Bartaman Patrika
বিশেষ নিবন্ধ
 

মোদির প্রত্যাবর্তন
 শান্তনু দত্তগুপ্ত

ঘড়ি ধরে ঘুম ভেঙেছিল ঠিক সকাল ৫টায়। প্রথমে নিয়মমাফিক যোগব্যায়াম, তারপর খবরে চোখ রাখা। নাঃ, সব শান্তিতেই আছে... নিশ্চিন্ত মনে ব্রেকফাস্ট নিয়ে বসলেন মুখ্যমন্ত্রী। সাড়ে ৮টা নাগাদ খবর আসা শুরু হল... কিছু একটা হয়েছে গোধরায়... কয়েকজন মারা গিয়েছে। সংখ্যাটা বাড়তেও পারে... ট্রেনে কিছু... এখনও শিওর হওয়া যাচ্ছে না। সেদিন আবার বিধানসভায় বাজেট পেশ। খবর নিতে বলে রওনা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী। চিন্তা একটা রয়েই গেল। তার আগের বছর, মানে ২০০১ সালের অক্টোবর মাসে দায়িত্ব বুঝে নিয়েছিলেন কেশুভাই প্যাটেলের থেকে... আর বিধায়ক হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছেন এই পরশু দিন... ২৫ ফেব্রুয়ারি। ঝড়ের বেগে খবর আসতে শুরু করল বিধানসভায় পৌঁছনোর পর। সবরমতী এক্সপ্রেস... করসেবক... গণহত্যা... আগুন... মহিলা... শিশু। তখনই বুঝেছিলেন দিনটা বড্ড দীর্ঘ হতে চলেছে। কিন্তু ওই একটা ২৭ ফেব্রুয়ারির অভিশাপ কবলিত দিন যে মাস, বছর, দশক পেরিয়েও নিষ্কৃতি দেবে না, তা দুঃস্বপ্নেও ভাবেননি গুজরাতের মুখ্যমন্ত্রী। হিংসার মেঘের আড়াল থেকে যখন একটু আলো দেখা গেল, ততক্ষণে এক হাজারের উপর মানুষ ধর্মের নামে উস্কানির শিকার হয়ে গিয়েছেন। সবরমতী কাণ্ডের পরই চেষ্টা করেছিলেন, পরিস্থিতি যাতে হাতের বাইরে না যায়। প্রতিবেশী রাজ্যগুলির থেকে পুলিসি সাহায্য পাননি... কেন্দ্রের বিজেপি সরকারের কাছে সেনার জন্যে দরবার করেও লাভ হয়নি। বলা হয়েছিল, সংসদ হামলার পর সীমান্তে পাকিস্তানের সঙ্গে প্রবল টানাপোড়েন চলছে... ওখান থেকে সেনা সরানো যাবে না। দূরদর্শনের পর্দায় হাতজোড় করে আবেদন রেখেছিলেন... সরকারকে সাহায্য করুন, অশান্তি ছড়াবেন না... কাজ হয়নি। রাজ্যের দায়িত্ব তাঁর কাঁধে... দায়টাও তো নিতে হবে! তাই ওই ঘটনার পর থেকে নরেন্দ্র মোদি খুনি, মওত কা সওদাগর, হিন্দুত্বের নামে দাঙ্গা ছড়ানোর কারিগর। ১২ বছর পর যখন তিনি প্রধানমন্ত্রী পদের দাবিদার, তখনও পিছু ছাড়েনি গোধরার ভূত। কেউ তখন বলেনি, গুজরাতে গত এক দশকে তো কোনও দাঙ্গা হয়নি! উন্নয়নের রূপকার বা ভালো প্রশাসক নয়, প্রচার হয়েছিল তাঁর হিন্দু মেরুকরণ নিয়ে। মানুষ কিন্তু অন্য কিছু ভেবেছিল। তাই তিন দশক পর একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সরকার গড়েছিল বিজেপি... নরেন্দ্র মোদি দেখিয়ে দিয়েছিলেন, এভাবেও ফিরে আসা যায়। পাঁচ বছর পরও প্রমাণ করলেন তিনি... আরও একবার।
আসলে আমরা যারা নিজেদের দারুণ পণ্ডিত বলে মনে করি, তারা একটা ঘটনা বা একজন ব্যক্তির সামনেটা শুধু দেখি। তাকেই বাস্তব ভেবে সেটাকে কাটাছেঁড়া করে নিজের মনের মতো একটা চেহারা খাড়া করে ফেলি। না দেখা বা না বোঝা অনেক কিছুই আড়ালে থেকে যায়। মোদির ক্ষেত্রেও কিন্তু বারবার এমনটাই হয়েছে। আর তাই বিরোধী বা মিডিয়ার প্রচার যে সুরেই বাঁধা থাক না কেন, জনমত পাশে থেকেছে নরেন্দ্র মোদির। এই লোকসভা নির্বাচনেও। এবার প্রশ্ন হল, নানাবিধ মিসাইল মার্কা বিরোধী আক্রমণ সত্ত্বেও অধিকাংশ ভোটার নরেন্দ্র মোদির উপরই কেন আস্থা রাখলেন?
প্রথমে দেখা যাক, বিজেপি তথা নরেন্দ্র মোদি কেন এত ভোট পেলেন। এই লোকসভা নির্বাচন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, এমন মেরুকরণের ভোট স্বাধীনতার পর ভারত আর দেখেনি। ধর্মীয় মেরুকরণ, সামাজিক মেরুকরণ, ব্যক্তি মেরুকরণ... এবং মোদি তথা বিজেপি তাতে অবিশ্বাস্যভাবে সফল। গত এক বছর ধরে সোশ্যাল মিডিয়ায় বিজেপি যে ভয়ানক কৌশলে প্রচার চালিয়ে গিয়েছে, তা সমাজের সব স্তরে প্রভাব ফেলেছে। সঙ্গে রয়েছে বেনিফিশিয়ারি ভোট। উত্তরপ্রদেশ বা বিহারের প্রত্যন্ত গ্রামের যে মহিলাকে এতদিন রাত থাকতে ঘুমচোখে মাঠেঘাটে ছুটতে হতো... তাঁকে আর প্রাণ এবং সম্মান হাতে নিয়ে বেরতে হয় না। ‘টয়লেট’-এর জন্য মোদি সরকার যে কী আশীর্বাদ কুড়িয়েছে, তা শহরের মানুষের ধারণার বাইরে। কাঠ পুড়িয়ে আগুনে দগ্ধ হয়ে যাঁরা এতদিন রান্না করে এসেছেন, তাঁদের ঘরে পৌঁছেছে উজালা প্রকল্পের রান্নার গ্যাস।
এছাড়া রয়েছে তিন তালাক ইস্যু। বলা হয়েছিল, উত্তরপ্রদেশে এবার বিজেপি ধুয়েমুছে সাফ হয়ে যাবে। মহাজোটের জয় হবে। প্রিয়াঙ্কা গান্ধী বিশাল ফ্যাক্টর হয়ে বিজেপির ভোট কেটে নেবেন। সোনিয়া গান্ধী নিজে শুধু রায়বেরিলি কেন্দ্রে টিমটিম করে জ্বলছেন। আর সমাজবাদী পার্টি ও বহুজন সমাজ পার্টি মিলেজুলেও ২০ ছুঁতে পারল না। মাঝখান থেকে এই মহাজোটের ভোট কেটে নিয়ে প্রিয়াঙ্কা আসনের ডালি তুলে দিলেন মোদির হাতে। সব হিসেব উল্টে দিয়ে একাই ৬০ পেরিয়ে গেল বিজেপি। এবং দেখার মতো বিষয় হল, যে রাজস্থান, ছত্তিশগড়, মধ্যপ্রদেশে গত বিধানসভা ভোটে বিজেপি লেজেগোবরে হয়েছিল, সেই তিন রাজ্যই এবার জয়টীকা পরিয়েছে নরেন্দ্র মোদিকে। অর্থাৎ, গোটা দেশ মোদির বিরোধিতায় যা যা প্রচার চালিয়েছিল, তার সবগুলোই ফ্লপ। মানুষ পাশে দাঁড়িয়েছে মোদির। বিশেষ করে ৪৫ কোটি তরুণ প্রজন্ম।
১৮ থেকে ৪০ বছর বয়সি ভোটাররা এখনও মনে করে, নরেন্দ্র মোদির হাতেই দেশ নিরাপদ। পাকিস্তান একটা মারলে মোদি ওদের ঘরে ঢুকে পাল্টা মেরে আসবে। একটা জঙ্গি হানা পাকিস্তানি জঙ্গিরা করলে, মোদি সরকার সার্জিকাল স্ট্রাইক করবে। আবার বালাকোট হবে। এটা ঠিক, পাঁচ বছর আগে কিন্তু বিজেপি প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, প্রতি বছর ২ কোটি কর্মসংস্থানের। মোদি আরও বলেছিলেন, বিদেশ থেকে সব কালো টাকা এনে সাধারণ মানুষের প্রত্যেকের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে ১৫ লক্ষ টাকা করে ভরে দেবেন। এর কোনওটাই পূরণ হয়নি। তা সত্ত্বেও তরুণ ভোটাররা ঢেলে সমর্থন দিয়েছেন মোদিকে। কারণ এই প্রজন্ম বিলক্ষণ জানে, বিরোধী যে দলগুলি মোদির বিরুদ্ধে লড়ছে, তারা কেউ দেশে একটা স্থিতিশীল সরকার দেওয়ার মতো জায়গায় নেই। তাই জনমত একজনের পক্ষেই যেতে পারে, নরেন্দ্র মোদি।
এবার বিরোধীরা কেন হালে পানি পেল না, তার সম্ভাব্য কারণ। সবার আগে রাহুল গান্ধী। রাফাল দুর্নীতি নিয়ে দিনের পর দিন নরেন্দ্র মোদিকে আক্রমণ করে গিয়েছেন কংগ্রেস সভাপতি। ভোটের এই পরীক্ষায় প্রথম দিকে সাধারণ মানুষের থেকে কিছুটা নম্বরও পেয়েছিলেন তিনি। কিন্তু দিন যত গড়িয়েছে, ততই পিছনের সারিতে চলে গিয়েছেন রাহুল। মানুষ ভেবে নিয়েছে, রাহুল গান্ধী প্রধানমন্ত্রী মেটেরিয়াল নন। বরং মোদি বিরোধিতায় গোটা দেশে তখন দেখা গিয়েছিল একটাই মুখ, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। রাজ্যের ৪২টি আসন সম্বল করেও প্রধানমন্ত্রীকে চ্যালেঞ্জ ছোঁড়ার ক্ষমতা দেখিয়েছিলেন তিনি। চেয়েছিলেন আঞ্চলিক দলগুলিকে একজোট করে মোদিকে হটিয়ে দেবেন। তিনি বুঝেছিলেন, মোদিকে যদি হারাতে হয়, তাহলে হাতের পাঁচটা আঙুল আলাদা থাকলে কাজের কাজ কিছু হবে না। বরং প্রয়োজন মুষ্টিবদ্ধ হাতের। একের বিরুদ্ধে এক প্রার্থী—এই ছিল তাঁর ফর্মুলা। কিন্তু ভোটের আগে তাঁর সেই উদ্যোগে বাকি আঞ্চলিক দলগুলি কার্যত জলই ঢেলে দিল। প্রাক-নির্বাচন জোট হল না। প্রত্যেকটি আঞ্চলিক দল নিজের নিজের এজেন্ডায় ব্যস্ত।
ইভিএমের বোতামে প্রথম চাপ পড়ার আগেই মায়াবতীর মতো নেত্রীরা লাফাতে শুরু করলেন, প্রধানমন্ত্রী হতে তাঁর আপত্তি নেই। একজন ভোটার কখনও এই প্রবণতাকে ভালোভাবে নেয়নি, নিতে পারে না। পরিস্থিতি অনুকূল হলে এমন দাবিদার যে আরও তৈরি হবে, সে নিয়ে রাস্তার মোড়ে মোড়ে চর্চা হয়েছে। তার উপর কংগ্রেসের নামে বহু আঞ্চলিক দলের অ্যালার্জি। এও একটা বড় কারণ। কংগ্রেস বা কোনও বড় জাতীয় দলের সঙ্গ ছাড়া যে মহাজোট সম্ভব হতে পারে, তা দেশের ভোটাররা এখনও বিশ্বাস করে না। এই এতগুলো সমীকরণ ইউপিএ এবং প্রস্তাবিত মহাজোটের বিপক্ষে গিয়েছে। দিনের শেষে লাভ হয়েছে শুধুই মোদির। সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির এমন উত্থান। প্রায় ৪০ শতাংশ ভোট দখল করে এই রাজ্যে প্রধান বিরোধী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়ে গেল গেরুয়া শিবির। সেই অর্থে কোনও মুখ না থাকা সত্ত্বেও। ২০১৪ সালের লোকসভা ভোটে মাত্র দু’টি আসনকে ১৮টিতে নিয়ে যাওয়া কম কথা নয়! এর নেপথ্য কারণ নিয়ে এখন প্রচুর কাটাছেঁড়া চলবে। বিশ্লেষণও হবে। কিন্তু দু’বছর পর বাংলার বিধানসভা নির্বাচন যে তৃণমূলের কাছে খুব সহজ হবে না, তা এখন দিনের আলোর মতো পরিষ্কার।
এবং সর্বোপরি বৃহস্পতিবার প্রমাণ হয়ে গেল, এই মুহূর্তে নরেন্দ্র মোদিই দেশের যোগ্যতম প্রধানমন্ত্রী। এক্সিট পোলের অনুমান অক্ষরে অক্ষরে মিলিয়ে তিনিই ফিরছেন... আবার। একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে। অন্তরায় তো অনেক কিছুই ছিল... নোট বাতিল, জিএসটি, ধর্মের মেরুকরণ...। তা সত্ত্বেও মানুষের রায় গেল মোদিরই পক্ষে। ফল ঘোষণার দিন দুয়েক আগে এক দোকানদার বলছিলেন, ‘মোদি আবার এলে কিন্তু ভালো হবে না দাদা... র‌্যাঁদা দিয়ে যেভাবে কাঠের টুকরো অল্প অল্প করে চেঁছে তোলে, ঠিক সেই অবস্থা হবে দেশের।’ এটাও একটা মত। কিন্তু গোটা দেশের নয়। আর একটি ঘটনা... লাঠি হাতে হেঁটে যাওয়া ষাটোর্ধ্ব এক বৃদ্ধের প্রায় গা ঘেঁষে এগিয়ে গেল একটি রিকশ। বৃদ্ধ মানুষটি ভয়ে দাঁড়িয়ে গেলেন।
তারপর লাঠি উঁচিয়ে বললেন, ‘২৩ তারিখ মোদি আসছে... তারপর তোদের দেখে নেব।’ এ তাহলে কোন মেরুকরণ? সামাজিক, ধর্মীয়, নাকি ব্যক্তি? হয়তো কোনওটাই নয়। নরেন্দ্র মোদি মানুষের মধ্যে একটা সাহস ঢুকিয়ে দিতে পেরেছেন। কোনও কিছুর ভয় বা স্বার্থের জন্য চুপ থাকার দিন শেষ। ছোবল না দিলেও ফোঁসটা করতেই হবে। আর একটা সমীকরণও আছে। যে পরিমাণ ভোট দেশজুড়ে বিজেপি এবারও পেয়েছে, তাতে আর বলা যাবে না ‘ওরা’ সাম্প্রদায়িক দল। প্রচুর মুসলিম ভোট এবার নির্ণায়ক শক্তি হয়ে মোদিকে দিল্লির কুর্সির দিকে আরও একবার ঠেলে দিয়েছে। পশ্চিমবঙ্গের সংখ্যালঘু প্রভাবিত বেশ কিছু আসনও তার বড় প্রমাণ।
মওত কা সওদাগর, দাঙ্গাবাজ, মুসলিম বিরোধী... প্রচার যাই হোক না কেন, ভারত কিন্তু দেখিয়ে দিল, এসবের কোনও ভিত্তি নেই। তাই আবার মোদি সরকার... ভারতীয় জনতা পার্টি নয়, মোদি জনতা পার্টি। এমজেপি... এভাবেই ফিরে আসতে হয়। ‘অন্ধ হলে কি প্রলয় বন্ধ থাকে?’ 
24th  May, 2019
নিস্তেজ অর্থনীতির সত্যটা সরকার ভুলে যাচ্ছে 
পি চিদম্বরম

রাষ্ট্রপতি ভবন হল সরকারের ক্ষমতার আসনের প্রতীক। এক কিলো মিটার ব্যাসার্ধের মধ্যে সংসদ ভবন, প্রধানমন্ত্রীর অফিস (পিএমও), নর্থ ব্লক ও সাউথ ব্লক—মানে স্বরাষ্ট্র, অর্থ, প্রতিরক্ষা ও বিদেশ-এর মতো উচ্চ মন্ত্রকগুলি রয়েছে।   বিশদ

সভাপতি পদে সোনিয়াজির প্রত্যাবর্তনে কংগ্রেস কি ছন্দ ফিরে পাবে
শুভা দত্ত

ছন্দ তো হারিয়েছে বহুদিন। ছন্দে ফেরার চেষ্টা—সেও শুরু হয়েছে বহুদিন। কিন্তু কিছুতেই যেন সেই পুরনো দমদার ছন্দে ফিরতে পারছে না জাতীয় কংগ্রেস! নেহরু-ইন্দিরার আমল থেকে গান্ধী পরিবারের ছত্রচ্ছায়ায় এবং নেতৃত্বে দলের যে অপ্রতিরোধ্য ছন্দ গোটা দেশকে কংগ্রেসি তেরঙ্গায় বেঁধে রেখেছিল, যে ছন্দ কংগ্রেস প্রতীক ইন্দিরার পাঞ্জার উপর বছরের পর বছর দেশের মানুষের আস্থা বিশ্বাস ও আবেগ ধরে রেখেছিল, জরুরি অবস্থা, নাসবন্দির মতো কাণ্ডের পরও যে ছন্দ ক্ষমতার কেন্দ্রে ফিরিয়ে এনেছিল কংগ্রেসকে, ইন্দিরা এবং ইন্ডিয়া হয়ে উঠেছিলেন সমার্থক—জাতীয় কংগ্রেসের সেই অমিত শক্তি রাজনৈতিক ছন্দ অনেক কাল আগেই ইতিহাসের পাতায় ঠাঁই নিয়েছে।
বিশদ

18th  August, 2019
ওয়াল স্ট্রিটের ‘নেকড়ে’-র গল্প!
মৃণালকান্তি দাস

ওয়াশিংটনের অপরিচিত কোনও এক পথে হাঁটতে হাঁটতে গল্পটা শুনিয়েছিলেন এমিলি ব্রাউন। গল্প বলতে, এক অপরাধীর ঘুরে দাঁড়ানোর কাহিনী। জর্ডন বেলফোর্টের গল্প। যিনি জীবনে অপরাধের নেশায় পড়ে সবকিছু হারিয়েছিলেন। কে এই জর্ডন বেলফোর্ট, জানেন? যাঁর জীবন কাহিনী শুনলে মনে হবে, এ এই মার্কিন মুলুকেই সম্ভব! বিশদ

17th  August, 2019
স্বাধীনতা ৭৩ এবং ভূস্বর্গের মুক্তি
মেরুনীল দাশগুপ্ত

গরিবি যতদিন না যাবে ততদিন এই উপত্যকায় শান্তি আসবে না। কারণ, কাশ্মীরি মানুষের গরিবিই ওদের একটা বড় হাতিয়ার। গরিব মানুষজনের অনেকেই ক’টা টাকার লোভে পড়ে সীমান্তর ওপার থেকে আসা লোকজনকে আশ্রয় দিয়ে, লুকিয়ে রেখে, খাবারদাবারের ব্যবস্থা করে ভ্যালির বিপদ বাড়িয়ে তুলছে।
বিশদ

15th  August, 2019
বনে থাকে বাঘ 
অতনু বিশ্বাস

ছেলেবেলায় ‘সহজ পাঠ’-এ পড়েছিলাম ‘বনে থাকে বাঘ’। যদিও এই পাঠটা যে খুব সহজ আর স্বাভাবিক নাও হতে পারে, অর্থাৎ বনে বাঘ নাও থাকতে পারে, সেটা বুঝতে বেশ বড় হতে হল। ছোটবেলায় অবশ্য মনে বদ্ধমূল ধারণা ছিল, বন-জঙ্গল গিজগিজ করে বাঘে। 
বিশদ

13th  August, 2019
রক্ষক আইন যেন ভক্ষক না হয়
শান্তনু দত্তগুপ্ত 

ভিক্টরি ম্যানসনে ঢুকলেন উইনস্টন স্মিথ। বহুতলে ঢুকেই নজরে আসবে দো’তলা সমান আখাম্বা ছবিটা। শুধু একটা মুখ। নীচে ক্যাপশন করা, বিগ ব্রাদার কিন্তু তোমাকে দেখছে। জর্জ অরওয়েলের কালজয়ী উপন্যাস ১৯৮৪-এর শুরুতেই উল্লেখ এই ছবির। আর এই নভেলের সারমর্মও লুকিয়ে এই ছবিতে—বিগ ব্রাদার দেখছে, তাই সাবধান। সাবধান হও সবাই... সরকারি কর্মচারী, ব্যবসায়ী, সাফাইকর্মী, বেসরকারি চাকুরে... মোদ্দা কথা নারী-পুরুষ নির্বিশেষে। সবসময় নজরদারি।  
বিশদ

13th  August, 2019
পুতিন কি পারবেন নতুন বিশ্বের নেতৃত্ব দিতে?
গৌরীশঙ্কর নাগ

 ১৯১৭ খ্রিস্টব্দে বা তার কিছু আগে থেকে লেনিন, ট্রটস্কি প্রমুখ নিবেদিত প্রাণ কমরেডের হাত ধরে সোভিয়েত সমাজতন্ত্র নামক যে মহীরুহটি ধীরে ধীরে গড়ে উঠেছিল তা গর্বাচেভ ক্ষমতাসীন হওয়ার পর কীভাবে তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়েছে—বিস্ময়ের সঙ্গে আমরা সেটা দেখেছি।
বিশদ

12th  August, 2019
স্টেট নয়, শুধুই রিয়াল এস্টেট
পি চিদম্বরম

 জম্মু ও কাশ্মীর নিয়ে প্রায়ই লিখি কিন্তু আজকেরটা অন্যরকম। জম্মু ও কাশ্মীর আর আগের জম্মু ও কাশ্মীর নেই। এটা আর রাজ্য নয়। এটাকে বিভক্ত করা হয়েছে। এখন দুটি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল—লাদাখ এবং জম্মু ও কাশ্মীর। ভারতের সংবিধানে কোনও রাজ্যকে কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের স্তরে নামিয়ে আনার ঘটনা এর আগে ঘটেনি।
বিশদ

12th  August, 2019
রাহুল সরে দাঁড়াতেই কংগ্রেস এমন নেতৃত্বহীনতায় ভুগছে কেন?
শুভা দত্ত

 প্রশ্নটা আজ দেশের সর্বস্তরে। পথে-ঘাটে অফিসে আড্ডায় যেখানেই চলতি রাজনীতি নিয়ে তর্ক-বিতর্কের উদয় হচ্ছে সেখানেই প্রশ্নটা যেন অনিবার্যভাবে এসে পড়ছে! কংগ্রেসের হলটা কী! রাহুল গান্ধী না বলে দিতেই আর সভাপতি খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না কংগ্রেসে! গান্ধী ফ্যামিলি ছাড়া কংগ্রেস সভাপতি খুঁজে পাচ্ছে না— এ তো বড় অদ্ভুত ব্যাপার! কংগ্রেসের জন্মের পর থেকে গান্ধী ফ্যামিলির বাইরের দেশ রাজনীতির কত দিকপালই তো জাতীয় কংগ্রেসের সভাপতির আসন অলঙ্কৃত করেছেন—উমেশচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়, দাদাভাই নৌরজি, সুরেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়, সুভাষচন্দ্র, অ্যানি বেসান্ত, চিত্তরঞ্জন, সরোজিনী নাইডু, বল্লভভাই প্যাটেল, কামরাজ, জগজীবন রাম—কত নাম বলব। নিশ্চয়ই এই তালিকায় নেহরু থেকে ইন্দিরা, রাজীব, সোনিয়া হয়ে রাহুল—গান্ধী পরিবারের সদস্যরাও ছিলেন।
বিশদ

11th  August, 2019
শুধু উন্নয়ন নয়, ভোটের জন্য চাই ভালো মাস্টার
তন্ময় মল্লিক

মোটা বেতন দিয়ে মাস্টার রাখলেই ছেলেমেয়ে মানুষ হয় না। তেমনটা হলে সব বড়লোকের ছেলেমেয়েই উচ্চশিক্ষিত হতো। কিন্তু, তা তো হয় না। ছাত্রছাত্রীর পড়াশোনায় আগ্রহ, মেধা যেমন থাকা দরকার, তেমনই নজরদারিটাও জরুরি। ফাঁকিবাজি থাকলেই ছাত্র হয় গাড্ডু খাবে, অথবা ‘বিবেচনায়’ পাশ।
বিশদ

10th  August, 2019
পঞ্চায়েত নির্বাচন, ৩৭০ কিংবা ৩৫এ
শুভময় মৈত্র

পশ্চিমবঙ্গ ২০১৮, আর ত্রিপুরা ২০১৯। পঞ্চায়েত ভোটে ফলাফল একইরকম। ঠিক কত আসন সেটা গোনার দরকার নেই। সহজ অঙ্কে বিষয়টা এরকম। ধরা যাক, মোট আসন ১০০, শাসক দল বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়ী ৭০টি আসনে। বাকি তিরিশের মধ্যে তীব্র লড়াইয়ের শেষে শাসক দল ২০, বিরোধীরা দশ। পাটিগণিতের অঙ্ক একেবারে মিলে গেল।
বিশদ

10th  August, 2019
কাশ্মীর: নতুন চ্যালেঞ্জ
সমৃদ্ধ দত্ত

 প্রকৃত চ্যালেঞ্জ সরকারের। কাশ্মীরকে আন্তরিকভাবে ভারতের অন্তঃস্থলে মিশিয়ে দেওয়ার কাজটিই কিন্তু হবে কাশ্মীরের নয়া ইতিহাস রচনা। সেটা নিছক একটা ভূমিখণ্ড দখল নয়। কাশ্মীরিয়াৎকে আপন করে নেওয়া। একমাত্র তাহলেই পাকিস্তান সবথেকে বেশি ধাক্কা খাবে! আর কাশ্মীরিদের আমরা যদি শত্রু বিবেচনা করে চলি, তাহলে কিন্তু টেনিসের পরিভাষায় অ্যাডভান্টেজ পাকিস্তান হয়ে যাবে! সে সুযোগ দেব কেন?
বিশদ

09th  August, 2019
একনজরে
গোপাল মিস্ত্রি, শিলিগুড়ি, বিএনএ: এরাজ্যের অন্যতম ভিআইপি ট্রেন দার্জিলিং মেলের যাত্রাপথ শিলিগুড়ি জংশন পর্যন্ত সম্প্রসারণে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে জবরদখল। রেলকর্তৃপক্ষের বক্তব্য, অনেক আগেই এনজেপির পরিবর্তে ...

সংবাদদাতা, কাঁথি: রবিবার দীঘার সমুদ্রে স্নান করতে নেমে তলিয়ে যাওয়া এক পর্যটক যুবককে উদ্ধার করেছেন নুলিয়ারা। ওই যুবক বর্তমানে দীঘা স্টেট হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। এদিন নিউ দীঘার ক্ষণিকা ঘাটে ঘটনাটি ঘটে।   ...

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: সরকারি পাঠ্যক্রম থেকে পড়াশোনা, তাও ডায়াবেটিসের মতো এখন প্রায় প্রতিটি গৃহস্থবাড়িতে থাকা অসুখের মোকাবিলায় পড়াশোনা করেও সরকারি স্তরে কাজের সুযোগ নেই। এমনকী রাজ্য সরকার নির্দিষ্টস্তরের কর্মী বা ‘ক্যাডার’ হিসেবেও গণ্য করছে না। এমনই অভিযোগ চার মেডিক্যাল কলেজ ...

 নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: বিকেন্দ্রীকৃত কাউন্সেলিংয়ের দ্বিতীয় দিনেই ভরে গেল যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের সব আসন। যদিও আর্কিটেকচার এবং ফার্মাসিতে হাতে গোনা কয়েকটি আসনই খালি রয়ে গিয়েছে। অনলাইন কাউন্সেলিংয়ের পর মোট ২৬১টি আসন ফাঁকা ছিল। ...




আজকের দিনটি কিংবদন্তি গৌতম
৯১৬৩৪৯২৬২৫ / ৯৮৩০৭৬৩৮৭৩

ভাগ্য+চেষ্টা= ফল
  • aries
  • taurus
  • gemini
  • cancer
  • leo
  • virgo
  • libra
  • scorpio
  • sagittorius
  • capricorn
  • aquarius
  • pisces
aries

শরীর নিয়ে চিন্তায় থাকতে হবে। মাথা ও কোমরে সমস্যা হতে পারে। উপার্জন ভাগ্য শুভ নয়। ... বিশদ


ইতিহাসে আজকের দিন

বিশ্ব মনুষ্যত্ব দিবস
১৯৪০: পরিচালক গোবিন্দ নিহালনির জন্ম
১৯৯৩: অভিনেতা উৎপল দত্তের মৃত্যু

ক্রয়মূল্য বিক্রয়মূল্য
ডলার ৭০.৫৯ টাকা ৭২.২৯ টাকা
পাউন্ড ৮৪.৮১ টাকা ৮৭.৯৪ টাকা
ইউরো ৭৭.৮৩ টাকা ৮০.৭৮ টাকা
[ স্টেট ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়া থেকে পাওয়া দর ]
17th  August, 2019
পাকা সোনা (১০ গ্রাম) ৩৮,২৪৫ টাকা
গহনা সোনা (১০ (গ্রাম) ৩৬,২৮৫ টাকা
হলমার্ক গহনা (২২ ক্যারেট ১০ গ্রাম) ৩৬,৮৩০ টাকা
রূপার বাট (প্রতি কেজি) ৪৩,৯০০ টাকা
রূপা খুচরো (প্রতি কেজি) ৪৪,০০০ টাকা
[ মূল্যযুক্ত ৩% জি. এস. টি আলাদা ]
18th  August, 2019

দিন পঞ্জিকা

২ ভাদ্র ১৪২৬, ১৯ আগস্ট ২০১৯, সোমবার, চতুর্থী ৫৫/৩০ রাত্রি ৩/৩০। উত্তরভাদ্রপদ ৩৬/১৫ রাত্রি ৭/৪৮। সূ উ ৫/১৮/২২, অ ৬/২/২৪, অমৃতযোগ দিবা ৬/৫৯ মধ্যে পুনঃ ১০/২৪ গতে ১২/৫৭ মধ্যে। রাত্রি ৬/৪৮ গতে ৯/২ মধ্যে পুনঃ ১১/১৭ গতে ২/১৮ মধ্যে, বারবেলা ৬/৫৪ গতে ৮/২৯ মধ্যে পুনঃ ২/৫১ গতে ৪/৪৬ মধ্যে, কালরাত্রি ১০/১৫ গতে ১১/৪০ মধ্যে। 
১ ভাদ্র ১৪২৬, ১৯ আগস্ট ২০১৯, সোমবার, চতুর্থী ৪৭/৩৯/৪৭ রাত্রি ১২/২১/২৫। উত্তরভাদ্রপদনক্ষত্র ৩২/১৮/৫৫ সন্ধ্যা ৬/১৩/৪, সূ উ ৫/১৭/৩০, অ ৬/৫/১৪, অমৃতযোগ দিবা ৭/২ মধ্যে ও ১০/২১ গতে ১২/৫০ মধ্যে এবং রাত্রি ৬/৩৫ গতে ৮/৫৪ মধ্যে ও ১১/১২ গতে ২/১৭ মধ্যে, বারবেলা ২/৫৩/১৮ গতে ৪/২৯/১৬ মধ্যে, কালবেলা ৬/৫৩/২৮ গতে ৮/২৯/২৬ মধ্যে, কালরাত্রি ১০/১৭/২০ গতে ১১/৪১/২২ মধ্যে। 
১৭ জেলহজ্জ 

ছবি সংবাদ

এই মুহূর্তে
২ দিনের সফরে দীঘায় পৌঁছলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় 

03:55:11 PM

নেতাজি মৃত্যু নিয়ে ট্যুইট প্রত্যাহার পিআইবির 

03:27:00 PM

নিউ মার্কেট এলাকায় বাড়ির একাংশ ভেঙে জখম ১ 

03:09:00 PM

রাজ্য নেতাদের বিরুদ্ধে মুখ খোলায় মালদহের প্রাক্তন জেলা সভাপতি সঞ্জিৎ মিশ্রকে বহিষ্কার করল বিজেপি 

02:02:28 PM

কোহলিদের খুনের হুমকি দিয়ে পাক বোর্ডে উড়ো মেল 
ভারতীয় ক্রিকেট দলের উপর হামলা হতে পারে এই মর্মে পাকিস্তান ...বিশদ

01:44:02 PM

বেলুড় স্টেশনে তরুণীকে ধারালো অস্ত্রের কোপ 
সাত সকালে বেলুড় স্টেশনে এক তরুণীকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত ...বিশদ

01:09:06 PM