Bartaman Patrika
বিশেষ নিবন্ধ
 

একশো পঁচিশে সংসদের বাঙালি পণ্ডিত
হারাধন চৌধুরী

কাটমানি আর ব্ল্যাকমানির তরজায় দেশের রাজনীতি আজ বিপন্নপ্রায়। রাজনীতির প্রতি শ্রদ্ধা ও আগ্রহ নষ্ট হচ্ছে সাধারণ মানুষের, বিশেষত শিক্ষিত যুব সম্প্রদায়ের। এ লক্ষণ সুখের নয়—মানুষের জন্য, রাষ্ট্রের জন্য—কারও জন্যই নয়। উপযুক্ত নেতার সঙ্কট উপস্থিত হলেই দেশ এমন দুঃসময়ে পতিত হয়। স্বাধীনতাসংগ্রামের কাল, অর্থাৎ উনবিংশ-বিংশ শতকেই ভারতের রাজনীতির স্বর্ণযুগ গিয়েছে। শুধু মানুষের জন্য রাজনীতি কাকে বলে তা নিজেদের জীবন দিয়ে দেখিয়ে গিয়েছেন সে-যুগের বহু রাজনীতিক। ধ্রুব আদর্শের সুরে জীবনকে পরিচালিত করা সেই মানুষগুলিকে পরবর্তীকাল প্রণম্য মনীষী হিসেবে মেনে নিয়েছিল। সময়ের দাবি ছিল, স্বাধীন ভারত তাঁদেরই দেখানো পথে উন্নতির শিখর স্পর্শ করবে। কিন্তু, কথার খেলাপ-করা যে-জাতির মজ্জাগত, যে-জাতি ইতিহাসবিস্মৃত হিসেবেই খ্যাত, তার পক্ষে বিচ্যুতি বিস্ময়ের নয়। তবু প্রত্যাশা ছিল যে ভারতের রাজনীতি দ্রুত ভুল বুঝবে এবং নিজেকে শুধরে নেবে। কিন্তু, বাস্তবে তা হয়নি। তাই পঞ্চায়েত/পুরসভা থেকে বিধানসভা এবং সংসদ অবধি দীনতার ছাপ প্রকট হয়ে উঠেছে। অর্থলোভী ক্ষমতালোভী উচ্ছিষ্টলোভী আয়ারাম গয়ারামদেরই বিজয়নিশান পত পত করে উড়ছে! এটাকে নিজেদের ভাগ্য বলে মেনে নিয়ে যে যার ঘরে খিল এঁটে দিয়ে নিরাপদ থাকার কথা ভাবছি অনেকে। কিন্তু, এইভাবে সত্যিই কি ভালো থাকা সম্ভব? না। দেশের রাজনীতিকে রাজনীতির সংজ্ঞায় ফিরতে বাধ্য করাটা আমাদেরই দায়িত্ব। তার জন্য শিক্ষা নিতে হবে ইতিহাস এবং ঐতিহাসিক চরিত্রগুলি থেকে। তাঁদের অনেকেই আজ বিস্মৃতপ্রায় যদিও। স্মৃতির সরণি বেয়েই তাঁদের হাজির করতে হবে আজকের প্রেরণাহীন প্রেক্ষাপটে। তেমনই একজন প্রাসঙ্গিক পুরুষ হলেন পণ্ডিত লক্ষ্মীকান্ত মৈত্র—ভারতের স্বাধীনতার গুরুত্বপূর্ণ সৈনিক।
এবার পণ্ডিত লক্ষ্মীকান্ত মৈত্রের জন্মের ১২৫ বছর। ১৮৯৫ সালের ২৩ জুলাই পূর্ববঙ্গে পদ্মাপারের নারায়ণগঞ্জে তাঁর জন্ম। ১৯৫৩ সালের ২৫ জুলাই তাঁর মৃত্যু হয়। আর দু’দিন বাদে তাঁর প্রয়াণের ৬৭ বছর।
কে এই পণ্ডিত মৈত্র?
ভারতের সংসদে বাগ্মী হিসেবে তিনজন পণ্ডিত সাড়া ফেলে দিয়েছিলেন—পণ্ডিত জওহরলাল নেহরু, পণ্ডিত মদনমোহন মালব্য এবং পণ্ডিত লক্ষ্মীকান্ত মৈত্র। এই তিন পণ্ডিতের যেদিন ভাষণ থাকত সেদিন সংসদের চেহারা সর্বার্থে ঐতিহাসিক হয়ে উঠত। পণ্ডিত মৈত্র বয়সে নেতাজি সুভাষচন্দ্রের চেয়ে বছর দেড়েকের এবং শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের চেয়ে বছর ছয়ের বড় ছিলেন। দেশবরেণ্য এই দু’জনের সঙ্গেই তাঁর সখ্য ছিল উল্লেখযোগ্য। বিশেষ সম্পর্ক ছিল রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, গান্ধীজি, সর্দার প্যাটেল, দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাশ, বিজ্ঞানী সত্যেন্দ্রনাথ বসু, মেঘনাদ সাহা, জ্ঞানচন্দ্র ঘোষের সঙ্গেও।
ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী ম্যাকডোনাল্ড ভারতকে সম্প্রদায়ের ভিত্তিতে ভাঙার প্রস্তাব দিলেন। বাঁটোয়ারার চক্রান্ত মেনে নেওয়া নিয়ে কংগ্রেসের ভিতরে তখন দোলাচল—কংগ্রেস না-পক্ষে, না-বিপক্ষে! কংগ্রেস তখন কোনও রাজনৈতিক দল নয়, ব্রিটিশ-বিরোধী আন্দোলনের প্রধান মঞ্চ। তার ভিতরে ভবিষ্যতের সমাজবাদী, কমিউনিস্ট, কট্টর মুসলিম, কট্টর হিন্দু, মধ্যপন্থী সকলেই। কংগ্রেসের এই দোলাচলের ভিতরে মদনমোহন মালব্যরা ‘কংগ্রেস জাতীয় দল’ নামে একটি উপদল গড়েছিলেন। যাঁরা ভারতের অখণ্ডতার পক্ষে। ১৯৩৬ সালের নির্বাচনে সারা বাংলা থেকে কংগ্রেসের একজনমাত্র অফিসিয়াল প্রার্থী জয়ী হন। অন্যদিকে কংগ্রেসের বাকিরা পরাজিত হয়েছিলেন মালব্যের প্রার্থীদের কাছে। জয়ীদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাশের ঘনিষ্ঠ পণ্ডিত মৈত্র।
লক্ষ্মীকান্ত অত্যন্ত মেধাবী ছাত্র ছিলেন। রসায়ন, ইংরেজি, সংস্কৃত, দর্শন ও আইন শাস্ত্রে তাঁর পাণ্ডিত্য ছিল অগাধ। শৈশব বাল্য কৈশোর এবং যৌবনের সন্ধিক্ষণ কেটেছিল নারায়ণগঞ্জ-ঢাকায়। পড়াশোনা করেছেন ঢাকার সরকারি জগন্নাথ কলেজে, কলকাতায় প্রেসিডেন্সি কলেজে এবং কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় আইন কলেজে। ছিলেন দুঁদে আইনজীবী। তাঁর খ্যাতি কৃষ্ণনগরের গণ্ডি পেরিয়ে কলকাতা ও দিল্লিতে ব্যাপ্ত হয়। তিনি ফেডারেল কোর্ট এবং সুপ্রিম কোর্টের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। কিন্তু স্বাধীনতার আন্দোলনে জড়িয়ে পড়ে আচমকা আইন পেশা থেকে সরে আসেন। স্বাধীনতা পূর্ব এবং স্বাধীনতা উত্তর ভারতের আইনসভা তাঁর ক্ষুরধার বাগ্মিতায় ঋদ্ধ হয়েছে। তাঁর বহুমুখী প্রতিভার স্বাক্ষর রয়েছে স্বাধীন ভারতের জন্য প্রণীত সংবিধানে এবং শিক্ষা, খাদ্য, লবণ, স্বাস্থ্য, রেল, সড়ক ও পরিবহণ, ডাক ও তার, টেলিফোন প্রভৃতি বিষয়ক সেকালের সংসদীয় কমিটিগুলিতে। তৎকালীন বেঙ্গালোরে ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অফ সায়েন্সের পরিচালন পরিষদ, সেন্ট্রাল অ্যাডভাইজারি বোর্ড অফ এডুকেশন, দিল্লি ইউনিভার্সিটি কোর্ট, কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় সিনেট, অল ইন্ডিয়া কাউন্সিল অফ টেকনিক্যাল এডুকেশনসহ একগুচ্ছ গুরুত্বপূর্ণ সরকারি প্রতিষ্ঠানে সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি। রিহ্যাবিলিটেশন ফিনান্স অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের তিনি ছিলেন প্রথম চেয়ারম্যান।
ধর্ম সম্প্রদায়ের ভিত্তিতে ভারতভাগের বিরুদ্ধে তিনি বার বার সোচ্চার হয়েছেন। দেশভাগ অনিবার্য হয়ে উঠলে পূর্ববঙ্গ থেকে আগত উদ্বাস্তুদের দুর্দশা তাঁকে যন্ত্রণাকাতর করে তুলেছিল। শরণার্থীদের পুনর্বাসনের সমস্ত উদ্যোগে তাঁকে শামিল হতে দেখা গিয়েছে। বাঙালি শরণার্থীদের প্রতি বঞ্চনা বৈষম্যের প্রতিবাদ জানাতে লক্ষ্মীকান্ত মৈত্র তাঁর দলের প্রধানমন্ত্রী নেহরুকে তুলোধনা করতেও কখনও ভয় পাননি। ১৯৪৮ সালের ১ মার্চ লোকসভায় অর্থ বিলের উপর ভাষণ প্রসঙ্গে বলেছিলেন, ‘‘তাঁদের (পূর্ব পাকিস্তান থেকে আগত উদ্বাস্তু) সম্পর্কে এখানে কেউ কিছু বলে না। কারণ তাঁদের দুর্দশা সম্পর্কে এখানে কোনও প্রচার নেই। কিন্তু পূর্ব পাকিস্তানের হিন্দুদের অবস্থা এমনই যে সেখানে তাঁদের আত্মসম্মান নিয়ে বসবাস করা অসম্ভব হয়ে পড়েছে। ... অর্থ বিলে পশ্চিম পাঞ্জাব, সিন্ধু প্রদেশ ও উত্তর-পশ্চিম সীমান্ত প্রদেশ থেকে আগত উদ্বাস্তুদের ত্রাণ ও পুনর্বাসনের জন্য অর্থ বরাদ্দ করা হয়েছে। কিন্তু, পূর্ব পাকিস্তান থেকে আসা মানুষের জন্য কোনও বরাদ্দ নেই! অর্থ বিলে ‘বাস্তুহারা’ কথাটির যে সংজ্ঞা দেওয়া হয়েছে পূর্ব পাকিস্তান থেকে আগত মানুষগুলি তার বাইরে কি না পরিষ্কার জানতে চাই। ... এই সভার জানা দরকার যে পূর্ব পাকিস্তানে যে ১ কোটি ২০ লক্ষ হিন্দু আছেন তাঁরাও আমাদের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে স্বাধীনতার সংগ্রাম করেছেন। দেশকে স্বাধীন করার জন্য তাঁরাও বিপুল ত্যাগ স্বীকার করেছেন। অথচ, আজ তাঁরা নৈরাশ্যের সঙ্গে দেখছেন যে দেশের একটা অংশের মানুষ স্বাধীনতার মুক্ত হাওয়ায় শ্বাস নিচ্ছেন আর অন্য অংশের মানুষ আঘাত অপমান নিপীড়ন ভোগ করছেন।’’
নেহরু মন্ত্রিসভার গুরুত্বপূর্ণ সদস্য হিসেবে শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় সেদিন এই বক্তৃতা মন দিয়ে শুনেছিলেন। আমরা জানি, পরে শ্যামাপ্রসাদ পূর্ব পাকিস্তানে ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের উপর অবর্ণনীয় দুর্দশার প্রতিবাদ জানিয়ে মন্ত্রিত্ব ছেড়েছিলেন। কলকাতায় ফিরে শরণার্থীত্রাণে ঝাঁপিয়ে পড়লে লক্ষ্মীকান্তও তাঁর সঙ্গে যোগ দেন। কাশ্মীরে শ্যামাপ্রসাদের মৃত্যুতে তিনি এতটাই আঘাত পান যে তার মাত্র একমাস পরই লক্ষ্মীকান্তের মৃত্যু হয়।
কংগ্রেসে সুভাষ-বিরোধী চক্রান্তের কট্টর সমালোচক ছিলেন লক্ষ্মীকান্ত মৈত্র। সুভাষচন্দ্র কংগ্রেস ছেড়ে আসার পর তাঁর প্রস্তাবিত দলের নাম ‘ফরওয়ার্ড ব্লক’ রাখার পরামর্শ লক্ষ্মীকান্তই দিয়েছিলেন। কংগ্রেসের মধ্যে যাঁরা প্রগতিশীল তাঁরাই নেতাজির নতুন দলে আসবেন ধরে নিয়ে তিনি ওইরকম নাম দিয়েছিলেন। জেলের ভিতর থেকে গভর্নরের উদ্দেশে লেখা নেতাজির ‘শেষ চিঠি’তেও লক্ষ্মীকান্ত মৈত্রের প্রস্তাবের উল্লেখ রয়েছে।
জন্ম পূর্ববঙ্গে হলেও পিতৃসূত্রে তিনি শান্তিপুরের ছেলে। সমাজসংস্কারে তাঁর ভূমিকা ছিল বিরাট। স্থানীয় এলাকার শিক্ষা ও সংস্কৃতির বিকাশে তিনি ছিলেন নিবেদিত প্রাণ। তাঁর অবদান নদীয়া জেলাবাসীর কাছে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে আরও একটি কারণে। ১৯৪৭ সালের ১৫ আগস্ট স্বাধীনতা ঘোষিত হলে নদীয়া জেলার একাংশে (যেমন শান্তিপুর, কৃষ্ণনগর, নবদ্বীপ প্রভৃতি) পাকিস্তানের পতাকা উড়েছিল! আজকের নদীয়ার বিস্তীর্ণ এলাকা পাকিস্তানের ভাগে পড়েছিল। পণ্ডিত মৈত্র তা মেনে নিতে পারেননি। এই অন্যায় সিদ্ধান্ত রদের দাবি নিয়ে তিনি একাই প্রধানমন্ত্রীর কাছে বলিষ্ঠভাবে দরবার করেছিলেন। সারা দেশ দেখল, দ্রুততার সঙ্গে নদীয়ার আলোচ্যমান অংশটি ভারতভুক্ত হয়ে গেল। সেই অনুযায়ী ১৮ আগস্ট শান্তিপুরসহ বাকি অংশে ভারতের জাতীয় পতাকা ওঠে।
১৯৪৯ সালের ১৮ নভেম্বর ভারতের সংবিধান চূড়ান্তরূপে গৃহীত হওয়ার দিন পণ্ডিত মৈত্র গণপরিষদের অধিবেশনে এক স্মরণীয় ভাষণ দেন। তার এক জায়গায় তিনি বলেছিলেন, ‘‘এই সংবিধান আমাদের লিবার্টি সুনিশ্চিত করেছে, কিন্তু লিবার্টিকে লাইসেন্সে পরিণত করার পথ বন্ধ করেছি। আজ আমাদের আত্মবিশ্নেষণ আত্মপরীক্ষার সময়। আজই, এখন থেকেই, এমন পরিবেশ সৃষ্টি করতে হবে যাতে সংবিধানে দেওয়া ব্যবস্থাগুলি কার্যকর করা যায়। যেমন আমরা প্রাপ্তবয়স্কদের ভোটাধিকার দিয়েছি। কিন্তু অশিক্ষা দূর না-হলে এই ভোটাধিকার আশীর্বাদের পরিবর্তে অভিশাপ হয়ে উঠবে।’’
পণ্ডিত মৈত্রের জন্মের এই পুণ্য মুহূর্তে ভাবতে হচ্ছে না কি তাঁর দূরদর্শিতা কতখানি ছিল! ভোটসর্বস্ব সংকীর্ণ রাজনীতিতেই আমাদের সমাজজীবন অভিশপ্ত হয়ে উঠছে না কি?
23rd  July, 2019
আত্মশক্তি ও আমরা
সমৃদ্ধ দত্ত

 এসব থাকলে যেটা হবে তা হল সর্বদা সরকারের উপর নির্ভর করে থাকতে হবে না। আমার কাছে সবথেকে আদর্শ হল গ্রামবাসীরা যদি নিজেদের ভালোর জন্য পারস্পরিক সহায়তায় নিজেরাই জোট বাঁধে। ভেদাভেদ ভুলে কী করলে গোটা গ্রামের উন্নতি ও মঙ্গল হবে, সেটা উপলব্ধি করে নিজেরাই পরিশ্রম করলে দেখা যাবে উন্নতির আলো। বিশদ

23rd  August, 2019
অ্যাট দ্য হোয়াইট হাউস কলাম থেকেই
খবরের কেন্দ্রে মার্কিন প্রেসিডেন্টের বাড়ি
মৃণালকান্তি দাস

 ১৮৯৬ সাল। উইলিয়াম ‘ফ্যাটি’ প্রাইস ওয়াশিংটন ইভিনিং স্টার পত্রিকায় কাজ করার একটা সুযোগ খুঁজছিলেন। পত্রিকার সিটি এডিটর হ্যারি গডউইন প্রাইসকে স্থায়ী চাকরি দেওয়ার আগে হোয়াইট হাউসে পাঠালেন একটি সংবাদ তৈরি করার জন্য। ওই সময় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ছিলেন গ্রোভার ক্লিভল্যান্ড। বিশদ

23rd  August, 2019
চক্রব্যূহে জাতীয় কংগ্রেস:
সোনিয়ার প্রত্যাবর্তন
প্রণবকুমার চট্টোপাধ্যায়

 আগস্ট মাস জাতীয় কংগ্রেস ও ভারতীয় রাজনীতিতে স্মরণীয় মাস। ১৯৪২ সালের ৮ আগস্ট ভারত ছাড়ো আন্দোলনের সূচনা হয়, আবার ১৯৪৭ সালের ১৫ আগস্ট ভারত স্বাধীনতা অর্জন করে। মজার কথা, বিগত ১০ আগস্ট মধ্যরাত্রে কংগ্রেস ওয়ার্কিং কমিটি নতুন কংগ্রেস সভাপতির নাম স্থির করার জন্য পাঁচটি কমিটি শলা-পরামর্শে বসে।
বিশদ

22nd  August, 2019
ন্যাশনাল মেডিক্যাল কমিশন বিল: কিছু আশঙ্কা 
বিষাণ বসু

চারদিকে বড় হইচই। বিষয় ন্যাশনাল মেডিক্যাল কমিশন বিল। স্বাধীনতার পর থেকেই দেশের মেডিক্যাল শিক্ষার ব্যাপারটা দেখছিলেন এমসিআই, অর্থাৎ মেডিক্যাল কাউন্সিল অফ ইন্ডিয়া। এমসিআই নিয়ে অভিযোগ ছিল বিস্তর—বিশেষত, তাঁদের কিছু কর্তাব্যক্তিকে নিয়ে। 
বিশদ

20th  August, 2019
জম্মু-কাশ্মীর: উন্নয়ন ও অন্তর্ভুক্তির নতুন প্রভাত
রবিশঙ্কর প্রসাদ
 

জম্মু-কাশ্মীরের সাধারণ মানুষের কল্যাণে সংবিধানের ৩৭০ ধারা বাতিল করা হয়েছে। এর ফলে, ৭০ বছরের পুরনো একটা সমস্যার নতুন সরকারের ক্ষমতা গ্রহণের ৭০ দিনেরও কম সময়ে সমাধান হল। এই কারণে আমাদের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সাহস ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের ইচ্ছাশক্তিকে প্রশংসা করা উচিত।
 
বিশদ

20th  August, 2019
নিস্তেজ অর্থনীতির সত্যটা সরকার ভুলে যাচ্ছে 
পি চিদম্বরম

রাষ্ট্রপতি ভবন হল সরকারের ক্ষমতার আসনের প্রতীক। এক কিলো মিটার ব্যাসার্ধের মধ্যে সংসদ ভবন, প্রধানমন্ত্রীর অফিস (পিএমও), নর্থ ব্লক ও সাউথ ব্লক—মানে স্বরাষ্ট্র, অর্থ, প্রতিরক্ষা ও বিদেশ-এর মতো উচ্চ মন্ত্রকগুলি রয়েছে।   বিশদ

19th  August, 2019
সভাপতি পদে সোনিয়াজির প্রত্যাবর্তনে কংগ্রেস কি ছন্দ ফিরে পাবে
শুভা দত্ত

ছন্দ তো হারিয়েছে বহুদিন। ছন্দে ফেরার চেষ্টা—সেও শুরু হয়েছে বহুদিন। কিন্তু কিছুতেই যেন সেই পুরনো দমদার ছন্দে ফিরতে পারছে না জাতীয় কংগ্রেস! নেহরু-ইন্দিরার আমল থেকে গান্ধী পরিবারের ছত্রচ্ছায়ায় এবং নেতৃত্বে দলের যে অপ্রতিরোধ্য ছন্দ গোটা দেশকে কংগ্রেসি তেরঙ্গায় বেঁধে রেখেছিল, যে ছন্দ কংগ্রেস প্রতীক ইন্দিরার পাঞ্জার উপর বছরের পর বছর দেশের মানুষের আস্থা বিশ্বাস ও আবেগ ধরে রেখেছিল, জরুরি অবস্থা, নাসবন্দির মতো কাণ্ডের পরও যে ছন্দ ক্ষমতার কেন্দ্রে ফিরিয়ে এনেছিল কংগ্রেসকে, ইন্দিরা এবং ইন্ডিয়া হয়ে উঠেছিলেন সমার্থক—জাতীয় কংগ্রেসের সেই অমিত শক্তি রাজনৈতিক ছন্দ অনেক কাল আগেই ইতিহাসের পাতায় ঠাঁই নিয়েছে।
বিশদ

18th  August, 2019
ওয়াল স্ট্রিটের ‘নেকড়ে’-র গল্প!
মৃণালকান্তি দাস

ওয়াশিংটনের অপরিচিত কোনও এক পথে হাঁটতে হাঁটতে গল্পটা শুনিয়েছিলেন এমিলি ব্রাউন। গল্প বলতে, এক অপরাধীর ঘুরে দাঁড়ানোর কাহিনী। জর্ডন বেলফোর্টের গল্প। যিনি জীবনে অপরাধের নেশায় পড়ে সবকিছু হারিয়েছিলেন। কে এই জর্ডন বেলফোর্ট, জানেন? যাঁর জীবন কাহিনী শুনলে মনে হবে, এ এই মার্কিন মুলুকেই সম্ভব! বিশদ

17th  August, 2019
স্বাধীনতা ৭৩ এবং ভূস্বর্গের মুক্তি
মেরুনীল দাশগুপ্ত

গরিবি যতদিন না যাবে ততদিন এই উপত্যকায় শান্তি আসবে না। কারণ, কাশ্মীরি মানুষের গরিবিই ওদের একটা বড় হাতিয়ার। গরিব মানুষজনের অনেকেই ক’টা টাকার লোভে পড়ে সীমান্তর ওপার থেকে আসা লোকজনকে আশ্রয় দিয়ে, লুকিয়ে রেখে, খাবারদাবারের ব্যবস্থা করে ভ্যালির বিপদ বাড়িয়ে তুলছে।
বিশদ

15th  August, 2019
বনে থাকে বাঘ 
অতনু বিশ্বাস

ছেলেবেলায় ‘সহজ পাঠ’-এ পড়েছিলাম ‘বনে থাকে বাঘ’। যদিও এই পাঠটা যে খুব সহজ আর স্বাভাবিক নাও হতে পারে, অর্থাৎ বনে বাঘ নাও থাকতে পারে, সেটা বুঝতে বেশ বড় হতে হল। ছোটবেলায় অবশ্য মনে বদ্ধমূল ধারণা ছিল, বন-জঙ্গল গিজগিজ করে বাঘে। 
বিশদ

13th  August, 2019
রক্ষক আইন যেন ভক্ষক না হয়
শান্তনু দত্তগুপ্ত 

ভিক্টরি ম্যানসনে ঢুকলেন উইনস্টন স্মিথ। বহুতলে ঢুকেই নজরে আসবে দো’তলা সমান আখাম্বা ছবিটা। শুধু একটা মুখ। নীচে ক্যাপশন করা, বিগ ব্রাদার কিন্তু তোমাকে দেখছে। জর্জ অরওয়েলের কালজয়ী উপন্যাস ১৯৮৪-এর শুরুতেই উল্লেখ এই ছবির। আর এই নভেলের সারমর্মও লুকিয়ে এই ছবিতে—বিগ ব্রাদার দেখছে, তাই সাবধান। সাবধান হও সবাই... সরকারি কর্মচারী, ব্যবসায়ী, সাফাইকর্মী, বেসরকারি চাকুরে... মোদ্দা কথা নারী-পুরুষ নির্বিশেষে। সবসময় নজরদারি।  
বিশদ

13th  August, 2019
পুতিন কি পারবেন নতুন বিশ্বের নেতৃত্ব দিতে?
গৌরীশঙ্কর নাগ

 ১৯১৭ খ্রিস্টব্দে বা তার কিছু আগে থেকে লেনিন, ট্রটস্কি প্রমুখ নিবেদিত প্রাণ কমরেডের হাত ধরে সোভিয়েত সমাজতন্ত্র নামক যে মহীরুহটি ধীরে ধীরে গড়ে উঠেছিল তা গর্বাচেভ ক্ষমতাসীন হওয়ার পর কীভাবে তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়েছে—বিস্ময়ের সঙ্গে আমরা সেটা দেখেছি।
বিশদ

12th  August, 2019
একনজরে
নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: পূর্ত দপ্তরের অধীনে থাকা রাজ্যের প্রায় দু’হাজার ব্রিজ বা উড়ালপুলের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হবে বছরে চারবার। কেএমডিএ’র অধীনে থাকা উড়ালপুলগুলির স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য ব্রিজ অ্যাডভাইসরি কমিটি তৈরি করা হয়েছে। তাদের নির্দেশেই ব্রিজের যান চলাচল বন্ধ রেখে লোড ...

 সংবাদদাতা, কান্দি: বৃহস্পতিবার রাতে বহরমপুর-সাঁইথিয়া রাজ্য সড়কে কান্দি থানার গোলাহাট গ্রামের কাছে ২০ হাজার টাকার জাল নোট সহ এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিস। ধৃতের কাছ থেকে ১০টি দু’হাজার টাকার জাল নোট উদ্ধার হয়েছে বলে পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে। ...

 নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ফেডারেশনের অনুমোদিত টুর্নামেন্ট হলেও ডুরান্ড কাপের ব্যাক ড্রপে নেই এআইএফএফের কোনও লোগো। এফএসডিএলের আপত্তিতেই ডুরান্ড কাপের ব্যাক ড্রপে ফেডারেশনের লোগো নেই বলে জানা গেল। ...

 কাজল মণ্ডল, ইসলামপুর, সংবাদদাতা: ইসলামপুর মহকুমায় জনজাগরণ কর্মসূচি নিয়ে বিজেপি এখনও মাঠে নামতে পারেনি। তাছাড়া ইতিমধ্যেই একবার কর্মসূচি ঘোষণা করে তার দিনক্ষণ পিছতেও হয়েছে বিজেপিকে। জনজাগরণ নামের ওই কর্মসূচি প্রকৃত পক্ষে বিরোধীদের কাউন্টার করার কর্মসূচি। কিন্তু এনিয়ে বিজেপি’র টালবাহানায় দলের ...




আজকের দিনটি কিংবদন্তি গৌতম
৯১৬৩৪৯২৬২৫ / ৯৮৩০৭৬৩৮৭৩

ভাগ্য+চেষ্টা= ফল
  • aries
  • taurus
  • gemini
  • cancer
  • leo
  • virgo
  • libra
  • scorpio
  • sagittorius
  • capricorn
  • aquarius
  • pisces
aries

উচ্চবিদ্যার ক্ষেত্রে মধ্যম ফল আশা করা যায়। প্রতিযোগিতমূলক পরীক্ষায় সাফল্য আসবে। প্রেম-প্রণয়ে নতুনত্ব আছে। কর্মরতদের ... বিশদ


ইতিহাসে আজকের দিন

১৬৯০: ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির হয়ে কলকাতায় পা রাখলেন জোব চার্নক
১৯০৮: বিপ্লবী শিবরাম রাজগুরুর জন্ম
১৯৯১: সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়নের কমিউনিস্ট পার্টির প্রধানের পদ থেকে ইস্তফা দিলেন মিখাইল গর্বাচভ

ক্রয়মূল্য বিক্রয়মূল্য
ডলার ৭০.৭৯ টাকা ৭২.৪৯ টাকা
পাউন্ড ৮৫.৩৪ টাকা ৮৮.৫১ টাকা
ইউরো ৭৭.৯৮ টাকা ৮০.৯৪ টাকা
[ স্টেট ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়া থেকে পাওয়া দর ]
23rd  August, 2019
পাকা সোনা (১০ গ্রাম) ৩৮,২৮৫ টাকা
গহনা সোনা (১০ (গ্রাম) ৩৬,৩২৫ টাকা
হলমার্ক গহনা (২২ ক্যারেট ১০ গ্রাম) ৩৬,৮৭০ টাকা
রূপার বাট (প্রতি কেজি) ৪৪,০৫০ টাকা
রূপা খুচরো (প্রতি কেজি) ৪৪,১৫০ টাকা
[ মূল্যযুক্ত ৩% জি. এস. টি আলাদা ]
23rd  August, 2019

দিন পঞ্জিকা

আজ জন্মাষ্টমী উৎসব
৭ ভাদ্র ১৪২৬, ২৪ আগস্ট ২০১৯, শনিবার, অষ্টমী ৮/১ দিবা ৮/৩২। রোহিণী ৫৭/১৯ রাত্রি ৪/১৬। সূ উ ৫/২০/১, অ ৫/৫৮/২১, অমৃতযোগ দিবা ৯/৩২ গতে ১২/৫৪ মধ্যে। রাত্রি ৮/১৩ গতে ১০/৩০ মধ্যে পুনঃ ১২/১ গতে ১/৩২ মধ্যে পুনঃ ২/১৮ গতে ৩/৪৮ মধ্যে, বারবেলা ৬/৫৪ মধ্যে পুনঃ ১/১৪ গতে ২/৪৯ মধ্যে পুনঃ ৪/২৪ গতে অস্তাবধি, কালরাত্রি ৭/২৪ মধ্যে পুনঃ ৩/৫৫ গতে উদয়াবধি।
আজ জন্মাষ্টমী উৎসব
৬ ভাদ্র ১৪২৬, ২৪ আগস্ট ২০১৯, শনিবার, নবমী ৫৪/২১/৫৯ রাত্রি ৩/৩/৫১। রোহিণীনক্ষত্র ৪৮/১৪/৪৬ রাত্রি ১২/৩৬/৫৭, সূ উ ৫/১৯/৩, অ ৬/১/২৭, অমৃতযোগ দিবা ৯/৩১ গতে ১২/৪৮ মধ্যে এবং রাত্রি ৮/১৪ গতে ১০/৩০ মধ্যে ও ১১/৫৭ গতে ১/৩১ মধ্যে ও ২/১৭ গতে ৩/৫১ মধ্যে, বারবেলা ১/১৫/৩৩ গতে ২/৫০/৫১ মধ্যে, কালবেলা ৬/৫৪/২১ মধ্যে ও ৪/২৬/৯ গতে ৬/১/২৭ মধ্যে, কালরাত্রি ৭/২৬/৯ মধ্যে ও ৩/৫৪/২১ গতে ৫/১৯/১৯ মধ্যে।
 ২২ জেলহজ্জ

ছবি সংবাদ

এই মুহূর্তে
নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহে আই লিগ
 ফেডারেশনের অনুমোদিত টুর্নামেন্ট হলেও ডুরান্ড কাপের ব্যাক ড্রপে নেই এআইএফএফের ...বিশদ

10:50:33 AM

২০ অক্টোবর শুরু আইএসএল
আগামী ২০ অক্টোবর ঢাকে কাঠি পড়ছে ইন্ডিয়ান সুপার লিগের। প্রথম ...বিশদ

10:26:58 AM

শহরে ট্রাফিকের হাল 
আজ, শনিবার সকালে শহরে ইতিমধ্যেই শুরু হয়ে গিয়েছে অফিস টাইমের ...বিশদ

10:12:43 AM

চায়না টাউনে বাবা ও স্ত্রীকে খুনের অভিযোগে ধৃত
১২ ঘণ্টা কাটার আগেই চায়না টাউনে জোড়া খুনের কিনারা করে ...বিশদ

10:05:00 AM

ডুরান্ড ফাইনাল:আমন্ত্রিত মুখ্যমন্ত্রী
ডুরান্ড কাপ ফাইনালের আগে শুক্রবার বিকেলে প্রায় এক ঘণ্টা সল্টলেক ...বিশদ

09:30:00 AM

ডিজিটাল মার্কেটিংয়ে কোর্স আনল প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়
ডিজিটাল মার্কেটিংয়ের উপর কোর্স আনল প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়। শুক্রবার এর উপর ...বিশদ

09:30:00 AM