Bartaman Patrika
বিশেষ নিবন্ধ
 

বারুদের স্তূপের উপর পশ্চিমবঙ্গ
হিমাংশু সিংহ

লোকসভার ফলে পালাবদলের গন্ধ পেয়েই পশ্চিমবঙ্গের গ্রামে শহরে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে বিজেপি। তাই ঘরে ঘরে চায়ের আড্ডায় আদালতে অফিসে মাঠে ময়দানে লোকসভার ফল বেরনো ইস্তক একটা কী হয় কী হয় ভাব। একটাই আলোচনা ২০২১-এ কী হবে? আগ্রাসী একদল ক্ষমতা দখলের আশায় টগবগে উদ্দাম, আর অন্য শিবিরে হতাশা, উত্তেজনা আর ভয় এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে খোদ ভগবানের নামেও মেজাজ হারাচ্ছেন মাটি থেকে উঠে আসা তৃণমূল শাসক। ২৩ মে-র পর বাংলা অভিধানে একটা নতুন গালাগালি সংযুক্ত হয়েছে ‘জয় শ্রীরাম’। এতই মারাত্মক অবমাননাকর এই শব্দবন্ধ যে রাস্তায় নেমে চোখ কপালে তুলে পুলিসকে কড়া ব্যবস্থা নেওয়ার নিদান দিয়েছেন অগ্নিকন্যা। ভাইরাল হয়েছে সে ছবি। অথচ প্রতিবাদী গণআন্দোলনের মধ্যে দিয়ে বিক্ষোভ অবরোধের নানা কঠিন ধাপ পেরিয়েই তাঁর বিরোধী নেত্রী থেকে ‘সফল’ শাসকে উত্তরণ। আর আজ তাঁর আট বছরের শাসনকাল যেতে না-যেতেই সেই আন্দোলন, বিক্ষোভ, প্রতিবাদের মতো শব্দগুলো তাঁর কাছে রাজ্যে হিংসা ও অরাজকতা সৃষ্টির অপচেষ্টা মাত্র! এ কোন উলটপুরাণ দেখছে বাংলা? অথচ আজকের শাসক তথা সেদিনের বিরোধী নেত্রীর উপস্থিতিতেই বিধানসভায় ঢুকে অন্যায় ভাঙচুর, দুর্গাপুর এক্সপ্রেস ওয়ে আটকে দিনের পর দিন ধর্না বিক্ষোভ, ধর্মতলার অনশন, সবই কি আজ বিস্মৃতপ্রায় অধ্যায়! এমন একটা ভাব যেন কিছুই হয়নি কিংবা সবই আইন মেনে শান্তিপূর্ণভাবে হয়েছিল সেদিন।
বাস্তবে পরিবর্তন ও তার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে উত্তাল আন্দোলন, রক্তক্ষয় বড় কম দেখেনি এই বাংলার মাটি। সত্তরের উত্তাল নকশাল আন্দোলন দেখেছে। বাহাত্তর থেকে সাতাত্তর সিদ্ধার্থশঙ্করের জমানার কলঙ্কিত শাসন ও জরুরি অবস্থার অন্যায় বাড়াবাড়ি দেখেছে। অবলীলায় আঠারো থেকে আটাশের মৃত্যুমিছিল দেখেছে। প্রাণ বাঁচাতে যুব সমাজের এ রাজ্য থেকে পালানোর সেই শুরু। তারপর সিপিএমের ৩৪ বছর ধরে একটানা কর্মসংস্থান ও শিল্পকে বিসর্জন দিয়ে আপাত শ্মশানের শান্তির আড়ালে ভোটলুটের জমজমাট কারবার দেখেছে। সংগঠন ও প্রশাসনের জোরে বামেদের ভোট পৌঁছে গিয়েছিল সে সময় ৫০ শতাংশে। কিন্তু সবকিছুকে পার্টিমুখী করতে গিয়ে আর গোটা ব্যবস্থাকে বিরোধী-শূন্য করার নেশায় কখন মানুষই ব্রাত্য হতে হতে দূরে সরে গিয়েছে বাম নেতারা তার আঁচটুকুও পাননি। কোনও শাসকই বোধহয় ক্ষমতার নেশায় যখন বুঁদ হয়ে যান তখন ওই আঁচটা পান না। পাওয়ার কথাও নয়। তাই সব শাসকই প্রতিবাদ দেখলেই পুলিসকে ব্যবহার করে মিথ্যে মামলায় ফাঁসিয়ে দমন-পীড়নের কঠিন রাস্তায় নেমে পড়েন। মানুষের মনটা পরখ করে দেখার চেষ্টা করেন না কেউ। আর এই অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাস থেকেই বাম নেতারা মানুষকে, মানুষের ভোটকে চিরদিনের জন্য তাদের কেনা ভেবেছিলেন। বাস্তবে যা কখনও সম্ভব নয়। আর বামেদের সেই অতিরিক্ত আত্মসন্তুষ্টি আর দৌরাত্ম্যের জেরেই ২০১১-র বহুকাঙ্ক্ষিত ঐতিহাসিক পরিবর্তন এল। উল্টে গেল সাড়ে তিন দশকের রাজ্যপাট। এসবই যেন অবলীলায় ঘটে গিয়েছে এই বাংলায়।
চাকরি নেই, শিল্প নেই। তাতে কী হয়েছে, রাজনীতি, দলাদলি, হানাহানি তো আছে চুটিয়ে! সঙ্গে দোসর খেলা মেলা উৎসব। গত সাত বছরে ঘটা করে বহু কোটি টাকা খরচে ঢালাও খানাপিনার ব্যবস্থা করে শিল্প সম্মেলন বড় কম হয়নি। কিন্তু বড় উৎপাদনমুখী শিল্প কী এসেছে। কোনও বড় কারখানা যেখানে দশ, পনেরো হাজার লোক কাজ পেতে পারে তা কি হয়েছে? হয়নি। ফলে এরাজ্যের শত শত বেকারের ভাগ্য ফেরারও আশাও প্রায় নেই। সেদিকে নজর দেওয়ার ফুরসতটুকুও কারোর নেই। মরলে তো মরবে গরিব দিনআনা দিনখাওয়া পরিবারগুলো। নেতানেত্রীদের, তাঁদের ছেলেমেয়েদের তো আর পেটের দায় নেই! আছে তোলা আর সিন্ডিকেটের পয়সায় নিত্যনতুন সম্পত্তি আর দামি গাড়ি কেনার বিষম রকমারি আহ্লাদ। কালো কাচ তুলে মা মাটি মানুষের বুকের উপর দিয়েই ধুলো উড়িয়ে ছোটে ঝাঁ চকচকে সাদা স্করপিও কিংবা আরও দামি রং-বেরঙের গাড়ি। ধুলোমাখা মাটির মানুষ প্রমাদ গোনে আর বলে ওই দ্যাখ, নেতার ব্যাটা, ভাইপো কিংবা ভাগ্নে যাচ্ছে। আহা কত উন্নয়ন! আর দু’পকেটে ডিগ্রি নিয়ে এরাজ্যের অসহায় ছেলেমেয়েরা ছুটছে ভিন রাজ্যে, ভিন দেশে একটা চাকরির আশায়। মেস করে কোনও মতে দূর দূরান্তরে একটা ছোট্ট ঘরে থাকছে চার পাঁচজন মিলে। দু’বেলা পরিমিত খাবার জুটছে কি জুটছে না, সে খোঁজ কে রাখে। আর সংকীর্ণ রাজনীতি ও ইগোর বলি সিঙ্গুর আজও শ্মশান হয়ে দাঁড়িয়ে রয়েছে দুর্গাপুর এক্সপ্রেসওয়ের ধারে। নন্দীগ্রামও তথৈবচ। রাজ্যজুড়েই যেন না-হওয়া আর বন্ধ-হওয়া শিল্প কারখানার কঙ্কাল ছড়িয়ে! তবু টনক নড়ে না কারও। আমি, আমি করেই সবাই বুঁদ। আমার প্রতাপ আর প্রভাব প্রতিপত্তি দেখাতেই সবাই মত্ত, অন্যকিছু ভাবার সময়ই নেই। না-হলে সিন্ডিকেট, তোলাবাজি, পরের মেরে খাওয়ার বিরুদ্ধে কালীঘাটের টালির চালায় ডাকা কোর কমিটির বৈঠকে বারবার যুদ্ধ ঘোষণা করতে দেখা গিয়েছে। কাগজে হেডলাইন হয়েছে। কিন্তু সবই কথার কথা। গত আট বছরে সিন্ডিকেট শাখা-প্রশাখা বিস্তার করে গোটা রাজ্যটাকে আষ্টেপৃষ্ঠে বেঁধেছে। আর বৈঠক ডাকলে যাঁরা কালীঘাটের ঘর আলো করে বসে থাকেন তাঁরাই সিন্ডিকেটের বড় বড় চাঁই, আশ্রয়দাতা। রক্ষকই যেখানে ভক্ষক সেখানে মানুষ সুবিচার পাবে কোথায়। আর তোলাবাজি আর সিন্ডিকেটের টাকার আসল শাঁসটা কোথায় কার পকেটে যায় তা কী কারও অজানা!
কিন্তু, এসব কিছুই যে সংসদীয় রাজনীতিতে চিরস্থায়ী নয়। কারও মৌরসিপাট্টাই গণতন্ত্রে বেশিদিন টেকে না। সব সাজানো বাগানই একদিন শুকিয়ে যায় কালের নিয়মে। ইতিহাস কয়েক বছর অন্তর ফিরে ফিরে আসে আর ধুরন্ধর শাসককে চরম শিক্ষা দিয়ে তাঁকে, তাঁর ক্ষমতাকে ধুলোয় লুটিয়ে দিয়ে আবার ফকির করে দিয়ে যায়। সব ক্ষমতা এক ভোটে বিলীন। ধূলিসাৎ। আর এখানেই মহান গণতন্ত্রের জিত আর চমৎকারিত্ব। আর সেই দিক দিয়ে ২৩ মে-র ফল এই পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিকেও আবার এক মহান সন্ধিক্ষণের দিকেই যেন ঠেলে দিয়েছে। ‘বিয়াল্লিশে বিয়াল্লিশ’ হয়নি, ‘২০১৯ বিজেপি ফিনিশ’—তাও হয়নি। উল্টে সারাদেশে বিজেপি থ্রি-নট-থ্রি (অর্থাৎ ৩০৩টি) আসন জিতে তাক লাগিয়ে দিয়েছে ভোট-পণ্ডিতদের। এরাজ্যের পরিণাম আরও চিত্তাকর্ষক। ৪০ শতাংশ ভোট পেয়ে ৪২ আসনের মধ্যে ১৮টি আসন জিতে শাসক নেত্রীর ঘাড়ে নিঃশ্বাস ফেলার জায়গায় নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছে। শাসক পেয়েছে ২২ আসন। ব্যবধান কমছে। এটাকে সন্ধিক্ষণ বলব না তো বলব কাকে! স্লোগান উঠেছে ‘উনিশে হাফ, একুশে সাফ’। ভয়ঙ্কর আস্ফালন সন্দেহ নেই। তবে প্রতিপক্ষকেও সংযত হতে হবে। শান্তিশৃঙ্খলা ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধকে বজায় রেখে, চিরাচরিত পরম্পরাকে সম্মান দিয়েই যা করার করতে হবে। না-হলে শুধু দল ভাঙিয়ে আর আস্ফালন করে বাংলার মানুষের সামগ্রিক আস্থা অর্জন করা যাবে না। তবে বাতাসের গতিপ্রকৃতি কিন্তু দ্রুত বদলাচ্ছে। আর তার জেরেই পালাবদলের ইঙ্গিতবাহী লোকসভা ভোটের ফলের দু’সপ্তাহ যেতে না-যেতেই রাজ্যটা যেন ক্রমেই বারুদের স্তূপে পরিণত হচ্ছে। হানাহানি, রক্তারক্তি বাড়ছে। একদল ক্ষমতা দখলের জন্য, গণতন্ত্রের ফের প্রতিষ্ঠার জন্য উদগ্রীব আর একদল ক্ষমতা ধরে রেখে বিরোধী-শূন্য রাজ্যটাকে বছরের পর বছর শাসন করার ছাড়পত্র পেতে মরিয়া।
সংঘাত সংঘর্ষ তাই অবশ্যম্ভাবী। ২০২১-এর বিধানসভা ভোট পর্যন্ত তাই আরও উত্তাল হবে রাজ্য। যার অনিবার্য পরিণতি সন্দেশখালি। যার অনিবার্য পরিণতি উত্তরবঙ্গের একাধিক ঘটনা। প্রতিরোধ হচ্ছে। মুখ বুজে গ্রামবাংলা আর কারও নির্দেশ মানতে রাজি নয়। পঞ্চায়েত ভোটে ৩৪ শতাংশ আসনে বিপক্ষরা প্রার্থী পর্যন্ত দিতে পারেনি। সবটাই হয়েছে একতরফা। গ্রামের মানুষের দাঁত ও চোয়াল চাপা প্রতিশোধই প্রতিফলিত হয়েছে গত ২৩ মে লোকসভা ভোটের ফলাফলে। সেই পরিণাম বেরনো ইস্তক এবং বিজেপির গোটা উত্তরবঙ্গ, বর্ধমান, মেদিনীপুর, হুগলি ও নদীয়ায় আশাতীত ফল করার পর একটা কথাই বারংবার শোনা যাচ্ছে যে বামেদের ভোটটা বিজেপিতে যাওয়ার জন্যই নাকি বিজেপি প্রায় রাজ্যের অর্ধেক লোকসভা আসন জিতে নিয়েছে। এসবই আসলে সিপিএমের নিজের নাক কেটে পরের যাত্রাভঙ্গ করার চক্রান্ত। যারা একথা বলছে, তারা একবারও ভেবে দেখছে না, সংসদীয় গণতন্ত্রে ভোট ও ভোটার কারও পৈতৃক সম্পত্তি নয়। তাই এই ভোটটা বামেদের কেনা, একথা বলা চরম মূর্খামি ছাড়া আর কিছুই নয়। যদি ৪৯-৫০ শতাংশ ভোট এখনও বামেদের অটুট থাকত তাহলে কি ২০১১-র পরিবর্তন রূপ পেত, না আজ তৃণমূলের এত রমরমা হতো। কিছুতেই হতো না।
নদীর মতো ভোটেরও একূল ভাঙে আর ওকূল গড়ে। এরাজ্যে কংগ্রেস ও সিপিএম সম্মিলিতভাবেও এই মুহূর্তে প্রবল পরাক্রান্ত তৃণমূলের মোকাবিলা করতে পারবে না, একথা মানুষ জানে। তাই সমস্ত তৃণমূল-বিরোধী শক্তি আগামী দু’বছর আরও বেশি করে গেরুয়া ছাতার তলায় আশ্রয় নেবে, এর মধ্যে কোনও অতিশয়োক্তি নেই। এটাই বাস্তব। এবং, এই যুবসমাজের কাছে সাম্রাজ্যবাদ নিপাত যাক বা দুনিয়ার মজদুর এক হওয়ার স্লোগান আজ পুরোপুরি ব্রাত্য। তৃণমূলকে শিক্ষা দিতে তাই বাম-কংগ্রেস কর্মীরাও বেশি বেশি করে আগামী দিনে নরেন্দ্র মোদির ‘দিদি আপকা জায়গির খতম হোনে বালা’ শব্দবন্ধেই ভরসা রাখবে। তাই সিপিএমের ভোট সাত শতাংশ থেকে আগামী বিধানসভায় দু’শতাংশে নেমে গেলেও আশ্চর্যের কিছু থাকবে না, আর কংগ্রেসের এক শতাংশেরও নীচে। শেষ প্রহরে মমতা ম্যাজিক বড় কিছু ওলটপালট না-করে দেখালে এ যাত্রায় লড়াই কিন্তু খুবই কঠিন। তার চেয়েও কঠিন এই উত্তাল সময়ে রাজ্যটাকে শান্ত রাখা। যেহেতু তিনি এই বাংলার অবিসংবাদিত জননেত্রী তাই বিজেপি ভুল চাল দিলে এবং অতি উৎসাহে রাষ্ট্রপতি শাসন জারির মতো হঠকারী পথ নিলে কিন্তু ফল উল্টো হতে পারে। নানা প্রতিবন্ধকতা সত্ত্বেও বার বার ঘুরে দাঁড়িয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ২০২১ তাঁর রাজনৈতিক জীবনের ফের ঘুরে দাঁড়ানোর কঠিন লড়াই। ফল কী হবে তার জন্য আমাদের অপেক্ষা করতে হবে আরও কিছুদিন।
11th  June, 2019
বিপদ যখন ওষুধে
শান্তনু দত্তগুপ্ত

 সামান্য জ্বর জ্বর ভাব হলে কি ডাক্তার দেখাবেন? নাকি পাড়ার ওষুধের দোকানে গিয়ে বলবেন, দাদা একটা ক্যালপল দিন তো...! নিশ্চিতভাবে পরেরটা। ক্যালপলের জায়গায় ক্রোসিন, প্যারাসেফ হতেই পারে, কিন্তু ৮০ শতাংশ গ্রাহকই ‘প্যারাসিটামল’ দেওয়ার কথা বলেন না। প্যারাসিটামল অর্থাৎ ওষুধটির জেনেরিক নাম। আর ক্যালপল বা ক্রোসিন হল প্যারাসিটামলেরই ব্র্যান্ড নেম। আর এই দুই নামের সঙ্গেই জড়িয়ে ওষুধের নানা গোপন কাহিনী। কেন? বিশদ

স্বঘোষিত ‘ধর্মগুরু’ জিম জোন্সের নাম আজ ক্যালিফোর্নিয়ায় মুখে আনাও পাপ!
মৃণালকান্তি দাস

জিম জোন্সের নাম শুনেছেন? এ এক স্বঘোষিত ধর্মগুরুর গল্প। যাঁর বিশ্বাসের উপর ভর করে আত্মহত্যার আড়ালে এক নিদারুণ গণহত্যার সাক্ষী হয়েছিল আমেরিকা। ইন্ডিয়ানা অঙ্গরাজ্যের একটি দরিদ্র পরিবারে জিমের জন্ম। ছোটবেলা থেকেই ছিলেন বেশ বুদ্ধিমান এবং কিছুটা অদ্ভুত স্বভাবের। কিশোর বয়স থেকেই ধর্মের প্রতি তাঁর টান ছিল প্রবল।
বিশদ

23rd  September, 2019
অসহিষ্ণুতা
জিষ্ণু বসু

যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়। ১৯৭০ সাল। অতি বামপন্থী ছাত্র সংগঠন পরীক্ষা বয়কটের ডাক দিয়েছে। কেন? কী কারণ? কারণটা অদ্ভুত। কাউকে পরীক্ষা দিতে দেওয়া হবে না। রুখে দাঁড়িয়েছিলেন এক সিংহহৃদয় মানুষ। অধ্যাপক গোপালচন্দ্র সেন। মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার বিভাগের প্রবাদপ্রতিম অধ্যাপক এই ছাত্রদরদি মানুষটি অস্থায়ীভাবে উপাচার্যের দায়িত্ব পেয়েছিলেন। 
বিশদ

23rd  September, 2019
পুজোর মুখে
শুভা দত্ত

পুজো আসছে। মাঝে আর মাত্র ক’টা দিন—তারপরই শুরু হয়ে যাবে দেবী দুর্গার আরাধনায় মত্ত বাঙালির উৎসব যাপন। আমাদের বিশ্বাস, সেই উৎসবের আনন্দ কোলাহলে আলোর বন্যায় জনস্রোতে ক’দিনের জন্য হলেও এনআরসি হোক কি যাদবপুর, কি সারদা নারদা রাজীব কুমার—সব তলিয়ে যাবে। চিহ্নমাত্র থাকবে না। এতদিন তাই হয়েছে—এবারও তার ব্যতিক্রম হবে না।
বিশদ

22nd  September, 2019
এনআরসি, সংখ্যালঘু ভোট ও বিজেপি
তন্ময় মল্লিক

‘এবার সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষদের আরও বেশি করে বিজেপির ছাতার তলায় নিয়ে আসতে হবে। সেই মতো গ্রহণ করতে হবে যাবতীয় কর্মসূচি।’ দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্ব নিয়েই বিজেপির বঙ্গ নেতৃত্বকে এই কথাগুলি যিনি বলেছিলেন তিনি আর কেউ নন, ‘গেরুয়া শিবিরের চাণক্য’ অমিত শাহ।
বিশদ

21st  September, 2019
সরকারি চাকরির মোহে আবিষ্ট সমাজ
অতনু বিশ্বাস

সমাজ বদলাবে আরও। আমি বা আপনি চাইলেও, কিংবা গভীরভাবে বিরোধিতা করলেও। সরকারি বা আধা-সরকারি চাকরির নিরাপত্তার চক্রব্যূহ ক্রমশ ভঙ্গুর হয়ে পড়বে আরও অনেকটা। এবং দ্রুতগতিতে। গোটা পৃথিবীর সঙ্গে তাল মিলিয়ে এ এক প্রকারের ভবিতব্যই। একসময় আমরা দেখব, চাকরি বাঁচাতে গড়পড়তা সরকারি চাকুরেদেরও খাটতে হচ্ছে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের চাকুরেদের মতো। সরকারি চাকরির নিশ্চিন্ত আশ্রয়ের নিরাপত্তার ‘মিথ’ ভেঙে চুরচুর হয়ে পড়বে। এবং সে-পথ ধরেই ক্রমে বিদায় নেবে পাত্রপাত্রী চাই-য়ের বিজ্ঞাপন থেকে ‘সঃ চাঃ’ নামক অ্যাক্রোনিম।
বিশদ

21st  September, 2019
আলোচনার অভিমুখ
সমৃদ্ধ দত্ত

 প্রাচীন বিশ্বের বিভিন্ন সভ্যতায় দেখা যায় সম্রাটরা অসীম ক্ষমতার অধিকারী প্রমাণ করার জন্য অতি প্রাকৃতিক শক্তি সম্পন্ন হিসেবে নিজেদের প্রতিভাত করতেন। এর ফলে প্রজা শুধু সম্রাটকে যে মান্য করত তাই নয়, ভয়ও পেত, সমীহ করত। প্রাচীন মিশরে শতাব্দীর পর শতাব্দীর ধরে ফারাওরা নিজেদেরই ঈশ্বর হিসেবে ঘোষণা করতেন।
বিশদ

20th  September, 2019
হিন্দু বাঙালির বাড়ি ভাঙছে, হারাচ্ছে দেশ 
শুভময় মৈত্র

জয় গৃহশিক্ষকতা করেন, বাড়ি সিঁথি মোড়ের কাছে, বরানগরে। নিজেদের তিরিশ বছরের পুরনো বাড়ি, সারানোর প্রয়োজন। একান্নবর্তী পরিবার, দাদা বড় ইঞ্জিনিয়ার। তিনি আর একটি ফ্ল্যাট কিনেছেন কাছেই। 
বিশদ

20th  September, 2019
বাংলায় এনআরসি বিজেপির স্বপ্নের পথে কাঁটা হয়ে দাঁড়াবে না তো 
মেরুনীল দাশগুপ্ত

লোকসভা ভোটে অপ্রত্যাশিত ফলের পর বাংলার বিজেপি রাজনীতিতে যে জমকালো ভাবটা জেগেছিল সেটা কি খানিকটা ফিকে হয়ে পড়েছে? পুজোর মুখে এমন একটা প্রশ্ন কিন্তু পশ্চিমবঙ্গের আমজনতার মধ্যে ঘুরপাক খেতে শুরু করেছে। 
বিশদ

19th  September, 2019
জন্মদিনে এক অসাধারণ নেতাকে কুর্নিশ
অমিত শাহ

 আজ, মঙ্গলবার আমাদের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ৬৯তম জন্মদিন। অল্প বয়স থেকেই মোদিজি নিজেকে দেশের সেবায় উৎসর্গ করেছেন। যৌবন থেকেই তাঁর মধ্যে পিছিয়ে পড়া শ্রেণীর উন্নয়নে কাজের একটি প্রবণতা লক্ষ করা যায়। দরিদ্র পরিবারে জন্মগ্রহণের কারণে মোদিজির শৈশবটা খুব সুখের ছিল না। বিশদ

17th  September, 2019
ব্যাঙ্ক-সংযুক্তিকরণ কতটা সাধারণ মানুষ এবং সামগ্রিক ব্যাঙ্কব্যবস্থার উন্নতির স্বার্থে?
সঞ্জয় মুখোপাধ্যায়

অনেকগুলি ব্যাঙ্ক সংযুক্ত করে দেশে সরকারি ব্যাঙ্কের সংখ্যা কমিয়ে আনা হল আর সংযুক্তির পর চারটি এমন বেশ বড় ব্যাঙ্ক তৈরি হল, আকার আয়তনে সেগুলিকে খুব বড় মাপের ব্যাঙ্কের তকমা দেওয়া যাবে। এসব ঘোষণার পর অর্থমন্ত্রীর বক্তব্য, এতে দেশের অর্থনীতির খুব উপকার হবে।  
বিশদ

16th  September, 2019
রাজনীতির উত্তাপ কি পুজোর আমেজ
জমে ওঠার পথে বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে?
শুভা দত্ত

 পরিস্থিতি যা তাতে এমন কথা উঠলে আশ্চর্যের কিছু নেই। উঠতেই পারে, উঠছেও। বাঙালির সবচেয়ে বড় উৎসবের মুখে প্রায় প্রতিদিনই যদি কিছু না কিছু নিয়ে নগরী মহানগরীর রাজপথে ধুন্ধুমার কাণ্ড ঘটে, পুলিস জলকামান, লাঠিসোঁটা, কাঁদানে গ্যাস, ইটবৃষ্টি, মারদাঙ্গা, রক্তারক্তিতে যদি প্রায় যুদ্ধ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয় এবং তাতে সংশ্লিষ্ট এলাকার জনজীবন ব্যবসাপত্তর উৎসবের মরশুমি বাজার কিছু সময়ের জন্য বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে তবে এমন কথা এমন প্রশ্ন ওঠাই তো স্বাভাবিক।
বিশদ

15th  September, 2019
একনজরে
 জম্মু, ২৩ সেপ্টেম্বর (পিটিআই): জম্মু ও কাশ্মীরে বিজেপি ও আরএসএস নেতা খুনে অভিযুক্ত তিন জঙ্গিকে গ্রেপ্তার করল পুলিস। নাসির আহমেদ শেখ, নিশাদ আহমেদ এবং আজাদ ...

 নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: মশার আঁতুড়ঘর হিসেবে সল্টলেকে নয়া আতঙ্ক থানাগুলি। সম্প্রতি বিধাননগর পুরসভার পক্ষ থেকে সল্টলেক পূর্ব থানায় বিশেষ অভিযান চালানো হয়। তাতেই ধরা পড়েছে, থানার বিল্ডিং এবং ক্যাম্পাসের চারপাশে একাধিক জায়গায় জমা জল রয়েছে। ...

সংবাদদাতা, নবদ্বীপ: নবদ্বীপ স্পোর্টস অ্যাসোসিয়েশন পরিচালিত দ্বিতীয় ডিভিশন ফুটবল লিগ বন্ধ হয়ে গেল। স্পোর্টস অ্যাসোসিয়েশনের কর্মকর্তারা বলেন, ক্রীড়াসূচি তৈরি হওয়ার পর তিনটি ক্লাব নাম প্রত্যাহার করে নেওয়ায় বন্ধ হয়ে গিয়েছে দ্বিতীয় ডিভিশন লিগ। তিনটি ক্লাবকে তারজন্য শোকজও করা হয়েছে।  ...

বিজয় বর্মন, কুমারগ্রাম, সংবাদদাতা: কোচবিহার জেলার তুফানগঞ্জ শহরের বুকে পারিবারিক এবং সর্বজনীন মিলে প্রায় পঁচিশটি দুর্গাপুজো আয়োজিত হয়। তবে বিগ বাজেটের দুর্গাপুজো কিন্তু এই শহরে হাতেগোনা। শহরের পুজোর উদ্যোক্তারা ইতিমধ্যেই মণ্ডপ বানানোর কাজ শুরু করে দিয়েছেন।  ...




আজকের দিনটি কিংবদন্তি গৌতম
৯১৬৩৪৯২৬২৫ / ৯৮৩০৭৬৩৮৭৩

ভাগ্য+চেষ্টা= ফল
  • aries
  • taurus
  • gemini
  • cancer
  • leo
  • virgo
  • libra
  • scorpio
  • sagittorius
  • capricorn
  • aquarius
  • pisces
aries

শরীর-স্বাস্থ্যের প্রতি নজর দেওয়া প্রয়োজন। কর্মক্ষেত্রে উন্নতির সম্ভাবনা। গুপ্তশত্রুতার মোকাবিলায় সতর্কতা প্রয়োজন। উচ্চশিক্ষায় বিলম্বিত সাফল্য।প্রতিকার: ... বিশদ


ইতিহাসে আজকের দিন

১৮৪৭: বাংলার প্রথম র‌্যাংলার ও সমাজ সংস্কারক আনন্দমোহন বসুর জন্ম
১৯৩২: চট্টগ্রাম আন্দোলনের নেত্রী প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদারের মৃত্যু
১৯৩৫: অভিনেতা প্রেম চোপড়ার জন্ম
১৯৪৩: অভিনেত্রী তনুজার জন্ম
১৯৫৭: গায়ক কুমার শানুর জন্ম 

23rd  September, 2019
ক্রয়মূল্য বিক্রয়মূল্য
ডলার ৭০.১৪ টাকা ৭১.৮৪ টাকা
পাউন্ড ৮৭.০৪ টাকা ৯০.২৩ টাকা
ইউরো ৭৬.৭৭ টাকা ৭৯.৭৪ টাকা
[ স্টেট ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়া থেকে পাওয়া দর ]
পাকা সোনা (১০ গ্রাম) ৩৮,৩২৫ টাকা
গহনা সোনা (১০ (গ্রাম) ৩৬,৩৬০ টাকা
হলমার্ক গহনা (২২ ক্যারেট ১০ গ্রাম) ৩৬,৯০৫ টাকা
রূপার বাট (প্রতি কেজি) ৪৬,৯৫০ টাকা
রূপা খুচরো (প্রতি কেজি) ৪৭,০৫০ টাকা
[ মূল্যযুক্ত ৩% জি. এস. টি আলাদা ]

দিন পঞ্জিকা

৭ আশ্বিন ১৪২৬, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৯, মঙ্গলবার, দশমী ২৮/৩ অপঃ ৪/৪২। পুনর্বসু ১২/৩৪ দিবা ১০/৩১। সূ উ ৫/২৯/১৭, অ ৫/২৮/৩৯, অমৃতযোগ দিবা ৬/১৬ মধ্যে পুনঃ ৭/৪ গতে ১১/৫ মধ্যে। রাত্রি ৭/৫২ গতে ৮/৪১ মধ্যে পুনঃ ৯/২৯ গতে ১১/৫৩ মধ্যে পুনঃ ১/২৯ গতে ৩/৫ মধ্যে পুনঃ ৪/৪০ গতে উদয়াবধি, বারবেলা ৬/৫৯ গতে ৮/২৯ মধ্যে পুনঃ ১২/৫৮ গতে ২/২৮ মধ্যে, কালরাত্রি ৬/৫৯ গতে ৮/২৮ মধ্যে।
 ৬ আশ্বিন ১৪২৬, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৯, মঙ্গলবার, দশমী ১৫/৩৮/২২ দিবা ১১/৪৪/৩১। পুনর্বসু ৩/২৭/১৪ দিবা ৬/৫২/৪, সূ উ ৫/২৯/১০, অ ৫/৩০/৩০, অমৃতযোগ দিবা ৬/২১ মধ্যে ও ৭/৮ গতে ১১/০ মধ্যে এবং রাত্রি ৭/৪১ গতে ৮/৩০ মধ্যে ও ৯/২০ গতে ১১/৪৮ মধ্যে ও ১/২৭ গতে ৩/৬ মধ্যে ও ৪/৪৫ গতে ৫/২৯ মধ্যে, বারবেলা ৬/৫৯/২০ গতে ৮/২৯/৩০ মধ্যে, কালবেলা ১/০/০ গতে ২/৩০/১০ মধ্যে, কালরাত্রি ৭/০/২০ গতে ৮/৩০/১০ মধ্যে।
২৪ মহরম

ছবি সংবাদ

এই মুহূর্তে
মুম্বইয়ের খার এলাকায় ভেঙে পড়ল বাড়ির একাংশ 

02:20:00 PM

অসমের পানবাড়ি রিজার্ভ ফরেস্ট থেকে প্রচুর আগ্নেয়াস্ত্র, কার্তুজ উদ্ধার করল জওয়ানরা 

02:18:00 PM

ছত্তিশগড়ের কঙ্করে আইইডি বিস্ফোরণ, জখম ৩ 

02:16:00 PM

দিল্লিতে গ্রেপ্তার বেআইনি অস্ত্র ব্যবসায়ী, উদ্ধার ২০টি পিস্তল ও ম্যাগাজিন 

02:15:00 PM

পদত্যাগ করলেন ত্রিপুরার কংগ্রেস রাজ্য সভাপতি কিরিট প্রদ্যোত দেব বর্মন 

02:13:00 PM

উত্তরপ্রদেশের আজমগড়ে নাবালিকাকে ধর্ষণের অভিযোগে গ্রেপ্তার ২ 

02:09:00 PM