৭)। তাঁরা দুর্গাপুরের ২৩ ও ২৪ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা। পূজা ও রাহুলের এবার উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় বসার কথা ছিল। অন্যদিকে কান্দিতে মৃতরা হলেন মমতা রাজ (৪৩) ও শুভঙ্কর বন্দোপাধ্যায়(১৩)। দু’জনেই বড়ঞার বাসিন্দা। শুভঙ্কর সপ্তমশ্রেণির ছাত্র ছিল। তৃতীয়জনের পরিচয় জানা যায়নি। আর লালগোলায় মৃতদের নাম দীপক দাস(৪২) ও উজ্জ্বল দাস(২৬)। তাঁরা সম্পর্কে কাকা- ভাইপো।

প্রথম ঘটনাটি ঘটে রবিবার ভোরে। তারাপীঠ থেকে দুর্গাপুর ফেরার পথে ১৪ নম্বর রাজ্য সড়কে ইলামবাজারের শালকা মোড়ের কাছে ট্যুরিস্ট বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে নয়ানজুলিতে উলটে যায়। বাসযাত্রীরা জানান, রাতে গাড়ি চালানোর সময় চালক ঘুমিয়ে পড়াতেই এই দুর্ঘটনা ঘটে। ভোররাতে ফাঁকা এলাকায় এই ঘটনা ঘটায় মৃত ও আহতদের উদ্ধারের জন্য কাউকে পাওয়া যায়নি। এমনকী ঘটনার অনেক পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছানোয় ক্ষোভ দেখা দেয়। ঘটনার পরই চালক পালিয়ে যায়। আহতদের ইলামবাজার ব্লক, বোলপুর ও দুর্গাপুর মহকুমা হাসপাতালে ভরতি করা হয়েছে।

পুলিশ ও বাসযাত্রীরা জানিয়েছেন, দুর্গাপুরের এমএএমসি ডিভিসি মোড় থেকে বাসটি মোট ৬২জন পর্যটক নিয়ে শুক্রবার রাতে রওনা দিয়ে শনিবার মুর্শিদাবাদের হাজারদুয়ারি পৌঁছায়। ওই দিনই রাতে বাসটি তারাপীঠে আসে। শনিবার গভীর রাতে তারাপীঠ থেকে খাওয়াদাওয়া সেরে ফের দুর্গাপুরের উদ্দেশে রওনা দেন পর্যটকরা। রবিবার ভোর ৪টে নাগাদ ১৪ নম্বর রাজ্য সড়কে জয়দেব থেকে কিছুটা দূরে শালকা মোড়ের কাছে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বাসটি নয়ানজুলিতে উলটে যায়। ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় একই পরিবারের তিনজন সহ মোট পাঁচজনের। ঘটনার খবর পেয়ে দুর্গাপুর থেকে সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ড তৃণমূলের সভাপতি পিন্টু মান্না ভোরেই একটি বাস নিয়ে এসে আহত বেশকিছু যাত্রীকে বিধাননগর মহকুমা হাসপাতালে নিয়ে ভরতি করেন।

বাসযাত্রী দীপু সিংহ, দিলীপ কর্মকার, সজল দে বলেন, তারাপীঠ থেকে রাত ২টোর সময় বাস রওনা দেওয়ায় বেশিরভাগ যাত্রীই ঘুমাচ্ছিলেন। চালক প্রথম থেকেই বেপরোয়াভাবে বাস চালাচ্ছিলেন। কয়েকজন সাবধানে চালানোর কথাও বলেন। একবার একটি লরিকে পাশ কাটাতে গিয়ে রক্ষা পাওয়া যায়। কিছুটা যাওয়ার পরেই চালক ঘুমিয়ে পড়ায় গতি সামলাতে না পেরে জলে পড়ে যায় বাসটি।

অন্যদিকে রবিবার দুপুরে বহরমপুর সাঁইথিয়া রাজ্য সড়কের কান্দি থানার খরসা মোড়ের কাছে বাস ও ট্রাকের মধ্যে সংঘর্ষে মৃত্যু হয় তিনজনের। ঘটনায় জখম হয়েছেন আরও প্রায় ১০জন যাত্রী। তাঁদের মধ্যে তিনজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। পুলিশ জানিয়েছে, বাস ও ট্রাকটি আটক করা হলেও দুটি গাড়ির চালকই পলাতক।

রবিবার দুপুর আড়াইটে নাগাদ কান্দি থেকে বাসটি সাঁইথিয়ার উদ্দেশে ছাড়ার মিনিট পাঁচেক পরেই দুর্ঘটনাটি ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শীরা বলেন, বাসের চালক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে দাঁড়িয়ে থাকা একটি ট্রাকের পিছনে ধাক্কা মারে। পরে চালক আবারও বাসটিকে অন্যদিকে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে এক পথচারীকে চাপা দেয়। এরপর ফের বাসের পিছন দিকে ওই ট্রাকটির ধাক্কা লাগে।

অন্যদিকে রবিবার লালগোলা-জঙ্গিপুর রাজ্য সড়কের উপর বাঁধপুলে ট্রাক্টরের ধাক্কায় কাকা-ভাইপোর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে এলাকা রণক্ষেত্রের চেহারা নেয়। ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় কাকার। হাসপাতালে মারা যান ভাইপো। ঘটনার জেরে রাস্তা অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখায় স্থানীয় উত্তেজিত বাসিন্দা। একটি বাইকে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। পরে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পুলিশ সুপার মুকেশ কুমার বলেন, ট্রাক্টরটিকে আটক করা হয়েছে। মৃতদের বাড়ি লালগোলা থানার সাহাবাদ এলাকায়।

পুলিশ জানিয়েছে, এদিন বেলা ১১টা নাগাদ জঙ্গিপুরের দিক থেকে একই সাইকেলে কাকা- ভাইপো বাড়ি ফেরার সময় বাঁধপুলে ট্রাক্টরটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ধাক্কা মারে। এরপর উত্তেজিত স্থানীয় বাসিন্দারা যান নিয়ন্ত্রণের দাবিতে রাজ্য সড়ক অবরোধ করে। ঘটনাস্থলে পড়ে থাকা একটি বাইকে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়।

খড়্গপুরের জোড়া খুনের ঘটনায় ধৃত আরও ১
এবার সরাসরি রামবাবুকে গ্রেপ্তারের দাবি জানালেন শ্রীনুর স্ত্রী

সংবাদদাতা, খড়্গপুর: খড়্গপুরের শ্রীনু নাইডু হত্যাকাণ্ডে মহম্মদ জসিম নামে আরও একজনকে গ্রেপ্তার করল পুলিশ। শনিবার রাতে খড়্গপুরের নিমপুরা রাখাজঙ্গল এলাকায় তার বাড়ি থেকে পুলিশ জসিমকে গ্রেপ্তার করে। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার দিন যে টাটাসুমো গাড়ি করে আততীয়ারা এসেছিল, সেই গাড়ির চালক ছিল জসিম। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে পুলিশ দাঁতনের সোনাকোনিয়া থেকে গাড়িটিও উদ্ধার করেছে। রবিবার ধৃতকে মেদিনীপুর আদালতে হাজির করা হলে বিচারক তাকে চারদিনের পুলিশি হেপাজতের নির্দেশ দেন। আরও এক ধৃত শংকর রাওকেও এদিন বিচারক চারদিনের পুলিশি হেপাজতের নির্দেশ দিয়েছেন। এদিকে এদিনই এই ঘটনায় খড়্গপুর শহরের আর এক ‘মাফিয়া ডন’ রামবাবুকে গ্রেপ্তারের দাবি তোলেন শ্রীনুর স্ত্রী তথা খড়্গপুর পুরসভার তৃণমূল কাউন্সিলার পূজা নাইডু।

প্রসঙ্গত, শহরের নিউ সেটেলমেন্ট এলাকায় তৃণমূল পার্টি অফিসে ঢুকে শ্রীনু ও তাঁর সঙ্গী ধর্মা রাওকে গুলি করে হত্যা করা হ঩য়। এই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত পুলিশ ১০জনকে গ্রেপ্তার করেছে। এর পিছনে ‘বড় মাথা’ আছে বলে পুলিশ জানালেও সেই মাথার এখনও কোনও খোঁজ মেলেনি। প্রথম দিনই পুলিশ জানিয়েছিল, এই খুনের পরিকল্পনার দায়িত্বে ছিল ধৃত শংকর রাও। তখন তাকে নিজেদের হেপাজতে নিয়ে জেরা করেছিল পুলিশ। এরপর তাকে আবার পুলিশ নিজেদের হেপাজতে নিয়েছিল। এদিন আবার আদালতে হাজির করে পুলিশ তাকে হেপাজতে নেয়। এদিন শংকর রাওেয়ের দ্বিতীয়বারের পুলিশি হেপাজতের শেষ দিন ছিল। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, তাকে জেরা করে বেশকিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গিয়েছে। তাই তাকে আরও জেরা করতে চায় তারা। পুলিশের অনুমান, তাকে জেরা করেই এই খুনের কিনারা করা যাবে।

এদিকে পূজা নাইডু এদিন ঘটনার জন্য সরাসরি রামবাবুর গ্রেপ্তারি দাবি করেন। তাঁর সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, রামবাবুকে গ্রেপ্তার করা হোক। তাঁকে গ্রেপ্তার করলেই সব জানা যাবে।

সুতাহাটায় বাড়িতে গুলিবিদ্ধ নবম শ্রেণির ছাত্রী, চাঞ্চল্য

সংবাদদাতা, হলদিয়া: নিজের বাড়িতে গুলিবিদ্ধ হল নবম শ্রেণির এক ছাত্রী। সুতাহাটা থানার বিজয়রামপুর গ্রামে শনিবার রাতে করিশ্মা খাতুন নামে ওই ছাত্রী যখন বাড়িতে বসে পড়াশুনা করছিল, সেই সময় তার উপর গুলি চলে বলে অভিযোগ। তার বুকের বাঁ দিকের উপরে গুলি লেগেছে। গুলিবিদ্ধ ছাত্রীটিকে শনিবার প্রথমে হলদিয়া মহকুমা হাসপাতাল ও পরে আশঙ্কাজনক অবস্থায় কলকাতার একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভরতি করা হয়। ছাত্রীটির শারীরিক অবস্থা বর্তমানে স্থিতিশীল।

ছাত্রীর উপর গুলি চালানোর ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। সুতাহাটা থানা থেকে ঢিল ছোঁড়া দূরত্বে জনবহুল রাজ্য সড়কের পাশেই এই ধরনের ঘটনা ঘটায় এলাকার মানুষ স্তম্ভিত। এই ঘটনায় পুলিশ এখনও কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি। তমলুকের সংসদ সদস্য দিব্যেন্দু অধিকারি এই ঘটনায় গুলিবিদ্ধ ছাত্রীর পরিবারকে সহমর্মিতা জানান। এদিন হলদিয়ায় একটি অনুষ্ঠানে যোগ দিতে এসে তিনি বলেন, ছাত্রীটির পরিবারের পাশে রয়েছি। পুলিশ তদন্ত করে দোষীদের শাস্তি দিক।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, গুলিবিদ্ধ ছাত্রীর নাম করিশ্মা খাতুন। বছর ষোলোর ওই কিশোরী পাঁশকুড়ার প্রতাপপুরে একটি স্কুলের নবম শ্রেণির ছাত্রী। সে হস্টেলে থেকে পড়াশুনা করত। শারীরিক অসুস্থতার কারণে সে বাড়িতে এসেছিল। শনিবার যখন বাড়িতে পড়াশুনা করছিল, সেই সময় রাত সাড়ে ৮টা নাগাদ সে আচমকা গুলিবিদ্ধ হয়। অজ্ঞাতপরিচয় কোনও ব্যক্তি খুব কাছ থেকে ও ছাত্রীকে গুলি চালিয়েছে বলে পুলিশ প্রাথমিক তদন্তে মনে করছে। এই ঘটনা পূর্বপরিকল্পিত।

হলদিয়ার এসডিপিও তন্ময় মুখোপাধ্যায় বলেন, এই ঘটনায় গুলিবিদ্ধ ছাত্রীর পরিবারের তরফে এখনও থানায় কোনও অভিযোগ দায়ের হয়নি। পুলিশ সুয়োমোটো মামলার ভিত্তিতে তদন্ত শুরু করেছে। তদন্তের জন্য ছাত্রীর বয়ান অত্যন্ত জরুরি। ওর শারীরিক অবস্থা ভালো হলেই পুলিশ বয়ান রেকর্ড করবে।

ছাত্রীর বাবা কায়ুম মল্লিকের অভিযোগ, তৃণমূল করার সুবাদে সুতাহাটা এলাকায় আমার একটা প্রভাব রয়েছে। তাই অন্য রাজনৈতিক দলগুলি সেই প্রভাবের কাছে পেরে উঠছিল না। এভাবে আক্রমণ করে আমাকে দমানোর চেষ্টা করা হচ্ছে বলে মনে হয়। যদিও এখনই কাউকে সন্দেহ করছি না। তবে পুলিশকে সব তথ্য দিয়েছি।

গোঘাটে নেতাজির স্মৃতি বিজড়িত বাড়িটি সংস্কারের দাবি

বিএনএ, গোঘাট: নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর স্মৃতি বিজড়িত গোঘাটের সুভাষ নগর ওরফে বেঙ্গাই চৌরাস্তা এলাকায় বাড়িটির সংরক্ষণ না হওয়ায় ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। বেঙ্গাই অঘোরকামিনী প্রকাশচন্দ্র মহাবিদ্যালয়ের উলটোদিকে এই বাড়িটি অবহেলায় বর্তমানে শৌচাগারের মুক্তাঞ্চল হয়ে উঠেছে। স্থানীয় বাসিন্দারা ওই বাড়িটিকে সংরক্ষণ করে হেরিটেজ ঘোষণার দাবি তুলেছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, তৎকালীন বিশিষ্ট সমাজসেবী তথা বিধায়ক রাধাকৃষ্ণ পাল নেতাজির ভাবশিষ্য হিসাবে পরিচিত ছিলেন। তাঁর আহ্বানেই নেতাজি আরামবাগে এসেছিলেন। সেই সময় বেঙ্গাই চৌরাস্তা এলাকায় এই মাটির বাড়িতে রাধাকৃষ্ণবাবুর সঙ্গে নেতাজি রাত্রিবাসও করেছিলেন। এমনকী, এখান থেকেই নেতাজি কামারপুকুর, আরামবাগ শহর প্রভৃতি এলাকায় জনসভাও করেছিলেন। নেতাজির স্মৃতিবিজড়িত সেই বাড়িটি অবহেলায় আজ ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে।

নেতাজির সেই স্মৃতিকে আঁকড়ে সেসময় রাধাকৃষ্ণবাবু ওই এলাকার নামকরণ করেন সুভাষনগর। সেখানে তিনি একটি কলেজ, স্কুল ও আইটিআইয়ের প্রতিষ্ঠা করেন। সেখানে ঠিকানা হিসাবে সুভাষনগরের কথা উল্লেখ থাকলেও জনশ্রুতিতে সেই নাম যেন অনেকটাই হারিয়ে গিয়েছে।

সুভাষনগরে ওই বাড়িটিতে গিয়ে দেখা গিয়েছে, টিনের ছাউনি দেওয়া মাটির দেওয়ালগুলি খসে খসে পড়ছে। দরজা, জানলা কিছুই নেই। বাড়ির চারপাশ আগাছা ও আবর্জনায় ভরতি। বাড়িটির পাশে আরেকটি ঘর ছিল বলে বোঝা যায়। তবে বাড়িটির ভাঙা দেওয়াল ছাড়া আর কিছুই নেই। বাড়ির পাশাপাশি অংশটি অলিখিত শৌচাগারে পরিণত হয়েছে। নেতাজির স্মৃতি বিজড়িত এই ঘরটির সংরক্ষণের দাবি এখনও জানাচ্ছেন সেখানকার বাসিন্দারা।

বর্তমান প্রজন্মের অনেকে এনিয়ে মাথা ঘামায় না। অনেকে আবার ভালো করে সেই ঘটনা জানেন না। বাম আমল কেটে গিয়েছে। মা-মাটি-মানুষের সরকারও এব্যাপারে ভাবেনি বলে বাসিন্দাদের অভিযোগ। নেতাজির স্মৃতি বিজড়িত ভগ্ন বাড়িটির পাশে এক দোকানদার সুদীপ রায় বললেন, নেতাজি এই এলাকায় এসেছিলেন বলে শুনেছি, তবে বেশি কিছু জানি না।

অঘোরকামিনী প্রকাশ চন্দ্র মহাবিদ্যালয় লাগোয়া অনিল নন্দীর চা দোকানে স্থানীয় বাসিন্দা উত্তমকুমার সিং, বিদ্যুৎ পাল প্রমুখ বসেছিলেন। তাঁদের কথায়, নেতাজি এই এলাকায় এসে রাধাকৃষ্ণবাবুর সঙ্গে ছিলেন। এখান থেকে তিনি স্বাধীনতা আন্দোলনের কাজকর্মও করেছেন। পরে ওই বাড়িটির সামনে ঘোড়ায় চড়া নেতাজির একটি সিমেন্টের মূর্তি প্রতিষ্ঠা করা হলেও তা নষ্ট হয়ে যায়। তারপর আর ওই স্মৃতি বিজড়িত বাড়ির দিকে কেউ ফিরেও তাকায়নি। এখন ওই বাড়ির পাশাপাশি এলাকাটি শৌচাগার হয়ে গিয়েছে। দুষ্কৃতীদের ঠেকও হয়েছে। সরকারি উদ্যোগে বাড়িটির সংরক্ষণ করা হলে এই এলাকা পর্যটন কেন্দ্র হতে পারত।

গোঘাটের তৃণমূল বিধায়ক মানস মজুমদার বলেন, নেতজির স্মৃতি বিজড়িত ওই বাড়িটিকে সংরক্ষণ করে তা হেরিটেজ ঘোষণার ব্যাপারে অবশ্যই পরিকল্পনা নেওয়া হবে।

এবার সবংয়ে আসছেন অধীর, একই দিনে পালটা সভা মানসের

সংবাদদাতা, খড়্গপুর: এবার বিধায়ক মানস ভুঁইঞার খাসতালুক সবংয়ে সভা করতে আসছেন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীর চৌধুরি। আগামী ২৮ জানুয়ারি ওই সভায় তাঁর সঙ্গে বিধানসভার পরিষদীয় দলের নেতা আবদুল মান্নানেরও আসার কথা। ওই একই দিনে আবার তৃণমূলের ছাত্র যুব শাখার সভার ডাক দিয়েছেন মানসবাবু। এদিকে ছাত্র সংসদ নির্বাচনের পর আদি তৃণমূল কর্মীদের উপর মানস অনুগামীরা হামলা করছে বলে স্থানীয় তৃণমূল নেতা তথা জেলা পরিষদের কর্মাধ্যক্ষ অমূল্য মাইতি অভিযোগ তুলেছেন। এমনকী, সিপিএমের কায়দায় জরিমানাও ধার্য করা হয়েছে বলে তাঁর অভিযোগ। যদিও নব্য তৃণমূল নেতা তথা পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি অমল পান্ডা এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

জেলা কংগ্রেসের সহ সভাপতি জয়ন্ত ভৌমিক বলেন, আগামী ২৮ জানুয়ারি ব্লক কংগ্রেসের সম্মেলনের প্রকাশ্য সভায় প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীর চৌধুরি উপস্থিত থাকবেন। আসবেন প্রদেশ ও জেলা স্তরের অন্যান্য নেতৃত্ব। সবং রেজিষ্ট্রি অফিস সংলগ্ন ময়দানে এই সভা হবে। আমরা প্রস্তুতি শুরু করে দিয়েছি।

অন্যদিকে শনিবার রাতে সবংয়ে এসে অনুগামীদের সঙ্গে বৈঠক করে মানসবাবু বলে যান, ২৮ জানুয়ারি সবংয়ে ছাত্র যুবদের সভা হবে। সেই সভায় তিনি সহ জেলা ও রাজ্য নেতৃত্ব উপস্থিত থাকবেন। তিনি সভার প্রস্তুতি শুরু করে দিতে বলে যান। নব্য তৃণমূলের নেতা আবু কালাম বক্স বলেন, তেমাথানিতে এই সভা হবে।

তৃণমূল যুব কংগ্রেসের জেলা সভাপতি রমাপ্রসাদ গিরি বলেন, মানসবাবু ফোন করে বলেছেন, ২৮ তারিখ সবংয়ে ছাত্র ও যুবদের সভা হবে। তিনি যখন বলেছেন, তখন সভা হবে।

এদিকে ছাত্র সংসদ নির্বাচনের পর আদি তৃণমূলের কর্মীদের উপর হামলা চালানো হচ্ছে বলে অমূল্যবাবু অভিযোগ তুলেছেন। তিনি বলেন, মানসবাবুর অনুগামীরা শনিবার রাত থেকে রবিবার সকাল পর্যন্ত আমাদের চারজন কর্মীর উপর হামলা করেছেন। আমারা থানায় অভিযোগ করেছি।

অমূল্যবাবু বলেন, শুধু হামলা নয়, মানসবাবুর বিরোধিতা করায় হাজার হাজার টাকা জরিমানাও করা হচ্ছে। আমরা সমস্ত বিষয়টি তৃণমূল যুব কংগ্রেসের রাজ্য সভাপতি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়, মন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারি সহ জেলা নেতৃত্বকে জানিয়েছি।

অমল পান্ডা অবশ্য এই অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, এরকম কোনও ঘটনাই ঘটেনি। প্রচারের আলোয় আসবেন বলে অমূল্যবাবু এসব মিথ্যা অভিযোগ তুলছেন।

পুরুলিয়ার কংগ্রেস বিধায়ককে ফের ২দিনের পুলিশ হেপাজতের নির্দেশ

সংবাদদাতা, পুরুলিয়া: পুরসভা থেকে চেকবই এবং সরকারি নথি ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগে ধৃত পুরুলিয়ার কংগ্রেস বিধায়ককে রবিবার ফের দু’দিনের পুলিশ হেপাজতের নির্দেশ দিয়েছেন বিচারক। এদিনও আদালত চত্বরে কংগ্রেস কর্মী সমর্থকরা বিক্ষোভ দেখান। আদালত চত্বরে ধৃত কংগ্রেস বিধায়ক বলেন, দুর্নীতির প্রতিবাদ করার ফলেই তাঁকে অন্যায়ভাবে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

প্রসঙ্গত, শুক্রবার দুপুরে পুরুলিয়া পুরসভার অ্যাকাউন্ট বিভাগে গিয়ে চেকবই সহ অন্য গুরুত্বপূর্ণ সরকারি নথি কংগ্রেস বিধায়ক ছিনিয়ে নেন বলে অভিযোগ। বিধায়ক তথা পুরসভার কাউন্সিলার সুদীপ মুখোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে পুরুলিয়া সদর থানায় অভিযোগ করেন পুরসভার প্রধান করণিক। তারপরই শুক্রবার রাতেই পুলিশ অভিযুক্ত বিধায়ককে গ্রেপ্তার করেন। রবিবার ধৃত বিধায়ককে ফের পুরুলিয়া জেলা আদালতে তোলা হয়। এদিন আদালতে জামিনের আবেদন করেন ধৃত বিধায়কের আইনজীবী অনন্ত বন্দ্যোপাধ্যায়। অন্যদিকে, এদিন ফের ওই বিধায়কের তিনদিনের পুলিশ হেপাজতের আবেদন করেন সরকারি আইনজীবী অরুণ মুজমদার।

এদিন দু’পক্ষের সওয়াল শোনার পর বিচারক ধৃত বিধায়ককে আরও দু’দিনের জন্য পুলিশ হেপাজতের নির্দেশ দেন।

এদিন ধৃত কংগ্রেস বিধায়ক বলেন, দুর্নীতির প্রতিবাদ করাতেই আমাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পুরুলিয়ার মানুষ আমার সঙ্গে আছে।

কালনায় গুজবের ঘটনায় গ্রেপ্তার আরও ৪

সংবাদদাতা, কালনা: ছেলেধরা ও মাওবাদী সন্দেহে গুজবের জেরে বিক্ষিপ্ত কয়েকটি ঘটনায় শুক্রবার আটজনকে গ্রেপ্তার করার পর শনিবার রাতে ফের আরও চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে কালনা থানার পুলিশ। তবে, এদিন সরকারি কাজে বাধা দেওয়া, সরকারি সম্পত্তি ভাঙচুর ও কর্মরত পুলিশ কর্মীদের উপর আক্রমণের ঘটনায় তাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বারুইপাড়ার পাঁচজনকে মারধর ও একজনের মৃত্যুর ঘটনায় প্রথমদিনে সাতজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এদিন কালনা শহর ও শহরতলিতে পুলিশের গাড়িতে মাইক লাগিয়ে গুজবে কান না দিতে অনুরোধ করে প্রচার চালানো হয়।

পুলিশ সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, বারুইপাড়ার গণপিটুনির ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ পুলিশের হাতে এসেছে। সেই ফুটেজ দেখে এই ঘটনায় যুক্তদের শনাক্ত করণের কাজ চলছে। কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা হলেও আরও কয়েকজনের খোঁজে পুলিশ তল্লাশি শুরু করেছে।

কালনা এসডিপিও প্রিয়ব্রত রায় বলেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে। পুলিশের মোবাইল ভ্যান চারিদিকে টহল দিচ্ছে। কোনও কিছু দেখলে পুলিশ কড়া ব্যবস্থা নেবে। সিসিটিভি ফুটেজ দেখে কয়েকজনকে শনাক্ত করা গিয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। সোশ্যাল মিডিয়ার গুজবের বিষয়টিও সাইবার ক্রাইমের সাহায্য নিয়ে রটনাকারীদের শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে।

এদিকে গুজবের বিরুদ্ধে লাগাতার প্রচারের জেরে স্বাভাবিক হচ্ছে কালনার পরিস্থিতি। নতুন করে কোনও অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। তবে, এখনই গুজবের বিরুদ্ধে প্রচারে রাশ টানতে চাইছে না প্রশাসন। রবিবার ছুটির দিনেও সরকারি কর্মচারী, আধিকারিক ও জনপ্রতিনিধিরা স্কুলের ছাত্রছাত্রীদের নিয়ে মহকুমার বিভিন্ন প্রান্তে প্রচার চালায়।

উল্লেখ্য, শুক্রবার কালনা শহরের বারুইপাড়া ঝুপড়িকালীবাড়ির কাছে নদীয়ার হবিবপুরের পাঁচজনকে ছেলেধরা ও মাওবাদী সন্দেহে ব্যাপক মারধর করায় একজনের মৃত্যু হয়। এছাড়া আরও কয়েকটি ঘটনায় কয়েকজনকে মারধর করা হয়। গুজবের বিরুদ্ধে প্রচারে নামেন মন্ত্রী স্বপন দেবনাথ, জেলা সভাধিপতি দেবু টুডু, বিধায়ক বিশ্বজিৎ কুণ্ডু সহ সরকারি কর্মচারী ও পঞ্চায়েত স্তর পর্যন্ত জনপ্রতিনিধিরা।

বাসের ধাক্কায় মৃত ও আহতরা আর্থিক ক্ষতিপূরণ না পাওয়ায়
গোঘাটের ভিকদাসে ২টি বাস আটকে বিক্ষোভ

বিএনএ, গোঘাট: বাসের ধাক্কায় মৃত ও আহতরা আর্থিক ক্ষতিপূরণ না পাওয়ায় রবিবার গোঘাটের ভিকদাসে দু’টি বাস আটকে বিক্ষোভ দেখিয়েছেন বাসিন্দারা। এদিন ভিকদাস থেকে দু’কিলোমিটার দূরে চকহরি এলাকায় গ্রামবাসীরা ওই বাস দু’টিকে নিয়ে যান। সেখানে পুলিশকে ঘিরেও বিক্ষোভ দেখানো হয়। পরে বাসকর্মীদের ছেড়ে দেওয়া হয়েছে বলে দাবি বাসিন্দাদের। হুগলির পুলিশ সুপার সুকেশ জৈন বলেন, পথ দুর্ঘটনায় মৃত ও আহতদের ক্ষতিপূরণের ব্যাপারে ঘটনাটি ঘটেছে। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। গোঘাটের তৃণমূল বিধায়ক মানস মজুমদার বলেন, দুর্ঘটনায় মৃত ও আহতদের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দেওয়া উচিত। দল ওই সব পরিবারের পাশে রয়েছে।

এদিকে, এই ঘটনায় বাস অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে এদিনই গোঘাট থানার পাশাপাশি আরামবাগের এসডিপিওর কাছে অভিযোগ জানানো হয়। পরে এসডিপিও হরেকৃষ্ণ পাইয়ের সঙ্গে বাস অ্যাসোসিয়েশনের একটি বৈঠক হয়েছে। হুগলি ইন্টার রিজিয়ন এক্সপ্রেস বাস অ্যাসোসিয়েশনের সম্পাদক গৌতম ধোলে বলেন, পথ দুর্ঘটনায় মৃত ও আহতদের পরিবারকে সৎকার ও চিকিৎসার জন্য আর্থিক সাহায্য করা হয়। পরে গোঘাট থানায় হওয়া বৈঠকে ক্ষতিপূরণের ব্যাপারে আশ্বাসও দেওয়া হয়। সেই মতো আমরা স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্বকে জানিয়েছি। কিন্তু বাসিন্দাদের দাবি মতো আর্থিক ক্ষতিপূরণ আমাদের পক্ষে দেওয়া সম্ভব নয়।

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ২০১৬ সালের ২৩ অক্টোবর সন্ধ্যায় আরামবাগ থেকে কাজ সেরে মোটর ভ্যানে চেপে এক মহিলা সহ সাতজন গোঘাটের বাড়িতে ফিরছিলেন। সেই সময় আরামবাগগামী একটি বাস পাতুলসারা এলাকায় ওই মোটরভ্যানে ধাক্কা মারে। ঘটনাস্থল থেকে মোটরভ্যানের আরোহীদের জখম অবস্থায় আরামবাগ মহকুমা হাসপাতালে ভরতি করা হলে চারজনের মৃত্যু হয়। মৃতদের বাড়ি গোঘাটের বাদলা ও কামচে ডোমপাড়া গ্রামে। এই দুর্ঘটনায় তিনজন গুরুতর জখম হন। মৃত ও আহতদের পরিবার পিছু ক্ষতিপূরণ দেওয়ার ব্যাপারে বাস অ্যাসোসিয়েশন আশ্বাস দেয়। কিন্তু এখনও পর্যন্ত সেই ক্ষতিপূরণ না পাওয়ায় এদিন বাসিন্দারা ওই মালিকের বর্ধমান থেকে হলদিয়াগামী ও তারকেশ্বর-জয়রামবাটি রুটের দু’টি বাসকেও আটকে দেন। সেখানে দুর্ঘটনায় মৃত ও আহতদের পরিবারের সদস্যরা ছিলেন। দুর্ঘটনায় মৃত শিবু মালিকের ছেলে রাজকুমার মালিক বলেন, বাবা খেতমজুরের কাজ করতেন। বাবা মারা যাওয়ায় সংসারে আর্থিক অনটন চলছে। মৃত্যুর জেরে ক্ষতিপূরণ দাবি করছি। আরেক মৃত পবিত্র সাঁতরার বাবা রণজিৎ সাঁতরা বলেন, আমি অসুস্থ বলে কাজ করতে পারি না। ছেলে কাজ করে সংসারের খরচ জোগাত। ক্ষতিপূরণ পেলে ভালো হয়।

কার্শিয়াং থেকেই হলদিয়া ইএসআই হাসপাতালের শিলান্যাস মুখ্যমন্ত্রীর

সংবাদদাতা, হলদিয়া: কার্শিয়াং থেকে রিমোটে স্যুইচ টিপে রবিবার বহু কাঙ্খিত হলদিয়া ইএসআই হাসপাতালের শিলান্যাস করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। হলদিয়া পুরসভার ১৮ নম্বর ওয়ার্ডের উত্তর রায়রাঞ্যাচক এলাকায় বালুঘাটা-টাউনশিপ রাস্তার পাশে গড়ে উঠছে ১০০ শয্যার এই শ্রমিক হাসপাতাল। হাসপাতালের শিলান্যাস উপলক্ষে এদিন রায়রাঞ্যাচকে হাপাতালের জন্য চিহ্নিত জমিতে অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষণার পর হলদিয়ায় ইএসআই হাসপাতালের শিলাফলক উন্মোচন করা হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন তমলুকের সংসদ সদস্য দিব্যেন্দু অধিকারি, জেলা সভাধিপতি মধুরিমা মণ্ডল, জেলাশাসক রশ্মি কমল, হলদিয়ার মহকুমা শাসক পূর্ণেন্দু নস্কর, অতিরিক্ত স্বাস্থ্য অধিকর্তা ইএসআই অংশুমান রায়, হলদিয়া পুরসভার চেয়ারম্যান দেবপ্রসাদ মণ্ডল প্রমুখ।

এদিন হলদিয়ায় অনুষ্ঠানের সময় স্থানীয় জমিদাতারা ১০ বছর আগে অধিগৃহীত জমির পুনর্মূল্যায়ন এবং কর্মসংস্থানের দাবিতে বিক্ষোভ দেখান। তাঁরা এদিন ৫০জন চাষির সই করা একটি স্মারকলিপি জেলাশাসকের হাতে তুলে দেন।

দিব্যেন্দুবাবু বলেন, হলদিয়ার শ্রমিকরা দীর্ঘদিন ধরে ইএঅআই হাসপাতালের দাবি করছিলেন। মুখ্যমন্ত্রী এবং বর্তমান রাজ্য সরকারের উদ্যোগে হলদিয়ার সেই আশা পূরণ হচ্ছে। প্রায় ৯০ কোটি টাকা খরচ করে শ্রমজীবী মানুষের জন্য আধুনিক মানের হাসপাতাল গড়ে উঠবে। ২০১২ সালে হলদিয়া উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ ইএসআই হাসপাতাল তৈরির জন্য ৫.৮ একর জমি বরাদ্দ করেছিল। হলদিয়ায় ৪০ হাজার শ্রমজীবী মানুষের পরিবার ইএসআই কার্ডের মাধ্যমে চিকিৎসার সুবিধা নিতে পারবেন।

জমিদাতাদের দাবি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বাম আমলে এই জমি অধিগ্রহণ করা হয়েছিল। আমাদের সরকার এই জমি চাষিদের কাছ থেকে নেয়নি, তাই স্বাভাবিক কারণে তার দায়দায়িত্ব আমাদের সরকার নিতে পারে না। এই হাসপাতাল দ্রুত গড়ে তোলার ক্ষেত্রে স্থানীয় মানুষের সহযোগিতা চাই। আমরা কাউকে উচ্ছেদ করে হাসপতাল গড়ছি না, অধিগৃহীত জমিতেই এই কাজ হবে।

লক্ষ্মণ শেঠের নাম না করে দিব্যেন্দুবাবু অভিযোগ করেন, সস্তার রাজনীতি করার জন্য তিনি জমিদাতাদের উসকে দিয়েছেন। মানুষের সঙ্গে কথা বলে দেখুন কারও ক্ষোভ নেই। এ প্রসঙ্গে বিজেপি নেতা লক্ষ্মণ শেঠ বলেন, আমি এইচডিএতে চেয়ারম্যান থাকাকালীন ওই এলাকায় তথ্য-প্রযুক্তি কেন্দ্র ও ক্রিকেট আকাদেমি গড়ার জন্য জমি চিহ্নিত হয়েছিল। এলাকার মানুষের কর্মসংস্থানের দিকে লক্ষ্য করে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। বর্তমানে ওই জমিতে ইএসআই হাসপাতাল গড়ে ওঠার খবরে আমি আনন্দিত। জমিদাতারা কর্মসংস্থানের জন্যই জমি দিয়েছিলেন, তাই তাঁরা এই দাবি করতে পারেন। তবে আমি কাউকে উসকানি দিইনি।

ফের আউশগ্রামে দাপিয়ে বেড়াল দাঁতালের দল

সংবাদদাতা, বর্ধমান: ফের হাতির দল ঢুকল আউশগ্রামে। রবিবার সকাল থেকে আউশগ্রামের গেঁড়াই, বিষ্ণুপুর সহ আশপাশের কয়েকটি গ্রামে একটি হাতির দল দাপিয়ে বেড়ায়। দলটিতে তিনটি পূর্ণ বয়স্ক ও একটি বাচ্চা হাতি রয়েছে। হাতির দলটিকে দেখে বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়ায়। যদিও হাতির হামলায় ক্ষয়ক্ষতির কোনও খবর মেলেনি। দুপুর ২টো থেকে বন দপ্তর ও পুলিশ হাতির দলটিকে এলাকা থেকে তাড়ানোর চেষ্টা করে। কিন্তু, বাচ্চাটি বার বার দলছুট হয়ে পড়ছিল। বাচ্চাটিকে নিতে ফিরে আসায় হাতির দলটিকে তাড়াতে সমস্যায় পড়েন বন দপ্তরের কর্মীরা। শেষমেশ রাতের দিকে হাতির দলটিকে কাঁকসার জঙ্গলের দিকে পাঠাতে সমর্থ হয় বন দপ্তর। এলাকায় বার বার হাতি ঢুকে পড়ায় আতঙ্কে রয়েছেন বাসিন্দারা।

দিন কয়েক আগে আউশগ্রাম-১ ব্লকের হরগড়িয়াডাঙা, দায়েমনগর, করোটিয়া, শুখাডাঙা সহ আশপাশের কয়েকটি এলাকায় একটি পূর্ণবয়স্ক দাঁতাল হানা দেয়। দাঁতালটি তাণ্ডব চালায় এলাকায়। হাতিটি রবিশস্যেরও প্রচুর ক্ষতি করে। পরে সেটিকে ভালকির জঙ্গলে পাঠাতে সক্ষম হয় বন দপ্তর। যদিও এদিন হাতির দলটি ফসলের কোনও ক্ষতি করেনি বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে। হাতির দলটির ফের ফিরে আসার সম্ভাবনার কথা মাথায় রেখে সতর্ক রয়েছে পুলিশ ও বন দপ্তর।

এক বছরে পূর্ব মেদিনীপুরে সিপিএমের কৃষক
সংগঠনের সদস্য কমেছে প্রায় ৬০ হাজার

সংবাদদাতা, কাঁথি: পূর্ব মেদিনীপুর জেলায় সিপিএমের রক্তক্ষরণ অব্যাহত রয়েছে। সিপিএমের কৃষক সভার সংগঠনের সদস্য সংখ্যা এক বছরে প্রায় ৬০ হাজার কমে গিয়েছে। কৃষক সভার সম্মেলনে প্রকাশিত প্রতিবেদন থেকে এই তথ্য জানা গিয়েছে। প্রতিবেদনে প্রকাশিত পরিসংখ্যান থেকে জানা যায়, ২০১৪-১৫ সালে যেখানে সদস্য সংখ্যা ছিল ৭ লক্ষ ৩৭ হাজার ৮২৯ জন, সেখানে ২০১৫-১৬ সালে সদস্য সংখ্যা কমে দাঁড়িয়েছে ৬ লক্ষ ৭৫ হাজার ৬৭ জন। এজন্য মূলত বিভিন্ন এলাকায় এলাকায় সাংগঠনিক কাজকর্মে ও প্রচারে শাসক দলের বাধাদান, হুমকি ও সন্ত্রাসের কথা উঠে আসে। এছাড়া বেশ কিছু এলাকায় সদস্যদের নিষ্ক্রিয়তা বিষয়টিও আলোচনায় বিশেষভাবে উঠে আসে।

সিপিএমের কৃষক সংগঠন সারা ভারত কৃষক সভার পূর্ব মেদিনীপুর জেলা কমিটির সভাপতি এবং সম্পাদক পদে পুননির্বাচিত হলেন বিদ্যুৎ গুচ্ছাইত ও সত্যরঞ্জন দাস। অপরদিকে, নবগঠিত কিষান ও ক্ষেতমজুর সংগঠনের সম্পাদক পদে হিমাংশু দাস ও সভাপতি পদে অনিল দাস নির্বাচিত হলেন। রবিবার কাঁথিতে সারা ভারত কৃষক সভার জেলা কমিটির সম্মেলনের পর এই নতুন কমিটির কথা ঘোষণা করে নেতৃত্ব। এদিন সম্মেলনে জেলা জুড়ে কৃষক সভার সদস্য সংখ্যা হ্রাস নিয়েও বিশেষভাবে উদ্বেগ প্রকাশ করেন নেতারা। শনিবার এই সম্মেলন উপলক্ষে কাঁথি-৩ ব্লকের দইসাইতে আয়োজিত প্রকাশ্য সমাবেশে বক্তব্য রাখেন সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক সূর্যকান্ত মিশ্র।

সংগঠন চাঙা করার জন্য অঞ্চল ও ব্লক স্তরের নেতৃত্ব ও কর্মীদের ঘরে বসে না থেকে এলায় ছোট ছোট সভার আয়োজন করা, সম্ভব হলে সদস্যদের বাড়ি বাড়ি যাওয়ার পরামর্শ দেন দলের নেতারা। পাশাপাশি কৃষকদের স্বার্থে নানা দাবিদাওয়া নিয়ে এলাকায় এলাকায় আন্দোলন কর্মসূচি গ্রহণ করার ওপরও বিশেষভাবে জোর দেন।

আন্তর্জাতিক মঞ্চে যোগকলা প্রদর্শনের সুযোগ পেলেও
সিউড়ির সাধারণতন্ত্র দিবসের অনুষ্ঠানে বঞ্চিত করা হল প্রতিযোগীদের

বিএনএ, সিউড়ি: আন্তর্জাতিক মঞ্চে যোগকলা প্রদর্শনের সুযোগ পেলেও জেলায় সাধারণতন্ত্র দিবস উপলক্ষে হওয়া সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে যোগকলা প্রদর্শন থেকে বঞ্চিত করা হল কর্ণিকা, মৌমিতা, গোবিন্দদের। বেসরকারি উদ্যোগে হওয়া রাজ্য স্তরের যোগা প্রতিযোগিতায় পুরস্কৃত হয়ে আন্তর্জাতিক স্তরের যোগা প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে নেপাল যাচ্ছে সিউড়ির পাঁচ প্রতিযোগী। বিগত বছরগুলিতে সিউড়িতে জেলার সাধারণতন্ত্র দিবসের সরকারি অনুষ্ঠানে যোগকলা প্রদর্শন করলেও এবার তারা সেই সুযোগ পাচ্ছে না। সরকারিভাবে পুরস্কৃত হওয়ার জায়গায় সরকারি অনুষ্ঠান থেকে নিজেদের নাম বাদ যাওয়ায় হতাশ এই ক্রীড়াবিদরা।

অন্যদিকে, সরকারি অনুষ্ঠান থেকে যোগা বাদ দেওয়ায় রাজনৈতিক অভিসন্ধি দেখছে বিজেপি। বিজেপির জেলা সভাপতি রামকৃষ্ণ রায় বলেন, প্রধানমন্ত্রী দেশে যোগশিক্ষার প্রসার ঘটাতে চাইছেন। তাই তাঁর কার্যক্রমের বিপরীতে গিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে খুশি করতেই সাধারণতন্ত্র দিবসের সরকারি অনুষ্ঠান থেকে যোগা বাদ দেওয়া হয়েছে।

যদিও এই অভিযোগ মানতে চাননি জেলা তথ্য ও সংস্কৃতি আধিকারিক তাপস ভাওয়াল। তিনি বলেন, এবার অনুষ্ঠানে স্কুলে ছাত্রছাত্রীদের অংশগ্রহণ বাড়ানো হচ্ছে। আমরা একটু ভিন্ন স্বাদের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান করতে চাইছি। যোগা তো বিগত বছরগুলিতে হয়েছে। তাই এবার বন্ধ থাকছে। কিন্তু, শুধু মাত্র যোগা প্রদর্শনীর উপরই কেন কোপ পড়ল তার কোনও সদুত্তর দিতে পারেননি তাপসবাবু।

ভারতবর্ষের শরীরচর্চার প্রাচীনতম অধ্যায় হল যোগা বা যোগকলা। এতে শরীরের পাশাপাশি মনেরও বিকাশ হয়। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি যোগার উপর বিশেষ নজর দেন। রাজ্যে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও যোগশিক্ষার উপর গুরুত্ব আরোপ করেছিলেন। সিউড়িতেও বহু প্রতিবন্ধকতা কাটিয়ে চলছে যোগা প্রশিক্ষণ। বেসরকারি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র থেকে যোগশিক্ষা অর্জন করে বেসরকারি উদ্যোগে রাজ্য স্তরে হওয়া একটি যোগা প্রতিযোগিতায় সিউড়ি থেকে বিভিন্ন বিভাগে মোট পাঁচজন প্রতিযোগী এবছরই পুরস্কৃত হয়। তবে শুধু এখানেই পুরস্কৃত হয়নি তারা। জেলা স্তরের সরকারি অনুষ্ঠানেও তারা পুরস্কৃত হয়েছে। নেপালের যোগা প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়ার ছাড়পত্রও পায় তারা। কর্ণিকা গুহ, অংশুপ্রিয়া দাস, মৌমিতা সাহা, শুভংকর রজক, গোবিন্দ শর্মা এই পাঁচজনই ফেব্রুয়ারিতে ওই প্রতিযোগিতায় অংশ নেবে। এরমধ্যে শুধু গোবিন্দ শর্মাই প্রাপ্তবয়স্ক।

বিদ্যাসাগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তন অনুষ্ঠানে
সৌরভকে সাম্মানিক ডিলিট দেওয়ার প্রস্তাব

বিএনএ, মেদিনীপুর: বিদ্যাসাগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৯তম সমাবর্তন অনুষ্ঠানে সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়কে সাম্মানিক ডিলিট দেওয়ার প্রস্তাব উঠল। বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে খবর, বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালন ব্যবস্থার সর্বোচ্চ বডি ‘কোর্ট’এ এই সংক্রান্ত গঠিত একটি কমিটিতে এই প্রস্তাব ওঠে। গত ডিসেম্বর মাসে ‘কোর্টে’র মিটিং ছিল। পরে সেখানে নাম বাছার জন্য গঠিত একটি কমিটিতেও এই প্রস্তাব দেওয়া হয়। নিয়ম অনুযায়ী, এই প্রস্তাব আচার্য অর্থাৎ রাজ্যপালের কাছে পাঠাতে হয়। সাম্মানিক ডিলিট বা ডিএসসি কাকে দেওয়া হবে তা তিনিই চূড়ান্ত করে থাকেন।

জানা গিয়েছে, বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইতিমধ্যেই নামের তালিকা আচার্যের কাছে পাঠানো হয়েছে। আগামী ৯ফেব্রুয়ারি বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তন অনুষ্ঠান। যদিও এনিয়ে এখনই কেউ কিছু বলতে নারাজ। এব্যাপারে উপাচার্য রঞ্জন চক্রবর্তী বলেন, কিছু নাম আচার্যের কাছে পাঠানো হয়েছে। এগুলি এখনই বলা সম্ভব নয়। যদিও কর্তৃপক্ষের এই সিদ্ধান্তে খুশি সকলেই।

বিদ্যাসাগর বিশ্ববিদ্যালয় এর আগে সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়, সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়, সমাজতত্ত্ববিদ অ্যাঁন্দ্রে বেতে, বিখ্যাত ইতিহাসবিদ হরবনস মুখিয়া, শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায় সহ আরও বেশ কয়েকজন বিখ্যাত ব্যক্তিত্বকে ডিলিট দিয়েছে। সৌরভকে ডিলিট দেওয়ার জন্য তাঁর নাম যদিও গতবারও এক অধ্যাপক বলেছিলেন বলে বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে খবর। কিন্তু, এবছর সৌরভের নাম আরও বেশি করে উঠে এসেছে।

নিয়ম অনুযায়ী, ‘কোর্ট’ এর চেয়ারম্যান হন আচার্য নিজে। বৈঠকে তাঁর প্রতিনিধি উপস্থিত থাকেন। ভাইস চেয়ারম্যান হন উপাচার্য, এছাড়াও প্রশাসনিক ব্যক্তিত্ব, সরকার মনোনীত সদস্য, বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভাগীয় প্রধান, বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্তর্গত ১০টি কলেজের অধ্যক্ষরা এই ‘কোর্টে’র বৈঠকে উপস্থিত থাকেন। সমাবর্তন অনুষ্ঠানের দিনক্ষণ সহ কাদের ডিলিট বা ডিএসসি দেওয়া হবে, তা ঠিক করে এই সংস্থা।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গিয়েছে, গত ডিসেম্বর মাসে ‘কোর্টে’র এই বৈঠক হয়। আর্টসের ডিন অধ্যাপক দামোদর মিশ্র সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের নাম প্রস্তাব করেন। কিন্তু আরও একাধিক নাম উঠে আসে। এরপর এবিষয়ে একটি কমিটি গড়া হয়। এই কমিটিই কী কী নাম পাঠানো হবে, তা চূড়ান্ত করে। জানা গিয়েছে, এই কমিটিও সিদ্ধান্ত নিয়ে সৌরভের নাম পাঠিয়েছে। প্রতিবারই এরকম পাঁচ ছ’টি নাম পাঠানো হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের এক কর্তার কথায়, অনেক নাম প্রস্তাব হওয়ায় এবারই প্রথম এরকম কমিটি গঠন করা হয়। এই কমিটির কাজই ছিল কিছু নাম বেছে তা চূড়ান্ত করে আচার্যের কাছে পাঠানো। তবে বিষয়টি এখানেই চূড়ান্ত নয়। ডিলিট দেওয়ার ক্ষেত্রে সেই ব্যক্তির মতামত এবং তাঁকে সশরীরে উপস্থিত থেকে ডিলিট নিতে হয়।

উল্লেখ্য, সম্প্রতি আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় ক্রিকেট টুর্নামেন্টের অনুষ্ঠানে যোগ দিতে মেদিনীপুরে আসার কথা ছিল সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের। কিন্তু তার আগেই তাঁকে মেদিনীপুরে না আসার ব্যাপারে হুমকি চিঠি দেওয়া হয়। ঘটনার পর বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ সৌরভের সঙ্গে যোগাযোগের বহু চেষ্টা করলেও তাঁকে পাননি। ফলে ডিলিট পাওয়ার ক্ষেত্রে তাঁর নাম চূড়ান্ত অনুমোদন পেলেও শেষমেশ কী হয়, তা এখনও বোঝা যাচ্ছে না।

কোর্টের সদস্য তথা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক অধ্যাপক বলেন, নিয়ম অনুযায়ী উনি যদি না আসেন এবং সে কথা জানান বা যোগাযোগ না করা গেলে উনি ডিলিট পাবেন না। এব্যাপারে রেজিস্ট্রার জয়ন্তকিশোর নন্দী বলেন, এখনই কিছু বলা আমার পক্ষে সম্ভব নয়। এক্ষেত্রে ঠিক যা যা নিয়ম রয়েছে, তা মেনেই আমরা এগচ্ছি।

বর্ধমানে শুরু হল রাজ্য হস্তশিল্প মেলা

সংবাদদাতা, বর্ধমান: রবিবার থেকে বর্ধমান শহরের উৎসব ময়দানে শুরু হল রাজ্য হস্তশিল্প মেলা। প্রদীপ প্রজ্জ্বলন করে মেলার উদ্বোধন করেন রাজ্যের শ্রম, আইন ও বিচার দপ্তরের মন্ত্রী মলয় ঘটক। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন প্রাণিসম্পদ উন্নয়ন ও ভূমি সংস্কার এবং ক্ষুদ্র, ছোট ও মাঝারি উদ্যোগ দপ্তরের মন্ত্রী স্বপন দেবনাথ। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বর্ধমান দক্ষিণের বিধায়ক তথা বর্ধমান উন্নয়ন পর্ষদের চেয়ারম্যান রবিরঞ্জন চট্টোপাধ্যায়, জেলা পরিষদের সভাধিপতি দেবু টুডু, বর্ধমান পুরসভার চেয়ারম্যান ডাঃ স্বরূপ দত্ত সহ জেলা প্রশাসনের বিভিন্ন কর্তারা। পুরসভার কাউন্সিলাররাও উপস্থিত ছিলেন অনুষ্ঠানে।

অনুষ্ঠানে শ্রম ও আইনমন্ত্রী বলেন, কেন্দ্রের নোট বাতিলের সিদ্ধান্তের জেরে রাজ্যের ব্যাবসায় মন্দা দেখা দিয়েছে। স্বাভাবিকভাবেই এর বেশি প্রভাব এসে পড়েছে খেটে খাওয়া মানুষের উপর। নোট বাতিলের কারণে এ রাজ্য থেকে ভিন রাজ্য যাওয়া বহু শ্রমিক কাজ হারিয়েছেন। তাঁরা এ রাজ্যে ফিরে আসতে শুরু করেছেন। বাম আমলের শেষ বছরে যেখানে মাত্র ৯ কোটি টাকা রাজ্যের ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্পীদের খাতে ব্যয় করা হয়েছিল, সেখানে এই সরকারের আমলে সাড়ে পাঁচ বছরে ক্ষুদ্র, কুটির ও মাঝারি শিল্প খাতে ৮৮০ কোটি টাকা ব্যয় বরাদ্দ করা হয়েছে। রাজ্যে মেলার আয়োজন নিয়ে বিরোধীদের কটাক্ষের জবাব দিয়ে মলয়বাবু বলেন, মেলা নিয়ে বিরোধীরা নানা কথা বলে। কিন্তু, বাস্তবটা সম্পূর্ণ ভিন্ন। মুখ্যমন্ত্রীর উদ্যোগে রাজ্য সরকারের বিভিন্ন দপ্তরের মাধ্যমে যে সব মেলা ও উৎসবের আয়োজন করা হয়েছে তাতে শ্রমজীবী মানুষের ব্যাপক উন্নতি হয়েছে। ডাঃ বিধানচন্দ্র রায়কে বাংলার রূপকার বলা হয়। তিনি সময় পেয়েছিলেন ১১ বছর। আর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বাংলার নব রূপকার। মাত্র সাড়ে পাঁচ বছরে বাংলাকে তিনি আমূল বদলে দিয়েছেন।

সভায় মন্ত্রী স্বপন দেবনাথ গত সাড়ে চার বছরে রাজ্য সরকারের পাশাপাশি নিজের দপ্তরের উন্নয়নের খতিয়ান তুলে ধরেন। তিনি বলেন, মা মাটি মানুষের সরকার ক্ষমতায় আসার পর ক্ষুদ্র, ছোট ও মাঝারি শিল্প দপ্তরের কাছে অবিশ্বাস্য অগ্রগতি ও সাফল্য মিলেছে। এই সময়ের মধ্যে ক্ষুদ্র, ছোট ও মাঝারির উদ্যোগের ক্ষেত্রে ১ লক্ষ ১৭ হাজার ৫৩২ কোটি টাকার ব্যাংক ঋণ দেওয়া হয়েছে। যার মধ্যে মাঝারি এবং কৃষিভিত্তিক শিল্পে বিনিয়োগের পরিমাণ প্রায় ২২ হাজার ৩১২ কোটি টাকা। বিনিয়োগের মাত্রা বাড়ায় ক্ষুদ্র ও ছোট শিল্পের উৎপাদন ও কর্মসংস্থানে নতুন জোয়ার এসেছে।

তিনি বলেন, ২০১২-’১৩ অর্থবর্ষে রাজ্য হস্তশিল্প মেলায় ৬২৫জন অংশ নিয়েছিলেন। বিক্রি হয়েছিল ২ কোটি ৮৮ লক্ষ ৫১ হাজার টাকা। ২০১৬ সালে ৭০১জন মেলায় অংশ নেন। বিক্রির পরিমাণ বেড়ে দাঁড়ায় ৩ কোটি ৫৪ লক্ষ টাকা। গত চার বছরে ২০১১জন শিল্পী মেলায় অংশ নিয়েছেন। বিক্রির পরিমাণ ১২ কোটি ৮৮ লক্ষ ৪২ হাজার টাকা।

গুজবে কান না দেওয়ার জন্য আরামবাগ মহকুমায় প্রচার

বিএনএ, আরামবাগ: গুজবে কান না দেওয়ার জন্য আরামবাগ মহকুমার বিভিন্ন থানার উদ্যোগে রবিবার এলাকায় মাইক করে প্রচার চালানো হয়েছে। এদিন আরামবাগ থানার উদ্যোগে তিরোল, বাতানল, মলয়পুর প্রভৃতি এলাকায় প্রচার করা হয়েছে। পাশাপাশি গোঘাট, পুরশুড়া ও খানাকুল থানা এলাকাতেও এদিন মাইকে করে প্রচার করা হয়েছে। আগামী দিনেও এই প্রচার করা হবে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে। হুগলির পুলিশ সুপার সুকেশ জৈন বলেন, গুজবে কান না দেওয়ার জন্য আরামবাগ মহকুমার থানাগুলিকে মাইক প্রচারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

প্রসঙ্গত, কয়েকদিন ধরে বর্ধমান ও নদীয়া জেলায় গুজবের জেরে ব্যাপক অশান্তি হয়েছে। তাই হুগলি জেলার বর্ধমান লাগোয়া এলাকাগুলিতে সোশ্যাল সাইট অথবা এলাকায় সন্দেহজনক কিছু দেখলে পুলিশকে জানানোর জন্য মাইকে প্রচার করা হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে। পাশাপাশি ব্লক প্রশাসনের উদ্যোগে এধরণের প্রচার করা হবে বলে জানা গিয়েছে।

কাঁথিতে সাংবাদিককে মারধরের অভিযোগ

সংবাদদাতা, কাঁথি: কাঁথির দইসাইয়ে সূর্যকান্ত মিশ্রের সভার খবর করে ফেরার পথে দুরমুঠের কাছে কর্তব্যরত এক সিভিক ভলান্টিয়ারের হাতে কাঁথির একটি বৈদ্যুতিন মাধ্যমের সাংবাদিক আক্রান্ত হয়েছেন বলে অভিযোগ। জানা গিয়েছে, শনিবার সন্ধ্যায় সভা থেকে ফেরার পথে দুরমুঠে বাইক সহ আটকে পড়েন সাংবাদিক সজল মাইতি। তিনি রাস্তার একপাশ দিয়ে বেরিয়ে আসার সময় মারিশদা থানার ওই সিভিক ভলান্টিয়ার তাঁকে আটকে মারধর করে বলে অভিযোগ। ঘটনাটি নিয়ে রাতেই সাংবাদিকরা সম্মিলিতভাবে মারিশদা থানায় গিয়ে অভিযুক্ত সিভিক ভলান্টিয়ারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান। পাশাপাশি রবিবার সাংবাদিকরা জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার(গ্রামীণ) ইন্দ্রজিৎ বসুর কাছে দরবার করেন। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দিয়েছেন।

 






?Copyright Bartaman Pvt Ltd. All rights reserved
6, J.B.S. Haldane Avenue, Kolkata 700 105
 
Editor: Subha Dutta