Bartaman Patrika
বিশেষ নিবন্ধ
 

 বিজেপি এ রাজ্যের বিধানসভা ভোটকে
কঠিন চ্যালেঞ্জ মনে করছে কেন?
শুভা দত্ত

কয়েকদিনের মধ্যে বেশ কয়েকটি মর্মান্তিক খুনের ঘটনা ঘটে গেল রাজ্যের উত্তর থেকে দক্ষিণে। তাই আজও একই প্রসঙ্গ দিয়ে এই নিবন্ধ শুরু করতে হচ্ছে। গত সপ্তাহেই লিখেছিলাম, ভোটফল প্রকাশের পর রাজ্যের বেশ কিছু এলাকায় যেন একটা হিংসার বাতাবরণ তৈরি হয়েছে। সেই বাতাবরণ যে এখনও কিছুমাত্র বদলায়নি তা গত কয়েকদিনের ঘটনাবলিই প্রমাণ করেছে। এবং সত্যি বলতে কী, এখন তো মনে হচ্ছে হিংসার সেই বাতাবরণ রাজ্যে ক্রমশ তার পরিধি বাড়াচ্ছে, আর তার অনিবার্য ফলশ্রুতি হিসেবে সাধারণ জনমনে বাড়ছে শঙ্কা আশঙ্কা দুশ্চিন্তার মেঘ! এমনকী বিজেপির চমকপ্রদ ফলে যাঁরা যথেষ্ট আনন্দ বোধ করেছিলেন তাঁদের মধ্যেও এইসব মারামারি, খুনোখুনি ভাঙচুরের ঘটনা একটা বিরূপ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করছে। তাঁদের কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলে অন্তত আমাদের তেমনটাই মনে হয়েছে। শীর্ষ থেকে তৃণমূল স্তর অবধি বিজেপির সংগঠন যে এখনও তেমন দড় নয়— এটা সকলেই জানেন। কিন্তু, বিজেপির মতো একটা রেজিমেন্টেড পার্টি সেই দুর্বলতা সত্ত্বেও পার্টির নেতাকর্মীদের নিয়ন্ত্রণ করতে সক্ষম হবে—এমন বিশ্বাস তাঁদের ছিল এবং এখনও আছে। জয়ের আনন্দে বেসামাল নেতাকর্মীরা, বিশেষত যারা অন্য দল থেকে পদ্মশিবিরে এসেছে, বিজয় মিছিলের নামে যাতে অনর্থ ঘটিয়ে না ফেলে সেদিকে বিজেপি আরএসএসের কর্মকর্তাদের কড়া নজর থাকবে এমনটাই যে তাঁদের কাছে প্রত্যাশিত ছিল সেটাও তাঁরা স্বীকার করছেন। কিন্তু, নৈহাটি ভাটপাড়া কাঁচরাপাড়ার সন্ত্রাস পরিবেশ, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অবমাননা ইত্যাদি তাঁদের সেই বিশ্বাসকে প্রথম ধাক্কা দিয়েছে এবং পরবর্তীতে রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় সংঘর্ষ, খুনোখুনি, বাড়িঘর ভাঙচুরে গেরুয়া বাহিনীর নাম জড়ানো সেই বিশ্বাসকে যে খানিকটা দুর্বল করেছে তাতেও সন্দেহ নেই।
এই তো দেখুন না, উত্তরবঙ্গের দিনহাটা ও দক্ষিণবঙ্গের নিমতায় খুন হয়ে গেলেন দুই তৃণমূল নেতা। কেবল সন্দেহের বশে, হ্যাঁ কেবল চোর সন্দেহে খোদ কলকাতার বুকে মানিকতলায় একটি ক্লাবঘরের ভিতরে নির্মমভাবে পিটিয়ে মারা হল এক যুবককে! শুধু কি তাই? ভোট পরবর্তী হিংসায় কোচবিহার, বালুরঘাট থেকে বীরভূম, মেদিনীপুর থেকে দক্ষিণ ২৪ পরগনা এবং অবশ্যই উত্তর ২৪ পরগনার ভাটপাড়া নৈহাটি কাঁচরাপাড়ার মতো রাজ্যের নানান এলাকা এখনও রক্তাক্ত হচ্ছে, ঘরবাড়ি ভাঙছে, লাঞ্ছিত হচ্ছেন রাজ্যে প্রধান বিবদমান দুই দল বিজেপি তৃণমূলের নেতাকর্মী সমর্থকেরা! বুধবার রাতে বালুরঘাটে বিজেপি কর্মীর বাড়িতে ভাঙচুর চালাল দুষ্কৃতীরা। তার বদলায় তৃণমূল কর্মীর বাড়িতে হামলা হল। বাড়ির মহিলাদের শ্লীলতাহানির অভিযোগ উঠল হামলাকারীদের বিরুদ্ধে! এরই পাশাপাশি সাঁইথিয়ায় বিজেপির বিজয় মিছিল ঘিরে তৃণমূলের সঙ্গে সংঘর্ষ বাধল, আহত হল পাঁচজন। স্থানীয় তৃণমূলের কারও পোলট্রি ফার্মে বোমাবাজির অভিযোগ উঠল বিজেপির বিরুদ্ধে! এর আগে মেদিনীপুরের নারায়ণগড়ে বেশ কয়েকজন তৃণমূল কর্মীকে হেনস্তা মারধরের অভিযোগ উঠেছে বিজেপির বিরুদ্ধে! আবার মথুরাপুরে বিজেপি কর্মীকে আক্রমণ এবং মারধরে অভিযুক্ত হয়েছে তৃণমূল! এমন একের পর এক অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেই চলেছে! কবে যে এই মারামারি শেষ হবে, আদৌ হবে কি না বোঝা যাচ্ছে না! সাধারণ মানুষজনের সঙ্গে কথা বললেই বোঝা যাচ্ছে—পুলিসের একাংশের ভূমিকায় খোদ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতো তাঁরাও অসন্তুষ্ট। কেউ কেউ তো রীতিমতো ক্ষুব্ধ! স্বাভাবিক। পুলিসের কাজ পুলিস ঠিকমতো করলে তো সমাজবিরোধী দুষ্কৃতীরা এমন অনর্থ ঘটাতে পারে না, রাজনৈতিক সংঘর্ষের ঘটনাও অনেকটা নিয়ন্ত্রিত হতে পারে।
তবে, তথ্যভিজ্ঞরা বলছেন, এইসব ঝামেলার ঘটনা চলতে থাকলে বিজেপির ক্ষতি শাসকের লাভ। শাসক বলতে পারবে বিজেপি রাজ্যে কটা বাড়তি আসন পেয়েই তাণ্ডবে মেতেছে, রাজ্যের ক্ষমতা পেলে কিনা জানি করবে! আর এমন অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটে চললে এবং তার বেশিরভাগে পদ্মশিবিরের লোকজনের নাম জড়ালে, যে মানুষজনেরা বিজেপি সমর্থক না হয়েও এবার বিজেপিকে নির্বাচনী সমর্থন জানিয়েছেন, তাঁদের সামনেও আগামী বিধানসভা ভোট অব্দি একটা ভালো জনদরদি ভাবমূর্তি ধরে রাখা বিজেপির পক্ষে কঠিনতর হবে।
বিজেপি শাসক হিসেবে এ রাজ্যে অপরীক্ষিত দল বলেই মানুষ তাদের বিচার করবে বাস্তব পরিস্থিতিতে তাদের কাজকর্ম ও রাজনৈতিক ভূমিকা দেখে। সেখানে যদি তাঁরা দেখেন, গেরুয়াদলের কর্মী নেতাদের একাংশও আর পাঁচদলের মতো বুদ্ধিবলের চেয়ে বাহুবলকে বেশি প্রাধান্য দিচ্ছেন, ক্ষমতার গন্ধটুকু পেয়েই আগ্রাসী হয়ে উঠেছেন—তবে আমজনতার প্রসন্ন মুখে চিন্তা ও শঙ্কার ছায়া তো নামবেই। আর সেই ছায়া যদি গাঢ় হতে শুরু করে তবে বিজেপির ২০২১ সালের বিধানসভা অভিযানের পথ যে অপেক্ষাকৃত দুর্গম হয়ে উঠবে তা বলাই বাহুল্য। কারণ, বিধানসভা অভিযানে সাফল্য পেতে হলে বিজেপিকে নিজস্ব ১৭ শতাংশ ভোটারের সঙ্গে বাইরের ২২ শতাংশ মানুষকেও পাশে পেতে হবে। বাইরের মানুষ বিরূপ হলে প্রত্যাশিত ফল লাভ যে হবে না সেটা রাজ্য বিজেপি বা আরএসএসের শীর্ষ নেতৃত্ব ভালোই জানেন। আর জানেন বলেই দলে বেনো জলের ঢুকে পড়াতে রাশ টানতে চাইছেন তাঁরা। কিন্তু, বীরভূমের মনিরুলকে চাপা দিতে দিতেই বেদের মেয়ে চরিত্রাভিনেত্রীর গেরুয়া শিবিরে যোগদান নিয়ে নতুন করে ‘নাগরিকত্ব’ বিতর্ক ছড়িয়ে গেল! তথ্যপ্রমাণ দাখিল করে তার অবশ্য একটা জুতসই জবাব বিজেপি দিয়েছে। কিন্তু, বিতর্ক তাতেও পুরোপুরি থামেনি!
কেবল সন্ত্রাস নিয়ন্ত্রণ নয়, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘উন্নয়ন’ও কিন্তু রাজ্য বিধানসভা জয়ের পথে বিজেপির সামনে একটা বড় বাধা। গত সাত সাড়ে সাত বছরে পশ্চিমবঙ্গের গ্রাম শহরে মমতা উন্নয়নের যে বিপুল উদ্যোগ নিয়েছেন, পানীয় জল রাস্তাঘাট হাসপাতাল স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয় সমেত যাবতীয় অত্যাবশ্যক পরিষেবার যে বিস্তার ঘটিয়েছেন, স্বাস্থ্যসাথী, কন্যাশ্রীর মতো গরিব সাধারণের অভাব অনটনের সমাধানে আর্থিক অনুদানের যেসব প্রকল্প রূপায়িত করেছেন—তার একটা জোরালো প্রভাব রাজ্যের, বিশেষত গ্রামবাংলার লক্ষ লক্ষ মানুষের মধ্যে এখনও সক্রিয়। একটু ভালোভাবে নজর করলেই তাই বোঝা যায়—বর্তমান শাসকের কাজ নিয়ে মানুষের অভিযোগ তেমন নেই। মুখ্যমন্ত্রী মমতা এখনও পাহাড় থেকে সাগর লক্ষ লক্ষ মানুষের নয়নের মণি, তাঁর মা-মাটি-মানুষের প্রতি ভালোবাসায় দায়বদ্ধ উজ্জ্বল ভাবমূর্তি এখনও রাজ্যবাসী অধিকাংশের মনে অম্লান। মানুষের যা কিছু ক্ষোভ রাগ অসন্তোষ স্থানীয় তৃণমূলের কিছু অসংযমী, ধান্দাবাজ, দায়িত্বজ্ঞানহীন, তোলাবাজ সিন্ডিকেটি ফড়ে ফেরেব্বাজের ওপর। দলনেত্রী নানা সভাসমিতি থেকে নানা সময় এদের সতর্কবার্তা পাঠিয়েছেন, দল থেকে বহিষ্কার করার হুমকিও দিয়েছেন। তাদের কারও কারও বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক পদক্ষেপও নিয়েছেন। তাতে কিছু কাজ নিশ্চয়ই হয়েছে। সল্টলেক নিউটাউন রাজারহাটে সিন্ডিকেট রাজের বজ্জাতি অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে এসেছে। রাজ্যের অন্যত্রও এই শ্রেণীর তৃণমূলীদের দৌরাত্ম্য কিছু কমেছে। সবটা নিয়ন্ত্রণে এসেছে, তৃণমূলী ওইসব নেতাকর্মী সকলে সাধু হয়ে গেছে এমন বলছি না। তবে, ভোটফল বেরনোর পর তারাও একটা অশনি সংকেত পেয়েছে। কিন্তু, কয়লা বলে কথা। শত ধুলেও ময়লা কি যায়! এদের অনেকে এখন নতুন গুড়ের লোভে রং পাল্টানোর চেষ্টায় নেমেছে বলে খবর।
এদের বিরুদ্ধে মানুষের ক্ষোভটাই প্রতিফলিত হয়েছে ভোটবাক্সে—এমনটাই অভিমত তথ্যভিজ্ঞজনেদের অনেকেরই। কিন্তু, বিজেপিতে এদের মুখ দেখলে মানুষের কী প্রতিক্রিয়া হবে তা সহজেই অনুমেয়। সুতরাং এদের আটকানোও এখন গেরুয়া শিবিরের একটা বড় এবং কঠিন কাজ। দ্বিতীয়ত, মমতার উন্নয়নপন্থী ভাবমূর্তির তো কেবল বঙ্গে নয়, দেশ তথা বিশ্বের দরবারেও স্বীকৃতি পেয়েছে। তার একটা আলাদা প্রভাবও আছে বাংলার মানুষজনের মধ্যে। সেখান থেকে মমতাকে সরানোও সহজ কাজ নয়। রাজ্য বিজেপি নেতৃত্ব সেটা ভালোই জানে। এমন পরিস্থিতিতে বঙ্গবাসীর মনে বিজেপি সম্পর্কে নতুন ভাবনা জাগাতে হলে যে একটা ন্যায়পরায়ণ শান্ত-সংযত মানুষের প্রতি সহানুভূতিশীল এবং অবশ্যই সহিষ্ণু ভাবমূর্তি গণদরবারে পেশ
করতে হবে—তাও তাঁদের অজানা নয়। কিন্তু,
নৈহাটি ভাটপাড়া সমেত রাজ্যের বিভিন্ন এলাকায় চোখ রাঙানো সন্ত্রাসের যে আবহ কায়েম হয়েছে
তা সেই ভাবমূর্তি নির্মাণের পথে পদে পদে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করছে।
তার ওপর মমতার মতো নেত্রীর সঙ্গে চোখে চোখ রেখে লড়তে পারেন—এমন মুখ এখনও রাজ্য বিজেপি খুঁজে উঠতে পারেনি। লোকসভার লড়াইটা মোদিজির মুখ দেখিয়ে তাঁর কথা শুনিয়ে তাঁকে ১৮ জনসভায় পেশ করে উতরে যাওয়া গেছে। হয়তো, আগামীতেও রাজ্য বিধানসভার প্রচার সভায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে গেরুয়া ব্রিগেডের হয়ে মঞ্চে দেখা যাবে। কিন্তু, মূল রণক্ষেত্রে মমতার মোকাবিলা তো তিনি করবেন না। করতে হবে অন্য কাউকে। তিনি কে? এখনও জানে না পশ্চিমবঙ্গ। এই সামগ্রিক পরিপ্রেক্ষিত ও প্রতিকূলতার বিচারেই হয়তো বিজেপি শীর্ষ নেতৃত্ব এ রাজ্যের বিধানসভা ভোটকে একটা কঠিন চ্যালেঞ্জ মনে করছে। এখন এই চ্যালেঞ্জের মোকাবিলা বিজেপি শেষ অব্দি কীভাবে কতটা করতে পারে সেটাই দেখার—তাই না?
09th  June, 2019
ওয়াল স্ট্রিটের ‘নেকড়ে’-র গল্প!
মৃণালকান্তি দাস

ওয়াশিংটনের অপরিচিত কোনও এক পথে হাঁটতে হাঁটতে গল্পটা শুনিয়েছিলেন এমিলি ব্রাউন। গল্প বলতে, এক অপরাধীর ঘুরে দাঁড়ানোর কাহিনী। জর্ডন বেলফোর্টের গল্প। যিনি জীবনে অপরাধের নেশায় পড়ে সবকিছু হারিয়েছিলেন। কে এই জর্ডন বেলফোর্ট, জানেন? যাঁর জীবন কাহিনী শুনলে মনে হবে, এ এই মার্কিন মুলুকেই সম্ভব! বিশদ

স্বাধীনতা ৭৩ এবং ভূস্বর্গের মুক্তি
মেরুনীল দাশগুপ্ত

গরিবি যতদিন না যাবে ততদিন এই উপত্যকায় শান্তি আসবে না। কারণ, কাশ্মীরি মানুষের গরিবিই ওদের একটা বড় হাতিয়ার। গরিব মানুষজনের অনেকেই ক’টা টাকার লোভে পড়ে সীমান্তর ওপার থেকে আসা লোকজনকে আশ্রয় দিয়ে, লুকিয়ে রেখে, খাবারদাবারের ব্যবস্থা করে ভ্যালির বিপদ বাড়িয়ে তুলছে।
বিশদ

15th  August, 2019
বনে থাকে বাঘ 
অতনু বিশ্বাস

ছেলেবেলায় ‘সহজ পাঠ’-এ পড়েছিলাম ‘বনে থাকে বাঘ’। যদিও এই পাঠটা যে খুব সহজ আর স্বাভাবিক নাও হতে পারে, অর্থাৎ বনে বাঘ নাও থাকতে পারে, সেটা বুঝতে বেশ বড় হতে হল। ছোটবেলায় অবশ্য মনে বদ্ধমূল ধারণা ছিল, বন-জঙ্গল গিজগিজ করে বাঘে। 
বিশদ

13th  August, 2019
রক্ষক আইন যেন ভক্ষক না হয়
শান্তনু দত্তগুপ্ত 

ভিক্টরি ম্যানসনে ঢুকলেন উইনস্টন স্মিথ। বহুতলে ঢুকেই নজরে আসবে দো’তলা সমান আখাম্বা ছবিটা। শুধু একটা মুখ। নীচে ক্যাপশন করা, বিগ ব্রাদার কিন্তু তোমাকে দেখছে। জর্জ অরওয়েলের কালজয়ী উপন্যাস ১৯৮৪-এর শুরুতেই উল্লেখ এই ছবির। আর এই নভেলের সারমর্মও লুকিয়ে এই ছবিতে—বিগ ব্রাদার দেখছে, তাই সাবধান। সাবধান হও সবাই... সরকারি কর্মচারী, ব্যবসায়ী, সাফাইকর্মী, বেসরকারি চাকুরে... মোদ্দা কথা নারী-পুরুষ নির্বিশেষে। সবসময় নজরদারি।  
বিশদ

13th  August, 2019
পুতিন কি পারবেন নতুন বিশ্বের নেতৃত্ব দিতে?
গৌরীশঙ্কর নাগ

 ১৯১৭ খ্রিস্টব্দে বা তার কিছু আগে থেকে লেনিন, ট্রটস্কি প্রমুখ নিবেদিত প্রাণ কমরেডের হাত ধরে সোভিয়েত সমাজতন্ত্র নামক যে মহীরুহটি ধীরে ধীরে গড়ে উঠেছিল তা গর্বাচেভ ক্ষমতাসীন হওয়ার পর কীভাবে তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়েছে—বিস্ময়ের সঙ্গে আমরা সেটা দেখেছি।
বিশদ

12th  August, 2019
স্টেট নয়, শুধুই রিয়াল এস্টেট
পি চিদম্বরম

 জম্মু ও কাশ্মীর নিয়ে প্রায়ই লিখি কিন্তু আজকেরটা অন্যরকম। জম্মু ও কাশ্মীর আর আগের জম্মু ও কাশ্মীর নেই। এটা আর রাজ্য নয়। এটাকে বিভক্ত করা হয়েছে। এখন দুটি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল—লাদাখ এবং জম্মু ও কাশ্মীর। ভারতের সংবিধানে কোনও রাজ্যকে কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের স্তরে নামিয়ে আনার ঘটনা এর আগে ঘটেনি।
বিশদ

12th  August, 2019
রাহুল সরে দাঁড়াতেই কংগ্রেস এমন নেতৃত্বহীনতায় ভুগছে কেন?
শুভা দত্ত

 প্রশ্নটা আজ দেশের সর্বস্তরে। পথে-ঘাটে অফিসে আড্ডায় যেখানেই চলতি রাজনীতি নিয়ে তর্ক-বিতর্কের উদয় হচ্ছে সেখানেই প্রশ্নটা যেন অনিবার্যভাবে এসে পড়ছে! কংগ্রেসের হলটা কী! রাহুল গান্ধী না বলে দিতেই আর সভাপতি খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না কংগ্রেসে! গান্ধী ফ্যামিলি ছাড়া কংগ্রেস সভাপতি খুঁজে পাচ্ছে না— এ তো বড় অদ্ভুত ব্যাপার! কংগ্রেসের জন্মের পর থেকে গান্ধী ফ্যামিলির বাইরের দেশ রাজনীতির কত দিকপালই তো জাতীয় কংগ্রেসের সভাপতির আসন অলঙ্কৃত করেছেন—উমেশচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়, দাদাভাই নৌরজি, সুরেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়, সুভাষচন্দ্র, অ্যানি বেসান্ত, চিত্তরঞ্জন, সরোজিনী নাইডু, বল্লভভাই প্যাটেল, কামরাজ, জগজীবন রাম—কত নাম বলব। নিশ্চয়ই এই তালিকায় নেহরু থেকে ইন্দিরা, রাজীব, সোনিয়া হয়ে রাহুল—গান্ধী পরিবারের সদস্যরাও ছিলেন।
বিশদ

11th  August, 2019
শুধু উন্নয়ন নয়, ভোটের জন্য চাই ভালো মাস্টার
তন্ময় মল্লিক

মোটা বেতন দিয়ে মাস্টার রাখলেই ছেলেমেয়ে মানুষ হয় না। তেমনটা হলে সব বড়লোকের ছেলেমেয়েই উচ্চশিক্ষিত হতো। কিন্তু, তা তো হয় না। ছাত্রছাত্রীর পড়াশোনায় আগ্রহ, মেধা যেমন থাকা দরকার, তেমনই নজরদারিটাও জরুরি। ফাঁকিবাজি থাকলেই ছাত্র হয় গাড্ডু খাবে, অথবা ‘বিবেচনায়’ পাশ।
বিশদ

10th  August, 2019
পঞ্চায়েত নির্বাচন, ৩৭০ কিংবা ৩৫এ
শুভময় মৈত্র

পশ্চিমবঙ্গ ২০১৮, আর ত্রিপুরা ২০১৯। পঞ্চায়েত ভোটে ফলাফল একইরকম। ঠিক কত আসন সেটা গোনার দরকার নেই। সহজ অঙ্কে বিষয়টা এরকম। ধরা যাক, মোট আসন ১০০, শাসক দল বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়ী ৭০টি আসনে। বাকি তিরিশের মধ্যে তীব্র লড়াইয়ের শেষে শাসক দল ২০, বিরোধীরা দশ। পাটিগণিতের অঙ্ক একেবারে মিলে গেল।
বিশদ

10th  August, 2019
কাশ্মীর: নতুন চ্যালেঞ্জ
সমৃদ্ধ দত্ত

 প্রকৃত চ্যালেঞ্জ সরকারের। কাশ্মীরকে আন্তরিকভাবে ভারতের অন্তঃস্থলে মিশিয়ে দেওয়ার কাজটিই কিন্তু হবে কাশ্মীরের নয়া ইতিহাস রচনা। সেটা নিছক একটা ভূমিখণ্ড দখল নয়। কাশ্মীরিয়াৎকে আপন করে নেওয়া। একমাত্র তাহলেই পাকিস্তান সবথেকে বেশি ধাক্কা খাবে! আর কাশ্মীরিদের আমরা যদি শত্রু বিবেচনা করে চলি, তাহলে কিন্তু টেনিসের পরিভাষায় অ্যাডভান্টেজ পাকিস্তান হয়ে যাবে! সে সুযোগ দেব কেন?
বিশদ

09th  August, 2019
সংযুক্তিকরণের মিশ্র অভিজ্ঞতার পংক্তিতে কাশ্মীর
বিশ্বনাথ চক্রবর্তী

 সমস্ত প্রশ্ন আসলে আবর্তিত হচ্ছে মূলত কাশ্মীরসমস্যা সমাধানের প্রশ্নে ‘স্বাধিকার বনাম সংযুক্তিকরণ’ ভাবনাকে কেন্দ্র করে। নেহরুর অনুসৃত কাশ্মীরের স্বাধিকার মডেল বিগত ৭০ বছর ধরে কার্যকরী থাকলেও কাশ্মীরসমস্যার সমাধান কিন্তু অধরাই থেকে গিয়েছে। তৈরি হয়েছিল অচলাবস্থা। বিজেপির সংযুক্তিকরণ মডেলে কাশ্মীরের এই দীর্ঘ অচলাবস্থা ভেঙে এগিয়ে চলার কথা বলা হয়েছে। বিশ্বজুড়ে সংযুক্তিকরণ মডেলের যে অভিজ্ঞতা উঠে এসেছে, তা মিশ্র। চীনের সঙ্গে তিব্বতের সংযুক্তিকরণ সফল হয়েছে। আলাস্কার ক্ষেত্রেও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সংযুক্তিকরণ সফল ছিল। আবার চীনের সঙ্গে হংকংয়ের সংযুক্তিকরণ প্রক্রিয়া কিন্তু কঠিন বাধার সম্মুখীন হয়েছে। এখন দেখার, কাশ্মীরকে ভারতের মূল প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক ক্ষেত্রে সংযুক্তিকরণ প্রক্রিয়ার ফল কী হয়? বিশদ

08th  August, 2019
জিতে গেলেন শ্যামাপ্রসাদ
জিষ্ণু বসু 

দিনটি ছিল ১১ মে, ১৯৫৩। পারমিট ছাড়া কাশ্মীরে প্রবেশের অপরাধে পাঠানকোটের মাধোপুর সীমান্তে গ্রেপ্তার হলেন শ্যামাপ্রসাদ। সেখান থেকে শ্রীনগর ৩০০ কিমির বেশি। এতটা পথ পুলিসের জিপে আনা হল তাঁকে।  বিশদ

07th  August, 2019
একনজরে
 নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ডুরান্ডের গুরুত্বহীন ম্যাচে শুক্রবার এটিকে’র রিজার্ভ টিম উইলিয়ামের গোলে হারিয়ে দিল মহমেডান স্পোর্টিংকে। কালো-সাদা শিবিরের কোচ সুব্রত ভট্টাচার্য বলেন, ‘আমি দলে কোনও বিদেশি ডিফেন্ডার খেলাইনি। ...

সংবাদদাতা, লালবাগ: পুরনো শত্রুতার জেরে বৃহস্পতিবার দুপুরে ভোজালি দিয়ে কুপিয়ে এক যুবককে খুনের ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে ইসলামপুর থানার সিসাপাড়া মুরাডাঙা এলাকায়। পুলিস জানিয়েছে, মৃত যুবকের নাম মাসাদুল শেখ (৩০)। খুনের ঘটনায় অভিযুক্ত শুকবর শেখকে স্থানীয়রা ধরে উত্তম মধ্যম দেয়। ...

 ন্যাশনাল স্টক এক্সচেঞ্জে যেসব সংস্থার শেয়ার গতকাল লেনদেন হয়েছে শুধু সেগুলির বাজার বন্ধকালীন দরই নীচে দেওয়া হল। ...

 নয়াদিল্লি, ১৬ আগস্ট (পিটিআই): অযোধ্যা মামলায় ফের নতুন মোড়। রাম জন্মভূমি-বাবরি মসজিদের বিতর্কিত জমিতে হিন্দু দেবতাদের একাধিক ছবি পাওয়া গিয়েছে। শুক্রবার সুপ্রিম কোর্টে এই মামলার শুনানিতে প্রধান বিচারপতি রঞ্জন গগৈয়ের নেতৃত্বাধীন পাঁচ সদস্যের সাংবিধানিক বেঞ্চে এমনই দাবি করলেন রামলালা বিরাজমানের ...




আজকের দিনটি কিংবদন্তি গৌতম
৯১৬৩৪৯২৬২৫ / ৯৮৩০৭৬৩৮৭৩

ভাগ্য+চেষ্টা= ফল
  • aries
  • taurus
  • gemini
  • cancer
  • leo
  • virgo
  • libra
  • scorpio
  • sagittorius
  • capricorn
  • aquarius
  • pisces
aries

ব্যবসায় শ্রীবৃদ্ধি হবে। স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে মাঝে মাঝে মতান্তর হবে। সন্তানের স্বাস্থ্য বিষয়ে সাবধান থাকা দরকার।প্রতিকার— ... বিশদ


ইতিহাসে আজকের দিন

১৬৬৮: আনাতোলিয়ায় ভূমিকম্পে মৃত ৮ হাজার মানুষ। রিখটার স্কেলে তীব্রতার মাত্রা ছিল ৮
১৯৩২: নোবেলবিজয়ী ত্রিনিদাদ বংশোদ্ভুত ব্রিটিশ সাহিত্যিক ভি এস নইপলের জন্ম
১৯৪৩: মার্কিন অভিনেতা, পরিচালক, প্রযোজক রবার্ট ডি নিরোর জন্ম
১৯৪৭: ভারত-পাকিস্তানের সীমানা বিভক্ত করে আত্মপ্রকাশ ঘটল র্যা ডক্লিফ লাইনের
১৯৪৯: ভারতীয় বিপ্লবী তথা ঢাকা অনুশীলন সমিতির প্রতিষ্ঠাতা পুলিনবিহারী দাসের মৃত্যু
১৯৭৭: ফরাসি ফুটবলার থিয়েরি অঁরির জন্ম
১৯৮২: বাজারে প্রথম সিডি (কমপ্যাক্ট ডিস্ক) প্রকাশ করল জার্মানি
১৯৮৮: বিমান দুর্ঘটনায় মৃত পাকিস্তানের ষষ্ঠ প্রেসিডেন্ট মহম্মদ জিয়া-উল-হক
১৯৯৮: হোয়াইট হাউসের মহিলা কর্মী মনিকা লিউনস্কির সঙ্গে অবৈধ সম্পর্কের কথা স্বীকার করে জনগণের কাছে ক্ষমা চেয়ে নিলেন তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিন্টন
২০০৫: বাংলাদেশের ৬৩টি জেলার ৩০০টি জায়গায় ৫০০টি বিস্ফোরণ ঘটায় জঙ্গিরা।
২০০৮: প্রথম ব্যক্তি হিসাবে একটি ওলিম্পিকসে আটটি সোনা জিতে রেকর্ড মার্কিন সাঁতারু মাইকেল ফেল্পসের

ক্রয়মূল্য বিক্রয়মূল্য
ডলার ৭০.৫৯ টাকা ৭২.২৯ টাকা
পাউন্ড ৮৪.৮১ টাকা ৮৭.৯৪ টাকা
ইউরো ৭৭.৮৩ টাকা ৮০.৭৮ টাকা
[ স্টেট ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়া থেকে পাওয়া দর ]
পাকা সোনা (১০ গ্রাম) ৩৮,০৮০ টাকা
গহনা সোনা (১০ (গ্রাম) ৩৬,১৩০ টাকা
হলমার্ক গহনা (২২ ক্যারেট ১০ গ্রাম) ৩৬,৬৭০ টাকা
রূপার বাট (প্রতি কেজি) ৪৪,০০০ টাকা
রূপা খুচরো (প্রতি কেজি) ৪৪,১০০ টাকা
[ মূল্যযুক্ত ৩% জি. এস. টি আলাদা ]

দিন পঞ্জিকা

৩১ শ্রাবণ ১৪২৬, ১৭ আগস্ট ২০১৯, শনিবার, দ্বিতীয়া ৪৩/৪৮ রাত্রি ১০/৪৯। শতভিষা ২১/৩৪ দিবা ১/৫৫। সূ উ ৫/১৭/৩৯, অ ৬/৪/১, অমৃতযোগ দিবা ৯/৩৩ গতে ১২/৫৭ মধ্যে। রাত্রি ৮/১৮ গতে ১০/৩৩ মধ্যে পুনঃ ১২/৩ গতে ১/৩৩ মধ্যে পুনঃ ২/১৮ গতে ৩/৪৮ মধ্যে, বারবেলা ৬/৫৩ মধ্যে পুনঃ ১/১৬ গতে ২/৫২ মধ্যে পুনঃ ৪/২৮ গতে অস্তাবধি, কালরাত্রি ৭/২৮ মধ্যে পুনঃ ৩/৫৪ গতে উদয়াবধি।
৩১ শ্রাবণ ১৪২৬, ১৭ আগস্ট ২০১৯, শনিবার, দ্বিতীয়া ৩৮/৯/৫৮ রাত্রি ৮/৩২/৩৭। শতভিষানক্ষত্র ১৯/৪২/০ দিবা ১/৯/২৬, সূ উ ৫/১৬/৩৮, অ ৬/৬/৩০, অমৃতযোগ দিবা ৯/৩১ গতে ১২/৫২ মধ্যে এবং রাত্রি ৮/১০ গতে ১০/২৮ মধ্যে ও ১১/৫৯ গতে ১/৩২ মধ্যে ও ২/১৭ গতে ৩/৪৮ মধ্যে, বারবেলা ১/১৭/৪৮ গতে ২/৫৪/২ মধ্যে, কালবেলা ৬/৫২/৫২ মধ্যে ও ৪/৩০/১৬ গতে ৬/৬/৩০ মধ্যে, কালরাত্রি ৭/৩০/১৬ মধ্যে ও ৩/৫২/৫২ গতে ৫/১৬/৫৮ মধ্যে।
১৫ জেলহজ্জ

ছবি সংবাদ

এই মুহূর্তে
নয়াদিল্লির এইমস-এ আগুন
নয়াদিল্লির এইমস -এ আগুন। ঘটনাটি ঘটে আজ বিকাল ৫টা নাগাদ। ...বিশদ

05:47:48 PM

ভাইকে নিয়ে স্বামীকে খুন, যাবজ্জীবন কারাদণ্ড 
ভাইকে সঙ্গে নিয়ে স্বামীকে খুনের ঘটনায় দু’জনকেই যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের সাজা ...বিশদ

04:09:34 PM

জলমগ্ন শহর, পুরকর্মীদের ছুটি বাতিল 
টানা বৃষ্টিতে কার্যত জলের নীচে মহানগর। ব্যাহত হচ্ছে জনজীবন। দ্রুত ...বিশদ

02:13:11 PM

ট্রাকে ধাক্কা যাত্রীবোঝাই বাসের, জখম ২০ 
গভীর রাতে দাঁড়িয়ে থাকা ট্রাকের পেছনে ধাক্কা যাত্রীবোঝাই বাসের। ঘটনায় ...বিশদ

01:55:28 PM

ভুয়ো পরিচয় দিয়ে লক্ষ লক্ষ টাকার প্রতারণা, ধৃত অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মী 
সচিব পদমার্যাদার অফিসার পরিচয় দিয়ে বিভিন্ন সরকারি কর্মীদের লক্ষ লক্ষ ...বিশদ

01:07:00 PM

সঙ্কটে জেটলি, রাখা হল লাইফ সাপোর্টে 
আরও সঙ্কটে অরুণ জেটলি। এদিন সকাল থেকে প্রাক্তন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রীকে ...বিশদ

12:57:58 PM