Bartaman Patrika
বিশেষ নিবন্ধ
 

কলকাতা কি প্রবীণদের জন্য ক্রমশ বিপজ্জনক হয়ে উঠছে?
শুভা দত্ত

বুধবার ভোরের কাগজে চোখ রাখতেই এমন একটা প্রশ্ন যেন বুকের মধ্যে শেল হয়ে বিঁধল। এ কী কাণ্ড সব হচ্ছে! খুনের পর খুন! আর সেই খুনিদের টার্গেট কিনা নিরীহ সাধারণ প্রৌঢ় আর প্রবীণ! কী অপরাধ তাঁদের? অপরাধ তাঁরা বাড়িতে একলা থাকেন, তাঁদের ছেলেমেয়েরা হয়তো চাকরিসূত্রে দেশের অন্য রাজ্যে বা দূর বিদেশে। অপরাধ—তাঁদের একটা ছোট বড় জমি বাড়ি বাগান বা ফ্ল্যাট আছে, আছে সারাজীবন কষ্ট করে রোজগারের কিছু টাকা-পয়সা, ব্যাঙ্ক আমানত, গয়নাগাটি। ব্যাস, এই অপরাধেই তাঁরা অভিযুক্ত এবং টার্গেট! তাঁদের শাস্তি নির্মম নিষ্ঠুর মৃত্যুদণ্ড। কখনও গলা টিপে বা মুখে বালিশ চাপা দিয়ে শ্বাসরোধ করে, কখনও পেছন থেকে মাথায় লোহার রডের বাড়ি মেরে, কখনও কুপিয়ে পুড়িয়ে বা সরাসরি গুলি করে কার্যকর হচ্ছে সে মৃত্যুদণ্ড! সাফল্যে উজ্জ্বল দিন মাস বছরের শেষে এসে চূড়ান্ত মর্মান্তিকভাবে যবনিকাপাত ঘটছে অসহায় প্রবীণ-প্রৌঢ় জীবনগুলিতে! তার চেয়েও দুর্ভাগ্যজনক হল এই যে, অনেক ক্ষেত্রেই হতভাগ্যদের করুণ পরিণতির কথা জানতে বেশ কয়েকদিন কেটে যাচ্ছে প্রতিবেশী প্রিয়জন পুলিসের। শেষে লাশপচা গন্ধে, নয়তো ঘটনাচক্রে জানা যাচ্ছে তাঁদের ভয়াবহ পরিণতির কথা—উদ্ধার হচ্ছে দণ্ডপ্রাপ্তদের বীভৎস পচাগলা দেহ!
কে দিচ্ছে এমন সব পৈশাচিক দণ্ড! কে আবার? সংশ্লিষ্টের জমিবাড়ি সম্পত্তি হাতাতে হতভাগ্যেরই চেনাশোনা কেউ—সে আত্মীয়পরিজন হতে পারে বা পরিবারের ঘনিষ্ঠ বাইরের লোক, বা তাদের কারও প্ররোচনায় কোনও জমি-হাঙর প্রমোটার বা বাড়িতে কাজ করে যাওয়া রাজমিস্ত্রি কি নিত্যদিনের ঠিকে কাজের মেয়ে-পুরুষ সাফাইওয়ালা, দারোয়ান কি ইস্ত্রিওয়ালা—যে কেউ! যে সুযোগ পাচ্ছে সে-ই দণ্ড দিতে ঝাঁপিয়ে পড়ছে! অথচ, মজার ব্যাপারটা এই যে, এদের কাউকেই ওইসব নিহত প্রবীণেরা কোনওদিন সন্দেহভাজনের তালিকায় রাখেননি, বরং গভীর আস্থায় হয়তো তাদের কাউকে কাউকে একান্ত আপনজন ভেবে বলে ফেলেছেন পারিবারিক গোপন কথা, জমিজমা, সম্পত্তির মান-পরিমাণের খবর। ব্যাস! আর যায় কোথায়! অপরাধী মন ছক কষতে শুরু করে দিয়েছে আর সেইসঙ্গেই শুরু হয়ে গিয়েছে সংশ্লিষ্ট প্রবীণ দম্পতি কি একাকী প্রৌঢ় কি অশক্ত কোনও বৃদ্ধ-বৃদ্ধার অন্তিম দিনগোনা, তাঁদের জন্য এক নারকীয় পরিণতির গোপন আয়োজন উদযোগ! পরিকল্পনা এমন সুচতুর এবং সাজানো-গোছানো যে, অতি পরিচিত হলেও আততায়ীর অভিসন্ধিও ঘুণাক্ষরে টের পাচ্ছেন না টার্গেট প্রবীণ প্রৌঢ়রা! যখন তা পাচ্ছেন তখন মরণদূত তার যাবতীয় বীভৎসা এবং কষ্টযন্ত্রণা নিয়ে চৌকাঠে এসে দাঁড়িয়েছে! তার কাছে অসহায় আত্মসমর্পণ ছাড়া তখন ওই প্রবীণ প্রৌঢ়দের আর কিছুই করার থাকছে না।
বুধবারের খবরের কাগজে এমন পৈশাচিকতার একাধিক ঘটনা পড়তে পড়তে তাই ওই প্রশ্নটাই মন উঠে এল, বিঁধল বুকে—তাহলে কি কলকাতা প্রবীণদের জন্য ক্রমশ ক্রমশ আরও বিপজ্জনক হয়ে উঠছে?! নাহলে একদিনে একজোড়া দম্পতির খুনের ঘটনা উঠে আসে কাগজের পাতায়! নাহলে বেহালার শিশিরবাগানের বৃদ্ধা শুভ্রা ঘোষদস্তিদার, কড়েয়ার বিশ্বজিৎ বসু, লেক থানা এলাকার শ্যামলী ঘোষের মতো প্রৌঢ় প্রবীণেরা পরের পর এভাবে এমন নৃশংসভাবে খুন হয়ে যান! গত বুধবার যে দুই দম্পতির মর্মান্তিক পরিণতির কথা খবরের কাগজে ছাপা হয়েছে তাঁদের এক পক্ষ থাকতেন দক্ষিণ কলকাতার নেতাজিনগরে নিজের বাড়িতে এবং অন্য দু’জন ছিলেন নরেন্দ্রপুর পঞ্চায়েত এলাকায় একটি বাগানবাড়িতে! নেতাজিনগরে খুনের পরদিন সকালে কলের মিস্ত্রি এসে নিহত দুই প্রবীণ দিলীপ ও স্বপ্না মুখোপাধ্যায়ের নিথর দেহ আবিষ্কার করে। পরে পুলিস এসে দেহ নিয়ে যায়। আর নরেন্দ্রপুরে প্রৌঢ় প্রদীপ ও আলপনা বিশ্বাসের পচাগলা দেহ উদ্ধার হয় খুনের বেশ কিছুদিন পরে! পুলিস এই দুই খুনের ঘটনাতেই কয়েকজনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ চালাচ্ছে, হয়তো আগামী দিনে খুনিও ধরা পড়বে। নাও পড়তে পারে। যেমন বেহালা শিশিরবাগানের খুনি এখনও অধরা, কড়েয়ার বিশ্বজিৎ খুনেরও কিনারা হয়নি। তবে, ফ্ল্যাট হাতাতে লেক থানায় খুন শ্যামলীদেবীর আততায়ী কিন্তু ধরা পড়েছে, খুনের কিনারাও হয়েছে।
কিন্তু, সেটুকুতে কি আজ শহর মহানগর থেকে গ্রাম পঞ্চায়েত কোথাও একা বসবাসকারী প্রবীণ-প্রবীণা, প্রৌঢ়-প্রৌঢ়ারা আর আশ্বস্ত হতে পারছেন? জমি, বাড়ি, ফ্ল্যাট, সম্পত্তি, টাকাকড়ির জন্য লোভ যেভাবে বাড়ছে আর সেই লোভে নরকের কীটেরা যেভাবে সাধারণ গৃহস্থের বাড়িতে হানা দিয়ে অনর্থ ঘটাচ্ছে, নির্মমভাবে খুন করে দিচ্ছে, আত্মহত্যায় প্ররোচনা দিচ্ছে, যেভাবে পশুর মাংসকাটা কসাইদের লাগানো বাড়ছে এইসব খুনে, কেটে খণ্ডখণ্ড করে ব্যাগে পুরে যেভাবে দেহ লোপাটের চল শুরু হয়েছে, তাতে বৃদ্ধবৃদ্ধা কেন, কোনও মানুষই কি নিশ্চিন্তবোধ করতে পারেন!? পারেন না। এবং পারেন যে না সেটা স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উদ্বেগই প্রমাণ করেছে গত বুধবার। সেদিন নবান্নে তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, এভাবে খুন করে জমি, বাড়ি, সম্পত্তি হাতানো যাবে না। যারা তা করতে যাবে পুলিস-প্রশাসন তাদের জন্য দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করবে।
শুধু তাই নয়, রাজ্যের প্রবীণদের আশ্বস্ত করে তিনি বলেছেন তাঁর সরকার প্রবীণদের নিরাপত্তায় গাফিলতিও কোনওভাবেই বরদাস্ত করবে না। বৃদ্ধবৃদ্ধার নিঃসঙ্গতা অসহায়তার সুযোগ নিয়ে কোনও প্রমোটার বা দুর্বুদ্ধি যদি চাপ দিয়ে জমিবাড়ি কব্জা করতে চায় তাহলেও কঠিন কঠোর পদক্ষেপ করবে পুলিস ও সংশ্লিষ্ট প্রশাসন। মুখ্যমন্ত্রীর এই আশ্বাসে কিছুটা হলেও হয়তো কলকাতা সহ রাজ্যের বয়স্কমহলে নিরাপত্তা নিয়ে বিশ্বাস ফিরবে।
অবশ্য, প্রবীণদের নিরাপত্তা নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী এর আগেও সচেষ্ট হয়েছেন এবং তার ফলশ্রুতিতেই ‘প্রণাম’ বলে একটি প্রবীণ সেবা প্রকল্প অনেকদিন হল সক্রিয়। তাতে ১৪ হাজারের মতো প্রবীণ-প্রবীণা নথিভুক্ত। কিন্তু, কলকাতাতেই আজ নাকি বৃদ্ধ-বৃদ্ধার সংখ্যা তিন লাখ ছাড়িয়ে আর রাজ্যে সংখ্যাটা পৌনে এক কোটির কাছাকাছি। সুতরাং বোঝাই যাচ্ছে সামগ্রিকভাবে যদি প্রবীণ মানুষজনের নিরাপত্তার ব্যবস্থা করতে হয় তবে আরও বড় পরিকাঠামো এবং আধুনিক প্রযুক্তি লাগবে। এবার মহানগর-শহর-শহরতলির প্রবীণদের নাম, ঠিকানা ইত্যাদি যাবতীয় তথ্য নিয়ে একটি ভাণ্ডার অর্থাৎ ডেটা-বেস গড়ে তোলার উদ্যোগ সেই লক্ষ্যেই মমতা সরকারের আরও একটি সময়োচিত পদক্ষেপ সন্দেহ নেই। তথ্যভিজ্ঞজনেদের মতে, প্রবীণদের জন্য ওই তথ্যভাণ্ডার তৈরি হলে পুলিস-প্রশাসনের পক্ষে নজরদারি যেমন সহজ হবে, তেমনি কোনও সমস্যা হলেও সংশ্লিষ্ট প্রবীণ-প্রবীণার নিকট আত্মীয়ের সঙ্গে যোগাযোগেও বিশেষ সুবিধা হবে।
কিন্তু, কথা হল—কেবল নিরাপত্তা আঁটোসাঁটে করেই কি রাজ্যের প্রবীণদের এই ঘৃণ্য পিশাচদের আক্রমণ থেকে রক্ষা করা যাবে? সমাজবিজ্ঞানীরা কী বলবেন জানি না, তবে আমাদের মনে হয়—যতক্ষণ না মানুষজন, বিশেষত বয়স্ক নাগরিক তাঁদের নিরাপত্তার ব্যাপারে আরও সচেতন হবেন, আপন আপন বিষয়সম্পত্তির খোঁজখবর কারও কাছে প্রকাশের আগে সতর্ক হবেন, ঘরে ঘরে সিসিটিভি’র ব্যবহার বাড়বে ততক্ষণ বিপদের ভয়টা থেকেই যাবে। কারণ, সরকার যত ব্যবস্থাই নিন, জনে জনে নিরাপত্তা দেওয়া তো সম্ভব নয়। সরকারি নিরাপত্তা ব্যবস্থার সুযোগ নিতেও প্রবীণ নাগরিকদের কিছু ভূমিকা থেকে যায়, যেমন বাড়িতে পরিচারিকা থাকলে তার সম্বন্ধে থানায় তথ্য ছবি দিয়ে রাখা ইত্যাদি।
আসলে, যেদিন থেকে আমরা গোটা বিশ্বের সঙ্গে মিলেমিশে গেছি, হাতের মুঠোয় পেয়ে গেছি পৃথিবীর এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্ত ভোগের চমকদার উপকরণ ও উপায়, যেদিন থেকে সরাসরি আমাদের চোখে মনে মায়াজাল ছড়াতে শুরু করেছে সেদিন থেকে আমাদের লোভ মাত্রাছাড়া হয়ে উঠেছে। সেই লোভ মেটাতে টাকা জোগাড়ে কেউ উদয়াস্ত খাটছে, আর কেউ এভাবে মেরেধরে পরের কষ্টার্জিত হাতিয়ে নিতে লেগেছে। প্রমোটারির মতো কাঁচা টাকার বাণিজ্য গেড়ে বসার পর পরের জমি, বাড়ি, ধনসম্পদ হাতিয়ে নেওয়ার চক্র দিন দিন আরও সক্রিয় হয়েছে। খুন করে লাশ গুম করে কি আত্মহত্যায় বাধ্য করে সাধারণ নিরীহের সবকিছু কেড়েকুড়ে নেওয়ার ভয়াবহ কাণ্ডকারখানার রমরমা দেখা দিয়েছে। আজ সেজন্য একদিকে স্নেহ, মায়া, দয়ার যেমন আকাল পড়েছে, তেমনি বিশ্বাস করাটা হয়ে উঠেছে রীতিমতো বিপজ্জনক। একটু মন খুলে কথা বলা বা বিপদে-আপদে সহযোগিতা চাওয়া অনেক ক্ষেত্রেই হয়ে উঠছে মারাত্মক প্রাণঘাতী।
বিগত বেশ কিছু বছর ধরে, বলা ভালো নতুন শতাব্দীর শুরু থেকেই পরিস্থিতি এমন নেতিবাচক বিপন্নতার দিকে মোড় নিয়েছে। দিনের পর দিন সেই বিপন্নতা বেড়েই চলেছে। নানান সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নিয়েও সামলানো যাচ্ছে না। ফেরানো যাচ্ছে না আস্থা, বিশ্বাস, ভালোবাসার সেই পুরনো জগৎ। আর সেজন্যই বাড়ছে প্রতারণা, হিংসা, বাড়ছে গুমখুন গণপ্রহারে খুনের ঘটনা এবং অবশ্যই ঘরে-বাইরে বয়স্ক নাগরিকের নির্যাতন নিগ্রহ নির্মম হত্যা। এই নির্বিবেক ভয়াবহতার হাত থেকে কবে মুক্তি মিলবে সেই চিন্তাতেই এখন আকুল বাংলা, বাংলার বয়স্ক নাগরিক সমাজ। উপায় কী!
04th  August, 2019
বনে থাকে বাঘ 
অতনু বিশ্বাস

ছেলেবেলায় ‘সহজ পাঠ’-এ পড়েছিলাম ‘বনে থাকে বাঘ’। যদিও এই পাঠটা যে খুব সহজ আর স্বাভাবিক নাও হতে পারে, অর্থাৎ বনে বাঘ নাও থাকতে পারে, সেটা বুঝতে বেশ বড় হতে হল। ছোটবেলায় অবশ্য মনে বদ্ধমূল ধারণা ছিল, বন-জঙ্গল গিজগিজ করে বাঘে। 
বিশদ

রক্ষক আইন যেন ভক্ষক না হয়
শান্তনু দত্তগুপ্ত 

ভিক্টরি ম্যানসনে ঢুকলেন উইনস্টন স্মিথ। বহুতলে ঢুকেই নজরে আসবে দো’তলা সমান আখাম্বা ছবিটা। শুধু একটা মুখ। নীচে ক্যাপশন করা, বিগ ব্রাদার কিন্তু তোমাকে দেখছে। জর্জ অরওয়েলের কালজয়ী উপন্যাস ১৯৮৪-এর শুরুতেই উল্লেখ এই ছবির। আর এই নভেলের সারমর্মও লুকিয়ে এই ছবিতে—বিগ ব্রাদার দেখছে, তাই সাবধান। সাবধান হও সবাই... সরকারি কর্মচারী, ব্যবসায়ী, সাফাইকর্মী, বেসরকারি চাকুরে... মোদ্দা কথা নারী-পুরুষ নির্বিশেষে। সবসময় নজরদারি।  
বিশদ

পুতিন কি পারবেন নতুন বিশ্বের নেতৃত্ব দিতে?
গৌরীশঙ্কর নাগ

 ১৯১৭ খ্রিস্টব্দে বা তার কিছু আগে থেকে লেনিন, ট্রটস্কি প্রমুখ নিবেদিত প্রাণ কমরেডের হাত ধরে সোভিয়েত সমাজতন্ত্র নামক যে মহীরুহটি ধীরে ধীরে গড়ে উঠেছিল তা গর্বাচেভ ক্ষমতাসীন হওয়ার পর কীভাবে তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়েছে—বিস্ময়ের সঙ্গে আমরা সেটা দেখেছি।
বিশদ

12th  August, 2019
স্টেট নয়, শুধুই রিয়াল এস্টেট
পি চিদম্বরম

 জম্মু ও কাশ্মীর নিয়ে প্রায়ই লিখি কিন্তু আজকেরটা অন্যরকম। জম্মু ও কাশ্মীর আর আগের জম্মু ও কাশ্মীর নেই। এটা আর রাজ্য নয়। এটাকে বিভক্ত করা হয়েছে। এখন দুটি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল—লাদাখ এবং জম্মু ও কাশ্মীর। ভারতের সংবিধানে কোনও রাজ্যকে কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের স্তরে নামিয়ে আনার ঘটনা এর আগে ঘটেনি।
বিশদ

12th  August, 2019
রাহুল সরে দাঁড়াতেই কংগ্রেস এমন নেতৃত্বহীনতায় ভুগছে কেন?
শুভা দত্ত

 প্রশ্নটা আজ দেশের সর্বস্তরে। পথে-ঘাটে অফিসে আড্ডায় যেখানেই চলতি রাজনীতি নিয়ে তর্ক-বিতর্কের উদয় হচ্ছে সেখানেই প্রশ্নটা যেন অনিবার্যভাবে এসে পড়ছে! কংগ্রেসের হলটা কী! রাহুল গান্ধী না বলে দিতেই আর সভাপতি খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না কংগ্রেসে! গান্ধী ফ্যামিলি ছাড়া কংগ্রেস সভাপতি খুঁজে পাচ্ছে না— এ তো বড় অদ্ভুত ব্যাপার! কংগ্রেসের জন্মের পর থেকে গান্ধী ফ্যামিলির বাইরের দেশ রাজনীতির কত দিকপালই তো জাতীয় কংগ্রেসের সভাপতির আসন অলঙ্কৃত করেছেন—উমেশচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়, দাদাভাই নৌরজি, সুরেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়, সুভাষচন্দ্র, অ্যানি বেসান্ত, চিত্তরঞ্জন, সরোজিনী নাইডু, বল্লভভাই প্যাটেল, কামরাজ, জগজীবন রাম—কত নাম বলব। নিশ্চয়ই এই তালিকায় নেহরু থেকে ইন্দিরা, রাজীব, সোনিয়া হয়ে রাহুল—গান্ধী পরিবারের সদস্যরাও ছিলেন।
বিশদ

11th  August, 2019
শুধু উন্নয়ন নয়, ভোটের জন্য চাই ভালো মাস্টার
তন্ময় মল্লিক

মোটা বেতন দিয়ে মাস্টার রাখলেই ছেলেমেয়ে মানুষ হয় না। তেমনটা হলে সব বড়লোকের ছেলেমেয়েই উচ্চশিক্ষিত হতো। কিন্তু, তা তো হয় না। ছাত্রছাত্রীর পড়াশোনায় আগ্রহ, মেধা যেমন থাকা দরকার, তেমনই নজরদারিটাও জরুরি। ফাঁকিবাজি থাকলেই ছাত্র হয় গাড্ডু খাবে, অথবা ‘বিবেচনায়’ পাশ।
বিশদ

10th  August, 2019
পঞ্চায়েত নির্বাচন, ৩৭০ কিংবা ৩৫এ
শুভময় মৈত্র

পশ্চিমবঙ্গ ২০১৮, আর ত্রিপুরা ২০১৯। পঞ্চায়েত ভোটে ফলাফল একইরকম। ঠিক কত আসন সেটা গোনার দরকার নেই। সহজ অঙ্কে বিষয়টা এরকম। ধরা যাক, মোট আসন ১০০, শাসক দল বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়ী ৭০টি আসনে। বাকি তিরিশের মধ্যে তীব্র লড়াইয়ের শেষে শাসক দল ২০, বিরোধীরা দশ। পাটিগণিতের অঙ্ক একেবারে মিলে গেল।
বিশদ

10th  August, 2019
কাশ্মীর: নতুন চ্যালেঞ্জ
সমৃদ্ধ দত্ত

 প্রকৃত চ্যালেঞ্জ সরকারের। কাশ্মীরকে আন্তরিকভাবে ভারতের অন্তঃস্থলে মিশিয়ে দেওয়ার কাজটিই কিন্তু হবে কাশ্মীরের নয়া ইতিহাস রচনা। সেটা নিছক একটা ভূমিখণ্ড দখল নয়। কাশ্মীরিয়াৎকে আপন করে নেওয়া। একমাত্র তাহলেই পাকিস্তান সবথেকে বেশি ধাক্কা খাবে! আর কাশ্মীরিদের আমরা যদি শত্রু বিবেচনা করে চলি, তাহলে কিন্তু টেনিসের পরিভাষায় অ্যাডভান্টেজ পাকিস্তান হয়ে যাবে! সে সুযোগ দেব কেন?
বিশদ

09th  August, 2019
সংযুক্তিকরণের মিশ্র অভিজ্ঞতার পংক্তিতে কাশ্মীর
বিশ্বনাথ চক্রবর্তী

 সমস্ত প্রশ্ন আসলে আবর্তিত হচ্ছে মূলত কাশ্মীরসমস্যা সমাধানের প্রশ্নে ‘স্বাধিকার বনাম সংযুক্তিকরণ’ ভাবনাকে কেন্দ্র করে। নেহরুর অনুসৃত কাশ্মীরের স্বাধিকার মডেল বিগত ৭০ বছর ধরে কার্যকরী থাকলেও কাশ্মীরসমস্যার সমাধান কিন্তু অধরাই থেকে গিয়েছে। তৈরি হয়েছিল অচলাবস্থা। বিজেপির সংযুক্তিকরণ মডেলে কাশ্মীরের এই দীর্ঘ অচলাবস্থা ভেঙে এগিয়ে চলার কথা বলা হয়েছে। বিশ্বজুড়ে সংযুক্তিকরণ মডেলের যে অভিজ্ঞতা উঠে এসেছে, তা মিশ্র। চীনের সঙ্গে তিব্বতের সংযুক্তিকরণ সফল হয়েছে। আলাস্কার ক্ষেত্রেও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সংযুক্তিকরণ সফল ছিল। আবার চীনের সঙ্গে হংকংয়ের সংযুক্তিকরণ প্রক্রিয়া কিন্তু কঠিন বাধার সম্মুখীন হয়েছে। এখন দেখার, কাশ্মীরকে ভারতের মূল প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক ক্ষেত্রে সংযুক্তিকরণ প্রক্রিয়ার ফল কী হয়? বিশদ

08th  August, 2019
জিতে গেলেন শ্যামাপ্রসাদ
জিষ্ণু বসু 

দিনটি ছিল ১১ মে, ১৯৫৩। পারমিট ছাড়া কাশ্মীরে প্রবেশের অপরাধে পাঠানকোটের মাধোপুর সীমান্তে গ্রেপ্তার হলেন শ্যামাপ্রসাদ। সেখান থেকে শ্রীনগর ৩০০ কিমির বেশি। এতটা পথ পুলিসের জিপে আনা হল তাঁকে।  বিশদ

07th  August, 2019
তিন তালাক: এক কুপ্রথার অবসান
অমিত শাহ

কিছু দিন ইতিহাসে বিশিষ্ট হিসেবে চিহ্নিত হয়ে থাকে। ভারতের সংসদের ইতিবৃত্তে ৩০ জুলাই, ২০১৯ তেমনই একটি দিন। সংসদের উচ্চকক্ষে ঐতিহাসিক তিন তালাক বিলের জায়গা করে নেওয়াটা নিছক একটি নতুন আইনপ্রণয়ন নয়। এটি একটি ঐতিহাসিক ভুলের সংশোধনের বিষয়। এটি মুসলিম নারীদের সম্মান ও মর্যাদার পুনরুদ্ধারের বিষয়।
বিশদ

06th  August, 2019
দমনমূলক ফেডারালিজম
পি চিদম্বরম

 ১৯৯৭ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি বাজেট ভাষণে আমি ‘কোঅপারেটিভ ফেডারাল পলিটি’—এই ফ্রেজ বা বাগধারাটি ব্যবহার করেছিলাম। এই বাগধারা আমিই প্রথম ব্যবহার করেছি এমন কোনও দাবি করছি না, কিন্তু আমি আনন্দিত যে ‘কোঅপারেটিভ ফেডারালিজম’ কথাটি বাজেট ভাষণে এবং অন্য অনেক উপলক্ষে বারংবার ব্যবহার করা হয়ে থাকে।
বিশদ

05th  August, 2019
একনজরে
সংবাদদাতা, কাঁথি: খেজুরি থানার হেঁড়িয়ায় দীঘা-নন্দকুমার ১১৬বি জাতীয় সড়কে এক দুর্ঘটনায় তিনটি প্রাইভেট কার ক্ষতিগ্রস্ত হয়। শুধু তাই নয়, একটি গাড়ি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সোজা নয়ানজুলিতে গিয়ে পড়ে। এই ঘটনায় জখম হন চারজন পর্যটক। রবিবার সন্ধ্যা নাগাদ ঘটনাটি ঘটে।  ...

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: দেদারে চুরি হচ্ছে জল। নির্বিকার প্রশাসন। বিধাননগর পুরসভার অন্তর্গত সুকান্তনগর সহ ৩৫ এবং ৩৬ নং ওয়ার্ডে এই সমস্যা ভয়াবহ আকার নিয়েছে। পুরসভা সূত্রের দাবি, এই অভিযোগ আরও কয়েকটি এলাকা থেকে মাঝেমধ্যে আসছে। তবে সুকান্তনগর এলাকা থেকে সর্বাধিক ...

প্যারিস, ১২ আগস্ট: নেইমারের ভবিষ্যৎ কী? এই মুহূর্তে ইউরোপিয়ান ক্লাব ফুটবলে এই প্রশ্নের উত্তর নেই। ধোঁয়াশা এখনও অব্যাহত। সবই নির্ভর করছে ‘যদি’ এবং ‘কিন্তু’র উপর। ...

মালাপ্পুরম (কেরল), ১২ আগস্ট (পিটিআই): কয়েক দিন ধরে টানা বৃষ্টি চলছিল। শুক্রবার বিকেলে এল বিপর্যয়। কেরলের পাহাড়ি এলাকা কোট্টাক্কুন্নুতে নামল বিরাট ধস। স্বামী সেই সময় বাড়ি ছিলেন না। দেড় বছরের শিশুপুত্রকে সঙ্গে নিয়ে ঘরের মধ্যে শুয়েছিলেন গীতু। হঠাৎ ধস। কাদা-পাথর ...




আজকের দিনটি কিংবদন্তি গৌতম
৯১৬৩৪৯২৬২৫ / ৯৮৩০৭৬৩৮৭৩

ভাগ্য+চেষ্টা= ফল
  • aries
  • taurus
  • gemini
  • cancer
  • leo
  • virgo
  • libra
  • scorpio
  • sagittorius
  • capricorn
  • aquarius
  • pisces
aries

বিদ্যার্থীরা শুভ ফল লাভ করবে। মাঝে মাঝে হঠকারী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করায় ক্ষতি হতে পারে। নতুন ... বিশদ


ইতিহাসে আজকের দিন

১৮৯৯- ইংরেজ পরিচালক স্যার আলফ্রেড হিচককের জন্ম,
১৯২৬- কিউবার প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট ফিদেল কাস্ত্রোর জন্ম,
১৯৩৩- অভিনেত্রী বৈজয়ন্তীমালার জন্ম,
১৯৪৬- ইংরেজ সাহিত্যিক এইচ জি ওয়েলেসের মৃত্যু,
১৯৬৩- অভিনেত্রী শ্রীদেবীর জন্ম 

ক্রয়মূল্য বিক্রয়মূল্য
ডলার    
পাউন্ড    
ইউরো    
[ স্টেট ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়া থেকে পাওয়া দর ]
পাকা সোনা (১০ গ্রাম) ৩৮,১৩৫ টাকা
গহনা সোনা (১০ (গ্রাম) ৩৬,১৮০ টাকা
হলমার্ক গহনা (২২ ক্যারেট ১০ গ্রাম) ৩৬,৭২৫ টাকা
রূপার বাট (প্রতি কেজি) ৪৩,৭০০ টাকা
রূপা খুচরো (প্রতি কেজি) ৪৩,৮০০ টাকা
[ মূল্যযুক্ত ৩% জি. এস. টি আলাদা ]

দিন পঞ্জিকা

২৭ শ্রাবণ ১৪২৬, ১৩ আগস্ট ২০১৯, মঙ্গলবার, ত্রয়োদশী ২১/১৫ দিবা ১/৪৭। উত্তরাষাঢ়া অহোরাত্র। সূ উ ৫/১৬/২১, অ ৬/৭/৯, অমৃতযোগ দিবা ৭/৫০ গতে ১০/২৪ মধ্যে পুনঃ ১২/৫৮ গতে ২/৪১ মধ্যে পুনঃ ৭/৯ মধ্যে। রাত্রি ৬/৫২ গতে ৯/৬ মধ্যে পুনঃ ১১/১৯ গতে ২/১৮ মধ্যে, বারবেলা ৬/৫২ গতে ৮/২৯ মধ্যে পুনঃ ১/১৮ গতে ২/৫৪ মধ্যে, কালরাত্রি ৭/৩০ গতে ৮/৫৪ মধ্যে। 
২৭ শ্রাবণ ১৪২৬, ১৩ আগস্ট ২০১৯, মঙ্গলবার, ত্রয়োদশী ২১/৩৩/১১ দিবা ১/৫২/৩৩। উত্তরাষাঢ়ানক্ষত্র ৬০/০/০ অহোরাত্র, সূ উ ৫/১৫/১৭, অ ৬/৯/২৫, অমৃতযোগ দিবা ৭/৫১ গতে ১০/২২ মধ্যে ও ১২/৫৩ গতে ২/৩৪ মধ্যে ও ৩/২৪ গতে ৫/৪ মধ্যে এবং রাত্রি ৬/৪০ মধ্যে ও ৮/৫৮ গতে ১১/১৫ মধ্যে ও ১/৩২ গতে ৩/৩ মধ্যে, বারবেলা ৬/৫২/৩ গতে ৮/২৮/৪৯ মধ্যে, কালবেলা ১/১৯/৭ গতে ২/৫৫/৫৩ মধ্যে, কালরাত্রি ৭/৩২/৩৯ গতে ৮/৫৫/৫৩ মধ্যে। 
মোসলেম: ১১ জেলহজ্জ 

ছবি সংবাদ

এই মুহূর্তে
অপসারিত নদীয়ার জেলাশাসক পবন কাদিয়ান 
এক ডব্লুবিসিএস অফিসারকে ফোন করে হুমকি দেওয়ায় অভিযুক্ত নদীয়ার জেলাশাসক ...বিশদ

05:30:59 PM

বিধানসভার স্ট্যাঠন্ডিং কমিটির চেয়ারম্যান পদ ছাড়লেন শোভন 
বিধানসভার মৎস্যা বিষয়ক স্ট্যাকন্ডিং কমিটির চেয়ারম্যান পদ ছাড়লেন শোভন চট্টোপাধ্যায়। ...বিশদ

05:13:35 PM

টালিগঞ্জ থানায় হামলার ঘটনায় আটক ৪

04:48:00 PM

২৪ তারিখ থেকে ৩ দিন হাওড়ার বঙ্কিম সেতুতে যান নিয়ন্ত্রণ 
মেরামতির জন্য ২৩ আগস্ট সকাল ছ’টা থেকে ২৫ আগস্ট রাত ...বিশদ

04:15:05 PM

কৃষ্ণনগর দ্বিজেন্দ্রলাল কলেজের অধ্যক্ষ ঘেরাও 
ভর্তির দাবিতে ঘেরাও করা হল কৃষ্ণনগর দ্বিজেন্দ্রলাল কলেজের অধ্যক্ষকে। একদল ...বিশদ

04:08:44 PM

কাশ্মীর ইস্যুতে কেন্দ্রকে সময় দেওয়ার পরামর্শ সুপ্রিম কোর্টের
 

কাশ্মীর ইস্যু অত্যন্ত সংবেদনশীল। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে সময় লাগবে। ফলে ...বিশদ

02:05:29 PM