Bartaman Patrika
বিশেষ নিবন্ধ
 

লোকসভা ২০১৯: বাংলার ভোটে
মমতাভক্তি ঠেকানো যাবে?
শুভা দত্ত

যুদ্ধ শুরু হয়ে গেল। ভোটযুদ্ধ ২০১৯। আগামী লোকসভার দখল কে নেবেন, আগামী পাঁচ বছর কার হাতে থাকবে দেশ-শাসনের ভার তার ফয়সালা হবে এই যুদ্ধের ময়দানে। গত বৃহস্পতিবার এ রাজ্যের সঙ্গে সারা দেশে শুরু হয়ে গেল সেই যুদ্ধ। আমাদের রাজ্যে আলিপুরদুয়ার এবং কোচবিহার—উত্তরবঙ্গের এই দুই রণাঙ্গনে টানটান উত্তেজনার মধ্যে যুযুধান পক্ষের নেতামন্ত্রী, সেনাসামন্ত, কেন্দ্রীয় প্যারামিলিটারি, রাজ্য পুলিস বাহিনী এবং অবশ্যই ভোট কমিশনের কর্তাব্যক্তিদের উপস্থিতিতে জমজমাট উদ্বোধন হল লোকসভা যুদ্ধের। এবং এই যুদ্ধে জয়-পরাজয়ের যাঁরা আসল বিচারক, ভোট মেশিনের বোতামে যাঁদের আঙুলের একটি হালকা চাপ ঠিক করে দেবে আমাদের দেশের আগামী পাঁচ বছরের হত্তাকত্তা-বিধাতাকে— সেই আমজনতা সার বেঁধে সকাল থেকে সন্ধে লাইনে দাঁড়িয়ে রইলেন সুশৃঙ্খলভাবে এবং প্রয়োগ করলেন তাঁদের নির্বাচনী ক্ষমতা। তাঁদের আনুকূল্যে ওই দুই রণাঙ্গনে ভোট পড়ল আশি শতাংশেরও বেশি। তার চেয়েও বড় কথা, ভোট পড়ল একেবারে যাকে বলে নির্বিঘ্নেই।
কিন্তু, আশঙ্কা যথেষ্টই ছিল। ওই দুই যুদ্ধের ময়দানে বহিরাগতদের দিয়ে বড় গোলমাল পাকানোর চেষ্টা হতে পারে বলে রাজ্যের সংশ্লিষ্ট মহলে খবর ছিল বলেও শুনেছিলাম। কিন্তু, শেষঅব্দি কিছু যে ঘটেনি তার জন্য কেন্দ্রীয় বাহিনীর পাশাপাশি রাজ্য পুলিসেরও বিশেষ ধন্যবাদ প্রাপ্য হতে পারে। তার কারণ, উত্তেজনাপ্রবণ এলাকাগুলো নিয়ন্ত্রণে বা ভিন রাজ্য থেকে দুষ্কৃতী ঢোকার রাস্তা বন্ধ করার ক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় বাহিনীর চেয়ে রাজ্য পুলিসের ভূমিকা ও কৃতিত্ব কোনও অংশে কম ছিল না। অথচ, এই পুলিস বাহিনীকে নিয়ে ভোটের আগে কত কথা! পুলিস নাকি শাসকদলের হুকুম মেনে চলে, তাদের হয়ে কাজ করে! তা যদি হতো তাহলে কি এমন নির্বিঘ্ন শান্তিপূর্ণ নির্বাচন আমরা দেখতে পেতাম? আলিপুরদুয়ারে তো গোটা দিনে কোথাও একটা চড়া গলাও শোনা গেল না। কোচবিহারে যেটুকু টিভিতে দেখাল অত বড় লোকসভা ক্ষেত্রের নিরিখে সেটা কিছুই নয় বলা যায়! তবে, জেলাশাসকের অফিসে ধর্না নিয়ে একটি দলের প্রার্থীর দেহরক্ষী ও কেন্দ্রীয় বাহিনীর কয়েকজন জওয়ান যে অতিসক্রিয়তা দেখালেন এবং রাজ্য পুলিসের সঙ্গে প্রায় হাতাহাতিতে জড়িয়ে পড়লেন সেটা সত্যিই দুর্ভাগ্যজনক। বাহিনী, সে রাজ্যের হোক কী কেন্দ্রের— পারস্পরিক মর্যাদা রক্ষা করতে হবে না! রাজ্যে পুলিস তো অন্যায্য হস্তক্ষেপ করতে যায়নি। ভোটে আইনশৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্ব তো তাঁদেরও কিছু কম নয়। ভোটের সময় জেলাশাসকের অফিসের গুরুত্ব কে না বোঝেন? তো সেই অফিসে গোলমাল হলে তা থামাতে বা নিয়ন্ত্রণে রাখতে তাঁদের তো উদ্যোগ নিতেই হবে। সেখানে তাঁদের কাজে ভোট নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা বাহিনীর কেউ কেউ বা প্রার্থীর দেহরক্ষী যদি প্রতিবন্ধক হয়ে দাঁড়ায়, তবে কি সেটা শোভন সঙ্গত হয়? আশা করা যায়, নির্বাচন কমিশন ব্যাপারটা গুরুত্ব দিয়ে দেখবেন। এমন অনভিপ্রেত ঘটনা যাতে ভোটযুদ্ধের আগামী দিনগুলোতে না ঘটে তার ব্যবস্থা করবেন। আসলে, সংঘর্ষের বড় ঘটনা না ঘটলেও যুযুধান পক্ষগুলোর মধ্যে, বিশেষত, তৃণমূল বিজেপি শিবিরের মধ্যে, একটা চড়া লড়াইয়ের মেজাজ আছেই। একটা সময় পর্যন্ত এ রাজ্যে প্রধান যুযুধান ছিল সিপিএম নেতৃত্বাধীন বাম ও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৃণমূল। রাজ্যে কংগ্রেসের রাজনৈতিক ভূমিকা সেই আশির দশকের পর থেকে ক্রমশ দুর্বল হয়েছে। মমতার তৃণমূলের উত্থানের পর সেই দুর্বলতা আরও প্রকট হয়েছে। পরবর্তীতে দেশে কংগ্রেসের সরকার হলেও রাজ্যে কংগ্রেসের স্বাস্থ্য ফেরেনি বরং রাজনৈতিক দিক থেকে জনমহলে তাঁদের গ্রহণযোগ্যতা তলানিতে গিয়েছে। ফলে, তৃণমূলের জন্মের পর থেকে ভোটযুদ্ধই হোক কি দৈনন্দিন রাজনৈতিক সংঘাত— মূল লড়াইটা গিয়ে দাঁড়িয়েছিল একা মমতা বনাম তৎকালের শাসক সিপিএম নেতৃত্বাধীন বামেদের। নানা সময়ে কংগ্রেস সহ আরও অনেকেই এই মমতা-বিরোধী শিবিরের দোসর হয়েছিল, সেটাও অনস্বীকার্য। এই পর্বতপ্রমাণ প্রতিকূলতা ঠেলেই মমতাকে এগতে হয়েছে দিনের পর দিন, প্রাণের ঝুঁকি নিয়ে অবিচল থাকতে হয়েছে তাঁর মা-মাটি-মানুষের সেবায়। শারীরিক লাঞ্ছনা থেকে প্রায় প্রাণঘাতী আঘাত সহ্য করতে হয়েছে তাঁকে। এবং তাঁর এই বিদ্রোহিণী জননেত্রী ভাবমূর্তিতেই মজেছে বাংলার মানুষ, আর তার জেরেই ২০১১ সালে অজেয় বলে কথিত সিপিএমের লালদুর্গ ধূলিসাৎ হয়েছে, মা-মাটি-মানুষের নেত্রী অভূতপূর্ব জনজোয়ার তুলে সিপিএম ও তার শরিকদের কেবল ক্ষমতাচ্যুতই করেননি, প্রথম মহিলা মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে রচনা করেছেন এক নতুন ইতিহাস। অতঃপর সিপিএমের ছেড়ে যাওয়া মৃত্যুপথযাত্রী পশ্চিমবঙ্গের বুকে মাত্র কয়েক বছরের ঐকান্তিক চেষ্টায় নতুন প্রাণসঞ্চার করেছেন, উন্নয়নের বিপুল উদ্যোগে বাংলার পাহাড়-জঙ্গল থেকে সাগর সাজিয়ে দিয়েছেন অভাবনীয় রঙে, গরিব সাধারণের ঘরে ঘরে নানান সরকারি প্রকল্পের সুযোগ সুবিধা পৌঁছে দিয়ে ফুটিয়ে তুলেছেন হাসি এবং বিশ্বের দরবার থেকে আদায় করে নিয়েছেন সম্মান স্বীকৃতি। কন্যাশ্রী সবুজসাথীর মতো সরকারি প্রকল্প আজ বিশ্ববন্দিত। আমাদের পশ্চিমবঙ্গ আজ বিশ্ববাংলা।
এই বদলে যাওয়া বাংলায় আজ সিপিএম কোথায়! কংগ্রেসই বা কোথায়? দূরবিনে দেখতে হয়। কিন্তু, প্রকৃতির নিয়মে কোনও শূন্যস্থানই শূন্য থাকে না। বাংলার রাজনীতিতেও থাকেনি। সিপিএম কংগ্রেসের দুর্বলতা এবং জনসমর্থন হারানোর পথ ধরে শূন্যস্থান ভরাতে একটু একটু করে উঠে এসেছে বিজেপির গেরুয়া বাহিনী। আজ এই ২০১৯ সালের ভোটযুদ্ধের সময় সকলেই স্বীকার করবেন—এ রাজ্যের প্রধান যুযুধান মমতার তৃণমূল এবং বিজেপির পদ্মশিবির। বিজেপি নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বে দেশ শাসনের এক টার্ম শেষ করে পরের টার্ম দখলের জন্য ঝাঁপিয়েছে। ভোটপূর্ব জনসমীক্ষাগুলোর প্রায় প্রত্যেকটিতেই মোদিজির ক্ষমতায় ফিরে আসার আভাস মিলেছে। কিন্তু নানান ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে ও শেষ পাঁচ রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচনের ফলের চেহারা চরিত্র দেখে উত্তরপ্রদেশ মধ্যপ্রদেশ দক্ষিণ ভারত এবং পশ্চিম ভারতের কিছু রাজ্যে এবার কতটা কী মিলবে তা নিয়ে মোদিজি শিবিরে কিছু চিন্তা জেগেছেই। সেই ঘাটতি মেটাতে এবার বাড়তি নজরে পূর্বাঞ্চল ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলে। ফলে, বাংলায় পদ্মবাহিনীর সঙ্গে এ রাজ্যে মমতার তৃণমূলের টক্করে যে বাড়তি তাপ ছড়াবে তাতে সন্দেহ কি? এবার রাজ্যে ভোটযুদ্ধের ময়দানে নিরাপত্তা জোরালো করতে আধা সেনার বহর বৃদ্ধি তার ইঙ্গিত দিয়েই রেখেছে। তার সঙ্গে বিজেপির রাজ্য নেতাদের গরম গরম বক্তৃতা এবং এমনকী রাজ্যের সভাগুলোতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিজির মমতামুখী আক্রমণে অতিরিক্ত ধার সেই ইঙ্গিতকে যে আরও স্পষ্ট করে তুলেছে তাতেই বা সন্দেহ কি?
কিন্তু, কথা হল—ভোটটা তো দেবে পশ্চিমবঙ্গের মানুষ। তাঁদের সিংহভাগ যে এখনও মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিকল্প হিসেবে কাউকে ভাবছেন না সেটাও তো ভোটপূর্ব সমীক্ষাগুলোতে উঠে এসেছে। এ রাজ্যে ভোটযুদ্ধের ফল তৃণমূলের পক্ষে ৪২-এ ৪২ হবে কি না জানা নেই, তবে হলেও আশ্চর্য হবেন কি কেউ? আমার এক বন্ধু বলছিলেন, মমতা ৪২-এ ৪২ ডাক দেওয়ার পরও কিন্তু ব্যাপারটা নিয়ে পথেঘাটে সাধারণের মধ্যে হালকা কোনও প্রতিক্রিয়া দেখা যায়নি। বরং, তাঁদের কথা শুনলে মনে হয়েছে এমন ফল হতেও পারে। ৪২-এ ৪২ না হোক ৪০ কি ৩৬ হলেও কি কম? রাজ্যে যে মাত্রায় উন্নয়ন হয়েছে, গ্রাম শহরের প্রান্তিক গরিব থেকে সাধারণ মধ্যবিত্ত যেভাবে সেই উন্নয়নের সুযোগ সুবিধা পেয়েছে তাতে মমতা ছাড়া অন্য কিছু তাঁরা কেন ভাববেন! তাছাড়া বিজেপি শাসিত উত্তরপ্রদেশ ত্রিপুরা ইত্যাদি থেকে মাঝেমধ্যেই যেসব খবর এসেছে বা আসছে তাতে মুখ্যমন্ত্রী মমতার প্রতি ভক্তি বিশ্বাস আরও জোরদারই হচ্ছে। শান্তি সম্প্রীতির ক্ষেত্রেও তো পশ্চিমবঙ্গ গত সাত বছরে একটা দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। এখন প্রশ্ন হল, বাংলার আজকের পরিস্থিতিতে মানুষের মনে মুখ্যমন্ত্রী মমতার যে ভাবমূর্তি তাকে কেবল কথা দিয়ে আর অভিযোগ ব্যঙ্গবিদ্রুপের হুল ফুটিয়ে কিছুমাত্র বিচলিত করা কি সম্ভব?! বাংলার ভোটে বঙ্গজনতার এই মমতাভক্তি ঠেকানো যাবে? এই প্রশ্ন যতদূর জানি রাজ্য বিজেপির অন্দরমহলেও উঠেছে। এ রাজ্যের পদ্মশিবিরে মমতার সঙ্গে সমানে সমানে টক্কর দিতে পারেন এমন নেতা বা নেত্রীর অভাবও যে আছে সেটাও কি অস্বীকার করতে পারছেন দলের শীর্ষস্তরের কর্তারা? কিন্তু তা বলে তো যুদ্ধের আগেই বসে পড়া যায় না। তাই যুদ্ধক্ষেত্রে সর্বশক্তি দিয়েই লড়তে নেমেছে বিজেপি। আর সেই আক্রমণ ঠেকিয়ে একাধিপত্য বজায় রাখতে নেমেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও। প্রথম দফার লড়াই শেষ। দ্বিতীয় দফাও আসন্ন। প্রথম দফা নির্বিঘ্ন হওয়ায় মানুষ যে বুকে বাড়তি বল পেয়েছেন এবং ভোট ব্যাপারে তাঁদের উৎসাহও যে বেড়েছে তা সংশ্লিষ্ট মহলের প্রায় সকলেই স্বীকার করছেন। এখন দেখার শেষদফার লড়াই অব্দি এই শান্তি-আমন বজায় থাকে কি না, নানা প্ররোচনা রুখে ভোটশান্তি বজায় রেখে মমতার বিশ্ববাংলা সম্প্রীতির বাংলা দেশে নতুন নজির গড়তে পারে কি না—ভোটফলের পাশাপাশি তা নিয়েও কিন্তু বাংলার জনমহলে কৌতূহল বাড়ছে।
14th  April, 2019
সোশ্যাল মিডিয়ার যুগে ভোট
শুভা দত্ত

 সপ্তদশ লোকসভা নির্বাচনে দু’টি দফার ভোটগ্রহণ ইতিমধ্যে সমাপ্ত। এই নির্বাচনে সাত দফায় ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন ৯০ কোটি মানুষ। এক্ষেত্রে একটি প্রাসঙ্গিক তথ্য হল, এখন দেশে ৫৬ কোটি মানুষ ইন্টারনেটের সঙ্গে যুক্ত। তাদের সিংহভাগ তরুণ-তরুণী। তারা নিয়মিত ফেসবুক, ট্যুইটার আর হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে খবর দেওয়া নেওয়া করে।
বিশদ

মোদিজি বনাম ইস্তাহার
পি চিদম্বরম

ভারতে প্রতিটি লোকসভার নির্বাচনই অনন‌্য, এমনকী যদি প্রধান দুই প্রতিপক্ষ পুরনোও থাকে। একটি কারণ হল, দুটি নির্বাচনের মাঝে প্রধান দুই প্রতিপক্ষ বাদে বাকি রাজনৈতিক দলগুলি তাদের অবস্থান বদলে ফেলে।
বিশদ

22nd  April, 2019
জনতার এখন একটাই জিজ্ঞাসা: এই
শান্তি শেষপর্যন্ত বজায় থাকবে তো?
শুভা দত্ত

 দ্বিতীয় দফাও শেষ। লোকসভা ভোটযুদ্ধের দ্বিতীয় পর্বও মোটের ওপর শান্তিতেই মিটল। গত বৃহস্পতিবার উত্তরবঙ্গের দার্জিলিং জলপাইগুড়ি ও রায়গঞ্জ—এই তিন আসনে ভোটের লড়াইতে একমাত্র ব্যতিক্রম হয়ে রইল উত্তর দিনাজপুরের চোপড়া! বাংলার ভোটে রক্তারক্তি, মারামারি, বোমাগুলি, খুনোখুনি কোনও নতুন কথা নয়।
বিশদ

21st  April, 2019
কংগ্রেস তো পরিবারকেন্দ্রিক দল, বাকিরা?
মৃণালকান্তি দাস

‘কংগ্রে একটি পরিবারকেন্দ্রিক দল। কংগ্রেসের বেশিরভাগ সভাপতিই নেহরু-গান্ধী পরিবার থেকে এসেছেন। এটা থেকেই বোঝা যায়, এই দলে গণতন্ত্র নেই, একটা বিশেষ পরিবারই এই দল চালায়। বছরের পর বছর ধরে এই পরিবার শুধু নিজেদের উন্নতির কথা ভেবেছে, দেশের উন্নতির কথা ভাবেনি।’
বিশদ

21st  April, 2019
প্রতিবেশীর চোখে ভারতের নির্বাচন
গৌরীশঙ্কর নাগ

বস্তুত আশ্চর্যজনক হলেও পাকিস্তানের তরফে ভারতের নির্বাচনকে সর্বদাই দেখা হয়েছে তাদের জাতীয় স্বার্থের নিরিখে, বিশেষত কাশ্মীরকে কেন্দ্র করে ঘুঁটি সাজানোর ‘গেম প্ল্যান’ হিসেবে। প্রসঙ্গত স্মরণীয়, ১৯৬২ সালের সীমান্ত-সংঘাতের পর থেকে কাশ্মীরের ৩৮,০০০ বর্গকিমি চীনের দখলে রয়েছে। তদুপরি ১৯৬৩ সালে চীনের সঙ্গে সীমান্ত-বোঝাপড়ার মাধ্যমে পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীরের ৫,১৮০ বর্গ কিমি চীনকে ছেড়ে দেয়। এখন ভারতের হাতে থাকা অবশিষ্টাংশও পাকিস্তান কব্জা করতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। তাই ভারতের লোকসভা নির্বাচন পাকিস্তানের কাছে মুসলিমপক্ষীয় বা মুসলিম-বিরোধী এমন অক্ষ গঠনের তাৎপর্যের নিরিখে নয়; পাকিস্তান এ ব্যাপারে অবহিত যে, ভারতে মুসলিম জনসংখ্যা ১৭.২২ কোটি (২০১১ সেনসাস অনুযায়ী)। সেক্ষেত্রে পাক হামলায় মুসলিম জনগোষ্ঠীর নিরাপত্তাও ক্ষুণ্ণ হতে পারে।
বিশদ

20th  April, 2019
তিনটি ক্ষেপণাস্ত্র ও
বিরোধীদের অনৈক্য
রঞ্জন সেন

এবারের ভোটে ফিরে এসেছে এক পুরনো বিতর্ক। তা হল কোনটা ঠিক—একদলীয় শাসন না বহুদলীয় সরকার? আমাদের দেশ দুরকম অভিজ্ঞতার মধ্যে দিয়েই গিয়েছে। দুরকম শাসনেরই স্বপক্ষে ও বিপক্ষে বলার মত নানা কথা আছে। তাই এককথায় এর উত্তর দেওয়া কঠিন। কারণ মানুষ দুরকম সরকারেরই ভালো-খারাপ দুটি দিকই দেখেছেন।
বিশদ

20th  April, 2019
মধ্যবিত্তের ভোটচর্চা 

সমৃদ্ধ দত্ত: ভোট নিয়ে সবথেকে বেশি গল্প কারা করে? মধ্যবিত্ত। ভোট নিয়ে সারাদিন বন্ধুবান্ধব আর পরিচিতদের সঙ্গে ঝগড়া কারা করে? মধ্যবিত্ত। যে নেতানেত্রীরা তাঁদের চেনেনই না, তাঁদের হয়ে জানপ্রাণ দিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ে ছোটবেলার বন্ধু কিংবা আত্মীয়স্বজন অথবা পরিচিত ফ্যামিলি ফ্রেণ্ডকে আক্রমণ করে কারা? মধ্যবিত্ত।  বিশদ

19th  April, 2019
কংগ্রেসের নির্বাচনী প্রচার নিয়ে কিছু সহজ প্রশ্ন
শুভময় মৈত্র

সপ্তদশ লোকসভা গঠনের লক্ষ্যে ভোটগ্রহণ শুরু হয়ে গেল ১১ এপ্রিল, বৃহস্পতিবার। সাত দফায় চলবে এই ভোট, ১৯ মে পর্যন্ত। তারপর ২৩ তারিখ ভোটফল। মোদি সরকার আবার ক্ষমতায় ফিরে আসবে কিনা সেটাই এবারের মূল প্রশ্ন। আপাতত বিভিন্ন সমীক্ষা যা খবর দিয়েছে তাতে সেই আশা একেবারে অলীক নয়।
বিশদ

18th  April, 2019
সেই প্রশ্নগুলির জবাব মিলছে না কেন?
মোশারফ হোসেন 

দেশজুড়ে রাজনীতির ময়দানে এই মুহূর্তে গনগনে আঁচ। রাজনীতির মাটি গরম। রাজনীতির বাতাস গরম। কারণ দেশে ভোট যে শুরু হয়ে গিয়েছে! ভোটগ্রহণ সব মিলিয়ে সম্পন্ন হবে সাত দফায়।  
বিশদ

16th  April, 2019
দুটি ইস্তাহারের গল্প
পি চিদম্বরম

গত ৮ এপ্রিল বিজেপির নির্বাচনী ইস্তাহার প্রকাশ হল কোনও প্রকার তূর্যনিনাদ ছাড়াই। বিজেপির পক্ষে এই যে নম্রতা একেবারে অস্বাভাবিক! বিজেপির নরম হওয়ার অনেক কারণ ছিল। 
বিশদ

15th  April, 2019
দলগুলির ইস্তাহারে রাষ্ট্রের ক্রমবর্ধমান ভূমিকা
ভবিষ্যতে সংকট ডেকে আনবে না তো?
বিশ্বনাথ চক্রবর্তী

 ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজনৈতিক দলগুলি একের পর এক নির্বাচনী ইস্তাহার প্রকাশ করেছে। আমাদের রাজ্যে তৃণমূল, বামফ্রন্ট, বিজেপি এবং কংগ্রেস চতুর্মুখী লড়াইয়ে অবতীর্ণ হয়েছে। এই প্রেক্ষিতে চার শিবিরের প্রকাশিত নির্বাচনী ইস্তাহারগুলির তূলনামূলক পর্যালোচনা থেকে বেরিয়ে আসছে যে, প্রতিটি শিবিরই নাগরিকদের আরও বেশি করে রাষ্ট্রমুখী করতে চাইছে।
বিশদ

14th  April, 2019
জাতীয়তাবাদ আজ যে কানাগলিতে
নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী

 জ্যাক বারজুঁ (Jacque Barzun) ১৯৭২ সালে একুশ শতকে সন্ধান করার সময় যে, কথাটা বলেছিলেন, সেটা আজ এই সাতচল্লিশ বছর পর এক বিশেষ রাজনৈতিক দলের প্রযত্নে যে এমন সত্য হয়ে উঠবে, এটা কে জানত? জ্যাক বারজুঁ এক অ্যামেরিকান ঐতিহাসিক, যিনি বাহাত্তর সালে বলেছিলেন যে, অতীতের রাজনৈতিক ‘বাদ’ (ism) যা যা বোঝাত, সেইরকম কোনও ‘বাদ’ টিকে না থাকলেও একমাত্র জাতীয়তাবাদ অতি অদ্ভুতভাবে টিকে আছে।
বিশদ

13th  April, 2019
একনজরে
 আমেথি, ২২ এপ্রিল (পিটিআই): কংগ্রেস সভাপতি রাহুল গান্ধীর মনোনয়নকে সোমবার বৈধ বলে ঘোষণা করলেন আমেথির রিটার্নিং অফিসার রামমনোহর মিশ্র। আমেথি কেন্দ্রে মনোনয়ন জমা দেওয়ার সময় ...

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: চলতি লোকসভা ভোটে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রিগিং করতে পারছেন না। জাতীয় নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষ ও সুদৃঢ পদক্ষেপ দিদির রিগিং প্রক্রিয়ায় বড়সড় আঘাত হেনেছে। ...

সংবাদদাতা, মালবাজার: চিতাবাঘের আতঙ্কে রাত জাগছে ধূপগুড়ি ব্লকের বানারহাটের ডুডুমারি, জ্বালাপাড়া ও আলে এই তিনটি গ্রামের বাসিন্দারা। এছাড়াও ওই তিনটি গ্রামের ছয়টি স্কুলের পড়ুয়াদের মধ্যেও ...

 জিয়াং (চীন), ২২ এপ্রিল: এশিয়ান কুস্তি প্রতিযোগিতায় ভারতের প্রত্যাশা বেশি ওলিম্পিক ব্রোঞ্জ জয়ী সাক্ষী মালিক ও বিশ্বের একনম্বর বজরং পুনিয়াকে ঘিরে। মঙ্গলবার থেকে এই প্রতিযোগিতা ...




আজকের দিনটি কিংবদন্তি গৌতম
৯১৬৩৪৯২৬২৫ / ৯৮৩০৭৬৩৮৭৩

ভাগ্য+চেষ্টা= ফল
  • aries
  • taurus
  • gemini
  • cancer
  • leo
  • virgo
  • libra
  • scorpio
  • sagittorius
  • capricorn
  • aquarius
  • pisces
aries

উপার্জন বেশ ভালো হলেও ব্যয়বৃদ্ধি পাওয়ার কারণে সঞ্চয় তেমন একটা হবে না। শরীর খুব একটা ... বিশদ


ইতিহাসে আজকের দিন

বিশ্ব বই দিবস
১৬১৬ -ইংরেজী সাহিত্য তথা বিশ্বসাহিত্যের প্রথম সারির নাট্যকার ও সাহিত্যিক উইলিয়াম শেক্সপীয়রের জন্ম
১৯৪১ - বিশ্বের প্রথম ই-মেইল প্রবর্তনকারী রে টমলিনসনের জন্ম
১৯৬৯: অভিনেতা মনোজ বাজপেয়ির জন্ম
১৯৯২: সত্যজিৎ রায়ের মৃত্যু

ক্রয়মূল্য বিক্রয়মূল্য
ডলার ৬৮.৯৫ টাকা ৭০.৬৪ টাকা
পাউন্ড ৮৯.০৮ টাকা ৯২.৩৬ টাকা
ইউরো ৭৬.৯৮ টাকা ৭৯.৯৩ টাকা
[ স্টেট ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়া থেকে পাওয়া দর ]
পাকা সোনা (১০ গ্রাম) ৩২,১০৫ টাকা
গহনা সোনা (১০ (গ্রাম) ৩০,৪৬০ টাকা
হলমার্ক গহনা (২২ ক্যারেট ১০ গ্রাম) ৩০,৯১৫ টাকা
রূপার বাট (প্রতি কেজি) ৩৭,৬০০ টাকা
রূপা খুচরো (প্রতি কেজি) ৩৭,৭০০ টাকা
[ মূল্যযুক্ত ৩% জি. এস. টি আলাদা ]

দিন পঞ্জিকা

৯ বৈশাখ ১৪২৬, ২৩ এপ্রিল ২০১৯, মঙ্গলবার, চতুর্থী ১৪/৩৫ দিবা ১১/৪। জ্যেষ্ঠা ৩০/৫ অপঃ ৫/১৬। সূ উ ৫/১৪/২০, অ ৫/৫৫/৫৪, অমৃতযোগ দিবা ৭/৪৫ গতে ১০/১৮ মধ্যে পুনঃ ১২/৫১ গতে ২/৩২ মধ্যে পুনঃ ৩/২৩ গতে ৫/৫ মধ্যে। রাত্রি ৬/৪১ মধ্যে পুনঃ ৮/৫৬ গতে ১১/১২ মধ্যে পুনঃ ১/২৭ গতে ২/৭ মধ্যে, বারবেলা ৬/৪৯ গতে ৮/২৪ মধ্যে পুনঃ ১/১০ গতে ২/৪৫ মধ্যে, কালরাত্রি ৭/২০ গতে ৮/৪৫ মধ্যে।
৯ বৈশাখ ১৪২৬, ২৩ এপ্রিল ২০১৯, মঙ্গলবার, চতুর্থী ২০/১৭/২৩ দিবা ১/২১/৪৫। জ্যেষ্ঠানক্ষত্র ৩৫/৫৫/৫৪ রাত্রি ৭/৩৭/১০, সূ উ ৫/১৪/৪৮, অ ৫/৫৭/১২, অমৃতযোগ দিবা ৭/৪০ গতে ১০/১৫ মধ্যে ও ১২/৫১ গতে ২/৩৫ মধ্যে ও ৩/২৭ গতে ৫/১১ মধ্যে এবং রাত্রি ৬/৪৭ মধ্যে ও ৯/০ গতে ১১/১১ মধ্যে ও ১/২৩ গতে ২/৫১ মধ্যে, বারবেলা ৬/৫০/৬ গতে ৮/২৫/২৪ মধ্যে, কালবেলা ১/১১/১৮ গতে ২/৪৬/৩৬ মধ্যে, কালরাত্রি ৭/২১/৫৪ গতে ৮/৪৬/৩৬ মধ্যে।
১৭ শাবান

ছবি সংবাদ

এই মুহূর্তে
আইপিএল: সিএসকের সামনে ১৭৬ রানের টার্গেট খাড়া করল সানরাইজার্স হায়দরাবাদ  

09:37:59 PM

 আইপিএল: হায়দরাবাদ ৯১/১ (১০ ওভার)

08:50:51 PM

গুরদাসপুরে সানি দেওলকে প্রার্থী করল বিজেপি 

08:08:03 PM

টসে জিতে সানরাইজার্স হায়দরাবাদকে ব্যাট করতে পাঠাল সিএসকে 

07:36:29 PM

বিধানসভা উপনির্বাচন: দার্জিলিংয়ে গোর্খা জনমুক্তি মোর্চার প্রার্থী বিনয় তামাং 

06:06:23 PM

মনোনয়ন জমা দিলেন পূর্ব দিল্লি কেন্দ্রের বিজেপি প্রার্থী গৌতম গম্ভীর 

06:03:24 PM