Bartaman Patrika
বিশেষ নিবন্ধ
 

বাংলায় রামবোকামির মরশুম
হারাধন চৌধুরী 

আমার মামার বাড়ি ভারত-বাংলাদেশের একটি সীমান্ত গ্রামে। বলা বাহুল্য, আমার মায়ের জন্ম দেশভাগের অনেক আগে। স্বভাবতই তাঁর স্মৃতির অনেকখানি জুড়ে ছিল অখণ্ড ভারতীয় গ্রামদেশ ও তার সংস্কৃতি। ১৯৪৭-এ মায়ের শৈশবের গ্রামের উপর দিয়েই ভাগ হয়ে গিয়ে ভারতের ভূগোল এবং ইতিহাস খুলেছিল এক নতুন অধ্যায়। সেই অধ্যায় আমার মায়ের মনে যে কিছুমাত্র সুখানুভূতি রেখে যেতে পারেনি তা আমি তাঁর শেষদিনেও অনুভব করেছি। ছোটবেলা মামার বাড়ি যেতে কিছুটা নৌকা চড়তে হতো। সরু সোনাই নদী। তার পুব দিকে বাংলাদেশের গ্রামগুলি আর পশ্চিমবঙ্গের গ্রামগুলি পশ্চিম দিকে। নৌকা কিছুটা এগনোর পরই মায়ের মনটা কেমন যেন চঞ্চল হয়ে উঠত। আমার মুখটা ধরে পুব দিকে ঘুরিয়ে দিয়ে বলত, ‘‘ওই দেখ, কেঁড়াগাছি গ্রাম। ওখানে একসময় রাম-সীতার মন্দির ছিল। খুব বড় করে রামনবমীর মেলা বসত। খুব প্রাচীন মেলা। সে ছিল আমাদের খুব আনন্দের দিন। সব ভাইবোনকে নিয়ে বাবা-মা মেলায় আসতেন। মেলায় আসা-যাওয়ার জন্য গোরুর গাড়ি ভাড়া করা হতো, এখন যেমন লোকে প্রাইভেট গাড়ি ভাড়া করে!’’
রামনবমী উদযাপন আর রাম-সীতার মেলার অনেক স্মৃতি রোমন্থন করতে শুনেছি মাকে, কিন্তু সৌভাগ্য যে, তার ভিতর অস্ত্রের ঝনঝনানি আর হিংসার তিলার্ধও ছিল না। এসবের ছিটেফোঁটাও থাকলে একটিবার উল্লেখ না-করার মতো দুর্বল স্মৃতি আমার মায়ের ছিল না। আমার দাদামশাই ছিলেন অতি শান্ত প্রকৃতির একজন মানুষ। একে বয়োজ্যেষ্ঠ, তার উপর কিছুটা লেখাপড়াও জানতেন। তাই গ্রামে তাঁর বিশেষ গ্রহণযোগ্যতা ছিল। গ্রামের মানুষ সারাদিন খাটাখাটনির পর সন্ধ্যায় তাঁর কাছে এসে ভিড় জমাত। দাদামশাই কৃত্তিবাসী রামায়ণ খুলে বসতেন। সুর করে পড়তেন। ধারাবাহিকভাবে এগিয়ে যেত রাম-সীতার মাহাত্ম্যকেন্দ্রিক গল্পগুলি। দাদামশাই মানুষটি আমার স্মৃতিতে খুব উজ্জ্বল নন। এসব দীর্ঘদিন শুনেছি তাঁর প্রতিবেশীদের শ্রদ্ধামিশ্রিত স্মৃতিরোমন্থনে। রামচন্দ্র তাঁদের কাছে যত-না ভগবান তার থেকে বেশি ছিলেন লোকশিক্ষা আর বিনোদনের প্রধান কেন্দ্র।
আমার ছোটবেলা কেটেছে মফস্‌সল এলাকায়। পুজোর সময় আধুনিক গান বাজনার সারারাত্রিব্যাপী বিচিত্রানুষ্ঠানের পাশাপাশি রামযাত্রাও হতো। বেশ মনে আছে, বড়দের চোখ ফাঁকি দিয়ে বেশি রাতে দরজা খুলে বেরিয়ে যেতাম। বসে পড়তাম পাড়ায় রামযাত্রার আসরে দর্শক আসনের এক কোণে। খুব মজা পেতাম হনুমানের লম্ফঝম্প দেখে। অবাক হতাম রাম, সীতা, ভরত, লক্ষ্মণ প্রভৃতির সংলাপ শুনে বড়রা হাপুসনয়নে কাঁদছেন দেখে। অনেক পরে জেনেছি সেসব ছিল রাম-সীতাভক্তি। শ্রীরামচন্দ্রের পিতৃসত্যপালন ও প্রজাবাৎসল্য, সীতার পতিভক্তি, লক্ষ্ণণের রাম-সীতার ছায়াসঙ্গী হয়ে ওঠাই ছিল তাঁদের ভক্তিপ্রাবল্যের হেতু।
এসব থেকে পরিষ্কার হয়, ভগবান রামচন্দ্র বাঙালি-সংস্কৃতিরও অঙ্গ। রামচন্দ্র হালফিল উত্তর ভারত থেকে আমদানি কোনও দেবতা নন। দেখুন, ভারতের প্রথম আধুনিক মানুষটি একজন বঙ্গসন্তান। তাঁর নাম রামমোহন। অষ্টাদশ শতকে বাংলা গদ্য সাহিত্যের আদি লেখকদের একজনের নামের সঙ্গে আবার রাম দু’বার এসেছেন—রামরাম বসু। খ্রিস্টান মিশনারিদের তিনি বাংলা ও সংস্কৃত শেখাতেন। বাংলা ভাষায় বাইবেল অনুবাদে উইলিয়াম কেরিকে তিনিই সাহায্য করেছিলেন। রামরাম বসু রামায়ণ, মহাভারতও সম্পাদনা করেছিলেন।
রামচন্দ্র নামটি বাঙালি-সংস্কৃতির অস্থিমজ্জায় কেমন, আরও দেখুন—এ-যুগে ধর্ম আন্দোলনের দু’জন বিস্ময়কর পুরুষ হলেন সাধক রামপ্রসাদ ও শ্রীরামকৃষ্ণ পরমহংস। রামদুলাল দে, রামতনু লাহিড়ী, রামকুমার চট্টোপাধ্যায় যথাক্রমে বাণিজ্য, শিক্ষা, সঙ্গীত জগতের তিনটি পরিচিত নাম। স্বাধীনতা আন্দোলনের যুগের অন্যতম প্রধান নেতা রামমনোহর লোহিয়া থেকে হালফিল মার্কসবাদী কমিউনিস্ট নেতা সীতারাম ইয়েচুরি, কেন্দ্রের বর্তমান অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন প্রত্যেকেই কোনও-না-কোনোভাবে রামাশ্রয়ী।
‘রাম’ আমাদের সংস্কৃতিতে শুভসূচক। তাই একদা মানুষ গণনা করতেন এইভাবে—‘‘রাম, ২, ৩, ৪, ...।’’ অর্থাৎ ‘১’ সংখ্যার বদলে তাঁরা ‘রাম’ নাম নিতেন। তাহলে গণনাটি একটি সুখকর জায়গায় পৌঁছাবে—এই ছিল তাঁদের বিশ্বাস। একটি জনপ্রিয় ছড়াতেও এই চিন্তার প্রতিফলন রয়েছে—‘‘রাম দুই সাতে তিন অমাবস্যা ঘোড়ার ডিম।’’ রাম আমাদের সংস্কৃতিতে বৃহৎ, পবিত্র, মহান এবং সর্বশক্তিমান অর্থবোধকও হয়ে উঠেছেন। খুব বড় এবং ধারালো দা হল ‘রামদা’। বড় সাইজের ছাগল হল ‘রামছাগল’। গুছিয়ে মার দিলে লোকে বলে ‘রামধোলাই’ হয়েছে। বড়সড় ধাক্কাকে বলা হয় ‘রামধাক্কা’। খুব ভিতু ছেলে বা মেয়েকে আমরা বলি ‘রামভিতু’। নিন্দা, ঘৃণা, ব্যঙ্গ প্রভৃতিতেও তিনি—‘রামঃ রামো’ অথবা ‘রামগড়ুরের ছানা’ ...। আকাশে জলকণা আর আলোর ধনুকাকৃতি যে বহুবর্ণ নৈসর্গিক শোভা—সেটাকে আমরা চিনি ‘রামধনু’ নামে। ভূতের ভয় অনুভব করলে বা অদৃশ্য বিপদকালে আজও অনেকে রাম নাম নিয়ে থাকেন।
রামায়ণের রচয়িতা, মহাকবি বাল্মীকি হওয়ার আগে দস্যু রত্নাকর হিসেবে এতটাই পাপী ছিলেন যে, প্রচারিত আছে, তাঁর জিহ্বা রাম নাম উচ্চারণে অক্ষম ছিল। অবশেষে ‘মরা মরা ...’ বলতে বলতে ‘রাম রাম ...’-এ উত্তীর্ণ হন এবং এই জীবনের মতো পবিত্রতম হয়ে ওঠেন। রাজা হিসেবেও রামচন্দ্রকে আদর্শ বলে মনে করা হয়। তাই সবচেয়ে সুশাসিত রাজ্যপাটই রামরাজ্য বলে কীর্তিত হয়। স্বয়ং জাতির জনক মহাত্মা গান্ধীর আমৃত্যু রামভক্তির পরিচয় আমাদের অজানা নয়।
মানুষ এতদিন রামনাম নিয়েছে নিভৃতে অথবা রামনমবীর মতো বিশেষ অনুষ্ঠানের সময়গুলিতে। কোনোদিন তাঁর নাম কলুষিত করা হয়নি অস্ত্রের ঝনঝনানির মধ্য দিয়ে। রামনবমী পালন কোনোদিন টাগ-অফ-ওয়ারের সাবজেক্ট হয়ে উঠতে পারে—এ ছিল আমাদের কল্পনাতীত। গত দু’-তিন বছর যাবৎ বাংলা এই বিপদে পতিত হয়েছে। সদ্য-সমাপ্ত নির্বাচনের প্রচারের সময় থেকে যুক্ত হয়েছে ‘জয় শ্রীরাম’ ধ্বনি। কিছু লোক এটাকে তাদের অপছন্দের মানুষদের উত্ত্যক্ত করার অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করছেন। ‘জয় শ্রীরাম’ উচ্চারিত হচ্ছে পরিষ্কার উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে। এই উচ্চারণ কোনোভাবেই ভগবান শ্রীরামচেন্দ্রর প্রতি ‌জয়সূচক বা তাঁর মহিমাকীর্তনের অঙ্গ নয়। তাঁর নামটি সংকীর্ণ রাজনীতির চোরাগলি ধরে হাসি-মশকরার রোয়াকে এনে ফেলা হচ্ছে।
তার ফলে কেউ কেউ স্বাভাবিক প্রতিক্রিয়া জানাচ্ছেন। তখন আমরা বিচার করতে বসছি, কার প্রতিক্রিয়া কতটা সংগত অথবা অসংগত হচ্ছে! সবচেয়ে দুর্ভাগ্য, এই ছ্যাবলামি যাঁরা করছেন তাঁদের হয়ে সাফাই গাওয়ার লোকেরও অভাব হচ্ছে না রাজনীতির উচ্চাসন থেকে। ভেবে দেখা হচ্ছে না, রামনাম কতটা কলুষিত হচ্ছে! বিশ্বাসীর কাছে রামনাম যদি একটি মহৌষধ কিংবা অস্ত্র হয়ে থাকে, তবে প্রাসঙ্গিক সত্যটিও মনে রাখা ভালো—ওষুধ এবং অস্ত্রের ভুল প্রয়োগের বোকামিটা যাঁরা করেন সেটা তাঁদেরই পক্ষে ব্যুমেরাং হয়ে ওঠে।
আমাদের বৃহত্তম গণতন্ত্র। কেন্দ্রে এবং রাজ্যে রাজ্যে সরকার তৈরি করতে পাঁচ বছর অন্তর আমাদের অন্তত দু’বার বিরাট নির্বাচনের মধ্যে দিয়ে যেতে হয়। এছাড়া থাকে পঞ্চায়েত এবং পুরসভার মতো লোকাল গভর্নমেন্ট তৈরির প্রায় সমান গুরুত্বপূর্ণ প্রক্রিয়া। একদিকে উন্নয়ন ও সুশাসনের জন্য ভোট, আবার অন্যদিকে, ভোটগ্রহণেরই জন্য উন্নয়ন সাময়িকভাবে লাটে তুলে দেওয়া। অর্থাৎ মাত্র পাঁচ বছরের মধ্যে অন্তত তিনবার উন্নয়ন লাটে তুলে থাকি আমরা। এর মাঝে কেন্দ্রে বা রাজ্যে সরকার পড়ে গেলে এবং কোনও ধরনের উপনির্বাচন অবশ্যম্ভাবী হয়ে উঠলে উন্নয়নের পাঠ আরও এক বা একাধিকবার গোল্লায় যাওয়ার আশঙ্কা থাকে।
বাকি সময়টাতে কাজ কতটা হয় তা নিয়ে তর্কের অবকাশ রয়ে যায়। কারণ প্রাকৃতিক বিপর্যয় এবং চুরি, দুর্নীতি, কেন্দ্র-রাজ্য বিরোধ, দলাদলি, উপদলীয় কোন্দল আর ল্যাং মারামারি আমাদের অবিচ্ছেদ্য রাজনৈতিক সংস্কৃতি। তাই, সুশাসনের প্রতিশ্রুতি বিলিয়ে ক্ষমতা দখল করা রাজনৈতিক দলগুলির উচিত অবিলম্বে এই কুনাট্যে ইতি টেনে দেওয়া, যাতে করে উন্নয়নের ছিটেফোঁটা সমাজ পেতে পারে। নরেন্দ্র মোদি পুনর্নির্বাচিত হয়ে এলেও দেশের বিপুল বেকারত্ব আর রুগ্‌ণ অর্থনীতি কিন্তু রাতারাতি মিথ্যে হয়ে যাবে না। মানুষ বিজেপিকে ভাবমূর্তি মেরামতের এক বিরাট সুযোগ দিয়েছে, এ কিন্তু অভূতপূর্ব। বিজেপির উচিত, রামবোকামি ছেড়ে এই সুযোগের সদ্ব্যবহার করা। বিশেষ নজর দাবি করে বাংলা। বাংলার দাবির ন্যায্যতা হল—বহুদিন পর বাংলা কেন্দ্রীয় শাসকদের এতটা উদ্বাহু সমর্থন জানিয়েছে।
শুধু রাজ্য সরকার আর রাজ্যের শাসক দলকে টাইট দিয়েই কিন্তু ২০২১-এ পার পাবেন না মোদিজি। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কেও দেখাতে হবে, কেন্দ্রের সঙ্গে, বিজেপির সঙ্গে যত বিরোধ বৈরিতা থাক না কেন, উন্নয়নের প্রশ্নে আজও তিনি আপসহীন। বাংলায় ২০২১-এর লড়াইটা উন্নয়ন বনাম উন্নয়নের হয়ে উঠবে কি? রামনাম নিয়ে এই অবাঞ্ছিত ছেলেখেলা ছেড়ে যে-দল বাংলাকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার আন্তরিকতা সবার আগে প্রমাণ করতে পারবে, আগাম বলে দেওয়া যায়, ২০২১ শুধু তার। লোকসভা ভোটের এই ফল এবং এর প্রভাব ততক্ষণে অনেকটাই ফিকে হয়ে আসবে কিন্তু যুযুধান সব পক্ষেরই জন্যে। 
04th  June, 2019
হিন্দু বাঙালির বাড়ি ভাঙছে, হারাচ্ছে দেশ 
শুভময় মৈত্র

জয় গৃহশিক্ষকতা করেন, বাড়ি সিঁথি মোড়ের কাছে, বরানগরে। নিজেদের তিরিশ বছরের পুরনো বাড়ি, সারানোর প্রয়োজন। একান্নবর্তী পরিবার, দাদা বড় ইঞ্জিনিয়ার। তিনি আর একটি ফ্ল্যাট কিনেছেন কাছেই। 
বিশদ

বাংলায় এনআরসি বিজেপির স্বপ্নের পথে কাঁটা হয়ে দাঁড়াবে না তো 
মেরুনীল দাশগুপ্ত

লোকসভা ভোটে অপ্রত্যাশিত ফলের পর বাংলার বিজেপি রাজনীতিতে যে জমকালো ভাবটা জেগেছিল সেটা কি খানিকটা ফিকে হয়ে পড়েছে? পুজোর মুখে এমন একটা প্রশ্ন কিন্তু পশ্চিমবঙ্গের আমজনতার মধ্যে ঘুরপাক খেতে শুরু করেছে। 
বিশদ

জন্মদিনে এক অসাধারণ নেতাকে কুর্নিশ
অমিত শাহ

 আজ, মঙ্গলবার আমাদের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ৬৯তম জন্মদিন। অল্প বয়স থেকেই মোদিজি নিজেকে দেশের সেবায় উৎসর্গ করেছেন। যৌবন থেকেই তাঁর মধ্যে পিছিয়ে পড়া শ্রেণীর উন্নয়নে কাজের একটি প্রবণতা লক্ষ করা যায়। দরিদ্র পরিবারে জন্মগ্রহণের কারণে মোদিজির শৈশবটা খুব সুখের ছিল না। বিশদ

17th  September, 2019
ব্যাঙ্ক-সংযুক্তিকরণ কতটা সাধারণ মানুষ এবং সামগ্রিক ব্যাঙ্কব্যবস্থার উন্নতির স্বার্থে?
সঞ্জয় মুখোপাধ্যায়

অনেকগুলি ব্যাঙ্ক সংযুক্ত করে দেশে সরকারি ব্যাঙ্কের সংখ্যা কমিয়ে আনা হল আর সংযুক্তির পর চারটি এমন বেশ বড় ব্যাঙ্ক তৈরি হল, আকার আয়তনে সেগুলিকে খুব বড় মাপের ব্যাঙ্কের তকমা দেওয়া যাবে। এসব ঘোষণার পর অর্থমন্ত্রীর বক্তব্য, এতে দেশের অর্থনীতির খুব উপকার হবে।  
বিশদ

16th  September, 2019
রাজনীতির উত্তাপ কি পুজোর আমেজ
জমে ওঠার পথে বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে?
শুভা দত্ত

 পরিস্থিতি যা তাতে এমন কথা উঠলে আশ্চর্যের কিছু নেই। উঠতেই পারে, উঠছেও। বাঙালির সবচেয়ে বড় উৎসবের মুখে প্রায় প্রতিদিনই যদি কিছু না কিছু নিয়ে নগরী মহানগরীর রাজপথে ধুন্ধুমার কাণ্ড ঘটে, পুলিস জলকামান, লাঠিসোঁটা, কাঁদানে গ্যাস, ইটবৃষ্টি, মারদাঙ্গা, রক্তারক্তিতে যদি প্রায় যুদ্ধ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয় এবং তাতে সংশ্লিষ্ট এলাকার জনজীবন ব্যবসাপত্তর উৎসবের মরশুমি বাজার কিছু সময়ের জন্য বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে তবে এমন কথা এমন প্রশ্ন ওঠাই তো স্বাভাবিক।
বিশদ

15th  September, 2019
আমেরিকায় মধ্যবয়সের
সঙ্গী সোশ্যাল মিডিয়া
আলোলিকা মুখোপাধ্যায়

যে বয়সে পৌঁছে দূরের আত্মীয়স্বজন ও পুরনো বন্ধুদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা ক্রমশ আগের মতো সম্ভব হয় না, সেই প্রৌঢ় ও বৃদ্ধ-বৃদ্ধার জীবনে ইন্টারনেট এক প্রয়োজনীয় ভূমিকা নিয়েছে। প্রয়োজনীয় এই কারণে যে, নিঃসঙ্গতা এমন এক উপসর্গ যা বয়স্ক মানুষদের শরীর ও মনের উপর প্রভাব ফেলে। বিশদ

14th  September, 2019
মোদি সরকারের অভূতপূর্ব কাশ্মীর পদক্ষেপ পরবর্তী ভারতীয় কূটনীতির সাফল্য-ব্যর্থতা
গৌরীশঙ্কর নাগ

 এই অবস্থায় এটা অস্বীকার করার উপায় নেই যে, ৩৭০ ধারা বিলোপ পর্বের প্রাথমিক অবস্থাটা আমরা অত্যন্ত উৎকণ্ঠার মধ্য দিয়ে অতিক্রম করেছি।
বিশদ

14th  September, 2019
ব্যর্থতা নয়, অভিনন্দনই
প্রাপ্য ইসরোর বিজ্ঞানীদের
মৃণালকান্তি দাস

 কালামের জেদেই ভেঙে পড়েছিল ইসরোর রোহিনী। না, তারপরেও এ পি জে আব্দুল কালামকে সে দিন ‘ফায়ার’ করেননি ইসরোর তদানীন্তন চেয়ারম্যান সতীশ ধাওয়ান! বলেননি, ‘দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হল কালামকে’! তার এক বছরের মধ্যেই ধরা দিয়েছিল সাফল্য। ধাওয়ানের নির্দেশে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়েছিলেন সেই কালাম-ই। তাঁর কথায়, ‘ওই দিন আমি খুব গুরুত্বপূর্ণ পাঠ পেয়েছিলাম। ব্যর্থতা এলে তার দায় সংস্থার প্রধানের। কিন্তু,সাফল্য পেলে তা দলের সকলের। এটা কোনও পুঁথি পড়ে আমাকে শিখতে হয়নি। এটা অভিজ্ঞতা থেকে অর্জিত।’ বিশদ

13th  September, 2019
রাষ্ট্রহীনতার যন্ত্রণা
শান্তনু দত্তগুপ্ত

ভিক্টর নাভরস্কি নিউ ইয়র্কের জন এফ কেনেডি বিমানবন্দরের ইমিগ্রেশনের লাইনে দাঁড়িয়ে আবিষ্কার করলেন, তিনি আচমকাই ‘রাষ্ট্রহীন’ হয়ে পড়েছেন। কারণ, তাঁর দেশ ক্রাকোজিয়ায় গৃহযুদ্ধ শুরু হয়েছে। পরিস্থিতি এতটাই জটিল যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মতো দেশগুলির কাছে মানবিকতার নিরিখে ক্রাকোজিয়ার আর কোনও ‘অস্তিত্ব’ নেই।
বিশদ

10th  September, 2019
জাতির গঠনে জাতীয় শিক্ষানীতি
গৌরী বন্দ্যোপাধ্যায়

 অভিধান অনুসরণ করে বলা যায়, পঠন-পাঠন ক্রিয়াসহ বিভিন্ন অভিজ্ঞতালব্ধ মূল্যবোধের বিকাশ ঘটানোর প্রক্রিয়াই শিক্ষা। জ্ঞানকে বলা হচ্ছে অভিজ্ঞতালব্ধ প্রতীতি। শিক্ষা দ্বারা অর্জিত বিশেষ জ্ঞানকে আমরা বিদ্যা বলি। কালের কষ্টিপাথরে যাচাই করে মানুষ আবহমান কাল ধরে নিজ অভিজ্ঞতালব্ধ জ্ঞানরাশিকে পরবর্তী প্রজন্মের জন্য পুস্তকের মধ্যে লিখে সঞ্চিত করে গেছে।
বিশদ

09th  September, 2019
আন্তর্জাতিক সম্পর্কের শতবর্ষে ভারত প্রান্তিক রাষ্ট্র থেকে প্রথম দশে, লক্ষ্য শীর্ষস্থান
বিশ্বনাথ চক্রবর্তী

 প্রথম বিশ্বযুদ্ধ সমাপ্তির মুখে উড্রো উইলসন সমেত বিশ্বের তাবড় নেতারা প্রথম বিশ্বযুদ্ধের ভয়াবহতা দেখে শঙ্কিত হয়ে পড়েন। যুদ্ধের রাহুর গ্রাস থেকে এই সুন্দর পৃথিবীকে কীভাবে রক্ষা করা যায় তা নিয়ে তাঁরা চিন্তিত ছিলেন। উইলসন বুঝতে পেরেছিলেন মানুষের মগজে রয়েছে যুদ্ধের অভিলাষ। যুদ্ধভাবনা মুছে ফেলে শান্তিভাবনা প্রতিষ্ঠা করা দরকার।
বিশদ

09th  September, 2019
পুজোর মুখে বিপর্যয়: ঘরে বাইরে

 দুর্ঘটনা বিপর্যয় তো আর জানান দিয়ে আসে না! নেপালের ভূমিকম্প কি আমাদের আয়েলার মতো প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে কত মানুষ ঘর-সংসার সব হারিয়ে রাতারাতি সর্বস্বান্ত হয়েছেন, কত সংসার উজাড় হয়ে গেছে—শত চেষ্টাতেও সেই ক্ষত পুরোটা পূরণ করা গিয়েছে কি? যায়নি। এই বউবাজারে রশিদ জমানার সেই ভয়ানক বিস্ফোরণের পর কত লোকের কত সর্বনাশ হয়েছিল—কজন তার বিহিত পেয়েছিলেন? মেট্রো রেলের সুড়ঙ্গ কাটতে গিয়ে সেপ্টেম্বরের শুরুতে বউবাজারে বাড়ি ধসে যে ক্ষতি বাসিন্দাদের হল তাতে তাই ‘অপূরণীয় ক্ষতি’ বললে কিছুমাত্র ভুল হয় না। বিশদ

08th  September, 2019
একনজরে
বিএনএ, বর্ধমান: স্কুল থেকে অবসর নিয়েছেন ছ’বছর আগে। তাঁর বয়স এখন ৬৬ ছাড়িয়ে গিয়েছে। বয়সের হিসাবে তিনি বৃদ্ধ হলেও শারীরিক সক্ষমতায় তিনি এখনও ‘তরতাজা যুবক’।  ...

নয়াদিল্লি, ১৮ সেপ্টেম্বর (পিটিআই): উৎসবের মরশুমে সুখবর। বুধবার রেলকর্মীদের জন্য ৭৮ দিনের উৎপাদনভিত্তিক বোনাস ঘোষণা করল কেন্দ্র। এদিন মন্ত্রিসভার বৈঠকের পর সাংবাদিক বৈঠক করেন প্রকাশ জাভরেকর ও নির্মলা সীতারামন।  ...

 ইসলামাবাদ, ১৮ সেপ্টেম্বর (পিটিআই): কাশ্মীর ইস্যুতে মরিয়া হয়ে উঠেছে পাকিস্তান। এব্যাপারে কাউকেই পাশে পায়নি ইমরান খানের দেশ। এমনকী আন্তর্জাতিক মঞ্চেও অভিযোগ জানিয়ে কোনও লাভ হয়নি। তাই এবার কাশ্মীর ইস্যুকে গায়ের জোরে আন্তর্জাতিক মঞ্চে পেশ করতে চায় পাকিস্তান। ...

বিএনএ, মেদিনীপুর: মঙ্গলবার মেদিনীপুর সদর ব্লকের মহারাজপুর এলাকায় বিজেপির মিছিলের ঘটনায় জেলা সম্পাদক অরূপ দাস সহ বেশ কয়েকজন নেতা-কর্মীর নামে থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।   ...




আজকের দিনটি কিংবদন্তি গৌতম
৯১৬৩৪৯২৬২৫ / ৯৮৩০৭৬৩৮৭৩

ভাগ্য+চেষ্টা= ফল
  • aries
  • taurus
  • gemini
  • cancer
  • leo
  • virgo
  • libra
  • scorpio
  • sagittorius
  • capricorn
  • aquarius
  • pisces
aries

কর্মক্ষেত্রে অতিরিক্ত পরিশ্রমে শারীরিক ও মানসিক কষ্ট। দূর ভ্রমণের সুযোগ। অর্থপ্রাপ্তির যোগ। যেকোনও শুভকর্মের বাধাবিঘ্ন ... বিশদ


ইতিহাসে আজকের দিন

১৯১৯- অভিনেতা জহর রায়ের জন্ম
১৯২১- সাহিত্যিক বিমল করের জন্ম
১৯২৪- গায়িকা সুচিত্রা মিত্রের জন্ম
১৯৬৫- মহাকাশচারী সুনীতা উইলিয়ামসের জন্ম
 

ক্রয়মূল্য বিক্রয়মূল্য
ডলার ৭০.৬৪ টাকা ৭২.৩৪ টাকা
পাউন্ড ৮৭.৭০ টাকা ৯০.৯০ টাকা
ইউরো ৭৭.৬৩ টাকা ৮০.৬২ টাকা
[ স্টেট ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়া থেকে পাওয়া দর ]
পাকা সোনা (১০ গ্রাম) ৩৮,৪৩০ টাকা
গহনা সোনা (১০ (গ্রাম) ৩৬,৪৬০ টাকা
হলমার্ক গহনা (২২ ক্যারেট ১০ গ্রাম) ৩৭,০০৫ টাকা
রূপার বাট (প্রতি কেজি) ৪৬,৩৫০ টাকা
রূপা খুচরো (প্রতি কেজি) ৪৬,৪৫০ টাকা
[ মূল্যযুক্ত ৩% জি. এস. টি আলাদা ]
18th  September, 2019

দিন পঞ্জিকা

২ আশ্বিন ১৪২৬, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৯, বৃহস্পতিবার, পঞ্চমী ৩৪/৫৭ সন্ধ্যা ৭/২৭। ভরণী ৮/১৩ দিবা ৮/৪৫। সূ উ ৫/২৭/৪৭, অ ৫/৩৩/৪১, অমৃতযোগ দিবা ৭/৪ মধ্যে পুনঃ ১/৩০ গতে ৩/৬ মধ্যে। রাত্রি ৬/১৯ গতে ৯/৩০ মধ্যে পুনঃ ১১/৫৪ গতে ৩/৫ মধ্যে পুনঃ ৩/৫২ গতে উদয়াবধি, বারবেলা ২/৩১ গতে অস্তাবধি, কালরাত্রি ১১/৩১ গতে ১২/৫৯ মধ্যে। 
১ আশ্বিন ১৪২৬, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৯, বৃহস্পতিবার, পঞ্চমী ২৬/১২/৩৯ দিবা ৩/৫৬/৩৩। ভরণী ৩/৩৯/২৫ দিবা ৫/৫৫/১৫, সূ উ ৫/২৭/২৯, অ ৫/৩৫/২৯, অমৃতযোগ দিবা ৭/৭ মধ্যে ও ১/২২ গতে ২/৫৬ মধ্যে এবং রাত্রি ৬/৬ গতে ৯/২২ মধ্যে ও ১১/৪৯ গতে ৩/৬ মধ্যে ও ৩/৫৫ গতে ৫/২৮ মধ্যে, বারবেলা ৪/৪/২৯ গতে ৫/৩৫/২৯ মধ্যে, কালবেলা ২/৩৩/২৯ গতে ৪/৪/২৯ মধ্যে, কালরাত্রি ১১/৩১/২৯ গতে ১/০/২৯ মধ্যে। 
মোসলেম: ১৯ মহরম 

ছবি সংবাদ

এই মুহূর্তে
৪৭০ পয়েন্ট পড়ল সেনসেক্স 

04:18:28 PM

রাজীব কুমার: সিবিআইকে কী বলল আদালত?
আজ সিবিআইয়ের কাছে তারা রাজীব কুমারের বিরুদ্ধে ঠিক কী আবেদন ...বিশদ

04:04:51 PM

৫৫০ পয়েন্ট পড়ল সেনসেক্স 

03:36:11 PM

রাজীব কুমারকে ফের নোটিস সিবিআই-য়ের
রাজীব কুমারকে ফের নোটিস দিল সিবিআই। পার্ক স্ট্রিটে তাঁর কোয়ার্টারে ...বিশদ

03:34:41 PM

দঃ ২৪ পরগনার বিষ্ণুপুরে শ্রমিকের রহস্যমৃত্যু 

03:31:00 PM

বারুইপুরে ঘরের একাংশ ভেঙে আহত প্রাক্তন পুলিসকর্মী 
বাড়ির একাংশ ভেঙে আহত হলেন প্রাক্তন মহিলা পুলিসকর্মী। ঘটনাটি ঘটেছে ...বিশদ

03:03:00 PM