Bartaman Patrika
বিশেষ নিবন্ধ
 

অসম ফের ভাবাচ্ছে, শেষ
পর্যন্ত কোন ভারত দেখতে হবে!
মোশারফ হোসেন

বছর কুড়ি-একুশ আগের কথা। গুয়াহাটিতে একদিন একটি মাঝারি মানের রেস্টুরেন্টে প্রাতঃরাশ সারছিলাম। সম্ভবত খানিকটা বেলা হয়ে যাওয়ায় রেস্টুরেন্টে ভিড় নেই। পাশের টেবিলে চার ভদ্রলোক খাওয়া দাওয়া করতে করতে নিজেদের মধ্যে অনুচ্চ স্বরে কথাবার্তা বলছিলেন। হঠাৎই কানে পড়ল বেশ কয়েকটি বাংলা শব্দবন্ধ। তখন বয়স অনেক কম। কৌতূহল বেশি। আবেগও। সাংবাদিকতার কাজে বিভিন্ন রাজ্যে ঘুরতে হয়। বিহার, ওড়িশা, উত্তরপ্রদেশ, মহারাষ্ট্র, কাশ্মীর, কর্ণাটক- যেখানেই যাই না কেন, বাঙালির সঙ্গে দেখা হলে ভালো লাগে। মাতৃভাষায় খানিক গল্পগুজব করতে পারলে প্রাণের আরাম বোধ হয়। ওখানে ওই বাঙালিরা কেমন আছেন জানার চেষ্টা করে নিজেকে সমৃদ্ধ করি। নতুন নতুন তথ্য পাই। নানারকম অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হই। কখনও কখনও মজার অভিজ্ঞতাও হয়। ভালোই লাগে। এর আগে উত্তরপ্রদেশের কানপুরে একবার এক হোটেল মালিকের পদবি চ্যাটার্জি শুনে পরম আনন্দে বাংলায় ভাব জমাতে গিয়ে জোর ধাক্কা খেয়েছিলাম। জেনেছিলাম, ওই ভদ্রলোকরা বেশ কয়েকপুরুষ কানপুরের বাসিন্দা। ওঁদের যে পুর্বপুরুষ বাংলা থেকে গিয়েছিলেন, তিনি ওখানকার স্থানীয় এক মহিলাকে বিয়ে করেন। পরবর্তী প্রজন্মগুলির সমস্ত বধূও খাস উত্তরপ্রদেশীয়। কেবল পদবিটুকু ছাড়া ওই পরিবারের সমস্তকিছুই ওই রাজ্যের আর পাঁচজনের মতো। রীতি, আচার, পুজোআচ্চা সবই। এমনকী পরিবারের লোকজনের মধ্যে শেষ কবে বাংলা ভাষায় কথাবার্তা হয়েছে তা ওই মধ্যবয়সি ভদ্রলোকেরও জানা নেই। আবার, ওই রাজ্যেরই আলিগড়ে এক প্রবাসী বাঙালি অধ্যাপক পরিচয় পেয়ে বাড়িতে ‘দিওয়ালি’ মিলন উৎসবে আপ্যায়ণ করেছিলেন। ওই পরিবারে অবশ্য বাংলার চর্চা ভালোই দেখেছিলাম। ভিনরাজ্যে কোথাও বাংলা ভাষা বা বাঙালির দেখা পেলে সম্ভবত খানিক আশ্বস্তও হতাম। কারগিল যুদ্ধের সময় দ্রাসের যুদ্ধক্ষেত্রেই এক জওয়ানের সঙ্গে পরিচয় হয়েছিল। সীমান্তে পাক গোলন্দাজদের সঙ্গে ঘোর গোলাগুলি বিনিময়ের ফাঁকেই নদীয়ার ওই বঙ্গসন্তান বাঙ্কারের মধ্যে স্টোভে দুধ-চা বানিয়ে খাইয়েছিলেন। বেশ কয়েকদিন তৃষ্ণার্ত থাকা জিভটা চেনা ‘বাঙালি চা’য়ের ছোঁয়ায় বড় স্বস্তি পেয়েছিল।
আবার, পুরীতে বাংলায় কথাবার্তা বলার অভিজ্ঞতাকে ভরসা করে একবার ওড়িশার একটি প্রত্যন্ত এলাকায় ডাবের জলে তেষ্টা মেটানোর ইচ্ছেপূরণ করতে চেয়ে বেজায় সমস্যায় পড়েছিলাম। গ্রীষ্মের দুপুরে জোর তেষ্টা পেয়েছে। চায়ের দোকান টোকান থেকে জল খেতে ভয়। কে জানে পেট খারাপ করবে কি না! গ্রামীণ এলাকা। আশপাশে কোনও দোকানে বোতলবন্দি জলের দেখা পেলাম না। ভাবলাম, ডাবই খাই। কিন্তু কোথায় ডাব? ডাব, নারিয়েল, গ্রিন কোকোনাট—কোনও শব্দ দিয়েই তো আমি আমার চাহিদার কথা বোঝাতে পারছি না! বাংলা তো নয়ই, আমার হিন্দিও কেউ বুঝছে না। এদিকে, তেষ্টায় গলা পর্যন্ত কাঠ হওয়ার জোগাড়। একটি ছোটখাটো ধাবার মতো জায়গায় গিয়ে শেষ চেষ্টা করে বিফল হলাম। তখন মুখ থেকে স্বগতোক্তির মতো বেরিয়ে গেল, মহা মুশকিলে পড়া গেল তো! কোথাও একটা ডাবও পাচ্ছি না!
ধাবার এককোণে বসে চা খাচ্ছিলেন সাধারণ চেহারার একটি লোক। আমার কথাটা সম্ভবত তাঁর কানে গিয়েছিল। উনি উঠে দাঁড়িয়ে বাংলায় বললেন, আপনি ডাব খুঁজছেন? এখানেই পাবেন। সত্যিই ধাবার ভিতরের দিক থেকে ডাব এল। তেষ্টা মেটানোর পর কৃতজ্ঞ চোখে ভদ্রলোকের দিকে তাকালাম। উনি বললেন, আসলে এই অঞ্চলের এইসব লোকজন হিন্দি বা ইংরেজি তেমন বোঝে না বললেই চলে। ওড়িয়ায় ডাবের জলকে ‘ফয়ডা পানি’ বলে। তা বলতেই মিলে গেল। শুনলাম আমার মুশকিল আসান ভদ্রলোক আসলে সবংয়ের মানুষ। মাদুর বেচতে উনি প্রতি বছরই ওড়িশার গ্রামেগঞ্জে ঘোরেন। সেবারও একই কাজে গিয়েছিলেন। কর্ণাটকে গ্রামীণ সড়কের পাশে দেহাতি কলাবিক্রেতা তাঁর পণ্যের দাম জানিয়েছিলেন—ওয়ান রুপি ইচ। কিন্তু ওড়িশার এক দোকানি ‘গট্টা টঙ্কা’ চেয়ে আমায় বিপদে ফেলেছিলেন। গট্টা টঙ্কা মানে যে এক টাকা, তা বুঝতে আমার বেশ কয়েক মিনিট সময় লেগেছিল। ভিয়েতনামের সাইগন নদীর ওপর একটি প্রমোদতরণীতে বাঙালি পরিচয় পেয়ে আদতে কলকাতার বাসিন্দা হয়েও ওদেশে জমিয়ে ব্যবসা করা এক ভদ্রলোক খাতির করে আমায় গোবিন্দভোগ চালের পায়েস খাইয়েছিলেন।
যাইহোক, সেন্টিমেন্টের জেরেই বোধহয় গুয়াহাটিতে সেদিন প্রাতঃরাশ শেষ করে কাউন্টারে দাম মিটিয়ে আমি ওই টেবিলের সামনে গিয়ে দাঁড়ালাম। বললাম, আপনারা বাঙালি? একজন আমার দিকে তাকালেন। সন্দিগ্ধ দৃষ্টি। পাশের জন হিন্দিতে বলে উঠলেন, না, না। আমরা অসমিয়া। আমি অবাক। তাহলে যে একটু আগেই ওদের বাংলা কথাবার্তা শুনলাম! তাহলে ওই অসমিয়ারা কি বাংলায় গালগল্প করছিলেন! খানিক অপ্রস্তুত বোধ করে ওখান থেকে চলে এসেছিলাম। পরদিন এক সাংবাদিক বন্ধুর সঙ্গী হয়ে দিসপুরে গিয়েছিলাম। অসমের এক প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী গোলাপ বরবরার সঙ্গে আলাপ করতে। ততদিনে গোলাপবাবুর বয়স হয়েছে। দিসপুরে ছোট্ট একটা ফ্ল্যাটে থাকেন। কথা বলতে পারেন ঝরঝরে বাংলায়। আসলে ছাত্রজীবনের অনেকটাই কাটিয়েছেন কলকাতায়। আমাদের শহর সম্পর্কে যথেষ্টই ওয়াকিবহাল।
কথাবার্তার মধ্যেই আগের দিনের গুয়াহাটির রেস্টুরেন্টের প্রসঙ্গটি তুললাম। প্রবীণ ওই রাজনীতিবিদ মন দিয়ে সবটা শুনলেন। তারপর বললেন, আসলে ওরা ভয় পাচ্ছিলেন। আপনি অচেনা মানুষ তো! তাই। বলেছিলেন, তিরাশির নেলিকাণ্ডের পর অসমের বাঙালিরা নিজেদের অনেকটাই বদলে নিয়েছেন। অনেকেই নিজেদের আইডেনটিটি প্রকাশ করতেও সঙ্কোচবোধ করেন।
গোলাপবাবুর কথা শুনতেই শুনতেই নেলি হত্যাকাণ্ড ও তার পরবর্তী কিছু ঘটনার কথা মনে পড়ছিল। অবশ্য সবই খবরের কাগজের সূত্রে জানা। ১৯৮৩ সালে উগ্র অসমিয়ারা একের পর এক বাঙালি অধ্যুষিত গ্রাম জ্বালিয়ে ছারখার করে দিয়েছিল। বহু বাঙালিকে নির্মমভাবে হত্যা করেছিল। অসমে ওই বাঙালি নিধন যজ্ঞ ও তার জের চলেছিল আরও বেশ কিছু বছর ধরে। পরিস্থিতি এমন দাঁড়িয়েছিল যাতে লক্ষ লক্ষ বাঙালি পরবর্তী অর্থাৎ ১৯৯১ এর জনগণনায় অসমিয়াকে নিজেদের মাতৃভাষা বলে নথিভুক্ত করিয়েছিলেন। ওই উগ্র অসমিয় প্রাদেশিকতাকে পুঁজি করেই পরবর্তীকালে প্রফুল্ল মোহান্তরা ওই রাজ্যের ক্ষমতায় এসেছিলেন। গুয়াহাটির রেস্টুরেন্টের ঘটনাটির সময় প্রফুল্ল মোহান্তই অসমের মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন।
তারপর দেশজুড়ে অনেক বদবদল ঘটেছে। অসমেও তার ব্যতিক্রম ঘটেনি। কংগ্রেস ও অন্যান্য দলের সরকার ক্ষমতায় আসে। সরকার বদলানোর পর উগ্র প্রাদেশিকতার ভাবনা ধীরে ধীরে প্রশমিত হতে থাকে। পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে ওই রাজ্যে বসবাসকারী বাঙালিরাও সম্ভবত হারানো আস্থা ধীরে ধীরে ফিরে পাচ্ছিলেন। অস্তিত্বের অনিশ্চয়তাবোধ থেকে ক্রমশ মুক্তি ঘটছিল তাঁদের। ফলে, গ্রামে শহরে যে যার মতো দিন কাটানোর স্বপ্ন দেখছিলেন। তাঁদের মনোজগতের এই পরিবর্তনের বেশ খানিকটা প্রকাশ ঘটেছে ২০১১ সালের জনগণনার নথিপত্রে। ১৯৯১ সালের জনগণনার নথিতে বাংলা ভাষাভাষীর সংখ্যা প্রায় তলানিতে চলে গিয়েছিল। তারপর সর্বশেষ অর্থাৎ ২০১১-র জনগণনার তথ্যে দেখা যাচ্ছে ওই রাজ্যে বাংলাভাষী বাসিন্দার সংখ্যা আগেরবারের তুলানায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। মোট জনসংখ্যার প্রায় ২৯ শতাংশই বাংলাভাষী বলে নথিভুক্ত হয়েছে।
কিন্তু সম্প্রতি তথাকথিত জাতীয় নাগরিক পঞ্জি নিয়ে ব্যাপক তৎপরতার সূচনা থেকে অসমে পরিস্থিতি ফের দ্রুত বদলাতে শুরু করেছে। নাগরিকপঞ্জির খসড়া তালিকা প্রকাশের পর ফের ওই রাজ্যে বসবাসকারী বিপুল সংখ্যক বাংলাভাষী মানুষ ঘোরতর আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। ইতিমধ্যেই তথাকথিত ডি অর্থাৎ ডাউটফুল ভোটার এবং কনসেনট্রেশন ক্যাম্পের সুবাদে বহু পরিবারে ভাঙন ধরেছে। খসড়া তালিকা সেই ভাঙনকে প্রশস্ত করার পথ তৈরি করে দিয়েছে। রাজ্যে রাজ্যে বিজেপি’র নানা মাপের নেতারা নানা স্তোকবাক্যে বিষয়টি লঘু করার যতই চেষ্টা করুন না কেন, অসমে বসবাসকারী বাঙালিরা হাড়ে হাড়ে টের পাচ্ছেন পরিস্থিতি আসলে কতটা ভয়াবহ।
অনেকে বলছেন, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অনুসারেই অসমে নাগরিকপঞ্জি তৈরি হচ্ছে। ঠিকই। কিন্তু প্রশ্ন, সুপ্রিম কোর্ট কি স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে অসমে জাতীয় নাগরিক পঞ্জি তৈরির নির্দেশ দিয়েছিল? না কি কয়েক সপ্তাহ আগে নাগরিকত্ব সংশোধনী সংক্রান্ত সরকারি বিজ্ঞপ্তি জারি শীর্ষ আদালতের নির্দেশেই? পাঁচ রাজ্যে বিধানসভা ভোটের মুখে সম্ভবত রাজনৈতিক ফয়দা তুলতেই নাগরিকত্ব সংশোধনী সংক্রান্ত নির্দেশিকা জারি করা হল। আর, তাতেই অসমে নতুন করে তৈরি হওয়া আগুনে ঘি পড়ল। ১৯৮৩ –র নেলি ও তারপর বেশ কয়েক বছরের যে হিংসালীলা অতীতের অবাঞ্ছিত ঘটনা বলে ধীরে ধীরে ইতিহাসের পাতায় স্থান নিচ্ছিল, সাড়ে তিন দশক বাদে ফের তাকেই যেন বর্তমান করে তোলার অপচেষ্টা শুরু হয়ে গিয়েছে। নেলির ঘুমন্ত দৈত্যকে ফের জাগিয়ে তোলা হল গত বৃহস্পতিবার তিনসুকিয়ার খেরনিবাড়ি গ্রামে। অনেক প্রাণ, অনেক ক্ষয়ক্ষতি, অনেক উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ, অনেক সুখের বলি ঘটেছিল নেলির দৈত্যের হাতে। খেরনিবাড়ির দৈত্যকে ঘুম পাড়াতে এবার আরও কত প্রাণের বলি, স্বপ্নের সমাধি ঘটাতে হবে কে জানে! নিজেদের ক্ষুদ্র স্বার্থপূরণের তাগিদে যারা হত্যালীলার কারিগরদের প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষে প্ররোচনা জোগাল ইতিহাসের কোন পাতায় কীসের অক্ষরে তাদের নাম লেখা হওয়া উচিত?
সর্দার বল্লভভাই প্যাটেল ভারতের রাজনৈতিক একতার অন্যতম কারিগর ছিলেন। দেশের বর্তমান ভৌগোলিক-রাজনৈতিক চেহারার অনেকটাই সম্ভব হয়েছে তাঁর ঐকান্তিক চেষ্টায়। অন্যদিকে, রাজ্য, ভাষা, ধর্ম, বর্ণ, সম্প্রদায় নির্বিশেষে সমগ্র ভারতবাসীর মননের ঐক্য রচনায় আজীবন সক্রিয় ছিলেন মহাত্মা গান্ধী থেকে শুরু করে পণ্ডিত জওহরলাল নেহরু। কয়েকদিন আগে নর্মদার তীরে সর্দার প্যাটেলের সুউচ্চ মূর্তি গড়ে আমরা বিশ্বকে তাক লাগিয়ে দিয়েছি। এবছর মহাত্মা গান্ধীর দেড়শোতম জন্মদিবস পালন শুরু করেছি। আবার, ক’দিন বাদেই ১৪ নভেম্বর আসছে। ওইদিন আমরা পণ্ডিত নেহরুর জন্মদিবস পালন করব। অথচ, এই গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় আবহে দাঁড়িয়ে কোন ভারতে দেখতে হচ্ছে আমাদের!
পয়লা নভেম্বর সন্ধ্যারাতে গ্রামের চায়ের দোকানের সামনে দাঁড়িয়ে গল্পগুজব করছিলেন বেশ কয়েকজন বাসিন্দা। জলপাই রঙা পোশাক পরা জনাকয়েক যুবক আগ্নেয়াস্ত্র দেখিয়ে সেখান থেকে পাঁচ-ছ’ জনকে খানিক দূরে একটি সেতুর কাছে নিয়ে গেল। সেখানে ওই হতভাগ্যদের সার দিয়ে দাঁড় করাল। তারপর সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যে গুলি চালিয়ে পাঁচ-পাঁচটি জলজ্যান্ত মানুষকে মুহূর্তের মধ্যে লাশ বানিয়ে দিল। এমন ঘটনার কথা আমরা কোথায় শুনেছি? পাকিস্তানে। আফগানিস্তানে। এমন নারকীয় কাণ্ড ঘটিয়েছিল কারা? এর উত্তরও আমাদের জানা। তালিবানরা।
অসমেও কি আমরা পাকিস্তান, আফগানিস্তানের ছায়া দেখতে পাচ্ছি!
এই ছায়া কি প্রলম্বিত করার চেষ্টা হচ্ছে গোটা ভারতজুড়ে? ভিন্ন নামে? ভিন্ন কায়দায়? ভিন্ন লক্ষ্যে?
এখনই সর্বশক্তি দিয়ে ঠেকাতে না নামলে আমাদের শেষ পর্যন্ত কোন ভারত দেখতে হতে পারে তা ভাবলেও আঁতকে উঠতে হয়।
06th  November, 2018
সোশ্যাল মিডিয়ার যুগে ভোট
শুভা দত্ত

 সপ্তদশ লোকসভা নির্বাচনে দু’টি দফার ভোটগ্রহণ ইতিমধ্যে সমাপ্ত। এই নির্বাচনে সাত দফায় ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন ৯০ কোটি মানুষ। এক্ষেত্রে একটি প্রাসঙ্গিক তথ্য হল, এখন দেশে ৫৬ কোটি মানুষ ইন্টারনেটের সঙ্গে যুক্ত। তাদের সিংহভাগ তরুণ-তরুণী। তারা নিয়মিত ফেসবুক, ট্যুইটার আর হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে খবর দেওয়া নেওয়া করে।
বিশদ

মোদিজি বনাম ইস্তাহার
পি চিদম্বরম

ভারতে প্রতিটি লোকসভার নির্বাচনই অনন‌্য, এমনকী যদি প্রধান দুই প্রতিপক্ষ পুরনোও থাকে। একটি কারণ হল, দুটি নির্বাচনের মাঝে প্রধান দুই প্রতিপক্ষ বাদে বাকি রাজনৈতিক দলগুলি তাদের অবস্থান বদলে ফেলে।
বিশদ

22nd  April, 2019
জনতার এখন একটাই জিজ্ঞাসা: এই
শান্তি শেষপর্যন্ত বজায় থাকবে তো?
শুভা দত্ত

 দ্বিতীয় দফাও শেষ। লোকসভা ভোটযুদ্ধের দ্বিতীয় পর্বও মোটের ওপর শান্তিতেই মিটল। গত বৃহস্পতিবার উত্তরবঙ্গের দার্জিলিং জলপাইগুড়ি ও রায়গঞ্জ—এই তিন আসনে ভোটের লড়াইতে একমাত্র ব্যতিক্রম হয়ে রইল উত্তর দিনাজপুরের চোপড়া! বাংলার ভোটে রক্তারক্তি, মারামারি, বোমাগুলি, খুনোখুনি কোনও নতুন কথা নয়।
বিশদ

21st  April, 2019
কংগ্রেস তো পরিবারকেন্দ্রিক দল, বাকিরা?
মৃণালকান্তি দাস

‘কংগ্রে একটি পরিবারকেন্দ্রিক দল। কংগ্রেসের বেশিরভাগ সভাপতিই নেহরু-গান্ধী পরিবার থেকে এসেছেন। এটা থেকেই বোঝা যায়, এই দলে গণতন্ত্র নেই, একটা বিশেষ পরিবারই এই দল চালায়। বছরের পর বছর ধরে এই পরিবার শুধু নিজেদের উন্নতির কথা ভেবেছে, দেশের উন্নতির কথা ভাবেনি।’
বিশদ

21st  April, 2019
প্রতিবেশীর চোখে ভারতের নির্বাচন
গৌরীশঙ্কর নাগ

বস্তুত আশ্চর্যজনক হলেও পাকিস্তানের তরফে ভারতের নির্বাচনকে সর্বদাই দেখা হয়েছে তাদের জাতীয় স্বার্থের নিরিখে, বিশেষত কাশ্মীরকে কেন্দ্র করে ঘুঁটি সাজানোর ‘গেম প্ল্যান’ হিসেবে। প্রসঙ্গত স্মরণীয়, ১৯৬২ সালের সীমান্ত-সংঘাতের পর থেকে কাশ্মীরের ৩৮,০০০ বর্গকিমি চীনের দখলে রয়েছে। তদুপরি ১৯৬৩ সালে চীনের সঙ্গে সীমান্ত-বোঝাপড়ার মাধ্যমে পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীরের ৫,১৮০ বর্গ কিমি চীনকে ছেড়ে দেয়। এখন ভারতের হাতে থাকা অবশিষ্টাংশও পাকিস্তান কব্জা করতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। তাই ভারতের লোকসভা নির্বাচন পাকিস্তানের কাছে মুসলিমপক্ষীয় বা মুসলিম-বিরোধী এমন অক্ষ গঠনের তাৎপর্যের নিরিখে নয়; পাকিস্তান এ ব্যাপারে অবহিত যে, ভারতে মুসলিম জনসংখ্যা ১৭.২২ কোটি (২০১১ সেনসাস অনুযায়ী)। সেক্ষেত্রে পাক হামলায় মুসলিম জনগোষ্ঠীর নিরাপত্তাও ক্ষুণ্ণ হতে পারে।
বিশদ

20th  April, 2019
তিনটি ক্ষেপণাস্ত্র ও
বিরোধীদের অনৈক্য
রঞ্জন সেন

এবারের ভোটে ফিরে এসেছে এক পুরনো বিতর্ক। তা হল কোনটা ঠিক—একদলীয় শাসন না বহুদলীয় সরকার? আমাদের দেশ দুরকম অভিজ্ঞতার মধ্যে দিয়েই গিয়েছে। দুরকম শাসনেরই স্বপক্ষে ও বিপক্ষে বলার মত নানা কথা আছে। তাই এককথায় এর উত্তর দেওয়া কঠিন। কারণ মানুষ দুরকম সরকারেরই ভালো-খারাপ দুটি দিকই দেখেছেন।
বিশদ

20th  April, 2019
মধ্যবিত্তের ভোটচর্চা 

সমৃদ্ধ দত্ত: ভোট নিয়ে সবথেকে বেশি গল্প কারা করে? মধ্যবিত্ত। ভোট নিয়ে সারাদিন বন্ধুবান্ধব আর পরিচিতদের সঙ্গে ঝগড়া কারা করে? মধ্যবিত্ত। যে নেতানেত্রীরা তাঁদের চেনেনই না, তাঁদের হয়ে জানপ্রাণ দিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ে ছোটবেলার বন্ধু কিংবা আত্মীয়স্বজন অথবা পরিচিত ফ্যামিলি ফ্রেণ্ডকে আক্রমণ করে কারা? মধ্যবিত্ত।  বিশদ

19th  April, 2019
কংগ্রেসের নির্বাচনী প্রচার নিয়ে কিছু সহজ প্রশ্ন
শুভময় মৈত্র

সপ্তদশ লোকসভা গঠনের লক্ষ্যে ভোটগ্রহণ শুরু হয়ে গেল ১১ এপ্রিল, বৃহস্পতিবার। সাত দফায় চলবে এই ভোট, ১৯ মে পর্যন্ত। তারপর ২৩ তারিখ ভোটফল। মোদি সরকার আবার ক্ষমতায় ফিরে আসবে কিনা সেটাই এবারের মূল প্রশ্ন। আপাতত বিভিন্ন সমীক্ষা যা খবর দিয়েছে তাতে সেই আশা একেবারে অলীক নয়।
বিশদ

18th  April, 2019
সেই প্রশ্নগুলির জবাব মিলছে না কেন?
মোশারফ হোসেন 

দেশজুড়ে রাজনীতির ময়দানে এই মুহূর্তে গনগনে আঁচ। রাজনীতির মাটি গরম। রাজনীতির বাতাস গরম। কারণ দেশে ভোট যে শুরু হয়ে গিয়েছে! ভোটগ্রহণ সব মিলিয়ে সম্পন্ন হবে সাত দফায়।  
বিশদ

16th  April, 2019
দুটি ইস্তাহারের গল্প
পি চিদম্বরম

গত ৮ এপ্রিল বিজেপির নির্বাচনী ইস্তাহার প্রকাশ হল কোনও প্রকার তূর্যনিনাদ ছাড়াই। বিজেপির পক্ষে এই যে নম্রতা একেবারে অস্বাভাবিক! বিজেপির নরম হওয়ার অনেক কারণ ছিল। 
বিশদ

15th  April, 2019
লোকসভা ২০১৯: বাংলার ভোটে
মমতাভক্তি ঠেকানো যাবে?
শুভা দত্ত

যুদ্ধ শুরু হয়ে গেল। ভোটযুদ্ধ ২০১৯। আগামী লোকসভার দখল কে নেবেন, আগামী পাঁচ বছর কার হাতে থাকবে দেশ-শাসনের ভার তার ফয়সালা হবে এই যুদ্ধের ময়দানে। গত বৃহস্পতিবার এ রাজ্যের সঙ্গে সারা দেশে শুরু হয়ে গেল সেই যুদ্ধ।
বিশদ

14th  April, 2019
দলগুলির ইস্তাহারে রাষ্ট্রের ক্রমবর্ধমান ভূমিকা
ভবিষ্যতে সংকট ডেকে আনবে না তো?
বিশ্বনাথ চক্রবর্তী

 ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজনৈতিক দলগুলি একের পর এক নির্বাচনী ইস্তাহার প্রকাশ করেছে। আমাদের রাজ্যে তৃণমূল, বামফ্রন্ট, বিজেপি এবং কংগ্রেস চতুর্মুখী লড়াইয়ে অবতীর্ণ হয়েছে। এই প্রেক্ষিতে চার শিবিরের প্রকাশিত নির্বাচনী ইস্তাহারগুলির তূলনামূলক পর্যালোচনা থেকে বেরিয়ে আসছে যে, প্রতিটি শিবিরই নাগরিকদের আরও বেশি করে রাষ্ট্রমুখী করতে চাইছে।
বিশদ

14th  April, 2019
একনজরে
সংবাদদাতা, রামপুরহাট: সোমবার ভোরে সকলের নজর এড়িয়ে তারাপীঠে তারা মায়ের মন্দিরে পুজো দিলেন অভিনেতা মিঠুন চক্রবর্তী। সম্ভবত গুণগ্রাহীদের নজর এড়াতে টুপি পরে, চাদরে মুখ ...

 জিয়াং (চীন), ২২ এপ্রিল: এশিয়ান কুস্তি প্রতিযোগিতায় ভারতের প্রত্যাশা বেশি ওলিম্পিক ব্রোঞ্জ জয়ী সাক্ষী মালিক ও বিশ্বের একনম্বর বজরং পুনিয়াকে ঘিরে। মঙ্গলবার থেকে এই প্রতিযোগিতা ...

 ন্যাশনাল স্টক এক্সচেঞ্জে যেসব সংস্থার শেয়ার গতকাল লেনদেন হয়েছে শুধু সেগুলির বাজার বন্ধকালীন দরই নীচে দেওয়া হল। ...

নোৎরদমের ওয়েবসাইট থেকে জানা গিয়েছে, প্রায় ৫২ একরের ওক গাছের জঙ্গল কেটে সাফ করে বানানো হয়েছিল এই গির্জা। অন্দরসজ্জার মূল কাঠামো তৈরি করতে লেগেছিল অন্তত ...




আজকের দিনটি কিংবদন্তি গৌতম
৯১৬৩৪৯২৬২৫ / ৯৮৩০৭৬৩৮৭৩

ভাগ্য+চেষ্টা= ফল
  • aries
  • taurus
  • gemini
  • cancer
  • leo
  • virgo
  • libra
  • scorpio
  • sagittorius
  • capricorn
  • aquarius
  • pisces
aries

উপার্জন বেশ ভালো হলেও ব্যয়বৃদ্ধি পাওয়ার কারণে সঞ্চয় তেমন একটা হবে না। শরীর খুব একটা ... বিশদ


ইতিহাসে আজকের দিন

বিশ্ব বই দিবস
১৬১৬ -ইংরেজী সাহিত্য তথা বিশ্বসাহিত্যের প্রথম সারির নাট্যকার ও সাহিত্যিক উইলিয়াম শেক্সপীয়রের জন্ম
১৯৪১ - বিশ্বের প্রথম ই-মেইল প্রবর্তনকারী রে টমলিনসনের জন্ম
১৯৬৯: অভিনেতা মনোজ বাজপেয়ির জন্ম
১৯৯২: সত্যজিৎ রায়ের মৃত্যু

ক্রয়মূল্য বিক্রয়মূল্য
ডলার ৬৮.৯৫ টাকা ৭০.৬৪ টাকা
পাউন্ড ৮৯.০৮ টাকা ৯২.৩৬ টাকা
ইউরো ৭৬.৯৮ টাকা ৭৯.৯৩ টাকা
[ স্টেট ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়া থেকে পাওয়া দর ]
পাকা সোনা (১০ গ্রাম) ৩২,১০৫ টাকা
গহনা সোনা (১০ (গ্রাম) ৩০,৪৬০ টাকা
হলমার্ক গহনা (২২ ক্যারেট ১০ গ্রাম) ৩০,৯১৫ টাকা
রূপার বাট (প্রতি কেজি) ৩৭,৬০০ টাকা
রূপা খুচরো (প্রতি কেজি) ৩৭,৭০০ টাকা
[ মূল্যযুক্ত ৩% জি. এস. টি আলাদা ]

দিন পঞ্জিকা

৯ বৈশাখ ১৪২৬, ২৩ এপ্রিল ২০১৯, মঙ্গলবার, চতুর্থী ১৪/৩৫ দিবা ১১/৪। জ্যেষ্ঠা ৩০/৫ অপঃ ৫/১৬। সূ উ ৫/১৪/২০, অ ৫/৫৫/৫৪, অমৃতযোগ দিবা ৭/৪৫ গতে ১০/১৮ মধ্যে পুনঃ ১২/৫১ গতে ২/৩২ মধ্যে পুনঃ ৩/২৩ গতে ৫/৫ মধ্যে। রাত্রি ৬/৪১ মধ্যে পুনঃ ৮/৫৬ গতে ১১/১২ মধ্যে পুনঃ ১/২৭ গতে ২/৭ মধ্যে, বারবেলা ৬/৪৯ গতে ৮/২৪ মধ্যে পুনঃ ১/১০ গতে ২/৪৫ মধ্যে, কালরাত্রি ৭/২০ গতে ৮/৪৫ মধ্যে।
৯ বৈশাখ ১৪২৬, ২৩ এপ্রিল ২০১৯, মঙ্গলবার, চতুর্থী ২০/১৭/২৩ দিবা ১/২১/৪৫। জ্যেষ্ঠানক্ষত্র ৩৫/৫৫/৫৪ রাত্রি ৭/৩৭/১০, সূ উ ৫/১৪/৪৮, অ ৫/৫৭/১২, অমৃতযোগ দিবা ৭/৪০ গতে ১০/১৫ মধ্যে ও ১২/৫১ গতে ২/৩৫ মধ্যে ও ৩/২৭ গতে ৫/১১ মধ্যে এবং রাত্রি ৬/৪৭ মধ্যে ও ৯/০ গতে ১১/১১ মধ্যে ও ১/২৩ গতে ২/৫১ মধ্যে, বারবেলা ৬/৫০/৬ গতে ৮/২৫/২৪ মধ্যে, কালবেলা ১/১১/১৮ গতে ২/৪৬/৩৬ মধ্যে, কালরাত্রি ৭/২১/৫৪ গতে ৮/৪৬/৩৬ মধ্যে।
১৭ শাবান

ছবি সংবাদ

এই মুহূর্তে
আইপিএল: সিএসকের সামনে ১৭৬ রানের টার্গেট খাড়া করল সানরাইজার্স হায়দরাবাদ  

09:37:59 PM

 আইপিএল: হায়দরাবাদ ৯১/১ (১০ ওভার)

08:50:51 PM

গুরদাসপুরে সানি দেওলকে প্রার্থী করল বিজেপি 

08:08:03 PM

টসে জিতে সানরাইজার্স হায়দরাবাদকে ব্যাট করতে পাঠাল সিএসকে 

07:36:29 PM

বিধানসভা উপনির্বাচন: দার্জিলিংয়ে গোর্খা জনমুক্তি মোর্চার প্রার্থী বিনয় তামাং 

06:06:23 PM

মনোনয়ন জমা দিলেন পূর্ব দিল্লি কেন্দ্রের বিজেপি প্রার্থী গৌতম গম্ভীর 

06:03:24 PM