Bartaman Patrika
বিশেষ নিবন্ধ
 

ভোটবাংলা: তৃতীয় পর্ব শেষে দু’-একটি জিজ্ঞাসা
মেরুনীল দাশগুপ্ত

শেষপর্যন্ত বাংলার ভোটে রক্ত ঝরল। এবারের ভোটপর্বে প্রথম বলি হিসেবে নথিভুক্ত হলেন এক রাজমিস্ত্রি। মুর্শিদাবাদে রানিতলার সরকারপাড়া গ্রামের একটি বুথে মঙ্গলবার কী একটা গণ্ডগোলের জেরে তাঁকে কুপিয়ে খুন করল দুষ্কৃতীরা। হাঁসুয়ার মারাত্মক টানে চিরে দিল তাঁর পেট। বড় হাসপাতালে যাওয়ার পথেই প্রাণ হারালেন সেই প্রৌঢ়। ফের অনাথ হল একটি সাধারণ গরিব পরিবার। বুথে নয়, বুথ থেকে কিছুটা দূরে ঘটে গেল এই হত্যাকাণ্ড। তাঁর সঙ্গেই ঘটনায় গুরুতর আহত হলেন আরও দু’জন। বুধবার এই লেখা যখন লিখছি তখনও হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন এই দুই হতভাগ্য। বলা বাহুল্য, ঘটনা ঘটল প্রকাশ্য দিবালোকে এবং বেশ কিছু হতবাক আতঙ্কিত চোখের সামনেই। আর এই হত্যাকাণ্ডকে কেন্দ্র করে সংশ্লিষ্ট এলাকায় কিছু সময়ের জন্য হলেও ফিরল ভোট-সন্ত্রাসের চিরচেনা দৃশ্য। মনের মতো জনপ্রতিনিধি বেছে নেওয়ার ‘উৎসবে’ যোগ দিতে আসা মানুষজন সে দৃশ্যের ভয়াবহতা সইতে না পেরে পালালেন নিরাপদ আশ্রয়ে। এবং যথারীতি ঘটনা ঘটে যাওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই এলাকা দখল নিয়েছে কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা বাহিনী ও পুলিস। উত্তেজনা ঠান্ডা করে নিয়ন্ত্রণে এনেছে পরিস্থিতি। মানুষও ফিরেছে বুথে ভোটের ‘উৎসবে’ শামিল হতে, মনের মতো জনপ্রতিনিধি, মনপসন্দ সরকার নির্মাণে হাত লাগাতে।
অন্যদিকে সরকারপাড়া বুথের সামনের এই নারকী কাণ্ড নিয়ে যুযুধান রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে ততক্ষণে শুরু হয়ে গেছে চাপান-উতোর—দোষারোপ, পাল্টা দোষারোপের পালা চলেছে চ্যানেলযুদ্ধে। নিহত রাজমিস্ত্রি কংগ্রেসের স্থানীয় কর্মী বলে চিহ্নিত হয়ে গেছেন। তাঁর সঙ্গে আহত দু’জনের একজন কংগ্রেস, অন্যজন তৃণমূল বলে স্বীকৃতিও পেয়েছেন। ফলে, একটি নির্মম নারকী হত্যাকাণ্ড রাজনৈতিক সংঘর্ষের শিরোপা পেয়ে গেছে এবং সেখানেও জয়-পরাজয় নিয়ে পক্ষে, প্রতিপক্ষে একটা হইহই যুদ্ধপরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। যেমন হয়, যেমনটি আমরা দেখতে অভ্যস্ত তেমনই আর কী! এবং এবারের মোটামুটি শান্তির ভোটে রক্তের ছাপ লাগল কার দোষে—তা নিয়ে বাদানুবাদের আসরও বসে গেছে বিভিন্ন মহলে। এর মধ্যে ব্যতিক্রম ছিল কেবল একটাই, যাকে বলে একেবারে বেখাপ্পা ব্যতিক্রম—এক তরুণ। বুক খোলা রক্তে ভেজা শার্ট, বিধ্বস্ত মুখ, কান্না থমকে থাকা ভারী চোখ আর অসহায় মর্মান্তিক একটা চাহুনি। সরকারপাড়া হত্যাকাণ্ড নিয়ে জেগে ওঠা রাজনৈতিক কোলাহল থেকে দূরে হাসপাতালের বারান্দায় সেই তরুণের বুকফাটা আর্তনাদে কেঁপে কেঁপে চলেছে বৈশাখের তপ্ত নীল কঠিন আকাশ—আমরা তো যে যখন যা বলেছে করেছি, যেমন বলেছে দিয়েছি... তাও কেন এমন হল...! তাকে ঘিরে ছোট্ট ভিড়! নিরুত্তর!
সেটাই স্বাভাবিক। আমরাই কি জানি ছাই ওই সরল প্রশ্নের উত্তর! আমরা যারা শিক্ষিত সভ্যসজ্জন জাতীয় কি আন্তর্জাতিক সব বিষয়ে সমান দক্ষ মার্কসবাদ থেকে মোদিবাদ সব যাদের মুখস্থ কণ্ঠস্থ, আমরা যারা প্রতিনিয়ত গণতন্ত্রের হয়ে ধ্বজা তুলি গরিব মেহনতি মানুষের জন্য যাদের চোখের জল কখনও শুকোয় না, আমরা যারা বক্তৃতার মঞ্চ পেলে কথার কুঠারের দশ-পাঁচ ঘায়ে এভারেস্টকেও চাইলে নামিয়ে আনতে পারি পদতলে—সেই আমরাও কি জানি—সব মেনে নেওয়ার পরও কেন এমন হয়! জানলে তো নিশ্চয়ই আগেভাগে জানিয়ে দেওয়া যেত ওই তরুণের বাপকে—বুঝিয়ে দেওয়া যেত, বাপু ভোট নিয়ে ঝঞ্ঝাটে যেও না। চুপচাপ যাও, পারলে দাও না পারলে ফিরে এস। রাজমিস্ত্রির কাজে চলে যাও। কামাও, খাও বাল-বাচ্চা নিয়ে ঘর কর।
জানি না বলেই বলা হয় না। আর সেই খামতি কেড়ে নেয় টিয়ারুল ইসলামের মতো প্রাণ। আর ঘটনার পর আমাদের যাদের মঞ্চ আছে অজুহাত দিই, যুক্তি খাড়া করি ওই মৃত্যু থেকে দু-চার সের রাজনৈতিক ফায়দা আসে কি না তার হিসেব কষি। আর যাদের সেই মঞ্চ নেই তাদের বাক্স আছে—বাক্স খুলে হত্যা ও তৎসংলগ্ন রাজনীতির রোমাঞ্চকর গল্প শুনি, ছবি দেখি। দেখি কীভাবে রাজমিস্ত্রির মতো একজন সাধারণও মৃত্যুর পর কয়েকদিনের জন্য হলেও রাজনীতির চরিত্র হয়ে উঠছেন, কাগজে মিডিয়ায় ছাপা হচ্ছে তাঁর ছবি, কত লোক তাঁকে নিয়ে তাঁর ঘর-পরিবার নিয়ে কত কিছু বলছেন এবং সব মিলিয়ে ক’দিন আগের অজ্ঞাতপরিচয় মানুষটির ‘বিশেষ’ পরিচয় তৈরি হয়ে যাচ্ছে জনমনে! আজ বলে নয়—এই ট্র্যাডিশন চিরকালই ছিল, আজও চলছে। মিডিয়ামুগ্ধ এই যুগে তার প্রতিপত্তি যে বহুগুণ বেড়েছে—তাতেই বা সন্দেহ কি?
কিন্তু, মঙ্গলবারের ওই ঘটনা নিয়ে এত কথা কেন? সেদিনের ভোটের সামগ্রিক প্রেক্ষাপটে সরকারপাড়ার খুনটাকে একটা বিচ্ছিন্ন ঘটনা হিসেবেই তো দেখতে হয়। তার কারণ ওই দিন তৃতীয় দফার ভোটেও অশান্তি প্রায় হয়নি বললেই চলে। ডোমকলের টিকটিকি পাড়ায় অল্পবিস্তর বোমাবাজি (তাও বুথ থেকে ছ-সাতশো মিটার দূরে) দক্ষিণ দিনাজপুরের কুশমণ্ডিতে বিজেপি সমর্থকদের ভোটদানে বাধা বা হরিহরপুরে একটি বুথের কাছে চা-দোকানে ভাঙচুরের মতো ঘটনা বা বুথের ভিতরে-বাইরে ভোটার প্রভাবিত করার ঘটনা নিয়ে তৃণমূল, বিজেপি, কংগ্রেসের এজেন্টদের মধ্যে বচসাকে আর যা-ই হোক বড় ঘটনা বলা যায় কি? তাছাড়া, একথা অতি বড় নিন্দুকও স্বীকার করছেন যে, মঙ্গলবার পাঁচ কেন্দ্রের ভোটেই কেন্দ্রীয় বাহিনী ও পুলিস যথেষ্ট ছিল। নির্বাচন কমিশনের নজরও ছিল কড়া। ফলে গণ্ডগোল পাকানোর হোতাদের বিশেষ সুবিধা হয়নি। মানুষ মোটের ওপর নির্বিঘ্নেই ভোট দিয়েছেন। অথচ, এমন সামগ্রিক শান্তির পরিবেশেই সরকারপাড়ায় খুনের ঘটনাটা ঘটেছে। প্রথম দুই পর্ব শান্তিতে মিটতে দেখে মানুষের মনে পরবর্তী পর্বগুলো নিয়ে যে আশ্বাস-বিশ্বাস দানা বাঁধছিল—সরকারপাড়া তাতে একটা জোর ধাক্কা দিয়ে গেছে। সেজন্যই এত কথা।
বাংলার ভোটে হিংসা কোনও নতুন ব্যাপার তো নয়। কিন্তু, এবার প্রথম থেকেই ভোটের পরিবেশ পরিস্থিতি একটু আলাদা বলেই মনে হয়েছে। একদিকে কেন্দ্রীয় বাহিনীর ব্যাপক টহলদারি, নির্বাচন কমিশনের পর্যবেক্ষকদের নজরদারি এবং অন্যদিকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পুলিস প্রশাসনের সক্রিয়তা সহযোগিতায় সাধারণ মানুষজনের মনের ভোটভীতিও অনেকটাই প্রশমিত দেখিয়েছে। ফলে, ভোট প্রচারে যুযুধান পক্ষের নেতানেত্রীর তরজায় উত্তেজনার পারদ যতই চড়ুক, একটা সৌহার্দের পরিবেশে ভোট শেষ হবে এমন প্রত্যাশা বেড়ে উঠছিল মানুষের মধ্যে। মঙ্গলবারের মর্মান্তিক ঘটনা তাতে একটা ধাক্কা দিয়েছে। ধাক্কা দিয়েছে তবে ভাঙতে পারেনি—পথেঘাটে সাধারণের কথায় তা বেশ বোঝা যাচ্ছে। এবং জনমহলে যে ভোট জল্পনা চলছে সেখানেও এই আঁটোসাটো নিরাপত্তার ভূমিকা স্বীকৃতী হচ্ছে। আসলে, বাংলার মানুষ তা তিনি রাজনৈতিক কর্মী-সমর্থকই হোন, কি সাধারণ পাবলিক—কেউই রক্তারক্তি খুনোখুনি পছন্দ করেন না। এই ক্রমবর্ধমান অসহিষ্ণুতার যুগেও রক্তপাত এড়িয়ে চলতে চান এ রাজ্যের অধিকতর মানুষ—একথা তথ্যভিজ্ঞজনেরাও স্বীকার করেন। ওইসব পছন্দ যারা করে তাদের একমাত্র পরিচয়—দুষ্কৃতী, সমাজবিরোধী। তৃণমূল, সিপিএম, কংগ্রেস, বিজেপি কিচ্ছু না—খুনেগুন্ডা, দুষ্কৃতী। কিন্তু, দুর্ভাগ্য এই যে, আমাদের দেশে এরা অনেক সময়ই নানা কৌশলে রাজনৈতিক একটা পরিচয় পেয়ে যায়! এক্ষেত্রেও এত বছরে কোনও ব্যত্যয় ঘটেনি! আর এই না ঘটার মাশুল গুনতেই সরকারপাড়া ঘটে! আমাদের ভোট উৎসব কলঙ্কিত হয়। সেজন্যই এত কথা।
যাইহোক ভোট চলছে। সাত পর্বের তিন পর্ব শেষ। সুদূর উত্তর থেকে জেলার পর জেলা পার হয়ে ক্রমশ কলকাতা মহানগরীর দিকে এগিয়ে আসছে নির্বাচন। যত এগিয়ে আসছে তত তাপ বাড়ছে ভোটের ময়দানে। মোদি-মমতার সভা, পাল্টা সভায় সরগরম ভোটবাজার। এবং তৃতীয় পর্বে রক্তপাত প্রাণহানির পর সঙ্গত কারণেই সাধারণ মানুষজনের মহলে প্রশ্ন জেগেছে—শেষ চার পর্বের ভোট রক্তপাতহীন হবে তো? মানুষের নিরাপত্তা ভোটকর্মীদের সুরক্ষা বজায় থাকবে তো? থাকবে কি থাকবে না সেটা বলবে সময়। তবে, ইতিমধ্যেই ভোট-কমিশন জানিয়ে দিয়েছে, চতুর্থ পর্বে ৯৮ শতাংশ বুথে কেন্দ্রীয় বাহিনী থাকবে। রাজ্যের পুলিস তো থাকবেই। ফলে, সাধারণের মধ্যে একটা আশ্বাসের বাতাবরণ নিশ্চিত তৈরি হয়েছে। কিন্তু, পাশাপাশি তক্ষাদের মনে একটা খটকা থেকেই যাচ্ছে। মুর্শিদাবাদের সরকারপাড়াতেও তো যথেষ্ট আঁটোসাঁটো নিরাপত্তার ব্যবস্থা ছিল। পুলিস বাহিনী সবই ছিল। তা সত্ত্বেও হাঙ্গামা হল কীভাবে! কীভাবে দুষ্কৃতীরা একজনকে বুথে না হলেও বুথের কাছাকাছি অমন নৃশংসভাবে খুন করে বেরিয়ে গেল!? যতদূর মনে পড়ছে টিভি চ্যানেলে একজন স্থানীয় বলেছেন, ঘটনার সময় বুথে প্রহরারত নিরাপত্তারক্ষীদের কাছে সাহায্য চাইতে গেলে তাঁরা নাকি বলেছিলেন, বুথ ছেড়ে যাওয়া যাবে না! এবং, নিরাপত্তার সেই ফাঁকেই ঘটে গিয়েছে ওই মর্মান্তিক হত্যা! দুষ্কৃতীরাও চম্পট দেওয়ার সুযোগ পেয়েছে! প্রশ্ন একটাই, আসন্ন পর্বগুলোতে নিরাপত্তার ওই ফাঁকটা ভরানো হবে তো? না হলে বুথের শুদ্ধতা হয়তো বাঁচবে, কিন্তু ভোটারদের মনে প্রাণচিন্তাটা থেকেই যাবে— তাই না?
25th  April, 2019
২১ জুলাই সমাবেশ: মমতা কী বার্তা দেন জানতে উৎসুক বাংলা
শুভা দত্ত

ওই মর্মান্তিক ঘটনার পর থেকে প্রতিবছর মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই দিনটিতে বড়সড় সমাবেশের আয়োজন করে তাঁর প্রয়াত সহযোদ্ধাদের প্রতি শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেন।
বিশদ

ছোটদের বড় করতে হলে আগে শুধরাতে হবে নিজেকে
পার্থজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়

সব থেকে ভালো হয়, যদি আপনার ‘বাছা’কে নিজের মতো বেড়ে উঠতে দেন। আনন্দে বেড়ে উঠুক। আলো চিনিয়ে দিন, অন্ধকার চিনিয়ে দিন। লক্ষ্য রাখুন, ঠিকঠাক এগচ্ছে কি না! সামনে পিছনে কত ফাঁদ, চোরাবালি। আপনিই ঈশ্বর, ওকে রক্ষা করুন। ছোটদের ‘বড়’ করতে হলে আগে শুধরাতে হবে নিজেকে। দয়া করে ওর উপর মাতব্বরি করবেন না, হ্যাঁ আমরা মাতব্বরিই করি।
বিশদ

20th  July, 2019
জন্ম এবং মৃত্যুর দ্বান্দ্বিক বস্তুবাদ
শুভময় মৈত্র

সম্প্রতি অকস্মাৎ আমার একটি বন্ধুর মৃত্যু হয়েছে। এই উপলক্ষে জগতে সকলের চেয়ে পরিচিত যে মৃত্যু তার সঙ্গে আর-একবার নূতন পরিচয় হল। জগৎটা গায়ের চামড়ার মতো আঁকড়ে ধরেছিল, মাঝখানে কোনো ফাঁক ছিল না। মৃত্যু যখন প্রত্যক্ষ হল তখন সেই জগৎটা যেন কিছু দূরে চলে গেল, আমার সঙ্গে আর যেন সে অত্যন্ত সংলগ্ন হয়ে রইল না।
——— রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
বিশদ

20th  July, 2019
অ্যাপোলো ৫০: গো ফর দ্য মুন
মৃণালকান্তি দাস

 মই বেয়ে লুনার মডিউল ঈগল থেকে চাঁদের বুকে নামতে নামতে নিল আর্মস্ট্রং বলেছিলেন, ‘একজন মানুষের এই একটি পদক্ষেপ হবে মানবজাতির জন্য এক বিরাট অগ্রযাত্রা।’ সেই ছিল চাঁদের বুকে মানুষের প্রথম পদচিহ্ন আর মানবজাতির সেদিনের প্রমিথিউস ছিলেন নিল আর্মস্ট্রং। চাঁদের বুকে নিলের পা ফেলার মাধ্যমে মানুষ চাঁদকে জয় করেছিল।
বিশদ

19th  July, 2019
বাঙালির যে সংস্কৃতি হারিয়ে গেল
জিষ্ণু বসু

ইদানীং রাজ্যে একটা গেল গেল রব শোনা যাচ্ছে। বাঙালি তার সংস্কৃতি হারাচ্ছে। বিজেপি ও আরএসএসের দৌরাত্ম্যে বাংলা যে চেহারা নিচ্ছে সেটা এ রাজ্যের সংস্কৃতির পরিপন্থী। বাঙালি বড়জোর ‘জয়দুর্গা’ বলতে পারে, কিন্তু ‘জয় শ্রীরাম’ বলার প্রশ্নই ওঠে না।
বিশদ

18th  July, 2019
পরিবারতান্ত্রিক সঙ্কট 
শান্তনু দত্তগুপ্ত

ছবিটা খুব পরিচিত। নিজের দলের বিরুদ্ধেই ধর্নায় বসেছেন ইন্দিরা গান্ধী। ভাঙতে চলেছে কংগ্রেস। আর তার নেপথ্যে ক্ষমতার ভারসাম্য বজায় রাখার সংঘাত। একদিকে স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা। অন্যদিকে কামরাজ, মোরারজি দেশাই, তৎকালীন কংগ্রেস সভাপতি নিজলিঙ্গাপ্পা। 
বিশদ

16th  July, 2019
মোদি সরকারের নতুন জাতীয় শিক্ষানীতি দেশকে কোন দিকে নিয়ে চলেছে
তরুণকান্তি নস্কর

নয়া শিক্ষানীতির কেন্দ্রবিন্দুই হল এই ভারতীয়ত্বের নাম করে মধ্যযুগীয় বাতিল চিন্তা ভাবনার জাবর কাটার প্রচেষ্টা। পঞ্চতন্ত্র, জাতক, হিতোপদেশের গল্পকে তাঁরা স্কুল পাঠ্য করতে চাইছেন, সংস্কৃত শিক্ষাকে গুরুত্ব দিচ্ছেন অথচ ইংরেজি ভাষা শিক্ষাকে গুরুত্বহীন করে দেখানোর চেষ্টা করেছেন। পাঠ্যতালিকায় বহু ব্যক্তির জীবনীচর্চার উল্লেখ আছে, কিন্তু সেই তালিকায় ভারতীয় নবজাগরণের পথিকৃৎ রামমোহন ও বিদ্যাসাগরের নাম সযত্নে বাদ দেওয়া হয়েছে। রামমোহন-বিদ্যাসাগরই যে এদেশে প্রথম ধর্মীয় কুসংস্কারাচ্ছন্ন শিক্ষা ব্যবস্থাকে বাতিল করে আধুনিক শিক্ষা প্রচলনের জন্য লড়াই করেছিলেন তা কারোর অজানা নয়। ভারতীয় নবজাগরণের এই মনীষীরা যে আরএসএস-বিজেপির চক্ষুশূল তা আজ জলের মতো পরিষ্কার।
বিশদ

15th  July, 2019
সাত শতাংশ বৃদ্ধির ফাঁদে
পি চিদম্বরম

 কেন্দ্রীয় সরকারের বাজেটগুলির মধ্যে ২০১৯-২০ সালের বাজেট স্বাভাবিকের তুলনায় দ্রুত জট খুলল। মানুষের মধ্যে এই বাজেট নিয়ে কিংবা আগের বাজেট প্রস্তাবটি নিয়ে কোনও আলোচনা নেই। অতিশয় ধনীরা (সুপার রিচ ৬৪৬৭) বিরক্ত, তবুও ভয়ে স্পিকটি নট। ধনীদের স্বস্তি এখানেই যে তাঁদের রেয়াত করা হয়ে থাকে।
বিশদ

15th  July, 2019
একটু ভাবুন
শুভা দত্ত

 বিশ্বের চারদিক থেকে পানীয় জল নিয়ে গুরুতর অশনিসংকেত আসার পরও আমাদের এই কলকাতা শহরে তো বটেই, গোটা রাজ্যেই প্রতিদিন বিশাল পরিমাণ জল অপচয় হয়। আপাতত বেশিরভাগ জায়গায় জলের জোগান স্বাভাবিক আছে বলে সেটা গায়ে লাগছে না। তাই এখনও আসন্ন মহাবিপদের কথাটা ভাবছেন খুব সামান্যজনই। বাদবাকিরা এখনও নির্বিকার, ভয়ডরহীন—দু’জনের সংসারে আড়াই-তিন হাজার লিটার শেষ করে দিচ্ছে দিনে, বাড়ি গাড়ি ধোয়া চালাচ্ছে কর্পোরেশনের পানীয় জলে! আহাম্মক আর কাকে বলে।
বিশদ

14th  July, 2019
বেনোজলের রাজনীতি
তন্ময় মল্লিক

জেলায় জেলায় নব্যদের নিয়ে বিজেপির আদিদের ক্ষোভ রয়েছে। আর এই ক্ষোভের অন্যতম কারণ যোগদানকারীদের বেশিরভাগই এক সময় হয় সিপিএমের হার্মাদ বাহিনীর সদস্য ছিলেন, অথবা তৃণমূলের ‘কাটমানি নেতা’। তাই এই সব নেতাকে নিয়ে স্বচ্ছ রাজনীতির স্লোগান মানুষ বিশ্বাস করবে না। উল্টে লোকসভা ভোটে যাঁরা নীরবে সমর্থন করেছিলেন, তাঁরা ফের নিঃশব্দেই মুখ ফিরিয়ে নেবেন।‘ফ্লোটিং ভোট’ যে মুখ ঘুরিয়ে নিতে পারে, সেটা বিজেপির পোড়খাওয়া নেতারা বুঝতে পারছেন। তাঁরা বলছেন, ভোটের ফল প্রকাশের পর যাঁরা আসছেন তাঁরা কেউই বিজেপির আদর্শের জন্য আসছেন না, আসছেন বাঁচার তাগিদে। কেউ কেউ লুটেপুটে খাওয়ার অভ্যাস বজায় রাখার আশায়।
বিশদ

13th  July, 2019
ঘোষণা ও বাস্তব
সমৃদ্ধ দত্ত

ভারত সরকারের অন্যতম প্রধান একটি প্রকল্পই হল নদী সংযোগ প্রকল্প। দেশের বিভিন্ন নদীকে পরস্পরের সঙ্গে যুক্ত করে দেওয়া হবে। যাতে উদ্বৃত্ত জলসম্পন্ন নদী থেকে বাড়তি জল শুকনো নদীতে যেতে পারে। প্রধানমন্ত্রী বারংবার এই প্রকল্পের প্রয়োজনীয়তার কথা বলেন। গোটা প্রকল্প রূপায়ণ করতে অন্তত ১ লক্ষ কোটি টাকা দরকার। এদিকে আবার বুলেট ট্রেন করতেও ১ লক্ষ ৮০ হাজার কোটি টাকা খরচ হচ্ছে! আধুনিক রাষ্ট্রে অবশ্যই দুটোই চাই। কিন্তু বাস্তব প্রয়োজনের ভিত্তিতে বিচার করলে? কোনটা বেশি জরুরি? বিশদ

12th  July, 2019
মোদি সরকারের নতুন জাতীয় শিক্ষানীতি দেশকে কোন দিকে নিয়ে চলেছে
তরুণকান্তি নস্কর

 কেন্দ্রীয় মানব সম্পদ উন্নয়ন দপ্তর থেকে সম্প্রতি জাতীয় শিক্ষানীতি-২০১৯-এর যে খসড়া প্রকাশিত হয়েছে তার যে অংশ নিয়ে সংবাদ মাধ্যমে হই চই পড়েছিল তা হল বিদ্যালয় স্তরে ত্রি-ভাষা নীতির মাধ্যমে অ-হিন্দিভাষী রাজ্যে জোর করে হিন্দি চাপানোর বিষয়টি। তামিলনাড়ুর মানুষের প্রবল আপত্তিতে তা কেন্দ্রীয় সরকার প্রত্যাহার করে নিয়েছে।
বিশদ

11th  July, 2019
একনজরে
সংবাদদাতা, রামপুরহাট: আগামী ২৩ জুলাই থেকে এক সপ্তাহ ধরে বীরভূম জেলাজুড়ে বিস্তারক বর্গ কমসূচিতে নামতে চলেছে বিজেপি। তবে গতবছর বিস্তারক কর্মসূচিতে মোদি সরকারের বিভিন্ন প্রকল্পের সুবিধা তুলে ধরে প্রচার করা হয়েছিল।   ...

পল্লব চট্টোপাধ্যায়, কলকাতা: তিনিই যোগ্যতম। বাণিজ্য শাখার স্কুল শিক্ষক হিসেবে চাকরিতে যোগ দেন ২০০১ সালের ৩০ জুলাই। কিন্তু, কম যোগ্যতাসম্পন্নদের স্কুলে শিক্ষক পদে রেখে দেওয়া হলেও তাঁর চাকরি বিগত ১৮ বছরেও অনুমোদিত হয়নি। তাঁর মামলা সূত্রে দেওয়া কলকাতা হাইকোর্টের একাধিক ...

  নয়াদিল্লি, ২০ জুলাই: বিশ্বকাপের সময় ভারতীয় ক্রিকেটাররা মাত্র ১৫ দিন পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে খাকার সুযোগ পাবেন। এটাই ছিল বিসিসিআইয়ের নিয়ম। কিন্তু এখন জানা যাচ্ছে, ...

 বিএনএ, চুঁচুড়া: প্রায় ২৪ ঘণ্টা পরে হুগলির চাঁপদানির ডালহৌসি জুটমিলে কাজ শুরু হল। শুক্রবার বিকেলে একাংশের কর্মী কাজ বন্ধ করে দেন। তারপর রাতে কারখানার সমস্ত কর্মী কাজ বন্ধ করে দিয়েছিলেন। কর্মীদের অভিযোগ, কারখানার উৎপাদন বাড়ানোর জন্য বেশি সময় ধরে কাজের ...




আজকের দিনটি কিংবদন্তি গৌতম
৯১৬৩৪৯২৬২৫ / ৯৮৩০৭৬৩৮৭৩

ভাগ্য+চেষ্টা= ফল
  • aries
  • taurus
  • gemini
  • cancer
  • leo
  • virgo
  • libra
  • scorpio
  • sagittorius
  • capricorn
  • aquarius
  • pisces
aries

উচ্চবিদ্যার ক্ষেত্রে ভালো ফল হবে। ব্যবসায় যুক্ত হলে খুব একটা ভালো হবে না। প্রেমপ্রীতিতে বাধাবিঘ্ন। ... বিশদ


ইতিহাসে আজকের দিন

১৯২০: মা সারদার মৃত্যু
১৮৬৩: কবি, গীতিকার ও নাট্যকার দ্বিজেন্দ্রলাল রায়ের জন্ম
১৮৯৯: লেখক বনফুল তথা বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায়ের জন্ম
১৯৫৫: প্রাক্তন ক্রিকেটার রজার বিনির জন্ম
২০১২: বাংলাদেশের লেখক হুমায়ুন আহমেদের মূত্যু 

20th  July, 2019
ক্রয়মূল্য বিক্রয়মূল্য
ডলার ৬৭.৯৫ টাকা ৬৯.৬৪ টাকা
পাউন্ড ৮৪.৭৭ টাকা ৮৭.৯২ টাকা
ইউরো ৭৬.১০ টাকা ৭৯.০৪ টাকা
[ স্টেট ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়া থেকে পাওয়া দর ]
20th  July, 2019
পাকা সোনা (১০ গ্রাম) ৩৫,৫২৫ টাকা
গহনা সোনা (১০ (গ্রাম) ৩৩,৭০৫ টাকা
হলমার্ক গহনা (২২ ক্যারেট ১০ গ্রাম) ৩৪,২১০ টাকা
রূপার বাট (প্রতি কেজি) ৪০,৫৫০ টাকা
রূপা খুচরো (প্রতি কেজি) ৪০,৬৫০ টাকা
[ মূল্যযুক্ত ৩% জি. এস. টি আলাদা ]

দিন পঞ্জিকা

৪ শ্রাবণ ১৪২৬, ২১ জুলাই ২০১৯, রবিবার, চতুর্থী ১৬/২২ দিবা ১১/৪০। শতভিষা ৫/৪৫ দিবা ৭/২৫। সূ উ ৫/৬/৫২, অ ৬/১৮/১৬, অমৃতযোগ প্রাতঃ ৫/৫৯ গতে ৯/৩১ মধ্যে। রাত্রি ৭/৪৫ গতে ৯/১১ মধ্যে, বারবেলা ১০/৪ গতে ১/২২ মধ্যে, কালরাত্রি ১/৩ গতে ২/২৪ মধ্যে।
৪ শ্রাবণ ১৪২৬, ২১ জুলাই ২০১৯, রবিবার, চতুর্থী ৯/২৬/৩১ দিবা ৮/৫২/১৬। শতভিষানক্ষত্র ২/০/৪৮ প্রাতঃ ৫/৫৩/৫৯, সূ উ ৫/৫/৪০, অ ৬/২১/৪৭, অমৃতযোগ দিবা ৬/৪ গতে ৯/৩২ মধ্যে এবং রাত্রি ৭/৪১ গতে ৯/৮ মধ্যে, বারবেলা ১০/৪/১৩ গতে ১১/৪৩/৪৪ মধ্যে, কালবেলা ১১/৪৩/৪৪ গতে ১/২৩/১৪ মধ্যে, কালরাত্রি ১/৪/১২ গতে ২/২৪/৪২ মধ্যে।
১৭ জেল্কদ

ছবি সংবাদ

এই মুহূর্তে
একুশে জুলাইয়ের সভাস্থল পরিদর্শনে মুখ্যমন্ত্রী
একুশে জুলাইয়ের মঞ্চে পৌঁছলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সভাস্থলের প্রস্তুতি পর্ব ...বিশদ

20-07-2019 - 05:54:05 PM

শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের সঙ্গে আন্দোলনকারী শিক্ষকদের বৈঠক, মিলল না রফাসূত্র

20-07-2019 - 05:05:54 PM

ইন্দোনেশিয়া ওপেন: চেন ইউ ফেইকে হারিয়ে ফাইনালে পি ভি সিন্ধু 

20-07-2019 - 04:32:32 PM

শীলা দীক্ষিত প্রয়াত 
প্রয়াত দিল্লির প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তথা বর্ষীয়ান কংগ্রেস নেত্রী শীলা দীক্ষিত। ...বিশদ

20-07-2019 - 04:12:00 PM

মমতাকে ফোন অমিত শাহর 
কেশরীনাথ ত্রিপাঠীর পর পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপাল হতে চলেছেন জগদীপ ধানকর। এদিন ...বিশদ

20-07-2019 - 03:24:53 PM

১২৮২৭ হাওড়া-পুরুলিয়া এক্সপ্রেস আজ বিকেল ৪:৫০ মিনিটের বদলে সন্ধ্যা ৬টায় হাওড়া স্টেশন থেকে ছাড়বে 

20-07-2019 - 03:09:36 PM