Bartaman Patrika
বিশেষ নিবন্ধ
 

ভোটবাংলা: তৃতীয় পর্ব শেষে দু’-একটি জিজ্ঞাসা
মেরুনীল দাশগুপ্ত

শেষপর্যন্ত বাংলার ভোটে রক্ত ঝরল। এবারের ভোটপর্বে প্রথম বলি হিসেবে নথিভুক্ত হলেন এক রাজমিস্ত্রি। মুর্শিদাবাদে রানিতলার সরকারপাড়া গ্রামের একটি বুথে মঙ্গলবার কী একটা গণ্ডগোলের জেরে তাঁকে কুপিয়ে খুন করল দুষ্কৃতীরা। হাঁসুয়ার মারাত্মক টানে চিরে দিল তাঁর পেট। বড় হাসপাতালে যাওয়ার পথেই প্রাণ হারালেন সেই প্রৌঢ়। ফের অনাথ হল একটি সাধারণ গরিব পরিবার। বুথে নয়, বুথ থেকে কিছুটা দূরে ঘটে গেল এই হত্যাকাণ্ড। তাঁর সঙ্গেই ঘটনায় গুরুতর আহত হলেন আরও দু’জন। বুধবার এই লেখা যখন লিখছি তখনও হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন এই দুই হতভাগ্য। বলা বাহুল্য, ঘটনা ঘটল প্রকাশ্য দিবালোকে এবং বেশ কিছু হতবাক আতঙ্কিত চোখের সামনেই। আর এই হত্যাকাণ্ডকে কেন্দ্র করে সংশ্লিষ্ট এলাকায় কিছু সময়ের জন্য হলেও ফিরল ভোট-সন্ত্রাসের চিরচেনা দৃশ্য। মনের মতো জনপ্রতিনিধি বেছে নেওয়ার ‘উৎসবে’ যোগ দিতে আসা মানুষজন সে দৃশ্যের ভয়াবহতা সইতে না পেরে পালালেন নিরাপদ আশ্রয়ে। এবং যথারীতি ঘটনা ঘটে যাওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই এলাকা দখল নিয়েছে কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা বাহিনী ও পুলিস। উত্তেজনা ঠান্ডা করে নিয়ন্ত্রণে এনেছে পরিস্থিতি। মানুষও ফিরেছে বুথে ভোটের ‘উৎসবে’ শামিল হতে, মনের মতো জনপ্রতিনিধি, মনপসন্দ সরকার নির্মাণে হাত লাগাতে।
অন্যদিকে সরকারপাড়া বুথের সামনের এই নারকী কাণ্ড নিয়ে যুযুধান রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে ততক্ষণে শুরু হয়ে গেছে চাপান-উতোর—দোষারোপ, পাল্টা দোষারোপের পালা চলেছে চ্যানেলযুদ্ধে। নিহত রাজমিস্ত্রি কংগ্রেসের স্থানীয় কর্মী বলে চিহ্নিত হয়ে গেছেন। তাঁর সঙ্গে আহত দু’জনের একজন কংগ্রেস, অন্যজন তৃণমূল বলে স্বীকৃতিও পেয়েছেন। ফলে, একটি নির্মম নারকী হত্যাকাণ্ড রাজনৈতিক সংঘর্ষের শিরোপা পেয়ে গেছে এবং সেখানেও জয়-পরাজয় নিয়ে পক্ষে, প্রতিপক্ষে একটা হইহই যুদ্ধপরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। যেমন হয়, যেমনটি আমরা দেখতে অভ্যস্ত তেমনই আর কী! এবং এবারের মোটামুটি শান্তির ভোটে রক্তের ছাপ লাগল কার দোষে—তা নিয়ে বাদানুবাদের আসরও বসে গেছে বিভিন্ন মহলে। এর মধ্যে ব্যতিক্রম ছিল কেবল একটাই, যাকে বলে একেবারে বেখাপ্পা ব্যতিক্রম—এক তরুণ। বুক খোলা রক্তে ভেজা শার্ট, বিধ্বস্ত মুখ, কান্না থমকে থাকা ভারী চোখ আর অসহায় মর্মান্তিক একটা চাহুনি। সরকারপাড়া হত্যাকাণ্ড নিয়ে জেগে ওঠা রাজনৈতিক কোলাহল থেকে দূরে হাসপাতালের বারান্দায় সেই তরুণের বুকফাটা আর্তনাদে কেঁপে কেঁপে চলেছে বৈশাখের তপ্ত নীল কঠিন আকাশ—আমরা তো যে যখন যা বলেছে করেছি, যেমন বলেছে দিয়েছি... তাও কেন এমন হল...! তাকে ঘিরে ছোট্ট ভিড়! নিরুত্তর!
সেটাই স্বাভাবিক। আমরাই কি জানি ছাই ওই সরল প্রশ্নের উত্তর! আমরা যারা শিক্ষিত সভ্যসজ্জন জাতীয় কি আন্তর্জাতিক সব বিষয়ে সমান দক্ষ মার্কসবাদ থেকে মোদিবাদ সব যাদের মুখস্থ কণ্ঠস্থ, আমরা যারা প্রতিনিয়ত গণতন্ত্রের হয়ে ধ্বজা তুলি গরিব মেহনতি মানুষের জন্য যাদের চোখের জল কখনও শুকোয় না, আমরা যারা বক্তৃতার মঞ্চ পেলে কথার কুঠারের দশ-পাঁচ ঘায়ে এভারেস্টকেও চাইলে নামিয়ে আনতে পারি পদতলে—সেই আমরাও কি জানি—সব মেনে নেওয়ার পরও কেন এমন হয়! জানলে তো নিশ্চয়ই আগেভাগে জানিয়ে দেওয়া যেত ওই তরুণের বাপকে—বুঝিয়ে দেওয়া যেত, বাপু ভোট নিয়ে ঝঞ্ঝাটে যেও না। চুপচাপ যাও, পারলে দাও না পারলে ফিরে এস। রাজমিস্ত্রির কাজে চলে যাও। কামাও, খাও বাল-বাচ্চা নিয়ে ঘর কর।
জানি না বলেই বলা হয় না। আর সেই খামতি কেড়ে নেয় টিয়ারুল ইসলামের মতো প্রাণ। আর ঘটনার পর আমাদের যাদের মঞ্চ আছে অজুহাত দিই, যুক্তি খাড়া করি ওই মৃত্যু থেকে দু-চার সের রাজনৈতিক ফায়দা আসে কি না তার হিসেব কষি। আর যাদের সেই মঞ্চ নেই তাদের বাক্স আছে—বাক্স খুলে হত্যা ও তৎসংলগ্ন রাজনীতির রোমাঞ্চকর গল্প শুনি, ছবি দেখি। দেখি কীভাবে রাজমিস্ত্রির মতো একজন সাধারণও মৃত্যুর পর কয়েকদিনের জন্য হলেও রাজনীতির চরিত্র হয়ে উঠছেন, কাগজে মিডিয়ায় ছাপা হচ্ছে তাঁর ছবি, কত লোক তাঁকে নিয়ে তাঁর ঘর-পরিবার নিয়ে কত কিছু বলছেন এবং সব মিলিয়ে ক’দিন আগের অজ্ঞাতপরিচয় মানুষটির ‘বিশেষ’ পরিচয় তৈরি হয়ে যাচ্ছে জনমনে! আজ বলে নয়—এই ট্র্যাডিশন চিরকালই ছিল, আজও চলছে। মিডিয়ামুগ্ধ এই যুগে তার প্রতিপত্তি যে বহুগুণ বেড়েছে—তাতেই বা সন্দেহ কি?
কিন্তু, মঙ্গলবারের ওই ঘটনা নিয়ে এত কথা কেন? সেদিনের ভোটের সামগ্রিক প্রেক্ষাপটে সরকারপাড়ার খুনটাকে একটা বিচ্ছিন্ন ঘটনা হিসেবেই তো দেখতে হয়। তার কারণ ওই দিন তৃতীয় দফার ভোটেও অশান্তি প্রায় হয়নি বললেই চলে। ডোমকলের টিকটিকি পাড়ায় অল্পবিস্তর বোমাবাজি (তাও বুথ থেকে ছ-সাতশো মিটার দূরে) দক্ষিণ দিনাজপুরের কুশমণ্ডিতে বিজেপি সমর্থকদের ভোটদানে বাধা বা হরিহরপুরে একটি বুথের কাছে চা-দোকানে ভাঙচুরের মতো ঘটনা বা বুথের ভিতরে-বাইরে ভোটার প্রভাবিত করার ঘটনা নিয়ে তৃণমূল, বিজেপি, কংগ্রেসের এজেন্টদের মধ্যে বচসাকে আর যা-ই হোক বড় ঘটনা বলা যায় কি? তাছাড়া, একথা অতি বড় নিন্দুকও স্বীকার করছেন যে, মঙ্গলবার পাঁচ কেন্দ্রের ভোটেই কেন্দ্রীয় বাহিনী ও পুলিস যথেষ্ট ছিল। নির্বাচন কমিশনের নজরও ছিল কড়া। ফলে গণ্ডগোল পাকানোর হোতাদের বিশেষ সুবিধা হয়নি। মানুষ মোটের ওপর নির্বিঘ্নেই ভোট দিয়েছেন। অথচ, এমন সামগ্রিক শান্তির পরিবেশেই সরকারপাড়ায় খুনের ঘটনাটা ঘটেছে। প্রথম দুই পর্ব শান্তিতে মিটতে দেখে মানুষের মনে পরবর্তী পর্বগুলো নিয়ে যে আশ্বাস-বিশ্বাস দানা বাঁধছিল—সরকারপাড়া তাতে একটা জোর ধাক্কা দিয়ে গেছে। সেজন্যই এত কথা।
বাংলার ভোটে হিংসা কোনও নতুন ব্যাপার তো নয়। কিন্তু, এবার প্রথম থেকেই ভোটের পরিবেশ পরিস্থিতি একটু আলাদা বলেই মনে হয়েছে। একদিকে কেন্দ্রীয় বাহিনীর ব্যাপক টহলদারি, নির্বাচন কমিশনের পর্যবেক্ষকদের নজরদারি এবং অন্যদিকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পুলিস প্রশাসনের সক্রিয়তা সহযোগিতায় সাধারণ মানুষজনের মনের ভোটভীতিও অনেকটাই প্রশমিত দেখিয়েছে। ফলে, ভোট প্রচারে যুযুধান পক্ষের নেতানেত্রীর তরজায় উত্তেজনার পারদ যতই চড়ুক, একটা সৌহার্দের পরিবেশে ভোট শেষ হবে এমন প্রত্যাশা বেড়ে উঠছিল মানুষের মধ্যে। মঙ্গলবারের মর্মান্তিক ঘটনা তাতে একটা ধাক্কা দিয়েছে। ধাক্কা দিয়েছে তবে ভাঙতে পারেনি—পথেঘাটে সাধারণের কথায় তা বেশ বোঝা যাচ্ছে। এবং জনমহলে যে ভোট জল্পনা চলছে সেখানেও এই আঁটোসাটো নিরাপত্তার ভূমিকা স্বীকৃতী হচ্ছে। আসলে, বাংলার মানুষ তা তিনি রাজনৈতিক কর্মী-সমর্থকই হোন, কি সাধারণ পাবলিক—কেউই রক্তারক্তি খুনোখুনি পছন্দ করেন না। এই ক্রমবর্ধমান অসহিষ্ণুতার যুগেও রক্তপাত এড়িয়ে চলতে চান এ রাজ্যের অধিকতর মানুষ—একথা তথ্যভিজ্ঞজনেরাও স্বীকার করেন। ওইসব পছন্দ যারা করে তাদের একমাত্র পরিচয়—দুষ্কৃতী, সমাজবিরোধী। তৃণমূল, সিপিএম, কংগ্রেস, বিজেপি কিচ্ছু না—খুনেগুন্ডা, দুষ্কৃতী। কিন্তু, দুর্ভাগ্য এই যে, আমাদের দেশে এরা অনেক সময়ই নানা কৌশলে রাজনৈতিক একটা পরিচয় পেয়ে যায়! এক্ষেত্রেও এত বছরে কোনও ব্যত্যয় ঘটেনি! আর এই না ঘটার মাশুল গুনতেই সরকারপাড়া ঘটে! আমাদের ভোট উৎসব কলঙ্কিত হয়। সেজন্যই এত কথা।
যাইহোক ভোট চলছে। সাত পর্বের তিন পর্ব শেষ। সুদূর উত্তর থেকে জেলার পর জেলা পার হয়ে ক্রমশ কলকাতা মহানগরীর দিকে এগিয়ে আসছে নির্বাচন। যত এগিয়ে আসছে তত তাপ বাড়ছে ভোটের ময়দানে। মোদি-মমতার সভা, পাল্টা সভায় সরগরম ভোটবাজার। এবং তৃতীয় পর্বে রক্তপাত প্রাণহানির পর সঙ্গত কারণেই সাধারণ মানুষজনের মহলে প্রশ্ন জেগেছে—শেষ চার পর্বের ভোট রক্তপাতহীন হবে তো? মানুষের নিরাপত্তা ভোটকর্মীদের সুরক্ষা বজায় থাকবে তো? থাকবে কি থাকবে না সেটা বলবে সময়। তবে, ইতিমধ্যেই ভোট-কমিশন জানিয়ে দিয়েছে, চতুর্থ পর্বে ৯৮ শতাংশ বুথে কেন্দ্রীয় বাহিনী থাকবে। রাজ্যের পুলিস তো থাকবেই। ফলে, সাধারণের মধ্যে একটা আশ্বাসের বাতাবরণ নিশ্চিত তৈরি হয়েছে। কিন্তু, পাশাপাশি তক্ষাদের মনে একটা খটকা থেকেই যাচ্ছে। মুর্শিদাবাদের সরকারপাড়াতেও তো যথেষ্ট আঁটোসাঁটো নিরাপত্তার ব্যবস্থা ছিল। পুলিস বাহিনী সবই ছিল। তা সত্ত্বেও হাঙ্গামা হল কীভাবে! কীভাবে দুষ্কৃতীরা একজনকে বুথে না হলেও বুথের কাছাকাছি অমন নৃশংসভাবে খুন করে বেরিয়ে গেল!? যতদূর মনে পড়ছে টিভি চ্যানেলে একজন স্থানীয় বলেছেন, ঘটনার সময় বুথে প্রহরারত নিরাপত্তারক্ষীদের কাছে সাহায্য চাইতে গেলে তাঁরা নাকি বলেছিলেন, বুথ ছেড়ে যাওয়া যাবে না! এবং, নিরাপত্তার সেই ফাঁকেই ঘটে গিয়েছে ওই মর্মান্তিক হত্যা! দুষ্কৃতীরাও চম্পট দেওয়ার সুযোগ পেয়েছে! প্রশ্ন একটাই, আসন্ন পর্বগুলোতে নিরাপত্তার ওই ফাঁকটা ভরানো হবে তো? না হলে বুথের শুদ্ধতা হয়তো বাঁচবে, কিন্তু ভোটারদের মনে প্রাণচিন্তাটা থেকেই যাবে— তাই না?
25th  April, 2019
 দেশ চেয়েছে একজন শক্তিশালী নেতা
আর রাজ্যের দাবি গণতান্ত্রিক পরিসর
বিশ্বনাথ চক্রবর্তী

 দেশের মানুষ শক্তিশালী নেতার পক্ষে স্পষ্ট রায় জানিয়েছেন। শত বিভাজিত বিরোধী শিবির অপেক্ষা একক নেতার প্রতি সাধারণ মানুষ যে ভরসা করেন আরও একবার বিজেপির পক্ষে স্পষ্ট সংখ্যাগরিষ্ঠতা থেকে তা প্রমাণিত হল।
বিশদ

মোদির প্রত্যাবর্তন
 শান্তনু দত্তগুপ্ত

ঘড়ি ধরে ঘুম ভেঙেছিল ঠিক সকাল ৫টায়। প্রথমে নিয়মমাফিক যোগব্যায়াম, তারপর খবরে চোখ রাখা। নাঃ, সব শান্তিতেই আছে... নিশ্চিন্ত মনে ব্রেকফাস্ট নিয়ে বসলেন মুখ্যমন্ত্রী। সাড়ে ৮টা নাগাদ খবর আসা শুরু হল... কিছু একটা হয়েছে গোধরায়... কয়েকজন মারা গিয়েছে। সংখ্যাটা বাড়তেও পারে... ট্রেনে কিছু... এখনও শিওর হওয়া যাচ্ছে না। সেদিন আবার বিধানসভায় বাজেট পেশ।  
বিশদ

24th  May, 2019
সাবধান! গ্রাফিতি নিয়ে ব্যাঙ্কসি এবার ভারতেও
মৃণালকান্তি দাস

কোনও রাজা নয়। রাজার মূর্তিও নয়। দুই নেতার টানাটানিতে দ্বিখণ্ডিত ভারত! এটাই ছিল মুম্বইয়ের রাজপথের পাশে কোনও এক দেওয়ালে আঁকা গ্রাফিতি। দড়ি টানাটানি করছেন যাঁরা, তাঁদের একজন ‘নাগরিক’ পোশাকে সজ্জিত কংগ্রেস সভাপতি রাহুল গান্ধী। অন্যজনের পরনে সামরিক উর্দি। তিনি, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। কে এঁকেছেন, জানা নেই।
বিশদ

23rd  May, 2019
ভোটফল ২০১৯: ভালো মন্দ যা-ই ঘটুক উৎসবের মেজাজটি যেন বজায় থাকে
মেরুনীল দাশগুপ্ত

আজ সেই বহু প্রতীক্ষিত বৃহস্পতিবার, ২৩ মে। জল্পনা-কল্পনা, আন্দাজ-অনুমানের যাবতীয় কুহেলিকা সরিয়ে আজ প্রকাশ পাবে ২০১৯ লোকসভার চূড়ান্ত চিত্র। দেশজনতা আগামী পাঁচ বছরের জন্য কার হাতে পৃথিবীর বৃহত্তম গণতন্ত্র এই ভারতের শাসনভার তুলে দিলেন— জানা যাবে আজ।
বিশদ

23rd  May, 2019
অর্ধেক বুথে ভিভিপ্যাট গণনার দাবি এক মস্ত
চ্যালেঞ্জ, ব্যালটের যুগেই ফেরার তোড়জোড়
বিশ্বনাথ চক্রবর্তী

পৃথিবীর বৃহত্তম গণতন্ত্রের নির্বাচনী রাজসূয় যজ্ঞের চূড়ান্ত পর্বে ভোট গণনা ও ফলাফলের দিকে তাকিয়ে রয়েছে সমগ্র ভারত তো বটেই, সারা পৃথিবী। গত কয়েক মাস ধরে চলা রাজনীতির ঘাত-প্রতিঘাত, চাপান-উতোর, দাবি, পাল্টা দাবির সত্যতা উঠে আসবে গণনার মধ্য দিয়ে।
বিশদ

22nd  May, 2019
পশ্চিমবঙ্গের ভোট বিশ্লেষণ
শুভময় মৈত্র

 এ লেখা যখন আপনারা পড়ছেন, ততক্ষণে বুথফেরত সমীক্ষা আপনাদের হাতে। কিন্তু সমীক্ষা মানেই যে সেটা মিলবে এমনটা নয়। তার কারণ দুটো। এক হল সমস্ত সমীক্ষারই সফল হওয়ার একটা সম্ভাবনা থাকে। ঘুরিয়ে বললে সম্ভাবনা থাকে ব্যর্থ হওয়ারও।
বিশদ

21st  May, 2019
ভোট ও বুথ-ফেরত সমীক্ষার হাল-হকিকত
অতনু বিশ্বাস

ছ’সপ্তাহ-ব্যাপী লোকসভা নির্বাচন। সাত দফায়। তারও প্রায় পাঁচ সপ্তাহ আগে থেকে প্রচার, ইত্যাদি। আর এখন এক ক্লান্তিকর সময়কালের পরিসমাপ্তিতে অপেক্ষ্যমান জনগণ। কলেজ ক্যাম্পাসের মধ্যে ঢুকে বিদ্যাসাগরের মূর্তি ভাঙার মত অনভিপ্রেত ঘটনার অভিঘাতে বিমূঢ়, রাজনৈতিক চাপান-উতোর আর হানাহানিতে দীর্ণ, এবং সুদীর্ঘ ভোটপর্বের শেষে গোটা ভারতবর্ষ এখন তাকিয়ে আছে বৃহস্পতিবারের দিকে।
বিশদ

21st  May, 2019
অবশেষে সমাপ্ত, তিক্ততাসহ
পি চিদম্বরম

বিজেপি প্রচারের গোড়ায় ‘গিয়ার’ বদলে নিয়েছিল। ‘আচ্ছে দিন’-এর কথা ভুলক্রমেও উচ্চারিত হয়নি। ২০১৪ সালের প্রতিশ্রুতিগুলি বিজেপির জন্য এক বিড়ম্বনায় পরিণত হয়েছিল। নরেন্দ্র মোদি ‘সার্জিকাল স্ট্রাইক’, পুলওয়ামা-বালাকোট এবং জাতীয়তাবাদের ছত্রছায়ায় আশ্রয় নিয়েছিলেন। ‘সার্জিকাল স্ট্রাইক’ হল স্রেফ একটা ক্রস-বর্ডার অ্যাকশন বা সীমান্ত টপকে হানা—যা দিয়ে পাকিস্তানকে কোনোরকমে নিরস্ত করা যায়নি।
বিশদ

20th  May, 2019
নতুন বন্ধুর খোঁজে কংগ্রেস ও বিজেপি
শুভা দত্ত

বিজেপি যদি ২২০ থেকে ২৩০-এর বেশি আসন না পায়, তখন কী হবে? এনডিএ-র শরিকরা একবাক্যে বলবে, মোদির ভুলভাল সিদ্ধান্তের জন্যই ভোটার বিমুখ হয়েছে, সুতরাং তাঁকে আর প্রধানমন্ত্রী করার দরকার নেই। আরএসএস অবশ্য তাঁকে সরাতে চাইবে না। এই অবস্থায় অমিত শাহরা ঝাঁপিয়ে পড়বেন যাতে আরও কয়েকটি দলকে তাঁদের সমর্থনে পাওয়া যায়। বিজেপি যদি ১৪০ থেকে ১৬০-এর মধ্যে আসন পায়? তাহলে নিশ্চিতভাবেই মোদির প্রধানমন্ত্রী হওয়ার সম্ভাবনা জলাঞ্জলি যাবে। যতই নতুন বন্ধু আসুক, দিল্লিতে সরকার গড়া কিছুতেই সম্ভব হবে না। বিজেপিকে বসতে হবে বিরোধী আসনে।
বিশদ

20th  May, 2019
শেষ দফার ভোটে শান্তি বজায় রাখাই
আজ কমিশনের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ

শুভা দত্ত

দেখতে দেখতে সাত দফার লম্বা ভোটযুদ্ধ শেষ হয়ে এল। আজ সপ্তম, তথা শেষ দফা। তারপরই শুরু হয়ে যাবে লোকসভা মহাযুদ্ধের চূড়ান্ত ফলাফলের জন্য কাউন্টডাউন। রাজ্যের ৪২টি লোকসভা আসনের মধ্যে ৩৩টির ভোটগ্রহণ ইতিমধ্যেই সম্পন্ন হয়েছে। কলকাতা উত্তর, কলকাতা দক্ষিণ, যাদবপুর সমেত বাকি ন’টি আসনের ভাগ্য নির্ধারিত হবে আজ। 
বিশদ

19th  May, 2019
ভোট কেন দেশের
নামে হল না?
শান্তনু দত্তগুপ্ত

ভোটগ্রহণ কেন্দ্রের সামনে একটি প্লাইউডের কাটআউট। মাঝখানটা জানালার মতো কেটে জায়গা করা। সেলফি জোন বা সেলফি পয়েন্ট। অবশ্য সেটা নামেই। নিজে ছবি তুললে ইমপ্যাক্ট পড়বে না। বরং বিষয়টা এমন, ভোট দিয়ে বেরিয়ে ভোটার সেখানে দাঁড়াবেন... উল্টোদিক থেকে কেউ ছবি তুলবে।
বিশদ

18th  May, 2019
এবার ভোটে যে-কথা কেউ বলেনি
শুভা দত্ত

 ভোটপর্ব শেষ হয়ে এল। সামনের রবিবারেই ভোটগ্রহণ শেষ। প্রচারও শেষ হল। বৈশাখের দহন জ্বালা যত বাড়ছে, তার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে রাজনীতির উত্তাপ। মারদাঙ্গা, ভাঙচুর, ব্যক্তিগত আক্রমণ, সবই চলছে। এবার একটা বড় ইস্যু দেশের সুরক্ষা। তার সঙ্গে দুর্নীতি, বেকারত্ব, চাষিদের দুর্দশা এসবও আছে। কিন্তু একটা ভীষণ গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে কেউ কথা বলেনি। বিষয়টি হল বায়ুদূষণ। বিশদ

17th  May, 2019
একনজরে
 লন্ডন, ২৪ মে: বল বিকৃতি কাণ্ডের জেরে এক বছর ক্রিকেট থেকে দূরে ছিলেন তিনি। তবু ব্যাটের ধার এতটুকু কমেনি ডেভিড ওয়ার্নারের। বরং নির্বাসন কাটিয়ে ঢের ...

 নয়াদিল্লি ও মুম্বই, ২৪ মে (পিটিআই): মোদি-ঝড়ে দ্বিতীয় দিনেও চাঙ্গা শেয়ার বাজার। শুক্রবার ৬২৩ পয়েন্ট বেড়ে ৩৯ হাজার ৪৩৪.৭২ পয়েন্টে পৌঁছল বম্বে শেয়ার বাজার সূচক সেনসেক্স। ...

দিব্যেন্দু বিশ্বাস, নয়াদিল্লি, ২৪ মে: তত্ত্ব কথা আওড়ানোর লোক আছে। কিন্তু মাঠে ময়দানে নেমে কাজ করার জন্য দলীয় কর্মী নেই। সেই কারণে সাধারণ মানুষের একটি বড় অংশের কাছে পৌঁছনোই যায়নি। লোকসভা থেকে নিশ্চিহ্ন হয়ে গিয়ে কার্যত এই মর্মেই দলের কেন্দ্রীয় ...

সংবাদদাতা, কান্দি: নিজের জীবনের অন্তত ২০ বছর বিভিন্ন ধরনের খেলাধুলোর মাধ্যমে কাটিয়েছেন। কখনও কাবাডি নিয়ে মেতে উঠেছিলেন, আবার কখনও ভলিবল খেলায় উৎসাহ জুগিয়েছিলেন। যদিও ফুটবল তাঁর প্রিয় খেলা। ...




আজকের দিনটি কিংবদন্তি গৌতম
৯১৬৩৪৯২৬২৫ / ৯৮৩০৭৬৩৮৭৩

ভাগ্য+চেষ্টা= ফল
  • aries
  • taurus
  • gemini
  • cancer
  • leo
  • virgo
  • libra
  • scorpio
  • sagittorius
  • capricorn
  • aquarius
  • pisces
aries

শারীরিক কারণে কর্মে বাধা দেখা দেবে। সন্তানরা আপনার কথা মেনে না চলায় মন ভারাক্রান্ত হবে। ... বিশদ


ইতিহাসে আজকের দিন

 বিশ্ব থাইরয়েড দিবস
১৮৮৬: বিপ্লবী রাসবিহারী বসুর জন্ম
১৮৯৯: বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলামের জন্ম
১৯০৬ - বিখ্যাত ভাস্কর রামকিঙ্কর বেইজের জন্ম
১৯২৪ - শিক্ষাবিদ, কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি ও কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় এর ভাইস-চ্যান্সেলর আশুতোষ মুখোপাধ্যায়ের মৃত্যু
১৯৭২: পরিচালক করণ জোহরের জন্ম
২০০৫: অভিনেতা সুনীল দত্তের মৃত্যু
২০০৯: পশ্চিমবঙ্গের কয়েকটি জেলায় আইলা আঘাত করল
২০১৮ - শান্তি নিকেতনে বাংলাদেশ ভবনের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও নরেন্দ্র মোদী

ক্রয়মূল্য বিক্রয়মূল্য
ডলার ৬৮.৬৫ টাকা ৭০.৩৪ টাকা
পাউন্ড ৮৬.২৯ টাকা ৮৯.৫১ টাকা
ইউরো ৭৬.০৩ টাকা ৭৮.৯৬ টাকা
[ স্টেট ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়া থেকে পাওয়া দর ]
পাকা সোনা (১০ গ্রাম) ৩২,১৪৫ টাকা
গহনা সোনা (১০ (গ্রাম) ৩০,৫০০ টাকা
হলমার্ক গহনা (২২ ক্যারেট ১০ গ্রাম) ৩০,৯৬০ টাকা
রূপার বাট (প্রতি কেজি) ৩৬,৪৫০ টাকা
রূপা খুচরো (প্রতি কেজি) ৩৬,৫৫০ টাকা
[ মূল্যযুক্ত ৩% জি. এস. টি আলাদা ]

দিন পঞ্জিকা

১০ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬, ২৫ মে ২০১৯, শনিবার, ষষ্ঠী ৩/৪১ দিবা ৬/২৬। শ্রবণা ১৩/১৪ দিবা ১০/১৫। সূ উ ৪/৫৭/০, অ ৬/৯/৪৮, অমৃতযোগ দিবা ৩/৩১ গতে অস্তাবধি। রাত্রি ৬/৫২ গতে ৭/৩৫ মধ্যে পুনঃ ১১/১২ গতে ১/২১ মধ্যে পুনঃ ২/৪৭ গতে উদয়াবধি, বারবেলা ৬/৩৬ মধ্যে পুনঃ ১/১২ গতে ২/৫১ মধ্যে পুনঃ ৪/৩১ গতে অস্তাবধি, কালরাত্রি ৭/৩০ মধ্যে পুনঃ ৩/৩৬ গতে উদয়াবধি।
১০ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬, ২৫ মে ২০১৯, শনিবার, ষষ্ঠী ২/১০/২৫ দিবা ৫/৪৮/৪৮। শ্রবণানক্ষত্র ১২/৪০/১৪ দিবা ১০/০/৪৪, সূ উ ১/২৯/৫, অ ৬/১১/৫৫, অমৃতযোগ দিবা ৩/৩৬ গতে ৬/১২ মধ্যে এবং রাত্রি ৭/০ গতে ৭/৪২ মধ্যে ও ১১/১৬ গতে ১/২২ মধ্যে ও ২/৪৮ গতে ৪/৫৬ মধ্যে, বারবেলা ১/১৩/৪১ গতে ২/৫৩/৬ মধ্যে, কালবেলা ৬/৩৬/৩ মধ্যে ও ৪/৩২/৩১ গতে ৬/১১/৫৫ মধ্যে, কালরাত্রি ৭/৩২/৩০ মধ্যে ও ৩/৩৬/২ গতে ৪/৫৬/৩১ মধ্যে।
১৯ রমজান

ছবি সংবাদ

এই মুহূর্তে
ব্যাপক ঝড়-বৃষ্টির জেরে শিয়ালদহ, হাওড়া শাখায় ব্যাহত ট্রেন চলাচল 

08:32:13 PM

মালদহে তৃণমূল জেলা সভাপতি মৌসম বেনজির নুর 

05:55:00 PM

ভোটে ম্যান অব দ্য ম্যাচ নির্বাচন কমিশন: মমতা 

05:51:40 PM

নিজের নাক কেটে পরের যাত্রা ভঙ্গ করেছে সিপিএম: মমতা 

05:47:13 PM

আগামী ৩১ তারিখ ফের বৈঠকে বসব: মমতা 

05:42:00 PM

পাহাড়ে গৌতম দেবকে সরিয়ে অমর সিং রাইকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে: মমতা 

05:41:00 PM