Bartaman Patrika
বিশেষ নিবন্ধ
 

সতর্কতার সময়
সমৃদ্ধ দত্ত

বাদশাহ জালালউদ্দিন আকবর, মিয়াঁ তানসেনের গানে মুগ্ধ হয়ে তাঁকে বললেন, আপনার মতো কলাকার হাজার বছরে একটিই জন্মায়, এরকম গান ভূভারতে আর কেউ গাইতেই পারে না বলে আমার বিশ্বাস। তানসেন সেটা শুনে বললেন, আলমপনা, আমার গুরুর স্বামী হরিদাস জীবিত থাকতে এমন কথা বলবেন না। তাঁর গানের পাশে আমার গান তো তুচ্ছ। আকবর বললেন, বটে! তাহলে তো তাঁর গান শুনতে হচ্ছে। অবিলম্বে তাঁকে জানাও আমি তাঁর গান শুনতে অতীব উৎসূক। দরবারে কবে তাঁর গান হবে একটা ইন্তেজাম করা হোক। তানসেন বললেন, জাঁহাপনা আপনি তো দীন দুনিয়ার মালিক। কিন্তু আপনার যিনি মালিক তাঁকে নিবেদন করেই আমার গুরু গান করেন। তিনি তো দরবারে আসবেন না। গান তো দূরের কথা। তাঁর গান শুনতে হলে তাঁর পর্ণকুটিরেই যেতে হবে। আকবর সেটা শুনে দ্বিরুক্তি না করে গিয়েছিলেন স্বামী হরিদাসের গান কুটিরের বাইরে দাঁড়িয়ে শুনতে। এরকম একটি মোগল পেন্টিংও আছে। যেখানে দেখা যাচ্ছে আকবর আর তানসেন জোড়হস্তে দাঁড়িয়ে রয়েছেন, আর স্বামী হরিদাস গান করছেন। আকবর নির্দেশ দিয়েছিলেন ওই গানের কথাগুলো বিভিন্ন ভাষায় অনুবাদ করে অন্য ভাষাতেও যেন শোনানোর ব্যবস্থা হয়। এই সংস্কৃতির আদানপ্রদানের সবথেকে বড় যে উদাহরণ পাওয়া যায় সেটি সঙ্গীতের দুনিয়ায়। প্রবাদপ্রতীম উচ্চাঙ্গসঙ্গীত শিল্পী ভাস্কর বুয়া কট্টর ব্রাহ্মণ সন্তান হয়েও উস্তাদের জন্য নিজে বাজার করে মাংস রান্না করে খাওয়াতেন। আবার খ্যাতনামা সঙ্গীতরচয়িতা কাবুলি পাঠান স্বপ্নে কৃষ্ণদর্শন পেয়েছিলেন। তারপর আফগানিস্তান থেকে মথুরায় এসে ‘রসখান’ নাম নিয়ে বহু ভজন রচনা করলেন।
ভারতের এক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অক্সফোর্ডে বেড়াতে গিয়ে একবার নীরদ সি চৌধুরীর সঙ্গে দেখা করে হিন্দুত্ব নিয়ে আলোচনা করতে আগ্রহী হয়েছিলেন। নীরদ সি জানতে চেয়েছিলেন, মহাশয়ের কি সংস্কৃত ভাষা জানা আছে? সংস্কৃতে হিন্দুশাস্ত্রগুলো পাঠের অভ্যাস নিশ্চয়ই আছে? নেই শুনে, নীরদ সি বলেছিলেন, তাহলে অন্য আলোচনা হোক। অর্থাৎ যে ব্যক্তি সংস্কৃতই জানেন না, তাঁর সঙ্গে হিন্দুত্ব নিয়ে নীরদ সি কথা বলতে মোটেই উৎসাহী নন। অথচ নীরদ সি চৌধুরীকে সকলেই জানেন ইংরেজিপ্রিয় এক ভারতীয় ব্রিটিশ হিসেবেই। আদতে তিনি ছিলেন সংস্কৃতেও পারঙ্গম। ঠিক যেমন ছিলেন রামমোহন রায়, যেমন ছিলেন বিদ্যাসাগর। তাঁরা ইংরেজি ও সংস্কৃত দুটিতেই পটু ছিলেন।
অর্থাৎ ভারতীয় সংস্কৃতির সনাতন ধারাটি হল দিবে আর নিবে, মিলিবে মেলাবে। কিন্তু সেই সংস্কৃতি থেকে আমাদের সরিয়ে এনেছে অসহিষ্ণুতা আর স্বল্পবিদ্যা। আর সবথেকে বেশি জায়গা করে নিয়েছে বিদ্বেষ। রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের প্রতি বিদ্বেষ। আর ধর্মীয় সম্প্রদায়গত বিদ্বেষ। এই দুটি ক্রমবর্ধমান। কারণ অত্যন্ত স্পষ্ট। দ্রুতহারে শিক্ষা, সংস্কৃতির চর্চা ও অনুশীলন কমে যাচ্ছে। তাহলে সামাজিক জীবনের দৈনন্দিন কী নিয়ে আবর্তিত হবে? সেই জায়গাটা নিয়েছে রাজনীতি আর ধর্মীয় বিদ্বেষ। তাই নিরন্তর আলোচনা, চর্চা আর মোবাইলে আলাপচারিতায় সবথেকে বেশি জায়গা করে নেয় এই দুটি বিষয়। অন্য বিষয় নিয়ে অনেকক্ষণ ধরে সময় অতিবাহিত করা কিংবা আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার সমস্যা হল অন্য বিষয়ে চর্চাই নেই। বই পড়া, গান শোনা, আন্তর্জাতিক ইস্যু, বিশ্ব রাজনীতি কিছুরই চর্চা নেই। তাই আজকাল দেখা হলে কিংবা কোনও হাই হ্যালো শুরু হওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই তৃতীয় বা চতুর্থ বাক্য হিসেবে উঠে আসে রাজনীতি এবং তারপর তার হাত ধরেই সাম্প্রদায়িক বিদ্বেষ।
ধর্মীয়, সাংস্কৃতিক ও সামাজিক ঐতিহ্য থেকে যে সমাজ দূরে সরে যায়, তার অবক্ষয় ত্বরান্বিত হয়। মূল্যবোধ প্রায় থাকেই না। সেক্ষেত্রে দেখা যায় অপসংস্কৃতিই মূলস্রোতের সংস্কৃতিতে পরিণত হচ্ছে। এবং স্বল্পজ্ঞান অথবা অল্পবিদ্যা সত্যিকারের ভয়ঙ্করীতে পর্যবসিত হয়। তাই আগে যেসব আচরণের জন্য সমাজ লজ্জাবোধ করত, এখন সেই আচরণকেই বুক বাজিয়ে সিংহভাগ শ্রেণী জাস্টিফাই করে। লক্ষ্য করলে দেখা যাবে আজকাল প্রকাশ্যে পাবলিক প্লেসে কিংবা সোশ্যাল মিডিয়াতে গোটা দুনিয়া দেখছে জেনেও অনায়াসে অশালীন শব্দ খুব দম্ভের সঙ্গে ব্যবহার করা হয়। রুচিহীন ব্যবহার, তুমুল উচ্চকিতভাবেই গালিগালাজ করা হয় প্রকাশ্যেই তর্কে জয়ী হতে কিংবা অত্যন্ত স্বাভাবিক আলাপচারিতায়। যেন ওটা একটা স্মার্টনেস। ঠিক একইভাবে নেতানেত্রীদের মুখেও অহরহ শোনা যায় এরকমই অশালীন, রুচিহীন শব্দের প্রকাশ। কেন? কারণ একটি সমাজে ক্রমেই ঠিক সেরকম রাজনীতিই জনপ্রিয় হয়ে ওঠে, সেই সমাজটি আসলে যেমন। তাই এই যে কথায় কথায় যে কোনও অপসংস্কৃতি, অবক্ষয় কিংবা হিংসা আবহের জন্য কখনও সরকার,কখনও দল, কখনও পুলিস, কখনও নেতামন্ত্রীদের দোষ দেওয়া হয়, সেসবই হল নিজেদের আড়াল করার প্রয়াস। আসলে সমাজের সিংহভাগ ভিতরে ভিতরে ওরকমই হয়ে গিয়েছে। আর তাই এই নেতানেত্রীরা কিংবা এই রাজনীতি একটা বড় অংশের মানুষের কাছে গ্রহণযোগ্য হয়ে উঠছে। আমরা নিজেরা চরম অসহিষ্ণু। কিন্তু সেই একই অসহিষ্ণুতার ছাপ নেতানেত্রীর মধ্যে দেখলে গর্জে উঠি। বুঝি না, আমাদের মনের ছাপটাই আসলে রাজনীতিতে পড়েছে।
আমাদের রাজ্যে রাজনৈতিক ও ধর্মীয় বিদ্বেষ এতটাই ভাবনার রন্ধ্রে ঢুকে পড়েছে যে, প্রতিটি হিংসাত্মক ঘটনায় দুটি জিনিস আগে সকলে সন্ধান করে। কোন দল ও কোন ধর্মের মানুষ আক্রমণকারী কিংবা আক্রান্ত। সন্দেশখালি, ক্যানিং, কোচবিহার, ডায়মন্ডহারবার যেখানেই রাজনৈতিক সংঘর্ষ হোক, প্রতিটি ঘটনাকে আজকাল সাম্প্রদায়িক রূপ দেওয়ার প্রবল চেষ্টা চলে। রাজনৈতিক দলগুলিও সম্প্রদায়গতভাবেই রাজনীতির ফায়দা তোলার চেষ্টা করে বলাই বাহুল্য। রাজনৈতিক বিদ্বেষ কেমন? অপছন্দের নেতানেত্রীকে যেকোনও ঘটনার জন্যই দায়ী করার প্রবণতা। ধর্ষণ হয়েছে? উনি দায়ী। দুর্ঘটনা হয়েছে? উনি দায়ী। সন্ত্রাস হয়েছে? উনি দায়ী। ডাক্তার, উকিল, সরকারি কর্মী, শিক্ষকদের আন্দোলন চলছে? উনি দায়ী। চাকরি নেই? উনি দায়ী। চাকরি চলে গেল? উনি দায়ী। গণপিটুনি? উনি দায়ী। আর একইভাবে সাম্প্রদায়িক বিদ্বেষের প্রবণতাটিই এরকমই। যে কোনও ঘটনা, দুর্ঘটনা, অপরাধ হলে তো বটেই, সবথেকে বিপজ্জনক হল কোনও ঘটনা না ঘটলেও সাম্প্রদায়িক প্ররোচনা ছড়ানোর জন্য উস্কানিমূলক মিথ্যা গুজব ছড়ানো হয়। এবং কোনও এক সম্প্রদায়কে দাগিয়ে দেওয়া হয়।
এই যে বিদ্বেষের বীজ এবং সেটা যাতে অন্যদের মধ্যেও আরও বেশি করে ছড়িয়ে পড়ে সেটা মনেপ্রাণে চাওয়া, এর শেষতম লক্ষ্যটি কি? ধরা যাক বিদ্বেষের কারণে লাগাতার দাঙ্গা লাগানোর চেষ্টা করা হয়। নানাবিধ সত্যি, অর্ধসত্য, মিথ্যা মিশিয়ে। এভাবে কখনও বসিরহাট, কখনও ভাটপাড়া, কখনও ডায়মন্ডহারবারে বিচ্ছিন্নভাবে এলাকাগতভাবে মাঝেমধ্যেই সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা হয়। আবার এরকম অনেক দাঙ্গার খবর ছড়ানো হয় যার কোনও সোর্স নেই। একমাত্র সোর্স হোয়াটস অ্যাপ আর ফেসবুকে ফরওয়ার্ড করা মেসেজ। লক্ষ্য করা যাচ্ছে বিগত বেশ কয়েকবছর ধরে এভাবে সারাক্ষণ পশ্চিমবঙ্গ নানাভাবে অশান্ত হয়েই থাকছে। রাজনৈতিক সংঘর্ষ দিকে দিকে। দাঙ্গা। মিছিল। মিছিলে মিছিলে সংঘাত। যে কোনও একটা ঘটনাকে কেন্দ্র করেই দেখা যাচ্ছে তুলকালাম হচ্ছে। এভাবেই একদিন এরকম ছোট ছোট লিটমাস টেস্টের পর যদি বিদ্বেষের সম্প্রসারণের ফলে গোটা রাজ্যেই দাঙ্গা শুরু হয়? গৃহযুদ্ধ। গোটা রাজ্যে যদি আগুন জ্বলে তখন প্রত্যেকটি মানুষের ঘরেই সেই আগুন ঢুকে যাবে। যে সম্প্রদায়ের মানুষই হোক প্রত্যেকের স্থান হবে শুধুমাত্র নিজের ঘরে আতঙ্কে বসে থাকা। অথবা ঘর থেকে পালিয়ে গিয়ে কিংবা বাস্তচ্যূত হয়ে কোনও এক সরকারি আশ্রয় শিবির। কিংবা মন্দির কিংবা মসজিদে আশ্রয়। এসব বেদনাময় ভয়ঙ্কর চিত্র অতীতে বহুবার ভারত ও বাংলা দেখেছে। তাই ছবির মতো বিবরণ দেওয়া যায় যে দাঙ্গা হলে কী হতে পারে। চাকরি, ব্যবসা, জীবিকা, ছেলেমেয়ের স্কুল কলেজ সব বন্ধ হয়ে যাবে অনির্দিষ্টকালের জন্য। দাঙ্গাকারী সর্বদাই হয় সুবিধাবাদী কিছু অপরাধী আর লুম্পেনরা। স্রেফ টাকা পয়সা লুণ্ঠন, মহিলাদের ওপর অত্যাচার আর নির্বিচারে হত্যা। এটাই যে কোনও দাঙ্গার শেষ কথা। দাঙ্গা করে কাউকে টাইট দেওয়া যায়নি আজ পর্যন্ত। কারণ দাঙ্গা মানেই হল সব পক্ষের মানুষের মৃত্যু আর সম্পত্তিহানি। আর সবথেকে বড় কথা শান্তিপূর্ণ এক সুস্থ জীবনযাপন ধ্বংস হয়ে যাওয়া। তাই আমাদের এখন ভাবতে হবে হঠাৎ করে চারদিকে এরকম মাত্রাহীন অশান্তি কেন? কেন গোটা দেশের তাবৎ ন্যাশনাল মিডিয়ায় আমাদের রাজ্যকে লাগাতার হিংসাশ্রয়ী, আইনশৃঙ্খলা না থাকা একটা রাজ্য হিসেবে প্রতিভাত করা হচ্ছে? এরকম কেনই বা ঘটছে অবিরত?
আমাদের সচেতনতার অভাব আর ধর্মীয় ও রাজনৈতিক বিদ্বেষকে কাজে লাগিয়ে আমাদের শর্তহীনভাবে অলক্ষ্যে ভাড়া করে নেয় রাজনৈতিক দল। সোশ্যাল মিডিয়ায় রাজনৈতিক দলের হয়ে বিনা পয়সার আর্মি হিসেবে কাজ করি। আমাদের পছন্দের দলের হয়ে তাদের অ্যাজেণ্ডা প্রচার করি, শেয়ার করি, ফেক নিউজ ফরওয়ার্ড করি। লাভ হয় রাজনীতির। এ রাজ্যকে আইনশৃঙ্খলাহীন প্রমাণ করে আমাদের ব্যক্তিগত লাভ কী হবে? বরং আমাদের উচিত সর্বদাই চেষ্টা করা যাতে আইনশৃঙ্খলার অযথা সন্দেহজনকভাবে অবনতি না হয়। লক্ষ্য রাখতে হয়। নজরদারি করতে হয়। নিজেদের স্বার্থে। কারণ এ হল আমাদের জন্মভূমি। রাজনীতি, সরকার, শাসক, বিরোধীদের ভবিষ্যৎ ভোটের হাতে ছেড়ে দেওয়াই যুক্তিযুক্ত। আজ নয় কাল তো বিধানসভার ভোট হবেই। তখনই দেখা যাবে মানুষ কাকে ভোট দেয়। যাকে অপছন্দ তাকে হারিয়ে দেবে মানুষ। গণতন্ত্রের এটাই নিয়ম। তার আগে এই যে নিরন্তর অবিরত অস্থিরতা, অরাজকতা আর নৈরাজ্য চলছে এটায় নিশ্চিতভাবে রাজনৈতিক দলগুলির লাভক্ষতি হতে পারে। আমাদের কিন্তু বিন্দুমাত্র লাভ নেই। কারণ আমি যে দলেরই হই ট্রেন অবরোধের সময় আমিও আটকে যাই। ইন্টারনেট বন্ধ থাকলে আমারও কাজের ক্ষতি হয়। দাঙ্গা হলে যে অটোয় আগুন লাগানো হবে সেই অটোতে আমার ছেলেমেয়েও থাকতে পারে। তাই অনেক বোকা হয়েছি। এবার না হয় একটু স্বার্থপর হয়ে নিজের স্বার্থ দেখি। সবার আগে নিজেরা নিশ্চিত করি যাতে আমাদের এইসব পারস্পরিক ঘৃণা আর বিদ্বেষের সুযোগে অন্য কেউ আগুন না জ্বালায়। মনে রাখতে হবে ’৭৬-এর মন্বন্তরে বাংলাকেই ভুগতে হয়েছে, ১৯৪৩ সালের দুর্ভিক্ষ বাংলাতেই হয়েছে। দেশভাগে ক্ষতবিক্ষত হয়েছি আমরাই। গুজরাত, মহারাষ্ট্র, মধ্যপ্রদেশ, উত্তরপ্রদেশ কিংবা দক্ষিণ ভারতের গায়ে এসবের একটুও আঁচ লাগেনি। শুধু বারংবার জখম হয়েছে এই বাঙালি জাতি। দাঙ্গায় বারংবার ধ্বংসের মুখে দাঁড়িয়েছে এই বাংলাই। কেন্দ্রীয় সরকারের আর্থিক বঞ্চনার লাগাতার শিকার বরাবর বাংলা। সুতরাং আবার বাংলা অশান্ত হবে, আর বাকি ভারত মজা দেখবে এটা কি কাম্য? সমাজের প্রতি অবশ্যই উদাসীন থাকবো না আমরা। সচেতন নাগরিক থাকবো। সরকারের সবরকম অনাচার, অন্যায়ের তীব্র প্রতিবাদ করাই উচিত। আবার বিরোধীদের দায়িত্বজ্ঞানহীন আন্দোলনেরও নিন্দা করা উচিত। সবই করা দরকার নাগরিক হিসেবে। শুধু সতর্ক থাকতে হয় যে আমাদের কেউ ইউজ করছে না তো? যে দলই হোক তারা নিজেদের ফায়দার জন্য আমাদের কাজে লাগাচ্ছে না তো? আমাদের সারাদিন উত্তেজিত রাখতে মাঝেমধ্যেই কিছু না কিছু ঘটনার মাধ্যমে শুধুই উস্কানি দেওয়া হচ্ছে না তো! ঠিক যেমন ইলেকট্রনিকস গ্যাজেটস, মোবাইলে মাঝেমধ্যেই রিচার্জ করা হয়! আমরা আসলে কিছু অচেনা মানুষের কাছে সেরকমই নিছক দম দেওয়া যন্ত্র নই তো?
14th  June, 2019
অস্তাচলে মন্দির রাজনীতি
শান্তনু দত্তগুপ্ত 

সালটা ১৯৯২। লালকৃষ্ণ আদবানির ‘রথযাত্রা’ শুরু হওয়ার ঠিক আগের কথা...। কথোপকথন চলছে বিজেপি নেতার সঙ্গে বজরং দলের এক নেতার। ‘বাবরির কলঙ্ক মুছে দিতে পারবে না?’ বজরং দলের সেই নেতা উত্তর দিলেন ‘আপনার নির্দেশের অপেক্ষাতেই তো বসে আছি। 
বিশদ

প্রেমময় শ্রীকৃষ্ণের মধুর রাসলীলা
চিদানন্দ গোস্বামী

বিশারদ সর্ব বিষয়ে। বাঁশিতে, রথ চালনায়, চৌর্যকর্ম, কূটনীতি, যুদ্ধবিদ্যা, ছলচাতুরি—সবকিছুতেই বিশারদ। আর প্রেমপিরিতে তো মহা বিশারদ। এবং, কলহ বিতর্ক বাগযুদ্ধ যুক্তি জাদু, অপমান উপেক্ষা করতেও কম যায় না। অথচ পরমতম প্রেমিক পুরুষ। হ্যাঁ, এমন প্রেম জানে ক’জনা! আর, সেই প্রেমেও কত না কাণ্ড!  
বিশদ

11th  November, 2019
ক্ষমতায় ফিরে আসার লক্ষ্যে কমনিষ্ঠ পার্টি অব মৃত্যুলোকের নয়া পরিকল্পনা
সন্দীপন বিশ্বাস

হাতের চুরুটটা নিভতে নিভতেও আগুন ছুঁয়ে আছে। আর কমরেট প্রমোদিয়েভ ঝিমোতে ঝিমোতেও জেগে আছেন। ওদিকে কমরেট জ্যোতোভস্কি আরাম কেদারায় হেলান দিয়ে টেবিলে পা তুলে দিয়ে টিভি দেখছেন। একটা গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণার দিকে তাকিয়ে আছেন তিনি। এখনও অন্য কমরেটরা আসেননি। 
বিশদ

11th  November, 2019
সবার হাতে কাজ ছাড়া ‘সবকা বিকাশ’ অসম্ভব, মন্দির-মসজিদে তো পেট ভরবে না
হিমাংশু সিংহ

২০১৯ প্রায় শেষের দিকে। নতুন বছর আসতে আর বাকি দেড় মাসের সামান্য বেশি। বছরের শুরুটায় আপামর দেশবাসী মেতেছিল সাধারণ নির্বাচন নিয়ে। পাঁচবছরের জন্য কে কেন্দ্রে ক্ষমতায় আসবে তা ঘিরে রাজনৈতিক দাপাদাপি আর তরজায় জমজমাট ছিল বছরের শুরুটা। বিশদ

10th  November, 2019
পঞ্চাশোর্ধ্বে বানপ্রস্থ?
অতনু বিশ্বাস

 পঞ্চাশ ছুঁই-ছুঁই হয়ে একটা প্রায় বৃদ্ধ-বৃদ্ধ ভাব এসেছে আমার মধ্যে। সেটা খুব অস্বাভাবিক হয়তো নয়। এমনিতেই চারপাশের দুনিয়াটা বদলে গিয়েছে অনেক। চেনা-পরিচিত বাচ্চা বাচ্চা ছেলেমেয়েগুলো হঠাৎ যেন বড় হয়ে গিয়েছে। আমাকে ডাকনাম ধরে ডাকার লোকের সংখ্যাও কমে যাচ্ছে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে।
বিশদ

09th  November, 2019
ফজলুর রহমানের উত্থান, ইমরানের মাথাব্যথা
মৃণালকান্তি দাস

ক্ষমতা টলমল পাক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের! সরকারের অপদার্থতা, ভোটে রিগিং এবং আর্থিক দুর্নীতির অভিযোগ তুলে পাক প্রধানমন্ত্রী ইমরানের খানের পদত্যাগের দাবি তুলেছেন জমিয়াত উলেমা-এ-ইসলামের প্রধান মৌলানা ফজলুর রহমান।  
বিশদ

08th  November, 2019
ঐতিহাসিক নভেম্বর বিপ্লব: ফিরে দেখা
জিষ্ণু বসু

৭ নভেম্বর মধ্যরাত্রে বলশেভিকরা এই ডুমার সদস্যদের হত্যা করে ক্ষমতা দখল করে। ত্রোৎস্কির নেতৃত্বে বলশেভিকদের এই অভিযানে সহায়তা করেছিলেন ‘জার্মান গোল্ড’ দিয়ে কেনা সরকারি আধিকারিক ও সৈনিকদের একাংশ। গণতন্ত্র সমাপ্ত হওয়ার পরে, ৮ নভেম্বর অজ্ঞাতবাস থেকে আত্মপ্রকাশ করেন ভ্লাদিমির ইলিচ উলিওনভ ওরফে লেনিন।
বিশদ

07th  November, 2019
ঘরে ঘরে হানাদার 
শান্তনু দত্তগুপ্ত

উওটার স্লটবুম আমস্টারডামের একটি কাফেতে ঢুকলেন। সঙ্গে একজন ডাচ সাংবাদিক। কাফেতে ওয়াই-ফাই চলছে। স্লটবুম একটি চেয়ার টেনে বসে তাঁর ল্যাপটপটা খুললেন। পাশে ছোট কালো রঙের একটা ডিভাইস।  বিশদ

05th  November, 2019
মর্ত্যলোক থেকে ঘুরে গিয়ে শিবের কাছে রিপোর্ট জমা দিল টিম-দুর্গা
সন্দীপন বিশ্বাস

মর্ত্য থেকে ফিরে প্রতিবারই শিবের কাছে টিম-দুর্গা একটা করে রিপোর্ট জমা দেয়। ‘পিতৃগৃহং পরিক্রমণং সন্দেশম্‌’ ফাইলে সেই রিপোর্ট জমা পড়ে এবং শিব সেই রিপোর্ট পড়ে মর্ত্যধামের গতিপ্রকৃতি সম্পর্কে অবহিত হন। এবারও যথারীতি প্রত্যেকে তাঁদের রিপোর্ট ‘মহাদেব অ্যাট কৈলাস ডট কমে’ পাঠিয়ে দিয়েছেন। ওটা শিবের ই-মেল অ্যাড্রেস। 
বিশদ

04th  November, 2019
অবরুদ্ধ কাশ্মীরে বিদেশিদের সফর, রহস্যময়ী
ম্যাডি শর্মা ও পাঁচ বাঙালির নৃশংস হত্যা 
হিমাংশু সিংহ

কাকতালীয় ঘটনা হলেও সত্যি! বাংলার পাঁচ শ্রমিককে অপহরণ করে নৃশংসভাবে খুন করার দিনেই নরেন্দ্র মোদি সরকারের সৌজন্যে অবরুদ্ধ কাশ্মীর সফর করেছেন একঝাঁক বিদেশি প্রতিনিধি।
বিশদ

03rd  November, 2019
বন্ধ হোক মৃত্যুকে রাজনীতির পণ্য বানানো
তন্ময় মল্লিক

জন্মিলে মরিতে হবে, অমর কে কোথা কবে। মাইকেল মধুসূদন দত্ত। শৈশবের গণ্ডি ছাড়াতে না ছাড়াতেই অমর কবির এই কবিতা প্রথম শিখিয়েছিল, জন্ম আর মৃত্যু এক সুতোয় বাঁধা। ভাবসম্প্রসারণ লিখতে গিয়ে শিখেছিলাম, জীবনের অবশ্যম্ভাবী পরিণতিই হল মৃত্যু। আধ্যাত্মিক মনোভাবাপন্ন মানুষের মতে, আত্মার সঙ্গে পরমাত্মার মিলন।   বিশদ

02nd  November, 2019
চীনা সাম্রাজ্যবাদ
সমৃদ্ধ দত্ত

 কোনও এক সময় শুরু হয়েছিল অন্ধ্রপ্রদেশে। কিন্তু পরবর্তীকালে প্রধানত বিহারের বিষহরি উৎসবের প্রধান হস্তশিল্প হিসাবে জনপ্রিয় হয়ে যায় মঞ্জুষা। ভাগলপুরে ব্রিটিশ আমলে মঞ্জুষা শিল্প এতটাই খ্যাতি ও বাণিজ্য পেয়েছিল যে, এমনকী ম্যানচেস্টারেও নিয়ম করে যেত ওই সিরিয়াল আর্ট। বিশদ

01st  November, 2019
একনজরে
নয়াদিল্লি, ১১ নভেম্বর (পিটিআই): সরকার গঠনের জন্য সময় বেঁধে দিয়েছেন মহারাষ্ট্রের রাজ্যপাল। এনসিপিও জানিয়ে দিয়েছে, তাদের সমর্থন পেতে হলে এনডিএ ছাড়তে হবে শিবসেনাকে। মোদি সরকারের ...

নয়াদিল্লি, ১১ নভেম্বর (পিটিআই): উৎসবের মরশুম আর নয়া মডেল। এই দুইয়ের জেরে নিম্নগতি থেকে সামান্য হলেও মাথা তুলল গাড়ি শিল্প। অক্টোবরে যাত্রীবাহী গাড়ি বিক্রি বাড়ল ০.২৮ শতাংশ। অর্থাৎ গাড়ি বিক্রি হয়েছে ২ লক্ষ ৮৫ হাজার ২৭ ইউনিট। যেখানে গত বছরের ...

সংবাদদাতা, লালবাগ: জিয়াগঞ্জের বিলকান্দিতে স্ত্রীকে ভোজালি দিয়ে কুপিয়ে খুনের ঘটনায় অভিযুক্ত স্বামী তেনু মণ্ডলকে গ্রেপ্তার করল পুলিস। রবিবার গভীর রাতে জিয়াগঞ্জ সিটি স্টেশন সংলগ্ন এলাকা থেকে অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করে পুলিস।  ...

লাহোর, ১১ নভেম্বর (পিটিআই): বিদেশে চিকিৎসার জন্য অনুমতি পেতে দেরি হওয়ায় শারীরিক অবস্থার অবনতি হচ্ছে প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফের (৬৯)। তাঁর দল পাকিস্তান মুসলিম লিগ-নওয়াজ (পিএমএল-এন)-এর তরফে এমনটাই জানানো হয়েছে। পরিবারের অনুরোধে শুক্রবারই চিকিৎসার জন্য লন্ডনে যেতে রাজি হয়েছেন শরিফ।  ...




আজকের দিনটি কিংবদন্তি গৌতম
৯১৬৩৪৯২৬২৫ / ৯৮৩০৭৬৩৮৭৩

ভাগ্য+চেষ্টা= ফল
  • aries
  • taurus
  • gemini
  • cancer
  • leo
  • virgo
  • libra
  • scorpio
  • sagittorius
  • capricorn
  • aquarius
  • pisces
aries

উচ্চতর বিদ্যায় সাফল্য আসবে। প্রেম-ভালোবাসায় আগ্রহ বাড়বে। পুরনো বন্ধুর সঙ্গে সাক্ষাতে আনন্দলাভ হবে। সম্ভাব্য ক্ষেত্রে ... বিশদ


ইতিহাসে আজকের দিন

১৮৪০: ফরাসি ভাস্কর অগ্যুস্ত রদ্যঁর জন্ম
১৮৯৩: পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের সীমান্তরেখা ডুরান্ড লাইন চুক্তি স্বাক্ষরিত
১৮৯৬: পক্ষীবিদ সালিম আলির জন্ম
১৯৪৬: পণ্ডিত মদনমোহন মালব্যের মৃত্যু  





ক্রয়মূল্য বিক্রয়মূল্য
ডলার ৬৯.৭০ টাকা ৭২.৮৫ টাকা
পাউন্ড ৮৯.০৬ টাকা ৯৩.৩৬ টাকা
ইউরো ৭৬.৭৩ টাকা ৮০.৪৫ টাকা
[ স্টেট ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়া থেকে পাওয়া দর ]
পাকা সোনা (১০ গ্রাম) ৩৮,৬৫০ টাকা
গহনা সোনা (১০ (গ্রাম) ৩৬,৬৭০ টাকা
হলমার্ক গহনা (২২ ক্যারেট ১০ গ্রাম) ৩৭,২২০ টাকা
রূপার বাট (প্রতি কেজি) ৪৪,৫০০ টাকা
রূপা খুচরো (প্রতি কেজি) ৪৪,৬০০ টাকা
[ মূল্যযুক্ত ৩% জি. এস. টি আলাদা ]

দিন পঞ্জিকা

২৫ কার্তিক ১৪২৬, ১২ নভেম্বর ২০১৯, মঙ্গলবার, পূর্ণিমা ৩৩/৪ রাত্রি ৭/৪। ভরণী ৩৭/৩১ রাত্রি ৮/৫১। সূ উ ৫/৫০/৫২, অ ৪/৫০/৩৮, অমৃতযোগ দিবা ৬/৩৪ মধ্যে পুনঃ ৭/১৮ গতে ১০/৫৮ মধ্যে। রাত্রি ৭/২৭ গতে ৮/১৯ মধ্যে পুনঃ ৯/১১ গতে ১১/৪৭ মধ্যে পুনঃ ১/৩১ গতে ৩/১৪ মধ্যে পুনঃ ৪/৫৮ গতে উদয়াবধি, বারবেলা ৭/১৩ গতে ৮/৩৫ মধ্যে পুনঃ ১২/৪৩ গতে ২/৬ মধ্যে, কালরাত্রি ৬/২৮ গতে ৮/৬ মধ্যে। 
২৫ কার্তিক ১৪২৬, ১২ নভেম্বর ২০১৯, মঙ্গলবার, পূর্ণিমা ৩২/৪৫/৪৭ রাত্রি ৬/৫৮/২০। ভরণী ৩৯/৩০/৩৪ রাত্রি ৯/৪০/১৫, সূ উ ৫/৫২/১, অ ৪/৫১/১৮, অমৃতযোগ দিবা ৬/৪৬ মধ্যে ও ৭/২৯ গতে ১১/৩ মধ্যে এবং রাত্রি ৭/২৬ গতে ৮/১৯ মধ্যে ও ৯/১২ গতে ১১/৪১ মধ্যে ও ১/৩৮ গতে ৩/২৪ মধ্যে ও ৫/১০ গতে ৫/৫৩ মধ্যে, বারবেলা ৭/১৪/২৬ গতে ৮/৩৬/৫০ মধ্যে, কালবেলা ১২/৪৪/৪ গতে ২/৬/২৯ মধ্যে, কালরাত্রি ৬/২৮/৫৩ গতে ৮/৬/২৯ মধ্যে। 
মোসলেম: ১৪ রবিয়ল আউয়ল 

ছবি সংবাদ

এই মুহূর্তে
উলুবেড়িয়ায় উদ্ধার ১৮ কেজির ভেটকি, দাম উঠল ১২ হাজার টাকা
 

উলুবেড়িয়ায় গঙ্গা থেকে হুইল ছিপে ধরা পড়ল ১৮কেজির ভেটকি মাছ। ...বিশদ

01:35:00 PM

মুম্বইতে এনসিপি নেতাদের সঙ্গে দেখা করলেন কং নেতা মল্লিকার্জুন খাড়গে, আহমেদ প্যাটেলরা 

01:02:00 PM

মালদহে রেশন দোকানে ভাঙচুর 
পুরাতন মালদহের সুকানদিঘি পাঁচপাড়া গ্রামে রেশন দোকান ভাঙচুর করার অভিযোগ ...বিশদ

12:13:22 PM

শান্তিনিকেতনে ডায়েরিয়ায় আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি ২৫ জন
 

শান্তিনিকেতনের ধোলটিকুড়ি গ্রামে ডায়েরিয়ায় আক্রান্ত হলেন ২৫ জন। তাঁদের বোলপুর ...বিশদ

12:02:42 PM

ময়দান এলাকায় ৫ লক্ষ টাকার জালনোট সহ গ্রেপ্তার ১ 

11:08:00 AM

জম্মু ও কাশ্মীরের গান্ধেরবালে জওয়ানদের গুলিতে হত ১ জঙ্গি 

10:46:56 AM