বিশেষ নিবন্ধ
 

অসম ফের ভাবাচ্ছে, শেষ
পর্যন্ত কোন ভারত দেখতে হবে!
মোশারফ হোসেন

বছর কুড়ি-একুশ আগের কথা। গুয়াহাটিতে একদিন একটি মাঝারি মানের রেস্টুরেন্টে প্রাতঃরাশ সারছিলাম। সম্ভবত খানিকটা বেলা হয়ে যাওয়ায় রেস্টুরেন্টে ভিড় নেই। পাশের টেবিলে চার ভদ্রলোক খাওয়া দাওয়া করতে করতে নিজেদের মধ্যে অনুচ্চ স্বরে কথাবার্তা বলছিলেন। হঠাৎই কানে পড়ল বেশ কয়েকটি বাংলা শব্দবন্ধ। তখন বয়স অনেক কম। কৌতূহল বেশি। আবেগও। সাংবাদিকতার কাজে বিভিন্ন রাজ্যে ঘুরতে হয়। বিহার, ওড়িশা, উত্তরপ্রদেশ, মহারাষ্ট্র, কাশ্মীর, কর্ণাটক- যেখানেই যাই না কেন, বাঙালির সঙ্গে দেখা হলে ভালো লাগে। মাতৃভাষায় খানিক গল্পগুজব করতে পারলে প্রাণের আরাম বোধ হয়। ওখানে ওই বাঙালিরা কেমন আছেন জানার চেষ্টা করে নিজেকে সমৃদ্ধ করি। নতুন নতুন তথ্য পাই। নানারকম অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হই। কখনও কখনও মজার অভিজ্ঞতাও হয়। ভালোই লাগে। এর আগে উত্তরপ্রদেশের কানপুরে একবার এক হোটেল মালিকের পদবি চ্যাটার্জি শুনে পরম আনন্দে বাংলায় ভাব জমাতে গিয়ে জোর ধাক্কা খেয়েছিলাম। জেনেছিলাম, ওই ভদ্রলোকরা বেশ কয়েকপুরুষ কানপুরের বাসিন্দা। ওঁদের যে পুর্বপুরুষ বাংলা থেকে গিয়েছিলেন, তিনি ওখানকার স্থানীয় এক মহিলাকে বিয়ে করেন। পরবর্তী প্রজন্মগুলির সমস্ত বধূও খাস উত্তরপ্রদেশীয়। কেবল পদবিটুকু ছাড়া ওই পরিবারের সমস্তকিছুই ওই রাজ্যের আর পাঁচজনের মতো। রীতি, আচার, পুজোআচ্চা সবই। এমনকী পরিবারের লোকজনের মধ্যে শেষ কবে বাংলা ভাষায় কথাবার্তা হয়েছে তা ওই মধ্যবয়সি ভদ্রলোকেরও জানা নেই। আবার, ওই রাজ্যেরই আলিগড়ে এক প্রবাসী বাঙালি অধ্যাপক পরিচয় পেয়ে বাড়িতে ‘দিওয়ালি’ মিলন উৎসবে আপ্যায়ণ করেছিলেন। ওই পরিবারে অবশ্য বাংলার চর্চা ভালোই দেখেছিলাম। ভিনরাজ্যে কোথাও বাংলা ভাষা বা বাঙালির দেখা পেলে সম্ভবত খানিক আশ্বস্তও হতাম। কারগিল যুদ্ধের সময় দ্রাসের যুদ্ধক্ষেত্রেই এক জওয়ানের সঙ্গে পরিচয় হয়েছিল। সীমান্তে পাক গোলন্দাজদের সঙ্গে ঘোর গোলাগুলি বিনিময়ের ফাঁকেই নদীয়ার ওই বঙ্গসন্তান বাঙ্কারের মধ্যে স্টোভে দুধ-চা বানিয়ে খাইয়েছিলেন। বেশ কয়েকদিন তৃষ্ণার্ত থাকা জিভটা চেনা ‘বাঙালি চা’য়ের ছোঁয়ায় বড় স্বস্তি পেয়েছিল।
আবার, পুরীতে বাংলায় কথাবার্তা বলার অভিজ্ঞতাকে ভরসা করে একবার ওড়িশার একটি প্রত্যন্ত এলাকায় ডাবের জলে তেষ্টা মেটানোর ইচ্ছেপূরণ করতে চেয়ে বেজায় সমস্যায় পড়েছিলাম। গ্রীষ্মের দুপুরে জোর তেষ্টা পেয়েছে। চায়ের দোকান টোকান থেকে জল খেতে ভয়। কে জানে পেট খারাপ করবে কি না! গ্রামীণ এলাকা। আশপাশে কোনও দোকানে বোতলবন্দি জলের দেখা পেলাম না। ভাবলাম, ডাবই খাই। কিন্তু কোথায় ডাব? ডাব, নারিয়েল, গ্রিন কোকোনাট—কোনও শব্দ দিয়েই তো আমি আমার চাহিদার কথা বোঝাতে পারছি না! বাংলা তো নয়ই, আমার হিন্দিও কেউ বুঝছে না। এদিকে, তেষ্টায় গলা পর্যন্ত কাঠ হওয়ার জোগাড়। একটি ছোটখাটো ধাবার মতো জায়গায় গিয়ে শেষ চেষ্টা করে বিফল হলাম। তখন মুখ থেকে স্বগতোক্তির মতো বেরিয়ে গেল, মহা মুশকিলে পড়া গেল তো! কোথাও একটা ডাবও পাচ্ছি না!
ধাবার এককোণে বসে চা খাচ্ছিলেন সাধারণ চেহারার একটি লোক। আমার কথাটা সম্ভবত তাঁর কানে গিয়েছিল। উনি উঠে দাঁড়িয়ে বাংলায় বললেন, আপনি ডাব খুঁজছেন? এখানেই পাবেন। সত্যিই ধাবার ভিতরের দিক থেকে ডাব এল। তেষ্টা মেটানোর পর কৃতজ্ঞ চোখে ভদ্রলোকের দিকে তাকালাম। উনি বললেন, আসলে এই অঞ্চলের এইসব লোকজন হিন্দি বা ইংরেজি তেমন বোঝে না বললেই চলে। ওড়িয়ায় ডাবের জলকে ‘ফয়ডা পানি’ বলে। তা বলতেই মিলে গেল। শুনলাম আমার মুশকিল আসান ভদ্রলোক আসলে সবংয়ের মানুষ। মাদুর বেচতে উনি প্রতি বছরই ওড়িশার গ্রামেগঞ্জে ঘোরেন। সেবারও একই কাজে গিয়েছিলেন। কর্ণাটকে গ্রামীণ সড়কের পাশে দেহাতি কলাবিক্রেতা তাঁর পণ্যের দাম জানিয়েছিলেন—ওয়ান রুপি ইচ। কিন্তু ওড়িশার এক দোকানি ‘গট্টা টঙ্কা’ চেয়ে আমায় বিপদে ফেলেছিলেন। গট্টা টঙ্কা মানে যে এক টাকা, তা বুঝতে আমার বেশ কয়েক মিনিট সময় লেগেছিল। ভিয়েতনামের সাইগন নদীর ওপর একটি প্রমোদতরণীতে বাঙালি পরিচয় পেয়ে আদতে কলকাতার বাসিন্দা হয়েও ওদেশে জমিয়ে ব্যবসা করা এক ভদ্রলোক খাতির করে আমায় গোবিন্দভোগ চালের পায়েস খাইয়েছিলেন।
যাইহোক, সেন্টিমেন্টের জেরেই বোধহয় গুয়াহাটিতে সেদিন প্রাতঃরাশ শেষ করে কাউন্টারে দাম মিটিয়ে আমি ওই টেবিলের সামনে গিয়ে দাঁড়ালাম। বললাম, আপনারা বাঙালি? একজন আমার দিকে তাকালেন। সন্দিগ্ধ দৃষ্টি। পাশের জন হিন্দিতে বলে উঠলেন, না, না। আমরা অসমিয়া। আমি অবাক। তাহলে যে একটু আগেই ওদের বাংলা কথাবার্তা শুনলাম! তাহলে ওই অসমিয়ারা কি বাংলায় গালগল্প করছিলেন! খানিক অপ্রস্তুত বোধ করে ওখান থেকে চলে এসেছিলাম। পরদিন এক সাংবাদিক বন্ধুর সঙ্গী হয়ে দিসপুরে গিয়েছিলাম। অসমের এক প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী গোলাপ বরবরার সঙ্গে আলাপ করতে। ততদিনে গোলাপবাবুর বয়স হয়েছে। দিসপুরে ছোট্ট একটা ফ্ল্যাটে থাকেন। কথা বলতে পারেন ঝরঝরে বাংলায়। আসলে ছাত্রজীবনের অনেকটাই কাটিয়েছেন কলকাতায়। আমাদের শহর সম্পর্কে যথেষ্টই ওয়াকিবহাল।
কথাবার্তার মধ্যেই আগের দিনের গুয়াহাটির রেস্টুরেন্টের প্রসঙ্গটি তুললাম। প্রবীণ ওই রাজনীতিবিদ মন দিয়ে সবটা শুনলেন। তারপর বললেন, আসলে ওরা ভয় পাচ্ছিলেন। আপনি অচেনা মানুষ তো! তাই। বলেছিলেন, তিরাশির নেলিকাণ্ডের পর অসমের বাঙালিরা নিজেদের অনেকটাই বদলে নিয়েছেন। অনেকেই নিজেদের আইডেনটিটি প্রকাশ করতেও সঙ্কোচবোধ করেন।
গোলাপবাবুর কথা শুনতেই শুনতেই নেলি হত্যাকাণ্ড ও তার পরবর্তী কিছু ঘটনার কথা মনে পড়ছিল। অবশ্য সবই খবরের কাগজের সূত্রে জানা। ১৯৮৩ সালে উগ্র অসমিয়ারা একের পর এক বাঙালি অধ্যুষিত গ্রাম জ্বালিয়ে ছারখার করে দিয়েছিল। বহু বাঙালিকে নির্মমভাবে হত্যা করেছিল। অসমে ওই বাঙালি নিধন যজ্ঞ ও তার জের চলেছিল আরও বেশ কিছু বছর ধরে। পরিস্থিতি এমন দাঁড়িয়েছিল যাতে লক্ষ লক্ষ বাঙালি পরবর্তী অর্থাৎ ১৯৯১ এর জনগণনায় অসমিয়াকে নিজেদের মাতৃভাষা বলে নথিভুক্ত করিয়েছিলেন। ওই উগ্র অসমিয় প্রাদেশিকতাকে পুঁজি করেই পরবর্তীকালে প্রফুল্ল মোহান্তরা ওই রাজ্যের ক্ষমতায় এসেছিলেন। গুয়াহাটির রেস্টুরেন্টের ঘটনাটির সময় প্রফুল্ল মোহান্তই অসমের মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন।
তারপর দেশজুড়ে অনেক বদবদল ঘটেছে। অসমেও তার ব্যতিক্রম ঘটেনি। কংগ্রেস ও অন্যান্য দলের সরকার ক্ষমতায় আসে। সরকার বদলানোর পর উগ্র প্রাদেশিকতার ভাবনা ধীরে ধীরে প্রশমিত হতে থাকে। পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে ওই রাজ্যে বসবাসকারী বাঙালিরাও সম্ভবত হারানো আস্থা ধীরে ধীরে ফিরে পাচ্ছিলেন। অস্তিত্বের অনিশ্চয়তাবোধ থেকে ক্রমশ মুক্তি ঘটছিল তাঁদের। ফলে, গ্রামে শহরে যে যার মতো দিন কাটানোর স্বপ্ন দেখছিলেন। তাঁদের মনোজগতের এই পরিবর্তনের বেশ খানিকটা প্রকাশ ঘটেছে ২০১১ সালের জনগণনার নথিপত্রে। ১৯৯১ সালের জনগণনার নথিতে বাংলা ভাষাভাষীর সংখ্যা প্রায় তলানিতে চলে গিয়েছিল। তারপর সর্বশেষ অর্থাৎ ২০১১-র জনগণনার তথ্যে দেখা যাচ্ছে ওই রাজ্যে বাংলাভাষী বাসিন্দার সংখ্যা আগেরবারের তুলানায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। মোট জনসংখ্যার প্রায় ২৯ শতাংশই বাংলাভাষী বলে নথিভুক্ত হয়েছে।
কিন্তু সম্প্রতি তথাকথিত জাতীয় নাগরিক পঞ্জি নিয়ে ব্যাপক তৎপরতার সূচনা থেকে অসমে পরিস্থিতি ফের দ্রুত বদলাতে শুরু করেছে। নাগরিকপঞ্জির খসড়া তালিকা প্রকাশের পর ফের ওই রাজ্যে বসবাসকারী বিপুল সংখ্যক বাংলাভাষী মানুষ ঘোরতর আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। ইতিমধ্যেই তথাকথিত ডি অর্থাৎ ডাউটফুল ভোটার এবং কনসেনট্রেশন ক্যাম্পের সুবাদে বহু পরিবারে ভাঙন ধরেছে। খসড়া তালিকা সেই ভাঙনকে প্রশস্ত করার পথ তৈরি করে দিয়েছে। রাজ্যে রাজ্যে বিজেপি’র নানা মাপের নেতারা নানা স্তোকবাক্যে বিষয়টি লঘু করার যতই চেষ্টা করুন না কেন, অসমে বসবাসকারী বাঙালিরা হাড়ে হাড়ে টের পাচ্ছেন পরিস্থিতি আসলে কতটা ভয়াবহ।
অনেকে বলছেন, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অনুসারেই অসমে নাগরিকপঞ্জি তৈরি হচ্ছে। ঠিকই। কিন্তু প্রশ্ন, সুপ্রিম কোর্ট কি স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে অসমে জাতীয় নাগরিক পঞ্জি তৈরির নির্দেশ দিয়েছিল? না কি কয়েক সপ্তাহ আগে নাগরিকত্ব সংশোধনী সংক্রান্ত সরকারি বিজ্ঞপ্তি জারি শীর্ষ আদালতের নির্দেশেই? পাঁচ রাজ্যে বিধানসভা ভোটের মুখে সম্ভবত রাজনৈতিক ফয়দা তুলতেই নাগরিকত্ব সংশোধনী সংক্রান্ত নির্দেশিকা জারি করা হল। আর, তাতেই অসমে নতুন করে তৈরি হওয়া আগুনে ঘি পড়ল। ১৯৮৩ –র নেলি ও তারপর বেশ কয়েক বছরের যে হিংসালীলা অতীতের অবাঞ্ছিত ঘটনা বলে ধীরে ধীরে ইতিহাসের পাতায় স্থান নিচ্ছিল, সাড়ে তিন দশক বাদে ফের তাকেই যেন বর্তমান করে তোলার অপচেষ্টা শুরু হয়ে গিয়েছে। নেলির ঘুমন্ত দৈত্যকে ফের জাগিয়ে তোলা হল গত বৃহস্পতিবার তিনসুকিয়ার খেরনিবাড়ি গ্রামে। অনেক প্রাণ, অনেক ক্ষয়ক্ষতি, অনেক উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ, অনেক সুখের বলি ঘটেছিল নেলির দৈত্যের হাতে। খেরনিবাড়ির দৈত্যকে ঘুম পাড়াতে এবার আরও কত প্রাণের বলি, স্বপ্নের সমাধি ঘটাতে হবে কে জানে! নিজেদের ক্ষুদ্র স্বার্থপূরণের তাগিদে যারা হত্যালীলার কারিগরদের প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষে প্ররোচনা জোগাল ইতিহাসের কোন পাতায় কীসের অক্ষরে তাদের নাম লেখা হওয়া উচিত?
সর্দার বল্লভভাই প্যাটেল ভারতের রাজনৈতিক একতার অন্যতম কারিগর ছিলেন। দেশের বর্তমান ভৌগোলিক-রাজনৈতিক চেহারার অনেকটাই সম্ভব হয়েছে তাঁর ঐকান্তিক চেষ্টায়। অন্যদিকে, রাজ্য, ভাষা, ধর্ম, বর্ণ, সম্প্রদায় নির্বিশেষে সমগ্র ভারতবাসীর মননের ঐক্য রচনায় আজীবন সক্রিয় ছিলেন মহাত্মা গান্ধী থেকে শুরু করে পণ্ডিত জওহরলাল নেহরু। কয়েকদিন আগে নর্মদার তীরে সর্দার প্যাটেলের সুউচ্চ মূর্তি গড়ে আমরা বিশ্বকে তাক লাগিয়ে দিয়েছি। এবছর মহাত্মা গান্ধীর দেড়শোতম জন্মদিবস পালন শুরু করেছি। আবার, ক’দিন বাদেই ১৪ নভেম্বর আসছে। ওইদিন আমরা পণ্ডিত নেহরুর জন্মদিবস পালন করব। অথচ, এই গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় আবহে দাঁড়িয়ে কোন ভারতে দেখতে হচ্ছে আমাদের!
পয়লা নভেম্বর সন্ধ্যারাতে গ্রামের চায়ের দোকানের সামনে দাঁড়িয়ে গল্পগুজব করছিলেন বেশ কয়েকজন বাসিন্দা। জলপাই রঙা পোশাক পরা জনাকয়েক যুবক আগ্নেয়াস্ত্র দেখিয়ে সেখান থেকে পাঁচ-ছ’ জনকে খানিক দূরে একটি সেতুর কাছে নিয়ে গেল। সেখানে ওই হতভাগ্যদের সার দিয়ে দাঁড় করাল। তারপর সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যে গুলি চালিয়ে পাঁচ-পাঁচটি জলজ্যান্ত মানুষকে মুহূর্তের মধ্যে লাশ বানিয়ে দিল। এমন ঘটনার কথা আমরা কোথায় শুনেছি? পাকিস্তানে। আফগানিস্তানে। এমন নারকীয় কাণ্ড ঘটিয়েছিল কারা? এর উত্তরও আমাদের জানা। তালিবানরা।
অসমেও কি আমরা পাকিস্তান, আফগানিস্তানের ছায়া দেখতে পাচ্ছি!
এই ছায়া কি প্রলম্বিত করার চেষ্টা হচ্ছে গোটা ভারতজুড়ে? ভিন্ন নামে? ভিন্ন কায়দায়? ভিন্ন লক্ষ্যে?
এখনই সর্বশক্তি দিয়ে ঠেকাতে না নামলে আমাদের শেষ পর্যন্ত কোন ভারত দেখতে হতে পারে তা ভাবলেও আঁতকে উঠতে হয়।
06th  November, 2018
লোকসভা ভোটে কী হতে পারে
হিমাংশু সিংহ

 উৎসব মরসুম কাটতে না কাটতেই দেশজুড়ে রাজনৈতিক উত্তাপ দ্রুত বেগে চড়তে শুরু করেছে এবং সেই সঙ্গেই আগামী বছরে কেন্দ্রের ‘কোয়ালিশন’ সরকারের আসল চেহারাটা কী হবে তা নিয়ে হিসেব-নিকেশ শুরু হয়ে গিয়েছে জোর কদমে। একদিকে পাঁচ রাজ্যের ভোট এবং তার ফল ঘিরে নানাবিধ জল্পনা বাড়ছে।
বিশদ

পাওনা-দেনা হিসেব করার দিন 

পি চিদম্বরম: একজন তাঁর লেখায় যথার্থ বলেছেন যে, একটা তিনপেয়ে দৌড় প্রতিযোগিতায় সরকার ও কেন্দ্রীয় ব‌্যাঙ্কের একটা টিম; তারা হয় একসঙ্গে দৌড়বে অথবা মুখ থুবড়ে পড়ে যাবে। বিশদ

19th  November, 2018
বিজেপি’র রথযাত্রা: ভোটের মুখে রাজ্যে অশান্তি ছড়িয়ে লাভ হবে?
শুভা দত্ত

ভোটের দামামা বেজে গেছে। ২০১৯ লোকসভা জয়ের লক্ষ্যে শাসক-বিরোধী দুই শিবিরেই প্রস্তুতি শুরু হয়ে গেছে। দেশের শাসক বিজেপি, বিরোধী কংগ্রেস তো আছেই। তার পাশাপাশি মোদিজির দলের ভাবনা বাড়িয়ে এ রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে ফেডারেল ফ্রন্টও ক্রমশ ক্রমশ দানা বাঁধছে।
বিশদ

18th  November, 2018
আমেরিকায় মিড টার্ম ইলেকশনের ফলাফল প্রসঙ্গে কিছু কথা
আলোলিকা মুখোপাধ্যায়

গত ৬ নভেম্বর মঙ্গলবার নিউজার্সির বাঙালিরা সকাল/বিকেল সাজ বদল করে একবার গেছে ভোট দিতে। একবার গেছে কালীপুজোয়। ধর্ম ও জিরাফে সমান আনুগত্য। এ বছর মিড টার্ম ইলেকশনের প্রায় তিন মাস আগে থেকে শুধুই ভোটের তাগাদা। যখন-তখন বাড়িতে ফোন আসছিল। সামনের দরজায় টুংটাং ডোর-বেল। ডাক-বাক্সে ঘনঘন ক্যাম্পেনের চিঠি।
বিশদ

17th  November, 2018
Loading...
ভোটের আগেই পিছিয়ে পড়েছে খালেদার বিএনপি
মৃণালকান্তি দাস

হাসিনার এই সৌহার্দের রাজনীতিতে পায়ের তলা থেকে মাটি সরেছে জেলবন্দি খালেদা জিয়ার! বাংলাদেশের সাধারণ নির্বাচন যত এগিয়ে আসছে, ততই তা আরও স্পষ্ট হচ্ছে। অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় খালেদা জিয়ার সাজা ৫ বছর বাড়িয়ে হাইকোর্ট যেদিন ১০ বছর করে রায় দিয়েছিল, সেদিনই বিএনপি সহ চারটি দলের সমন্বয়ে গঠিত জাতীয় ঐক্যফ্রন্টকে আলোচনার জন্য আমন্ত্রণ জানিয়ে নির্বাচনী সমীকরণকে তালগোল পাকিয়ে দিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
বিশদ

16th  November, 2018
ভোটের মুখে রাম নাম

 উপায় কী? বাঘা বাঘা ডাক্তারের জবরদস্ত সব মেডিসিন যখন ফেল পড়ে যায় তখন অসহায় আর কী করে! টোটকা তাগা-তাবিজ, জলপড়া-তেলপড়া, মানত, সিন্নি। আর তাতেও কাজ না হলে? শেষ ভরসা সেই তিনি—তাঁকে খোদা, ভগবান, খ্রিস্ট, ঈশ্বর, পির-পয়গম্বর সে যে নামেই ডাকো—তিনি ছাড়া গতি নেই। বিশদ

15th  November, 2018
Loading...
প্রবাসে রাষ্ট্রের দোষে
হারাধন চৌধুরী

ভারতবাসী এখনও ভাগ্যের ভরসায়। আর ভাগ্যের চাকা ঘোরাতে বিদেশের হাতছানি উপেক্ষা করার উপায় পাননি তাঁরা। প্রশ্নটা শিক্ষা কিংবা গবেষণায় প্রবেশের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলে এতটা উষ্মার হতো না।
বিশদ

13th  November, 2018
যারা পিছনে পড়ে আছে
পি চিদম্বরম

পৃথিবীর সবচেয়ে উঁচু স্ট‌্যাচুটা ভারতে। এটা ১৮২ মিটার উঁচু, ভাস্কর একজন ভারতীয় এবং চীনা নির্মাতা ও শ্রমিকদের সাহায‌্য নিয়ে মূর্তিটা খাড়া করা হয়েছে। খরচ হয়েছে তিন হাজার কোটি টাকা এবং, সাধারণ বিশ্বাস এই যে এই ধরনের প্রকল্প গড়ে ওঠে সরকারি তহবিলের অর্থে, এক্ষেত্রে প্রায় পুরো টাকাটাই নেওয়া হয়েছে কেন্দ্রীয় রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থাগুলো থেকে।
বিশদ

12th  November, 2018
পুজো শেষ, এবার ভোট
শুভা দত্ত

পুজোর মরশুম প্রায় শেষ। আগামী সপ্তাহে জগদ্ধাত্রী পুজো মিটলেই এবারের মতো বাঙালির শারদোৎসবে ইতি। আলোর রোশনাই বাজিপটকা চমৎকার সব প্যান্ডেল প্রতিমা আর পুজোর ছুটিতে কাছে দূরে বেড়িয়ে ফেরার স্মৃতি বুকে নিয়ে বাংলার মানুষ নেমে পড়বে কাজে।
বিশদ

11th  November, 2018
কলকাতাসহ বাংলায় দীর্ঘতর দুর্গাপুজোর সমাজনীতি, অর্থনীতি এবং রাজনীতি
শুভময় মৈত্র

বাম আমলেও কলকাতা এবং আশপাশে দুর্গাপুজোর মূল কর্মকর্তা ছিলেন কংগ্রেস বা তৃণমূলের নেতারা। সে চিত্র বদলায়নি। তবে পুজোর চরিত্রের যে মূল বদল হয়েছে তা হল সময়ের বিস্তার। মোটামুটিভাবে প্রথমা থেকে ত্রয়োদশী পর্যন্ত এখন দুর্গাপুজো। এতে রাজ্যের ক্ষমতাসীন দলের যে সায় আছে তা নিয়ে কোন সন্দেহের অবকাশ নেই।
বিশদ

10th  November, 2018
নোটবন্দির কেলেঙ্কারির পর এবার রিজার্ভ ব্যাঙ্ককে চাপ দিয়ে ৩.৬ লক্ষ কোটি টাকা পেতে চাইছে কেন্দ্র
ডঃ অমিত মিত্র (অর্থমন্ত্রী, পশ্চিমবঙ্গ সরকার)

আজ এক কালো দিন। দু’বছর আগে ২০১৬ সালের ৮ নভেম্বর আজকের দিনটিতেই নোটবন্দির সর্বগ্রাসী ও স্বেচ্ছাচারী নীতি চাপিয়ে দিয়েছিল এনডিএ সরকার। আসমুদ্রহিমাচলের কোটি কোটি কৃষক, শিল্পোদ্যোগীর জীবন দুর্বিষহ হয়ে ওঠে। ছোট ব্যবসা ও ব্যবসায়ীদের জীবনে অন্ধকার নেমে আসে।
বিশদ

09th  November, 2018
৩০ বছর: পুরনো চিত্রনাট্যে নতুন রিমেকের লড়াই
সমৃদ্ধ দত্ত

আনন্দ ভার্মা ইউনিয়ন লিডার। শ্রমিকদের প্রাপ্য এবং স্বার্থ সুরক্ষায় তিনি শেষ পর্যন্ত লড়াই করে যান। তাই শ্রমিকমহলে তিনি জনপ্রিয়ও বটে। স্ত্রী সুমিত্রা দেবী এবং দুই পুত্র বিজয় ভার্মা ও রবি ভার্মাকে নিয়ে সুখের সংসার। কিন্তু সেই সুখের জীবনে নেমে এসেছিল অন্ধকার।
বিশদ

09th  November, 2018
Loading...
একনজরে
 নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: পার্শ্বশিক্ষকদের সভাকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ছড়াল ধর্মতলায়। বিভিন্ন দাবি-দাওয়া নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করতে চেয়েছিলেন এই শিক্ষকরা। পুলিস সেই অনুমতি না দেওয়ায় তাদের সঙ্গে শিক্ষকদের ধস্তাধস্তি হয়। আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, পুলিস গ্রেপ্তারির নামে মারধর করেছে। কয়েকজন আহতও হয়েছেন। ...

 নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: খাদ্যদ্রব্য যাতে কোনওভাবেই স্বাস্থ্যের ক্ষতি না করতে পারে, তার জন্য কেন্দ্রীয় সরকার পাশ করেছে খাদ্য সুরক্ষা আইন। বছরকয়েক আগে সেই আইনের কিছু পরিমার্জনাও হয়েছে। আইনের খুঁটিনাটি বিষয়ে বিভিন্ন মহলের সঙ্গে পরামর্শ করেই আইন পাশ করা হয়েছে। ...

সংবাদদাতা, কালনা: ক্যারাটের ওয়ার্ল্ড চ্যাম্পিয়নশিপে রুপোর পদক পেলেন পূর্বস্থলীর কলেজছাত্রী পামোলিকা দত্ত। পূর্বস্থলীর আরএক স্কুল পড়ুয়া নূপুর সরকার সদ্য বাংলাদেশে আয়োজিত এশিয়া ক্যারাটে প্রতিযোগিতায় ব্রোঞ্চ ...

সংবাদদাতা, মালবাজার: একটি বিয়ে বাড়ির আশীর্বাদ অনুষ্ঠানে দাঁতাল হাতির তাণ্ডবে এক মহিলার মৃত্যু হয়েছে এবং চার জন জখম হয়েছেন। পাশাপাশি একটি বাড়িও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। রবিবার সন্ধ্যায় ঘটনাটি ঘটেছে মেটেলি ব্লকের বিধাননগর গ্রাম পঞ্চায়েতের বর্মাধুরায়। ...


Loading...

আজকের দিনটি কিংবদন্তি গৌতম
৯১৬৩৪৯২৬২৫ / ৯৮৩০৭৬৩৮৭৩

ভাগ্য+চেষ্টা= ফল
  • aries
  • taurus
  • gemini
  • cancer
  • leo
  • virgo
  • libra
  • scorpio
  • sagittorius
  • capricorn
  • aquarius
  • pisces
aries

নতুন কোনও কর্মপরিকল্পনায় সাফল্যের ইঙ্গিত। সম্পত্তি সংস্কার ঘিরে স্বজন বিরোধ। বক্ষঃপীড়ায় কষ্ট। দূর ভ্রমণের যোগ। ... বিশদ


ইতিহাসে আজকের দিন

১৭৫০- মহীশূরের শাসক টিপু সুলতানের জন্ম
১৯১০- রুশ সাহিত্যিক লিও তলস্তয়ের মৃত্যু
১৯১৭- কলকাতায় প্রতিষ্ঠা হল বোস রিসার্চ ইনস্টিটিউট
১৯৫৫- নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে ভারতের পক্ষে টেস্টে প্রথম দ্বিশতরান করলেন পলি উমরিগড়

ক্রয়মূল্য বিক্রয়মূল্য
ডলার ৭১.১৪ টাকা ৭২.৮৫ টাকা
পাউন্ড ৯০.৭০ টাকা ৯৩.৯৮ টাকা
ইউরো ৮০.৫৭ টাকা ৮৩.৬০ টাকা
[ স্টেট ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়া থেকে পাওয়া দর ]
পাকা সোনা (১০ গ্রাম) ৩১,৪৬৫ টাকা
গহনা সোনা (১০ (গ্রাম) ২৯,৮৫০ টাকা
হলমার্ক গহনা (২২ ক্যারেট ১০ গ্রাম) ৩০,৩০০ টাকা
রূপার বাট (প্রতি কেজি) ৩৭,২০০ টাকা
রূপা খুচরো (প্রতি কেজি) ৩৭,৩০০ টাকা
[ মূল্যযুক্ত ৩% জি. এস. টি আলাদা ]

দিন পঞ্জিকা

 ৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৫, ২০ নভেম্বর ২০১৮, মঙ্গলবার, দ্বাদশী ২১/৫০ দিবা ঘ ২/৪০। নক্ষত্র- রেবতী ৩১/৩৪ রাত্রি ঘ ৬/৩৪, সূ উ ৫/৫৬/১৩, অ ৪/৪৮/৭, অমৃতযোগ দিবা ঘ ৬/৪০ মধ্যে পুনঃ ৭/২৩ গতে ১১/০ মধ্যে। রাত্রি ৭/২৬ গতে ৮/১৯ মধ্যে পুনঃ ৯/১১ গতে ১১/৪৯ মধ্যে পুনঃ ১/৩৪ গতে ৩/১৯ মধ্যে পুনঃ ৫/৫ গতে উদয়াবধি। বারবেলা ঘ ৭/১৮ গতে ৮/৪০ মধ্যে পুনঃ ১২/৪৪ গতে ২/৫ মধ্যে, কালরাত্রি ঘ ৬/২৭ গতে ৮/৫ মধ্যে।
৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৫, ২০ নভেম্বর ২০১৮, মঙ্গলবার, দ্বাদশী ১২/৩৫/৪৬। রেবতীনক্ষত্র রাত্রি ঘ ৫/৩৭/১১। সূ উ ৫/৫৬/৫৮, অ ৪/৪৬/৫৮, অমৃতযোগ দিবা ঘ ৬/৪০/১৮ মধ্যে ও ঘ ৭/২৩/৩৯ থেকে ঘ ১১/০/১৮ মধ্যে এবং রাত্রি ৭/২৪/৫৮ থেকে ঘ ৮/১৭/৩৮ মধ্যে ও ঘ ৯/১০/১৮ থেকে ১১/৪৮/১৮ মধ্যে ও ১/৩৩/৩৮ থেকে ৩/১৮/৫৮ মধ্যে ও ঘ ৫/৪/১৮ থেকে ৫/৪৭/৪৫ মধ্যে। বারবেলা ৭/১৮/১৩ থেকে ৮/৩৯/২৮ মধ্যে, কালবেলা ১২/৪৩/১৩ থেকে ঘ ২/৪/২৮ মধ্যে, কালরাত্রি ৬/২৫/৪৩ থেকে ঘ ৮/৪/২৮ মধ্যে।
 

ছবি সংবাদ

এই মুহূর্তে
শহর নোংরা করা রুখতে কমিটি গঠন 
শহর নোংরা করা রুখতে কমিটি গঠন করল রাজ্য সরকার। এদিন ...বিশদ

04:46:38 PM

দুপুর ৩টে পর্যন্ত ছত্তিশগড়ে ভোট পড়ল ৪৪.২০ শতাংশ

04:06:26 PM

আইলিগে মোহন বাগান ১:০ গোলে হারাল রিয়েল কাশ্মীর এফসিকে 

03:58:28 PM

৩০০ পয়েন্ট পড়ল সেনসেক্স 

03:53:00 PM

দিল্লিতে সরকারি অফিসেই মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়ালকে লক্ষ্য করে ছোঁড়া হল গুঁড়োলঙ্কা

03:45:16 PM

চিৎপুরের নবাব পট্টিতে একটি দোকানে আগুন
চিৎপুরের নবাব পট্টিতে একটি দোকানে আগুন। অকুস্থলে দমকলের ৪টি ইঞ্জিন ...বিশদ

03:14:00 PM

Loading...
Loading...