Bartaman Patrika
বিশেষ নিবন্ধ
 

অ্যাঞ্জি, আয়লান ও মানবিকতার হত্যা
শান্তনু দত্তগুপ্ত

আরও একটা ছবি...। মর্মান্তিক বললেও কম। আর সেটাই গোটা দুনিয়ার চোখে আঙুল দিয়ে ফের দেখিয়ে দিল, মানবিকতার থেকে অর্থনীতির গুরুত্ব আজ অনেক বেশি। কালো টি-শার্ট, কালো শর্টস পরা শরীরটা মুখ থুবড়ে পড়ে রয়েছে কাদায়। আগাছার মধ্যে। টি-শার্টটা একটু উঠে। তার ফাঁক থেকে দেখা যাচ্ছে ছোট্ট আর একটা শরীর। ২৩ মাসের অ্যাঞ্জির। লালরঙা প্যান্ট পরা নীচের অংশটাই শুধু নজরে আসছে। মাথাটা ঢুকে রয়েছে বাবার টি-শার্টের ভিতর। ছোট ডান হাতটা বেরিয়ে রয়েছে বাবার কাঁধের কাছে। জলের হাল্কা ঢেউ এসে ধাক্কা মেরে ফিরে যাচ্ছে বাবা আর মেয়েকে। শেষবারের মতো। ঠিক যেভাবে চার বছর আগে তুরস্কের সমুদ্রসৈকতে পড়ে ছিল তিন বছরের আয়লান কুর্দির ছোট্ট শরীরটা। সিরিয়ার সেই শিশু গৃহযুদ্ধের নৃশংসতা থেকে বাঁচতে বাবা-মায়ের সঙ্গে পাড়ি দিয়েছিল গ্রিসের দিকে। রিফিউজি ছিল সে। রিফিউজি অ্যাঞ্জি ভালেরিয়াও। হোক না শিশু! আদপে তো রিফিউজি! ইললিগাল মাইগ্র্যান্ট...।
ঠিক এক সপ্তাহ আগে গোটা দুনিয়া যখন ফাদার্স ডে পালন করছে, অস্কার আলবার্তো মার্টিনেজ তখন মেক্সিকো সীমান্তে শরণার্থী শিবিরে। ২৩ মাসের মেয়ে অ্যাঞ্জি ভালেরিয়া, আর স্ত্রী তানিয়াকে নিয়ে... ৪৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের গায়ের চামড়া পুড়িয়ে দেওয়া গরমে। দু’মাস ধরে পড়ে ছিলেন সেখানে। নিজের দেশ... এল সালভাডর ছেড়ে। বেঁচে থাকার আশায়। সেখানে শেফের কাজ করতেন একটি রেস্তরাঁয়। দারিদ্র্য, হিংসার পরিবেশ ছেড়ে বেরতে চেয়েছিলেন। মেয়েকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে গিয়ে একটা নিরাপদ জীবন দিতে চেয়েছিলেন। কিন্তু বৈধভাবে আবেদনের যে বিরাট লাইন! আর পেরে উঠলেন না। ঠিক উল্টোদিকে টেক্সাস। রিও গ্রান্দে নদীটা পেরলেই। মাত্র তো ৪০০ মিটার! মেক্সিকোর স্থানীয় প্রশাসন সাবধান করেছিল, নদীর ধারে যেন কেউ না যায়। বাঁধ থেকে জল ছাড়া হয়েছে। আচমকা স্রোত বেড়ে যেতে পারে। বেঁচে থাকার তাড়নায় গা করেননি মার্টিনেজ। প্রথমে গিয়েছিলেন মেয়েকে ওপারে পৌঁছে দিতে। অসুবিধা হয়নি। মেয়েকে রেখে ফিরছিলেন... স্ত্রীকে ওপারে নিয়ে যেতে। মেয়ে বুঝল না। দেখল বাবা চলে যাচ্ছে...। সঙ্গে সঙ্গে জলে ঝাঁপ দিয়েছিল অ্যাঞ্জি। মার্টিনেজ ঠাহর করেই ফিরলেন মেয়েকে ধরতে। ততক্ষণে স্রোত বেড়ে গিয়েছে। মেয়ে অ্যাঞ্জির কাছে পৌঁছতেই বাবা আর মেয়েকে ভাসিয়ে নিয়ে গেল রিও গ্রান্দে। মেক্সিকোর দিকে দাঁড়িয়ে দেখলেন তানিয়া। পরদিন সকালে সাড়ে পাঁচশো মিটার দূরে উদ্ধার হল দু’জনের দেহ।
মেক্সিকোর সাংবাদিক ডে লিউক তুলেছিলেন ছবিটি। দেখিয়েছিলেন বিশ্বকে। আর এই ছবির ব্যাপারে প্রশ্ন করলে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রতিক্রিয়া ছিল, ‘আই হেট দিস।’ ঘৃণা করেন তিনি। এবং দায়ী করেন ডেমোক্র্যাটদের। মেক্সিকো সীমান্তে পাঁচিল তো তারাই তৈরি করতে দিচ্ছে না! ওখানে সুউচ্চ দেওয়াল তৈরি হয়ে গেলে এসব ঝামেলাই থাকত না! কে আর ওই দেওয়াল টপকে আমেরিকায় ঢোকার চেষ্টা করত? তবু তিনি মানবেন না, তাঁর অভিবাসন নীতির জন্যই আজ এই অবস্থা। বারাক ওবামার জমানায় মধ্য আমেরিকার দেশগুলিতে অস্থিরতা কাটানোর জন্য ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল। আলাদা অর্থ বরাদ্দ, শান্তি ফেরাতে এবং হিংসা থামাতে হস্তক্ষেপ... সব ছিল। ট্রাম্প ক্ষমতায় এসে বন্ধ করেছেন। ফলস্বরূপ, মধ্য আমেরিকার ঘুরে দাঁড়ানোর প্রক্রিয়াটা আর শেষ হয়নি। গুয়েতেমালা, হন্ডুরাস, এল সালভাডর, নিকারাগুয়ার মতো দেশগুলো আবার ফিরে গিয়েছে দুর্নীতি, হিংসা, অনটনের অতলে। কাজেই চলতি শতকের শুরুর দিকে সীমান্ত পেরিয়ে মার্কিন আশ্রয়ে আসার কারণ শুধু অর্থনৈতিক হলেও ধীরে ধীরে চিত্রটা বদলে গিয়েছে। সেই সময়টা পেটের টানে কারখানায় বা নির্মাণকাজে গতর খাটার উদ্দেশ্যেই মধ্য আমেরিকা বা ক্যারিবিয়ান দ্বীপপুঞ্জ থেকে মানুষ পাড়ি জমাত মার্কিন মুলুকে। ফ্লোরিডার অর্ল্যান্ডোয় আলাপ হয়েছিল এক ক্যাবচালকের সঙ্গে। হাইতি থেকে এসেছিলেন ২৩ বছর আগে। তখন থেকেই গাড়ি চালান আমেরিকার রাস্তায়। এটাই তাঁর ধর্ম-কর্ম। দেশের কথা মনে পড়ে না? নাঃ। এক বিন্দু না ভেবে উত্তর দিয়েছিলেন তিনি। গ্রিন কার্ড হয়েছে। কিন্তু নাগরিক এত বছরেও হয়ে উঠতে পারেননি। তার উপর ট্রাম্প ক্ষমতায় আসার পর আদৌ আর হতে পারবেন কি না, সে নিয়েও সংশয়ে ছিলেন। অর্থনীতির সে ছবি এখন হু হু করে বদলে গিয়েছে। আজ সবটাই সামাজিক। এখন শুধু আর কাজের খোঁজে একা নয়, স্ত্রী সন্তান, পরিবারকে নিয়ে। সাম্প্রতিক একটা তথ্যে দেখা গিয়েছে, বেআইনিভাবে দক্ষিণের সীমান্ত পেরনোর জন্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে আটক করা হয়েছিল ১ লক্ষ ৩২ হাজার ৮৮৭ জনকে। তার মধ্যে ৮৪ হাজারই সপরিবারে। আরও মারাত্মক পরিসংখ্যান হল, সাড়ে ১১ হাজার একা... নাবালকত্বের সীমা পেরয়নি তারা। ডোনাল্ড ট্রাম্পের সরকার দক্ষিণ সীমান্তে উদ্বাস্তুদের জন্য ‘মানবিকতার’ খাতিরে ৪৬০ কোটি মার্কিন ডলার মঞ্জুর করেছে। প্রবল কষ্টে থাকা শরণার্থীদের যাতে উপকার হয়। পাশাপাশি মেক্সিকোর উপর চাপটাও মার্কিন প্রেসিডেন্ট অন্যভাবে বজায় রেখে দিয়েছেন। সাফ হুমকি, তোমার দেশ থেকে রিফিউজি ঢোকা বন্ধ করো, না হলে আমদানি পণ্যের উপর শুল্ক ব্যাপক হারে বাড়িয়ে দেব। এর ফলে আমেরিকার কোনও ক্ষতি না হলেও মেক্সিকো অবশ্যই ভাতে মারা যাবে। ব্যাপক আর্থিক মন্দার কবলে পড়বে দেশটা। ট্রাম্প সরকার আপাতত তেমন পদক্ষেপ না নিলেও হুমকিটা ঘাড়ের উপর খাঁড়ার মতো ঝুলিয়েই রেখেছে। দিন কয়েকের মধ্যেই পর্যালোচনা হবে, উদ্বাস্তু ঠেকাতে কেমন কাজ করছে মেক্সিকো। সেই বুঝে ব্যবস্থা। মেক্সিকোও পেটের দায়ে ঢেলে মিলিটারি পুলিস নামাচ্ছে। শুধু আমেরিকার দিকে যাওয়া ঠেকালেই যে হবে না! তাহলে শরণার্থী শিবিরগুলোয় মানুষ বাড়তেই থাকবে। তা সামলানো যাবে না। কাজেই যে নদী, জঙ্গল বা পাহাড় পথে মধ্য আমেরিকা থেকে অগুনতি মানুষ এই সীমান্তে এসে পৌঁছচ্ছে, সেই যোগসূত্রটা বন্ধ করতে হবে। অর্থাৎ কঠোর হওয়া ছাড়া গতি নেই।
কিন্তু তাতে কি অ্যাঞ্জেলিকা লোপেজের বা তাঁর সন্তানদের কোনও লাভ হবে? ২৩ বছর বয়সি সিঙ্গল মাদার অ্যাঞ্জেলিকা। থাকতেন হন্ডুরাসের স্যান্টা কোপা দে কোপানে। গ্যাং ওয়ারে বিধ্বস্ত দেশ...। একদিন কয়েকজন বন্দুকধারী এল। বলল, তোমাকে আর তোমার বোনকে আমাদের সঙ্গে যেতে হবে। ‘বান্ধবী’র মতো তোমরা আমাদের সঙ্গে থাকবে। জিনিসপত্র গুছিয়ে নাও। ওরা দরজা ছেড়ে বেরতেই আর দেরি করেননি অ্যাঞ্জেলিকা। সাত বছরের ছেলে, আর দু’বছরের মেয়েকে কোলে নিয়ে ছুটেছিলেন মেক্সিকোর দিকে। জানা নেই, কীভাবে বৈধ শরণার্থী হওয়ার জন্য আবেদন করতে হয়। জানেন না, কীভাবে আমেরিকায় গেলে ওখানকার পুলিস তাড়িয়ে দেবে না... তাও এসেছেন। কাদার মধ্যে শুয়ে দুই শিশুকে নিয়ে সারা রাত কাটিয়েছেন। আর ভিক্ষা করেছেন... একটা নিরুপদ্রব জীবনের। অ্যাঞ্জেলিকার মতোই তো মেক্সিকোর ফেরিয়া মেসোআমেরিকানা সেন্টারের শরণার্থী সেই মা! বন্ধ দরজার নীচ দিয়ে মুখটা বাড়িয়ে ডাকছেন... কেউ যদি শোনে। স্প্যানিশে বলছেন, আমার ছেলেটা অনেক দিন ধরে অসুস্থ। একটা কণাও খেতে দেওয়া হয়নি। খাবার জল নেই। ওকে বাঁচান। ও মরে যাবে...।
রাজনীতি, অর্থনীতি এবং দেশ শাসন ভয়ানক বস্তু। দেশ চালাতে গেলে অত চোখের জল ফেলা যায় না। আমাদের বিশ্বনেতারা বারবার তারই প্রমাণ দিয়ে চলেছেন। তাই প্রাণ দিতে হয় গুরপ্রীত কওরকেও। ঠিক তার সপ্তম জন্মদিনের আগে। ছোট্ট মেয়েটা কালো রঙের টি-শার্ট আর প্যান্ট পরে পা রেখেছিল আমেরিকায়। তারপর পথচলা শুরু হয়েছিল অ্যারিজোনার মরুভূমিতে। ভারতীয় সেই মেয়েটি। ভালো কিছুর আশায় বুক বেঁধে মায়ের সঙ্গে ঢুকে পড়েছিল আমেরিকায়। বাবা ছ’বছর ধরে এখানে আছেন। শরণার্থী হিসেবে আবেদন করেছিলেন। যা এখনও মার্কিন আদালতে ঝুলে। প্রচণ্ড তেষ্টা...। অন্যদের কাছে মেয়েকে রেখে জলের খোঁজে গিয়েছিলেন গুরপ্রীতের মা। ফিরে এসে দেখেছিলেন মেয়ের নিথর দেহ। পরে গুরপ্রীতের বাবা-মা বলেছিলেন, ‘নিরাপদ, আরও ভালো কিছু হবে ভেবেই না এমন একটা সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম! ভারত ছেড়ে এসেছি। ভেবেছি কোনওরকমে মার্কিন মুলুকে শরণার্থী হতে পারলে মেয়েটাকে ভালোভাবে মানুষ করতে পারব। কোনও বাবা-মা কি ইচ্ছাকৃত সন্তানকে এমন মর্মান্তিক মৃত্যুর দিকে ঠেলে দিতে পারে বলুন? আমাদের কাছে অন্য কোনও উপায় ছিল না।’
কী দোষ ছিল গুরপ্রীতের? কী দোষ ছিল অ্যাঞ্জির? দেশ, সীমান্ত, ক্ষমতা... এসবের জাঁতাকলে পড়ে আজ একের পর এক অ্যাঞ্জি হারিয়ে যাচ্ছে এই পৃথিবী থেকে। গুরপ্রীতের মা পারেননি। অপেক্ষায় রয়েছেন অ্যাঞ্জেলিকা। অপেক্ষায় সেই অসুস্থ সন্তানের শরণার্থী মাও। কতদিন? একটা সময় আর পারা যাবে না। এঁরাই সবকিছু ভুলে মরিয়া একটা চেষ্টা করবেন। বন্দুকের নলের মুখে পেরতে যাবেন কাঁটাতার। কিংবা ঝাঁপিয়ে পড়বেন জলে। মার্টিনেজের বোঝা উচিত ছিল, রাজনীতি বা দেশের স্বার্থের কাছে মানবিকতা আজ বিকিয়ে গিয়েছে। তাই মেয়ে অ্যাঞ্জিকে ভালো জীবন তিনি দিতে পারেননি। কিন্তু মৃত্যুর সময়... এক মুহূর্ত কাছছাড়া করেননি তাকে। ভেবেছিলেন নিজের টি-শার্টের নীচে মেয়েকে আগলে নিতে পারলে শেষমেশ ওপারে পৌঁছে যাবেন। পৌঁছলেন। কিন্তু নিষ্প্রাণ। লোকে বলে, মা সন্তানের জন্য সবকিছু করতে পারে। কিন্তু একজন বাবা তো মা এবং সন্তান দু’জনকেই কাঁধে নিয়ে চলে... নিঃশব্দে। আজীবন। আমৃত্যুও।
বিলেটেড হ্যাপি ফাদার্স ডে মার্টিনেজ...।
02nd  July, 2019
অ্যাপোলো ৫০: গো ফর দ্য মুন
মৃণালকান্তি দাস

 মই বেয়ে লুনার মডিউল ঈগল থেকে চাঁদের বুকে নামতে নামতে নিল আর্মস্ট্রং বলেছিলেন, ‘একজন মানুষের এই একটি পদক্ষেপ হবে মানবজাতির জন্য এক বিরাট অগ্রযাত্রা।’ সেই ছিল চাঁদের বুকে মানুষের প্রথম পদচিহ্ন আর মানবজাতির সেদিনের প্রমিথিউস ছিলেন নিল আর্মস্ট্রং। চাঁদের বুকে নিলের পা ফেলার মাধ্যমে মানুষ চাঁদকে জয় করেছিল।
বিশদ

বাঙালির যে সংস্কৃতি হারিয়ে গেল
জিষ্ণু বসু

ইদানীং রাজ্যে একটা গেল গেল রব শোনা যাচ্ছে। বাঙালি তার সংস্কৃতি হারাচ্ছে। বিজেপি ও আরএসএসের দৌরাত্ম্যে বাংলা যে চেহারা নিচ্ছে সেটা এ রাজ্যের সংস্কৃতির পরিপন্থী। বাঙালি বড়জোর ‘জয়দুর্গা’ বলতে পারে, কিন্তু ‘জয় শ্রীরাম’ বলার প্রশ্নই ওঠে না।
বিশদ

18th  July, 2019
পরিবারতান্ত্রিক সঙ্কট 
শান্তনু দত্তগুপ্ত

ছবিটা খুব পরিচিত। নিজের দলের বিরুদ্ধেই ধর্নায় বসেছেন ইন্দিরা গান্ধী। ভাঙতে চলেছে কংগ্রেস। আর তার নেপথ্যে ক্ষমতার ভারসাম্য বজায় রাখার সংঘাত। একদিকে স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা। অন্যদিকে কামরাজ, মোরারজি দেশাই, তৎকালীন কংগ্রেস সভাপতি নিজলিঙ্গাপ্পা। 
বিশদ

16th  July, 2019
মোদি সরকারের নতুন জাতীয় শিক্ষানীতি দেশকে কোন দিকে নিয়ে চলেছে
তরুণকান্তি নস্কর

নয়া শিক্ষানীতির কেন্দ্রবিন্দুই হল এই ভারতীয়ত্বের নাম করে মধ্যযুগীয় বাতিল চিন্তা ভাবনার জাবর কাটার প্রচেষ্টা। পঞ্চতন্ত্র, জাতক, হিতোপদেশের গল্পকে তাঁরা স্কুল পাঠ্য করতে চাইছেন, সংস্কৃত শিক্ষাকে গুরুত্ব দিচ্ছেন অথচ ইংরেজি ভাষা শিক্ষাকে গুরুত্বহীন করে দেখানোর চেষ্টা করেছেন। পাঠ্যতালিকায় বহু ব্যক্তির জীবনীচর্চার উল্লেখ আছে, কিন্তু সেই তালিকায় ভারতীয় নবজাগরণের পথিকৃৎ রামমোহন ও বিদ্যাসাগরের নাম সযত্নে বাদ দেওয়া হয়েছে। রামমোহন-বিদ্যাসাগরই যে এদেশে প্রথম ধর্মীয় কুসংস্কারাচ্ছন্ন শিক্ষা ব্যবস্থাকে বাতিল করে আধুনিক শিক্ষা প্রচলনের জন্য লড়াই করেছিলেন তা কারোর অজানা নয়। ভারতীয় নবজাগরণের এই মনীষীরা যে আরএসএস-বিজেপির চক্ষুশূল তা আজ জলের মতো পরিষ্কার।
বিশদ

15th  July, 2019
সাত শতাংশ বৃদ্ধির ফাঁদে
পি চিদম্বরম

 কেন্দ্রীয় সরকারের বাজেটগুলির মধ্যে ২০১৯-২০ সালের বাজেট স্বাভাবিকের তুলনায় দ্রুত জট খুলল। মানুষের মধ্যে এই বাজেট নিয়ে কিংবা আগের বাজেট প্রস্তাবটি নিয়ে কোনও আলোচনা নেই। অতিশয় ধনীরা (সুপার রিচ ৬৪৬৭) বিরক্ত, তবুও ভয়ে স্পিকটি নট। ধনীদের স্বস্তি এখানেই যে তাঁদের রেয়াত করা হয়ে থাকে।
বিশদ

15th  July, 2019
একটু ভাবুন
শুভা দত্ত

 বিশ্বের চারদিক থেকে পানীয় জল নিয়ে গুরুতর অশনিসংকেত আসার পরও আমাদের এই কলকাতা শহরে তো বটেই, গোটা রাজ্যেই প্রতিদিন বিশাল পরিমাণ জল অপচয় হয়। আপাতত বেশিরভাগ জায়গায় জলের জোগান স্বাভাবিক আছে বলে সেটা গায়ে লাগছে না। তাই এখনও আসন্ন মহাবিপদের কথাটা ভাবছেন খুব সামান্যজনই। বাদবাকিরা এখনও নির্বিকার, ভয়ডরহীন—দু’জনের সংসারে আড়াই-তিন হাজার লিটার শেষ করে দিচ্ছে দিনে, বাড়ি গাড়ি ধোয়া চালাচ্ছে কর্পোরেশনের পানীয় জলে! আহাম্মক আর কাকে বলে।
বিশদ

14th  July, 2019
বেনোজলের রাজনীতি
তন্ময় মল্লিক

জেলায় জেলায় নব্যদের নিয়ে বিজেপির আদিদের ক্ষোভ রয়েছে। আর এই ক্ষোভের অন্যতম কারণ যোগদানকারীদের বেশিরভাগই এক সময় হয় সিপিএমের হার্মাদ বাহিনীর সদস্য ছিলেন, অথবা তৃণমূলের ‘কাটমানি নেতা’। তাই এই সব নেতাকে নিয়ে স্বচ্ছ রাজনীতির স্লোগান মানুষ বিশ্বাস করবে না। উল্টে লোকসভা ভোটে যাঁরা নীরবে সমর্থন করেছিলেন, তাঁরা ফের নিঃশব্দেই মুখ ফিরিয়ে নেবেন।‘ফ্লোটিং ভোট’ যে মুখ ঘুরিয়ে নিতে পারে, সেটা বিজেপির পোড়খাওয়া নেতারা বুঝতে পারছেন। তাঁরা বলছেন, ভোটের ফল প্রকাশের পর যাঁরা আসছেন তাঁরা কেউই বিজেপির আদর্শের জন্য আসছেন না, আসছেন বাঁচার তাগিদে। কেউ কেউ লুটেপুটে খাওয়ার অভ্যাস বজায় রাখার আশায়।
বিশদ

13th  July, 2019
ঘোষণা ও বাস্তব
সমৃদ্ধ দত্ত

ভারত সরকারের অন্যতম প্রধান একটি প্রকল্পই হল নদী সংযোগ প্রকল্প। দেশের বিভিন্ন নদীকে পরস্পরের সঙ্গে যুক্ত করে দেওয়া হবে। যাতে উদ্বৃত্ত জলসম্পন্ন নদী থেকে বাড়তি জল শুকনো নদীতে যেতে পারে। প্রধানমন্ত্রী বারংবার এই প্রকল্পের প্রয়োজনীয়তার কথা বলেন। গোটা প্রকল্প রূপায়ণ করতে অন্তত ১ লক্ষ কোটি টাকা দরকার। এদিকে আবার বুলেট ট্রেন করতেও ১ লক্ষ ৮০ হাজার কোটি টাকা খরচ হচ্ছে! আধুনিক রাষ্ট্রে অবশ্যই দুটোই চাই। কিন্তু বাস্তব প্রয়োজনের ভিত্তিতে বিচার করলে? কোনটা বেশি জরুরি? বিশদ

12th  July, 2019
মোদি সরকারের নতুন জাতীয় শিক্ষানীতি দেশকে কোন দিকে নিয়ে চলেছে
তরুণকান্তি নস্কর

 কেন্দ্রীয় মানব সম্পদ উন্নয়ন দপ্তর থেকে সম্প্রতি জাতীয় শিক্ষানীতি-২০১৯-এর যে খসড়া প্রকাশিত হয়েছে তার যে অংশ নিয়ে সংবাদ মাধ্যমে হই চই পড়েছিল তা হল বিদ্যালয় স্তরে ত্রি-ভাষা নীতির মাধ্যমে অ-হিন্দিভাষী রাজ্যে জোর করে হিন্দি চাপানোর বিষয়টি। তামিলনাড়ুর মানুষের প্রবল আপত্তিতে তা কেন্দ্রীয় সরকার প্রত্যাহার করে নিয়েছে।
বিশদ

11th  July, 2019
কেন তেরোজন অর্থনীতিবিদ অখুশি হবেন?
পি চিদম্বরম

প্রধান অর্থনৈতিক উপদেষ্টা ড. অরবিন্দ সুব্রামনিয়ন পাঁচ বছর আগে তাঁর প্রথম অর্থনৈতিক সমীক্ষা (ইকনমিক সার্ভে ২০১৪-১৫) পেশ করে বলেছিলেন, ‘‘ভারত একটা সুন্দর জায়গায় (সুইট স্পট) পৌঁছে গিয়েছে—জাতির ইতিহাসে এটা বিরল—এইভাবে শেষমেশ দুই সংখ্যার মধ্যমেয়াদি বৃদ্ধির কৌশলে ভর করে এগনো যাবে।’’
বিশদ

08th  July, 2019
জলের জন্য হাহাকার আমাদের কি একটুও ভাবাচ্ছে!
শুভা দত্ত

আমাদের এখনও তেমন অসুবিধে হচ্ছে না। কারণ, কলকাতা মহানগরীতে এখনও পানীয় হোক কি সাধারণ কাজকর্ম সারার জলের অভাব ঘটেনি। ঘটেনি কারণ আমাদের জল জোগান যে মা গঙ্গা, তিনি এখনও বহমান এবং তাঁর বুকের ঘোলা জলে এখনও নিয়ম করে বান ডাকে, জোয়ার-ভাটা খেলে।
বিশদ

07th  July, 2019
এক বাস্তববাদী রাজনীতিকের নাম শ্যামাপ্রসাদ
হারাধন চৌধুরী

 নরেন্দ্র মোদির দ্বিতীয় সরকার নিয়ে বিজেপি তিন দফায় ভারত শাসনের দায়িত্ব পেল। কংগ্রেসকে বাদ দিলে ভারতের আর কোনও রাজনৈতিক দল এই কৃতিত্ব অর্জন করতে পারেনি। ২০১৯-এর লোকসভার ভোটে বিজেপি ক্ষমতা অনেকখানি বাড়িয়ে নিয়েছে। ২০১৪-র থেকে বেশি ভোট পেয়েছে এবং তিনশোর বেশি আসন দখল করেছে।
বিশদ

06th  July, 2019
একনজরে
 সংবাদদাতা, হরিরামপুর: পরকীয়ায় জড়িয়ে যাওয়া বউকে প্রেমিকের হাতে তুলে দিলেন স্বামী। এদিন প্রেমিক বংশীহারিতে প্রেমিকার বাড়িতে এলে পাড়ার লোকজন তাকে ধরে ফেলে। পরে স্থানীয়রাই পুলিসকে খবর দেয়। বংশীহারি থানার পুলিস এসে প্রেমিককে ভ্যানে তোলে।  ...

 নয়াদিল্লি, ১৮ জুলাই (পিটিআই): অযোধ্যার রাম জন্মভূমি-বাবরি মসজিদ জমি বিতর্ক মামলায় মধ্যস্থতার প্রক্রিয়া জারি রাখার অনুমতি দিল সুপ্রিম কোর্ট। পাশাপাশি মধ্যস্থতার ফলাফল কী দাঁড়াল, তা নিয়ে ১ আগস্ট রিপোর্ট পেশ করতে বলল শীর্ষ আদালত। ...

 সুমন তেওয়ারি, আসানসোল, বিএনএ: কাটমানি, স্বজনপোষণ, পঞ্চায়েতের কাজের টেন্ডারের অনিয়ম এবং নিম্নমানের কাজে যুক্ত পঞ্চায়েত প্রধান ও নির্মাণ সহায়ক। এমনই গুরুতর অভিযোগ মুখ্যমন্ত্রীর দপ্তরে জানানোর সাতদিনের মধ্যে প্রাথমিক তদন্ত করে অভিযুক্ত প্রধান ও নির্মাণ সহায়ককে শোকজ করল প্রশাসন। ...

 ন্যাশনাল স্টক এক্সচেঞ্জে যেসব সংস্থার শেয়ার গতকাল লেনদেন হয়েছে শুধু সেগুলির বাজার বন্ধকালীন দরই নীচে দেওয়া হল। ...




আজকের দিনটি কিংবদন্তি গৌতম
৯১৬৩৪৯২৬২৫ / ৯৮৩০৭৬৩৮৭৩

ভাগ্য+চেষ্টা= ফল
  • aries
  • taurus
  • gemini
  • cancer
  • leo
  • virgo
  • libra
  • scorpio
  • sagittorius
  • capricorn
  • aquarius
  • pisces
aries

কারও কথায় মর্মাহত হতে হবে। বিবাহের যোগ আছে। কর্মে সুনাম বাড়বে। পাওনা অর্থ আদায় হবে। ... বিশদ


ইতিহাসে আজকের দিন

১৮৬৩: কবি, গীতিকার ও নাট্যকার দ্বিজেন্দ্রলাল রায়ের জন্ম
১৮৯৯: লেখক বনফুল তথা বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায়ের জন্ম
১৯৫৫: প্রাক্তন ক্রিকেটার রজার বিনির জন্ম
২০১২: বাংলাদেশের লেখক হুমায়ুন আহমেদের মূত্যু

ক্রয়মূল্য বিক্রয়মূল্য
ডলার ৬৭.৯৫ টাকা ৬৯.৬৪ টাকা
পাউন্ড ৮৪.০৯ টাকা ৮৭.২২ টাকা
ইউরো ৭৫.৯৩ টাকা ৭৮.৮৭ টাকা
[ স্টেট ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়া থেকে পাওয়া দর ]
পাকা সোনা (১০ গ্রাম) ৩৫,৩৫০ টাকা
গহনা সোনা (১০ (গ্রাম) ৩৩,৫৪০ টাকা
হলমার্ক গহনা (২২ ক্যারেট ১০ গ্রাম) ৩৪,০৪৫ টাকা
রূপার বাট (প্রতি কেজি) ৪০,২৫০ টাকা
রূপা খুচরো (প্রতি কেজি) ৪০,৩৫০ টাকা
[ মূল্যযুক্ত ৩% জি. এস. টি আলাদা ]

দিন পঞ্জিকা

২ শ্রাবণ ১৪২৬, ১৯ জুলাই ২০১৯, শুক্রবার, দ্বিতীয়া ৪/৩৩ দিবা ৬/৫৫। ধনিষ্ঠা ৫৮/১৮ রাত্রি ৪/২৫। সূ উ ৫/৬/৩, অ ৬/১৯/৩১, অমৃতযোগ দিবা ৬/৫২ মধ্যে পুনঃ ৭/৪৫ গতে ১০/২৪ মধ্যে পুনঃ ১/২ গতে ২/৪৮ মধ্যে পুনঃ ৪/৩৩ গতে অস্তাবধি, বারবেলা ৮/২৪ গতে ১১/৪৩ মধ্যে, কালরাত্রি ৯/১ গতে ১০/২২ মধ্যে।
২ শ্রাবণ ১৪২৬, ১৯ জুলাই ২০১৯, শুক্রবার, তৃতীয়া ৬০/০/০ অহোরাত্র। ধনিষ্ঠানক্ষত্র ৫৫/৩১/৩৩ রাত্রি ৩/১৭/৪৩, সূ উ ৫/৫/৬, অ ৬/২২/৫, অমৃতযোগ দিবা ৬/৫৬ মধ্যে ও ৭/৪৮ গতে ১০/২৪ মধ্যে ও ১/১ গতে ২/৪৫ মধ্যে ও ৪/৩০ গতে ৬/২২ মধ্যে। রাত্রি ৭/৪২ গতে ৯/৯ মধ্যে ও ৩/০ গতে ৩/৪৪ মধ্যে, বারবেলা ৮/২৪/২২ গতে ১০/৩/৫৯ মধ্যে, কালবেলা ১০/৩/৫৯ গতে ১১/৪৩/৩৭ মধ্যে, কালরাত্রি ৯/২/৫১ গতে ১০/২৩/১৪ মধ্যে।
১৫ জেল্কদ

ছবি সংবাদ

এই মুহূর্তে
শিলিগুড়িতে ভূমিকম্প 
পরপর দু’টি ভূমিকম্পে কাঁপল শিলিগুড়ি সহ দার্জিলিংয়ের বিস্তীর্ণ এলাকা। রিখটার ...বিশদ

04:08:36 PM

কর্ণাটক: আজ সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে বিধানসভায় সংখ্যাগরিষ্ঠতার প্রমাণ দিতে হবে, কুমারস্বামীকে চিঠি পাঠিয়ে নির্দেশ রাজ্যপালের 

04:05:11 PM

৫৬০ পয়েন্ট পড়ল সেনসেক্স 

04:04:38 PM

ধর্মতলায় তৃণমূলের শহিদ দিবসের প্রস্তুতি চলছে 

03:58:00 PM

হালিশহর পুরসভায় অনাস্থা ভোটে অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশ দিল কলকাতা হাইকোর্ট 

03:13:57 PM

উত্তরপ্রদেশে দলিত খুনের ঘটনায় আজ সন্ধ্যায় বিক্ষোভ মিছিল তৃণমূলের 
উত্তরপ্রদেশের সোনভদ্রয় গ্রাম প্রধান ও তার শাগরেদদের গুলিতে ১০ দলিত ...বিশদ

03:12:51 PM