Bartaman Patrika
বিশেষ নিবন্ধ
 

বিধানসভা ভোট কিন্তু হবে মমতাকে দেখেই
শান্তনু দত্তগুপ্ত 

ইন্দিরা গান্ধীর টার্গেট ছিল একটাই। যেভাবে হোক সিপিএমের কোমর ভেঙে দিতে হবে। তিনি মনে করতেন, সিপিএম আসলে সিআইএ’র মদতপুষ্ট। ঠিকঠাক সুযোগ পেলে পূর্ববঙ্গ এবং পশ্চিমবঙ্গে সশস্ত্র আন্দোলন করিয়ে বৃহত্তর বাংলা গঠন করে ফেলবে। কাজেই বাংলা কংগ্রেস এবং সিপিআই পছন্দের তালিকায় থাকলেও সিপিএমকে মোটে বরদাস্ত করতে পারতেন না ইন্দিরা। তার উপর ১৯৬৭ এবং ’৬৯ সালে কংগ্রেসের গরিমা ধূলিসাৎ করে পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতায় এসে গিয়েছে অজয় মুখোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন যুক্তফ্রন্ট সরকার। বহু শরিকের সমাহার। বাংলার মানুষ ভেবেছিল, এই সরকার উন্নয়নের নয়া দিশা দেখাবে। দিল্লি থেকে অন্তত একে পরিচালিত হতে হবে না। শেষ পর্যন্ত মানুষের ভরসা তারা রাখতে পারেনি। শুধু মানুষ বললে কম বলা হয়, স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রী অজয় মুখোপাধ্যায় আস্থা রাখতে পারেননি তাঁর যুক্তফ্রন্টে। যার প্রধান কারণ ছিল অবশ্যই সিপিএম এবং জ্যোতি বসু। ১৯৭০ সালে অজয়বাবুর ইস্তফার পর মোক্ষম চালটা দিয়েছিলেন ইন্দিরা। দপ্তরবিহীন মন্ত্রী করে পশ্চিমবঙ্গে বসিয়ে দিয়েছিলেন সিদ্ধার্থশঙ্কর রায়কে। ততদিনে মুক্তিযুদ্ধের দামামা বেজে গিয়েছে। সিদ্ধার্থশঙ্করের কাছে বার্তা পৌঁছে গেল, প্রস্তুত হও। যুদ্ধ শেষ হলেই বাংলায় নির্বাচন করাব। কথা রেখেছিলেন ইন্দিরা। মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ায় জম্মু-কাশ্মীর, গুজরাত, পাঞ্জাব, রাজস্থান, হিমাচল প্রদেশ, মধ্যপ্রদেশ, মহারাষ্ট্র, মহীশূর, অন্ধ্র ও অসমে বিধানসভা নির্বাচন হওয়ার কথাই ছিল। তার সঙ্গে ইন্দিরা জুড়ে দিলেন পশ্চিমবঙ্গ ও বিহারকে। পাকিস্তানকে সদ্য দুরমুশ করে আসার মহাপরাক্রমে বলীয়ান হয়ে দেশজুড়ে কংগ্রেসের পতাকা উড়িয়ে দিলেন ইন্দিরা গান্ধী। পশ্চিমবঙ্গেও কংগ্রেস ফিরল ২৮০টির মধ্যে ২১৬টি আসন নিয়ে। মানুষ মুখ ফিরিয়ে নিল অজয় মুখোপাধ্যায় তথা যুক্তফ্রন্টের প্রত্যেক শরিকের থেকে। কেন? সুযোগ পেয়েও বাংলার মানুষের আস্থার মর্যাদা তাঁরা রাখতে পারেননি। আর ’৭৫ সালে সেই আস্থার বিসর্জন দিয়েছিলেন ইন্দিরা গান্ধী। মামলা, দলের নিয়ন্ত্রণ হাতের বাইরে চলে যাওয়া, জরুরি অবস্থা...। এরাজ্যে নকশাল আন্দোলনও তাতে অনুঘটকের কাজ করেছিল। পরবর্তী নির্বাচনে ক্ষমতায় এসেছিল কমিউনিস্ট পার্টি। যাদের বিদায়ে সময় লেগে গিয়েছিল ৩৪ বছর। সেই জগদ্দল পাথরকে যিনি দীর্ঘ লড়াইয়ের পর সরাতে সক্ষম হয়েছিলেন, তাঁর নাম মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ২০১১ ছিল পরিবর্তনের সরকার। সিঙ্গুর, নন্দীগ্রাম, নেতাই... একের পর এক আন্দোলনে মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে, সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়ে এই ক্ষমতা তিনি অর্জন করেছিলেন। কেউ প্লেটে সাজিয়ে তাঁর হাতে তুলে দেয়নি। এবং মানুষ তাঁর উপর আস্থা রেখেছে। ২০১৬ সালের বিধানসভা ভোটই যার প্রমাণ।
এখন প্রশ্ন উঠতেই পারে, সদ্য শেষ হওয়া লোকসভা নির্বাচনে বিজেপির ১৮টি আসন নিয়ে আশাতীত উত্থানের পর কোন প্রেক্ষিতে বলা যায় যে, বাংলার মানুষ মমতার উপর আস্থা রেখেছে? ক্ষমতা দখলের রাজনীতির কিছু ধূসর প্রেক্ষাপট আছে। যা সাদা চোখে দেখা যায় না। আমরা বুঝি শুধু কিছু সমীকরণ। রাজনীতির সোজা-সাপটা অঙ্ক। সেই অঙ্কে মমতার ভরাডুবিটাই আজ সামনে আসছে। ধূসর অংশে ঢাকা পড়ে রয়েছে অগ্নিকন্যা বিশেষণে ভূষিত বাংলার নেত্রীর প্রবল জনপ্রিয়তা। মানুষের মধ্যে কি ক্ষোভ নেই? আছে। থাকাটাই স্বাভাবিক। একটা সরকার যদি আট বছর রাজত্ব করে, তাহলে প্রতিষ্ঠান বিরোধিতার হাওয়া তার গায়ে লাগতে বাধ্য। একজন কখনও সবার কাছে সমানভাবে প্রিয় হতে পারে না। আমাদের সমাজটাই হল দাঁড়িপাল্লার মতো। একজনের কাছে ভালো হতে গেলে অন্যজনের গোঁসা হবে। তৃণমূল সরকারের ক্ষেত্রেও হয়েছে। কিন্তু ৩৪ থেকে ২২টি আসনে নেমে যাওয়ার পর কয়েকটা বিষয় আমরা বিবেচনায় আনতে ভুলে যাচ্ছি। প্রথমত, গণিতের যে কোনও প্যাটার্নে ২২ সংখ্যাটি ১৮’র থেকে বেশি। তৃণমূল ২২টি আসন পেয়েছে। একটি-দু’টি নয়! দ্বিতীয়ত, তৃণমূল কংগ্রেসের এই জয়ের নেপথ্যে এখনও কিন্তু রয়েছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জনপ্রিয়তা। আজ প্রতিষ্ঠান বিরোধিতার চাদরে ঢাকা পড়ে তৃণমূল দল কিংবা নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে ক্ষোভ জন্মাতে পারে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এখনও রাজ্যের সব প্রান্তে গ্রহণযোগ্য। যে তৃণমূল সমর্থকরা সদ্য সমাপ্ত লোকসভা ভোটে বিজেপির প্রতীকে ভোট দিয়েছেন, তাঁদের অভিমান থাকতে পারে নেত্রীর প্রতি। তা এখনও ক্ষোভের রূপ নেয়নি। তৃতীয়ত, এটা ছিল লোকসভা ভোট। দেশের সরকার গড়ার পরীক্ষা। কোনও একটা রাজ্যের নয়! রাহুল গান্ধী ভোটের বছর খানেক আগে থেকে যতই সিংহবিক্রমে বিজেপির বিরোধিতা করুন না কেন, ভারতবাসী দেখিয়ে দিয়েছে এই মুহূর্তে নরেন্দ্র মোদির কোনও বিকল্প নেই। প্রধানমন্ত্রী পদে এখনও কোনও নেতা বা নেত্রী তেমন জায়গা তৈরি করে উঠতে পারেননি। যদি বিরোধী মহাজোট বাস্তব রূপ পেত, তাহলে অবশ্যই একটা বিকল্প ভাবনা আসার সম্ভাবনা ছিল। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রবল প্রচেষ্টা সত্ত্বেও যা সম্ভব হয়নি। প্রত্যেক আঞ্চলিক দলেরই নিজস্ব এজেন্ডা আছে। এ বলেন আমি প্রধানমন্ত্রী হব, তো সেটা শুনে আর একজন মাথা তোলেন... আমিও যোগ্য! পরিস্থিতি এমন হলে আর যাই হোক, জোটের স্বপ্ন সফল হওয়া সম্ভব নয়। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের একের বিরুদ্ধে একের ফর্মুলাও তাই দিনের আলো দেখল না! উত্তরপ্রদেশে সমাজবাদী পার্টি এবং বহুজন সমাজ পার্টি জোট গড়ল। কংগ্রেসকে নিল না। ফলে কংগ্রেস আলাদা প্রার্থী দিল। ভোট কাটাকাটি করে বিজেপির ঝুলিতে একগাদা আসন তুলে দেওয়ার রাস্তাও প্রশস্ত হয়ে গেল।
মোদি-ঝড়। ২০১৪ সালে যা ছিল স্বতঃপ্রণোদিত। ২০১৯ সালে পৌঁছে যা হয়েছে অনেক বেশি অর্গানাইজড। বছর খানেকের বেশি সময় ধরে বিজেপি তথা নরেন্দ্র মোদি-অমিত শাহ জুটি এই ঝড়ের পথ বানিয়েছে। বাস্তবিকই এটা ছিল সোশ্যাল মিডিয়া নির্বাচন। বিজেপি অত্যন্ত কৌশলে সমাজের বিভিন্ন স্তরের এবং আর্থিক সঙ্গতির মানুষের জন্য আলাদা আলাদা হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ বানিয়েছে। তাতে চালানো হয়েছে নিঃশব্দ প্রচার। সরাসরি প্রশ্ন করলে অবশ্য বিজেপির পক্ষ থেকে সবটাই অস্বীকার করা হয়েছে। কারণ, গোটাটাই দলের রঙের বাইরে গিয়ে। আলাদা সংস্থা বা সংগঠন বানিয়ে। অন্যান্য রাজনৈতিক দলগুলিও সোশ্যাল মিডিয়ায় জোর দিয়েছিল। কিন্তু তারা বিজেপির সঙ্গে পাল্লা দিতে পারেনি। এবং অবশ্যই, মোদি ছাড়া অন্য কেউ স্থিতিশীল সরকার দেবে বলে দেশবাসীর মনে হয়নি। সেটাই এবারের মোদি-ঝড়ের আর একটা গুরুত্বপূর্ণ কারণ। তার উপর, ইন্দিরা গান্ধীর মতো মুক্তিযুদ্ধ না থাকলেও মোদির সার্জিকাল স্ট্রাইক এবং বালাকোট রয়েছে। পাকিস্তান বা জাতীয়তাবাদী ইস্যু চিরকাল ভারতের ভোটারদের ভালো খাদ্য। খুড়োর কলে জাতীয়দাবাদ ঝুলিয়ে বিজেপি প্রচার চালিয়ে গিয়েছে। আর এই বিপুল জয়।
নরেন্দ্র মোদি আর যাই হোন, ইন্দিরা গান্ধী নন। আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির দোহাই দিয়ে বাংলায় জরুরি অবস্থা জারি করা তাঁর পক্ষে একটু মুশকিল। রাজ্যসভার যে সমর্থন এক্ষেত্রে তাঁর প্রয়োজন হবে, তা মোদি পাবেন না। পাশাপাশি পশ্চিমবঙ্গে সরকার ভেঙে দিলে ক্ষমতায় আসার মতো আত্মবিশ্বাস এবং বিধায়ক সংখ্যা প্রয়োজন। যার কোনও দিশা এখনও পর্যন্ত দেখা যাচ্ছে না। শাসক দলের ১০০ বিধায়ক বিজেপিতে যোগ দেওয়ার জন্য মুখিয়ে আছেন বলে যত ঢাকের আওয়াজ শোনা যাচ্ছিল, তেমন বাজনাও আর কানে আসছে না। কারণ, সরকার ভেঙে বিধানসভায় অনাস্থা আনতে গেলে অন্তত ৭০ থেকে ৮০ জন তৃণমূল বিধায়ককে বিজেপিতে যেতে হবে। সেটা এই মুহূর্তে খুব সম্ভব কি? দু’বছর বাকি বিধানসভা নির্বাচনের। ধরে নেওয়া যাক, পশ্চিমবঙ্গের বহু এমএলএ গেরুয়া শিবিরের দিকে পা বাড়িয়ে রয়েছেন। তাঁরা যদি এখনই দল বদল করেন, তাহলে আগামী দু’বছর করেকম্মে খাওয়ার সুযোগ হারাবেন। আর তাঁদের দ্বিতীয় আশঙ্কার কারণ অবশ্যই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সরকারি প্রকল্প থেকে কাটমানি খাওয়া বা তোলাবাজি ঠেকানোর ক্ষেত্রে কঠোর পদক্ষেপ নিতে শুরু করেছেন তিনি। এভাবে যদি মমতা দলের ক্ষয়ে যাওয়া অংশগুলিকে বাদ দিয়ে দিতে পারেন, মানুষ আবার তাঁকে দু’হাত তুলে আশীর্বাদ করবে।
সবচেয়ে বড় কথা, বিধানসভা ভোটটা হবে কিন্তু মমতাকে দেখে। সেখানে নরেন্দ্র মোদি নগণ্য। কেন্দ্রে সরকার নির্বাচনের সময় ভোটারদের মনে তাঁর গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে হয়তো কোনও প্রশ্ন নেই। কিন্তু তিনি তো আর বাংলার মুখ্যমন্ত্রিত্বের জন্য লড়াই করবেন না! তাহলে বিজেপির মুখ কে? তিনি যেই হোন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের থেকে বেশি শক্তিশালী হবেন না। তাঁর জনপ্রিয়তাও মমতার মতো হবে না। এক বন্ধুর থেকে শোনা... ফাঁসিদেওয়ার একটি ভাতের হোটেলে বসে খাচ্ছিলেন। বাইরে বিজেপির পতাকা দেখে হোটেল মালিককে জিজ্ঞাসা করেন, ‘আপনারা এখানে কি সবাই বিজেপি হয়ে গিয়েছেন?’ ভদ্রলোক কিছু না বলে শুধু একটু হাসলেন। ডাকলেন তাঁর বউদিকে... ‘দেখুন, আমার বউদি, তৃণমূলের পঞ্চায়েত সদস্যা। বিজেপির পতাকা যা দেখছেন, সব এই লোকসভা ভোটে। বিধানসভায় আবার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আসবেন।’
রাজ্যের বাস্তব চিত্র কিন্তু এখনও এটাই। এখন হাতি কাদায় পড়েছে। সময় ভালো যাচ্ছে না... বিরুদ্ধ ইস্যু তৈরি হচ্ছে, যা করতে যাচ্ছেন সেটা ঠিকঠাক হচ্ছে না। আর সেই সুযোগে মাছিও তাকে লাথি মেরে যাচ্ছে। এমন পরিস্থিতি দু’বছর পরও থাকবে তো? একটা সময় লোকসভা নির্বাচনে দলের মাত্র একটি আসন পেয়েও হারিয়ে যাননি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ফিরে এসেছিলেন সসম্মানে। মহা পরাক্রমে। এবারও যদি তিনি ঘুরে দাঁড়ান, তাঁর বিরুদ্ধে খোল-করতাল বাজানেওয়ালাদের খুঁজে পাওয়া যাবে তো? 
18th  June, 2019
একশো পঁচিশে সংসদের বাঙালি পণ্ডিত
হারাধন চৌধুরী

কাটমানি আর ব্ল্যাকমানির তরজায় দেশের রাজনীতি আজ বিপন্নপ্রায়। রাজনীতির প্রতি শ্রদ্ধা ও আগ্রহ নষ্ট হচ্ছে সাধারণ মানুষের, বিশেষত শিক্ষিত যুব সম্প্রদায়ের। এ লক্ষণ সুখের নয়—মানুষের জন্য, রাষ্ট্রের জন্য—কারও জন্যই নয়।
বিশদ

৫, ১০, ২০ ট্রিলিয়ন ডলার অর্থনীতির পথে
পি চিদম্বরম

রাজ্যসভায় ২০১৯-২০ বাজেট নিয়ে বক্তব্য রাখার সময় বলেছিলাম, ‘‘যদি জিডিপির স্বাভাবিক বৃদ্ধির হার ১২ শতাংশ হয় তবে প্রতি ছ’বছরে জিডিপির আকারটা দ্বিগুণ হয়ে যাবে। আর বৃদ্ধির হারটা যদি নমিনাল ১১ শতাংশ হয় তবে জিডিপি দ্বিগুণ হতে সময় নেবে সাত বছর।
বিশদ

22nd  July, 2019
২১ জুলাই সমাবেশ: মমতা কী বার্তা দেন জানতে উৎসুক বাংলা
শুভা দত্ত

ওই মর্মান্তিক ঘটনার পর থেকে প্রতিবছর মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই দিনটিতে বড়সড় সমাবেশের আয়োজন করে তাঁর প্রয়াত সহযোদ্ধাদের প্রতি শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেন।
বিশদ

21st  July, 2019
ছোটদের বড় করতে হলে আগে শুধরাতে হবে নিজেকে
পার্থজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়

সব থেকে ভালো হয়, যদি আপনার ‘বাছা’কে নিজের মতো বেড়ে উঠতে দেন। আনন্দে বেড়ে উঠুক। আলো চিনিয়ে দিন, অন্ধকার চিনিয়ে দিন। লক্ষ্য রাখুন, ঠিকঠাক এগচ্ছে কি না! সামনে পিছনে কত ফাঁদ, চোরাবালি। আপনিই ঈশ্বর, ওকে রক্ষা করুন। ছোটদের ‘বড়’ করতে হলে আগে শুধরাতে হবে নিজেকে। দয়া করে ওর উপর মাতব্বরি করবেন না, হ্যাঁ আমরা মাতব্বরিই করি।
বিশদ

20th  July, 2019
জন্ম এবং মৃত্যুর দ্বান্দ্বিক বস্তুবাদ
শুভময় মৈত্র

সম্প্রতি অকস্মাৎ আমার একটি বন্ধুর মৃত্যু হয়েছে। এই উপলক্ষে জগতে সকলের চেয়ে পরিচিত যে মৃত্যু তার সঙ্গে আর-একবার নূতন পরিচয় হল। জগৎটা গায়ের চামড়ার মতো আঁকড়ে ধরেছিল, মাঝখানে কোনো ফাঁক ছিল না। মৃত্যু যখন প্রত্যক্ষ হল তখন সেই জগৎটা যেন কিছু দূরে চলে গেল, আমার সঙ্গে আর যেন সে অত্যন্ত সংলগ্ন হয়ে রইল না।
——— রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
বিশদ

20th  July, 2019
অ্যাপোলো ৫০: গো ফর দ্য মুন
মৃণালকান্তি দাস

 মই বেয়ে লুনার মডিউল ঈগল থেকে চাঁদের বুকে নামতে নামতে নিল আর্মস্ট্রং বলেছিলেন, ‘একজন মানুষের এই একটি পদক্ষেপ হবে মানবজাতির জন্য এক বিরাট অগ্রযাত্রা।’ সেই ছিল চাঁদের বুকে মানুষের প্রথম পদচিহ্ন আর মানবজাতির সেদিনের প্রমিথিউস ছিলেন নিল আর্মস্ট্রং। চাঁদের বুকে নিলের পা ফেলার মাধ্যমে মানুষ চাঁদকে জয় করেছিল।
বিশদ

19th  July, 2019
বাঙালির যে সংস্কৃতি হারিয়ে গেল
জিষ্ণু বসু

ইদানীং রাজ্যে একটা গেল গেল রব শোনা যাচ্ছে। বাঙালি তার সংস্কৃতি হারাচ্ছে। বিজেপি ও আরএসএসের দৌরাত্ম্যে বাংলা যে চেহারা নিচ্ছে সেটা এ রাজ্যের সংস্কৃতির পরিপন্থী। বাঙালি বড়জোর ‘জয়দুর্গা’ বলতে পারে, কিন্তু ‘জয় শ্রীরাম’ বলার প্রশ্নই ওঠে না।
বিশদ

18th  July, 2019
পরিবারতান্ত্রিক সঙ্কট 
শান্তনু দত্তগুপ্ত

ছবিটা খুব পরিচিত। নিজের দলের বিরুদ্ধেই ধর্নায় বসেছেন ইন্দিরা গান্ধী। ভাঙতে চলেছে কংগ্রেস। আর তার নেপথ্যে ক্ষমতার ভারসাম্য বজায় রাখার সংঘাত। একদিকে স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা। অন্যদিকে কামরাজ, মোরারজি দেশাই, তৎকালীন কংগ্রেস সভাপতি নিজলিঙ্গাপ্পা। 
বিশদ

16th  July, 2019
মোদি সরকারের নতুন জাতীয় শিক্ষানীতি দেশকে কোন দিকে নিয়ে চলেছে
তরুণকান্তি নস্কর

নয়া শিক্ষানীতির কেন্দ্রবিন্দুই হল এই ভারতীয়ত্বের নাম করে মধ্যযুগীয় বাতিল চিন্তা ভাবনার জাবর কাটার প্রচেষ্টা। পঞ্চতন্ত্র, জাতক, হিতোপদেশের গল্পকে তাঁরা স্কুল পাঠ্য করতে চাইছেন, সংস্কৃত শিক্ষাকে গুরুত্ব দিচ্ছেন অথচ ইংরেজি ভাষা শিক্ষাকে গুরুত্বহীন করে দেখানোর চেষ্টা করেছেন। পাঠ্যতালিকায় বহু ব্যক্তির জীবনীচর্চার উল্লেখ আছে, কিন্তু সেই তালিকায় ভারতীয় নবজাগরণের পথিকৃৎ রামমোহন ও বিদ্যাসাগরের নাম সযত্নে বাদ দেওয়া হয়েছে। রামমোহন-বিদ্যাসাগরই যে এদেশে প্রথম ধর্মীয় কুসংস্কারাচ্ছন্ন শিক্ষা ব্যবস্থাকে বাতিল করে আধুনিক শিক্ষা প্রচলনের জন্য লড়াই করেছিলেন তা কারোর অজানা নয়। ভারতীয় নবজাগরণের এই মনীষীরা যে আরএসএস-বিজেপির চক্ষুশূল তা আজ জলের মতো পরিষ্কার।
বিশদ

15th  July, 2019
সাত শতাংশ বৃদ্ধির ফাঁদে
পি চিদম্বরম

 কেন্দ্রীয় সরকারের বাজেটগুলির মধ্যে ২০১৯-২০ সালের বাজেট স্বাভাবিকের তুলনায় দ্রুত জট খুলল। মানুষের মধ্যে এই বাজেট নিয়ে কিংবা আগের বাজেট প্রস্তাবটি নিয়ে কোনও আলোচনা নেই। অতিশয় ধনীরা (সুপার রিচ ৬৪৬৭) বিরক্ত, তবুও ভয়ে স্পিকটি নট। ধনীদের স্বস্তি এখানেই যে তাঁদের রেয়াত করা হয়ে থাকে।
বিশদ

15th  July, 2019
একটু ভাবুন
শুভা দত্ত

 বিশ্বের চারদিক থেকে পানীয় জল নিয়ে গুরুতর অশনিসংকেত আসার পরও আমাদের এই কলকাতা শহরে তো বটেই, গোটা রাজ্যেই প্রতিদিন বিশাল পরিমাণ জল অপচয় হয়। আপাতত বেশিরভাগ জায়গায় জলের জোগান স্বাভাবিক আছে বলে সেটা গায়ে লাগছে না। তাই এখনও আসন্ন মহাবিপদের কথাটা ভাবছেন খুব সামান্যজনই। বাদবাকিরা এখনও নির্বিকার, ভয়ডরহীন—দু’জনের সংসারে আড়াই-তিন হাজার লিটার শেষ করে দিচ্ছে দিনে, বাড়ি গাড়ি ধোয়া চালাচ্ছে কর্পোরেশনের পানীয় জলে! আহাম্মক আর কাকে বলে।
বিশদ

14th  July, 2019
বেনোজলের রাজনীতি
তন্ময় মল্লিক

জেলায় জেলায় নব্যদের নিয়ে বিজেপির আদিদের ক্ষোভ রয়েছে। আর এই ক্ষোভের অন্যতম কারণ যোগদানকারীদের বেশিরভাগই এক সময় হয় সিপিএমের হার্মাদ বাহিনীর সদস্য ছিলেন, অথবা তৃণমূলের ‘কাটমানি নেতা’। তাই এই সব নেতাকে নিয়ে স্বচ্ছ রাজনীতির স্লোগান মানুষ বিশ্বাস করবে না। উল্টে লোকসভা ভোটে যাঁরা নীরবে সমর্থন করেছিলেন, তাঁরা ফের নিঃশব্দেই মুখ ফিরিয়ে নেবেন।‘ফ্লোটিং ভোট’ যে মুখ ঘুরিয়ে নিতে পারে, সেটা বিজেপির পোড়খাওয়া নেতারা বুঝতে পারছেন। তাঁরা বলছেন, ভোটের ফল প্রকাশের পর যাঁরা আসছেন তাঁরা কেউই বিজেপির আদর্শের জন্য আসছেন না, আসছেন বাঁচার তাগিদে। কেউ কেউ লুটেপুটে খাওয়ার অভ্যাস বজায় রাখার আশায়।
বিশদ

13th  July, 2019
একনজরে
সংবাদদাতা, রামপুরহাট: নলহাটি থানার মাঠকলিঠা গ্রামে এক গৃহবধূর অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়াল। পুলিস জানিয়েছে, মৃতার নাম প্রতিমা দাস(২৮)। তাঁর বাপেরবাড়ি মুরারই থানার খানপুর গ্রামে। বছর পাঁচেক আগে মাঠকলিঠার বাসিন্দা পেশায় সিভিক ভলান্টিয়ার পলাশ দাসের সঙ্গে তাঁর বিয়ে হয়।   ...

নিজস্ব প্রতিবেদন: বিশ্বকাপের বাছাই পর্বে ভারতের সঙ্গে একই গ্রুপে রয়েছে বাংলাদেশ, ওমান, আফগানিস্তান ও কাতার। বিশেষজ্ঞদের ধারণা, অপেক্ষাকৃত সহজ গ্রুপে পড়েছেন সুনীল ছেত্রী-সন্দেশ ঝিংগানরা। কিন্তু ভারতের ক্রোয়েশিয়ান কোচ ইগর স্টিম্যাচ বলেছেন, ‘গ্রুপের বাকি দলগুলির প্রত্যেককেই যথেষ্ট গুরুত্ব দিচ্ছি।’ ...

 নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: তাঁরা পঞ্চায়েত এলাকায় কর আদায় করেন। তাঁদের মাধ্যমে যে টাকা আদায় হয়, তার উপর অনেকটাই নির্ভর করে পঞ্চায়েতের আয়। মোটা টাকার অনুদান পাওয়ার ক্ষেত্রেও পঞ্চায়েতের ভরসা তাঁরাই। অথচ গ্রাম পঞ্চায়েতের ট্যাক্স কালেক্টরদের ন্যায্য টাকা দেওয়ার ক্ষেত্রে চরম ...

সংবাদদাতা, আলিপুরদুয়ার ও মালাবাজার: ছেলেধরা সন্দেহে সোমবার সকালে নাগরাকাটার সুখানিবস্তি এলাকায় পুলিসের সামনেই এক ভিখারিকে পাথর দিয়ে মাথা থেতলে নৃশংসভাবে খুন করার অভিযোগ উঠল। ছেলেধরা সন্দেহে নাগরাকাটায় রীতিমতো আতঙ্ক তৈরি হয়েছে।   ...




আজকের দিনটি কিংবদন্তি গৌতম
৯১৬৩৪৯২৬২৫ / ৯৮৩০৭৬৩৮৭৩

ভাগ্য+চেষ্টা= ফল
  • aries
  • taurus
  • gemini
  • cancer
  • leo
  • virgo
  • libra
  • scorpio
  • sagittorius
  • capricorn
  • aquarius
  • pisces
aries

কর্মপ্রার্থীদের কর্মের যোগাযোগ আসবে। যে সুযোগ পাবেন তাকে সদ্ব্যবহার করুন। কর্মক্ষেত্রে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের আনুকূল্য পাবেন। ... বিশদ


ইতিহাসে আজকের দিন

১৮২৯- আমেরিকাতে টাইপরাইটারের পূর্বসুরী টাইপোগ্রাফার পেটেন্ট করেন উইলিয়াম অস্টিন বার্ড।
১৮৫৬- স্বাধীনতা সংগ্রামী বাল গঙ্গাধর তিলকের জন্ম
১৮৮১ - আন্তর্জাতিক ক্রীড়া সংস্থাগুলির মধ্যে সবচেয়ে পুরাতন আন্তর্জাতিক জিমন্যাস্টিক ফেডারেশন প্রতিষ্ঠিত হয়।
১৮৯৫- চিত্রশিল্পী মুকুল দের জন্ম
১৯৯৫- হেল-বপ ধূমকেতু আবিস্কার হয়। পরের বছরের গোড়ায় সেটি খালি চোখে দৃশ্যমান হয়।
২০০৪- অভিনেতা মেহমুদের মৃত্যু
২০১২- আই এন এ’ যোদ্ধা লক্ষ্মী সায়গলের মৃত্যু

ক্রয়মূল্য বিক্রয়মূল্য
ডলার 67.49 70.53
পাউন্ড 84.31 88.37
ইউরো 75.63 79.29
[ স্টেট ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়া থেকে পাওয়া দর ]
পাকা সোনা (১০ গ্রাম) ৩৫,৫৩৫ টাকা
গহনা সোনা (১০ (গ্রাম) ৩৩,৭১৫ টাকা
হলমার্ক গহনা (২২ ক্যারেট ১০ গ্রাম) ৪৪,২২০ টাকা
রূপার বাট (প্রতি কেজি) ৪০,৮৫০ টাকা
রূপা খুচরো (প্রতি কেজি) ৪০,৯৫০ টাকা
[ মূল্যযুক্ত ৩% জি. এস. টি আলাদা ]

দিন পঞ্জিকা

৬ শ্রাবণ ১৪২৬, ২৩ জুলাই ২০১৯, মঙ্গলবার, ষষ্ঠী ২৭/৫২ অপঃ ৪/১৬। উত্তরভাদ্রপদ ২০/১৫ দিবা ১/১৪। সূ উ ৫/৭/৪২, অ ৬/১৮/১৭, অমৃতযোগ দিবা ৭/৪৬ গতে ১০/২৪ মধ্যে পুনঃ ১/২ গতে ২/৪৮ মধ্যে পুনঃ ৩/৪০ গতে ৫/২৬ মধ্যে। রাত্রি ৭/১ মধ্যে পুনঃ ৯/১১ গতে ১১/২১ মধ্যে পুনঃ ১/৩১ গতে ২/৫৮ মধ্যে, বারবেলা ৬/৪৭ গতে ৮/২৫ মধ্যে পুনঃ ১/২২ গতে ৩/১ মধ্যে, কালরাত্রি ৭/৩৯ গতে ৯/০ মধ্যে।
৬ শ্রাবণ ১৪২৬, ২৩ জুলাই ২০১৯, মঙ্গলবার, ষষ্ঠী ১৮/৪৭/৯ দিবা ১২/৩৭/৪। উত্তরভাদ্রপদনক্ষত্র ১৪/২৯/১২ দিবা ১০/৫৩/৫৩, সূ উ ৫/৬/১২, অ ৬/২১/২৮, অমৃতযোগ দিবা ৭/৪৯ গতে ১০/২৪ মধ্যে ও ১/০ গতে ২/৪৪ মধ্যে ও ৩/৩৬ গতে ৫/১৯ মধ্যে এবং রাত্রি ৬/৫৫ মধ্যে ও ৯/৮ গতে ১১/২০ মধ্যে ও ১/৩২ গতে ৩/১ মধ্যে, বারবেলা ৬/৪৫/৩৬ গতে ৮/২৫/১ মধ্যে, কালবেলা ১/২৩/১৪ গতে ৩/২/৩৯ মধ্যে, কালরাত্রি ৭/৪২/৪ গতে ৯/২/৩৯ মধ্যে।
১৯ জেল্কদ

ছবি সংবাদ

এই মুহূর্তে
  সল্টলেকের বিএসএনএল-এর অফিসে আগুন
সল্টলেকের ১৩ নম্বর ট্যাঙ্কের বিএসএন এল-এর নোভাল সেন্টারে আগুন লেগেছে। ...বিশদ

22-07-2019 - 09:50:50 PM

বরানগর জুট মিলে আগুন, অকুস্থলে দমকলের ৪টি ইঞ্জিন 

22-07-2019 - 07:18:32 PM

কালিকাপুরে সোনার গয়না চুরির অভিযোগে গ্রেপ্তার পরিচারিকা 

22-07-2019 - 06:20:00 PM

মহেশতলায় দুটি গাড়ির সংঘর্ষ, আহত ৬ 
অটো এবং ৪০৭ গাড়ির মুখোমুখি সংঘর্ষে আহত ছ’জন। জানা গিয়েছে, ...বিশদ

22-07-2019 - 06:18:00 PM

ফুলশয্যার দিনেই আত্মঘাতী গৃহবধু 
ফুলশয্যার দিনেই আত্মঘাতী হলেন এক গৃহবধু। মৃতার নাম প্রিয়াঙ্কা সর্দার ...বিশদ

22-07-2019 - 06:05:00 PM

বজবজ ফাঁড়ির কাছে পচাগলা দেহ উদ্ধার
 

পচাগলা দেহ উদ্ধার হলো বজবজ ফাঁড়ির সংলগ্ন এলাকায়। এই ঘটনায় ...বিশদ

22-07-2019 - 05:34:26 PM