Bartaman Patrika
বিশেষ নিবন্ধ
 

বিদ্যাসাগর ও স্বাজাত্যবোধ
সমৃদ্ধ দত্ত

শুধু রেগে গেলে চলবে কেন? একটু বুঝতেও তো হবে। মূর্তি ভাঙা তো একটা কার্য। প্রতিটি কার্যের পিছনে একটি কারণও থাকে। ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের মূর্তি ভাঙার মধ্যে অনেক অবদমিত অপ্রাপ্তি ও দীর্ঘকালের ক্ষোভ রয়েছে। সেই ক্ষোভের আবেগকে উড়িয়ে দিলে তো হবে না। একটু সহানুভূতির সঙ্গে বিশ্লেষণ করতে হবে। মূর্তিভঙ্গকারীদের পাশে দাঁড়িয়ে সান্ত্বনা দিতে হবে। তাদের রাগটাও তো আজকের নয়। বহুকালের। সে রাগের কোনও চটজলদি সমাধানও নেই যে কোনও একটা কেন্দ্রীয় প্রকল্প চালু করে রাগের উপশম ঘটিয়ে ফেললাম। রাগ নানাপ্রকার। যেমন ধরা যাক, কেন আন্দামানের সেলুলার জেলে বেড়াতে গেলে দেখতে হয় বন্দি ও মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তদের বিরাট তালিকায় সিংহভাগই একটি মাত্র রাজ্য আর জাতির বিপ্লবীদের নাম? বেশিরভাগ বাঙালি। আধুনিক সভ্যতার আলো কেন সর্বপ্রথম বঙ্গোপসাগরের কাছের রাজ্যেই ঢুকল? ভালো করে দেশের বাকি অংশে সমাজ চেতনা ঢোকার আগেই কেন শুধু একটিমাত্র রাজ্যের একজন ব্যক্তি সতীদাহ প্রথা নিবারণে আইন আনতে বাধ্য করলেন ব্রিটিশ সরকারকে? সেই ব্যক্তিকে গোটা দেশের বাকিদের তুলনায় ব্রিটিশরা কেন বেশি বেশি ভয় পাবে, সমীহ করবে? কেন রামমোহন রায় অন্য কোনও রাজ্যে জন্মগ্রহণ করলেন না? ১৮৩৩ সালে তাঁর অকালে জীবনাবসান হল, আর তার তিন বছরের মধ্যে আবার ১৮৩৬ সালে সেই হুগলিরই কামারপুকুরে আর একজন কালজয়ী সমাজসেবী, লোকশিক্ষকের জন্ম হয়ে গেল। কই শ্রীরামকৃষ্ণদেবের জন্মও তো দেশের অন্য কোথাও হতে পারতো। হল না তো! অন্তত আর কিছু না হোক জোড়াসাঁকোর ঠাকুরবাড়িটা কি উত্তর ভারতে হওয়া উচিত ছিল না? রামমোহন রায়, বিদ্যাসাগর, বঙ্গিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়, মধুসূদন দত্ত, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, স্বামী বিবেকানন্দ, কেশবচন্দ্র সেন, অরবিন্দ ঘোষ, সুভাষচন্দ্র বসু, ক্ষুদিরাম বসু, জগদীশচন্দ্র বসু, মেঘনাদ সাহা, সত্যেন্দ্রনাথ বসু, চিত্তরঞ্জন দাশ, আশুতোষ মুখোপাধ্যায়, ...। অন্তহীন নাম। তাবৎ ক্ষণজন্মা মহাপুরুষের ঠিকানা শুধুমাত্র একটিই রাজ্য! একটি দেশ, একটি সমাজ, একটি জাতির উৎকর্ষে পৌঁছনোর জন্য যা যা দরকার সব এই বাঙালি জাতির ভাগ্যে এসেছিল। এ কী অনাচার! এই নামগুলির মধ্যে একটি নাম নিজেদের মধ্যে পেলেই যে কোনও জাতি বা রাজ্য বিশ্ববাসীর সামনে নিজেদের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণের জন্য ঝাঁপিয়ে পড়তে পারত। কিন্তু এঁরা সকলেই বেছে বেছে বাঙালিই হয়েছিলেন। এসব না হয় অধুনিক যুগে। তার আগে? বিশ্বের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ধর্মীয় দার্শনিক তথা সমাজ সংস্কারের পথিকৃৎ শ্রীচৈতন্যদেব? তিনিও এখানেই! এসবের কোনও মানে হয়? একটা এত বড় দেশের একেবারে পূর্বপ্রান্তের একটা জাতি, যাঁদের শরীরে আর্যরক্ত পর্যন্ত নেই, সেই জাতির মধ্যেই লাগাতার কয়েকশ বছর ধরে তাবৎ মেধা, শিক্ষা, বিদ্যাচর্চা, দর্শন, ধর্ম, সমাজচেতনা, নির্ভীক স্বাধীনতাকামী মন, সঙ্গীত, সাহিত্য, সংস্কৃতির শীর্ষতম ডিএনএ আর জিনের জন্ম কেন হবে? এটায় রাগ হবে না? বিধাতার এই চরম পক্ষপাতে ক্ষোভ আসা কি একান্তই অবাস্তব? এত বড় একটা দেশের মধ্যে জোব চার্ণক আর জায়গা পেলেন না এটা বিশ্বাস করতে হবে? সেই ১৬৯০ সালে ভারতে আর একটিও শহর ছিল না যে বেছে বেছে এই তিনটি গ্রাম নিয়ে তৈরি একটা জনপদে এসে নৌকা ভিড়িয়ে নগর নির্মাণ করে আধুনিক পৃথিবীর আলো নিয়ে আসতে হবে এই একটি রাজ্যেই প্রথম? কেন? কেন শুধু এই রাজ্যের লোকগুলোই ইংরেজি শিখে ব্রিটিশ ইন্ডিয়ার তাবৎ উচ্চপদে কর্ম পেলেন? নাগপুর থেকে বিলাসপুর রেলের অফিসার কর্মী কারা হয়ে গিয়েছিল? কেন এই শহরের এলগিন রোডের এক যুবক আইসিএস পরীক্ষায় হেলায় চতুর্থ স্থান পেয়ে চরম উৎকর্ষের পেশায় উত্তীর্ণ হয়েও নির্লিপ্তভাবে সেই চাকরি থেকে ইস্তফা দেওয়ার সাহস দেখাবেন? বাকিরা ছাড়বে কি আগে তো আইসিএসে ফোর্থ হতে হবে? আর সেই যুবকই সমস্ত রকম নিরাপত্তার বলয় ছেড়ে অজানা সংগ্রামের সমুদ্রে ঝাঁপ দিয়ে নিজস্ব এক সেনা বাহিনী গড়ে ব্রিটিশের প্রাণে ভয় ধরিয়ে চিররহস্যের আড়ালে চলে গিয়ে গোটা দেশের কাছে এক সর্বকালীন হিরো হয়ে রইলেন। অন্যরা যেখানে একটা পায় না, সেখানে কেন একটা জাতি থেকেই একাধিকবার নোবেল পাবে? তাও আবার সম্পূর্ণ বিপরীতধর্মী সেগমেন্টে! সাহিত্যেও পাবে একই জাতি নোবেল! আবার অর্থনীতিতেও পাবে? এটা আবার কেমন বিচার? আবার দেখুন মুম্বই ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রি কী দোষ করেছে, যে এই রাজ্যের টালিগঞ্জ পাড়ার কোনও এক ভদ্রলোককে লাইভ টাইম অ্যাচিভমেন্টের অস্কার পুরস্কার দেওয়া হবে? দেশের আর কোথায় সিনেমা হয় না নাকি? একটি দেশের জাতীয় সঙ্গীত আর জাতীয় গান দুটো করা হল। খুব ভালো কথা। কিন্তু এটা কি ঠিক হল যে বাকি সব রাজ্যের সব কবি সাহিত্যিকের গানকে ছেড়ে একটি ভাষারই দু‌ই সাহিত্যিকের দু’টি গান বেছে নেওয়া হবে? জাতীয় সঙ্গীতও বাঙালির রচনা! আবার জাতীয় গানও বাঙালির রচনা? এটা দেখে যদি ক্ষোভ হয় সেটা কি একান্তই অপরাধ হবে? গোটা দেশকে বাদ দিয়ে কেবলমাত্র একটা রাজ্যেই কেন নবজাগরণ হল? নারীশিক্ষা, বিধবাবিবাহ, আধুনিক শিক্ষার প্রচলন কে করলেন? ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর। তাঁকে কি তাহলে ভারতীয় সভ্যতার বিরোধী আখ্যা দিয়ে পশ্চিমি সভ্যতার কাছে সমর্পণকারী হিসেবে তকমা দেওয়া যাবে? তাও তো সম্ভব নয়। সেটাই তো মহা মুশকিল। কারণ এই ব্রাহ্মণ সন্তান তো সংস্কৃত শাস্ত্রে সাংঘাতিক বিশেষজ্ঞ। আবার সেই তিনিই পশ্চিমি শিক্ষাকে সবার আগে গ্রহণ করেছিলেন। এরকম এক উদার পথপ্রদর্শক গোটা দেশের মধ্যে বাঙালিই পেয়েছে।
নবজাগরণের ঐতিহ্য এই জাতিকে যে জিনিসটি প্রদান করেছিল সেগুলি নিছক শিল্পলগ্নি নয় যে ইচ্ছে করলেই রাজ্যে জমি দিয়ে নিয়ে আসা যায়। সেগুলি এমন এক বস্তু যা টাকা দিয়েও কেনা যায় না। ভোটে জিতেও আয়ত্ত করা যায় না। সংস্কৃতি, চেতনা, তীক্ষ্ণ জীবনদর্শন আর চরম উৎকর্ষের চিন্তাশীলতা। একটা নিয়ম হল, যে সম্পদ সহজে আহরণ করা যায় না সেটি যাঁদের আছে তাঁদের প্রতি গোপন বিদ্বেষ তৈরি হয়। স্বাভাবিক। যা আমার করায়ত্ত হবে না সেটিকে ধ্বংস করতে পারলে মনের আরাম হয়, ক্ষোভের উপশম হয়। বিদ্যাসাগরকে আঘাত করার কারণ হল তিনি মানবজীবনের সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ একটি আলো জ্বালার দিশারী। সেটি হল শিক্ষা। কেন তাঁকে অপছন্দ একটি বিশেষ অংশের? তার কারণটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের চারিত্রপূজা নামক প্রবন্ধাবলীর অন্যতম ‘বিদ্যাসাগর’ শীর্ষক রচনায় পাওয়া যাবে। রবীন্দ্রনাথ লিখছেন, ‘‘দয়া প্রভৃতি গুণ অনেকের মধ্যে সচরাচর দেখা যায়, কিন্তু চারিত্রবল আমাদের দেশে সর্বত্র দৃষ্টিগোচর হয় না। যারা সবলচরিত্র, যাদের চারিত্রবল কেবলমাত্র ধর্মবুদ্ধিগত নয় কিন্তু মানসিক বুদ্ধিগত, সেই প্রবলেরা অতীতের বিধিনিষেধে অবরুদ্ধ হয়ে নিঃশব্দে নিস্তেজ হয়ে থাকেন না। ... যাঁরা অতীতের জড় বাধা লঙ্ঘন করে দেশের চিত্তকে ভবিষ্যতের পরম সার্থকতার দিকে বহন করে নিয়ে যাবার সারথির স্বরূপ, বিদ্যাসাগরমহাশয়, সেই মহারথীগণের একজন অগ্রগণ্য ছিলেন ...।’’ রবীন্দ্রনাথ বারংবার একাধিক রচনায় বিদ্যাসাগরের সবথেকে বড় যে গুণের প্রতি নিজের মুগ্ধতা ব্যক্ত করেছেন সেটি হল সমাজের উন্নতির জন্য বিদ্যসাগরের নির্ভীকতা আর আত্মসম্মান রক্ষার জন্য সামাজিক ভ্রুকুটিকে উপেক্ষা করে, চ্যালেঞ্জ করে তাঁর বিদ্রোহ। আত্মচেতনা, বুদ্ধিবৃত্তি, সংস্কৃতি আর জীবনদর্শন। এই চারটি উপলব্ধি যদি কোনও জাতির ধ্বংস করা যায়, তাহলে আর তার নিজস্বতা বলে কিছু অবশিষ্ট থাকে না।
বাঙালিকে হীনবল করার সবথেকে সহজ পন্থা হল বাঙালিত্বকেই হরণ করে নেওয়া। একবার কাজটি সম্পন্ন করা হলে শুধু নামের পাশে বাঙালি বাঙালি দেখতে পদবিটি থাকে। কিন্তু, মননে আর সে বাঙালি থাকে না। তাই বিদ্যাসাগরের মূর্তি কোন দল ভেঙেছে অথবা মূর্তিভঙ্গকারীদের পদবি কী সেটা খুব বেশি গুরুত্বপূর্ণ নয়। ভিতর থেকে ভাঙা হয়েছে না কি বাইরে থেকে এসে ভাঙা হল, এসব রাজনৈতিক তরজাও গুরুত্বপূর্ণ নয়। তাৎপর্যপূর্ণ হল যে বা যারা ভেঙেছে তারা আদতে বাঙালি জাতির শত্রু। বাংলার ইতিহাসের শত্রু। চেতনার শত্রু। কারণ এই মনীষীদের প্রদান করা উৎকর্ষ আমাদের নেই, তাই এঁদের ধ্বংস করো। আধুনিক শিক্ষিত বাঙালি চেতনার জন্মদাতাকেই ভুলুণ্ঠিত করার যে কাজটি সমাধা হল সেটি নিছক প্রতীকী। আসলে ওটাই লক্ষ্য। একটা লিটমাস টেস্ট বলা যেতে পারে। এভাবে যাচাই করে দেখে নেওয়া সম্ভব সত্যিই এই জাতির কতটা আত্মসম্মান আর বাকি আছে। যদি দেখা যায় কই ,কিছু ইতিউতি প্রতিবাদ মিছিল, ধিক্কার সভা কিংবা গণস্বাক্ষর জাতীয় নরম নরম নিন্দামন্দ ছাড়া মোটামুটি বাঙালির সিংহভাগই নির্লিপ্তই রয়েছে, বরং অনেকে আবার ঘুরিয়ে ফিরিয়ে জাস্টিফাই করার চেষ্টাও করছে, তাহলে বুঝতে হবে বাঙালিত্ব হরণের অপারেশন যথেষ্ট সফলভাবে হচ্ছে। ধর্মীয়ভাবে, সংস্কৃতিগতভাবে, আচরণগতভাবে। আমাদের সিদ্ধান্ত নিতে হবে আমরা বিদ্যাসাগর মেলা, রবীন্দ্রজয়ন্তী, কল্পতরু উৎসবদের আমাদের জীবনযাপনের জন্য দরকারি মনে করছি? না কি করছি না! যদি প্রয়োজনীয় মনে না করি, তাহলে বাহ্যিক ক্ষতি কিছুই নেই। টাকা রোজগার কম হবে না, নিঃশ্বাসপ্রশ্বাস চলবে, বেঁচে থাকব সুস্বাস্থ্য আর আইপিএল নিয়ে। শুধু দু’টি জিনিস চিরতরে থাকবে না। আইডেন্টিটি আর স্বাজাত্যবোধের আত্মসম্মান! সিদ্ধান্ত আমাদের!
17th  May, 2019
বিধানসভা ভোট কিন্তু হবে মমতাকে দেখেই
শান্তনু দত্তগুপ্ত 

ইন্দিরা গান্ধীর টার্গেট ছিল একটাই। যেভাবে হোক সিপিএমের কোমর ভেঙে দিতে হবে। তিনি মনে করতেন, সিপিএম আসলে সিআইএ’র মদতপুষ্ট। ঠিকঠাক সুযোগ পেলে পূর্ববঙ্গ এবং পশ্চিমবঙ্গে সশস্ত্র আন্দোলন করিয়ে বৃহত্তর বাংলা গঠন করে ফেলবে। কাজেই বাংলা কংগ্রেস এবং সিপিআই পছন্দের তালিকায় থাকলেও সিপিএমকে মোটে বরদাস্ত করতে পারতেন না ইন্দিরা।
বিশদ

ডাক্তারবাবুদের গণ-ইস্তফা নজিরবিহীন,
কিন্তু তাতে কি হাসপাতাল সমস্যা মিটবে?

 এ-কথাও তো সত্যি যে, হাসপাতালের পরিকাঠামোগত উন্নয়নে বা ডাক্তারবাবুদের যথাযথ নিরাপত্তা বিধানে তাঁর সদিচ্ছা আছে এবং ইতিমধ্যেই তার যথেষ্ট প্রমাণ মিলেছে। এই অচলাবস্থা কাটাতে প্রবীণদের বৈঠকে ডেকে মুখ্যমন্ত্রী সমাধানসূত্র খুঁজছেন— সেটাও কি ওই সদিচ্ছারই নামান্তর নয়? বিশদ

16th  June, 2019
নরেন্দ্র মোদির মালদ্বীপ সফর এবং ভারত মহাসাগরে ভারতের নতুন রণনীতি
গৌরীশঙ্কর নাগ

 মোদিজির এই দ্বীপপুঞ্জ-সফর কেবলমাত্র হাসি বিনিময় ও করমর্দনের রাজনীতি হবে না, বরং এর প্রধান অ্যাজেন্ডাই হল প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে মজবুত করা। তবে সেটা করতে গিয়ে ভারত যেন দ্বীপপুঞ্জের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে অযথা হস্তক্ষেপ না করে বসে। কিন্তু তার অর্থ এই নয় যে, ভারত মালদ্বীপকে সন্ত্রাসবাদের নয়া ‘আঁতুড়ঘর’ হতে দেবে। কারণ ইতিমধ্যেই আমরা দেখেছি পাকিস্তান, আফগানিস্তান এমনকী মধ্যপ্রাচ্য থেকেও জেহাদি নেটওয়ার্কের কারবার মালদ্বীপেও পৌঁছে গিয়েছে। এই র‌্যাডিক্যালিজমের একমাত্র দাওয়াই হল অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও তার সহায়ক শক্তি হিসেবে রাজনৈতিক স্থিরতা।
বিশদ

15th  June, 2019
সতর্কতার সময়
সমৃদ্ধ দত্ত

 ভারতীয় সংস্কৃতির সনাতন ধারাটি হল দিবে আর নিবে, মিলিবে মেলাবে। কিন্তু সেই সংস্কৃতি থেকে আমাদের সরিয়ে এনেছে অসহিষ্ণুতা আর স্বল্পবিদ্যা। আর সবথেকে বেশি জায়গা করে নিয়েছে বিদ্বেষ। রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের প্রতি বিদ্বেষ।
বিশদ

14th  June, 2019
ক্ষমতার ‘হিন্দি’ মিডিয়াম
শান্তনু দত্তগুপ্ত

 উত্তর ভারতের সঙ্গে দক্ষিণের সীমারেখা। আর তার কারিগর আমরাই। আমাদের কাছে সাউথ ইন্ডিয়ান মানে মাদ্রাজি। দক্ষিণ ভারতের লোকজন নারকেল তেল খায়, অদ্ভুত ওদের উচ্চারণ, লুঙ্গি পরে বিয়েবাড়ি যায়... হাজারো আলোচনা। উত্তর ভারত মানে বিষম একটা নাক উঁচু ব্যাপার। আর দক্ষিণ মানেই রসিকতার খোরাক। তাই ওদের একটু ‘মানুষ’ করা দরকার। কীভাবে সেটা সম্ভব? হিন্দি শেখাতে হবে। বিশদ

13th  June, 2019
বারুদের স্তূপের উপর পশ্চিমবঙ্গ
হিমাংশু সিংহ

সংসদীয় রাজনীতিতে কিছুই চিরস্থায়ী নয়। কারও মৌরসিপাট্টাই গণতন্ত্রে বেশিদিন টেকে না। সব সাজানো বাগানই একদিন শুকিয়ে যায় কালের নিয়মে। ইতিহাস কয়েক বছর অন্তর ফিরে ফিরে আসে আর ধুরন্ধর শাসককে চরম শিক্ষা দিয়ে তাঁকে, তাঁর ক্ষমতাকে ধুলোয় লুটিয়ে দিয়ে আবার ফকির করে দিয়ে যায়। সব ক্ষমতা এক ভোটে বিলীন। ধূলিসাৎ। আর এখানেই মহান গণতন্ত্রের জিত আর চমৎকারিত্ব। আর সেই দিক দিয়ে ২৩ মে-র ফল এই পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিকেও আবার এক মহান সন্ধিক্ষণের দিকেই যেন ঠেলে দিয়েছে। ‘বিয়াল্লিশে বিয়াল্লিশ’ হয়নি, ‘২০১৯ বিজেপি ফিনিশ’—তাও হয়নি। উল্টে সারাদেশে বিজেপি থ্রি-নট-থ্রি (অর্থাৎ ৩০৩টি) আসন জিতে তাক লাগিয়ে দিয়েছে ভোট-পণ্ডিতদের।
বিশদ

11th  June, 2019
মোদিজি কি ‘সবকা বিশ্বাস’ অর্জন করতে পারবেন?
পি চিদম্বরম

 নরেন্দ্র মোদি এবার যে জনাদেশ পেয়েছেন তা অনস্বীকার্যভাবে বিপুল। যদিও, অতীতে লোকসভা নির্বাচনে একটি পার্টি ৩০৩-এর বেশি আসন জেতার একাধিক দৃষ্টান্ত আছে। যেমন ১৯৮০ সালে ইন্দিরা গান্ধী ৩৫৩ এবং ১৯৮৪ সালে রাজীব গান্ধী ৪১৫ পেয়েছিলেন।
বিশদ

10th  June, 2019
 বিজেপি এ রাজ্যের বিধানসভা ভোটকে
কঠিন চ্যালেঞ্জ মনে করছে কেন?
শুভা দত্ত

 কয়েকদিনের মধ্যে বেশ কয়েকটি মর্মান্তিক খুনের ঘটনা ঘটে গেল রাজ্যের উত্তর থেকে দক্ষিণে। তাই আজও একই প্রসঙ্গ দিয়ে এই নিবন্ধ শুরু করতে হচ্ছে। গত সপ্তাহেই লিখেছিলাম, ভোটফল প্রকাশের পর রাজ্যের বেশ কিছু এলাকায় যেন একটা হিংসার বাতাবরণ তৈরি হয়েছে।
বিশদ

09th  June, 2019
ইচ্ছে-ডানায় নাচের তালে
অতনু বিশ্বাস

এ বছরের সিবিএসই পরীক্ষার ফল বেরতে দেখা গেল, প্রথম হয়েছে দু’টি মেয়ে। একসঙ্গে। ৫০০-র মধ্যে তারা পেয়েছে ৪৯৯ করে। দু’জনেই আবার আর্টসের ছাত্রী। না, পরীক্ষায় আজকাল এত এত নম্বর উঠছে, কিংবা আর্টস বিষয় নিয়েও প্রচুর নম্বর তুলে বোর্ডের পরীক্ষায় র‍্যাঙ্ক করা যায় আজকাল—এগুলোর কোনওটাই আমার আলোচনার বিষয়বস্তু নয়।
বিশদ

08th  June, 2019
ভারতের রাজনীতিতে ‘গেম মেকার’
মৃণালকান্তি দাস

মেধাবী হলেই যে পড়ুয়ার জন্য মোটা বেতনের চাকরি নিশ্চিত, তার কোনও গ্যারান্টি নেই। শুধু প্রতিভা থাকলে আর পরিশ্রমী হলেই হবে না, উপযুক্ত প্রশিক্ষণ এবং ঠিকঠাক ‘গাইড’ না পাওয়ায় পড়ুয়ারা আজ আর সরকারি চাকরির লক্ষ্যভেদ করতে পারেন না।
বিশদ

07th  June, 2019
অবিজেপি ভোটে বাজিমাত
বিজেপির, এবং তারপর...
মেরুনীল দাশগুপ্ত

আলোড়ন! নিঃসন্দেহে একটা জবরদস্ত আলোড়ন উঠেছে। লোকসভা ভোটফল প্রকাশ হওয়া ইস্তক সেই আলোড়নের দাপটে রাজ্য-রাজনীতি থেকে সাধারণের অন্দরমহল জল্পনা-কল্পনা, বিবাদ-বিতর্ক, আশা-আশঙ্কায় যাকে বলে রীতিমতো সরগরম! পথেঘাটে আকাশে বাতাসে যেখানে সেখানে ছিটকে উঠছে উৎকণ্ঠা নানান জিজ্ঞাসা।
বিশদ

06th  June, 2019
কর্ণাটক পুরনির্বাচন: আবার উল্টালো ভোটফল
শুভময় মৈত্র 

নির্বাচনে ভোটফল নিয়ে কখন যে কী ঘটছে তার ব্যাখ্যা পাওয়া যাচ্ছে না মোটেই। মানুষ অবশ্যই মত বদলাবেন। সে স্বাধীনতা তাঁদের আছে। সে জন্যেই তো ভোটফল বদলায়। নাহলে সংসদীয় গণতন্ত্রের কোনও অর্থই থাকে না।  
বিশদ

04th  June, 2019
একনজরে
সংবাদদাতা, আলিপুরদুয়ার: বিধানসভা ভোটের দিকে লক্ষ্য রেখে আলিপুরদুয়ারে জেলা জুড়ে ফের সদস্য সংগ্রহ অভিযানে নামছে বিজেপি। কিভাবে এই সদস্য সংগ্রহ হবে তার জন্য প্রশিক্ষণ নিতে দলের জেলা ও মণ্ডল কমিটির চার নেতার নাম কলকাতায় পাঠানো হয়েছে।   ...

 রিও ডি জেনেইরো, ১৭ জুন: কোপা আমেরিকার প্রথম ম্যাচে বলিভিয়ার চ্যালেঞ্জ সহজেই অতিক্রম করেছে ব্রাজিল। বুধবার সকালে (ভারতীয় সময়) গ্রুপ-এ’র দ্বিতীয় ম্যাচে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের মুখোমুখি ...

সংবাদদাতা, কালনা: কালনা ফেরিঘাটের এবার নিলাম হতে অনলাইনে। ইতিমধ্যে কালনা পুরসভার তরফে অনলাইনে নিলামের বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়েছে। ১১ জুলাই নিলামের দিন ধার্য করা হয়েছে। পুরসভার পক্ষ থেকে নিলাম দর রাখা হয়েছে বাৎসরিক ৫০ লক্ষ টাকা।  ...

  মুম্বই, ১৭ জুন (পিটিআই): ৬৭ কোটি ৬৫ লক্ষ টাকা ঋণ পরিশোধ করতে ব্যর্থ হওয়ায় বিড়লা সূর্য সংস্থার ডিরেক্টর যশোবর্ধন বিড়লাকে ইচ্ছাকৃত ঋণখেলাপি ঘোষণা করল ইউকো ব্যাঙ্ক। রবিবার এ বিষয়ে জনস্বার্থে নোটিস জারি করেছে তারা। ...




আজকের দিনটি কিংবদন্তি গৌতম
৯১৬৩৪৯২৬২৫ / ৯৮৩০৭৬৩৮৭৩

ভাগ্য+চেষ্টা= ফল
  • aries
  • taurus
  • gemini
  • cancer
  • leo
  • virgo
  • libra
  • scorpio
  • sagittorius
  • capricorn
  • aquarius
  • pisces
aries

উচ্চতর বিদ্যায় সাফল্য আসবে। প্রেম-ভালোবাসায় আগ্রহ বাড়বে। পুরনো বন্ধুর সঙ্গে সাক্ষাতে আনন্দলাভ হবে। সম্ভাব্য ক্ষেত্রে ... বিশদ


ইতিহাসে আজকের দিন

১৯৩৬- রুশ সাহিত্যিক ম্যাক্সিম গোর্কির মৃত্যু
১৯৮৭- পরিচালক হীরেন বসুর মৃত্যু
২০০৫- ক্রিকেটার মুস্তাক আলির মৃত্যু
২০০৯- প্রখ্যাত সরোদ শিল্পী আলি আকবর খানের মৃত্যু  

ক্রয়মূল্য বিক্রয়মূল্য
ডলার ৬৮.৯৯ টাকা ৭০.৬৮ টাকা
পাউন্ড ৮৬.৩৪ টাকা ৮৯.৫৫ টাকা
ইউরো ৭৬.৭৯ টাকা ৭৯.৭৬ টাকা
[ স্টেট ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়া থেকে পাওয়া দর ]
পাকা সোনা (১০ গ্রাম) ৩৩,৩২৫ টাকা
গহনা সোনা (১০ (গ্রাম) ৩১,৬১৫ টাকা
হলমার্ক গহনা (২২ ক্যারেট ১০ গ্রাম) ৩২,০৯০ টাকা
রূপার বাট (প্রতি কেজি) ৩৭,১০০ টাকা
রূপা খুচরো (প্রতি কেজি) ৩৭,২০০ টাকা
[ মূল্যযুক্ত ৩% জি. এস. টি আলাদা ]

দিন পঞ্জিকা

৩ আষা‌ঢ় ১৪২৬, ১৮ জুন ২০১৯, মঙ্গলবার, প্রতিপদ ২৩/৫৮ দিবা ২/৩১। মূলা ১৭/১৬ দিবা ১১/৫০। সূ উ ৪/৫৬/০, অ ৬/১৮/৫৪, অমৃতযোগ দিবা ৭/৩৬ মধ্যে পুনঃ ৯/২৩ গতে ১২/৩ মধ্যে পুনঃ ৩/৩৮ গতে ৪/৩১ মধ্যে। রাত্রি ৭/১ মধ্যে পুনঃ ১১/৫৮ গতে ২/৬ মধ্যে, বারবেলা ৬/৩৭ গতে ৮/১৭ মধ্যে পুনঃ ১/১৮ গতে ২/৫৮ মধ্যে, কালরাত্রি ৭/৩৯ গতে ৮/৫৮ মধ্যে। 
২ আষাঢ় ১৪২৬, ১৮ জুন ২০১৯, মঙ্গলবার, প্রতিপদ ২২/২২/৩৮ দিবা ১/৫২/৩৩। মূলানক্ষত্র ১৭/২৭/২৯ দিবা ১১/৫৪/৩০, সূ উ ৪/৫৫/৩০, অ ৬/২১/২৮, অমৃতযোগ দিবা ৭/৪০ মধ্যে ও ৯/২৭ গতে ১২/৮ মধ্যে ও ৩/৪২ গতে ৪/৩৫ মধ্যে এবং রাত্রি ৭/৫ মধ্যে ও ১২/২ গতে ২/৯ মধ্যে, বারবেলা ৬/৩৬/১৫ গতে ৮/১৬/৫৯ মধ্যে, কালবেলা ১/১৯/১৩ গতে ২/৫৯/৫৮ মধ্যে, কালরাত্রি ৭/৪০/৪৩ গতে ২/৫৯/৫৯ মধ্যে। 
মোসলেম: ১৪ শওয়াল 

ছবি সংবাদ

এই মুহূর্তে
বিশ্বকাপ: আফগানিস্তানকে ১৫০ রানে হারাল ইংল্যান্ড

10:48:34 PM

স্বাস্থ্য ক্ষেত্রে নিরাপত্তা, চালু কলকাতা পুলিসের হেল্প লাইন 
গতকাল মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশ পাওয়ার পর স্বাস্থ্য ক্ষেত্রে নিরাপত্তা জনিত সমস্যার ...বিশদ

09:48:24 PM

বিশ্বকাপ: আফগানিস্তান ৮৬/২ (২০ ওভার) 

08:17:00 PM

দার্জিলিং পুরসভায় প্রশাসক নিয়োগ করল রাজ্য সরকার 

08:08:39 PM

জাপানে বড়সড় ভূমিকম্প, মাত্রা ৬.৫, জারি সুনামি সতর্কতা 

07:34:58 PM

বিশ্বকাপ: আফগানিস্তান ৪৮/১ (১০ ওভার) 

07:05:00 PM