Bartaman Patrika
বিশেষ নিবন্ধ
 

অশান্তি ঠেকাতে পুলিসের একাংশের ভূমিকা অশান্তি বাড়িয়ে দিচ্ছে না তো?
শুভা দত্ত

রাজ্যের পরিস্থিতি যে আজ রীতিমতো অশান্ত হয়ে উঠেছে তাতে কোনও সন্দেহ নেই। মারদাঙ্গা বোমাবাজি ভাঙচুর খুনোখুনি, এমনকী পুলিসের গুলি কিছুই বাকি থাকছে না! আজ বলে নয়, এবার লোকসভা ভোটের ফল বেরনোর পর থেকেই রাজনৈতিক সংঘর্ষে উত্তর থেকে দক্ষিণ, পুব থেকে পশ্চিম, বঙ্গের নানা জায়গায় উত্তাপ ছড়িয়েছে, রক্ত ঝরেছে এবং ঝরেই চলেছে। এর মধ্যেই এইসব অশান্তিতে বেশ কয়েকটি প্রাণহানির ঘটনাও ঘটেছে। নিহতরা সকলেই যে রাজনৈতিক দলের কর্মী সমর্থক এমন নয়, সাধারণ লোকও ঘটনাচক্রে হাঙ্গামার বলি হয়েছেন। বিশেষ করে ভোটফল বেরনোর পর উত্তর ২৪ পরগনার ভাটপাড়া কাঁকিনাড়া সমেত গোটা বারাকপুর-নৈহাটি শিল্পাঞ্চল জুড়ে অশান্তির যে আগুন জ্বলেছিল তার তাপ এখনও পুরোপুরি ঠান্ডা হয়নি। শাসক, বিরোধী—উভয় দলের শীর্ষ নেতৃত্বই ওইসব এলাকায় শান্তি প্রতিষ্ঠার চেষ্টা চালিয়েছেন, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় স্বয়ং উপদ্রুত এলাকায় গিয়ে মিটিং-বৈঠক করে এসেছেন, বিজেপির দিল্লি কলকাতার নেতারা এলাকায় গিয়ে সরজমিনে সবকিছু দেখে বুঝে এসেছেন, সেইমতো দলীয় নির্দেশও দিয়েছেন, কংগ্রেস-সিপিএম নেতৃত্বও উদ্যোগী হয়েছেন—তাও এলাকায় শান্তি ফেরেনি। এখনও এলাকায় বিজেপি-তৃণমূলের রাজনৈতিক দ্বেষ-বিদ্বেষে অশান্তির আগুনের হলকা ছুটছে মাঝেমধ্যেই। তার তাপ পৌঁছে যাচ্ছে দেশের সংসদে! তাতে পশ্চিমবঙ্গের যে খুব মুখ উজ্জ্বল হচ্ছে না তা বলাই বাহুল্য।
কিন্তু, তাই বলে তো আর ক্ষমতা দখলের রাজনৈতিক লড়াই থেমে থাকতে পারে না। লোকসভা ভোটে ১৮ আসন পাওয়ার পর সঙ্গত কারণেই বিজেপি পাখির চোখ করেছে পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা। ২০২১ সালের ভোটে বিধানসভায় গরিষ্ঠ দল হিসেবে রাজ্যের ক্ষমতার মসনদ দখলের জন্য দিল্লি কলকাতা একাকার করে ঝাঁপিয়ে পড়েছেন বিজয়বর্গীয়, মুকুল রায়, দিলীপ ঘোষেরা। একদিকে তৃণমূলের দল ভাঙানো চলছে, পুরসভা পঞ্চায়েত থেকে বিধানসভা—সর্বস্তরে শাসক সদস্যদের দলে টানার চেষ্টা চালাচ্ছে পদ্মশিবিরের নেতৃবৃন্দ। তাতে বেশকিছু ক্ষেত্রে ইতিমধ্যে সাফল্যও মিলেছে। বেশ কয়েকটি পুরসভা, পঞ্চায়েত থেকে একটি জেলাপরিষদ কার্যত দখলে চলে এসেছে বিজেপির। বিধানসভায় সদস্য সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় বিজেপির পরিষদীয় নেতারা বসার জন্য স্পিকারের কাছে বড় ঘরের দাবি জানিয়েছেন বলে খবর। টালিগঞ্জের স্টুডিও পাড়াতেও বিজেপির পদসঞ্চার শুরু হয়ে গেছে। এর পাশাপাশি নানান অপ্রীতিকর ঘটনাকে শিখণ্ডী করে চলছে ক্ষমতাসীন তৃণমূল প্রশাসনকে বেকায়দায় ফেলে রাজনৈতিক মাইলেজ ও জনসমর্থন বাড়ানোর রাজনৈতিক প্রয়াস। চলতি অশান্তির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতে কদিন আগে লালবাজার অভিযান চালিয়েছে বিজেপি ও তার সহযোগীরা। পুলিসের সঙ্গে ধস্তাধস্তি, জলকামান অবরোধে মধ্য কলকাতা বেশ কিছুক্ষণের জন্য অচল হয়েছে, বিজেপির এক রাজ্য নেতা সেই ধস্তাধস্তিতে অসুস্থ হয়েছেন। কাঁচরাপাড়া ভাটপাড়া নিয়েও তাঁরা আন্দোলন প্রতিবাদে সরগরম করে তুলছেন শহর, শহরতলি। সব মিলিয়ে পশ্চিমবঙ্গ জুড়ে একটা রাজনৈতিক সংঘাত সংঘর্ষের আবহ ক্রমশ সাধারণ জনজীবনে চিন্তার ছায়া ফেলতে শুরু করেছে। আপ্রাণ চেষ্টা করেও মুখ্যমন্ত্রী ও তাঁর প্রশাসন পুলিস এই ছায়া পুরোপুরি মুছে ফেলতে পারছে না!
আর এখানেই পুলিসের একাংশের ভূমিকা ও সক্রিয়তার ধরন নিয়ে প্রশ্ন উঠছে! এনআরএসে ডাক্তার নিগ্রহই হোক কি ভাটপাড়া কাঁচরাপাড়া—পুলিস যে যথাসময়ে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়নি, বরং অনেক ক্ষেত্রে একেবারে নিষ্ক্রিয় নীরব থেকেছে—এমন অভিযোগও উঠেছে! এনআরএসে আন্দোলনরত ডাক্তারদের অনেকে সে সময় অভিযোগ করেছেন, বহিরাগতরা যখন ট্রাকে করে হামলা চালাতে এসেছিল তখন পুলিস তাদের ঠেকাতে নাকি কোনও ব্যবস্থাই নেয়নি। নিলে জুনিয়র ডাক্তার পরিবহকে অমন মারাত্মক আহত হতে হতো না। হাসপাতালের হাজার হাজার মরণাপন্ন রোগীকে অত দিন অত কষ্টও স্বীকার করতে হতো না। ভাটপাড়া কাঁচরাপাড়া সমেত বারাকপুর-নৈহাটি শিল্পাঞ্চলের অশান্তির ক্ষেত্রেও সেই এক কথা—এলাকায় পুলিসের অভাব ছিল না। কিন্তু, কার্যকালে তাদের একাংশের ভূমিকা সন্তুষ্ট করতে পারেনি যুযুধান রাজনৈতিক দলের নেতানেত্রী থেকে সাধারণ মানুষ কাউকেই! অভিযোগ এমনই। কিন্তু কেন? রাজ্য পুলিসের বড় কর্তারা এলাকা সফর করে আসার পরও নাকি পরিস্থিতিতে খুব একটা রকমফের হয়নি! এটা আশ্চর্যের নয়! বিশেষ করে খোদ মুখ্যমন্ত্রী যখন বলছেন, যে কোনও মূল্যে হাঙ্গামা সন্ত্রাস থামান, কে কোন দলের কী গোত্রের তা না দেখে গুন্ডা বদমাস বহিরাগতদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ করুন— তখনও পুলিসের একাংশের এই আচরণ কি সন্দেহ জাগায় না?
শুধু কি তাই? গত কয়েক দিনে তো দেখা গেল অবস্থা সামাল দিতে না পেরে পুলিসের হাতিয়ার থেকে গুলিও চলে যাচ্ছে! তাতে হতাহতও হচ্ছে! কী মর্মান্তিক! এ আবার কী! এসব চলতে থাকলে বিরোধীরা তো বলবেই, সিপিএম আমলের শেষদিকে নন্দীগ্রাম সিঙ্গুর নেতাইয়ের মতো জায়গায় যে ‘ট্রিগার হ্যাপি’ পুলিস দেখা দিয়েছিল তাদের উত্তরসূরিরা এখন রাজ্যের কোথাও কোথাও দেখা দিচ্ছে! বৃহস্পতিবার গুড়াপে বিজেপি সমর্থকের গুলিবিদ্ধ হওয়ার ঘটনাতে পুলিসের বিরুদ্ধে আঙুল তো উঠেছে! সাম্প্রতিকে এর আগেও পুলিসের গুলি চলেছে অন্যত্র। পুলিসের কারও কারও এমন উগ্র ভূমিকায় বিশিষ্টজনেরা যে বিশেষ উদ্বিগ্ন এবং সাধারণ মানুষজনের মধ্যে যে যথেষ্ট উদ্বেগ ছড়িয়েছে তা বলার অপেক্ষা রাখে না। আসলে রাজ্যের সাধারণ জনতা তো এমন পরিস্থিতিতে অভ্যস্ত নন। তাঁদের তাই এখন একটাই প্রশ্ন, হিংসা হানাহানি ঠেকাতে পুলিস লাঠি চালাক, গ্যাস ছুঁড়ুক, জলকামান ব্যবহার করুক কিন্তু গুলি কেন? অনেকেই এও বলছেন, পুলিসের গুলিচালনা একটা অত্যন্ত স্পর্শকাতর ব্যাপার। জনমনে তার একটা আলাদা এবং গভীর নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। সিপিএমের সর্বনাশ করে ছেড়েছিল পুলিসের এই গুলি। আবার তার পুনরাবৃত্তি কেন? এতে তো বিরোধীরা, বিশেষত বিজেপি তাঁদের শাসকবিরোধী আন্দোলনে বাড়তি রসদ পেয়ে যাচ্ছে! সংশ্লিষ্ট এলাকাগুলোতে উদ্বেগ উত্তেজনা বাড়ছে। এহেন পরিস্থিতির পরিপ্রেক্ষিতে এমন সংশয় জড়িত প্রশ্নও উঠছে যে, অশান্তি ঠেকাতে পুলিসের একাংশের এই অপ্রত্যাশিত ভূমিকা অশান্তি বাড়িয়ে দিচ্ছে না তো?
প্রশ্নটি নিতান্ত অমূলক বলা যাবে কি? যাবে না। তার কারণ, সাম্প্রতিকে এনআরএস, ভাটপাড়া ইত্যাদি কয়েকটি ঘটনায় দেখা গেছে সংশ্লিষ্ট পুলিসের একাংশ তাদের দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন তো করেইনি, উল্টে এমন সব আচরণ করেছে যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল এবং উত্তেজক করে তুলেছে! কেবল আমরা নয়, তথ্যভিজ্ঞরাও বলছেন এমন কথা। আমরা বলছি না যে সব পুলিস এমন করছেন। কিন্তু কয়েকজনের জন্য বদনাম হচ্ছে গোটা পুলিস বাহিনীর, পুলিসের উপর লোকের বিরূপতা বাড়ছে। তার চেয়েও বড় কথা পুলিসমন্ত্রী হিসেবে মুখ্যমন্ত্রী মমতার অস্বস্তি বাড়ছে! বিজেপি কংগ্রেস সিপিএমের মতো বিরোধীরা মুখ্যমন্ত্রীকে কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়ে স্ব-স্ব রাজনৈতিক স্বার্থসিদ্ধির সুযোগ পেয়ে যাচ্ছে। এবং ওইসব পুলিসের জন্য জনমনেও যে কাঁটার খোঁচা বাড়ছে তাতেই বা সন্দেহ কী? ইতিমধ্যেই রাজ্যের পুলিস প্রশাসনে কিছু রদবদল করেছেন মমতা। তাতে হয়তো পুলিসের কাজকর্মে কিছু উন্নতি হয়েছে বা হবে। কিন্তু, মাদক বিরোধী অনুষ্ঠানে যে পুলিস অফিসার আকণ্ঠ পান করে অংশ নেওয়ার দুঃসাহস দেখায় বা চোখের সামনে মারদাঙ্গা খুনোখুনি হতে দেখেও যে পুলিস উদাসীন দর্শকের ভূমিকা নেয় বা যে পুলিস হাইওয়েতে লরি-গাড়ি থামিয়ে যানজট বাধিয়ে তোলা আদায় করে বা যে পুলিস অকারণে সাধারণ মানুষকে হেনস্তা করে নির্বিকার চিত্তে— শুধু বদলিতে তাদের চিত্তশুদ্ধি হবে, তারা নিজেদের ভুল বুঝতে পেরে সৎ স্বচ্ছ স্বাভাবিক জনদরদি হয়ে পড়বে এমনটা ভাবা বোধহয় একটু বেশিই হয়ে যায়, তাই না? কিন্তু উপায় কী? রদবদল করেই এদের নিয়ন্ত্রণে রাখতে হয়—এমনটাই বলছেন কর্তারা।
এখন কথা হল—লোকসভার ভোটফল প্রকাশের পর থেকে পশ্চিমবঙ্গে যে মেজাজি রাজনীতি শুরু হয়েছে, তৃণমূল বিজেপির মধ্যে সমানে সমানে রাজনৈতিক লড়াইয়ের যে প্রবণতা দেখা যাচ্ছে (এবং যার জন্য মাঝেমধ্যেই রাজ্যের নানা এলাকা গরম হয়ে উঠছে, রক্ত ঝরছে) তার সুর যে আগামী দিনে আরও চড়া হবে তা বলাই বাহুল্য। এ রাজ্যে আগামী বছরের পুরভোট বা তার পরবর্তী বিধানসভার নির্বাচন কতটা শান্তিতে হবে তা নিয়ে তাই এখন থেকেই রাজনৈতিক তথ্যভিজ্ঞদের অনেকে বিশেষ চিন্তিত। সাধারণের মহলেও তা নিয়ে একটা চাপা উদ্বেগ লক্ষ করা যাচ্ছে। ভোট পরবর্তী উত্তপ্ত পরিস্থিতি সন্ত্রাসের চোখরাঙানি, বিবদমান রাজনৈতিক শিবিরগুলির হুমকি প্রতিহুমকি নিঃসন্দেহে সেই উদ্বেগে শঙ্কার বাড়তি ইন্ধন জোগাচ্ছে। এমন অবস্থায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে বা জনজীবনকে রাজনৈতিক সংঘাতের তাপোত্তাপ থেকে বাঁচাতে অন্যতম ভরসা পুলিস।
পুলিসি দক্ষতা এবং সময়ানুগ সক্রিয়তা বজায় থাকলে অনায়াসে অনেক কিছুই সহজে মিটে যায় বা নিয়ন্ত্রণ করা যায়। প্রাণও বাঁচে। কিন্তু, মার ঠেকাতে গিয়ে যদি পুলিসই প্রাণঘাতী মারমুখী হয়ে ওঠে তবে তো বিপদ। সেই বিপদের আভাস মিলেছে। যতদূর খবর, বিপদ যাতে বাড়তে না পারে তার
জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থাও নিচ্ছে মমতা সরকার।
সেই ব্যবস্থায় শেষপর্যন্ত কতটা কাজ হয় এখন
সেটাই দেখার।
30th  June, 2019
একশো পঁচিশে সংসদের বাঙালি পণ্ডিত
হারাধন চৌধুরী

কাটমানি আর ব্ল্যাকমানির তরজায় দেশের রাজনীতি আজ বিপন্নপ্রায়। রাজনীতির প্রতি শ্রদ্ধা ও আগ্রহ নষ্ট হচ্ছে সাধারণ মানুষের, বিশেষত শিক্ষিত যুব সম্প্রদায়ের। এ লক্ষণ সুখের নয়—মানুষের জন্য, রাষ্ট্রের জন্য—কারও জন্যই নয়।
বিশদ

৫, ১০, ২০ ট্রিলিয়ন ডলার অর্থনীতির পথে
পি চিদম্বরম

রাজ্যসভায় ২০১৯-২০ বাজেট নিয়ে বক্তব্য রাখার সময় বলেছিলাম, ‘‘যদি জিডিপির স্বাভাবিক বৃদ্ধির হার ১২ শতাংশ হয় তবে প্রতি ছ’বছরে জিডিপির আকারটা দ্বিগুণ হয়ে যাবে। আর বৃদ্ধির হারটা যদি নমিনাল ১১ শতাংশ হয় তবে জিডিপি দ্বিগুণ হতে সময় নেবে সাত বছর।
বিশদ

22nd  July, 2019
২১ জুলাই সমাবেশ: মমতা কী বার্তা দেন জানতে উৎসুক বাংলা
শুভা দত্ত

ওই মর্মান্তিক ঘটনার পর থেকে প্রতিবছর মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই দিনটিতে বড়সড় সমাবেশের আয়োজন করে তাঁর প্রয়াত সহযোদ্ধাদের প্রতি শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেন।
বিশদ

21st  July, 2019
ছোটদের বড় করতে হলে আগে শুধরাতে হবে নিজেকে
পার্থজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়

সব থেকে ভালো হয়, যদি আপনার ‘বাছা’কে নিজের মতো বেড়ে উঠতে দেন। আনন্দে বেড়ে উঠুক। আলো চিনিয়ে দিন, অন্ধকার চিনিয়ে দিন। লক্ষ্য রাখুন, ঠিকঠাক এগচ্ছে কি না! সামনে পিছনে কত ফাঁদ, চোরাবালি। আপনিই ঈশ্বর, ওকে রক্ষা করুন। ছোটদের ‘বড়’ করতে হলে আগে শুধরাতে হবে নিজেকে। দয়া করে ওর উপর মাতব্বরি করবেন না, হ্যাঁ আমরা মাতব্বরিই করি।
বিশদ

20th  July, 2019
জন্ম এবং মৃত্যুর দ্বান্দ্বিক বস্তুবাদ
শুভময় মৈত্র

সম্প্রতি অকস্মাৎ আমার একটি বন্ধুর মৃত্যু হয়েছে। এই উপলক্ষে জগতে সকলের চেয়ে পরিচিত যে মৃত্যু তার সঙ্গে আর-একবার নূতন পরিচয় হল। জগৎটা গায়ের চামড়ার মতো আঁকড়ে ধরেছিল, মাঝখানে কোনো ফাঁক ছিল না। মৃত্যু যখন প্রত্যক্ষ হল তখন সেই জগৎটা যেন কিছু দূরে চলে গেল, আমার সঙ্গে আর যেন সে অত্যন্ত সংলগ্ন হয়ে রইল না।
——— রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
বিশদ

20th  July, 2019
অ্যাপোলো ৫০: গো ফর দ্য মুন
মৃণালকান্তি দাস

 মই বেয়ে লুনার মডিউল ঈগল থেকে চাঁদের বুকে নামতে নামতে নিল আর্মস্ট্রং বলেছিলেন, ‘একজন মানুষের এই একটি পদক্ষেপ হবে মানবজাতির জন্য এক বিরাট অগ্রযাত্রা।’ সেই ছিল চাঁদের বুকে মানুষের প্রথম পদচিহ্ন আর মানবজাতির সেদিনের প্রমিথিউস ছিলেন নিল আর্মস্ট্রং। চাঁদের বুকে নিলের পা ফেলার মাধ্যমে মানুষ চাঁদকে জয় করেছিল।
বিশদ

19th  July, 2019
বাঙালির যে সংস্কৃতি হারিয়ে গেল
জিষ্ণু বসু

ইদানীং রাজ্যে একটা গেল গেল রব শোনা যাচ্ছে। বাঙালি তার সংস্কৃতি হারাচ্ছে। বিজেপি ও আরএসএসের দৌরাত্ম্যে বাংলা যে চেহারা নিচ্ছে সেটা এ রাজ্যের সংস্কৃতির পরিপন্থী। বাঙালি বড়জোর ‘জয়দুর্গা’ বলতে পারে, কিন্তু ‘জয় শ্রীরাম’ বলার প্রশ্নই ওঠে না।
বিশদ

18th  July, 2019
পরিবারতান্ত্রিক সঙ্কট 
শান্তনু দত্তগুপ্ত

ছবিটা খুব পরিচিত। নিজের দলের বিরুদ্ধেই ধর্নায় বসেছেন ইন্দিরা গান্ধী। ভাঙতে চলেছে কংগ্রেস। আর তার নেপথ্যে ক্ষমতার ভারসাম্য বজায় রাখার সংঘাত। একদিকে স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা। অন্যদিকে কামরাজ, মোরারজি দেশাই, তৎকালীন কংগ্রেস সভাপতি নিজলিঙ্গাপ্পা। 
বিশদ

16th  July, 2019
মোদি সরকারের নতুন জাতীয় শিক্ষানীতি দেশকে কোন দিকে নিয়ে চলেছে
তরুণকান্তি নস্কর

নয়া শিক্ষানীতির কেন্দ্রবিন্দুই হল এই ভারতীয়ত্বের নাম করে মধ্যযুগীয় বাতিল চিন্তা ভাবনার জাবর কাটার প্রচেষ্টা। পঞ্চতন্ত্র, জাতক, হিতোপদেশের গল্পকে তাঁরা স্কুল পাঠ্য করতে চাইছেন, সংস্কৃত শিক্ষাকে গুরুত্ব দিচ্ছেন অথচ ইংরেজি ভাষা শিক্ষাকে গুরুত্বহীন করে দেখানোর চেষ্টা করেছেন। পাঠ্যতালিকায় বহু ব্যক্তির জীবনীচর্চার উল্লেখ আছে, কিন্তু সেই তালিকায় ভারতীয় নবজাগরণের পথিকৃৎ রামমোহন ও বিদ্যাসাগরের নাম সযত্নে বাদ দেওয়া হয়েছে। রামমোহন-বিদ্যাসাগরই যে এদেশে প্রথম ধর্মীয় কুসংস্কারাচ্ছন্ন শিক্ষা ব্যবস্থাকে বাতিল করে আধুনিক শিক্ষা প্রচলনের জন্য লড়াই করেছিলেন তা কারোর অজানা নয়। ভারতীয় নবজাগরণের এই মনীষীরা যে আরএসএস-বিজেপির চক্ষুশূল তা আজ জলের মতো পরিষ্কার।
বিশদ

15th  July, 2019
সাত শতাংশ বৃদ্ধির ফাঁদে
পি চিদম্বরম

 কেন্দ্রীয় সরকারের বাজেটগুলির মধ্যে ২০১৯-২০ সালের বাজেট স্বাভাবিকের তুলনায় দ্রুত জট খুলল। মানুষের মধ্যে এই বাজেট নিয়ে কিংবা আগের বাজেট প্রস্তাবটি নিয়ে কোনও আলোচনা নেই। অতিশয় ধনীরা (সুপার রিচ ৬৪৬৭) বিরক্ত, তবুও ভয়ে স্পিকটি নট। ধনীদের স্বস্তি এখানেই যে তাঁদের রেয়াত করা হয়ে থাকে।
বিশদ

15th  July, 2019
একটু ভাবুন
শুভা দত্ত

 বিশ্বের চারদিক থেকে পানীয় জল নিয়ে গুরুতর অশনিসংকেত আসার পরও আমাদের এই কলকাতা শহরে তো বটেই, গোটা রাজ্যেই প্রতিদিন বিশাল পরিমাণ জল অপচয় হয়। আপাতত বেশিরভাগ জায়গায় জলের জোগান স্বাভাবিক আছে বলে সেটা গায়ে লাগছে না। তাই এখনও আসন্ন মহাবিপদের কথাটা ভাবছেন খুব সামান্যজনই। বাদবাকিরা এখনও নির্বিকার, ভয়ডরহীন—দু’জনের সংসারে আড়াই-তিন হাজার লিটার শেষ করে দিচ্ছে দিনে, বাড়ি গাড়ি ধোয়া চালাচ্ছে কর্পোরেশনের পানীয় জলে! আহাম্মক আর কাকে বলে।
বিশদ

14th  July, 2019
বেনোজলের রাজনীতি
তন্ময় মল্লিক

জেলায় জেলায় নব্যদের নিয়ে বিজেপির আদিদের ক্ষোভ রয়েছে। আর এই ক্ষোভের অন্যতম কারণ যোগদানকারীদের বেশিরভাগই এক সময় হয় সিপিএমের হার্মাদ বাহিনীর সদস্য ছিলেন, অথবা তৃণমূলের ‘কাটমানি নেতা’। তাই এই সব নেতাকে নিয়ে স্বচ্ছ রাজনীতির স্লোগান মানুষ বিশ্বাস করবে না। উল্টে লোকসভা ভোটে যাঁরা নীরবে সমর্থন করেছিলেন, তাঁরা ফের নিঃশব্দেই মুখ ফিরিয়ে নেবেন।‘ফ্লোটিং ভোট’ যে মুখ ঘুরিয়ে নিতে পারে, সেটা বিজেপির পোড়খাওয়া নেতারা বুঝতে পারছেন। তাঁরা বলছেন, ভোটের ফল প্রকাশের পর যাঁরা আসছেন তাঁরা কেউই বিজেপির আদর্শের জন্য আসছেন না, আসছেন বাঁচার তাগিদে। কেউ কেউ লুটেপুটে খাওয়ার অভ্যাস বজায় রাখার আশায়।
বিশদ

13th  July, 2019
একনজরে
 নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ইস্ট-ওয়েস্ট পথে বাণিজ্যিকভাবে ট্রেন চালানোর চূড়ান্ত অনুমোদন চেয়ে গত মাসের শেষের দিকে ‘কমিশনার অব রেলওয়ে সেফটি’ (সিআরএস)-র কাছে আবেদন করেছিল কলকাতা মেট্রো রেল কর্পোরেশন লিমিটেড (কেএমআরসিএল)। সঙ্গে পাঠানো হয়েছিল প্রয়োজনীয় কাগজপত্রও। ...

তেহরান, ২২ জুলাই (এএফপি): সিআইএ-র চর সন্দেহে ১৭ জনকে গ্রেপ্তার করার পাশাপাশি কয়েকজনকে মৃত্যুদণ্ড দিল ইরান। সোমবার এই খবর জানিয়েছে ইরান প্রশাসন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক সরকারি আধিকারিক জানিয়েছেন, দেশের সঙ্গে গদ্দারি করার অভিযোগে কয়েকজনকে উচিত শিক্ষা দেওয়া হয়েছে। ...

সংবাদদাতা, রামপুরহাট: নলহাটি থানার মাঠকলিঠা গ্রামে এক গৃহবধূর অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়াল। পুলিস জানিয়েছে, মৃতার নাম প্রতিমা দাস(২৮)। তাঁর বাপেরবাড়ি মুরারই থানার খানপুর গ্রামে। বছর পাঁচেক আগে মাঠকলিঠার বাসিন্দা পেশায় সিভিক ভলান্টিয়ার পলাশ দাসের সঙ্গে তাঁর বিয়ে হয়।   ...

 বদায়ুন, ২২ জুলাই (পিটিআই): সোমবার উত্তরপ্রদেশে স্নান করতে নেমে গঙ্গায় তলিয়ে গেলেন দুই কাঁওয়ার যাত্রী। পুলিস জানিয়েছে, বদায়ুনের উসাইহাতা এলাকার অতাইনা ঘাটে স্নান করতে নেমেছিলেন দিব্যম সাক্সেনা (২৩), আমন গুপ্ত (২২) এবং দেবেন্দ্র (৩০)। ...




আজকের দিনটি কিংবদন্তি গৌতম
৯১৬৩৪৯২৬২৫ / ৯৮৩০৭৬৩৮৭৩

ভাগ্য+চেষ্টা= ফল
  • aries
  • taurus
  • gemini
  • cancer
  • leo
  • virgo
  • libra
  • scorpio
  • sagittorius
  • capricorn
  • aquarius
  • pisces
aries

কর্মপ্রার্থীদের কর্মের যোগাযোগ আসবে। যে সুযোগ পাবেন তাকে সদ্ব্যবহার করুন। কর্মক্ষেত্রে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের আনুকূল্য পাবেন। ... বিশদ


ইতিহাসে আজকের দিন

১৮২৯- আমেরিকাতে টাইপরাইটারের পূর্বসুরী টাইপোগ্রাফার পেটেন্ট করেন উইলিয়াম অস্টিন বার্ড।
১৮৫৬- স্বাধীনতা সংগ্রামী বাল গঙ্গাধর তিলকের জন্ম
১৮৮১ - আন্তর্জাতিক ক্রীড়া সংস্থাগুলির মধ্যে সবচেয়ে পুরাতন আন্তর্জাতিক জিমন্যাস্টিক ফেডারেশন প্রতিষ্ঠিত হয়।
১৮৯৫- চিত্রশিল্পী মুকুল দের জন্ম
১৯৯৫- হেল-বপ ধূমকেতু আবিস্কার হয়। পরের বছরের গোড়ায় সেটি খালি চোখে দৃশ্যমান হয়।
২০০৪- অভিনেতা মেহমুদের মৃত্যু
২০১২- আই এন এ’ যোদ্ধা লক্ষ্মী সায়গলের মৃত্যু

ক্রয়মূল্য বিক্রয়মূল্য
ডলার 67.49 70.53
পাউন্ড 84.31 88.37
ইউরো 75.63 79.29
[ স্টেট ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়া থেকে পাওয়া দর ]
পাকা সোনা (১০ গ্রাম) ৩৫,৫৩৫ টাকা
গহনা সোনা (১০ (গ্রাম) ৩৩,৭১৫ টাকা
হলমার্ক গহনা (২২ ক্যারেট ১০ গ্রাম) ৪৪,২২০ টাকা
রূপার বাট (প্রতি কেজি) ৪০,৮৫০ টাকা
রূপা খুচরো (প্রতি কেজি) ৪০,৯৫০ টাকা
[ মূল্যযুক্ত ৩% জি. এস. টি আলাদা ]

দিন পঞ্জিকা

৬ শ্রাবণ ১৪২৬, ২৩ জুলাই ২০১৯, মঙ্গলবার, ষষ্ঠী ২৭/৫২ অপঃ ৪/১৬। উত্তরভাদ্রপদ ২০/১৫ দিবা ১/১৪। সূ উ ৫/৭/৪২, অ ৬/১৮/১৭, অমৃতযোগ দিবা ৭/৪৬ গতে ১০/২৪ মধ্যে পুনঃ ১/২ গতে ২/৪৮ মধ্যে পুনঃ ৩/৪০ গতে ৫/২৬ মধ্যে। রাত্রি ৭/১ মধ্যে পুনঃ ৯/১১ গতে ১১/২১ মধ্যে পুনঃ ১/৩১ গতে ২/৫৮ মধ্যে, বারবেলা ৬/৪৭ গতে ৮/২৫ মধ্যে পুনঃ ১/২২ গতে ৩/১ মধ্যে, কালরাত্রি ৭/৩৯ গতে ৯/০ মধ্যে।
৬ শ্রাবণ ১৪২৬, ২৩ জুলাই ২০১৯, মঙ্গলবার, ষষ্ঠী ১৮/৪৭/৯ দিবা ১২/৩৭/৪। উত্তরভাদ্রপদনক্ষত্র ১৪/২৯/১২ দিবা ১০/৫৩/৫৩, সূ উ ৫/৬/১২, অ ৬/২১/২৮, অমৃতযোগ দিবা ৭/৪৯ গতে ১০/২৪ মধ্যে ও ১/০ গতে ২/৪৪ মধ্যে ও ৩/৩৬ গতে ৫/১৯ মধ্যে এবং রাত্রি ৬/৫৫ মধ্যে ও ৯/৮ গতে ১১/২০ মধ্যে ও ১/৩২ গতে ৩/১ মধ্যে, বারবেলা ৬/৪৫/৩৬ গতে ৮/২৫/১ মধ্যে, কালবেলা ১/২৩/১৪ গতে ৩/২/৩৯ মধ্যে, কালরাত্রি ৭/৪২/৪ গতে ৯/২/৩৯ মধ্যে।
১৯ জেল্কদ

ছবি সংবাদ

এই মুহূর্তে
রাজাবাজারে গুলি চালানোর ঘটনায় ধৃত ২ 

06:24:00 PM

আজ ও কাল বেঙ্গালুরু শহরে জারি ১৪৪ ধারা, বন্ধ সব পানশালা 

06:04:22 PM

১২৮৩৯ হাওড়া-চেন্নাই মেল আজ রাত ১১:৪৫ মিনিটের বদলে রাত ২টোর সময় হাওড়া স্টেশন থেকে ছাড়বে 

05:37:05 PM

মধ্য কলকাতায় নগদ ৭৮ লক্ষ টাকা সহ ২ ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করল এসটিএফ

05:00:00 PM

ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হলেন বরিস জনসন 

04:47:58 PM

৪৮ পয়েন্ট পড়ল সেনসেক্স 

03:59:40 PM