Bartaman Patrika
বিশেষ নিবন্ধ
 

ক্ষমতার ‘হিন্দি’ মিডিয়াম
শান্তনু দত্তগুপ্ত

দৃশ্যটা ‘চক দে ইন্ডিয়া’ ছবির। মহিলাদের জাতীয় হকি শিবিরে যোগ দিতে আসছেন খেলোয়াড়রা। স্টেডিয়ামে ঢোকার সময় নাম লেখা চলছে।
—‘নাম?’
—‘নেত্রা রেড্ডি।’
—‘মাদ্রাজি?’
—‘তেলুগু।’
—‘তামিল!’
—‘তামিল না, তেলুগু।’
—‘ওই হল, তামিল আর তেলুগুতে কী আর পার্থক্য?’
—‘যতটা পাঞ্জাবি আর বিহারির মধ্যে।’
উত্তর ভারতের সঙ্গে দক্ষিণের সীমারেখা। আর তার কারিগর আমরাই। আমাদের কাছে সাউথ ইন্ডিয়ান মানে মাদ্রাজি। দক্ষিণ ভারতের লোকজন নারকেল তেল খায়, অদ্ভুত ওদের উচ্চারণ, লুঙ্গি পরে বিয়েবাড়ি যায়... হাজারো আলোচনা। উত্তর ভারত মানে বিষম একটা নাক উঁচু ব্যাপার। আর দক্ষিণ মানেই রসিকতার খোরাক। তাই ওদের একটু ‘মানুষ’ করা দরকার। কীভাবে সেটা সম্ভব? হিন্দি শেখাতে হবে। ছোটবেলা থেকেই। দক্ষিণ ভারতের লোকজন হিন্দি তখনই পড়বে, যখন সেই ভাষা স্কুলে বাধ্যতামূলক হবে। ব্যাস! হাতিয়ার—ন্যাশনাল এডুকেশন পলিসি, ২০১৯। খসড়ায় ঘোষণা হল, তিনটি ভাষা ক্লাস এইট পর্যন্ত পড়তে হবে। সেগুলির মধ্যে হিন্দি ও ইংরেজি আবশ্যিক। তিন নম্বরটি যে কোনও আঞ্চলিক ভাষা। দ্বিতীয় ইনিংসের সূচনা থেকেই খানিক চালিয়ে খেলার ভাবনা হয়তো মোদির ছিল। তাঁর স্লোগানে আবার গত ভোট থেকে একটা মডিফিকেশন এসেছে। এখন আর ‘সব কা সাথ, সব কা বিকাশ নয়’, এই মুহূর্তে ‘সব কা সাথ, সব কা বিশ্বাস’। উন্নয়ন চাই। সংস্কার চাই। এখন প্রশ্ন হল, বলিউডের সৌজন্যে বিশ্বজনীন হয়ে ওঠা হিন্দি ভাষাকে গোটা দেশের উপর চাপিয়ে দেওয়াটা আদৌ কি সংস্কারের আওতায় পড়ে? পড়লে তা কী ধরনের সংস্কার? সামাজিক? নিন্দুকে কিন্তু এর নেপথ্যে পুরোপুরি রাজনৈতিক হাওয়া দেখছে। একজন বাঙালির সঙ্গে বিহারের বাসিন্দার যা তফাৎ, একই পার্থক্য তামিলের সঙ্গে তেলুগুর বা কন্নড়ের। অন্ধ্রপ্রদেশ, তেলেঙ্গানা, তামিলনাড়ু, কর্ণাটক, কেরল... সব তো আলাদা রাজ্য। আমরা ঐক্যের কথা বলি, কিন্তু বৈচিত্র্যকে বা জাত্যাভিমানকে সম্মান করি না। ২০০১ সালের সেনসাস অনুযায়ী, আমাদের দেশে ১৬৩৫টি মাতৃভাষা রয়েছে। ১২২টি এমন ভাষা আছে, যা লিপিবদ্ধ করা হয়। এমন এক দেশে একটি মাত্র ভাষাকে অধিক গুরুত্ব দিতে গেলে সেই প্রচেষ্টা ভাবাবেগে আঘাত করতে বাধ্য। মোদি সরকারের অতীত এবং বর্তমান, দুই পাল্লায় ন্যাশনাল এডুকেশন পলিসির খসড়াটিকে বসালে একটা বিষয় অবশ্যই স্পষ্ট হয়ে যেত... উত্তর ভারতের হিন্দিভাষী রাজ্যগুলি ছাড়া অনেকেই কিন্তু এই ‘চাপিয়ে দেওয়া’ নীতি মানবে না। আর হয়েছেও তাই। শুধু একটা খসড়া, আর তাতেই বিস্ফোরণ ঘটেছে দক্ষিণ থেকে পূর্ব ভারতে। নেতৃত্ব দিয়েছে অবশ্যই দক্ষিণ। হিন্দিকে সরকারি ভাষার স্বীকৃতি দেওয়ার ক্ষেত্রে ইতিহাস কিন্তু কখনও সরকারের সঙ্গ দেয়নি।
* * *
মাদ্রাজ প্রেসিডেন্সি। ১৯৩৭ সাল। নির্বাচনে জিতে এসেছে কংগ্রেস। সদ্য মুখ্যমন্ত্রী হয়েছেন রাজা গোপালাচারী। শাসনের এলাকা নেহাত কম নয়... গোটা তামিলনাড়ু, অন্ধ্রপ্রদেশ এবং ওড়িশা, কর্ণাটক, কেরলের অংশবিশেষ। পাশাপাশি রয়েছে লাক্ষাদ্বীপও। ওই বছর ৬ মে ‘সুদেশমিত্রণ’ পত্রিকায় একটি নিবন্ধ লিখলেন রাজা গোপালাচারী। বিষয়, হিন্দি ভাষা। লিখলেন, সরকারি চাকরি সীমিত। সবার পক্ষে পাওয়া সম্ভব নয়। সুতরাং অন্য চাকরির জন্য আমাদের চেষ্টা করতেই হবে। চাকরি হোক বা ব্যবসা, হিন্দি জানাটা অত্যন্ত জরুরি। দক্ষিণ ভারতীয়রা হিন্দি শিখলে দেশের অন্যত্র সম্মান পাবেন।’ ক্ষমতায় আসার এক মাসের মধ্যে মাদ্রাজ প্রেসিডেন্সির সর্বত্র স্কুলগুলিতে হিন্দি পড়ানো বাধ্যতামূলক করার উদ্যোগ নিলেন রাজাজি। আগুনে ঘৃতাহুতির সেই সূচনা। সঙ্গে সঙ্গে প্রতিবাদে নেমে পড়েছিলেন পেরিয়ার। প্রকৃত নাম ই ভি রামস্বামী। সমাজ সংস্কারক তথা রাজনীতিবিদ। ততদিনে তিনি কংগ্রেস ছেড়ে বেরিয়ে এসেছেন। অভিযোগ গুরুতর... কংগ্রেস শুধুই উচ্চবর্ণের ব্রাহ্মণদের তাঁবেদারি করে। পেরিয়ার ছিলেন যার ঘোর বিরোধী। কেরলের ভাইকমে সত্যাগ্রহও করেছেন। স্বাভিমান আন্দোলনের জনক এবং জাতপাতের তীব্র বিরোধী পেরিয়ার যখন সরাসরি গোপালাচারীর সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে সরব হতেই কংগ্রেস বুঝে গিয়েছিল, পথ কঠিন হতে চলেছে। তার সঙ্গে আবার দাঁড়িয়ে গিয়েছে জাস্টিস পার্টি। যাদের পরে নির্বাচনী রাজনীতি থেকে সরিয়ে পেরিয়ার রূপ দেন এক সামাজিক সংগঠনের—দ্রাবিড়ার কাজাঘাম। ভবিষ্যতে এই জাস্টিস পার্টি এবং দ্রাবিড়ার কাজাঘামের আদর্শ থেকেই জন্ম হয় ডিএমকে এবং এআইএডিএমকের। সরকারিভাবে আন্দোলনের সূত্রপাত হয় ১৯৩৭ সালের ৪ অক্টোবর। তা সত্ত্বেও অবস্থানে অনড় থেকে পরের বছর ২১ এপ্রিল সরকারি নির্দেশিকা জারি করে দিলেন রাজাজি। প্রেসিডেন্সির ১২৫টি স্কুলে বাধ্যতামূলক হল হিন্দি পঠন-পাঠন। তামিল অবমাননা এবং হিন্দি ভাষার অবাঞ্ছিত ওকালতির প্রতিবাদে উত্তাল হয়ে উঠল গোটা দক্ষিণ ভারত। বিক্ষোভ, অনশন, কালো পতাকায় হিন্দি বিরোধিতা চরম পর্যায়ে পৌঁছয়। তিন বছর চলে প্রতিবাদ। দু’জনের মৃত্যু এবং পেরিয়ার সহ ১২০০ মানুষকে কারাবন্দি করার পর হিন্দির নির্দেশিকা বাতিলে বাধ্য হয় সরকার। এরপর ’৬৫ সালে সংবিধানের ১৫ বছর পূর্তির পর হিন্দিকে সরকারি ভাষার স্বীকৃতি দেওয়া নিয়ে ফের উত্তাল হয় দক্ষিণ ভারত। মাদুরাইতে রীতিমতো দাঙ্গাও হয়ে যায় এই ইস্যুতে। শেষে প্রধানমন্ত্রী লালবাহাদুর শাস্ত্রী ঘোষণা করেন, ইংরেজিই ভারতের সরকারি কাজে ব্যবহৃত হবে। তারপর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।
* * *
রাজাজির না হয় একটা স্পষ্ট বার্তা ছিল, হিন্দি শিখলে চাকরি পেতে সুবিধা হবে। কিন্তু এখন তো আর সে সমস্যা নেই! হিন্দি না শিখলেও ভারতের বহু প্রান্তে অনায়াসে চাকরি-বাকরি জুটে যায়। তাহলে ক্ষমতায় ফেরা মাত্র এমন একটা মিসঅ্যাডভেঞ্চারের মানে কী? প্রাথমিকভাবে জানানো হল, ক্লাস এইট পর্যন্ত তিনটি ভাষা শিখতেই হবে। হিন্দি, ইংরেজি এবং অন্য যে কোনও একটি স্থানীয় ভাষা। ১৯৬৫ সালে সাংবিধানিকভাবে হিন্দিকে সরকারি ভাষার স্বীকৃতি দেওয়ার চেষ্টা যে ধাক্কা খেয়েছিল, তা তো আর বিজেপির নেতৃত্বাধীন সরকারের অজানা নয়! তখন তো তাও আবার কেন্দ্রে ছিল মহাপরাক্রমী কংগ্রেস। পরপর দু’দফায় একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে জিতে আসা নরেন্দ্র মোদি নিজেকে সর্বকালের অন্যতম সেরা অকংগ্রেসি নেতা হিসেবে প্রমাণ করেছেন ঠিকই, তাতে কিন্তু ভারতের ‘বৈচিত্র্যে’র বাস্তবটা বদলে যায়নি। পরিস্থিতি এমন একটা দিকে গড়াল যে, নরেন্দ্র মোদিকে তাঁর দুই হাইপ্রোফাইল মন্ত্রী অর্থাৎ নির্মলা সীতারামন এবং জয়শঙ্করকে দিয়ে বিবৃতি দেওয়াতে হল (দু’জনেই দক্ষিণী)। এক সুরে তাঁরা লিখলেন, সবকিছু যাচাই না করা পর্যন্ত এই খসড়া নীতি চূড়ান্ত করা হবে না। যেখানে একটু বাস্তববাদী হলে এমন একটা পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার সম্ভাবনাই ছিল না। বাস্তববাদী অবশ্য আমরা সেই অর্থে কেউই নই। খসড়া দেখে সংশ্লিষ্ট কমিটির জন্যও তেমন কিছু বিশেষণ ব্যবহার করা যায় না। ইসরোর নামজাদা বিজ্ঞানী এবং শিক্ষানীতি নির্ধারক ওই প্যানেলের চেয়ারম্যান কৃষ্ণস্বামী কস্তুরীরঙ্গন তার উপর দাবি করেছেন, হিন্দি পড়া বাধ্যতামূলক করার জন্য যে সুপারিশ, সে ব্যাপারে কোনও চাপ কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে দেওয়া হয়নি। এমনকী তাঁর কমিটির বানানো খসড়া নীতি নিয়ে দিকে দিকে এমন হইচই শুরু হয়েছে, সেটাও নাকি কেউ ফোন করে তাঁকে জানায়নি। খবর দেখে তিনি জানতে পারেন, বিষয়টাকে অনেকেই ভালোভাবে নিচ্ছে না। তাই তড়িঘড়ি বৈঠক করে একটা বিকল্প ভার্সান দেওয়া হয়েছে। তাতে হিন্দি শব্দটিকে তুলে দিয়ে শুধু ভাষার উল্লেখ রয়েছে। অর্থাৎ, অষ্টম শ্রেণী পর্যন্ত হিন্দি শিখতেই হবে, এমনটা আর নেই।
নরেন্দ্র মোদি গত পাঁচ বছরে একবারও কিন্তু হিন্দুধর্ম বা আরএসএস-বিজেপির হিন্দুত্ববাদী এজেন্ডা নিয়ে মুখ খোলেননি! কারণটা স্পষ্ট। প্রশাসনিক প্রধান হিসেবে তিনি বিলক্ষণ জানেন, হিন্দুত্ব তাঁকে সরকারে টিকিয়ে রাখবে না। এটা তাঁর দলের আদর্শ হতে পারে, কিন্তু সরকার চালানোর ক্ষেত্রে এর কোনও বাড়তি ডিভিডেন্ড নেই। বরং অর্থনৈতিক এবং সংস্কারী পদক্ষেপ তাঁকে নতুন প্রজন্মের কাছে অনেক বেশি গ্রহণযোগ্য করে তুলবে। তাহলে নতুন সরকার গঠন হতে না হতেই ‘হিন্দিস্তান’ জিগির উঠল কেন? তাহলে কি আরএসএস এবং বিজেপির একাংশ অতিরিক্ত প্রভাবশালী হয়ে উঠেছে? মোদির প্রথম জমানাতেও লাভ জিহাদ, গো রক্ষার নামে হিংসা, ঘর ওয়াপসি হয়েছে। সে সব নিয়ে তীব্র সমালোচনার মুখেও পড়তে হয়েছে প্রধানমন্ত্রীকে। তা সত্ত্বেও তিনি শুধু প্রশাসনিক আঙ্গিকেই বিষয়গুলিকে সামাল দিয়েছেন। দলীয় নেতা হিসেবে নয়। এটাই মোদির সাফল্য ছিল। দ্বিতীয় ইনিংসে কিন্তু বিজেপি বদলে গিয়েছে মোদি জনতা পার্টিতে। অর্থাৎ, হাওয়ায় পাতা নড়লেও তার দায় মোদিকে নিতে হবে। কেউ দেখবে না, বিজেপির কোনও অংশ বা তাদের চালিকাশক্তি আরএসএস তাঁর কোনও সিদ্ধান্তের নেপথ্যে রয়েছে কি না। কাজেই হিন্দি ভাষা চাপিয়ে দেওয়ার মতো মিসঅ্যাডভেঞ্চার আর না হলেই ভালো। হিন্দির যদি শ’দুয়েক বছরের ইতিহাস থাকে, তামিলের অতীত কিন্তু চার হাজার বছরের। তার গুরুত্ব খাটো করা যায় না। প্রধানমন্ত্রীকে আরও একটা বিষয়ে নজর দিতে হবে। তাঁর সৈনিক এবং সেনাপতিদের বক্তব্যে। রাজ্যপাল হওয়া সত্ত্বেও তথাগত রায় বলেছেন, বাঙালি মেয়েরা যদি মুম্বইতে গিয়ে ডান্স বারে নাচতে পারে, তাহলে হিন্দি শিখতে সমস্যা কোথায়? হিন্দি ভাষা কিন্তু হিন্দুত্বের প্রতীক নয়। সনাতন ধর্মের ধারক-বাহক নয়। যুগের পর যুগ ধরে ভারতের নানা প্রান্তে সনাতন ধর্ম এক এক রূপে মানুষের আত্মায় জায়গা করে রয়েছে। তার কোনও নির্দিষ্ট প্যাটার্ন নেই। ‘চক দে ইন্ডিয়া’ ছবিতেই একটা দৃশ্য ছিল, যেখানে সব হকি খেলোয়াড় নিজেদের পরিচয় দিচ্ছিলেন। বাকিরা সবাই নিজেদের রাজ্যের নাম বললেও শুধুমাত্র একজন এগিয়ে এসে বলেছিলেন, তিনি ভারতীয়। এটাই শেষ কথা। কোনও ধর্ম বা রাজ্য বা ভাষার নয়, সরকার ভারতের। আপামর ভারতবাসী নরেন্দ্র মোদিকে মাথায় তুলে ফের দিল্লির মসনদে বসিয়েছে। কোনও ভাষার জন্য নয়। ধর্মের জন্য নয়। তাঁরও পরিচয় একটাই হওয়া উচিত... ভারতবাসী।
13th  June, 2019
নিস্তেজ অর্থনীতির সত্যটা সরকার ভুলে যাচ্ছে 
পি চিদম্বরম

রাষ্ট্রপতি ভবন হল সরকারের ক্ষমতার আসনের প্রতীক। এক কিলো মিটার ব্যাসার্ধের মধ্যে সংসদ ভবন, প্রধানমন্ত্রীর অফিস (পিএমও), নর্থ ব্লক ও সাউথ ব্লক—মানে স্বরাষ্ট্র, অর্থ, প্রতিরক্ষা ও বিদেশ-এর মতো উচ্চ মন্ত্রকগুলি রয়েছে।   বিশদ

সভাপতি পদে সোনিয়াজির প্রত্যাবর্তনে কংগ্রেস কি ছন্দ ফিরে পাবে
শুভা দত্ত

ছন্দ তো হারিয়েছে বহুদিন। ছন্দে ফেরার চেষ্টা—সেও শুরু হয়েছে বহুদিন। কিন্তু কিছুতেই যেন সেই পুরনো দমদার ছন্দে ফিরতে পারছে না জাতীয় কংগ্রেস! নেহরু-ইন্দিরার আমল থেকে গান্ধী পরিবারের ছত্রচ্ছায়ায় এবং নেতৃত্বে দলের যে অপ্রতিরোধ্য ছন্দ গোটা দেশকে কংগ্রেসি তেরঙ্গায় বেঁধে রেখেছিল, যে ছন্দ কংগ্রেস প্রতীক ইন্দিরার পাঞ্জার উপর বছরের পর বছর দেশের মানুষের আস্থা বিশ্বাস ও আবেগ ধরে রেখেছিল, জরুরি অবস্থা, নাসবন্দির মতো কাণ্ডের পরও যে ছন্দ ক্ষমতার কেন্দ্রে ফিরিয়ে এনেছিল কংগ্রেসকে, ইন্দিরা এবং ইন্ডিয়া হয়ে উঠেছিলেন সমার্থক—জাতীয় কংগ্রেসের সেই অমিত শক্তি রাজনৈতিক ছন্দ অনেক কাল আগেই ইতিহাসের পাতায় ঠাঁই নিয়েছে।
বিশদ

18th  August, 2019
ওয়াল স্ট্রিটের ‘নেকড়ে’-র গল্প!
মৃণালকান্তি দাস

ওয়াশিংটনের অপরিচিত কোনও এক পথে হাঁটতে হাঁটতে গল্পটা শুনিয়েছিলেন এমিলি ব্রাউন। গল্প বলতে, এক অপরাধীর ঘুরে দাঁড়ানোর কাহিনী। জর্ডন বেলফোর্টের গল্প। যিনি জীবনে অপরাধের নেশায় পড়ে সবকিছু হারিয়েছিলেন। কে এই জর্ডন বেলফোর্ট, জানেন? যাঁর জীবন কাহিনী শুনলে মনে হবে, এ এই মার্কিন মুলুকেই সম্ভব! বিশদ

17th  August, 2019
স্বাধীনতা ৭৩ এবং ভূস্বর্গের মুক্তি
মেরুনীল দাশগুপ্ত

গরিবি যতদিন না যাবে ততদিন এই উপত্যকায় শান্তি আসবে না। কারণ, কাশ্মীরি মানুষের গরিবিই ওদের একটা বড় হাতিয়ার। গরিব মানুষজনের অনেকেই ক’টা টাকার লোভে পড়ে সীমান্তর ওপার থেকে আসা লোকজনকে আশ্রয় দিয়ে, লুকিয়ে রেখে, খাবারদাবারের ব্যবস্থা করে ভ্যালির বিপদ বাড়িয়ে তুলছে।
বিশদ

15th  August, 2019
বনে থাকে বাঘ 
অতনু বিশ্বাস

ছেলেবেলায় ‘সহজ পাঠ’-এ পড়েছিলাম ‘বনে থাকে বাঘ’। যদিও এই পাঠটা যে খুব সহজ আর স্বাভাবিক নাও হতে পারে, অর্থাৎ বনে বাঘ নাও থাকতে পারে, সেটা বুঝতে বেশ বড় হতে হল। ছোটবেলায় অবশ্য মনে বদ্ধমূল ধারণা ছিল, বন-জঙ্গল গিজগিজ করে বাঘে। 
বিশদ

13th  August, 2019
রক্ষক আইন যেন ভক্ষক না হয়
শান্তনু দত্তগুপ্ত 

ভিক্টরি ম্যানসনে ঢুকলেন উইনস্টন স্মিথ। বহুতলে ঢুকেই নজরে আসবে দো’তলা সমান আখাম্বা ছবিটা। শুধু একটা মুখ। নীচে ক্যাপশন করা, বিগ ব্রাদার কিন্তু তোমাকে দেখছে। জর্জ অরওয়েলের কালজয়ী উপন্যাস ১৯৮৪-এর শুরুতেই উল্লেখ এই ছবির। আর এই নভেলের সারমর্মও লুকিয়ে এই ছবিতে—বিগ ব্রাদার দেখছে, তাই সাবধান। সাবধান হও সবাই... সরকারি কর্মচারী, ব্যবসায়ী, সাফাইকর্মী, বেসরকারি চাকুরে... মোদ্দা কথা নারী-পুরুষ নির্বিশেষে। সবসময় নজরদারি।  
বিশদ

13th  August, 2019
পুতিন কি পারবেন নতুন বিশ্বের নেতৃত্ব দিতে?
গৌরীশঙ্কর নাগ

 ১৯১৭ খ্রিস্টব্দে বা তার কিছু আগে থেকে লেনিন, ট্রটস্কি প্রমুখ নিবেদিত প্রাণ কমরেডের হাত ধরে সোভিয়েত সমাজতন্ত্র নামক যে মহীরুহটি ধীরে ধীরে গড়ে উঠেছিল তা গর্বাচেভ ক্ষমতাসীন হওয়ার পর কীভাবে তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়েছে—বিস্ময়ের সঙ্গে আমরা সেটা দেখেছি।
বিশদ

12th  August, 2019
স্টেট নয়, শুধুই রিয়াল এস্টেট
পি চিদম্বরম

 জম্মু ও কাশ্মীর নিয়ে প্রায়ই লিখি কিন্তু আজকেরটা অন্যরকম। জম্মু ও কাশ্মীর আর আগের জম্মু ও কাশ্মীর নেই। এটা আর রাজ্য নয়। এটাকে বিভক্ত করা হয়েছে। এখন দুটি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল—লাদাখ এবং জম্মু ও কাশ্মীর। ভারতের সংবিধানে কোনও রাজ্যকে কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের স্তরে নামিয়ে আনার ঘটনা এর আগে ঘটেনি।
বিশদ

12th  August, 2019
রাহুল সরে দাঁড়াতেই কংগ্রেস এমন নেতৃত্বহীনতায় ভুগছে কেন?
শুভা দত্ত

 প্রশ্নটা আজ দেশের সর্বস্তরে। পথে-ঘাটে অফিসে আড্ডায় যেখানেই চলতি রাজনীতি নিয়ে তর্ক-বিতর্কের উদয় হচ্ছে সেখানেই প্রশ্নটা যেন অনিবার্যভাবে এসে পড়ছে! কংগ্রেসের হলটা কী! রাহুল গান্ধী না বলে দিতেই আর সভাপতি খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না কংগ্রেসে! গান্ধী ফ্যামিলি ছাড়া কংগ্রেস সভাপতি খুঁজে পাচ্ছে না— এ তো বড় অদ্ভুত ব্যাপার! কংগ্রেসের জন্মের পর থেকে গান্ধী ফ্যামিলির বাইরের দেশ রাজনীতির কত দিকপালই তো জাতীয় কংগ্রেসের সভাপতির আসন অলঙ্কৃত করেছেন—উমেশচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়, দাদাভাই নৌরজি, সুরেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়, সুভাষচন্দ্র, অ্যানি বেসান্ত, চিত্তরঞ্জন, সরোজিনী নাইডু, বল্লভভাই প্যাটেল, কামরাজ, জগজীবন রাম—কত নাম বলব। নিশ্চয়ই এই তালিকায় নেহরু থেকে ইন্দিরা, রাজীব, সোনিয়া হয়ে রাহুল—গান্ধী পরিবারের সদস্যরাও ছিলেন।
বিশদ

11th  August, 2019
শুধু উন্নয়ন নয়, ভোটের জন্য চাই ভালো মাস্টার
তন্ময় মল্লিক

মোটা বেতন দিয়ে মাস্টার রাখলেই ছেলেমেয়ে মানুষ হয় না। তেমনটা হলে সব বড়লোকের ছেলেমেয়েই উচ্চশিক্ষিত হতো। কিন্তু, তা তো হয় না। ছাত্রছাত্রীর পড়াশোনায় আগ্রহ, মেধা যেমন থাকা দরকার, তেমনই নজরদারিটাও জরুরি। ফাঁকিবাজি থাকলেই ছাত্র হয় গাড্ডু খাবে, অথবা ‘বিবেচনায়’ পাশ।
বিশদ

10th  August, 2019
পঞ্চায়েত নির্বাচন, ৩৭০ কিংবা ৩৫এ
শুভময় মৈত্র

পশ্চিমবঙ্গ ২০১৮, আর ত্রিপুরা ২০১৯। পঞ্চায়েত ভোটে ফলাফল একইরকম। ঠিক কত আসন সেটা গোনার দরকার নেই। সহজ অঙ্কে বিষয়টা এরকম। ধরা যাক, মোট আসন ১০০, শাসক দল বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়ী ৭০টি আসনে। বাকি তিরিশের মধ্যে তীব্র লড়াইয়ের শেষে শাসক দল ২০, বিরোধীরা দশ। পাটিগণিতের অঙ্ক একেবারে মিলে গেল।
বিশদ

10th  August, 2019
কাশ্মীর: নতুন চ্যালেঞ্জ
সমৃদ্ধ দত্ত

 প্রকৃত চ্যালেঞ্জ সরকারের। কাশ্মীরকে আন্তরিকভাবে ভারতের অন্তঃস্থলে মিশিয়ে দেওয়ার কাজটিই কিন্তু হবে কাশ্মীরের নয়া ইতিহাস রচনা। সেটা নিছক একটা ভূমিখণ্ড দখল নয়। কাশ্মীরিয়াৎকে আপন করে নেওয়া। একমাত্র তাহলেই পাকিস্তান সবথেকে বেশি ধাক্কা খাবে! আর কাশ্মীরিদের আমরা যদি শত্রু বিবেচনা করে চলি, তাহলে কিন্তু টেনিসের পরিভাষায় অ্যাডভান্টেজ পাকিস্তান হয়ে যাবে! সে সুযোগ দেব কেন?
বিশদ

09th  August, 2019
একনজরে
 নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ইস্ট বেঙ্গলে স্ট্রাইকার সমস্যা মেটাতে রবিবার বিকেলে কলকাতায় এলেন নতুন স্প্যানিশ স্ট্রাইকার মার্কোস। অর্থ বাঁচাতে এই ফুটবলারটির সঙ্গে ১৫ আগস্ট থেকে চুক্তি ...

 নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: বিকেন্দ্রীকৃত কাউন্সেলিংয়ের দ্বিতীয় দিনেই ভরে গেল যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের সব আসন। যদিও আর্কিটেকচার এবং ফার্মাসিতে হাতে গোনা কয়েকটি আসনই খালি রয়ে গিয়েছে। অনলাইন কাউন্সেলিংয়ের পর মোট ২৬১টি আসন ফাঁকা ছিল। ...

সংবাদদাতা, কাঁথি: রবিবার দীঘার সমুদ্রে স্নান করতে নেমে তলিয়ে যাওয়া এক পর্যটক যুবককে উদ্ধার করেছেন নুলিয়ারা। ওই যুবক বর্তমানে দীঘা স্টেট হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। এদিন নিউ দীঘার ক্ষণিকা ঘাটে ঘটনাটি ঘটে।   ...

 লে, ১৮ আগস্ট (পিটিআই): ৩৭০ ধারা খারিজ নিয়ে সংসদে তাঁর ভাষণ নজর কেড়েছিল। এমনকী সোনিয়া গান্ধীকে পর্যন্ত মন দিয়ে শুনতে দেখা গিয়েছিল প্রথমবারের এই বিজেপি সাংসদের ভাষণ। তিনি লাদাখ থেকে নির্বাচিত এমপি জামিয়াং সেরিং নামগিয়াল। ...




আজকের দিনটি কিংবদন্তি গৌতম
৯১৬৩৪৯২৬২৫ / ৯৮৩০৭৬৩৮৭৩

ভাগ্য+চেষ্টা= ফল
  • aries
  • taurus
  • gemini
  • cancer
  • leo
  • virgo
  • libra
  • scorpio
  • sagittorius
  • capricorn
  • aquarius
  • pisces
aries

শরীর নিয়ে চিন্তায় থাকতে হবে। মাথা ও কোমরে সমস্যা হতে পারে। উপার্জন ভাগ্য শুভ নয়। ... বিশদ


ইতিহাসে আজকের দিন

বিশ্ব মনুষ্যত্ব দিবস
১৯৪০: পরিচালক গোবিন্দ নিহালনির জন্ম
১৯৯৩: অভিনেতা উৎপল দত্তের মৃত্যু

ক্রয়মূল্য বিক্রয়মূল্য
ডলার ৭০.৫৯ টাকা ৭২.২৯ টাকা
পাউন্ড ৮৪.৮১ টাকা ৮৭.৯৪ টাকা
ইউরো ৭৭.৮৩ টাকা ৮০.৭৮ টাকা
[ স্টেট ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়া থেকে পাওয়া দর ]
17th  August, 2019
পাকা সোনা (১০ গ্রাম) ৩৮,২৪৫ টাকা
গহনা সোনা (১০ (গ্রাম) ৩৬,২৮৫ টাকা
হলমার্ক গহনা (২২ ক্যারেট ১০ গ্রাম) ৩৬,৮৩০ টাকা
রূপার বাট (প্রতি কেজি) ৪৩,৯০০ টাকা
রূপা খুচরো (প্রতি কেজি) ৪৪,০০০ টাকা
[ মূল্যযুক্ত ৩% জি. এস. টি আলাদা ]
18th  August, 2019

দিন পঞ্জিকা

২ ভাদ্র ১৪২৬, ১৯ আগস্ট ২০১৯, সোমবার, চতুর্থী ৫৫/৩০ রাত্রি ৩/৩০। উত্তরভাদ্রপদ ৩৬/১৫ রাত্রি ৭/৪৮। সূ উ ৫/১৮/২২, অ ৬/২/২৪, অমৃতযোগ দিবা ৬/৫৯ মধ্যে পুনঃ ১০/২৪ গতে ১২/৫৭ মধ্যে। রাত্রি ৬/৪৮ গতে ৯/২ মধ্যে পুনঃ ১১/১৭ গতে ২/১৮ মধ্যে, বারবেলা ৬/৫৪ গতে ৮/২৯ মধ্যে পুনঃ ২/৫১ গতে ৪/৪৬ মধ্যে, কালরাত্রি ১০/১৫ গতে ১১/৪০ মধ্যে। 
১ ভাদ্র ১৪২৬, ১৯ আগস্ট ২০১৯, সোমবার, চতুর্থী ৪৭/৩৯/৪৭ রাত্রি ১২/২১/২৫। উত্তরভাদ্রপদনক্ষত্র ৩২/১৮/৫৫ সন্ধ্যা ৬/১৩/৪, সূ উ ৫/১৭/৩০, অ ৬/৫/১৪, অমৃতযোগ দিবা ৭/২ মধ্যে ও ১০/২১ গতে ১২/৫০ মধ্যে এবং রাত্রি ৬/৩৫ গতে ৮/৫৪ মধ্যে ও ১১/১২ গতে ২/১৭ মধ্যে, বারবেলা ২/৫৩/১৮ গতে ৪/২৯/১৬ মধ্যে, কালবেলা ৬/৫৩/২৮ গতে ৮/২৯/২৬ মধ্যে, কালরাত্রি ১০/১৭/২০ গতে ১১/৪১/২২ মধ্যে। 
১৭ জেলহজ্জ 

ছবি সংবাদ

এই মুহূর্তে
২ দিনের সফরে দীঘায় পৌঁছলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় 

03:55:11 PM

নেতাজি মৃত্যু নিয়ে ট্যুইট প্রত্যাহার পিআইবির 

03:27:00 PM

নিউ মার্কেট এলাকায় বাড়ির একাংশ ভেঙে জখম ১ 

03:09:00 PM

রাজ্য নেতাদের বিরুদ্ধে মুখ খোলায় মালদহের প্রাক্তন জেলা সভাপতি সঞ্জিৎ মিশ্রকে বহিষ্কার করল বিজেপি 

02:02:28 PM

কোহলিদের খুনের হুমকি দিয়ে পাক বোর্ডে উড়ো মেল 
ভারতীয় ক্রিকেট দলের উপর হামলা হতে পারে এই মর্মে পাকিস্তান ...বিশদ

01:44:02 PM

বেলুড় স্টেশনে তরুণীকে ধারালো অস্ত্রের কোপ 
সাত সকালে বেলুড় স্টেশনে এক তরুণীকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত ...বিশদ

01:09:06 PM