Bartaman Patrika
বিশেষ নিবন্ধ
 

নরেন্দ্র মোদির দ্বিতীয় ইনিংস: ভারতের
বিদেশ নীতি নিয়ে প্রয়োজনীয় ভাবনা
গৌরীশংকর নাগ

অবশেষে মাসাধিক কালব্যাপী প্রতীক্ষার অবসান। নির্বাচন অতিক্রান্ত ও ফল ঘোষণার পর মোদির দ্বিতীয় ইনিংসে চমকের প্রত্যাশায় জল্পনা তুঙ্গে। আর সেই ভাবনা থেকেই আশা-আশঙ্কার দোলাচলে ভারতীয় বিদেশনীতি সম্পর্কে প্রাথমিকভাবে যে কথাটি এসে পড়ে তা হল পপুলিজম থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। ২০১৬-র সেপ্টেম্বরে সার্জিকাল স্ট্রাইক, ২০১৭-য় ডোকালাম সংকট এবং সম্প্রতি বালাকোট বিমান হানার পরিপ্রেক্ষিতে ভারতীয় অবস্থানে সামান্য হলেও ভারসাম্যের অভাব ঘটেছে, যাকে আন্তর্জাতিক সম্পর্কের তাত্ত্বিক পরিভাষায় 'Realist tilt' বলা যেতে পারে। শুধু অস্ত্র কেনা, অন্য দেশের সঙ্গে যৌথ মহড়া বা মিসাইল প্রযুক্তির উন্নতি ঘটিয়ে ডিফেন্স মডার্নাইজেশন নয়, চাই অর্থনৈতিক উন্নয়নের ওপর সমান গুরুত্ব আরোপ। বিশ্বব্যাঙ্কের সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে অবশ্য আশার কথা শোনা যাচ্ছে, কারণ ২০১৯-২০ আর্থিক বছরে বৃদ্ধির সম্ভাবনা ৭.৫ শতাংশ। তবে আত্মতুষ্টির জায়গা নেই। তাছাড়া দক্ষিণ এশিয়ার সমস্যা হল রপ্তানির ক্ষেত্রে ঘাটতি, যার জন্য প্রয়োজনীয় দীর্ঘমেয়াদি প্রস্তুতির। ভারতের ক্ষেত্রে রপ্তানির পরিমাণ তার জিডিপি’র ১০ শতাংশ। এটা হওয়া উচিত ৩০-৪০ শতাংশ। এ বিষয়ে চীন এশিয়ার মধ্যে সবথেকে এগিয়ে। সুতরাং চীনের থেকে শিখতে হবে।
আবার দক্ষিণ এশিয়ার রাজনৈতিক অর্থনীতির সুবিধা বা অসুবিধা—যাই বলি না কেন, সেটা যেমন তার দীর্ঘ ঔপনিবেশিক কারণে, তেমনি রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে বাস্তববাদী দৃষ্টিভঙ্গির অভাব রয়ে গেছে। ফলে প্রায়শই পপুলিজম থেকে বেরিয়ে বা ভাবাদর্শের গণ্ডি অতিক্রম করে ভারত সংগঠিত ও অসংগঠিত ক্ষেত্রের যে অসামঞ্জস্য বা উন্নত মানব সম্পদ গঠনের মাধ্যমে দক্ষতা বৃদ্ধির দিকে সেভাবে নজর দিতে পারেনি। অথচ তা না করলে আন্তর্জাতিক বাজারে যথেষ্ট প্রতিযোগিতামূলক হওয়া সম্ভবপর নয়। সাম্প্রতিককালে চীনা অর্থনীতির শ্লথ বৃদ্ধির কারণ তার জোগানের দিকে ঘাটতি, বিশেষত সস্তা শ্রমিকের বড়ই অভাব। ভারত তুলনামূলকভাবে সেদিক থেকে এগিয়ে থাকলেও বিশ্ব ব্যাঙ্কের দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলে ভারপ্রাপ্ত প্রধান অর্থনৈতিক বিশেষজ্ঞ হান্স টিমারের মতে ভারতের আর্থিক বৃদ্ধির কারণ প্রধানত তার অভ্যন্তরীণ চাহিদা। ফলে একদিকে যেমন কারেন্ট অ্যাকাউন্টের ঘাটতির বিপুল বৃদ্ধি ঘটছে, তেমনি আমদানি যতটা বাড়ছে, তার তুলনায় রপ্তানি বৃদ্ধির হার একেবারেই আশাপ্রণোদিত নয়। তবে মোদি-জেটলির যৌথ উদ্যোগে জিএসটি’র ফলে অবশ্যই আন্তরাজ্য পণ্য ও বাণিজ্যে জোয়ার এসেছে বলা যায়। সুতরাং এবার নতুন ইনিংসের শুরুতেই যেটা দেখা দরকার সেটা হল দক্ষিণ এশিয়ার অভ্যন্তরে এবং ভারতের সঙ্গে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বাণিজ্য বৃদ্ধি। সুতরাং নতুন অর্থনৈতিক কূটনীতির মধ্য দিয়ে ভারতকে সেই নেতৃত্ব দিতে হবে এবং ই-কমার্সকে আরও প্রসারিত করার উদ্যোগ নিতে হবে। নতুন সরকারকে দেখতে হবে যাতে রপ্তানি বৃদ্ধির জন্য প্রতিযোগিতামূলক উৎপাদন ব্যবস্থা, প্রযুক্তিগত আবিষ্কার, স্টার্ট-আপ বাড়ানো যায়। এমনকী নজর দিতে হবে যাতে উৎপাদনে আগামী দিনে আরও মহিলাদের অংশগ্রহণ বাড়ানো যায়। এ প্রসঙ্গে উল্লেখ্য যে, ভারতে লিঙ্গবৈষম্য এখনও উদ্বেগজনক। ফলে একাধারে সামাজিক সচেতনতার প্রসার যেমন প্রয়োজন, তেমনি সরকারি স্তরে নতুন আইনি রক্ষা-কবচের ভাবনার গুরুত্ব অস্বীকার করা যায় না—কারণ মহিলাদের কর্মস্থলের নিরাপত্তা বৃদ্ধি এর অপরিহার্য পূর্বশর্ত।
প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, আগামী দিনে মোদির বিদেশ নীতির একটা বড় চ্যালেঞ্জ হবে কীভাবে পাকিস্তানি প্ররোচনায় সায় না দিয়ে আঞ্চলিক স্থিতি ও বাণিজ্য ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করা যায়। ইতিমধ্যেই আমরা দেখেছি পাকিস্তান মোদির পুনঃ নির্বাচনকে অনেকটা উত্তর কোরিয়ার ঢঙে দেখতে চাইছে। তারা পরমাণু অস্ত্র বহনে সক্ষম নতুন ব্যালিস্টিক মিসাইল উৎক্ষেপণের জন্য এই সময়টিকে বেছে নিয়েছে। তবে মনে রাখতে হবে ভারত-পাক বিরোধ আগামী দিনে আঞ্চলিক বাণিজ্য প্রসারের ক্ষেত্রে গলার কাঁটা হয়ে উঠতে পারে। সেক্ষেত্রে লাভ হবে তৃতীয় রাষ্ট্রের, যেমন চীন বা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের। সুতরাং আঞ্চলিক বাণিজ্য যাতে প্রসারিত হয়, তার চেষ্টা করতে হবে। বস্তুত, এটা তখনই সম্ভব যখন আমরা পণ্য পরিবহণের জন্য সোনালি চতুর্ভুজের মতো গতিশীল করিডর তৈরি করতে পারব। ইতিমধ্যেই ভারত (ক) ৩৩০০ কিমি বিস্তৃত পূর্ব-পশ্চিম করিডর, (খ) ১৩৬০ কিমি জুড়ে ভারত-মায়ানমার-থাইল্যান্ড সংযোগকারী ট্রাইল্যাটারাল হাইওয়ে, (গ) ভারত-মায়ানমারের মধ্যে কালাভান মাল্টিমোডাল ট্রানজিট ও (ঘ) ২৮০০ কিমি বিস্তৃত বাংলাদেশ, চীন, ভারত এবং মায়ানমার সংযোগকারী অর্থনৈতিক করিডরের কাজ শুরু করতে পেরেছে (আরআইএস প্রকাশিত Assessing Economic Impacts of Connectivity Corridors, ২০১৮ দ্রষ্টব্য)।
সেইসঙ্গে আফগানিস্তানের সঙ্গে নিবিড় যোগাযোগের স্বার্থে ইরানের চাবাহার বন্দরকেও ব্যবহার করতে চাইছে। ইরানের তুলনামূলক সস্তায় সুলভ তেলও আমাদের অত্যন্ত প্রয়োজন। ইতিমধ্যে ইরান থেকে তেল আমদানিতে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা ভারত মানবে কি না—নির্বাচনের দরুন সরকার তা নিয়ে সন্দিহান ছিল। কিন্তু নির্বাচন মিটতে না মিটতেই দেখা গেল এ বিষয়ে সরকার মার্কিন চাপের কাছে মাথা নুইয়েছে। ফলে অপরিশোধিত তেলের জোগানে টান পড়লে বা তেলের মূল্যবৃদ্ধি ঘটলে সামগ্রিক মুদ্রাস্ফীতির বিরূপ প্রভাব থেকে আমরা সহজে বেরতে পারব না। সুতরাং নতুন সরকারকে একদিকে যেমন টাপি প্রজেক্টে বিনিয়োগ বাড়াতে হবে, তেমনি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক খারাপ না করেও, মার্কিন সখ্যতা নিয়ে ভবিষ্যতে আমাদের ভাবতেই হবে। কারণ ট্রাম্পের নীতি হল 'America First'। ফলে আমেরিকা চীনের সঙ্গে ইতিমধ্যেই বাণিজ্য যুদ্ধে লিপ্ত হয়েছে। আবার হুয়েইকে আটকানোর মধ্য দিয়ে মার্কিন-চীন বিরোধ নতুন করে প্রযুক্তিগত ঠান্ডা যুদ্ধের রূপ নিয়েছে। ফলে অর্থনীতিতে ডমিনো প্রভাব পড়ার প্রভূত সম্ভাবনা রয়েছে। এমতাবস্থায় মোদি সরকারের উচিত চীনকে অহেতুক ক্ষিপ্ত না করে সুনির্দিষ্ট স্ট্র্যাটেজি গ্রহণ করা। যেমন, এশিয়ান রিভ্যুতে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে কিরণ শর্মা জানাচ্ছেন, মোদি চাইছেন ভারত-মায়ানমার-থাইল্যান্ড হাইওয়েকে ইন্দো-চীন পর্যন্ত প্রসারিত করতে, যাতে চীনের BRI-এর সঙ্গে আংশিকভাবে পাল্লা দেওয়া যেতে পারে। তাছাড়া বাংলাদেশ, নেপাল, ভুটান ও মায়ানমারের বাণিজ্য কেন্দ্রগুলির সঙ্গে ভারত তার প্রধান হাইওয়েগুলোকে সংযুক্ত করতে চাইছে। তবে বিশেষজ্ঞ ড্যানিয়েল টুইং ইং-এর মতে, এশিয়ার ভারত ও জাপানের যোগাযোগ ব্যবস্থার নকশা যতটা না নিজের স্বার্থে তার থেকে বেশি চীনের প্রভাব রোধ করার জন্য। দ্বিতীয়ত, ভারত মহাসাগরে চীনকে আটকানো উচিত। কারণ ভবিষ্যতে যদি চীন একাধারে জাপান ও আমেরিকার মুখে পড়ে, তখন হয়তো সে ভারত মহাসাগরকে 'Strategic depth' হিসেবে ব্যবহার করতে চাইবে। এর ফলে একদিকে যেমন ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলে ভারতীয় আধিপত্য ক্ষুণ্ণ হওয়ার সম্ভাবনা থেকে যায়, তেমনি চীনের সামরিক ও বাণিজ্যিক ক্ষেত্রের সম্প্রসারণের পথ এর ফলে উন্মুক্ত হতো।
পরিশেষে মোদির আমলে ভারতের বিদেশ নীতির আরেকটি উল্লেখযোগ্য দিক হল মধ্যপ্রাচ্যে মুসলিম রাষ্ট্রগুলির সঙ্গে ভারতের সখ্যতা; সেই সঙ্গে জাপান, ইজরায়েল এবং CLMV সঙ্গেও ঘনিষ্ঠতা বৃদ্ধি। উদাহরণ স্বরূপ ২০১৬-য় মোদির ভিয়েতনাম সফরের পরপরই ভারত-ভিয়েতনাম সম্পর্ক কমপ্রিহেনসিভ স্ট্র্যাটেজিক পার্টনারশিপে উত্তীর্ণ হয়েছে। এর পাশাপাশি ভারতের উচিত হবে ইবসা, ব্রিকস্‌, মেকং গঙ্গার মতো আঞ্চলিক অথচ বহুপাক্ষিক গোষ্ঠীগুলির সঙ্গে তাল মিলিয়ে কাজ করে যাওয়া। তবেই ভারত আগামী দিনে অর্থনৈতিক পাওয়ারহাউস হিসেবে আত্মপ্রকাশ করার পাশাপাশি রাষ্ট্রসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী সদস্য হওয়ার দৌড়ে নিজেকে এগিয়ে রাখতে পারবে।
লেখক সিধু-কানহু-বীরসা বিশ্ববিদ্যালয়ে রাষ্ট্রবিজ্ঞানের অধ্যাপক
01st  June, 2019
বিধানসভা ভোট কিন্তু হবে মমতাকে দেখেই
শান্তনু দত্তগুপ্ত 

ইন্দিরা গান্ধীর টার্গেট ছিল একটাই। যেভাবে হোক সিপিএমের কোমর ভেঙে দিতে হবে। তিনি মনে করতেন, সিপিএম আসলে সিআইএ’র মদতপুষ্ট। ঠিকঠাক সুযোগ পেলে পূর্ববঙ্গ এবং পশ্চিমবঙ্গে সশস্ত্র আন্দোলন করিয়ে বৃহত্তর বাংলা গঠন করে ফেলবে। কাজেই বাংলা কংগ্রেস এবং সিপিআই পছন্দের তালিকায় থাকলেও সিপিএমকে মোটে বরদাস্ত করতে পারতেন না ইন্দিরা।
বিশদ

ডাক্তারবাবুদের গণ-ইস্তফা নজিরবিহীন,
কিন্তু তাতে কি হাসপাতাল সমস্যা মিটবে?

 এ-কথাও তো সত্যি যে, হাসপাতালের পরিকাঠামোগত উন্নয়নে বা ডাক্তারবাবুদের যথাযথ নিরাপত্তা বিধানে তাঁর সদিচ্ছা আছে এবং ইতিমধ্যেই তার যথেষ্ট প্রমাণ মিলেছে। এই অচলাবস্থা কাটাতে প্রবীণদের বৈঠকে ডেকে মুখ্যমন্ত্রী সমাধানসূত্র খুঁজছেন— সেটাও কি ওই সদিচ্ছারই নামান্তর নয়? বিশদ

16th  June, 2019
নরেন্দ্র মোদির মালদ্বীপ সফর এবং ভারত মহাসাগরে ভারতের নতুন রণনীতি
গৌরীশঙ্কর নাগ

 মোদিজির এই দ্বীপপুঞ্জ-সফর কেবলমাত্র হাসি বিনিময় ও করমর্দনের রাজনীতি হবে না, বরং এর প্রধান অ্যাজেন্ডাই হল প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে মজবুত করা। তবে সেটা করতে গিয়ে ভারত যেন দ্বীপপুঞ্জের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে অযথা হস্তক্ষেপ না করে বসে। কিন্তু তার অর্থ এই নয় যে, ভারত মালদ্বীপকে সন্ত্রাসবাদের নয়া ‘আঁতুড়ঘর’ হতে দেবে। কারণ ইতিমধ্যেই আমরা দেখেছি পাকিস্তান, আফগানিস্তান এমনকী মধ্যপ্রাচ্য থেকেও জেহাদি নেটওয়ার্কের কারবার মালদ্বীপেও পৌঁছে গিয়েছে। এই র‌্যাডিক্যালিজমের একমাত্র দাওয়াই হল অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও তার সহায়ক শক্তি হিসেবে রাজনৈতিক স্থিরতা।
বিশদ

15th  June, 2019
সতর্কতার সময়
সমৃদ্ধ দত্ত

 ভারতীয় সংস্কৃতির সনাতন ধারাটি হল দিবে আর নিবে, মিলিবে মেলাবে। কিন্তু সেই সংস্কৃতি থেকে আমাদের সরিয়ে এনেছে অসহিষ্ণুতা আর স্বল্পবিদ্যা। আর সবথেকে বেশি জায়গা করে নিয়েছে বিদ্বেষ। রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের প্রতি বিদ্বেষ।
বিশদ

14th  June, 2019
ক্ষমতার ‘হিন্দি’ মিডিয়াম
শান্তনু দত্তগুপ্ত

 উত্তর ভারতের সঙ্গে দক্ষিণের সীমারেখা। আর তার কারিগর আমরাই। আমাদের কাছে সাউথ ইন্ডিয়ান মানে মাদ্রাজি। দক্ষিণ ভারতের লোকজন নারকেল তেল খায়, অদ্ভুত ওদের উচ্চারণ, লুঙ্গি পরে বিয়েবাড়ি যায়... হাজারো আলোচনা। উত্তর ভারত মানে বিষম একটা নাক উঁচু ব্যাপার। আর দক্ষিণ মানেই রসিকতার খোরাক। তাই ওদের একটু ‘মানুষ’ করা দরকার। কীভাবে সেটা সম্ভব? হিন্দি শেখাতে হবে। বিশদ

13th  June, 2019
বারুদের স্তূপের উপর পশ্চিমবঙ্গ
হিমাংশু সিংহ

সংসদীয় রাজনীতিতে কিছুই চিরস্থায়ী নয়। কারও মৌরসিপাট্টাই গণতন্ত্রে বেশিদিন টেকে না। সব সাজানো বাগানই একদিন শুকিয়ে যায় কালের নিয়মে। ইতিহাস কয়েক বছর অন্তর ফিরে ফিরে আসে আর ধুরন্ধর শাসককে চরম শিক্ষা দিয়ে তাঁকে, তাঁর ক্ষমতাকে ধুলোয় লুটিয়ে দিয়ে আবার ফকির করে দিয়ে যায়। সব ক্ষমতা এক ভোটে বিলীন। ধূলিসাৎ। আর এখানেই মহান গণতন্ত্রের জিত আর চমৎকারিত্ব। আর সেই দিক দিয়ে ২৩ মে-র ফল এই পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিকেও আবার এক মহান সন্ধিক্ষণের দিকেই যেন ঠেলে দিয়েছে। ‘বিয়াল্লিশে বিয়াল্লিশ’ হয়নি, ‘২০১৯ বিজেপি ফিনিশ’—তাও হয়নি। উল্টে সারাদেশে বিজেপি থ্রি-নট-থ্রি (অর্থাৎ ৩০৩টি) আসন জিতে তাক লাগিয়ে দিয়েছে ভোট-পণ্ডিতদের।
বিশদ

11th  June, 2019
মোদিজি কি ‘সবকা বিশ্বাস’ অর্জন করতে পারবেন?
পি চিদম্বরম

 নরেন্দ্র মোদি এবার যে জনাদেশ পেয়েছেন তা অনস্বীকার্যভাবে বিপুল। যদিও, অতীতে লোকসভা নির্বাচনে একটি পার্টি ৩০৩-এর বেশি আসন জেতার একাধিক দৃষ্টান্ত আছে। যেমন ১৯৮০ সালে ইন্দিরা গান্ধী ৩৫৩ এবং ১৯৮৪ সালে রাজীব গান্ধী ৪১৫ পেয়েছিলেন।
বিশদ

10th  June, 2019
 বিজেপি এ রাজ্যের বিধানসভা ভোটকে
কঠিন চ্যালেঞ্জ মনে করছে কেন?
শুভা দত্ত

 কয়েকদিনের মধ্যে বেশ কয়েকটি মর্মান্তিক খুনের ঘটনা ঘটে গেল রাজ্যের উত্তর থেকে দক্ষিণে। তাই আজও একই প্রসঙ্গ দিয়ে এই নিবন্ধ শুরু করতে হচ্ছে। গত সপ্তাহেই লিখেছিলাম, ভোটফল প্রকাশের পর রাজ্যের বেশ কিছু এলাকায় যেন একটা হিংসার বাতাবরণ তৈরি হয়েছে।
বিশদ

09th  June, 2019
ইচ্ছে-ডানায় নাচের তালে
অতনু বিশ্বাস

এ বছরের সিবিএসই পরীক্ষার ফল বেরতে দেখা গেল, প্রথম হয়েছে দু’টি মেয়ে। একসঙ্গে। ৫০০-র মধ্যে তারা পেয়েছে ৪৯৯ করে। দু’জনেই আবার আর্টসের ছাত্রী। না, পরীক্ষায় আজকাল এত এত নম্বর উঠছে, কিংবা আর্টস বিষয় নিয়েও প্রচুর নম্বর তুলে বোর্ডের পরীক্ষায় র‍্যাঙ্ক করা যায় আজকাল—এগুলোর কোনওটাই আমার আলোচনার বিষয়বস্তু নয়।
বিশদ

08th  June, 2019
ভারতের রাজনীতিতে ‘গেম মেকার’
মৃণালকান্তি দাস

মেধাবী হলেই যে পড়ুয়ার জন্য মোটা বেতনের চাকরি নিশ্চিত, তার কোনও গ্যারান্টি নেই। শুধু প্রতিভা থাকলে আর পরিশ্রমী হলেই হবে না, উপযুক্ত প্রশিক্ষণ এবং ঠিকঠাক ‘গাইড’ না পাওয়ায় পড়ুয়ারা আজ আর সরকারি চাকরির লক্ষ্যভেদ করতে পারেন না।
বিশদ

07th  June, 2019
অবিজেপি ভোটে বাজিমাত
বিজেপির, এবং তারপর...
মেরুনীল দাশগুপ্ত

আলোড়ন! নিঃসন্দেহে একটা জবরদস্ত আলোড়ন উঠেছে। লোকসভা ভোটফল প্রকাশ হওয়া ইস্তক সেই আলোড়নের দাপটে রাজ্য-রাজনীতি থেকে সাধারণের অন্দরমহল জল্পনা-কল্পনা, বিবাদ-বিতর্ক, আশা-আশঙ্কায় যাকে বলে রীতিমতো সরগরম! পথেঘাটে আকাশে বাতাসে যেখানে সেখানে ছিটকে উঠছে উৎকণ্ঠা নানান জিজ্ঞাসা।
বিশদ

06th  June, 2019
কর্ণাটক পুরনির্বাচন: আবার উল্টালো ভোটফল
শুভময় মৈত্র 

নির্বাচনে ভোটফল নিয়ে কখন যে কী ঘটছে তার ব্যাখ্যা পাওয়া যাচ্ছে না মোটেই। মানুষ অবশ্যই মত বদলাবেন। সে স্বাধীনতা তাঁদের আছে। সে জন্যেই তো ভোটফল বদলায়। নাহলে সংসদীয় গণতন্ত্রের কোনও অর্থই থাকে না।  
বিশদ

04th  June, 2019
একনজরে
 দীপ্তিমান মুখোপাধ্যায়, হাওড়া: জেলার সেচবাঁধ ও শর্ট কাট চ্যানেলগুলির অবস্থা খতিয়ে দেখে পঞ্চায়েত সমিতিগুলিকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিল জেলা প্রশাসন। আগামী কয়েকদিনের মধ্যেই রাজ্যে বর্ষা ঢুকবে বলে জেলা প্রশাসনের কর্তারা মনে করছেন। ...

  মুম্বই, ১৭ জুন (পিটিআই): ৬৭ কোটি ৬৫ লক্ষ টাকা ঋণ পরিশোধ করতে ব্যর্থ হওয়ায় বিড়লা সূর্য সংস্থার ডিরেক্টর যশোবর্ধন বিড়লাকে ইচ্ছাকৃত ঋণখেলাপি ঘোষণা করল ইউকো ব্যাঙ্ক। রবিবার এ বিষয়ে জনস্বার্থে নোটিস জারি করেছে তারা। ...

  চেন্নাই, ১৭ জুন: তামিলনাড়ু পুলিসের এক সাব-ইন্সপেক্টরের বিশেষ রিপোর্টের ভিত্তিতে তিন আইএস সমর্থনকারীকে গ্রেপ্তার করল বিশেষ তদন্তকারী শাখা (এনআইএ)। ওই তিনজন কোয়েম্বাটোরের বিভিন্ন ধর্মীয়স্থানে আত্মঘাতী হামলার ছক করেছিল বলে পুলিসের দাবি। ধৃতদের নাম মহম্মদ হুসেন, শাহজাহান এবং শেখ সইফুল্লা। ...

 রিও ডি জেনেইরো, ১৭ জুন: কোপা আমেরিকার প্রথম ম্যাচে বলিভিয়ার চ্যালেঞ্জ সহজেই অতিক্রম করেছে ব্রাজিল। বুধবার সকালে (ভারতীয় সময়) গ্রুপ-এ’র দ্বিতীয় ম্যাচে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের মুখোমুখি ...




আজকের দিনটি কিংবদন্তি গৌতম
৯১৬৩৪৯২৬২৫ / ৯৮৩০৭৬৩৮৭৩

ভাগ্য+চেষ্টা= ফল
  • aries
  • taurus
  • gemini
  • cancer
  • leo
  • virgo
  • libra
  • scorpio
  • sagittorius
  • capricorn
  • aquarius
  • pisces
aries

উচ্চতর বিদ্যায় সাফল্য আসবে। প্রেম-ভালোবাসায় আগ্রহ বাড়বে। পুরনো বন্ধুর সঙ্গে সাক্ষাতে আনন্দলাভ হবে। সম্ভাব্য ক্ষেত্রে ... বিশদ


ইতিহাসে আজকের দিন

১৯৩৬- রুশ সাহিত্যিক ম্যাক্সিম গোর্কির মৃত্যু
১৯৮৭- পরিচালক হীরেন বসুর মৃত্যু
২০০৫- ক্রিকেটার মুস্তাক আলির মৃত্যু
২০০৯- প্রখ্যাত সরোদ শিল্পী আলি আকবর খানের মৃত্যু  

ক্রয়মূল্য বিক্রয়মূল্য
ডলার ৬৮.৯৯ টাকা ৭০.৬৮ টাকা
পাউন্ড ৮৬.৩৪ টাকা ৮৯.৫৫ টাকা
ইউরো ৭৬.৭৯ টাকা ৭৯.৭৬ টাকা
[ স্টেট ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়া থেকে পাওয়া দর ]
পাকা সোনা (১০ গ্রাম) ৩৩,৩২৫ টাকা
গহনা সোনা (১০ (গ্রাম) ৩১,৬১৫ টাকা
হলমার্ক গহনা (২২ ক্যারেট ১০ গ্রাম) ৩২,০৯০ টাকা
রূপার বাট (প্রতি কেজি) ৩৭,১০০ টাকা
রূপা খুচরো (প্রতি কেজি) ৩৭,২০০ টাকা
[ মূল্যযুক্ত ৩% জি. এস. টি আলাদা ]

দিন পঞ্জিকা

৩ আষা‌ঢ় ১৪২৬, ১৮ জুন ২০১৯, মঙ্গলবার, প্রতিপদ ২৩/৫৮ দিবা ২/৩১। মূলা ১৭/১৬ দিবা ১১/৫০। সূ উ ৪/৫৬/০, অ ৬/১৮/৫৪, অমৃতযোগ দিবা ৭/৩৬ মধ্যে পুনঃ ৯/২৩ গতে ১২/৩ মধ্যে পুনঃ ৩/৩৮ গতে ৪/৩১ মধ্যে। রাত্রি ৭/১ মধ্যে পুনঃ ১১/৫৮ গতে ২/৬ মধ্যে, বারবেলা ৬/৩৭ গতে ৮/১৭ মধ্যে পুনঃ ১/১৮ গতে ২/৫৮ মধ্যে, কালরাত্রি ৭/৩৯ গতে ৮/৫৮ মধ্যে। 
২ আষাঢ় ১৪২৬, ১৮ জুন ২০১৯, মঙ্গলবার, প্রতিপদ ২২/২২/৩৮ দিবা ১/৫২/৩৩। মূলানক্ষত্র ১৭/২৭/২৯ দিবা ১১/৫৪/৩০, সূ উ ৪/৫৫/৩০, অ ৬/২১/২৮, অমৃতযোগ দিবা ৭/৪০ মধ্যে ও ৯/২৭ গতে ১২/৮ মধ্যে ও ৩/৪২ গতে ৪/৩৫ মধ্যে এবং রাত্রি ৭/৫ মধ্যে ও ১২/২ গতে ২/৯ মধ্যে, বারবেলা ৬/৩৬/১৫ গতে ৮/১৬/৫৯ মধ্যে, কালবেলা ১/১৯/১৩ গতে ২/৫৯/৫৮ মধ্যে, কালরাত্রি ৭/৪০/৪৩ গতে ২/৫৯/৫৯ মধ্যে। 
মোসলেম: ১৪ শওয়াল 

ছবি সংবাদ

এই মুহূর্তে
তৃণমূলের জনসংযোগ যাত্রা শুরু হচ্ছে ২১ জুন থেকে 
ধর্মতলার শহিদ দিবসের প্রেক্ষাপটে আগামী ২১ জুন থেকে মাসব্যাপী জনসংযোগ ...বিশদ

09:29:48 AM

পুলিসের নিচুতলায় বাতিল প্রাক পদোন্নতির প্রশিক্ষণ
 

রাজ্য পুলিসে এখন থেকে নিচুতলার পুলিস কর্মীদের জন্য ‘প্রি প্রোমোশনাল ...বিশদ

09:23:24 AM

বাঘ সংরক্ষণ নিয়ে আলোচনা ভারত-বাংলাদেশের

রাষ্ট্রসংঘের পরিবেশ বিষয়ক গোষ্ঠী আই ইউ সি এনের উদ্যোগে ওয়াইল্ডলাইফ ...বিশদ

09:18:07 AM

পুরমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করে ইস্তফার ইচ্ছাপ্রকাশ বনগাঁর চেয়ারম্যানের 
বনগাঁ পুরসভার চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে ১৪ জন তৃণমূল কংগ্রেস কাউন্সিলারদের অনাস্থা ...বিশদ

09:11:59 AM

রেশনে আধার সংযুক্তিকরণের সময় বাড়ুক, চাইছে রাজ্য 
রেশন কার্ডের সঙ্গে আধার সংযুক্তিকরণের সময়সীমা কেন্দ্রীয় সরকার এখনও বৃদ্ধি ...বিশদ

09:07:11 AM

আরও ৫০ সুইস ব্যাঙ্ক গ্রাহকের তথ্য পেতে চলেছে ভারত
 

কালো টাকা দেশে ফিরিয়ে আনা হবে। ২০১৪ সালে বিজেপির নির্বাচনী ...বিশদ

08:55:00 AM