Bartaman Patrika
বিশেষ নিবন্ধ
 

ভোটফল ২০১৯: ভালো মন্দ যা-ই ঘটুক উৎসবের মেজাজটি যেন বজায় থাকে
মেরুনীল দাশগুপ্ত

আজ সেই বহু প্রতীক্ষিত বৃহস্পতিবার, ২৩ মে। জল্পনা-কল্পনা, আন্দাজ-অনুমানের যাবতীয় কুহেলিকা সরিয়ে আজ প্রকাশ পাবে ২০১৯ লোকসভার চূড়ান্ত চিত্র। দেশজনতা আগামী পাঁচ বছরের জন্য কার হাতে পৃথিবীর বৃহত্তম গণতন্ত্র এই ভারতের শাসনভার তুলে দিলেন— জানা যাবে আজ। আংশিকভাবে হলেও ভিভি প্যাট গণনার জন্য নতুন লোকসভার পূর্ণাঙ্গ চিত্র পেতে হয়তো গড়িয়ে যাবে বৃহস্পতিবার রাত, হয়তো জয়ের আনন্দ পুরোমাত্রায় উদ্‌যাপনের জন্য অপেক্ষা করতে হবে শুক্রবারের সকাল অবধি—কিন্তু তাতে দেশ জুড়ে আবেগ-উত্তেজনা, উদ্বেগ-উন্মাদনার বিস্ফোরণে কোনও খামতি থাকবে বলে মনে হয় না। কারণ, আমাদের দেশে ভোটফলের প্রত্যাশায় মুখর উন্মুখ দিনগুলিতে শহর-গ্রাম, নগর-মহানগরের সামগ্রিক পরিবেশ পরিস্থিতিটা চিরকাল এমনই থাকে—আনন্দ-বিষাদের আলোছায়া মাখা একটা উৎসবের আমেজ, তর্ক-বিতর্কে উচ্ছল একটা প্রাণখোলা হাসি উল্লাসের আবহে টলোমলো। এই আবহ ধীর লয়ের ব্যালট গণনার দিনেও ছিল, আজ চটজলদি ইভিএমের দিনেও তার ব্যতিক্রম খুব একটা হয়নি। বলতে কি, ভোটফলের দিনে স্বাধীনতার পর থেকে এমন দৃশ্যই দেখে এসেছে আসমুদ্রহিমাচল এই ভারতবর্ষ, আজও দেখছে।
অবশ্য তফাৎ যে একেবারেই হয়নি এমন বলছি না। হয়েছে, নিশ্চয়ই হয়েছে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সবকিছু বদলায়, তো ভোটফলের দিনের পরিবেশ বদলাবে না—তাই কখনও হয়! স্বাধীনতার পর যত দিন গিয়েছে, রাজনৈতিক দলগুলির প্রতিদ্বন্দ্বিতার আবহে রেষারেষির উগ্রতা অসহিষ্ণুতা যত বেড়েছে ততই যে তার নেতিবাচক প্রভাবে ভোট উৎসবের আবহে লেগেছে হিংসা-দ্বেষ, সংশয়-বিস্ময়, আশঙ্কা-উদ্বেগের ছোঁয়া, তাতে সন্দেহ কী! ভোটের দিন ফলাফল প্রকাশের সময় ততটা না হলেও তারপর বহুক্ষেত্রেই দেখা যাচ্ছে প্রতিহিংসা চরিতার্থ করতে হিংসার বাতাবরণে ঢেকে যাচ্ছে অনেক এলাকা— আর তার জেরে ‘ভোট পরবর্তী সন্ত্রাস’ বলে একটা কথা এখন দৈনন্দিন রাজনীতি থেকে সাধারণের মহল, মিডিয়া সর্বত্রই চালু হয়ে গেছে। তবে, তার আঁচ এখনও সব জায়গা সবকিছুকে গ্রাস করতে পারেনি—এই রক্ষে! সাধারণভাবে আমজনতাই বলুন, কি রাজনৈতিক শিবিরের সহিষ্ণু নেতাকর্মী—সকলেই এখনও ভোটফলের দিনটাকে আবেগ উত্তেজনায় ঠাসা একটা রাজনৈতিক উৎসবের দিন হিসেবেই দেখতে চান, দেখেনও। তার মধ্যে কাঁকিনাড়া, ভাটপাড়ার চূড়ান্ত অপ্রীতিকর ঘটনা নিঃসন্দেহে ব্যতিক্রম—অন্তত আমরা তো তাই বলতে চাই। বলতে চাই এই কারণেই যে, এখনও বাংলার রাজনীতি-সচেতন মানুষ প্রতিদিনের জীবনে শান্তি সংহতিকেই অগ্রাধিকার দেন, ভোটের সময় বা ভোটফলের দিনে অনিবার্য বাড়তি উত্তাপ-উত্তেজনা সত্ত্বেও প্রত্যাশা করেন শান্তি আমন সৌহার্দ সম্প্রীতি। এবারও তার ব্যতিক্রম হচ্ছে এমন কিছুতেই বলা যাবে না। মঙ্গলবার রাতেও মহানগরীর পথে সাধারণজনের মুখে শুনেছি—ভোটফলে যাই হোক, ভালো মন্দ যা-ই ঘটুক ভাই, উৎসবের মেজাজটি যেন বজায় থাকে গোটা বাংলায়। এবং আমি বলছি, এই প্রত্যাশা কেবল সাধারণ মানুষের নয়, এ রাজ্যের শাসক-বিরোধী উভয় দলের অনেক নেতাকর্মী সমর্থকেরও। তার প্রমাণও মিলছে।
বঙ্গবাসীর এই প্রত্যাশা শেষ অবধি কতটা পূরণ হবে জানি না। তবে অশান্তির ইন্ধন ছড়ানোর একটা চেষ্টা যে কিছু এলাকায় চলছে তার খবর বাতাসে ভালোমতোই উড়ছে। সোশ্যাল মিডিয়াতেও নানান বিপজ্জনক উস্কানি উড়ে বেড়াচ্ছে। অবশ্য, আমাদের বিশ্বাস নির্বাচন কমিশন কেন্দ্রীয় বাহিনী এবং মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পুলিস প্রশাসনের যৌথ সক্রিয়তা ও কঠোর নজরদারিতে ওই অশুভ শক্তি আজকের ভোট উৎসবে বিশেষ বিঘ্ন ঘটাতে পারবে না। তবে সাবধানের মার নেই যেমন সত্যি, তেমনি মারেরও কি সাবধান আছে? বাংলার সাধারণ গেরস্ত ঘরের চিন্তাটা সেখানেই। কারণ, সকলেই বলছেন, এবারের ভোটটার রকমসকম বড় আলাদা। বড় কড়া তারে বাঁধা। দেশের ক্ষেত্রে তো বটেই, বাংলার ক্ষেত্রেও এবারের ভোটের সুর চলনবলন মোদি-মমতার ধারালো তরজায় নজিরবিহীনভাবে চড়া, মারমুখী। বাংলার ভোটের সেই চড়া সুরকে আরও চড়িয়ে দিয়েছে ভোট শেষের জনসমীক্ষার ফলগুলি। সব সমীক্ষার এক রা—মোদিজি ফিরছেন। টেনেটুনেই হোক, কি আরামসে দ্বিতীয়বারের জন্য দেশের প্রধানমন্ত্রীর কুর্সিতে বসতে চলেছেন নরেন্দ্র দামোদরদাস মোদি। সেই সঙ্গে আর একটা ব্যাপারেও একমত সব পোল—বাংলাতেও বাড়ছেন মোদিজি। লক্ষণীয়ভাবে বাড়ছেন। অর্থাৎ বিজেপি’র আসনগত বলবৃদ্ধি ঘটতে যাচ্ছে।
স্বাভাবিকভাবেই এই জনসমীক্ষার ফলগুলি জাতীয় রাজনীতির বিরোধী শিবিরগুলিতে যেমন, তেমনি বাংলার শাসক তৃণমূল শিবিরেও রীতিমতো উত্তেজনার সঞ্চার করেছে। কার জন্য, কী জন্য, কার দোষে এমন সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে তা নিয়ে কাটাছেঁড়াও শুরু হয়ে গেছে বিস্তর! সমীক্ষাগুলো যে নিতান্তই সম্ভাবনার কথা বলেছে এবং অতীতে বহুক্ষেত্রেই যে এই সম্ভাবনা বাস্তবের সঙ্গে মেলেনি— সেই সত্যটি অনেকেই যেন বিস্মৃত হয়েছেন! অথচ, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় থেকে মোদি-বিরোধী জাতীয় শিবিরের অনেক নেতাই ফুৎকারে ওই সম্ভাবনা উড়িয়ে দিয়ে বলছেন, ওগুলো সব বানানো। জোটবদ্ধ বিরোধীদের মনোবল ভেঙে দেওয়ার কৌশল। এবং সেজন্যই সোনিয়া গান্ধী কংগ্রেস নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করছেন, কেসিআরের মতো খানিকটা বিগড়ে যাওয়া নেতাদের বাগে আনার চেষ্টা করছেন কেউ কেউ আর তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে মধ্যমণি করে দিল্লিতে বৈঠক করে জোটের একতাবদ্ধতা জোরালো করায় জোর দিয়েছেন এমনকী রাহুল গান্ধীও! অন্যদিকে, অবশ্য ওইসব সমীক্ষার ফলকে ধ্রুব এবং বাস্তব ধরে নিয়ে মঙ্গলবারই বিজেপি শিবির কার্যত একদফা বিজয়োৎসব করে নিল। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে সংবর্ধনা দিলেন দলের শীর্ষ নেতৃত্ব, আবার প্রধানমন্ত্রী তাঁর দলের মন্ত্রীদের সংবর্ধনা দিলেন, এনডিএ শরিক নীতীশ কুমার, রামবিলাস বা উদ্ধব ঠাকরেও সে সংবর্ধনা থেকে বাদ গেলেন না। শুধু তাই নয়, বৈঠক করে আগামী পাঁচ বছরের কর্মসূচিও ঘোষণা করে দিলেন মোদিজি। তাঁর প্রতিনিধি হিসেবে রাজনাথ সিং তথ্য পরিসংখ্যান ও বিপুল অর্থ ব্যয়ের আগাম তালিকা পেশ করে জানিয়ে দিলেন, এবার অসম্ভবও সম্ভব হবে! দেশে প্রগতির গতি আরও বাড়বে।
মঙ্গলবার মোদি শিবিরের নেতামন্ত্রীদের হাবভাবে স্পষ্ট তাঁরা ধরেই নিয়েছেন—ফিরছেন। এখন এই দাবি কতটা শেষপর্যন্ত বাস্তবের সঙ্গে মিলবে তা বোঝা যাবে আজ। এই পশ্চিমবঙ্গেই বা বিজেপি ঠিক কতটা এগল ৮ থেকে ২৩-এর স্কেলে কোথায় গিয়ে দাঁড়াল তাও চূড়ান্ত হয়ে যাবে আজ। কিন্তু, কথা হল—এই শেষ বেলার মমতাকে সামনে রেখে কংগ্রেস সমেত বিরোধীরা যে তৎপরতা দেখাচ্ছেন তা শুরু থেকে দেখালে কি আজ পদ্মশিবির এমন হালকা মেজাজে আগাম জয়োৎসব মানাতে পারত? কে জিতত কে হারত সে প্রসঙ্গে যাচ্ছি না কিন্তু ছিন্নবিচ্ছিন্নভাবে লড়া বিরোধীরা যদি একজোট হয়ে (আজ যেমন ২২ দলে এককাট্টা হয়ে কমিশনে নালিশ জানাতে যাচ্ছেন) মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বা রাহুল গান্ধীকে সামনে রেখে ভোট মহাযুদ্ধে নামতেন তবে কি পরিস্থিতি মোদি শিবিরের কাছে এমন অনুকূল মনে হতো? তখনও হয়তো সমীক্ষার যাবতীয় বিচারে মোদিজি এগিয়ে থাকতেন কিন্তু তাঁর শিবির এত নিশ্চিন্ত থাকতে পারত কি না তা নিয়ে অন্তত আমার যথেষ্ট সংশয় আছে। তার কারণ, একদিকে যখন মোদি-অমিত শাহের মতো দুই জবরদস্ত সেনাপতি, জোটবদ্ধ এনডিএ সেনা তখন জনতার সামনে লড়াইয়ের ময়দানে ছিল সেনাপতিহীন টুকরো টুকরো একটা সেনাপতি মুখহীন বিরোধী বাহিনী, একটা ‘ফেসলেস অপোজিশন’। দেশের মানুষ তো চরণ সিং (১৭০ দিন) চন্দ্রশেখর (২২৩ দিন) ভিপি সিং (৩৪৩ দিন) মোরারজি দেশাইয়ের (২ বছর ১২৬ দিন) মতো নেতাদের প্রধানমন্ত্রিত্ব দেখেছেন, অভিজ্ঞতায় হাড়ে হাড়ে বুঝেছেন, কেন্দ্রে স্থিতিশীল সরকার না থাকলে কী হয়? দুর্বল বিবদমান দল ক্ষমতায় গেলে কী হয়?
অথচ, আজ মোদি-বিরোধী শিবিরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতো এমন ক্যারিশমাওয়ালা জননেত্রী ছিলেন, রাহুল গান্ধীর মতো তরুণতুর্কি ছিলেন। তবে, রাহুলের থেকে অনেকেই বলছেন অনেক বেশি কার্যকরী হতেন মমতা, তাঁর একরোখা লড়াকু ইমেজ, হার না মানা উন্নয়নকামী ভাবমূর্তি দেশের মানুষের কাছে অনেক বেশি মান্যতা পেত। শুধু তাই নয়, গুজরাত উন্নয়নের ‘মিথ’ যদি মোদিজিকে অমন অবলীলায় অমন অকাতর জনসমর্থনে ভাসিয়ে দেশের প্রধানমন্ত্রীর কুর্সিতক পৌঁছে দিতে পারে, তবে আঞ্চলিক থেকে আন্তর্জাতিক স্তরে বাংলার উন্নয়নের সাফল্যখচিত উজ্জ্বল বিজ্ঞাপনগুলি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কেও অনেকের চেয়ে অনেক এগিয়ে দিত না—কে বলতে পারে? কিন্তু, মহামতি বিরোধীরা সে সুযোগের সদ্ব্যবহার দূরে থাক সম্ভাবনাটা মূলেই খারিজ করে দিয়েছিলেন। ভোটফল বেরলে সেনাপতি (পড়ুন প্রধানমন্ত্রী) ঠিক করার আশ্চর্য প্রস্তাব শুনে সেদিন যাঁরা কংগ্রেস সভাপতি রাহুলের রাজনৈতিক উদারতার উদ্বাহু প্রশংসায় আকুল হয়েছিলেন আজ ফল প্রকাশের পর তাঁদের হাত কামড়াতে দেখলে অবাক হবেন ক’জন? তবে, বাংলায় কিন্তু লড়াইটা হয়েছে মুখের সঙ্গে মুখের, মোদি-মমতার। মিডিয়া কাগজে লোকমুখে তাই বিজেপি তৃণমূল নয় প্রাধান্য পেয়েছেন—মোদি-মমতা। ফলাফল যা-ই হোক, এখানে অন্তত মোদি-বিরোধী শিবিরে একজন সেনাপতি ছিলেন এবং তিনি বুক চিতিয়ে লড়েছেন শুরু থেকে শেষ অবধি। এটা মানতেই হবে।
তবে সে যা-ই হোক, এখন সব ভুলে প্রসঙ্গ এক ও অভিন্ন—ভোটফল ২০১৯। ভোটফলের জন্য দেশ জুড়ে প্রহর গণনা শুরু হয়ে গেছে। দশদিক জুড়ে উত্তেজনার পারদ চড়ছে। তার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে প্রকৃতিও যেন বাড়িয়ে চলেছে তার আগুনে তাপ! এ রাজ্যও তার ব্যতিক্রম নয়। বরং, মমতার ঘাসফুলের একাধিপত্যের এই পশ্চিমবাংলায় পদ্ম কতটা পাপড়ি মেলতে পারে তা দেখার জন্য বাড়তি রোমাঞ্চ এখন সর্বব্যাপ্ত। টানটান উত্তেজনা। এমন পরিস্থিতিতে ঘুরে-ফিরে আমাদের প্রত্যাশা সেই একটাই—শান্তি। ভোটের উৎসব যেন শান্তিতে শেষ হয়। ভালো মন্দ যা-ই ঘটুক উৎসবের মেজাজটি যেন বজায় থাকে। কাঁকিনাড়া, ভাটপাড়া যেন একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা হয়েই থাকে। তার আঁচ যেন আর
কোথাও না ছড়ায়। তাই না?
23rd  May, 2019
বিধানসভা ভোট কিন্তু হবে মমতাকে দেখেই
শান্তনু দত্তগুপ্ত 

ইন্দিরা গান্ধীর টার্গেট ছিল একটাই। যেভাবে হোক সিপিএমের কোমর ভেঙে দিতে হবে। তিনি মনে করতেন, সিপিএম আসলে সিআইএ’র মদতপুষ্ট। ঠিকঠাক সুযোগ পেলে পূর্ববঙ্গ এবং পশ্চিমবঙ্গে সশস্ত্র আন্দোলন করিয়ে বৃহত্তর বাংলা গঠন করে ফেলবে। কাজেই বাংলা কংগ্রেস এবং সিপিআই পছন্দের তালিকায় থাকলেও সিপিএমকে মোটে বরদাস্ত করতে পারতেন না ইন্দিরা।
বিশদ

ডাক্তারবাবুদের গণ-ইস্তফা নজিরবিহীন,
কিন্তু তাতে কি হাসপাতাল সমস্যা মিটবে?

 এ-কথাও তো সত্যি যে, হাসপাতালের পরিকাঠামোগত উন্নয়নে বা ডাক্তারবাবুদের যথাযথ নিরাপত্তা বিধানে তাঁর সদিচ্ছা আছে এবং ইতিমধ্যেই তার যথেষ্ট প্রমাণ মিলেছে। এই অচলাবস্থা কাটাতে প্রবীণদের বৈঠকে ডেকে মুখ্যমন্ত্রী সমাধানসূত্র খুঁজছেন— সেটাও কি ওই সদিচ্ছারই নামান্তর নয়? বিশদ

16th  June, 2019
নরেন্দ্র মোদির মালদ্বীপ সফর এবং ভারত মহাসাগরে ভারতের নতুন রণনীতি
গৌরীশঙ্কর নাগ

 মোদিজির এই দ্বীপপুঞ্জ-সফর কেবলমাত্র হাসি বিনিময় ও করমর্দনের রাজনীতি হবে না, বরং এর প্রধান অ্যাজেন্ডাই হল প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে মজবুত করা। তবে সেটা করতে গিয়ে ভারত যেন দ্বীপপুঞ্জের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে অযথা হস্তক্ষেপ না করে বসে। কিন্তু তার অর্থ এই নয় যে, ভারত মালদ্বীপকে সন্ত্রাসবাদের নয়া ‘আঁতুড়ঘর’ হতে দেবে। কারণ ইতিমধ্যেই আমরা দেখেছি পাকিস্তান, আফগানিস্তান এমনকী মধ্যপ্রাচ্য থেকেও জেহাদি নেটওয়ার্কের কারবার মালদ্বীপেও পৌঁছে গিয়েছে। এই র‌্যাডিক্যালিজমের একমাত্র দাওয়াই হল অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও তার সহায়ক শক্তি হিসেবে রাজনৈতিক স্থিরতা।
বিশদ

15th  June, 2019
সতর্কতার সময়
সমৃদ্ধ দত্ত

 ভারতীয় সংস্কৃতির সনাতন ধারাটি হল দিবে আর নিবে, মিলিবে মেলাবে। কিন্তু সেই সংস্কৃতি থেকে আমাদের সরিয়ে এনেছে অসহিষ্ণুতা আর স্বল্পবিদ্যা। আর সবথেকে বেশি জায়গা করে নিয়েছে বিদ্বেষ। রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের প্রতি বিদ্বেষ।
বিশদ

14th  June, 2019
ক্ষমতার ‘হিন্দি’ মিডিয়াম
শান্তনু দত্তগুপ্ত

 উত্তর ভারতের সঙ্গে দক্ষিণের সীমারেখা। আর তার কারিগর আমরাই। আমাদের কাছে সাউথ ইন্ডিয়ান মানে মাদ্রাজি। দক্ষিণ ভারতের লোকজন নারকেল তেল খায়, অদ্ভুত ওদের উচ্চারণ, লুঙ্গি পরে বিয়েবাড়ি যায়... হাজারো আলোচনা। উত্তর ভারত মানে বিষম একটা নাক উঁচু ব্যাপার। আর দক্ষিণ মানেই রসিকতার খোরাক। তাই ওদের একটু ‘মানুষ’ করা দরকার। কীভাবে সেটা সম্ভব? হিন্দি শেখাতে হবে। বিশদ

13th  June, 2019
বারুদের স্তূপের উপর পশ্চিমবঙ্গ
হিমাংশু সিংহ

সংসদীয় রাজনীতিতে কিছুই চিরস্থায়ী নয়। কারও মৌরসিপাট্টাই গণতন্ত্রে বেশিদিন টেকে না। সব সাজানো বাগানই একদিন শুকিয়ে যায় কালের নিয়মে। ইতিহাস কয়েক বছর অন্তর ফিরে ফিরে আসে আর ধুরন্ধর শাসককে চরম শিক্ষা দিয়ে তাঁকে, তাঁর ক্ষমতাকে ধুলোয় লুটিয়ে দিয়ে আবার ফকির করে দিয়ে যায়। সব ক্ষমতা এক ভোটে বিলীন। ধূলিসাৎ। আর এখানেই মহান গণতন্ত্রের জিত আর চমৎকারিত্ব। আর সেই দিক দিয়ে ২৩ মে-র ফল এই পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিকেও আবার এক মহান সন্ধিক্ষণের দিকেই যেন ঠেলে দিয়েছে। ‘বিয়াল্লিশে বিয়াল্লিশ’ হয়নি, ‘২০১৯ বিজেপি ফিনিশ’—তাও হয়নি। উল্টে সারাদেশে বিজেপি থ্রি-নট-থ্রি (অর্থাৎ ৩০৩টি) আসন জিতে তাক লাগিয়ে দিয়েছে ভোট-পণ্ডিতদের।
বিশদ

11th  June, 2019
মোদিজি কি ‘সবকা বিশ্বাস’ অর্জন করতে পারবেন?
পি চিদম্বরম

 নরেন্দ্র মোদি এবার যে জনাদেশ পেয়েছেন তা অনস্বীকার্যভাবে বিপুল। যদিও, অতীতে লোকসভা নির্বাচনে একটি পার্টি ৩০৩-এর বেশি আসন জেতার একাধিক দৃষ্টান্ত আছে। যেমন ১৯৮০ সালে ইন্দিরা গান্ধী ৩৫৩ এবং ১৯৮৪ সালে রাজীব গান্ধী ৪১৫ পেয়েছিলেন।
বিশদ

10th  June, 2019
 বিজেপি এ রাজ্যের বিধানসভা ভোটকে
কঠিন চ্যালেঞ্জ মনে করছে কেন?
শুভা দত্ত

 কয়েকদিনের মধ্যে বেশ কয়েকটি মর্মান্তিক খুনের ঘটনা ঘটে গেল রাজ্যের উত্তর থেকে দক্ষিণে। তাই আজও একই প্রসঙ্গ দিয়ে এই নিবন্ধ শুরু করতে হচ্ছে। গত সপ্তাহেই লিখেছিলাম, ভোটফল প্রকাশের পর রাজ্যের বেশ কিছু এলাকায় যেন একটা হিংসার বাতাবরণ তৈরি হয়েছে।
বিশদ

09th  June, 2019
ইচ্ছে-ডানায় নাচের তালে
অতনু বিশ্বাস

এ বছরের সিবিএসই পরীক্ষার ফল বেরতে দেখা গেল, প্রথম হয়েছে দু’টি মেয়ে। একসঙ্গে। ৫০০-র মধ্যে তারা পেয়েছে ৪৯৯ করে। দু’জনেই আবার আর্টসের ছাত্রী। না, পরীক্ষায় আজকাল এত এত নম্বর উঠছে, কিংবা আর্টস বিষয় নিয়েও প্রচুর নম্বর তুলে বোর্ডের পরীক্ষায় র‍্যাঙ্ক করা যায় আজকাল—এগুলোর কোনওটাই আমার আলোচনার বিষয়বস্তু নয়।
বিশদ

08th  June, 2019
ভারতের রাজনীতিতে ‘গেম মেকার’
মৃণালকান্তি দাস

মেধাবী হলেই যে পড়ুয়ার জন্য মোটা বেতনের চাকরি নিশ্চিত, তার কোনও গ্যারান্টি নেই। শুধু প্রতিভা থাকলে আর পরিশ্রমী হলেই হবে না, উপযুক্ত প্রশিক্ষণ এবং ঠিকঠাক ‘গাইড’ না পাওয়ায় পড়ুয়ারা আজ আর সরকারি চাকরির লক্ষ্যভেদ করতে পারেন না।
বিশদ

07th  June, 2019
অবিজেপি ভোটে বাজিমাত
বিজেপির, এবং তারপর...
মেরুনীল দাশগুপ্ত

আলোড়ন! নিঃসন্দেহে একটা জবরদস্ত আলোড়ন উঠেছে। লোকসভা ভোটফল প্রকাশ হওয়া ইস্তক সেই আলোড়নের দাপটে রাজ্য-রাজনীতি থেকে সাধারণের অন্দরমহল জল্পনা-কল্পনা, বিবাদ-বিতর্ক, আশা-আশঙ্কায় যাকে বলে রীতিমতো সরগরম! পথেঘাটে আকাশে বাতাসে যেখানে সেখানে ছিটকে উঠছে উৎকণ্ঠা নানান জিজ্ঞাসা।
বিশদ

06th  June, 2019
কর্ণাটক পুরনির্বাচন: আবার উল্টালো ভোটফল
শুভময় মৈত্র 

নির্বাচনে ভোটফল নিয়ে কখন যে কী ঘটছে তার ব্যাখ্যা পাওয়া যাচ্ছে না মোটেই। মানুষ অবশ্যই মত বদলাবেন। সে স্বাধীনতা তাঁদের আছে। সে জন্যেই তো ভোটফল বদলায়। নাহলে সংসদীয় গণতন্ত্রের কোনও অর্থই থাকে না।  
বিশদ

04th  June, 2019
একনজরে
  মুম্বই, ১৭ জুন (পিটিআই): ৬৭ কোটি ৬৫ লক্ষ টাকা ঋণ পরিশোধ করতে ব্যর্থ হওয়ায় বিড়লা সূর্য সংস্থার ডিরেক্টর যশোবর্ধন বিড়লাকে ইচ্ছাকৃত ঋণখেলাপি ঘোষণা করল ইউকো ব্যাঙ্ক। রবিবার এ বিষয়ে জনস্বার্থে নোটিস জারি করেছে তারা। ...

  চেন্নাই, ১৭ জুন: তামিলনাড়ু পুলিসের এক সাব-ইন্সপেক্টরের বিশেষ রিপোর্টের ভিত্তিতে তিন আইএস সমর্থনকারীকে গ্রেপ্তার করল বিশেষ তদন্তকারী শাখা (এনআইএ)। ওই তিনজন কোয়েম্বাটোরের বিভিন্ন ধর্মীয়স্থানে আত্মঘাতী হামলার ছক করেছিল বলে পুলিসের দাবি। ধৃতদের নাম মহম্মদ হুসেন, শাহজাহান এবং শেখ সইফুল্লা। ...

 সৌম্যজিৎ সাহা  কলকাতা: রাজ্যে ক্রমশ কমছে ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের আসন। গতবার যেখানে ৩১ হাজারের বেশি আসন ছিল, এবার তা আরও কমে হয়েছে ২৯ হাজার ৬৫৯টি আসন। প্রাথমিক হিসেবে এই তথ্য মিলেছে। যদিও এখনও দু’টি কলেজ এবং কয়েকটি বিষয়ের আসন যুক্ত হওয়ার ...

  ফিলাডেলফিয়া ও লোয়া, ১৭ জুন (এপি): মার্কিন মুলুকে ফের বন্দুকবাজের হামলা। পার্টি চলাকালীন ফিলাডেলফিয়ায় গুলিবিদ্ধ হয়ে মৃত্যু হল এক পড়ুয়ার। জখম হয়েছে আরও ৮ জন। রবিবার রাত সাড়ে ১০টার কিছুটা আগে সাউথ সেভেনটি স্ট্রিট এবং রিড বার্ড স্ট্রিটের কাছে ...




আজকের দিনটি কিংবদন্তি গৌতম
৯১৬৩৪৯২৬২৫ / ৯৮৩০৭৬৩৮৭৩

ভাগ্য+চেষ্টা= ফল
  • aries
  • taurus
  • gemini
  • cancer
  • leo
  • virgo
  • libra
  • scorpio
  • sagittorius
  • capricorn
  • aquarius
  • pisces
aries

উচ্চতর বিদ্যায় সাফল্য আসবে। প্রেম-ভালোবাসায় আগ্রহ বাড়বে। পুরনো বন্ধুর সঙ্গে সাক্ষাতে আনন্দলাভ হবে। সম্ভাব্য ক্ষেত্রে ... বিশদ


ইতিহাসে আজকের দিন

১৯৩৬- রুশ সাহিত্যিক ম্যাক্সিম গোর্কির মৃত্যু
১৯৮৭- পরিচালক হীরেন বসুর মৃত্যু
২০০৫- ক্রিকেটার মুস্তাক আলির মৃত্যু
২০০৯- প্রখ্যাত সরোদ শিল্পী আলি আকবর খানের মৃত্যু  

ক্রয়মূল্য বিক্রয়মূল্য
ডলার ৬৮.৯৯ টাকা ৭০.৬৮ টাকা
পাউন্ড ৮৬.৩৪ টাকা ৮৯.৫৫ টাকা
ইউরো ৭৬.৭৯ টাকা ৭৯.৭৬ টাকা
[ স্টেট ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়া থেকে পাওয়া দর ]
পাকা সোনা (১০ গ্রাম) ৩৩,৩২৫ টাকা
গহনা সোনা (১০ (গ্রাম) ৩১,৬১৫ টাকা
হলমার্ক গহনা (২২ ক্যারেট ১০ গ্রাম) ৩২,০৯০ টাকা
রূপার বাট (প্রতি কেজি) ৩৭,১০০ টাকা
রূপা খুচরো (প্রতি কেজি) ৩৭,২০০ টাকা
[ মূল্যযুক্ত ৩% জি. এস. টি আলাদা ]

দিন পঞ্জিকা

৩ আষা‌ঢ় ১৪২৬, ১৮ জুন ২০১৯, মঙ্গলবার, প্রতিপদ ২৩/৫৮ দিবা ২/৩১। মূলা ১৭/১৬ দিবা ১১/৫০। সূ উ ৪/৫৬/০, অ ৬/১৮/৫৪, অমৃতযোগ দিবা ৭/৩৬ মধ্যে পুনঃ ৯/২৩ গতে ১২/৩ মধ্যে পুনঃ ৩/৩৮ গতে ৪/৩১ মধ্যে। রাত্রি ৭/১ মধ্যে পুনঃ ১১/৫৮ গতে ২/৬ মধ্যে, বারবেলা ৬/৩৭ গতে ৮/১৭ মধ্যে পুনঃ ১/১৮ গতে ২/৫৮ মধ্যে, কালরাত্রি ৭/৩৯ গতে ৮/৫৮ মধ্যে। 
২ আষাঢ় ১৪২৬, ১৮ জুন ২০১৯, মঙ্গলবার, প্রতিপদ ২২/২২/৩৮ দিবা ১/৫২/৩৩। মূলানক্ষত্র ১৭/২৭/২৯ দিবা ১১/৫৪/৩০, সূ উ ৪/৫৫/৩০, অ ৬/২১/২৮, অমৃতযোগ দিবা ৭/৪০ মধ্যে ও ৯/২৭ গতে ১২/৮ মধ্যে ও ৩/৪২ গতে ৪/৩৫ মধ্যে এবং রাত্রি ৭/৫ মধ্যে ও ১২/২ গতে ২/৯ মধ্যে, বারবেলা ৬/৩৬/১৫ গতে ৮/১৬/৫৯ মধ্যে, কালবেলা ১/১৯/১৩ গতে ২/৫৯/৫৮ মধ্যে, কালরাত্রি ৭/৪০/৪৩ গতে ২/৫৯/৫৯ মধ্যে। 
মোসলেম: ১৪ শওয়াল 

ছবি সংবাদ

এই মুহূর্তে
বিশ্বকাপ: আফগানিস্তানকে ১৫০ রানে হারাল ইংল্যান্ড

10:48:34 PM

স্বাস্থ্য ক্ষেত্রে নিরাপত্তা, চালু কলকাতা পুলিসের হেল্প লাইন 
গতকাল মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশ পাওয়ার পর স্বাস্থ্য ক্ষেত্রে নিরাপত্তা জনিত সমস্যার ...বিশদ

09:48:24 PM

বিশ্বকাপ: আফগানিস্তান ৮৬/২ (২০ ওভার) 

08:17:00 PM

দার্জিলিং পুরসভায় প্রশাসক নিয়োগ করল রাজ্য সরকার 

08:08:39 PM

জাপানে বড়সড় ভূমিকম্প, মাত্রা ৬.৫, জারি সুনামি সতর্কতা 

07:34:58 PM

বিশ্বকাপ: আফগানিস্তান ৪৮/১ (১০ ওভার) 

07:05:00 PM