Bartaman Patrika
বিশেষ নিবন্ধ
 

ভোটফলের পর রাজ্যে শান্তি
রক্ষাই এখন সবচেয়ে বড় কাজ
শুভা দত্ত

শেষ পর্যন্ত সব জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে দিল্লির মসনদে ফিরে এলেন মোদিজি। ভোট পরবর্তী জনসমীক্ষার হরেক সম্ভাব্য ফলকে পিছনে ফেলে সাড়ে তিনশো আসনের জবরদস্ত গরিষ্ঠতা নিয়ে নরেন্দ্র মোদি দ্বিতীয়বারের জন্য ফিরে এলেন দেশের প্রধানমন্ত্রীর আসনে। আর নজিরবিহীন গেরুয়া ঝড়ে কাশ্মীর থেকে কন্যাকুমারিকা ভেসে গেল ভারত! স্বাধীনতা পরবর্তী ভারতে লোকসভার ভোট মহাযুদ্ধে এত বড় জয় এর আগে যতদূর মনে পড়ছে একবারই দেখেছে এই উপমহাদেশ। ১৯৮৪ সালের লোকসভায় রাজীব গান্ধীর নেতৃত্বে কংগ্রেস চারশো আসন পার করেছিল। তবে সে ছিল প্রয়াত প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরার প্রতি দেশবাসীর শ্রদ্ধা ও আবেগের ফল। নরেন্দ্র মোদি এবং অমিত শাহ জুটি আবার তেমনই এক স্মরণীয় জয় উপহার দিলেন এবং দেশের সংসদীয় ইতিহাসে যোগ করলেন নির্বাচনী সাফল্যের আর এক নতুন অধ্যায়। দেশের সঙ্গে এই বাংলাতেও গেরুয়া ঝড়ের ঝাপট ভালোই লাগল, দুই থেকে এক ঝটকায় বিজেপির আসন উঠে গেল ১৮-তে এবং তৃণমূলের আসন ৩৪ থেকে নেমে দাঁড়াল ২২-এ! ভোট শতাংশের হিসেবেও তৃণমূলের প্রায় ঘাড়ের কাছে এসে পড়ল বিজেপি!
পশ্চিমবঙ্গের এই ফলে রাজনৈতিক তথ্যভিজ্ঞদের কেউ কেউ অবাক হয়েছেন ঠিকই, তবে ভোট পরবর্তী সমীক্ষার কয়েকটিতে কিন্তু এমন পূর্বাভাস ছিল। পূর্বাভাসগুলো দেখে বোঝাই যাচ্ছিল এবারের লোকসভায় বাম-কংগ্রেসের দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে বিজেপি এ রাজ্যে বাড়বে। কিন্তু এক লাফে এতদূর বাড়বে এটা অন্তত এ রাজ্যে প্রায় কেউই বিশ্বাস করেননি। ভোটের সময় যাঁদের সঙ্গেই কথা বলেছি তা সে তিনি মমতার অন্ধ ভক্তই হোন কি কট্টর সমালোচক—প্রত্যেকেই বিজেপির বাড়টি ৮ থেকে ১০-এর মধ্যেই ধরে রেখেছেন। তার বেশি মানে ১০ ছাড়িয়ে ২২/২৩ অব্দি বিজেপি উঠতে পারে তা পদ্মশিবিরের নেতানেত্রীরা অনেকে দাবি করলেও সাধারণ মানুষজনের কেউই খুব বিশ্বাস করে উঠতে পারছিলেন না। তার কারণ ছিল একটাই। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ব্যাপক উন্নয়নের এই রাজ্যে যে এমন ছন্দপতন হতে পারে সেটা হয়তো ছিল তাঁদের কল্পনার বাইরে। তাছাড়া এবারের লোকসভা যুদ্ধে মোদিজি যে এমন বেনজির কাণ্ড করে বসবেন, তাঁর বিরোধীদের এমন হতশ্রী দশায় ঠেলে দেবেন—বেশ কয়েকটি জনসমীক্ষার ফলে তেমন আভাস থাকলেও এ রাজ্যের রাজনীতি সচেতন মানুষ তাতে প্রাথমিকভাবে খুব একটা আমল দিতে চাননি। বরং, রাজনৈতিক তথ্যভিজ্ঞ থেকে অভিজ্ঞ সাংবাদিকদের অনেকেই হিসেবপত্তর করে হাং পার্লামেন্টের সম্ভাবনাকেই পরিস্থিতি পরিবেশের নিরিখে অধিক বাস্তবসম্মত বলে দাবি করছিলেন! আজ বোঝাই যাচ্ছে—কালের লিখন পড়তে তাঁরা ব্যর্থ হয়েছেন।
মোদি-শাহ জুটি পদ্মশিবিরের জন্য জনদরবার থেকে এমন এক জয় জিতে এনেছেন যার সামনে অমন ঐতিহ্যশালী কংগ্রেসের সভাপতি রাহুল গান্ধী বা অন্ধ্রপ্রদেশের চন্দ্রবাবু নাইডু, দিল্লির কেজরিওয়ালের মতো দাপুটে মোদি-বিরোধী নেতাদেরও কার্যত লিলিপুটের মতো দেখাচ্ছে! চন্দ্রবাবু তো বলতে গেলে মোদি সুনামির দাপটে অন্ধ্রে প্রায় সর্বস্ব খুইয়েছেন। দিল্লিতে কেজরিওয়ালের দশাও হয়েছে তেমনই। কংগ্রেসের সভাপতি রাহুল গান্ধী গত ২০১৪ লোকসভার তুলনায় তাঁর ইউপিএ জোটের জন্য গোটা পঁচিশেক আসন বাড়াতে পারলেও দেশজোড়া কংগ্রেসি জনতার বিরাট প্রত্যাশার তুলনায় তাকে নগণ্যই বলতে হবে। বেশ কিছু রাজ্যে তো ভোটফলে পশ্চিমবাংলার সিপিএমের মতো কংগ্রেসও একেবারে নিশ্চিহ্নই হয়ে গেছে। এবং সে জন্যই আসন বৃদ্ধি সত্ত্বেও রাহুল দলের তথা জোটের এই ফলকে বিপর্যয় হিসেবেই দেখছেন আর তার দায় নিয়ে কংগ্রেস সভাপতির পদত্যাগের ইচ্ছাও প্রকাশ করেছেন বলে শোনা যাচ্ছে। বিপর্যয়ের পর্যালোচনা করতে শনিবারই সোনিয়া গান্ধী কংগ্রেস ওয়ার্কিং কমিটির জরুরি বৈঠকও ডেকেছিলেন।
বরং, সেদিক থেকে এই অভাবিত গেরুয়া সুনামির সামনে বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও তাঁর সবুজ তৃণমূলকে অনেক লড়াকু মনে হয়েছে। ঠিকই, মমতার সর্বব্যাপ্ত প্রভাব প্রতিপত্তির রাজ্যেও ওই সুনামিতে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ কিছু কম হয়নি। তবু এখনও তুল্যমূল্য বিচারে এ রাজ্যের ভোটফলে এগিয়ে মমতাই। ভোট শতাংশের হারেও। পাহাড় জঙ্গলমহল থেকে গ্রামবাংলায় তৃণমূলের ফল আশানুরূপ কেন হল না তার অজস্র কারণ টেনে বার করতে শুরু করেছেন অনেক রাজনৈতিক বিশ্লেষকই। তাঁদের অনেকের বক্তব্য শুনলে মনে হচ্ছে তাঁরা এমনটা ঘটতে পারে জানতেন, ঘটার কারণটাও অবগত ছিলেন! যদি তাই হয়, তাহলে এই বোদ্ধারা সেই আশঙ্কার কথা আগেই প্রকাশ করে দিলেন না কেন! নাকি চোর পালাবার পরই বুদ্ধিটা চাগাড় দিল! জানি, নরেন্দ্র মোদির এই চমকপ্রদ জয়ে চোখ ধাঁধিয়ে যাওয়ার পর এখন অনেকেই অনেক কিছু বলবেন, ‘আমি তো জানতাম’ গোছের ভাবও দেখা যাবে কারও কারও বচনে, কেউ কেউ মমতার খুঁত খামতি গালতেও উঠেপড়ে লাগবেন—কিন্তু একবার ভাববেন কি যে এখন সবচেয়ে জরুরি হল রাজ্য জুড়ে শান্তিরক্ষা। এমন ভোটফলের পর রাজ্যে সর্বস্তরে শান্তি রক্ষাই এখন সবচেয়ে বড় কাজ।
সত্যি বলতে কী, ভোট রাজনীতিতে এমন বিপর্যয় কোনও নতুন কথা নয়। এমন ধাক্কা অতীতে জাতীয়স্তরে ইন্দিরা গান্ধী রাজীব গান্ধী থেকে শুরু করে রা‌জ্যস্তরের ভোটে কংগ্রেস সিপিএম সকলকেই কখনও না কখনও সইতে হয়েছে। ২০১১ সালে সিপিএমের ওই অত বড় মহাপতন হয়েছে, তার ধাক্কা সামলে ঘুরে দাঁড়ানো দূরে থাক, তারপর থেকে সিপিএম সমেত বামেরা তো কেবল ক্ষয়েই চলেছে। তার ওপর এবারের ভোটে অন্তত আসন সংখ্যার বিচারে তারা তো একেবারে শূন্যই হয়ে গেল! কী ভাবছেন, এবার সিপিএম বা তাদের শরিকেরা রাজনীতি ছেড়ে পাততাড়ি সন্ন্যাস নেবে? মোটেই না। রাজনীতিতে শেষ বলে কিছু নেই। আর তাই এমন শূন্যতার মধ্যেই কীভাবে শূন্য থেকে ফের উঠে দাঁড়ানো যায় তার চেষ্টা চালাবে সিপিএম সমেত বামেরা। তো তৃণমূলের ক্ষেত্রেই বা তার ব্যতিক্রম হবে কেন? তৃণমূলও এবারের ভোটে না হয় কয়েকটা আসনে ধাক্কা খেয়েছে, কেন্দ্রে মোদিজিকে চেয়েছিলেন যাঁরা তাঁরা বিজেপির বাক্সে ভোট দিয়েছেন। তাতে সব গেল গেল ভাবার কী আছে! বছরের পর বছর খেলে যাবে অথচ একটাও গোল খাবে না তাই কি হয়? ২০১১ সালের পর থেকে গত প্রায় আট বছর গোল খায়নি তো কী? এবার খেয়েছে। গেরুয়া দলের সঙ্গে সমানে সমানে টক্করে এবার গোল খেয়েছে। কিন্তু এটুকুতেই তৃণমূলের একেবারে সাড়ে সর্বনাশ হয়ে গেল এমন বলা কি যুক্তিসঙ্গত? হ্যাঁ, তৃণমূল গোটা ১২ আসন হারিয়েছে। কিন্তু এ রাজ্যের সিপিএম তো শূন্য হয়ে গেছে! কংগ্রেসের হালও তথৈবচ, ঝড়ের দাপট সামলে কোনওক্রমে তারা দুটি আসন রক্ষা করতে পেরেছে! সে তুলনায় তৃণমূল এখনও চালকের আসনেই— সন্দেহ কি? তো?
তাছাড়া, এই ফলাফলকে যাঁরা মুখ্যমন্ত্রী মমতার প্রতি রাজ্যবাসীর অনাস্থার বহিঃপ্রকাশ বলে চালাতে চাইছেন তাঁরাও কি ঠিক করছেন? মোদি-বিরোধী জোট যদি মমতাকে প্রধান মুখ হিসেবে প্রজেক্ট করে ভোটে নামত এবং মমতা যদি সেই জোটের হয়ে লড়ে এই ফল করতেন তখন এমন কথা বললে তবু মানার একটা গ্রাউন্ড খুঁজে পাওয়া যেত। মমতা তো তৃণমূল নেত্রী হিসেবে তাঁর রাজ্যের ৪২ আসন রক্ষায় মোদির সঙ্গে যুদ্ধে নেমেছিলেন। মোদিজির জাতীয় মহাজোট এনডিএ-র বিরুদ্ধে লড়াইটা ছিল মমতার তৃণমূলের। মোদিজির নেতৃত্বাধীন বহুদলীয় শক্তির সঙ্গে কার্যত একা মমতার লড়াই। সেখানে যে কোনও কারণেই হোক অনেকে মনে করেছেন মমতার তৃণমূলের চেয়ে বিজেপিকে, মানে মোদিজিকে ভোট দিলে সুবিধে হবে। কেন্দ্রে তাঁর নেতৃত্বে সরকার হলে দেশের দশের আরও ভালো হবে। দিয়েছেন। কিন্তু, রাজ্যের ক্ষেত্রে তাঁরা যে এখনই মমতার বিকল্প চাইছেন—লোকসভার এই ভোটফল থেকে কীভাবে তা সাব্যস্ত হয়!?
তার চেয়েও বড় কথা, ভোটের ফল যা হওয়ার তা তো হয়েই গিয়েছে। এখন সেই ফলাফলকে নিয়ে বিভিন্ন শিবিরে কাটাছেঁড়া চলছে, ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক কর্মসূচি প্যাঁচপয়জার নিয়ে ভাবনাচিন্তা হচ্ছে। কিন্তু ঠিক তার সঙ্গেই যেন তাল মিলিয়ে সেই ফলাফল কেন্দ্র করে রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় মারদাঙ্গা অফিস বাড়িঘর ভাঙচুর জ্বালানো পোড়ানোর মতো অপ্রীতিকর হিংসা প্রতিহিংসার ঘটনা ঘটছে। ভাটপাড়ায় অশান্তির আগুন ছড়িয়েছে। উত্তরবঙ্গের তুফানগঞ্জ শীতলকুচি, বাঁকুড়া পশ্চিম মেদিনীপুরের নারায়ণগড় থেকে যাদবপুর নরেন্দ্রপুরের মতো কলকাতা সংলগ্ন এলাকাতে অব্দি সে অশান্তির আগুন তাপ ছড়াচ্ছে। আর বলা বাহুল্য তার প্রধান কারণ তৃণমূল ও বিজেপির রাজনৈতিক সংঘাত সংঘর্ষ, এবং যাতে কোথাও কোথাও বাম-কংগ্রেসের কর্মী সমর্থকেরাও জড়িয়ে পড়ছেন— সমস্যা ঘোরালো হয়ে উঠছে আরও। অবিলম্বে এই অশান্তির আগুন নেভানোটাই আমরা মনে করি বিজেপি তৃণমূলের সংশ্লিষ্ট নেতাকর্মীদের প্রধান কাজ হওয়া উচিত। এত বিশাল জয়ের পরও বিজেপি অধিনায়ক স্বয়ং নরেন্দ্র মোদি যখন নম্রতার সঙ্গে চলার পরামর্শ দিচ্ছেন, রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যখন সাফল্যের জন্য বিজয়ীদের শুভেচ্ছা জানিয়ে রাজ্যে শান্তি ও সুস্থিতি বজায় রাখার অনুরোধ করছেন, তখন এত অশান্তি হবে কেন!? দলীয় আনুগত্য মানলে, মোদিজি বা মমতার প্রতি শ্রদ্ধা ভক্তি ভালোবাসা থাকলে কেউ কি তাঁদের পরামর্শ উপেক্ষা করে মারামারি ভাঙচুরের রাজনীতিতে জড়াতে পারেন? তাছাড়া, এই বাংলার আমজনতাও যে ওসব একেবারেই পছন্দ করেন না—এখনও কি ওই মারদাঙ্গাবাজ নেতাকর্মী সমর্থকেরা বুঝতে পারেননি! আশ্চর্য!
26th  May, 2019
নিস্তেজ অর্থনীতির সত্যটা সরকার ভুলে যাচ্ছে 
পি চিদম্বরম

রাষ্ট্রপতি ভবন হল সরকারের ক্ষমতার আসনের প্রতীক। এক কিলো মিটার ব্যাসার্ধের মধ্যে সংসদ ভবন, প্রধানমন্ত্রীর অফিস (পিএমও), নর্থ ব্লক ও সাউথ ব্লক—মানে স্বরাষ্ট্র, অর্থ, প্রতিরক্ষা ও বিদেশ-এর মতো উচ্চ মন্ত্রকগুলি রয়েছে।   বিশদ

সভাপতি পদে সোনিয়াজির প্রত্যাবর্তনে কংগ্রেস কি ছন্দ ফিরে পাবে
শুভা দত্ত

ছন্দ তো হারিয়েছে বহুদিন। ছন্দে ফেরার চেষ্টা—সেও শুরু হয়েছে বহুদিন। কিন্তু কিছুতেই যেন সেই পুরনো দমদার ছন্দে ফিরতে পারছে না জাতীয় কংগ্রেস! নেহরু-ইন্দিরার আমল থেকে গান্ধী পরিবারের ছত্রচ্ছায়ায় এবং নেতৃত্বে দলের যে অপ্রতিরোধ্য ছন্দ গোটা দেশকে কংগ্রেসি তেরঙ্গায় বেঁধে রেখেছিল, যে ছন্দ কংগ্রেস প্রতীক ইন্দিরার পাঞ্জার উপর বছরের পর বছর দেশের মানুষের আস্থা বিশ্বাস ও আবেগ ধরে রেখেছিল, জরুরি অবস্থা, নাসবন্দির মতো কাণ্ডের পরও যে ছন্দ ক্ষমতার কেন্দ্রে ফিরিয়ে এনেছিল কংগ্রেসকে, ইন্দিরা এবং ইন্ডিয়া হয়ে উঠেছিলেন সমার্থক—জাতীয় কংগ্রেসের সেই অমিত শক্তি রাজনৈতিক ছন্দ অনেক কাল আগেই ইতিহাসের পাতায় ঠাঁই নিয়েছে।
বিশদ

18th  August, 2019
ওয়াল স্ট্রিটের ‘নেকড়ে’-র গল্প!
মৃণালকান্তি দাস

ওয়াশিংটনের অপরিচিত কোনও এক পথে হাঁটতে হাঁটতে গল্পটা শুনিয়েছিলেন এমিলি ব্রাউন। গল্প বলতে, এক অপরাধীর ঘুরে দাঁড়ানোর কাহিনী। জর্ডন বেলফোর্টের গল্প। যিনি জীবনে অপরাধের নেশায় পড়ে সবকিছু হারিয়েছিলেন। কে এই জর্ডন বেলফোর্ট, জানেন? যাঁর জীবন কাহিনী শুনলে মনে হবে, এ এই মার্কিন মুলুকেই সম্ভব! বিশদ

17th  August, 2019
স্বাধীনতা ৭৩ এবং ভূস্বর্গের মুক্তি
মেরুনীল দাশগুপ্ত

গরিবি যতদিন না যাবে ততদিন এই উপত্যকায় শান্তি আসবে না। কারণ, কাশ্মীরি মানুষের গরিবিই ওদের একটা বড় হাতিয়ার। গরিব মানুষজনের অনেকেই ক’টা টাকার লোভে পড়ে সীমান্তর ওপার থেকে আসা লোকজনকে আশ্রয় দিয়ে, লুকিয়ে রেখে, খাবারদাবারের ব্যবস্থা করে ভ্যালির বিপদ বাড়িয়ে তুলছে।
বিশদ

15th  August, 2019
বনে থাকে বাঘ 
অতনু বিশ্বাস

ছেলেবেলায় ‘সহজ পাঠ’-এ পড়েছিলাম ‘বনে থাকে বাঘ’। যদিও এই পাঠটা যে খুব সহজ আর স্বাভাবিক নাও হতে পারে, অর্থাৎ বনে বাঘ নাও থাকতে পারে, সেটা বুঝতে বেশ বড় হতে হল। ছোটবেলায় অবশ্য মনে বদ্ধমূল ধারণা ছিল, বন-জঙ্গল গিজগিজ করে বাঘে। 
বিশদ

13th  August, 2019
রক্ষক আইন যেন ভক্ষক না হয়
শান্তনু দত্তগুপ্ত 

ভিক্টরি ম্যানসনে ঢুকলেন উইনস্টন স্মিথ। বহুতলে ঢুকেই নজরে আসবে দো’তলা সমান আখাম্বা ছবিটা। শুধু একটা মুখ। নীচে ক্যাপশন করা, বিগ ব্রাদার কিন্তু তোমাকে দেখছে। জর্জ অরওয়েলের কালজয়ী উপন্যাস ১৯৮৪-এর শুরুতেই উল্লেখ এই ছবির। আর এই নভেলের সারমর্মও লুকিয়ে এই ছবিতে—বিগ ব্রাদার দেখছে, তাই সাবধান। সাবধান হও সবাই... সরকারি কর্মচারী, ব্যবসায়ী, সাফাইকর্মী, বেসরকারি চাকুরে... মোদ্দা কথা নারী-পুরুষ নির্বিশেষে। সবসময় নজরদারি।  
বিশদ

13th  August, 2019
পুতিন কি পারবেন নতুন বিশ্বের নেতৃত্ব দিতে?
গৌরীশঙ্কর নাগ

 ১৯১৭ খ্রিস্টব্দে বা তার কিছু আগে থেকে লেনিন, ট্রটস্কি প্রমুখ নিবেদিত প্রাণ কমরেডের হাত ধরে সোভিয়েত সমাজতন্ত্র নামক যে মহীরুহটি ধীরে ধীরে গড়ে উঠেছিল তা গর্বাচেভ ক্ষমতাসীন হওয়ার পর কীভাবে তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়েছে—বিস্ময়ের সঙ্গে আমরা সেটা দেখেছি।
বিশদ

12th  August, 2019
স্টেট নয়, শুধুই রিয়াল এস্টেট
পি চিদম্বরম

 জম্মু ও কাশ্মীর নিয়ে প্রায়ই লিখি কিন্তু আজকেরটা অন্যরকম। জম্মু ও কাশ্মীর আর আগের জম্মু ও কাশ্মীর নেই। এটা আর রাজ্য নয়। এটাকে বিভক্ত করা হয়েছে। এখন দুটি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল—লাদাখ এবং জম্মু ও কাশ্মীর। ভারতের সংবিধানে কোনও রাজ্যকে কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের স্তরে নামিয়ে আনার ঘটনা এর আগে ঘটেনি।
বিশদ

12th  August, 2019
রাহুল সরে দাঁড়াতেই কংগ্রেস এমন নেতৃত্বহীনতায় ভুগছে কেন?
শুভা দত্ত

 প্রশ্নটা আজ দেশের সর্বস্তরে। পথে-ঘাটে অফিসে আড্ডায় যেখানেই চলতি রাজনীতি নিয়ে তর্ক-বিতর্কের উদয় হচ্ছে সেখানেই প্রশ্নটা যেন অনিবার্যভাবে এসে পড়ছে! কংগ্রেসের হলটা কী! রাহুল গান্ধী না বলে দিতেই আর সভাপতি খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না কংগ্রেসে! গান্ধী ফ্যামিলি ছাড়া কংগ্রেস সভাপতি খুঁজে পাচ্ছে না— এ তো বড় অদ্ভুত ব্যাপার! কংগ্রেসের জন্মের পর থেকে গান্ধী ফ্যামিলির বাইরের দেশ রাজনীতির কত দিকপালই তো জাতীয় কংগ্রেসের সভাপতির আসন অলঙ্কৃত করেছেন—উমেশচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়, দাদাভাই নৌরজি, সুরেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়, সুভাষচন্দ্র, অ্যানি বেসান্ত, চিত্তরঞ্জন, সরোজিনী নাইডু, বল্লভভাই প্যাটেল, কামরাজ, জগজীবন রাম—কত নাম বলব। নিশ্চয়ই এই তালিকায় নেহরু থেকে ইন্দিরা, রাজীব, সোনিয়া হয়ে রাহুল—গান্ধী পরিবারের সদস্যরাও ছিলেন।
বিশদ

11th  August, 2019
শুধু উন্নয়ন নয়, ভোটের জন্য চাই ভালো মাস্টার
তন্ময় মল্লিক

মোটা বেতন দিয়ে মাস্টার রাখলেই ছেলেমেয়ে মানুষ হয় না। তেমনটা হলে সব বড়লোকের ছেলেমেয়েই উচ্চশিক্ষিত হতো। কিন্তু, তা তো হয় না। ছাত্রছাত্রীর পড়াশোনায় আগ্রহ, মেধা যেমন থাকা দরকার, তেমনই নজরদারিটাও জরুরি। ফাঁকিবাজি থাকলেই ছাত্র হয় গাড্ডু খাবে, অথবা ‘বিবেচনায়’ পাশ।
বিশদ

10th  August, 2019
পঞ্চায়েত নির্বাচন, ৩৭০ কিংবা ৩৫এ
শুভময় মৈত্র

পশ্চিমবঙ্গ ২০১৮, আর ত্রিপুরা ২০১৯। পঞ্চায়েত ভোটে ফলাফল একইরকম। ঠিক কত আসন সেটা গোনার দরকার নেই। সহজ অঙ্কে বিষয়টা এরকম। ধরা যাক, মোট আসন ১০০, শাসক দল বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়ী ৭০টি আসনে। বাকি তিরিশের মধ্যে তীব্র লড়াইয়ের শেষে শাসক দল ২০, বিরোধীরা দশ। পাটিগণিতের অঙ্ক একেবারে মিলে গেল।
বিশদ

10th  August, 2019
কাশ্মীর: নতুন চ্যালেঞ্জ
সমৃদ্ধ দত্ত

 প্রকৃত চ্যালেঞ্জ সরকারের। কাশ্মীরকে আন্তরিকভাবে ভারতের অন্তঃস্থলে মিশিয়ে দেওয়ার কাজটিই কিন্তু হবে কাশ্মীরের নয়া ইতিহাস রচনা। সেটা নিছক একটা ভূমিখণ্ড দখল নয়। কাশ্মীরিয়াৎকে আপন করে নেওয়া। একমাত্র তাহলেই পাকিস্তান সবথেকে বেশি ধাক্কা খাবে! আর কাশ্মীরিদের আমরা যদি শত্রু বিবেচনা করে চলি, তাহলে কিন্তু টেনিসের পরিভাষায় অ্যাডভান্টেজ পাকিস্তান হয়ে যাবে! সে সুযোগ দেব কেন?
বিশদ

09th  August, 2019
একনজরে
 লে, ১৮ আগস্ট (পিটিআই): ৩৭০ ধারা খারিজ নিয়ে সংসদে তাঁর ভাষণ নজর কেড়েছিল। এমনকী সোনিয়া গান্ধীকে পর্যন্ত মন দিয়ে শুনতে দেখা গিয়েছিল প্রথমবারের এই বিজেপি সাংসদের ভাষণ। তিনি লাদাখ থেকে নির্বাচিত এমপি জামিয়াং সেরিং নামগিয়াল। ...

 নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: বিকেন্দ্রীকৃত কাউন্সেলিংয়ের দ্বিতীয় দিনেই ভরে গেল যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের সব আসন। যদিও আর্কিটেকচার এবং ফার্মাসিতে হাতে গোনা কয়েকটি আসনই খালি রয়ে গিয়েছে। অনলাইন কাউন্সেলিংয়ের পর মোট ২৬১টি আসন ফাঁকা ছিল। ...

 নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ইস্ট বেঙ্গলে স্ট্রাইকার সমস্যা মেটাতে রবিবার বিকেলে কলকাতায় এলেন নতুন স্প্যানিশ স্ট্রাইকার মার্কোস। অর্থ বাঁচাতে এই ফুটবলারটির সঙ্গে ১৫ আগস্ট থেকে চুক্তি ...

সংবাদদাতা, কাঁথি: রবিবার দীঘার সমুদ্রে স্নান করতে নেমে তলিয়ে যাওয়া এক পর্যটক যুবককে উদ্ধার করেছেন নুলিয়ারা। ওই যুবক বর্তমানে দীঘা স্টেট হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। এদিন নিউ দীঘার ক্ষণিকা ঘাটে ঘটনাটি ঘটে।   ...




আজকের দিনটি কিংবদন্তি গৌতম
৯১৬৩৪৯২৬২৫ / ৯৮৩০৭৬৩৮৭৩

ভাগ্য+চেষ্টা= ফল
  • aries
  • taurus
  • gemini
  • cancer
  • leo
  • virgo
  • libra
  • scorpio
  • sagittorius
  • capricorn
  • aquarius
  • pisces
aries

শরীর নিয়ে চিন্তায় থাকতে হবে। মাথা ও কোমরে সমস্যা হতে পারে। উপার্জন ভাগ্য শুভ নয়। ... বিশদ


ইতিহাসে আজকের দিন

বিশ্ব মনুষ্যত্ব দিবস
১৯৪০: পরিচালক গোবিন্দ নিহালনির জন্ম
১৯৯৩: অভিনেতা উৎপল দত্তের মৃত্যু

ক্রয়মূল্য বিক্রয়মূল্য
ডলার ৭০.৫৯ টাকা ৭২.২৯ টাকা
পাউন্ড ৮৪.৮১ টাকা ৮৭.৯৪ টাকা
ইউরো ৭৭.৮৩ টাকা ৮০.৭৮ টাকা
[ স্টেট ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়া থেকে পাওয়া দর ]
17th  August, 2019
পাকা সোনা (১০ গ্রাম) ৩৮,২৪৫ টাকা
গহনা সোনা (১০ (গ্রাম) ৩৬,২৮৫ টাকা
হলমার্ক গহনা (২২ ক্যারেট ১০ গ্রাম) ৩৬,৮৩০ টাকা
রূপার বাট (প্রতি কেজি) ৪৩,৯০০ টাকা
রূপা খুচরো (প্রতি কেজি) ৪৪,০০০ টাকা
[ মূল্যযুক্ত ৩% জি. এস. টি আলাদা ]
18th  August, 2019

দিন পঞ্জিকা

২ ভাদ্র ১৪২৬, ১৯ আগস্ট ২০১৯, সোমবার, চতুর্থী ৫৫/৩০ রাত্রি ৩/৩০। উত্তরভাদ্রপদ ৩৬/১৫ রাত্রি ৭/৪৮। সূ উ ৫/১৮/২২, অ ৬/২/২৪, অমৃতযোগ দিবা ৬/৫৯ মধ্যে পুনঃ ১০/২৪ গতে ১২/৫৭ মধ্যে। রাত্রি ৬/৪৮ গতে ৯/২ মধ্যে পুনঃ ১১/১৭ গতে ২/১৮ মধ্যে, বারবেলা ৬/৫৪ গতে ৮/২৯ মধ্যে পুনঃ ২/৫১ গতে ৪/৪৬ মধ্যে, কালরাত্রি ১০/১৫ গতে ১১/৪০ মধ্যে। 
১ ভাদ্র ১৪২৬, ১৯ আগস্ট ২০১৯, সোমবার, চতুর্থী ৪৭/৩৯/৪৭ রাত্রি ১২/২১/২৫। উত্তরভাদ্রপদনক্ষত্র ৩২/১৮/৫৫ সন্ধ্যা ৬/১৩/৪, সূ উ ৫/১৭/৩০, অ ৬/৫/১৪, অমৃতযোগ দিবা ৭/২ মধ্যে ও ১০/২১ গতে ১২/৫০ মধ্যে এবং রাত্রি ৬/৩৫ গতে ৮/৫৪ মধ্যে ও ১১/১২ গতে ২/১৭ মধ্যে, বারবেলা ২/৫৩/১৮ গতে ৪/২৯/১৬ মধ্যে, কালবেলা ৬/৫৩/২৮ গতে ৮/২৯/২৬ মধ্যে, কালরাত্রি ১০/১৭/২০ গতে ১১/৪১/২২ মধ্যে। 
১৭ জেলহজ্জ 

ছবি সংবাদ

এই মুহূর্তে
২ দিনের সফরে দীঘায় পৌঁছলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় 

03:55:11 PM

নেতাজি মৃত্যু নিয়ে ট্যুইট প্রত্যাহার পিআইবির 

03:27:00 PM

নিউ মার্কেট এলাকায় বাড়ির একাংশ ভেঙে জখম ১ 

03:09:00 PM

রাজ্য নেতাদের বিরুদ্ধে মুখ খোলায় মালদহের প্রাক্তন জেলা সভাপতি সঞ্জিৎ মিশ্রকে বহিষ্কার করল বিজেপি 

02:02:28 PM

কোহলিদের খুনের হুমকি দিয়ে পাক বোর্ডে উড়ো মেল 
ভারতীয় ক্রিকেট দলের উপর হামলা হতে পারে এই মর্মে পাকিস্তান ...বিশদ

01:44:02 PM

বেলুড় স্টেশনে তরুণীকে ধারালো অস্ত্রের কোপ 
সাত সকালে বেলুড় স্টেশনে এক তরুণীকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত ...বিশদ

01:09:06 PM