Bartaman Patrika
বিশেষ নিবন্ধ
 

জনতার এখন একটাই জিজ্ঞাসা: এই
শান্তি শেষপর্যন্ত বজায় থাকবে তো?
শুভা দত্ত

দ্বিতীয় দফাও শেষ। লোকসভা ভোটযুদ্ধের দ্বিতীয় পর্বও মোটের ওপর শান্তিতেই মিটল। গত বৃহস্পতিবার উত্তরবঙ্গের দার্জিলিং জলপাইগুড়ি ও রায়গঞ্জ—এই তিন আসনে ভোটের লড়াইতে একমাত্র ব্যতিক্রম হয়ে রইল উত্তর দিনাজপুরের চোপড়া! বাংলার ভোটে রক্তারক্তি, মারামারি, বোমাগুলি, খুনোখুনি কোনও নতুন কথা নয়। কিন্তু এবার প্রথম পর্ব তো বটেই, পরের পর্বেও অর্থাৎ বৃহস্পতিবারের ভোটেও চিরচেনা ঝামেলা-ঝঞ্ঝাটের ছবিটা তেমনভাবে দেখা গেল না। প্রায় সর্বত্রই ভোটপর্ব মিটল শান্তিতে, পুলিস, আধাসেনা ও নির্বাচনী পর্যবেক্ষকদের কড়া নজরদারিতে। এজন্য কমিশন কর্তাদের এবং রা‌জ্য প্রশাসনের একটা ধন্যবাদ অবশ্য প্রাপ্য। কিন্তু, দুর্ভাগ্যজনক এই যে, সেই শান্তি-সম্প্রীতির বাতাবরণের সুর কাটল চোপড়ায়—সেখানে সারাদিন ধরে প্রবল উত্তেজনা, বোমাবাজি, ইটপাটকেল, ভোটারদের ভয় দেখানো, ইভিএম ভাঙচুর, পুলিস, র‌্যাফ, আধাসেনার দৌড়াদৌড়ি-ছুটোছুটি, কাঁদানেগ্যাস, লাঠিচার্জে সরগরম হয়ে রইল ভোটযুদ্ধের ময়দান। শুধু তাই নয়, গণ্ডগোলের মধ্যে গুলি চলেছে—এমন অভিযোগও উড়ে এল স্থানীয় সাধারণের মহল থেকে! এই ঝামেলায় কারও প্রাণ যায়নি ঠিকই, তবে যতদূর খবর, আহত হয়েছেন বেশ কয়েকজন। গণ্ডগোলের জেরে বেশ কয়েকটি বুথে ভোটগ্রহণ কিছুক্ষণের জন্য স্থগিত করে দিতেও হয়েছে। অবশ্য, নির্বাচন কমিশনের তৎপরতা ও নিরাপত্তা বাহিনীর সময়োচিত সহযোগিতায় দুষ্কৃতী উপদ্রুত বুথগুলোতেও শেষপর্যন্ত ভোট মিটেছে শান্তিতেই। তবে, একথা অনস্বীকার্য—বৃহস্পতিবারের শান্তিপূর্ণ ভোটের আবহে মারমুখী চোপড়ার ভূমিকা অনেকটা একমন দুধে একফোঁটা চোনার মতো হয়ে রইল। শুধু চোপড়া কেন আরও অন্তত দুটি জায়গায় দুটি অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেছে—রায়গঞ্জ কেন্দ্রের ইসলামপুরে সিপিএম প্রার্থী মহম্মদ সেলিমের গাড়ি ভাঙচুর করা হয় আর গোয়ালপোখরে আক্রান্ত হন সংবাদমাধ্যমের কয়েকজন।
এটুকু ছাড়া সত্যি বলতে কী, আর একটিও ঝামেলার ঘটনা বৃহস্পতিবার চোখে পড়েনি। এটা প্রকৃত অর্থেই সাধারণ মানুষের কাছে যথেষ্ট আশাব্যঞ্জক। গত পঞ্চায়েত ভোটের হিংসা নিয়ে অনেক কথা তুলেছিলেন এ রাজ্যের বিরোধীরা। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তাঁর প্রশাসন পুলিসের নামে অজস্র অপবাদ দাখিল করেছিলেন জনতার দরবারে। বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়ী শাসক তৃণমূলের প্রার্থীদের নিয়ে অনেক কটাক্ষও করেছিলেন। তাঁদের প্রতিবাদ আদালত পর্যন্তও গড়িয়েছিল। কিন্তু তাতেও পঞ্চায়েত স্তরে মমতার ব্যাপক জনপ্রীতি বা তৃণমূলের একাধিপত্যে কোথাও কোনও টান পড়েনি।
আর এবারের ভোট তো এখনও প্রায় ঘটনাশূন্য। দু’পর্ব মিলিয়ে যেটুকু ঘটেছে তা সংশ্লিষ্ট লোকসভা কেন্দ্রগুলির মোট আয়তন, জনসংখ্যা, জটিল রাজনৈতিক বিন্যাস ও যুযুধান পক্ষগুলির মধ্যবর্তী আবেগ উত্তেজনার ব্যাপ্তি ও তীব্রতার নিরিখে সামান্যই বলতে হবে। কিন্তু সেটি সরাসরি স্বীকার করলে প্রকারান্তরে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী ও তাঁর প্রশাসন-পুলিসের দক্ষতা যোগ্যতাকেই স্বীকৃতি দিতে হয়। সেটা আর পাঁচজনের পক্ষে সম্ভব হলেও সিপিএম বা তার সমমনোভাবাপন্নদের পক্ষে অসম্ভব। তাই, সিপিএমের মুখপত্র দ্বিতীয় দফার পরদিন প্রথম পাতায় সেলিমের হেনস্তা ও চোপড়ার ঝামেলার কথা উল্লেখ করেও লিখতে বাধ্য হয়েছে ‘ভোট-লুঠেরাদের হার মানুষের জেদের কাছে!’ ‘মানুষের জেদ’কে সামনে এনে শান্তির ব্যাপারটা যেন এড়াতে চেয়েছে, ঊহ্য রাখতে চেয়েছে দ্বিতীয় দফার ভোটে কমিশন, কেন্দ্রীয় বাহিনী, মমতা-প্রশাসন ও পুলিসের সদর্থক ভূমিকাটিও! মজার ব্যাপার, এই লিড খবরের সঙ্গের ছবিতে ভোটের লাইনে নিশ্চিন্তমুখে দাঁড়ানো সারিবদ্ধ মহিলা ভোটার ও একজন পুলিসের ছবির ক্যাপশনে এঁরাই লিখেছেন, ‘কেন্দ্রীয় বাহিনী নেই, ভোট করছে সেই রাজ্য পুলিসই।’ তাহলে সব মিলিয়ে মানেটা কী দাঁড়াল? মানুষের জেদের কাছেই হোক, কি নিরাপত্তা বাহিনীর দাপটে ‘ভোট-লুঠেরারা’ বৃহস্পতিবার যে কায়দা করতে পারেনি—সেটি সত্যি, গণশক্তিও মেনেছে। অর্থাৎ ভোট হয়েছে নির্বিঘ্নে এবং তাতে মানুষ যে রাজ্য পুলিসের তত্ত্বাবধানেও নিশ্চিন্তে লাইনে দাঁড়িয়ে ভোট দিতে পেরেছে গণশক্তির প্রথম পাতার ওই ছবি ও তার ক্যাপশনই তার প্রমাণ—নয় কি?
অবশ্যই। বলতে কী, প্রথম দুই পর্বের নির্বাচনী যুদ্ধের সামগ্রিক ছবিটা দেখার পর জনমনেও ভোট নিয়ে ভয় ভাবনার ক্রমবর্ধমান পারদ যে একটু থমকেছে তাতে কোনও সন্দেহ নেই। পথেঘাটে লোকজনের আলাপ-আলোচনা শুনলেই সেটা বোঝা যাচ্ছে। নির্বাচন কমিশন কেন্দ্রীয় বাহিনীর পাশাপাশি রাজ্যের পুলিসের ওপরও তাঁদের আস্থা যে দুই পর্বের ভোটচিত্র দেখার পর অনেকটাই বেড়েছে—সাধারণ জনের কথাবার্তা থেকে সেটাও বেশ স্পষ্ট। এই আমজনতার এখন একটাই জিজ্ঞাসা: এই শান্তি শেষপর্যন্ত বজায় থাকবে তো? বৃহস্পতিবারের পর থেকে আমার পরিচিত একাধিক জনের মুখে ঘুরেফিরে এই প্রশ্নটাই শুনেছি। পরের পর্বে নব্বই শতাংশ বুথে কেন্দ্রীয় বাহিনী ও পুলিস থাকবে বলে খবর চাউর হতে তাঁদের যেন মনের জোর আরও বেড়েছে। একজন তো বলেই ফেললেন, এবার আর টেনশন নেই। বউ-ছেলেমেয়ে নিয়ে দিদির ভোটটা নিশ্চিন্তে দিতে পারব। যা সব শুরু হয়েছিল! এসব তো কোনওকালে এ রাজ্যে আমরা দেখিনি। যাক, মনে হচ্ছে অসুবিধা হবে না।
আসলে, এবারের ভোট শুরুর বহু আগে থেকেই, বলা ভালো সেই রামনবমীর অস্ত্রমিছিলের পর থেকেই, রাজ্যজুড়ে সাধারণ ঘরে একটা চিন্তার বাতাবরণ তৈরি হয়েছিল। গেরুয়া শিবিরের শক্তি বৃদ্ধি এবং শাসক তৃণমূলের সঙ্গে তার হাড্ডাহাড্ডি রাজনৈতিক লড়াইয়ের আয়োজন উদ্‌যোগ সেই চিন্তাকে আরও ঘনীভূত করে তুলছিল। তারপর রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মোদি-বিরোধী জাতীয় জোটের অন্যতম প্রধান মুখ হয়ে ওঠার পর থেকে যেভাবে জননেত্রী ও তাঁর বাংলা দিল্লির শাসকের নিশানা হয়ে উঠেছে তাতে এবার লোকসভার ভোটযুদ্ধের ময়দানে একটা ধুন্ধুমার মহাসংগ্রামের আভাসও ক্রমশ স্পষ্ট হয়ে উঠছিল। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাগ্‌যু঩দ্ধে প্রাক্‌঩ভোটের আসর রীতিমতো অগ্নিগর্ভ হয়ে উঠেছিল বলা যায়। সেই পরিস্থিতি এখনও বহাল এবং ভোটযুদ্ধের শেষপর্ব অবধি বজায় থাকবে বলেই মনে করছেন সকলে। একটা সময় তো এই বাগ্‌যু঩দ্ধের প্রচণ্ডতায় মনে হচ্ছিল মোদিজির প্রধান প্রতিপক্ষ কংগ্রেসের রাহুল গান্ধী নন, তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আসল লড়াই মোদি বনাম দিদির, মোদিজির গেরুয়া বাহিনীর সঙ্গে মমতার নেতৃত্বাধীন বিরোধী জোটের। আর সে লড়াইয়ের প্রধান ক্ষেত্র এই বাংলা! ফলে, সাধারণ জনমনে ভোটের আগে-পরে এবং ভোটের দিনে সংঘাত সংঘর্ষ নিয়ে একটা আশঙ্কার মেঘ যে জমছিল তাতে সন্দেহ নেই। কিন্তু, পর পর দুই পর্বের শান্ত ও প্রায় নির্বিঘ্ন ভোট তাঁদের মন থেকে যে সেই শঙ্কার কালো মেঘ অনেকটাই হালকা করে দিতে পেরেছে তা অনস্বীকার্য। এখন তাই তাঁদের একটাই প্রশ্ন, একটাই জিজ্ঞাসা—এই শান্তি শেষপর্ব পর্যন্ত বজায় থাকবে তো? থাকবেই এটা নিশ্চিত করে কেউই এখনই বলতে পারবেন বলে মনে হয় না। তার কারণ আজ ভোট ময়দানে প্রধান দুই প্রতিপক্ষ তৃণমূল এবং বিজেপি হলেও অপ্রধান অনেক আছে। তার মধ্যে ৩৪ বছর বাংলায় রাজ চালানো সিপিএম এবং তার শরিকেরা যেমন আছে, তেমনি আছে বহুদিন ক্ষমতাচ্যুত কংগ্রেসও। আছে নানা ছোটখাট কিন্তু বিপজ্জনক শক্তিও। ভোটটা তো একটা যুদ্ধই—রাজনৈতিক যুদ্ধ। আর কে না জানে যুদ্ধে, প্রেমে কোনও কিছুই ‘আনফেয়ার’ অর্থাৎ অন্যায্য অন্যায় নয়। সোজা কথায়—মারি অরি পারি যে কৌশলে। ঠিকই, ভোটটা দেশের পরবর্তী শাসক নির্বাচনের। দেশ শাসনের ভার পেতে প্রধান পক্ষগুলির যে রথী-মহারথীরা মহাসংগ্রামে নেমেছেন তাঁদের ভোটদাতাদের প্রতি দায়বদ্ধতা, তাঁদের নিরাপত্তার জন্য চিন্তাভাবনা অবশ্যই আছে। কিন্তু, তাঁদের বাইরেও তো অনেক সুযোগসন্ধানী এই ভোটযুদ্ধের আনাচকানাচে ঘাপটি মেরে থাকতে পারে। পুলিস, গোয়েন্দা, কেন্দ্রীয় বাহিনীর সদাসতর্ক দৃষ্টি এড়িয়ে তারা ঝামেলা-ঝঞ্ঝাট পাকাবার চেষ্টা করতেই পারে। তাই, এখনই শেষ নিয়ে শেষকথা বলতে যাওয়া মনে হয় না সঠিক হবে। তবে, একথা ঠিক ভোটের প্রথম দুই পর্ব আমাদের মনে যথেষ্ট আশা জাগিয়েছে। আশ্বস্ত করেছে বাংলার ভোটজনতাকেও। এখন দেখার ভোটযুদ্ধের ময়দানে এই শান্তি ও সম্প্রীতির আবহ শেষপর্ব পর্যন্ত বজায় থাকে কি না, পরবর্তী পর্যায়গুলোতে বাংলার সাধারণ মানুষ নিশ্চিন্তে নির্ভয়ে তাঁদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করে আসতে পারেন কি না। মমতার উন্নয়নের বিশ্ববাংলা যেমন গোটা দেশে নজির গড়েছে, জগৎসভা থেকে নিয়ে এসেছে শ্রেষ্ঠত্বের শিরোপা, তেমনি তাঁর এই ভোটবাংলাও শান্তি ও সম্প্রীতি বজায় রেখে এবার দেশে নজিরবিহীন দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে—শান্তির দুই পর্বের পর বাংলার জনমহলে এমন একটা প্রত্যাশা কিন্তু জেগেছে। সে প্রত্যাশা শেষপর্যন্ত কতটা পূরণ হবে তা বলবে সময়। বলবে শেষ দফার শেষ বিকেল। আমরা অপেক্ষায় রইলাম।
21st  April, 2019
২১ জুলাই সমাবেশ: মমতা কী বার্তা দেন জানতে উৎসুক বাংলা
শুভা দত্ত

ওই মর্মান্তিক ঘটনার পর থেকে প্রতিবছর মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই দিনটিতে বড়সড় সমাবেশের আয়োজন করে তাঁর প্রয়াত সহযোদ্ধাদের প্রতি শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেন।
বিশদ

ছোটদের বড় করতে হলে আগে শুধরাতে হবে নিজেকে
পার্থজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়

সব থেকে ভালো হয়, যদি আপনার ‘বাছা’কে নিজের মতো বেড়ে উঠতে দেন। আনন্দে বেড়ে উঠুক। আলো চিনিয়ে দিন, অন্ধকার চিনিয়ে দিন। লক্ষ্য রাখুন, ঠিকঠাক এগচ্ছে কি না! সামনে পিছনে কত ফাঁদ, চোরাবালি। আপনিই ঈশ্বর, ওকে রক্ষা করুন। ছোটদের ‘বড়’ করতে হলে আগে শুধরাতে হবে নিজেকে। দয়া করে ওর উপর মাতব্বরি করবেন না, হ্যাঁ আমরা মাতব্বরিই করি।
বিশদ

20th  July, 2019
জন্ম এবং মৃত্যুর দ্বান্দ্বিক বস্তুবাদ
শুভময় মৈত্র

সম্প্রতি অকস্মাৎ আমার একটি বন্ধুর মৃত্যু হয়েছে। এই উপলক্ষে জগতে সকলের চেয়ে পরিচিত যে মৃত্যু তার সঙ্গে আর-একবার নূতন পরিচয় হল। জগৎটা গায়ের চামড়ার মতো আঁকড়ে ধরেছিল, মাঝখানে কোনো ফাঁক ছিল না। মৃত্যু যখন প্রত্যক্ষ হল তখন সেই জগৎটা যেন কিছু দূরে চলে গেল, আমার সঙ্গে আর যেন সে অত্যন্ত সংলগ্ন হয়ে রইল না।
——— রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
বিশদ

20th  July, 2019
অ্যাপোলো ৫০: গো ফর দ্য মুন
মৃণালকান্তি দাস

 মই বেয়ে লুনার মডিউল ঈগল থেকে চাঁদের বুকে নামতে নামতে নিল আর্মস্ট্রং বলেছিলেন, ‘একজন মানুষের এই একটি পদক্ষেপ হবে মানবজাতির জন্য এক বিরাট অগ্রযাত্রা।’ সেই ছিল চাঁদের বুকে মানুষের প্রথম পদচিহ্ন আর মানবজাতির সেদিনের প্রমিথিউস ছিলেন নিল আর্মস্ট্রং। চাঁদের বুকে নিলের পা ফেলার মাধ্যমে মানুষ চাঁদকে জয় করেছিল।
বিশদ

19th  July, 2019
বাঙালির যে সংস্কৃতি হারিয়ে গেল
জিষ্ণু বসু

ইদানীং রাজ্যে একটা গেল গেল রব শোনা যাচ্ছে। বাঙালি তার সংস্কৃতি হারাচ্ছে। বিজেপি ও আরএসএসের দৌরাত্ম্যে বাংলা যে চেহারা নিচ্ছে সেটা এ রাজ্যের সংস্কৃতির পরিপন্থী। বাঙালি বড়জোর ‘জয়দুর্গা’ বলতে পারে, কিন্তু ‘জয় শ্রীরাম’ বলার প্রশ্নই ওঠে না।
বিশদ

18th  July, 2019
পরিবারতান্ত্রিক সঙ্কট 
শান্তনু দত্তগুপ্ত

ছবিটা খুব পরিচিত। নিজের দলের বিরুদ্ধেই ধর্নায় বসেছেন ইন্দিরা গান্ধী। ভাঙতে চলেছে কংগ্রেস। আর তার নেপথ্যে ক্ষমতার ভারসাম্য বজায় রাখার সংঘাত। একদিকে স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা। অন্যদিকে কামরাজ, মোরারজি দেশাই, তৎকালীন কংগ্রেস সভাপতি নিজলিঙ্গাপ্পা। 
বিশদ

16th  July, 2019
মোদি সরকারের নতুন জাতীয় শিক্ষানীতি দেশকে কোন দিকে নিয়ে চলেছে
তরুণকান্তি নস্কর

নয়া শিক্ষানীতির কেন্দ্রবিন্দুই হল এই ভারতীয়ত্বের নাম করে মধ্যযুগীয় বাতিল চিন্তা ভাবনার জাবর কাটার প্রচেষ্টা। পঞ্চতন্ত্র, জাতক, হিতোপদেশের গল্পকে তাঁরা স্কুল পাঠ্য করতে চাইছেন, সংস্কৃত শিক্ষাকে গুরুত্ব দিচ্ছেন অথচ ইংরেজি ভাষা শিক্ষাকে গুরুত্বহীন করে দেখানোর চেষ্টা করেছেন। পাঠ্যতালিকায় বহু ব্যক্তির জীবনীচর্চার উল্লেখ আছে, কিন্তু সেই তালিকায় ভারতীয় নবজাগরণের পথিকৃৎ রামমোহন ও বিদ্যাসাগরের নাম সযত্নে বাদ দেওয়া হয়েছে। রামমোহন-বিদ্যাসাগরই যে এদেশে প্রথম ধর্মীয় কুসংস্কারাচ্ছন্ন শিক্ষা ব্যবস্থাকে বাতিল করে আধুনিক শিক্ষা প্রচলনের জন্য লড়াই করেছিলেন তা কারোর অজানা নয়। ভারতীয় নবজাগরণের এই মনীষীরা যে আরএসএস-বিজেপির চক্ষুশূল তা আজ জলের মতো পরিষ্কার।
বিশদ

15th  July, 2019
সাত শতাংশ বৃদ্ধির ফাঁদে
পি চিদম্বরম

 কেন্দ্রীয় সরকারের বাজেটগুলির মধ্যে ২০১৯-২০ সালের বাজেট স্বাভাবিকের তুলনায় দ্রুত জট খুলল। মানুষের মধ্যে এই বাজেট নিয়ে কিংবা আগের বাজেট প্রস্তাবটি নিয়ে কোনও আলোচনা নেই। অতিশয় ধনীরা (সুপার রিচ ৬৪৬৭) বিরক্ত, তবুও ভয়ে স্পিকটি নট। ধনীদের স্বস্তি এখানেই যে তাঁদের রেয়াত করা হয়ে থাকে।
বিশদ

15th  July, 2019
একটু ভাবুন
শুভা দত্ত

 বিশ্বের চারদিক থেকে পানীয় জল নিয়ে গুরুতর অশনিসংকেত আসার পরও আমাদের এই কলকাতা শহরে তো বটেই, গোটা রাজ্যেই প্রতিদিন বিশাল পরিমাণ জল অপচয় হয়। আপাতত বেশিরভাগ জায়গায় জলের জোগান স্বাভাবিক আছে বলে সেটা গায়ে লাগছে না। তাই এখনও আসন্ন মহাবিপদের কথাটা ভাবছেন খুব সামান্যজনই। বাদবাকিরা এখনও নির্বিকার, ভয়ডরহীন—দু’জনের সংসারে আড়াই-তিন হাজার লিটার শেষ করে দিচ্ছে দিনে, বাড়ি গাড়ি ধোয়া চালাচ্ছে কর্পোরেশনের পানীয় জলে! আহাম্মক আর কাকে বলে।
বিশদ

14th  July, 2019
বেনোজলের রাজনীতি
তন্ময় মল্লিক

জেলায় জেলায় নব্যদের নিয়ে বিজেপির আদিদের ক্ষোভ রয়েছে। আর এই ক্ষোভের অন্যতম কারণ যোগদানকারীদের বেশিরভাগই এক সময় হয় সিপিএমের হার্মাদ বাহিনীর সদস্য ছিলেন, অথবা তৃণমূলের ‘কাটমানি নেতা’। তাই এই সব নেতাকে নিয়ে স্বচ্ছ রাজনীতির স্লোগান মানুষ বিশ্বাস করবে না। উল্টে লোকসভা ভোটে যাঁরা নীরবে সমর্থন করেছিলেন, তাঁরা ফের নিঃশব্দেই মুখ ফিরিয়ে নেবেন।‘ফ্লোটিং ভোট’ যে মুখ ঘুরিয়ে নিতে পারে, সেটা বিজেপির পোড়খাওয়া নেতারা বুঝতে পারছেন। তাঁরা বলছেন, ভোটের ফল প্রকাশের পর যাঁরা আসছেন তাঁরা কেউই বিজেপির আদর্শের জন্য আসছেন না, আসছেন বাঁচার তাগিদে। কেউ কেউ লুটেপুটে খাওয়ার অভ্যাস বজায় রাখার আশায়।
বিশদ

13th  July, 2019
ঘোষণা ও বাস্তব
সমৃদ্ধ দত্ত

ভারত সরকারের অন্যতম প্রধান একটি প্রকল্পই হল নদী সংযোগ প্রকল্প। দেশের বিভিন্ন নদীকে পরস্পরের সঙ্গে যুক্ত করে দেওয়া হবে। যাতে উদ্বৃত্ত জলসম্পন্ন নদী থেকে বাড়তি জল শুকনো নদীতে যেতে পারে। প্রধানমন্ত্রী বারংবার এই প্রকল্পের প্রয়োজনীয়তার কথা বলেন। গোটা প্রকল্প রূপায়ণ করতে অন্তত ১ লক্ষ কোটি টাকা দরকার। এদিকে আবার বুলেট ট্রেন করতেও ১ লক্ষ ৮০ হাজার কোটি টাকা খরচ হচ্ছে! আধুনিক রাষ্ট্রে অবশ্যই দুটোই চাই। কিন্তু বাস্তব প্রয়োজনের ভিত্তিতে বিচার করলে? কোনটা বেশি জরুরি? বিশদ

12th  July, 2019
মোদি সরকারের নতুন জাতীয় শিক্ষানীতি দেশকে কোন দিকে নিয়ে চলেছে
তরুণকান্তি নস্কর

 কেন্দ্রীয় মানব সম্পদ উন্নয়ন দপ্তর থেকে সম্প্রতি জাতীয় শিক্ষানীতি-২০১৯-এর যে খসড়া প্রকাশিত হয়েছে তার যে অংশ নিয়ে সংবাদ মাধ্যমে হই চই পড়েছিল তা হল বিদ্যালয় স্তরে ত্রি-ভাষা নীতির মাধ্যমে অ-হিন্দিভাষী রাজ্যে জোর করে হিন্দি চাপানোর বিষয়টি। তামিলনাড়ুর মানুষের প্রবল আপত্তিতে তা কেন্দ্রীয় সরকার প্রত্যাহার করে নিয়েছে।
বিশদ

11th  July, 2019
একনজরে
সংবাদদাতা, বালুরঘাট: বালুরঘাট শহরের বিভিন্ন রাস্তায় গবাদিপশুর বিচরণ বেড়ে যাওয়া ব্যাপক সমস্যার পড়েছেন পথচলতি সাধারণ মানুষ। শহরের যত্রতত্র গোরু, ছাগল ঘোরাঘুরি করলেও সেসব ধরে সংশ্লিষ্ট মালিকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ...

  নয়াদিল্লি, ২০ জুলাই: বিশ্বকাপের সময় ভারতীয় ক্রিকেটাররা মাত্র ১৫ দিন পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে খাকার সুযোগ পাবেন। এটাই ছিল বিসিসিআইয়ের নিয়ম। কিন্তু এখন জানা যাচ্ছে, ...

 ওয়াশিংটন, ২০ জুলাই (পিটিআই): আন্তর্জাতিক চাপের মুখে মুম্বই হামলার মূলচক্রী হাফিজ সইদকে গ্রেপ্তার করেছে পাকিস্তান। এরপরেও পাকিস্তানের উপর থেকে সন্দেহ যাচ্ছে না আমেরিকার। ট্রাম্প প্রশাসনের প্রবীণ এক কর্তাব্যক্তি শুক্রবার জানিয়েছেন, আগেও হাফিজকে গ্রেপ্তার করেছিল ইসলামাবাদ। ...

 বিএনএ, চুঁচুড়া: প্রায় ২৪ ঘণ্টা পরে হুগলির চাঁপদানির ডালহৌসি জুটমিলে কাজ শুরু হল। শুক্রবার বিকেলে একাংশের কর্মী কাজ বন্ধ করে দেন। তারপর রাতে কারখানার সমস্ত কর্মী কাজ বন্ধ করে দিয়েছিলেন। কর্মীদের অভিযোগ, কারখানার উৎপাদন বাড়ানোর জন্য বেশি সময় ধরে কাজের ...




আজকের দিনটি কিংবদন্তি গৌতম
৯১৬৩৪৯২৬২৫ / ৯৮৩০৭৬৩৮৭৩

ভাগ্য+চেষ্টা= ফল
  • aries
  • taurus
  • gemini
  • cancer
  • leo
  • virgo
  • libra
  • scorpio
  • sagittorius
  • capricorn
  • aquarius
  • pisces
aries

উচ্চবিদ্যার ক্ষেত্রে ভালো ফল হবে। ব্যবসায় যুক্ত হলে খুব একটা ভালো হবে না। প্রেমপ্রীতিতে বাধাবিঘ্ন। ... বিশদ


ইতিহাসে আজকের দিন

১৯২০: মা সারদার মৃত্যু
১৮৬৩: কবি, গীতিকার ও নাট্যকার দ্বিজেন্দ্রলাল রায়ের জন্ম
১৮৯৯: লেখক বনফুল তথা বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায়ের জন্ম
১৯৫৫: প্রাক্তন ক্রিকেটার রজার বিনির জন্ম
২০১২: বাংলাদেশের লেখক হুমায়ুন আহমেদের মূত্যু 

20th  July, 2019
ক্রয়মূল্য বিক্রয়মূল্য
ডলার ৬৭.৯৫ টাকা ৬৯.৬৪ টাকা
পাউন্ড ৮৪.৭৭ টাকা ৮৭.৯২ টাকা
ইউরো ৭৬.১০ টাকা ৭৯.০৪ টাকা
[ স্টেট ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়া থেকে পাওয়া দর ]
20th  July, 2019
পাকা সোনা (১০ গ্রাম) ৩৫,৫২৫ টাকা
গহনা সোনা (১০ (গ্রাম) ৩৩,৭০৫ টাকা
হলমার্ক গহনা (২২ ক্যারেট ১০ গ্রাম) ৩৪,২১০ টাকা
রূপার বাট (প্রতি কেজি) ৪০,৫৫০ টাকা
রূপা খুচরো (প্রতি কেজি) ৪০,৬৫০ টাকা
[ মূল্যযুক্ত ৩% জি. এস. টি আলাদা ]

দিন পঞ্জিকা

৪ শ্রাবণ ১৪২৬, ২১ জুলাই ২০১৯, রবিবার, চতুর্থী ১৬/২২ দিবা ১১/৪০। শতভিষা ৫/৪৫ দিবা ৭/২৫। সূ উ ৫/৬/৫২, অ ৬/১৮/১৬, অমৃতযোগ প্রাতঃ ৫/৫৯ গতে ৯/৩১ মধ্যে। রাত্রি ৭/৪৫ গতে ৯/১১ মধ্যে, বারবেলা ১০/৪ গতে ১/২২ মধ্যে, কালরাত্রি ১/৩ গতে ২/২৪ মধ্যে।
৪ শ্রাবণ ১৪২৬, ২১ জুলাই ২০১৯, রবিবার, চতুর্থী ৯/২৬/৩১ দিবা ৮/৫২/১৬। শতভিষানক্ষত্র ২/০/৪৮ প্রাতঃ ৫/৫৩/৫৯, সূ উ ৫/৫/৪০, অ ৬/২১/৪৭, অমৃতযোগ দিবা ৬/৪ গতে ৯/৩২ মধ্যে এবং রাত্রি ৭/৪১ গতে ৯/৮ মধ্যে, বারবেলা ১০/৪/১৩ গতে ১১/৪৩/৪৪ মধ্যে, কালবেলা ১১/৪৩/৪৪ গতে ১/২৩/১৪ মধ্যে, কালরাত্রি ১/৪/১২ গতে ২/২৪/৪২ মধ্যে।
১৭ জেল্কদ

ছবি সংবাদ

এই মুহূর্তে
একুশে জুলাইয়ের সভাস্থল পরিদর্শনে মুখ্যমন্ত্রী
একুশে জুলাইয়ের মঞ্চে পৌঁছলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সভাস্থলের প্রস্তুতি পর্ব ...বিশদ

20-07-2019 - 05:54:05 PM

শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের সঙ্গে আন্দোলনকারী শিক্ষকদের বৈঠক, মিলল না রফাসূত্র

20-07-2019 - 05:05:54 PM

ইন্দোনেশিয়া ওপেন: চেন ইউ ফেইকে হারিয়ে ফাইনালে পি ভি সিন্ধু 

20-07-2019 - 04:32:32 PM

শীলা দীক্ষিত প্রয়াত 
প্রয়াত দিল্লির প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তথা বর্ষীয়ান কংগ্রেস নেত্রী শীলা দীক্ষিত। ...বিশদ

20-07-2019 - 04:12:00 PM

মমতাকে ফোন অমিত শাহর 
কেশরীনাথ ত্রিপাঠীর পর পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপাল হতে চলেছেন জগদীপ ধানকর। এদিন ...বিশদ

20-07-2019 - 03:24:53 PM

১২৮২৭ হাওড়া-পুরুলিয়া এক্সপ্রেস আজ বিকেল ৪:৫০ মিনিটের বদলে সন্ধ্যা ৬টায় হাওড়া স্টেশন থেকে ছাড়বে 

20-07-2019 - 03:09:36 PM