Bartaman Patrika
বিশেষ নিবন্ধ
 

ভোটফল ২০১৯: ভালো মন্দ যা-ই ঘটুক উৎসবের মেজাজটি যেন বজায় থাকে
মেরুনীল দাশগুপ্ত

আজ সেই বহু প্রতীক্ষিত বৃহস্পতিবার, ২৩ মে। জল্পনা-কল্পনা, আন্দাজ-অনুমানের যাবতীয় কুহেলিকা সরিয়ে আজ প্রকাশ পাবে ২০১৯ লোকসভার চূড়ান্ত চিত্র। দেশজনতা আগামী পাঁচ বছরের জন্য কার হাতে পৃথিবীর বৃহত্তম গণতন্ত্র এই ভারতের শাসনভার তুলে দিলেন— জানা যাবে আজ। আংশিকভাবে হলেও ভিভি প্যাট গণনার জন্য নতুন লোকসভার পূর্ণাঙ্গ চিত্র পেতে হয়তো গড়িয়ে যাবে বৃহস্পতিবার রাত, হয়তো জয়ের আনন্দ পুরোমাত্রায় উদ্‌যাপনের জন্য অপেক্ষা করতে হবে শুক্রবারের সকাল অবধি—কিন্তু তাতে দেশ জুড়ে আবেগ-উত্তেজনা, উদ্বেগ-উন্মাদনার বিস্ফোরণে কোনও খামতি থাকবে বলে মনে হয় না। কারণ, আমাদের দেশে ভোটফলের প্রত্যাশায় মুখর উন্মুখ দিনগুলিতে শহর-গ্রাম, নগর-মহানগরের সামগ্রিক পরিবেশ পরিস্থিতিটা চিরকাল এমনই থাকে—আনন্দ-বিষাদের আলোছায়া মাখা একটা উৎসবের আমেজ, তর্ক-বিতর্কে উচ্ছল একটা প্রাণখোলা হাসি উল্লাসের আবহে টলোমলো। এই আবহ ধীর লয়ের ব্যালট গণনার দিনেও ছিল, আজ চটজলদি ইভিএমের দিনেও তার ব্যতিক্রম খুব একটা হয়নি। বলতে কি, ভোটফলের দিনে স্বাধীনতার পর থেকে এমন দৃশ্যই দেখে এসেছে আসমুদ্রহিমাচল এই ভারতবর্ষ, আজও দেখছে।
অবশ্য তফাৎ যে একেবারেই হয়নি এমন বলছি না। হয়েছে, নিশ্চয়ই হয়েছে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সবকিছু বদলায়, তো ভোটফলের দিনের পরিবেশ বদলাবে না—তাই কখনও হয়! স্বাধীনতার পর যত দিন গিয়েছে, রাজনৈতিক দলগুলির প্রতিদ্বন্দ্বিতার আবহে রেষারেষির উগ্রতা অসহিষ্ণুতা যত বেড়েছে ততই যে তার নেতিবাচক প্রভাবে ভোট উৎসবের আবহে লেগেছে হিংসা-দ্বেষ, সংশয়-বিস্ময়, আশঙ্কা-উদ্বেগের ছোঁয়া, তাতে সন্দেহ কী! ভোটের দিন ফলাফল প্রকাশের সময় ততটা না হলেও তারপর বহুক্ষেত্রেই দেখা যাচ্ছে প্রতিহিংসা চরিতার্থ করতে হিংসার বাতাবরণে ঢেকে যাচ্ছে অনেক এলাকা— আর তার জেরে ‘ভোট পরবর্তী সন্ত্রাস’ বলে একটা কথা এখন দৈনন্দিন রাজনীতি থেকে সাধারণের মহল, মিডিয়া সর্বত্রই চালু হয়ে গেছে। তবে, তার আঁচ এখনও সব জায়গা সবকিছুকে গ্রাস করতে পারেনি—এই রক্ষে! সাধারণভাবে আমজনতাই বলুন, কি রাজনৈতিক শিবিরের সহিষ্ণু নেতাকর্মী—সকলেই এখনও ভোটফলের দিনটাকে আবেগ উত্তেজনায় ঠাসা একটা রাজনৈতিক উৎসবের দিন হিসেবেই দেখতে চান, দেখেনও। তার মধ্যে কাঁকিনাড়া, ভাটপাড়ার চূড়ান্ত অপ্রীতিকর ঘটনা নিঃসন্দেহে ব্যতিক্রম—অন্তত আমরা তো তাই বলতে চাই। বলতে চাই এই কারণেই যে, এখনও বাংলার রাজনীতি-সচেতন মানুষ প্রতিদিনের জীবনে শান্তি সংহতিকেই অগ্রাধিকার দেন, ভোটের সময় বা ভোটফলের দিনে অনিবার্য বাড়তি উত্তাপ-উত্তেজনা সত্ত্বেও প্রত্যাশা করেন শান্তি আমন সৌহার্দ সম্প্রীতি। এবারও তার ব্যতিক্রম হচ্ছে এমন কিছুতেই বলা যাবে না। মঙ্গলবার রাতেও মহানগরীর পথে সাধারণজনের মুখে শুনেছি—ভোটফলে যাই হোক, ভালো মন্দ যা-ই ঘটুক ভাই, উৎসবের মেজাজটি যেন বজায় থাকে গোটা বাংলায়। এবং আমি বলছি, এই প্রত্যাশা কেবল সাধারণ মানুষের নয়, এ রাজ্যের শাসক-বিরোধী উভয় দলের অনেক নেতাকর্মী সমর্থকেরও। তার প্রমাণও মিলছে।
বঙ্গবাসীর এই প্রত্যাশা শেষ অবধি কতটা পূরণ হবে জানি না। তবে অশান্তির ইন্ধন ছড়ানোর একটা চেষ্টা যে কিছু এলাকায় চলছে তার খবর বাতাসে ভালোমতোই উড়ছে। সোশ্যাল মিডিয়াতেও নানান বিপজ্জনক উস্কানি উড়ে বেড়াচ্ছে। অবশ্য, আমাদের বিশ্বাস নির্বাচন কমিশন কেন্দ্রীয় বাহিনী এবং মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পুলিস প্রশাসনের যৌথ সক্রিয়তা ও কঠোর নজরদারিতে ওই অশুভ শক্তি আজকের ভোট উৎসবে বিশেষ বিঘ্ন ঘটাতে পারবে না। তবে সাবধানের মার নেই যেমন সত্যি, তেমনি মারেরও কি সাবধান আছে? বাংলার সাধারণ গেরস্ত ঘরের চিন্তাটা সেখানেই। কারণ, সকলেই বলছেন, এবারের ভোটটার রকমসকম বড় আলাদা। বড় কড়া তারে বাঁধা। দেশের ক্ষেত্রে তো বটেই, বাংলার ক্ষেত্রেও এবারের ভোটের সুর চলনবলন মোদি-মমতার ধারালো তরজায় নজিরবিহীনভাবে চড়া, মারমুখী। বাংলার ভোটের সেই চড়া সুরকে আরও চড়িয়ে দিয়েছে ভোট শেষের জনসমীক্ষার ফলগুলি। সব সমীক্ষার এক রা—মোদিজি ফিরছেন। টেনেটুনেই হোক, কি আরামসে দ্বিতীয়বারের জন্য দেশের প্রধানমন্ত্রীর কুর্সিতে বসতে চলেছেন নরেন্দ্র দামোদরদাস মোদি। সেই সঙ্গে আর একটা ব্যাপারেও একমত সব পোল—বাংলাতেও বাড়ছেন মোদিজি। লক্ষণীয়ভাবে বাড়ছেন। অর্থাৎ বিজেপি’র আসনগত বলবৃদ্ধি ঘটতে যাচ্ছে।
স্বাভাবিকভাবেই এই জনসমীক্ষার ফলগুলি জাতীয় রাজনীতির বিরোধী শিবিরগুলিতে যেমন, তেমনি বাংলার শাসক তৃণমূল শিবিরেও রীতিমতো উত্তেজনার সঞ্চার করেছে। কার জন্য, কী জন্য, কার দোষে এমন সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে তা নিয়ে কাটাছেঁড়াও শুরু হয়ে গেছে বিস্তর! সমীক্ষাগুলো যে নিতান্তই সম্ভাবনার কথা বলেছে এবং অতীতে বহুক্ষেত্রেই যে এই সম্ভাবনা বাস্তবের সঙ্গে মেলেনি— সেই সত্যটি অনেকেই যেন বিস্মৃত হয়েছেন! অথচ, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় থেকে মোদি-বিরোধী জাতীয় শিবিরের অনেক নেতাই ফুৎকারে ওই সম্ভাবনা উড়িয়ে দিয়ে বলছেন, ওগুলো সব বানানো। জোটবদ্ধ বিরোধীদের মনোবল ভেঙে দেওয়ার কৌশল। এবং সেজন্যই সোনিয়া গান্ধী কংগ্রেস নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করছেন, কেসিআরের মতো খানিকটা বিগড়ে যাওয়া নেতাদের বাগে আনার চেষ্টা করছেন কেউ কেউ আর তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে মধ্যমণি করে দিল্লিতে বৈঠক করে জোটের একতাবদ্ধতা জোরালো করায় জোর দিয়েছেন এমনকী রাহুল গান্ধীও! অন্যদিকে, অবশ্য ওইসব সমীক্ষার ফলকে ধ্রুব এবং বাস্তব ধরে নিয়ে মঙ্গলবারই বিজেপি শিবির কার্যত একদফা বিজয়োৎসব করে নিল। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে সংবর্ধনা দিলেন দলের শীর্ষ নেতৃত্ব, আবার প্রধানমন্ত্রী তাঁর দলের মন্ত্রীদের সংবর্ধনা দিলেন, এনডিএ শরিক নীতীশ কুমার, রামবিলাস বা উদ্ধব ঠাকরেও সে সংবর্ধনা থেকে বাদ গেলেন না। শুধু তাই নয়, বৈঠক করে আগামী পাঁচ বছরের কর্মসূচিও ঘোষণা করে দিলেন মোদিজি। তাঁর প্রতিনিধি হিসেবে রাজনাথ সিং তথ্য পরিসংখ্যান ও বিপুল অর্থ ব্যয়ের আগাম তালিকা পেশ করে জানিয়ে দিলেন, এবার অসম্ভবও সম্ভব হবে! দেশে প্রগতির গতি আরও বাড়বে।
মঙ্গলবার মোদি শিবিরের নেতামন্ত্রীদের হাবভাবে স্পষ্ট তাঁরা ধরেই নিয়েছেন—ফিরছেন। এখন এই দাবি কতটা শেষপর্যন্ত বাস্তবের সঙ্গে মিলবে তা বোঝা যাবে আজ। এই পশ্চিমবঙ্গেই বা বিজেপি ঠিক কতটা এগল ৮ থেকে ২৩-এর স্কেলে কোথায় গিয়ে দাঁড়াল তাও চূড়ান্ত হয়ে যাবে আজ। কিন্তু, কথা হল—এই শেষ বেলার মমতাকে সামনে রেখে কংগ্রেস সমেত বিরোধীরা যে তৎপরতা দেখাচ্ছেন তা শুরু থেকে দেখালে কি আজ পদ্মশিবির এমন হালকা মেজাজে আগাম জয়োৎসব মানাতে পারত? কে জিতত কে হারত সে প্রসঙ্গে যাচ্ছি না কিন্তু ছিন্নবিচ্ছিন্নভাবে লড়া বিরোধীরা যদি একজোট হয়ে (আজ যেমন ২২ দলে এককাট্টা হয়ে কমিশনে নালিশ জানাতে যাচ্ছেন) মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বা রাহুল গান্ধীকে সামনে রেখে ভোট মহাযুদ্ধে নামতেন তবে কি পরিস্থিতি মোদি শিবিরের কাছে এমন অনুকূল মনে হতো? তখনও হয়তো সমীক্ষার যাবতীয় বিচারে মোদিজি এগিয়ে থাকতেন কিন্তু তাঁর শিবির এত নিশ্চিন্ত থাকতে পারত কি না তা নিয়ে অন্তত আমার যথেষ্ট সংশয় আছে। তার কারণ, একদিকে যখন মোদি-অমিত শাহের মতো দুই জবরদস্ত সেনাপতি, জোটবদ্ধ এনডিএ সেনা তখন জনতার সামনে লড়াইয়ের ময়দানে ছিল সেনাপতিহীন টুকরো টুকরো একটা সেনাপতি মুখহীন বিরোধী বাহিনী, একটা ‘ফেসলেস অপোজিশন’। দেশের মানুষ তো চরণ সিং (১৭০ দিন) চন্দ্রশেখর (২২৩ দিন) ভিপি সিং (৩৪৩ দিন) মোরারজি দেশাইয়ের (২ বছর ১২৬ দিন) মতো নেতাদের প্রধানমন্ত্রিত্ব দেখেছেন, অভিজ্ঞতায় হাড়ে হাড়ে বুঝেছেন, কেন্দ্রে স্থিতিশীল সরকার না থাকলে কী হয়? দুর্বল বিবদমান দল ক্ষমতায় গেলে কী হয়?
অথচ, আজ মোদি-বিরোধী শিবিরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতো এমন ক্যারিশমাওয়ালা জননেত্রী ছিলেন, রাহুল গান্ধীর মতো তরুণতুর্কি ছিলেন। তবে, রাহুলের থেকে অনেকেই বলছেন অনেক বেশি কার্যকরী হতেন মমতা, তাঁর একরোখা লড়াকু ইমেজ, হার না মানা উন্নয়নকামী ভাবমূর্তি দেশের মানুষের কাছে অনেক বেশি মান্যতা পেত। শুধু তাই নয়, গুজরাত উন্নয়নের ‘মিথ’ যদি মোদিজিকে অমন অবলীলায় অমন অকাতর জনসমর্থনে ভাসিয়ে দেশের প্রধানমন্ত্রীর কুর্সিতক পৌঁছে দিতে পারে, তবে আঞ্চলিক থেকে আন্তর্জাতিক স্তরে বাংলার উন্নয়নের সাফল্যখচিত উজ্জ্বল বিজ্ঞাপনগুলি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কেও অনেকের চেয়ে অনেক এগিয়ে দিত না—কে বলতে পারে? কিন্তু, মহামতি বিরোধীরা সে সুযোগের সদ্ব্যবহার দূরে থাক সম্ভাবনাটা মূলেই খারিজ করে দিয়েছিলেন। ভোটফল বেরলে সেনাপতি (পড়ুন প্রধানমন্ত্রী) ঠিক করার আশ্চর্য প্রস্তাব শুনে সেদিন যাঁরা কংগ্রেস সভাপতি রাহুলের রাজনৈতিক উদারতার উদ্বাহু প্রশংসায় আকুল হয়েছিলেন আজ ফল প্রকাশের পর তাঁদের হাত কামড়াতে দেখলে অবাক হবেন ক’জন? তবে, বাংলায় কিন্তু লড়াইটা হয়েছে মুখের সঙ্গে মুখের, মোদি-মমতার। মিডিয়া কাগজে লোকমুখে তাই বিজেপি তৃণমূল নয় প্রাধান্য পেয়েছেন—মোদি-মমতা। ফলাফল যা-ই হোক, এখানে অন্তত মোদি-বিরোধী শিবিরে একজন সেনাপতি ছিলেন এবং তিনি বুক চিতিয়ে লড়েছেন শুরু থেকে শেষ অবধি। এটা মানতেই হবে।
তবে সে যা-ই হোক, এখন সব ভুলে প্রসঙ্গ এক ও অভিন্ন—ভোটফল ২০১৯। ভোটফলের জন্য দেশ জুড়ে প্রহর গণনা শুরু হয়ে গেছে। দশদিক জুড়ে উত্তেজনার পারদ চড়ছে। তার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে প্রকৃতিও যেন বাড়িয়ে চলেছে তার আগুনে তাপ! এ রাজ্যও তার ব্যতিক্রম নয়। বরং, মমতার ঘাসফুলের একাধিপত্যের এই পশ্চিমবাংলায় পদ্ম কতটা পাপড়ি মেলতে পারে তা দেখার জন্য বাড়তি রোমাঞ্চ এখন সর্বব্যাপ্ত। টানটান উত্তেজনা। এমন পরিস্থিতিতে ঘুরে-ফিরে আমাদের প্রত্যাশা সেই একটাই—শান্তি। ভোটের উৎসব যেন শান্তিতে শেষ হয়। ভালো মন্দ যা-ই ঘটুক উৎসবের মেজাজটি যেন বজায় থাকে। কাঁকিনাড়া, ভাটপাড়া যেন একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা হয়েই থাকে। তার আঁচ যেন আর
কোথাও না ছড়ায়। তাই না?
23rd  May, 2019
নিস্তেজ অর্থনীতির সত্যটা সরকার ভুলে যাচ্ছে 
পি চিদম্বরম

রাষ্ট্রপতি ভবন হল সরকারের ক্ষমতার আসনের প্রতীক। এক কিলো মিটার ব্যাসার্ধের মধ্যে সংসদ ভবন, প্রধানমন্ত্রীর অফিস (পিএমও), নর্থ ব্লক ও সাউথ ব্লক—মানে স্বরাষ্ট্র, অর্থ, প্রতিরক্ষা ও বিদেশ-এর মতো উচ্চ মন্ত্রকগুলি রয়েছে।   বিশদ

সভাপতি পদে সোনিয়াজির প্রত্যাবর্তনে কংগ্রেস কি ছন্দ ফিরে পাবে
শুভা দত্ত

ছন্দ তো হারিয়েছে বহুদিন। ছন্দে ফেরার চেষ্টা—সেও শুরু হয়েছে বহুদিন। কিন্তু কিছুতেই যেন সেই পুরনো দমদার ছন্দে ফিরতে পারছে না জাতীয় কংগ্রেস! নেহরু-ইন্দিরার আমল থেকে গান্ধী পরিবারের ছত্রচ্ছায়ায় এবং নেতৃত্বে দলের যে অপ্রতিরোধ্য ছন্দ গোটা দেশকে কংগ্রেসি তেরঙ্গায় বেঁধে রেখেছিল, যে ছন্দ কংগ্রেস প্রতীক ইন্দিরার পাঞ্জার উপর বছরের পর বছর দেশের মানুষের আস্থা বিশ্বাস ও আবেগ ধরে রেখেছিল, জরুরি অবস্থা, নাসবন্দির মতো কাণ্ডের পরও যে ছন্দ ক্ষমতার কেন্দ্রে ফিরিয়ে এনেছিল কংগ্রেসকে, ইন্দিরা এবং ইন্ডিয়া হয়ে উঠেছিলেন সমার্থক—জাতীয় কংগ্রেসের সেই অমিত শক্তি রাজনৈতিক ছন্দ অনেক কাল আগেই ইতিহাসের পাতায় ঠাঁই নিয়েছে।
বিশদ

18th  August, 2019
ওয়াল স্ট্রিটের ‘নেকড়ে’-র গল্প!
মৃণালকান্তি দাস

ওয়াশিংটনের অপরিচিত কোনও এক পথে হাঁটতে হাঁটতে গল্পটা শুনিয়েছিলেন এমিলি ব্রাউন। গল্প বলতে, এক অপরাধীর ঘুরে দাঁড়ানোর কাহিনী। জর্ডন বেলফোর্টের গল্প। যিনি জীবনে অপরাধের নেশায় পড়ে সবকিছু হারিয়েছিলেন। কে এই জর্ডন বেলফোর্ট, জানেন? যাঁর জীবন কাহিনী শুনলে মনে হবে, এ এই মার্কিন মুলুকেই সম্ভব! বিশদ

17th  August, 2019
স্বাধীনতা ৭৩ এবং ভূস্বর্গের মুক্তি
মেরুনীল দাশগুপ্ত

গরিবি যতদিন না যাবে ততদিন এই উপত্যকায় শান্তি আসবে না। কারণ, কাশ্মীরি মানুষের গরিবিই ওদের একটা বড় হাতিয়ার। গরিব মানুষজনের অনেকেই ক’টা টাকার লোভে পড়ে সীমান্তর ওপার থেকে আসা লোকজনকে আশ্রয় দিয়ে, লুকিয়ে রেখে, খাবারদাবারের ব্যবস্থা করে ভ্যালির বিপদ বাড়িয়ে তুলছে।
বিশদ

15th  August, 2019
বনে থাকে বাঘ 
অতনু বিশ্বাস

ছেলেবেলায় ‘সহজ পাঠ’-এ পড়েছিলাম ‘বনে থাকে বাঘ’। যদিও এই পাঠটা যে খুব সহজ আর স্বাভাবিক নাও হতে পারে, অর্থাৎ বনে বাঘ নাও থাকতে পারে, সেটা বুঝতে বেশ বড় হতে হল। ছোটবেলায় অবশ্য মনে বদ্ধমূল ধারণা ছিল, বন-জঙ্গল গিজগিজ করে বাঘে। 
বিশদ

13th  August, 2019
রক্ষক আইন যেন ভক্ষক না হয়
শান্তনু দত্তগুপ্ত 

ভিক্টরি ম্যানসনে ঢুকলেন উইনস্টন স্মিথ। বহুতলে ঢুকেই নজরে আসবে দো’তলা সমান আখাম্বা ছবিটা। শুধু একটা মুখ। নীচে ক্যাপশন করা, বিগ ব্রাদার কিন্তু তোমাকে দেখছে। জর্জ অরওয়েলের কালজয়ী উপন্যাস ১৯৮৪-এর শুরুতেই উল্লেখ এই ছবির। আর এই নভেলের সারমর্মও লুকিয়ে এই ছবিতে—বিগ ব্রাদার দেখছে, তাই সাবধান। সাবধান হও সবাই... সরকারি কর্মচারী, ব্যবসায়ী, সাফাইকর্মী, বেসরকারি চাকুরে... মোদ্দা কথা নারী-পুরুষ নির্বিশেষে। সবসময় নজরদারি।  
বিশদ

13th  August, 2019
পুতিন কি পারবেন নতুন বিশ্বের নেতৃত্ব দিতে?
গৌরীশঙ্কর নাগ

 ১৯১৭ খ্রিস্টব্দে বা তার কিছু আগে থেকে লেনিন, ট্রটস্কি প্রমুখ নিবেদিত প্রাণ কমরেডের হাত ধরে সোভিয়েত সমাজতন্ত্র নামক যে মহীরুহটি ধীরে ধীরে গড়ে উঠেছিল তা গর্বাচেভ ক্ষমতাসীন হওয়ার পর কীভাবে তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়েছে—বিস্ময়ের সঙ্গে আমরা সেটা দেখেছি।
বিশদ

12th  August, 2019
স্টেট নয়, শুধুই রিয়াল এস্টেট
পি চিদম্বরম

 জম্মু ও কাশ্মীর নিয়ে প্রায়ই লিখি কিন্তু আজকেরটা অন্যরকম। জম্মু ও কাশ্মীর আর আগের জম্মু ও কাশ্মীর নেই। এটা আর রাজ্য নয়। এটাকে বিভক্ত করা হয়েছে। এখন দুটি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল—লাদাখ এবং জম্মু ও কাশ্মীর। ভারতের সংবিধানে কোনও রাজ্যকে কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের স্তরে নামিয়ে আনার ঘটনা এর আগে ঘটেনি।
বিশদ

12th  August, 2019
রাহুল সরে দাঁড়াতেই কংগ্রেস এমন নেতৃত্বহীনতায় ভুগছে কেন?
শুভা দত্ত

 প্রশ্নটা আজ দেশের সর্বস্তরে। পথে-ঘাটে অফিসে আড্ডায় যেখানেই চলতি রাজনীতি নিয়ে তর্ক-বিতর্কের উদয় হচ্ছে সেখানেই প্রশ্নটা যেন অনিবার্যভাবে এসে পড়ছে! কংগ্রেসের হলটা কী! রাহুল গান্ধী না বলে দিতেই আর সভাপতি খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না কংগ্রেসে! গান্ধী ফ্যামিলি ছাড়া কংগ্রেস সভাপতি খুঁজে পাচ্ছে না— এ তো বড় অদ্ভুত ব্যাপার! কংগ্রেসের জন্মের পর থেকে গান্ধী ফ্যামিলির বাইরের দেশ রাজনীতির কত দিকপালই তো জাতীয় কংগ্রেসের সভাপতির আসন অলঙ্কৃত করেছেন—উমেশচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়, দাদাভাই নৌরজি, সুরেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়, সুভাষচন্দ্র, অ্যানি বেসান্ত, চিত্তরঞ্জন, সরোজিনী নাইডু, বল্লভভাই প্যাটেল, কামরাজ, জগজীবন রাম—কত নাম বলব। নিশ্চয়ই এই তালিকায় নেহরু থেকে ইন্দিরা, রাজীব, সোনিয়া হয়ে রাহুল—গান্ধী পরিবারের সদস্যরাও ছিলেন।
বিশদ

11th  August, 2019
শুধু উন্নয়ন নয়, ভোটের জন্য চাই ভালো মাস্টার
তন্ময় মল্লিক

মোটা বেতন দিয়ে মাস্টার রাখলেই ছেলেমেয়ে মানুষ হয় না। তেমনটা হলে সব বড়লোকের ছেলেমেয়েই উচ্চশিক্ষিত হতো। কিন্তু, তা তো হয় না। ছাত্রছাত্রীর পড়াশোনায় আগ্রহ, মেধা যেমন থাকা দরকার, তেমনই নজরদারিটাও জরুরি। ফাঁকিবাজি থাকলেই ছাত্র হয় গাড্ডু খাবে, অথবা ‘বিবেচনায়’ পাশ।
বিশদ

10th  August, 2019
পঞ্চায়েত নির্বাচন, ৩৭০ কিংবা ৩৫এ
শুভময় মৈত্র

পশ্চিমবঙ্গ ২০১৮, আর ত্রিপুরা ২০১৯। পঞ্চায়েত ভোটে ফলাফল একইরকম। ঠিক কত আসন সেটা গোনার দরকার নেই। সহজ অঙ্কে বিষয়টা এরকম। ধরা যাক, মোট আসন ১০০, শাসক দল বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়ী ৭০টি আসনে। বাকি তিরিশের মধ্যে তীব্র লড়াইয়ের শেষে শাসক দল ২০, বিরোধীরা দশ। পাটিগণিতের অঙ্ক একেবারে মিলে গেল।
বিশদ

10th  August, 2019
কাশ্মীর: নতুন চ্যালেঞ্জ
সমৃদ্ধ দত্ত

 প্রকৃত চ্যালেঞ্জ সরকারের। কাশ্মীরকে আন্তরিকভাবে ভারতের অন্তঃস্থলে মিশিয়ে দেওয়ার কাজটিই কিন্তু হবে কাশ্মীরের নয়া ইতিহাস রচনা। সেটা নিছক একটা ভূমিখণ্ড দখল নয়। কাশ্মীরিয়াৎকে আপন করে নেওয়া। একমাত্র তাহলেই পাকিস্তান সবথেকে বেশি ধাক্কা খাবে! আর কাশ্মীরিদের আমরা যদি শত্রু বিবেচনা করে চলি, তাহলে কিন্তু টেনিসের পরিভাষায় অ্যাডভান্টেজ পাকিস্তান হয়ে যাবে! সে সুযোগ দেব কেন?
বিশদ

09th  August, 2019
একনজরে
 নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ইস্ট বেঙ্গলে স্ট্রাইকার সমস্যা মেটাতে রবিবার বিকেলে কলকাতায় এলেন নতুন স্প্যানিশ স্ট্রাইকার মার্কোস। অর্থ বাঁচাতে এই ফুটবলারটির সঙ্গে ১৫ আগস্ট থেকে চুক্তি ...

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: সরকারি পাঠ্যক্রম থেকে পড়াশোনা, তাও ডায়াবেটিসের মতো এখন প্রায় প্রতিটি গৃহস্থবাড়িতে থাকা অসুখের মোকাবিলায় পড়াশোনা করেও সরকারি স্তরে কাজের সুযোগ নেই। এমনকী রাজ্য সরকার নির্দিষ্টস্তরের কর্মী বা ‘ক্যাডার’ হিসেবেও গণ্য করছে না। এমনই অভিযোগ চার মেডিক্যাল কলেজ ...

গোপাল মিস্ত্রি, শিলিগুড়ি, বিএনএ: এরাজ্যের অন্যতম ভিআইপি ট্রেন দার্জিলিং মেলের যাত্রাপথ শিলিগুড়ি জংশন পর্যন্ত সম্প্রসারণে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে জবরদখল। রেলকর্তৃপক্ষের বক্তব্য, অনেক আগেই এনজেপির পরিবর্তে ...

 নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: বিকেন্দ্রীকৃত কাউন্সেলিংয়ের দ্বিতীয় দিনেই ভরে গেল যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের সব আসন। যদিও আর্কিটেকচার এবং ফার্মাসিতে হাতে গোনা কয়েকটি আসনই খালি রয়ে গিয়েছে। অনলাইন কাউন্সেলিংয়ের পর মোট ২৬১টি আসন ফাঁকা ছিল। ...




আজকের দিনটি কিংবদন্তি গৌতম
৯১৬৩৪৯২৬২৫ / ৯৮৩০৭৬৩৮৭৩

ভাগ্য+চেষ্টা= ফল
  • aries
  • taurus
  • gemini
  • cancer
  • leo
  • virgo
  • libra
  • scorpio
  • sagittorius
  • capricorn
  • aquarius
  • pisces
aries

শরীর নিয়ে চিন্তায় থাকতে হবে। মাথা ও কোমরে সমস্যা হতে পারে। উপার্জন ভাগ্য শুভ নয়। ... বিশদ


ইতিহাসে আজকের দিন

বিশ্ব মনুষ্যত্ব দিবস
১৯৪০: পরিচালক গোবিন্দ নিহালনির জন্ম
১৯৯৩: অভিনেতা উৎপল দত্তের মৃত্যু

ক্রয়মূল্য বিক্রয়মূল্য
ডলার ৭০.৫৯ টাকা ৭২.২৯ টাকা
পাউন্ড ৮৪.৮১ টাকা ৮৭.৯৪ টাকা
ইউরো ৭৭.৮৩ টাকা ৮০.৭৮ টাকা
[ স্টেট ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়া থেকে পাওয়া দর ]
17th  August, 2019
পাকা সোনা (১০ গ্রাম) ৩৮,২৪৫ টাকা
গহনা সোনা (১০ (গ্রাম) ৩৬,২৮৫ টাকা
হলমার্ক গহনা (২২ ক্যারেট ১০ গ্রাম) ৩৬,৮৩০ টাকা
রূপার বাট (প্রতি কেজি) ৪৩,৯০০ টাকা
রূপা খুচরো (প্রতি কেজি) ৪৪,০০০ টাকা
[ মূল্যযুক্ত ৩% জি. এস. টি আলাদা ]
18th  August, 2019

দিন পঞ্জিকা

২ ভাদ্র ১৪২৬, ১৯ আগস্ট ২০১৯, সোমবার, চতুর্থী ৫৫/৩০ রাত্রি ৩/৩০। উত্তরভাদ্রপদ ৩৬/১৫ রাত্রি ৭/৪৮। সূ উ ৫/১৮/২২, অ ৬/২/২৪, অমৃতযোগ দিবা ৬/৫৯ মধ্যে পুনঃ ১০/২৪ গতে ১২/৫৭ মধ্যে। রাত্রি ৬/৪৮ গতে ৯/২ মধ্যে পুনঃ ১১/১৭ গতে ২/১৮ মধ্যে, বারবেলা ৬/৫৪ গতে ৮/২৯ মধ্যে পুনঃ ২/৫১ গতে ৪/৪৬ মধ্যে, কালরাত্রি ১০/১৫ গতে ১১/৪০ মধ্যে। 
১ ভাদ্র ১৪২৬, ১৯ আগস্ট ২০১৯, সোমবার, চতুর্থী ৪৭/৩৯/৪৭ রাত্রি ১২/২১/২৫। উত্তরভাদ্রপদনক্ষত্র ৩২/১৮/৫৫ সন্ধ্যা ৬/১৩/৪, সূ উ ৫/১৭/৩০, অ ৬/৫/১৪, অমৃতযোগ দিবা ৭/২ মধ্যে ও ১০/২১ গতে ১২/৫০ মধ্যে এবং রাত্রি ৬/৩৫ গতে ৮/৫৪ মধ্যে ও ১১/১২ গতে ২/১৭ মধ্যে, বারবেলা ২/৫৩/১৮ গতে ৪/২৯/১৬ মধ্যে, কালবেলা ৬/৫৩/২৮ গতে ৮/২৯/২৬ মধ্যে, কালরাত্রি ১০/১৭/২০ গতে ১১/৪১/২২ মধ্যে। 
১৭ জেলহজ্জ 

ছবি সংবাদ

এই মুহূর্তে
২ দিনের সফরে দীঘায় পৌঁছলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় 

03:55:11 PM

নেতাজি মৃত্যু নিয়ে ট্যুইট প্রত্যাহার পিআইবির 

03:27:00 PM

নিউ মার্কেট এলাকায় বাড়ির একাংশ ভেঙে জখম ১ 

03:09:00 PM

রাজ্য নেতাদের বিরুদ্ধে মুখ খোলায় মালদহের প্রাক্তন জেলা সভাপতি সঞ্জিৎ মিশ্রকে বহিষ্কার করল বিজেপি 

02:02:28 PM

কোহলিদের খুনের হুমকি দিয়ে পাক বোর্ডে উড়ো মেল 
ভারতীয় ক্রিকেট দলের উপর হামলা হতে পারে এই মর্মে পাকিস্তান ...বিশদ

01:44:02 PM

বেলুড় স্টেশনে তরুণীকে ধারালো অস্ত্রের কোপ 
সাত সকালে বেলুড় স্টেশনে এক তরুণীকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত ...বিশদ

01:09:06 PM