Bartaman Patrika
বিশেষ নিবন্ধ
 

ন্যানো, একটি স্বপ্নের অকাল মৃত্যু
মৃণালকান্তি দাস

ভক্সওয়াগেন বিটল। যে বছর ভারতে ন্যানোর আবির্ভাব, তার ঠিক ৭০ বছর আগে বাজারে এসেছিল এই ‘পিপলস কার’। গোটা জার্মানি জুড়ে শুধু রোড নেটওয়ার্ক বাড়ানোই নয়, দেশের মানুষকে সস্তায় গাড়ি চড়ানোর স্বপ্ন দেখিয়েছিলেন অ্যাডলফ হিটলার। কে না জানে, ভক্সওয়াগেন মানেই তো ‘জনতার গাড়ি’।
হিটলারের ভাবনাকে বাস্তব রূপ দিতে ফার্দিনান্দ পোর্শের নেতৃত্বে উঠে পড়ে লেগেছিল একটি দল। পতঙ্গের শারীরিক গঠন থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে একটি নতুন গাড়ির নকশা তৈরি করেন তাঁরা। ১৯৩৮ সালে জন্ম হয় হিটলার ও পোর্শের মস্তিষ্কপ্রসূত গাড়ি ‘বিটল’-এর। পরবর্তী সময়ে বিটল কোনও একক প্ল্যাটফর্মে সবচেয়ে বেশি সময় ধরে এবং সবচেয়ে বেশি পরিমাণে উৎপাদিত গাড়ির বিরল সুনাম অর্জন করে। ২০০৩ সাল পর্যন্ত সারা বিশ্বে ওই মডেলের গাড়ি বিক্রির পরিমাণ ছিল ২ কোটি ১৫ লক্ষেরও বেশি। সস্তার এই ছোট্ট গাড়ি দেখে একসময় অনেক দুঁদে শিল্পপতি এর টিকে থাকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন। তাঁরা বোধহয় কল্পনাও করতে পারেননি, আট দশক টিকে থাকবে ভক্সওয়াগেন বিটল। অথচ, এক দশক যেতে না যেতেই ভারতীয়দের স্বপ্নের একলাখি গাড়ি ন্যানো আজ ইতিহাসের দোরগোড়ায়। ২০২০ সালের এপ্রিল থেকে ন্যানো তৈরি ও বিক্রি বন্ধের ইঙ্গিত দিয়েছেন খোদ টাটা মোটরসের যাত্রীবাহী গাড়ি বিভাগের প্রেসিডেন্ট মায়াঙ্ক পারিখ। শেষ পর্যন্ত তা ঘটলে বাজারে আসার এক দশক পরে দাঁড়ি পড়বে রতন টাটার স্বপ্নের ‘এক লক্ষ’ টাকার গাড়ি প্রকল্পে।
বৃষ্টিতে দু’চাকায় সওয়ার কাকভেজা এক পরিবারকে দেখেই না কি একলাখি গাড়ি তৈরির কথা ভেবেছিলেন টাটা গোষ্ঠীর প্রাক্তন কর্ণধার রতন টাটা। যাতে তা অনেক সাধারণ মানুষের সাধ্যের মধ্যে আসে। ধুলোবালি, জলকাদা এড়িয়ে মধ্যবিত্ত ভারতীয় গাড়িতে চড়ে ঘুরবে। বিপদকে সঙ্গী করে চার সদস্যের পরিবারটাকে আর বাইকে চাপতে হবে না। মাত্র এক লাখ টাকাতেই মিটবে নিজের গাড়ির সাধ। রতন টাটা নিজে এই স্বপ্নে বিশ্বাস করতেন। ২০০৮ সালের আর্থিক মন্দার মধ্যে, সিঁদুরে মেঘ দেখা দেশের মধ্যবিত্ত পরিবারগুলোকেও এই স্বপ্ন দেখাতে চেয়েছিলেন।
জন্মলগ্ন থেকে তৈরি হয়েছিল বিতর্ক। রাজনৈতিক গোলমালে কারখানা সরাতে হয়েছে অন্য রাজ্যে। বাজারে আসার পরে ক্রমাগত কমেছে বিক্রিও। গত কয়েক বছরে প্রতিযোগিতার মুখে তেমন কল্কেও পায়নি এই গাড়ি। আর এবার নীরবতা পালনের সময়। এই লেখার জন্যে কলমের ডগা যখন কাগজ ছুঁয়ে এগতে চাইছে, তখন অন্তিম যাত্রার পথে পৃথিবীর সবচেয়ে সস্তার গাড়ি, ভারতীয়দের সাধের ন্যানো। আত্মপ্রকাশের এক দশক পূরণ করতে না করতেই।
আমেদাবাদ ছাড়িয়ে ৩৫ কিলোমিটার এগতেই সানন্দ-ভিরামগাঁ সড়কের বাঁ দিকে আজও জ্বলজ্বল করে সাইনবোর্ড। দিক নির্দেশের তির চিহ্ন দিয়ে লেখা ‘ন্যানো প্ল্যান্ট’। যে কারখানা আজও একটি স্বপ্নের অকাল মৃত্যুর ইতিহাস বয়ে বেড়াচ্ছে। টাটা মোটরসের শীর্ষকর্তা মায়াঙ্ক পারিখ জানিয়ে দিয়েছেন, জানুয়ারিতে নতুন নিরাপত্তা বিধি এসেছে। এপ্রিল ও অক্টোবরে আরও আসবে। ২০২০ সালের ১ এপ্রিল থেকে ভারত স্টেজ-৬ (বিএস-৬) দূষণ বিধি চালু হবে। সেগুলি মেনে সব গাড়িকে উন্নীত করার জন্য নতুন লগ্নি না-ও করতে পারে টাটা। ন্যানো তাদের মধ্যে অন্যতম। এর অর্থ একটাই, নিরঞ্জনের পথে রতন টাটার স্বপ্নের ন্যানোর ভবিষ্যৎ।
এক দশক আগের কথা। নয়াদিল্লির অটো এক্সপোতে জনসমক্ষে আনা হয়েছিল টাটা ন্যানো। স্টিল কালারের ছোট্ট গাড়িটায় সওয়ার স্বপ্নের কাণ্ডারী রতন টাটা নিজেই। টাটা গ্রুপের তৎকালীন চেয়ারম্যান। তাজ্জব বনে গিয়েছিল গোটা ভারত। সেদিন এক লক্ষ টাকায় বাজারে গাড়ি এনে অন্য সংস্থাগুলিকে চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলে দিয়েছিল ন্যানো। যে টাকায় সেকেন্ড হ্যান্ড গাড়ির কথা ভাবতে পারা যায় না সে টাকায় নতুন গাড়ি? পাল্লা দিয়ে বেড়েছিল উৎসাহ। টাটা মোটরস কর্তাদেরও অনুমান ছিল একলাখি ন্যানোর বার্ষিক বিক্রি সহজেই পৌঁছে যাবে ৫ লাখে। স্বপ্ন তো ছিল। কিন্তু স্বপ্নকে বাস্তবে পরিণত করার ভিতটাই ছিল নড়বড়ে।
শুরুতেই গোঁত্তা খায় সেই স্বপ্ন। এই সময়েই পশ্চিমবঙ্গে রাজনৈতিক পালাবদলের শুরু। ন্যানো নিয়ে কত ঢক্কানিনাদ। কত আলোচনা। কত পর্যালোচনা। কত আলোড়ন। একটা গাড়ি কারখানাকে নিয়ে রাজনৈতিক বাদানুবাদ শেষ অবধি পরিণত হয়েছিল রাজ্য রাজনীতির পালাবদলে। বামেদের গদি উল্টে দিয়েছিল টাটার কারখানা নিয়ে গড়িমসি-টালবাহানা।
বাংলার সমাজের সব স্তরে তখন স্পষ্ট মেরুকরণ। গ্রামের কৃষিনির্ভর মানুষ বলছে, শিল্পের জন্য চাষের জমি দেব না। শহুরে শিক্ষিত চাকরি প্রার্থীর বক্তব্য, শিল্প না হলে চাকরি হবে কী করে? হোক না সামান্য ক’টা চাকরি। কিন্তু তার সঙ্গে যে অনুসারী শিল্প তৈরি হবে, তার থেকে নতুন চাকরি তো হবে। সঙ্গে বদলে যাবে গোটা এলাকার অর্থনীতি। তৎকালীন বামফ্রন্ট সরকারের একটা সিদ্ধান্তে শান্ত সিঙ্গুর বদলে গিয়েছিল আন্দোলনের অগ্নিভূমিতে। তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের ভরসায় ২০০৬-এর মে মাসে সিঙ্গুরে ন্যানো কারখানা তৈরির কথা ঘোষণা করেছিলেন টাটা। শুরু হয়েছিল কৃষক আন্দোলনের অন্য আখ্যান। যাঁর নেতৃত্বে ছিলেন এক অগ্নিকন্যা। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। একদিকে দলের ‘শিল্পবিরোধী’ তকমা ঘোঁচাতে বদ্ধপরিকর বাম নেতারা তখন বলছেন, কারখানা হবেই। একলাখি গাড়ি কারখানা। বহুফসলি জমিতেই হবে। কেউ রুখতে পারবে না। এমনিতেই সরকারি কোষাগার ফাঁকা। রাজ্যের অর্থনৈতিক হাল ফেরাতে দরকার বড় শিল্প। সঙ্গে আছে ব্রিটিশ আমলের কৃষক-বিরোধী জমি অধিগ্রহণ আইন আর বিধানসভা ভোটে বিপুল জয়ের আত্মবিশ্বাস। অন্যদিকে সিঙ্গুরের অনিচ্ছুক কৃষকরা জানিয়ে দিয়েছিলেন, গায়ের জোরে বহুফসলি জমি অধিগ্রহণ তাঁরা মানবেন না। সিঙ্গুরের প্রতিবাদের মন বুঝতে দেরি করেননি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। পাশে দাঁড়িয়েছিলেন অনিচ্ছুক কৃষকদের। ধেয়ে এসেছিল সরকারের পুলিসবাহিনী। পিঠে হাড় গুঁড়িয়ে দেওয়া লাঠির বাড়ি। কাঁদানে গ্যাস। সিঙ্গুরের লড়াইয়ের বার্তা কলকাতা-সহ গোটা দেশ, বিশ্বের কাছে পৌঁছে দিয়েছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সিঙ্গুরের বিডিও অফিস থেকে তাঁকে টেনে-হিঁচড়ে বের করে দিয়েছিল প্রশাসন। ফিরে এসে মেয়ো রোডে অবস্থানে তিনি। আড়াই মাস পর জোর করে জমি নেওয়ার প্রতিবাদে ধর্মতলায় তাঁর ২৬ দিনের অনশন সিঙ্গুরের আন্দোলনে এঁকে দিয়েছিল ল্যান্ডমার্ক। কৃষি বনাম শিল্পের রাজ্য জুড়ে তরজায় থেমে রইলেন না টাটাও। সিঙ্গুরে জমি দিতে ইচ্ছুক চাষিদের মধ্যে থেকেই বেছে নিলেন তরুণদের। জোর কদমে শুরু হয়ে গেল তাঁদের প্রশিক্ষণ। স্বপ্ন একটাই। টাটার কারখানায় চাকরি
হবে তাঁদের।
২০০৭-এর গোড়ায় কারখানা তৈরির কাজ শুরু করল টাটা। কলকাতা হাইকোর্ট রায় দিল, সিঙ্গুরের জমি অধিগ্রহণে ভুল করেনি বাম সরকার। সোনার ফসল ফলানো মাটি আগলে রাখতে আরও কঠিন লড়াই। সেদিন অকুতোভয় আটপৌরে গ্রামবাসীদের পাশে দাঁড়িয়ে তাঁদের সাহস হারাতে দেননি মমতা। সিঙ্গুরের সানাপাড়ায় ধর্নায় বসলেন মমতা। ১৫ দিনের ধর্নায় অবরুদ্ধ দুর্গাপুর এক্সপ্রেসওয়ে। কাজ বন্ধ করে দিতে বাধ্য হল টাটারা। রাজভবনে তৎকালীন রাজ্যপাল গোপালকৃষ্ণ গান্ধীর মধ্যস্থতায় বুদ্ধদেব-মমতা মুখোমুখি হলেও ভেস্তে গেল আলোচনা। এরপর আরও আড়াই বছর ক্ষমতায় ছিল বামফ্রন্ট সরকার। যদিও, অনেকেই মনে করেন সিঙ্গুর-নন্দীগ্রামই ছিল তাদের ওয়াটারলু। বাকিটা ইতিহাস।
জমিরক্ষার আন্দোলন দানা পাকতেই ঢুকে পড়লেন জাতীয় রাজনীতির নেতারাও। পশ্চিমবঙ্গে সমস্যা? গুজরাতে এসো। সানন্দে এক টাকায় জমি দিচ্ছি। নিজের শিল্প বান্ধব ভাবমূর্তি আরও শক্তিশালী করতে এমনই বলেছিলেন তৎকালীন গুজরাতের মুখ্যমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। বাংলা ছেড়ে আসায় ‘‌উপহার’ হিসেবে টাটা গোষ্ঠীকে কারখানা গড়ার জন্য বিনামূল্যে কলানা, খোডা এবং বল গ্রামের ১১০০ একর জমি দিয়েছিলেন মোদি। তারজন্য রাতারাতি ‘‌সানন্দ রিসার্চ সেন্টার ফর এগ্রিকালচার'‌-‌কে আনন্দ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে যুক্ত করে সরিয়ে নিয়ে গিয়েছিলেন। কারখানা গড়ার সময়েই পশ্চিমবঙ্গের মতো এখানেও জমির মালিকদের অনেকে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিলেন। কিন্তু ওই জমি একশ বছর আগের চুক্তি অনুযায়ী সরকারের হাতে ছিল। ফলে জমির মালিকানা রাজ্যের। তাই কৃষকের আর্জি আদালতে ধোপে টেকেনি।
সিঙ্গুর থেকে গুজরাতের সানন্দে কারখানা সরানো-সহ নানা কারণে গাড়ির দাম আর এক লক্ষ টাকায় ধরে রাখতে পারেনি সংস্থা। কিন্তু টাটা মোটরস তথা রতন টাটা কিছুতেই প্রতিশ্রুতিভঙ্গ করতে চাননি। তাই জোর করেই এক লাখ টাকার কাছাকাছি মূল্যেই বাজারে আসে ন্যানো। আর স্বপ্ন ভাঙার বোধহয় সেটাই শুরু। বড় শহরে না হোক, ছোট টাউন কিংবা মফস্‌সলে তুলনামূলক ভালো বিক্রির সম্ভাবনা থাকলেও সংস্থার ডিলারশিপ নেটওয়ার্ক ভালো না হওয়ায় সেই সম্ভাবনাও ধাক্কা খায়। খোদ রতন টাটাও স্বীকার করেন, গাড়িটির বিপণন কৌশলের ব্যর্থতার কথা। তাঁর মতে, ন্যানো-কে ‘সস্তা’র বদলে ‘সাধ্যের মধ্যে থাকা’ গাড়ি হিসেবে তুলে ধরা উচিত ছিল। সস্তার গাড়ি হিসেবে পরিচিতির জন্য বাজারে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছিল। টাটার মতে, ‘মানুষ সস্তার গাড়িতে নিজেদের দেখতে চায়নি। আর সেটাই ছিল আমাদের সবচেয়ে বড় ভুল।’ গোটা প্রকল্পটি নিয়ে রতন টাটাকে বিঁধে প্রশ্ন তুলেছিলেন টাটা গোষ্ঠীর বরখাস্ত হওয়া চেয়ারম্যান সাইরাস মিস্ত্রিও। টাটা গোষ্ঠী থেকে বরখাস্ত হওয়া চেয়ারম্যান সাইরাস মিস্ত্রির অভিযোগ ছিল, প্রকল্পটি নিয়ে টাটার আবেগ এবং ওই গাড়ির যন্ত্রাংশ তৈরির সংস্থায় তাঁর অংশীদারির জন্যই ন্যানোর উৎপাদন বন্ধ করা যায়নি। যদিও সেই অভিযোগ অস্বীকার করেছিল টাটা মোটরস।
বছর পাঁচেকের মধ্যে যখন বার কয়েক গাড়িটির নতুন মডেল আনা হয়, ততদিনে যা ক্ষতি হওয়ার হয়ে গিয়েছে। একটা সময়ে আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা গাড়িটির জনপ্রিয়তা তখন তলানিতে। ২০১৮-র জুনে মাত্র একটা টাটা ন্যানো উৎপাদন হয়। বিক্রি হয় তিনটে(আগের উৎপাদন নিয়ে)। ২০১৭-র জুন থেকে রপ্তানির সংখ্যাটা এক ধাক্কায় নেমে আসে ২৭৫ থেকে শূন্যতে। বোঝাই যাচ্ছিল, চিরনিদ্রায় যাওয়ার সময় হয়ে এল টাটা ন্যানোর।
আর ভক্সওয়াগেন বিটল? ২০১৮ সালের প্রথম ৮ মাসেই বিটল বিক্রি হয় ১১ হাজার ১১৫ ইউনিট। তবুও জার্মান সংস্থাটি ঘোষণা করেছে, তারাও ২০১৯ সালে আইকনিক বিটল গাড়ির উৎপাদন চিরতরে বন্ধ করে দেবে। ইতিহাসের পাতায় প্রায় একইসঙ্গে ঠাঁই হবে দুই সস্তার গাড়ির। ভাবতেই কেমন লাগে, বিটলের বয়স ৬০ আর ন্যানোর মাত্র ১০!
08th  February, 2019
ভোট চাই, ভোট
মোশারফ হোসেন

দেশজুড়ে লোকসভা ভোটের দামামা বেজে উঠেছে। বিশ্বের বৃহত্তম গণতান্ত্রিক দেশ ভারতে লোকসভা ভোট একটি জাতীয় উৎসবই বলা চলে। কারণ, নানা ভাষা নানা মত নানা পরিধান, হরেকরকম বৈচিত্র্যের মধ্যে অদ্ভুত ঐক্যের আসমুদ্র হিমাচল বিস্তৃত এই দেশে যে কোনও সামাজিক, ধর্মীয় বা অন্য কোনওরকমের উৎসবে কিছু সীমাবদ্ধতা থাকে।
বিশদ

26th  March, 2019
দক্ষ ম‌্যানেজারদের চাই, নিছক চৌকিদারদের নয় 
পি চিদম্বরম

পি চিদম্বরম: চৌকিদার হওয়াটা সম্মানের কাজ যেটা অনেক শতাব্দী ধরে চলে আসছে। চৌকিদার বা ওয়াচম‌্যানদের পাওয়া গিয়েছে সমস্ত গোষ্ঠী-সম্প্রদায় এবং পরিবেশ-পটভূমি থেকে। তাঁরা ছিলেন কিছু ব‌্যক্তি এবং তাঁদের কাজটি ছিল নিয়মমাফিক। আবাসন থেকে বাণিজ‌্য কেন্দ্র প্রভৃতি নানা স্থানে বেসরকারি উদ‌্যোগে নিরাপত্তারক্ষী নিয়োগের একটি সংগঠিত ব‌্যবসার জন্ম দিয়েছে উদারীকরণ নীতি।  বিশদ

25th  March, 2019
 লোকসভা ২০১৯: প্রার্থী বাছতেই
হিমশিম, মমতাকে রুখবেন কীভাবে!
শুভা দত্ত

 দোল শেষ। তবে, রাজ্যজুড়ে রঙের উৎসবের আমেজ এখনও যথেষ্টই রয়েছে। পথেঘাটে মানুষের শরীরে মনে তার ছাপ এখনও স্পষ্ট। এবার দোলে গরম তেমন অসহনীয় ছিল না। বৃষ্টিও হয়নি। বরং, শুক্রবার হোলির বিকেলে কালবৈশাখী এসে যেটুকু ভ্যাপসা গরম জমে ছিল তাও ধুয়েমুছে নিয়ে গেছে।
বিশদ

24th  March, 2019
কংগ্রেস-সিপিএম জোট যেন
সান্ধ্য মেগা সিরিয়াল!
মৃণালকান্তি দাস

শত্রু চিহ্নিত হয়েছিল বছরখানেক আগেই। কেন্দ্রে বিজেপি, রাজ্যে তৃণমূল। সেই শত্রুকে বধ করতে কংগ্রেসের সঙ্গে হাতে হাত ধরে লড়াইয়ের ময়দানে থাকতে হবে, সেই বার্তাও দেওয়া হচ্ছিল বহুদিন ধরে। সূর্যকান্ত মিশ্র থেকে সুজন চক্রবর্তী, অধীর চৌধুরি থেকে আব্দুল মান্নান—যাঁদের জোট চর্চার সঙ্গে শত্রু-বিরোধী গরম গরম ভাষণও শোনা গিয়েছিল অনেক। কিন্তু লোকসভা ভোটের আগেই অশ্বডিম্ব প্রসব করে চূড়ান্ত হাস্যস্পদে পরিণত হয়েছে দুই দল।
বিশদ

24th  March, 2019
ধর্মের বেশে ভোটব্যাঙ্ক!
শান্তনু দত্তগুপ্ত

 

দুপুর গড়িয়ে বিকেলের পথে। তারিখটা ২৭ মে, ১৯৬৪। দিল্লির রাজপথে কালো মাথার ভিড়ে তিল ধারণের জায়গা নেই। আর ভিড়ের বেশিরভাগেরই গতিমুখ তিনমূর্তি ভবনের দিকে। সেখানে শায়িত জওহরলাল নেহরু। শেষযাত্রায় প্রধানমন্ত্রীকে শ্রদ্ধা জানাতে হাজির গ্র্যানভিল অস্টিনও। মার্কিন ছাত্র। থিসিস লিখছেন ভারতের সংবিধানের উপর। তাই আগ্রহটা বাকিদের থেকে একটু বেশিই।  
বিশদ

23rd  March, 2019
পরিবেশ নিরুদ্দেশ 
রঞ্জন সেন

খবরের কাগজে দেখলাম, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি জানিয়েছেন, সন্ত্রাস ও জলবায়ু পরিবর্তন মানব সভ্যতার সামনে বড় বিপদ। বাতাসে কার্বন নিঃসরণ বাড়ে এমন কোনও কাজ তিনি করেন না। কার্বন নিঃসরণের বিপদ সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রীর এমন সতর্কতা খুব ভালো লাগল।  
বিশদ

23rd  March, 2019
এবারের লোকসভা নির্বাচনে বাংলার
বামফ্রন্ট এবং তার প্রার্থীতালিকা
শুভময় মৈত্র

এ দেশে বামপন্থার ইতিহাস আজকের নয়। প্রায় একশো বছর আগে ১৯২৫ সালের বড়দিনের ঠিক পরের তারিখেই কানপুরে কমিউনিস্ট পার্টি অফ ইন্ডিয়ার (সিপিআই) প্রতিষ্ঠা হয়েছিল বলে শোনা যায়। সিপিএমের আবার অন্য তত্ত্বও আছে। তাদের একাংশের মতে ১৯২০ সালের ১৭ অক্টোবর তাসখন্দে ভারতের কমিউনিস্ট পার্টির পথ চলা শুরু।
বিশদ

21st  March, 2019
গত বিধানসভার ফল রাজ্যে এবারের লোকসভার ভোটে কী ইঙ্গিত রাখছে?
বিশ্বনাথ চক্রবর্তী
 

২০১৯-এর লোকসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে বেশ কয়েক মাস ধরে চলছে জনমত সমীক্ষার কাজ। ভারতের মতো বৃহৎ গণতান্ত্রিক দেশে যেখানে ৯০ কোটি ভোটার রয়েছেন সেখানে এই বিপুল সংখ্যক মানুষের মনের খোঁজ পাওয়া সমীক্ষকদের পক্ষে কতটুকু সম্ভব তা নিয়ে বিস্তর বিতর্ক রয়েছে—বিশেষ করে ৯০ কোটি ভোটার যেখানে জাত, ধর্ম, অঞ্চলে বিভক্ত।  
বিশদ

19th  March, 2019
মোদিজির বালাকোট স্বপ্ন 

পি চিদম্বরম: গত ১০ মার্চ, রবিবার নির্বাচন কমিশন রণতূর্য বাজিয়ে দিল। সরকারকে শেষবারের মতো ‘ফেভার’ও করল তারা। নির্বাচন ঘোষণাটিকে সাধারণ মানুষ মুক্তির শ্বাসের মতো গ্রহণ করল: আর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের ঘটা নেই, আর অর্ডিন‌্যান্স নেই এবং নেই কিছু নড়বড়ে সরকারি স্কিমের বেপরোয়া সূচনা।  বিশদ

18th  March, 2019
আধাসেনা নামিয়ে কি ভোটযুদ্ধে
মমতাকে ঘায়েল করা যাবে?

শুভা দত্ত 

রাজ্যে ভোটের হাওয়া গরম হচ্ছে। জেলায় জেলায় শাসক এবং বিরোধী—দুই শিবিরের প্রচারও একটু একটু করে গতি পাচ্ছে। মন্দিরে পুজো দিয়ে প্রার্থীদের অনেকেই নেমে পড়েছেন জনসংযোগে। দেওয়াল লেখাও চলছে জোরকদমে। ভোটপ্রার্থীদের সমর্থনে পোস্টার ব্যানার দলীয় পতাকাও দেখা দিতে শুরু করেছে চারপাশে।  
বিশদ

17th  March, 2019
তীব্র জলসঙ্কট হয় মানুষের কারণে
খেসারত দিতে হবে মানুষকেই 
মৃন্ময় চন্দ

নদী বিক্রি? আজব কথা, তাও কি হয় সত্যি? ছত্তিশগড় তখনও নয় স্বয়ংসম্পূর্ণ রাজ্য, কুলকুল করে বয়ে চলেছে ‘শেওনাথ’ নদী। ১৯৯৮ সালে মধ্যপ্রদেশ সরকার ২৩ কিমি দীর্ঘ ‘শেওনাথ’ নদীটিকে ৩০ বছরের লিজে হস্তান্তর করল স্থানীয় এক ব্যবসায়ীর কাছে।  বিশদ

16th  March, 2019
সংরক্ষণের রাজনীতি, রাজনীতির সংরক্ষণ 
রঞ্জন সেন

আগে ব্যাপারটা বেশ সহজ ছিল, সিপিএম, সিপিআই মানেই শ্রমিক-কৃষক- মধ্যবিত্তদের দল, কংগ্রেস উচ্চবিত্তদের দল, বিজেপি অবাঙালি ব্যবসায়ী শ্রেণীর দল। এই সরল শ্রেণীবিভাগ এখন অচল। বাম আমলে আমরা দেখেছি, টাটাদের মতো শিল্পপতিরাও বামেদের বেশ বন্ধু হয়ে গেছেন।   বিশদ

16th  March, 2019
একনজরে
 ইসলামবাদ, ২৬ মার্চ (পিটিআই): পাকিস্তানের সিন্ধু প্রদেশে দুই হিন্দু নাবালিকাকে অপহরণ, জোর করে ধর্মান্তকরণ ও বিয়ের অভিযোগ উঠেছে। মঙ্গলবার ওই দুই নাবালিকাকে সরকারি নিরাপত্তা দেওয়ার নির্দেশ দিল ইসলামাবাদ হাইকোর্ট। তাদেরকে ইসলামাবাদের ডেপুটি কমিশনার এবং ডিরেক্টর জেনারেল হিউম্যান রাইটসের হেফাজতে পাঠানো ...

 মায়ামি, ২৬ মার্চ: জীবনের ১০১টি খেতাব জয়ের সামনে দাঁড়িয়ে রজার ফেডেরারের সামনে এখন বড় বাধা রাশিয়ার ড্যানিল মেদভেদেভ। মায়ামি ওপেনে ত্রয়োদশ বাছাই মেদভেদেভ ভালো ফর্মে রয়েছেন। ...

সংবাদদাতা, হরিরামপুর: দক্ষিণ দিনাজপুরের কুশমণ্ডির মুখোশ মুখা’কে এবার নির্বাচনের ম্যাসকট করেছে জেলা নির্বাচন দপ্তর। যার পোশাকি নাম দেওয়া হয়েছে ‘নাগরিক’। ‘আপনার ভোট, আপনার অধিকার, দেশ গড়ার অঙ্গীকার’ এই থিমকে সামনে রেখে মুখার মাধ্যমে জেলা প্রশাসন ভোটের প্রচারে নেমেছে।  ...

 ইটানগর, ২৬ মার্চ (পিটিআই): অরুণাচল প্রদেশের দু’টি লোকসভা আসনেই এবার বহুমুখী লড়াই হবে। ১১ এপ্রিল, প্রথম দফার নির্বাচনেই ভোট হবে উত্তর-পূর্ব ভারতের এই রাজ্যে। এখানে মোট প্রার্থী সংখ্যা ১২। অরুণাচল পূর্ব আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রয়েছেন পাঁচজন। ...




আজকের দিনটি কিংবদন্তি গৌতম
৯১৬৩৪৯২৬২৫ / ৯৮৩০৭৬৩৮৭৩

ভাগ্য+চেষ্টা= ফল
  • aries
  • taurus
  • gemini
  • cancer
  • leo
  • virgo
  • libra
  • scorpio
  • sagittorius
  • capricorn
  • aquarius
  • pisces
aries

বিদ্যার্থীদের মানসিক স্থিরতা রাখা দরকার। প্রেম-প্রণয়ে বাধাবিঘ্ন থাকবে। তবে নতুন বন্ধু লাভ হবে। সাবধানে পদক্ষেপ ... বিশদ


ইতিহাসে আজকের দিন

বিশ্ব থিয়েটার দিবস
১৮৪৫- এক্স-রশ্মির আবিষ্কারক ইউলিয়াম রন্টজেনের জন্ম
১৮৯৮- লেখক ও দার্শনিক সৈয়দ আহমেদ খানের মৃত্যু
১৯৬৮- বিমান দুর্ঘটনায় মৃত্যু রুশ মহাকাশচারী ইউরি গ্যাগ্যারিনের 

ক্রয়মূল্য বিক্রয়মূল্য
ডলার ৬৮.০৮ টাকা ৬৯.৭৭ টাকা
পাউন্ড ৮৯.৩৬ টাকা ৯২.৬২ টাকা
ইউরো ৭৬.৫৯ টাকা ৭৯.৫৪ টাকা
[ স্টেট ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়া থেকে পাওয়া দর ]
পাকা সোনা (১০ গ্রাম) ৩২,৫৭০ টাকা
গহনা সোনা (১০ (গ্রাম) ৩০,৯০০ টাকা
হলমার্ক গহনা (২২ ক্যারেট ১০ গ্রাম) ৩১,৩৬৫ টাকা
রূপার বাট (প্রতি কেজি) ৩৮,২৫০ টাকা
রূপা খুচরো (প্রতি কেজি) ৩৮,৩৫০ টাকা
[ মূল্যযুক্ত ৩% জি. এস. টি আলাদা ]

দিন পঞ্জিকা

১২ চৈত্র ১৪২৫, ২৭ মার্চ ২০১৯, বুধবার, সপ্তমী ৩৮/১২ রাত্রি ৮/৫৫। জ্যেষ্ঠা ৬/৪১ দিবা ৮/১৯। সূ উ ৫/৩৮/২৯, অ ৫/৪৬/১, অমৃতযোগ দিবা ৭/১৩ মধ্যে পুনঃ ৯/৪০ গতে ১১/১৭ মধ্যে পুনঃ ৩/২০ গতে ৪/৫৭ মধ্যে। রাত্রি ৬/৩৩ গতে ৮/৫৬ মধ্যে পুনঃ ১/৩৯ গতে উদয়াবধি, বারবেলা ৮/৪০ গতে ১০/১১ মধ্যে পুনঃ ১১/৪২ গতে ১/১৩ মধ্যে, কালরাত্রি ২/৩৯ গতে ৪/৮ মধ্যে।
১২ চৈত্র ১৪২৫, ২৭ মার্চ ২০১৯, বুধবার, সপ্তমী রাত্রি ১২/৩৪/১৩। জ্যেষ্ঠানক্ষত্র ১২/৮/৫৮, সূ উ ৫/৩৮/৪৪, অ ৫/৪৫/২৪, অমৃতযোগ দিবা ৭/১৫/৩৭ মধ্যে ও ৯/৪০/৫৭ থেকে ১১/১৭/৫১ মধ্যে ও ৩/২০/৪ থেকে ৪/৫৬/৫৭ মধ্যে এবং রাত্রি ৬/৩২/৫৭ থেকে ৮/৫৫/৩৭ মধ্যে ও ১/৪০/৫৭ থেকে ৫/৩৭/৪৬ মধ্যে, বারবেলা ১১/৪২/৪ থেকে ১/১২/৫৪ মধ্যে, কালবেলা ৮/৪০/২৪ থেকে ১০/১১/১৪ মধ্যে, কালরাত্রি ২/৪০/২৪ থেকে ৪/৯/৩৪ মধ্যে।
১৯ রজব

ছবি সংবাদ

এই মুহূর্তে
সিএসকে-কে ১৪৮ রানের টার্গেট দিল দিল্লি ক্যাপিটালস 

26-03-2019 - 09:43:23 PM

দিল্লি ক্যাপিটালস ১১৮/২ (১৫ ওভার) 

26-03-2019 - 09:15:06 PM

দিল্লি ক্যাপিটালস ৬৫/১ (১০ ওভার) 

26-03-2019 - 08:51:51 PM

দিল্লি ক্যাপিটালস ৩৮/১ (৫ ওভার) 

26-03-2019 - 08:28:45 PM

সিএসকের বিরুদ্ধে টসে জিতে প্রথমে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত দিল্লি ক্যাপিটালসের 

26-03-2019 - 07:36:48 PM

ফের অনুব্রত মণ্ডলকে শোকজ কমিশনের 
আবারও বীরভূমের দাপুটে তৃণমূল নেতা অনুব্রত মণ্ডলকে শোকজ করল নির্বাচন ...বিশদ

26-03-2019 - 07:01:32 PM