Bartaman Patrika
বিশেষ নিবন্ধ
 

জলের জন্য হাহাকার আমাদের কি একটুও ভাবাচ্ছে!
শুভা দত্ত

আমাদের এখনও তেমন অসুবিধে হচ্ছে না। কারণ, কলকাতা মহানগরীতে এখনও পানীয় হোক কি সাধারণ কাজকর্ম সারার জলের অভাব ঘটেনি। ঘটেনি কারণ আমাদের জল জোগান যে মা গঙ্গা, তিনি এখনও বহমান এবং তাঁর বুকের ঘোলা জলে এখনও নিয়ম করে বান ডাকে, জোয়ার-ভাটা খেলে। মা গঙ্গার সেই জলই উত্তরে পলতা এবং দক্ষিণে গার্ডেনরিচ শোধনাগার হয়ে মহানগরবাসীর ঘরে ঘরে পানীয় হিসেবে একেবারে নিয়ম করে ঘড়িঘণ্টা মিলিয়ে প্রতিদিন পৌঁছে যাচ্ছে। টালা ট্যাঙ্ক বা মাটির নীচের জল সরবরাহকারী পাইপ কোথাও গড়বড় না করলে মহানগরবাসীর জল নিয়ে চিন্তার কোনও অবকাশই তাই ঘটে না। পরন্তু যদি-বা কালেভদ্রে সারাই মেরামতির জন্য এই সরবরাহ সাময়িকভাবে বন্ধ হয় তাতেও কলকাতাবাসীর বিশেষ অসুবিধে হয় না; তার কারণ জল বন্ধের চেতাবনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বেশ কয়েকদিন আগে থেকেই সংবাদপত্র ও অন্য মিডিয়াতে প্রচার করেন এবং অনেক সময় জল বন্ধ করার আগে অতিরিক্ত সরবরাহের ব্যবস্থাও হয়। ফলে, মানুষ প্রয়োজনীয় জল যথাসম্ভব মজুদ করে নিতে পারেন এবং কয়েক ঘণ্টা জল বন্ধ থাকলেও তখন সমস্যা হয় না।
স্বাভাবিকভাবেই এমন পর্যাপ্ত-জল যাপনে অভ্যস্ত বাঙালির তাই আপাতত জল নিয়ে বাড়তি চিন্তার প্রয়োজন আপাতদৃষ্টিতে নেই। বরং, জল যখন অঢেল তখন ফেলে ছড়িয়ে গড়িয়ে ঢেলে আরাম আয়াসে খাও পিও জিও, কল খোলা থাকল কি বন্ধ, জল অনর্থক নষ্ট হচ্ছে কি হচ্ছে না, কলের মুখে চাবি আছে কি নেই, গাড়ি ঘরদোর ধোয়ায় কি ঘণ্টার পর ঘণ্টা স্নানে গ্যালন গ্যালন জল বেফালতু খরচা হচ্ছে কি হচ্ছে না—দরকার কী সেসব নিয়ে আলোচনার! ওই বাতিকগ্রস্ত কিছু লোক আছে, চিরকালই ছিল—ওরা জল নিয়ে লাফাচ্ছে জলের অপচয় রুখতে হাঁকপাক করছে করুক, করতে দাও। জলের সাপ্লাই তো ঠিক আছে। কবে দশ-বিশ বছর পর কী হবে তাই ভেবে এখন বুক শুকনোর মানে হয়! ডরপোক, সব ডরপোক, ভিতুর ডিম! জল পাওয়া যাবে না— তাই কখনও হয়! অত্ত বড় গঙ্গাটা রয়েছে কী করতে? তাছাড়া কর্পোরেশন আছে, কর্পোরেশনের কল আছে—জল পাব না মানে! ট্যাক্স দিচ্ছি, জল দেবে না! হয় নাকি? জল কি কারও পৈতৃক সম্পত্তি যে দেবে না! সব মেপেজুকে চলতে পারে, জল অত মেপে খরচ করতে পারব না বাপু, সে যে যাই বলুক আর যত ভয়ই দেখাক। হ্যাঁ, আমাদের একটা বড় অংশের ভাবনাটা মোটের উপর এই রকমই। অন্তত, এই কিছুদিন আগে অবধিও এই রকমই ছিল! কিন্তু, এবার গরম পড়ার পর থেকে যখন গ্রীষ্মদিনের তাপমাত্রা দেশের নানাপ্রান্তে ৪০/৪৫ ডিগ্রি ছাপিয়ে গেল, শীতপ্রধান ইউরোপ থেকে খবর এল যে সেখানেও তাপমাত্রা ৪৫ ছুঁইছুঁই এবং স্পেনে সেটা ৫০ পার হয়ে কেড়ে নিয়েছে একাধিক মানুষের প্রাণ এবং শোনা যাচ্ছে এমন চলতে থাকলে আগামী পাঁচ-দশ বছরের মধ্যে কেবল এই ভারতবর্ষ নয়, গোটা পৃথিবীর একটা বড় অংশ খরতাপে পুড়ে খাক হবে এবং মানুষের জীবনে সবচেয়ে বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়াবে পানীয় জলের অভাব—তখন আমাদের বুঝি কিছু জনার একটু হলেও টনক নড়েছে! নড়ারই কথা। কারণ, সাম্প্রতিকে খবরের কাগজপত্রে জল আর খামখেয়ালি প্রকৃতির কাণ্ডকারখানা নিয়ে লেখালেখির বহর বেড়ে গেছে, টিভির চ্যানেলে চ্যানেলে, নানান সোশ্যাল মিডিয়াতেও এ বিষয়ে চলছে জোর আলোচনা বিতর্ক, উঠে আসছে নিকট ভবিষ্যতের আতঙ্ক জাগানো সব পরিসংখ্যান— টনক তো নড়বেই। এই তো কদিন আগেই সোশ্যাল মিডিয়াতে দেখা গেল মেরুপ্রদেশের হিমবাহে বিশাল ধস নেমেছে। শত সহস্র লক্ষ বছরের পুরনো বরফ চাঁই হয়ে গলে খসে পড়ছে!
বহুদিন যাবৎ-ই অবশ্য মেরুঅঞ্চলে বরফ সাম্রাজ্যে ফাটলের সূচনা হয়েছে। বিশেষজ্ঞ বিজ্ঞানীরা তা নিয়ে সতর্ক করে চলেছেন মানবসমাজকে, বলছেন, পৃথিবীর তাপমাত্রা যেভাবে নিঃশব্দে বছর বছর বেড়ে চলেছে— তাতে মেরুপ্রদেশের বরফ গলন অদূর ভবিষ্যতে আরও গতি পাবে, সেখানকার জীব-বৈচিত্র্য তছনছ হবে এবং সেই বরফগলা জলে পৃথিবীর সমুদ্রগুলির জলস্তর বাড়বে এবং সেই বাড়তি জলের বিশাল তোড়ে তলিয়ে যাবে উপকূলবর্তী বহু নগর, মহানগর! আমাদের দেশের মুম্বই কি সুন্দরবন, এমনকী কলকাতা অবধিও নেমে আসতে পারে এই অভিশাপ! শুধু তাই নয়, দুই মেরুর বরফ মাত্রা কমে গেলে পৃথিবীর তাপ আরও দ্রুত বাড়বে এবং তা সরাসরি আঘাত করবে মানুষের জীবনযাত্রায়। পানীয় জলের হাহাকার উঠবে গোটা পৃথিবী জুড়ে আর সেই জলের অভাবেই চরম অস্তিত্ব সংকটে পড়বে মানুষ। বিজ্ঞানীদের আশঙ্কা, এমন চলতে থাকলে কেবল পানীয় জলের অভাবেই এই শতাব্দীতেই পৃথিবীর বেশিরভাগ মানুষ নিশ্চিহ্ন হয়ে যেতে পারে! এই বিপর্যয়ের মোকাবিলায় ইতিমধ্যেই বিশ্ব জুড়ে শুরু হয়ে গেছে বৈঠক আলাপ আলোচনা, ব্যাপক বনসৃজন, এসি মেশিন, ডিজেল-পেট্রল গাড়ি বাস ও অন্য যানবাহন ইত্যাদি দূষণ সৃষ্টিকারী যন্ত্রের নিয়ন্ত্রিত ব্যবহার এবং মেপে জল খরচের ঐকান্তিক চেষ্টা। তার চেয়েও বড় কথা এই প্রয়াসে পরিবেশ কর্মী সরকার এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলির সঙ্গে শামিল হয়েছেন সাধারণ মানুষ। ইউরোপ আমেরিকা থেকে শুরু করে আমাদের পাশের ভুটান, সর্বত্রই আজ পরিবেশবান্ধব হয়ে ওঠার এই চেষ্টা দৃশ্যমান।
কিন্তু, আমরা? পরিবেশের দুর্দশা, আগামী সম্পর্কে ওইসব ভয় জাগানো বার্তা কি জলের জন্য হাহাকার, আমাদের কি একটুও ভাবাচ্ছে! চেন্নাইতে কুড়ি টাকার এক বোতল পানীয় জল চারশো টাকায় বিকিয়েছে শুনে কি আমাদের একবারের জন্যও বুক কেঁপেছে! মিডিয়ায় কাগজে ফেসবুক হোয়াটস অ্যাপে এসব নিয়ে অনেক কথা, ছবিপত্তর ঘুরছে ঠিকই, কিন্তু প্রতিদিনের জীবনে কি তার কোনও প্রভাব পড়ছে? পড়লে কতটুকু? কলকাতা মহানগরীর কত কলে সারাদিন জল পড়ে যায় সামান্য একটা স্টপ-ককের অভাবে! আমার এক বন্ধুর কাছে শুনলাম, মহানগরীর উত্তরে এখনও এমন বাড়ি আছে যেখানে দু’জনের জন্য দিনে আড়াই তিন হাজার লিটারেরও বেশি জল লাগে! রোজ কেবল ঘর ধোয়াতেই তারা নাকি হাজার দেড় হাজার লিটার জল ঢেলে নষ্ট করে! বাদবাকি লাগে স্নান আর কাচাকাচিতে! এমন বাড়ি কলকাতা মহানগরীর নানা প্রান্তে একটা নয় অজস্র আছে এখনও—এমনই দাবি ওই পরিবেশ সচেতন বন্ধুটির।
তার চেয়েও বড় কথা, জলের এই ব্যাপক অপচয় বন্ধে সাহায্য চেয়ে আমার বন্ধুটি বেশ কিছুদিন আগে সংশ্লিষ্ট কাউন্সিলারের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন। এবং মহামতি কাউন্সিলারের উত্তর শুনে কার্যত বাকরুদ্ধ হয়েছিলেন। পুরপিতা তাঁকে সাফ জানিয়ে দিয়েছিলেন, কে কতটা জল খরচা করবে সেটা তার ব্যাপার। এটা নিয়ন্ত্রণের কোনও আইন তো নেই—তাই তিনি এক্ষেত্রে কিছুই করতে পারেন না! তাজ্জব কাণ্ড বটে! বন্ধুটির কাছেই শুনলাম, হাতিবাগানের মতো যানবহুল ব্যস্ত এলাকায় ফুটের দোকান রাস্তার উপর তিন/চার ফুট নেমে এসেছে জানানোয় নাকি সংশ্লিষ্ট কর্তা তাঁকে বলেছিলেন, গরিব মানুষ একটু করে খাচ্ছে, আপত্তি করা যায়! বাসযাত্রী স্থানীয় এক প্রৌঢ় নাকি এমনটাই বলছিলেন!
অতএব, বোঝাই যাচ্ছে আমাদের সচেতনতার লেভেলটা কোন পর্যায়ে। কিন্তু, তাই বলে তো আর গা-ছাড়া দিয়ে থাকলে চলবে না। পৃথিবী জুড়ে আজ যে বিপদ ঘনিয়ে উঠছে চোখ বন্ধ করে থাকলেও তা আমাদের তো ছেড়ে কথা বলবে না। এর মধ্যেই বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী পরিবেশকর্মী সংগঠন কাজে নেমেছে। তবে, তাতে সাধারণ মানুষ যতক্ষণ না শামিল হচ্ছে কাজ কতটা এগবে বলা মুশকিল। আসলে, একটা ব্যাপার বুঝে নিতে হবে, আমরা কলকাতাবাসী হয়তো আপাতত গঙ্গার জল দিয়ে চালিয়ে নিতে পারব কিন্তু বাদবাকি বঙ্গ যেখানে মাটির নীচের জল ভরসা সেখানে কিন্তু সংকট ঘোরালো হচ্ছে। বিজ্ঞানীরা জানিয়ে দিয়েছেন, দেশের আর পাঁচটা রাজ্যের মতো পশ্চিমবঙ্গেরও সর্বত্রই প্রায় মাটির নীচের জলস্তর ফুরিয়ে এসেছে। বৃষ্টির অভাবে মাটির নীচের জলের ভাঁড়ারের দশা আরও খারাপ হচ্ছে। মাটির নীচের জল যত কমছে তাতে বিপজ্জনক ক্ষেত্রবিশেষে আর্সেনিকের বিষ তত বাড়ছে। অতঃ কিম্‌? কী হবে তাহলে?
উপায় একটাই, জল ব্যবহারে সচেতনতা আর সবুজ বাড়ানোর উদ্যোগে আন্তরিকতা। দুটোর কোনওটাই যে আজও আমাদের মধ্যে বিশেষ সাড়া জাগায়নি সেটা বোঝাই যায়। না হলে এখনও বিশাল বিশাল গাছ কাটা চলে? জলের অমন অপচয় চলে! পুকুর বুজিয়ে বাড়ি তোলা বা পথের ধারের নয়ানজুলি বুজিয়ে হাইরাইজ রাস্তা বানানোতে হয়তো মানুষের আবাসন ও যাতায়াতের সমস্যা কিছু মিটেছে, কিন্তু সেই মানুষের ভবিষ্যতের বিপদ যে কতটা চেপে ধরেছে তা আজ হাড়ে হাড়ে মালুম পড়ছে! ভরা বর্ষায় বৃষ্টি নেই। ইলিশ নেই। বর্ষার আকাশে শরৎকালের মতো সাদা মেঘ। ক্বচিৎ কদাচিৎ যদি-বা কালো বর্ষার মেঘ দেখা দিচ্ছে, বর্ষণের আশা জাগাচ্ছে—দু-এক পশলাতেই সাফ হয়ে যাচ্ছে তা। তাতে পথঘাট বাড়িঘর ভিজছে বটে কিন্তু মন ভরছে না। কারণ, পশলা শেষেই জাঁকিয়ে উঠছে চড়া রোদ, প্রবল তাপ আর ঘেমো অস্বস্তি। অথচ, মুম্বইতে এমন প্রবল বৃষ্টি হচ্ছে যে, বন্যা হয় হয়। বৃষ্টি জলের তোড়ে পাঁচিল ধসে কতকগুলো প্রাণও চলে গেল! আর পুবের বাংলা, বিশেষত দক্ষিণবঙ্গ এখনও প্রায় বৃষ্টিশূন্য! কিন্তু কালবৈশাখীর কালে দফায় দফায় ঝড়-বৃষ্টির সে কী ঝাপট! ফণীর দাপটে তছনছ হয়ে গেল বাঙালির পুরী! আমাদের ভাগ্য ভালো, আয়লার মতো ফণীর তাণ্ডব দেখতে হয়নি। কিন্তু, এমন সবুজ নিধন, পুকুর ভরাট আর জলের অপচয় চলতে থাকলে অদূর ভবিষ্যতে যে ফণীর চেয়েও মারাত্মক কিছু দেখতে হবে—এমন অশনিবার্তাই কিন্তু পরিবেশবিদেরা প্রায় সকলেই দিচ্ছেন। দিয়েই চলেছেন। আমরা কি শুনছি, শুনব?
07th  July, 2019
অ্যাপোলো ৫০: গো ফর দ্য মুন
মৃণালকান্তি দাস

 মই বেয়ে লুনার মডিউল ঈগল থেকে চাঁদের বুকে নামতে নামতে নিল আর্মস্ট্রং বলেছিলেন, ‘একজন মানুষের এই একটি পদক্ষেপ হবে মানবজাতির জন্য এক বিরাট অগ্রযাত্রা।’ সেই ছিল চাঁদের বুকে মানুষের প্রথম পদচিহ্ন আর মানবজাতির সেদিনের প্রমিথিউস ছিলেন নিল আর্মস্ট্রং। চাঁদের বুকে নিলের পা ফেলার মাধ্যমে মানুষ চাঁদকে জয় করেছিল।
বিশদ

বাঙালির যে সংস্কৃতি হারিয়ে গেল
জিষ্ণু বসু

ইদানীং রাজ্যে একটা গেল গেল রব শোনা যাচ্ছে। বাঙালি তার সংস্কৃতি হারাচ্ছে। বিজেপি ও আরএসএসের দৌরাত্ম্যে বাংলা যে চেহারা নিচ্ছে সেটা এ রাজ্যের সংস্কৃতির পরিপন্থী। বাঙালি বড়জোর ‘জয়দুর্গা’ বলতে পারে, কিন্তু ‘জয় শ্রীরাম’ বলার প্রশ্নই ওঠে না।
বিশদ

18th  July, 2019
পরিবারতান্ত্রিক সঙ্কট 
শান্তনু দত্তগুপ্ত

ছবিটা খুব পরিচিত। নিজের দলের বিরুদ্ধেই ধর্নায় বসেছেন ইন্দিরা গান্ধী। ভাঙতে চলেছে কংগ্রেস। আর তার নেপথ্যে ক্ষমতার ভারসাম্য বজায় রাখার সংঘাত। একদিকে স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা। অন্যদিকে কামরাজ, মোরারজি দেশাই, তৎকালীন কংগ্রেস সভাপতি নিজলিঙ্গাপ্পা। 
বিশদ

16th  July, 2019
মোদি সরকারের নতুন জাতীয় শিক্ষানীতি দেশকে কোন দিকে নিয়ে চলেছে
তরুণকান্তি নস্কর

নয়া শিক্ষানীতির কেন্দ্রবিন্দুই হল এই ভারতীয়ত্বের নাম করে মধ্যযুগীয় বাতিল চিন্তা ভাবনার জাবর কাটার প্রচেষ্টা। পঞ্চতন্ত্র, জাতক, হিতোপদেশের গল্পকে তাঁরা স্কুল পাঠ্য করতে চাইছেন, সংস্কৃত শিক্ষাকে গুরুত্ব দিচ্ছেন অথচ ইংরেজি ভাষা শিক্ষাকে গুরুত্বহীন করে দেখানোর চেষ্টা করেছেন। পাঠ্যতালিকায় বহু ব্যক্তির জীবনীচর্চার উল্লেখ আছে, কিন্তু সেই তালিকায় ভারতীয় নবজাগরণের পথিকৃৎ রামমোহন ও বিদ্যাসাগরের নাম সযত্নে বাদ দেওয়া হয়েছে। রামমোহন-বিদ্যাসাগরই যে এদেশে প্রথম ধর্মীয় কুসংস্কারাচ্ছন্ন শিক্ষা ব্যবস্থাকে বাতিল করে আধুনিক শিক্ষা প্রচলনের জন্য লড়াই করেছিলেন তা কারোর অজানা নয়। ভারতীয় নবজাগরণের এই মনীষীরা যে আরএসএস-বিজেপির চক্ষুশূল তা আজ জলের মতো পরিষ্কার।
বিশদ

15th  July, 2019
সাত শতাংশ বৃদ্ধির ফাঁদে
পি চিদম্বরম

 কেন্দ্রীয় সরকারের বাজেটগুলির মধ্যে ২০১৯-২০ সালের বাজেট স্বাভাবিকের তুলনায় দ্রুত জট খুলল। মানুষের মধ্যে এই বাজেট নিয়ে কিংবা আগের বাজেট প্রস্তাবটি নিয়ে কোনও আলোচনা নেই। অতিশয় ধনীরা (সুপার রিচ ৬৪৬৭) বিরক্ত, তবুও ভয়ে স্পিকটি নট। ধনীদের স্বস্তি এখানেই যে তাঁদের রেয়াত করা হয়ে থাকে।
বিশদ

15th  July, 2019
একটু ভাবুন
শুভা দত্ত

 বিশ্বের চারদিক থেকে পানীয় জল নিয়ে গুরুতর অশনিসংকেত আসার পরও আমাদের এই কলকাতা শহরে তো বটেই, গোটা রাজ্যেই প্রতিদিন বিশাল পরিমাণ জল অপচয় হয়। আপাতত বেশিরভাগ জায়গায় জলের জোগান স্বাভাবিক আছে বলে সেটা গায়ে লাগছে না। তাই এখনও আসন্ন মহাবিপদের কথাটা ভাবছেন খুব সামান্যজনই। বাদবাকিরা এখনও নির্বিকার, ভয়ডরহীন—দু’জনের সংসারে আড়াই-তিন হাজার লিটার শেষ করে দিচ্ছে দিনে, বাড়ি গাড়ি ধোয়া চালাচ্ছে কর্পোরেশনের পানীয় জলে! আহাম্মক আর কাকে বলে।
বিশদ

14th  July, 2019
বেনোজলের রাজনীতি
তন্ময় মল্লিক

জেলায় জেলায় নব্যদের নিয়ে বিজেপির আদিদের ক্ষোভ রয়েছে। আর এই ক্ষোভের অন্যতম কারণ যোগদানকারীদের বেশিরভাগই এক সময় হয় সিপিএমের হার্মাদ বাহিনীর সদস্য ছিলেন, অথবা তৃণমূলের ‘কাটমানি নেতা’। তাই এই সব নেতাকে নিয়ে স্বচ্ছ রাজনীতির স্লোগান মানুষ বিশ্বাস করবে না। উল্টে লোকসভা ভোটে যাঁরা নীরবে সমর্থন করেছিলেন, তাঁরা ফের নিঃশব্দেই মুখ ফিরিয়ে নেবেন।‘ফ্লোটিং ভোট’ যে মুখ ঘুরিয়ে নিতে পারে, সেটা বিজেপির পোড়খাওয়া নেতারা বুঝতে পারছেন। তাঁরা বলছেন, ভোটের ফল প্রকাশের পর যাঁরা আসছেন তাঁরা কেউই বিজেপির আদর্শের জন্য আসছেন না, আসছেন বাঁচার তাগিদে। কেউ কেউ লুটেপুটে খাওয়ার অভ্যাস বজায় রাখার আশায়।
বিশদ

13th  July, 2019
ঘোষণা ও বাস্তব
সমৃদ্ধ দত্ত

ভারত সরকারের অন্যতম প্রধান একটি প্রকল্পই হল নদী সংযোগ প্রকল্প। দেশের বিভিন্ন নদীকে পরস্পরের সঙ্গে যুক্ত করে দেওয়া হবে। যাতে উদ্বৃত্ত জলসম্পন্ন নদী থেকে বাড়তি জল শুকনো নদীতে যেতে পারে। প্রধানমন্ত্রী বারংবার এই প্রকল্পের প্রয়োজনীয়তার কথা বলেন। গোটা প্রকল্প রূপায়ণ করতে অন্তত ১ লক্ষ কোটি টাকা দরকার। এদিকে আবার বুলেট ট্রেন করতেও ১ লক্ষ ৮০ হাজার কোটি টাকা খরচ হচ্ছে! আধুনিক রাষ্ট্রে অবশ্যই দুটোই চাই। কিন্তু বাস্তব প্রয়োজনের ভিত্তিতে বিচার করলে? কোনটা বেশি জরুরি? বিশদ

12th  July, 2019
মোদি সরকারের নতুন জাতীয় শিক্ষানীতি দেশকে কোন দিকে নিয়ে চলেছে
তরুণকান্তি নস্কর

 কেন্দ্রীয় মানব সম্পদ উন্নয়ন দপ্তর থেকে সম্প্রতি জাতীয় শিক্ষানীতি-২০১৯-এর যে খসড়া প্রকাশিত হয়েছে তার যে অংশ নিয়ে সংবাদ মাধ্যমে হই চই পড়েছিল তা হল বিদ্যালয় স্তরে ত্রি-ভাষা নীতির মাধ্যমে অ-হিন্দিভাষী রাজ্যে জোর করে হিন্দি চাপানোর বিষয়টি। তামিলনাড়ুর মানুষের প্রবল আপত্তিতে তা কেন্দ্রীয় সরকার প্রত্যাহার করে নিয়েছে।
বিশদ

11th  July, 2019
কেন তেরোজন অর্থনীতিবিদ অখুশি হবেন?
পি চিদম্বরম

প্রধান অর্থনৈতিক উপদেষ্টা ড. অরবিন্দ সুব্রামনিয়ন পাঁচ বছর আগে তাঁর প্রথম অর্থনৈতিক সমীক্ষা (ইকনমিক সার্ভে ২০১৪-১৫) পেশ করে বলেছিলেন, ‘‘ভারত একটা সুন্দর জায়গায় (সুইট স্পট) পৌঁছে গিয়েছে—জাতির ইতিহাসে এটা বিরল—এইভাবে শেষমেশ দুই সংখ্যার মধ্যমেয়াদি বৃদ্ধির কৌশলে ভর করে এগনো যাবে।’’
বিশদ

08th  July, 2019
এক বাস্তববাদী রাজনীতিকের নাম শ্যামাপ্রসাদ
হারাধন চৌধুরী

 নরেন্দ্র মোদির দ্বিতীয় সরকার নিয়ে বিজেপি তিন দফায় ভারত শাসনের দায়িত্ব পেল। কংগ্রেসকে বাদ দিলে ভারতের আর কোনও রাজনৈতিক দল এই কৃতিত্ব অর্জন করতে পারেনি। ২০১৯-এর লোকসভার ভোটে বিজেপি ক্ষমতা অনেকখানি বাড়িয়ে নিয়েছে। ২০১৪-র থেকে বেশি ভোট পেয়েছে এবং তিনশোর বেশি আসন দখল করেছে।
বিশদ

06th  July, 2019
চাকরি ও পরিকাঠামো উন্নয়নে প্রত্যাশিত দিশা দেখাতে পারল না নির্মলা সীতারামনেরও বাজেট
দেবনারায়ণ সরকার

 লোকসভা নির্বাচনের আগে গত ফেব্রুয়ারিতে বর্তমান বছরের (২০১৯-২০) অন্তর্বর্তী বাজেট পেশ করা হয়েছিল। নির্বাচনে বিপুল জয়ের পরে বর্তমান অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন দ্বিতীয় মোদি সরকারের বর্তমান অর্থবর্ষের পূর্ণাঙ্গ বাজেট পেশ করলেন। এই বাজেটে আয় ও ব্যয় অন্তর্বর্তী বাজেটে যা ধরা হয়েছিল সেটাই অপরিবর্তিত রইল।
বিশদ

06th  July, 2019
একনজরে
 সুমন তেওয়ারি, আসানসোল, বিএনএ: কাটমানি, স্বজনপোষণ, পঞ্চায়েতের কাজের টেন্ডারের অনিয়ম এবং নিম্নমানের কাজে যুক্ত পঞ্চায়েত প্রধান ও নির্মাণ সহায়ক। এমনই গুরুতর অভিযোগ মুখ্যমন্ত্রীর দপ্তরে জানানোর সাতদিনের মধ্যে প্রাথমিক তদন্ত করে অভিযুক্ত প্রধান ও নির্মাণ সহায়ককে শোকজ করল প্রশাসন। ...

 সংবাদদাতা, হরিরামপুর: পরকীয়ায় জড়িয়ে যাওয়া বউকে প্রেমিকের হাতে তুলে দিলেন স্বামী। এদিন প্রেমিক বংশীহারিতে প্রেমিকার বাড়িতে এলে পাড়ার লোকজন তাকে ধরে ফেলে। পরে স্থানীয়রাই পুলিসকে খবর দেয়। বংশীহারি থানার পুলিস এসে প্রেমিককে ভ্যানে তোলে।  ...

 বাপ্পাদিত্য রায়চৌধুরী, কলকাতা: দ্বিতীয়বার ক্ষমতায় আসার পর প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি প্রাণিসম্পদ ও ডেয়ারি সংক্রান্ত নতুন একটি মন্ত্রক চালু করেছেন। সেই মন্ত্রক গোড়াতেই পাখির চোখ করছে ...

 আঙ্কারা, ১৮ জুলাই (এপি): আমেরিকার নেতৃত্বাধীন যুদ্ধবিমান প্রকল্প এফ-৩৫ থেকে তুরস্ককে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। আমেরিকার সেই সিদ্ধান্তেরই বৃহস্পতিবার বিরোধিতা করল তাদের ন্যাটো জোটসঙ্গী তুরস্ক। তুরস্ক সরকারের দাবি, এই ধরনের সিদ্ধান্ত দুই দেশের ‘জোট সম্পর্কের পরিপন্থী’। ...




আজকের দিনটি কিংবদন্তি গৌতম
৯১৬৩৪৯২৬২৫ / ৯৮৩০৭৬৩৮৭৩

ভাগ্য+চেষ্টা= ফল
  • aries
  • taurus
  • gemini
  • cancer
  • leo
  • virgo
  • libra
  • scorpio
  • sagittorius
  • capricorn
  • aquarius
  • pisces
aries

কারও কথায় মর্মাহত হতে হবে। বিবাহের যোগ আছে। কর্মে সুনাম বাড়বে। পাওনা অর্থ আদায় হবে। ... বিশদ


ইতিহাসে আজকের দিন

১৮৬৩: কবি, গীতিকার ও নাট্যকার দ্বিজেন্দ্রলাল রায়ের জন্ম
১৮৯৯: লেখক বনফুল তথা বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায়ের জন্ম
১৯৫৫: প্রাক্তন ক্রিকেটার রজার বিনির জন্ম
২০১২: বাংলাদেশের লেখক হুমায়ুন আহমেদের মূত্যু

ক্রয়মূল্য বিক্রয়মূল্য
ডলার ৬৭.৯৫ টাকা ৬৯.৬৪ টাকা
পাউন্ড ৮৪.০৯ টাকা ৮৭.২২ টাকা
ইউরো ৭৫.৯৩ টাকা ৭৮.৮৭ টাকা
[ স্টেট ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়া থেকে পাওয়া দর ]
পাকা সোনা (১০ গ্রাম) ৩৫,৩৫০ টাকা
গহনা সোনা (১০ (গ্রাম) ৩৩,৫৪০ টাকা
হলমার্ক গহনা (২২ ক্যারেট ১০ গ্রাম) ৩৪,০৪৫ টাকা
রূপার বাট (প্রতি কেজি) ৪০,২৫০ টাকা
রূপা খুচরো (প্রতি কেজি) ৪০,৩৫০ টাকা
[ মূল্যযুক্ত ৩% জি. এস. টি আলাদা ]

দিন পঞ্জিকা

২ শ্রাবণ ১৪২৬, ১৯ জুলাই ২০১৯, শুক্রবার, দ্বিতীয়া ৪/৩৩ দিবা ৬/৫৫। ধনিষ্ঠা ৫৮/১৮ রাত্রি ৪/২৫। সূ উ ৫/৬/৩, অ ৬/১৯/৩১, অমৃতযোগ দিবা ৬/৫২ মধ্যে পুনঃ ৭/৪৫ গতে ১০/২৪ মধ্যে পুনঃ ১/২ গতে ২/৪৮ মধ্যে পুনঃ ৪/৩৩ গতে অস্তাবধি, বারবেলা ৮/২৪ গতে ১১/৪৩ মধ্যে, কালরাত্রি ৯/১ গতে ১০/২২ মধ্যে।
২ শ্রাবণ ১৪২৬, ১৯ জুলাই ২০১৯, শুক্রবার, তৃতীয়া ৬০/০/০ অহোরাত্র। ধনিষ্ঠানক্ষত্র ৫৫/৩১/৩৩ রাত্রি ৩/১৭/৪৩, সূ উ ৫/৫/৬, অ ৬/২২/৫, অমৃতযোগ দিবা ৬/৫৬ মধ্যে ও ৭/৪৮ গতে ১০/২৪ মধ্যে ও ১/১ গতে ২/৪৫ মধ্যে ও ৪/৩০ গতে ৬/২২ মধ্যে। রাত্রি ৭/৪২ গতে ৯/৯ মধ্যে ও ৩/০ গতে ৩/৪৪ মধ্যে, বারবেলা ৮/২৪/২২ গতে ১০/৩/৫৯ মধ্যে, কালবেলা ১০/৩/৫৯ গতে ১১/৪৩/৩৭ মধ্যে, কালরাত্রি ৯/২/৫১ গতে ১০/২৩/১৪ মধ্যে।
১৫ জেল্কদ

ছবি সংবাদ

এই মুহূর্তে
এয়ারপোর্ট থেকে বারাকপুর পর্যন্ত মাটির তলা দিয়েই যাবে মেট্রো
এয়ারপোর্ট থেকে বারাকপুর পর্যন্ত মাটির তলা দিয়ে হবে মেট্রো লাইন। ...বিশদ

02:24:12 PM

৫০০ পয়েন্ট পড়ল সেনসেক্স 

01:44:56 PM

বিশ্ববাংলা কনভেনশন সেন্টারে কর্মশালার আয়োজন করল রাজ্য সরকার 
আজ বিশ্ববাংলা কনভেনশন সেন্টারে অ্যানিমেশন, বিএফএক্স অ্যান্ড গেমিংয়ের উপর একটি ...বিশদ

01:37:00 PM

পাথর প্রতিমার কুয়েমুড়ি গ্রামে একটি পুকুর থেকে কুমির উদ্ধার করল বনকর্মীরা 

01:12:15 PM

নদীয়ায় পঞ্চায়েত কর্মীদের আইডি কার্ড দেওয়া শুরু হল 

12:52:00 PM

উত্তরপ্রদেশের নারায়ণপুরে ধর্নায় প্রিয়াঙ্কা গান্ধী 
উত্তরপ্রদেশের নারায়ণপুরে প্রিয়াঙ্কা গান্ধীকে আটকাল পুলিস। প্রতিবাদে ধর্নায় বসলেন তিনি। ...বিশদ

12:12:57 PM