Bartaman Patrika
বিশেষ নিবন্ধ
 

দুটি ইস্তাহারের গল্প
পি চিদম্বরম

গত ৮ এপ্রিল বিজেপির নির্বাচনী ইস্তাহার প্রকাশ হল কোনও প্রকার তূর্যনিনাদ ছাড়াই। বিজেপির পক্ষে এই যে নম্রতা একেবারে অস্বাভাবিক! বিজেপির নরম হওয়ার অনেক কারণ ছিল। একটি তামিল রসিকতার ভিত্তি করে এখানে বলা যায়—বিজেপির ইস্তাহারটি হল ব্রেকফাস্টে বেঁচে যাওয়া ‘ইডলি’ দিয়ে ডিনারের জন‌্য ‘উপ্‌মা’ বানানো গোছের একটা ব্যাপার!
একটা প্রবাদ আছে যে খাবারের স্বাদই বলে দেয় তার ভিতরে পুডিং আছে কি না। প্রকাশ করার ১২ দিন বাদেও কংগ্রেসের ইস্তাহার ‘টক অফ দ‌্য টাউন’ রয়ে গিয়েছে। কংগ্রেসের ইস্তাহারের এক বা একাধিক বিষয়ের উল্লেখ ছাড়া প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি একটা ভাষণও সম্পূর্ণ করতে পারছেন না। তিনি কংগ্রেসের ইস্তাহার পড়তে অস্বীকার করেছেন, এই বিষয়ে কোনও পরামর্শও নেবেন না বলে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, এবং মিথ‌্যাভাষণেও তিনি লজ্জিত নন। আমার আশা, বিজেপির ভিতর কোনও একজন সাহস করে কংগ্রেসের ইস্তাহারটি অথবা গত ৮ এপ্রিল প্রকাশিত আমার লেখা বিশেষ নিবন্ধটি (জাতীয় কংগ্রেসের ইস্তাহার বিজেপিকে এবার লড়াইতে টেনে এনেছে) প্রধানমন্ত্রীকে পড়াবেন।  

বিজেপির দম্ভোক্তি
বিজেপির নির্বাচনী ইস্তাহার প্রকাশের একদিন বাদেই আলোচিত হওয়ার প্রাসঙ্গিকতা হারাল। তর্জমার ভুল এবং মুদ্রণপ্রমাদ বাদ দেওয়া যায় কিন্তু ইস্তাহারজুড়ে যে ঔদ্ধত‌্যপূর্ণ মানসিকতার পরিচয় রয়েছে তা একজন রেয়াত করেন কী করে?
দম্ভোক্তিগুলোর তালিকা দেওয়া যাক:
১. পঞ্চাশ কোটি ভারতবাসী স্বাস্থ‌্য বিমার সুবিধা পেয়েছেন, ‘আয়ুষ্মান ভারত’কে ধন‌্যবাদ (বাস্তবটা হল: আয়ুষ্মান ভারত কেবলমাত্র হাসপাতালে ভর্তির পর চিকিৎসার সুবিধাটা দেয় এবং যত দূর সম্ভব, গত ৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত মাত্র ১০ লক্ষ ৫৯ হাজার ৬৯৩ জনের কাছে এই সুবিধা পৌঁছেছে)।
২. অসংগঠিত ক্ষেত্রের চল্লিশ কোটির বেশি মানুষ এখন পেনশন কভারেজ পেতে পারেন (বাস্তবটা হল: মাত্র ২৮ লক্ষ ৮৬ হাজার ৬৫৯ জন এই প্রকল্পে তাঁদের নাম নথিভুক্ত করেছেন। প্রথম দফার পরিশোধের (পেআউট) সময় আসবে ২০৩৯ সাল। এখনই অথবা অদূর ভবিষ‌্যতে কেউই এই স্কিমের সুবিধা কিছু পাবেন না)।
৩. শৌচালয় নির্মাণের প্রায় ৯৯ শতাংশ করে ফেলা গিয়েছে (বাস্তবটা হল: ভূরি ভূরি দৃষ্টান্ত আছে যে তড়িঘিড় বানানো বিরাট সংখ‌্যক শৌচাগার অব‌্যবহৃত অবস্থা পড়ে রয়েছে মানুষের অনভ‌্যাসের কারণে অথবা জলের অভাবে সেগুলো ব‌্যবহারযোগ‌্য করে তোলা যায়নি বলে)। পাশাপাশি বেজওয়াডা উইলসনকে জিজ্ঞাসা করুন তিনি আপনাকে বলে দেবেন যে স্কিমটার গোড়ায় কতখানি গলদ।
৪. ‘মুদ্রা যোজনা’কে ধন‌্যবাদ যে ছোট ছোট শহরের যুবক-যুবতীদের শিল্প-বাণিজ‌্য উদ‌্যোগী হওয়ার সম্ভাবনার দরজা খুলে দিয়েছে (কিন্তু বাস্তবটা হল: মুদ্রা ঋণের গড়পড়তা চেহারাটা মোটেই ভালো নয়— মাত্র ৪৭,৫৭৫ টাকার ঋণ মেলে এবং এটা একটা বড় বিস্ময়কর ব‌্যাপার হবে যদি ওই এক-একটা ঋণ থেকে একটা করে কর্মসংস্থানও সম্ভব হয়)।
৫. উত্তর-পূর্ব ভারত নানা ভাবে এখন জাতীয় মূলস্রোতের অনেক কাছাকাছি চলে এসেছে  (বাস্তবটা হল: দ‌্য ন‌্যাশনাল রেজিস্টার অফ সিটিজেনস বা এনআরসি প্রয়োগ এবং নাগরিকত্ব (সংশোধনী) বিল উত্তর-পূর্বাঞ্চলের রাজ‌্যগুলিকে আলাদাভাবে কাঁদাচ্ছে, পরিণামে দেশের বাকি অংশের সঙ্গে দূরত্ব বাড়ছে এবং সবচেয়ে অবিশ্বাসের পরিবেশ রচনা করেছে, যা অতীতে হয়নি)।  
৬. বিমুদ্রাকরণ, জিএসটি, ... প্রভৃতি হল আমাদের সরকারের কয়েকটি ঐতিহাসিক সাফল‌্য (বাস্তবটা হল: ডিমনিটাইজেশন ভারতীয় অর্থনীতিটাকে বিধ্বস্ত করে দিয়েছে এবং এই ত্রুটিপূর্ণ জিএসটি ব‌্যবসা-বাণিজ‌্য (বিশেষত মাঝারি, ছোট ও খুব ছোট শিল্প বা এমএসএমই-কে) ধ্বংস করে দিয়েছে)।

ব‌্যক্তি-নির্দিষ্ট বনাম মানুষের চাহিদা ভিত্তি
আগের ওই উদাহরণগুলোই যথেষ্ট। ইস্তাহার প্রস্তুত প্রক্রিয়ার দিকে তাকানো যাক। ইস্তাহার কমিটির শীর্ষকর্তা রাজনাথ সিং দাবি করেছেন যে, তাঁরা কোটি কোটি মানুষকে যুক্ত করেছেন এবং তাঁদের ইস্তাহারে মানুষের ইচ্ছার প্রতিফলন রয়েছে। ভূমিকার শেষ অনুচ্ছেদে দাবিটা এইভাবে খোলসা হয়েছে যে, ‘‘প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ‘ভিশন’-এর উপর ভিত্তি করেই উপরোক্ত সারসংক্ষেপ দেওয়া গেল।’’ কংগ্রেস এবং বিজেপির ইস্তাহারের তফাতটা এরই মধ‌্যে এবং পার্থক‌্যটা প্রকট হয় যখন আমরা এই দুই দলের প্রতিশ্রুতিগুলি ভালো করে খেয়াল করি।
জাতীয় নিরাপত্তা এবং অভ‌্যন্তরীণ নিরাপত্তার দিকটা এবার দেখা যাক। সশস্ত্র বাহিনীকে আরও শক্তিশালী করার এবং প্রতিরক্ষা সরঞ্জামের অভ‌্যন্তরীণ উৎপাদনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে বিজেপি। সব সরকার এটাই করেছে এবং ভবিষ‌্যতেও তাই করবে।
এর বাইরে একটি শব্দও উচ্চারিত হয়নি জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদ (এনএসসি) অথবা জাতীয় নিরাপত্তা পরামর্শদাতা পর্ষদ (এনএসএবি) অথবা জাতীয় সন্ত্রাস মোকাবিলা কেন্দ্র (এনসিটিসি)  অথবা জাতীয় ইন্টেলিজেন্স গ্রিড (ন‌্যাট-গ্রিড) সম্পর্কে। ডেটা সিকিউরিটি, সাইবার সিকিউরিটি, ফিনান্সিয়াল সিকিউরিটি, কমিউনিকেশন সিকিউরিটি অথবা ট্রেড রুটের সিকিউরিটিরও কোনও উল্লেখ নেই বিজেপির ইস্তাহারে।
এবার প্রসঙ্গ কৃষি। কৃষকের আয় দ্বিগুণ করার না-রাখা কথাটি ফের বলেছে বিজেপি, কিন্তু লক্ষ‌্যপূরণের কোনও রোড ম‌্যাপ তারা দেয়নি। কৃষি ও কৃষকের প্রশ্নে কংগ্রেসের প্রতিশ্রুতি রীতিমতো সাহসী—যেমন এগ্রিকালচারাল প্রোডিউস মার্কেট কমিটি (এপিএমসি) অ‌্যাক্ট প্রত‌্যাহার, ফার্মার্স মার্কেট প্রতিষ্ঠা, কৃষিপণ‌্য বিক্রির বন্দোবস্ত (রপ্তানি এবং আন্তঃরাজ‌্য বাণিজ‌্য সমেত), সমস্ত ধরনের নিয়ন্ত্রণমুক্ত।

এবার আসুন স্কুলশিক্ষার প্রসঙ্গে। এই বিষয়ে বিজেপি মোটামুটি একইরকম প্রতিশ্রুতি রেখেছে—গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে শিক্ষার মান, স্মার্ট ক্লাসরুম এবং কেন্দ্রীয় বিদ‌্যালয় ও নবোদয় বিদ‌্যালয়ের উপর। কংগ্রেস প্রতিশ্রুতি দিয়েছে—স্কুলশিক্ষাকে রাজ‌্য তালিকায় স্থানান্তরিত করবে, শিক্ষার অধিকার আইনের রূপায়ণ ঘটবে, মোট অভ‌্যন্তরীণ উৎপাদনের (জিডিপি) ৬ শতাংশ পর্যন্ত শিক্ষার জন‌্য বরাদ্দ করা হবে এবং নবম-দ্বাদশ শ্রেণীতে বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণ বাধ‌্যতামূলক করার বিষয়টি যুক্ত করা হবে।

গাণিতিক ধাঁধা
দুটি ইস্তাহারের পাতায় পাতায় এই যে তফাত তার কারণ হল—মোদি-কেন্দ্রিক ভাবনার সঙ্গে মানুষের চাহিদা ভিত্তির তফাত। বিজেপির ইস্তাহার মোদিজির চিন্তা-চেতনা আর প্রাজ্ঞ নর-নারীর কথা শোনায় অনীহার মধ‌্যেই সীমিত। গাণিতিক একটি ধাঁধা দিয়ে এই লেখায় ইতি টানব। কংগ্রেসের ‘ন‌্যায়’ (ন‌্যূনতম আয় যোজনা) প্রতিশ্রুতিকে আক্রমণ করল বিজেপি এবং বলল যে, যখন কর্মসূচির পুরো পাঁচ কোটি পরিবারকে টাকা দেওয়ার প্রয়োজন আসবে তখন বছরে ৩.৬ লক্ষ কোটি টাকা ব্যয় যুক্তিপূর্ণ হবে না এবং এটা আর্থিক দিক থেকেও হবে দায়িত্বজ্ঞানহীনতার পরিচয়। তবু, বিজেপি আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে দাবি করে যে তারা বিনিয়োগ করবে (পাঁচ বছরে) কৃষি ক্ষেত্রে ২৫ লক্ষ কোটি টাকা এবং পরিকাঠামো ক্ষেত্রে ১০০ লক্ষ কোটি টাকা। ২৫ লক্ষ কোটি টাকা + ১০০ লক্ষ কোটি টাকা = ১২৫ লক্ষ কোটি টাকা। এটাকে ৫ বছর দিয়ে ভাগ করলে হয় বছরে ২৫ লক্ষ কোটি টাকা। বছরে ৩.৬ লক্ষ কোটি টাকা এবং ২৫ লক্ষ কোটি টাকার মধ্যে কোন সংখ্যাটি বৃহত্তর?
15th  April, 2019
একশো পঁচিশে সংসদের বাঙালি পণ্ডিত
হারাধন চৌধুরী

কাটমানি আর ব্ল্যাকমানির তরজায় দেশের রাজনীতি আজ বিপন্নপ্রায়। রাজনীতির প্রতি শ্রদ্ধা ও আগ্রহ নষ্ট হচ্ছে সাধারণ মানুষের, বিশেষত শিক্ষিত যুব সম্প্রদায়ের। এ লক্ষণ সুখের নয়—মানুষের জন্য, রাষ্ট্রের জন্য—কারও জন্যই নয়।
বিশদ

৫, ১০, ২০ ট্রিলিয়ন ডলার অর্থনীতির পথে
পি চিদম্বরম

রাজ্যসভায় ২০১৯-২০ বাজেট নিয়ে বক্তব্য রাখার সময় বলেছিলাম, ‘‘যদি জিডিপির স্বাভাবিক বৃদ্ধির হার ১২ শতাংশ হয় তবে প্রতি ছ’বছরে জিডিপির আকারটা দ্বিগুণ হয়ে যাবে। আর বৃদ্ধির হারটা যদি নমিনাল ১১ শতাংশ হয় তবে জিডিপি দ্বিগুণ হতে সময় নেবে সাত বছর।
বিশদ

22nd  July, 2019
২১ জুলাই সমাবেশ: মমতা কী বার্তা দেন জানতে উৎসুক বাংলা
শুভা দত্ত

ওই মর্মান্তিক ঘটনার পর থেকে প্রতিবছর মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই দিনটিতে বড়সড় সমাবেশের আয়োজন করে তাঁর প্রয়াত সহযোদ্ধাদের প্রতি শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেন।
বিশদ

21st  July, 2019
ছোটদের বড় করতে হলে আগে শুধরাতে হবে নিজেকে
পার্থজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়

সব থেকে ভালো হয়, যদি আপনার ‘বাছা’কে নিজের মতো বেড়ে উঠতে দেন। আনন্দে বেড়ে উঠুক। আলো চিনিয়ে দিন, অন্ধকার চিনিয়ে দিন। লক্ষ্য রাখুন, ঠিকঠাক এগচ্ছে কি না! সামনে পিছনে কত ফাঁদ, চোরাবালি। আপনিই ঈশ্বর, ওকে রক্ষা করুন। ছোটদের ‘বড়’ করতে হলে আগে শুধরাতে হবে নিজেকে। দয়া করে ওর উপর মাতব্বরি করবেন না, হ্যাঁ আমরা মাতব্বরিই করি।
বিশদ

20th  July, 2019
জন্ম এবং মৃত্যুর দ্বান্দ্বিক বস্তুবাদ
শুভময় মৈত্র

সম্প্রতি অকস্মাৎ আমার একটি বন্ধুর মৃত্যু হয়েছে। এই উপলক্ষে জগতে সকলের চেয়ে পরিচিত যে মৃত্যু তার সঙ্গে আর-একবার নূতন পরিচয় হল। জগৎটা গায়ের চামড়ার মতো আঁকড়ে ধরেছিল, মাঝখানে কোনো ফাঁক ছিল না। মৃত্যু যখন প্রত্যক্ষ হল তখন সেই জগৎটা যেন কিছু দূরে চলে গেল, আমার সঙ্গে আর যেন সে অত্যন্ত সংলগ্ন হয়ে রইল না।
——— রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
বিশদ

20th  July, 2019
অ্যাপোলো ৫০: গো ফর দ্য মুন
মৃণালকান্তি দাস

 মই বেয়ে লুনার মডিউল ঈগল থেকে চাঁদের বুকে নামতে নামতে নিল আর্মস্ট্রং বলেছিলেন, ‘একজন মানুষের এই একটি পদক্ষেপ হবে মানবজাতির জন্য এক বিরাট অগ্রযাত্রা।’ সেই ছিল চাঁদের বুকে মানুষের প্রথম পদচিহ্ন আর মানবজাতির সেদিনের প্রমিথিউস ছিলেন নিল আর্মস্ট্রং। চাঁদের বুকে নিলের পা ফেলার মাধ্যমে মানুষ চাঁদকে জয় করেছিল।
বিশদ

19th  July, 2019
বাঙালির যে সংস্কৃতি হারিয়ে গেল
জিষ্ণু বসু

ইদানীং রাজ্যে একটা গেল গেল রব শোনা যাচ্ছে। বাঙালি তার সংস্কৃতি হারাচ্ছে। বিজেপি ও আরএসএসের দৌরাত্ম্যে বাংলা যে চেহারা নিচ্ছে সেটা এ রাজ্যের সংস্কৃতির পরিপন্থী। বাঙালি বড়জোর ‘জয়দুর্গা’ বলতে পারে, কিন্তু ‘জয় শ্রীরাম’ বলার প্রশ্নই ওঠে না।
বিশদ

18th  July, 2019
পরিবারতান্ত্রিক সঙ্কট 
শান্তনু দত্তগুপ্ত

ছবিটা খুব পরিচিত। নিজের দলের বিরুদ্ধেই ধর্নায় বসেছেন ইন্দিরা গান্ধী। ভাঙতে চলেছে কংগ্রেস। আর তার নেপথ্যে ক্ষমতার ভারসাম্য বজায় রাখার সংঘাত। একদিকে স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা। অন্যদিকে কামরাজ, মোরারজি দেশাই, তৎকালীন কংগ্রেস সভাপতি নিজলিঙ্গাপ্পা। 
বিশদ

16th  July, 2019
মোদি সরকারের নতুন জাতীয় শিক্ষানীতি দেশকে কোন দিকে নিয়ে চলেছে
তরুণকান্তি নস্কর

নয়া শিক্ষানীতির কেন্দ্রবিন্দুই হল এই ভারতীয়ত্বের নাম করে মধ্যযুগীয় বাতিল চিন্তা ভাবনার জাবর কাটার প্রচেষ্টা। পঞ্চতন্ত্র, জাতক, হিতোপদেশের গল্পকে তাঁরা স্কুল পাঠ্য করতে চাইছেন, সংস্কৃত শিক্ষাকে গুরুত্ব দিচ্ছেন অথচ ইংরেজি ভাষা শিক্ষাকে গুরুত্বহীন করে দেখানোর চেষ্টা করেছেন। পাঠ্যতালিকায় বহু ব্যক্তির জীবনীচর্চার উল্লেখ আছে, কিন্তু সেই তালিকায় ভারতীয় নবজাগরণের পথিকৃৎ রামমোহন ও বিদ্যাসাগরের নাম সযত্নে বাদ দেওয়া হয়েছে। রামমোহন-বিদ্যাসাগরই যে এদেশে প্রথম ধর্মীয় কুসংস্কারাচ্ছন্ন শিক্ষা ব্যবস্থাকে বাতিল করে আধুনিক শিক্ষা প্রচলনের জন্য লড়াই করেছিলেন তা কারোর অজানা নয়। ভারতীয় নবজাগরণের এই মনীষীরা যে আরএসএস-বিজেপির চক্ষুশূল তা আজ জলের মতো পরিষ্কার।
বিশদ

15th  July, 2019
সাত শতাংশ বৃদ্ধির ফাঁদে
পি চিদম্বরম

 কেন্দ্রীয় সরকারের বাজেটগুলির মধ্যে ২০১৯-২০ সালের বাজেট স্বাভাবিকের তুলনায় দ্রুত জট খুলল। মানুষের মধ্যে এই বাজেট নিয়ে কিংবা আগের বাজেট প্রস্তাবটি নিয়ে কোনও আলোচনা নেই। অতিশয় ধনীরা (সুপার রিচ ৬৪৬৭) বিরক্ত, তবুও ভয়ে স্পিকটি নট। ধনীদের স্বস্তি এখানেই যে তাঁদের রেয়াত করা হয়ে থাকে।
বিশদ

15th  July, 2019
একটু ভাবুন
শুভা দত্ত

 বিশ্বের চারদিক থেকে পানীয় জল নিয়ে গুরুতর অশনিসংকেত আসার পরও আমাদের এই কলকাতা শহরে তো বটেই, গোটা রাজ্যেই প্রতিদিন বিশাল পরিমাণ জল অপচয় হয়। আপাতত বেশিরভাগ জায়গায় জলের জোগান স্বাভাবিক আছে বলে সেটা গায়ে লাগছে না। তাই এখনও আসন্ন মহাবিপদের কথাটা ভাবছেন খুব সামান্যজনই। বাদবাকিরা এখনও নির্বিকার, ভয়ডরহীন—দু’জনের সংসারে আড়াই-তিন হাজার লিটার শেষ করে দিচ্ছে দিনে, বাড়ি গাড়ি ধোয়া চালাচ্ছে কর্পোরেশনের পানীয় জলে! আহাম্মক আর কাকে বলে।
বিশদ

14th  July, 2019
বেনোজলের রাজনীতি
তন্ময় মল্লিক

জেলায় জেলায় নব্যদের নিয়ে বিজেপির আদিদের ক্ষোভ রয়েছে। আর এই ক্ষোভের অন্যতম কারণ যোগদানকারীদের বেশিরভাগই এক সময় হয় সিপিএমের হার্মাদ বাহিনীর সদস্য ছিলেন, অথবা তৃণমূলের ‘কাটমানি নেতা’। তাই এই সব নেতাকে নিয়ে স্বচ্ছ রাজনীতির স্লোগান মানুষ বিশ্বাস করবে না। উল্টে লোকসভা ভোটে যাঁরা নীরবে সমর্থন করেছিলেন, তাঁরা ফের নিঃশব্দেই মুখ ফিরিয়ে নেবেন।‘ফ্লোটিং ভোট’ যে মুখ ঘুরিয়ে নিতে পারে, সেটা বিজেপির পোড়খাওয়া নেতারা বুঝতে পারছেন। তাঁরা বলছেন, ভোটের ফল প্রকাশের পর যাঁরা আসছেন তাঁরা কেউই বিজেপির আদর্শের জন্য আসছেন না, আসছেন বাঁচার তাগিদে। কেউ কেউ লুটেপুটে খাওয়ার অভ্যাস বজায় রাখার আশায়।
বিশদ

13th  July, 2019
একনজরে
নিজস্ব প্রতিবেদন: বিশ্বকাপের বাছাই পর্বে ভারতের সঙ্গে একই গ্রুপে রয়েছে বাংলাদেশ, ওমান, আফগানিস্তান ও কাতার। বিশেষজ্ঞদের ধারণা, অপেক্ষাকৃত সহজ গ্রুপে পড়েছেন সুনীল ছেত্রী-সন্দেশ ঝিংগানরা। কিন্তু ভারতের ক্রোয়েশিয়ান কোচ ইগর স্টিম্যাচ বলেছেন, ‘গ্রুপের বাকি দলগুলির প্রত্যেককেই যথেষ্ট গুরুত্ব দিচ্ছি।’ ...

তেহরান, ২২ জুলাই (এএফপি): সিআইএ-র চর সন্দেহে ১৭ জনকে গ্রেপ্তার করার পাশাপাশি কয়েকজনকে মৃত্যুদণ্ড দিল ইরান। সোমবার এই খবর জানিয়েছে ইরান প্রশাসন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক সরকারি আধিকারিক জানিয়েছেন, দেশের সঙ্গে গদ্দারি করার অভিযোগে কয়েকজনকে উচিত শিক্ষা দেওয়া হয়েছে। ...

 নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: গত ৫ জুলাই কেন্দ্রীয় বাজেট পেশ করেন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমন। তার আগে কেন্দ্রীয় সরকারকে হরেক দাবিদাওয়া পেশ করেছিল অল ইন্ডিয়া জেম অ্যান্ড জুয়েলারি ডোমেস্টিক কাউন্সিল। তাদের অন্যতম দাবি ছিল, সোনার উপর আমদানি শুল্ক কমাতে হবে এবং ...

 নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: তাঁরা পঞ্চায়েত এলাকায় কর আদায় করেন। তাঁদের মাধ্যমে যে টাকা আদায় হয়, তার উপর অনেকটাই নির্ভর করে পঞ্চায়েতের আয়। মোটা টাকার অনুদান পাওয়ার ক্ষেত্রেও পঞ্চায়েতের ভরসা তাঁরাই। অথচ গ্রাম পঞ্চায়েতের ট্যাক্স কালেক্টরদের ন্যায্য টাকা দেওয়ার ক্ষেত্রে চরম ...




আজকের দিনটি কিংবদন্তি গৌতম
৯১৬৩৪৯২৬২৫ / ৯৮৩০৭৬৩৮৭৩

ভাগ্য+চেষ্টা= ফল
  • aries
  • taurus
  • gemini
  • cancer
  • leo
  • virgo
  • libra
  • scorpio
  • sagittorius
  • capricorn
  • aquarius
  • pisces
aries

কর্মপ্রার্থীদের কর্মের যোগাযোগ আসবে। যে সুযোগ পাবেন তাকে সদ্ব্যবহার করুন। কর্মক্ষেত্রে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের আনুকূল্য পাবেন। ... বিশদ


ইতিহাসে আজকের দিন

১৮২৯- আমেরিকাতে টাইপরাইটারের পূর্বসুরী টাইপোগ্রাফার পেটেন্ট করেন উইলিয়াম অস্টিন বার্ড।
১৮৫৬- স্বাধীনতা সংগ্রামী বাল গঙ্গাধর তিলকের জন্ম
১৮৮১ - আন্তর্জাতিক ক্রীড়া সংস্থাগুলির মধ্যে সবচেয়ে পুরাতন আন্তর্জাতিক জিমন্যাস্টিক ফেডারেশন প্রতিষ্ঠিত হয়।
১৮৯৫- চিত্রশিল্পী মুকুল দের জন্ম
১৯৯৫- হেল-বপ ধূমকেতু আবিস্কার হয়। পরের বছরের গোড়ায় সেটি খালি চোখে দৃশ্যমান হয়।
২০০৪- অভিনেতা মেহমুদের মৃত্যু
২০১২- আই এন এ’ যোদ্ধা লক্ষ্মী সায়গলের মৃত্যু

ক্রয়মূল্য বিক্রয়মূল্য
ডলার 67.49 70.53
পাউন্ড 84.31 88.37
ইউরো 75.63 79.29
[ স্টেট ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়া থেকে পাওয়া দর ]
পাকা সোনা (১০ গ্রাম) ৩৫,৫৩৫ টাকা
গহনা সোনা (১০ (গ্রাম) ৩৩,৭১৫ টাকা
হলমার্ক গহনা (২২ ক্যারেট ১০ গ্রাম) ৪৪,২২০ টাকা
রূপার বাট (প্রতি কেজি) ৪০,৮৫০ টাকা
রূপা খুচরো (প্রতি কেজি) ৪০,৯৫০ টাকা
[ মূল্যযুক্ত ৩% জি. এস. টি আলাদা ]

দিন পঞ্জিকা

৬ শ্রাবণ ১৪২৬, ২৩ জুলাই ২০১৯, মঙ্গলবার, ষষ্ঠী ২৭/৫২ অপঃ ৪/১৬। উত্তরভাদ্রপদ ২০/১৫ দিবা ১/১৪। সূ উ ৫/৭/৪২, অ ৬/১৮/১৭, অমৃতযোগ দিবা ৭/৪৬ গতে ১০/২৪ মধ্যে পুনঃ ১/২ গতে ২/৪৮ মধ্যে পুনঃ ৩/৪০ গতে ৫/২৬ মধ্যে। রাত্রি ৭/১ মধ্যে পুনঃ ৯/১১ গতে ১১/২১ মধ্যে পুনঃ ১/৩১ গতে ২/৫৮ মধ্যে, বারবেলা ৬/৪৭ গতে ৮/২৫ মধ্যে পুনঃ ১/২২ গতে ৩/১ মধ্যে, কালরাত্রি ৭/৩৯ গতে ৯/০ মধ্যে।
৬ শ্রাবণ ১৪২৬, ২৩ জুলাই ২০১৯, মঙ্গলবার, ষষ্ঠী ১৮/৪৭/৯ দিবা ১২/৩৭/৪। উত্তরভাদ্রপদনক্ষত্র ১৪/২৯/১২ দিবা ১০/৫৩/৫৩, সূ উ ৫/৬/১২, অ ৬/২১/২৮, অমৃতযোগ দিবা ৭/৪৯ গতে ১০/২৪ মধ্যে ও ১/০ গতে ২/৪৪ মধ্যে ও ৩/৩৬ গতে ৫/১৯ মধ্যে এবং রাত্রি ৬/৫৫ মধ্যে ও ৯/৮ গতে ১১/২০ মধ্যে ও ১/৩২ গতে ৩/১ মধ্যে, বারবেলা ৬/৪৫/৩৬ গতে ৮/২৫/১ মধ্যে, কালবেলা ১/২৩/১৪ গতে ৩/২/৩৯ মধ্যে, কালরাত্রি ৭/৪২/৪ গতে ৯/২/৩৯ মধ্যে।
১৯ জেল্কদ

ছবি সংবাদ

এই মুহূর্তে
  সল্টলেকের বিএসএনএল-এর অফিসে আগুন
সল্টলেকের ১৩ নম্বর ট্যাঙ্কের বিএসএন এল-এর নোভাল সেন্টারে আগুন লেগেছে। ...বিশদ

22-07-2019 - 09:50:50 PM

বরানগর জুট মিলে আগুন, অকুস্থলে দমকলের ৪টি ইঞ্জিন 

22-07-2019 - 07:18:32 PM

কালিকাপুরে সোনার গয়না চুরির অভিযোগে গ্রেপ্তার পরিচারিকা 

22-07-2019 - 06:20:00 PM

মহেশতলায় দুটি গাড়ির সংঘর্ষ, আহত ৬ 
অটো এবং ৪০৭ গাড়ির মুখোমুখি সংঘর্ষে আহত ছ’জন। জানা গিয়েছে, ...বিশদ

22-07-2019 - 06:18:00 PM

ফুলশয্যার দিনেই আত্মঘাতী গৃহবধু 
ফুলশয্যার দিনেই আত্মঘাতী হলেন এক গৃহবধু। মৃতার নাম প্রিয়াঙ্কা সর্দার ...বিশদ

22-07-2019 - 06:05:00 PM

বজবজ ফাঁড়ির কাছে পচাগলা দেহ উদ্ধার
 

পচাগলা দেহ উদ্ধার হলো বজবজ ফাঁড়ির সংলগ্ন এলাকায়। এই ঘটনায় ...বিশদ

22-07-2019 - 05:34:26 PM