Bartaman Patrika
বিশেষ নিবন্ধ
 

ডাক্তারবাবুদের গণ-ইস্তফা নজিরবিহীন,
কিন্তু তাতে কি হাসপাতাল সমস্যা মিটবে?

সমাধান হয়তো শেষপর্যন্ত একটা মিলবে। কবে মিলবে তা অবশ্য এখনও পরিষ্কার নয়। তবে মিলবে। হয়তো এই লেখা আপনাদের হাতে যাওয়ার আগেই মিলবে। মিলতেই হবে। কারণ, এভাবে তো চলতে পারে না! এভাবে সরকারি হাসপাতালের স্বাস্থ্য-পরিষেবার মতো অত্যাবশ্যক ক্ষেত্র কেবল আন্দোলনের জেরে তো দিনের পর দিন অকেজো হয়ে থাকতে পারে না! দূরদূরান্ত থেকে আসা অসহায় গরিবগুর্বো হাজার হাজার রোগী তো এভাবে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা থেকে লাগাতার বঞ্চিত হতে পারেন না। সরকারি হাসপাতালে রোগ সারাতে এসে কার্যত চিকিৎসা-বন্‌঩ধের মুখে পড়ে শিশু বৃদ্ধ থেকে সাধারণ মানুষ চূড়ান্ত নাজেহাল হবে, এমনকী প্রাণ হারাবে— তাও কি নাগাড়ে চলতে পারে! অসম্ভব। ছবির পর ছবি বেরচ্ছে কাগজে মিডিয়ায়। দুধের শিশু থেকে ক্যান্সার রোগী—কী অবর্ণনীয় কষ্ট পাচ্ছে। মারাও যাচ্ছে! মৃত শিশু কোলে হতভাগ্য বাবা-মা— অভিযোগ জানাবার ভাষাটুকুও হারিয়ে ফেলেছেন!
তাছাড়া কার কাছেই বা জানাবেন? ডাক্তারবাবুদের আন্দোলনের জোয়ারে যে সব ভেসে গেছে। গোটা রাজ্য। গোটা দেশেও ছড়িয়ে পড়েছে সেই ঢেউ। কথায় কথায় ডাক্তার নিগ্রহের প্রতিকার চাই। নিরাপত্তা চাই। এনআরএস কাণ্ডে জড়িতদের সকলের উপযুক্ত এবং দৃষ্টান্তমূলক সাজা চাই। দাবি কোনওটাই অমূলক বা অন্যায্য নয়। আর তাই, দাবি আদায়ে জুনিয়র ডাক্তারদের পাশে দাঁড়িয়েছেন সিনিয়ররা, পথে নেমেছেন বিদ্বজ্জন শিল্পী কলাকুশলী থেকে সাধারণ প্রতিবাদী মানুষজন। তাঁদের লম্বা মিছিল শুক্রবার শহরের একাংশ স্তব্ধ করে হেঁটে গেল এনআরএস থেকে ন্যাশনাল মেডিক্যাল। দিল্লির এইমস থেকে জয়পুর রায়পুর হায়দরাবাদ মুম্বই—হাসপাতালে হাসপাতালে বাংলায় আন্দোলনরত জুনিয়র ডাক্তারদের সমর্থনে দেখা গেল মাথায় ব্যান্ডেজ বেঁধে বা হেলমেট পরে বিচিত্র ভঙ্গির প্রতিবাদ, কোথাও কোথাও স্তব্ধ হল আউটডোর পরিষেবা, হয়রান হলেন লক্ষ রোগী ও তাঁদের অসহায় আত্মীয়-পরিজন। তাঁদের অনেকে হয়তো জানলেনই না কেন এই লাঞ্ছনা, কেন এই চিকিৎসা সংকট।
দেশের স্বাস্থ্য পরিষেবা শনিবার থেকেই স্বাভাবিক হয়েছে আশা করি, কিন্তু পশ্চিমবঙ্গে কবে? শনিবার সকালেও জানা বোঝা যাচ্ছে না। সাধারণ স্বাস্থ্য পরিষেবা বা সংকটাপন্ন রোগীর চিকিৎসার ক্ষেত্রে এই অচলাবস্থা তো দিনের পর দিন চলতে পারে না। সুতরাং, সমাধান আজ হোক, কাল হোক হবেই। কীভাবে হবে, কে করবেন, মুখ্যমন্ত্রীর আবেগ সদিচ্ছা নাকি আন্দোলনরত ডাক্তারবাবুদের মানবিকতা দায়বদ্ধতা—সমাধান আসবে কোন পথে আমরা জানি না। অন্তত, শনিবার সকালে এই লেখা যখন লিখছি তখনও সেইসব পথের গোটাটাই ঘন কুয়াশার অন্ধকারে ঢাকা। শুক্রবার শেষবিকেলে নবান্নে কয়েকজন প্রবীণ চিকিৎসকের সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রীর বৈঠকে সামান্য একটু আলোকরেখা দেখা গেলেও তা কতদূর স্থায়ী হবে তা নিয়ে যথেষ্ট সংশয় আছে। তার কারণ, জুনিয়র ডাক্তারেরা শুক্রবার শেষরাত অবধি নিজেদের দাবিতে অনড়, তাঁদের দাবি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে চিকিৎসক নিগ্রহের মূল কেন্দ্র এনআরএস হাসপাতালে আসতে হবে এবং আন্দোলন নিয়ে তাঁর বক্তব্যের জন্য নিঃশর্ত ক্ষমা চাইতে হবে!
একথা অনস্বীকার্য, ক’দিন আগে এক বৃদ্ধের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে ‘পেসেন্ট পার্টি’র নামে শদুয়েক লোক এনআরএস হাসপাতালে যে কাণ্ড ঘটিয়েছে, যেভাবে কর্মরত জুনিয়র ডাক্তারদের ওপর হামলা চালিয়েছে তা কেবল ভয়াবহই নয়, রীতিমতো ন্যক্কারজনক এবং ক্ষমার অযোগ্য। পুলিসের ভূমিকাও সমালোচনার ঊর্ধ্বে নয়। যতদূর জানা গেছে, পুলিসি নিষ্ক্রিয়তার সুযোগ নিয়েই দুষ্কৃতীরা হামলা চালিয়েছে। তাঁদের আক্রমণে তরুণ চিকিৎসক পরিবহ মুখোপাধ্যায় সমেত বেশ কয়েকজন জুনিয়র ডাক্তার গুরুতর আহত হয়েছেন। কপালের ওপরের খুলি ফেটে পরিবহর তো প্রায় প্রাণসংশয় হয়েছিল। তবে শুনেছি, ভগবানের আশীর্বাদে ইনস্টিটিউট অফ নিউরো সায়েন্সের ডাক্তারদের দক্ষতায় আপাতত তিনি নিরাপদ। কিন্তু, এই হামলার ঘটনার প্রতিবাদে যে আন্দোলন শুরু হয়েছে তাতে হাজার হাজার সাধারণ গরিব মধ্যবিত্ত রোগী ও তাঁদের আত্মীয়জনেরা যে গভীর সংকটে তা আজ আর বলার অপেক্ষা রাখে না। এবং এই সংকটকে সাংঘাতিক ঘনীভূত করে তুলেছে রাজ্য জুড়ে হাসপাতালে হাসপাতালে কর্মরত সিনিয়র ডাক্তারবাবুদের গণ-ইস্তফা! এনআরএস তো বটেই, তার সঙ্গে আরজিকর, ন্যাশনাল, সাগর দত্ত, পিজি, উত্তরবঙ্গ মেডিক্যালের মতো অতি গুরুত্বপূর্ণ হাসপাতালের ডাক্তারবাবুদের একটা বড় অংশ শুক্রবার গণ-ইস্তফা দিয়ে চলে গেলেন! আর তাঁদের যাওয়ার পথের দিকে আকুল চোখে অসহায় চেয়ে রইলেন দূরদূরান্ত থেকে চিকিৎসা করাতে আসা হাজারো মানুষ শিশু বৃদ্ধ অশক্ত মরণাপন্ন! আক্রান্ত জুনিয়র ডাক্তারদের প্রতি পূর্ণ সহানুভূতি রেখেই বলতে হচ্ছে, এমন নির্দয় আন্দোলন সত্যি বলতে কী এই পশ্চিমবঙ্গে অভূতপূর্ব!
শোনা যাচ্ছে, হাসপাতালগুলোতে আউটডোর বন্ধ থাকলেও ডাক্তারবাবুদের একাংশ বাইরে বসে আউটডোরে রোগী দেখছেন, জরুরি পরিষেবা ইমার্জেন্সিতেও কাজ করছেন। কিন্তু, প্রয়োজনের তুলনায় এই সহৃদয়তা যে যথেষ্ট নয় তা স্বীকার করছেন সকলেই। বিশেষত, শত শত সিনিয়রের গণ-ইস্তফার পর পরিস্থিতি যে রীতিমতো ঘোরালো হয়ে উঠেছে এবং রাজ্যের স্বাস্থ্য পরিষেবা ব্যবস্থা যে প্রায় ভেঙে পড়ার উপক্রম হয়েছে তাতেই বা সন্দেহ কি? সিনিয়র ডাক্তারবাবুরা ‘উই ওয়ান্ট জাস্টিস’ স্লোগান দিতে দিতে হাত ছুঁড়তে ছুঁড়তে দল বেঁধে বেরিয়ে আসছেন আর তা দেখে আন্দোলনরত জুনিয়রদের জমায়েত উল্লাসে ফেটে পড়ছে— এমন দৃশ্য টিভিতে অনেকবার দেখা গেছে। পশ্চিমবঙ্গের স্বাস্থ্য পরিষেবা পরিসরে এমন দৃশ্য নিঃসন্দেহে নজিরবিহীন। ডাক্তারবাবুদের গণ-ইস্তফাও নজিরবিহীন। কিন্তু, প্রশ্ন হল— তাতে কি হাসপাতাল সমস্যা মিটবে? হাসপাতালের পরিকাঠামোগত অভাব ঘুচবে? পরিবহর মতো মর্মান্তিক ঘটনা ঠেকানো যাবে? পুলিসের হুঁশ ফিরবে? ঈশ্বরের দূত হিসেবে ডাক্তারবাবুরা মানুষের শ্রদ্ধাভক্তি ভালোবাসা ফিরে পাবেন?
আমি বলছি না এই আন্দোলন অর্থহীন। প্রতিবাদ আন্দোলন নিশ্চয়ই চাই। কেন কারণে অকারণে লোক চিকিৎসকের গায়ে হাত তুলবে? অমন খুনে মার মারবে? চিকিৎসক ছাড়া আমাদের চলবে? বিভিন্ন সময় তো আমরা দেখেছি চিকিৎসায় গাফিলতি হোক কি অন্য কোনও একটা অজুহাত—রাজনৈতিক নেতামন্ত্রী থেকে সাধারণ লোক কি লুম্পেন, মহিলা পুরুষ নির্বিশেষে ডাক্তারদের মারধর করছে, হাসপাতালে নার্সিংহোমে ভাঙচুর চালাচ্ছে—আর পুলিস নিরাপত্তাকর্মীরা হাঁ করে দাঁড়িয়ে দেখছে। শুধু বাংলা বলে নয়, গোটা দেশেই এমন কাণ্ড ঘটেছে এবং ঘটেই চলেছে। সাম্প্রতিক এনআরএস কাণ্ড তারই এক ন্যক্কারজনক উদাহরণ। টিভিতে দেখলাম একজন বলছে, ডাক্তারবাবু এল, ইনজেকশন দিল আর পেসেন্ট মরে গেল! এই কথা বলা যায়, বলা উচিত? আরে, তুমি ডাক্তার? কী ইনজেকশন কেন দিল তখন পেসেন্টের অবস্থা কেমন ছিল কিছুই জান না— বলে দিলে আর এত বড় কাণ্ড বেধে গেল! প্রিয়জন
হারানো রোগী পরিবারের সহমর্মী হয়েই বলছি, ডাক্তারবাবুরা সবসময়ই চান তাঁর রোগী বাঁচুক। তার জন্য শেষপর্যন্ত চেষ্টা করেন তাঁরা। কিন্তু, তাঁদের আমরা যতই ভগবানের দূত বলি, তাঁরা মানুষ। তাঁদেরও সীমাবদ্ধতা আছে। মৃত্যুকে তাই সবসময় তাঁরা হার মানাতে পারেন না। এই কঠিন সত্যটা মানতেই হবে। এবং তা মেনে অমন অবিবেচক মন্তব্য করা যতদিন না বন্ধ হবে, হাসপাতালে শান্তি ও নিরাপত্তা সুনিশ্চিত হওয়া মুশকিল।
দ্বিতীয়ত, জুনিয়রদের আন্দোলনের যাথার্থ্য স্বীকার করেও বলতে হচ্ছে, গরিব সাধারণের স্বার্থে এবার তাঁরা একটু নরম হবেন এমনটাই প্রত্যাশা করছেন আমাদের মতো অসহায় রাজ্যবাসী। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় হয়তো সেদিন একটু কটু কথা বলেছেন। কিন্তু, এ-কথাও তো সত্যি যে, হাসপাতালের পরিকাঠামোগত উন্নয়নে বা ডাক্তারবাবুদের যথাযথ নিরাপত্তা বিধানে তাঁর সদিচ্ছা আছে এবং ইতিমধ্যেই তার যথেষ্ট প্রমাণ মিলেছে। এই অচলাবস্থা কাটাতে প্রবীণদের বৈঠকে ডেকে মুখ্যমন্ত্রী সমাধানসূত্র খুঁজছেন— সেটাও কি ওই সদিচ্ছারই নামান্তর নয়? শুক্রবার রাতেও জুনিয়র ডাক্তাররা বৈঠক করে পূর্ব সিদ্ধান্তেই অটল ছিলেন, তাঁদের দাবি— মুখ্যমন্ত্রীকে এনআরএসে আসতে হবে, মন্তব্যের জন্য নিঃশর্ত ক্ষমা চাইতে হবে ইত্যাদি ইত্যাদি। অন্যদিকে মুখ্যমন্ত্রী মমতাও কিন্তু চাইছেন আন্দোলনরত ডাক্তারদের প্রতিনিধিরা শনিবার বিকেলে নবান্নে তাঁর সমাধান বৈঠকে যোগ দিন। এই দুইয়ের টানাপোড়েনে শেষ পর্যন্ত কোথাকার জল কোথায় গড়াবে, কে কার কাছে আসবেন বসবেন জানা নেই— তবে দিনের শেষে যে যাবতীয় দুর্ভোগ দুর্যোগ জ্বালাযন্ত্রণার সিংহভাগ বয়ে চিকিৎসা করাতে আসা মানুষকেই বাড়ি ফিরতে হবে তা নিশ্চিত। এবং অচল হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য মাথাকুটে আরও কোনও প্রাণ হারিয়ে গেলেও আশ্চর্যের কিছু নেই।
কারণ, শনিবার সকাল অব্দি তো বরফ গলার কোনও লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না! কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী বা রাজ্যপালের উদ্বেগ আশঙ্কা, মুখ্যমন্ত্রীর সদিচ্ছা সমাধান বৈঠক—কিছুই কি কাজে আসবে যদি না আন্দোলনকারী জুনিয়রেরা একটু ভাবেন? সিনিয়রদের গণ-ইস্তফায় চমক থাকতে পারে কিন্তু চলতি সমস্যার সমাধান যে নেই—সেটা কি ডাক্তারবাবুরা জানেন না? আলবাত জানেন। তাহলে? এই প্রশ্নটা কিন্তু মানুষের মনে উঠতে শুরু করেছে। এই প্রশ্নের যথাযথ উত্তর না পেলে শেষপর্যন্ত ডাক্তারদের এই আন্দোলনের প্রতি সহমর্মী জনতার সহানুভূতিতে টান পড়বে না তো? একটু ভাবুন।
16th  June, 2019
একশো পঁচিশে সংসদের বাঙালি পণ্ডিত
হারাধন চৌধুরী

কাটমানি আর ব্ল্যাকমানির তরজায় দেশের রাজনীতি আজ বিপন্নপ্রায়। রাজনীতির প্রতি শ্রদ্ধা ও আগ্রহ নষ্ট হচ্ছে সাধারণ মানুষের, বিশেষত শিক্ষিত যুব সম্প্রদায়ের। এ লক্ষণ সুখের নয়—মানুষের জন্য, রাষ্ট্রের জন্য—কারও জন্যই নয়।
বিশদ

৫, ১০, ২০ ট্রিলিয়ন ডলার অর্থনীতির পথে
পি চিদম্বরম

রাজ্যসভায় ২০১৯-২০ বাজেট নিয়ে বক্তব্য রাখার সময় বলেছিলাম, ‘‘যদি জিডিপির স্বাভাবিক বৃদ্ধির হার ১২ শতাংশ হয় তবে প্রতি ছ’বছরে জিডিপির আকারটা দ্বিগুণ হয়ে যাবে। আর বৃদ্ধির হারটা যদি নমিনাল ১১ শতাংশ হয় তবে জিডিপি দ্বিগুণ হতে সময় নেবে সাত বছর।
বিশদ

22nd  July, 2019
২১ জুলাই সমাবেশ: মমতা কী বার্তা দেন জানতে উৎসুক বাংলা
শুভা দত্ত

ওই মর্মান্তিক ঘটনার পর থেকে প্রতিবছর মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই দিনটিতে বড়সড় সমাবেশের আয়োজন করে তাঁর প্রয়াত সহযোদ্ধাদের প্রতি শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেন।
বিশদ

21st  July, 2019
ছোটদের বড় করতে হলে আগে শুধরাতে হবে নিজেকে
পার্থজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়

সব থেকে ভালো হয়, যদি আপনার ‘বাছা’কে নিজের মতো বেড়ে উঠতে দেন। আনন্দে বেড়ে উঠুক। আলো চিনিয়ে দিন, অন্ধকার চিনিয়ে দিন। লক্ষ্য রাখুন, ঠিকঠাক এগচ্ছে কি না! সামনে পিছনে কত ফাঁদ, চোরাবালি। আপনিই ঈশ্বর, ওকে রক্ষা করুন। ছোটদের ‘বড়’ করতে হলে আগে শুধরাতে হবে নিজেকে। দয়া করে ওর উপর মাতব্বরি করবেন না, হ্যাঁ আমরা মাতব্বরিই করি।
বিশদ

20th  July, 2019
জন্ম এবং মৃত্যুর দ্বান্দ্বিক বস্তুবাদ
শুভময় মৈত্র

সম্প্রতি অকস্মাৎ আমার একটি বন্ধুর মৃত্যু হয়েছে। এই উপলক্ষে জগতে সকলের চেয়ে পরিচিত যে মৃত্যু তার সঙ্গে আর-একবার নূতন পরিচয় হল। জগৎটা গায়ের চামড়ার মতো আঁকড়ে ধরেছিল, মাঝখানে কোনো ফাঁক ছিল না। মৃত্যু যখন প্রত্যক্ষ হল তখন সেই জগৎটা যেন কিছু দূরে চলে গেল, আমার সঙ্গে আর যেন সে অত্যন্ত সংলগ্ন হয়ে রইল না।
——— রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
বিশদ

20th  July, 2019
অ্যাপোলো ৫০: গো ফর দ্য মুন
মৃণালকান্তি দাস

 মই বেয়ে লুনার মডিউল ঈগল থেকে চাঁদের বুকে নামতে নামতে নিল আর্মস্ট্রং বলেছিলেন, ‘একজন মানুষের এই একটি পদক্ষেপ হবে মানবজাতির জন্য এক বিরাট অগ্রযাত্রা।’ সেই ছিল চাঁদের বুকে মানুষের প্রথম পদচিহ্ন আর মানবজাতির সেদিনের প্রমিথিউস ছিলেন নিল আর্মস্ট্রং। চাঁদের বুকে নিলের পা ফেলার মাধ্যমে মানুষ চাঁদকে জয় করেছিল।
বিশদ

19th  July, 2019
বাঙালির যে সংস্কৃতি হারিয়ে গেল
জিষ্ণু বসু

ইদানীং রাজ্যে একটা গেল গেল রব শোনা যাচ্ছে। বাঙালি তার সংস্কৃতি হারাচ্ছে। বিজেপি ও আরএসএসের দৌরাত্ম্যে বাংলা যে চেহারা নিচ্ছে সেটা এ রাজ্যের সংস্কৃতির পরিপন্থী। বাঙালি বড়জোর ‘জয়দুর্গা’ বলতে পারে, কিন্তু ‘জয় শ্রীরাম’ বলার প্রশ্নই ওঠে না।
বিশদ

18th  July, 2019
পরিবারতান্ত্রিক সঙ্কট 
শান্তনু দত্তগুপ্ত

ছবিটা খুব পরিচিত। নিজের দলের বিরুদ্ধেই ধর্নায় বসেছেন ইন্দিরা গান্ধী। ভাঙতে চলেছে কংগ্রেস। আর তার নেপথ্যে ক্ষমতার ভারসাম্য বজায় রাখার সংঘাত। একদিকে স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা। অন্যদিকে কামরাজ, মোরারজি দেশাই, তৎকালীন কংগ্রেস সভাপতি নিজলিঙ্গাপ্পা। 
বিশদ

16th  July, 2019
মোদি সরকারের নতুন জাতীয় শিক্ষানীতি দেশকে কোন দিকে নিয়ে চলেছে
তরুণকান্তি নস্কর

নয়া শিক্ষানীতির কেন্দ্রবিন্দুই হল এই ভারতীয়ত্বের নাম করে মধ্যযুগীয় বাতিল চিন্তা ভাবনার জাবর কাটার প্রচেষ্টা। পঞ্চতন্ত্র, জাতক, হিতোপদেশের গল্পকে তাঁরা স্কুল পাঠ্য করতে চাইছেন, সংস্কৃত শিক্ষাকে গুরুত্ব দিচ্ছেন অথচ ইংরেজি ভাষা শিক্ষাকে গুরুত্বহীন করে দেখানোর চেষ্টা করেছেন। পাঠ্যতালিকায় বহু ব্যক্তির জীবনীচর্চার উল্লেখ আছে, কিন্তু সেই তালিকায় ভারতীয় নবজাগরণের পথিকৃৎ রামমোহন ও বিদ্যাসাগরের নাম সযত্নে বাদ দেওয়া হয়েছে। রামমোহন-বিদ্যাসাগরই যে এদেশে প্রথম ধর্মীয় কুসংস্কারাচ্ছন্ন শিক্ষা ব্যবস্থাকে বাতিল করে আধুনিক শিক্ষা প্রচলনের জন্য লড়াই করেছিলেন তা কারোর অজানা নয়। ভারতীয় নবজাগরণের এই মনীষীরা যে আরএসএস-বিজেপির চক্ষুশূল তা আজ জলের মতো পরিষ্কার।
বিশদ

15th  July, 2019
সাত শতাংশ বৃদ্ধির ফাঁদে
পি চিদম্বরম

 কেন্দ্রীয় সরকারের বাজেটগুলির মধ্যে ২০১৯-২০ সালের বাজেট স্বাভাবিকের তুলনায় দ্রুত জট খুলল। মানুষের মধ্যে এই বাজেট নিয়ে কিংবা আগের বাজেট প্রস্তাবটি নিয়ে কোনও আলোচনা নেই। অতিশয় ধনীরা (সুপার রিচ ৬৪৬৭) বিরক্ত, তবুও ভয়ে স্পিকটি নট। ধনীদের স্বস্তি এখানেই যে তাঁদের রেয়াত করা হয়ে থাকে।
বিশদ

15th  July, 2019
একটু ভাবুন
শুভা দত্ত

 বিশ্বের চারদিক থেকে পানীয় জল নিয়ে গুরুতর অশনিসংকেত আসার পরও আমাদের এই কলকাতা শহরে তো বটেই, গোটা রাজ্যেই প্রতিদিন বিশাল পরিমাণ জল অপচয় হয়। আপাতত বেশিরভাগ জায়গায় জলের জোগান স্বাভাবিক আছে বলে সেটা গায়ে লাগছে না। তাই এখনও আসন্ন মহাবিপদের কথাটা ভাবছেন খুব সামান্যজনই। বাদবাকিরা এখনও নির্বিকার, ভয়ডরহীন—দু’জনের সংসারে আড়াই-তিন হাজার লিটার শেষ করে দিচ্ছে দিনে, বাড়ি গাড়ি ধোয়া চালাচ্ছে কর্পোরেশনের পানীয় জলে! আহাম্মক আর কাকে বলে।
বিশদ

14th  July, 2019
বেনোজলের রাজনীতি
তন্ময় মল্লিক

জেলায় জেলায় নব্যদের নিয়ে বিজেপির আদিদের ক্ষোভ রয়েছে। আর এই ক্ষোভের অন্যতম কারণ যোগদানকারীদের বেশিরভাগই এক সময় হয় সিপিএমের হার্মাদ বাহিনীর সদস্য ছিলেন, অথবা তৃণমূলের ‘কাটমানি নেতা’। তাই এই সব নেতাকে নিয়ে স্বচ্ছ রাজনীতির স্লোগান মানুষ বিশ্বাস করবে না। উল্টে লোকসভা ভোটে যাঁরা নীরবে সমর্থন করেছিলেন, তাঁরা ফের নিঃশব্দেই মুখ ফিরিয়ে নেবেন।‘ফ্লোটিং ভোট’ যে মুখ ঘুরিয়ে নিতে পারে, সেটা বিজেপির পোড়খাওয়া নেতারা বুঝতে পারছেন। তাঁরা বলছেন, ভোটের ফল প্রকাশের পর যাঁরা আসছেন তাঁরা কেউই বিজেপির আদর্শের জন্য আসছেন না, আসছেন বাঁচার তাগিদে। কেউ কেউ লুটেপুটে খাওয়ার অভ্যাস বজায় রাখার আশায়।
বিশদ

13th  July, 2019
একনজরে
 নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: গত ৫ জুলাই কেন্দ্রীয় বাজেট পেশ করেন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমন। তার আগে কেন্দ্রীয় সরকারকে হরেক দাবিদাওয়া পেশ করেছিল অল ইন্ডিয়া জেম অ্যান্ড জুয়েলারি ডোমেস্টিক কাউন্সিল। তাদের অন্যতম দাবি ছিল, সোনার উপর আমদানি শুল্ক কমাতে হবে এবং ...

নিজস্ব প্রতিবেদন: বিশ্বকাপের বাছাই পর্বে ভারতের সঙ্গে একই গ্রুপে রয়েছে বাংলাদেশ, ওমান, আফগানিস্তান ও কাতার। বিশেষজ্ঞদের ধারণা, অপেক্ষাকৃত সহজ গ্রুপে পড়েছেন সুনীল ছেত্রী-সন্দেশ ঝিংগানরা। কিন্তু ভারতের ক্রোয়েশিয়ান কোচ ইগর স্টিম্যাচ বলেছেন, ‘গ্রুপের বাকি দলগুলির প্রত্যেককেই যথেষ্ট গুরুত্ব দিচ্ছি।’ ...

সংবাদদাতা, আলিপুরদুয়ার ও মালাবাজার: ছেলেধরা সন্দেহে সোমবার সকালে নাগরাকাটার সুখানিবস্তি এলাকায় পুলিসের সামনেই এক ভিখারিকে পাথর দিয়ে মাথা থেতলে নৃশংসভাবে খুন করার অভিযোগ উঠল। ছেলেধরা সন্দেহে নাগরাকাটায় রীতিমতো আতঙ্ক তৈরি হয়েছে।   ...

 নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ইস্ট-ওয়েস্ট পথে বাণিজ্যিকভাবে ট্রেন চালানোর চূড়ান্ত অনুমোদন চেয়ে গত মাসের শেষের দিকে ‘কমিশনার অব রেলওয়ে সেফটি’ (সিআরএস)-র কাছে আবেদন করেছিল কলকাতা মেট্রো রেল কর্পোরেশন লিমিটেড (কেএমআরসিএল)। সঙ্গে পাঠানো হয়েছিল প্রয়োজনীয় কাগজপত্রও। ...




আজকের দিনটি কিংবদন্তি গৌতম
৯১৬৩৪৯২৬২৫ / ৯৮৩০৭৬৩৮৭৩

ভাগ্য+চেষ্টা= ফল
  • aries
  • taurus
  • gemini
  • cancer
  • leo
  • virgo
  • libra
  • scorpio
  • sagittorius
  • capricorn
  • aquarius
  • pisces
aries

কর্মপ্রার্থীদের কর্মের যোগাযোগ আসবে। যে সুযোগ পাবেন তাকে সদ্ব্যবহার করুন। কর্মক্ষেত্রে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের আনুকূল্য পাবেন। ... বিশদ


ইতিহাসে আজকের দিন

১৮২৯- আমেরিকাতে টাইপরাইটারের পূর্বসুরী টাইপোগ্রাফার পেটেন্ট করেন উইলিয়াম অস্টিন বার্ড।
১৮৫৬- স্বাধীনতা সংগ্রামী বাল গঙ্গাধর তিলকের জন্ম
১৮৮১ - আন্তর্জাতিক ক্রীড়া সংস্থাগুলির মধ্যে সবচেয়ে পুরাতন আন্তর্জাতিক জিমন্যাস্টিক ফেডারেশন প্রতিষ্ঠিত হয়।
১৮৯৫- চিত্রশিল্পী মুকুল দের জন্ম
১৯৯৫- হেল-বপ ধূমকেতু আবিস্কার হয়। পরের বছরের গোড়ায় সেটি খালি চোখে দৃশ্যমান হয়।
২০০৪- অভিনেতা মেহমুদের মৃত্যু
২০১২- আই এন এ’ যোদ্ধা লক্ষ্মী সায়গলের মৃত্যু

ক্রয়মূল্য বিক্রয়মূল্য
ডলার 67.49 70.53
পাউন্ড 84.31 88.37
ইউরো 75.63 79.29
[ স্টেট ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়া থেকে পাওয়া দর ]
পাকা সোনা (১০ গ্রাম) ৩৫,৫৩৫ টাকা
গহনা সোনা (১০ (গ্রাম) ৩৩,৭১৫ টাকা
হলমার্ক গহনা (২২ ক্যারেট ১০ গ্রাম) ৪৪,২২০ টাকা
রূপার বাট (প্রতি কেজি) ৪০,৮৫০ টাকা
রূপা খুচরো (প্রতি কেজি) ৪০,৯৫০ টাকা
[ মূল্যযুক্ত ৩% জি. এস. টি আলাদা ]

দিন পঞ্জিকা

৬ শ্রাবণ ১৪২৬, ২৩ জুলাই ২০১৯, মঙ্গলবার, ষষ্ঠী ২৭/৫২ অপঃ ৪/১৬। উত্তরভাদ্রপদ ২০/১৫ দিবা ১/১৪। সূ উ ৫/৭/৪২, অ ৬/১৮/১৭, অমৃতযোগ দিবা ৭/৪৬ গতে ১০/২৪ মধ্যে পুনঃ ১/২ গতে ২/৪৮ মধ্যে পুনঃ ৩/৪০ গতে ৫/২৬ মধ্যে। রাত্রি ৭/১ মধ্যে পুনঃ ৯/১১ গতে ১১/২১ মধ্যে পুনঃ ১/৩১ গতে ২/৫৮ মধ্যে, বারবেলা ৬/৪৭ গতে ৮/২৫ মধ্যে পুনঃ ১/২২ গতে ৩/১ মধ্যে, কালরাত্রি ৭/৩৯ গতে ৯/০ মধ্যে।
৬ শ্রাবণ ১৪২৬, ২৩ জুলাই ২০১৯, মঙ্গলবার, ষষ্ঠী ১৮/৪৭/৯ দিবা ১২/৩৭/৪। উত্তরভাদ্রপদনক্ষত্র ১৪/২৯/১২ দিবা ১০/৫৩/৫৩, সূ উ ৫/৬/১২, অ ৬/২১/২৮, অমৃতযোগ দিবা ৭/৪৯ গতে ১০/২৪ মধ্যে ও ১/০ গতে ২/৪৪ মধ্যে ও ৩/৩৬ গতে ৫/১৯ মধ্যে এবং রাত্রি ৬/৫৫ মধ্যে ও ৯/৮ গতে ১১/২০ মধ্যে ও ১/৩২ গতে ৩/১ মধ্যে, বারবেলা ৬/৪৫/৩৬ গতে ৮/২৫/১ মধ্যে, কালবেলা ১/২৩/১৪ গতে ৩/২/৩৯ মধ্যে, কালরাত্রি ৭/৪২/৪ গতে ৯/২/৩৯ মধ্যে।
১৯ জেল্কদ

ছবি সংবাদ

এই মুহূর্তে
  সল্টলেকের বিএসএনএল-এর অফিসে আগুন
সল্টলেকের ১৩ নম্বর ট্যাঙ্কের বিএসএন এল-এর নোভাল সেন্টারে আগুন লেগেছে। ...বিশদ

22-07-2019 - 09:50:50 PM

বরানগর জুট মিলে আগুন, অকুস্থলে দমকলের ৪টি ইঞ্জিন 

22-07-2019 - 07:18:32 PM

কালিকাপুরে সোনার গয়না চুরির অভিযোগে গ্রেপ্তার পরিচারিকা 

22-07-2019 - 06:20:00 PM

মহেশতলায় দুটি গাড়ির সংঘর্ষ, আহত ৬ 
অটো এবং ৪০৭ গাড়ির মুখোমুখি সংঘর্ষে আহত ছ’জন। জানা গিয়েছে, ...বিশদ

22-07-2019 - 06:18:00 PM

ফুলশয্যার দিনেই আত্মঘাতী গৃহবধু 
ফুলশয্যার দিনেই আত্মঘাতী হলেন এক গৃহবধু। মৃতার নাম প্রিয়াঙ্কা সর্দার ...বিশদ

22-07-2019 - 06:05:00 PM

বজবজ ফাঁড়ির কাছে পচাগলা দেহ উদ্ধার
 

পচাগলা দেহ উদ্ধার হলো বজবজ ফাঁড়ির সংলগ্ন এলাকায়। এই ঘটনায় ...বিশদ

22-07-2019 - 05:34:26 PM