কলকাতা, সোমবার ২৩ জানুয়ারি ২০১৭, ৯ মাঘ ১৪২৩

রবিবার | রেসিপি | আমরা মেয়েরা | দিনপঞ্জিকা | শেয়ার | রঙ্গভূমি | সিনেমা | নানারকম | টিভি | পাত্র-পাত্রী | জমি-বাড় | ম্যাগাজিন

ইডেনের কেদার দর্শনে সান্ত্বনার জয় ইংল্যান্ডের
সুকান্ত বেরা
ইংল্যান্ড ৩২১/৮  ভারত ৩১৬/৯

তীরে এসে তরি ডুবল ভারতের! ৩২১ রান তাড়া করতে নেমে ইডেনে ইংল্যান্ডের কাছে মাত্র ৫ রানে হারল ভারত। তবে ম্যাচ জেতাতে না পারলেও মন জিতলেন কেদার যাদব। পুনের পর ক্রিকেটের বাইশগজে যেন ফের কেদারদর্শন হল কলাকাতায়।
একে একে ড্রেসিং-রুমে ফিরে গিয়েছেন বিরাট কোহলি, যুবরাজ সিং, মহেন্দ্র সিং ধোনির মতো তারকারা। ভারতের স্কোর তখন ৩১.৪ ওভারে ৫ উইকেটে ১৭৩। আস্কিং রেট প্রায় আট। ম্যাচ প্রায় ইংল্যান্ডের হাতের মুঠোয়। হতাশায় গ্যালারি ছাড়ছেন দর্শকরা। ল্যাপটপে ম্যাচের ইনট্রো প্রায় লেখা। সবাই ধরে নিয়েছেন, বিরাট বাহিনীর বিজয়রথ থামছেই। কিন্তু কেদার যাদব-হার্দিক পান্ডিয়ার যুগলবন্দিতে ধূমকেতুর মতো ইডেনে জ্বলে ওঠে ভারতের জয়ের সম্ভাবনা। পুনেতে বিরাট কোহলির সঙ্গে জুটি বেঁধে দলকে জয়ের কড়ি জোগাড় করে দিয়েছিলেন কেদার। পেস অল-রাউন্ডার হিসাবে ইতিমধ্যেই নিজের জমি শক্ত করেছেন হার্দিক। তবে রবিবাসরীয় রাতে ক্রিকেটের নন্দনকানন সুরভিত হল কেদার-হার্দিকের সাহসী জুটিতে। ষষ্ঠ উইকেটে এই জুটি ১০৪ রান যোগ করায় ভারত ৩২১ রানের বিশাল স্কোর তাড়া করে মাত্র ৫ রানে হারল ইংল্যান্ডের কাছে।
একটা সময় তো মনে হয়েছিল ভারত বড় ব্যবধানে হারবে। কিন্তু ষষ্ঠ উইকেটে প্রায় অসাধ্য সাধন করে ফেলেছিলেন কেদার-হার্দিক জুটি। যে পিচে বিরাট, যুবি, ধোনি, রাহানেরা ইংরেজ বোলারদের বাউন্সার সামলাতে হিমশিম খাচ্ছিলেন, সেখানে কেদার ও হার্দিক একেবারে টি-২০ স্টাইলে পিষে মারছিলেন ইংল্যান্ডের জয়ের স্বপ্নকে। পান্ডিয়া ৫৬ রানে আউট হওয়ার পরেও ভারতের জয়ের আশা জছিল। রবীন্দ্র জাদেজা ১০ রানে আউট হলেও দর্শকরা কোরাস গাইছিলেন কেদারের নামে। শেষ ওভারে জয়ের জন্য ভারতের দরকার ছিল ১৬ রান। প্রথম বলে ছক্কা ও পরের বলে চার। কেদারের ব্যাটে ভর করে ভারত তখন জয়ের আরও কাছে। কিন্তু পরের দু’টি বলে ব্যাট লাগাতেই পারেননি কেদার। পঞ্চম বলে তুলে মারতে গিয়ে ডিপ পয়েন্টে বিলিংসের হাতে ৯০ রানে কেদার ধরা পড়তেই ভারতের জেতার আশাও শেষ হয়ে যায়। শেষ বলে ৬ রান দরকার থাকলেও এক রানের বেশি জোগাড় করতে পারেননি ভুবনেশ্বর কুমার। ৭৫ বলে ১২টি চার ও ১টি ছক্কার সাহায্যে ৯০ কেদারের রানের আগুনে ইনিংস মার ম্যাচে মন ভরিয়ে দিয়েছে দর্শকদের।
প্রথমে ব্যাট করে ইংল্যান্ড ৮ উইকেটে ৩২১ রান তোলার পরেই মনে হয়েছিল ভারতের কাছে জেতাটা মোটেই সহজ হবে না। পুনেতে ৩৫১ রান তাড়া করে কোহলি-কেদারের কাঁধে চড়ে প্রথম ম্যাচ জিতেছিল ‘মেন ইন ব্লুজ’। কটকে ৩৮১ রানের পাহাড় করে করে মাত্র ১৫ রানে জয় পেয়েছিল বিরাটের দল। শিখর ধাওয়ানকে বসিয়ে অজিঙ্কা রাহানেকে খেলালেও ওপেনিং জুটি ফের ব্যর্থ। রাহানে তো প্রথম বলেই কট বিহাইন্ড ছিলেন। কিন্তু ইংল্যান্ড আউটের দাবিই যানায়নি। সুযোগটা কাজে লাগাতে পারেননি রাহানে। মাত্র ১ রানে রাহানে আউট হন। লোকেশ রাহুল আক্রমণাত্মক মেজাজে শুরু করেছিলেন। কিন্তু পুল করতে গিয়ে ১১ রানে তিনি ক্যাচ দিয়ে ফেরেন। ৩৭ রানে ২ উইকেট থেকে বিরাট কোহলি ও যুবরাজ সিং শক্ত হাতে হাল ধরেন। তৃতীয় উইকেটে তাঁরা ৬৫ রান যোগ করেন। মঞ্চটা বিরাটের জন্য তৈরি ছিল। ২০০৯ সালে প্রথম ওয়ান ডে সেঞ্চুরি তিনি এই মাঠেই করেছিলেন। আরও এক রাজকীয় ইনিংস তাঁর ব্যাটে প্রত্যাশা করেছিল ইডেন। কিন্তু বিরাটও পারেননি। ৩৫ রানে তিনি ক্যাচ তুলে জীবন ফিরে পান।
বিরাট ৫৫ রানে আউট হওয়ার পরেও উন্মাদনায় এতটুকুও ভাঁটা পড়েনি। ইডেনের দর্শকদের ভাবখানা ছিল, বিরাট কোহলি আউট হয়েছে তো কী হয়েছে, এখনও যুবরাজ সিং-মহেন্দ্র সিং ধোনি তো আছেন! ধোনি ড্রেসিং-রুম থেকে বেরিয়ে আসছেন। টিভি ক্যামেরা ধরল তাঁকে। জায়ান্ট স্ক্রিনে মাহি ভেসে উঠতেই উত্তেজনার মৃদু কম্পন অনভূত হল গ্যালারিতে। তারস্বরে ধোনি...ধোনি....চিৎকার। বিরাট নয়। ইডেন সত্যিই তখন ধোনির। সকলের মনে তখন একটাই প্রশ্ন উঁকি দিচ্ছে, কটকের রিপ্লে হবে কলকাতায়? শুরুতে গুটিয়ে থাকলেও যুবি ক্রমশ খোলস ছেড়ে বেরোচ্ছিলেন। শর্ট বলে পুল করে বাউন্ডারি খুঁজে নিচ্ছিলেন। কিন্তু যুবি-ধোনির যুগলবন্দি ৩১ রানের বেশি স্থায়ী হয়নি। বলা ভালো ইংল্যান্ডের বোলাররা বড় জুটি বাঁধতে দেয়নি ভারতকে। যুবরাজ সিং একবার জ্যাক বলের বাউন্সারে বড় চোট পেতে পেতে বেঁচে যান। শেষ পর্যন্ত ৪১ রানে তিনি আউট হওয়ার পর পুরো ফোকাস চলে যায় ধোনির দিকে। ইডেনের বাদশা হতে পারতেন ধোনি। সিএবি’র সংবর্ধনার পর আরও একবার মাইকে তাঁর নাম ঘোষণা হতে পারত ম্যাচের নায়ক হিসাবে। ধোনি চাপটা নিতে পারেননি। ২৫ রানে তিনি বাজে শট খেলে আউট হন। কেন জানে, ইডেনে এটাই ধোনির শেষ আন্তর্জাতিক ইনিংস কি না!
সিরিজ হারলেও ইংল্যান্ডের ব্যাটিং ইডেনের দর্শকদের মন জয় করে নিয়েছে। ব্যক্তিগত সাফল্য নয়। দলগত সফল্যই মরগ্যান বাহিনীকে ৩২১ রানে পৌঁছে দিয়েছে। এমন একটা হাইস্কোরিং ম্যাচে ইংল্যান্ডের কোনও ব্যাটসম্যান সেঞ্চুরি করেননি। কিন্তু প্রথম সাত ব্যাটসম্যানের মধ্যে জস বাটলার (১১) ছাড়া বাকিরা মোটামুটি কম বেশি রান পেয়েছেন। ইংল্যান্ডের ৩২১ রানটা সেই হিসাবে কিছুটা কম মনে হলেও ইডেনের বাইশগজের চরিত্রের বিচারে মোটেই ভারতের কাছে সহজ টার্গেট ছিল না।
ইংল্যান্ড সিরিজ হেরেছে ঠিকই, তবে ব্যাটিংয়ে মরগ্যান বাহিনী মন জয় করে নিয়েছে। টসে জিতে ভারত অধিনায়ক বিরাট কোহলির ফিল্ডিং নেওয়াটা মোটেই ভুল সিদ্ধান্ত ছিল না। ভুবনেশ্বর কুমার ও হার্দিক পান্ডিয়া প্রথম তিন ওভারে চেপে ধরেছিলেন ইংল্যান্ডের দুই ওপেনার জ্যাসন রয় ও স্যাম বিলিংসকে। ৩ ওভারে ইংল্যান্ড মাত্র ৬ রান তুলেছিল। তবে দুই ইংরেজ ব্যাটসম্যান এটা বুঝে গিয়েছিলেন টিকে থাকতে পারলে রান আসবে। এই জুটি যোগ করে ৯৮ রান। জ্যাসন রয় ইডেনের ‘রায়বাহাদুর’ হতে পারতেন। দারুণ খেলছিলেন তিনি। কিন্তু ৫৬ বলে ৬৫ রান করে রয় আউট হন জাদেজার বলে। তার আগে ফেরেন বিলিংস। তবে ওপেনিং জুটিতে তাঁরা দলকে শক্ত ভিতের উপর দাঁড় করান। গত ম্যাচে সেঞ্চুরি করেও দলকে জেতাতে না পারার আপসোসটা এদিন কাটল বটে, তবে মরগ্যান প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থ। ৪৪ বলে ৪৩ রান করেন তিনি। চোটের কারণে জো রুট না খেললেও বেয়ারস্ট তাঁর অভাব পুষিয়ে দিয়েছেন। ৬৪ বলে ৫৬ রান করে আউট হন তিনি। তৃতীয় উইকেটে মরগ্যানকে সঙ্গে নিয়ে যোগ করেন ৮৪ রান। তবে বেন স্টোকস ও ক্রিস ওকসের আক্রমণাত্মক ব্যাটিং ইংল্যান্ডের রানের গতি বাড়িয়ে দেয়। সপ্তম উইকেটে তাঁরা ৭৩ রান যোগ করেন। স্টোকস মাত্র ৩৯ বলে ৫৭ রান করে অপরাজিত থাকেন। তাঁর ইনিংসে রয়েছে চারটি চার ও দু’টি ছক্কা। ওকসের সংগ্রহ ১৯ বলে ঝোড়ো ৩৪। ভারতীয় বোলিংয়ের দুর্বলতা ফের প্রকট হল। বিশেষ করে পেস আক্রমণে হার্দিক পান্ডিয়া ছাড়া কাউকেই চোখে লাগেনি।
ইডেন ম্যাচের স্কোর:
ইংল্যান্ড: জেসন রয় বো জাদেজা ৬৫, বিলিংস ক বুমরাহ বো জাদেজা ৩৫, বেয়ারস্টো ক জাদেজা বো পাণ্ডিয়া ৫৬, মরগ্যান ক বুমরাহ বো বো পাণ্ডিয়া ৪৩, বাটলার ক রাহুল বো পাণ্ডিয়া ১১, স্টোকস অপরাজিত ৫৭, মঈন ক জাদেজা বো বুমরাহ ২, ওকস রান আউট ৩৪, প্লাঙ্কেট রান আউট ১, অতিরিক্ত ১৭। মোট (৮ উইকেটে) ৩২১। পতন: ১/৯৮, ২/১১০, ৩/১৯৪, ৪/২১২, ৫/২৩৭, ৬/২৪৬, ৭/৩১৯, ৮/৩২১। বোলিং: ভুবনেশ্বর ৮-০-৫৬-০, পাণ্ডিয়া ১০-১-৪৯-৩, বুমরাহ ১০-১-৬৮-১, যুবরাজ ৩-০-১৭-০, জাদেজা ১০-০-৬২-২, অশ্বিন ৯-০-৬০-০।
ভারত: রাহানে বো উইলি ১, রাহুল ক বাটলার বো বল ১১, কোহলি ক বাটলার বো স্টোকস ৫৫, যুবরাজ ক বিলিংস বো প্লাঙ্কেটস ৪৫, ধোনি ক বাটলার বো বল ২৫, কেদার ক বিলিংস বো ওকস ৯০, পাণ্ডিয়া বো স্টোকস ৫৬, জাদেজা ক বেয়ারস্টো বো ওকস ১০, অশ্বিন ক ওকস বো স্টোকস ১, ভুবনেশ্বর অপরাজিত ০, বুমরাহ অপরাজিত ০, অতিরিক্ত ২২। মোট (৯ উইকেটে) ৩১৬। পতন: ১/১৩, ২/৩৭, ৩/১০২, ৪/১৩৩, ৫/১৭৩, ৬/২৭৭, ৭/২৯১, ৮/২৯৭, ৯/৩১৬। বোলিং: ওকস ১০-০-৭৫-২, উইলি ২-০-৮-১, বল ১০-০-৫৬-২, প্লাঙ্কেট ১০-০-৬৫-১, স্টোকস ১০-০-৬৩-৩, মঈন ৮-০-৪১-০।
 ইংল্যান্ড জয়ী ৫ রানে।  ম্যাচের সেরা: বেন স্টোকস।  সিরিজের সেরা: কেদার যাদব।

 

পুরানো দলকে জবাব দিয়ে ইস্ট বেঙ্গলকে মূল্যবান তিন পয়েন্ট দিলেন রবিন সিং
অভিজিৎ সরকার
ইস্ট বেঙ্গল- ২  বেঙ্গালুরু এফসি- ১
(বুকেনিয়া, রবিন)      (বিনীথ)

ইস্ট বেঙ্গলের জেতালেন, একইসঙ্গে পুরানো দলকে জবাব দিলেন রবিন সিং। রবিবার বারাসত স্টেডিয়ামের রবিনের জয়সূচক গোলে গ্যালারিতে উড়ল লাল-হলুদ আবির ও পতাকা। একাধিক গোল নষ্ট করে উইলিস প্লাজা লাল-হলুদ কোচের চিন্তা বাড়ালেও দিনের শেষে রবিনের দৌলতে ইস্ট বেঙ্গল শিবিরে স্বস্তির হাওয়া। গতবার আই লিগে দু’বার হারের পর বেঙ্গালুরুকে মধুর জবাব দিল ইস্ট বেঙ্গল। ম্যাচের সেরা ইভান বুকেনিয়া। রক্ষণ ও আক্রমণে লাল-হলুদকে নেতৃত্ব দিলেন উগান্ডার স্টপার। টানা তিন ম্যাচে জয়ের পর প্রথম হারের স্বাদ পেল জিন্দালদের দল।
অথচ ম্যাচের শুরুর টোন এটা ছিল না। বেঙ্গালুরুর অ্যাটাকিং থার্ডে উদান্তা, বিনীথ, ইউজেনসন লিংডো, সুনীল ছেত্রী। দুরন্ত গতিতে জায়গা বদল করে পেনিট্রেট করছিলেন বেঙ্গালুরু এফ সি’র চতুষ্টয়। সেখানে ইস্ট বেঙ্গল যেভাবে আটজনকে নামিয়ে ডিফেন্স করছিল, তাতে একসময় মনে হয়েছিল এই প্রাচীর ভেদ করা মুশকিল সুনীলদের। গ্যালারি থেকে জনা কয়েক লাল-হলুদ সমর্থক টিপ্পনি কাটছিলেন, ‘ইস্ট বেঙ্গল তো অ্যাওয়ে ম্যাচ খেলছে। দলটা খুব ভালো ডিফেন্স করছে!’ তারপর বেশিক্ষণ ইস্ট বেঙ্গলের রক্ষণ সুনাম ধরে রাখতে পারেনি। ২৩ মিনিটে বেঙ্গালুরু এফ সি’কে গোল উপহার দিল ইস্ট বেঙ্গল। বাঁ-দিক থেকে ইউজেনসন লিংডো ফাঁকায় উঠে গিয়ে বক্সে মাইনাস রাখলেন, তা ধীরেসুস্থে বাঁ পায়ে গোলে পুশ করেন বিনীথ (১-০)। বুকেনিয়ার পাশ দিয়ে বল জালে ঢোকে। গোলের সময় ইস্ট বেঙ্গল চার ডিফেন্ডার প্রায় সমান্তরাল লাইনে দাঁড়িয়ে! রাহুল ভেকে পিছন থেকে দৌড়ে এসেও বিনীথকে ছুঁতে পারেননি। বেঙ্গালুরুর গোলমেশিন বিনীথকে পালা করে ইস্ট বেঙ্গলের দুই স্টপার জোনাল মার্কিং করলেও আসল সময়ে বিনীথ কাজের কাজ করে দিলেন। আপাতত আই লিগে সর্বাধিক গোলদাতা দক্ষিণী স্ট্রাইকারের ঝুলিতে রয়েছে পাঁচ গোল।
গোলটা হওয়ার পর ইস্ট বেঙ্গল দমে যায়নি। পাঁচ মিনিট পরই ইস্ট বেঙ্গল সমতা ফেরায়। নেপথ্য কারিগর অধিনায়ক লালরিনডিকা রালতে। ডিকা পুশ কর্নারে ওয়েডসনের সঙ্গে ওয়ান-টু খেলে বক্সে ঢুকে মাইনাস করেন বেঙ্গালুরুর ডিফেন্ডারদের জঙ্গলে। সেখানে সবার অলক্ষ্যে উঠে এসে বুকেনিয়া পুশ করেন জালে (১-১)। কলকাতা মাঠে একদা খেলে যাওয়া নাইজেরিয়ান বার্নার্ডকে মনে করাচ্ছেন বুকেনিয়া। বার্নার্ড লেফটব্যাক থেকে মাঝেমধ্যে স্ট্রাইকার হয়ে যেতেন। বুকেনিয়াও স্টপার থেকে স্ট্রাইকার। লাল-হলুদের উগান্ডার স্টপারের ঝুলিতে আপাতত তিন গোল। আপাতত এই স্টপার ইস্ট বেঙ্গলের সর্বাধিক গোলদাতা। কবে এমন হয়েছে ইস্ট বেঙ্গলে কেউ মনে করতে পারছেন না!
গোলের পরই দুই দলের ফুটবলাররা চড়া মেজাজে খেলা শুরু করেন। বল দখলের লড়াইয়ে সুনীল ছেত্রী ও মেহতাব হোসেন মুখোমুখি হলে বল রিলিজ হয়ে যাওয়ার পর সুনীলের কোমরে অফ দ্য বল হাঁটুতে দৃষ্টিকটুভাবে আঘাত করেন মেহতাব। ফলে দুই ফুটবলারকে ঘিরে উত্তপ্ত বাক্য বিনিময় শুরু হয়ে যায়। রেফারি অজিত মিতেই মেহতাব ও সুনীলকে হলুদ কার্ড দেখান। গোল না পেতে পেতে সুনীল প্রায়ই মেজাজ হারাচ্ছেন। কয়েক মিনিট পরে লিংডোকে বিহাইন্ড দ্য বল ট্যাকল করতে গিয়ে মুখ থুবড়ে পড়েন ডিকাই। তাঁর নাক দিয়ে ঝরঝর করে রক্ত পড়তে থাকে। রেফারি ডিকাকেও হলুদ কার্ড দেখান।
চড়া মেজাজের ফুটবলে ইস্ট বেঙ্গলের মাঝমাঠে খেলা ধরেন ওয়েডসন, ডিকা। অ্যাটাকিং মিডিও হিসেবে তাঁরা দুই চ্যানেলে লম্বা সেন্টার ও থ্রু রাখতে শুরু করেন। কিন্তু ইস্ট বেঙ্গলের রাইট উইংয়ে অনূর্ধ্ব ২২ নিখিল পূজারি বেশ কয়েকটি আক্রমণ নষ্ট করে দিলেন ভেদশক্তির অভাবে। ৫৭ মিনিটে মেহতাবের ডান পায়ের থ্রু নিখিল সরাসরি গোলরক্ষকের গায়ে মারেন! এই ফুটবলারটির স্কিল, উদ্ভাবনী ক্ষমতা একেবারেই নেই। অথচ মরগ্যানের তাঁর উপর অদ্ভুত প্রীতি! রোমিও ফার্নান্ডেজ,জ্যাকিচাঁদ সিংরা রিজার্ভ বেঞ্চে বসে থাকেন। ৪০ মিনিটে উইলিস প্লাজা মাঝমাঠ থেকে একটি থ্রু ধরে প্রতিপক্ষের রাইট ব্যাককে বাঁ পায়ে আউটসাইড করে বক্সে ঢুকে ওপেন সিটার মারেন বেঙ্গালুরু গোলরক্ষক অমরিন্দর সিংয়ের হাতে। তার তিন মিনিট পরেই লিংডোর শট রেহনেশ ডানদিকে ঝাঁপিয়ে বাঁচান। ফলো আপে সুনীল গোল করতে ব্যর্থ হন। ম্যাচের শুরুর দিকে সুনীলের একটি শট বাঁদিকে ঝাঁপিয়ে বাঁচান রেহনেশ।
ইস্ট বেঙ্গলের আপফ্রন্টে আমিরভকে খুঁজতে হয়েছে! তাঁকে জোনাল মার্কিংয়ে রাখলেন বেঙ্গালুরুর রাইটব্যাক খাবরা। বাধ্য হয়ে বিরতির পর কিরঘিজ স্ট্রাইকারকে বসিয়ে রবিন সিংকে নামান মরগ্যান। ৬২ মিনিটে প্লাজা বল নিয়ে বক্সে ঢুকলে জঘন্য ফার্স্ট টাচে গোলমুখী প্রয়াস নষ্ট করেন। তারপর তিনি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পড়ে যান। ইস্ট বেঙ্গলের আপফ্রন্টে দীর্ঘদেহী আমিরভ, প্লাজা, বুকেনিয়ার কথা ভেবে বেঙ্গালুরু কোচ রোকার ঢাল হয়ে দাঁড়ায় বড় চেহারার দুই বিদেশি স্টপার জন জনসন, আন্তনিও হুয়ান। তাদের মাঝমাঠেও দুই দীর্ঘদেহী লেনি রডরিগস ও ক্যামেরন। ইস্ট বেঙ্গলের প্লাজা অত্যধিক বল পায়ে রেখে খেলার গতি নষ্ট করেন। আর আমিরভ বেঙ্গালুরু ডিফেন্ডারদের কাজটা অনেক সহজ করে দেন। ইস্ট বেঙ্গলের দুই প্রান্তে ওভারল্যাপিং ও উইং অ্যাটাকের দুর্বলতায় বেঙ্গালুরু রক্ষণ বড় সমস্যায় পড়েনি। ৬৯ মিনিটে ওপেন সিটার মিস করেন রবিন সিং। ৭৪ মিনিটে রবিনের বাঁ-পায়ের শট ক্রসপিসে ধাক্কা খায়। পরের মিনিটেই রবিনের মাইনাস থেকে প্লাজা পা ছোঁয়াতে পারলেই গোল ছিল। কিন্তু প্লাজা তা পারেননি। অবশেষে ৭৯ মিনিটে ইস্ট বেঙ্গলকে এগিয়ে দেন মরগ্যানের ট্রাম্পকার্ড রবিন সিং। জনসনের মিস হেড ধরে গতি বাড়িয়ে ফার্স্ট স্ট্রোকে বলকে এগিয়ে দিয়ে সেই বলটাই মিট করে অমরিন্দরের মাথায় উপর দিয়ে বাঁ-পায়ের শটে জালে জড়িয়ে দেন বেঙ্গালুরুর বাতিল ফুটবলার (২-১)। পরপর তিনটি ম্যাচে তিনটি হলুদ কার্ড দেখা চোট পাওয়া মেহতাবকে তুলে নিয়ে রোলিন বর্জেসকে নামিয়ে নিজেদের ডিফেন্সিভ থার্ডে ভিড় বাড়ান মরগ্যান। ৯০ মিনিটে বক্সের বাইরে থেকে ওয়েডসনের লো-ড্রাইভ দারুণ ফিস্ট করেন অমরিন্দর। ৯২ মিনিটে ওয়েডসনের সঙ্গে ওয়ান-টু খেলে প্লাজা ফাঁকা গোলে বল ঠেলতে পারেননি।
ইস্ট বেঙ্গল: রেহনেশ, রাহুল ভেকে, গুরবিন্দর সিং, বুকেনিয়া, নারায়ণ দাস, নিখিল পূজারি, মেহতাব হোসেন(রোলিন বর্জেস ৮৫মি:), লালরিনডিকা রালতে, ওয়েডসন, উইলিস প্লাজা, আমিরভ (রবিন সিং ৪৫ মি:)।

প্রত্যাবর্তনে খেতাব জিতে জবাব সাইনার

সারাওয়াক, ২২ জানুয়ারি: দুরন্ত প্রত্যাবর্তন সাইনা নেহওয়ালের। চোট সারিয়ে ফিরে আসার পর বছরের প্রথম খেতাব জিতলেন ভারতীয় তারকা। রবিবার মালয়েশিয়া মাস্টার্স গ্রাঁ প্রি’তে সোনা জয়ের পথে সাইনা ২২-২০, ২২-২০ স্ট্রেট গেমে হারিয়েছেন তাইল্যান্ডের পর্নপাবি চোচুউংকে। ৪৬ মিনিটের হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের পর কেরিয়ারের ২৩-তম খেতাব নিশ্চিত করে ফেলেন সাইনা। গত বছরের অস্ট্রেলিয়ান ওপেনের পর এই প্রথম কোনও ট্রফি হাতে উঠল ২৬ বর্ষীয়া হায়দরাবাদী কন্যার।
রিও ওলিম্পিকসের পর হাঁটুর অস্ত্রোপচার করানোর ফলে দীর্ঘদিন কোর্টের বাইরে থাকতে হয়েছিল সাইনাকে। চোট সারিয়ে প্রিমিয়ার ব্যাডমিন্টন লিগে ফিরলেও খুব একটা ভালো খেলতে পারেননি তিনি। অনেকেই সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে তাঁকে বিদ্রুপ করে মন্তব্য করেছিলেন, সাইনার দিন শেষ! কিন্তু সেই সব সমালোচনার মোক্ষম জবাব দিয়ে মালয়েশিয়া মাস্টার্সের শুরু থেকে দারুণ ছন্দে ফিরে এসেছেন এই মুহূর্তে বিশ্বের ১০ নম্বর খেলোয়াড় সাইনা। আন্তর্জাতিক সার্কিটে ফিরেই প্রাক্তন এক নম্বর তারকা মেলে ধরেছেন নিজের পুরনো ঝলক। রবিবার মালয়েশিয়া মাস্টার্সের মহিলা সিঙ্গলসের ফাইনালে বিশ্বের ৬৭ নম্বর পর্নপাবি চোচুউংয়ের বিরুদ্ধে ফেবারিট হিসেবে খেলতে নেমে অনুরাগীদের হতাশ করেননি সাইনা। তবে তাইল্যান্ডের প্রতিপক্ষটিকে স্ট্রেট গেমে হারালেও ৪৬ মিনিটের লড়াইয়ে যথেষ্ট ঘাম ঝরাতে হয়েছে সাইনাকে। এদিনই প্রথমবার ১৮ বছরের চোচুউংয়ের মুখোমুখি হয়েছিলেন তিনি। প্রথম গেমের গোড়ার দিকে খানিকটা পিছিয়ে পড়লেও ঘুরে দাঁড়াতে বেশি সময় নেননি সাইনা। দ্বিতীয় গেমেও তাঁকে কড়া চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়েছিলেন চোচুউং। কিন্তু শেষ পর্যন্ত অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে বাজিমাত করে যান ভারতীয় তারকাই।
গত বছর অস্ট্রেলিয়ান ওপেন জয়ের পর এই প্রথম ট্রফি জিততে পেরে দারুণ খুশি সাইনা। জয়ের জন্য কোচ বিমল কুমারকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন তিনি। সাইনার কথায়, ‘অনেক দিন পর ট্রফি জিততে পেরে ভীষণ আনন্দ হচ্ছে। আত্মবিশ্বাস ফিরে পাওয়ার জন্য এই জয়টা আমার কাছে খুবই গুরুত্বপূর্ণ ছিল। এই সাফল্যের জন্য আমার কোচকে সবার আগে ধন্যবাদ জানাতে চাই। কারণ কঠিন সময়ে তাঁর প্রেরণাতেই আমি ঘুরে দাঁড়াতে পেরেছি।’ উল্লেখ্য, রিও ওলিম্পিক্সে চরম হতাশ করেন ২০১২ লন্ডন গেমসে ব্রোঞ্জজয়ী সাইনা। অন্যদিকে রিওতে পিভি সিন্ধুর রুপো জয় তাঁকে অনেকটাই ব্যাকফুটে ঠেলে দিয়েছিল। যদিও সাইনা বারবার জানিয়েছিলেন, হাঁটুতে অস্ত্রোপচারের পর যে তিনি মাঠে নামতে পেরেছেন, এটাই তাঁর কাছে বড় ব্যাপার। এবার মালয়েশিয়া মাস্টার্সে চ্যাম্পিয়ন হয়ে সাইনা বুঝিয়ে দিলেন, এখনও তিনি ফুরিয়ে যাননি। রবিবার মালয়েশিয়া মাস্টার্সের খেতাব জয় নিঃসন্দেহে তাঁর আত্মবিশ্বাস আরও বাড়াবে।

ছেলেদের লড়াই করার মানসিকতায় মুগ্ধ সঞ্জয় সেন

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: প্রথম অ্যাওয়ে ম্যাচ থেকে তিন পয়েন্ট পেয়ে মোহন বাগানের কোচ সঞ্জয় সেন বেশ খুশি। তবে তাঁকে বেশি তৃপ্ত করেছে ফুটবলারদের লড়াই করার মানসিকতা। রবিবার মোহন বাগান কোচের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন,‘আগের ম্যাচে মিনার্ভা এফসি’কে চার গোল দেওয়ার পর খেলোয়াডদের মধ্যে যে আত্মতুষ্টি আসতে পারে তা আমার মনে হয়েছিল। শনিবার ম্যাচ শুরুর আগে আমি ছেলেদের সেই কথা বলেও ছিলাম। তাই হয়তো এক গোলে পিছিয়ে গিয়েও আমার ছেলেরা দমে যায়নি। আমরা চেন্নাইয়ের নেহরু স্টেডিয়ামে শুধু তিন পয়েন্ট পায়নি, দুটি ‘অড ফ্যাক্টরের’ বিরুদ্ধে জয়ও পেয়েছি। সনি নর্ডি পেনাল্টি মিস করার পর আমরা চাপে পড়ে গিয়েছিলাম। সনির পেনাল্টি মিসের পর প্রথমার্ধে আর আমরা খেলতে পারিনি। দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই আমরা পিছিয়ে পড়ি। এরপরও যে ভাবে ম্যাচে আমরা প্রত্যাবর্তন করে তিন পয়েন্ট ছিনিয়ে এনেছি তাতে ছেলেদের লড়াকু মানসিকতার পরিচয়ই পাওয়া যাচ্ছে। আগামী দিনে এই লড়াই করার মানসিকতাই ধরে রাখতে হবে। কারণ আমরা আই লিগের সেরা দলগুলির বিরুদ্ধে ফেব্রুয়ারির প্রথম সপ্তাহের আগে খেলছি না। মাঝে দুটি এএফসি ম্যাচ (৩১ জানুয়ারি শ্রীলঙ্কায় কলম্বো এফ সি’র বিরুদ্ধে এবং ৭ ফেব্রুয়ারি ভারতে হোম ম্যাচ) আছে।’
আপনার দলের এক নম্বর পেনাল্টি শ্যুটার কে? এই প্রশ্নে মোহন বাগান কোচ বলেন, ‘কাটসুমি অধিনায়ক, রি-স্টার্ট মুভমেন্টে ও বেশ ভালো। তবে পেনাল্টি পেলেই কাটসুমি মারবে এমন কোনও কড়া নির্দেশ ছিল না। সনিকে ম্যাচে ক্লেমেন্তে ফাউল করায় আমরা পেনাল্টি পাই। সনি নিজেই বল বসিয়ে ছিল। মিস করে। এরজন্য ওকে আমরা কিছুই বলিনি। নিজেই বাড়তি দায়িত্ব নিয়ে ম্যাচটি বের করতে বড় ভূমিকা নেয় ও। সনি ও আমার ছেলেরা দেখিয়ে দিয়েছে চ্যাম্পিয়ন হতে গেলে কীভাবে ফুটবল খেলতে হয়।’
সঞ্জয় জানান,‘আনাসের হাঁটুতে লাগছে। ফিজিও’র তত্বাবধানে আছে। রবিবার বিকেলে আমরা চেন্নাই থেকে পুনে পৌঁছাব। সোমবার প্র্যাকটিস সেশন আছে। মঙ্গলবার শিবাজিয়ান্সের বিরুদ্ধে ও খেলতে পারবে কিনা তা সোমবার প্র্যাকটিসের পর বুঝতে পারব। তবে আমি কোনও ঝুঁকি নেব না। কারণ বিক্রমজিৎ সিং জুনিয়র দারুণ খেলেছে।’ কিন্তু ব্রাজিলিয়ান ডিফেন্ডার এডুয়ার্ডোর পারফরম্যান্সে কি আপনি খুশি? চেন্নাই সিটি এফ সি’র গোলটির সময়ে এডুকে ভূপতিত হতে দেখা যায়। উত্তরে মোহন বাগান কোচ বলেন, ‘সবে দ্বিতীয় ম্যাচ খেলল ও। মানিয়ে নেওয়ার জন্য একটু সময় তো দিতে হবে।’ তবে টিম ম্যানেজমেন্ট তাঁর গতি মন্থরতা নিয়ে চিন্তিায় আছে। কলকাতায় ফিরলে গার্সিয়াকে বলা হবে গতি বাড়ানোর জন্য বিশেষ ট্রেনিং করাতে। শেহনাজ সিং আই লিগের দ্বিতীয় ম্যাচে চোট পান। দুটি অ্যাওয়ে ম্যাচে খেলতে যাননি। পেটের ব্যথায় কাবু কিংশুক দেবনাথেরও একই অবস্থা। সঞ্জয় বললেন,‘দু’জনের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ আছে। গার্সিয়ার অধীনে ট্রেনিং করছে। ৩ জানুয়ারি কলম্বো ম্যাচের আগে দু’জনেই ফিট হয়ে যাবে।’ শনিবারের ম্যাচে প্রীতম কোটাল প্রত্যাশিত মানে খেলতে পারেননি। আইএসএলে তিনি আতলেতিকো ডি কলকাতার হয়ে ১৭টি ম্যাচের মধ্যে ১৫টি ম্যাচে খেলেন। আই লিগেও খেলেছেন চারটি ম্যাচ। প্রবীর দাস রাইট ব্যাকে খেলতে পারলেও প্রীতম কোটালকে মোহন বাগান কোচ কিন্তু বিশ্রাম দেননি। এই নিয়ে প্রশ্ন করলে সঞ্জয় বলেন,‘ আমি মনে করি না প্রীতম অতিরিক্ত ম্যাচ খেলছে। তেমন মনে হলে আমি নিজে ওর সঙ্গে কথা বলব।’

নিশিকোরিকে হারিয়ে শেষ আটে ফেডেরার

মেলবোর্ন, ২২ জানুয়ারি: নোভাক ডকোভিচের পর অঘটনের শিকার হয়েছেন অ্যান্ডি মারে। বছরের প্রথম গ্র্যান্ডস্ল্যাম আসরে পুরুষদের সিঙ্গলসের দুই শীর্ষ বাছাই ছিটকে গেলেও মেলবোর্ন পার্কে রজার ফেডেরারের বিজয়রথ ছুটছেই। বুড়ো হাড়ে যেন ভেলকি দেখাচ্ছেন ১৭টি গ্র্যান্ডস্ল্যামের মালিক। চোট সারিয়ে দীর্ঘদিন পর কোর্টে ফেরা সুইশ মহাতারকা রবিবার পাঁচ সেটের রোমাঞ্চকর লড়াইয়ে কেই নিশিকোরিকে হারিয়ে নিশ্চিত করে ফেললেন অস্ট্রেলিয়ান ওপেনে শেষ আটের টিকিট। রবিবার পঞ্চম বাছাই নিশিকোরিকে ৬-৭ (৪-৭), ৬-৪, ৬-১, ৪-৬, ৬-৩ সেটে হারিয়েছেন ফেডেরার। এই নিয়ে অস্ট্রেলিয়ান ওপেনে ত্রয়োদশ বারের জন্য কোয়ার্টার ফাইনালে উঠলেন তিনি। সেই সঙ্গে নিজের ১৮-তম গ্র্যান্ডস্ল্যাম জয়ের লক্ষ্যে এগিয়ে গেলেন আরও এক ধাপ।
হাঁটুর চোটের জন্য প্রায় ছয় মাস কোর্টের বাইরে কাটাতে হয়েছে রজার ফেডেরারকে। ফিট হয়ে অস্ট্রেলিয়ান ওপেনে ফিরেই তরতরিয়ে এগিয়ে চলেছেন তিনি। দীর্ঘ দিন পর কোর্টে ফিরলেও তাঁর পারফরম্যান্সে কিন্তু তার ছাপ পড়েনি। বরং একের পর এক প্রতিপক্ষকে দুরন্ত দাপটে ঘায়েল করে যেন পুরনো ছন্দের ঝলক দেখাচ্ছেন ছেলেদের সিঙ্গলসে সর্বাধিক গ্র্যান্ডস্ল্যামের মালিক। রবিবার জাপানের কেই নিশিকোরির বিরুদ্ধে শেষ ষোলোর ম্যাচে ফের একবার গ্যালারির মন জিতলেন ফেডেরার। হাড্ডাহাড্ডি প্রথম সেটে টাইব্রেকারে ৬-৭ (৪-৭) গেমে হেরেও দমে যাননি তিনি। বরং পালটা আক্রমণে ঘুরে দাঁড়িয়ে ফেডেরার জিতে নেন পরের দুটি সেট, ৬-৪, ৬-১ ব্যবধানে। তবে হালফিলে ফর্মের তুঙ্গে থাকা নিশিকোরিও সহজে হার মানার লোক নন। চতুর্থ সেট ৬-৪ গেমে জিতে নিয়ে ম্যাচে জমিয়ে দেন জাপানি তারকাটি। নির্নায়ক পঞ্চম সেট হয়ে দাঁড়ায় স্নায়ুর লড়াই। কিন্তু অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে শেষ সেট জিতে নিতে খুব একটা সমস্যা হয়নি ফেডেরারের। কোয়ার্টার ফাইনালে ১৭-তম বাছাই ফেজেরার মুখোমুখি হবেন মিসকা জভেরেভের, রবিবার যিনি শেষ আটে উঠেছেন অ্যান্ডি মারেকে হারিয়ে।
কেরিয়ারের প্রথম অস্ট্রেলিয়ান ওপেন খেতাব জয়ের স্বপ্ন নিয়ে মেলবোর্নে এসেছিলেন অ্যান্ডি মারে। প্রধান বাধা নোভাক ডকোভিচ দ্বিতীয় রাউন্ড থেকে বিদায় নেওয়ায় সেই স্বপ্নটা আরও উজ্জ্বল হয়েছিল শীর্ষ বাছাই ব্রিটিশ তারকার। কিন্তু চতুর্থ রাউন্ডেই মারের দৌড় থেমে গেল জার্মানির অবাছাই খেলোয়াড় মিসচা জেরেভের কাছে ৭-৫, ৫-৭, ৬-২, ৬-৪ সেটে হেরে। মেলবোর্নের রড লেভার এরিনায় শুরুতে পিছিয়ে পড়লেও দ্বিতীয় সেটে ঘুরে দাঁড়িয়েছিলেন মারে। তবে এরপর দুর্দান্ত দাপট দেখিয়ে পরের তিন সেট জিতে নিয়ে পুরুষদের সিঙ্গলসের দ্বিতীয় ইন্দ্রপতন ঘটান জেরেভ। এছাড়া রবিবার কোয়ার্টার ফাইনালে উঠেছেন চতুর্থ বাছাই স্টান ওয়ারিঙ্কা। রুদ্ধশ্বাস লড়াইয়ে এই সুইস তারকা ৭-৬ (৭-২), ৭-৬ (৭-৪), ৭-৬ (৭-৪) সেটে হারিয়েছেন আন্দ্রে সেপ্পিকে। শেষ আটের লড়াইয়ে ওয়ারিঙ্কার প্রতিপক্ষ ফ্রান্সের জো-উইলফ্রেড সঙ্গা। মেয়েদের সিঙ্গলসের শীর্ষ বাছাই অ্যাঞ্জেলিক কেরবারও ছিটকে গেলেন আসর থেকে। চতুর্থ রাউন্ডে রড লেভার এরিনায় গতবারের চ্যাম্পিয়ন কেরবারকে ৬-২, ৬-৩ স্ট্রেট সেটে হারিয়ে দেন আমেরিকার কোকো ভ্যানডেওয়েঘ।

দু’গোলে এগিয়ে থেকেও ড্র ম্যান সিটির

ম্যাঞ্চেস্টার, ২২ জানুয়ারি: বার্সেলোনা হোক বা বায়ার্ন মিউনিখ, সাফল্য তাঁর সঙ্গী ছিল। কিন্তু ম্যাঞ্চেস্টার সিটির দায়িত্ব নেওয়ার পর পেপ গুয়ার্দিওলা বুঝছেন, কত ধানে কত চাল। কেন ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগকে বিশ্বের কঠিনতম বলা হয় তা নিশ্চিতভাবেই উপলব্ধি করছেন বিখ্যাত এই স্প্যানিশ কোচ।
ম্যানুয়েল পেলিগ্রিনির পর পেপের হাতে দলের কোচিংয়ের দায়িত্ব তুলে দিয়েছিলেন ম্যান সিটির কর্তারা। সমর্থকদের আশা ছিল, পেপ-স্পর্শে বদলে যাবে দলের ট্রফি ভাগ্য। কিন্তু ২২ ম্যাচে ৪৩ পয়েন্ট পাওয়ার পর তাঁদের অনেকেই লিগ জয়ের আশা ছেড়ে দিয়েছেন।
শনিবার ঘরের মাঠ ইত্তিহাদ স্টেডিয়ামে টটেনহ্যাম হটস্পারের বিরুদ্ধে দু’গোলে এগিয়ে থেকেও ড্র করল ম্যান সিটি। ম্যাচের পর পেপের কণ্ঠে ছিল হতাশার সুর। ‘গোটা ম্যাচে প্রাধান্য ছিল আমাদের। তা সত্ত্বেও তিন পয়েন্ট না পাওয়াটা দুর্ভাগ্যের। চলতি মরশুমে এরকম পারফরম্যান্স একাধিকবার মেলে ধরেও পুরো পয়েন্ট পাচ্ছি না। চেলসি, এভার্টনের বিরুদ্ধেও দুরন্ত খেলেছিল ছেলেরা। তবে এটাই ফুটবল। ম্যাচের ফল আপনাকে মেনে নিতেই হবে’-- বক্তব্য ম্যান সিটি কোচের। উল্লেখ্য, ২২ ম্যাচে ৪৬ পয়েন্ট পেয়েছে টটেনহ্যাম। ম্যাচের শেষ পর্বে রহিম স্টার্লিংকে বক্সের মধ্যে ধাক্কা মারেন টটেনহ্যামের কাইল ওয়াকার। রেফারি পেনাল্টির নির্দেশ দেননি। ড্রেসিং-রুমে ফেরার পথে ওয়াকার স্বীকার করেন, তিনি স্টার্লিংকে অবৈধভাবে ধাক্কা দিয়েছিলেন। এই প্রসঙ্গে পেপ জানান, ‘ওয়াকার কী বলেছে? ওটা ফাউল ছিল? তবে তা নিয়ে ভাবতে নারাজ আমি। এত সুযোগ নষ্ট হওয়ায় তিন পয়েন্ট আসেনি। এর থেকে বড় সত্যি আর নেই।’
ব্রাজিলিয়ান তারকা গ্যাব্রিয়েল হেসাসকে এদিন পরিবর্ত হিসাবে নামিয়েছিলেন পেপ। সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে তিনি জানন, ‘ওর মধ্যে যথেষ্ট প্রতিশ্রুতি রয়েছে। ক্রমশ দলের সঙ্গে মানিয়ে নেবে গ্যাব্রিয়েল। টটেনহ্যামের বিরুদ্ধে দারুণ খেলেছে আরেক প্রতিশ্রুতিসম্পন্ন লেরয় সানে। ওর পারফরম্যান্স আমায় মুগ্ধ করেছে।’ টটেনহ্যামের ফরাসি গোলরক্ষক হুগো লরিসের ভুলে শনিবার দু’টি গোলই পায় ম্যান সিটি। ৪৯ মিনিটে পিছন থেকে ভেসে আসা বল হেডে ঠিকমতো ক্লিয়ার করতে পারেননি লরিস। বল পেয়ে ফাঁকা গোলে তা ঠেলতে ভুল হয়নি সানের (১-০)। পাঁচ মিনিট পরে ডানদিক থেকে রহিম স্টার্লিংয়ের নির্বিষ সেন্টার তাঁর হাত থেকে ছিটকে যায়। ব্যবধান বাড়াতে অসুবিধা হয়নি সুযোগসন্ধানী কেভিন ডি ব্রুইনের (২-০)। তবে দু’গোলে পিছিয়ে পড়েও হাল ছাড়েনি স্পার। ৫৮ মিনিটে ওয়াকারের সেন্টার থেকে কপিবুক হেডে টটেনহ্যামের প্রথম গোল বামিডেলে আলির (২-১)। ৭৭ মিনিটে দ্বিতীয় গোল করেন হিউং-মিং-সন (২-২)।
দুরন্ত ফ্রি-কিকে চার্লটনকে অতিক্রম রুনির: অবশেষে কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছালেন ওয়েন রুনি। শনিবার স্টোক সিটির বিরুদ্ধে ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের ম্যাচে তাঁর গোলই বাঁচাল ম্যাঞ্চেস্টার ইউনাইটেডের হার। পাশাপাশি ববি চার্লটনকে টপকে ক্লাবের সর্বাধিক গোলদাতার আসন দখল করলেন রুনি। ম্যাচের পর তিনি বলেন, ‘ববি চার্লটনের মতো কিংবদন্তিকে অতিক্রম করার মুহূর্ত উপভোগ করতে পারছি না। কারণ, দল জয় পায়নি। তবে এই রেকর্ড আগামী দিনে আমায় আরও গোল করতে উদ্বুদ্ধ করবে।’ ২২ ম্যাচে ৪১ পয়েন্ট পেয়ে আপাতত ষষ্ঠ স্থানে রয়েছে ম্যান ইউ। কোচ হোসে মরিনহো এখনও প্রথম চারের মধ্যে শেষ করার আশা রাখছেন। শনিবার অ্যাওয়ে ম্যাচের ১৯ মিনিটে হুয়ান মাতার আত্মঘাতী গোলে পিছিয়ে পড়ে মরিনহো-ব্রিগেড। সংযোজিত সময়ে ডান পায়ের ইনস্যুইংয়ে রাখা দুরন্ত ফ্রি-কিকে দলকে সমতায় ফেরান রুনি। স্টোক সিটির বিরুদ্ধে কোনওরকমে এক পয়েন্ট পেলেও মরিনহো বলেছেন, ‘অ্যাওয়ে ম্যাচ থেকে খালি হাতে ফিরতে হচ্ছে না। এটাই প্রাপ্তি। আমাদের একটি শট ক্রসবারে প্রতিহত হয়েছে।

মরগ্যানের ছকে বুকেনিয়া ম্যাচের ভাগ্য-নিয়ন্তা

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ‘নাও অর নেভার’। রবিবার বেঙ্গালুরু এফ সি’র বিরুদ্ধে খেলতে নামার আগে ফেসবুকে এমনই মন্তব্য পোস্ট করেছিলেন ওয়েডসন। ম্যাচের পর ইস্ট বেঙ্গলের সেই হাইতিয়ান ফুটবলারকে দেখে মনে হল, তিনি দারুণ তৃপ্ত। গাড়িতে ওঠার আগে সমর্থকদের নিয়ে একের পর এক সেলফিতে পোজ দিলেন। উল্টোদিকে টিম বাসের ওঠার মুখে সুনীল ছেত্রীদের লক্ষ্য ইস্ট বেঙ্গল সমর্থকদের টিপ্পনি। একেই পায়ে গোল নেই, তারপর এদিনের হারে তিতিবিরক্ত বেঙ্গালুরু এফ সি অধিনায়ক লাল-হলুদ সমর্থকদের দিকে কটমট করে তাকিয়ে বাসে উঠে পড়লেন। সাংবাদিক সম্মেলনে খোশমেজাজে ইস্ট বেঙ্গল কোচ মরগ্যান ও ম্যাচের সেরা বুকেনিয়া। ব্রিটিশ কোচ বললেন, ‘প্রথমার্ধে আমরা খেলতে পারিনি। বিরতিতে ছেলেদের বলি, প্রথমার্ধে তোমাদের খেলার রিপ্লে যেন আরও না হয়। কঠিন পরিশ্রম করো। বিপক্ষের দুর্বলতা কাজে লাগাও। কথা রেখেছে ওরা।’ আমিরভের জায়গায় রবিন সিংকে নামানো কি ম্যাচের টার্নিং পয়েন্ট? মরগ্যান বলছেন, ‘রবিন ভালো খেলেছে। তবে ওকে আরও ম্যাচ ফিট হতে হবে। তবে হাওকিপের জন্য খারাপ লাগছে। গত ম্যাচে গোল পেয়েও ওকে বাইরে বসে থাকতে হল।’ তাহলে কেন রবিন? মরগ্যান হাবেভাবে বুঝিয়ে দিলেন, এটা তাঁর স্ট্র্যাটেজিরই অঙ্গ। এদিন ইস্ট বেঙ্গল স্ট্রাইকার উইলিস প্লাজার গোল মিসে লাল-হলুদ শিবিরে হা-হুতাশ। ত্রিনিদার ও টোবাগোর স্ট্রাইকার কি সমর্থকদের প্রত্যাশার চাপে পড়ে যাচ্ছেন? মরগ্যান অবশ্য প্লাজার পাশেই দাঁড়াচ্ছেন। তিনি বললেন, ‘প্লাজার গোলের সুযোগ তৈরি করেছে। এটাই বড় কথা। ও গোলের কাছে পৌঁছে গিয়েছে। তবে প্রত্যাশার চাপ আমি মানি না। পেশাদার ফুটবলারদের এই চাপ নিয়েই খেলতে হয়।’ বেঙ্গালুরু হারিয়ে মরগ্যানের সামনে আর এক বড় হার্ডল মোহন বাগান। কী ভাবছেন? মরগ্যান বলছেন, ‘ডার্বির আগে আমাদের আরও ম্যাচ খেলতে হবে। সেটা নিয়েই ভাবতে চাই।’
বুকেনিয়া স্ট্রাইকার, না স্টপার এই নিয়ে ধাঁধায় পড়ে গিয়েছেন বিপক্ষ দলগুলি। উগান্ডার এই স্টপার বললেন, ‘কোচ যা বলেছেন, সেইভাবেই খেলার চেষ্টা করেছি। আমার গোলে দল জিতেছে, এটাই বড় কথা। এইভাবেই খেলা চালিয়ে যেতে চাই।’
বেঙ্গালুরু এফ সি কোচ অ্যালবার্ট রোকার সাফ কথা, ‘ইস্ট বেঙ্গলের লং বলে খেলার কাছেই হেরে গেলাম। ওরা নেগেটিভ চান্স থেকে গোল করেছে। দ্বিতীয়ার্ধে আমরা কেন খারাপ খেললাম, সেটা খতিয়ে দেখতে হবে।’ সুনীলের গোল না পাওয়া রোকার ব্যাখ্যা, ‘আমরা ৪-২-৩-১ ফর্মেশনে খেলছি। সুনীলকে একটু বাঁ-দিক থেকে খেলাচ্ছি। ওকে ওখানে সেট হতে হবে। আশা করছি, সুনীল গোল পাবে।’

মিক্সডে জয় পেজের, ডাবলসে হার সানিয়ার

মেলবোর্ন, ২২ জানুয়ারি: অস্ট্রেলিয়ান ওপেনে মিক্সড ডাবলস ইভেন্টের দ্বিতীয় রাউন্ডে উঠলেন লিয়েন্ডার পেজ ও মার্টিনা হিঙ্গিস জুটি। তাঁরা ৬-৪, ৬-৩ স্ট্রেট সেটে হারালেন অস্ট্রেলিয়ান জুটি মার্ক পোলম্যানস-ডেস্টানি আয়াভাকে। ৫১ মিনিটের ম্যাচে মোট ২০টি উইনার মারেন পেজ-হিঙ্গিস। তবে মেয়েদের ডাবলসে দৌড় থামল সানিয়া মির্জার। বারবোরা স্ট্রাইকোভার সঙ্গে জুটি বেঁধে খেলতে নেমে তৃতীয় রাউন্ড থেকে বিদায় নিলেন তিনি। সানিয়া-স্ট্রাইকোভা ৩-৬, ৬-২, ২-৬ সেটে হারলেন জাপানের হজুমি ও এম কাতো জুটির কাছে। এদিন প্রথম সেটে দাঁড়াতেই পারেনি ইন্দো-চেক জুটি। তবে দ্বিতীয় গেমে দারুণ ভাবে ম্যাচে ফিরেছিলেন সানিয়ারা। কিন্তু তৃতীয় গেমে তাঁদের টেক্কা দিয়ে বাজিমাত করে যায় অনামী হজুমি-কাতো জুটি। যদিও সানিয়ার অস্ট্রেলিয়া সফর এখনই শেষ হচ্ছে না। মিক্সড ডাবলসে ক্রোয়েশিয়ার ইভান ডডিগের সঙ্গে ইতিমধ্যে দ্বিতীয় রাউন্ডে উঠেছেন তিনি।
চাপে অবশিষ্ট ভারতীয় দল
মুম্বই, ২২ জানুয়ারি: অবশিষ্ট ভারতীয় দলের আঁটোসাটো বোলিংয়ে ইরানি কাপের দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে ২২৭ রানে ৮ উইকেট হারিয়ে ফেলেছে গুজরাত। প্রিয়াঙ্ক পাঞ্চাল ৭৩ রান করে আউট হলেও লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন চিরাগ গান্ধী। ৫৫ রানে অপরাজিত রয়েছেন তিনি।

কোচবিহার ট্রফি জয়ের নায়ক সৌরভ সিং-কনিষ্ক শেঠ

নিজস্ব প্রতিনিধি,কলকাতা: প্রায় ১৯ বছর পর বাংলা কোচবিহার ট্রফিতে চ্যাম্পিয়ন হল। গত চার দিন ধরে সিএবি’তে যখন টিকিট বণ্টন, পদাধিকারীদের কোটা নিয়ে জোর কাজিয়া চলছে, তখন অনেকটা নিঃশব্দে দাঁতে দাঁত দিয়ে রাজধানীর মাটিতে দিল্লির বিরুদ্ধে লড়াই করছিল বাংলার ছোটরা। আগে ব্যাট করে প্রথম ইনিংসে ১৩৭ ওভারে ৩১৪ তোলে দিল্লি। এর উত্তরে ব্যাট করতে নেমে বাংলা এক সময়ে চাপে পড়ে গিয়েছিল। মাত্র ১৮০ রানের মধ্যে বাংলার ছ’টি উইকেট পড়ে যায়। কিন্তু সপ্তম উইকেটে সৌরভ সিং (১৯৬) এবং কনিষ্ক শেঠ (৯১) ১৮২ রান যোগ করায় বাংলা প্রথম ইনিংসে ৩৯৩ রান তোলে। গত শনিবার ম্যাচের তৃতীয় দিনের শেষে বাংলার ৬ উইকেটে ২৭২ রান ছিল। রবিবার সকালে হাতে থাকা চার উইকেটে বাংলার প্রয়োজন ছিল ৪৩ রান। কিন্তু দিল্লিতে ঘন কুয়াশার মধ্যেও ফিরোজ শাহ কোটলায় বাংলার দুই তরুণ ব্যাটসম্যান লখনউয়ের সৌরভ সিং আর কনিষ্ক শেঠ অত্যন্ত দায়িত্ব নিয়ে খেলেন। বাংলাকে নিবাপদ জায়গায় রেখে কনিঙ্ক আউট হন ৯১ রানে। এই রান করতে তিনি নেন ২১২ রান। আর সৌরভ ৫২৭ বল খেলে ১৯৬ রান করেন। এদিন বাংলাকে প্রথম ইনিংসে লিড নিলেও সৌরভ ডাবল সেঞ্চুরি মিস করেন। আর কনিষ্ক মিস করেন নিজের সেঞ্চুরি। এই ব্যাপারে বাংলার কোচ প্রণব নন্দী বলেন,‘ওরা সেঞ্চুরি ও ডাবল সেঞ্চুরি পেলে হয়তো আনন্দের দিনে আরও ভালো লাগত। তবে যে ভাবে ঘন কুয়াশার মধ্যে ওরা লড়াই করেছে, মাথা ঠান্ডা রেখে সকালে ব্যাট করেছে তাতে ডাবল সেঞ্চুরি আর সেঞ্চুরি পাওয়া উচিত ছিল।’
প্রণব নন্দী চাকরি থেকে ভিআরএস নিয়েছিলেন কোচিংয়ে জন্য। প্রায় ৩৫ বছর তিনি ময়দানী ক্রিকেটের সঙ্গে যুক্ত। খেলতে খেলতেই কোচিং করিয়েছেন। শেষ আট বছরের বেশি তিনি ইস্ট বেঙ্গলের কোচ ছিলেন। তাঁর কোচিংয়ে ইস্ট বেঙ্গল অনেকবারই দাদা পলাশ নন্দীর দলকে হারিয়েছে। এবার জুনিয়র বাংলার কোচ হিসাবে এই সাফল্য তাঁকে তৃপ্তি দিয়েছে। এই ব্যাচটিতে ভিশন ২০২০ ছোঁয়া থাকলেও সাব জুনিয়র বাংলা থেকে উৎপল চ্যাটর্জি কোচ হিসাবে যে সব খেলোয়াড়কে তুলে আনেন তাদের রেখে আর আন্তঃ-কোচিং ক্যাম্প ক্রিকেট থেকে দলটি তৈরি করেন প্রণব নন্দী। তবে কনিষ্ক শেঠ উঠতি বোলার হিসাবে টি এ শেখরের কাছে কোচিং নিয়েছিলেন। তিনি আসলে অল-রাউন্ডার। ২৫ ওভার বল করলেও উইকেট পাননি। তবে ব্যাটিং হাতে আসল কাজ করে দিয়েছেন। উইকেটরক্ষক আরিফ আনসারি ভিশন ২০২০ প্রকল্পে কিছু দিন দীপ দাশগুপ্তর অধীনে কিপার হিসাবে ছিলেন। দীপ বলেন,‘মূলত জনা চারেক ছেলে যুক্ত ছিল। সিএবি’র তরফে দলটি দেখতেন যুগ্ম সচিব বাবলু গাঙ্গুলি। ইডেনে ম্যাচ থাকলেও সকালে তাঁর মন ছিল দিল্লিতে। বাংলা লিড নিতেই তিনি এসএমএস করে অভিনন্দন জানান গোটা দলকে। বাবলু বলেন,‘এই সাফল্যে সিংহভাগ কৃতিত্ব প্রণব নন্দীর। প্রায় নিজের হাতে দলটি তৈরি করেছেন। প্রমাণ হল, ভিনরাজ্যের কোচের প্রয়োজন নেই। সম্বরণের আকাদেমিরর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা আছে। ওদের তিনজন বাংলা দলে আছে(এরা হল সন্দীপন দাস জুনিয়র, কাজী জুনদাইদ শরিফি আর কনিষ্ক শেঠ)। কনিষ্ক শ্যামবাজারের হয়ে খেলেছেন। কাজি ফাইনালে ১৯ রান করলেও গোটা টুর্নামেন্টে ভালো খেলেছেন। ইশান পোড়েল দুটি উইকেট পেয়েছেন ফাইনালে। আকাশ পান্ডে চারটি উইকেট পান। ইশান জাতীয় জুনিয়র দলেও ডাক পেয়েছেন। বাংলার ক্রিকেটারদের এই সাফল্যে খুশি ক্রীড়াদপ্তরের প্রতিমন্ত্রী লক্ষ্মীরতন শুক্লা। তাঁর গলায় আবেগ ঝড়ে পড়ছিল। লক্ষ্মী ফোনে জানান, ‘সত্যিই খুশির দিন। অনেকগুলি বছর লেগে গেল আবার কোচবিহার ট্রফি জিততে। আমি জানি এই ট্রফি তরুণ ক্রিকেটারদের অনুপ্রাণিত করবে। একটা স্বপ্নপূরণ হয়েছে। আরও বড় স্বপ্ন দেখতে বলব সৌরভ, কনিষ্কদের। আমার বিশ্বাস ওরা পারবে।’
উনিশ বছর আগে লক্ষ্মীদের দলের ম্যানেজার ছিলেন সিএবি কর্তা বিশ্বরূপ দে। তিনি বলেন, ‘গোটা দেশের কাছে বাংলার ক্রিকেটকে গর্বিত করেছে ওরা। একটা টুর্নামেন্ট জেতার আনন্দ কতটা সেটা লক্ষ্মীদের সাফল্যে অনুভব করেছিলাম। আমি বলব এই দলটার উপর আরও নজর দেওয়া উচিত। এরাই আমাদের ভবিষ্যৎ। আসলে অনূর্ধ্ব-১৯ টুর্নামেন্ট জেতার পরেও বহু ক্রিকেটার হারিয়ে গিয়েছে। এই ব্যাপারে আমাদের সতর্ক থাকতে হবে।’

রিয়াল মাদ্রিদকে জেতালেন সের্গিও র‌্যামোস

মাদ্রিদ, ২২ জানুয়ারি: সেভিয়া ও সেলতা ভিগোর কাছে হারের পর অবশেষে জয়ের চেনা পথে ফিরল রিয়াল মাদ্রিদ। শনিবার ঘরের মাঠ সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে লিগের ম্যাচে জিদানের দল ২-১ গোলে হারাল মালাগাকে। বিজয়ী দলের হয়ে জোড়া গোল সের্গিও র‌্যামোসের। সেভিয়ার বিরুদ্ধে তাঁর আত্মঘাতী গোলের গ্লানি কিছুটা হলেও মুছলেন রিয়াল অধিনায়ক। ১৮ ম্যাচে ৪৩ পয়েন্ট পেয়ে লিগ শীর্ষে অবস্থান করছে জিজু-ব্রিগেড। চার পয়েন্ট পিছনে সেভিয়া। সমসংখ্যক ম্যাচে ৩৮ পয়েন্ট সংগ্রহ করে তৃতীয় স্থানে বার্সেলোনা।
সেলতা ভিগোর ম্যাচে রাইট ব্যাকে ডানিলোকে খেলিয়ে ভুগতে হয়েছিল জিদানকে। তাই শনিবার তাঁর পরিবর্তে নাচোকে খেলান তিনি। প্রথম একাদশের রাইট ব্যাক কার্ভাহাল দু’দিন আগে অনুশীলনে চোট পেয়ে এক মাসের জন্য মাঠের বাইরে চলে গিয়েছেন। ঘরের মাঠে শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল উপহার দেয় রিয়াল মাদ্রিদ। গতি এবং স্কিলের সংমিশ্রণে মালাগার রক্ষণকে একাধিকবার ব্যতিব্যস্ত করে তুলেছেন রোনাল্ডো-ভার্কুয়েজরা। ২৫ মিনিটে হ্যামস্ট্রিংয়ে চোট পেয়ে মাঠ ছাড়েন ব্রাজিলিয়ান মার্সেলো। পরিবর্তে আসেন নাচো। ৩৫ মিনিটে ডানদিক থেকে জার্মান মিডিও টনি ক্রুজের ঠিকানা লেখা কর্নার থেকে জোরালো হেডে জাল কাঁপিয়ে দেন র‌্যামোস (১-০)। আট মিনিট পরে বাঁ দিক থেকে ক্রুজের ভাসানো ফ্রি-কিক থেকে মাপা পুশে ব্যবধান বাড়ান তিনি (২-০)। উল্লেখ্য, লা লিগায় এটি র‌্যামোসের পঞ্চাশতম গোল। ডিফেন্ডার হিসাবে তিনি রিয়ালের তৃতীয় সর্বাধিক গোলদাতা (৬৬)। তাঁর আগে রয়েছেন রবার্তো কার্লোস (৬৮) এবং ফার্নান্দো হিয়েরো (১২৭)। সবচেয়ে বড় কথা, চলতি লা লিগায় তিনিই দলের দ্বিতীয় সর্বাধিক গোলদাতা (৬)। শীর্ষে রয়েছন ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডো (১২)। প্রথমার্ধে রোনাল্ডো ও বেনজেমা দু’টি করে সহজ সুযোগ না হারালে লজ্জা বাড়ত মালাগার। দ্বিতীয়ার্ধের ১৮ মিনিটে হুয়ান পাবলো ব্যবধান কমালেও তা রিয়াল মাদ্রিদের জয়ের পথে কাঁটা ছড়াতে পারেনি (২-১)। গত কয়েকটি ম্যাচে গোল পাননি রোনাল্ডো। তাই ঘরের মাঠ সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে তাঁকে শুনতে হয় সমর্থকদের বক্রোক্তি। মালাগার বিরুদ্ধেও স্কোরশিটে তাঁর নাম নেই। তবে এই ব্যাপারে বিন্দুমাত্র চিন্তিত নন জিদান। তাঁর বক্তব্য, ‘রোনাল্ডো আমাদের সম্পদ। ওর উপর আমাদের সকলের আস্থা রয়েছে। সমর্থকদের বলব, ধৈর্য ধরুন। দ্রুত গোলে ফিরবে সিআরসেভেন।’
মার্সেলোর চোট অবশ্য চিন্তা বাড়িয়েছে রিয়াল মাদ্রিদ কোচের। চোটের তালিকা দীর্ঘ হওয়ায় রিজার্ভ বেঞ্চের ফুটবলারদের উপর নির্ভর করতে হবে জিদানকে। সাংবাদিক সম্মেলনে এই প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘চোট সমস্যা তো থাকবেই। তবে আমার দলে সাত-আটজন চোটের কবলে। পুরোপুরি ফিট না হলে আমি কাউকে ব্যবহার করতে চাই না।’

জিতে দ্বিতীয় স্থানে আর্সেনাল

লন্ডন, ২২ জানুয়ারি: ম্যাচ শেষের বাঁশি বাজার আগের মিনিটে পেনাল্টি থেকে গোল করলেন অ্যালেক্সি স্যাঞ্চেজ। আর এরই সুবাদে রবিবার ঘরের মাঠ এমিরেটস স্টেডিয়ামে লিগের ম্যাচে বার্নলেকে ২-১ গোলে হারাল আর্সেনাল। এই জয় গানার্সদের পৌঁছে দিল দ্বিতীয় স্থানে (২২ ম্যাচে ৪৭ পয়েন্ট)। ম্যাচের ৫৯ মিনিটে মুস্তাফির গোলে লিড নেয় আর্সেন ওয়েঙ্গারের দল। কিন্তু ৯৩ মিনিটে পেনাল্টি থেকে বার্নলেকে সমতায় ফেরান আন্দ্রে গ্রে। উল্লেখ্য, ৬৫ মিনিটে গ্রানিট জাকা লাল কার্ড দেখায় বাকি সময় দশজনে খেলতে হয় আর্সেনালকে। ম্যাচের পর ওয়েঙ্গার বলেন, ‘এই জয় আগামী দিনে ফুটবলারদের আত্মবিশ্বাস জোগাবে।’
লেস্টার সিটি হারল: রবিবার ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের ম্যাচে সাদাম্পটন ৩-০ গোলে হারিয়ে দিল গতবারের চ্যাম্পিয়ন লেস্টার সিটিকে। বিরতিতে বিজয়ী দল ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে ছিল। সাদাম্পটনের হয়ে গোল পেয়েছেন যথাক্রমে ওয়ার্ড-প্রোজ, রডরিগেজ ও ট্যাডিচ। ২২ ম্যাচে ২৭ পয়েন্ট পেয়ে লিগ তালিকার একাদশতম স্থানে রয়েছে সাদাম্পটন। লেস্টার সিটির স্থান পঞ্চদশ (২২ ম্যাচে ২১ পয়েন্ট)।

ক্রীড়া দপ্তরের সঙ্গে চুক্তি সম্পাদিত সাইয়ের

নিজস্ব প্রতিনিধি, কার্সিয়াং: রবিবার কার্সিয়াংয়ে উত্তরবঙ্গ উৎসবের উদ্বোধন করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বিশ্ববঙ্গ ক্রীড়াঙ্গনকে নিয়ে এই বর্ণময় অনুষ্ঠানের মঞ্চে চুক্তি সম্পাদিত হল রাজ্য ক্রীড়া দপ্তর এবং স্পোর্টস অথরিটি অব ইন্ডিয়ার মধ্যে। মুখ্যমন্ত্রীর উপস্থিতিতেই চুক্তিতে সই করেন ক্রীড়ামন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস এবং সাইয়ের ডেপুটি ডিরেক্টর। এখন থেকে সংশ্লিষ্ট ক্রীড়াঙ্গনটির দেখভাল করবে সাই।
রবীন্দ্র সরোবরে বাকেট চেয়ার বসানোর কাজ শুরু: এএফসি কাপের ম্যাচে যে কোনওভাবেই রবীন্দ্র সরোবরে করতে চায় মোহন বাগান। উত্তরবঙ্গে যাওয়ার আগে ক্রীড়ামন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস যুবভারতীর বাকেট চেয়ার রবীন্দ্র সরোবর স্টেডিয়ামে বসানোর অনুমতি দেন। সেই মতো বাকেট চেয়ার লাগানোর কাজও শুরু হয়েছে।

জিতে তৃতীয় স্থানে উঠে এল আইজল

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: রবিবার কুপারেজে আই লিগের ম্যাচে মুম্বই এফসি’কে ১-০ গোলে হারাল আইজল এফসি। এই জয়ের সুবাদে চার ম্যাচে দশ পয়েন্ট পেয়ে লিগ তালিকায় তৃতীয় আইজল। খালিদ জামিলের প্রশিক্ষণে ধারাবাহিক পারফরম্যান্স মেলে ধরছে পাহাড়ি ক্লাবটি। উল্লেখ্য, খালিদের প্রাক্তন ক্লাব মুম্বই এফসি। দীর্ঘদিন এই ক্লাবের প্রশিক্ষণের দায়িত্বে ছিলেন তিনি। পুরানো ক্লাবকে হারাতে পেরে খুশি প্রাক্তন ভারতীয় ফুটবলারটি। ম্যাচের ৭৯ মিনিটে একমাত্র গোলটি করেন মাহমুদ আল আমিনা। আইজলের কোচ খালিদ জামিল দলের এই জয়ে খুব খুশি।

ঝাড়গ্রামে জঙ্গলমহল ক্যারাটে চ্যাম্পিয়ন কাপ

সংবাদদাতা, ঝাড়গ্রাম: রবিবার ঝাড়গ্রাম শহরের তরুণ তীর্থ ক্লাবের ময়দানে ‘জঙ্গলমহল ক্যারাটে চ্যাম্পিয়ন কাপ’ অনুষ্ঠিত হল। এদিন প্রদীপ জ্বালিয়ে অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন অনগ্রসর শ্রেণিকল্যাণমন্ত্রী চূড়ামণি মাহাত। মন্ত্রী ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন ঝাড়গ্রামের মহকুমা শাসক নকুলচন্দ্র মাহাত ও ঝাড়গ্রাম পুরসভার চেয়ারম্যান দুর্গেশ মল্লদেব।

পশ্চিম মেদিনীপুর ডিস্ট্রিক্ট স্পোর্টস ক্যারাটে-ডো অ্যাসোসিয়েশনের উদ্যোগে চ্যাম্পিয়ন কাপের আয়োজন করা হয়। পশ্চিম মেদিনীপুর, বাঁকুড়া, পুরুলিয়া এই তিন জেলার মোট ২৭০জন প্রতিযোগী অংশগ্রহণ করেছিলেন। এঁদের মধ্যে ১৬০জন মেয়ে ও ১১০জন ছেলে। পশ্চিম মেদিনীপুর ডিস্ট্রিক্ট স্পোর্টস ক্যারাটে-ডো অ্যসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক গৌরাঙ্গ পাল বলেন, জঙ্গলমহলের ছেলেমেয়েরা আজ ক্যারাটতেও যে পিছিয়ে নেই, তার প্রমাণ এতজন প্রতিযোগীর অংশগ্রহণ। প্রতিটি বিভাগে দলগত ও এককভাবে প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থানাধিকারীদের হাতে ট্রফি ও আর্থিক সাহায্য তুলে দেওয়া হয়।

 






?Copyright Bartaman Pvt Ltd. All rights reserved
6, J.B.S. Haldane Avenue, Kolkata 700 105
 
Editor: Subha Dutta