Bartaman Patrika
বিশেষ নিবন্ধ
 

মিথ্যা‌ই সত্য
সমৃদ্ধ দত্ত

বিশ্বের সবথেকে বেশি ডিজিটাল ক্যামেরা যেসব দেশে বিক্রি হয় ভারত তার মধ্যে মাঝেমধ্যেই টপার হয়ে যায়। অর্থাৎ প্রথম। কখনও দ্বিতীয় বা তৃতীয় স্থানে। বিশ্বের সবথেকে বেশি ক্যামেরা ইউজারের তালিকাতেও ভারত প্রথম সারিতে তো বটেই, অনেক সময় ফার্স্ট হয়েছে। কিন্তু বিশ্বের সবথেকে বড় ক্যামেরা সংস্থা কোনগুলি? ক্যানন আর নিকন। দুটোই জাপানের। টপ ডিএসএলআর ক্যামেরা কোম্পানি লিখে একবার গুগলে যান। দেখবেন ভারতে কোনও ক্যামেরার আন্তর্জাতিক মানের ব্র্যান্ডই নেই। স্টিল শুধু নয়, মুভি ক্যামেরাতেও তাই। অর্থাৎ ভারতীয় সিনেমা ইন্ডাস্ট্রি বিশ্বের অন্যতম বড় বিজনেস মডেল, ১০০ কোটি থেকে ১ হাজার কোটি বক্স অফিস। অথচ ভারত নিজে কোনও আন্তর্জাতিক মানের ক্যামেরা তৈরি করতে পারছে না। আজও!
বিশ্বের সবথেকে দ্রুতহারে স্মার্টফোন ক্রেতার বাড়ছে ভারতে। সবার হাতে হাতে স্মার্টফোন। অথচ ভারত আজও কোনও নিজস্ব স্মার্টফোনকে আন্তর্জাতিক বাজারের ব্র্যান্ডযুদ্ধে দাঁড় করাতেই পারেনি। সবথেকে টপ পাঁচটি মডেল হল স্যামসাং, হিউয়েই, অ্যাপল, জিওমি এবং অপ্পো। পাঁচের মধ্যে দুটোই চীন। ব্যবসার দিক থেকে পৃথিবীর সর্ববৃহৎ পাঁচটি টেলিকম কোম্পানি কী কী? একটাও ভারতের নয়। প্রথম স্থানে চায়না মোবাইল লিমিটেড, এরপর আমেরিকার ভেরিজোন কমিউনিকেশন, আমেরিকারই এটি অ্যাণ্ড টি, ব্রিটেনের ভোদাফোন এবং জাপানের নিপ্পন টেলিগ্রাফ কর্পোরেশন। গোটা দুনিয়ার সবথেকে জনপ্রিয় এবং বিক্রি হওয়া টেলিভিশন মডেল কোন কোন দেশের? দক্ষিণ কোরিয়ার স্যামসাং এক নম্বরে। এরপরের স্থানও তাদের, এল জি। তারপর জাপানের সোনি, আমেরিকার ভিজিও এবং চীনের টিসিএল। ভারত নেই।
বিশ্বের সবথেকে ব্যবহার করা ইন্টারনেটের সার্চ ইঞ্জিন কোনগুলি? গুগল, বিং, ইয়াহু, আস্ক ডট কম। চীন কিন্তু আমেরিকার সার্চ ইঞ্জিন ব্যবহার করেই না বলা যায়। তাদের নিজেদের সার্চ ইঞ্জিন বাইডু। সবথেকে ব্যবহৃত সার্চ ইঞ্জিন। আমরা সারাক্ষণ ইন্টারনেটে মুখ গুঁজে আছি। কিন্তু এখনও ভারতের একটিও নিজস্ব সার্চ ইঞ্জিন জনপ্রিয় হল না।
আমরা এত যুদ্ধ ভালোবাসি। একবার পাকিস্তানের সঙ্গে যুদ্ধ যুদ্ধ পরিস্থিতি হলে প্রায় সকলেই ওয়ার স্পেশালিস্ট, আর্মি বিশেষজ্ঞ এবং দেশভক্তির যোদ্ধায় পরিণত হই, অথচ ভারত আজও নিজেদের অস্ত্রশস্ত্র নিজেরা তৈরি করার মতো জায়গায় যেতে পারল না কেন? আমরা শুধুই অস্ত্র কিনি অন্যদের থেকে। আমাদের বন্ধু ভাবে ইজরায়েল, আমেরিকা, ফ্রান্স, রাশিয়া, ব্রিটেন সকলেই। কেন? কারণ আমরা তাদের সবথেকে বড় প্রতিরক্ষা সরঞ্জামের ক্রেতা। আসলে আমরা বাজার। ১৩০ কোটির কর্পোরেট বাজার। তাই আমরা বন্ধু। অস্ত্রনির্মাণে আমরা উন্নত দেশগুলিকে চ্যালেঞ্জ করতে পারছি না কেন?
এই যে কোনও আধুনিক সভ্যতার উপকরণ নির্মাণেই আমরা পশ্চিমি দেশের সঙ্গে পাল্লা দিতে পারছি না এটাই কি শেষ কথা? ভারত কি সত্যিই কোনও আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডিং-এই এক নম্বর নয়? এটা ভুল ধারণা। আমরা এক নম্বর স্থান পেয়েছি একটি আন্তর্জাতিক ইস্যুতে। সেটি হল ফেক নিউজ। মাইক্রোসফট সম্প্রতি একটি সমীক্ষা করে জানিয়েছে, বিশ্বের সবথেকে বেশি ফেক নিউজ প্রচারের জায়গায় পরিণত হয়েছে ভারত। গোটা বিশ্বের অ্যাভারেজ যেখানে ৫৭ শতাংশ, ভারতে সেটা ৬০ শতাংশ। সবথেকে বিপজ্জনক ট্রেণ্ড হল ভারতে ক্রমেই ফেক নিউজই রিয়াল নিউজে পরিণত হয়ে যাচ্ছে। আসন্ন লোকসভা ভোটের আগে এই প্রবণতা আরও বেড়ে চলেছে। শুধু ফেক নিউজ নয়, অনলাইনে অভদ্র ব্যবহার, যৌনতা প্ররোচনামূলক পোস্ট, ভুল তথ্য শেয়ার এবং মতের অমিল হলেই পরস্পরকে চরমভাবে গালিগালাজ করার প্রবণতা ভারতে প্রবলভাবে বেড়ে চলেছে। এই তথ্য জানা যাচ্ছে মাইক্রোসফটের ‘ডিজিটাল সিভিলিটি ইনডেক্স’ সমীক্ষায়। সেখানে অনলাইনে অভব্য আচরণের ঝুঁকিপূর্ণ দেশ হিসেবে মোট ২২টি দেশকে চিহ্নিত করা হয়েছে। তার মধ্যে ভারতের স্থান প্রথম সাতের মধ্যে। ভারতে সবথেকে বেশি ফেক নিউজ ছড়ানো হয় ধর্ম ও রাজনীতি নিয়ে। কেন এত বাড়ছে ফেক নিউজ? শুধুই কি রাজনৈতিক ও সামাজিক বিভাজন ঘটিয়ে সেই থেকে ফায়দা লোটা? তার পাশে উল্লেখযোগ্য যে তথ্য পাওয়া যাচ্ছে, তা হল ক্রমেই ফেক নিউজ একটি দুর্দান্ত লাভজনক বিজনেস মডেল হয়ে উঠেছে। নিয়মটা হল, প্রথমেই একটা ফেসবুক পেজ তৈরি করা হবে। এরপর সেই পেজ কারা কারা দেখছে সেটি ট্র্যাক করা হয়। তার জন্য থাকে প্রফেশনাল হ্যাকার। কতবার সেই পেজ খোলা হয়েছে সেটা মনিটর করা হয় এবং তারপর লাইকের সংখ্যা ধরে ধরে এগনো হয় সেটিকে গ্রুপে গ্রুপে পোস্ট করা। আমার রাজনৈতিক ও ধর্মীয় অবস্থানের সঙ্গে সাযুজ্যপূর্ণ পোস্ট দেওয়া হলে স্বাভাবিকভাবেই আমি সেগুলির প্রতি আকৃষ্ট হই বেশি বেশি। কারণ ওইসব পোস্টে যেসব তথ্য ও যুক্তি দেওয়া থাকে সেগুলিকে আমি ব্যক্তিগতভাবেও আমার বিরুদ্ধপক্ষীয়দের সঙ্গে তর্কে ব্যবহার করতে পারবো। যদিও সেই তথ্যগুলির সিংহভাগ মিথ্যা। আমাদের কাছে তর্কযুদ্ধে জয়টাই বেশি জরুরি। সত্যমিথ্যার বিচার নয়। ফলো করতে থাকি। লাইক করতে থাকি। এভাবে যখন এরকম ফেসবুক পেজগুলির লাইক ও ফলো করার সংখ্যা কয়েক লক্ষ পেরিয়ে যায়, তখনই দেখা যায় বিজ্ঞাপন বাড়ছে। এভাবে পেজটি একটি লাভজনক ব্যবসায় পরিণত হয়। আর তারপর সেই পেজটি বিক্রি করার ডিল শুরু হয়ে যায়। ওই পেজ কাজে লাগবে এরকম রাজনৈতিক, ধর্মীয়, সামাজিক সংগঠনের সোশ্যাল মিডিয়া উইং ওইসব পেজ কিনে নেয় বিপুল টাকা দিয়ে। এমনকী সাধারণ ব্যবসায়ীও সেই পেজ বেশি দামে কিনে তারপর নিজের মতো আরও অন্য কনটেন্ট দিয়ে আরও ব্যবসা বাড়ানোর জন্য নতুন স্পনসর খুঁজে নেয়।
বেশ কিছু ফেক নিউজের মধ্যেই দেখা যায় কয়েকটি শব্দ হাইলাইট করা কিংবা তার নীচে লেখা থাকবে রিলেটেড নিউজ। সেখানে ক্লিক করলে একটা ওয়েবসাইট বেরিয়ে আসবে। আমরা সরল মনে ভাবছি ওই ওয়েবসাইট হল ওই পোস্টে লেখা যুক্তির সপক্ষে সোর্স বা প্রমাণ। কিন্তু আমরা জানতেই পারি না ওই বিশেষ ফেসবুক পেজ যারা চালাচ্ছে তারাই সেই ওয়েবসাইট খুলেছে। এর ফলে যারাই ওই পেজ পড়ছে, তারা আবার ক্লিক করে এই ওয়েবসাইটেও চলে যাচ্ছে আরও তথ্যের আশায়। এভাবে ভিউয়ারশিপ বেড়ে চলে এবং বিজ্ঞাপনও দ্বিগুণ হয়ে যায়। সেই কারণেই যতটা বিশ্বাসযোগ্যভাবে কোনও মিথ্যা খবর ও ভিডিও লেখা ও তৈরি করা হবে ততই সেটির বিজনেস বাড়ছে। তাই বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, সংগঠনে রিসার্চ করা ও পোস্ট লেখার জন্য যাদের রিক্রুট করা হয় তাদের প্রতি পোস্ট পিছু যথেষ্ট মোটা টাকা দেওয়া হয়। অথবা মাসিক স্যালারির ব্যবস্থা। সেটা কখনও সখনও ৫০ হাজার টাকাও ছাপিয়ে যায়। আর কনটেন্ট ডিরেক্টর বেতন পায় এক লক্ষ টাকার বেশি। ফেক নিউজ নিছক রাজনৈতিক দল, ধর্মীয় সংগঠনগুলিকে লাভ দেয় তাই নয়, এটা সবটাই একটা ইন্ডাস্ট্রি। আমরা বোকার মতো আমাদের প্রিয় দলের হয়ে অনলাইনে অবিরত যুদ্ধ করি, একে অন্যকে গালিগালাজ করি, ফেক নিউজ শেয়ার করি। আমাদের আর্থিক, সামাজিক লাভ হয় না কিছু। সাময়িক আত্মতৃপ্তি পাই যে ‘কেমন দিলাম’! কিন্তু আদতে আমাদের ব্যবহার করেই কোটি কোটি টাকা ব্যবসার লেনদেন হয়ে চলেছে। সে কোটি টাকার বিজনেস মডেলের সূত্রপাত নিছক একটি গ্রুপ অথবা পেজ স্টার্ট করে। নো ইনভেস্টমেন্ট।
অনলাইনে দুরকম মিডিয়া আছে। একটি সরকারের কাছে রেজিস্টার করা মিডিয়া সংস্থা। তাদের মালিক, লগ্নি, শেয়ার, রেজিস্ট্রেশন নম্বর সবই সরকারের কাছে আছে। পাশাপাশি দ্রুত বিশ্বজুড়ে আর একটি সংস্থা তৈরি হচ্ছে, তার নাম কনটেন্ট কোম্পানি। স্বচ্ছ কনটেন্ট কোম্পানির পাশাপাশি ক্রমেই বাড়ছে ফেক নিউজের কোম্পানিও। এই সংস্থাগুলির হয়ে লেখার জন্য কনটেন্ট রাইটার, এডিটর আর গ্রাফিক্স আর্টিস্ট রিক্রুট করা হয়। তাদের কাজ হল, যে দল বা সংগঠনের সঙ্গে কন্ট্রাক্ট হয়েছে, তাদের সুবিধামতো ১) বিভিন্ন অতীত ইতিহাসকে ভুল তথ্য সহযোগে পোস্ট করা ২) বর্তমান ঘটনার সঙ্গে ফোটোশপ করা ছবি দিয়ে একটা নিউজের মতো দেখতে আইটেম বানানো আর ৩) এডিটিং করে ভিডিও শেয়ার করা। উদাহরণ হিসেবে যেমন ধরা যাক, একটি রাজনৈতিক সমাবেশে একজন নেতা বা নেত্রী তাঁর প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে বললেন, ‘ওই দলটি যদি ক্ষমতায় আসে, তাহলে কিন্তু ভারতের পক্ষে সেটা হবে চরম বিপজ্জনক। ভারতের ভালোর জন্যই তাই ওই দলকে ভোট দেবেন না। ’এবার ঠিক এই বক্তৃতার ক্লিপিংস নিয়ে ফেক নিউজ ফ্যাক্টরিতে শুরু হয় এডিটিং। সূক্ষ্ম কাজ। বেছে বেছে যেখানে ‘ভারতের’ শব্দটি বলা হয়েছে, সেখানেই ওই বক্তার গলাটি নকল করে এডিটেড ভার্সানে ঢুকিয়ে দেওয়া হয় নতুন শব্দ। ‘পাকিস্তানের’। তৎক্ষণাৎ বাক্যটি কী দাঁড়াল? ‘ওই দল যদি ক্ষমতায় আসে তাহলে কিন্তু ‘পাকিস্তানের’ পক্ষে সেটা হবে চরম বিপজ্জনক। তাই ‘পাকিস্তানের’ ভালোর জন্য ওই দলকে ভোট দেবেন না।’ ব্যস! এবার এটা শেয়ার করা শুরু হল। ওই নেতানেত্রীর বিরোধীরা তো বটেই, তাঁদের সমর্থকরাও ভাবতে শুরু করলেন এরকম কথা বলা ঠিক হয়নি। এটা তো পাকিস্তানের হয়ে কথা বলা! এভাবেই সার্কুলেট হতে থাকে ফেক নিউজ। এই যে কনটেন্ট কোম্পানি এগুলির কোনও সরকারি রেগুলেশন নেই। ভারতে রেজিস্টার্ড মিডিয়ায় সরাসরি এখনও বিদেশি কোনও মিডিয়া সংস্থা আসেনি। শেয়ার রয়েছে। পরিচালনায় নেই। কিন্তু সেই নিয়ন্ত্রণ কনটেন্ট মার্কেটিংয়ে নেই। এটা একাটা গ্লোবাল প্ল্যাটফর্ম। তাই বিদেশি অজানা সংস্থাও লগ্নিতে ঢুকে পড়েছে।
হোয়াটস অ্যাপের প্রতিটি অ্যাকাউন্টের অ্যাক্টিভেশনের সঙ্গে সঙ্গে মোবাইল নম্বর, আইপি অ্যাড্রেস আর কেরিয়ার ইনফরমেশন মাদার সার্ভারে চলে যায়। এমনকী কে টাইপ করছে সেটাও জানা সম্ভব। কিন্তু কী টাইপ করছে সেটা হোয়াটস অ্যাপ জানতে পারে না (অন্তত তারা সেরকমই দাবি করে)। হোয়াটস অ্যাপ কর্তৃপক্ষ বলে, এটা এন্ড টু এন্ড এনক্রিপশনের প্রাইভেসি। কিন্তু একটি মেসেজ পাঁচটির বেশি শেয়ার করা যাবে না। ফেক নিউজ যারা ছড়ায় তারা সেই কারণে একসঙ্গে বহু মোবাইল থেকে বাল্ক গ্রুপ তৈরি করে। আর সেভাবে প্রতিটি গ্রুপে পাঁচটি করে ফেক নিউজ পোস্ট করে মাল্টিপল শেয়ার করে দেওয়া শুরু হয়। ফেক নিউজ শেয়ারকারীরা জেনে যায় আমাদের কারা কারা সেই পোস্ট রিপোস্ট অথবা রিশেয়ার করেছি। তারা এরপর আমাদের টার্গেট করে রোজই কিছু না কিছু শেয়ার করতে থাকে। সেসব আমাদের পছন্দসই সাবজেক্ট হওয়ায় আমরাও শেয়ার করতে থাকি। সত্যকে আমরা চ্যালেঞ্জ করে বলি, তুমি মিথ্যে। মিথ্যেকে আমরা সাদরে বরণ করে বলি, তুমিই সত্য!
এভাবে ক্রমেই হারিয়ে যায় আসল নিউজ। আসল ইতিহাস। আসল সত্য। একটি সমাজ ক্রমেই বিশ্বাস করতে শুরু করে, তার যেটা পছন্দ সেটাই সত্য! তার যেটা অপছন্দ সেটা‌ই মিথ্যা। আর তাই নতুন যুগের নতুন ধ্রুবপদ—মিথ্যাই সত্য!
08th  March, 2019
সন্ত্রাসবাদীদের চক্রব্যূহে ফেঁসে
রয়েছেন ইমরান খান
মৃণালকান্তি দাস

২০১৩ সালে মার্কিন বাহিনীর ড্রোন হামলায় নিহত হয়েছিলেন পাকিস্তানি তালিবান কম্যান্ডার ওয়ালি-উর-রেহমান। প্রতিবাদে ফেটে পড়েছিলেন ইমরান খান। সেদিন ট্যুইট করে বলেছিলেন, ‘ড্রোন হামলায় শান্তিকামী নেতা ওয়ালি-উর-রেহমানকে হত্যার মাধ্যমে প্রতিশোধ, যুদ্ধ ও মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেওয়া হল যোদ্ধাদের। একদমই মানতে পারছি না।’
বিশদ

অথ শ্রীমহাভারত কথা
গৌরী বন্দ্যোপাধ্যায়

আবার এক মহাভারত যুদ্ধ সমাগত। রণবাদ্য বাজিয়ে যুদ্ধের দিনক্ষণ ঘোষিত হয়েছে, আকাশে-বাতাসে সেই যুদ্ধের বার্তা ভাসছে, প্রস্তুতি চলছে নানা স্তরে, সর্বত্র সাজ সাজ রব উঠে গেছে। বাদী, সম্বাদী, বিবাদী সব দলই নানা উপায়ে নিজেদের শক্তি বৃদ্ধি করে চলেছে। সাম, দান, দণ্ড, ভেদাদি প্রতিটি উপায়ই সমাজের নানা স্তরে নানাভাবে পরীক্ষিত হচ্ছে।
বিশদ

14th  March, 2019
ভোটজয়ে যুদ্ধের ভাবাবেগের একাল সেকাল
বিশ্বনাথ চক্রবর্তী

 পুলওয়ামার ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে ভারতীয় বিমান বাহিনীর প্রত্যাঘাত এবং পাকিস্তানের এফ-১৬ বিমানের আক্রমণ প্রতিহত করা, কোনও শর্ত ছাড়াই উইং কমান্ডার অভিনন্দনকে পাকিস্তানের খপ্পর থেকে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে মুক্ত করে এনে ভারত যে শৌর্যের প্রদর্শন করেছে তা বিরাট গর্বের।
বিশদ

12th  March, 2019
গোঁফ দিয়ে যায় চেনা?
অতনু বিশ্বাস

 উইং কম্যান্ডার অভিনন্দনের অকুতোভয় সাহসিকতা আর কর্তব্যনিষ্ঠায় মোহিত ভারতবাসী। তারা খুঁজতে চায় সেই রসায়নের গূঢ় তত্ত্ব। সুকুমারী দুনিয়ার হেড অফিসের বড়বাবু তো সেই কবেই বলেছেন, গোঁফ দিয়েই নাকি চেনা যায় আমাদের সব্বাইকে। তবু, ছেলেবেলা থেকে এনিয়ে সন্দেহ আমার পুরোদস্তুর।
বিশদ

12th  March, 2019
যুদ্ধ বনাম শান্তি এবং বাঙালি মগজের অবস্থান
 

শুভময় মৈত্র: সকালবেলা দুধের ডিপোয় গভীর আলোচনা। পলিথিনবন্দি দুশো গ্রাম দই আর পাঁচশো মিলিলিটার গুঁড়ো গোলা দুধ কিনতে গিয়ে মহা বিপদে পড়তে হল। একটু আধটু লিখি সেকথা যাঁরা জানেন তাঁরা ঘিরে ধরে বললেন যে যুদ্ধ নিয়ে লিখুন যত খুশি, তবে নিজের মাথা বিক্রি করে নয়। অর্থাৎ বক্তব্য খুব পরিষ্কার। যুদ্ধের পক্ষে বা বিপক্ষে যাই লিখুন না কেন, সেটার পিছনে যেন নিজের ধান্দা না থাকে।   বিশদ

11th  March, 2019
জাতীয়তা-বিরোধী সংবাদপত্র! 

পি চিদম্বরম: রাফাল বিতর্ক থামবে না! পুলওয়ামায় জঙ্গিহামলা এবং অতঃপর ভারতীয় বায়ুসেনার প্রত‌্যাঘাতের কারণে বিতর্কটা যদি যবনিকার আড়ালে চলে গিয়ে থাকে, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিই সেটাকে মঞ্চের মাঝখানে এনে ফেলেছেন প্ররোচনামূলক মন্তব‌্য করে—‘‘আমাদের যদি রাফাল যুদ্ধবিমান থাকত ...।’’  বিশদ

11th  March, 2019
মমতার নামে কুৎসা করে
বাংলার ভোট জেতা যাবে?
শুভা দত্ত

 কুৎসা ছাড়া কী? মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দেশপ্রেমিক নন! তিনি সেনার মর্যাদা গৌরব বোঝেন না! তিনি পাকিস্তানের হয়ে কথা বলছেন! এসব কুৎসা ছাড়া কী? আমাদের রাজ্যে তো বটেই, গোটা দেশেও কি কেউ এক মুহূর্তের জন্য বিশ্বাস করবে এইসব? এমনকী মমতার অন্ধ বিরোধীরাও কি এমন কথা মানবে?! অসম্ভব।
বিশদ

10th  March, 2019
ভোটবাজার: ইস্যুগুলো সব গেল কোথায়!
মেরুনীল দাশগুপ্ত

ইমরান খান বুদ্ধিমান। দুনিয়া কাঁপানো এই ক্রিকেটার আজকের হাই-টেক আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে কতটা দর তার হিসেব না নিয়েও বলা যায়—তিনি বুদ্ধিমান এবং অবশ্যই বিচক্ষণ। তিনি জানেন, লড়াইয়ের ময়দানে কখনও-সখনও কৌশলগত কারণে এক-পা এগনোর জন্য দু-পা পিছিয়েও আসতে হয়, আসতে হতে পারে।  বিশদ

07th  March, 2019
শামিমার নাগরিকত্ব কেড়ে নেওয়া
কি আদৌ ব্রিটেনের সংস্কৃতির অঙ্গ!
রূপাঞ্জনা দত্ত

‘আমার মাত্র একটিই নাগরিকত্ব আছে। সেটাও যদি কেড়ে নেওয়া হয়, তাহলে আমার আর কিছু থাকবে না। ব্রিটেনে যদি আমাকে শিশু সন্তানসহ ফিরতে দেওয়া হয়, তাহলে জেলে যেতেও রাজি।’ শামিমা বেগমের এই মম্তব্যই ব্রিটেনজুড়ে ঝড় তুলেছে অভিবাসী আইন নিয়ে।  বিশদ

07th  March, 2019
নীতি-যুদ্ধ-রাজনীতি
নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী

নৈতিক দৃষ্টিতে যে আচার-আচরণ এবং ব্যবহার ভুল বলে মনে হয়, সেই আচার-আচরণ এবং ব্যবহার রাজনৈতিকভাবে কখনও ঠিক হতে পারে না—এই সত্যটা সকলের আগে বুঝে নেওয়া ভালো। এই সত্য ভাবগত বুদ্ধিতে যতটা সহজ, কার্যত এটা ততটাই কঠিন।
বিশদ

05th  March, 2019
যুদ্ধের চাপা দামামা
পি চিদম্বরম

একটি জাতি হিসেবে, বাইরের দিকের নিরাপত্তা (এক্সটার্নাল সিকিউরিটি) এবং অভ‌্যন্তরীণ নিরাপত্তার (ইনটার্নাল সিকিউরিটি) মধ‌্যে স্বাতন্ত্র্যরচনায় আমরা যত্নবান। কোনও কারণে প্রথমটিকে ‘জাতীয়’ (ন‌্যাশনাল) আলখাল্লা পরার অনুমোদন দেওয়া হচ্ছে কিন্তু পরেরটির ক্ষেত্রে নস‌্যাৎ করা হচ্ছে সেই বিশেষ সুবিধাটি।
বিশদ

04th  March, 2019
ভারত-পাক যুদ্ধ পরিস্থিতি আসন্ন ভোটযুদ্ধে মোদিজিকে কি এগিয়ে দিল?
শুভা দত্ত

 এখনও শেষ হয়নি। চলছে। পুলওয়ামার ন্যক্কারজনক জঙ্গি হামলার পর থেকে ভারত-পাকিস্তানের মধ্যে যে যুদ্ধ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল তার রেশ এখনও যথেষ্টই রয়েছে। রয়েছে প্রবল উত্তেজনাও। শুক্রবারও মেন্ধার আখনুর উরি নৌশেরা প্রভৃতি সেক্টরে যুদ্ধ বিরতি চুক্তি লঙ্ঘন করে পাক রেঞ্জাররা দফায় দফায় গোলাগুলি চালিয়েছে এবং তার যোগ্য জবাব দিয়েছে ভারতীয় সেনা। অন্যদিকে এদিনই জঙ্গি সন্ত্রাসে ফের রক্তাক্ত হয়েছে ভূস্বর্গের মাটি—নিহত হয়েছেন সেনা আধা-সেনা ও পুলিস মিলিয়ে পাঁচজন! গুরুতর আহত নিরাপত্তাবাহিনীর চার রক্ষী।
বিশদ

03rd  March, 2019
একনজরে
নয়াদিল্লি, ১৪ মার্চ: বিশ্বকাপের আগে অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে ২-৩ ব্যবধানে ওয়ান ডে সিরিজ হেরেও বিচলিত নন ভারত অধিনায়ক বিরাট কোহলি। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, ‘বিশ্বকাপের জন্য ...

  সংবাদদাতা, বুদবুদ: বুদবুদে শান্তিনিকেতনের আদলে বসন্ত উৎসব ঘিরে প্রস্তুতি তুঙ্গে। বুদবুদের মহাকালী উচ্চ বিদ্যালয়ের মাঠে এই উৎসব এবার দ্বিতীয় বর্ষে পদার্পণ করছে। শান্তিনিকেতনকে বাদ দিয়ে বাঙালির বসন্ত উৎসব কার্যত অসম্পূর্ণ। তাই দোল উৎসবে শান্তিনিকেতন যেতে মুখিয়ে থাকেন অনেকেই। ...

  সংবাদদাতা, নকশালবাড়ি: শিলিগুড়ি মহকুমার নকশালবাড়ি ব্লকের প্রায় লক্ষাধিক বাসিন্দা আজও ডিজিটাল রেশন কার্ড পাননি। তিন বছর আগে তাঁরা খাদ্য দপ্তরে এই কার্ডের জন্য আবেদন করেছেন। কিন্তু সেই কার্ড না পাওয়ায় লোকসভা ভোটের আগে বাসিন্দাদের মধ্যে নতুন করে ক্ষোভ ছড়িয়েছে। ...

 নিজস্ব প্রতিনিধি, হাওড়া: আগামী লোকসভা ভোটে হাওড়া জেলার ১৩ হাজার ৫৮২ জন শারীরিকভাবে প্রতিবন্ধী মানুষ তাঁদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। তাঁদের মধ্যে ১৪১৯ জন দৃষ্টিহীন, ২৩০৬ ...




আজকের দিনটি কিংবদন্তি গৌতম
৯১৬৩৪৯২৬২৫ / ৯৮৩০৭৬৩৮৭৩

ভাগ্য+চেষ্টা= ফল
  • aries
  • taurus
  • gemini
  • cancer
  • leo
  • virgo
  • libra
  • scorpio
  • sagittorius
  • capricorn
  • aquarius
  • pisces
aries

বিদ্যায় অধিক পরিশ্রম করতে হবে। ব্যবসায় যুক্ত ব্যক্তির পক্ষে দিনটি শুভ। প্রেম-প্রীতিতে আগ্রহ বাড়বে। নতুন ... বিশদ


ইতিহাসে আজকের দিন

১৫৬৪ – জিজিয়া কর তুলে দেন মুঘল সম্রাট আকবর
১৮৯২ – লিভারপুল ফুটবল ক্লাব প্রতিষ্ঠিত হয়।
১৮৭২ - ভারতীয় সাক্ষ্য আইন প্রবর্তন।
১৯০৪ - স্বনামধন্য বাঙালি কবি ও লেখক অন্নদাশঙ্কর রায়ের জন্ম
১৯৩৪: রাজনীতিক কাঁসিরামের জন্ম
১৯৩৭ - পৃথিবীর প্রথম ব্লাডব্যাংক চালু হয় শিকাগোতে
১৯৩৯ - বাঙালি ভ্রমণ কাহিনী, রম্যরচনা ও উপন্যাস লেখক জলধর সেনের মৃত্যু
১৯৭৬: অভিনেতা অভয় দেওলের জন্ম
১৯৭৭: অভিনেতা যিশু সেনগুপ্তের জন্ম
১৯৮৩: সঙ্গীতশিল্পী হানি সিংয়ের জন্ম
১৯৮৫ – প্রথম ইন্টারনেট ডোমেইন নাম নিবন্ধিত হয়। (symbolics.com)

ক্রয়মূল্য বিক্রয়মূল্য
ডলার ৬৮.৭০ টাকা ৭০.৩৯ টাকা
পাউন্ড ৯০.৬৮ টাকা ৯৩.৯৭ টাকা
ইউরো ৭৭.২৯ টাকা ৮০.২৪ টাকা
[ স্টেট ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়া থেকে পাওয়া দর ]
পাকা সোনা (১০ গ্রাম) ৩২,৫২০ টাকা
গহনা সোনা (১০ (গ্রাম) ৩০,৮৫৫ টাকা
হলমার্ক গহনা (২২ ক্যারেট ১০ গ্রাম) ৩১,৩২০ টাকা
রূপার বাট (প্রতি কেজি) ৩৮,২০০ টাকা
রূপা খুচরো (প্রতি কেজি) ৩৮,৩০০ টাকা
[ মূল্যযুক্ত ৩% জি. এস. টি আলাদা ]

দিন পঞ্জিকা

৩০ ফাল্গুন ১৪২৫, ১৫ মার্চ ২০১৯, শুক্রবার, নবমী ৪৯/৪৭ রাত্রি ১/৪৫। আর্দ্রা ৫৪/৪৫ রাত্রি ৩/৪৪। সূ উ ৫/৪৯/৫৫, অ ৫/৪১/৫৩, অমৃতযোগ দিবা ৭/২৩ মধ্যে পুনঃ ৮/১২ গতে ১০/৩৪ মধ্যে পুনঃ ১২/৫৬ গতে ২/৩২ মধ্যে পুনঃ ৪/৭ গতে অস্তাবধি। রাত্রি ৭/১৯ গতে ৮/৫৬ মধ্যে পুনঃ ৩/২২ গতে ৪/১১ মধ্যে, বারবেলা ৮/৪৮ গতে ১১/৪৬ মধ্যে, কালরাত্রি ৮/৪৩ গতে ১০/১৫ মধ্যে।
৩০ ফাল্গুন ১৪২৫, ১৫ মার্চ ২০১৯, শুক্রবার, নবমী রাত্রি ৯/০/৫০। আর্দ্রানক্ষত্র রাত্রি ১১/৩২/৪৫, সূ উ ৫/৫০/২৮, অ ৫/৪০/৪৯, অমৃতযোগ দিবা ৭/২৫/১১ মধ্যে ও ৮/১২/৩২ থেকে ১০/৩৪/৩৬ মধ্যে ও ১২/৫৬/৫১ থেকে ২/৩১/২৪ মধ্যে ও ৪/৬/৬ থেকে ৫/৪০/৪৯ মধ্যে এবং রাত্রি ৭/১৮/৬ থেকে ৮/৫৫/২৩ মধ্যে ও ৩/২৪/৩২ থেকে ৪/১৩/১১ মধ্যে, বারবেলা ৮/৪৩/৩ থেকে ১০/১৬/৫১ মধ্যে, কালবেলা ১০/১৬/৫১ থেকে ১১/৪৫/৩৯ মধ্যে, কালরাত্রি ৮/৪৩/১৪ থেকে ১০/১৪/২৬ মধ্যে।
 ৭ রজব
এই মুহূর্তে
দাসপুরে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে নয়ানজুলিতে বাস 
টোটোকে বাঁচাতে গিয়ে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে নয়ানজুলিতে পড়ে গেল কনেযাত্রীবোঝাই বাস। ...বিশদ

07:55:31 PM

২৫টি আসনে প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করল বামেরা 
১৭টি আসন ছেড়ে ২৫টি আসনে প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করল বামফ্রন্ট। ...বিশদ

06:51:12 PM

আজ সন্ধ্যায় দক্ষিণবঙ্গে ঝড়বৃষ্টির সম্ভাবনা 
আজ সন্ধ্যায় দক্ষিণবঙ্গের বেশ কয়েকটি জেলায় ঝড়বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে বলে ...বিশদ

05:01:43 PM

২৬৯ পয়েন্ট উঠল সেনসেক্স

04:02:07 PM

নিউজিল্যান্ডের মসজিদে হামলার ঘটনায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৪৯ 

02:22:06 PM

মাদারিহাটে গাড়িতে ধাক্কা মারল ট্রাক, জখম ১০ 

01:36:00 PM