Bartaman Patrika
বিশেষ নিবন্ধ
 

আসনের হিসেবে সবথেকে দুর্দশা বামেদের
শুভময় মৈত্র

অনেকবার আলোচনা হয়েছে এই পরিসংখ্যান, তবুও এবারের লোকসভা নির্বাচনের ফল জানতে উদগ্রীব ভোটপিপাসুদের সামনে ২০১৪-তে বিজেপি ঠিক কীভাবে ক্ষমতায় এসেছিল সে হিসেব অবশ্যই আকর্ষণীয়। সেই পরিসংখ্যানে দু’ভাগে ভাগ করা যায় ভারতকে। এক ভাগে তারা আসন পেয়েছিল আশি শতাংশ, আর অন্য ভাগে তাদের আসনের সংখ্যা ভীষণ কম। প্রথমে হিন্দি বলয়ের কথায় আসা যাক। উত্তরপ্রদেশ, বিহার, মধ্যপ্রদেশ, রাজস্থান, ছত্তিশগড়, ঝাড়খণ্ড, হরিয়ানা, দিল্লি, হিমাচল প্রদেশ এবং উত্তরাখণ্ড থেকে তারা পেয়েছিল ১৯০টা আসন। সঙ্গে যোগ করতে হবে পশ্চিমের দুই রাজ্য মহারাষ্ট্র আর গুজরাতের ৪৯। সব মিলিয়ে এই সব রাজ্যে ২৯৯টি আসনের মধ্যে ২৩৯, অর্থাৎ আশি শতাংশ। এর সঙ্গে যদি শিবসেনা কিংবা অন্যান্য জোটসঙ্গীদের যোগ করেন, তাহলে ফলাফল আরও বেশি জমজমাট। বাকি রাজ্যগুলোর আসনসংখ্যা কিন্তু একেবারেই সুবিধের নয়। দক্ষিণে শুধু কর্ণাটকে ভালো ফল হয়েছিল বিজেপির। তা ছাড়া কেরল, অন্ধ্রপ্রদেশ, তেলেঙ্গানায় সেভাবে বিজেপির কোনও প্রভাব ছিল না। তামিলনাড়ুতে ছিল এআইডিএমকে, তবে তাতে বিজেপির অবদান কিছু নেই। পূর্বে পশ্চিমবঙ্গ বা ওড়িশাতে তাদের ফল সুবিধের নয়। উত্তর-পূর্বের পঁচিশটা আসনেও সেভাবে ফল ভালো হয় নি বিজেপির। ভালো হয় নি জম্মু-কাশ্মীর বা পাঞ্জাবেও। এই সব রাজ্য মিলিয়ে ২৪৪-এর মধ্যে ৪৩টি আসন পেয়েছিল বিজেপি, অর্থাৎ ২০ শতাংশের নীচে।
আগের বারের খারাপ ফলের জায়গাগুলোর মধ্যে শেষ পাঁচ বছরে উত্তর-পূর্ব ভারতে বেশ উন্নতি করেছে বিজেপি। পশ্চিমবঙ্গে এবারেও আগের বারের মতোই আলোড়ন তুলেছে তারা, যদিও আসন সংখ্যার বিচারে কতটা সফল হবে সেকথা বলতে পারবে ভোটফল। বাকি জায়গাগুলোয় দেখলে বিজেপি নিজের থেকে যে অনেক আসন হঠাৎ বাড়িয়ে ফেলবে এমনটা এর মধ্যে খুব পরিষ্কার নয়। তবে নির্বাচনের ফল প্রকাশ হওয়ার পরে বিজেপি মোটামুটি ভালো করলে (দুশোর আশেপাশে), দক্ষিণের রাজ্যগুলো থেকে অনেক দলই হয়তো এনডিএ-র শরিক হতে চাইবে। এর মধ্যে অবশ্যই থাকবে তেলেঙ্গানা, অন্ধ্রপ্রদেশ, তামিলনাড়ুর মত রাজ্যগুলো। এই বিষয়টিকে শুধু রাজনৈতিক দলবদলের মত নেতিবাচক বিষয় হিসেবে ভাবা ঠিক নয়। এর একটা ইতিবাচক দিকও আছে। তা হল নিজের রাজ্যের উন্নতি। দক্ষিণের রাজ্যগুলোর উন্নয়ন অনেক সময়েই চোখে পড়ার মত। আর সেটা চালু রাখতে গেলে কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখা জরুরি। ফলে, ভোটযন্ত্র উত্তর উগরে দেওয়ার পরে এই দলগুলো কোন দিকে যাবে সেটা স্থির হবে, এখন তারা যতই তৃতীয় ফ্রন্ট কিংবা কংগ্রেসের দিকে ঝুঁকে থাক না কেন। এবারের নির্বাচনে বিজেপির পক্ষে আশার কথা সেটাই।
যে কথা বলছিলাম, বিজেপির চাই নিজের থেকে অন্তত ২০০ আসন। এর কম হলে তাদের পক্ষে মোদি-বিরোধিতার আবহে সরকার গড়া শক্ত। ধরা যাক, গতবারের ২৪৪-এর মধ্যে তাদের আসন ৪৩ থেকে এবার বেড়ে হল ৬১। এরকম সংখ্যা ধরার কারণ যোগ বিয়োগের সুবিধে, তার বেশি কিছু নয়। আর যেখানে ফল খারাপ হয়, সেখানেই তো অন্তত কিছুটা ভালো করা বেশ সহজ। সেই হিসেবে মোট ২০০ ছুঁতে বিজেপিকে হিন্দি এবং পশ্চিম বলয় থেকে পেতে হবে অন্তত ১৩৯টি আসন। সেখানে তারা আগেরবার পেয়েছিল ২৩৯টি। অর্থাৎ হিন্দি বলয়ে আগের বারের থেকে একশটি মত আসন কম পেলেও কিন্তু বিজেপির আশা থাকছে। তার কারণ দক্ষিণের অন্যান্য দলগুলির সঙ্গে বোঝাপড়া করে তারা জুটিয়ে নেবে আরও ৪০ থেকে ৫০ আর বাকিটুকু আসবে উত্তর এবং পশ্চিমভাগে তাদের সহযোগী দলগুলোর থেকে। একবার ক্ষমতার কাছে পৌঁছে গেলে বিজেপি কিছুটা চাপে থাকলেও সরকার গঠন করে ফেলবে। কিন্তু কোনও কারণে তারা যদি দেশের উত্তর-মধ্য-পশ্চিমে আরও বেশি আসন হারায় তখন সরকার গঠনে বেশ অসুবিধে হবে। সেক্ষেত্রে পরিস্থিতি অনেকটা ২০০৪ এর নির্বাচনের মতো গিয়ে দাঁড়াবে, যেখানে বামেদের পশ্চিমবঙ্গের আসনগুলোর একটা বড় ভাগ চলে যাবে তৃণমূলের ঝুলিতে। এরকম হতে গেলে কংগ্রেসকে প্রায় দেড়শোর কাছাকাছি আসন জোটাতে হবে, আর তখন তৃতীয় পক্ষ ঢলবে রাহুল গান্ধীর দিকে।
অর্থাৎ যদি একটা দাঁড়িপাল্লার কথা ভাবা যায়, তাহলে তার একদিকে থাকবে ২০০৪ এর নির্বাচন, আর অন্যদিকে ২০১৪-র। এবারের নির্বাচন তার মধ্যে কোনদিকে যাবে সেই অনুযায়ী ঠিক হবে ক্ষমতায় আসছে কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন ইউপিএ, নাকি বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএ। মনে রাখতে হবে যে ১৯৯৯ তে ১৮২টা আসন পেয়ে সরকার গড়েছিল বিজেপি, সঙ্গে ছিল এনডিএ-র বিভিন্ন দল। তেমনই ২০০৪-এ কংগ্রেস পেয়েছিল ১৪৫টি আসন। তাতে তাদের ইউপিএ-র নেতৃত্বে থেকে সরকার গঠনে কোনও অসুবিধে হয় নি। অর্থাৎ একটি বিষয় পরিষ্কার যে কংগ্রেস বা বিজেপির মধ্যে কোনও একটি দল অবশ্যই দেড়শোর বেশি আসন পেলেই নেতৃত্বের দাবিদার হওয়ার চেষ্টা করবে। কংগ্রেস সরকার গড়লে রাহুল গান্ধীর প্রধানমন্ত্রী হওয়ার সম্ভাবনা প্রায় একশো শতাংশ। তবে বিজেপি যদি খুব খারাপ ফল করেও (দুশোর নীচে আসন) সরকারে নেতৃত্ব দেয় তখন নরেন্দ্র মোদি প্রধানমন্ত্রী হতে পারবেন কিনা সে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।
তবে এছাড়াও আরও অনেক ধরনের সম্ভাবনা থাকবে। তার মধ্যে একটা হল ভালো করল না বিজেপি কিংবা কংগ্রেস দুজনেই এবং তাদের মোট আসন হল আড়াইশোর কম। সেক্ষেত্রে দক্ষিণের দলগুলো তো তৃতীয় পক্ষকে আসন জোগান দেবেই। তবে সেখান থেকে প্রধানমন্ত্রী হওয়ার মতো কাউকে আপাতত খুঁজে পাওয়া শক্ত। চন্দ্রবাবু নাইডুর হয়তো সামান্য সম্ভাবনা আছে, তবে তার জন্যে তেলুগু দেশমকে আগে ভালো ফল করতে হবে। বিজেপি আর কংগ্রেসের আসন কম হওয়ার অর্থ পশ্চিমবঙ্গে তৃণমূলও ভালো ফল করবে।
সেক্ষেত্রে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সুযোগ পেলে অবশ্যই প্রধানমন্ত্রী হতে রাজি থাকবেন, জ্যোতি বসুর ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি আর হবে না। উত্তরপ্রদেশে ভালো ফল করলে মায়াবতী অবশ্যই চেষ্টা করবেন প্রধানমন্ত্রী হওয়ার। উচ্চশিক্ষিত প্রধানমন্ত্রী হিসেবে আসন কম থাকলেও অরবিন্দ কেজরিওয়ালের নাম উঠে আসতে পারে। কে বলতে পারে সেক্ষেত্রে হয়তো অনেকে অনুরোধ জানাবেন রঘুরাম রাজনকে প্রধানমন্ত্রী হতে। সব মিলিয়ে ডালপালা সমেত সম্ভাবনার গাছ আঁকা হতে পারে অনেক রকমই। তেমন হলে রামবিলাস পাশোয়ান কিংবা অখিলেশ বা তেজস্বী যাদবই বা জমি ছাড়বেন কেন? সেক্ষেত্রে এই নির্বাচনের সঙ্গে ২০০৪ বা ২০১৪ কোনওটাই মিলবে না, পুরোপুরি নতুন খবর আনবে ২০১৯। অর্থাৎ খুব অদ্ভুত একটা অঙ্ক এবারের নির্বাচনে আসছে যা হল বিজেপি আর কংগ্রেসের আসনের যোগফল। এই যোগফল যদি তিনশোর বেশি হয়, তাহলে সরকার হবে বিজেপি বা কংগ্রেসের নেতৃত্বেই। কিন্তু এই যোগফল আড়াইশোর কম হলে তৃতীয় পক্ষের সম্ভাবনা প্রবল। আসনের হিসেবে অবশ্যই বিজেপি এবং কংগ্রেস প্রথম দুপক্ষে থাকবে, কিন্তু তাদের যোগফল ঠিক করবে ক্ষমতার লাগাম ধরবে কে। বিজেপি কংগ্রেসের যোগফল আড়াইশো থেকে তিনশোর মধ্যে থাকলে যা কিছু ঘটতে পারে, আর তা ঠিক হবে মে মাসের শেষ সপ্তাহে।
এবারের নির্বাচনে ভারতের প্রায় সব দলের ক্ষেত্রেই কিছু না কিছু ভালো খবর আসার সম্ভাবনা থাকলেও, আসনের হিসেবে সবথেকে দুর্দশা বামফ্রন্টের। কেরলে ভালো ফল না করলে তাদের আসনসংখ্যা এবার এক অঙ্কে নেমে যেতে পারে। সেক্ষেত্রে কংগ্রেস বা তৃতীয় পক্ষের সরকার হলেও তাদের প্রাসঙ্গিকতা কমে যাবে একেবারেই। দেশের পক্ষে তা মোটেই ভালো খবর নয়। নীতি নির্ধারণে সংসদে শিক্ষিত বাম নেতৃত্বের অনুপস্থিতি দেশকে অনেকটা পিছিয়ে দিতে পারে। তার মধ্যে সবথেকে বড় বিপদ সরকারি ব্যাঙ্কের বেসরকারিকরণের মতো বিষয়গুলি। অবশ্যই এ নিয়ে বামেদের সমমতই পোষণ করবে তৃণমূল। কিন্তু, তাদের তালিকা দেখলে এটা পরিষ্কার যে গভীর বিষয় নিয়ে সংসদে আলোচনা করার মত প্রার্থীদের তারা খুব বেশি টিকিট দেননি। বাম এবং মধ্যপন্থার কথা যে দলগুলো বলতে পারে, অর্থাৎ কংগ্রেস, সপা, বসপা, আরজেডি—তাদের সবার ক্ষেত্রেই অবস্থাটা প্রায় একইরকম। তাই যেই ক্ষমতায় আসুক না কেন, দেশের মানুষ যে কিছুটা নিশ্চিন্তে থাকবে এমনটা নয়। প্রচুর শিক্ষিত এবং সংবেদনশীল মানুষ যে এবার সংসদ আলো করবেন সেরকম মনে হচ্ছে না। সেই হিসেবে ২০১৯ অবশ্যই এক গামলা নেতিবাচক খবর আনবে। ভোটাররা বিষয়টা একবার ভেবে দেখবেন কি?
 লেখক ইন্ডিয়ান স্ট্যাটিস্টিক্যাল ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক, মতামত ব্যক্তিগত
25th  April, 2019
২১ জুলাই সমাবেশ: মমতা কী বার্তা দেন জানতে উৎসুক বাংলা
শুভা দত্ত

ওই মর্মান্তিক ঘটনার পর থেকে প্রতিবছর মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই দিনটিতে বড়সড় সমাবেশের আয়োজন করে তাঁর প্রয়াত সহযোদ্ধাদের প্রতি শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেন।
বিশদ

ছোটদের বড় করতে হলে আগে শুধরাতে হবে নিজেকে
পার্থজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়

সব থেকে ভালো হয়, যদি আপনার ‘বাছা’কে নিজের মতো বেড়ে উঠতে দেন। আনন্দে বেড়ে উঠুক। আলো চিনিয়ে দিন, অন্ধকার চিনিয়ে দিন। লক্ষ্য রাখুন, ঠিকঠাক এগচ্ছে কি না! সামনে পিছনে কত ফাঁদ, চোরাবালি। আপনিই ঈশ্বর, ওকে রক্ষা করুন। ছোটদের ‘বড়’ করতে হলে আগে শুধরাতে হবে নিজেকে। দয়া করে ওর উপর মাতব্বরি করবেন না, হ্যাঁ আমরা মাতব্বরিই করি।
বিশদ

20th  July, 2019
জন্ম এবং মৃত্যুর দ্বান্দ্বিক বস্তুবাদ
শুভময় মৈত্র

সম্প্রতি অকস্মাৎ আমার একটি বন্ধুর মৃত্যু হয়েছে। এই উপলক্ষে জগতে সকলের চেয়ে পরিচিত যে মৃত্যু তার সঙ্গে আর-একবার নূতন পরিচয় হল। জগৎটা গায়ের চামড়ার মতো আঁকড়ে ধরেছিল, মাঝখানে কোনো ফাঁক ছিল না। মৃত্যু যখন প্রত্যক্ষ হল তখন সেই জগৎটা যেন কিছু দূরে চলে গেল, আমার সঙ্গে আর যেন সে অত্যন্ত সংলগ্ন হয়ে রইল না।
——— রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
বিশদ

20th  July, 2019
অ্যাপোলো ৫০: গো ফর দ্য মুন
মৃণালকান্তি দাস

 মই বেয়ে লুনার মডিউল ঈগল থেকে চাঁদের বুকে নামতে নামতে নিল আর্মস্ট্রং বলেছিলেন, ‘একজন মানুষের এই একটি পদক্ষেপ হবে মানবজাতির জন্য এক বিরাট অগ্রযাত্রা।’ সেই ছিল চাঁদের বুকে মানুষের প্রথম পদচিহ্ন আর মানবজাতির সেদিনের প্রমিথিউস ছিলেন নিল আর্মস্ট্রং। চাঁদের বুকে নিলের পা ফেলার মাধ্যমে মানুষ চাঁদকে জয় করেছিল।
বিশদ

19th  July, 2019
বাঙালির যে সংস্কৃতি হারিয়ে গেল
জিষ্ণু বসু

ইদানীং রাজ্যে একটা গেল গেল রব শোনা যাচ্ছে। বাঙালি তার সংস্কৃতি হারাচ্ছে। বিজেপি ও আরএসএসের দৌরাত্ম্যে বাংলা যে চেহারা নিচ্ছে সেটা এ রাজ্যের সংস্কৃতির পরিপন্থী। বাঙালি বড়জোর ‘জয়দুর্গা’ বলতে পারে, কিন্তু ‘জয় শ্রীরাম’ বলার প্রশ্নই ওঠে না।
বিশদ

18th  July, 2019
পরিবারতান্ত্রিক সঙ্কট 
শান্তনু দত্তগুপ্ত

ছবিটা খুব পরিচিত। নিজের দলের বিরুদ্ধেই ধর্নায় বসেছেন ইন্দিরা গান্ধী। ভাঙতে চলেছে কংগ্রেস। আর তার নেপথ্যে ক্ষমতার ভারসাম্য বজায় রাখার সংঘাত। একদিকে স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা। অন্যদিকে কামরাজ, মোরারজি দেশাই, তৎকালীন কংগ্রেস সভাপতি নিজলিঙ্গাপ্পা। 
বিশদ

16th  July, 2019
মোদি সরকারের নতুন জাতীয় শিক্ষানীতি দেশকে কোন দিকে নিয়ে চলেছে
তরুণকান্তি নস্কর

নয়া শিক্ষানীতির কেন্দ্রবিন্দুই হল এই ভারতীয়ত্বের নাম করে মধ্যযুগীয় বাতিল চিন্তা ভাবনার জাবর কাটার প্রচেষ্টা। পঞ্চতন্ত্র, জাতক, হিতোপদেশের গল্পকে তাঁরা স্কুল পাঠ্য করতে চাইছেন, সংস্কৃত শিক্ষাকে গুরুত্ব দিচ্ছেন অথচ ইংরেজি ভাষা শিক্ষাকে গুরুত্বহীন করে দেখানোর চেষ্টা করেছেন। পাঠ্যতালিকায় বহু ব্যক্তির জীবনীচর্চার উল্লেখ আছে, কিন্তু সেই তালিকায় ভারতীয় নবজাগরণের পথিকৃৎ রামমোহন ও বিদ্যাসাগরের নাম সযত্নে বাদ দেওয়া হয়েছে। রামমোহন-বিদ্যাসাগরই যে এদেশে প্রথম ধর্মীয় কুসংস্কারাচ্ছন্ন শিক্ষা ব্যবস্থাকে বাতিল করে আধুনিক শিক্ষা প্রচলনের জন্য লড়াই করেছিলেন তা কারোর অজানা নয়। ভারতীয় নবজাগরণের এই মনীষীরা যে আরএসএস-বিজেপির চক্ষুশূল তা আজ জলের মতো পরিষ্কার।
বিশদ

15th  July, 2019
সাত শতাংশ বৃদ্ধির ফাঁদে
পি চিদম্বরম

 কেন্দ্রীয় সরকারের বাজেটগুলির মধ্যে ২০১৯-২০ সালের বাজেট স্বাভাবিকের তুলনায় দ্রুত জট খুলল। মানুষের মধ্যে এই বাজেট নিয়ে কিংবা আগের বাজেট প্রস্তাবটি নিয়ে কোনও আলোচনা নেই। অতিশয় ধনীরা (সুপার রিচ ৬৪৬৭) বিরক্ত, তবুও ভয়ে স্পিকটি নট। ধনীদের স্বস্তি এখানেই যে তাঁদের রেয়াত করা হয়ে থাকে।
বিশদ

15th  July, 2019
একটু ভাবুন
শুভা দত্ত

 বিশ্বের চারদিক থেকে পানীয় জল নিয়ে গুরুতর অশনিসংকেত আসার পরও আমাদের এই কলকাতা শহরে তো বটেই, গোটা রাজ্যেই প্রতিদিন বিশাল পরিমাণ জল অপচয় হয়। আপাতত বেশিরভাগ জায়গায় জলের জোগান স্বাভাবিক আছে বলে সেটা গায়ে লাগছে না। তাই এখনও আসন্ন মহাবিপদের কথাটা ভাবছেন খুব সামান্যজনই। বাদবাকিরা এখনও নির্বিকার, ভয়ডরহীন—দু’জনের সংসারে আড়াই-তিন হাজার লিটার শেষ করে দিচ্ছে দিনে, বাড়ি গাড়ি ধোয়া চালাচ্ছে কর্পোরেশনের পানীয় জলে! আহাম্মক আর কাকে বলে।
বিশদ

14th  July, 2019
বেনোজলের রাজনীতি
তন্ময় মল্লিক

জেলায় জেলায় নব্যদের নিয়ে বিজেপির আদিদের ক্ষোভ রয়েছে। আর এই ক্ষোভের অন্যতম কারণ যোগদানকারীদের বেশিরভাগই এক সময় হয় সিপিএমের হার্মাদ বাহিনীর সদস্য ছিলেন, অথবা তৃণমূলের ‘কাটমানি নেতা’। তাই এই সব নেতাকে নিয়ে স্বচ্ছ রাজনীতির স্লোগান মানুষ বিশ্বাস করবে না। উল্টে লোকসভা ভোটে যাঁরা নীরবে সমর্থন করেছিলেন, তাঁরা ফের নিঃশব্দেই মুখ ফিরিয়ে নেবেন।‘ফ্লোটিং ভোট’ যে মুখ ঘুরিয়ে নিতে পারে, সেটা বিজেপির পোড়খাওয়া নেতারা বুঝতে পারছেন। তাঁরা বলছেন, ভোটের ফল প্রকাশের পর যাঁরা আসছেন তাঁরা কেউই বিজেপির আদর্শের জন্য আসছেন না, আসছেন বাঁচার তাগিদে। কেউ কেউ লুটেপুটে খাওয়ার অভ্যাস বজায় রাখার আশায়।
বিশদ

13th  July, 2019
ঘোষণা ও বাস্তব
সমৃদ্ধ দত্ত

ভারত সরকারের অন্যতম প্রধান একটি প্রকল্পই হল নদী সংযোগ প্রকল্প। দেশের বিভিন্ন নদীকে পরস্পরের সঙ্গে যুক্ত করে দেওয়া হবে। যাতে উদ্বৃত্ত জলসম্পন্ন নদী থেকে বাড়তি জল শুকনো নদীতে যেতে পারে। প্রধানমন্ত্রী বারংবার এই প্রকল্পের প্রয়োজনীয়তার কথা বলেন। গোটা প্রকল্প রূপায়ণ করতে অন্তত ১ লক্ষ কোটি টাকা দরকার। এদিকে আবার বুলেট ট্রেন করতেও ১ লক্ষ ৮০ হাজার কোটি টাকা খরচ হচ্ছে! আধুনিক রাষ্ট্রে অবশ্যই দুটোই চাই। কিন্তু বাস্তব প্রয়োজনের ভিত্তিতে বিচার করলে? কোনটা বেশি জরুরি? বিশদ

12th  July, 2019
মোদি সরকারের নতুন জাতীয় শিক্ষানীতি দেশকে কোন দিকে নিয়ে চলেছে
তরুণকান্তি নস্কর

 কেন্দ্রীয় মানব সম্পদ উন্নয়ন দপ্তর থেকে সম্প্রতি জাতীয় শিক্ষানীতি-২০১৯-এর যে খসড়া প্রকাশিত হয়েছে তার যে অংশ নিয়ে সংবাদ মাধ্যমে হই চই পড়েছিল তা হল বিদ্যালয় স্তরে ত্রি-ভাষা নীতির মাধ্যমে অ-হিন্দিভাষী রাজ্যে জোর করে হিন্দি চাপানোর বিষয়টি। তামিলনাড়ুর মানুষের প্রবল আপত্তিতে তা কেন্দ্রীয় সরকার প্রত্যাহার করে নিয়েছে।
বিশদ

11th  July, 2019
একনজরে
পল্লব চট্টোপাধ্যায়, কলকাতা: তিনিই যোগ্যতম। বাণিজ্য শাখার স্কুল শিক্ষক হিসেবে চাকরিতে যোগ দেন ২০০১ সালের ৩০ জুলাই। কিন্তু, কম যোগ্যতাসম্পন্নদের স্কুলে শিক্ষক পদে রেখে দেওয়া হলেও তাঁর চাকরি বিগত ১৮ বছরেও অনুমোদিত হয়নি। তাঁর মামলা সূত্রে দেওয়া কলকাতা হাইকোর্টের একাধিক ...

সংবাদদাতা, রামপুরহাট: আগামী ২৩ জুলাই থেকে এক সপ্তাহ ধরে বীরভূম জেলাজুড়ে বিস্তারক বর্গ কমসূচিতে নামতে চলেছে বিজেপি। তবে গতবছর বিস্তারক কর্মসূচিতে মোদি সরকারের বিভিন্ন প্রকল্পের সুবিধা তুলে ধরে প্রচার করা হয়েছিল।   ...

 বিএনএ, চুঁচুড়া: প্রায় ২৪ ঘণ্টা পরে হুগলির চাঁপদানির ডালহৌসি জুটমিলে কাজ শুরু হল। শুক্রবার বিকেলে একাংশের কর্মী কাজ বন্ধ করে দেন। তারপর রাতে কারখানার সমস্ত কর্মী কাজ বন্ধ করে দিয়েছিলেন। কর্মীদের অভিযোগ, কারখানার উৎপাদন বাড়ানোর জন্য বেশি সময় ধরে কাজের ...

 ভোপাল, ২০ জুলাই (পিটিআই): ভেজাল দুধের বড়সড় চক্রের পর্দা ফাঁস করল মধ্যপ্রদেশ পুলিস। রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে অভিযান চালিয়ে শনিবার এই চক্রে জড়িত থাকার অভিযোগে মোট ৬২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিস। ...




আজকের দিনটি কিংবদন্তি গৌতম
৯১৬৩৪৯২৬২৫ / ৯৮৩০৭৬৩৮৭৩

ভাগ্য+চেষ্টা= ফল
  • aries
  • taurus
  • gemini
  • cancer
  • leo
  • virgo
  • libra
  • scorpio
  • sagittorius
  • capricorn
  • aquarius
  • pisces
aries

উচ্চবিদ্যার ক্ষেত্রে ভালো ফল হবে। ব্যবসায় যুক্ত হলে খুব একটা ভালো হবে না। প্রেমপ্রীতিতে বাধাবিঘ্ন। ... বিশদ


ইতিহাসে আজকের দিন

১৯২০: মা সারদার মৃত্যু
১৮৬৩: কবি, গীতিকার ও নাট্যকার দ্বিজেন্দ্রলাল রায়ের জন্ম
১৮৯৯: লেখক বনফুল তথা বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায়ের জন্ম
১৯৫৫: প্রাক্তন ক্রিকেটার রজার বিনির জন্ম
২০১২: বাংলাদেশের লেখক হুমায়ুন আহমেদের মূত্যু 

20th  July, 2019
ক্রয়মূল্য বিক্রয়মূল্য
ডলার ৬৭.৯৫ টাকা ৬৯.৬৪ টাকা
পাউন্ড ৮৪.৭৭ টাকা ৮৭.৯২ টাকা
ইউরো ৭৬.১০ টাকা ৭৯.০৪ টাকা
[ স্টেট ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়া থেকে পাওয়া দর ]
20th  July, 2019
পাকা সোনা (১০ গ্রাম) ৩৫,৫২৫ টাকা
গহনা সোনা (১০ (গ্রাম) ৩৩,৭০৫ টাকা
হলমার্ক গহনা (২২ ক্যারেট ১০ গ্রাম) ৩৪,২১০ টাকা
রূপার বাট (প্রতি কেজি) ৪০,৫৫০ টাকা
রূপা খুচরো (প্রতি কেজি) ৪০,৬৫০ টাকা
[ মূল্যযুক্ত ৩% জি. এস. টি আলাদা ]

দিন পঞ্জিকা

৪ শ্রাবণ ১৪২৬, ২১ জুলাই ২০১৯, রবিবার, চতুর্থী ১৬/২২ দিবা ১১/৪০। শতভিষা ৫/৪৫ দিবা ৭/২৫। সূ উ ৫/৬/৫২, অ ৬/১৮/১৬, অমৃতযোগ প্রাতঃ ৫/৫৯ গতে ৯/৩১ মধ্যে। রাত্রি ৭/৪৫ গতে ৯/১১ মধ্যে, বারবেলা ১০/৪ গতে ১/২২ মধ্যে, কালরাত্রি ১/৩ গতে ২/২৪ মধ্যে।
৪ শ্রাবণ ১৪২৬, ২১ জুলাই ২০১৯, রবিবার, চতুর্থী ৯/২৬/৩১ দিবা ৮/৫২/১৬। শতভিষানক্ষত্র ২/০/৪৮ প্রাতঃ ৫/৫৩/৫৯, সূ উ ৫/৫/৪০, অ ৬/২১/৪৭, অমৃতযোগ দিবা ৬/৪ গতে ৯/৩২ মধ্যে এবং রাত্রি ৭/৪১ গতে ৯/৮ মধ্যে, বারবেলা ১০/৪/১৩ গতে ১১/৪৩/৪৪ মধ্যে, কালবেলা ১১/৪৩/৪৪ গতে ১/২৩/১৪ মধ্যে, কালরাত্রি ১/৪/১২ গতে ২/২৪/৪২ মধ্যে।
১৭ জেল্কদ

ছবি সংবাদ

এই মুহূর্তে
একুশে জুলাইয়ের সভাস্থল পরিদর্শনে মুখ্যমন্ত্রী
একুশে জুলাইয়ের মঞ্চে পৌঁছলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সভাস্থলের প্রস্তুতি পর্ব ...বিশদ

20-07-2019 - 05:54:05 PM

শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের সঙ্গে আন্দোলনকারী শিক্ষকদের বৈঠক, মিলল না রফাসূত্র

20-07-2019 - 05:05:54 PM

ইন্দোনেশিয়া ওপেন: চেন ইউ ফেইকে হারিয়ে ফাইনালে পি ভি সিন্ধু 

20-07-2019 - 04:32:32 PM

শীলা দীক্ষিত প্রয়াত 
প্রয়াত দিল্লির প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তথা বর্ষীয়ান কংগ্রেস নেত্রী শীলা দীক্ষিত। ...বিশদ

20-07-2019 - 04:12:00 PM

মমতাকে ফোন অমিত শাহর 
কেশরীনাথ ত্রিপাঠীর পর পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপাল হতে চলেছেন জগদীপ ধানকর। এদিন ...বিশদ

20-07-2019 - 03:24:53 PM

১২৮২৭ হাওড়া-পুরুলিয়া এক্সপ্রেস আজ বিকেল ৪:৫০ মিনিটের বদলে সন্ধ্যা ৬টায় হাওড়া স্টেশন থেকে ছাড়বে 

20-07-2019 - 03:09:36 PM