Bartaman Patrika
বিশেষ নিবন্ধ
 

বিদ্যাসাগর ও স্বাজাত্যবোধ
সমৃদ্ধ দত্ত

শুধু রেগে গেলে চলবে কেন? একটু বুঝতেও তো হবে। মূর্তি ভাঙা তো একটা কার্য। প্রতিটি কার্যের পিছনে একটি কারণও থাকে। ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের মূর্তি ভাঙার মধ্যে অনেক অবদমিত অপ্রাপ্তি ও দীর্ঘকালের ক্ষোভ রয়েছে। সেই ক্ষোভের আবেগকে উড়িয়ে দিলে তো হবে না। একটু সহানুভূতির সঙ্গে বিশ্লেষণ করতে হবে। মূর্তিভঙ্গকারীদের পাশে দাঁড়িয়ে সান্ত্বনা দিতে হবে। তাদের রাগটাও তো আজকের নয়। বহুকালের। সে রাগের কোনও চটজলদি সমাধানও নেই যে কোনও একটা কেন্দ্রীয় প্রকল্প চালু করে রাগের উপশম ঘটিয়ে ফেললাম। রাগ নানাপ্রকার। যেমন ধরা যাক, কেন আন্দামানের সেলুলার জেলে বেড়াতে গেলে দেখতে হয় বন্দি ও মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তদের বিরাট তালিকায় সিংহভাগই একটি মাত্র রাজ্য আর জাতির বিপ্লবীদের নাম? বেশিরভাগ বাঙালি। আধুনিক সভ্যতার আলো কেন সর্বপ্রথম বঙ্গোপসাগরের কাছের রাজ্যেই ঢুকল? ভালো করে দেশের বাকি অংশে সমাজ চেতনা ঢোকার আগেই কেন শুধু একটিমাত্র রাজ্যের একজন ব্যক্তি সতীদাহ প্রথা নিবারণে আইন আনতে বাধ্য করলেন ব্রিটিশ সরকারকে? সেই ব্যক্তিকে গোটা দেশের বাকিদের তুলনায় ব্রিটিশরা কেন বেশি বেশি ভয় পাবে, সমীহ করবে? কেন রামমোহন রায় অন্য কোনও রাজ্যে জন্মগ্রহণ করলেন না? ১৮৩৩ সালে তাঁর অকালে জীবনাবসান হল, আর তার তিন বছরের মধ্যে আবার ১৮৩৬ সালে সেই হুগলিরই কামারপুকুরে আর একজন কালজয়ী সমাজসেবী, লোকশিক্ষকের জন্ম হয়ে গেল। কই শ্রীরামকৃষ্ণদেবের জন্মও তো দেশের অন্য কোথাও হতে পারতো। হল না তো! অন্তত আর কিছু না হোক জোড়াসাঁকোর ঠাকুরবাড়িটা কি উত্তর ভারতে হওয়া উচিত ছিল না? রামমোহন রায়, বিদ্যাসাগর, বঙ্গিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়, মধুসূদন দত্ত, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, স্বামী বিবেকানন্দ, কেশবচন্দ্র সেন, অরবিন্দ ঘোষ, সুভাষচন্দ্র বসু, ক্ষুদিরাম বসু, জগদীশচন্দ্র বসু, মেঘনাদ সাহা, সত্যেন্দ্রনাথ বসু, চিত্তরঞ্জন দাশ, আশুতোষ মুখোপাধ্যায়, ...। অন্তহীন নাম। তাবৎ ক্ষণজন্মা মহাপুরুষের ঠিকানা শুধুমাত্র একটিই রাজ্য! একটি দেশ, একটি সমাজ, একটি জাতির উৎকর্ষে পৌঁছনোর জন্য যা যা দরকার সব এই বাঙালি জাতির ভাগ্যে এসেছিল। এ কী অনাচার! এই নামগুলির মধ্যে একটি নাম নিজেদের মধ্যে পেলেই যে কোনও জাতি বা রাজ্য বিশ্ববাসীর সামনে নিজেদের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণের জন্য ঝাঁপিয়ে পড়তে পারত। কিন্তু এঁরা সকলেই বেছে বেছে বাঙালিই হয়েছিলেন। এসব না হয় অধুনিক যুগে। তার আগে? বিশ্বের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ধর্মীয় দার্শনিক তথা সমাজ সংস্কারের পথিকৃৎ শ্রীচৈতন্যদেব? তিনিও এখানেই! এসবের কোনও মানে হয়? একটা এত বড় দেশের একেবারে পূর্বপ্রান্তের একটা জাতি, যাঁদের শরীরে আর্যরক্ত পর্যন্ত নেই, সেই জাতির মধ্যেই লাগাতার কয়েকশ বছর ধরে তাবৎ মেধা, শিক্ষা, বিদ্যাচর্চা, দর্শন, ধর্ম, সমাজচেতনা, নির্ভীক স্বাধীনতাকামী মন, সঙ্গীত, সাহিত্য, সংস্কৃতির শীর্ষতম ডিএনএ আর জিনের জন্ম কেন হবে? এটায় রাগ হবে না? বিধাতার এই চরম পক্ষপাতে ক্ষোভ আসা কি একান্তই অবাস্তব? এত বড় একটা দেশের মধ্যে জোব চার্ণক আর জায়গা পেলেন না এটা বিশ্বাস করতে হবে? সেই ১৬৯০ সালে ভারতে আর একটিও শহর ছিল না যে বেছে বেছে এই তিনটি গ্রাম নিয়ে তৈরি একটা জনপদে এসে নৌকা ভিড়িয়ে নগর নির্মাণ করে আধুনিক পৃথিবীর আলো নিয়ে আসতে হবে এই একটি রাজ্যেই প্রথম? কেন? কেন শুধু এই রাজ্যের লোকগুলোই ইংরেজি শিখে ব্রিটিশ ইন্ডিয়ার তাবৎ উচ্চপদে কর্ম পেলেন? নাগপুর থেকে বিলাসপুর রেলের অফিসার কর্মী কারা হয়ে গিয়েছিল? কেন এই শহরের এলগিন রোডের এক যুবক আইসিএস পরীক্ষায় হেলায় চতুর্থ স্থান পেয়ে চরম উৎকর্ষের পেশায় উত্তীর্ণ হয়েও নির্লিপ্তভাবে সেই চাকরি থেকে ইস্তফা দেওয়ার সাহস দেখাবেন? বাকিরা ছাড়বে কি আগে তো আইসিএসে ফোর্থ হতে হবে? আর সেই যুবকই সমস্ত রকম নিরাপত্তার বলয় ছেড়ে অজানা সংগ্রামের সমুদ্রে ঝাঁপ দিয়ে নিজস্ব এক সেনা বাহিনী গড়ে ব্রিটিশের প্রাণে ভয় ধরিয়ে চিররহস্যের আড়ালে চলে গিয়ে গোটা দেশের কাছে এক সর্বকালীন হিরো হয়ে রইলেন। অন্যরা যেখানে একটা পায় না, সেখানে কেন একটা জাতি থেকেই একাধিকবার নোবেল পাবে? তাও আবার সম্পূর্ণ বিপরীতধর্মী সেগমেন্টে! সাহিত্যেও পাবে একই জাতি নোবেল! আবার অর্থনীতিতেও পাবে? এটা আবার কেমন বিচার? আবার দেখুন মুম্বই ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রি কী দোষ করেছে, যে এই রাজ্যের টালিগঞ্জ পাড়ার কোনও এক ভদ্রলোককে লাইভ টাইম অ্যাচিভমেন্টের অস্কার পুরস্কার দেওয়া হবে? দেশের আর কোথায় সিনেমা হয় না নাকি? একটি দেশের জাতীয় সঙ্গীত আর জাতীয় গান দুটো করা হল। খুব ভালো কথা। কিন্তু এটা কি ঠিক হল যে বাকি সব রাজ্যের সব কবি সাহিত্যিকের গানকে ছেড়ে একটি ভাষারই দু‌ই সাহিত্যিকের দু’টি গান বেছে নেওয়া হবে? জাতীয় সঙ্গীতও বাঙালির রচনা! আবার জাতীয় গানও বাঙালির রচনা? এটা দেখে যদি ক্ষোভ হয় সেটা কি একান্তই অপরাধ হবে? গোটা দেশকে বাদ দিয়ে কেবলমাত্র একটা রাজ্যেই কেন নবজাগরণ হল? নারীশিক্ষা, বিধবাবিবাহ, আধুনিক শিক্ষার প্রচলন কে করলেন? ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর। তাঁকে কি তাহলে ভারতীয় সভ্যতার বিরোধী আখ্যা দিয়ে পশ্চিমি সভ্যতার কাছে সমর্পণকারী হিসেবে তকমা দেওয়া যাবে? তাও তো সম্ভব নয়। সেটাই তো মহা মুশকিল। কারণ এই ব্রাহ্মণ সন্তান তো সংস্কৃত শাস্ত্রে সাংঘাতিক বিশেষজ্ঞ। আবার সেই তিনিই পশ্চিমি শিক্ষাকে সবার আগে গ্রহণ করেছিলেন। এরকম এক উদার পথপ্রদর্শক গোটা দেশের মধ্যে বাঙালিই পেয়েছে।
নবজাগরণের ঐতিহ্য এই জাতিকে যে জিনিসটি প্রদান করেছিল সেগুলি নিছক শিল্পলগ্নি নয় যে ইচ্ছে করলেই রাজ্যে জমি দিয়ে নিয়ে আসা যায়। সেগুলি এমন এক বস্তু যা টাকা দিয়েও কেনা যায় না। ভোটে জিতেও আয়ত্ত করা যায় না। সংস্কৃতি, চেতনা, তীক্ষ্ণ জীবনদর্শন আর চরম উৎকর্ষের চিন্তাশীলতা। একটা নিয়ম হল, যে সম্পদ সহজে আহরণ করা যায় না সেটি যাঁদের আছে তাঁদের প্রতি গোপন বিদ্বেষ তৈরি হয়। স্বাভাবিক। যা আমার করায়ত্ত হবে না সেটিকে ধ্বংস করতে পারলে মনের আরাম হয়, ক্ষোভের উপশম হয়। বিদ্যাসাগরকে আঘাত করার কারণ হল তিনি মানবজীবনের সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ একটি আলো জ্বালার দিশারী। সেটি হল শিক্ষা। কেন তাঁকে অপছন্দ একটি বিশেষ অংশের? তার কারণটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের চারিত্রপূজা নামক প্রবন্ধাবলীর অন্যতম ‘বিদ্যাসাগর’ শীর্ষক রচনায় পাওয়া যাবে। রবীন্দ্রনাথ লিখছেন, ‘‘দয়া প্রভৃতি গুণ অনেকের মধ্যে সচরাচর দেখা যায়, কিন্তু চারিত্রবল আমাদের দেশে সর্বত্র দৃষ্টিগোচর হয় না। যারা সবলচরিত্র, যাদের চারিত্রবল কেবলমাত্র ধর্মবুদ্ধিগত নয় কিন্তু মানসিক বুদ্ধিগত, সেই প্রবলেরা অতীতের বিধিনিষেধে অবরুদ্ধ হয়ে নিঃশব্দে নিস্তেজ হয়ে থাকেন না। ... যাঁরা অতীতের জড় বাধা লঙ্ঘন করে দেশের চিত্তকে ভবিষ্যতের পরম সার্থকতার দিকে বহন করে নিয়ে যাবার সারথির স্বরূপ, বিদ্যাসাগরমহাশয়, সেই মহারথীগণের একজন অগ্রগণ্য ছিলেন ...।’’ রবীন্দ্রনাথ বারংবার একাধিক রচনায় বিদ্যাসাগরের সবথেকে বড় যে গুণের প্রতি নিজের মুগ্ধতা ব্যক্ত করেছেন সেটি হল সমাজের উন্নতির জন্য বিদ্যসাগরের নির্ভীকতা আর আত্মসম্মান রক্ষার জন্য সামাজিক ভ্রুকুটিকে উপেক্ষা করে, চ্যালেঞ্জ করে তাঁর বিদ্রোহ। আত্মচেতনা, বুদ্ধিবৃত্তি, সংস্কৃতি আর জীবনদর্শন। এই চারটি উপলব্ধি যদি কোনও জাতির ধ্বংস করা যায়, তাহলে আর তার নিজস্বতা বলে কিছু অবশিষ্ট থাকে না।
বাঙালিকে হীনবল করার সবথেকে সহজ পন্থা হল বাঙালিত্বকেই হরণ করে নেওয়া। একবার কাজটি সম্পন্ন করা হলে শুধু নামের পাশে বাঙালি বাঙালি দেখতে পদবিটি থাকে। কিন্তু, মননে আর সে বাঙালি থাকে না। তাই বিদ্যাসাগরের মূর্তি কোন দল ভেঙেছে অথবা মূর্তিভঙ্গকারীদের পদবি কী সেটা খুব বেশি গুরুত্বপূর্ণ নয়। ভিতর থেকে ভাঙা হয়েছে না কি বাইরে থেকে এসে ভাঙা হল, এসব রাজনৈতিক তরজাও গুরুত্বপূর্ণ নয়। তাৎপর্যপূর্ণ হল যে বা যারা ভেঙেছে তারা আদতে বাঙালি জাতির শত্রু। বাংলার ইতিহাসের শত্রু। চেতনার শত্রু। কারণ এই মনীষীদের প্রদান করা উৎকর্ষ আমাদের নেই, তাই এঁদের ধ্বংস করো। আধুনিক শিক্ষিত বাঙালি চেতনার জন্মদাতাকেই ভুলুণ্ঠিত করার যে কাজটি সমাধা হল সেটি নিছক প্রতীকী। আসলে ওটাই লক্ষ্য। একটা লিটমাস টেস্ট বলা যেতে পারে। এভাবে যাচাই করে দেখে নেওয়া সম্ভব সত্যিই এই জাতির কতটা আত্মসম্মান আর বাকি আছে। যদি দেখা যায় কই ,কিছু ইতিউতি প্রতিবাদ মিছিল, ধিক্কার সভা কিংবা গণস্বাক্ষর জাতীয় নরম নরম নিন্দামন্দ ছাড়া মোটামুটি বাঙালির সিংহভাগই নির্লিপ্তই রয়েছে, বরং অনেকে আবার ঘুরিয়ে ফিরিয়ে জাস্টিফাই করার চেষ্টাও করছে, তাহলে বুঝতে হবে বাঙালিত্ব হরণের অপারেশন যথেষ্ট সফলভাবে হচ্ছে। ধর্মীয়ভাবে, সংস্কৃতিগতভাবে, আচরণগতভাবে। আমাদের সিদ্ধান্ত নিতে হবে আমরা বিদ্যাসাগর মেলা, রবীন্দ্রজয়ন্তী, কল্পতরু উৎসবদের আমাদের জীবনযাপনের জন্য দরকারি মনে করছি? না কি করছি না! যদি প্রয়োজনীয় মনে না করি, তাহলে বাহ্যিক ক্ষতি কিছুই নেই। টাকা রোজগার কম হবে না, নিঃশ্বাসপ্রশ্বাস চলবে, বেঁচে থাকব সুস্বাস্থ্য আর আইপিএল নিয়ে। শুধু দু’টি জিনিস চিরতরে থাকবে না। আইডেন্টিটি আর স্বাজাত্যবোধের আত্মসম্মান! সিদ্ধান্ত আমাদের!
17th  May, 2019
নিস্তেজ অর্থনীতির সত্যটা সরকার ভুলে যাচ্ছে 
পি চিদম্বরম

রাষ্ট্রপতি ভবন হল সরকারের ক্ষমতার আসনের প্রতীক। এক কিলো মিটার ব্যাসার্ধের মধ্যে সংসদ ভবন, প্রধানমন্ত্রীর অফিস (পিএমও), নর্থ ব্লক ও সাউথ ব্লক—মানে স্বরাষ্ট্র, অর্থ, প্রতিরক্ষা ও বিদেশ-এর মতো উচ্চ মন্ত্রকগুলি রয়েছে।   বিশদ

সভাপতি পদে সোনিয়াজির প্রত্যাবর্তনে কংগ্রেস কি ছন্দ ফিরে পাবে
শুভা দত্ত

ছন্দ তো হারিয়েছে বহুদিন। ছন্দে ফেরার চেষ্টা—সেও শুরু হয়েছে বহুদিন। কিন্তু কিছুতেই যেন সেই পুরনো দমদার ছন্দে ফিরতে পারছে না জাতীয় কংগ্রেস! নেহরু-ইন্দিরার আমল থেকে গান্ধী পরিবারের ছত্রচ্ছায়ায় এবং নেতৃত্বে দলের যে অপ্রতিরোধ্য ছন্দ গোটা দেশকে কংগ্রেসি তেরঙ্গায় বেঁধে রেখেছিল, যে ছন্দ কংগ্রেস প্রতীক ইন্দিরার পাঞ্জার উপর বছরের পর বছর দেশের মানুষের আস্থা বিশ্বাস ও আবেগ ধরে রেখেছিল, জরুরি অবস্থা, নাসবন্দির মতো কাণ্ডের পরও যে ছন্দ ক্ষমতার কেন্দ্রে ফিরিয়ে এনেছিল কংগ্রেসকে, ইন্দিরা এবং ইন্ডিয়া হয়ে উঠেছিলেন সমার্থক—জাতীয় কংগ্রেসের সেই অমিত শক্তি রাজনৈতিক ছন্দ অনেক কাল আগেই ইতিহাসের পাতায় ঠাঁই নিয়েছে।
বিশদ

18th  August, 2019
ওয়াল স্ট্রিটের ‘নেকড়ে’-র গল্প!
মৃণালকান্তি দাস

ওয়াশিংটনের অপরিচিত কোনও এক পথে হাঁটতে হাঁটতে গল্পটা শুনিয়েছিলেন এমিলি ব্রাউন। গল্প বলতে, এক অপরাধীর ঘুরে দাঁড়ানোর কাহিনী। জর্ডন বেলফোর্টের গল্প। যিনি জীবনে অপরাধের নেশায় পড়ে সবকিছু হারিয়েছিলেন। কে এই জর্ডন বেলফোর্ট, জানেন? যাঁর জীবন কাহিনী শুনলে মনে হবে, এ এই মার্কিন মুলুকেই সম্ভব! বিশদ

17th  August, 2019
স্বাধীনতা ৭৩ এবং ভূস্বর্গের মুক্তি
মেরুনীল দাশগুপ্ত

গরিবি যতদিন না যাবে ততদিন এই উপত্যকায় শান্তি আসবে না। কারণ, কাশ্মীরি মানুষের গরিবিই ওদের একটা বড় হাতিয়ার। গরিব মানুষজনের অনেকেই ক’টা টাকার লোভে পড়ে সীমান্তর ওপার থেকে আসা লোকজনকে আশ্রয় দিয়ে, লুকিয়ে রেখে, খাবারদাবারের ব্যবস্থা করে ভ্যালির বিপদ বাড়িয়ে তুলছে।
বিশদ

15th  August, 2019
বনে থাকে বাঘ 
অতনু বিশ্বাস

ছেলেবেলায় ‘সহজ পাঠ’-এ পড়েছিলাম ‘বনে থাকে বাঘ’। যদিও এই পাঠটা যে খুব সহজ আর স্বাভাবিক নাও হতে পারে, অর্থাৎ বনে বাঘ নাও থাকতে পারে, সেটা বুঝতে বেশ বড় হতে হল। ছোটবেলায় অবশ্য মনে বদ্ধমূল ধারণা ছিল, বন-জঙ্গল গিজগিজ করে বাঘে। 
বিশদ

13th  August, 2019
রক্ষক আইন যেন ভক্ষক না হয়
শান্তনু দত্তগুপ্ত 

ভিক্টরি ম্যানসনে ঢুকলেন উইনস্টন স্মিথ। বহুতলে ঢুকেই নজরে আসবে দো’তলা সমান আখাম্বা ছবিটা। শুধু একটা মুখ। নীচে ক্যাপশন করা, বিগ ব্রাদার কিন্তু তোমাকে দেখছে। জর্জ অরওয়েলের কালজয়ী উপন্যাস ১৯৮৪-এর শুরুতেই উল্লেখ এই ছবির। আর এই নভেলের সারমর্মও লুকিয়ে এই ছবিতে—বিগ ব্রাদার দেখছে, তাই সাবধান। সাবধান হও সবাই... সরকারি কর্মচারী, ব্যবসায়ী, সাফাইকর্মী, বেসরকারি চাকুরে... মোদ্দা কথা নারী-পুরুষ নির্বিশেষে। সবসময় নজরদারি।  
বিশদ

13th  August, 2019
পুতিন কি পারবেন নতুন বিশ্বের নেতৃত্ব দিতে?
গৌরীশঙ্কর নাগ

 ১৯১৭ খ্রিস্টব্দে বা তার কিছু আগে থেকে লেনিন, ট্রটস্কি প্রমুখ নিবেদিত প্রাণ কমরেডের হাত ধরে সোভিয়েত সমাজতন্ত্র নামক যে মহীরুহটি ধীরে ধীরে গড়ে উঠেছিল তা গর্বাচেভ ক্ষমতাসীন হওয়ার পর কীভাবে তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়েছে—বিস্ময়ের সঙ্গে আমরা সেটা দেখেছি।
বিশদ

12th  August, 2019
স্টেট নয়, শুধুই রিয়াল এস্টেট
পি চিদম্বরম

 জম্মু ও কাশ্মীর নিয়ে প্রায়ই লিখি কিন্তু আজকেরটা অন্যরকম। জম্মু ও কাশ্মীর আর আগের জম্মু ও কাশ্মীর নেই। এটা আর রাজ্য নয়। এটাকে বিভক্ত করা হয়েছে। এখন দুটি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল—লাদাখ এবং জম্মু ও কাশ্মীর। ভারতের সংবিধানে কোনও রাজ্যকে কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের স্তরে নামিয়ে আনার ঘটনা এর আগে ঘটেনি।
বিশদ

12th  August, 2019
রাহুল সরে দাঁড়াতেই কংগ্রেস এমন নেতৃত্বহীনতায় ভুগছে কেন?
শুভা দত্ত

 প্রশ্নটা আজ দেশের সর্বস্তরে। পথে-ঘাটে অফিসে আড্ডায় যেখানেই চলতি রাজনীতি নিয়ে তর্ক-বিতর্কের উদয় হচ্ছে সেখানেই প্রশ্নটা যেন অনিবার্যভাবে এসে পড়ছে! কংগ্রেসের হলটা কী! রাহুল গান্ধী না বলে দিতেই আর সভাপতি খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না কংগ্রেসে! গান্ধী ফ্যামিলি ছাড়া কংগ্রেস সভাপতি খুঁজে পাচ্ছে না— এ তো বড় অদ্ভুত ব্যাপার! কংগ্রেসের জন্মের পর থেকে গান্ধী ফ্যামিলির বাইরের দেশ রাজনীতির কত দিকপালই তো জাতীয় কংগ্রেসের সভাপতির আসন অলঙ্কৃত করেছেন—উমেশচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়, দাদাভাই নৌরজি, সুরেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়, সুভাষচন্দ্র, অ্যানি বেসান্ত, চিত্তরঞ্জন, সরোজিনী নাইডু, বল্লভভাই প্যাটেল, কামরাজ, জগজীবন রাম—কত নাম বলব। নিশ্চয়ই এই তালিকায় নেহরু থেকে ইন্দিরা, রাজীব, সোনিয়া হয়ে রাহুল—গান্ধী পরিবারের সদস্যরাও ছিলেন।
বিশদ

11th  August, 2019
শুধু উন্নয়ন নয়, ভোটের জন্য চাই ভালো মাস্টার
তন্ময় মল্লিক

মোটা বেতন দিয়ে মাস্টার রাখলেই ছেলেমেয়ে মানুষ হয় না। তেমনটা হলে সব বড়লোকের ছেলেমেয়েই উচ্চশিক্ষিত হতো। কিন্তু, তা তো হয় না। ছাত্রছাত্রীর পড়াশোনায় আগ্রহ, মেধা যেমন থাকা দরকার, তেমনই নজরদারিটাও জরুরি। ফাঁকিবাজি থাকলেই ছাত্র হয় গাড্ডু খাবে, অথবা ‘বিবেচনায়’ পাশ।
বিশদ

10th  August, 2019
পঞ্চায়েত নির্বাচন, ৩৭০ কিংবা ৩৫এ
শুভময় মৈত্র

পশ্চিমবঙ্গ ২০১৮, আর ত্রিপুরা ২০১৯। পঞ্চায়েত ভোটে ফলাফল একইরকম। ঠিক কত আসন সেটা গোনার দরকার নেই। সহজ অঙ্কে বিষয়টা এরকম। ধরা যাক, মোট আসন ১০০, শাসক দল বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়ী ৭০টি আসনে। বাকি তিরিশের মধ্যে তীব্র লড়াইয়ের শেষে শাসক দল ২০, বিরোধীরা দশ। পাটিগণিতের অঙ্ক একেবারে মিলে গেল।
বিশদ

10th  August, 2019
কাশ্মীর: নতুন চ্যালেঞ্জ
সমৃদ্ধ দত্ত

 প্রকৃত চ্যালেঞ্জ সরকারের। কাশ্মীরকে আন্তরিকভাবে ভারতের অন্তঃস্থলে মিশিয়ে দেওয়ার কাজটিই কিন্তু হবে কাশ্মীরের নয়া ইতিহাস রচনা। সেটা নিছক একটা ভূমিখণ্ড দখল নয়। কাশ্মীরিয়াৎকে আপন করে নেওয়া। একমাত্র তাহলেই পাকিস্তান সবথেকে বেশি ধাক্কা খাবে! আর কাশ্মীরিদের আমরা যদি শত্রু বিবেচনা করে চলি, তাহলে কিন্তু টেনিসের পরিভাষায় অ্যাডভান্টেজ পাকিস্তান হয়ে যাবে! সে সুযোগ দেব কেন?
বিশদ

09th  August, 2019
একনজরে
গোপাল মিস্ত্রি, শিলিগুড়ি, বিএনএ: এরাজ্যের অন্যতম ভিআইপি ট্রেন দার্জিলিং মেলের যাত্রাপথ শিলিগুড়ি জংশন পর্যন্ত সম্প্রসারণে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে জবরদখল। রেলকর্তৃপক্ষের বক্তব্য, অনেক আগেই এনজেপির পরিবর্তে ...

 নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: বিকেন্দ্রীকৃত কাউন্সেলিংয়ের দ্বিতীয় দিনেই ভরে গেল যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের সব আসন। যদিও আর্কিটেকচার এবং ফার্মাসিতে হাতে গোনা কয়েকটি আসনই খালি রয়ে গিয়েছে। অনলাইন কাউন্সেলিংয়ের পর মোট ২৬১টি আসন ফাঁকা ছিল। ...

 লে, ১৮ আগস্ট (পিটিআই): জম্মু ও কাশ্মীর থেকে ৩৭০ ধারা প্রত্যাহার করে কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে লাদাখকে। এবার লাদাখকে সংবিধানের ষষ্ঠ তফসিলি হিসেবে ঘোষণার দাবি জানালেন সেখানকার বিশিষ্ট নেতারা। লাদাখবাসীর জমির সুরক্ষা ও পরিচিতির কথা মাথায় রেখে কেন্দ্রের ...

 লে, ১৮ আগস্ট (পিটিআই): ৩৭০ ধারা খারিজ নিয়ে সংসদে তাঁর ভাষণ নজর কেড়েছিল। এমনকী সোনিয়া গান্ধীকে পর্যন্ত মন দিয়ে শুনতে দেখা গিয়েছিল প্রথমবারের এই বিজেপি সাংসদের ভাষণ। তিনি লাদাখ থেকে নির্বাচিত এমপি জামিয়াং সেরিং নামগিয়াল। ...




আজকের দিনটি কিংবদন্তি গৌতম
৯১৬৩৪৯২৬২৫ / ৯৮৩০৭৬৩৮৭৩

ভাগ্য+চেষ্টা= ফল
  • aries
  • taurus
  • gemini
  • cancer
  • leo
  • virgo
  • libra
  • scorpio
  • sagittorius
  • capricorn
  • aquarius
  • pisces
aries

শরীর নিয়ে চিন্তায় থাকতে হবে। মাথা ও কোমরে সমস্যা হতে পারে। উপার্জন ভাগ্য শুভ নয়। ... বিশদ


ইতিহাসে আজকের দিন

বিশ্ব মনুষ্যত্ব দিবস
১৯৪০: পরিচালক গোবিন্দ নিহালনির জন্ম
১৯৯৩: অভিনেতা উৎপল দত্তের মৃত্যু

ক্রয়মূল্য বিক্রয়মূল্য
ডলার ৭০.৫৯ টাকা ৭২.২৯ টাকা
পাউন্ড ৮৪.৮১ টাকা ৮৭.৯৪ টাকা
ইউরো ৭৭.৮৩ টাকা ৮০.৭৮ টাকা
[ স্টেট ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়া থেকে পাওয়া দর ]
17th  August, 2019
পাকা সোনা (১০ গ্রাম) ৩৮,২৪৫ টাকা
গহনা সোনা (১০ (গ্রাম) ৩৬,২৮৫ টাকা
হলমার্ক গহনা (২২ ক্যারেট ১০ গ্রাম) ৩৬,৮৩০ টাকা
রূপার বাট (প্রতি কেজি) ৪৩,৯০০ টাকা
রূপা খুচরো (প্রতি কেজি) ৪৪,০০০ টাকা
[ মূল্যযুক্ত ৩% জি. এস. টি আলাদা ]
18th  August, 2019

দিন পঞ্জিকা

২ ভাদ্র ১৪২৬, ১৯ আগস্ট ২০১৯, সোমবার, চতুর্থী ৫৫/৩০ রাত্রি ৩/৩০। উত্তরভাদ্রপদ ৩৬/১৫ রাত্রি ৭/৪৮। সূ উ ৫/১৮/২২, অ ৬/২/২৪, অমৃতযোগ দিবা ৬/৫৯ মধ্যে পুনঃ ১০/২৪ গতে ১২/৫৭ মধ্যে। রাত্রি ৬/৪৮ গতে ৯/২ মধ্যে পুনঃ ১১/১৭ গতে ২/১৮ মধ্যে, বারবেলা ৬/৫৪ গতে ৮/২৯ মধ্যে পুনঃ ২/৫১ গতে ৪/৪৬ মধ্যে, কালরাত্রি ১০/১৫ গতে ১১/৪০ মধ্যে। 
১ ভাদ্র ১৪২৬, ১৯ আগস্ট ২০১৯, সোমবার, চতুর্থী ৪৭/৩৯/৪৭ রাত্রি ১২/২১/২৫। উত্তরভাদ্রপদনক্ষত্র ৩২/১৮/৫৫ সন্ধ্যা ৬/১৩/৪, সূ উ ৫/১৭/৩০, অ ৬/৫/১৪, অমৃতযোগ দিবা ৭/২ মধ্যে ও ১০/২১ গতে ১২/৫০ মধ্যে এবং রাত্রি ৬/৩৫ গতে ৮/৫৪ মধ্যে ও ১১/১২ গতে ২/১৭ মধ্যে, বারবেলা ২/৫৩/১৮ গতে ৪/২৯/১৬ মধ্যে, কালবেলা ৬/৫৩/২৮ গতে ৮/২৯/২৬ মধ্যে, কালরাত্রি ১০/১৭/২০ গতে ১১/৪১/২২ মধ্যে। 
১৭ জেলহজ্জ 

ছবি সংবাদ

এই মুহূর্তে
২ দিনের সফরে দীঘায় পৌঁছলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় 

03:55:11 PM

নেতাজি মৃত্যু নিয়ে ট্যুইট প্রত্যাহার পিআইবির 

03:27:00 PM

নিউ মার্কেট এলাকায় বাড়ির একাংশ ভেঙে জখম ১ 

03:09:00 PM

রাজ্য নেতাদের বিরুদ্ধে মুখ খোলায় মালদহের প্রাক্তন জেলা সভাপতি সঞ্জিৎ মিশ্রকে বহিষ্কার করল বিজেপি 

02:02:28 PM

কোহলিদের খুনের হুমকি দিয়ে পাক বোর্ডে উড়ো মেল 
ভারতীয় ক্রিকেট দলের উপর হামলা হতে পারে এই মর্মে পাকিস্তান ...বিশদ

01:44:02 PM

বেলুড় স্টেশনে তরুণীকে ধারালো অস্ত্রের কোপ 
সাত সকালে বেলুড় স্টেশনে এক তরুণীকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত ...বিশদ

01:09:06 PM