Bartaman Patrika
বিশেষ নিবন্ধ
 

কেন তেরোজন অর্থনীতিবিদ অখুশি হবেন?
পি চিদম্বরম

প্রধান অর্থনৈতিক উপদেষ্টা ড. অরবিন্দ সুব্রামনিয়ন পাঁচ বছর আগে তাঁর প্রথম অর্থনৈতিক সমীক্ষা (ইকনমিক সার্ভে ২০১৪-১৫) পেশ করে বলেছিলেন, ‘‘ভারত একটা সুন্দর জায়গায় (সুইট স্পট) পৌঁছে গিয়েছে—জাতির ইতিহাসে এটা বিরল—এইভাবে শেষমেশ দুই সংখ্যার মধ্যমেয়াদি বৃদ্ধির কৌশলে ভর করে এগনো যাবে।’’ ওই প্রতিজ্ঞা রক্ষায় সরকার যে ব্যর্থ হয়েছিল সেটা মেনে নেওয়ার জন্য প্রথম মোদি সরকারের পুরো মেয়াদ ওই দায়িত্বে তিনি থাকেননি। তাঁর দায়িত্ব অর্পিত হয়েছিল ড. কৃষ্ণমূর্তি সুব্রামনিয়নের উপর। ড. কৃষ্ণমূর্তিকে স্বীকার করে নিতে হয়েছে প্রথম মোদি সরকার তার পাঁচ বছরে গড় জিডিপি বৃদ্ধি অর্জন করেছিল মাত্র ৭.৫ শতাংশ।
৭.৫ শতাংশ বৃদ্ধির হার সন্তোষজনক, কিন্তু দুই সংখ্যার বৃদ্ধির লক্ষ্যের ধারেকাছেও যে পৌঁছানো গেল না। পাশাপাশি এটাও দেখতে হবে গত পাঁচ বছরের বিকাশ-পথরেখাটা ছিল এইরকম—বৃদ্ধির হার ৭.৪, ৮.০, ৮.২, ৭.২ এবং ৬.৮ শতাংশ। প্রথম তিন বছরে ৭.৪ থেকে ৮.২ শতাংশে উন্নীত হওয়ার ঘটনায় ড. অরবিন্দ সুব্রামনিয়ন নিশ্চয় প্রীত হয়ে থাকবেন, কিন্তু আমার সন্দেহ হয় যে, ২০১৬-র নভেম্বরে ডিমনিটাইজেশনের আঘাতটা দেশের উপর এসে পড়াতেই সেটা নিশ্চিতরূপে নষ্ট হয়ে গিয়েছে। তারপর থেকেই অর্থনীতির বিকাশ-পথরেখাটি ৮.২ থকে ৭.২ এবং সেখান থেকে ৬.৮ শতাংশে নেমে গিয়েছে।
অর্থনৈতিক অবনমনটা যখন আরও বেশি তখনই দ্বিতীয় মোদি সরকার দায়িত্বভার নিয়েছে। ২০১৮-১৯ অর্থবর্ষে বৃদ্ধির হারের ত্রৈমাসিক হিসেবটা ছিল এইরকম: ৮.০,৭.০, ৬.৬ এবং ৫.৮ শতাংশ। আজকের শোচনীয় পরিস্থিতিতে দ্বিতীয় মোদি সরকারের জন্য নতুন প্রধান অর্থনৈতিক উপদেষ্টা নিম্নরূপ লক্ষ্য স্থির করে দিয়েছেন:
‘‘২০২৪-২৫ অর্থবর্ষের ভিতর ভারত ৫ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলার অর্থনীতি রূপে বিকাশলাভের লক্ষ্যমাত্রা স্থির করেছে, যে লক্ষ্য ভারতকে পৃথিবীর তৃতীয় বৃহত্তম অর্থনীতি করে তুলবে। রিজার্ভ ব্যাঙ্কের জন্য মনিটারি পলিসি ফ্রেমওয়ার্ক হিসেবে ৪ শতাংশ মুদ্রাস্ফীতি সরকার নির্দিষ্ট করে দিয়েছে, এর জন্য প্রয়োজন জিডিপির ৮ শতাংশ প্রকৃত বার্ষিক বৃদ্ধির হার।’’
এটা একটা ঠিকঠাক লক্ষ্য। কিন্তু আমাদের সামনে যে প্রশ্নটা এসে পড়ছে, তা হল, অর্থনৈতিক সমীক্ষা যে লক্ষ্য স্থির করে দিয়েছে নির্মলা সীতারামনের প্রথম বাজেট সেটাকে কতটা এগিয়ে নিয়ে যেতে সক্ষম হবে?
আমরা প্রত্যেকে কয়েকটি বক্সের তালিকা বানিয়ে ফেলতে পারি এবং নিজেদেরকে জিজ্ঞাসা করতে পারি, বাজেট বিবৃতির ভিত্তিতে, অর্থমন্ত্রী ক’টা বক্সে টিক চিহ্ন দিয়েছেন।
২০১৮-র অক্টোবরে আন্তর্জা঩তিক খ্যাতিসম্পন্ন তেরোজন অর্থনীতিবিদ, তাঁদের কেউ ভারতীয় অথবা ভারত-বংশোদ্ভব, তাঁদের লেখা ১৪টি নিবন্ধ ২০১৯-এ ‘অর্থনীতি এখন কী চায়’ (হোয়াট দ্য ইকনমি নিডস নাও) শিরোনামের একটি বইতে ছাপা হয়েছে। ড. অভিজিত ব্যানার্জি এবং ড. রঘুরাম রাজন বেশকিছু আইডিয়া বের করেছেন এবং তারপর ‘ভারত যে আটটি মস্ত চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি’ নামে একটি সংযোজন তালিকা দিয়েছেন। সবগুলোই প্রত্যক্ষ অথবা পরোক্ষভাবে অর্থনীতি নিয়ে ভাবিত। ওই বই থেকে ধার করা পাঁচটি আইডিয়া নিয়ে আমি আমার বক্সগুলির তালিকা তৈরি করেছি।
নীচে বক্সগুলোতে দেখুন কেন ‘টিক’ অথবা ‘ক্রস’ চিহ্ন দিলাম:
ý ফিসকাল ঘাটতি শাসন: ফিসকাল ঘাটতি শাসনে মোদি সরকারের রেকর্ড মোটে ভালো না। প্রথম পাঁচ বছরের ভিতর এই সরকার ফিসকাল ঘাটতি ৪.৫ শতাংশ থেকে ৩.৪ শতাংশে নামিয়ে আনতে পেরেছিল। সত্যি বলতে কী, ফিসকাল ঘাটতিটা বছর চারেক ৩.৪ থেকে ৩.৫ শতাংশের ভিতর আটকে ছিল এবং ২০১৯-২০ সালের বাজেট সেটাকে ৩.৩ শতাংশে নামিয়ে আনার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। ২০১৮-১৯ সালের সংখ্যাটি সন্দেহজনক, কেননা, ওই বছরে রাজস্বের যে ক্ষতি হয়েছিল
এবং বাজেটবহির্ভূত ঋণ নেওয়া হয়েছিল তার পরিমাণটা বিপুল।
ý চাপে যেসব ক্ষেত্র (কৃষি, বিদ্যুৎ, ব্যাঙ্ক): কৃষিক্ষেত্রের উদ্বেগ কমানোর কোনও সূত্র দিশা বাজেট ভাষণে পাওয়া গেল না। বিদ্যুৎ প্রসঙ্গে তিনি স্রেফ চালু কর্মসূচির কথারই পুনরাবৃত্তি করে গেলেন, ‘উদয়’, এটার লক্ষ্য হল বণ্টন সংস্থাগুলির আর্থিক এবং চালনা সংক্রান্ত দিক থেকে মুখ ফিরিয়ে নেওয়া। এটাতে যোগ করেছে ‘পুরনো এবং অদক্ষ প্ল্যান্টগুলোর অবসর’ এবং ‘প্রাকৃতিক গ্যাসসঙ্কটের কারণে গ্যাস প্ল্যান্টগুলির ক্ষমতার চেয়ে কম ব্যবহারের উপর জোর দেওয়া হয়েছে’। ব্যাঙ্কিং ক্ষেত্রে কী প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে: রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কগুলিকে নতুন করে মূলধন জোগানোর (রিক্যাপিটালাইজেশন) জন্য ৭০ হাজার কোটি টাকার ব্যবস্থা করা হবে, মনে রাখতে হবে যে অঙ্কটা একেবারেই যথেষ্ট নয় এবং আর্থিক দিক থেকে ভালো অবস্থায় আছে এমন নন-ব্যাঙ্কিং ফিনান্সিয়াল কোম্পানিগুলির (এনবিএফসি) ‘পুলড অ্যাসেটস’ কিনে নেওয়ার জন্য কিছু ব্যাঙ্ককে ‘এককালীন ছয় মাসের জন্য আংশিক ক্রেডিট গ্যারান্টি’ দেওয়া হবে—লিকুইডিটির অপ্রতুলতার বিষয়টি কিন্তু পুরোপুরি ভুলে যাওয়া হয়েছে।
ý আরও উন্নত বাণিজ্য পরিবেশ: বাণিজ্য পরিবেশ (বিজনেস এনভায়রনমেন্ট) আরও উন্নত বা ‘বেটার’ করার জন্য সামনে অনেকগুলি আইডিয়া ছিল। কোন ভালোটা হবে যদি ব্যবসা একই ধরনে একই কাজটিই করে এবং শুধু সেটা ‘করা’ মানেই ব্যবসা বাণিজ্য বেশি সহজ সরল হয়ে গেল? বিশেষ শিল্পাঞ্চলগুলোতে (এসআইজেড) অবধারিতরূপে রপ্তানিতে লক্ষ্য স্থির করা নয়; শ্রম আইন পাল্টে ফেলা, স্রেফ বিধিবদ্ধ করা নয়; স্টার্ট-আপ’দের শুরু করতে দেওয়া এবং তিন বছরের জন্য ব্যবসাটা তাদের করতে দেওয়া অনুমতি বা লাইসেন্স নেওয়ার জোরাজুরি ছাড়াই; এই আইডিয়াগুলো গ্রহণ করা যেতেই পারত।
ý কম পীড়াদায়ক নিয়মকানুন: সর্বোত্তম সমাধান হল ব্যাপক বিকেন্দ্রীকরণ। শুরু করতে হলে স্কুলশিক্ষাটাকে অবশ্যই রাজ্যগুলির হাতে ছেড়ে দিতে হবে—যেহেতু মূল সংবিধানে এমনই সংস্থান ছিল—এরপর যুগ্ম তালিকা থেকে আরও কিছু বিষয় রাজ্য তালিকায় হস্তান্তর করা জরুরি। উল্টোদিকে, অর্থমন্ত্রী কেন্দ্রের তরফে স্কুল এবং কলেজ শিক্ষার জন্য আরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা গ্রহণের কথা শুনিয়েছেন! আরবিআই, সেবি, কম্পিটিশন কমিশন অফ ইন্ডিয়া, সিবিডিটি, সিবিআইসি প্রভৃতি নিয়ন্ত্রক সংস্থায় রূপান্তরিত হয়েছে এবং নিয়ন্ত্রণ বেড়ে গিয়েছে, হ্রাসের পরিবর্তে, যা বোঝাস্বরূপ।
þ আরও নগদ হস্তান্তর (ক্যাশ ট্রান্সফার): ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থার আরও প্রসারের লক্ষ্যে সরকার বেশি উৎসাহ দিচ্ছে এবং মোটা অঙ্কের নগদ অর্থ তোলার (লার্জ ক্যাশ উইথড্রালস) অভ্যাসটাকে নিরুৎসাহিত করছে। এটাই স্বাভাবিক যে আরও বেশি ভর্তুকি এবং নগদ প্রাপ্য (ক্যাশ বেনিফিট) সরাসরি হস্তান্তর ব্যবস্থার মাধ্যমে (ডাইরেক্ট বেনিফিট ট্রান্সফার রুট) প্রকৃত প্রাপকদের হাতে পৌঁছাবে। যদিও এই ‘সংস্কার’টি সাত বছরের পুরনো, তবুও আমি এই বক্সটাতে টিক চিহ্নই দিলাম। ১৯৯১-৯৬ পর্বে যে-ধরনের আমূল সংস্কারের (র‌্যাডিক্যাল রিফর্মস) পথ গ্রহণ করা হয়েছিল আজকের অর্থনীতির জন্য সেটাই দরকার। সরকারের এই ধরনের সংস্কার চালিয়ে যাওয়ারই নির্দেশ ছিল। সেখানে কোনও যুক্তি ছাড়াই সরকার কেবল ‘ইন্টারনাল রিফর্মস’-এর পথ বেছে নিয়েছে। এতে তেরোজন অর্থনীতিবিদ—যাঁরা সকলেই ভারতীয় অথবা ভারত-বংশোদ্ভব—হতাশ হবেন। সুতরাং হতাশ হবেন আমূল সংস্কারপন্থী অন্য অনেকেও।
08th  July, 2019
অ্যাপোলো ৫০: গো ফর দ্য মুন
মৃণালকান্তি দাস

 মই বেয়ে লুনার মডিউল ঈগল থেকে চাঁদের বুকে নামতে নামতে নিল আর্মস্ট্রং বলেছিলেন, ‘একজন মানুষের এই একটি পদক্ষেপ হবে মানবজাতির জন্য এক বিরাট অগ্রযাত্রা।’ সেই ছিল চাঁদের বুকে মানুষের প্রথম পদচিহ্ন আর মানবজাতির সেদিনের প্রমিথিউস ছিলেন নিল আর্মস্ট্রং। চাঁদের বুকে নিলের পা ফেলার মাধ্যমে মানুষ চাঁদকে জয় করেছিল।
বিশদ

বাঙালির যে সংস্কৃতি হারিয়ে গেল
জিষ্ণু বসু

ইদানীং রাজ্যে একটা গেল গেল রব শোনা যাচ্ছে। বাঙালি তার সংস্কৃতি হারাচ্ছে। বিজেপি ও আরএসএসের দৌরাত্ম্যে বাংলা যে চেহারা নিচ্ছে সেটা এ রাজ্যের সংস্কৃতির পরিপন্থী। বাঙালি বড়জোর ‘জয়দুর্গা’ বলতে পারে, কিন্তু ‘জয় শ্রীরাম’ বলার প্রশ্নই ওঠে না।
বিশদ

18th  July, 2019
পরিবারতান্ত্রিক সঙ্কট 
শান্তনু দত্তগুপ্ত

ছবিটা খুব পরিচিত। নিজের দলের বিরুদ্ধেই ধর্নায় বসেছেন ইন্দিরা গান্ধী। ভাঙতে চলেছে কংগ্রেস। আর তার নেপথ্যে ক্ষমতার ভারসাম্য বজায় রাখার সংঘাত। একদিকে স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা। অন্যদিকে কামরাজ, মোরারজি দেশাই, তৎকালীন কংগ্রেস সভাপতি নিজলিঙ্গাপ্পা। 
বিশদ

16th  July, 2019
মোদি সরকারের নতুন জাতীয় শিক্ষানীতি দেশকে কোন দিকে নিয়ে চলেছে
তরুণকান্তি নস্কর

নয়া শিক্ষানীতির কেন্দ্রবিন্দুই হল এই ভারতীয়ত্বের নাম করে মধ্যযুগীয় বাতিল চিন্তা ভাবনার জাবর কাটার প্রচেষ্টা। পঞ্চতন্ত্র, জাতক, হিতোপদেশের গল্পকে তাঁরা স্কুল পাঠ্য করতে চাইছেন, সংস্কৃত শিক্ষাকে গুরুত্ব দিচ্ছেন অথচ ইংরেজি ভাষা শিক্ষাকে গুরুত্বহীন করে দেখানোর চেষ্টা করেছেন। পাঠ্যতালিকায় বহু ব্যক্তির জীবনীচর্চার উল্লেখ আছে, কিন্তু সেই তালিকায় ভারতীয় নবজাগরণের পথিকৃৎ রামমোহন ও বিদ্যাসাগরের নাম সযত্নে বাদ দেওয়া হয়েছে। রামমোহন-বিদ্যাসাগরই যে এদেশে প্রথম ধর্মীয় কুসংস্কারাচ্ছন্ন শিক্ষা ব্যবস্থাকে বাতিল করে আধুনিক শিক্ষা প্রচলনের জন্য লড়াই করেছিলেন তা কারোর অজানা নয়। ভারতীয় নবজাগরণের এই মনীষীরা যে আরএসএস-বিজেপির চক্ষুশূল তা আজ জলের মতো পরিষ্কার।
বিশদ

15th  July, 2019
সাত শতাংশ বৃদ্ধির ফাঁদে
পি চিদম্বরম

 কেন্দ্রীয় সরকারের বাজেটগুলির মধ্যে ২০১৯-২০ সালের বাজেট স্বাভাবিকের তুলনায় দ্রুত জট খুলল। মানুষের মধ্যে এই বাজেট নিয়ে কিংবা আগের বাজেট প্রস্তাবটি নিয়ে কোনও আলোচনা নেই। অতিশয় ধনীরা (সুপার রিচ ৬৪৬৭) বিরক্ত, তবুও ভয়ে স্পিকটি নট। ধনীদের স্বস্তি এখানেই যে তাঁদের রেয়াত করা হয়ে থাকে।
বিশদ

15th  July, 2019
একটু ভাবুন
শুভা দত্ত

 বিশ্বের চারদিক থেকে পানীয় জল নিয়ে গুরুতর অশনিসংকেত আসার পরও আমাদের এই কলকাতা শহরে তো বটেই, গোটা রাজ্যেই প্রতিদিন বিশাল পরিমাণ জল অপচয় হয়। আপাতত বেশিরভাগ জায়গায় জলের জোগান স্বাভাবিক আছে বলে সেটা গায়ে লাগছে না। তাই এখনও আসন্ন মহাবিপদের কথাটা ভাবছেন খুব সামান্যজনই। বাদবাকিরা এখনও নির্বিকার, ভয়ডরহীন—দু’জনের সংসারে আড়াই-তিন হাজার লিটার শেষ করে দিচ্ছে দিনে, বাড়ি গাড়ি ধোয়া চালাচ্ছে কর্পোরেশনের পানীয় জলে! আহাম্মক আর কাকে বলে।
বিশদ

14th  July, 2019
বেনোজলের রাজনীতি
তন্ময় মল্লিক

জেলায় জেলায় নব্যদের নিয়ে বিজেপির আদিদের ক্ষোভ রয়েছে। আর এই ক্ষোভের অন্যতম কারণ যোগদানকারীদের বেশিরভাগই এক সময় হয় সিপিএমের হার্মাদ বাহিনীর সদস্য ছিলেন, অথবা তৃণমূলের ‘কাটমানি নেতা’। তাই এই সব নেতাকে নিয়ে স্বচ্ছ রাজনীতির স্লোগান মানুষ বিশ্বাস করবে না। উল্টে লোকসভা ভোটে যাঁরা নীরবে সমর্থন করেছিলেন, তাঁরা ফের নিঃশব্দেই মুখ ফিরিয়ে নেবেন।‘ফ্লোটিং ভোট’ যে মুখ ঘুরিয়ে নিতে পারে, সেটা বিজেপির পোড়খাওয়া নেতারা বুঝতে পারছেন। তাঁরা বলছেন, ভোটের ফল প্রকাশের পর যাঁরা আসছেন তাঁরা কেউই বিজেপির আদর্শের জন্য আসছেন না, আসছেন বাঁচার তাগিদে। কেউ কেউ লুটেপুটে খাওয়ার অভ্যাস বজায় রাখার আশায়।
বিশদ

13th  July, 2019
ঘোষণা ও বাস্তব
সমৃদ্ধ দত্ত

ভারত সরকারের অন্যতম প্রধান একটি প্রকল্পই হল নদী সংযোগ প্রকল্প। দেশের বিভিন্ন নদীকে পরস্পরের সঙ্গে যুক্ত করে দেওয়া হবে। যাতে উদ্বৃত্ত জলসম্পন্ন নদী থেকে বাড়তি জল শুকনো নদীতে যেতে পারে। প্রধানমন্ত্রী বারংবার এই প্রকল্পের প্রয়োজনীয়তার কথা বলেন। গোটা প্রকল্প রূপায়ণ করতে অন্তত ১ লক্ষ কোটি টাকা দরকার। এদিকে আবার বুলেট ট্রেন করতেও ১ লক্ষ ৮০ হাজার কোটি টাকা খরচ হচ্ছে! আধুনিক রাষ্ট্রে অবশ্যই দুটোই চাই। কিন্তু বাস্তব প্রয়োজনের ভিত্তিতে বিচার করলে? কোনটা বেশি জরুরি? বিশদ

12th  July, 2019
মোদি সরকারের নতুন জাতীয় শিক্ষানীতি দেশকে কোন দিকে নিয়ে চলেছে
তরুণকান্তি নস্কর

 কেন্দ্রীয় মানব সম্পদ উন্নয়ন দপ্তর থেকে সম্প্রতি জাতীয় শিক্ষানীতি-২০১৯-এর যে খসড়া প্রকাশিত হয়েছে তার যে অংশ নিয়ে সংবাদ মাধ্যমে হই চই পড়েছিল তা হল বিদ্যালয় স্তরে ত্রি-ভাষা নীতির মাধ্যমে অ-হিন্দিভাষী রাজ্যে জোর করে হিন্দি চাপানোর বিষয়টি। তামিলনাড়ুর মানুষের প্রবল আপত্তিতে তা কেন্দ্রীয় সরকার প্রত্যাহার করে নিয়েছে।
বিশদ

11th  July, 2019
জলের জন্য হাহাকার আমাদের কি একটুও ভাবাচ্ছে!
শুভা দত্ত

আমাদের এখনও তেমন অসুবিধে হচ্ছে না। কারণ, কলকাতা মহানগরীতে এখনও পানীয় হোক কি সাধারণ কাজকর্ম সারার জলের অভাব ঘটেনি। ঘটেনি কারণ আমাদের জল জোগান যে মা গঙ্গা, তিনি এখনও বহমান এবং তাঁর বুকের ঘোলা জলে এখনও নিয়ম করে বান ডাকে, জোয়ার-ভাটা খেলে।
বিশদ

07th  July, 2019
এক বাস্তববাদী রাজনীতিকের নাম শ্যামাপ্রসাদ
হারাধন চৌধুরী

 নরেন্দ্র মোদির দ্বিতীয় সরকার নিয়ে বিজেপি তিন দফায় ভারত শাসনের দায়িত্ব পেল। কংগ্রেসকে বাদ দিলে ভারতের আর কোনও রাজনৈতিক দল এই কৃতিত্ব অর্জন করতে পারেনি। ২০১৯-এর লোকসভার ভোটে বিজেপি ক্ষমতা অনেকখানি বাড়িয়ে নিয়েছে। ২০১৪-র থেকে বেশি ভোট পেয়েছে এবং তিনশোর বেশি আসন দখল করেছে।
বিশদ

06th  July, 2019
চাকরি ও পরিকাঠামো উন্নয়নে প্রত্যাশিত দিশা দেখাতে পারল না নির্মলা সীতারামনেরও বাজেট
দেবনারায়ণ সরকার

 লোকসভা নির্বাচনের আগে গত ফেব্রুয়ারিতে বর্তমান বছরের (২০১৯-২০) অন্তর্বর্তী বাজেট পেশ করা হয়েছিল। নির্বাচনে বিপুল জয়ের পরে বর্তমান অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন দ্বিতীয় মোদি সরকারের বর্তমান অর্থবর্ষের পূর্ণাঙ্গ বাজেট পেশ করলেন। এই বাজেটে আয় ও ব্যয় অন্তর্বর্তী বাজেটে যা ধরা হয়েছিল সেটাই অপরিবর্তিত রইল।
বিশদ

06th  July, 2019
একনজরে
 নয়াদিল্লি, ১৮ জুলাই (পিটিআই): অযোধ্যার রাম জন্মভূমি-বাবরি মসজিদ জমি বিতর্ক মামলায় মধ্যস্থতার প্রক্রিয়া জারি রাখার অনুমতি দিল সুপ্রিম কোর্ট। পাশাপাশি মধ্যস্থতার ফলাফল কী দাঁড়াল, তা নিয়ে ১ আগস্ট রিপোর্ট পেশ করতে বলল শীর্ষ আদালত। ...

 আঙ্কারা, ১৮ জুলাই (এপি): আমেরিকার নেতৃত্বাধীন যুদ্ধবিমান প্রকল্প এফ-৩৫ থেকে তুরস্ককে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। আমেরিকার সেই সিদ্ধান্তেরই বৃহস্পতিবার বিরোধিতা করল তাদের ন্যাটো জোটসঙ্গী তুরস্ক। তুরস্ক সরকারের দাবি, এই ধরনের সিদ্ধান্ত দুই দেশের ‘জোট সম্পর্কের পরিপন্থী’। ...

 সুমন তেওয়ারি, আসানসোল, বিএনএ: কাটমানি, স্বজনপোষণ, পঞ্চায়েতের কাজের টেন্ডারের অনিয়ম এবং নিম্নমানের কাজে যুক্ত পঞ্চায়েত প্রধান ও নির্মাণ সহায়ক। এমনই গুরুতর অভিযোগ মুখ্যমন্ত্রীর দপ্তরে জানানোর সাতদিনের মধ্যে প্রাথমিক তদন্ত করে অভিযুক্ত প্রধান ও নির্মাণ সহায়ককে শোকজ করল প্রশাসন। ...

 ন্যাশনাল স্টক এক্সচেঞ্জে যেসব সংস্থার শেয়ার গতকাল লেনদেন হয়েছে শুধু সেগুলির বাজার বন্ধকালীন দরই নীচে দেওয়া হল। ...




আজকের দিনটি কিংবদন্তি গৌতম
৯১৬৩৪৯২৬২৫ / ৯৮৩০৭৬৩৮৭৩

ভাগ্য+চেষ্টা= ফল
  • aries
  • taurus
  • gemini
  • cancer
  • leo
  • virgo
  • libra
  • scorpio
  • sagittorius
  • capricorn
  • aquarius
  • pisces
aries

কারও কথায় মর্মাহত হতে হবে। বিবাহের যোগ আছে। কর্মে সুনাম বাড়বে। পাওনা অর্থ আদায় হবে। ... বিশদ


ইতিহাসে আজকের দিন

১৮৬৩: কবি, গীতিকার ও নাট্যকার দ্বিজেন্দ্রলাল রায়ের জন্ম
১৮৯৯: লেখক বনফুল তথা বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায়ের জন্ম
১৯৫৫: প্রাক্তন ক্রিকেটার রজার বিনির জন্ম
২০১২: বাংলাদেশের লেখক হুমায়ুন আহমেদের মূত্যু

ক্রয়মূল্য বিক্রয়মূল্য
ডলার ৬৭.৯৫ টাকা ৬৯.৬৪ টাকা
পাউন্ড ৮৪.০৯ টাকা ৮৭.২২ টাকা
ইউরো ৭৫.৯৩ টাকা ৭৮.৮৭ টাকা
[ স্টেট ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়া থেকে পাওয়া দর ]
পাকা সোনা (১০ গ্রাম) ৩৫,৩৫০ টাকা
গহনা সোনা (১০ (গ্রাম) ৩৩,৫৪০ টাকা
হলমার্ক গহনা (২২ ক্যারেট ১০ গ্রাম) ৩৪,০৪৫ টাকা
রূপার বাট (প্রতি কেজি) ৪০,২৫০ টাকা
রূপা খুচরো (প্রতি কেজি) ৪০,৩৫০ টাকা
[ মূল্যযুক্ত ৩% জি. এস. টি আলাদা ]

দিন পঞ্জিকা

২ শ্রাবণ ১৪২৬, ১৯ জুলাই ২০১৯, শুক্রবার, দ্বিতীয়া ৪/৩৩ দিবা ৬/৫৫। ধনিষ্ঠা ৫৮/১৮ রাত্রি ৪/২৫। সূ উ ৫/৬/৩, অ ৬/১৯/৩১, অমৃতযোগ দিবা ৬/৫২ মধ্যে পুনঃ ৭/৪৫ গতে ১০/২৪ মধ্যে পুনঃ ১/২ গতে ২/৪৮ মধ্যে পুনঃ ৪/৩৩ গতে অস্তাবধি, বারবেলা ৮/২৪ গতে ১১/৪৩ মধ্যে, কালরাত্রি ৯/১ গতে ১০/২২ মধ্যে।
২ শ্রাবণ ১৪২৬, ১৯ জুলাই ২০১৯, শুক্রবার, তৃতীয়া ৬০/০/০ অহোরাত্র। ধনিষ্ঠানক্ষত্র ৫৫/৩১/৩৩ রাত্রি ৩/১৭/৪৩, সূ উ ৫/৫/৬, অ ৬/২২/৫, অমৃতযোগ দিবা ৬/৫৬ মধ্যে ও ৭/৪৮ গতে ১০/২৪ মধ্যে ও ১/১ গতে ২/৪৫ মধ্যে ও ৪/৩০ গতে ৬/২২ মধ্যে। রাত্রি ৭/৪২ গতে ৯/৯ মধ্যে ও ৩/০ গতে ৩/৪৪ মধ্যে, বারবেলা ৮/২৪/২২ গতে ১০/৩/৫৯ মধ্যে, কালবেলা ১০/৩/৫৯ গতে ১১/৪৩/৩৭ মধ্যে, কালরাত্রি ৯/২/৫১ গতে ১০/২৩/১৪ মধ্যে।
১৫ জেল্কদ

ছবি সংবাদ

এই মুহূর্তে
এয়ারপোর্ট থেকে বারাকপুর পর্যন্ত মাটির তলা দিয়েই যাবে মেট্রো
এয়ারপোর্ট থেকে বারাকপুর পর্যন্ত মাটির তলা দিয়ে হবে মেট্রো লাইন। ...বিশদ

02:24:12 PM

৫০০ পয়েন্ট পড়ল সেনসেক্স 

01:44:56 PM

বিশ্ববাংলা কনভেনশন সেন্টারে কর্মশালার আয়োজন করল রাজ্য সরকার 
আজ বিশ্ববাংলা কনভেনশন সেন্টারে অ্যানিমেশন, বিএফএক্স অ্যান্ড গেমিংয়ের উপর একটি ...বিশদ

01:37:00 PM

পাথর প্রতিমার কুয়েমুড়ি গ্রামে একটি পুকুর থেকে কুমির উদ্ধার করল বনকর্মীরা 

01:12:15 PM

নদীয়ায় পঞ্চায়েত কর্মীদের আইডি কার্ড দেওয়া শুরু হল 

12:52:00 PM

উত্তরপ্রদেশের নারায়ণপুরে ধর্নায় প্রিয়াঙ্কা গান্ধী 
উত্তরপ্রদেশের নারায়ণপুরে প্রিয়াঙ্কা গান্ধীকে আটকাল পুলিস। প্রতিবাদে ধর্নায় বসলেন তিনি। ...বিশদ

12:12:57 PM