Bartaman Patrika
বিশেষ নিবন্ধ
 

শেষ দফার ভোটে শান্তি বজায় রাখাই
আজ কমিশনের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ

শুভা দত্ত

দেখতে দেখতে সাত দফার লম্বা ভোটযুদ্ধ শেষ হয়ে এল। আজ সপ্তম, তথা শেষ দফা। তারপরই শুরু হয়ে যাবে লোকসভা মহাযুদ্ধের চূড়ান্ত ফলাফলের জন্য কাউন্টডাউন। রাজ্যের ৪২টি লোকসভা আসনের মধ্যে ৩৩টির ভোটগ্রহণ ইতিমধ্যেই সম্পন্ন হয়েছে। কলকাতা উত্তর, কলকাতা দক্ষিণ, যাদবপুর সমেত বাকি ন’টি আসনের ভাগ্য নির্ধারিত হবে আজ। সঙ্গত কারণেই মহানগরী কলকাতা ও তার দুপাশের দুই পরগনায় উত্তেজনার পারদ এখন তুঙ্গে। কারণ আজকে যে আসনগুলোতে যুদ্ধ হচ্ছে সেগুলো রয়েছে ওই তিন জেলাতেই। শুধু তাই নয়, আজকের এই মহারণে বিদায়ী লোকসভার তরুণ তৃণমূল সাংসদ তথা যুব তৃণমূলের সর্বভারতীয় সভাপতি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় সমেত বেশ কয়েকজন তারকা প্রার্থীর ভাগ্য নির্ধারিত হবে। সে জন্য, অভিষেকের কেন্দ্র ডায়মন্ডহারবার বা জনপ্রিয় অভিনেত্রী মিমি চক্রবর্তীর যাদবপুর বা দুই প্রবীণ তৃণমূল সাংসদ সৌগত রায়ের এবং সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের কেন্দ্র যথাক্রমে দমদম ও উত্তর কলকাতা নিয়ে জনমহলে বাড়তি উদ্দীপনা কৌতূহলের সঞ্চারও যে হয়েছে তাতে সন্দেহ নেই।
কারণ, লোকসভা ভোটযুদ্ধ শুরু হওয়া ইস্তক রাজ্যের রাজনৈতিক বাতাবরণে একটা গুঞ্জন চলছে যে, ওই কেন্দ্রগুলোতে বিরোধীদলের প্রার্থীরা এবার জোরদার লড়াই দেবে। যাদবপুরে সিপিএম প্রার্থী বিকাশ ভট্টাচার্য, দমদমে বিজেপি’র শমীক ভট্টাচার্য কি উত্তর কলকাতায় বিজেপি’র রাহুল সিনহা নাকি এবার ভালো ভোট টানবেন। তাতে নাকি ফলাফলে এধার-ওধারও হয়ে যেতে পারে! সম্ভাবনার এই গুঞ্জনকে কেন্দ্র করে স্বাভাবিকভাবেই মমতা-বিরোধী শিবির ও তার পৃষ্ঠপোষক মহলে যে কিছু ‘আশা’র সঞ্চার হয়েছে তা নির্বাচনী সভার বক্তৃতা বক্তব্য থেকে ঠারেঠোরে নেতানেত্রীরা বুঝিয়েও দিচ্ছেন। তাঁদের ওই ‘আশা’র কথায় জনমহলের একাংশের ভোট জল্পনায় কৌতূহলের নতুন মাত্রাও যোগ হয়েছে তা তথ্যভিজ্ঞজনেরা অনেকেই স্বীকার করছেন। ফলে আজকের ভোট মহারণে ডায়মন্ডহারবার যাদবপুর দমদমের মতো নজরকাড়া কেন্দ্রগুলো নিয়ে মানুষের মধ্যে উৎসাহ উদ্দীপনার বহর যে একটু বেশিই হবে, তা বলাই বাহুল্য। অবশ্য, সেটা এমন হাই-ভোল্টেজ ভোটযুদ্ধে একেবারে অপ্রত্যাশিতও কি? বিশেষ করে এবারের ভোটে যখন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও তাঁর প্রধান সেনাপতি অমিত শাহের এক নম্বর টার্গেট এই পশ্চিমবঙ্গ এবং জাতীয়স্তরে দিল্লির মসনদ দখলের যুদ্ধে গেরুয়াবাহিনীর প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে লড়াইয়ের ময়দান দাপিয়ে বেড়াচ্ছেন মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, রাজ্যে ৪২-এ ৪২ করার ডাক দিয়ে আসমুদ্র বাংলায় ঢেউ তুলে দিয়েছেন, তখন প্রতিটি আসন নিয়েই তো এমন গণকৌতূহল আগ্রহ উদ্দীপনা প্রত্যাশিত—তাই নয় কি? বাঙালি হিসেবে মা-মাটি-মানুষের নেত্রী মমতা শেষপর্যন্ত প্রধানমন্ত্রীর আসনে পৌঁছতে পারেন কি না তা নিয়েও তো আম-বাঙালির একটা উৎকণ্ঠা ক্রমশ প্রবল হচ্ছে। এবং হলফ করেই বলা যায়, এবার ফল ঘোষণার দিন বাঙালি গোটা দেশের ফলের চেয়ে বেশি আগ্রহ দেখাবে বাংলার ফলাফল নিয়ে—৪২-এ ৪২ কতদূর সফল হল তা দেখতেই সেদিন সকাল থেকে অধীর আগ্রহ আর প্রত্যাশা নিয়ে টিভি’র সামনে বসবেন তাঁরা।
কিন্তু, তার আগে সকলেই জানতে চাইছেন—আজ কী হবে! কেমন যাবে ভোটের শেষ পর্বের দিনটা? প্রথম ছয় দফা একেবারেই ঘটনাশূন্য হয়েছে—এমন বলছেন না কেউই। এই বঙ্গের ভোটে এবারের দুই প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী তৃণমূল ও বিজেপি’র কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে সামান্য কিছু সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। প্রাণহানির মতো দুর্ভাগ্যজনক দু-একটি ঘটনাও ঘটেছে। কিন্তু, পশ্চিমবঙ্গের ভোট ময়দানের পরিসর পরিধির বিশালত্ব ও যুদ্ধের তীব্রতার বিচারে সে সবকে সামান্যই বলতে হবে। এবং সেজন্যই হয়তো নির্বাচন কমিশনের কর্তারাও গত ছয় দফার নির্বাচনকে মোটের ওপর শান্তিপূর্ণ বলে দাবি করে অপ্রীতিকর ঘটনাগুলোকে নিতান্ত ‘বিচ্ছিন্ন’ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। সত্যি বলতে কী, এবার প্রথম থেকেই বিশাল কেন্দ্রীয় বাহিনী ও রাজ্য পুলিসের যৌথ উদ্যোগে নিরাপত্তার বলয় যথেষ্ট আঁটোসাঁটো থাকায় বুথের ভিতরে-বাইরে সার্বিকভাবে শান্তি বজায় ছিল, মানুষ শান্তিতেই ভোট দিয়েছেন। অবশ্য, কিছু ক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় বাহিনীর কয়েকজনের বিরুদ্ধে ভোটারদের প্রভাবিত করার অভিযোগও যে ওঠেনি তা নয়—তবে তা নিয়েও বড় কোনও হাঙ্গামা হয়নি। ফলে, সপ্তম দফা নিয়ে প্রথম দিকে মানুষের মধ্যে একটা নিশ্চিতিই কাজ করছিল—সকলেই ভাবছিলেন শহর মহানগরের ভোটে এবার হাঙ্গামা হুজ্জোত হবে না। মমতার পুলিস প্রশাসন এবং ভোট কমিশন, কেন্দ্রীয় বাহিনীর সমবেত চেষ্টায় ভোটটা শান্তিতেই হবে।
কিন্তু গত কয়েক দিনের কিছু ঘটনা মানুষের সেই বিশ্বাস যেন খানিকটা টলিয়ে দিয়েছে। চলতি ভোটযুদ্ধের শুরু থেকে প্রচারের শেষ অব্দি মুখ্যমন্ত্রী মমতা এবং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বা পদ্মদলের সভাপতি অমিত শাহের বাগ্‌-যুদ্ধ যাঁরা উপভোগ করছিলেন, যুদ্ধের তাপ পোহাতে পোহাতে তার ফলাফল নিয়ে তর্কবিতর্ক তরজায় মেতে ছিলেন বিদ্যাসাগরেরে মূর্তি ভাঙার ধাক্কায় উত্তাল বাংলার দিকে চেয়ে তাঁদের অনেকেই এখন রীতিমতো চিন্তায়। বিদ্যাসাগর কলেজে ঢুকে ওই মূর্তি কে ভাঙল তা নিয়ে বিতর্ক যত চড়ছে, সোশ্যাল মিডিয়ায় এই দুর্ভাগ্যজনক ঘটনা নিয়ে টীকাটিপ্পনী, ক্ষোভক্রোধের ঝলকানি যত ছড়াচ্ছে তত যেন সপ্তম দফার লড়াই নিয়ে জনমনে আশঙ্কা বাড়ছে! তার ওপর রাজ্যের স্বরাষ্ট্রসচিব ও কলকাতার প্রাক্তন কমিশনার রাজীব কুমারের মতো পুলিস কর্তাকে আচমকা সরিয়ে দেওয়ার পাশাপাশি পরিস্থিতি শান্ত করতে নির্বাচন কমিশন নজিরবিহীনভাবে ভোট প্রচারের সুযোগ একদিন কমিয়ে দেওয়ায় রাজনৈতিক মহলে যে আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে তার প্রভাবে সাধারণ জনজীবনের আশঙ্কা আরও যেন ঘনীভূত হয়েছে! অবশ্য, নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্ত নিয়ে আমাদের কোনও বক্তব্য নেই। আইনের পরিধির মধ্যে থেকেই তাঁরা নিশ্চয়ই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তবে, আইনজীবী মহলের কেউ কেউ ভোট প্রচারের সময় কমিয়ে দেওয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। মুখ্যমন্ত্রী মমতাও কমিশনের সিদ্ধান্তে যে যথেষ্ট অসন্তুষ্ট সেটা নির্বাচন কমিশনের মর্যাদা ও গুরুত্ব স্বীকার করে নিয়েও বুঝিয়ে দিয়েছেন। কিন্তু, বিদ্যাসাগরের মূর্তি ভাঙা, ভোটপ্রচারের দিন কমানো ইত্যাদি নিয়ে রাজ্য রাজনীতির যুযুধান মহলগুলির মধ্যে উত্তেজনা যে বাড়ছে তা বলাই বাহুল্য।
সে জন্য অনেকেই মনে করছেন, শেষ দফার ভোটে শান্তি বজায় রাখাই আজ কমিশনের সামনে সবচয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হতে যাচ্ছে। কারণ, বিদ্যাসাগরের মূর্তি ভাঙা নিয়ে পরিস্থিতি এখনও যথেষ্ট উত্তপ্ত। এই ঘটনার প্রভাব পড়েছে আসমুদ্রহিমাচল রাজ্যে, সমাজের সর্বস্তরে। সেই উত্তাপের আঁচ ভোটযুদ্ধের ময়দানে পৌঁছবে না এমন গ্যারান্টি কোথায়? এই আঁচ আজকের শেষ দফার ভোটে যাতে বাড়তি উত্তেজনা ছড়াতে না পারে তার ব্যবস্থা নির্বাচন কমিশন এবং রাজ্য প্রশাসন নিশ্চয়ই করবে আশা রাখি। তবে যেহেতু নির্বাচন চলাকালীন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ, গুন্ডা তাণ্ডব রোখা, ভোটবাক্স ও ভোটারের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করা ইত্যাদির দায় পুরোপুরি নির্বাচন কমিশনের, সে জন্য রাজ্যের মানুষ আজ শান্তির জন্য মূলত চেয়ে থাকবেন কমিশনের সক্রিয়তার দিকে। একদিক থেকে কমিশনের কাছে এও এক পরীক্ষা। ভোটদাতা সাধারণের বিচারে এই পরীক্ষায় কমিশন কতটা উত্তীর্ণ হয় সেটাও দেখার। লক্ষণীয়, ভোট গণনা অব্দি ইভিএমের সুরক্ষা নিয়ে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ইতিমধ্যেই অনেকবার সংশয় প্রকাশ করেছেন। তাঁর সন্দেহ, ভোটের পর স্ট্রংরুমে রাখা ইভিএমে কারচুপি হতে পারে। এই সংশয় নিঃসন্দেহে কমিশনের কর্তাদের চাপ কিছুটা হলেও বাড়াচ্ছে। এরপর নিশ্চয়ই রাজ্যের বিভিন্ন স্ট্রংরুমে রাখা ইভিএমগুলোর জন্য নিরাপত্তা বেষ্টনী আরও কঠিন জোরালো হবে।
সে না হয় হল। কিন্তু আসল প্রশ্ন—আজ কলকাতা মহানগরী থেকে বারাসত বসিরহাট মথুরাপুরের মতো মফস্‌সল কি গ্রামবাংলায় ভোটযুদ্ধের হাল কী দাঁড়াবে? যুদ্ধটা রাজনৈতিক আবেগ উত্তেজনার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে, নাকি সংঘাত সংঘর্ষের চূড়ান্ত অপ্রীতিকর রক্তক্ষয়ী পথ ধরবে? খুব নিশ্চিত করে শনিবার অব্দি কেউই বলতে পারেননি। তবে, মমতা প্রশাসন ও কমিশনের ওপর মানুষ এখনও যথেষ্ট আস্থাশীল। তাঁদের বিশ্বাস, এই দুইয়ের যৌথ উদ্যোগে বিগত ছয় দফার মতো আজও শান্তিতেই শেষ
হবে এবারের লোকসভা মহারণের অন্তিম দফা। উত্তেজনার ইন্ধন জোগানো নেতানেত্রী বা গণ্ডগোল পাকানোর ‘বহিরাগত’ পাণ্ডারা বিশেষ সুবিধে করতে পারবে না। এরমধ্যেই সংশ্লিষ্ট এলাকাগুলোতে পুলিস বহিরাগতদের বিরুদ্ধে যা ব্যবস্থা নিতে শুরু করেছে, বেহিসেবি কাঁচা টাকা ধরতে যে সক্রিয়তা দেখিয়েছে তাতে মানুষের ওই বিশ্বাস আরও জোরদার হয়েছে। শান্তি ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রেখে মানুষ যাতে আজকের ভোটের উৎসবে শামিল হতে পারেন
তার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা করতে মমতা প্রশাসনও কোথাও কোনও খামতি রাখেনি—খবর তেমনি। এরপর ভোটদেবতার মর্জি। দিনের শেষে তাঁর
প্রসন্ন আশীর্বাদ কতটুকু মিলল, ভোটযুদ্ধের
ময়দানে শেষপর্যন্ত কতটা বজায় থাকল শান্তির বাতাবরণ, চ্যালেঞ্জের মোকাবিলায় কতটা সাফল্য পেল কমিশন—সব বলবে সময়। আমরা
অপেক্ষায় রইলাম। 
19th  May, 2019
নিস্তেজ অর্থনীতির সত্যটা সরকার ভুলে যাচ্ছে 
পি চিদম্বরম

রাষ্ট্রপতি ভবন হল সরকারের ক্ষমতার আসনের প্রতীক। এক কিলো মিটার ব্যাসার্ধের মধ্যে সংসদ ভবন, প্রধানমন্ত্রীর অফিস (পিএমও), নর্থ ব্লক ও সাউথ ব্লক—মানে স্বরাষ্ট্র, অর্থ, প্রতিরক্ষা ও বিদেশ-এর মতো উচ্চ মন্ত্রকগুলি রয়েছে।   বিশদ

সভাপতি পদে সোনিয়াজির প্রত্যাবর্তনে কংগ্রেস কি ছন্দ ফিরে পাবে
শুভা দত্ত

ছন্দ তো হারিয়েছে বহুদিন। ছন্দে ফেরার চেষ্টা—সেও শুরু হয়েছে বহুদিন। কিন্তু কিছুতেই যেন সেই পুরনো দমদার ছন্দে ফিরতে পারছে না জাতীয় কংগ্রেস! নেহরু-ইন্দিরার আমল থেকে গান্ধী পরিবারের ছত্রচ্ছায়ায় এবং নেতৃত্বে দলের যে অপ্রতিরোধ্য ছন্দ গোটা দেশকে কংগ্রেসি তেরঙ্গায় বেঁধে রেখেছিল, যে ছন্দ কংগ্রেস প্রতীক ইন্দিরার পাঞ্জার উপর বছরের পর বছর দেশের মানুষের আস্থা বিশ্বাস ও আবেগ ধরে রেখেছিল, জরুরি অবস্থা, নাসবন্দির মতো কাণ্ডের পরও যে ছন্দ ক্ষমতার কেন্দ্রে ফিরিয়ে এনেছিল কংগ্রেসকে, ইন্দিরা এবং ইন্ডিয়া হয়ে উঠেছিলেন সমার্থক—জাতীয় কংগ্রেসের সেই অমিত শক্তি রাজনৈতিক ছন্দ অনেক কাল আগেই ইতিহাসের পাতায় ঠাঁই নিয়েছে।
বিশদ

18th  August, 2019
ওয়াল স্ট্রিটের ‘নেকড়ে’-র গল্প!
মৃণালকান্তি দাস

ওয়াশিংটনের অপরিচিত কোনও এক পথে হাঁটতে হাঁটতে গল্পটা শুনিয়েছিলেন এমিলি ব্রাউন। গল্প বলতে, এক অপরাধীর ঘুরে দাঁড়ানোর কাহিনী। জর্ডন বেলফোর্টের গল্প। যিনি জীবনে অপরাধের নেশায় পড়ে সবকিছু হারিয়েছিলেন। কে এই জর্ডন বেলফোর্ট, জানেন? যাঁর জীবন কাহিনী শুনলে মনে হবে, এ এই মার্কিন মুলুকেই সম্ভব! বিশদ

17th  August, 2019
স্বাধীনতা ৭৩ এবং ভূস্বর্গের মুক্তি
মেরুনীল দাশগুপ্ত

গরিবি যতদিন না যাবে ততদিন এই উপত্যকায় শান্তি আসবে না। কারণ, কাশ্মীরি মানুষের গরিবিই ওদের একটা বড় হাতিয়ার। গরিব মানুষজনের অনেকেই ক’টা টাকার লোভে পড়ে সীমান্তর ওপার থেকে আসা লোকজনকে আশ্রয় দিয়ে, লুকিয়ে রেখে, খাবারদাবারের ব্যবস্থা করে ভ্যালির বিপদ বাড়িয়ে তুলছে।
বিশদ

15th  August, 2019
বনে থাকে বাঘ 
অতনু বিশ্বাস

ছেলেবেলায় ‘সহজ পাঠ’-এ পড়েছিলাম ‘বনে থাকে বাঘ’। যদিও এই পাঠটা যে খুব সহজ আর স্বাভাবিক নাও হতে পারে, অর্থাৎ বনে বাঘ নাও থাকতে পারে, সেটা বুঝতে বেশ বড় হতে হল। ছোটবেলায় অবশ্য মনে বদ্ধমূল ধারণা ছিল, বন-জঙ্গল গিজগিজ করে বাঘে। 
বিশদ

13th  August, 2019
রক্ষক আইন যেন ভক্ষক না হয়
শান্তনু দত্তগুপ্ত 

ভিক্টরি ম্যানসনে ঢুকলেন উইনস্টন স্মিথ। বহুতলে ঢুকেই নজরে আসবে দো’তলা সমান আখাম্বা ছবিটা। শুধু একটা মুখ। নীচে ক্যাপশন করা, বিগ ব্রাদার কিন্তু তোমাকে দেখছে। জর্জ অরওয়েলের কালজয়ী উপন্যাস ১৯৮৪-এর শুরুতেই উল্লেখ এই ছবির। আর এই নভেলের সারমর্মও লুকিয়ে এই ছবিতে—বিগ ব্রাদার দেখছে, তাই সাবধান। সাবধান হও সবাই... সরকারি কর্মচারী, ব্যবসায়ী, সাফাইকর্মী, বেসরকারি চাকুরে... মোদ্দা কথা নারী-পুরুষ নির্বিশেষে। সবসময় নজরদারি।  
বিশদ

13th  August, 2019
পুতিন কি পারবেন নতুন বিশ্বের নেতৃত্ব দিতে?
গৌরীশঙ্কর নাগ

 ১৯১৭ খ্রিস্টব্দে বা তার কিছু আগে থেকে লেনিন, ট্রটস্কি প্রমুখ নিবেদিত প্রাণ কমরেডের হাত ধরে সোভিয়েত সমাজতন্ত্র নামক যে মহীরুহটি ধীরে ধীরে গড়ে উঠেছিল তা গর্বাচেভ ক্ষমতাসীন হওয়ার পর কীভাবে তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়েছে—বিস্ময়ের সঙ্গে আমরা সেটা দেখেছি।
বিশদ

12th  August, 2019
স্টেট নয়, শুধুই রিয়াল এস্টেট
পি চিদম্বরম

 জম্মু ও কাশ্মীর নিয়ে প্রায়ই লিখি কিন্তু আজকেরটা অন্যরকম। জম্মু ও কাশ্মীর আর আগের জম্মু ও কাশ্মীর নেই। এটা আর রাজ্য নয়। এটাকে বিভক্ত করা হয়েছে। এখন দুটি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল—লাদাখ এবং জম্মু ও কাশ্মীর। ভারতের সংবিধানে কোনও রাজ্যকে কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের স্তরে নামিয়ে আনার ঘটনা এর আগে ঘটেনি।
বিশদ

12th  August, 2019
রাহুল সরে দাঁড়াতেই কংগ্রেস এমন নেতৃত্বহীনতায় ভুগছে কেন?
শুভা দত্ত

 প্রশ্নটা আজ দেশের সর্বস্তরে। পথে-ঘাটে অফিসে আড্ডায় যেখানেই চলতি রাজনীতি নিয়ে তর্ক-বিতর্কের উদয় হচ্ছে সেখানেই প্রশ্নটা যেন অনিবার্যভাবে এসে পড়ছে! কংগ্রেসের হলটা কী! রাহুল গান্ধী না বলে দিতেই আর সভাপতি খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না কংগ্রেসে! গান্ধী ফ্যামিলি ছাড়া কংগ্রেস সভাপতি খুঁজে পাচ্ছে না— এ তো বড় অদ্ভুত ব্যাপার! কংগ্রেসের জন্মের পর থেকে গান্ধী ফ্যামিলির বাইরের দেশ রাজনীতির কত দিকপালই তো জাতীয় কংগ্রেসের সভাপতির আসন অলঙ্কৃত করেছেন—উমেশচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়, দাদাভাই নৌরজি, সুরেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়, সুভাষচন্দ্র, অ্যানি বেসান্ত, চিত্তরঞ্জন, সরোজিনী নাইডু, বল্লভভাই প্যাটেল, কামরাজ, জগজীবন রাম—কত নাম বলব। নিশ্চয়ই এই তালিকায় নেহরু থেকে ইন্দিরা, রাজীব, সোনিয়া হয়ে রাহুল—গান্ধী পরিবারের সদস্যরাও ছিলেন।
বিশদ

11th  August, 2019
শুধু উন্নয়ন নয়, ভোটের জন্য চাই ভালো মাস্টার
তন্ময় মল্লিক

মোটা বেতন দিয়ে মাস্টার রাখলেই ছেলেমেয়ে মানুষ হয় না। তেমনটা হলে সব বড়লোকের ছেলেমেয়েই উচ্চশিক্ষিত হতো। কিন্তু, তা তো হয় না। ছাত্রছাত্রীর পড়াশোনায় আগ্রহ, মেধা যেমন থাকা দরকার, তেমনই নজরদারিটাও জরুরি। ফাঁকিবাজি থাকলেই ছাত্র হয় গাড্ডু খাবে, অথবা ‘বিবেচনায়’ পাশ।
বিশদ

10th  August, 2019
পঞ্চায়েত নির্বাচন, ৩৭০ কিংবা ৩৫এ
শুভময় মৈত্র

পশ্চিমবঙ্গ ২০১৮, আর ত্রিপুরা ২০১৯। পঞ্চায়েত ভোটে ফলাফল একইরকম। ঠিক কত আসন সেটা গোনার দরকার নেই। সহজ অঙ্কে বিষয়টা এরকম। ধরা যাক, মোট আসন ১০০, শাসক দল বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়ী ৭০টি আসনে। বাকি তিরিশের মধ্যে তীব্র লড়াইয়ের শেষে শাসক দল ২০, বিরোধীরা দশ। পাটিগণিতের অঙ্ক একেবারে মিলে গেল।
বিশদ

10th  August, 2019
কাশ্মীর: নতুন চ্যালেঞ্জ
সমৃদ্ধ দত্ত

 প্রকৃত চ্যালেঞ্জ সরকারের। কাশ্মীরকে আন্তরিকভাবে ভারতের অন্তঃস্থলে মিশিয়ে দেওয়ার কাজটিই কিন্তু হবে কাশ্মীরের নয়া ইতিহাস রচনা। সেটা নিছক একটা ভূমিখণ্ড দখল নয়। কাশ্মীরিয়াৎকে আপন করে নেওয়া। একমাত্র তাহলেই পাকিস্তান সবথেকে বেশি ধাক্কা খাবে! আর কাশ্মীরিদের আমরা যদি শত্রু বিবেচনা করে চলি, তাহলে কিন্তু টেনিসের পরিভাষায় অ্যাডভান্টেজ পাকিস্তান হয়ে যাবে! সে সুযোগ দেব কেন?
বিশদ

09th  August, 2019
একনজরে
 লে, ১৮ আগস্ট (পিটিআই): জম্মু ও কাশ্মীর থেকে ৩৭০ ধারা প্রত্যাহার করে কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে লাদাখকে। এবার লাদাখকে সংবিধানের ষষ্ঠ তফসিলি হিসেবে ঘোষণার দাবি জানালেন সেখানকার বিশিষ্ট নেতারা। লাদাখবাসীর জমির সুরক্ষা ও পরিচিতির কথা মাথায় রেখে কেন্দ্রের ...

 নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: বিকেন্দ্রীকৃত কাউন্সেলিংয়ের দ্বিতীয় দিনেই ভরে গেল যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের সব আসন। যদিও আর্কিটেকচার এবং ফার্মাসিতে হাতে গোনা কয়েকটি আসনই খালি রয়ে গিয়েছে। অনলাইন কাউন্সেলিংয়ের পর মোট ২৬১টি আসন ফাঁকা ছিল। ...

গোপাল মিস্ত্রি, শিলিগুড়ি, বিএনএ: এরাজ্যের অন্যতম ভিআইপি ট্রেন দার্জিলিং মেলের যাত্রাপথ শিলিগুড়ি জংশন পর্যন্ত সম্প্রসারণে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে জবরদখল। রেলকর্তৃপক্ষের বক্তব্য, অনেক আগেই এনজেপির পরিবর্তে ...

 লে, ১৮ আগস্ট (পিটিআই): ৩৭০ ধারা খারিজ নিয়ে সংসদে তাঁর ভাষণ নজর কেড়েছিল। এমনকী সোনিয়া গান্ধীকে পর্যন্ত মন দিয়ে শুনতে দেখা গিয়েছিল প্রথমবারের এই বিজেপি সাংসদের ভাষণ। তিনি লাদাখ থেকে নির্বাচিত এমপি জামিয়াং সেরিং নামগিয়াল। ...




আজকের দিনটি কিংবদন্তি গৌতম
৯১৬৩৪৯২৬২৫ / ৯৮৩০৭৬৩৮৭৩

ভাগ্য+চেষ্টা= ফল
  • aries
  • taurus
  • gemini
  • cancer
  • leo
  • virgo
  • libra
  • scorpio
  • sagittorius
  • capricorn
  • aquarius
  • pisces
aries

শরীর নিয়ে চিন্তায় থাকতে হবে। মাথা ও কোমরে সমস্যা হতে পারে। উপার্জন ভাগ্য শুভ নয়। ... বিশদ


ইতিহাসে আজকের দিন

বিশ্ব মনুষ্যত্ব দিবস
১৯৪০: পরিচালক গোবিন্দ নিহালনির জন্ম
১৯৯৩: অভিনেতা উৎপল দত্তের মৃত্যু

ক্রয়মূল্য বিক্রয়মূল্য
ডলার ৭০.৫৯ টাকা ৭২.২৯ টাকা
পাউন্ড ৮৪.৮১ টাকা ৮৭.৯৪ টাকা
ইউরো ৭৭.৮৩ টাকা ৮০.৭৮ টাকা
[ স্টেট ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়া থেকে পাওয়া দর ]
17th  August, 2019
পাকা সোনা (১০ গ্রাম) ৩৮,২৪৫ টাকা
গহনা সোনা (১০ (গ্রাম) ৩৬,২৮৫ টাকা
হলমার্ক গহনা (২২ ক্যারেট ১০ গ্রাম) ৩৬,৮৩০ টাকা
রূপার বাট (প্রতি কেজি) ৪৩,৯০০ টাকা
রূপা খুচরো (প্রতি কেজি) ৪৪,০০০ টাকা
[ মূল্যযুক্ত ৩% জি. এস. টি আলাদা ]
18th  August, 2019

দিন পঞ্জিকা

২ ভাদ্র ১৪২৬, ১৯ আগস্ট ২০১৯, সোমবার, চতুর্থী ৫৫/৩০ রাত্রি ৩/৩০। উত্তরভাদ্রপদ ৩৬/১৫ রাত্রি ৭/৪৮। সূ উ ৫/১৮/২২, অ ৬/২/২৪, অমৃতযোগ দিবা ৬/৫৯ মধ্যে পুনঃ ১০/২৪ গতে ১২/৫৭ মধ্যে। রাত্রি ৬/৪৮ গতে ৯/২ মধ্যে পুনঃ ১১/১৭ গতে ২/১৮ মধ্যে, বারবেলা ৬/৫৪ গতে ৮/২৯ মধ্যে পুনঃ ২/৫১ গতে ৪/৪৬ মধ্যে, কালরাত্রি ১০/১৫ গতে ১১/৪০ মধ্যে। 
১ ভাদ্র ১৪২৬, ১৯ আগস্ট ২০১৯, সোমবার, চতুর্থী ৪৭/৩৯/৪৭ রাত্রি ১২/২১/২৫। উত্তরভাদ্রপদনক্ষত্র ৩২/১৮/৫৫ সন্ধ্যা ৬/১৩/৪, সূ উ ৫/১৭/৩০, অ ৬/৫/১৪, অমৃতযোগ দিবা ৭/২ মধ্যে ও ১০/২১ গতে ১২/৫০ মধ্যে এবং রাত্রি ৬/৩৫ গতে ৮/৫৪ মধ্যে ও ১১/১২ গতে ২/১৭ মধ্যে, বারবেলা ২/৫৩/১৮ গতে ৪/২৯/১৬ মধ্যে, কালবেলা ৬/৫৩/২৮ গতে ৮/২৯/২৬ মধ্যে, কালরাত্রি ১০/১৭/২০ গতে ১১/৪১/২২ মধ্যে। 
১৭ জেলহজ্জ 

ছবি সংবাদ

এই মুহূর্তে
২ দিনের সফরে দীঘায় পৌঁছলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় 

03:55:11 PM

নেতাজি মৃত্যু নিয়ে ট্যুইট প্রত্যাহার পিআইবির 

03:27:00 PM

নিউ মার্কেট এলাকায় বাড়ির একাংশ ভেঙে জখম ১ 

03:09:00 PM

রাজ্য নেতাদের বিরুদ্ধে মুখ খোলায় মালদহের প্রাক্তন জেলা সভাপতি সঞ্জিৎ মিশ্রকে বহিষ্কার করল বিজেপি 

02:02:28 PM

কোহলিদের খুনের হুমকি দিয়ে পাক বোর্ডে উড়ো মেল 
ভারতীয় ক্রিকেট দলের উপর হামলা হতে পারে এই মর্মে পাকিস্তান ...বিশদ

01:44:02 PM

বেলুড় স্টেশনে তরুণীকে ধারালো অস্ত্রের কোপ 
সাত সকালে বেলুড় স্টেশনে এক তরুণীকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত ...বিশদ

01:09:06 PM