Bartaman Patrika
বিশেষ নিবন্ধ
 

এবার ভোটে যে-কথা কেউ বলেনি
শুভা দত্ত

ভোটপর্ব শেষ হয়ে এল। সামনের রবিবারেই ভোটগ্রহণ শেষ। প্রচারও শেষ হল। বৈশাখের দহন জ্বালা যত বাড়ছে, তার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে রাজনীতির উত্তাপ। মারদাঙ্গা, ভাঙচুর, ব্যক্তিগত আক্রমণ, সবই চলছে। এবার একটা বড় ইস্যু দেশের সুরক্ষা। তার সঙ্গে দুর্নীতি, বেকারত্ব, চাষিদের দুর্দশা এসবও আছে। কিন্তু একটা ভীষণ গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে কেউ কথা বলেনি। বিষয়টি হল বায়ুদূষণ।
বিজেপি, কংগ্রেস ও অন্যান্য ছোটখাট দলের নির্বাচনী ইস্তাহারে কিন্তু দূষণ নিয়ন্ত্রণের কথা বলা হয়েছে। বিজেপি’র ইস্তাহারে লিখেছে, আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে মোট ১০২টি শহরের দূষণের মাত্রা ৩৫ শতাংশ কমিয়ে আনা হবে। কংগ্রেস স্বীকার করেছে, দূষণ একটা উদ্বেগজনক বিষয়। ক্ষমতায় এলে বড় শহরগুলির বায়ু থেকে বিষ কমানোর উপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আম আদমি পার্টিও এই ধরনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।
এই প্রথমবার ভোটের ইস্তাহারে দূষণের কথা স্থান পেল। কিন্তু ওই পর্যন্তই। ব্যাপারটা কাগজে-কলমেই আছে। রাজনৈতিক দলের ইস্তাহার আর ক’জন পড়ে। দলের সব সমর্থকও পড়ে কি না সন্দেহ। বেশিরভাগ লোক নেতাদের ভাষণ শুনে সংশ্লিষ্ট দলের কর্মসূচি সম্পর্কে ধারণা করে নেয়। যতদূর জানি, এখনও পর্যন্ত কোনও নেতা ভাষণে বলেননি, ক্ষমতায় এলে চেষ্টা করবেন যাতে মানুষ নির্মল হাওয়ায় শ্বাস নিতে পারে। হাওয়ায় যতই বিষ মিশুক, আমাদের দেশে তা এখনও জোরালো ইস্যু নয়।
ভারতে বায়ুদূষণের সমস্যা কিন্তু খুবই গুরুতর। ওয়ার্ল্ড হেল্‌থ অর্গানাইজেশনের হিসাব মতো, সারা বিশ্বে যে ২০টি শহরের বায়ু সবচেয়ে বেশি দূষিত, তার মধ্যে আছে ভারতের ১৬টি। হাওয়ায় এত দূষণ আছে বলে কমে যাচ্ছে মানুষের গড়পড়তা আয়ু। ২০১৭ সালে বায়ুদূষণজনিত রোগে মারা গিয়েছিলেন প্রায় ১২ লক্ষ ভারতীয়।
বায়ুদূষণের প্রধান কারণ মোটরগাড়ির ধোঁয়া। দ্রুত নগরায়ণ, নির্বিচারে গাছ কাটা, জলাশয় ভরাট করা, এসবের ফলেও বাতাসে বিষ মেশে।
এদেশে যে শহরগুলির হাওয়া সবচেয়ে বেশি দূষিত সেই তালিকায় আছে কয়েকটি ভিআইপি কেন্দ্র। তার অন্যতম কানপুর। ২০১৮ সালে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা রিপোর্ট দিয়েছিল, কানপুর বিশ্বের সবচেয়ে দূষিত শহর। এখানকার হাওয়ায় যে পরিমাণ বিষ আছে, আর কোনও শহরে অত নেই।
এক সময় কানপুরে দাঁড়াতেন মুরলী মনোহর যোশি। এবার সেখানে বিজেপির তরফে প্রার্থী সত্যদেব পাচৌরি। বিপক্ষে কংগ্রেসের শ্রীপ্রকাশ জয়সোয়াল। সমাজবাদী পার্টির প্রার্থী রাম কুমার। ত্রিমুখী প্রতিদ্বন্দ্বিতা হচ্ছে। ভোটারের সংখ্যা ১৬ লক্ষের কিছু বেশি।
মার্চে নির্বাচনের দিন ঘোষণার কিছুদিন আগে শহরে সভা করে এসেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। এপ্রিলে সভা করেছেন উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ। কংগ্রেসের সভাপতি রাহুল গান্ধী এবং রাজ্যের দুই প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী অখিলেশ সিং যাদব ও মায়াবতীও জনসভা করেছেন। কিন্তু কারও ভাষণে শহরের বায়ু পরিশুদ্ধ করার কথা শোনা যায়নি।
রাজনীতিকরা কি কানপুরের বায়ুদূষণের খবর রাখেন না? নিশ্চয় রাখেন। তাঁদের কাছে সম্ভবত জনস্বাস্থ্যের বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব পায় না। কিংবা হয়তো অন্য কোনও বাধ্যবাধকতা ছিল। বায়ুদূষণ রোধ করতে হলে দূষণ সৃষ্টিকারী শিল্পের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। তাহলে আবার সেই শিল্পের সঙ্গে যুক্ত বহু লোকের বেকার হয়ে পড়ার সম্ভাবনা। সব দিক ভেবে নেতারা চুপ থাকাই বাঞ্ছনীয় মনে করেছেন।
সারা বিশ্বে সবচেয়ে দূষিত শহরগুলির মধ্যে আছে বারাণসী। খোদ প্রধানমন্ত্রী সেখানকার প্রার্থী। এই নিয়ে পর পর দু’বার সেই প্রাচীন শহর থেকে ভোটে লড়ছেন। তিনি ও তাঁর দলের অন্যান্য মন্ত্রী নির্মল গঙ্গার কথা বলেন। কিন্তু বারাণসীর বাতাসকে দূষণমুক্ত করার কথা একবারও বলেননি।
উত্তরপ্রদেশের আর একটা হাই প্রোফাইল কেন্দ্রের নাম লখনউ। এখানে প্রার্থী বিজেপি’র রাজনাথ সিং। বিপরীতে সমাজবাদী পার্টির হয়ে দাঁড়িয়েছেন পুনম সিনহা। তিনি অভিনেতা শত্রুঘ্ন সিনহা’র স্ত্রী। শত্রুঘ্ন নিজে কংগ্রেসের প্রার্থী হওয়া সত্ত্বেও লখনউতে এসে প্রচার করে গিয়েছেন স্ত্রী’র হয়ে।
উত্তরপ্রদেশে সমাজবাদী পার্টির আর বহুজন সমাজ পার্টির ‘মহাগঠবন্ধনে’ কংগ্রেসের ঠাঁই হয়নি। অনেকে প্রশ্ন করেছেন, অভিনেতা নিজে কংগ্রেস প্রার্থী হয়ে কেমন করে সমাজবাদী পার্টির হয়ে প্রচার করতে পারেন? তার জবাবও দিয়েছেন শত্রুঘ্ন। এইরকম চাপান-উতোর অনেক হয়েছে। তার মাঝে কেউ ভুলেও শহরের বায়ুদূষণের কথা তোলেনি। যদিও বিশ্বের সবচেয়ে দূষিত ২০টি শহরের তালিকায় লখনউয়ের নাম আছে। আর আছে এলাহাবাদের নাম। সেও খুব নামী কেন্দ্র। একসময় এখানে প্রার্থী হতেন লালবাহাদুর শাস্ত্রী। আর এক প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ভিপি সিং-ও এই কেন্দ্র থেকে দাঁড়াতেন। মেগাস্টার অমিতাভ বচ্চন জীবনে একবারই ভোটে দাঁড়িয়েছেন। তাঁরও কেন্দ্র ছিল এলাহাবাদ।
তথ্য বলছে, দেশের বেশিরভাগ দূষিত শহর উত্তর ভারতে অবস্থিত। প্রতি বছর শীতে সেখানকার আকাশ ঢেকে যায় ধোঁয়াশায়। তার মধ্যে নিঃশ্বাস নেওয়াই হয়ে ওঠে কষ্টকর। আমাদের কেন্দ্রীয় সরকারের এয়ার কোয়ালিটি ফোরকাস্টিং অ্যান্ড রিসার্চ নামে একটি সংস্থা আছে। তারা বলছে, আগামী দিনে দূষণের মাত্রা আরও বাড়বে।
উত্তর ভারতের অন্যতম শহর দিল্লি। চিকিৎসকরা রাজধানীর বাসিন্দাদের পরামর্শ দেন, শীতে প্রবল বায়ুদূষণের মধ্যে বেশি শারীরিক পরিশ্রম করবেন না। ঘরের জানলা বন্ধ রাখুন। বাইরে বেরলে মাস্ক পরুন।
গত রবিবার দিল্লিতে ভোট হয়ে গেল। সেখানে আসনের সংখ্যা সাত। গতবারে সাতটিই পেয়েছিল বিজেপি। এবার অনেকে চেষ্টা করেছিলেন যাতে বিজেপি বিরোধী ভোট ভাগ না হয়। তবুও আম আদমি পার্টি আর কংগ্রেসের জোট হল না। অতএব ত্রিমুখী প্রতিদ্বন্দ্বিতা। তাতে সুবিধা বিজেপি’র।
শেষ অবধি যেই জিতুক, দিল্লির হাওয়া নির্মল হওয়া মুশকিল। প্রতিবেশী রাজ্য পাঞ্জাব ও হরিয়ানার চাষিরা প্রতি বছর অক্টোবর-নভেম্বর মাসে শস্যখেতে ফসলের অবশিষ্টাংশ পুড়িয়ে দেন। সেই ধোঁয়ায় ঢেকে যায় রাজধানী ও তার আশপাশের অঞ্চল।
চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, বায়ুদূষণজনিত কারণে প্রতি বছর শহরে হাজার হাজার মানুষ অসুস্থ হয়ে পড়েন। ২০১৫ সালে শুধু কানপুরেই অসুস্থ হয়েছিলেন ৪০ হাজার জন। দু’বছরের মধ্যে সংখ্যাটা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬০ হাজার। আগামী দিনে আরও বাড়লে আশ্চর্যের কিছু নেই।
শহরের অনেক বাসিন্দা জানিয়েছেন, তাঁদের নিঃশ্বাস নিতে কষ্ট হয়। গলায় জ্বালা করে। মাঝে মাঝেই কাশি হয়। কিন্তু সর্দিকাশির জন্য চিকিৎসকরা সাধারণত যে ওষুধ দেন, তা এক্ষেত্রে কাজ করে না। যাঁরা রাস্তাঘাটে কাজ করেন, যেমন ট্রাফিক কনস্টেবল, গাড়ির চালক, ক্লিনার, রাস্তার ধারে দোকানের কর্মী অথবা যে গরিবরা ফুটপাতে বাস করেন, তাঁদেরই বায়ুদূষণে অসুস্থ হয়ে পড়ার সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি।
দিল্লিতে প্রতি বছর ফুসফুসের রোগে আক্রান্ত হয় ২২ লক্ষ শিশু। তাদের দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যায়। পরবর্তীকালে ডায়াবেটিস, মৃগী, এমনকী ফুসফুসের ক্যান্সারে আক্রান্ত হওয়ার ভয় থাকে।
আমাদের কল্লোলিনী কলকাতার অবস্থা কী? বিশেষজ্ঞদের মতে, দিল্লির চেয়ে এই শহরের অবস্থা বিশেষ ভালো নয়। হাওড়া স্টেশন, শিয়ালদহ, বড়বাজার কিংবা মৌলালির মতো জায়গায় দূষণের মাত্রা ভয়াবহ। দিনের ব্যস্ত সময়ে গাড়ির ধোঁয়ায় বাতাস ভারী হয়ে ওঠে।
অনেকে বলছেন, গত দুই দশকে উদারনীতির হাওয়ায় দেশে যে শিল্পায়ন হয়েছে, তার অবশ্যম্ভাবী ফল, বায়ুদূষণ বৃদ্ধি। দূষণ রোধে বেশি কড়াকড়ি করলে শিল্পায়ন ব্যাহত হবে।
কথাটা সর্বাংশে সত্য নয়।
সদিচ্ছা থাকলে শিল্পায়নের পাশাপাশি বাতাসকেও যে অনেকাংশে নির্মল করে তোলা যায়, তা প্রমাণ করেছে চীন। সেদেশে আগে প্রতি বছরে ১১ লক্ষ মানুষ দূষণজনিত নানা রোগে মারা যেতেন। ২০১৪ সালে চীনের কমিউনিস্ট পার্টির বার্ষিক কংগ্রেসে প্রধানমন্ত্রী লি কেচিয়াং বলেন, আমরা দূষণের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করছি। কারখানার ধোঁয়ায় আমাদের আকাশ হয়ে উঠেছে ধূসর। আমরা আকাশের নীলিমা ফিরিয়ে দেব।
চীনের সরকার মূলত দুটি বিষয়ের ওপরে জোর দেয়। প্রথমত ইস্পাতের উৎপাদন কমিয়ে আনা। দ্বিতীয়ত কয়লার ব্যবহার কমানো। শক্তির বিকল্প উৎস হিসাবে বায়ু ও সূর্যালোক থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য বিপুল অর্থ বিনিয়োগ করা হয়। এতে চীনের দূষণ যে উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে, সেকথা মানতে বাধ্য হয়েছে আন্তর্জাতিক মহল। চীন দূষণের মাত্রা আরও কমানোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। তারা চায়, ২০২২ সালের মধ্যে দেশের বাতাসের মান আমেরিকা এবং ইউরোপের উন্নত দেশগুলির সমতুল হয়ে উঠুক।
চীন যা পারে, আমরা পারি না কেন? তার কারণ, সদিচ্ছার অভাব। মানুষের সচেতনতা না থাকাও একটা কারণ, মানুষ যদি দূষণ নিয়ে বিশেষ মাথা না ঘামায়, ভোটে রাজনীতিকরা তাকে ইস্যু করবে কেন?
দূষণের মতো আরও একটা বিষয় আছে যা নিয়ে ভোটের বাজারে কেউ একটি কথাও বলেনি। প্রতি বছর দেশে পথ দুর্ঘটনায় মারা যায় এক লক্ষেরও বেশি মানুষ। আহত হয় তিন-চার লক্ষ। ২০১৫ সালে ভারত পথ দুর্ঘটনা-সংক্রান্ত এক আন্তর্জাতিক চুক্তিতে সই করেছিল। তাতে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে অ্যাক্সিডেন্ট কমিয়ে আনার কথা বলা আছে। দুর্ঘটনা রোধে তার পরে কয়েকটি ব্যবস্থাও নেওয়া হয়। কিন্তু এখনও পর্যন্ত তেমন ফল পাওয়া যায়নি।
যুবকরাই পথ দুর্ঘটনার শিকার হয় সবচেয়ে বেশি। তথ্য বলছে, অ্যাক্সিডেন্টে মৃতদের মধ্যে ৬০ শতাংশের বয়স ১৮ থেকে ৩৫-এর মধ্যে। অনেকে মদ্যপান করে গাড়ি চালায়। বাইক চালানোর সময় হেলমেট পরে না। দীর্ঘসময় ধরে গাড়ি চালাতে চালাতে অনেক ড্রাইভার ক্লান্ত হয়ে ঘুমিয়ে পড়ে। রাস্তায় প্রায়ই দুটি বাসের মধ্যে রেষারেষি হয়।
দূষণের কথা তবু তো কয়েকটি দলের ইস্তাহারে স্থান পেয়েছে, পথ দুর্ঘটনার কথা তাও পায়নি। আজ পর্যন্ত কোনও দল ইস্তাহারেও লেখেনি, ক্ষমতায় এলে দুর্ঘটনায় জীবনহানি কমানোর ব্যবস্থা করবে।
17th  May, 2019
বিধানসভা ভোট কিন্তু হবে মমতাকে দেখেই
শান্তনু দত্তগুপ্ত 

ইন্দিরা গান্ধীর টার্গেট ছিল একটাই। যেভাবে হোক সিপিএমের কোমর ভেঙে দিতে হবে। তিনি মনে করতেন, সিপিএম আসলে সিআইএ’র মদতপুষ্ট। ঠিকঠাক সুযোগ পেলে পূর্ববঙ্গ এবং পশ্চিমবঙ্গে সশস্ত্র আন্দোলন করিয়ে বৃহত্তর বাংলা গঠন করে ফেলবে। কাজেই বাংলা কংগ্রেস এবং সিপিআই পছন্দের তালিকায় থাকলেও সিপিএমকে মোটে বরদাস্ত করতে পারতেন না ইন্দিরা।
বিশদ

ডাক্তারবাবুদের গণ-ইস্তফা নজিরবিহীন,
কিন্তু তাতে কি হাসপাতাল সমস্যা মিটবে?

 এ-কথাও তো সত্যি যে, হাসপাতালের পরিকাঠামোগত উন্নয়নে বা ডাক্তারবাবুদের যথাযথ নিরাপত্তা বিধানে তাঁর সদিচ্ছা আছে এবং ইতিমধ্যেই তার যথেষ্ট প্রমাণ মিলেছে। এই অচলাবস্থা কাটাতে প্রবীণদের বৈঠকে ডেকে মুখ্যমন্ত্রী সমাধানসূত্র খুঁজছেন— সেটাও কি ওই সদিচ্ছারই নামান্তর নয়? বিশদ

16th  June, 2019
নরেন্দ্র মোদির মালদ্বীপ সফর এবং ভারত মহাসাগরে ভারতের নতুন রণনীতি
গৌরীশঙ্কর নাগ

 মোদিজির এই দ্বীপপুঞ্জ-সফর কেবলমাত্র হাসি বিনিময় ও করমর্দনের রাজনীতি হবে না, বরং এর প্রধান অ্যাজেন্ডাই হল প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে মজবুত করা। তবে সেটা করতে গিয়ে ভারত যেন দ্বীপপুঞ্জের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে অযথা হস্তক্ষেপ না করে বসে। কিন্তু তার অর্থ এই নয় যে, ভারত মালদ্বীপকে সন্ত্রাসবাদের নয়া ‘আঁতুড়ঘর’ হতে দেবে। কারণ ইতিমধ্যেই আমরা দেখেছি পাকিস্তান, আফগানিস্তান এমনকী মধ্যপ্রাচ্য থেকেও জেহাদি নেটওয়ার্কের কারবার মালদ্বীপেও পৌঁছে গিয়েছে। এই র‌্যাডিক্যালিজমের একমাত্র দাওয়াই হল অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও তার সহায়ক শক্তি হিসেবে রাজনৈতিক স্থিরতা।
বিশদ

15th  June, 2019
সতর্কতার সময়
সমৃদ্ধ দত্ত

 ভারতীয় সংস্কৃতির সনাতন ধারাটি হল দিবে আর নিবে, মিলিবে মেলাবে। কিন্তু সেই সংস্কৃতি থেকে আমাদের সরিয়ে এনেছে অসহিষ্ণুতা আর স্বল্পবিদ্যা। আর সবথেকে বেশি জায়গা করে নিয়েছে বিদ্বেষ। রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের প্রতি বিদ্বেষ।
বিশদ

14th  June, 2019
ক্ষমতার ‘হিন্দি’ মিডিয়াম
শান্তনু দত্তগুপ্ত

 উত্তর ভারতের সঙ্গে দক্ষিণের সীমারেখা। আর তার কারিগর আমরাই। আমাদের কাছে সাউথ ইন্ডিয়ান মানে মাদ্রাজি। দক্ষিণ ভারতের লোকজন নারকেল তেল খায়, অদ্ভুত ওদের উচ্চারণ, লুঙ্গি পরে বিয়েবাড়ি যায়... হাজারো আলোচনা। উত্তর ভারত মানে বিষম একটা নাক উঁচু ব্যাপার। আর দক্ষিণ মানেই রসিকতার খোরাক। তাই ওদের একটু ‘মানুষ’ করা দরকার। কীভাবে সেটা সম্ভব? হিন্দি শেখাতে হবে। বিশদ

13th  June, 2019
বারুদের স্তূপের উপর পশ্চিমবঙ্গ
হিমাংশু সিংহ

সংসদীয় রাজনীতিতে কিছুই চিরস্থায়ী নয়। কারও মৌরসিপাট্টাই গণতন্ত্রে বেশিদিন টেকে না। সব সাজানো বাগানই একদিন শুকিয়ে যায় কালের নিয়মে। ইতিহাস কয়েক বছর অন্তর ফিরে ফিরে আসে আর ধুরন্ধর শাসককে চরম শিক্ষা দিয়ে তাঁকে, তাঁর ক্ষমতাকে ধুলোয় লুটিয়ে দিয়ে আবার ফকির করে দিয়ে যায়। সব ক্ষমতা এক ভোটে বিলীন। ধূলিসাৎ। আর এখানেই মহান গণতন্ত্রের জিত আর চমৎকারিত্ব। আর সেই দিক দিয়ে ২৩ মে-র ফল এই পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিকেও আবার এক মহান সন্ধিক্ষণের দিকেই যেন ঠেলে দিয়েছে। ‘বিয়াল্লিশে বিয়াল্লিশ’ হয়নি, ‘২০১৯ বিজেপি ফিনিশ’—তাও হয়নি। উল্টে সারাদেশে বিজেপি থ্রি-নট-থ্রি (অর্থাৎ ৩০৩টি) আসন জিতে তাক লাগিয়ে দিয়েছে ভোট-পণ্ডিতদের।
বিশদ

11th  June, 2019
মোদিজি কি ‘সবকা বিশ্বাস’ অর্জন করতে পারবেন?
পি চিদম্বরম

 নরেন্দ্র মোদি এবার যে জনাদেশ পেয়েছেন তা অনস্বীকার্যভাবে বিপুল। যদিও, অতীতে লোকসভা নির্বাচনে একটি পার্টি ৩০৩-এর বেশি আসন জেতার একাধিক দৃষ্টান্ত আছে। যেমন ১৯৮০ সালে ইন্দিরা গান্ধী ৩৫৩ এবং ১৯৮৪ সালে রাজীব গান্ধী ৪১৫ পেয়েছিলেন।
বিশদ

10th  June, 2019
 বিজেপি এ রাজ্যের বিধানসভা ভোটকে
কঠিন চ্যালেঞ্জ মনে করছে কেন?
শুভা দত্ত

 কয়েকদিনের মধ্যে বেশ কয়েকটি মর্মান্তিক খুনের ঘটনা ঘটে গেল রাজ্যের উত্তর থেকে দক্ষিণে। তাই আজও একই প্রসঙ্গ দিয়ে এই নিবন্ধ শুরু করতে হচ্ছে। গত সপ্তাহেই লিখেছিলাম, ভোটফল প্রকাশের পর রাজ্যের বেশ কিছু এলাকায় যেন একটা হিংসার বাতাবরণ তৈরি হয়েছে।
বিশদ

09th  June, 2019
ইচ্ছে-ডানায় নাচের তালে
অতনু বিশ্বাস

এ বছরের সিবিএসই পরীক্ষার ফল বেরতে দেখা গেল, প্রথম হয়েছে দু’টি মেয়ে। একসঙ্গে। ৫০০-র মধ্যে তারা পেয়েছে ৪৯৯ করে। দু’জনেই আবার আর্টসের ছাত্রী। না, পরীক্ষায় আজকাল এত এত নম্বর উঠছে, কিংবা আর্টস বিষয় নিয়েও প্রচুর নম্বর তুলে বোর্ডের পরীক্ষায় র‍্যাঙ্ক করা যায় আজকাল—এগুলোর কোনওটাই আমার আলোচনার বিষয়বস্তু নয়।
বিশদ

08th  June, 2019
ভারতের রাজনীতিতে ‘গেম মেকার’
মৃণালকান্তি দাস

মেধাবী হলেই যে পড়ুয়ার জন্য মোটা বেতনের চাকরি নিশ্চিত, তার কোনও গ্যারান্টি নেই। শুধু প্রতিভা থাকলে আর পরিশ্রমী হলেই হবে না, উপযুক্ত প্রশিক্ষণ এবং ঠিকঠাক ‘গাইড’ না পাওয়ায় পড়ুয়ারা আজ আর সরকারি চাকরির লক্ষ্যভেদ করতে পারেন না।
বিশদ

07th  June, 2019
অবিজেপি ভোটে বাজিমাত
বিজেপির, এবং তারপর...
মেরুনীল দাশগুপ্ত

আলোড়ন! নিঃসন্দেহে একটা জবরদস্ত আলোড়ন উঠেছে। লোকসভা ভোটফল প্রকাশ হওয়া ইস্তক সেই আলোড়নের দাপটে রাজ্য-রাজনীতি থেকে সাধারণের অন্দরমহল জল্পনা-কল্পনা, বিবাদ-বিতর্ক, আশা-আশঙ্কায় যাকে বলে রীতিমতো সরগরম! পথেঘাটে আকাশে বাতাসে যেখানে সেখানে ছিটকে উঠছে উৎকণ্ঠা নানান জিজ্ঞাসা।
বিশদ

06th  June, 2019
কর্ণাটক পুরনির্বাচন: আবার উল্টালো ভোটফল
শুভময় মৈত্র 

নির্বাচনে ভোটফল নিয়ে কখন যে কী ঘটছে তার ব্যাখ্যা পাওয়া যাচ্ছে না মোটেই। মানুষ অবশ্যই মত বদলাবেন। সে স্বাধীনতা তাঁদের আছে। সে জন্যেই তো ভোটফল বদলায়। নাহলে সংসদীয় গণতন্ত্রের কোনও অর্থই থাকে না।  
বিশদ

04th  June, 2019
একনজরে
সংবাদদাতা, কালনা: কালনা ফেরিঘাটের এবার নিলাম হতে অনলাইনে। ইতিমধ্যে কালনা পুরসভার তরফে অনলাইনে নিলামের বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়েছে। ১১ জুলাই নিলামের দিন ধার্য করা হয়েছে। পুরসভার পক্ষ থেকে নিলাম দর রাখা হয়েছে বাৎসরিক ৫০ লক্ষ টাকা।  ...

 সৌম্যজিৎ সাহা  কলকাতা: রাজ্যে ক্রমশ কমছে ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের আসন। গতবার যেখানে ৩১ হাজারের বেশি আসন ছিল, এবার তা আরও কমে হয়েছে ২৯ হাজার ৬৫৯টি আসন। প্রাথমিক হিসেবে এই তথ্য মিলেছে। যদিও এখনও দু’টি কলেজ এবং কয়েকটি বিষয়ের আসন যুক্ত হওয়ার ...

সংবাদদাতা, আলিপুরদুয়ার: বিধানসভা ভোটের দিকে লক্ষ্য রেখে আলিপুরদুয়ারে জেলা জুড়ে ফের সদস্য সংগ্রহ অভিযানে নামছে বিজেপি। কিভাবে এই সদস্য সংগ্রহ হবে তার জন্য প্রশিক্ষণ নিতে দলের জেলা ও মণ্ডল কমিটির চার নেতার নাম কলকাতায় পাঠানো হয়েছে।   ...

  চেন্নাই, ১৭ জুন: তামিলনাড়ু পুলিসের এক সাব-ইন্সপেক্টরের বিশেষ রিপোর্টের ভিত্তিতে তিন আইএস সমর্থনকারীকে গ্রেপ্তার করল বিশেষ তদন্তকারী শাখা (এনআইএ)। ওই তিনজন কোয়েম্বাটোরের বিভিন্ন ধর্মীয়স্থানে আত্মঘাতী হামলার ছক করেছিল বলে পুলিসের দাবি। ধৃতদের নাম মহম্মদ হুসেন, শাহজাহান এবং শেখ সইফুল্লা। ...




আজকের দিনটি কিংবদন্তি গৌতম
৯১৬৩৪৯২৬২৫ / ৯৮৩০৭৬৩৮৭৩

ভাগ্য+চেষ্টা= ফল
  • aries
  • taurus
  • gemini
  • cancer
  • leo
  • virgo
  • libra
  • scorpio
  • sagittorius
  • capricorn
  • aquarius
  • pisces
aries

উচ্চতর বিদ্যায় সাফল্য আসবে। প্রেম-ভালোবাসায় আগ্রহ বাড়বে। পুরনো বন্ধুর সঙ্গে সাক্ষাতে আনন্দলাভ হবে। সম্ভাব্য ক্ষেত্রে ... বিশদ


ইতিহাসে আজকের দিন

১৯৩৬- রুশ সাহিত্যিক ম্যাক্সিম গোর্কির মৃত্যু
১৯৮৭- পরিচালক হীরেন বসুর মৃত্যু
২০০৫- ক্রিকেটার মুস্তাক আলির মৃত্যু
২০০৯- প্রখ্যাত সরোদ শিল্পী আলি আকবর খানের মৃত্যু  

ক্রয়মূল্য বিক্রয়মূল্য
ডলার ৬৮.৯৯ টাকা ৭০.৬৮ টাকা
পাউন্ড ৮৬.৩৪ টাকা ৮৯.৫৫ টাকা
ইউরো ৭৬.৭৯ টাকা ৭৯.৭৬ টাকা
[ স্টেট ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়া থেকে পাওয়া দর ]
পাকা সোনা (১০ গ্রাম) ৩৩,৩২৫ টাকা
গহনা সোনা (১০ (গ্রাম) ৩১,৬১৫ টাকা
হলমার্ক গহনা (২২ ক্যারেট ১০ গ্রাম) ৩২,০৯০ টাকা
রূপার বাট (প্রতি কেজি) ৩৭,১০০ টাকা
রূপা খুচরো (প্রতি কেজি) ৩৭,২০০ টাকা
[ মূল্যযুক্ত ৩% জি. এস. টি আলাদা ]

দিন পঞ্জিকা

৩ আষা‌ঢ় ১৪২৬, ১৮ জুন ২০১৯, মঙ্গলবার, প্রতিপদ ২৩/৫৮ দিবা ২/৩১। মূলা ১৭/১৬ দিবা ১১/৫০। সূ উ ৪/৫৬/০, অ ৬/১৮/৫৪, অমৃতযোগ দিবা ৭/৩৬ মধ্যে পুনঃ ৯/২৩ গতে ১২/৩ মধ্যে পুনঃ ৩/৩৮ গতে ৪/৩১ মধ্যে। রাত্রি ৭/১ মধ্যে পুনঃ ১১/৫৮ গতে ২/৬ মধ্যে, বারবেলা ৬/৩৭ গতে ৮/১৭ মধ্যে পুনঃ ১/১৮ গতে ২/৫৮ মধ্যে, কালরাত্রি ৭/৩৯ গতে ৮/৫৮ মধ্যে। 
২ আষাঢ় ১৪২৬, ১৮ জুন ২০১৯, মঙ্গলবার, প্রতিপদ ২২/২২/৩৮ দিবা ১/৫২/৩৩। মূলানক্ষত্র ১৭/২৭/২৯ দিবা ১১/৫৪/৩০, সূ উ ৪/৫৫/৩০, অ ৬/২১/২৮, অমৃতযোগ দিবা ৭/৪০ মধ্যে ও ৯/২৭ গতে ১২/৮ মধ্যে ও ৩/৪২ গতে ৪/৩৫ মধ্যে এবং রাত্রি ৭/৫ মধ্যে ও ১২/২ গতে ২/৯ মধ্যে, বারবেলা ৬/৩৬/১৫ গতে ৮/১৬/৫৯ মধ্যে, কালবেলা ১/১৯/১৩ গতে ২/৫৯/৫৮ মধ্যে, কালরাত্রি ৭/৪০/৪৩ গতে ২/৫৯/৫৯ মধ্যে। 
মোসলেম: ১৪ শওয়াল 

ছবি সংবাদ

এই মুহূর্তে
বিশ্বকাপ: আফগানিস্তানকে ১৫০ রানে হারাল ইংল্যান্ড

10:48:34 PM

স্বাস্থ্য ক্ষেত্রে নিরাপত্তা, চালু কলকাতা পুলিসের হেল্প লাইন 
গতকাল মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশ পাওয়ার পর স্বাস্থ্য ক্ষেত্রে নিরাপত্তা জনিত সমস্যার ...বিশদ

09:48:24 PM

বিশ্বকাপ: আফগানিস্তান ৮৬/২ (২০ ওভার) 

08:17:00 PM

দার্জিলিং পুরসভায় প্রশাসক নিয়োগ করল রাজ্য সরকার 

08:08:39 PM

জাপানে বড়সড় ভূমিকম্প, মাত্রা ৬.৫, জারি সুনামি সতর্কতা 

07:34:58 PM

বিশ্বকাপ: আফগানিস্তান ৪৮/১ (১০ ওভার) 

07:05:00 PM