Bartaman Patrika
বিশেষ নিবন্ধ
 

বাংলায় রামবোকামির মরশুম
হারাধন চৌধুরী 

আমার মামার বাড়ি ভারত-বাংলাদেশের একটি সীমান্ত গ্রামে। বলা বাহুল্য, আমার মায়ের জন্ম দেশভাগের অনেক আগে। স্বভাবতই তাঁর স্মৃতির অনেকখানি জুড়ে ছিল অখণ্ড ভারতীয় গ্রামদেশ ও তার সংস্কৃতি। ১৯৪৭-এ মায়ের শৈশবের গ্রামের উপর দিয়েই ভাগ হয়ে গিয়ে ভারতের ভূগোল এবং ইতিহাস খুলেছিল এক নতুন অধ্যায়। সেই অধ্যায় আমার মায়ের মনে যে কিছুমাত্র সুখানুভূতি রেখে যেতে পারেনি তা আমি তাঁর শেষদিনেও অনুভব করেছি। ছোটবেলা মামার বাড়ি যেতে কিছুটা নৌকা চড়তে হতো। সরু সোনাই নদী। তার পুব দিকে বাংলাদেশের গ্রামগুলি আর পশ্চিমবঙ্গের গ্রামগুলি পশ্চিম দিকে। নৌকা কিছুটা এগনোর পরই মায়ের মনটা কেমন যেন চঞ্চল হয়ে উঠত। আমার মুখটা ধরে পুব দিকে ঘুরিয়ে দিয়ে বলত, ‘‘ওই দেখ, কেঁড়াগাছি গ্রাম। ওখানে একসময় রাম-সীতার মন্দির ছিল। খুব বড় করে রামনবমীর মেলা বসত। খুব প্রাচীন মেলা। সে ছিল আমাদের খুব আনন্দের দিন। সব ভাইবোনকে নিয়ে বাবা-মা মেলায় আসতেন। মেলায় আসা-যাওয়ার জন্য গোরুর গাড়ি ভাড়া করা হতো, এখন যেমন লোকে প্রাইভেট গাড়ি ভাড়া করে!’’
রামনবমী উদযাপন আর রাম-সীতার মেলার অনেক স্মৃতি রোমন্থন করতে শুনেছি মাকে, কিন্তু সৌভাগ্য যে, তার ভিতর অস্ত্রের ঝনঝনানি আর হিংসার তিলার্ধও ছিল না। এসবের ছিটেফোঁটাও থাকলে একটিবার উল্লেখ না-করার মতো দুর্বল স্মৃতি আমার মায়ের ছিল না। আমার দাদামশাই ছিলেন অতি শান্ত প্রকৃতির একজন মানুষ। একে বয়োজ্যেষ্ঠ, তার উপর কিছুটা লেখাপড়াও জানতেন। তাই গ্রামে তাঁর বিশেষ গ্রহণযোগ্যতা ছিল। গ্রামের মানুষ সারাদিন খাটাখাটনির পর সন্ধ্যায় তাঁর কাছে এসে ভিড় জমাত। দাদামশাই কৃত্তিবাসী রামায়ণ খুলে বসতেন। সুর করে পড়তেন। ধারাবাহিকভাবে এগিয়ে যেত রাম-সীতার মাহাত্ম্যকেন্দ্রিক গল্পগুলি। দাদামশাই মানুষটি আমার স্মৃতিতে খুব উজ্জ্বল নন। এসব দীর্ঘদিন শুনেছি তাঁর প্রতিবেশীদের শ্রদ্ধামিশ্রিত স্মৃতিরোমন্থনে। রামচন্দ্র তাঁদের কাছে যত-না ভগবান তার থেকে বেশি ছিলেন লোকশিক্ষা আর বিনোদনের প্রধান কেন্দ্র।
আমার ছোটবেলা কেটেছে মফস্‌সল এলাকায়। পুজোর সময় আধুনিক গান বাজনার সারারাত্রিব্যাপী বিচিত্রানুষ্ঠানের পাশাপাশি রামযাত্রাও হতো। বেশ মনে আছে, বড়দের চোখ ফাঁকি দিয়ে বেশি রাতে দরজা খুলে বেরিয়ে যেতাম। বসে পড়তাম পাড়ায় রামযাত্রার আসরে দর্শক আসনের এক কোণে। খুব মজা পেতাম হনুমানের লম্ফঝম্প দেখে। অবাক হতাম রাম, সীতা, ভরত, লক্ষ্মণ প্রভৃতির সংলাপ শুনে বড়রা হাপুসনয়নে কাঁদছেন দেখে। অনেক পরে জেনেছি সেসব ছিল রাম-সীতাভক্তি। শ্রীরামচন্দ্রের পিতৃসত্যপালন ও প্রজাবাৎসল্য, সীতার পতিভক্তি, লক্ষ্ণণের রাম-সীতার ছায়াসঙ্গী হয়ে ওঠাই ছিল তাঁদের ভক্তিপ্রাবল্যের হেতু।
এসব থেকে পরিষ্কার হয়, ভগবান রামচন্দ্র বাঙালি-সংস্কৃতিরও অঙ্গ। রামচন্দ্র হালফিল উত্তর ভারত থেকে আমদানি কোনও দেবতা নন। দেখুন, ভারতের প্রথম আধুনিক মানুষটি একজন বঙ্গসন্তান। তাঁর নাম রামমোহন। অষ্টাদশ শতকে বাংলা গদ্য সাহিত্যের আদি লেখকদের একজনের নামের সঙ্গে আবার রাম দু’বার এসেছেন—রামরাম বসু। খ্রিস্টান মিশনারিদের তিনি বাংলা ও সংস্কৃত শেখাতেন। বাংলা ভাষায় বাইবেল অনুবাদে উইলিয়াম কেরিকে তিনিই সাহায্য করেছিলেন। রামরাম বসু রামায়ণ, মহাভারতও সম্পাদনা করেছিলেন।
রামচন্দ্র নামটি বাঙালি-সংস্কৃতির অস্থিমজ্জায় কেমন, আরও দেখুন—এ-যুগে ধর্ম আন্দোলনের দু’জন বিস্ময়কর পুরুষ হলেন সাধক রামপ্রসাদ ও শ্রীরামকৃষ্ণ পরমহংস। রামদুলাল দে, রামতনু লাহিড়ী, রামকুমার চট্টোপাধ্যায় যথাক্রমে বাণিজ্য, শিক্ষা, সঙ্গীত জগতের তিনটি পরিচিত নাম। স্বাধীনতা আন্দোলনের যুগের অন্যতম প্রধান নেতা রামমনোহর লোহিয়া থেকে হালফিল মার্কসবাদী কমিউনিস্ট নেতা সীতারাম ইয়েচুরি, কেন্দ্রের বর্তমান অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন প্রত্যেকেই কোনও-না-কোনোভাবে রামাশ্রয়ী।
‘রাম’ আমাদের সংস্কৃতিতে শুভসূচক। তাই একদা মানুষ গণনা করতেন এইভাবে—‘‘রাম, ২, ৩, ৪, ...।’’ অর্থাৎ ‘১’ সংখ্যার বদলে তাঁরা ‘রাম’ নাম নিতেন। তাহলে গণনাটি একটি সুখকর জায়গায় পৌঁছাবে—এই ছিল তাঁদের বিশ্বাস। একটি জনপ্রিয় ছড়াতেও এই চিন্তার প্রতিফলন রয়েছে—‘‘রাম দুই সাতে তিন অমাবস্যা ঘোড়ার ডিম।’’ রাম আমাদের সংস্কৃতিতে বৃহৎ, পবিত্র, মহান এবং সর্বশক্তিমান অর্থবোধকও হয়ে উঠেছেন। খুব বড় এবং ধারালো দা হল ‘রামদা’। বড় সাইজের ছাগল হল ‘রামছাগল’। গুছিয়ে মার দিলে লোকে বলে ‘রামধোলাই’ হয়েছে। বড়সড় ধাক্কাকে বলা হয় ‘রামধাক্কা’। খুব ভিতু ছেলে বা মেয়েকে আমরা বলি ‘রামভিতু’। নিন্দা, ঘৃণা, ব্যঙ্গ প্রভৃতিতেও তিনি—‘রামঃ রামো’ অথবা ‘রামগড়ুরের ছানা’ ...। আকাশে জলকণা আর আলোর ধনুকাকৃতি যে বহুবর্ণ নৈসর্গিক শোভা—সেটাকে আমরা চিনি ‘রামধনু’ নামে। ভূতের ভয় অনুভব করলে বা অদৃশ্য বিপদকালে আজও অনেকে রাম নাম নিয়ে থাকেন।
রামায়ণের রচয়িতা, মহাকবি বাল্মীকি হওয়ার আগে দস্যু রত্নাকর হিসেবে এতটাই পাপী ছিলেন যে, প্রচারিত আছে, তাঁর জিহ্বা রাম নাম উচ্চারণে অক্ষম ছিল। অবশেষে ‘মরা মরা ...’ বলতে বলতে ‘রাম রাম ...’-এ উত্তীর্ণ হন এবং এই জীবনের মতো পবিত্রতম হয়ে ওঠেন। রাজা হিসেবেও রামচন্দ্রকে আদর্শ বলে মনে করা হয়। তাই সবচেয়ে সুশাসিত রাজ্যপাটই রামরাজ্য বলে কীর্তিত হয়। স্বয়ং জাতির জনক মহাত্মা গান্ধীর আমৃত্যু রামভক্তির পরিচয় আমাদের অজানা নয়।
মানুষ এতদিন রামনাম নিয়েছে নিভৃতে অথবা রামনমবীর মতো বিশেষ অনুষ্ঠানের সময়গুলিতে। কোনোদিন তাঁর নাম কলুষিত করা হয়নি অস্ত্রের ঝনঝনানির মধ্য দিয়ে। রামনবমী পালন কোনোদিন টাগ-অফ-ওয়ারের সাবজেক্ট হয়ে উঠতে পারে—এ ছিল আমাদের কল্পনাতীত। গত দু’-তিন বছর যাবৎ বাংলা এই বিপদে পতিত হয়েছে। সদ্য-সমাপ্ত নির্বাচনের প্রচারের সময় থেকে যুক্ত হয়েছে ‘জয় শ্রীরাম’ ধ্বনি। কিছু লোক এটাকে তাদের অপছন্দের মানুষদের উত্ত্যক্ত করার অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করছেন। ‘জয় শ্রীরাম’ উচ্চারিত হচ্ছে পরিষ্কার উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে। এই উচ্চারণ কোনোভাবেই ভগবান শ্রীরামচেন্দ্রর প্রতি ‌জয়সূচক বা তাঁর মহিমাকীর্তনের অঙ্গ নয়। তাঁর নামটি সংকীর্ণ রাজনীতির চোরাগলি ধরে হাসি-মশকরার রোয়াকে এনে ফেলা হচ্ছে।
তার ফলে কেউ কেউ স্বাভাবিক প্রতিক্রিয়া জানাচ্ছেন। তখন আমরা বিচার করতে বসছি, কার প্রতিক্রিয়া কতটা সংগত অথবা অসংগত হচ্ছে! সবচেয়ে দুর্ভাগ্য, এই ছ্যাবলামি যাঁরা করছেন তাঁদের হয়ে সাফাই গাওয়ার লোকেরও অভাব হচ্ছে না রাজনীতির উচ্চাসন থেকে। ভেবে দেখা হচ্ছে না, রামনাম কতটা কলুষিত হচ্ছে! বিশ্বাসীর কাছে রামনাম যদি একটি মহৌষধ কিংবা অস্ত্র হয়ে থাকে, তবে প্রাসঙ্গিক সত্যটিও মনে রাখা ভালো—ওষুধ এবং অস্ত্রের ভুল প্রয়োগের বোকামিটা যাঁরা করেন সেটা তাঁদেরই পক্ষে ব্যুমেরাং হয়ে ওঠে।
আমাদের বৃহত্তম গণতন্ত্র। কেন্দ্রে এবং রাজ্যে রাজ্যে সরকার তৈরি করতে পাঁচ বছর অন্তর আমাদের অন্তত দু’বার বিরাট নির্বাচনের মধ্যে দিয়ে যেতে হয়। এছাড়া থাকে পঞ্চায়েত এবং পুরসভার মতো লোকাল গভর্নমেন্ট তৈরির প্রায় সমান গুরুত্বপূর্ণ প্রক্রিয়া। একদিকে উন্নয়ন ও সুশাসনের জন্য ভোট, আবার অন্যদিকে, ভোটগ্রহণেরই জন্য উন্নয়ন সাময়িকভাবে লাটে তুলে দেওয়া। অর্থাৎ মাত্র পাঁচ বছরের মধ্যে অন্তত তিনবার উন্নয়ন লাটে তুলে থাকি আমরা। এর মাঝে কেন্দ্রে বা রাজ্যে সরকার পড়ে গেলে এবং কোনও ধরনের উপনির্বাচন অবশ্যম্ভাবী হয়ে উঠলে উন্নয়নের পাঠ আরও এক বা একাধিকবার গোল্লায় যাওয়ার আশঙ্কা থাকে।
বাকি সময়টাতে কাজ কতটা হয় তা নিয়ে তর্কের অবকাশ রয়ে যায়। কারণ প্রাকৃতিক বিপর্যয় এবং চুরি, দুর্নীতি, কেন্দ্র-রাজ্য বিরোধ, দলাদলি, উপদলীয় কোন্দল আর ল্যাং মারামারি আমাদের অবিচ্ছেদ্য রাজনৈতিক সংস্কৃতি। তাই, সুশাসনের প্রতিশ্রুতি বিলিয়ে ক্ষমতা দখল করা রাজনৈতিক দলগুলির উচিত অবিলম্বে এই কুনাট্যে ইতি টেনে দেওয়া, যাতে করে উন্নয়নের ছিটেফোঁটা সমাজ পেতে পারে। নরেন্দ্র মোদি পুনর্নির্বাচিত হয়ে এলেও দেশের বিপুল বেকারত্ব আর রুগ্‌ণ অর্থনীতি কিন্তু রাতারাতি মিথ্যে হয়ে যাবে না। মানুষ বিজেপিকে ভাবমূর্তি মেরামতের এক বিরাট সুযোগ দিয়েছে, এ কিন্তু অভূতপূর্ব। বিজেপির উচিত, রামবোকামি ছেড়ে এই সুযোগের সদ্ব্যবহার করা। বিশেষ নজর দাবি করে বাংলা। বাংলার দাবির ন্যায্যতা হল—বহুদিন পর বাংলা কেন্দ্রীয় শাসকদের এতটা উদ্বাহু সমর্থন জানিয়েছে।
শুধু রাজ্য সরকার আর রাজ্যের শাসক দলকে টাইট দিয়েই কিন্তু ২০২১-এ পার পাবেন না মোদিজি। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কেও দেখাতে হবে, কেন্দ্রের সঙ্গে, বিজেপির সঙ্গে যত বিরোধ বৈরিতা থাক না কেন, উন্নয়নের প্রশ্নে আজও তিনি আপসহীন। বাংলায় ২০২১-এর লড়াইটা উন্নয়ন বনাম উন্নয়নের হয়ে উঠবে কি? রামনাম নিয়ে এই অবাঞ্ছিত ছেলেখেলা ছেড়ে যে-দল বাংলাকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার আন্তরিকতা সবার আগে প্রমাণ করতে পারবে, আগাম বলে দেওয়া যায়, ২০২১ শুধু তার। লোকসভা ভোটের এই ফল এবং এর প্রভাব ততক্ষণে অনেকটাই ফিকে হয়ে আসবে কিন্তু যুযুধান সব পক্ষেরই জন্যে। 
04th  June, 2019
বিধানসভা ভোট কিন্তু হবে মমতাকে দেখেই
শান্তনু দত্তগুপ্ত 

ইন্দিরা গান্ধীর টার্গেট ছিল একটাই। যেভাবে হোক সিপিএমের কোমর ভেঙে দিতে হবে। তিনি মনে করতেন, সিপিএম আসলে সিআইএ’র মদতপুষ্ট। ঠিকঠাক সুযোগ পেলে পূর্ববঙ্গ এবং পশ্চিমবঙ্গে সশস্ত্র আন্দোলন করিয়ে বৃহত্তর বাংলা গঠন করে ফেলবে। কাজেই বাংলা কংগ্রেস এবং সিপিআই পছন্দের তালিকায় থাকলেও সিপিএমকে মোটে বরদাস্ত করতে পারতেন না ইন্দিরা।
বিশদ

ডাক্তারবাবুদের গণ-ইস্তফা নজিরবিহীন,
কিন্তু তাতে কি হাসপাতাল সমস্যা মিটবে?

 এ-কথাও তো সত্যি যে, হাসপাতালের পরিকাঠামোগত উন্নয়নে বা ডাক্তারবাবুদের যথাযথ নিরাপত্তা বিধানে তাঁর সদিচ্ছা আছে এবং ইতিমধ্যেই তার যথেষ্ট প্রমাণ মিলেছে। এই অচলাবস্থা কাটাতে প্রবীণদের বৈঠকে ডেকে মুখ্যমন্ত্রী সমাধানসূত্র খুঁজছেন— সেটাও কি ওই সদিচ্ছারই নামান্তর নয়? বিশদ

16th  June, 2019
নরেন্দ্র মোদির মালদ্বীপ সফর এবং ভারত মহাসাগরে ভারতের নতুন রণনীতি
গৌরীশঙ্কর নাগ

 মোদিজির এই দ্বীপপুঞ্জ-সফর কেবলমাত্র হাসি বিনিময় ও করমর্দনের রাজনীতি হবে না, বরং এর প্রধান অ্যাজেন্ডাই হল প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে মজবুত করা। তবে সেটা করতে গিয়ে ভারত যেন দ্বীপপুঞ্জের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে অযথা হস্তক্ষেপ না করে বসে। কিন্তু তার অর্থ এই নয় যে, ভারত মালদ্বীপকে সন্ত্রাসবাদের নয়া ‘আঁতুড়ঘর’ হতে দেবে। কারণ ইতিমধ্যেই আমরা দেখেছি পাকিস্তান, আফগানিস্তান এমনকী মধ্যপ্রাচ্য থেকেও জেহাদি নেটওয়ার্কের কারবার মালদ্বীপেও পৌঁছে গিয়েছে। এই র‌্যাডিক্যালিজমের একমাত্র দাওয়াই হল অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও তার সহায়ক শক্তি হিসেবে রাজনৈতিক স্থিরতা।
বিশদ

15th  June, 2019
সতর্কতার সময়
সমৃদ্ধ দত্ত

 ভারতীয় সংস্কৃতির সনাতন ধারাটি হল দিবে আর নিবে, মিলিবে মেলাবে। কিন্তু সেই সংস্কৃতি থেকে আমাদের সরিয়ে এনেছে অসহিষ্ণুতা আর স্বল্পবিদ্যা। আর সবথেকে বেশি জায়গা করে নিয়েছে বিদ্বেষ। রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের প্রতি বিদ্বেষ।
বিশদ

14th  June, 2019
ক্ষমতার ‘হিন্দি’ মিডিয়াম
শান্তনু দত্তগুপ্ত

 উত্তর ভারতের সঙ্গে দক্ষিণের সীমারেখা। আর তার কারিগর আমরাই। আমাদের কাছে সাউথ ইন্ডিয়ান মানে মাদ্রাজি। দক্ষিণ ভারতের লোকজন নারকেল তেল খায়, অদ্ভুত ওদের উচ্চারণ, লুঙ্গি পরে বিয়েবাড়ি যায়... হাজারো আলোচনা। উত্তর ভারত মানে বিষম একটা নাক উঁচু ব্যাপার। আর দক্ষিণ মানেই রসিকতার খোরাক। তাই ওদের একটু ‘মানুষ’ করা দরকার। কীভাবে সেটা সম্ভব? হিন্দি শেখাতে হবে। বিশদ

13th  June, 2019
বারুদের স্তূপের উপর পশ্চিমবঙ্গ
হিমাংশু সিংহ

সংসদীয় রাজনীতিতে কিছুই চিরস্থায়ী নয়। কারও মৌরসিপাট্টাই গণতন্ত্রে বেশিদিন টেকে না। সব সাজানো বাগানই একদিন শুকিয়ে যায় কালের নিয়মে। ইতিহাস কয়েক বছর অন্তর ফিরে ফিরে আসে আর ধুরন্ধর শাসককে চরম শিক্ষা দিয়ে তাঁকে, তাঁর ক্ষমতাকে ধুলোয় লুটিয়ে দিয়ে আবার ফকির করে দিয়ে যায়। সব ক্ষমতা এক ভোটে বিলীন। ধূলিসাৎ। আর এখানেই মহান গণতন্ত্রের জিত আর চমৎকারিত্ব। আর সেই দিক দিয়ে ২৩ মে-র ফল এই পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিকেও আবার এক মহান সন্ধিক্ষণের দিকেই যেন ঠেলে দিয়েছে। ‘বিয়াল্লিশে বিয়াল্লিশ’ হয়নি, ‘২০১৯ বিজেপি ফিনিশ’—তাও হয়নি। উল্টে সারাদেশে বিজেপি থ্রি-নট-থ্রি (অর্থাৎ ৩০৩টি) আসন জিতে তাক লাগিয়ে দিয়েছে ভোট-পণ্ডিতদের।
বিশদ

11th  June, 2019
মোদিজি কি ‘সবকা বিশ্বাস’ অর্জন করতে পারবেন?
পি চিদম্বরম

 নরেন্দ্র মোদি এবার যে জনাদেশ পেয়েছেন তা অনস্বীকার্যভাবে বিপুল। যদিও, অতীতে লোকসভা নির্বাচনে একটি পার্টি ৩০৩-এর বেশি আসন জেতার একাধিক দৃষ্টান্ত আছে। যেমন ১৯৮০ সালে ইন্দিরা গান্ধী ৩৫৩ এবং ১৯৮৪ সালে রাজীব গান্ধী ৪১৫ পেয়েছিলেন।
বিশদ

10th  June, 2019
 বিজেপি এ রাজ্যের বিধানসভা ভোটকে
কঠিন চ্যালেঞ্জ মনে করছে কেন?
শুভা দত্ত

 কয়েকদিনের মধ্যে বেশ কয়েকটি মর্মান্তিক খুনের ঘটনা ঘটে গেল রাজ্যের উত্তর থেকে দক্ষিণে। তাই আজও একই প্রসঙ্গ দিয়ে এই নিবন্ধ শুরু করতে হচ্ছে। গত সপ্তাহেই লিখেছিলাম, ভোটফল প্রকাশের পর রাজ্যের বেশ কিছু এলাকায় যেন একটা হিংসার বাতাবরণ তৈরি হয়েছে।
বিশদ

09th  June, 2019
ইচ্ছে-ডানায় নাচের তালে
অতনু বিশ্বাস

এ বছরের সিবিএসই পরীক্ষার ফল বেরতে দেখা গেল, প্রথম হয়েছে দু’টি মেয়ে। একসঙ্গে। ৫০০-র মধ্যে তারা পেয়েছে ৪৯৯ করে। দু’জনেই আবার আর্টসের ছাত্রী। না, পরীক্ষায় আজকাল এত এত নম্বর উঠছে, কিংবা আর্টস বিষয় নিয়েও প্রচুর নম্বর তুলে বোর্ডের পরীক্ষায় র‍্যাঙ্ক করা যায় আজকাল—এগুলোর কোনওটাই আমার আলোচনার বিষয়বস্তু নয়।
বিশদ

08th  June, 2019
ভারতের রাজনীতিতে ‘গেম মেকার’
মৃণালকান্তি দাস

মেধাবী হলেই যে পড়ুয়ার জন্য মোটা বেতনের চাকরি নিশ্চিত, তার কোনও গ্যারান্টি নেই। শুধু প্রতিভা থাকলে আর পরিশ্রমী হলেই হবে না, উপযুক্ত প্রশিক্ষণ এবং ঠিকঠাক ‘গাইড’ না পাওয়ায় পড়ুয়ারা আজ আর সরকারি চাকরির লক্ষ্যভেদ করতে পারেন না।
বিশদ

07th  June, 2019
অবিজেপি ভোটে বাজিমাত
বিজেপির, এবং তারপর...
মেরুনীল দাশগুপ্ত

আলোড়ন! নিঃসন্দেহে একটা জবরদস্ত আলোড়ন উঠেছে। লোকসভা ভোটফল প্রকাশ হওয়া ইস্তক সেই আলোড়নের দাপটে রাজ্য-রাজনীতি থেকে সাধারণের অন্দরমহল জল্পনা-কল্পনা, বিবাদ-বিতর্ক, আশা-আশঙ্কায় যাকে বলে রীতিমতো সরগরম! পথেঘাটে আকাশে বাতাসে যেখানে সেখানে ছিটকে উঠছে উৎকণ্ঠা নানান জিজ্ঞাসা।
বিশদ

06th  June, 2019
কর্ণাটক পুরনির্বাচন: আবার উল্টালো ভোটফল
শুভময় মৈত্র 

নির্বাচনে ভোটফল নিয়ে কখন যে কী ঘটছে তার ব্যাখ্যা পাওয়া যাচ্ছে না মোটেই। মানুষ অবশ্যই মত বদলাবেন। সে স্বাধীনতা তাঁদের আছে। সে জন্যেই তো ভোটফল বদলায়। নাহলে সংসদীয় গণতন্ত্রের কোনও অর্থই থাকে না।  
বিশদ

04th  June, 2019
একনজরে
 দীপ্তিমান মুখোপাধ্যায়, হাওড়া: জেলার সেচবাঁধ ও শর্ট কাট চ্যানেলগুলির অবস্থা খতিয়ে দেখে পঞ্চায়েত সমিতিগুলিকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিল জেলা প্রশাসন। আগামী কয়েকদিনের মধ্যেই রাজ্যে বর্ষা ঢুকবে বলে জেলা প্রশাসনের কর্তারা মনে করছেন। ...

সংবাদদাতা, কালনা: কালনা ফেরিঘাটের এবার নিলাম হতে অনলাইনে। ইতিমধ্যে কালনা পুরসভার তরফে অনলাইনে নিলামের বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়েছে। ১১ জুলাই নিলামের দিন ধার্য করা হয়েছে। পুরসভার পক্ষ থেকে নিলাম দর রাখা হয়েছে বাৎসরিক ৫০ লক্ষ টাকা।  ...

 রিও ডি জেনেইরো, ১৭ জুন: কোপা আমেরিকার প্রথম ম্যাচে বলিভিয়ার চ্যালেঞ্জ সহজেই অতিক্রম করেছে ব্রাজিল। বুধবার সকালে (ভারতীয় সময়) গ্রুপ-এ’র দ্বিতীয় ম্যাচে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের মুখোমুখি ...

  চেন্নাই, ১৭ জুন: তামিলনাড়ু পুলিসের এক সাব-ইন্সপেক্টরের বিশেষ রিপোর্টের ভিত্তিতে তিন আইএস সমর্থনকারীকে গ্রেপ্তার করল বিশেষ তদন্তকারী শাখা (এনআইএ)। ওই তিনজন কোয়েম্বাটোরের বিভিন্ন ধর্মীয়স্থানে আত্মঘাতী হামলার ছক করেছিল বলে পুলিসের দাবি। ধৃতদের নাম মহম্মদ হুসেন, শাহজাহান এবং শেখ সইফুল্লা। ...




আজকের দিনটি কিংবদন্তি গৌতম
৯১৬৩৪৯২৬২৫ / ৯৮৩০৭৬৩৮৭৩

ভাগ্য+চেষ্টা= ফল
  • aries
  • taurus
  • gemini
  • cancer
  • leo
  • virgo
  • libra
  • scorpio
  • sagittorius
  • capricorn
  • aquarius
  • pisces
aries

উচ্চতর বিদ্যায় সাফল্য আসবে। প্রেম-ভালোবাসায় আগ্রহ বাড়বে। পুরনো বন্ধুর সঙ্গে সাক্ষাতে আনন্দলাভ হবে। সম্ভাব্য ক্ষেত্রে ... বিশদ


ইতিহাসে আজকের দিন

১৯৩৬- রুশ সাহিত্যিক ম্যাক্সিম গোর্কির মৃত্যু
১৯৮৭- পরিচালক হীরেন বসুর মৃত্যু
২০০৫- ক্রিকেটার মুস্তাক আলির মৃত্যু
২০০৯- প্রখ্যাত সরোদ শিল্পী আলি আকবর খানের মৃত্যু  

ক্রয়মূল্য বিক্রয়মূল্য
ডলার ৬৮.৯৯ টাকা ৭০.৬৮ টাকা
পাউন্ড ৮৬.৩৪ টাকা ৮৯.৫৫ টাকা
ইউরো ৭৬.৭৯ টাকা ৭৯.৭৬ টাকা
[ স্টেট ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়া থেকে পাওয়া দর ]
পাকা সোনা (১০ গ্রাম) ৩৩,৩২৫ টাকা
গহনা সোনা (১০ (গ্রাম) ৩১,৬১৫ টাকা
হলমার্ক গহনা (২২ ক্যারেট ১০ গ্রাম) ৩২,০৯০ টাকা
রূপার বাট (প্রতি কেজি) ৩৭,১০০ টাকা
রূপা খুচরো (প্রতি কেজি) ৩৭,২০০ টাকা
[ মূল্যযুক্ত ৩% জি. এস. টি আলাদা ]

দিন পঞ্জিকা

৩ আষা‌ঢ় ১৪২৬, ১৮ জুন ২০১৯, মঙ্গলবার, প্রতিপদ ২৩/৫৮ দিবা ২/৩১। মূলা ১৭/১৬ দিবা ১১/৫০। সূ উ ৪/৫৬/০, অ ৬/১৮/৫৪, অমৃতযোগ দিবা ৭/৩৬ মধ্যে পুনঃ ৯/২৩ গতে ১২/৩ মধ্যে পুনঃ ৩/৩৮ গতে ৪/৩১ মধ্যে। রাত্রি ৭/১ মধ্যে পুনঃ ১১/৫৮ গতে ২/৬ মধ্যে, বারবেলা ৬/৩৭ গতে ৮/১৭ মধ্যে পুনঃ ১/১৮ গতে ২/৫৮ মধ্যে, কালরাত্রি ৭/৩৯ গতে ৮/৫৮ মধ্যে। 
২ আষাঢ় ১৪২৬, ১৮ জুন ২০১৯, মঙ্গলবার, প্রতিপদ ২২/২২/৩৮ দিবা ১/৫২/৩৩। মূলানক্ষত্র ১৭/২৭/২৯ দিবা ১১/৫৪/৩০, সূ উ ৪/৫৫/৩০, অ ৬/২১/২৮, অমৃতযোগ দিবা ৭/৪০ মধ্যে ও ৯/২৭ গতে ১২/৮ মধ্যে ও ৩/৪২ গতে ৪/৩৫ মধ্যে এবং রাত্রি ৭/৫ মধ্যে ও ১২/২ গতে ২/৯ মধ্যে, বারবেলা ৬/৩৬/১৫ গতে ৮/১৬/৫৯ মধ্যে, কালবেলা ১/১৯/১৩ গতে ২/৫৯/৫৮ মধ্যে, কালরাত্রি ৭/৪০/৪৩ গতে ২/৫৯/৫৯ মধ্যে। 
মোসলেম: ১৪ শওয়াল 

ছবি সংবাদ

এই মুহূর্তে
ডাক্তার নিগ্রহ: রিপোর্ট চাইল রাজ্য মানবাধিকার কমিশন

এনআরএস কাণ্ডে রিপোর্ট চেয়ে পাঠাল রাজ্য মানবাধিকার কমিশন। এনআরএস হাসপাতালে ...বিশদ

08:40:00 AM

 আজ কাউন্সিলারদের মুখোমুখি মমতা
লোকসভা নির্বাচনের ফলাফলের পরিপ্রেক্ষিতে আজ, মঙ্গলবার রাজ্যের সব দলীয় কাউন্সিলারদের ...বিশদ

08:38:57 AM

তৃণমূলের জনসংযোগ যাত্রা শুরু হচ্ছে ২১ জুন থেকে 
ধর্মতলার শহিদ দিবসের প্রেক্ষাপটে আগামী ২১ জুন থেকে মাসব্যাপী জনসংযোগ ...বিশদ

08:35:00 AM

পুলিসের নিচুতলায় বাতিল প্রাক পদোন্নতির প্রশিক্ষণ
 

রাজ্য পুলিসে এখন থেকে নিচুতলার পুলিস কর্মীদের জন্য ‘প্রি প্রোমোশনাল ...বিশদ

08:30:00 AM

বাঘ সংরক্ষণ নিয়ে আলোচনা ভারত-বাংলার 
রাষ্ট্রসংঘের পরিবেশ বিষয়ক গোষ্ঠী আই ইউ সি এনের উদ্যোগে ওয়াইল্ডলাইফ ...বিশদ

08:25:00 AM

ইতিহাসে আজকের দিনে 
১৯৩৬- রুশ সাহিত্যিক ম্যাক্সিম গোর্কির মৃত্যু১৯৮৭- পরিচালক হীরেন বসুর মৃত্যু২০০৫- ...বিশদ

08:22:30 AM