Bartaman Patrika
বিশেষ নিবন্ধ
 

ভারতের রাজনীতিতে ‘গেম মেকার’
মৃণালকান্তি দাস

মেধাবী হলেই যে পড়ুয়ার জন্য মোটা বেতনের চাকরি নিশ্চিত, তার কোনও গ্যারান্টি নেই। শুধু প্রতিভা থাকলে আর পরিশ্রমী হলেই হবে না, উপযুক্ত প্রশিক্ষণ এবং ঠিকঠাক ‘গাইড’ না পাওয়ায় পড়ুয়ারা আজ আর সরকারি চাকরির লক্ষ্যভেদ করতে পারেন না। পড়ুয়াকে কিছু কায়দাকানুন শিখতে হয়। এরজন্য নিয়ম করে যেতে হয় কোচিং সেন্টারেও। অনেক ছাত্রছাত্রী তো স্কুল-কলেজে না গিয়ে কোচিংয়ে কোচিংয়ে ছুটে বেড়ান। কোচিংশিল্প এমন স্তরে পৌঁছেছে যে এর উপকারিতা এখন আর কেউ অস্বীকার করতে পারেন না। কোচিং সেন্টারগুলিও এখন এই পড়ুয়াদের জন্য বিশেষ প্যাকেজের ব্যবস্থা করেছে। বিহারের ছেলে প্রশান্ত কিশোর এ রকমই এক বিশেষ প্যাকেজের কোচিং সেন্টার খুলেছিলেন। তবে রাজনীতিবিদদের জন্য। নাম দিয়েছিলেন ‘ইন্ডিয়া পলিটিক্যাল অ্যাকশন কমিটি’। গুজরাত, বিহার, পাঞ্জাব, উত্তরপ্রদেশ, অন্ধ্রপ্রদেশ— কোথায় নেই তাঁর ছাত্র। প্রধানমন্ত্রী মোদি, বিহারের মুখ্যমন্ত্রী নীতীশ কুমার, কংগ্রেস প্রধান রাহুল গান্ধী, পাঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী অমেরেন্দ্র সিং আর হালের চমক অন্ধ্রের জগমোহন রেড্ডি—সবাই তাঁর ছাত্র। এক কথায় প্রশান্ত কিশোর এখন ভারতের ভোটগুরু। রাজনীতির ময়দানে ‘গেম মেকার’ হিসেবেই তাঁর উত্থান।
আফ্রিকায় রাষ্ট্রসঙ্ঘের স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞের দায়িত্ব ছেড়ে ২০১১ সালে দেশে ফিরে এসেছিলেন। তারপর নির্বাচন কৌশলী হিসেবে কোচিং সেন্টার খুলে মিডিয়ায় প্রচার শুরু। রত্ন চিনতে ভুল করেননি মোদি। দ্রুত তাঁকে ডেকে পাঠান। তারপরেই তরুণ পেশাদারদের দল তৈরি করে গুজরাতে সুশাসনের প্রচার শুরু করেন। সেই দলের বেশিরভাগই আইআইটি-আইআইএমের স্নাতক। প্রশান্ত মোদিকে শেখান কীভাবে বিরোধীদের মোকাবিলা করতে হয়। কীভাবে হাসিমুখে না রেগে জবাব দিতে হয় অস্বস্তিকর প্রশ্নের। একেবারে ওয়ান টু ওয়ান কোচিং। মোদি ছিলেন খুবই সিরিয়াস অনুগত ছাত্র। ফলও পান হাতে হাতে। ২০১২-তে নরেন্দ্র মোদি যখন তৃতীয়বারের জন্য গুজরাতের মুখ্যমন্ত্রী হন, সেই সময়েই লাইমলাইটে আসেন প্রশান্ত। রাজনৈতিক মহলে শোনা যায়, সেই বছর গুজরাতের ক্ষমতায় মোদিকে নিয়ে আসার পিছনে কাণ্ডারী ছিলেন প্রশান্ত কিশোরই। এরপরে প্রশান্তের সেই দল নিয়েই জাতীয় স্তরে প্রচারের কাজ শুরু করে দেন নরেন্দ্র মোদি। ‘চায়ে পে চর্চা’র সাড়া জাগানো প্রচারের ডিজাইন করেছিলেন প্রশান্তের দলের সদস্যরাই। ২০১৪-র লোকসভা নির্বাচনে প্রশান্ত কিশোরকে সঙ্গে রাখেন মোদি, তবে তাঁর ছায়াসঙ্গীদের বলে দেন প্রশান্ত কিশোর কীভাবে কাজ করেন তার ফটোকপি করে রাখতে। প্রশান্ত যা যা বলেন, তা ছবিসহ অক্ষরে অক্ষরে টুকে রাখতে। বলে দেন, প্রশান্ত কিশোর না থাকলে যেন আমরা তাঁর অভাব অনুভব না করি। অমিত শাহ তাঁর দলবল নিয়ে সেই কাজটা করেন পরম শ্রদ্ধার সঙ্গে। ২০১৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে তার ফল হাতেনাতে পান মোদি। ঠিক এরপরেই মোদির হাত ছেড়ে দেন প্রশান্ত। বিজেপির এক সূত্রের খবর, প্রশান্ত নিজের আলাদা একটা দপ্তর খুলতে চেয়েছিলেন। এবং তা অনেকটা প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরের মতোই। কিন্তু তাঁর সেই পরিকল্পনাকে বাতিল করে দিয়েছিলেন বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্ব।
বিজেপির সঙ্গে বিরোধের কথা জানার পরে ২০১৫ সালের জানুয়ারিতে নীতীশ কুমার প্রশান্তের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। ২০১৫ সালের মার্চে নীতীশের জন্য নির্বাচনী কৌশল তৈরির দায়িত্ব পান প্রশান্ত। জেডিইউয়ের সংবাদমাধ্যমের দায়িত্বে থাকা নেতারা ক্ষুব্ধ হন। কেউ কেউ দাবি করেন, নরেন্দ্র মোদির প্রচারের অন্ধ অনুকরণ করছেন প্রশান্ত! প্রথমে ‘পর্চা পে চর্চা’ বা ‘ঘর ঘর দস্তক’ প্রচার করে তৃণমূল স্তরের খবর তুলে আনেন। নীতীশ কুমারের জন্য এলাকাভিত্তিক প্রাধান্য দিয়ে বক্তৃতা তৈরি করে দিয়েছেন। যাতে প্রতিটি মানুষের মনে হয়, মুখ্যমন্ত্রী তাঁদের কথাই ভাবছেন। নীতীশের নেতৃত্বাধীন মহাজোটের জয়ের পথ তৈরিতে সেটা অনেকটাই সাহায্য করেছিল বলে মেনে নেন জেডিইউ নেতারাই। ২০১৫-র বিহার বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির জয়ের রথ থামিয়ে দিয়েছিল জেডিইউ, আরজেডি এবং কংগ্রেসের জোট। সূত্রের খবর, বিহারের মন্ত্রিসভা গঠনেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছিলেন প্রশান্ত। তাঁকে সেই মন্ত্রিসভাতেও রাখা হয়েছিল। কিন্তু কোনও দপ্তর দেওয়া হয়নি। এরপর থেকে নাকি দলের সঙ্গে তাঁর দূরত্ব বাড়তে শুরু করে। জেডিইউ-এর এক সূত্রের দাবি, প্রশান্ত একসঙ্গে একাধিক দপ্তর সামলানোর পরিকল্পনা করছিলেন। কিন্তু দলের বেশ কয়েকজন শীর্ষ নেতৃত্বের বিরোধিতায় নাকি সেই পরিকল্পনা ভেস্তে যায়।
এরপরে পাঁচ রাজ্যের নির্বাচনে কংগ্রেসের হয়ে নামেন প্রশান্ত কিশোর। উত্তরপ্রদেশ ও উত্তরাখণ্ডে সফল হননি। তিনি ডাক পান পাঞ্জাব থেকে। পাঞ্জাবের কংগ্রেসপ্রধান অমরেন্দ্র সিং তাঁকে বিহার থেকে নিয়ে যান নির্বাচনী উপদেষ্টা হিসেবে। কোচিং সেন্টার নিয়ে চলে যান প্রশান্ত। তাঁর রণনীতিতে বিপুল জয় পান ক্যাপ্টেন অমরেন্দ্র সিংহের নেতৃত্বাধীন কংগ্রেস। দেশজুড়ে মোদির দাপট এবং পাঞ্জাবে প্রবল প্রতিপক্ষ বিজেপি এবং আম আদমি পার্টিকে রুখে দিয়েছিলেন প্রশান্ত। ২০১৭ সালের বিধানসভা নির্বাচনে ১১৭টি আসনের মধ্যে ৭৭টিতে জিতে নেয় কংগ্রেস। অনেক অনেক বছর পর পাঞ্জাবে কংগ্রেস ফের ক্ষমতার মুখ দেখে। এই সময় উত্তরপ্রদেশের নির্বাচনী রাজনৈতিক কৌশলেরও দায়িত্বে ছিলেন প্রশান্ত। কিন্তু উত্তরপ্রদেশের কংগ্রেস নেতারা তাঁর কথা শুনতে রাজি ছিলেন না। প্রিয়াঙ্কাকে মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে প্রজেক্ট করে প্রচার কৌশল তৈরি করতে চেয়েছিলেন প্রশান্ত। তা শুনে রাজ্যের এক কংগ্রেস নেতা নাকি বলেছিলেন, ‘প্রশান্ত কিশোরকে দলের কৌশল নির্ধারণ এবং প্রচারের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। দলের সংগঠন এবং টিকিট বণ্টনের দায়িত্ব তাঁর নয়।’ কেউ কেউ এ কথাও বলেছিলেন যে, প্রশান্তের কাছ থেকে তাঁকে যদি রাজনীতি শিখতে হয়, তাহলে তিনি রাজনীতিই ছেড়ে দেবেন। এককথায় মোদি এবং নীতীশের সঙ্গে কাজের সময় প্রশান্ত যে স্বাধীনতা পেয়েছিলেন, উত্তরপ্রদেশ কংগ্রেসে সেই সুযোগ পাননি। কংগ্রেসও উত্তরপ্রদেশে আর ফিরতে পারেনি। এটাই ছিল প্রশান্ত কিশোরের প্রথম ব্যর্থতা। এর পর বেশ কিছু সময়ের জন্য আড়ালে চলে যান প্রশান্ত। তবে বসে থাকেননি। এরপর ডাক পেয়েছেন দক্ষিণের রাজ্য অন্ধ্রপ্রদেশ এবং তামিলনাড়ুতে। একের পর এক মাস্টারস্ট্রোকে সেখানেও কাজে সফল হয়েছেন।
মনে রাখবেন, বিজেপির সঙ্গে মিলেমিশে নির্বাচন আবার বিজেপি ছেড়ে লালুকে নিয়ে বিধানসভা নির্বাচনে বিপুল জয়— সবই প্রশান্তের পরামর্শে আর কৌশলে। সময় নষ্ট করেননি নীতীশ কুমার। প্রশান্তকে দলের গুরুত্বপূর্ণ পদে বসিয়ে দেন। নীতীশ কুমারের হাত ধরে বিহারের রাজনীতিতে যোগ দেন নির্বাচনী-কৌশলকার। পরে এক সাক্ষাৎকারে বিহারের মুখ্যমন্ত্রী নীতীশ কুমার স্বীকার করেছেন, প্রশান্ত কিশোরকে জেডিইউতে নিতে বিজেপি সভাপতি অমিত শাহ তাঁকে দু’বার টেলিফোনে অনুরোধ করেছিলেন। ২০১৮-র অক্টোবরে দলের সহ সভাপতি হিসেবে কাজ শুরু করেন প্রশান্ত। পাটনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদ নির্বাচনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেন তিনি। আরএসএস প্রভাবিত ছাত্র সংগঠন এবিভিপিকে দীর্ঘদিন পরে পাটনা বিশ্ববিদ্যালয়ে হারিয়ে ছাত্র সংসদ সভাপতি পদে জেডিইউকে জেতান। এই প্রথম বিশ্ববিদ্যালয়ে জেতে জেডিইউ। লোকসভা নির্বাচনের বছরে দলের সঙ্গে যুবকদের জুড়তে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন তিনি। আর নীতীশ কুমার বলছেন, ‘আমি বলছি শুনুন, প্রশান্তই ভবিষ্যৎ।’ বিহারের মাটি তাঁর হাতের তালুর মতো চেনা। এই বিহারেই ১৯৭৭ সালে জন্ম। পড়াশোনা বক্সার জেলায়।
প্রশ্ন উঠেছিল, সরাসরি রাজনীতিতে নেমে পড়ায় কি প্রশান্ত কিশোরের কোচিং সেন্টার বন্ধ হতে চলেছে? ভুল ভাঙিয়েছে অন্ধ্রপ্রদেশ। সদ্য সমাপ্ত নির্বাচনে অন্য এক খেলা দেখিয়েছেন প্রশান্ত। সারা দেশ যখন মোদি মোদি করছে, তখন অন্ধ্রপ্রদেশে অন্য ভাও। জগনমোহনের উত্যুঙ্গ সাফল্যের অন্তরালে চাণক্যের ভূমিকায় সেই প্রশান্ত কিশোরই। এরজন্য হয়তো মনে মনে নীতীশ কুমারকে ধন্যবাদ দিচ্ছেন জগন। কারণ, লোকসভা ভোটের হাওয়া উঠতেই জেডিইউতে প্রশান্তের সঙ্গে শুরু হয়েছিল টানাপোড়েন। নীতীশের দল জেডিইউ বিজেপি তথা এনডিএ জোটে শামিল হওয়া নিয়ে দু’জনের মধ্যে মতবিরোধ কার্যত চরমে উঠেছিল। জোটে শামিল করে বিজেপি যে ধীরে ধীরে জেডিইউকেই গ্রাস করতে চাইছে, এমন মতবাদ নীতীশকে বোঝাতে চেয়েছিলেন প্রশান্ত কিশোর। কিন্তু নীতীশ এই মতের সঙ্গে সহমত ছিলেন না। তার জেরে শেষ পর্যন্ত প্রশান্ত কিশোরকেই সরে যেতে হয়। এই সুযোগটাই নিয়েছিলেন অন্ধ্রের জগনমোহন।
প্রশান্তের বুথভিত্তিক সংগঠন তৈরি আর জুতসই স্লোগান দিয়ে মানুষের মনে জায়গা করে নেওয়ার কৌশল হাতে হাতে ফল দিয়েছে। তাঁর প্রশিক্ষণেই অন্ধ্রের ওয়াইএসআর কংগ্রেসের প্রধান জগনমোহন রেড্ডি রাজ্যের ১৭৫টি বিধানসভা আসনের ১৫২টি আসনেই জয় পেয়েছেন। ২৫টি লোকসভা আসনের সব ক’টি তাঁর দখলে। ওয়াইএসআর জগন রেড্ডির সাফল্য নজর কেড়েছে গোটা দেশের। জগন-ঢেউয়ে ভেসে গিয়েছেন জাতীয় রাজনীতিতে উদিত হতে চাওয়া চন্দ্রবাবু নাইডু। গোটা অন্ধ্রপ্রদেশে কার্যত ধুয়ে মুছে সাফ তেলুগু দেশম পার্টি। দেশে নতুন শক্তি হিসেবে উঠে এসেছে ওয়াইএসআর কংগ্রেস পার্টি। মুখ্যমন্ত্রীর গদিতে অন্ধ্রের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী ওয়াইএস রাজশেখর রেড্ডির ছেলে জগনমোহন রেড্ডি।
শুধু অন্ধ্রের এই জয়ই নয়, সংসদেও এখন তৃতীয় বৃহত্তম দল (বিজেপি এবং কংগ্রেসের পরেই) জগনমোহনের ওয়াইএসআরসিপি। এই বিপুল জয়ের পরই প্রশান্ত কিশোর ধন্যবাদ জানিয়ে ট্যুইট করেছেন, ‘এই জয়ের জন্য অন্ধ্র এবং ইন্ডিয়ান পলিটিক্যাল অ্যাকশন বা আই-পিএসির (প্রশান্ত কিশোরের সংস্থা) সহকর্মীদের ধন্যবাদ। নতুন মুখ্যমন্ত্রীকে অভিনন্দন ও আন্তরিক শুভেচ্ছা।’ শুনলে অবাক হবেন, অন্ধ্রপ্রদেশে এবার ১৫ মাসের পরিকল্পনা নিয়ে নেমেছিলেন প্রশান্ত-জগন। তাঁদের মূল কৌশল ছিল সরাসরি মানুষ বা ভোটারদের সঙ্গে কথা বলা। প্রচারের স্লোগান ছিল ‘রাভালি জগন, কাভালি জগন’ (আমরা জগনকে চাই, জগনকে জিততেই হবে)। চন্দ্রবাবুকে আর বিশ্বাস নয়, এই দাবিও ছিল প্রচারের সুরে তালে। তাঁর নির্বাচনী থিম সং সংক্রামিত হয় দাবানলের মতো। পেজ ভিউয়ার ছিল ২.২৫ কোটি। আসলে, প্রশান্ত কিশোরের ক্ষুরধার রাজনৈতিক মস্তিষ্ককে পুরোদমে কাজে লাগান জগন। আর তাতেই বাজিমাত।
রাজনীতির রণকুশলী হিসেবে বিজেপি, কংগ্রেস, জেডিইউ, এসপি-র মতো বেশ কয়েকটি দলের হয়ে কাজ করেছেন প্রশান্ত। ফলে কোন রাজনৈতিক দলের বা রাজনীতিকের শক্তি বা দুর্বলতা কোথায় সবই তাঁর নখদর্পণে! দেশের মূল দলগুলি এবং তাদের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে কাজ করার সুবাদে তাঁদের শক্তি, খামতি— কোনও কিছুই তাঁর অজানা নয়। বিজেপির শক্তিশালী-আধুনিক ‘ব্যাক অফিস’-এর ভাবনা এই প্রশান্তেরই। এখনও যাঁরা প্রশান্ত কিশোরদের ক্ষুরধার রাজনৈতিক মস্তিষ্ককে পাত্তা দেবেন না, তাঁদের চন্দ্রবাবুর মতোই ভরাডুবি নিশ্চিত!
07th  June, 2019
ডাক্তারবাবুদের গণ-ইস্তফা নজিরবিহীন,
কিন্তু তাতে কি হাসপাতাল সমস্যা মিটবে?

 এ-কথাও তো সত্যি যে, হাসপাতালের পরিকাঠামোগত উন্নয়নে বা ডাক্তারবাবুদের যথাযথ নিরাপত্তা বিধানে তাঁর সদিচ্ছা আছে এবং ইতিমধ্যেই তার যথেষ্ট প্রমাণ মিলেছে। এই অচলাবস্থা কাটাতে প্রবীণদের বৈঠকে ডেকে মুখ্যমন্ত্রী সমাধানসূত্র খুঁজছেন— সেটাও কি ওই সদিচ্ছারই নামান্তর নয়? বিশদ

16th  June, 2019
নরেন্দ্র মোদির মালদ্বীপ সফর এবং ভারত মহাসাগরে ভারতের নতুন রণনীতি
গৌরীশঙ্কর নাগ

 মোদিজির এই দ্বীপপুঞ্জ-সফর কেবলমাত্র হাসি বিনিময় ও করমর্দনের রাজনীতি হবে না, বরং এর প্রধান অ্যাজেন্ডাই হল প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে মজবুত করা। তবে সেটা করতে গিয়ে ভারত যেন দ্বীপপুঞ্জের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে অযথা হস্তক্ষেপ না করে বসে। কিন্তু তার অর্থ এই নয় যে, ভারত মালদ্বীপকে সন্ত্রাসবাদের নয়া ‘আঁতুড়ঘর’ হতে দেবে। কারণ ইতিমধ্যেই আমরা দেখেছি পাকিস্তান, আফগানিস্তান এমনকী মধ্যপ্রাচ্য থেকেও জেহাদি নেটওয়ার্কের কারবার মালদ্বীপেও পৌঁছে গিয়েছে। এই র‌্যাডিক্যালিজমের একমাত্র দাওয়াই হল অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও তার সহায়ক শক্তি হিসেবে রাজনৈতিক স্থিরতা।
বিশদ

15th  June, 2019
সতর্কতার সময়
সমৃদ্ধ দত্ত

 ভারতীয় সংস্কৃতির সনাতন ধারাটি হল দিবে আর নিবে, মিলিবে মেলাবে। কিন্তু সেই সংস্কৃতি থেকে আমাদের সরিয়ে এনেছে অসহিষ্ণুতা আর স্বল্পবিদ্যা। আর সবথেকে বেশি জায়গা করে নিয়েছে বিদ্বেষ। রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের প্রতি বিদ্বেষ।
বিশদ

14th  June, 2019
ক্ষমতার ‘হিন্দি’ মিডিয়াম
শান্তনু দত্তগুপ্ত

 উত্তর ভারতের সঙ্গে দক্ষিণের সীমারেখা। আর তার কারিগর আমরাই। আমাদের কাছে সাউথ ইন্ডিয়ান মানে মাদ্রাজি। দক্ষিণ ভারতের লোকজন নারকেল তেল খায়, অদ্ভুত ওদের উচ্চারণ, লুঙ্গি পরে বিয়েবাড়ি যায়... হাজারো আলোচনা। উত্তর ভারত মানে বিষম একটা নাক উঁচু ব্যাপার। আর দক্ষিণ মানেই রসিকতার খোরাক। তাই ওদের একটু ‘মানুষ’ করা দরকার। কীভাবে সেটা সম্ভব? হিন্দি শেখাতে হবে। বিশদ

13th  June, 2019
বারুদের স্তূপের উপর পশ্চিমবঙ্গ
হিমাংশু সিংহ

সংসদীয় রাজনীতিতে কিছুই চিরস্থায়ী নয়। কারও মৌরসিপাট্টাই গণতন্ত্রে বেশিদিন টেকে না। সব সাজানো বাগানই একদিন শুকিয়ে যায় কালের নিয়মে। ইতিহাস কয়েক বছর অন্তর ফিরে ফিরে আসে আর ধুরন্ধর শাসককে চরম শিক্ষা দিয়ে তাঁকে, তাঁর ক্ষমতাকে ধুলোয় লুটিয়ে দিয়ে আবার ফকির করে দিয়ে যায়। সব ক্ষমতা এক ভোটে বিলীন। ধূলিসাৎ। আর এখানেই মহান গণতন্ত্রের জিত আর চমৎকারিত্ব। আর সেই দিক দিয়ে ২৩ মে-র ফল এই পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিকেও আবার এক মহান সন্ধিক্ষণের দিকেই যেন ঠেলে দিয়েছে। ‘বিয়াল্লিশে বিয়াল্লিশ’ হয়নি, ‘২০১৯ বিজেপি ফিনিশ’—তাও হয়নি। উল্টে সারাদেশে বিজেপি থ্রি-নট-থ্রি (অর্থাৎ ৩০৩টি) আসন জিতে তাক লাগিয়ে দিয়েছে ভোট-পণ্ডিতদের।
বিশদ

11th  June, 2019
মোদিজি কি ‘সবকা বিশ্বাস’ অর্জন করতে পারবেন?
পি চিদম্বরম

 নরেন্দ্র মোদি এবার যে জনাদেশ পেয়েছেন তা অনস্বীকার্যভাবে বিপুল। যদিও, অতীতে লোকসভা নির্বাচনে একটি পার্টি ৩০৩-এর বেশি আসন জেতার একাধিক দৃষ্টান্ত আছে। যেমন ১৯৮০ সালে ইন্দিরা গান্ধী ৩৫৩ এবং ১৯৮৪ সালে রাজীব গান্ধী ৪১৫ পেয়েছিলেন।
বিশদ

10th  June, 2019
 বিজেপি এ রাজ্যের বিধানসভা ভোটকে
কঠিন চ্যালেঞ্জ মনে করছে কেন?
শুভা দত্ত

 কয়েকদিনের মধ্যে বেশ কয়েকটি মর্মান্তিক খুনের ঘটনা ঘটে গেল রাজ্যের উত্তর থেকে দক্ষিণে। তাই আজও একই প্রসঙ্গ দিয়ে এই নিবন্ধ শুরু করতে হচ্ছে। গত সপ্তাহেই লিখেছিলাম, ভোটফল প্রকাশের পর রাজ্যের বেশ কিছু এলাকায় যেন একটা হিংসার বাতাবরণ তৈরি হয়েছে।
বিশদ

09th  June, 2019
ইচ্ছে-ডানায় নাচের তালে
অতনু বিশ্বাস

এ বছরের সিবিএসই পরীক্ষার ফল বেরতে দেখা গেল, প্রথম হয়েছে দু’টি মেয়ে। একসঙ্গে। ৫০০-র মধ্যে তারা পেয়েছে ৪৯৯ করে। দু’জনেই আবার আর্টসের ছাত্রী। না, পরীক্ষায় আজকাল এত এত নম্বর উঠছে, কিংবা আর্টস বিষয় নিয়েও প্রচুর নম্বর তুলে বোর্ডের পরীক্ষায় র‍্যাঙ্ক করা যায় আজকাল—এগুলোর কোনওটাই আমার আলোচনার বিষয়বস্তু নয়।
বিশদ

08th  June, 2019
অবিজেপি ভোটে বাজিমাত
বিজেপির, এবং তারপর...
মেরুনীল দাশগুপ্ত

আলোড়ন! নিঃসন্দেহে একটা জবরদস্ত আলোড়ন উঠেছে। লোকসভা ভোটফল প্রকাশ হওয়া ইস্তক সেই আলোড়নের দাপটে রাজ্য-রাজনীতি থেকে সাধারণের অন্দরমহল জল্পনা-কল্পনা, বিবাদ-বিতর্ক, আশা-আশঙ্কায় যাকে বলে রীতিমতো সরগরম! পথেঘাটে আকাশে বাতাসে যেখানে সেখানে ছিটকে উঠছে উৎকণ্ঠা নানান জিজ্ঞাসা।
বিশদ

06th  June, 2019
কর্ণাটক পুরনির্বাচন: আবার উল্টালো ভোটফল
শুভময় মৈত্র 

নির্বাচনে ভোটফল নিয়ে কখন যে কী ঘটছে তার ব্যাখ্যা পাওয়া যাচ্ছে না মোটেই। মানুষ অবশ্যই মত বদলাবেন। সে স্বাধীনতা তাঁদের আছে। সে জন্যেই তো ভোটফল বদলায়। নাহলে সংসদীয় গণতন্ত্রের কোনও অর্থই থাকে না।  
বিশদ

04th  June, 2019
বাংলায় রামবোকামির মরশুম
হারাধন চৌধুরী 

আমার মামার বাড়ি ভারত-বাংলাদেশের একটি সীমান্ত গ্রামে। বলা বাহুল্য, আমার মায়ের জন্ম দেশভাগের অনেক আগে। স্বভাবতই তাঁর স্মৃতির অনেকখানি জুড়ে ছিল অখণ্ড ভারতীয় গ্রামদেশ ও তার সংস্কৃতি। ১৯৪৭-এ মায়ের শৈশবের গ্রামের উপর দিয়েই ভাগ হয়ে গিয়ে ভারতের ভূগোল এবং ইতিহাস খুলেছিল এক নতুন অধ্যায়। 
বিশদ

04th  June, 2019
বিভাজনের ঘোলা জলে হারিয়ে যাচ্ছে বিকাশ
সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়

এক জার্মান দার্শনিক হিটলারের আমলে আমাদের সচেতন করেছিলেন এই বলে—তোমরা সবাই ছোট মানুষ (লিটল ম্যান) তোমাদের কোনও প্রশ্নের অধিকার আছে কি? বৃহৎ রাষ্ট্রযন্ত্রে তোমাদের অস্তিত্বটা কোথায়! তা কী অনুধাবন করতে পেরেছ? নাটবল্টুদের কোনও প্রশ্ন থাকা উচিত নয়।
বিশদ

03rd  June, 2019
একনজরে
 সৌম্যজিৎ সাহা, কলকাতা: আয়-ব্যয়ের নিরিখে কোন বিশ্ববিদ্যালয়ের হাতে কত টাকা উদ্বৃত্ত রইল, বা আয়ের চেয়ে বেশি খরচ হয়ে গেল কি না, তা নিয়ে রিপোর্ট প্রকাশিত ...

  নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ইন্ডিপেনডেন্ট সেফটি অথরিটি (আইএসএ)-র ছাড়পত্র ইতিমধ্যেই চলে এসেছে। এবার বাণিজ্যিকভাবে ট্রেন চালানোর আগে চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য কমিশনার অব রেলওয়ে সেফটি (সিআরএস)-র ...

  রাষ্ট্রসঙ্ঘ, ১৬ জুন (পিটিআই): ইউএন মিশন ইন সাউথ সুদান (ইউএনএমআইএসএস) কর্মসূচিতে উল্লেখযোগ্য অবদানের জন্য ভারতীয় শান্তিরক্ষা বাহিনীর প্রশংসায় মুখর হল রাষ্ট্রসঙ্ঘ ও স্থানীয় সংগঠনগুলি। ...

অযোধ্যা, ১৬ জুন (পিটিআই): প্রধানমন্ত্রীর সাহস আছে। সেকারণে অযোধ্যায় রাম মন্দির তৈরি করতে নরেন্দ্র মোদির অর্ডিন্যান্স আনা উচিত। তা হলে কেউ তার বিরোধিতা করতে পারবে ...




আজকের দিনটি কিংবদন্তি গৌতম
৯১৬৩৪৯২৬২৫ / ৯৮৩০৭৬৩৮৭৩

ভাগ্য+চেষ্টা= ফল
  • aries
  • taurus
  • gemini
  • cancer
  • leo
  • virgo
  • libra
  • scorpio
  • sagittorius
  • capricorn
  • aquarius
  • pisces
aries

সম্পত্তিজনিত বিষয়ে অশান্তি বৃদ্ধির আশঙ্কা, আত্মীয়-পরিজনের সঙ্গে সম্পর্কের অবনতি। শেয়ার, ফাটকা, লটারিতে অর্থাগম, কর্মক্ষেত্রে গোলযোগের ... বিশদ


ইতিহাসে আজকের দিন

১৮৯৬: জাপানে সুনামিতে ২২ হাজার মানুষের মৃত্যু
১৯৫০: শিল্পপতি লক্ষ্মী মিত্তালের জন্ম
১৯৫৩: চীনের প্রেসিডেন্ট জি জিনপিংয়ের জন্ম
১৯৬৯: জার্মানির গোলকিপার অলিভার কানের জন্ম 

15th  June, 2019
ক্রয়মূল্য বিক্রয়মূল্য
ডলার ৬৮.৭৩ টাকা ৭০.৪২ টাকা
পাউন্ড ৮৬.৫৭ টাকা ৮৯.৭৯ টাকা
ইউরো ৭৬.৯৪ টাকা ৭৯.৯৩ টাকা
[ স্টেট ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়া থেকে পাওয়া দর ]
15th  June, 2019
পাকা সোনা (১০ গ্রাম) ৩৩, ২০৫ টাকা
গহনা সোনা (১০ (গ্রাম) ৩১, ৭৯০ টাকা
হলমার্ক গহনা (২২ ক্যারেট ১০ গ্রাম) ৩২, ২৬৫ টাকা
রূপার বাট (প্রতি কেজি) ৩৭, ১৫০ টাকা
রূপা খুচরো (প্রতি কেজি) ৩৭, ২৫০ টাকা
[ মূল্যযুক্ত ৩% জি. এস. টি আলাদা ]
16th  June, 2019

দিন পঞ্জিকা

১ আষা‌ঢ় ১৪২৬, ১৬ জুন ২০১৯, রবিবার, চতুর্দশী ২২/৪৬ দিবা ২/২। অনুরাধা ১২/৫৮ দিবা ১০/৭। সূ উ ৪/৫৫/৪২, অ ৬/১৮/২০, অমৃতযোগ দিবা ৬/৪৩ গতে ৯/২৩ মধ্যে পুনঃ ১২/৩ গতে ২/৪৪ মধ্যে। রাত্রি ৭/৪৩ মধ্যে পুনঃ ১০/৩৩ গতে ১২/৪১ মধ্যে, বারবেলা ৯/৫৬ গতে ১/১৭ মধ্যে, কালরাত্রি ১২/৫৭ গতে ২/১৭ মধ্যে।
৩২ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬, ১৬ জুন ২০১৯, রবিবার, চতুর্দশী ২২/২২/৭ দিবা ১/৫২/২২। অনুরাধানক্ষত্র ১৪/৮/৫৬ দিবা ১০/৩৫/৫, সূ উ ৪/৫৫/৩১, অ ৬/২০/৩৫, অমৃতযোগ দিবা ৬/৪৬ গতে ৯/২৬ মধ্যে ও ১২/৭ গতে ২/৪৮ মধ্যে এবং রাত্রি ৭/৪৭ মধ্যে ও ১০/৩৭ গতে ১২/৪৪ মধ্যে, বারবেলা ৯/৫৭/২৫ গতে ১১/৩৮/৩ মধ্যে, কালবেলা ১১/৩৮/৩ গতে ১/১৮/৪১ মধ্যে, কালরাত্রি ১২/৫৭/২৫ গতে ২/১৬/৪৭ মধ্যে।
 ১২ শওয়াল

ছবি সংবাদ

এই মুহূর্তে
বিশ্বকাপ: টসে জিতে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে ব্যাট করতে পাঠাল বাংলাদেশ 

02:33:34 PM

মুখ্যমন্ত্রীর নামে কুৎসিত পোস্ট, ধৃত বধূ 
ফেসবুকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নামে কুৎসিত পোস্ট করার অভিযোগে এক ...বিশদ

02:29:39 PM

নবান্নের বৈঠকের লাইভ কভারেজ না হলে বৈঠকে যোগ দেবেন না আন্দোলনরত জুনিয়র ডাক্তাররা 

02:20:22 PM

যুব মোর্চার কর্মসূচি ঘিরে উত্তাল হাওড়া পুরসভা চত্বর 
বিজেপির যুব মোর্চার পুরসভা দখল কর্মসূচি ঘিরে হাওড়া পুরসভা চত্বরে ...বিশদ

01:41:00 PM

১২৩৪৫ আপ হাওড়া-গুয়াহাটি সরাইঘাট এক্সপ্রেস আজ বিকেল ৩:৫০ মিনিটের বদলে রাত ৮:১০ মিনিটে হাওড়া স্টেশন থেকে ছাড়বে 

01:34:56 PM

শহরে ফের ২ জালনোট কারবারি গ্রেপ্তার 
কলকাতা থেকে আরও দুই জালনোট কারবারিকে গ্রেপ্তার করল এসটিএফ। এদিন ...বিশদ

01:06:51 PM