Bartaman Patrika
বিশেষ নিবন্ধ
 

চাকরি ও পরিকাঠামো উন্নয়নে প্রত্যাশিত দিশা দেখাতে পারল না নির্মলা সীতারামনেরও বাজেট
দেবনারায়ণ সরকার

লোকসভা নির্বাচনের আগে গত ফেব্রুয়ারিতে বর্তমান বছরের (২০১৯-২০) অন্তর্বর্তী বাজেট পেশ করা হয়েছিল। নির্বাচনে বিপুল জয়ের পরে বর্তমান অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন দ্বিতীয় মোদি সরকারের বর্তমান অর্থবর্ষের পূর্ণাঙ্গ বাজেট পেশ করলেন। এই বাজেটে আয় ও ব্যয় অন্তর্বর্তী বাজেটে যা ধরা হয়েছিল সেটাই অপরিবর্তিত রইল। শুধুমাত্র রাজকোষ ঘাটতি দেশের জিডিপির ৩.৪ শতাংশের পরিবর্তে কমিয়ে ৩.৩ শতাংশ ধরা হল। কিন্তু খটকা থেকেই গেল। সম্প্রতি প্রকাশিত সিএজি রিপোর্টে দেখা গিয়েছে, বর্তমান অর্থবর্ষের প্রথম দু’মাসে (এপ্রিল ও মে) রাজকোষ ঘাটতির অর্ধেকের বেশি (৫২ শতাংশ) খরচ হয়ে গিয়েছে। তাই স্বাভাবিক প্রশ্ন এই, আগামী দশমাসে রাজকোষ ঘাটতির অনুপাত অপরিবর্তিত থাকবে কি? তথ্য থেকে দেখা গিয়েছে, গত অর্থবর্ষে রাজকোষ ঘাটতি ধরা হয়েছিল জিডিপির ৩.৪ শতাংশ। কিন্তু বাজেটবহির্ভূত ঋণ থেকে প্রায় ১.৪০ লক্ষ কোটি টাকা সরকারি ব্যয় হয়েছিল। এটি ধরলে গত বছরেই রাজকোষ ঘাটতির অনুপাত দাঁড়াবে জিডিপির প্রায় ৪.১ শতাংশ। ফলে, বর্তমান অর্থবর্ষেও নির্মলা সীতারামনের পক্ষে একই পদ্ধতি অবলম্বন করা ছাড়া গত্যন্তর নেই।
এবার আসা যাক রাজস্ব আয়ের ক্ষেত্রে। বর্তমান অর্থবর্ষে কর রাজস্ব থেকে ধরা হয়েছে ঋণবিহীন মোট আয়ের ৮২ শতাংশ। এই আয়ও সম্পূর্ণ আদায় হওয়া দুরূহ ব্যাপার। গত অর্থবর্ষেই সংশোধিত বাজেট হিসেবে আয়কর বাবদ রাজস্ব ধরা হয়েছিল ১১.৮৯ লক্ষ কোটি টাকা। আজকের বাজেটে অর্থমন্ত্রী জানালেন ৫২ হাজার কোটি টাকা আদায় কম হয়েছে—আদায়ের পরিমাণ ১১.৩৭ লক্ষ কোটি টাকা। অর্থমন্ত্রীর হিসেব অনুযায়ী, গত চার বছরে প্রত্যক্ষ কর বাবদ আয় গড়ে বছরে ১.২৫ লক্ষ কোটি বেড়েছে। অথচ, গত বছর সংশোধিত বাজেটে অতিরিক্ত বৃদ্ধি ধরা হয়েছিল ২ লক্ষ কোটি টাকা। প্রকৃত আদায় ১.৪৭ লক্ষ কোটি টাকা। কিন্তু, গত বছরের প্রকৃত আদায় থেকে ধরলে প্রত্যক্ষ কর থেকে অতিরিক্ত ২.৩০ লক্ষ কোটি টাকা আদায় করতে হবে। যেহেতু রাজস্ব বৃদ্ধির ক্ষেত্রে তেমন পরিবর্তন এই বাজেটে লক্ষ করা যায়নি তাই এই অতিরিক্ত আদায় অনেকটাই কম হবে। পরোক্ষ করের ক্ষেত্রেও দেখা যাচ্ছে, প্রায় ১ লক্ষ কোটি টাকা আদায় কম হয়েছে। তাই, গত বছরের প্রকৃত আদায় থেকে ধরলে এবছর অতিরিক্ত প্রায় সাড়ে ৪ লক্ষ কোটি টাকা অতিরিক্ত কর রাজস্ব আদায় করতে হবে, যদি বর্তমান বাজেটের লক্ষ্য পূরণ করতে হয়। গত বছর কার্যত অতিরিক্ত ২ লক্ষ কোটি টাকার সামান্য বেশি আদায় হয়েছে মাত্র। বর্তমান অর্থবর্ষের প্রথম তিনমাসে জিএসটি আদায় অনুমিত হিসেবের চেয়ে প্রায় ১০ শতাংশ কমেছে। তাই, এবছর অতিরিক্ত প্রায় সাড়ে ৪ লক্ষ কোটি কর থেকে আদায় করা প্রায় অসম্ভব বলে মনে হয়। অথচ, অন্যদিকে অতিরিক্ত খরচের বহর আগের থেকে অনেক বেড়েছে। প্রধানমন্ত্রী কৃষক সম্মাননিধি প্রকল্প ছাড়াও অসংগঠিত ক্ষেত্রের বিভিন্ন পেনশন প্রকল্পের জন্য বিপুল অর্থের প্রয়োজন। এমনকী আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে পরিকাঠামো উন্নয়নের ক্ষেত্রে ১০০ লক্ষ কোটি টাকা কীভাবে আসবে তারও কার্যকরী কোনও সূত্র এই বাজেট থেকে পাওয়া যায়নি। ফলে, এই বাজেটে অর্থনীতির উন্নয়নসহ সামাজিক উন্নয়নমূলক ব্যয়ের সঙ্কুলান কীভাবে হবে তার রূপরেখা এই বাজেটে নেই। আসলে প্রকৃত রাজস্ব ঘাটতি অনুমিত বাজেট থেকে আরও অনেক বেশি বৃদ্ধির সম্ভাবনা রয়েছে।
এই বাজেটে যে পরিকল্পনাগুলি সরকার কার্যত গ্রহণ করেছে কার্যত তার সিংহভাগই দুই থেকে পাঁচ বছর মেয়াদি। ২০২৪ অর্থবর্ষের মধ্যে ভারতকে পাঁচ ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছে এই বাজেটে। বর্তমানে ভারতীয় অর্থনীতির বহর প্রায় ৩ ট্রিলিয়ন ডলার। কিন্তু কীভাবে এটা সম্ভব তার রূপরেখা এখানে নেই। আর্থিক সমৃদ্ধির হার একবারে তলানিতে। একই অবস্থা চাহিদা, বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে। ৪৫ বছরের মধ্যে বেকারত্ব সর্বোচ্চ। বিশেষ করে বেসরকারি বিনিয়োগ গত ১৫ বছরে সর্বনিম্ন। উৎপাদন ও বিক্রয়ের নিশ্চয়তা না-থাকায় বেসরকারি বিনিয়োগের চাকা কার্যত ঘুরছে না বলা যায়। এমতাবস্থায় কিছু কিছু পদক্ষেপ অবশ্য এই বাজেটে গ্রহণ করা হয়েছে। যেমন কর্পোটের ক্ষেত্রে প্রায় সমস্ত কর্পোরেট ট্যাক্স ২৫ শতাংশে আনা হয়েছে। আড়াইশো কোটি টাকা কার্যকরী মূলধন বা ওয়ার্কিং ক্যাপিটালের ক্ষেত্রে কোনও শিল্প প্রতিষ্ঠানের কর্পোরেট ট্যাক্স ছিল ২৫ শতাংশ। কার্যকরী মূলধনের এই সীমা বাড়িয়ে ৪০০ কোটি টাকা করা হল। অর্থমন্ত্রীর মতে, এই সীমার মধ্যে ৯৯.৩ শতাংশ সংস্থাই অন্তর্ভুক্ত হয়ে যাবে। মাত্র ০.৭ শতাংশ কোম্পানির কর্পোরেট ট্যাক্সের ২৫ শতাংশের বেশি। এর ফলে সরকার মনে করছে, বেসরকারি বিনিয়োগ বাড়বে। বাস্তবে কতখানি বাড়বে সেটা সময়ই বলবে। এই বাজেটের বিলগ্নিকরণের ১.০৫ লক্ষ কোটি আদায় ধরা হয়েছে। অন্তর্বর্তী ধরা হয়েছিল ৯০ হাজার কোটি টাকা। তবে, যে-পদ্ধতিতে বিলগ্নিকরণের নীতিমালা ধার্য করা হয়েছে তাতে নবরত্ন সংস্থাগুলোর স্থায়িত্ব নিয়ে বিস্তর সংশয় থাকছে।
মধ্যবিত্ত এবং আম জনতা এই বাজেট থেকে কতখানি উপকৃত হচ্ছেন? চাকরিজীবীদের কর ছাড়ের ক্ষেত্রে এদিনের বাজেটে নতুন কোনও পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। অন্তর্বর্তী বাজেটে করছাড়ের ক্ষেত্রে ৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত (৫৭ এ ধারা) যে-ছাড় দেওয়া হয়েছিল সেটা বর্তমান পূর্ণাঙ্গ বাজেটেও অপরিবর্তিত থাকছে। অর্থাৎ নিম্ন ও মধ্যবিত্ত চাকরিজীবীদের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত কোনো করছাড়ের সুযোগ এই বাজেটে নেই। তবে, উচ্চ আয়ের ক্ষেত্রে সারচার্জ কিছুটা বাড়াোন হয়েছে। ২ থেকে ৫ কোটি টাকা ব্যক্তিগত আয়কর দাতার ক্ষেত্রে সারচার্জ ২ থেকে বাড়িয়ে ৩ শতাংশ করা হয়েছে। ৫ কোটি টাকা উপরে সারচার্জ করা হয়েছে ৭ শতাংশ। কার্যত এটুকু বাড়িয়ে বর্তমান বাজেটে প্রত্যক্ষ আয়ের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করা কার্যত দুরূহ।
ছোট ব্যবসায়ী ও ক্ষুদ্র দোকানদারদের ক্ষেত্রে যে-পেনশন স্কিম ঘোষণা করা হয়েছে তাতে বলা হয়েছে, যাদের মূলধন দেড় কোটি টাকার কম তাঁরাই প্রকল্পের আওতায় আসবেন। এই প্রকল্পে ৩ কোটি পরিবার অন্তর্ভুক্ত হবে। এমএসএমই-র ক্ষেত্রে ১ কোটি টাকা পর্যন্ত ঋণে ২ শতাংশ সুদ ছাড় দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।
এই বাজেটে মহিলাদের ক্ষমতায়ন ও স্বনির্ভতার ক্ষেত্রে কয়েকটি পদক্ষে নেওয়া হয়েছে। দেশের প্রত্যেকটি জেলায় সেলফ হেল্প গ্রুপ গঠনের কথা বলা হয়েছে। এবং, এই ক্ষেত্রে প্রত্যেক মহিলারই জনধন অ্যাকাউন্ট থাকবে। প্রতিটি সেলফ হেল্প গ্রুপের প্রতিটি সদস্য এই অ্যাকাউন্ট থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত ওভারড্রাফট নিতে পারবেন। শুধু তাই নয়, প্রতিটি সেলফ হেল্প গ্রুপের সর্বোচ্চ একজন ১ লক্ষ টাকা পর্যন্ত ওভার ড্রাফট নিতে পারবেন।
প্রধানমন্ত্রী গ্রামীণ আবাস যোজনায় ২০২১-২২ অর্থবর্ষের মধ্যে ১.৯৫ কোটি নতুন বাড়ি তৈরি করা হবে। ২০২২-এর মধ্যে প্রত্যেক পরিবারই উজ্জ্বলা যোজনার আওতায় আসবে। এই সময়ের মধ্যে ক্লিন কুকিং ফেসিলিটি সম্পূর্ণ করা হবে। এই অর্থবর্ষের ভিতরে সমস্ত গ্রামীণ বাড়িতে শৌচাগার এবং বিদ্যুৎ সংযোগের চাহিদা সম্পূর্ণ করা হবে। প্রধানমন্ত্রী গ্রামীণ সড়ক যোজনার অধীনে ফেজ থ্রি প্রকল্পে ১.২৫ লক্ষ কিমি সড়ক আধুনিকীকরণ করা হবে। এজন্য ৫ বছরে ব্যয় ধরা হয়েছে ৮০,২৫০ কোটি টাকা।
এই বাজেটে অর্থমন্ত্রী ‘জনশক্তি মন্ত্রণালয়’ নামে একটি নতুন মন্ত্রকের কথা শোনান। ‘হর ঘর জল’ প্রকল্পের অধীনে জল ও জল সংরক্ষণ ও জল সরবাহের সম্মিলিত পদক্ষেপ করা হবে। ২০২৪ অর্থবর্ষের সমস্ত গ্রামীণ বাড়িতে পরিস্রুত পানীয় জল সরবরাহের প্রতিশ্রুতি রেখেছে এদিনের বাজেট। প্রত্যেক গ্রামকে সলিড ওয়েস্ট ম্যানেজমেন্ট বা কঠিন বর্জ্য ব্যবস্থাপনার অধীনে আনা হবে। প্রধানমন্ত্রী শহর আবাস যোজনায় আগামী ৫ বছরের জন্য বাড়ি তৈরির ক্ষেত্রে প্রায় ৫ লক্ষ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। স্টার্ট আপের ক্ষেত্রেও বিনিয়োগ প্রসারিত করার জন্য কিছু পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এদের আয়কর রিটার্নের ক্ষেত্রে ই ভেরিফিকেশনের ব্যবস্থা করা হয়েছে, যাতে কোনও স্ত্রুটির ব্যবস্থা থাকছে না। এদের ক্ষেত্রে মূলধনী লাভ জনিত কর জমার সময়সীমা ২০২১ সালের মার্চ পর্যন্ত বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। এদের ক্ষেত্রে আরও বেশকিছু সুবিধা দেওয়ার কথা ঘোষণা করেছেন অর্থমন্ত্রী। ডিজিটাল পেমেন্টকে আরও উৎসাহিত করার জন্য যেসব ইনসেনটিভ ঘোষণা করা হয়েছে তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য: ৫০ কোটি টাকা পর্যন্ত কোনও বাণিজ্যিক ডিসকাউন্ট চার্জ করা হবে না। এছাড়া যদি কেউ ১ কোটি টাকার বেশি নগদে ব্যাঙ্ক থেকে তোলেন তবে সেক্ষেত্রে উৎসমূলে ২ শতাংশ লেভি (টিডিএস) ধার্য করা হয়েছে। এটাকে নগদ লেনেদেনে নিরুৎসাহ হিসেবে দেখা যেতে পারে।
কতকগুলি ক্ষেত্রে নতুন কর আরোপ করা হয়েছে অথবা করবৃদ্ধি করা হয়েছে। যেমন সোনা এবং অন্যান্য দামি পণ্য আমদানির উপর কর বাড়ানো হয়েছে। ছিল ১০ শতাংশ সেটা বাড়িয়ে করা হয়েছে ১২ শতাংশ। আমদানিকৃত বইয়ের ৫ শতাংশ কর ধার্য করা হয়েছে। কতকগুলি দ্রব্য যেমন পিভিসি, টাইলস, সিন্থেটিক রাবার, ডিজিটাল ক্যামেরার ক্ষেত্রে কর বাড়ছে। পেট্রলের উপর কর (কেন্দ্রীয় শুল্ক) বাড়ানো হয়েছে লিটার প্রতি ১ টাকা। বাড়ানো হয়েছে রোড সেসও।
গত ৫ বছরে মোদি সরকার বছরে ২ কোটি কর্মসংস্থানের প্রতিশ্রুতি দিলেও ২০১৭-১৮ অর্থবর্ষের ন্যাশনাল স্যাম্পেল সার্ভে রিপোর্টে দেখা গিয়েছে, ৪৫ বছরের ভিতর বেকারত্ব ছিল সর্বোচ্চ। তাই এই বাজেটে কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে এই সদর্থক বলিষ্ঠ পদক্ষেপ আশা করেছিল ভারতবাসী। কিন্তু নির্মলা সীতারামন শেষমেশ আমাদের হতাশ করলেন। একদিকে যেমন ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের ক্ষেত্রে (এমএসএমই) কর্মসংস্থানের দিশা যেমন এই বাজেটে নেই, তেমনি সরকারি পরিকাঠামো উন্নয়নের ক্ষেত্রে বর্তমান বছরের জন্য কার্যকরী রূপরেখাও এই বাজেটে নেই। গত ৫ বছরে দেখা গিয়েছে, রাজকোষ ঘাটতি যেখানে ডিজিপির ৩ শতাংশের অনেক বেশি সেক্ষেত্রে মূলধনী ব্যয় এর অর্ধেকেরও কম।
বর্তমান বাজেটেও যেখানে মূলধনী ব্যয় জিডিপর ১.৬ শতাংশ ধরা হয়েছিল বাজেটে সামাজিক এবং অন্যান্য ব্যয় মেটাতে গিয়ে এই ব্যয় হ্রাসের সম্ভাবনা প্রবল। তাছাড়া আগামী ৫ বছরে ১০০ লক্ষ কোটি টাকা পরিকাঠামো উন্নয়নের সংস্থান কী হবে
তার জবাবও এই বাজেট দেয়নি। ফলে, বর্তমান বছরে একদিকে রাজস্ব আয় যথেষ্ট কমার আশঙ্কা
রয়েছে এবং অন্যদিকে কর্মসংস্থানসহ পরিকাঠামো উন্নয়নের প্রয়োজনে ব্যয়ের সংস্থানও এই
বাজেটে কার্যত নেই।
 লেখক প্রেসিডেন্সি বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতির প্রাক্তন অধ্যাপক
06th  July, 2019
অ্যাপোলো ৫০: গো ফর দ্য মুন
মৃণালকান্তি দাস

 মই বেয়ে লুনার মডিউল ঈগল থেকে চাঁদের বুকে নামতে নামতে নিল আর্মস্ট্রং বলেছিলেন, ‘একজন মানুষের এই একটি পদক্ষেপ হবে মানবজাতির জন্য এক বিরাট অগ্রযাত্রা।’ সেই ছিল চাঁদের বুকে মানুষের প্রথম পদচিহ্ন আর মানবজাতির সেদিনের প্রমিথিউস ছিলেন নিল আর্মস্ট্রং। চাঁদের বুকে নিলের পা ফেলার মাধ্যমে মানুষ চাঁদকে জয় করেছিল।
বিশদ

বাঙালির যে সংস্কৃতি হারিয়ে গেল
জিষ্ণু বসু

ইদানীং রাজ্যে একটা গেল গেল রব শোনা যাচ্ছে। বাঙালি তার সংস্কৃতি হারাচ্ছে। বিজেপি ও আরএসএসের দৌরাত্ম্যে বাংলা যে চেহারা নিচ্ছে সেটা এ রাজ্যের সংস্কৃতির পরিপন্থী। বাঙালি বড়জোর ‘জয়দুর্গা’ বলতে পারে, কিন্তু ‘জয় শ্রীরাম’ বলার প্রশ্নই ওঠে না।
বিশদ

18th  July, 2019
পরিবারতান্ত্রিক সঙ্কট 
শান্তনু দত্তগুপ্ত

ছবিটা খুব পরিচিত। নিজের দলের বিরুদ্ধেই ধর্নায় বসেছেন ইন্দিরা গান্ধী। ভাঙতে চলেছে কংগ্রেস। আর তার নেপথ্যে ক্ষমতার ভারসাম্য বজায় রাখার সংঘাত। একদিকে স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা। অন্যদিকে কামরাজ, মোরারজি দেশাই, তৎকালীন কংগ্রেস সভাপতি নিজলিঙ্গাপ্পা। 
বিশদ

16th  July, 2019
মোদি সরকারের নতুন জাতীয় শিক্ষানীতি দেশকে কোন দিকে নিয়ে চলেছে
তরুণকান্তি নস্কর

নয়া শিক্ষানীতির কেন্দ্রবিন্দুই হল এই ভারতীয়ত্বের নাম করে মধ্যযুগীয় বাতিল চিন্তা ভাবনার জাবর কাটার প্রচেষ্টা। পঞ্চতন্ত্র, জাতক, হিতোপদেশের গল্পকে তাঁরা স্কুল পাঠ্য করতে চাইছেন, সংস্কৃত শিক্ষাকে গুরুত্ব দিচ্ছেন অথচ ইংরেজি ভাষা শিক্ষাকে গুরুত্বহীন করে দেখানোর চেষ্টা করেছেন। পাঠ্যতালিকায় বহু ব্যক্তির জীবনীচর্চার উল্লেখ আছে, কিন্তু সেই তালিকায় ভারতীয় নবজাগরণের পথিকৃৎ রামমোহন ও বিদ্যাসাগরের নাম সযত্নে বাদ দেওয়া হয়েছে। রামমোহন-বিদ্যাসাগরই যে এদেশে প্রথম ধর্মীয় কুসংস্কারাচ্ছন্ন শিক্ষা ব্যবস্থাকে বাতিল করে আধুনিক শিক্ষা প্রচলনের জন্য লড়াই করেছিলেন তা কারোর অজানা নয়। ভারতীয় নবজাগরণের এই মনীষীরা যে আরএসএস-বিজেপির চক্ষুশূল তা আজ জলের মতো পরিষ্কার।
বিশদ

15th  July, 2019
সাত শতাংশ বৃদ্ধির ফাঁদে
পি চিদম্বরম

 কেন্দ্রীয় সরকারের বাজেটগুলির মধ্যে ২০১৯-২০ সালের বাজেট স্বাভাবিকের তুলনায় দ্রুত জট খুলল। মানুষের মধ্যে এই বাজেট নিয়ে কিংবা আগের বাজেট প্রস্তাবটি নিয়ে কোনও আলোচনা নেই। অতিশয় ধনীরা (সুপার রিচ ৬৪৬৭) বিরক্ত, তবুও ভয়ে স্পিকটি নট। ধনীদের স্বস্তি এখানেই যে তাঁদের রেয়াত করা হয়ে থাকে।
বিশদ

15th  July, 2019
একটু ভাবুন
শুভা দত্ত

 বিশ্বের চারদিক থেকে পানীয় জল নিয়ে গুরুতর অশনিসংকেত আসার পরও আমাদের এই কলকাতা শহরে তো বটেই, গোটা রাজ্যেই প্রতিদিন বিশাল পরিমাণ জল অপচয় হয়। আপাতত বেশিরভাগ জায়গায় জলের জোগান স্বাভাবিক আছে বলে সেটা গায়ে লাগছে না। তাই এখনও আসন্ন মহাবিপদের কথাটা ভাবছেন খুব সামান্যজনই। বাদবাকিরা এখনও নির্বিকার, ভয়ডরহীন—দু’জনের সংসারে আড়াই-তিন হাজার লিটার শেষ করে দিচ্ছে দিনে, বাড়ি গাড়ি ধোয়া চালাচ্ছে কর্পোরেশনের পানীয় জলে! আহাম্মক আর কাকে বলে।
বিশদ

14th  July, 2019
বেনোজলের রাজনীতি
তন্ময় মল্লিক

জেলায় জেলায় নব্যদের নিয়ে বিজেপির আদিদের ক্ষোভ রয়েছে। আর এই ক্ষোভের অন্যতম কারণ যোগদানকারীদের বেশিরভাগই এক সময় হয় সিপিএমের হার্মাদ বাহিনীর সদস্য ছিলেন, অথবা তৃণমূলের ‘কাটমানি নেতা’। তাই এই সব নেতাকে নিয়ে স্বচ্ছ রাজনীতির স্লোগান মানুষ বিশ্বাস করবে না। উল্টে লোকসভা ভোটে যাঁরা নীরবে সমর্থন করেছিলেন, তাঁরা ফের নিঃশব্দেই মুখ ফিরিয়ে নেবেন।‘ফ্লোটিং ভোট’ যে মুখ ঘুরিয়ে নিতে পারে, সেটা বিজেপির পোড়খাওয়া নেতারা বুঝতে পারছেন। তাঁরা বলছেন, ভোটের ফল প্রকাশের পর যাঁরা আসছেন তাঁরা কেউই বিজেপির আদর্শের জন্য আসছেন না, আসছেন বাঁচার তাগিদে। কেউ কেউ লুটেপুটে খাওয়ার অভ্যাস বজায় রাখার আশায়।
বিশদ

13th  July, 2019
ঘোষণা ও বাস্তব
সমৃদ্ধ দত্ত

ভারত সরকারের অন্যতম প্রধান একটি প্রকল্পই হল নদী সংযোগ প্রকল্প। দেশের বিভিন্ন নদীকে পরস্পরের সঙ্গে যুক্ত করে দেওয়া হবে। যাতে উদ্বৃত্ত জলসম্পন্ন নদী থেকে বাড়তি জল শুকনো নদীতে যেতে পারে। প্রধানমন্ত্রী বারংবার এই প্রকল্পের প্রয়োজনীয়তার কথা বলেন। গোটা প্রকল্প রূপায়ণ করতে অন্তত ১ লক্ষ কোটি টাকা দরকার। এদিকে আবার বুলেট ট্রেন করতেও ১ লক্ষ ৮০ হাজার কোটি টাকা খরচ হচ্ছে! আধুনিক রাষ্ট্রে অবশ্যই দুটোই চাই। কিন্তু বাস্তব প্রয়োজনের ভিত্তিতে বিচার করলে? কোনটা বেশি জরুরি? বিশদ

12th  July, 2019
মোদি সরকারের নতুন জাতীয় শিক্ষানীতি দেশকে কোন দিকে নিয়ে চলেছে
তরুণকান্তি নস্কর

 কেন্দ্রীয় মানব সম্পদ উন্নয়ন দপ্তর থেকে সম্প্রতি জাতীয় শিক্ষানীতি-২০১৯-এর যে খসড়া প্রকাশিত হয়েছে তার যে অংশ নিয়ে সংবাদ মাধ্যমে হই চই পড়েছিল তা হল বিদ্যালয় স্তরে ত্রি-ভাষা নীতির মাধ্যমে অ-হিন্দিভাষী রাজ্যে জোর করে হিন্দি চাপানোর বিষয়টি। তামিলনাড়ুর মানুষের প্রবল আপত্তিতে তা কেন্দ্রীয় সরকার প্রত্যাহার করে নিয়েছে।
বিশদ

11th  July, 2019
কেন তেরোজন অর্থনীতিবিদ অখুশি হবেন?
পি চিদম্বরম

প্রধান অর্থনৈতিক উপদেষ্টা ড. অরবিন্দ সুব্রামনিয়ন পাঁচ বছর আগে তাঁর প্রথম অর্থনৈতিক সমীক্ষা (ইকনমিক সার্ভে ২০১৪-১৫) পেশ করে বলেছিলেন, ‘‘ভারত একটা সুন্দর জায়গায় (সুইট স্পট) পৌঁছে গিয়েছে—জাতির ইতিহাসে এটা বিরল—এইভাবে শেষমেশ দুই সংখ্যার মধ্যমেয়াদি বৃদ্ধির কৌশলে ভর করে এগনো যাবে।’’
বিশদ

08th  July, 2019
জলের জন্য হাহাকার আমাদের কি একটুও ভাবাচ্ছে!
শুভা দত্ত

আমাদের এখনও তেমন অসুবিধে হচ্ছে না। কারণ, কলকাতা মহানগরীতে এখনও পানীয় হোক কি সাধারণ কাজকর্ম সারার জলের অভাব ঘটেনি। ঘটেনি কারণ আমাদের জল জোগান যে মা গঙ্গা, তিনি এখনও বহমান এবং তাঁর বুকের ঘোলা জলে এখনও নিয়ম করে বান ডাকে, জোয়ার-ভাটা খেলে।
বিশদ

07th  July, 2019
এক বাস্তববাদী রাজনীতিকের নাম শ্যামাপ্রসাদ
হারাধন চৌধুরী

 নরেন্দ্র মোদির দ্বিতীয় সরকার নিয়ে বিজেপি তিন দফায় ভারত শাসনের দায়িত্ব পেল। কংগ্রেসকে বাদ দিলে ভারতের আর কোনও রাজনৈতিক দল এই কৃতিত্ব অর্জন করতে পারেনি। ২০১৯-এর লোকসভার ভোটে বিজেপি ক্ষমতা অনেকখানি বাড়িয়ে নিয়েছে। ২০১৪-র থেকে বেশি ভোট পেয়েছে এবং তিনশোর বেশি আসন দখল করেছে।
বিশদ

06th  July, 2019
একনজরে
 সুমন তেওয়ারি, আসানসোল, বিএনএ: কাটমানি, স্বজনপোষণ, পঞ্চায়েতের কাজের টেন্ডারের অনিয়ম এবং নিম্নমানের কাজে যুক্ত পঞ্চায়েত প্রধান ও নির্মাণ সহায়ক। এমনই গুরুতর অভিযোগ মুখ্যমন্ত্রীর দপ্তরে জানানোর সাতদিনের মধ্যে প্রাথমিক তদন্ত করে অভিযুক্ত প্রধান ও নির্মাণ সহায়ককে শোকজ করল প্রশাসন। ...

 বাপ্পাদিত্য রায়চৌধুরী, কলকাতা: দ্বিতীয়বার ক্ষমতায় আসার পর প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি প্রাণিসম্পদ ও ডেয়ারি সংক্রান্ত নতুন একটি মন্ত্রক চালু করেছেন। সেই মন্ত্রক গোড়াতেই পাখির চোখ করছে ...

 মুম্বই, ১৮ জুলাই: দেশে ফিরলেন বিরাট কোহলি। বৃহস্পতিবার স্ত্রী অনুষ্কা শর্মার সঙ্গে মুম্বই বিমানবন্দর থেকে বেরতে দেখা যায় ভারত অধিনায়ককে। কোহলির পরনে ছিল কালো টি-শার্ট ...

 আঙ্কারা, ১৮ জুলাই (এপি): আমেরিকার নেতৃত্বাধীন যুদ্ধবিমান প্রকল্প এফ-৩৫ থেকে তুরস্ককে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। আমেরিকার সেই সিদ্ধান্তেরই বৃহস্পতিবার বিরোধিতা করল তাদের ন্যাটো জোটসঙ্গী তুরস্ক। তুরস্ক সরকারের দাবি, এই ধরনের সিদ্ধান্ত দুই দেশের ‘জোট সম্পর্কের পরিপন্থী’। ...




আজকের দিনটি কিংবদন্তি গৌতম
৯১৬৩৪৯২৬২৫ / ৯৮৩০৭৬৩৮৭৩

ভাগ্য+চেষ্টা= ফল
  • aries
  • taurus
  • gemini
  • cancer
  • leo
  • virgo
  • libra
  • scorpio
  • sagittorius
  • capricorn
  • aquarius
  • pisces
aries

কারও কথায় মর্মাহত হতে হবে। বিবাহের যোগ আছে। কর্মে সুনাম বাড়বে। পাওনা অর্থ আদায় হবে। ... বিশদ


ইতিহাসে আজকের দিন

১৮৬৩: কবি, গীতিকার ও নাট্যকার দ্বিজেন্দ্রলাল রায়ের জন্ম
১৮৯৯: লেখক বনফুল তথা বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায়ের জন্ম
১৯৫৫: প্রাক্তন ক্রিকেটার রজার বিনির জন্ম
২০১২: বাংলাদেশের লেখক হুমায়ুন আহমেদের মূত্যু

ক্রয়মূল্য বিক্রয়মূল্য
ডলার ৬৭.৯৫ টাকা ৬৯.৬৪ টাকা
পাউন্ড ৮৪.০৯ টাকা ৮৭.২২ টাকা
ইউরো ৭৫.৯৩ টাকা ৭৮.৮৭ টাকা
[ স্টেট ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়া থেকে পাওয়া দর ]
পাকা সোনা (১০ গ্রাম) ৩৫,৩৫০ টাকা
গহনা সোনা (১০ (গ্রাম) ৩৩,৫৪০ টাকা
হলমার্ক গহনা (২২ ক্যারেট ১০ গ্রাম) ৩৪,০৪৫ টাকা
রূপার বাট (প্রতি কেজি) ৪০,২৫০ টাকা
রূপা খুচরো (প্রতি কেজি) ৪০,৩৫০ টাকা
[ মূল্যযুক্ত ৩% জি. এস. টি আলাদা ]

দিন পঞ্জিকা

২ শ্রাবণ ১৪২৬, ১৯ জুলাই ২০১৯, শুক্রবার, দ্বিতীয়া ৪/৩৩ দিবা ৬/৫৫। ধনিষ্ঠা ৫৮/১৮ রাত্রি ৪/২৫। সূ উ ৫/৬/৩, অ ৬/১৯/৩১, অমৃতযোগ দিবা ৬/৫২ মধ্যে পুনঃ ৭/৪৫ গতে ১০/২৪ মধ্যে পুনঃ ১/২ গতে ২/৪৮ মধ্যে পুনঃ ৪/৩৩ গতে অস্তাবধি, বারবেলা ৮/২৪ গতে ১১/৪৩ মধ্যে, কালরাত্রি ৯/১ গতে ১০/২২ মধ্যে।
২ শ্রাবণ ১৪২৬, ১৯ জুলাই ২০১৯, শুক্রবার, তৃতীয়া ৬০/০/০ অহোরাত্র। ধনিষ্ঠানক্ষত্র ৫৫/৩১/৩৩ রাত্রি ৩/১৭/৪৩, সূ উ ৫/৫/৬, অ ৬/২২/৫, অমৃতযোগ দিবা ৬/৫৬ মধ্যে ও ৭/৪৮ গতে ১০/২৪ মধ্যে ও ১/১ গতে ২/৪৫ মধ্যে ও ৪/৩০ গতে ৬/২২ মধ্যে। রাত্রি ৭/৪২ গতে ৯/৯ মধ্যে ও ৩/০ গতে ৩/৪৪ মধ্যে, বারবেলা ৮/২৪/২২ গতে ১০/৩/৫৯ মধ্যে, কালবেলা ১০/৩/৫৯ গতে ১১/৪৩/৩৭ মধ্যে, কালরাত্রি ৯/২/৫১ গতে ১০/২৩/১৪ মধ্যে।
১৫ জেল্কদ

ছবি সংবাদ

এই মুহূর্তে
এয়ারপোর্ট থেকে বারাকপুর পর্যন্ত মাটির তলা দিয়েই যাবে মেট্রো
এয়ারপোর্ট থেকে বারাকপুর পর্যন্ত মাটির তলা দিয়ে হবে মেট্রো লাইন। ...বিশদ

02:24:12 PM

৫০০ পয়েন্ট পড়ল সেনসেক্স 

01:44:56 PM

বিশ্ববাংলা কনভেনশন সেন্টারে কর্মশালার আয়োজন করল রাজ্য সরকার 
আজ বিশ্ববাংলা কনভেনশন সেন্টারে অ্যানিমেশন, বিএফএক্স অ্যান্ড গেমিংয়ের উপর একটি ...বিশদ

01:37:00 PM

পাথর প্রতিমার কুয়েমুড়ি গ্রামে একটি পুকুর থেকে কুমির উদ্ধার করল বনকর্মীরা 

01:12:15 PM

নদীয়ায় পঞ্চায়েত কর্মীদের আইডি কার্ড দেওয়া শুরু হল 

12:52:00 PM

উত্তরপ্রদেশের নারায়ণপুরে ধর্নায় প্রিয়াঙ্কা গান্ধী 
উত্তরপ্রদেশের নারায়ণপুরে প্রিয়াঙ্কা গান্ধীকে আটকাল পুলিস। প্রতিবাদে ধর্নায় বসলেন তিনি। ...বিশদ

12:12:57 PM