Bartaman Patrika
বিশেষ নিবন্ধ
 

রক্ষক আইন যেন ভক্ষক না হয়
শান্তনু দত্তগুপ্ত 

ভিক্টরি ম্যানসনে ঢুকলেন উইনস্টন স্মিথ। বহুতলে ঢুকেই নজরে আসবে দো’তলা সমান আখাম্বা ছবিটা। শুধু একটা মুখ। নীচে ক্যাপশন করা, বিগ ব্রাদার কিন্তু তোমাকে দেখছে। জর্জ অরওয়েলের কালজয়ী উপন্যাস ১৯৮৪-এর শুরুতেই উল্লেখ এই ছবির। আর এই নভেলের সারমর্মও লুকিয়ে এই ছবিতে—বিগ ব্রাদার দেখছে, তাই সাবধান। সাবধান হও সবাই... সরকারি কর্মচারী, ব্যবসায়ী, সাফাইকর্মী, বেসরকারি চাকুরে... মোদ্দা কথা নারী-পুরুষ নির্বিশেষে। সবসময় নজরদারি। আতঙ্কের আবহ তৈরি করা—আপনার পিছনে কিন্তু মশাই গোয়েন্দা ঘুরছে। দু’টো চোখ সবসময় আটকে রয়েছে আপনার গায়ে। ‘রাষ্ট্রবিরোধী’ কিছু করছেন না তো?
তেমন কিছু হলেই কিন্তু হাতকড়া এসে লেগে যাবে। জানতেও পারবেন না। পুলিস রাষ্ট্র। মতপ্রকাশের তো বটেই, ভাবনারও স্বাধীনতা যেখানে নেই। ইউএপিএ সংশোধনী বিল সংসদের দুই কক্ষে পাশ হওয়ার পর সাধারণ মানুষের ঘাড়ে কিন্তু এই আতঙ্কই চেপে বসেছে... তাহলে কি পান থেকে চুন খসলেই সন্ত্রাসবাদী তকমা লাগিয়ে দেবে? কাশ্মীরি মেয়েদের কীভাবে বিয়ে করা যাবে, সেই প্রশ্ন যদি আপাতত মার্কেটে এক নম্বরে থাকে, তাহলে এই প্রশ্নও খুব কাছাকাছি থাকবে। বিল পাশের ম্যারাথন অধিবেশনে জম্মু-কাশ্মীর থেকে ৩৭০ ধারার পাঠ আচমকা চুকে যাওয়ার ঘটনায় নিঃসন্দেহে তোলপাড় পড়ে গিয়েছে আন্তর্জাতিক মহলে। আর ইউএপিএ সংশোধনীর ফলে দেশের মধ্যে। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ রাজ্যসভায় স্পষ্ট বলেছেন, ‘এমন অনেকে আছে যারা সন্ত্রাসবাদী লেখালেখি কিংবা সন্ত্রাসের তত্ত্ব যুব সম্প্রদায়ের মাথায় ঢুকিয়ে দেয়। বন্দুকের নলে সন্ত্রাসবাদী তৈরি হয় না। জঙ্গিবাদের শিকড় লুকিয়ে আছে প্রোপাগান্ডায়। যেগুলো কিছু মানুষ ছড়ায়।’
সংসদে দাঁড়িয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিলের সংশোধনী আনার সময় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এমনকিছু শব্দ ব্যবহার করলেন, যার ব্যাখ্যা বা সংজ্ঞা সংবিধানে বা কোনও আইনের বইতে নেই। টেররিস্ট লিটারেচার, প্রোপাগান্ডা। এর মানে যেভাবে খুশি দাঁড় করানো যায়... শাসক দলের সুবিধার্থে। অর্থাৎ আপনার কাছে যদি এমন কোনও কাগজপত্র থাকে, যা বৈপ্লবিক বা সরকার বিরোধী (অবশ্যই পুরোটা শাসক দলের মনে হওয়ার উপর নির্ভর করছে), তাহলে আপনি গ্রেপ্তার হতেই পারেন এবং আপনকে সন্ত্রাসবাদী বলে পুলিস বা এনআইএ ঘোষণাও করে দিতে পারে। তারপর কী হবে?
সবচেয়ে বড় ধাপ্পাটা হল, একজন ব্যক্তিবিশেষকে জঙ্গি ঘোষণা করার পর আইনগতভাবে তাঁর বিরুদ্ধে ঠিক কী ব্যবস্থা নেওয়া হবে, তাঁর কী ধরনের সাজা হবে, তার বিস্তারিত কিন্তু সংশোধনীতে বলা নেই। শুধু বলা রয়েছে, এসব ক্ষেত্রে ওই ব্যক্তির নাম চতুর্থ শিডিউলে যুক্ত করা হবে। অর্থাৎ সেই মুহূর্ত থেকেই তিনি ‘জঙ্গি’ নামে ভূষিত হবেন। এবার যাঁকে জঙ্গি ঘোষণা করা হল, তিনি কী করবেন? অভিযোগ মেনে নিয়ে হাত-গুটিয়ে বসে থাকবেন? কিছুটা তাই। কারণ আদালতে
গিয়ে সুরাহার খুব একটা সুযোগ তাঁর থাকবে না। তাঁর বিরুদ্ধে জঙ্গিপনার যে বিজ্ঞপ্তিটি জারি হবে, খুব বেশি হলে কেন্দ্রীয় সরকারের গড়ে দেওয়া একটি রিভিউ কমিটির কাছে গিয়ে সেটি খারিজ করার জন্য তিনি দরবার করতে পারবেন। সেই কমিটি যদি মনে করে, পর্যালোচনার আদেশ দেবে। সব ঠিক থাকলে বেশ কয়েক মাস বা বছর সমাজে একঘরে হয়ে, না
চাওয়া সত্ত্বেও জঙ্গি সেজে থাকার পর মুক্তি মিলবে। ততদিনে অবশ্য জীবন মোটামুটি খরচের খাতায়।
ভালো যুক্তি দেখিয়েছে কেন্দ্র—অনেক জঙ্গি সংগঠনকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করে দেওয়ার পরও দেখা যায়, সেই গোষ্ঠীর মূল জঙ্গিটি অন্য একটি সংগঠন খুলে নতুন করে সন্ত্রাসবাদ ছড়ায়। যেহেতু সেই নয়া জঙ্গি সংগঠনটি নিষিদ্ধ তালিকাভুক্ত নয়, ব্যক্তিটির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া যায় না। নতুন আইনে যেহেতু কুখ্যাত জঙ্গি সংগঠনের সদস্য না হলেও ব্যক্তিবিশেষকে ইউএপিএ আইনে সন্ত্রাসবাদী ঘোষণা করা যাবে, তাই আর অসুবিধা হবে না। খুব শিগগিরই ভারত হাফিজ সইদ, মাসুদ আজহারদের জঙ্গি হিসেবে কালো তালিকাভুক্ত করে দেবে।
একটা বিষয় নিয়ে সংশয় নেই যে, গত তিন দশকে জঙ্গি কার্যকলাপ নিয়ে সবচেয়ে বেশি ভুগতে হয়েছে ভারতকে। মুম্বইয়ে একের পর এক হামলা, ট্রেনে বিস্ফোরণ, হায়দরাবাদ... তালিকা শুধু দীর্ঘতর হয়েছে। আর ছিল কাশ্মীর উপত্যকায় পাকিস্তানের সরাসরি প্ররোচনায় সেখানকার ছেলেমেয়েদের জঙ্গি-খাতায় নাম লেখানো। ধর্মের নামে যেভাবে পাকিস্তান তথা তাদের মদতপুষ্ট জঙ্গি সংগঠনগুলো ভারতকে আঁচড়ে কামড়ে গিয়েছে, তার ফল ভোগ করেছি আমরা। সাধারণ মানুষ। বহু নিরপরাধ মানুষ প্রাণ দিয়েছে ধর্মের অজুহাতে। তাই কেন্দ্রীয় সরকার যদি এমন কোনও পদক্ষেপ নেয়, যা এই আতঙ্ক থেকে ভারতবাসীকে মুক্ত করতে পারে, তার থেকে ভালো কিছু হয় না! কিন্তু সত্যিই কি তা হল?
যুক্তির নামে শব্দ সাজাতে আর আপত্তি কোথায়? ইউএপিএ অর্থাৎ ‘আনলফুল অ্যাক্টিভিটিজ প্রিভেনশন অ্যাক্ট ১৯৬৭’তেও কিন্তু এই ধরনের লোকজনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার প্রচুর সুযোগ ছিল। এই আইনের ৩৫তম ধারায় বলা আছে, আইন যদি মনে করে কোনও সংগঠন সন্ত্রাসবাদী কার্যকলাপের সঙ্গে জড়িত, তাহলে সেই সংগঠনটিকে জঙ্গিগোষ্ঠীর তকমা দিয়ে নিষিদ্ধ ঘোষণা করতেই পারে। সেই নামটি প্রথম শিডিউলে যুক্ত হবে। এখনও পর্যন্ত এই শিডিউলে ৩৩টি গোষ্ঠীর নাম রয়েছে। এবং কোনও ব্যক্তি যদি এই ৩৩টি সংগঠনের মধ্যে একটিরও সঙ্গে যুক্ত থাকে, তাহলে সেই সদস্য, সমর্থক বা অর্থের জোগানদারের বিরুদ্ধে ইউএপিএ ১৯৬৭’র ৩৮, ৩৯ এবং ৪০ নম্বর ধারার বলে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া যাবে এবং সেই ব্যক্তিকে জঙ্গি ঘোষণাও করা যাবে।
তাহলে এই সংশোধনীর প্রয়োজনটা কোথায় ছিল? প্রথমত, এনআইএকে বিপুল শক্তি দেওয়া। এবং দ্বিতীয়ত, বিরোধীদের চাঁদমারির আওতায় নিয়ে আসা। অন্তত বিরোধী দলগুলির মাথায় এই উদ্বেগই দানা বাঁধতে শুরু করেছে। বিরোধী মাত্রই সরকারের নিয়ম-নীতির বিরুদ্ধে মতামত থাকবে। আর তেমন কিছু মতামত প্রকাশ করলেই যদি গায়ে জঙ্গি তকমা সেঁটে দেওয়া হয়, তার ফল কিন্তু সুদূরপ্রসারী! অথচ মতপ্রকাশের স্বাধীনতা আমাদের সংবিধানের মৌলিক অধিকারের মধ্যে পড়ে। রাষ্ট্র বা আরও নির্দিষ্টভাবে বলতে গেলে কেন্দ্রের শাসক দলের কাছে সন্ত্রাসবাদী ভাবনা, সেই মত যদি কোনও বিরোধী দলের নেতা বা নেত্রী প্রকাশ করেন, তাহলে তাঁকে জঙ্গি ঘোষণা করে একঘরে করে দেওয়াটাও অস্বাভাবিক হবে না। এবং এক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়তে পারেন তথাকথিত ‘আরবান মাওয়িস্ট’ গোত্রের লোকজন। এই নামকরণটিও শাসক দলের। অর্থাৎ, এই ধরনের লোকজন কট্টর বামপন্থায় বিশ্বাসী বা এই মতের পক্ষে লেখালেখি করেন। অসংশোধিত ইউএপিএ’র মাধ্যমে এঁদের সন্ত্রাসবাদী বলে চিহ্নিত করতে গত কয়েক বছরে কেন্দ্রকে যথেষ্ট বেগ পেতে হয়েছে। দিনের পর দিন গৃহবন্দি করে রাখা বা গ্রেপ্তারের পর যখন আদালতে মামলা উঠেছে, বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই রায় গিয়েছে অভিযুক্তদের পক্ষে। কেরল সরকার বনাম রানিফ মামলায় সুপ্রিম কোর্টের পর্যবেক্ষণ ছিল, কোনও জঙ্গি সংগঠনের সঙ্গে এক ব্যক্তির নাম জুড়ে গিয়েছে বলেই তাঁকে সন্ত্রাসবাদী বলে চিহ্নিত করা যায় না। যদি না সেই ব্যক্তি সরাসরি কোনও জঙ্গি কার্যকলাপের সঙ্গে যুক্ত থাকেন। এমনকী অন্য একটি মামলায় মাওবাদী নথি রাখার জন্য গ্রেপ্তার হওয়া এক ব্যক্তিকে মুক্তি দেওয়া তো বটেই, তাঁকে ১০ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণের নির্দেশও দিয়েছিল কেরল হাইকোর্ট।
কিন্তু নতুন আইনে কোনও আইনগত প্রক্রিয়া ছাড়াই শুধুমাত্র বিজ্ঞপ্তি জারি করে এই সব ক্ষেত্রে জঙ্গি বলে চালিয়ে দেওয়াটা খুব সহজ হয়ে যেতে চলেছে। এ ব্যাপারে অবশ্য আজ শুধু বিজেপি নেতৃত্বাধীন কেন্দ্রীয় সরকারের উপর দায় চাপিয়ে লাভ নেই। কারণ, এই আইন সব শাসক দলের কাছেই ব্রহ্মাস্ত্র হতে চলেছে। যে দল সরকারে থাকবে, সে-ই কিন্তু একে নিজের ইচ্ছেমতো কাজে লাগাবে। এবং হয়তো তা হবে মূলত বিরোধীদের উপর। সোশ্যাল মিডিয়া ছাড়া আজও সাধারণ মানুষের মত প্রকাশের তেমন একটা সুযোগ নেই। মানুষ নির্বাচিত করে জনপ্রতিনিধিকে। সেই ব্যক্তি যদি বিরোধী কোনও দলের হন তাহলে আইনসভার অন্দরে বা বাইরে শাসক দলের বিরুদ্ধমত প্রকাশ করতেই পারেন। তাঁর দায়িত্ব, সাধারণ মানুষের বা তাঁর ভোটারের বক্তব্য সরকারের সামনে তুলে ধরা। ইউএপিএ সংশোধনীর পর তা কি খোলাখুলিভাবে সম্ভব হবে? বিরোধী আসনে বসা সেই জনপ্রতিনিধি এখন ভাবতেই পারেন, যত কম বলা যায় ততই ভালো। বলতে গেলে যদি সরকার জঙ্গি ঘোষণা করে দেয়!
কেন্দ্রীয় সরকার অবশ্য দাবি করেছে, এই আইনের অপপ্রয়োগ হবে না। কিন্তু সেই গ্যারান্টি কে দিচ্ছে? টাডা আইনের ক্ষেত্রেও তো তৎকালীন সরকার গ্যারান্টি দিয়েছিল। আসলে কিন্তু বহু সাধারণ নিরপরাধ মানুষকে তার জন্য সাজা ভোগ করতে হয়েছে। এক্ষেত্রেও তা হবে না তো? সংবিধানের মত প্রকাশের স্বাধীনতাকে প্রশ্নচিহ্নের মুখে ফেলে সাধারণের বিরুদ্ধে হাতিয়ার হয়ে আত্মপ্রকাশ করার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে ইউএপিএ’র সংশোধনীতে। হয়তো তেমন কিছুই হবে না। কিন্তু সুযোগ তো রয়েছে! তাই উদ্বিগ্ন মানুষ। আতঙ্কে বিরোধীরা। কেন্দ্রের শাসকদল এখন চাইলেই ‘বিগ ব্রাদার’ হয়ে নজরদারি চালাবে দেশবাসীর উপর। বিরুদ্ধমতের উপর। অতএব মুখে কুলুপই শ্রেষ্ঠ উপায়। 
বনে থাকে বাঘ 
অতনু বিশ্বাস

ছেলেবেলায় ‘সহজ পাঠ’-এ পড়েছিলাম ‘বনে থাকে বাঘ’। যদিও এই পাঠটা যে খুব সহজ আর স্বাভাবিক নাও হতে পারে, অর্থাৎ বনে বাঘ নাও থাকতে পারে, সেটা বুঝতে বেশ বড় হতে হল। ছোটবেলায় অবশ্য মনে বদ্ধমূল ধারণা ছিল, বন-জঙ্গল গিজগিজ করে বাঘে। 
বিশদ

পুতিন কি পারবেন নতুন বিশ্বের নেতৃত্ব দিতে?
গৌরীশঙ্কর নাগ

 ১৯১৭ খ্রিস্টব্দে বা তার কিছু আগে থেকে লেনিন, ট্রটস্কি প্রমুখ নিবেদিত প্রাণ কমরেডের হাত ধরে সোভিয়েত সমাজতন্ত্র নামক যে মহীরুহটি ধীরে ধীরে গড়ে উঠেছিল তা গর্বাচেভ ক্ষমতাসীন হওয়ার পর কীভাবে তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়েছে—বিস্ময়ের সঙ্গে আমরা সেটা দেখেছি।
বিশদ

12th  August, 2019
স্টেট নয়, শুধুই রিয়াল এস্টেট
পি চিদম্বরম

 জম্মু ও কাশ্মীর নিয়ে প্রায়ই লিখি কিন্তু আজকেরটা অন্যরকম। জম্মু ও কাশ্মীর আর আগের জম্মু ও কাশ্মীর নেই। এটা আর রাজ্য নয়। এটাকে বিভক্ত করা হয়েছে। এখন দুটি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল—লাদাখ এবং জম্মু ও কাশ্মীর। ভারতের সংবিধানে কোনও রাজ্যকে কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের স্তরে নামিয়ে আনার ঘটনা এর আগে ঘটেনি।
বিশদ

12th  August, 2019
রাহুল সরে দাঁড়াতেই কংগ্রেস এমন নেতৃত্বহীনতায় ভুগছে কেন?
শুভা দত্ত

 প্রশ্নটা আজ দেশের সর্বস্তরে। পথে-ঘাটে অফিসে আড্ডায় যেখানেই চলতি রাজনীতি নিয়ে তর্ক-বিতর্কের উদয় হচ্ছে সেখানেই প্রশ্নটা যেন অনিবার্যভাবে এসে পড়ছে! কংগ্রেসের হলটা কী! রাহুল গান্ধী না বলে দিতেই আর সভাপতি খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না কংগ্রেসে! গান্ধী ফ্যামিলি ছাড়া কংগ্রেস সভাপতি খুঁজে পাচ্ছে না— এ তো বড় অদ্ভুত ব্যাপার! কংগ্রেসের জন্মের পর থেকে গান্ধী ফ্যামিলির বাইরের দেশ রাজনীতির কত দিকপালই তো জাতীয় কংগ্রেসের সভাপতির আসন অলঙ্কৃত করেছেন—উমেশচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়, দাদাভাই নৌরজি, সুরেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়, সুভাষচন্দ্র, অ্যানি বেসান্ত, চিত্তরঞ্জন, সরোজিনী নাইডু, বল্লভভাই প্যাটেল, কামরাজ, জগজীবন রাম—কত নাম বলব। নিশ্চয়ই এই তালিকায় নেহরু থেকে ইন্দিরা, রাজীব, সোনিয়া হয়ে রাহুল—গান্ধী পরিবারের সদস্যরাও ছিলেন।
বিশদ

11th  August, 2019
শুধু উন্নয়ন নয়, ভোটের জন্য চাই ভালো মাস্টার
তন্ময় মল্লিক

মোটা বেতন দিয়ে মাস্টার রাখলেই ছেলেমেয়ে মানুষ হয় না। তেমনটা হলে সব বড়লোকের ছেলেমেয়েই উচ্চশিক্ষিত হতো। কিন্তু, তা তো হয় না। ছাত্রছাত্রীর পড়াশোনায় আগ্রহ, মেধা যেমন থাকা দরকার, তেমনই নজরদারিটাও জরুরি। ফাঁকিবাজি থাকলেই ছাত্র হয় গাড্ডু খাবে, অথবা ‘বিবেচনায়’ পাশ।
বিশদ

10th  August, 2019
পঞ্চায়েত নির্বাচন, ৩৭০ কিংবা ৩৫এ
শুভময় মৈত্র

পশ্চিমবঙ্গ ২০১৮, আর ত্রিপুরা ২০১৯। পঞ্চায়েত ভোটে ফলাফল একইরকম। ঠিক কত আসন সেটা গোনার দরকার নেই। সহজ অঙ্কে বিষয়টা এরকম। ধরা যাক, মোট আসন ১০০, শাসক দল বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়ী ৭০টি আসনে। বাকি তিরিশের মধ্যে তীব্র লড়াইয়ের শেষে শাসক দল ২০, বিরোধীরা দশ। পাটিগণিতের অঙ্ক একেবারে মিলে গেল।
বিশদ

10th  August, 2019
কাশ্মীর: নতুন চ্যালেঞ্জ
সমৃদ্ধ দত্ত

 প্রকৃত চ্যালেঞ্জ সরকারের। কাশ্মীরকে আন্তরিকভাবে ভারতের অন্তঃস্থলে মিশিয়ে দেওয়ার কাজটিই কিন্তু হবে কাশ্মীরের নয়া ইতিহাস রচনা। সেটা নিছক একটা ভূমিখণ্ড দখল নয়। কাশ্মীরিয়াৎকে আপন করে নেওয়া। একমাত্র তাহলেই পাকিস্তান সবথেকে বেশি ধাক্কা খাবে! আর কাশ্মীরিদের আমরা যদি শত্রু বিবেচনা করে চলি, তাহলে কিন্তু টেনিসের পরিভাষায় অ্যাডভান্টেজ পাকিস্তান হয়ে যাবে! সে সুযোগ দেব কেন?
বিশদ

09th  August, 2019
সংযুক্তিকরণের মিশ্র অভিজ্ঞতার পংক্তিতে কাশ্মীর
বিশ্বনাথ চক্রবর্তী

 সমস্ত প্রশ্ন আসলে আবর্তিত হচ্ছে মূলত কাশ্মীরসমস্যা সমাধানের প্রশ্নে ‘স্বাধিকার বনাম সংযুক্তিকরণ’ ভাবনাকে কেন্দ্র করে। নেহরুর অনুসৃত কাশ্মীরের স্বাধিকার মডেল বিগত ৭০ বছর ধরে কার্যকরী থাকলেও কাশ্মীরসমস্যার সমাধান কিন্তু অধরাই থেকে গিয়েছে। তৈরি হয়েছিল অচলাবস্থা। বিজেপির সংযুক্তিকরণ মডেলে কাশ্মীরের এই দীর্ঘ অচলাবস্থা ভেঙে এগিয়ে চলার কথা বলা হয়েছে। বিশ্বজুড়ে সংযুক্তিকরণ মডেলের যে অভিজ্ঞতা উঠে এসেছে, তা মিশ্র। চীনের সঙ্গে তিব্বতের সংযুক্তিকরণ সফল হয়েছে। আলাস্কার ক্ষেত্রেও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সংযুক্তিকরণ সফল ছিল। আবার চীনের সঙ্গে হংকংয়ের সংযুক্তিকরণ প্রক্রিয়া কিন্তু কঠিন বাধার সম্মুখীন হয়েছে। এখন দেখার, কাশ্মীরকে ভারতের মূল প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক ক্ষেত্রে সংযুক্তিকরণ প্রক্রিয়ার ফল কী হয়? বিশদ

08th  August, 2019
জিতে গেলেন শ্যামাপ্রসাদ
জিষ্ণু বসু 

দিনটি ছিল ১১ মে, ১৯৫৩। পারমিট ছাড়া কাশ্মীরে প্রবেশের অপরাধে পাঠানকোটের মাধোপুর সীমান্তে গ্রেপ্তার হলেন শ্যামাপ্রসাদ। সেখান থেকে শ্রীনগর ৩০০ কিমির বেশি। এতটা পথ পুলিসের জিপে আনা হল তাঁকে।  বিশদ

07th  August, 2019
তিন তালাক: এক কুপ্রথার অবসান
অমিত শাহ

কিছু দিন ইতিহাসে বিশিষ্ট হিসেবে চিহ্নিত হয়ে থাকে। ভারতের সংসদের ইতিবৃত্তে ৩০ জুলাই, ২০১৯ তেমনই একটি দিন। সংসদের উচ্চকক্ষে ঐতিহাসিক তিন তালাক বিলের জায়গা করে নেওয়াটা নিছক একটি নতুন আইনপ্রণয়ন নয়। এটি একটি ঐতিহাসিক ভুলের সংশোধনের বিষয়। এটি মুসলিম নারীদের সম্মান ও মর্যাদার পুনরুদ্ধারের বিষয়।
বিশদ

06th  August, 2019
দমনমূলক ফেডারালিজম
পি চিদম্বরম

 ১৯৯৭ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি বাজেট ভাষণে আমি ‘কোঅপারেটিভ ফেডারাল পলিটি’—এই ফ্রেজ বা বাগধারাটি ব্যবহার করেছিলাম। এই বাগধারা আমিই প্রথম ব্যবহার করেছি এমন কোনও দাবি করছি না, কিন্তু আমি আনন্দিত যে ‘কোঅপারেটিভ ফেডারালিজম’ কথাটি বাজেট ভাষণে এবং অন্য অনেক উপলক্ষে বারংবার ব্যবহার করা হয়ে থাকে।
বিশদ

05th  August, 2019
কলকাতা কি প্রবীণদের জন্য ক্রমশ বিপজ্জনক হয়ে উঠছে?
শুভা দত্ত

বুধবার ভোরের কাগজে চোখ রাখতেই এমন একটা প্রশ্ন যেন বুকের মধ্যে শেল হয়ে বিঁধল। এ কী কাণ্ড সব হচ্ছে! খুনের পর খুন! আর সেই খুনিদের টার্গেট কিনা নিরীহ সাধারণ প্রৌঢ় আর প্রবীণ! কী অপরাধ তাঁদের? অপরাধ তাঁরা বাড়িতে একলা থাকেন, তাঁদের ছেলেমেয়েরা হয়তো চাকরিসূত্রে দেশের অন্য রাজ্যে বা দূর বিদেশে। অপরাধ—তাঁদের একটা ছোট বড় জমি বাড়ি বাগান বা ফ্ল্যাট আছে, আছে সারাজীবন কষ্ট করে রোজগারের কিছু টাকা-পয়সা, ব্যাঙ্ক আমানত, গয়নাগাটি।
বিশদ

04th  August, 2019
একনজরে
সংবাদদাতা, গাজোল: সোমবার সকালে হবিবপুর ব্লকের বুলবুলচণ্ডী গ্রাম পঞ্চায়েতের মধ্যম কেন্দুয়া গ্রামে অকেজো জলাধারটি সংস্কার করা হয়েছে। গ্রাম পঞ্চায়েতের এই পদক্ষেপে বাসিন্দারা খুবই খুশি হয়েছেন। এখন তাঁদের জলের আর সমস্যা হবে না।   ...

মালাপ্পুরম (কেরল), ১২ আগস্ট (পিটিআই): কয়েক দিন ধরে টানা বৃষ্টি চলছিল। শুক্রবার বিকেলে এল বিপর্যয়। কেরলের পাহাড়ি এলাকা কোট্টাক্কুন্নুতে নামল বিরাট ধস। স্বামী সেই সময় বাড়ি ছিলেন না। দেড় বছরের শিশুপুত্রকে সঙ্গে নিয়ে ঘরের মধ্যে শুয়েছিলেন গীতু। হঠাৎ ধস। কাদা-পাথর ...

সংবাদদাতা, কাঁথি: খেজুরি থানার হেঁড়িয়ায় দীঘা-নন্দকুমার ১১৬বি জাতীয় সড়কে এক দুর্ঘটনায় তিনটি প্রাইভেট কার ক্ষতিগ্রস্ত হয়। শুধু তাই নয়, একটি গাড়ি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সোজা নয়ানজুলিতে গিয়ে পড়ে। এই ঘটনায় জখম হন চারজন পর্যটক। রবিবার সন্ধ্যা নাগাদ ঘটনাটি ঘটে।  ...

সৌম্যজিৎ সাহা, কলকাতা: এবার গ্রামাঞ্চলের ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের ল্যাবরেটরির পুরনো পরিকাঠামোর খোলনলচে বদলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিল অল ইন্ডিয়া কাউন্সিল অব টেকনিক্যাল এডুকেশন (এআইসিটিই)। নতুন যন্ত্রপাতি কেনা এবং পরিকাঠামো তৈরি করতে তারা অনুদান দেবে বলে ঠিক করেছে। ...




আজকের দিনটি কিংবদন্তি গৌতম
৯১৬৩৪৯২৬২৫ / ৯৮৩০৭৬৩৮৭৩

ভাগ্য+চেষ্টা= ফল
  • aries
  • taurus
  • gemini
  • cancer
  • leo
  • virgo
  • libra
  • scorpio
  • sagittorius
  • capricorn
  • aquarius
  • pisces
aries

বিদ্যার্থীরা শুভ ফল লাভ করবে। মাঝে মাঝে হঠকারী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করায় ক্ষতি হতে পারে। নতুন ... বিশদ


ইতিহাসে আজকের দিন

১৮৯৯- ইংরেজ পরিচালক স্যার আলফ্রেড হিচককের জন্ম,
১৯২৬- কিউবার প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট ফিদেল কাস্ত্রোর জন্ম,
১৯৩৩- অভিনেত্রী বৈজয়ন্তীমালার জন্ম,
১৯৪৬- ইংরেজ সাহিত্যিক এইচ জি ওয়েলেসের মৃত্যু,
১৯৬৩- অভিনেত্রী শ্রীদেবীর জন্ম 

ক্রয়মূল্য বিক্রয়মূল্য
ডলার    
পাউন্ড    
ইউরো    
[ স্টেট ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়া থেকে পাওয়া দর ]
পাকা সোনা (১০ গ্রাম) ৩৮,১৩৫ টাকা
গহনা সোনা (১০ (গ্রাম) ৩৬,১৮০ টাকা
হলমার্ক গহনা (২২ ক্যারেট ১০ গ্রাম) ৩৬,৭২৫ টাকা
রূপার বাট (প্রতি কেজি) ৪৩,৭০০ টাকা
রূপা খুচরো (প্রতি কেজি) ৪৩,৮০০ টাকা
[ মূল্যযুক্ত ৩% জি. এস. টি আলাদা ]

দিন পঞ্জিকা

২৭ শ্রাবণ ১৪২৬, ১৩ আগস্ট ২০১৯, মঙ্গলবার, ত্রয়োদশী ২১/১৫ দিবা ১/৪৭। উত্তরাষাঢ়া অহোরাত্র। সূ উ ৫/১৬/২১, অ ৬/৭/৯, অমৃতযোগ দিবা ৭/৫০ গতে ১০/২৪ মধ্যে পুনঃ ১২/৫৮ গতে ২/৪১ মধ্যে পুনঃ ৭/৯ মধ্যে। রাত্রি ৬/৫২ গতে ৯/৬ মধ্যে পুনঃ ১১/১৯ গতে ২/১৮ মধ্যে, বারবেলা ৬/৫২ গতে ৮/২৯ মধ্যে পুনঃ ১/১৮ গতে ২/৫৪ মধ্যে, কালরাত্রি ৭/৩০ গতে ৮/৫৪ মধ্যে। 
২৭ শ্রাবণ ১৪২৬, ১৩ আগস্ট ২০১৯, মঙ্গলবার, ত্রয়োদশী ২১/৩৩/১১ দিবা ১/৫২/৩৩। উত্তরাষাঢ়ানক্ষত্র ৬০/০/০ অহোরাত্র, সূ উ ৫/১৫/১৭, অ ৬/৯/২৫, অমৃতযোগ দিবা ৭/৫১ গতে ১০/২২ মধ্যে ও ১২/৫৩ গতে ২/৩৪ মধ্যে ও ৩/২৪ গতে ৫/৪ মধ্যে এবং রাত্রি ৬/৪০ মধ্যে ও ৮/৫৮ গতে ১১/১৫ মধ্যে ও ১/৩২ গতে ৩/৩ মধ্যে, বারবেলা ৬/৫২/৩ গতে ৮/২৮/৪৯ মধ্যে, কালবেলা ১/১৯/৭ গতে ২/৫৫/৫৩ মধ্যে, কালরাত্রি ৭/৩২/৩৯ গতে ৮/৫৫/৫৩ মধ্যে। 
মোসলেম: ১১ জেলহজ্জ 

ছবি সংবাদ

এই মুহূর্তে
অপসারিত নদীয়ার জেলাশাসক পবন কাদিয়ান 
এক ডব্লুবিসিএস অফিসারকে ফোন করে হুমকি দেওয়ায় অভিযুক্ত নদীয়ার জেলাশাসক ...বিশদ

05:30:59 PM

বিধানসভার স্ট্যাঠন্ডিং কমিটির চেয়ারম্যান পদ ছাড়লেন শোভন 
বিধানসভার মৎস্যা বিষয়ক স্ট্যাকন্ডিং কমিটির চেয়ারম্যান পদ ছাড়লেন শোভন চট্টোপাধ্যায়। ...বিশদ

05:13:35 PM

টালিগঞ্জ থানায় হামলার ঘটনায় আটক ৪

04:48:00 PM

২৪ তারিখ থেকে ৩ দিন হাওড়ার বঙ্কিম সেতুতে যান নিয়ন্ত্রণ 
মেরামতির জন্য ২৩ আগস্ট সকাল ছ’টা থেকে ২৫ আগস্ট রাত ...বিশদ

04:15:05 PM

কৃষ্ণনগর দ্বিজেন্দ্রলাল কলেজের অধ্যক্ষ ঘেরাও 
ভর্তির দাবিতে ঘেরাও করা হল কৃষ্ণনগর দ্বিজেন্দ্রলাল কলেজের অধ্যক্ষকে। একদল ...বিশদ

04:08:44 PM

কাশ্মীর ইস্যুতে কেন্দ্রকে সময় দেওয়ার পরামর্শ সুপ্রিম কোর্টের
 

কাশ্মীর ইস্যু অত্যন্ত সংবেদনশীল। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে সময় লাগবে। ফলে ...বিশদ

02:05:29 PM