Bartaman Patrika
বিশেষ নিবন্ধ
 

বনে থাকে বাঘ 
অতনু বিশ্বাস

ছেলেবেলায় ‘সহজ পাঠ’-এ পড়েছিলাম ‘বনে থাকে বাঘ’। যদিও এই পাঠটা যে খুব সহজ আর স্বাভাবিক নাও হতে পারে, অর্থাৎ বনে বাঘ নাও থাকতে পারে, সেটা বুঝতে বেশ বড় হতে হল। ছোটবেলায় অবশ্য মনে বদ্ধমূল ধারণা ছিল, বন-জঙ্গল গিজগিজ করে বাঘে। শিশু বয়সে অন্যান্য বেশ কিছু গল্প শুনে বা পড়ে বাঘের অপ্রতুলতা সম্পর্কে কোনও সন্দেহ হবার কারণ ঘটেনি। যেমন, উপেন্দ্রকিশোরের গল্পে তো বাঘের ছড়াছড়ি। বহুবার ভেবেছি, ‘টুনটুনির বই’য়ের নাম ‘বাঘের বই’ দিলেও চলত। সেখানে বাঘ আর শিয়াল, চড়াই আর বাঘ, দুষ্টু বাঘ, বোকা বাঘ, বাঘ-বর, আরও কত কী! তবে সিংহের মামা ভোম্বলদাস গণ্ডা দশেক বাঘ মেরেছে শুনে মনে হয়েছিল, বেচারা বাঘেরা কোথায় যাবে তাহলে। বাঘ কি তাহলে শেষ হয়ে যাবে নাকি? আর একটু বড় হয়ে যখন জিম করবেটের শিকারের গল্পগুলি পড়ছি, তখন বাঘগুলিকে আর একটু ভয়ঙ্কর মনে হয়েছে, এই যা। তবে তাদের অস্তিত্বের সঙ্কটের কোনও কারণ আছে বলে তখনও মনে হয়নি এতটুকু।
বাস্তবে কিন্তু তখনই ভোম্বলদাসদের কর্মকাণ্ডের ফলশ্রুতি পরিষ্কার দেখা যাচ্ছিল। সঙ্গে আরও কারণ আছে অবশ্যই। আমরা অতটা ঠাহর করতে পারিনি, এই যা। বাঘের জনসংখ্যায় (বাঘ-সংখ্যায়) টান ধরে গিয়েছে তখনই। পৃথিবী জুড়েই। আসলে ‘পৃথিবী জুড়ে’ কথাটা তো এক্ষেত্রে গৌরবে বহুবচন। এক বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠ বাঘের বাসভূমি তো আমাদের ভারতবর্ষের জঙ্গলগুলি। গত শতকের সাতের দশকের গোড়াতেই পৃথিবীতে বাঘের সংখ্যা কমে যায় বিপজ্জনক ভাবে। মনে আছে, হরতকী গ্রামের বাঘা বাইন জঙ্গলে গিয়ে বাঘের ভয় পায়, কিন্তু দেখা পায় না বাঘের। ওই যে উপেন্দ্রকিশোর লিখেছেন, ‘বাঘে খাবে দূরে থাক, সে বনে বাঘ-ভালুক কিছু নেই।’১৯৭৩ সালেই ভারত সরকার শুরু করে ‘প্রোজেক্ট টাইগার’। অনেকটা যেন 'বাঘ বাঁচাও' প্রকল্প। যেন আগে থেকে সাবধান হওয়া যাতে এমন দিন না আসে যে, উপেন্দ্রকিশোরের গল্পের বাঘগুলি সম্পর্কে আমাদের বলতে হয়, “হ্যাঁ, বাঘ নামে এক প্রাণী এক সময় ছিল পৃথিবীতে...”।
কিন্তু ২০১০ সাল নাগাদ দেখা গেল যে, গোটা পৃথিবীতে বাঘ মাত্র ৩,২০০টি। পরিবেশের বদল, খাদ্যে টান, বাঘেদের বাসস্থান ধ্বংস এবং নির্বিচারে বেআইনি বাঘ শিকার, এসবের মিলিত ফলশ্রুতিতে। সে বছর ভারত-সহ পৃথিবীর ১৩টি বাঘ-সমৃদ্ধ দেশ বৈঠকে বসে রাশিয়ায়। সেন্ট পিটার্সবার্গে। পরিকল্পনা হয় বাঘের সংখ্যা বাড়ানোর। লক্ষ্য পরিষ্কার। ২০২২-এর মধ্যে দেশগুলি যাতে দ্বিগুণ করতে পারে নিজ নিজ দেশের বাঘের সংখ্যা। ভারত কিন্তু, অন্তত, সেই লক্ষ্যে পৌঁছেছে এর মধ্যেই, ২০১৮-র হিসেবে।
২০১৮-র চতুর্থ বাঘ-শুমারি অনুসারে এদেশে এক বছর বয়সের ঊর্ধ্বে থাকা বাঘের সংখ্যা ২,৯৬৭। চার বছর পরে পরে হয় এই বাঘ গোনার কর্মকাণ্ড। ২০০৬-এর বাঘ-শুমারিতে এদেশে বাঘ ছিল ১,৪১১টি, ২০১০-এ তা দাঁড়ায় ১,৭০৬টিতে, আর ২০১৪ সালের তৃতীয় বাঘ-শুমারিতে বাঘের সংখ্যা ছিল ২,২২৬টি। তাই, এটা পরিষ্কার যে, বাঘের অনুকূল বাসস্থান, খাদ্য ইত্যাদির সংরক্ষণ করা এবং ভোম্বলদাসদের আটকাতে ভারত মোটামুটিভাবে বেশ সফল এই সময়কালে। পৃথিবীর মোট বাঘের সংখ্যা এখন মোটামুটি ৩,৯০০-র মতো। তাই ২০১৮-র হিসেব অনুসারে পৃথিবীর ৭৭ শতাংশ বাঘই এখন ভারতে। তাই ভারতে বাঘ সংখ্যায় বাড়লেও, অন্যান্য জায়গায় মোটের উপর বাঘের সংখ্যা যে কমে এসেছে এই সময়ের মধ্যে, সেটাও পরিষ্কার।
এবারের বাঘ-শুমারির হিসেব অনুসারে কোনও বাঘ নেই উত্তরবঙ্গের বক্সার ব্যাঘ্র সংরক্ষণ কেন্দ্রে। এনিয়ে বিস্তর হইচই আর আলোচনা চলছে মিডিয়াতে। বিশেষ করে বাংলার মিডিয়াতে। তবে, সুন্দরবনের বাঘের সংখ্যার হিসেবটা একবার দেখা যেতে পারে। ২০১০-এর শুমারিতে ভারতের সুন্দরবন অঞ্চলে বাঘের সংখ্যা ছিল ৭০। গত ২০১৪-তে তা বেড়ে দাঁড়ায় ৭৬, আর এবারে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮৮-তে। তাই একটু একটু করে উজ্জ্বল হলুদ হয়ে উঠছে আমাদের সুন্দরবন।
বাঘ গোনার কাজটা কিন্তু মানুষ গোনার চাইতে ঢের কঠিন। বাঘেরা ঘুরে বেড়াবে ঘন জঙ্গলে। গভীর জঙ্গলের গভীরতম অংশে সমীক্ষা করতে যাবে কে? কীভাবে? এমনিতে জঙ্গলের বাঘকে খুঁজে পাওয়াই মুশকিল। তার উপর খুঁজে পেতে তাকে পাশে বসিয়ে মানুষের আদমশুমারির মতো প্রশ্ন করে ফর্ম ভর্তি করার মতো উপেন্দ্রকিশোরীয় গল্প তো বাস্তবে সম্ভব নয় একেবারে। বাঘগুলিকে লাইনে দাঁড় করিয়েও পটাপট গুনে ফেলা সম্ভব নয়। তাই বাঘ গোনাটা হয় একেবারে অন্যভাবে।
আসলে গোনা যায় বা দেখা যায় কিছু সংখ্যক বাঘ, আর সেই সঙ্গে অনুমান করা হয় না দেখা বাঘের সংখ্যা। যোগ করা হয় এই দুটো সংখ্যাকে। ২০১৪-তে যেমন দেখা আর অনুমান করা বাঘ যথাক্রমে মোট সংখ্যার ৭০ আর ৩০ শতাংশ। ২০১৮-তে দেখে গোনা বাঘের সংখ্যা কিন্তু অনেক বেশি। দেখা বা অন্য কোনও সূত্রে খোঁজ পাওয়া বাঘ এবার ৮৩ শতাংশ। কিন্তু বাঘের খোঁজ পাবার পদ্ধতিটাও বদলাচ্ছে, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে।
প্রায় বছর পনেরো আগে কলকাতার ইন্ডিয়ান স্ট্যাটিস্টিক্যাল ইনস্টিটিউটে আমার কয়েকজন সহকর্মী বাঘের পায়ের ছাপ থেকে সুন্দরবনের বাঘ গোনার জন্যে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের এক প্রোজেক্টে এক সফটওয়্যার তৈরি নিয়ে কাজ করেছিল। এমনিতে বাঘের পায়ের ছাপ একেবারেই আলাদা আলাদা। ধরা যাক, সেটাই বাঘের স্বাক্ষর। পায়ের ছাপ বলতে চারটে করে আঙুল, আর প্যাডের ছাপ। বাঘ বদলালে বদলে যাবে এই বিভিন্ন আঙুল আর প্যাডের দূরত্বগুলি। বাঘের পায়ের ছাপের প্লাস্টারের ছাঁচগুলি থেকে অনুমান করা হয়েছে বাঘের সংখ্যা, রাশিবিজ্ঞানের তত্ত্বের প্রয়োগ করে। আর সেই সঙ্গে রাশিবিজ্ঞানের সাহায্যেই অনুমান করা হয় ছাপ পাওয়া যায় নি এমন বাঘের সংখ্যা।
সময় বদলেছে। বদলেছে বাঘ গোনার প্রযুক্তিও। ২০১৮-তে বাঘ গুনতে চষে ফেলা হয়েছে দেশের ৩ লক্ষ ৮১ হাজার বর্গ কিলোমিটার জঙ্গল। জঙ্গলের মধ্যে যাওয়া হয়েছে ৫ লক্ষ ২৩ হাজার কিলোমিটার ফুট। দেশের ১৪১টি অঞ্চলের প্রায় ২৭ হাজার জায়গাকে আনা হয়েছে ক্যামেরার আওতায়। তোলা হয়েছে প্রায় সাড়ে তিন লক্ষ ছবি, যার মধ্যে বাঘের ছবি প্রায় ৭৭ হাজার, আর চিতার ছবি প্রায় ৫২ হাজার। এর সঙ্গে যোগ করা হয়েছে আরও নানা ধরনের তথ্য—গাছপালা, অন্যান্য জন্তু-জানোয়ার ইত্যাদি ইত্যাদি। এ এক বিপুল তথ্য। এইসব তথ্য সংগ্রহে অনেক ক্ষেত্রেই ব্যবহার করা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তি। প্রায় ৪৪ হাজার কর্মকর্তা আর ৫৫ জন জীববিদ্যা-বিশারদের একযোগে মোট ৬ লক্ষ মানব-দিবসের ফল এবারের এই বাঘ-শুমারি। এই বিপুল তথ্যকে বিশ্লেষণ করে পাওয়া গিয়েছে ২,৪৬১টি বাঘের খোঁজ। বাকি শ’পাঁচেক বাঘ অনুমান করা হয়েছে অন্যান্য তথ্যের উপর নির্ভর করে রাশিবিজ্ঞানের ব্যবহারে।
দেখা যাচ্ছে, বাঘ সংরক্ষণে বেশ ভালোই কাজ করছে ভারত। তাই, মোটের উপর বলা চলে, এদেশের বনে বাঘ আছে। এবং তারা বাড়িয়ে চলেছে তাদের সংখ্যা। বছরে ৬ শতাংশ হারে। তবে, রাষ্ট্রের দায়িত্ব এখানেই শেষ নয়। দেশের নানা প্রান্তের জঙ্গলের মধ্যে বাঘের বেঁচে থাকার অনুকূল পরিবেশ তৈরি করা, সংরক্ষণ করা, এবং সেই সঙ্গে ভোম্বলদাসদের হাত থেকে তাদের রক্ষা করা খুব সহজ নয়। চার ভাগের এক ভাগ বাঘই মারা যায় চোরা-শিকারের ফলে। গোটা পৃথিবীর মধ্যে বাঘের প্রধান বাসভূমি আমাদের এই দেশ, আর তাই আমাদের দায়িত্ব অবশ্যই খানিক বেশি। যাই হোক, আপাতত আমরা বেশ গর্বের সঙ্গেই বলতে পারি যে, আমাদের বনে জঙ্গলে ‘টাইগার জিন্দা হ্যায়’, এবং বেশ ভালোভাবেই।
 ইন্ডিয়ান স্ট্যাটিস্টিক্যাল ইনস্টিটিউট, কলকাতার রাশিবিজ্ঞানের অধ্যাপক। মতামত ব্যক্তিগত 
13th  August, 2019
রক্ষক আইন যেন ভক্ষক না হয়
শান্তনু দত্তগুপ্ত 

ভিক্টরি ম্যানসনে ঢুকলেন উইনস্টন স্মিথ। বহুতলে ঢুকেই নজরে আসবে দো’তলা সমান আখাম্বা ছবিটা। শুধু একটা মুখ। নীচে ক্যাপশন করা, বিগ ব্রাদার কিন্তু তোমাকে দেখছে। জর্জ অরওয়েলের কালজয়ী উপন্যাস ১৯৮৪-এর শুরুতেই উল্লেখ এই ছবির। আর এই নভেলের সারমর্মও লুকিয়ে এই ছবিতে—বিগ ব্রাদার দেখছে, তাই সাবধান। সাবধান হও সবাই... সরকারি কর্মচারী, ব্যবসায়ী, সাফাইকর্মী, বেসরকারি চাকুরে... মোদ্দা কথা নারী-পুরুষ নির্বিশেষে। সবসময় নজরদারি।  
বিশদ

13th  August, 2019
পুতিন কি পারবেন নতুন বিশ্বের নেতৃত্ব দিতে?
গৌরীশঙ্কর নাগ

 ১৯১৭ খ্রিস্টব্দে বা তার কিছু আগে থেকে লেনিন, ট্রটস্কি প্রমুখ নিবেদিত প্রাণ কমরেডের হাত ধরে সোভিয়েত সমাজতন্ত্র নামক যে মহীরুহটি ধীরে ধীরে গড়ে উঠেছিল তা গর্বাচেভ ক্ষমতাসীন হওয়ার পর কীভাবে তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়েছে—বিস্ময়ের সঙ্গে আমরা সেটা দেখেছি।
বিশদ

12th  August, 2019
স্টেট নয়, শুধুই রিয়াল এস্টেট
পি চিদম্বরম

 জম্মু ও কাশ্মীর নিয়ে প্রায়ই লিখি কিন্তু আজকেরটা অন্যরকম। জম্মু ও কাশ্মীর আর আগের জম্মু ও কাশ্মীর নেই। এটা আর রাজ্য নয়। এটাকে বিভক্ত করা হয়েছে। এখন দুটি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল—লাদাখ এবং জম্মু ও কাশ্মীর। ভারতের সংবিধানে কোনও রাজ্যকে কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের স্তরে নামিয়ে আনার ঘটনা এর আগে ঘটেনি।
বিশদ

12th  August, 2019
রাহুল সরে দাঁড়াতেই কংগ্রেস এমন নেতৃত্বহীনতায় ভুগছে কেন?
শুভা দত্ত

 প্রশ্নটা আজ দেশের সর্বস্তরে। পথে-ঘাটে অফিসে আড্ডায় যেখানেই চলতি রাজনীতি নিয়ে তর্ক-বিতর্কের উদয় হচ্ছে সেখানেই প্রশ্নটা যেন অনিবার্যভাবে এসে পড়ছে! কংগ্রেসের হলটা কী! রাহুল গান্ধী না বলে দিতেই আর সভাপতি খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না কংগ্রেসে! গান্ধী ফ্যামিলি ছাড়া কংগ্রেস সভাপতি খুঁজে পাচ্ছে না— এ তো বড় অদ্ভুত ব্যাপার! কংগ্রেসের জন্মের পর থেকে গান্ধী ফ্যামিলির বাইরের দেশ রাজনীতির কত দিকপালই তো জাতীয় কংগ্রেসের সভাপতির আসন অলঙ্কৃত করেছেন—উমেশচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়, দাদাভাই নৌরজি, সুরেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়, সুভাষচন্দ্র, অ্যানি বেসান্ত, চিত্তরঞ্জন, সরোজিনী নাইডু, বল্লভভাই প্যাটেল, কামরাজ, জগজীবন রাম—কত নাম বলব। নিশ্চয়ই এই তালিকায় নেহরু থেকে ইন্দিরা, রাজীব, সোনিয়া হয়ে রাহুল—গান্ধী পরিবারের সদস্যরাও ছিলেন।
বিশদ

11th  August, 2019
শুধু উন্নয়ন নয়, ভোটের জন্য চাই ভালো মাস্টার
তন্ময় মল্লিক

মোটা বেতন দিয়ে মাস্টার রাখলেই ছেলেমেয়ে মানুষ হয় না। তেমনটা হলে সব বড়লোকের ছেলেমেয়েই উচ্চশিক্ষিত হতো। কিন্তু, তা তো হয় না। ছাত্রছাত্রীর পড়াশোনায় আগ্রহ, মেধা যেমন থাকা দরকার, তেমনই নজরদারিটাও জরুরি। ফাঁকিবাজি থাকলেই ছাত্র হয় গাড্ডু খাবে, অথবা ‘বিবেচনায়’ পাশ।
বিশদ

10th  August, 2019
পঞ্চায়েত নির্বাচন, ৩৭০ কিংবা ৩৫এ
শুভময় মৈত্র

পশ্চিমবঙ্গ ২০১৮, আর ত্রিপুরা ২০১৯। পঞ্চায়েত ভোটে ফলাফল একইরকম। ঠিক কত আসন সেটা গোনার দরকার নেই। সহজ অঙ্কে বিষয়টা এরকম। ধরা যাক, মোট আসন ১০০, শাসক দল বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়ী ৭০টি আসনে। বাকি তিরিশের মধ্যে তীব্র লড়াইয়ের শেষে শাসক দল ২০, বিরোধীরা দশ। পাটিগণিতের অঙ্ক একেবারে মিলে গেল।
বিশদ

10th  August, 2019
কাশ্মীর: নতুন চ্যালেঞ্জ
সমৃদ্ধ দত্ত

 প্রকৃত চ্যালেঞ্জ সরকারের। কাশ্মীরকে আন্তরিকভাবে ভারতের অন্তঃস্থলে মিশিয়ে দেওয়ার কাজটিই কিন্তু হবে কাশ্মীরের নয়া ইতিহাস রচনা। সেটা নিছক একটা ভূমিখণ্ড দখল নয়। কাশ্মীরিয়াৎকে আপন করে নেওয়া। একমাত্র তাহলেই পাকিস্তান সবথেকে বেশি ধাক্কা খাবে! আর কাশ্মীরিদের আমরা যদি শত্রু বিবেচনা করে চলি, তাহলে কিন্তু টেনিসের পরিভাষায় অ্যাডভান্টেজ পাকিস্তান হয়ে যাবে! সে সুযোগ দেব কেন?
বিশদ

09th  August, 2019
সংযুক্তিকরণের মিশ্র অভিজ্ঞতার পংক্তিতে কাশ্মীর
বিশ্বনাথ চক্রবর্তী

 সমস্ত প্রশ্ন আসলে আবর্তিত হচ্ছে মূলত কাশ্মীরসমস্যা সমাধানের প্রশ্নে ‘স্বাধিকার বনাম সংযুক্তিকরণ’ ভাবনাকে কেন্দ্র করে। নেহরুর অনুসৃত কাশ্মীরের স্বাধিকার মডেল বিগত ৭০ বছর ধরে কার্যকরী থাকলেও কাশ্মীরসমস্যার সমাধান কিন্তু অধরাই থেকে গিয়েছে। তৈরি হয়েছিল অচলাবস্থা। বিজেপির সংযুক্তিকরণ মডেলে কাশ্মীরের এই দীর্ঘ অচলাবস্থা ভেঙে এগিয়ে চলার কথা বলা হয়েছে। বিশ্বজুড়ে সংযুক্তিকরণ মডেলের যে অভিজ্ঞতা উঠে এসেছে, তা মিশ্র। চীনের সঙ্গে তিব্বতের সংযুক্তিকরণ সফল হয়েছে। আলাস্কার ক্ষেত্রেও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সংযুক্তিকরণ সফল ছিল। আবার চীনের সঙ্গে হংকংয়ের সংযুক্তিকরণ প্রক্রিয়া কিন্তু কঠিন বাধার সম্মুখীন হয়েছে। এখন দেখার, কাশ্মীরকে ভারতের মূল প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক ক্ষেত্রে সংযুক্তিকরণ প্রক্রিয়ার ফল কী হয়? বিশদ

08th  August, 2019
জিতে গেলেন শ্যামাপ্রসাদ
জিষ্ণু বসু 

দিনটি ছিল ১১ মে, ১৯৫৩। পারমিট ছাড়া কাশ্মীরে প্রবেশের অপরাধে পাঠানকোটের মাধোপুর সীমান্তে গ্রেপ্তার হলেন শ্যামাপ্রসাদ। সেখান থেকে শ্রীনগর ৩০০ কিমির বেশি। এতটা পথ পুলিসের জিপে আনা হল তাঁকে।  বিশদ

07th  August, 2019
তিন তালাক: এক কুপ্রথার অবসান
অমিত শাহ

কিছু দিন ইতিহাসে বিশিষ্ট হিসেবে চিহ্নিত হয়ে থাকে। ভারতের সংসদের ইতিবৃত্তে ৩০ জুলাই, ২০১৯ তেমনই একটি দিন। সংসদের উচ্চকক্ষে ঐতিহাসিক তিন তালাক বিলের জায়গা করে নেওয়াটা নিছক একটি নতুন আইনপ্রণয়ন নয়। এটি একটি ঐতিহাসিক ভুলের সংশোধনের বিষয়। এটি মুসলিম নারীদের সম্মান ও মর্যাদার পুনরুদ্ধারের বিষয়।
বিশদ

06th  August, 2019
দমনমূলক ফেডারালিজম
পি চিদম্বরম

 ১৯৯৭ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি বাজেট ভাষণে আমি ‘কোঅপারেটিভ ফেডারাল পলিটি’—এই ফ্রেজ বা বাগধারাটি ব্যবহার করেছিলাম। এই বাগধারা আমিই প্রথম ব্যবহার করেছি এমন কোনও দাবি করছি না, কিন্তু আমি আনন্দিত যে ‘কোঅপারেটিভ ফেডারালিজম’ কথাটি বাজেট ভাষণে এবং অন্য অনেক উপলক্ষে বারংবার ব্যবহার করা হয়ে থাকে।
বিশদ

05th  August, 2019
কলকাতা কি প্রবীণদের জন্য ক্রমশ বিপজ্জনক হয়ে উঠছে?
শুভা দত্ত

বুধবার ভোরের কাগজে চোখ রাখতেই এমন একটা প্রশ্ন যেন বুকের মধ্যে শেল হয়ে বিঁধল। এ কী কাণ্ড সব হচ্ছে! খুনের পর খুন! আর সেই খুনিদের টার্গেট কিনা নিরীহ সাধারণ প্রৌঢ় আর প্রবীণ! কী অপরাধ তাঁদের? অপরাধ তাঁরা বাড়িতে একলা থাকেন, তাঁদের ছেলেমেয়েরা হয়তো চাকরিসূত্রে দেশের অন্য রাজ্যে বা দূর বিদেশে। অপরাধ—তাঁদের একটা ছোট বড় জমি বাড়ি বাগান বা ফ্ল্যাট আছে, আছে সারাজীবন কষ্ট করে রোজগারের কিছু টাকা-পয়সা, ব্যাঙ্ক আমানত, গয়নাগাটি।
বিশদ

04th  August, 2019
একনজরে
প্রসেনজিৎ কোলে, কলকাতা: জোর করে দরজা আটকে পাতাল পথের ট্রেনে ওঠার অভিযোগে এক মাসেই জরিমানা বাবদ আদায় হয়েছে ১০ হাজার টাকা। স্টেশনে চলছে প্রচারও। তবুও ...

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: দক্ষিণ ভারতে একের পর এক পুলিসি অভিযানে ধরা পড়েছে বেশ কয়েকজন জেএমবি জঙ্গি। তাই জায়গা পরিবর্তন করে মধ্য ভারতে ঘাঁটি বানাতে শুরু করেছিল এই জঙ্গি সংগঠনের সদস্যরা।  ...

বিএনএ, কৃষ্ণনগর: ঘূর্ণির শিল্পী সুবীর পাল ‘লিমকা বুক অব রেকডর্সে’ নাম তুলে ফেললেন। সুবীরবাবুর ঝুলিতে অনেক আগেই এসেছে রাষ্ট্রপতি পুরস্কার। একইসঙ্গে বৃহৎ মূর্তি(লার্জার দ্যান লাইফ) এবং ক্ষুদ্র ভাস্কর্য তৈরি করে তিনি ঠাঁই পেয়েছেন লিমকা বুকে। ভেঙে ফেলেছেন আগের রেকর্ডও। সম্প্রতি ...

 মুম্বই, ১৩ আগস্ট: স্বার্থের সংঘাতের অভিযোগ থেকে রেহাই পেলেন প্রাক্তন অধিনায়ক রাহুল দ্রাবিড়। তার ফলে জাতীয় ক্রিকেট অ্যাকাডেমির কোচ হতে তাঁর সামনে আর কোনও বাধা রইল না। প্রশাসক কমিটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, রাহুল দ্রাবিড়ের বিরুদ্ধে স্বার্থের সংঘাতের যে অভিযোগ ...




আজকের দিনটি কিংবদন্তি গৌতম
৯১৬৩৪৯২৬২৫ / ৯৮৩০৭৬৩৮৭৩

ভাগ্য+চেষ্টা= ফল
  • aries
  • taurus
  • gemini
  • cancer
  • leo
  • virgo
  • libra
  • scorpio
  • sagittorius
  • capricorn
  • aquarius
  • pisces
aries

কোনও কিছুতে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে ভাববেন। শত্রুতার অবসান হবে। গুরুজনদের কথা মানা দরকার। প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় সুফল ... বিশদ


ইতিহাসে আজকের দিন

১৯৪৭- পাকিস্তানের স্বাধীনতা দিবস
১৯৪৮- শেষ ইনিংসে শূন্য রানে আউট হলনে ডন ব্র্যাডম্যান
১৯৫৬- জার্মা নাট্যকার বের্টোল্ট ব্রেখটের মৃত্যু
২০১১- অভিনেতা শাম্মি কাপুরের মৃত্যু 

ক্রয়মূল্য বিক্রয়মূল্য
ডলার ৭০.২৭ টাকা ৭১.৯৭ টাকা
পাউন্ড ৮৪.২৫ টাকা ৮৭.৩৭ টাকা
ইউরো ৭৮.০৭ টাকা ৮১.০৭ টাকা
[ স্টেট ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়া থেকে পাওয়া দর ]
পাকা সোনা (১০ গ্রাম) ৩৮,৪৩০ টাকা
গহনা সোনা (১০ (গ্রাম) ৩৬,৪৬০ টাকা
হলমার্ক গহনা (২২ ক্যারেট ১০ গ্রাম) ৩৭,০০৫ টাকা
রূপার বাট (প্রতি কেজি) ৪৪,৬০০ টাকা
রূপা খুচরো (প্রতি কেজি) ৪৪,৭০০ টাকা
[ মূল্যযুক্ত ৩% জি. এস. টি আলাদা ]

দিন পঞ্জিকা

২৮ শ্রাবণ ১৪২৬, ১৪ আগস্ট ২০১৯, বুধবার, চতুর্দশী ২৬/১৩ দিবা ৩/৪৬। উত্তরাষাঢ়া ০/৫ প্রাতঃ ৫/১৯। সূ উ ৫/১৬/৩৫, অ ৬/৬/১৬, অমৃতযোগ দিবা ৬/৫৮ মধ্যে পুনঃ ৯/৩৩ গতে ১১/১৫ মধ্যে পুনঃ ৩/৩২ গতে ৫/১৫ মধ্যে। রাত্রি ৬/৫২ গতে ৯/৬ মধ্যে পুনঃ ১/৩৩ গতে উদয়াবধি, বারবেলা ৮/২৯ গতে ১০/৫ মধ্যে পুনঃ ১১/৪২ গতে ১/১৮ মধ্যে, কালরাত্রি ২/২৯ গতে ৩/৫২ মধ্যে। 
২৮ শ্রাবণ ১৪২৬, ১৪ আগস্ট ২০১৯, বুধবার, চতুর্দশী ২৪/৩১/৩ দিবা ৩/৪/৩। উত্তরাষাঢ়ানক্ষত্র ২/১০/১৭ দিবা ৬/৭/৪৫, সূ উ ৫/১৫/৩৮, অ ৬/৮/৪২, অমৃতযোগ দিবা ৭/০ মধ্যে ও ৯/৩২ গতে ১১/১৪ মধ্যে ও ৩/২৮ গতে ৫/১০ মধ্যে এবং রাত্রি ৬/৪৬ গতে ৯/১ মধ্যে ও ১/৩২ গতে ৫/১৬ মধ্যে, বারবেলা ১১/৪২/১০ গতে ১/১৮/৪৮ মধ্যে, কালবেলা ৮/২৮/৫৪ গতে ১০/৫/৩২ মধ্যে, কালরাত্রি ২/২৮/৫৪ গতে ৩/৫২/১৬ মধ্যে। 
১২ জেলহজ্জ 

ছবি সংবাদ

এই মুহূর্তে
তৃতীয় একদিনের ম্যাচ: বৃষ্টিতে ফের বন্ধ খেলা, ওয়েস্ট ইন্ডিজ ১৫৮/২(২২ওভার)  

09:25:56 PM

তৃতীয় একদিনের ম্যাচ: ওয়েস্ট ইন্ডিজ ১৩১/২(১৫ওভার)  

08:44:01 PM

তৃতীয় একদিনের ম্যাচ: ওয়েস্ট ইন্ডিজ ১১৪/০(১০ ওভার)  

08:19:26 PM

 আগামীকাল কম ট্রেন মেট্রোয়
আগামীকাল ১৫ আগস্ট স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে ছুটি থাকায় ...বিশদ

08:12:59 PM

তৃতীয় একদিনের ম্যাচ: ওয়েস্ট ইন্ডিজ ২৯/০(৫ ওভার)  

07:49:21 PM

তৃতীয় একদিনের ম্যাচ: বৃষ্টিতে বন্ধ খেলা, ওয়েস্ট ইন্ডিজ ৮/০(১.৩ ওভার) 

07:24:54 PM