Bartaman Patrika
বিশেষ নিবন্ধ
 

কলকাতা কি প্রবীণদের জন্য ক্রমশ বিপজ্জনক হয়ে উঠছে?
শুভা দত্ত

বুধবার ভোরের কাগজে চোখ রাখতেই এমন একটা প্রশ্ন যেন বুকের মধ্যে শেল হয়ে বিঁধল। এ কী কাণ্ড সব হচ্ছে! খুনের পর খুন! আর সেই খুনিদের টার্গেট কিনা নিরীহ সাধারণ প্রৌঢ় আর প্রবীণ! কী অপরাধ তাঁদের? অপরাধ তাঁরা বাড়িতে একলা থাকেন, তাঁদের ছেলেমেয়েরা হয়তো চাকরিসূত্রে দেশের অন্য রাজ্যে বা দূর বিদেশে। অপরাধ—তাঁদের একটা ছোট বড় জমি বাড়ি বাগান বা ফ্ল্যাট আছে, আছে সারাজীবন কষ্ট করে রোজগারের কিছু টাকা-পয়সা, ব্যাঙ্ক আমানত, গয়নাগাটি। ব্যাস, এই অপরাধেই তাঁরা অভিযুক্ত এবং টার্গেট! তাঁদের শাস্তি নির্মম নিষ্ঠুর মৃত্যুদণ্ড। কখনও গলা টিপে বা মুখে বালিশ চাপা দিয়ে শ্বাসরোধ করে, কখনও পেছন থেকে মাথায় লোহার রডের বাড়ি মেরে, কখনও কুপিয়ে পুড়িয়ে বা সরাসরি গুলি করে কার্যকর হচ্ছে সে মৃত্যুদণ্ড! সাফল্যে উজ্জ্বল দিন মাস বছরের শেষে এসে চূড়ান্ত মর্মান্তিকভাবে যবনিকাপাত ঘটছে অসহায় প্রবীণ-প্রৌঢ় জীবনগুলিতে! তার চেয়েও দুর্ভাগ্যজনক হল এই যে, অনেক ক্ষেত্রেই হতভাগ্যদের করুণ পরিণতির কথা জানতে বেশ কয়েকদিন কেটে যাচ্ছে প্রতিবেশী প্রিয়জন পুলিসের। শেষে লাশপচা গন্ধে, নয়তো ঘটনাচক্রে জানা যাচ্ছে তাঁদের ভয়াবহ পরিণতির কথা—উদ্ধার হচ্ছে দণ্ডপ্রাপ্তদের বীভৎস পচাগলা দেহ!
কে দিচ্ছে এমন সব পৈশাচিক দণ্ড! কে আবার? সংশ্লিষ্টের জমিবাড়ি সম্পত্তি হাতাতে হতভাগ্যেরই চেনাশোনা কেউ—সে আত্মীয়পরিজন হতে পারে বা পরিবারের ঘনিষ্ঠ বাইরের লোক, বা তাদের কারও প্ররোচনায় কোনও জমি-হাঙর প্রমোটার বা বাড়িতে কাজ করে যাওয়া রাজমিস্ত্রি কি নিত্যদিনের ঠিকে কাজের মেয়ে-পুরুষ সাফাইওয়ালা, দারোয়ান কি ইস্ত্রিওয়ালা—যে কেউ! যে সুযোগ পাচ্ছে সে-ই দণ্ড দিতে ঝাঁপিয়ে পড়ছে! অথচ, মজার ব্যাপারটা এই যে, এদের কাউকেই ওইসব নিহত প্রবীণেরা কোনওদিন সন্দেহভাজনের তালিকায় রাখেননি, বরং গভীর আস্থায় হয়তো তাদের কাউকে কাউকে একান্ত আপনজন ভেবে বলে ফেলেছেন পারিবারিক গোপন কথা, জমিজমা, সম্পত্তির মান-পরিমাণের খবর। ব্যাস! আর যায় কোথায়! অপরাধী মন ছক কষতে শুরু করে দিয়েছে আর সেইসঙ্গেই শুরু হয়ে গিয়েছে সংশ্লিষ্ট প্রবীণ দম্পতি কি একাকী প্রৌঢ় কি অশক্ত কোনও বৃদ্ধ-বৃদ্ধার অন্তিম দিনগোনা, তাঁদের জন্য এক নারকীয় পরিণতির গোপন আয়োজন উদযোগ! পরিকল্পনা এমন সুচতুর এবং সাজানো-গোছানো যে, অতি পরিচিত হলেও আততায়ীর অভিসন্ধিও ঘুণাক্ষরে টের পাচ্ছেন না টার্গেট প্রবীণ প্রৌঢ়রা! যখন তা পাচ্ছেন তখন মরণদূত তার যাবতীয় বীভৎসা এবং কষ্টযন্ত্রণা নিয়ে চৌকাঠে এসে দাঁড়িয়েছে! তার কাছে অসহায় আত্মসমর্পণ ছাড়া তখন ওই প্রবীণ প্রৌঢ়দের আর কিছুই করার থাকছে না।
বুধবারের খবরের কাগজে এমন পৈশাচিকতার একাধিক ঘটনা পড়তে পড়তে তাই ওই প্রশ্নটাই মন উঠে এল, বিঁধল বুকে—তাহলে কি কলকাতা প্রবীণদের জন্য ক্রমশ ক্রমশ আরও বিপজ্জনক হয়ে উঠছে?! নাহলে একদিনে একজোড়া দম্পতির খুনের ঘটনা উঠে আসে কাগজের পাতায়! নাহলে বেহালার শিশিরবাগানের বৃদ্ধা শুভ্রা ঘোষদস্তিদার, কড়েয়ার বিশ্বজিৎ বসু, লেক থানা এলাকার শ্যামলী ঘোষের মতো প্রৌঢ় প্রবীণেরা পরের পর এভাবে এমন নৃশংসভাবে খুন হয়ে যান! গত বুধবার যে দুই দম্পতির মর্মান্তিক পরিণতির কথা খবরের কাগজে ছাপা হয়েছে তাঁদের এক পক্ষ থাকতেন দক্ষিণ কলকাতার নেতাজিনগরে নিজের বাড়িতে এবং অন্য দু’জন ছিলেন নরেন্দ্রপুর পঞ্চায়েত এলাকায় একটি বাগানবাড়িতে! নেতাজিনগরে খুনের পরদিন সকালে কলের মিস্ত্রি এসে নিহত দুই প্রবীণ দিলীপ ও স্বপ্না মুখোপাধ্যায়ের নিথর দেহ আবিষ্কার করে। পরে পুলিস এসে দেহ নিয়ে যায়। আর নরেন্দ্রপুরে প্রৌঢ় প্রদীপ ও আলপনা বিশ্বাসের পচাগলা দেহ উদ্ধার হয় খুনের বেশ কিছুদিন পরে! পুলিস এই দুই খুনের ঘটনাতেই কয়েকজনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ চালাচ্ছে, হয়তো আগামী দিনে খুনিও ধরা পড়বে। নাও পড়তে পারে। যেমন বেহালা শিশিরবাগানের খুনি এখনও অধরা, কড়েয়ার বিশ্বজিৎ খুনেরও কিনারা হয়নি। তবে, ফ্ল্যাট হাতাতে লেক থানায় খুন শ্যামলীদেবীর আততায়ী কিন্তু ধরা পড়েছে, খুনের কিনারাও হয়েছে।
কিন্তু, সেটুকুতে কি আজ শহর মহানগর থেকে গ্রাম পঞ্চায়েত কোথাও একা বসবাসকারী প্রবীণ-প্রবীণা, প্রৌঢ়-প্রৌঢ়ারা আর আশ্বস্ত হতে পারছেন? জমি, বাড়ি, ফ্ল্যাট, সম্পত্তি, টাকাকড়ির জন্য লোভ যেভাবে বাড়ছে আর সেই লোভে নরকের কীটেরা যেভাবে সাধারণ গৃহস্থের বাড়িতে হানা দিয়ে অনর্থ ঘটাচ্ছে, নির্মমভাবে খুন করে দিচ্ছে, আত্মহত্যায় প্ররোচনা দিচ্ছে, যেভাবে পশুর মাংসকাটা কসাইদের লাগানো বাড়ছে এইসব খুনে, কেটে খণ্ডখণ্ড করে ব্যাগে পুরে যেভাবে দেহ লোপাটের চল শুরু হয়েছে, তাতে বৃদ্ধবৃদ্ধা কেন, কোনও মানুষই কি নিশ্চিন্তবোধ করতে পারেন!? পারেন না। এবং পারেন যে না সেটা স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উদ্বেগই প্রমাণ করেছে গত বুধবার। সেদিন নবান্নে তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, এভাবে খুন করে জমি, বাড়ি, সম্পত্তি হাতানো যাবে না। যারা তা করতে যাবে পুলিস-প্রশাসন তাদের জন্য দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করবে।
শুধু তাই নয়, রাজ্যের প্রবীণদের আশ্বস্ত করে তিনি বলেছেন তাঁর সরকার প্রবীণদের নিরাপত্তায় গাফিলতিও কোনওভাবেই বরদাস্ত করবে না। বৃদ্ধবৃদ্ধার নিঃসঙ্গতা অসহায়তার সুযোগ নিয়ে কোনও প্রমোটার বা দুর্বুদ্ধি যদি চাপ দিয়ে জমিবাড়ি কব্জা করতে চায় তাহলেও কঠিন কঠোর পদক্ষেপ করবে পুলিস ও সংশ্লিষ্ট প্রশাসন। মুখ্যমন্ত্রীর এই আশ্বাসে কিছুটা হলেও হয়তো কলকাতা সহ রাজ্যের বয়স্কমহলে নিরাপত্তা নিয়ে বিশ্বাস ফিরবে।
অবশ্য, প্রবীণদের নিরাপত্তা নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী এর আগেও সচেষ্ট হয়েছেন এবং তার ফলশ্রুতিতেই ‘প্রণাম’ বলে একটি প্রবীণ সেবা প্রকল্প অনেকদিন হল সক্রিয়। তাতে ১৪ হাজারের মতো প্রবীণ-প্রবীণা নথিভুক্ত। কিন্তু, কলকাতাতেই আজ নাকি বৃদ্ধ-বৃদ্ধার সংখ্যা তিন লাখ ছাড়িয়ে আর রাজ্যে সংখ্যাটা পৌনে এক কোটির কাছাকাছি। সুতরাং বোঝাই যাচ্ছে সামগ্রিকভাবে যদি প্রবীণ মানুষজনের নিরাপত্তার ব্যবস্থা করতে হয় তবে আরও বড় পরিকাঠামো এবং আধুনিক প্রযুক্তি লাগবে। এবার মহানগর-শহর-শহরতলির প্রবীণদের নাম, ঠিকানা ইত্যাদি যাবতীয় তথ্য নিয়ে একটি ভাণ্ডার অর্থাৎ ডেটা-বেস গড়ে তোলার উদ্যোগ সেই লক্ষ্যেই মমতা সরকারের আরও একটি সময়োচিত পদক্ষেপ সন্দেহ নেই। তথ্যভিজ্ঞজনেদের মতে, প্রবীণদের জন্য ওই তথ্যভাণ্ডার তৈরি হলে পুলিস-প্রশাসনের পক্ষে নজরদারি যেমন সহজ হবে, তেমনি কোনও সমস্যা হলেও সংশ্লিষ্ট প্রবীণ-প্রবীণার নিকট আত্মীয়ের সঙ্গে যোগাযোগেও বিশেষ সুবিধা হবে।
কিন্তু, কথা হল—কেবল নিরাপত্তা আঁটোসাঁটে করেই কি রাজ্যের প্রবীণদের এই ঘৃণ্য পিশাচদের আক্রমণ থেকে রক্ষা করা যাবে? সমাজবিজ্ঞানীরা কী বলবেন জানি না, তবে আমাদের মনে হয়—যতক্ষণ না মানুষজন, বিশেষত বয়স্ক নাগরিক তাঁদের নিরাপত্তার ব্যাপারে আরও সচেতন হবেন, আপন আপন বিষয়সম্পত্তির খোঁজখবর কারও কাছে প্রকাশের আগে সতর্ক হবেন, ঘরে ঘরে সিসিটিভি’র ব্যবহার বাড়বে ততক্ষণ বিপদের ভয়টা থেকেই যাবে। কারণ, সরকার যত ব্যবস্থাই নিন, জনে জনে নিরাপত্তা দেওয়া তো সম্ভব নয়। সরকারি নিরাপত্তা ব্যবস্থার সুযোগ নিতেও প্রবীণ নাগরিকদের কিছু ভূমিকা থেকে যায়, যেমন বাড়িতে পরিচারিকা থাকলে তার সম্বন্ধে থানায় তথ্য ছবি দিয়ে রাখা ইত্যাদি।
আসলে, যেদিন থেকে আমরা গোটা বিশ্বের সঙ্গে মিলেমিশে গেছি, হাতের মুঠোয় পেয়ে গেছি পৃথিবীর এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্ত ভোগের চমকদার উপকরণ ও উপায়, যেদিন থেকে সরাসরি আমাদের চোখে মনে মায়াজাল ছড়াতে শুরু করেছে সেদিন থেকে আমাদের লোভ মাত্রাছাড়া হয়ে উঠেছে। সেই লোভ মেটাতে টাকা জোগাড়ে কেউ উদয়াস্ত খাটছে, আর কেউ এভাবে মেরেধরে পরের কষ্টার্জিত হাতিয়ে নিতে লেগেছে। প্রমোটারির মতো কাঁচা টাকার বাণিজ্য গেড়ে বসার পর পরের জমি, বাড়ি, ধনসম্পদ হাতিয়ে নেওয়ার চক্র দিন দিন আরও সক্রিয় হয়েছে। খুন করে লাশ গুম করে কি আত্মহত্যায় বাধ্য করে সাধারণ নিরীহের সবকিছু কেড়েকুড়ে নেওয়ার ভয়াবহ কাণ্ডকারখানার রমরমা দেখা দিয়েছে। আজ সেজন্য একদিকে স্নেহ, মায়া, দয়ার যেমন আকাল পড়েছে, তেমনি বিশ্বাস করাটা হয়ে উঠেছে রীতিমতো বিপজ্জনক। একটু মন খুলে কথা বলা বা বিপদে-আপদে সহযোগিতা চাওয়া অনেক ক্ষেত্রেই হয়ে উঠছে মারাত্মক প্রাণঘাতী।
বিগত বেশ কিছু বছর ধরে, বলা ভালো নতুন শতাব্দীর শুরু থেকেই পরিস্থিতি এমন নেতিবাচক বিপন্নতার দিকে মোড় নিয়েছে। দিনের পর দিন সেই বিপন্নতা বেড়েই চলেছে। নানান সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নিয়েও সামলানো যাচ্ছে না। ফেরানো যাচ্ছে না আস্থা, বিশ্বাস, ভালোবাসার সেই পুরনো জগৎ। আর সেজন্যই বাড়ছে প্রতারণা, হিংসা, বাড়ছে গুমখুন গণপ্রহারে খুনের ঘটনা এবং অবশ্যই ঘরে-বাইরে বয়স্ক নাগরিকের নির্যাতন নিগ্রহ নির্মম হত্যা। এই নির্বিবেক ভয়াবহতার হাত থেকে কবে মুক্তি মিলবে সেই চিন্তাতেই এখন আকুল বাংলা, বাংলার বয়স্ক নাগরিক সমাজ। উপায় কী!
04th  August, 2019
ন্যাশনাল মেডিক্যাল কমিশন বিল: কিছু আশঙ্কা 
বিষাণ বসু

চারদিকে বড় হইচই। বিষয় ন্যাশনাল মেডিক্যাল কমিশন বিল। স্বাধীনতার পর থেকেই দেশের মেডিক্যাল শিক্ষার ব্যাপারটা দেখছিলেন এমসিআই, অর্থাৎ মেডিক্যাল কাউন্সিল অফ ইন্ডিয়া। এমসিআই নিয়ে অভিযোগ ছিল বিস্তর—বিশেষত, তাঁদের কিছু কর্তাব্যক্তিকে নিয়ে। 
বিশদ

জম্মু-কাশ্মীর: উন্নয়ন ও অন্তর্ভুক্তির নতুন প্রভাত
রবিশঙ্কর প্রসাদ
 

জম্মু-কাশ্মীরের সাধারণ মানুষের কল্যাণে সংবিধানের ৩৭০ ধারা বাতিল করা হয়েছে। এর ফলে, ৭০ বছরের পুরনো একটা সমস্যার নতুন সরকারের ক্ষমতা গ্রহণের ৭০ দিনেরও কম সময়ে সমাধান হল। এই কারণে আমাদের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সাহস ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের ইচ্ছাশক্তিকে প্রশংসা করা উচিত।
 
বিশদ

নিস্তেজ অর্থনীতির সত্যটা সরকার ভুলে যাচ্ছে 
পি চিদম্বরম

রাষ্ট্রপতি ভবন হল সরকারের ক্ষমতার আসনের প্রতীক। এক কিলো মিটার ব্যাসার্ধের মধ্যে সংসদ ভবন, প্রধানমন্ত্রীর অফিস (পিএমও), নর্থ ব্লক ও সাউথ ব্লক—মানে স্বরাষ্ট্র, অর্থ, প্রতিরক্ষা ও বিদেশ-এর মতো উচ্চ মন্ত্রকগুলি রয়েছে।   বিশদ

19th  August, 2019
সভাপতি পদে সোনিয়াজির প্রত্যাবর্তনে কংগ্রেস কি ছন্দ ফিরে পাবে
শুভা দত্ত

ছন্দ তো হারিয়েছে বহুদিন। ছন্দে ফেরার চেষ্টা—সেও শুরু হয়েছে বহুদিন। কিন্তু কিছুতেই যেন সেই পুরনো দমদার ছন্দে ফিরতে পারছে না জাতীয় কংগ্রেস! নেহরু-ইন্দিরার আমল থেকে গান্ধী পরিবারের ছত্রচ্ছায়ায় এবং নেতৃত্বে দলের যে অপ্রতিরোধ্য ছন্দ গোটা দেশকে কংগ্রেসি তেরঙ্গায় বেঁধে রেখেছিল, যে ছন্দ কংগ্রেস প্রতীক ইন্দিরার পাঞ্জার উপর বছরের পর বছর দেশের মানুষের আস্থা বিশ্বাস ও আবেগ ধরে রেখেছিল, জরুরি অবস্থা, নাসবন্দির মতো কাণ্ডের পরও যে ছন্দ ক্ষমতার কেন্দ্রে ফিরিয়ে এনেছিল কংগ্রেসকে, ইন্দিরা এবং ইন্ডিয়া হয়ে উঠেছিলেন সমার্থক—জাতীয় কংগ্রেসের সেই অমিত শক্তি রাজনৈতিক ছন্দ অনেক কাল আগেই ইতিহাসের পাতায় ঠাঁই নিয়েছে।
বিশদ

18th  August, 2019
ওয়াল স্ট্রিটের ‘নেকড়ে’-র গল্প!
মৃণালকান্তি দাস

ওয়াশিংটনের অপরিচিত কোনও এক পথে হাঁটতে হাঁটতে গল্পটা শুনিয়েছিলেন এমিলি ব্রাউন। গল্প বলতে, এক অপরাধীর ঘুরে দাঁড়ানোর কাহিনী। জর্ডন বেলফোর্টের গল্প। যিনি জীবনে অপরাধের নেশায় পড়ে সবকিছু হারিয়েছিলেন। কে এই জর্ডন বেলফোর্ট, জানেন? যাঁর জীবন কাহিনী শুনলে মনে হবে, এ এই মার্কিন মুলুকেই সম্ভব! বিশদ

17th  August, 2019
স্বাধীনতা ৭৩ এবং ভূস্বর্গের মুক্তি
মেরুনীল দাশগুপ্ত

গরিবি যতদিন না যাবে ততদিন এই উপত্যকায় শান্তি আসবে না। কারণ, কাশ্মীরি মানুষের গরিবিই ওদের একটা বড় হাতিয়ার। গরিব মানুষজনের অনেকেই ক’টা টাকার লোভে পড়ে সীমান্তর ওপার থেকে আসা লোকজনকে আশ্রয় দিয়ে, লুকিয়ে রেখে, খাবারদাবারের ব্যবস্থা করে ভ্যালির বিপদ বাড়িয়ে তুলছে।
বিশদ

15th  August, 2019
বনে থাকে বাঘ 
অতনু বিশ্বাস

ছেলেবেলায় ‘সহজ পাঠ’-এ পড়েছিলাম ‘বনে থাকে বাঘ’। যদিও এই পাঠটা যে খুব সহজ আর স্বাভাবিক নাও হতে পারে, অর্থাৎ বনে বাঘ নাও থাকতে পারে, সেটা বুঝতে বেশ বড় হতে হল। ছোটবেলায় অবশ্য মনে বদ্ধমূল ধারণা ছিল, বন-জঙ্গল গিজগিজ করে বাঘে। 
বিশদ

13th  August, 2019
রক্ষক আইন যেন ভক্ষক না হয়
শান্তনু দত্তগুপ্ত 

ভিক্টরি ম্যানসনে ঢুকলেন উইনস্টন স্মিথ। বহুতলে ঢুকেই নজরে আসবে দো’তলা সমান আখাম্বা ছবিটা। শুধু একটা মুখ। নীচে ক্যাপশন করা, বিগ ব্রাদার কিন্তু তোমাকে দেখছে। জর্জ অরওয়েলের কালজয়ী উপন্যাস ১৯৮৪-এর শুরুতেই উল্লেখ এই ছবির। আর এই নভেলের সারমর্মও লুকিয়ে এই ছবিতে—বিগ ব্রাদার দেখছে, তাই সাবধান। সাবধান হও সবাই... সরকারি কর্মচারী, ব্যবসায়ী, সাফাইকর্মী, বেসরকারি চাকুরে... মোদ্দা কথা নারী-পুরুষ নির্বিশেষে। সবসময় নজরদারি।  
বিশদ

13th  August, 2019
পুতিন কি পারবেন নতুন বিশ্বের নেতৃত্ব দিতে?
গৌরীশঙ্কর নাগ

 ১৯১৭ খ্রিস্টব্দে বা তার কিছু আগে থেকে লেনিন, ট্রটস্কি প্রমুখ নিবেদিত প্রাণ কমরেডের হাত ধরে সোভিয়েত সমাজতন্ত্র নামক যে মহীরুহটি ধীরে ধীরে গড়ে উঠেছিল তা গর্বাচেভ ক্ষমতাসীন হওয়ার পর কীভাবে তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়েছে—বিস্ময়ের সঙ্গে আমরা সেটা দেখেছি।
বিশদ

12th  August, 2019
স্টেট নয়, শুধুই রিয়াল এস্টেট
পি চিদম্বরম

 জম্মু ও কাশ্মীর নিয়ে প্রায়ই লিখি কিন্তু আজকেরটা অন্যরকম। জম্মু ও কাশ্মীর আর আগের জম্মু ও কাশ্মীর নেই। এটা আর রাজ্য নয়। এটাকে বিভক্ত করা হয়েছে। এখন দুটি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল—লাদাখ এবং জম্মু ও কাশ্মীর। ভারতের সংবিধানে কোনও রাজ্যকে কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের স্তরে নামিয়ে আনার ঘটনা এর আগে ঘটেনি।
বিশদ

12th  August, 2019
রাহুল সরে দাঁড়াতেই কংগ্রেস এমন নেতৃত্বহীনতায় ভুগছে কেন?
শুভা দত্ত

 প্রশ্নটা আজ দেশের সর্বস্তরে। পথে-ঘাটে অফিসে আড্ডায় যেখানেই চলতি রাজনীতি নিয়ে তর্ক-বিতর্কের উদয় হচ্ছে সেখানেই প্রশ্নটা যেন অনিবার্যভাবে এসে পড়ছে! কংগ্রেসের হলটা কী! রাহুল গান্ধী না বলে দিতেই আর সভাপতি খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না কংগ্রেসে! গান্ধী ফ্যামিলি ছাড়া কংগ্রেস সভাপতি খুঁজে পাচ্ছে না— এ তো বড় অদ্ভুত ব্যাপার! কংগ্রেসের জন্মের পর থেকে গান্ধী ফ্যামিলির বাইরের দেশ রাজনীতির কত দিকপালই তো জাতীয় কংগ্রেসের সভাপতির আসন অলঙ্কৃত করেছেন—উমেশচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়, দাদাভাই নৌরজি, সুরেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়, সুভাষচন্দ্র, অ্যানি বেসান্ত, চিত্তরঞ্জন, সরোজিনী নাইডু, বল্লভভাই প্যাটেল, কামরাজ, জগজীবন রাম—কত নাম বলব। নিশ্চয়ই এই তালিকায় নেহরু থেকে ইন্দিরা, রাজীব, সোনিয়া হয়ে রাহুল—গান্ধী পরিবারের সদস্যরাও ছিলেন।
বিশদ

11th  August, 2019
শুধু উন্নয়ন নয়, ভোটের জন্য চাই ভালো মাস্টার
তন্ময় মল্লিক

মোটা বেতন দিয়ে মাস্টার রাখলেই ছেলেমেয়ে মানুষ হয় না। তেমনটা হলে সব বড়লোকের ছেলেমেয়েই উচ্চশিক্ষিত হতো। কিন্তু, তা তো হয় না। ছাত্রছাত্রীর পড়াশোনায় আগ্রহ, মেধা যেমন থাকা দরকার, তেমনই নজরদারিটাও জরুরি। ফাঁকিবাজি থাকলেই ছাত্র হয় গাড্ডু খাবে, অথবা ‘বিবেচনায়’ পাশ।
বিশদ

10th  August, 2019
একনজরে
সুকান্ত বসু, কলকাতা: মেয়েকে যৌন হয়রানি ও মারধরের অভিযোগ আদালতে অস্বীকার করলেন স্বয়ং মা। দীর্ঘ ১৭ বছর পর সাক্ষ্য দিতে এসে তিনি বলেন, তাঁর মেয়ের উপর এই ধরনের কোনও ঘটনাই ঘটেনি। তাই তাঁকে সাক্ষ্য দেওয়া থেকে অব্যাহতি দেওয়া হোক। ...

সংবাদদাতা, ঘাটাল: চন্দ্রকোণা থানার চাষিবাড়ে কেঠিয়া নদীর জলে তলিয়ে যাওয়া জাহাঙ্গির শা-র(১৩) দেহ সোমবার উদ্ধার হল। এদিন সকালে ঘটনাস্থল থেকেই ন্যাশনাল ডিজাস্টার রেসপন্স ফোর্সের জওয়ানরা জাহাঙ্গিরের দেহটি উদ্ধা করেন।  ...

সৌদি আরব পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যাওয়ার আরও একধাপ এগিয়ে গেল। মহিলাদের কর্মক্ষেত্রে কাজের সুযোগ বাড়ানোর অংশ হিসেবে দেশের বাণিজ্যিক বিমানের প্রথম মহিলা পাইলট হিসেবে স্বীকৃতি ...

সংবাদদাতা, মালবাজার: দু’সপ্তাহ ধরে মালবাজার শহরের স্টেশন রোডের বিনয়-বাদল-দীনেশ মার্কেট কমপ্লেক্সে থাকা একটি রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কের এটিএম এবং ই-কর্নারটি বন্ধ থাকায় গ্রাহকরা বিপাকে পড়ছেন।  ...




আজকের দিনটি কিংবদন্তি গৌতম
৯১৬৩৪৯২৬২৫ / ৯৮৩০৭৬৩৮৭৩

ভাগ্য+চেষ্টা= ফল
  • aries
  • taurus
  • gemini
  • cancer
  • leo
  • virgo
  • libra
  • scorpio
  • sagittorius
  • capricorn
  • aquarius
  • pisces
aries

অত্যধিক পরিশ্রমে শারীরিক দুর্বলতা, বাহন ক্রয়ের বিষয়ে সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। সন্তানের বিদ্যা শিক্ষায় সংশয় ... বিশদ


ইতিহাসে আজকের দিন

বিশ্ব মশা দিবস
১৮২৮: ব্রাহ্মসমাজ প্রতিষ্ঠা করলেন রাজা রামমোহন রায়
১৮৬৪: লেখক রামেন্দ্রসুন্দর ত্রিবেদির জন্ম
১৮৯৬: ফুটবলার গোষ্ঠ পালের জন্ম
১৯০৬: প্রথম ভারতীয় র‌্যাংলার আনন্দমোহন বসুর মৃত্যু
১৯৪৪: ভারতের সপ্তম প্রধানমন্ত্রী রাজীব গান্ধীর জন্ম
১৯৮৬: গীতিকার গৌরীপ্রসন্ন মজুমদারের মৃত্যু  

ক্রয়মূল্য বিক্রয়মূল্য
ডলার ৭০.২৯ টাকা ৭১.৯৯ টাকা
পাউন্ড ৮৪.৯১ টাকা ৮৮.০৪ টাকা
ইউরো ৭৭.৪২ টাকা ৮০.৩৮ টাকা
[ স্টেট ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়া থেকে পাওয়া দর ]
পাকা সোনা (১০ গ্রাম) ৩৮,১৩৫ টাকা
গহনা সোনা (১০ (গ্রাম) ৩৬,১৮০ টাকা
হলমার্ক গহনা (২২ ক্যারেট ১০ গ্রাম) ৩৬,৭২৫ টাকা
রূপার বাট (প্রতি কেজি) ৪৩,৬০০ টাকা
রূপা খুচরো (প্রতি কেজি) ৪৩,৭০০ টাকা
[ মূল্যযুক্ত ৩% জি. এস. টি আলাদা ]

দিন পঞ্জিকা

৩ ভাদ্র ১৪২৬, ২০ আগস্ট ২০১৯, মঙ্গলবার, পঞ্চমী অহোরাত্র। রেবতী ৪২/৫৫ রাত্রি ১০/২৮। সূ উ ৫/১৮/৪২, অ ৬/১/৪১, অমৃতযোগ দিবা ৭/৫১ গতে ১০/২৪ মধ্যে পুনঃ ১২/৫৭ গতে ২/৩৯ মধ্যে পুনঃ ৩/৩০ গতে ৫/১১ মধ্যে। রাত্রি ৪/৪৮ মধ্যে পুনঃ ৯/২ গতে ১১/১৭ মধ্যে পুনঃ ১/৩৩ গতে ৩/৩ মধ্যে, বারবেলা ৬/৫৪ গতে ৮/২৯ মধ্যে পুনঃ ১/১৫ গতে ২/৫১ মধ্যে, কালরাত্রি ৭/২৬ গতে ৮/৫১ মধ্যে। 
২ ভাদ্র ১৪২৬, ২০ আগস্ট ২০১৯, মঙ্গলবার, পঞ্চমী ৫১/১৯/৪৩ রাত্রি ১/৪৯/৪১। রেবতীনক্ষত্র ৩৭/৪৩/২৭ রাত্রি ৮/২৩/১১, সূ উ ৫/১৭/৪৮, অ ৬/৪/২৮, অমৃতযোগ দিবা ৭/৫২ গতে ১০/২১ মধ্যে ও ১২/৫০ গতে ২/২৯ মধ্যে ও ৩/১৯ গতে ৪/৫৮ মধ্যে এবং রাত্রি ৬/৩৪ মধ্যে ও ৮/৫৩ গতে ১১/১২ মধ্যে ও ১/৩১ গতে ৩/৪ মধ্যে, বারবেলা ৬/৫৩/৩৮ গতে ৮/২৯/৫৮ মধ্যে, কালবেলা ১/১৬/৫৮ গতে ২/৫২/৪৮ মধ্যে, কালরাত্রি ৭/২৮/৩৮ গতে ৮/৫২/৪৮ মধ্যে। 
মোসলেম: ১৮ জেলহজ্জ 

ছবি সংবাদ

এই মুহূর্তে
শীর্ষে বিরাট, দুইয়ে স্টিভ স্মিথ
সোমবার প্রকাশিত আইসিসি’র টেস্ট ব্যাটসম্যান র‌্যাঙ্কিংয়র শীর্ষস্থানে রয়েছেন ভারতীয় অধিনায়ক ...বিশদ

09:10:00 AM

অযোধ্যায় রামমন্দির হলে সোনার ইট দেওয়ার প্রতিশ্রুতি মুঘল বংশধরের 
অযোধ্যার বিতর্কিত জমিতে রামমন্দির হওয়া উচিত। এই বক্তব্য যুবরাজ হাবিবুদ্দিন ...বিশদ

09:08:50 AM

 আজ চাঁদের কক্ষপথে প্রবেশ করতে চলেছে চন্দ্রযান-২
‘আই এম ডুইং গ্রেট’। সোমবার ট্যুইট বার্তায় ভারত তথা পৃথিবীবাসীকে ...বিশদ

09:00:00 AM

হাইড্র্যান্টের ম্যানহোলে ঢুকে নোংরা পরিষ্কারের ব্যবস্থা বদলের উদ্যোগ কেন্দ্রের 
হাইড্র্যান্টের ম্যানহোলে ঢুকে সাফাইকর্মীরা যেভাবে নোংরা পরিষ্কার করে, সেই ব্যবস্থা ...বিশদ

08:57:54 AM

ছেলে-মেয়ের বিয়ের বয়স সমান করা নিয়ে কেন্দ্রের জবাব চাইল দিল্লি হাইকোর্ট
 ছেলে-মেয়ের বিয়ের বয়স সমান করা নিয়ে মামলায় কেন্দ্রের জবাব জানতে ...বিশদ

08:50:00 AM

অনলাইন পরিষেবা চালু করার নির্দেশ দিয়ে ৫ পুর নিগমকে চিঠি
 

পরিষেবায় স্বচ্ছতা আনতে অনলাইনে সাইট প্ল্যান, বিল্ডিং প্ল্যান অনুমোদনের নির্দেশ ...বিশদ

08:35:53 AM