Bartaman Patrika
বিশেষ নিবন্ধ
 

ভোটবাজার: ইস্যুগুলো সব গেল কোথায়!
মেরুনীল দাশগুপ্ত

ইমরান খান বুদ্ধিমান। দুনিয়া কাঁপানো এই ক্রিকেটার আজকের হাই-টেক আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে কতটা দর তার হিসেব না নিয়েও বলা যায়—তিনি বুদ্ধিমান এবং অবশ্যই বিচক্ষণ। তিনি জানেন, লড়াইয়ের ময়দানে কখনও-সখনও কৌশলগত কারণে এক-পা এগনোর জন্য দু-পা পিছিয়েও আসতে হয়, আসতে হতে পারে। এবং সেটাই রাজনৈতিক বিচক্ষণতা। বিশেষ করে শত্রু যখন তুলনামূলকভাবে শক্তিশালী এবং কার্যকারণ সূত্রে বিশ্বের শক্তিধরেরা তার দিকেই হেলে, তখন এই কৌশল প্রয়োগ দেশজনতার স্বার্থেই একরকম অনিবার্য হয়ে ওঠে। অন্যথায় আর যাই হোক ভালো কিছু হয় না। বিপদও বাড়ে বই কমে না। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান যেদিন তাঁদের সংসদে বন্দি ভারতীয় বায়ুসেনা অভিনন্দন ভর্তমানের মুক্তি ঘোষণা করেছিলেন সেদিন প্রকারান্তরে তিনি তাঁর ওই বুদ্ধি ও বিচক্ষণতারই পরিচয় দিয়েছিলেন। অন্তত, বিশেষজ্ঞমহলের একটা বড় অংশ তেমনটাই মনে করেছেন এবং সেটা মোটেই ভুল না। ভারত যে তুলনায় অনেক বেশি শক্তিধর সেটা সকলেই জানেন। তবে পাকিস্তানও কম না, পরমাণু শক্তিতে তারাও বলীয়ান। সুতরাং, যুদ্ধ শুরু হলে তার গতিপ্রকৃতি সাধারণের সীমা ছাড়িয়ে মারাত্মক বিপর্যয়ের দিকে যেতেই পারে আর সেক্ষেত্রে উভয় দেশই নজিরবিহীন ভয়াবহতার শিকার হতে পারে। ভারতকে হুঁশিয়ারি দিতে গিয়ে পাক প্রধানমন্ত্রী ইমরানের হুমকি-ধমকি মূলক মন্তব্যে এমন সম্ভাবনার কথাই কি ধরা পড়েনি? আমাদের পরম সৌভাগ্য, বায়ুসেনার বহুকথিত ‘সার্জিকাল স্ট্রাইকে’র পর সেই ইমরানই বিচক্ষণতার পরিচয় রেখে আপসের কথায় ফিরেছেন এবং বন্দি বায়ুসেনা জওয়ানকে মুক্তি দিয়ে আপাতত যুদ্ধের সেই সম্ভাব্য নারকী ভয়াবহতার দুশ্চিন্তা থেকে ভারত-পাকিস্তান উভয় দেশের সাধারণকে মুক্তি দিয়েছেন।
অনেকে অবশ্য বলছেন, যুদ্ধবন্দি নিয়ে জেনিভা চুক্তি অগ্রাহ্য করার সাহস পাননি বলেই ইমরান বন্দি ভারতীয় বায়ুসেনা অভিনন্দনকে মুক্তি দিয়েছেন। ওই চুক্তির দাপটেই ও দেশের সেনাও তাঁর সঙ্গে দুর্ব্যবহার করার বিশেষ সুযোগ পায়নি। পাক ভূখণ্ডে ধরা পড়ার সময় স্থানীয় লোকজনই মারধর যা করার করে নিয়েছে। জেরার সময় অভিনন্দনের বলিষ্ঠ অভিব্যক্তি ও দৃঢ়তার সামনে পাক-সেনা অফিসারদের মর্যাদা বজায় রেখেই এগতে হয়েছে। সে কথা পরবর্তীতে অভিনন্দনও স্বীকার করেছেন। তাঁর পাঁজরে ও দেহের অন্যত্র যেসব আঘাতের চিহ্ন মিলেছে তার কারণ অবশ্য এখনও আমাদের অজানা। তার জন্য পাক-সেনার ভূমিকাও এখনও স্বীকৃত নয়। কিন্তু, একটা ব্যাপার পরিষ্কার, অভিনন্দনকে নিঃশর্তে ছেড়ে দিয়ে ইমরান খান আর কিছু না করুন যুদ্ধ বাধার উপক্রমটি অনেকটাই ফিকে করে দিয়েছেন। এখন যুদ্ধ বিরতি চুক্তি ‘লঙ্ঘন’ করে পাক গোলাগুলি বা তার জবাবে ভারতীয় সেনার পাল্টা সামরিক তৎপরতা যা ঘটছে সেসব ভারত-পাক সীমান্তের নিত্যদিনের ঘটনা। বছরের পর বছর ধরেই এসব চলছে আর তার জেরে মাঝেমধ্যেই সংশ্লিষ্ট সীমান্ত সন্নিহিত সাধারণ জনজীবন বিপর্যস্ত ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং হয়েই চলেছে। পাক-গোলায় বাড়িঘর ধ্বংস থেকে নিরীহ মানুষজনের মৃত্যু সেকাল থেকে একাল এমনকী আজও কোনও নতুন ঘটনা নয় ভূস্বর্গে!
বরং, যেদিন থেকে কাশ্মীর নিয়ে দু-দেশের সামরিক সংঘাতে জঙ্গি-মাত্রা যুক্ত হয়েছে, সীমান্তে সামরিক গোলাগুলির রুটিন বিনিময় ছাপিয়ে উঠেছে জঙ্গি সন্ত্রাসের বীভৎসতা সেদিন থেকে মানুষের বিপন্নতাই কেবল বাড়েনি, তাঁদের মধ্যে বিশেষত, তাঁদের নতুন প্রজন্মের তরুণ-তরুণী, কিশোর-কিশোরীর মধ্যে অস্তিত্ব সংকটের অস্থিরতাও প্রবল হয়ে উঠেছে। কয়েক বছর আগে কাশ্মীরের মাটিতে বসে এমনই আক্ষেপ করছিলেন ওয়ানিসাব। নামটা বলছি না। শুধু এটুকুই বলছি, ওয়ানিসাব উচ্চপদস্থ সরকারি অফিসার ছিলেন, সম্প্রতি রিটায়ার করেছেন। তিনি স্পষ্টতই বলেছিলেন, যতদিন কাশ্মীর সমস্যাকে একটি রাজনৈতিক সমস্যা হিসেবে দেখা হবে ততদিন এই সমস্যা বেড়েই চলবে। এবং কাশ্মীরি জনতাও রাজনীতির পাকেচক্রে পড়ে বিভ্রান্ত হবেন, দিকভ্রষ্ট হবেন, এমনকী দেশের ঐক্য ও সাম্প্রদায়িক সংহতির পরিপন্থীও হয়ে উঠতে পারেন কেউ কেউ!
সত্যি বলতে কী, পুলওয়ামার ভয়াবহ আত্মঘাতী হামলা ও ৪৪ জওয়ান মর্মান্তিকভাবে শহিদ হওয়ার পর যখন ওই নারকী ঘটনায় যুক্ত জঙ্গিদের পিছনে স্থানীয় যোগসাজশের অভিযোগ উঠেছিল তখন ওয়ানিসাবের ওই কয়েক বছরের পুরনো মন্তব্যটা ফের একবার ঝলকে উঠেছিল মনে! পাক প্রধানমন্ত্রী ইমরানের পদক্ষেপে যুদ্ধ থেকে আপাতত অব্যাহতি পেয়েছে দুই দেশ কিন্তু, কাশ্মীরি জনতার মনের ক্ষতগুলো মুছতে না পারলে, রাজনীতির চশমা খুলে মানবিকতা ও সম্প্রীতির উদার চোখে তাঁদের সমস্যাগুলোকে দেখতে না পারলে ভবিষ্যতে যুদ্ধ কি ঠেকানো যাবে? যাঁরা ভাবছেন, পাক ভূখণ্ডের কটা জঙ্গি শিবির গুঁড়িয়ে দিলে বা মাসুদ আজাহারের মতো কটা জঙ্গি নেতা খতম হলেই জঙ্গিসন্ত্রাস শেষ হয়ে যাবে, কাশ্মীরের গুলবাগিচার হাসিতে ভরে উঠবে জনজীবন—তাঁরা কতটা ঠিক ভাবছেন তা নিয়ে যথেষ্ট সংশয় আছে। কারণ, বিভিন্ন সময় নানা নিরাপত্তা এজেন্সির রিপোর্ট ও ঘটনাবলিই প্রমাণ করেছে স্থানীয় মাটির রস ও রসদ তাদের জঙ্গি ক্রিয়াকলাপ চালাতে সহায়তা করেছে এবং করছে।
এই রস ও রসদ জোগানের সাপ্লাই লাইন বন্ধ করার মূল উপায় যে উন্নয়ন, উন্নয়ন এবং উন্নয়ন—সার্বিক লাগাতার উন্নয়ন তা বলেছেন, আজও বলেন অনেক মহামুনিজন। তাঁদের মতে, উন্নয়নের জোয়ার উঠলেই অলস মস্তিষ্কে শয়তানের বাসাগুলো খান খান হয়ে যাবে—কাশ্মীরের নবীন প্রজন্ম জীবনের ইতিবাচক দিশা পাবে, জঙ্গিরা ভারতের মাটিতে রস-রসদের জোগানের অভাবে এমন বেমক্কা বজ্জাতির শক্তি-সাহসও অনিবার্যভাবেই অনেকটা হারিয়ে ফেলবে। এতে কাশ্মীর সমস্যা পুরোপুরি না মিটলেও কাশ্মীরি জনজীবন বাঁচার নতুন দিশা পাবে, জোর পাবে সাম্প্রদায়িক প্রীতি জাতীয় সংহতি। এখন কথা হল, ‘যুদ্ধ’ কি এক্ষেত্রে এই কাজটা করে দিতে পারে? পারে না যে তা এর আগে অনেকবার প্রমাণিত। কার্গিলের স্মৃতি এখনও বিশেষ ঝাপসা নয়—পেরেছে? পারলে পুলওয়ামা বা তার মতো মারাত্মক সব ঘটনা আজও ঘটে চলেছে কেন? ‘যুদ্ধ’ যখন একাধিকবার কাশ্মীরে জঙ্গি সন্ত্রাস দমনে ব্যর্থ দেখা যাচ্ছে তখন সার্জিকাল স্ট্রাইকে জঙ্গি নিধন ও তাদের ঘাঁটি ওড়ানোর পরও কেন যুদ্ধের দিকে মুখ? ইমরানের চালে যুদ্ধটা আপাতত বাধল না বটে তবে ভবিষ্যতেও বাধবে না এমন গ্যারান্টি তো নেই। কিন্তু, কেন? আসলে, এক্ষেত্রে যুদ্ধটা তো সেই অর্থে সরাসরি কোনও দেশের সঙ্গে নয়, জঙ্গিদের বিরুদ্ধে, জঙ্গি উৎখাতের জন্য। আর কে না জানে জঙ্গিদের কোনও দেশ নেই, জীবাণুর মতো তারা দুর্বল শরীরকেই আশ্রয় বানিয়ে তোলে। জয়েশ থেকে আইএস—একটু নজর করলেই ব্যাপারটা বুঝতে পারবেন।
কিন্তু, মুশকিলটা হল, সার্জিকাল স্ট্রাইক থেকে সম্ভাব্য যুদ্ধ ব্যাপারটা এমনভাবে আমাদের মধ্যে প্রচারিত হয়েছে যাতে আমরা ধরেই নিয়েছি প্রতিপক্ষ পাকিস্তান (যে দেশের প্রতি দেশজনতার একটা অংশে বীতরাগ ও ক্ষোভ প্রবল) যুদ্ধই হোক, কী সার্জিকাল স্ট্রাইক—দুটোর লক্ষ্যই ওই প্রতিবেশী দেশ। পুলওয়ামার ঘটনার পর ‘পাকিস্তান জঙ্গিদের মদতদাতা আশ্রয়দাতা’—এমন অভিযোগ দেশের মানুষের একাংশ পাক-বিদ্বেষ আরও উস্কে দিয়েছে! এতটাই যে, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সার্জিকাল স্ট্রাইক ব্যাপারে প্রকৃত তথ্য জানতে চাওয়ায় শাসকদল থেকে নেটিজেন বহুজনের বিরাগভাজন হয়েছেন, তাঁর নামে যা ইচ্ছে বলা হয়েছে, হচ্ছে! আমার বন্ধু প্রাক্তন সেনানী শ্যামলও পুলওয়ামার পর দোষীদের কঠোরতম শাস্তি দিতে রীতিমতো উত্তেজিত। অথচ, মজাটা এই—শ্রীলঙ্কায় শান্তি সেনা হিসেবে মৃত্যুর মুখ থেকে ফেরা বহু যুদ্ধের সক্রিয় সৈনিক শ্যামলের চোখেও জঙ্গি-বিরোধিতা পাক-বিরোধিতায় ফারাকটা নজরে আসছিল না! বলতে কী, পুলওয়ামার পর গোটা দেশে জেগে ওঠা টগবগে আবেগময় দেশপ্রেমে তাঁর মতো সচেতন যুদ্ধনিপুণ প্রাক্তন সেনাও কাবু হয়েছিলেন এতটাই যে, জঘন্য জঙ্গি আর প্রতিবেশী দেশ তাঁর চোখেও একাকার হয়ে গিয়েছিল! তাহলে সাধারণের মনের কী দশা হয়েছে ভাবুন!
হবে না কেন? গত ১৪ ফেব্রুয়ারির পুলওয়ামা কাণ্ডের পর থেকে কাগজে মিডিয়ায় সর্বত্র কেবল তো যুদ্ধ আর যুদ্ধ। হুমকি আর প্রতিহুমকি। এবং দেশপ্রেম, বন্যার মতো দিক ভোলানো দেশপ্রেমের আবেগ। আমার পরিচিত এক প্রবীণজনের উক্তি, তা বাপু, যুদ্ধ তো বুঝলাম কিন্তু এই ভরা ভোটবাজার ইস্যুগুলো সব গেল কোথায়! রাফাল, সিবিআই, ব্যাঙ্ক কেলেঙ্কারি, আরবিআই নোটবন্দি—কোথায় সব? গেরুয়া শিবিরকে চাপে রাখতে এসব নিয়ে কত তোলপাড় শুরু হয়েছিল! গেল কই!! আগুস্তা হেলিকপ্টার, সারদা নারদা, ওয়াধেরা—সেসবই বা কোথায়! সত্যিই তো, ভোটবাজার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও তাঁর দলকে কুপোকাত করতে বিরোধীদের ইস্যুগুলো সব গেল কোথায়! কংগ্রেস তৃণমূলের বিরুদ্ধে মোদিজির শিবির থেকে তোলা অভিযোগ—সেসবই বা কোথায়? এখনও তো যেদিকে তাকাই যুদ্ধভাব আর আবেগে আপ্লুত দেশপ্রেম। অভিনন্দন ফেরার পর খানিকটা স্তিমিত হলেও পুরনো ইস্যুরা ফিরে আসার পথ এখনও পায়নি। একটি ইস্যুই এখনও সর্বব্যাপ্ত—দেশপ্রেম। আর তার জীবন্ত বিগ্রহ অভিনন্দন। দেশ জনতা এখনও তাতে আপ্লুত অভিভূত—সেনা গৌরবে গৌরবান্বিত প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিতে আচ্ছন্ন। বাজেটে ঢালাও সুবিধা দিয়ে, কী অন্য কোনওভাবেও তো দেশের মানুষের মন ফেরানো যাচ্ছিল না! কিন্তু, এবার? পুলওয়ামা ও সার্জিকাল স্ট্রাইক তো বিরোধীদের সব ইস্যু শেষ করে দিল। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে বিরোধী জোট ইস্যু খুঁজতে হয়রান হচ্ছেন! গেরুয়া শিবিরের আত্মতুষ্ট নেতানেত্রীরা এমনটা মনে করতেই পারেন। তবে কী, মানুষের মন তো! সবসময় গুনে দেখে না হয়তো, কিন্তু কম পড়লে ঠিক টের পায়। সেটাই সমস্যা। 
07th  March, 2019
সন্ত্রাসবাদীদের চক্রব্যূহে ফেঁসে
রয়েছেন ইমরান খান
মৃণালকান্তি দাস

২০১৩ সালে মার্কিন বাহিনীর ড্রোন হামলায় নিহত হয়েছিলেন পাকিস্তানি তালিবান কম্যান্ডার ওয়ালি-উর-রেহমান। প্রতিবাদে ফেটে পড়েছিলেন ইমরান খান। সেদিন ট্যুইট করে বলেছিলেন, ‘ড্রোন হামলায় শান্তিকামী নেতা ওয়ালি-উর-রেহমানকে হত্যার মাধ্যমে প্রতিশোধ, যুদ্ধ ও মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেওয়া হল যোদ্ধাদের। একদমই মানতে পারছি না।’
বিশদ

অথ শ্রীমহাভারত কথা
গৌরী বন্দ্যোপাধ্যায়

আবার এক মহাভারত যুদ্ধ সমাগত। রণবাদ্য বাজিয়ে যুদ্ধের দিনক্ষণ ঘোষিত হয়েছে, আকাশে-বাতাসে সেই যুদ্ধের বার্তা ভাসছে, প্রস্তুতি চলছে নানা স্তরে, সর্বত্র সাজ সাজ রব উঠে গেছে। বাদী, সম্বাদী, বিবাদী সব দলই নানা উপায়ে নিজেদের শক্তি বৃদ্ধি করে চলেছে। সাম, দান, দণ্ড, ভেদাদি প্রতিটি উপায়ই সমাজের নানা স্তরে নানাভাবে পরীক্ষিত হচ্ছে।
বিশদ

14th  March, 2019
ভোটজয়ে যুদ্ধের ভাবাবেগের একাল সেকাল
বিশ্বনাথ চক্রবর্তী

 পুলওয়ামার ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে ভারতীয় বিমান বাহিনীর প্রত্যাঘাত এবং পাকিস্তানের এফ-১৬ বিমানের আক্রমণ প্রতিহত করা, কোনও শর্ত ছাড়াই উইং কমান্ডার অভিনন্দনকে পাকিস্তানের খপ্পর থেকে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে মুক্ত করে এনে ভারত যে শৌর্যের প্রদর্শন করেছে তা বিরাট গর্বের।
বিশদ

12th  March, 2019
গোঁফ দিয়ে যায় চেনা?
অতনু বিশ্বাস

 উইং কম্যান্ডার অভিনন্দনের অকুতোভয় সাহসিকতা আর কর্তব্যনিষ্ঠায় মোহিত ভারতবাসী। তারা খুঁজতে চায় সেই রসায়নের গূঢ় তত্ত্ব। সুকুমারী দুনিয়ার হেড অফিসের বড়বাবু তো সেই কবেই বলেছেন, গোঁফ দিয়েই নাকি চেনা যায় আমাদের সব্বাইকে। তবু, ছেলেবেলা থেকে এনিয়ে সন্দেহ আমার পুরোদস্তুর।
বিশদ

12th  March, 2019
যুদ্ধ বনাম শান্তি এবং বাঙালি মগজের অবস্থান
 

শুভময় মৈত্র: সকালবেলা দুধের ডিপোয় গভীর আলোচনা। পলিথিনবন্দি দুশো গ্রাম দই আর পাঁচশো মিলিলিটার গুঁড়ো গোলা দুধ কিনতে গিয়ে মহা বিপদে পড়তে হল। একটু আধটু লিখি সেকথা যাঁরা জানেন তাঁরা ঘিরে ধরে বললেন যে যুদ্ধ নিয়ে লিখুন যত খুশি, তবে নিজের মাথা বিক্রি করে নয়। অর্থাৎ বক্তব্য খুব পরিষ্কার। যুদ্ধের পক্ষে বা বিপক্ষে যাই লিখুন না কেন, সেটার পিছনে যেন নিজের ধান্দা না থাকে।   বিশদ

11th  March, 2019
জাতীয়তা-বিরোধী সংবাদপত্র! 

পি চিদম্বরম: রাফাল বিতর্ক থামবে না! পুলওয়ামায় জঙ্গিহামলা এবং অতঃপর ভারতীয় বায়ুসেনার প্রত‌্যাঘাতের কারণে বিতর্কটা যদি যবনিকার আড়ালে চলে গিয়ে থাকে, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিই সেটাকে মঞ্চের মাঝখানে এনে ফেলেছেন প্ররোচনামূলক মন্তব‌্য করে—‘‘আমাদের যদি রাফাল যুদ্ধবিমান থাকত ...।’’  বিশদ

11th  March, 2019
মমতার নামে কুৎসা করে
বাংলার ভোট জেতা যাবে?
শুভা দত্ত

 কুৎসা ছাড়া কী? মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দেশপ্রেমিক নন! তিনি সেনার মর্যাদা গৌরব বোঝেন না! তিনি পাকিস্তানের হয়ে কথা বলছেন! এসব কুৎসা ছাড়া কী? আমাদের রাজ্যে তো বটেই, গোটা দেশেও কি কেউ এক মুহূর্তের জন্য বিশ্বাস করবে এইসব? এমনকী মমতার অন্ধ বিরোধীরাও কি এমন কথা মানবে?! অসম্ভব।
বিশদ

10th  March, 2019
মিথ্যা‌ই সত্য
সমৃদ্ধ দত্ত

 এই যে কোনও আধুনিক সভ্যতার উপকরণ নির্মাণেই আমরা পশ্চিমি দেশের সঙ্গে পাল্লা দিতে পারছি না এটাই কি শেষ কথা? ভারত কি সত্যিই কোনও আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডিং-এই এক নম্বর নয়? এটা ভুল ধারণা। আমরা এক নম্বর স্থান পেয়েছি একটি আন্তর্জাতিক ইস্যুতে। সেটি হল ফেক নিউজ।
বিশদ

08th  March, 2019
শামিমার নাগরিকত্ব কেড়ে নেওয়া
কি আদৌ ব্রিটেনের সংস্কৃতির অঙ্গ!
রূপাঞ্জনা দত্ত

‘আমার মাত্র একটিই নাগরিকত্ব আছে। সেটাও যদি কেড়ে নেওয়া হয়, তাহলে আমার আর কিছু থাকবে না। ব্রিটেনে যদি আমাকে শিশু সন্তানসহ ফিরতে দেওয়া হয়, তাহলে জেলে যেতেও রাজি।’ শামিমা বেগমের এই মম্তব্যই ব্রিটেনজুড়ে ঝড় তুলেছে অভিবাসী আইন নিয়ে।  বিশদ

07th  March, 2019
নীতি-যুদ্ধ-রাজনীতি
নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী

নৈতিক দৃষ্টিতে যে আচার-আচরণ এবং ব্যবহার ভুল বলে মনে হয়, সেই আচার-আচরণ এবং ব্যবহার রাজনৈতিকভাবে কখনও ঠিক হতে পারে না—এই সত্যটা সকলের আগে বুঝে নেওয়া ভালো। এই সত্য ভাবগত বুদ্ধিতে যতটা সহজ, কার্যত এটা ততটাই কঠিন।
বিশদ

05th  March, 2019
যুদ্ধের চাপা দামামা
পি চিদম্বরম

একটি জাতি হিসেবে, বাইরের দিকের নিরাপত্তা (এক্সটার্নাল সিকিউরিটি) এবং অভ‌্যন্তরীণ নিরাপত্তার (ইনটার্নাল সিকিউরিটি) মধ‌্যে স্বাতন্ত্র্যরচনায় আমরা যত্নবান। কোনও কারণে প্রথমটিকে ‘জাতীয়’ (ন‌্যাশনাল) আলখাল্লা পরার অনুমোদন দেওয়া হচ্ছে কিন্তু পরেরটির ক্ষেত্রে নস‌্যাৎ করা হচ্ছে সেই বিশেষ সুবিধাটি।
বিশদ

04th  March, 2019
ভারত-পাক যুদ্ধ পরিস্থিতি আসন্ন ভোটযুদ্ধে মোদিজিকে কি এগিয়ে দিল?
শুভা দত্ত

 এখনও শেষ হয়নি। চলছে। পুলওয়ামার ন্যক্কারজনক জঙ্গি হামলার পর থেকে ভারত-পাকিস্তানের মধ্যে যে যুদ্ধ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল তার রেশ এখনও যথেষ্টই রয়েছে। রয়েছে প্রবল উত্তেজনাও। শুক্রবারও মেন্ধার আখনুর উরি নৌশেরা প্রভৃতি সেক্টরে যুদ্ধ বিরতি চুক্তি লঙ্ঘন করে পাক রেঞ্জাররা দফায় দফায় গোলাগুলি চালিয়েছে এবং তার যোগ্য জবাব দিয়েছে ভারতীয় সেনা। অন্যদিকে এদিনই জঙ্গি সন্ত্রাসে ফের রক্তাক্ত হয়েছে ভূস্বর্গের মাটি—নিহত হয়েছেন সেনা আধা-সেনা ও পুলিস মিলিয়ে পাঁচজন! গুরুতর আহত নিরাপত্তাবাহিনীর চার রক্ষী।
বিশদ

03rd  March, 2019
একনজরে
নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: রাজ্যের জুট মিলগুলির শ্রমিকদের নতুন বেতন চুক্তি বুধবার বেশি রাতে শ্রম দপ্তরে স্বাক্ষরিত হয়েছে। তবে সিটু সহ সাতটি শ্রমিক সংগঠন জানিয়েছে, আজ শুক্রবার জুট মিলগুলিতে প্রতীকী ধর্মঘট থেকে তারা সরে আসছে না। ...

 নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: হাইকোর্টের নির্দেশ সত্ত্বেও প্রায় তিন বছরে কয়েকটি চিঠির হাতের লেখা সম্পর্কে রিপোর্ট দেয়নি সিআইডি। অথচ, সেইসব চিঠিতে টাকা চেয়ে হুমকি ছাড়াও বিচারবিভাগ সম্পর্কে মারাত্মক অসম্মানজনক মন্তব্য রয়েছে। ...

  সংবাদদাতা, বুদবুদ: বুদবুদে শান্তিনিকেতনের আদলে বসন্ত উৎসব ঘিরে প্রস্তুতি তুঙ্গে। বুদবুদের মহাকালী উচ্চ বিদ্যালয়ের মাঠে এই উৎসব এবার দ্বিতীয় বর্ষে পদার্পণ করছে। শান্তিনিকেতনকে বাদ দিয়ে বাঙালির বসন্ত উৎসব কার্যত অসম্পূর্ণ। তাই দোল উৎসবে শান্তিনিকেতন যেতে মুখিয়ে থাকেন অনেকেই। ...

  সংবাদদাতা, নকশালবাড়ি: শিলিগুড়ি মহকুমার নকশালবাড়ি ব্লকের প্রায় লক্ষাধিক বাসিন্দা আজও ডিজিটাল রেশন কার্ড পাননি। তিন বছর আগে তাঁরা খাদ্য দপ্তরে এই কার্ডের জন্য আবেদন করেছেন। কিন্তু সেই কার্ড না পাওয়ায় লোকসভা ভোটের আগে বাসিন্দাদের মধ্যে নতুন করে ক্ষোভ ছড়িয়েছে। ...




আজকের দিনটি কিংবদন্তি গৌতম
৯১৬৩৪৯২৬২৫ / ৯৮৩০৭৬৩৮৭৩

ভাগ্য+চেষ্টা= ফল
  • aries
  • taurus
  • gemini
  • cancer
  • leo
  • virgo
  • libra
  • scorpio
  • sagittorius
  • capricorn
  • aquarius
  • pisces
aries

বিদ্যায় অধিক পরিশ্রম করতে হবে। ব্যবসায় যুক্ত ব্যক্তির পক্ষে দিনটি শুভ। প্রেম-প্রীতিতে আগ্রহ বাড়বে। নতুন ... বিশদ


ইতিহাসে আজকের দিন

১৫৬৪ – জিজিয়া কর তুলে দেন মুঘল সম্রাট আকবর
১৮৯২ – লিভারপুল ফুটবল ক্লাব প্রতিষ্ঠিত হয়।
১৮৭২ - ভারতীয় সাক্ষ্য আইন প্রবর্তন।
১৯০৪ - স্বনামধন্য বাঙালি কবি ও লেখক অন্নদাশঙ্কর রায়ের জন্ম
১৯৩৪: রাজনীতিক কাঁসিরামের জন্ম
১৯৩৭ - পৃথিবীর প্রথম ব্লাডব্যাংক চালু হয় শিকাগোতে
১৯৩৯ - বাঙালি ভ্রমণ কাহিনী, রম্যরচনা ও উপন্যাস লেখক জলধর সেনের মৃত্যু
১৯৭৬: অভিনেতা অভয় দেওলের জন্ম
১৯৭৭: অভিনেতা যিশু সেনগুপ্তের জন্ম
১৯৮৩: সঙ্গীতশিল্পী হানি সিংয়ের জন্ম
১৯৮৫ – প্রথম ইন্টারনেট ডোমেইন নাম নিবন্ধিত হয়। (symbolics.com)

ক্রয়মূল্য বিক্রয়মূল্য
ডলার ৬৮.৭০ টাকা ৭০.৩৯ টাকা
পাউন্ড ৯০.৬৮ টাকা ৯৩.৯৭ টাকা
ইউরো ৭৭.২৯ টাকা ৮০.২৪ টাকা
[ স্টেট ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়া থেকে পাওয়া দর ]
পাকা সোনা (১০ গ্রাম) ৩২,৫২০ টাকা
গহনা সোনা (১০ (গ্রাম) ৩০,৮৫৫ টাকা
হলমার্ক গহনা (২২ ক্যারেট ১০ গ্রাম) ৩১,৩২০ টাকা
রূপার বাট (প্রতি কেজি) ৩৮,২০০ টাকা
রূপা খুচরো (প্রতি কেজি) ৩৮,৩০০ টাকা
[ মূল্যযুক্ত ৩% জি. এস. টি আলাদা ]

দিন পঞ্জিকা

৩০ ফাল্গুন ১৪২৫, ১৫ মার্চ ২০১৯, শুক্রবার, নবমী ৪৯/৪৭ রাত্রি ১/৪৫। আর্দ্রা ৫৪/৪৫ রাত্রি ৩/৪৪। সূ উ ৫/৪৯/৫৫, অ ৫/৪১/৫৩, অমৃতযোগ দিবা ৭/২৩ মধ্যে পুনঃ ৮/১২ গতে ১০/৩৪ মধ্যে পুনঃ ১২/৫৬ গতে ২/৩২ মধ্যে পুনঃ ৪/৭ গতে অস্তাবধি। রাত্রি ৭/১৯ গতে ৮/৫৬ মধ্যে পুনঃ ৩/২২ গতে ৪/১১ মধ্যে, বারবেলা ৮/৪৮ গতে ১১/৪৬ মধ্যে, কালরাত্রি ৮/৪৩ গতে ১০/১৫ মধ্যে।
৩০ ফাল্গুন ১৪২৫, ১৫ মার্চ ২০১৯, শুক্রবার, নবমী রাত্রি ৯/০/৫০। আর্দ্রানক্ষত্র রাত্রি ১১/৩২/৪৫, সূ উ ৫/৫০/২৮, অ ৫/৪০/৪৯, অমৃতযোগ দিবা ৭/২৫/১১ মধ্যে ও ৮/১২/৩২ থেকে ১০/৩৪/৩৬ মধ্যে ও ১২/৫৬/৫১ থেকে ২/৩১/২৪ মধ্যে ও ৪/৬/৬ থেকে ৫/৪০/৪৯ মধ্যে এবং রাত্রি ৭/১৮/৬ থেকে ৮/৫৫/২৩ মধ্যে ও ৩/২৪/৩২ থেকে ৪/১৩/১১ মধ্যে, বারবেলা ৮/৪৩/৩ থেকে ১০/১৬/৫১ মধ্যে, কালবেলা ১০/১৬/৫১ থেকে ১১/৪৫/৩৯ মধ্যে, কালরাত্রি ৮/৪৩/১৪ থেকে ১০/১৪/২৬ মধ্যে।
 ৭ রজব

ছবি সংবাদ

এই মুহূর্তে
দাসপুরে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে নয়ানজুলিতে বাস 
টোটোকে বাঁচাতে গিয়ে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে নয়ানজুলিতে পড়ে গেল কনেযাত্রীবোঝাই বাস। ...বিশদ

07:55:31 PM

২৫টি আসনে প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করল বামেরা 
১৭টি আসন ছেড়ে ২৫টি আসনে প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করল বামফ্রন্ট। ...বিশদ

06:51:12 PM

আজ সন্ধ্যায় দক্ষিণবঙ্গে ঝড়বৃষ্টির সম্ভাবনা 
আজ সন্ধ্যায় দক্ষিণবঙ্গের বেশ কয়েকটি জেলায় ঝড়বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে বলে ...বিশদ

05:01:43 PM

২৬৯ পয়েন্ট উঠল সেনসেক্স

04:02:07 PM

নিউজিল্যান্ডের মসজিদে হামলার ঘটনায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৪৯ 

02:22:06 PM

মাদারিহাটে গাড়িতে ধাক্কা মারল ট্রাক, জখম ১০ 

01:36:00 PM