Bartaman Patrika
বিশেষ নিবন্ধ
 

সাবধান! গ্রাফিতি নিয়ে ব্যাঙ্কসি এবার ভারতেও
মৃণালকান্তি দাস

কোনও রাজা নয়। রাজার মূর্তিও নয়। দুই নেতার টানাটানিতে দ্বিখণ্ডিত ভারত! এটাই ছিল মুম্বইয়ের রাজপথের পাশে কোনও এক দেওয়ালে আঁকা গ্রাফিতি। দড়ি টানাটানি করছেন যাঁরা, তাঁদের একজন ‘নাগরিক’ পোশাকে সজ্জিত কংগ্রেস সভাপতি রাহুল গান্ধী। অন্যজনের পরনে সামরিক উর্দি। তিনি, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। কে এঁকেছেন, জানা নেই। নাই বা থাকুক, এই ভোট মরশুমে নজর কাড়তে সময় নেয়নি সেই গ্রাফিতি। তবে নিশ্চিত, শিল্পীমনে প্রভাব ফেলেছিল ‘ব্যাঙ্কসি’র চিত্রকর্ম। ব্যাঙ্কসি! সে আবার কে? হলিউডের বিখ্যাত অভিনেতা ব্রাড পিট একসময় যাঁর কাজ দেখে মুগ্ধ হয়ে বলেছিলেন, ‘তিনি এত সব করেও নিজেকে সকলের চোখের আড়ালে লুকিয়ে রেখেছেন। এ যুগে সবাই যখন বিখ্যাত হতে চান, তখন ব্যাঙ্কসি নিজের পরিচয় প্রকাশ করেননি এখনও। এ এক অসাধারণ ব্যাপার।’ বিশ্বখ্যাত ম্যাগাজিন নিউ ইয়র্কার-এ প্রকাশিত এক প্রবন্ধে লরেন কলিন্স লিখছেন, তাঁর পরিচয় না জানা গেলেও, দুনিয়ার অনেক দেশের দেওয়াল দখল করে ফেলেছে তাঁর গ্রাফিতি। জার্মানি থেকে প্যালেস্তাইন, ব্রিটেন থেকে আমেরিকা—ব্যাঙ্কসির গ্রাফিতি সমাজ-রাজনীতির অনেক প্রশ্নকে জনগণের সামনে হাজির করেছে। এই ব্রিটিশ গ্রাফিতি আঁকিয়ের সৃষ্টি আজ গোটা দুনিয়াকে ভাবতে বাধ্য করেছে।
যেমন ভাবিয়েছে ভোটের ভারতকে। মুম্বইয়ের বাসিন্দাদের। কিন্তু দেয়ালচিত্রে প্রধানমন্ত্রীর পরনে কেন সামরিক পোশাক? এই প্রশ্ন উঠতেই পারে। কে না জানে, এবারের ভোটের শেষবেলায় এসে প্রধানমন্ত্রীর ভোট-প্রচার পুরোপুরি নিরাপত্তানির্ভর হয়ে উঠেছিল। কাশ্মীরের পুলওয়ামায় সেনা হত্যার পর যেদিন বালাকোটে সার্জিকাল স্ট্রাইক হল, প্রচারের অভিমুখ উন্নয়ন ও বিকাশের রাস্তা ছেড়ে সেই দিন থেকেই ধাবিত দেশের নিরাপত্তার দিকে। সার্জিকাল স্ট্রাইকের পর থেকে সরাসরি ভোট চাওয়া শুরু হয়েছিল দেশের সেনাবাহিনীর নামে। উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ তো দেশের সেনাবাহিনীকে ‘মোদির সেনা’ বলে হুঙ্কার করতেও ছাড়েননি। শিল্পী হয়তো এই কারণেই মোদিকে সেনা-পোশাকে মুড়েছেন। শিল্পীর হয়তো মনে হয়েছে, মোদির মোকাবিলায় সর্বভারতীয় স্তরে যদি কোনও দল থাকে, তা রাহুল গান্ধীর কংগ্রেস। তাই মোদির বিরুদ্ধে রাহুলকে দাঁড় করিয়েছেন। কিন্তু সেই গ্রাফিতিতে দুই নেতার দড়ি-টানাটানিতে ভারত কেন দুভাগে ভাগ? হয়তো শিল্পীমন বলতে চেয়েছে, এই দুই নেতার হাতে পড়ে দেশ ও জনজীবন দুর্বিষহ হয়ে উঠছে! শিল্পীমন যাই বলুক না কেন, ওই শিল্প আপনাকে ভাবাতে বাধ্য। হয়তো তাই এই গ্রাফিতি দেখেই এএফপির চিত্রসাংবাদিক ইন্দ্রনীল মুখোপাধ্যায়ের ক্যামেরা ঝলসে উঠেছিল। যে গ্রাফিতি অর্থ আদৌ স্পষ্ট নয়। আপনি ভাবতে পারেন আপনার মতো করেই। ভাবতে পারেন অন্য ভাবেও। আর প্রশ্ন তুলতে পারেন, তাহলে কি ভোটের ভারতে সকলের নজর এড়িয়ে মুম্বই ঢুঁ মেরেছিলেন ‘ব্যাঙ্কসি’ নিজেই?
ইতিহাস বলে, নব্বইয়ের দশকে ব্রিস্টলের কুখ্যাত বার্টন হিল এলাকার দেওয়ালগুলি ভরে যাচ্ছিল অদ্ভুত সব গ্রাফিতি দিয়ে। যেমন রঙের ব্যবহার, তেমনই অভিনব বিষয়। অন্যসব গ্রাফিতি থেকে একে সহজেই আলাদা করা যেত। গ্রাফিতিতে স্প্রের বদলে স্টেনসিলের ব্যবহার হয়তো সেই প্রথম। কেউ জানতো না, এই গ্রাফিতিগুলি কার আঁকা। তবে একটি ছদ্মনাম ব্রিস্টলের কালোজগতে সবাই জানতেন। রবিন ব্যাঙ্ক’স। নামটি দ্ব্যর্থক। ইংরেজি শব্দ রবিং যার অর্থ দাঁড়ায় ডাকাতি। আর ব্যাঙ্ক বলতে আমাদের চিরপরিচিত লেনদেনের ব্যাঙ্ককেই বোঝায়। এই রবিন ব্যাঙ্ক’স নামটিই পরে বদলাতে বদলাতে ব্যাঙ্কসিতে পরিণত হয়। ব্যাঙ্কসির আসল পরিচয় এখনও কেউ জানেন না। তবে কিছু সাক্ষাৎকার ও সোশ্যাল মিডিয়ায় তার ব্যাপারে কিছু তথ্য জানা যায়। যাঁর শুরুটা হয়েছিলেন ডেব্রিড ক্রুর গ্রাফিতি শিল্পীদের অংশ হিসেবে। সেই নব্বইয়ের দশকে। ব্যাঙ্কসি তখন কিশোর। সেই বয়সেই জীবনের অনেক অন্ধকার পর্ব দেখা হয়ে গিয়েছে। জন্মস্থান বার্টন হিল এলাকায় মারামারি, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড লেগেই থাকত। এরই মধ্যে তিনি তাঁর কাজ করতে থাকেন এবং একপর্যায়ে তাঁর দেখা হয় ব্রিস্টলের বিখ্যাত আলোকচিত্রী ও চিত্রপ্রদর্শনী উদ্যোক্তা স্টিভ ল্যাজারিডসের সঙ্গে। তিনি ব্যাঙ্কসির কাজের ব্যবসায়িক দিকটি প্রথম দেখতে পান। তাঁর কাজ বিক্রি করতে শুরু করেন। পরে লন্ডনেও কাজ শুরু করেন এবং অচিরেই গোটা ব্রিটেনে তাঁর কাজের তুলনা হতে থাকে জ্যঁ মিশেল বাস্কিয়াৎ এবং কিথ হ্যারিংয়ের মতো তারকা শিল্পীদের সঙ্গে। ব্যাঙ্কসির প্রথম উল্লেখযোগ্য কাজ হল, ১৯৯৭ সালে আঁকা একটি বড় পরিসরের দেওয়াল অঙ্কন। নাম ‘দ্য মাইল্ড মাইল্ড ওয়েস্ট’। এঁকেছিলেন ব্রিস্টলের স্টোক্স ক্রাফটে। এই ছবির উদ্দেশ্য ছিল এক আইনজীবীর বিজ্ঞাপন ঢেকে দেওয়া। বিষয় ছিল, একটি টেডি বিয়ার তিনজন পুলিসের দিকে মোলোটভ ককটেল ছুঁড়ে মারছে। ব্যাঙ্কসির কাজে এরকম প্রতিষ্ঠান বিরোধিতা সবসময়ই লক্ষ্য করা গিয়েছে। তাঁর কাজে আবেগ ও বাস্তবতা উঠে আসে। বরাবর তাঁর কাজে উস্কানি দেন উচ্চ মধ্যবিত্ত, বিত্তশালী সমাজকে। কিন্তু কী অদ্ভুত! তাদের কাছেই তিনি উচ্চমূল্যে নিজের শিল্প বিক্রি করেন।
তিনি এখনও পর্দার আড়ালেই। তাঁর দেওয়াল চিত্র এখন ইংল্যান্ডের বাইরে ভিয়েনা, স্পেন, আমেরিকা এবং ফ্রান্সের দেওয়ালে আলোড়ন তুললেও তাঁর গোপনীয়তা রক্ষা করে ‘পেস্ট কন্ট্রোল’ নামে এক সংগঠন। যারা তাঁর কাজের সত্যতাও নিশ্চিত করে। ব্যাঙ্কসির ব্যাপারে যা জানা যায়, তার সবই তাঁরই দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে। এর সত্যতা নিশ্চিত করার আপাতত কোনও উপায় নেই। বাঙ্কসি পিৎজা খেতে পছন্দ করেন, তবে পিৎজার স্বাদ বাড়াতে এর উপরে যে বিভিন্ন উপাদানের স্তর দেওয়া হয়, সেটা তিনি পছন্দ করেন কি না, তা নিশ্চিত করে বলা যায়নি। তাঁর একটা সোনার দাঁত আছে। তাঁর একটা দাঁত রুপোর। আর আছে কানে একটা রুপোর মাকড়ি। তিনি একজন নৈরাজ্যবাদী, নাকি পরিবেশবাদী। যিনি এসইউভি গাড়ি নিজেই চালিয়ে ঘুরে বেড়ান এ প্রান্ত থেকে ও প্রান্ত। কেউ নিশ্চিত নন, তিনি ১৯৭৮ বা ১৯৭৪ সালে ইংল্যান্ডের ব্রিস্টলে জন্মেছিলেন নাকি ইয়টে। তিনি একজন কসাইয়ের সন্তান বা হয়তো একজন গাড়িচালক কিংবা হাসপাতাল কর্মীর সন্তান। তিনি মোটাসোটা নাকি কঙ্কালসার। কেউ বলবেন, ব্যাঙ্কসি কাজ-পাগল, আত্মমগ্ন। কেউ আবার বলবেন, কিছুদিন ধরে তিনি লন্ডনে বাস করছেন। আর তা না হলে শোরেডিচ, তারপর হোক্সটন। সবই ধারণা! তবে কয়েকজন তাঁর সরাসরি সাক্ষাৎকারও নিয়েছেন। শেষ ২০০৩ সালে গার্ডিয়ান পত্রিকার সাইমন হ্যাটেনস্টোন তাঁর সাক্ষাৎকার নেন। সাইমনের বর্ণনায়, ব্যাঙ্কসি দেখতে ২৮ বছরের এক শ্বেতাঙ্গ, পরনে রঙচটা জিন্স আর টি-শার্ট। তিনি নাকি দেখতে ইংল্যান্ডের বিখ্যাত গানের দল ‘দ্য স্ট্রিটস’-এর মাইক স্কিনারের মতো। ২০০১ সালে স্প্রে রঙে ব্রিটেনজুড়ে তাঁর স্বাক্ষর দেখা যায়। নিজেকে তিনি ‘উপদ্রবকারী’ হিসেবে ভাবতেই পছন্দ করেন।
দেওয়ালে আঁকা ছবিগুলো যেহেতু ক্ষণস্থায়ী, তাই মাঝে মাঝে তিনি নিজের ছবিগুলো দিয়ে তার সঙ্গে কিছু লেখা জুড়ে বই আকারে প্রকাশ করেন। তাঁর প্রথম তিনটি বই হচ্ছে এক্সিসটেনসিয়ালিজম, ব্যাংগিং ইওর হেড অ্যাগেইনস্ট আ ব্রিক ওয়াল ও কাট ইট আউট। তাঁর ওয়াল অ্যান্ড পিস বইটি প্রকাশ করেছে র‌্যানডম হাউজ এবং বইটি আড়াই লাখের বেশি কপি বিক্রি হয়েছে। মোনালিসার মুখে হলুদ রঙের একটি স্মাইলি, ক্রাইম সিন টেপ দিয়ে ঘিরে থাকা চারণভূমির ছবি তিনি ছদ্মবেশ নিয়ে টানিয়ে দিয়েছিলেন লুভ্যর ও টেট মিউজিয়ামে। সেবার নাকি ট্রেঞ্চকোট আর মুখে দাড়ি লাগিয়ে সবার চোখ ফাঁকি দিয়েছিলেন ব্যাঙ্কসি। সেই ব্যাঙ্কসি এবার ভোটের ভারতে? মুম্বইয়ের দেওয়ালে?
তাহলে কি ব্যাঙ্কসিও জানেন, এই দেশের দুর্দশার কথা। কোটি কোটি কৃষক, শ্রমিক, দলিত ও আদিবাসীদের দমিয়ে রাখা কণ্ঠস্বর? জানেন, অত্যাধুনিক দুনিয়ায় এদেশে গোমাতা, গোমূত্র দিয়ে আজও চলে ব্রেইন ওয়াশ? জানেন, দেশের জন্য প্রাণ দেওয়া সেনাদের বিজয় নিয়ে চলে রাজনীতির উল্লম্ফন? জানেন, ছাতি ফুলিয়ে বিশ্রী ভঙ্গিতে এদেশের রাজনীতিবিদরা ভোটপ্রচারে চেঁচিয়ে বলেন ‘হামারা সেনা’, ‘ঘুস কর মারেঙ্গে’? ব্যাঙ্কসি জানেন, এ দেশের কোটি কোটি বেকার তাকিয়ে রয়েছে একটা কাজের আশায়? আর বাকিরা, কাজ হারানোর ভয়ে বিনিদ্র রাত কাটান, ঘরের কোণে দলা পাকিয়ে। হয়তো সব খোঁজ রাখেন। তাই তো এই ভোটের মরশুমে মুম্বইয়ের দেওয়াল ঝলসে ওঠে দড়ি টানাটানির লড়াই। এই প্রথম।
হয়তো আগামী দিনে গোটা দেশের দেওয়ালগুলির দখল নিয়ে ব্যাঙ্কসিও হয়ে উঠবেন ভারতীয় রাজনীতিবিদদের চক্ষুশূল। ব্যাঙ্কসির এই গ্রাফিতি যে সবহারার সব পাওয়ার...! কিন্তু, ব্যাঙ্কসিকে ধরবে কে? নিউ ইয়র্কার-এর লেখক লরেন কলিনসকে ব্যাঙ্কসি বলেছিলেন, ‘নিজেকে অজ্ঞাত রাখার কিছু সমস্যা আছে। একবার আমার প্রিয় এক পাবে একটা চিত্রকর্ম দিয়েছিলাম। সেটা তারা তাদের বারের উপরে ঝুলিয়ে রেখেছিল। প্রচুর মানুষ সেই চিত্রকর্মটা নিয়ে পাবের লোকজনের কাছে প্রশ্ন করত। তাই আমি দু’বছর সেদিকে যাইনি। আসলে পত্রিকায় আপনার কাজ প্রকাশিত হওয়া একটা নির্বোধের মতো ব্যাপার, যদি আপনি অন্তত নির্দিষ্ট মাত্রা পর্যন্ত অজ্ঞাত থাকতে চান। আপনি কে সেটা অন্যরা জানে না, এটা আমার কাছে ভালো লাগে। আমার খোঁজে আমার ডিলারের বাবার দোকানেও পৌঁছে গিয়েছিল ডেইলি মেলের সাংবাদিকরা। লস অ্যাঞ্জেলেসে একবার আমি রাস্তায় আঁকছিলাম, সেই সময় এক গৃহহীন তরুণ কাছে এসে বলল, আপনি কি বাঙ্কসি? পরদিনই আমি লস অ্যাঞ্জেলেস ছেড়ে চলে আসি।’
সত্যিই তো, এ যুগে সবাই যখন প্রতি মুহূর্তে বিখ্যাত হতে চান, তখন ব্যাঙ্কসির মতো নিজের পরিচয় গোপন রাখা... কঠোর অনুশীলন বটে!
23rd  May, 2019
বিধানসভা ভোট কিন্তু হবে মমতাকে দেখেই
শান্তনু দত্তগুপ্ত 

ইন্দিরা গান্ধীর টার্গেট ছিল একটাই। যেভাবে হোক সিপিএমের কোমর ভেঙে দিতে হবে। তিনি মনে করতেন, সিপিএম আসলে সিআইএ’র মদতপুষ্ট। ঠিকঠাক সুযোগ পেলে পূর্ববঙ্গ এবং পশ্চিমবঙ্গে সশস্ত্র আন্দোলন করিয়ে বৃহত্তর বাংলা গঠন করে ফেলবে। কাজেই বাংলা কংগ্রেস এবং সিপিআই পছন্দের তালিকায় থাকলেও সিপিএমকে মোটে বরদাস্ত করতে পারতেন না ইন্দিরা।
বিশদ

ডাক্তারবাবুদের গণ-ইস্তফা নজিরবিহীন,
কিন্তু তাতে কি হাসপাতাল সমস্যা মিটবে?

 এ-কথাও তো সত্যি যে, হাসপাতালের পরিকাঠামোগত উন্নয়নে বা ডাক্তারবাবুদের যথাযথ নিরাপত্তা বিধানে তাঁর সদিচ্ছা আছে এবং ইতিমধ্যেই তার যথেষ্ট প্রমাণ মিলেছে। এই অচলাবস্থা কাটাতে প্রবীণদের বৈঠকে ডেকে মুখ্যমন্ত্রী সমাধানসূত্র খুঁজছেন— সেটাও কি ওই সদিচ্ছারই নামান্তর নয়? বিশদ

16th  June, 2019
নরেন্দ্র মোদির মালদ্বীপ সফর এবং ভারত মহাসাগরে ভারতের নতুন রণনীতি
গৌরীশঙ্কর নাগ

 মোদিজির এই দ্বীপপুঞ্জ-সফর কেবলমাত্র হাসি বিনিময় ও করমর্দনের রাজনীতি হবে না, বরং এর প্রধান অ্যাজেন্ডাই হল প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে মজবুত করা। তবে সেটা করতে গিয়ে ভারত যেন দ্বীপপুঞ্জের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে অযথা হস্তক্ষেপ না করে বসে। কিন্তু তার অর্থ এই নয় যে, ভারত মালদ্বীপকে সন্ত্রাসবাদের নয়া ‘আঁতুড়ঘর’ হতে দেবে। কারণ ইতিমধ্যেই আমরা দেখেছি পাকিস্তান, আফগানিস্তান এমনকী মধ্যপ্রাচ্য থেকেও জেহাদি নেটওয়ার্কের কারবার মালদ্বীপেও পৌঁছে গিয়েছে। এই র‌্যাডিক্যালিজমের একমাত্র দাওয়াই হল অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও তার সহায়ক শক্তি হিসেবে রাজনৈতিক স্থিরতা।
বিশদ

15th  June, 2019
সতর্কতার সময়
সমৃদ্ধ দত্ত

 ভারতীয় সংস্কৃতির সনাতন ধারাটি হল দিবে আর নিবে, মিলিবে মেলাবে। কিন্তু সেই সংস্কৃতি থেকে আমাদের সরিয়ে এনেছে অসহিষ্ণুতা আর স্বল্পবিদ্যা। আর সবথেকে বেশি জায়গা করে নিয়েছে বিদ্বেষ। রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের প্রতি বিদ্বেষ।
বিশদ

14th  June, 2019
ক্ষমতার ‘হিন্দি’ মিডিয়াম
শান্তনু দত্তগুপ্ত

 উত্তর ভারতের সঙ্গে দক্ষিণের সীমারেখা। আর তার কারিগর আমরাই। আমাদের কাছে সাউথ ইন্ডিয়ান মানে মাদ্রাজি। দক্ষিণ ভারতের লোকজন নারকেল তেল খায়, অদ্ভুত ওদের উচ্চারণ, লুঙ্গি পরে বিয়েবাড়ি যায়... হাজারো আলোচনা। উত্তর ভারত মানে বিষম একটা নাক উঁচু ব্যাপার। আর দক্ষিণ মানেই রসিকতার খোরাক। তাই ওদের একটু ‘মানুষ’ করা দরকার। কীভাবে সেটা সম্ভব? হিন্দি শেখাতে হবে। বিশদ

13th  June, 2019
বারুদের স্তূপের উপর পশ্চিমবঙ্গ
হিমাংশু সিংহ

সংসদীয় রাজনীতিতে কিছুই চিরস্থায়ী নয়। কারও মৌরসিপাট্টাই গণতন্ত্রে বেশিদিন টেকে না। সব সাজানো বাগানই একদিন শুকিয়ে যায় কালের নিয়মে। ইতিহাস কয়েক বছর অন্তর ফিরে ফিরে আসে আর ধুরন্ধর শাসককে চরম শিক্ষা দিয়ে তাঁকে, তাঁর ক্ষমতাকে ধুলোয় লুটিয়ে দিয়ে আবার ফকির করে দিয়ে যায়। সব ক্ষমতা এক ভোটে বিলীন। ধূলিসাৎ। আর এখানেই মহান গণতন্ত্রের জিত আর চমৎকারিত্ব। আর সেই দিক দিয়ে ২৩ মে-র ফল এই পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিকেও আবার এক মহান সন্ধিক্ষণের দিকেই যেন ঠেলে দিয়েছে। ‘বিয়াল্লিশে বিয়াল্লিশ’ হয়নি, ‘২০১৯ বিজেপি ফিনিশ’—তাও হয়নি। উল্টে সারাদেশে বিজেপি থ্রি-নট-থ্রি (অর্থাৎ ৩০৩টি) আসন জিতে তাক লাগিয়ে দিয়েছে ভোট-পণ্ডিতদের।
বিশদ

11th  June, 2019
মোদিজি কি ‘সবকা বিশ্বাস’ অর্জন করতে পারবেন?
পি চিদম্বরম

 নরেন্দ্র মোদি এবার যে জনাদেশ পেয়েছেন তা অনস্বীকার্যভাবে বিপুল। যদিও, অতীতে লোকসভা নির্বাচনে একটি পার্টি ৩০৩-এর বেশি আসন জেতার একাধিক দৃষ্টান্ত আছে। যেমন ১৯৮০ সালে ইন্দিরা গান্ধী ৩৫৩ এবং ১৯৮৪ সালে রাজীব গান্ধী ৪১৫ পেয়েছিলেন।
বিশদ

10th  June, 2019
 বিজেপি এ রাজ্যের বিধানসভা ভোটকে
কঠিন চ্যালেঞ্জ মনে করছে কেন?
শুভা দত্ত

 কয়েকদিনের মধ্যে বেশ কয়েকটি মর্মান্তিক খুনের ঘটনা ঘটে গেল রাজ্যের উত্তর থেকে দক্ষিণে। তাই আজও একই প্রসঙ্গ দিয়ে এই নিবন্ধ শুরু করতে হচ্ছে। গত সপ্তাহেই লিখেছিলাম, ভোটফল প্রকাশের পর রাজ্যের বেশ কিছু এলাকায় যেন একটা হিংসার বাতাবরণ তৈরি হয়েছে।
বিশদ

09th  June, 2019
ইচ্ছে-ডানায় নাচের তালে
অতনু বিশ্বাস

এ বছরের সিবিএসই পরীক্ষার ফল বেরতে দেখা গেল, প্রথম হয়েছে দু’টি মেয়ে। একসঙ্গে। ৫০০-র মধ্যে তারা পেয়েছে ৪৯৯ করে। দু’জনেই আবার আর্টসের ছাত্রী। না, পরীক্ষায় আজকাল এত এত নম্বর উঠছে, কিংবা আর্টস বিষয় নিয়েও প্রচুর নম্বর তুলে বোর্ডের পরীক্ষায় র‍্যাঙ্ক করা যায় আজকাল—এগুলোর কোনওটাই আমার আলোচনার বিষয়বস্তু নয়।
বিশদ

08th  June, 2019
ভারতের রাজনীতিতে ‘গেম মেকার’
মৃণালকান্তি দাস

মেধাবী হলেই যে পড়ুয়ার জন্য মোটা বেতনের চাকরি নিশ্চিত, তার কোনও গ্যারান্টি নেই। শুধু প্রতিভা থাকলে আর পরিশ্রমী হলেই হবে না, উপযুক্ত প্রশিক্ষণ এবং ঠিকঠাক ‘গাইড’ না পাওয়ায় পড়ুয়ারা আজ আর সরকারি চাকরির লক্ষ্যভেদ করতে পারেন না।
বিশদ

07th  June, 2019
অবিজেপি ভোটে বাজিমাত
বিজেপির, এবং তারপর...
মেরুনীল দাশগুপ্ত

আলোড়ন! নিঃসন্দেহে একটা জবরদস্ত আলোড়ন উঠেছে। লোকসভা ভোটফল প্রকাশ হওয়া ইস্তক সেই আলোড়নের দাপটে রাজ্য-রাজনীতি থেকে সাধারণের অন্দরমহল জল্পনা-কল্পনা, বিবাদ-বিতর্ক, আশা-আশঙ্কায় যাকে বলে রীতিমতো সরগরম! পথেঘাটে আকাশে বাতাসে যেখানে সেখানে ছিটকে উঠছে উৎকণ্ঠা নানান জিজ্ঞাসা।
বিশদ

06th  June, 2019
কর্ণাটক পুরনির্বাচন: আবার উল্টালো ভোটফল
শুভময় মৈত্র 

নির্বাচনে ভোটফল নিয়ে কখন যে কী ঘটছে তার ব্যাখ্যা পাওয়া যাচ্ছে না মোটেই। মানুষ অবশ্যই মত বদলাবেন। সে স্বাধীনতা তাঁদের আছে। সে জন্যেই তো ভোটফল বদলায়। নাহলে সংসদীয় গণতন্ত্রের কোনও অর্থই থাকে না।  
বিশদ

04th  June, 2019
একনজরে
  ফিলাডেলফিয়া ও লোয়া, ১৭ জুন (এপি): মার্কিন মুলুকে ফের বন্দুকবাজের হামলা। পার্টি চলাকালীন ফিলাডেলফিয়ায় গুলিবিদ্ধ হয়ে মৃত্যু হল এক পড়ুয়ার। জখম হয়েছে আরও ৮ জন। রবিবার রাত সাড়ে ১০টার কিছুটা আগে সাউথ সেভেনটি স্ট্রিট এবং রিড বার্ড স্ট্রিটের কাছে ...

 দীপ্তিমান মুখোপাধ্যায়, হাওড়া: জেলার সেচবাঁধ ও শর্ট কাট চ্যানেলগুলির অবস্থা খতিয়ে দেখে পঞ্চায়েত সমিতিগুলিকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিল জেলা প্রশাসন। আগামী কয়েকদিনের মধ্যেই রাজ্যে বর্ষা ঢুকবে বলে জেলা প্রশাসনের কর্তারা মনে করছেন। ...

 সৌম্যজিৎ সাহা  কলকাতা: রাজ্যে ক্রমশ কমছে ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের আসন। গতবার যেখানে ৩১ হাজারের বেশি আসন ছিল, এবার তা আরও কমে হয়েছে ২৯ হাজার ৬৫৯টি আসন। প্রাথমিক হিসেবে এই তথ্য মিলেছে। যদিও এখনও দু’টি কলেজ এবং কয়েকটি বিষয়ের আসন যুক্ত হওয়ার ...

সংবাদদাতা, আলিপুরদুয়ার: বিধানসভা ভোটের দিকে লক্ষ্য রেখে আলিপুরদুয়ারে জেলা জুড়ে ফের সদস্য সংগ্রহ অভিযানে নামছে বিজেপি। কিভাবে এই সদস্য সংগ্রহ হবে তার জন্য প্রশিক্ষণ নিতে দলের জেলা ও মণ্ডল কমিটির চার নেতার নাম কলকাতায় পাঠানো হয়েছে।   ...




আজকের দিনটি কিংবদন্তি গৌতম
৯১৬৩৪৯২৬২৫ / ৯৮৩০৭৬৩৮৭৩

ভাগ্য+চেষ্টা= ফল
  • aries
  • taurus
  • gemini
  • cancer
  • leo
  • virgo
  • libra
  • scorpio
  • sagittorius
  • capricorn
  • aquarius
  • pisces
aries

উচ্চতর বিদ্যায় সাফল্য আসবে। প্রেম-ভালোবাসায় আগ্রহ বাড়বে। পুরনো বন্ধুর সঙ্গে সাক্ষাতে আনন্দলাভ হবে। সম্ভাব্য ক্ষেত্রে ... বিশদ


ইতিহাসে আজকের দিন

১৯৩৬- রুশ সাহিত্যিক ম্যাক্সিম গোর্কির মৃত্যু
১৯৮৭- পরিচালক হীরেন বসুর মৃত্যু
২০০৫- ক্রিকেটার মুস্তাক আলির মৃত্যু
২০০৯- প্রখ্যাত সরোদ শিল্পী আলি আকবর খানের মৃত্যু  

ক্রয়মূল্য বিক্রয়মূল্য
ডলার ৬৮.৯৯ টাকা ৭০.৬৮ টাকা
পাউন্ড ৮৬.৩৪ টাকা ৮৯.৫৫ টাকা
ইউরো ৭৬.৭৯ টাকা ৭৯.৭৬ টাকা
[ স্টেট ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়া থেকে পাওয়া দর ]
পাকা সোনা (১০ গ্রাম) ৩৩,৩২৫ টাকা
গহনা সোনা (১০ (গ্রাম) ৩১,৬১৫ টাকা
হলমার্ক গহনা (২২ ক্যারেট ১০ গ্রাম) ৩২,০৯০ টাকা
রূপার বাট (প্রতি কেজি) ৩৭,১০০ টাকা
রূপা খুচরো (প্রতি কেজি) ৩৭,২০০ টাকা
[ মূল্যযুক্ত ৩% জি. এস. টি আলাদা ]

দিন পঞ্জিকা

৩ আষা‌ঢ় ১৪২৬, ১৮ জুন ২০১৯, মঙ্গলবার, প্রতিপদ ২৩/৫৮ দিবা ২/৩১। মূলা ১৭/১৬ দিবা ১১/৫০। সূ উ ৪/৫৬/০, অ ৬/১৮/৫৪, অমৃতযোগ দিবা ৭/৩৬ মধ্যে পুনঃ ৯/২৩ গতে ১২/৩ মধ্যে পুনঃ ৩/৩৮ গতে ৪/৩১ মধ্যে। রাত্রি ৭/১ মধ্যে পুনঃ ১১/৫৮ গতে ২/৬ মধ্যে, বারবেলা ৬/৩৭ গতে ৮/১৭ মধ্যে পুনঃ ১/১৮ গতে ২/৫৮ মধ্যে, কালরাত্রি ৭/৩৯ গতে ৮/৫৮ মধ্যে। 
২ আষাঢ় ১৪২৬, ১৮ জুন ২০১৯, মঙ্গলবার, প্রতিপদ ২২/২২/৩৮ দিবা ১/৫২/৩৩। মূলানক্ষত্র ১৭/২৭/২৯ দিবা ১১/৫৪/৩০, সূ উ ৪/৫৫/৩০, অ ৬/২১/২৮, অমৃতযোগ দিবা ৭/৪০ মধ্যে ও ৯/২৭ গতে ১২/৮ মধ্যে ও ৩/৪২ গতে ৪/৩৫ মধ্যে এবং রাত্রি ৭/৫ মধ্যে ও ১২/২ গতে ২/৯ মধ্যে, বারবেলা ৬/৩৬/১৫ গতে ৮/১৬/৫৯ মধ্যে, কালবেলা ১/১৯/১৩ গতে ২/৫৯/৫৮ মধ্যে, কালরাত্রি ৭/৪০/৪৩ গতে ২/৫৯/৫৯ মধ্যে। 
মোসলেম: ১৪ শওয়াল 

ছবি সংবাদ

এই মুহূর্তে
বিশ্বকাপ: আফগানিস্তানকে ১৫০ রানে হারাল ইংল্যান্ড

10:48:34 PM

স্বাস্থ্য ক্ষেত্রে নিরাপত্তা, চালু কলকাতা পুলিসের হেল্প লাইন 
গতকাল মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশ পাওয়ার পর স্বাস্থ্য ক্ষেত্রে নিরাপত্তা জনিত সমস্যার ...বিশদ

09:48:24 PM

বিশ্বকাপ: আফগানিস্তান ৮৬/২ (২০ ওভার) 

08:17:00 PM

দার্জিলিং পুরসভায় প্রশাসক নিয়োগ করল রাজ্য সরকার 

08:08:39 PM

জাপানে বড়সড় ভূমিকম্প, মাত্রা ৬.৫, জারি সুনামি সতর্কতা 

07:34:58 PM

বিশ্বকাপ: আফগানিস্তান ৪৮/১ (১০ ওভার) 

07:05:00 PM