Bartaman Patrika
বিশেষ নিবন্ধ
 

মোদির প্রত্যাবর্তন
 শান্তনু দত্তগুপ্ত

ঘড়ি ধরে ঘুম ভেঙেছিল ঠিক সকাল ৫টায়। প্রথমে নিয়মমাফিক যোগব্যায়াম, তারপর খবরে চোখ রাখা। নাঃ, সব শান্তিতেই আছে... নিশ্চিন্ত মনে ব্রেকফাস্ট নিয়ে বসলেন মুখ্যমন্ত্রী। সাড়ে ৮টা নাগাদ খবর আসা শুরু হল... কিছু একটা হয়েছে গোধরায়... কয়েকজন মারা গিয়েছে। সংখ্যাটা বাড়তেও পারে... ট্রেনে কিছু... এখনও শিওর হওয়া যাচ্ছে না। সেদিন আবার বিধানসভায় বাজেট পেশ। খবর নিতে বলে রওনা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী। চিন্তা একটা রয়েই গেল। তার আগের বছর, মানে ২০০১ সালের অক্টোবর মাসে দায়িত্ব বুঝে নিয়েছিলেন কেশুভাই প্যাটেলের থেকে... আর বিধায়ক হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছেন এই পরশু দিন... ২৫ ফেব্রুয়ারি। ঝড়ের বেগে খবর আসতে শুরু করল বিধানসভায় পৌঁছনোর পর। সবরমতী এক্সপ্রেস... করসেবক... গণহত্যা... আগুন... মহিলা... শিশু। তখনই বুঝেছিলেন দিনটা বড্ড দীর্ঘ হতে চলেছে। কিন্তু ওই একটা ২৭ ফেব্রুয়ারির অভিশাপ কবলিত দিন যে মাস, বছর, দশক পেরিয়েও নিষ্কৃতি দেবে না, তা দুঃস্বপ্নেও ভাবেননি গুজরাতের মুখ্যমন্ত্রী। হিংসার মেঘের আড়াল থেকে যখন একটু আলো দেখা গেল, ততক্ষণে এক হাজারের উপর মানুষ ধর্মের নামে উস্কানির শিকার হয়ে গিয়েছেন। সবরমতী কাণ্ডের পরই চেষ্টা করেছিলেন, পরিস্থিতি যাতে হাতের বাইরে না যায়। প্রতিবেশী রাজ্যগুলির থেকে পুলিসি সাহায্য পাননি... কেন্দ্রের বিজেপি সরকারের কাছে সেনার জন্যে দরবার করেও লাভ হয়নি। বলা হয়েছিল, সংসদ হামলার পর সীমান্তে পাকিস্তানের সঙ্গে প্রবল টানাপোড়েন চলছে... ওখান থেকে সেনা সরানো যাবে না। দূরদর্শনের পর্দায় হাতজোড় করে আবেদন রেখেছিলেন... সরকারকে সাহায্য করুন, অশান্তি ছড়াবেন না... কাজ হয়নি। রাজ্যের দায়িত্ব তাঁর কাঁধে... দায়টাও তো নিতে হবে! তাই ওই ঘটনার পর থেকে নরেন্দ্র মোদি খুনি, মওত কা সওদাগর, হিন্দুত্বের নামে দাঙ্গা ছড়ানোর কারিগর। ১২ বছর পর যখন তিনি প্রধানমন্ত্রী পদের দাবিদার, তখনও পিছু ছাড়েনি গোধরার ভূত। কেউ তখন বলেনি, গুজরাতে গত এক দশকে তো কোনও দাঙ্গা হয়নি! উন্নয়নের রূপকার বা ভালো প্রশাসক নয়, প্রচার হয়েছিল তাঁর হিন্দু মেরুকরণ নিয়ে। মানুষ কিন্তু অন্য কিছু ভেবেছিল। তাই তিন দশক পর একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সরকার গড়েছিল বিজেপি... নরেন্দ্র মোদি দেখিয়ে দিয়েছিলেন, এভাবেও ফিরে আসা যায়। পাঁচ বছর পরও প্রমাণ করলেন তিনি... আরও একবার।
আসলে আমরা যারা নিজেদের দারুণ পণ্ডিত বলে মনে করি, তারা একটা ঘটনা বা একজন ব্যক্তির সামনেটা শুধু দেখি। তাকেই বাস্তব ভেবে সেটাকে কাটাছেঁড়া করে নিজের মনের মতো একটা চেহারা খাড়া করে ফেলি। না দেখা বা না বোঝা অনেক কিছুই আড়ালে থেকে যায়। মোদির ক্ষেত্রেও কিন্তু বারবার এমনটাই হয়েছে। আর তাই বিরোধী বা মিডিয়ার প্রচার যে সুরেই বাঁধা থাক না কেন, জনমত পাশে থেকেছে নরেন্দ্র মোদির। এই লোকসভা নির্বাচনেও। এবার প্রশ্ন হল, নানাবিধ মিসাইল মার্কা বিরোধী আক্রমণ সত্ত্বেও অধিকাংশ ভোটার নরেন্দ্র মোদির উপরই কেন আস্থা রাখলেন?
প্রথমে দেখা যাক, বিজেপি তথা নরেন্দ্র মোদি কেন এত ভোট পেলেন। এই লোকসভা নির্বাচন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, এমন মেরুকরণের ভোট স্বাধীনতার পর ভারত আর দেখেনি। ধর্মীয় মেরুকরণ, সামাজিক মেরুকরণ, ব্যক্তি মেরুকরণ... এবং মোদি তথা বিজেপি তাতে অবিশ্বাস্যভাবে সফল। গত এক বছর ধরে সোশ্যাল মিডিয়ায় বিজেপি যে ভয়ানক কৌশলে প্রচার চালিয়ে গিয়েছে, তা সমাজের সব স্তরে প্রভাব ফেলেছে। সঙ্গে রয়েছে বেনিফিশিয়ারি ভোট। উত্তরপ্রদেশ বা বিহারের প্রত্যন্ত গ্রামের যে মহিলাকে এতদিন রাত থাকতে ঘুমচোখে মাঠেঘাটে ছুটতে হতো... তাঁকে আর প্রাণ এবং সম্মান হাতে নিয়ে বেরতে হয় না। ‘টয়লেট’-এর জন্য মোদি সরকার যে কী আশীর্বাদ কুড়িয়েছে, তা শহরের মানুষের ধারণার বাইরে। কাঠ পুড়িয়ে আগুনে দগ্ধ হয়ে যাঁরা এতদিন রান্না করে এসেছেন, তাঁদের ঘরে পৌঁছেছে উজালা প্রকল্পের রান্নার গ্যাস।
এছাড়া রয়েছে তিন তালাক ইস্যু। বলা হয়েছিল, উত্তরপ্রদেশে এবার বিজেপি ধুয়েমুছে সাফ হয়ে যাবে। মহাজোটের জয় হবে। প্রিয়াঙ্কা গান্ধী বিশাল ফ্যাক্টর হয়ে বিজেপির ভোট কেটে নেবেন। সোনিয়া গান্ধী নিজে শুধু রায়বেরিলি কেন্দ্রে টিমটিম করে জ্বলছেন। আর সমাজবাদী পার্টি ও বহুজন সমাজ পার্টি মিলেজুলেও ২০ ছুঁতে পারল না। মাঝখান থেকে এই মহাজোটের ভোট কেটে নিয়ে প্রিয়াঙ্কা আসনের ডালি তুলে দিলেন মোদির হাতে। সব হিসেব উল্টে দিয়ে একাই ৬০ পেরিয়ে গেল বিজেপি। এবং দেখার মতো বিষয় হল, যে রাজস্থান, ছত্তিশগড়, মধ্যপ্রদেশে গত বিধানসভা ভোটে বিজেপি লেজেগোবরে হয়েছিল, সেই তিন রাজ্যই এবার জয়টীকা পরিয়েছে নরেন্দ্র মোদিকে। অর্থাৎ, গোটা দেশ মোদির বিরোধিতায় যা যা প্রচার চালিয়েছিল, তার সবগুলোই ফ্লপ। মানুষ পাশে দাঁড়িয়েছে মোদির। বিশেষ করে ৪৫ কোটি তরুণ প্রজন্ম।
১৮ থেকে ৪০ বছর বয়সি ভোটাররা এখনও মনে করে, নরেন্দ্র মোদির হাতেই দেশ নিরাপদ। পাকিস্তান একটা মারলে মোদি ওদের ঘরে ঢুকে পাল্টা মেরে আসবে। একটা জঙ্গি হানা পাকিস্তানি জঙ্গিরা করলে, মোদি সরকার সার্জিকাল স্ট্রাইক করবে। আবার বালাকোট হবে। এটা ঠিক, পাঁচ বছর আগে কিন্তু বিজেপি প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, প্রতি বছর ২ কোটি কর্মসংস্থানের। মোদি আরও বলেছিলেন, বিদেশ থেকে সব কালো টাকা এনে সাধারণ মানুষের প্রত্যেকের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে ১৫ লক্ষ টাকা করে ভরে দেবেন। এর কোনওটাই পূরণ হয়নি। তা সত্ত্বেও তরুণ ভোটাররা ঢেলে সমর্থন দিয়েছেন মোদিকে। কারণ এই প্রজন্ম বিলক্ষণ জানে, বিরোধী যে দলগুলি মোদির বিরুদ্ধে লড়ছে, তারা কেউ দেশে একটা স্থিতিশীল সরকার দেওয়ার মতো জায়গায় নেই। তাই জনমত একজনের পক্ষেই যেতে পারে, নরেন্দ্র মোদি।
এবার বিরোধীরা কেন হালে পানি পেল না, তার সম্ভাব্য কারণ। সবার আগে রাহুল গান্ধী। রাফাল দুর্নীতি নিয়ে দিনের পর দিন নরেন্দ্র মোদিকে আক্রমণ করে গিয়েছেন কংগ্রেস সভাপতি। ভোটের এই পরীক্ষায় প্রথম দিকে সাধারণ মানুষের থেকে কিছুটা নম্বরও পেয়েছিলেন তিনি। কিন্তু দিন যত গড়িয়েছে, ততই পিছনের সারিতে চলে গিয়েছেন রাহুল। মানুষ ভেবে নিয়েছে, রাহুল গান্ধী প্রধানমন্ত্রী মেটেরিয়াল নন। বরং মোদি বিরোধিতায় গোটা দেশে তখন দেখা গিয়েছিল একটাই মুখ, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। রাজ্যের ৪২টি আসন সম্বল করেও প্রধানমন্ত্রীকে চ্যালেঞ্জ ছোঁড়ার ক্ষমতা দেখিয়েছিলেন তিনি। চেয়েছিলেন আঞ্চলিক দলগুলিকে একজোট করে মোদিকে হটিয়ে দেবেন। তিনি বুঝেছিলেন, মোদিকে যদি হারাতে হয়, তাহলে হাতের পাঁচটা আঙুল আলাদা থাকলে কাজের কাজ কিছু হবে না। বরং প্রয়োজন মুষ্টিবদ্ধ হাতের। একের বিরুদ্ধে এক প্রার্থী—এই ছিল তাঁর ফর্মুলা। কিন্তু ভোটের আগে তাঁর সেই উদ্যোগে বাকি আঞ্চলিক দলগুলি কার্যত জলই ঢেলে দিল। প্রাক-নির্বাচন জোট হল না। প্রত্যেকটি আঞ্চলিক দল নিজের নিজের এজেন্ডায় ব্যস্ত।
ইভিএমের বোতামে প্রথম চাপ পড়ার আগেই মায়াবতীর মতো নেত্রীরা লাফাতে শুরু করলেন, প্রধানমন্ত্রী হতে তাঁর আপত্তি নেই। একজন ভোটার কখনও এই প্রবণতাকে ভালোভাবে নেয়নি, নিতে পারে না। পরিস্থিতি অনুকূল হলে এমন দাবিদার যে আরও তৈরি হবে, সে নিয়ে রাস্তার মোড়ে মোড়ে চর্চা হয়েছে। তার উপর কংগ্রেসের নামে বহু আঞ্চলিক দলের অ্যালার্জি। এও একটা বড় কারণ। কংগ্রেস বা কোনও বড় জাতীয় দলের সঙ্গ ছাড়া যে মহাজোট সম্ভব হতে পারে, তা দেশের ভোটাররা এখনও বিশ্বাস করে না। এই এতগুলো সমীকরণ ইউপিএ এবং প্রস্তাবিত মহাজোটের বিপক্ষে গিয়েছে। দিনের শেষে লাভ হয়েছে শুধুই মোদির। সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির এমন উত্থান। প্রায় ৪০ শতাংশ ভোট দখল করে এই রাজ্যে প্রধান বিরোধী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়ে গেল গেরুয়া শিবির। সেই অর্থে কোনও মুখ না থাকা সত্ত্বেও। ২০১৪ সালের লোকসভা ভোটে মাত্র দু’টি আসনকে ১৮টিতে নিয়ে যাওয়া কম কথা নয়! এর নেপথ্য কারণ নিয়ে এখন প্রচুর কাটাছেঁড়া চলবে। বিশ্লেষণও হবে। কিন্তু দু’বছর পর বাংলার বিধানসভা নির্বাচন যে তৃণমূলের কাছে খুব সহজ হবে না, তা এখন দিনের আলোর মতো পরিষ্কার।
এবং সর্বোপরি বৃহস্পতিবার প্রমাণ হয়ে গেল, এই মুহূর্তে নরেন্দ্র মোদিই দেশের যোগ্যতম প্রধানমন্ত্রী। এক্সিট পোলের অনুমান অক্ষরে অক্ষরে মিলিয়ে তিনিই ফিরছেন... আবার। একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে। অন্তরায় তো অনেক কিছুই ছিল... নোট বাতিল, জিএসটি, ধর্মের মেরুকরণ...। তা সত্ত্বেও মানুষের রায় গেল মোদিরই পক্ষে। ফল ঘোষণার দিন দুয়েক আগে এক দোকানদার বলছিলেন, ‘মোদি আবার এলে কিন্তু ভালো হবে না দাদা... র‌্যাঁদা দিয়ে যেভাবে কাঠের টুকরো অল্প অল্প করে চেঁছে তোলে, ঠিক সেই অবস্থা হবে দেশের।’ এটাও একটা মত। কিন্তু গোটা দেশের নয়। আর একটি ঘটনা... লাঠি হাতে হেঁটে যাওয়া ষাটোর্ধ্ব এক বৃদ্ধের প্রায় গা ঘেঁষে এগিয়ে গেল একটি রিকশ। বৃদ্ধ মানুষটি ভয়ে দাঁড়িয়ে গেলেন।
তারপর লাঠি উঁচিয়ে বললেন, ‘২৩ তারিখ মোদি আসছে... তারপর তোদের দেখে নেব।’ এ তাহলে কোন মেরুকরণ? সামাজিক, ধর্মীয়, নাকি ব্যক্তি? হয়তো কোনওটাই নয়। নরেন্দ্র মোদি মানুষের মধ্যে একটা সাহস ঢুকিয়ে দিতে পেরেছেন। কোনও কিছুর ভয় বা স্বার্থের জন্য চুপ থাকার দিন শেষ। ছোবল না দিলেও ফোঁসটা করতেই হবে। আর একটা সমীকরণও আছে। যে পরিমাণ ভোট দেশজুড়ে বিজেপি এবারও পেয়েছে, তাতে আর বলা যাবে না ‘ওরা’ সাম্প্রদায়িক দল। প্রচুর মুসলিম ভোট এবার নির্ণায়ক শক্তি হয়ে মোদিকে দিল্লির কুর্সির দিকে আরও একবার ঠেলে দিয়েছে। পশ্চিমবঙ্গের সংখ্যালঘু প্রভাবিত বেশ কিছু আসনও তার বড় প্রমাণ।
মওত কা সওদাগর, দাঙ্গাবাজ, মুসলিম বিরোধী... প্রচার যাই হোক না কেন, ভারত কিন্তু দেখিয়ে দিল, এসবের কোনও ভিত্তি নেই। তাই আবার মোদি সরকার... ভারতীয় জনতা পার্টি নয়, মোদি জনতা পার্টি। এমজেপি... এভাবেই ফিরে আসতে হয়। ‘অন্ধ হলে কি প্রলয় বন্ধ থাকে?’ 
24th  May, 2019
বিধানসভা ভোট কিন্তু হবে মমতাকে দেখেই
শান্তনু দত্তগুপ্ত 

ইন্দিরা গান্ধীর টার্গেট ছিল একটাই। যেভাবে হোক সিপিএমের কোমর ভেঙে দিতে হবে। তিনি মনে করতেন, সিপিএম আসলে সিআইএ’র মদতপুষ্ট। ঠিকঠাক সুযোগ পেলে পূর্ববঙ্গ এবং পশ্চিমবঙ্গে সশস্ত্র আন্দোলন করিয়ে বৃহত্তর বাংলা গঠন করে ফেলবে। কাজেই বাংলা কংগ্রেস এবং সিপিআই পছন্দের তালিকায় থাকলেও সিপিএমকে মোটে বরদাস্ত করতে পারতেন না ইন্দিরা।
বিশদ

ডাক্তারবাবুদের গণ-ইস্তফা নজিরবিহীন,
কিন্তু তাতে কি হাসপাতাল সমস্যা মিটবে?

 এ-কথাও তো সত্যি যে, হাসপাতালের পরিকাঠামোগত উন্নয়নে বা ডাক্তারবাবুদের যথাযথ নিরাপত্তা বিধানে তাঁর সদিচ্ছা আছে এবং ইতিমধ্যেই তার যথেষ্ট প্রমাণ মিলেছে। এই অচলাবস্থা কাটাতে প্রবীণদের বৈঠকে ডেকে মুখ্যমন্ত্রী সমাধানসূত্র খুঁজছেন— সেটাও কি ওই সদিচ্ছারই নামান্তর নয়? বিশদ

16th  June, 2019
নরেন্দ্র মোদির মালদ্বীপ সফর এবং ভারত মহাসাগরে ভারতের নতুন রণনীতি
গৌরীশঙ্কর নাগ

 মোদিজির এই দ্বীপপুঞ্জ-সফর কেবলমাত্র হাসি বিনিময় ও করমর্দনের রাজনীতি হবে না, বরং এর প্রধান অ্যাজেন্ডাই হল প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে মজবুত করা। তবে সেটা করতে গিয়ে ভারত যেন দ্বীপপুঞ্জের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে অযথা হস্তক্ষেপ না করে বসে। কিন্তু তার অর্থ এই নয় যে, ভারত মালদ্বীপকে সন্ত্রাসবাদের নয়া ‘আঁতুড়ঘর’ হতে দেবে। কারণ ইতিমধ্যেই আমরা দেখেছি পাকিস্তান, আফগানিস্তান এমনকী মধ্যপ্রাচ্য থেকেও জেহাদি নেটওয়ার্কের কারবার মালদ্বীপেও পৌঁছে গিয়েছে। এই র‌্যাডিক্যালিজমের একমাত্র দাওয়াই হল অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও তার সহায়ক শক্তি হিসেবে রাজনৈতিক স্থিরতা।
বিশদ

15th  June, 2019
সতর্কতার সময়
সমৃদ্ধ দত্ত

 ভারতীয় সংস্কৃতির সনাতন ধারাটি হল দিবে আর নিবে, মিলিবে মেলাবে। কিন্তু সেই সংস্কৃতি থেকে আমাদের সরিয়ে এনেছে অসহিষ্ণুতা আর স্বল্পবিদ্যা। আর সবথেকে বেশি জায়গা করে নিয়েছে বিদ্বেষ। রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের প্রতি বিদ্বেষ।
বিশদ

14th  June, 2019
ক্ষমতার ‘হিন্দি’ মিডিয়াম
শান্তনু দত্তগুপ্ত

 উত্তর ভারতের সঙ্গে দক্ষিণের সীমারেখা। আর তার কারিগর আমরাই। আমাদের কাছে সাউথ ইন্ডিয়ান মানে মাদ্রাজি। দক্ষিণ ভারতের লোকজন নারকেল তেল খায়, অদ্ভুত ওদের উচ্চারণ, লুঙ্গি পরে বিয়েবাড়ি যায়... হাজারো আলোচনা। উত্তর ভারত মানে বিষম একটা নাক উঁচু ব্যাপার। আর দক্ষিণ মানেই রসিকতার খোরাক। তাই ওদের একটু ‘মানুষ’ করা দরকার। কীভাবে সেটা সম্ভব? হিন্দি শেখাতে হবে। বিশদ

13th  June, 2019
বারুদের স্তূপের উপর পশ্চিমবঙ্গ
হিমাংশু সিংহ

সংসদীয় রাজনীতিতে কিছুই চিরস্থায়ী নয়। কারও মৌরসিপাট্টাই গণতন্ত্রে বেশিদিন টেকে না। সব সাজানো বাগানই একদিন শুকিয়ে যায় কালের নিয়মে। ইতিহাস কয়েক বছর অন্তর ফিরে ফিরে আসে আর ধুরন্ধর শাসককে চরম শিক্ষা দিয়ে তাঁকে, তাঁর ক্ষমতাকে ধুলোয় লুটিয়ে দিয়ে আবার ফকির করে দিয়ে যায়। সব ক্ষমতা এক ভোটে বিলীন। ধূলিসাৎ। আর এখানেই মহান গণতন্ত্রের জিত আর চমৎকারিত্ব। আর সেই দিক দিয়ে ২৩ মে-র ফল এই পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিকেও আবার এক মহান সন্ধিক্ষণের দিকেই যেন ঠেলে দিয়েছে। ‘বিয়াল্লিশে বিয়াল্লিশ’ হয়নি, ‘২০১৯ বিজেপি ফিনিশ’—তাও হয়নি। উল্টে সারাদেশে বিজেপি থ্রি-নট-থ্রি (অর্থাৎ ৩০৩টি) আসন জিতে তাক লাগিয়ে দিয়েছে ভোট-পণ্ডিতদের।
বিশদ

11th  June, 2019
মোদিজি কি ‘সবকা বিশ্বাস’ অর্জন করতে পারবেন?
পি চিদম্বরম

 নরেন্দ্র মোদি এবার যে জনাদেশ পেয়েছেন তা অনস্বীকার্যভাবে বিপুল। যদিও, অতীতে লোকসভা নির্বাচনে একটি পার্টি ৩০৩-এর বেশি আসন জেতার একাধিক দৃষ্টান্ত আছে। যেমন ১৯৮০ সালে ইন্দিরা গান্ধী ৩৫৩ এবং ১৯৮৪ সালে রাজীব গান্ধী ৪১৫ পেয়েছিলেন।
বিশদ

10th  June, 2019
 বিজেপি এ রাজ্যের বিধানসভা ভোটকে
কঠিন চ্যালেঞ্জ মনে করছে কেন?
শুভা দত্ত

 কয়েকদিনের মধ্যে বেশ কয়েকটি মর্মান্তিক খুনের ঘটনা ঘটে গেল রাজ্যের উত্তর থেকে দক্ষিণে। তাই আজও একই প্রসঙ্গ দিয়ে এই নিবন্ধ শুরু করতে হচ্ছে। গত সপ্তাহেই লিখেছিলাম, ভোটফল প্রকাশের পর রাজ্যের বেশ কিছু এলাকায় যেন একটা হিংসার বাতাবরণ তৈরি হয়েছে।
বিশদ

09th  June, 2019
ইচ্ছে-ডানায় নাচের তালে
অতনু বিশ্বাস

এ বছরের সিবিএসই পরীক্ষার ফল বেরতে দেখা গেল, প্রথম হয়েছে দু’টি মেয়ে। একসঙ্গে। ৫০০-র মধ্যে তারা পেয়েছে ৪৯৯ করে। দু’জনেই আবার আর্টসের ছাত্রী। না, পরীক্ষায় আজকাল এত এত নম্বর উঠছে, কিংবা আর্টস বিষয় নিয়েও প্রচুর নম্বর তুলে বোর্ডের পরীক্ষায় র‍্যাঙ্ক করা যায় আজকাল—এগুলোর কোনওটাই আমার আলোচনার বিষয়বস্তু নয়।
বিশদ

08th  June, 2019
ভারতের রাজনীতিতে ‘গেম মেকার’
মৃণালকান্তি দাস

মেধাবী হলেই যে পড়ুয়ার জন্য মোটা বেতনের চাকরি নিশ্চিত, তার কোনও গ্যারান্টি নেই। শুধু প্রতিভা থাকলে আর পরিশ্রমী হলেই হবে না, উপযুক্ত প্রশিক্ষণ এবং ঠিকঠাক ‘গাইড’ না পাওয়ায় পড়ুয়ারা আজ আর সরকারি চাকরির লক্ষ্যভেদ করতে পারেন না।
বিশদ

07th  June, 2019
অবিজেপি ভোটে বাজিমাত
বিজেপির, এবং তারপর...
মেরুনীল দাশগুপ্ত

আলোড়ন! নিঃসন্দেহে একটা জবরদস্ত আলোড়ন উঠেছে। লোকসভা ভোটফল প্রকাশ হওয়া ইস্তক সেই আলোড়নের দাপটে রাজ্য-রাজনীতি থেকে সাধারণের অন্দরমহল জল্পনা-কল্পনা, বিবাদ-বিতর্ক, আশা-আশঙ্কায় যাকে বলে রীতিমতো সরগরম! পথেঘাটে আকাশে বাতাসে যেখানে সেখানে ছিটকে উঠছে উৎকণ্ঠা নানান জিজ্ঞাসা।
বিশদ

06th  June, 2019
কর্ণাটক পুরনির্বাচন: আবার উল্টালো ভোটফল
শুভময় মৈত্র 

নির্বাচনে ভোটফল নিয়ে কখন যে কী ঘটছে তার ব্যাখ্যা পাওয়া যাচ্ছে না মোটেই। মানুষ অবশ্যই মত বদলাবেন। সে স্বাধীনতা তাঁদের আছে। সে জন্যেই তো ভোটফল বদলায়। নাহলে সংসদীয় গণতন্ত্রের কোনও অর্থই থাকে না।  
বিশদ

04th  June, 2019
একনজরে
  ফিলাডেলফিয়া ও লোয়া, ১৭ জুন (এপি): মার্কিন মুলুকে ফের বন্দুকবাজের হামলা। পার্টি চলাকালীন ফিলাডেলফিয়ায় গুলিবিদ্ধ হয়ে মৃত্যু হল এক পড়ুয়ার। জখম হয়েছে আরও ৮ জন। রবিবার রাত সাড়ে ১০টার কিছুটা আগে সাউথ সেভেনটি স্ট্রিট এবং রিড বার্ড স্ট্রিটের কাছে ...

সংবাদদাতা, কালনা: কালনা ফেরিঘাটের এবার নিলাম হতে অনলাইনে। ইতিমধ্যে কালনা পুরসভার তরফে অনলাইনে নিলামের বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়েছে। ১১ জুলাই নিলামের দিন ধার্য করা হয়েছে। পুরসভার পক্ষ থেকে নিলাম দর রাখা হয়েছে বাৎসরিক ৫০ লক্ষ টাকা।  ...

  মুম্বই, ১৭ জুন (পিটিআই): ৬৭ কোটি ৬৫ লক্ষ টাকা ঋণ পরিশোধ করতে ব্যর্থ হওয়ায় বিড়লা সূর্য সংস্থার ডিরেক্টর যশোবর্ধন বিড়লাকে ইচ্ছাকৃত ঋণখেলাপি ঘোষণা করল ইউকো ব্যাঙ্ক। রবিবার এ বিষয়ে জনস্বার্থে নোটিস জারি করেছে তারা। ...

  চেন্নাই, ১৭ জুন: তামিলনাড়ু পুলিসের এক সাব-ইন্সপেক্টরের বিশেষ রিপোর্টের ভিত্তিতে তিন আইএস সমর্থনকারীকে গ্রেপ্তার করল বিশেষ তদন্তকারী শাখা (এনআইএ)। ওই তিনজন কোয়েম্বাটোরের বিভিন্ন ধর্মীয়স্থানে আত্মঘাতী হামলার ছক করেছিল বলে পুলিসের দাবি। ধৃতদের নাম মহম্মদ হুসেন, শাহজাহান এবং শেখ সইফুল্লা। ...




আজকের দিনটি কিংবদন্তি গৌতম
৯১৬৩৪৯২৬২৫ / ৯৮৩০৭৬৩৮৭৩

ভাগ্য+চেষ্টা= ফল
  • aries
  • taurus
  • gemini
  • cancer
  • leo
  • virgo
  • libra
  • scorpio
  • sagittorius
  • capricorn
  • aquarius
  • pisces
aries

উচ্চতর বিদ্যায় সাফল্য আসবে। প্রেম-ভালোবাসায় আগ্রহ বাড়বে। পুরনো বন্ধুর সঙ্গে সাক্ষাতে আনন্দলাভ হবে। সম্ভাব্য ক্ষেত্রে ... বিশদ


ইতিহাসে আজকের দিন

১৯৩৬- রুশ সাহিত্যিক ম্যাক্সিম গোর্কির মৃত্যু
১৯৮৭- পরিচালক হীরেন বসুর মৃত্যু
২০০৫- ক্রিকেটার মুস্তাক আলির মৃত্যু
২০০৯- প্রখ্যাত সরোদ শিল্পী আলি আকবর খানের মৃত্যু  

ক্রয়মূল্য বিক্রয়মূল্য
ডলার ৬৮.৯৯ টাকা ৭০.৬৮ টাকা
পাউন্ড ৮৬.৩৪ টাকা ৮৯.৫৫ টাকা
ইউরো ৭৬.৭৯ টাকা ৭৯.৭৬ টাকা
[ স্টেট ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়া থেকে পাওয়া দর ]
পাকা সোনা (১০ গ্রাম) ৩৩,৩২৫ টাকা
গহনা সোনা (১০ (গ্রাম) ৩১,৬১৫ টাকা
হলমার্ক গহনা (২২ ক্যারেট ১০ গ্রাম) ৩২,০৯০ টাকা
রূপার বাট (প্রতি কেজি) ৩৭,১০০ টাকা
রূপা খুচরো (প্রতি কেজি) ৩৭,২০০ টাকা
[ মূল্যযুক্ত ৩% জি. এস. টি আলাদা ]

দিন পঞ্জিকা

৩ আষা‌ঢ় ১৪২৬, ১৮ জুন ২০১৯, মঙ্গলবার, প্রতিপদ ২৩/৫৮ দিবা ২/৩১। মূলা ১৭/১৬ দিবা ১১/৫০। সূ উ ৪/৫৬/০, অ ৬/১৮/৫৪, অমৃতযোগ দিবা ৭/৩৬ মধ্যে পুনঃ ৯/২৩ গতে ১২/৩ মধ্যে পুনঃ ৩/৩৮ গতে ৪/৩১ মধ্যে। রাত্রি ৭/১ মধ্যে পুনঃ ১১/৫৮ গতে ২/৬ মধ্যে, বারবেলা ৬/৩৭ গতে ৮/১৭ মধ্যে পুনঃ ১/১৮ গতে ২/৫৮ মধ্যে, কালরাত্রি ৭/৩৯ গতে ৮/৫৮ মধ্যে। 
২ আষাঢ় ১৪২৬, ১৮ জুন ২০১৯, মঙ্গলবার, প্রতিপদ ২২/২২/৩৮ দিবা ১/৫২/৩৩। মূলানক্ষত্র ১৭/২৭/২৯ দিবা ১১/৫৪/৩০, সূ উ ৪/৫৫/৩০, অ ৬/২১/২৮, অমৃতযোগ দিবা ৭/৪০ মধ্যে ও ৯/২৭ গতে ১২/৮ মধ্যে ও ৩/৪২ গতে ৪/৩৫ মধ্যে এবং রাত্রি ৭/৫ মধ্যে ও ১২/২ গতে ২/৯ মধ্যে, বারবেলা ৬/৩৬/১৫ গতে ৮/১৬/৫৯ মধ্যে, কালবেলা ১/১৯/১৩ গতে ২/৫৯/৫৮ মধ্যে, কালরাত্রি ৭/৪০/৪৩ গতে ২/৫৯/৫৯ মধ্যে। 
মোসলেম: ১৪ শওয়াল 

ছবি সংবাদ

এই মুহূর্তে
বিশ্বকাপ: আফগানিস্তানকে ১৫০ রানে হারাল ইংল্যান্ড

10:48:34 PM

স্বাস্থ্য ক্ষেত্রে নিরাপত্তা, চালু কলকাতা পুলিসের হেল্প লাইন 
গতকাল মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশ পাওয়ার পর স্বাস্থ্য ক্ষেত্রে নিরাপত্তা জনিত সমস্যার ...বিশদ

09:48:24 PM

বিশ্বকাপ: আফগানিস্তান ৮৬/২ (২০ ওভার) 

08:17:00 PM

দার্জিলিং পুরসভায় প্রশাসক নিয়োগ করল রাজ্য সরকার 

08:08:39 PM

জাপানে বড়সড় ভূমিকম্প, মাত্রা ৬.৫, জারি সুনামি সতর্কতা 

07:34:58 PM

বিশ্বকাপ: আফগানিস্তান ৪৮/১ (১০ ওভার) 

07:05:00 PM