Bartaman Patrika
বিশেষ নিবন্ধ
 

স্বাধীনতা ৭৩ এবং ভূস্বর্গের মুক্তি
মেরুনীল দাশগুপ্ত

গরিবি যতদিন না যাবে ততদিন এই উপত্যকায় শান্তি আসবে না। কারণ, কাশ্মীরি মানুষের গরিবিই ওদের একটা বড় হাতিয়ার। গরিব মানুষজনের অনেকেই ক’টা টাকার লোভে পড়ে সীমান্তর ওপার থেকে আসা লোকজনকে আশ্রয় দিয়ে, লুকিয়ে রেখে, খাবারদাবারের ব্যবস্থা করে ভ্যালির বিপদ বাড়িয়ে তুলছে। কেউ কেউ আবার মোটা টাকার আশায় ওদের সঙ্গী হয়ে খুনোখুনি সন্ত্রাসে শামিল পর্যন্ত হয়ে পড়ছে! এদের বুঝিয়ে লাভ নেই। পেটের টান যে বড় টান। অভাব মেটান, পড়াশুনা, চাকরিবাকরির সুযোগসুবিধে বাড়িয়ে দিন— আপসে সব ঠান্ডা হয়ে যাবে। জঙ্গিরা বর্ডার পেরবার সাহস পাবে না। আর পেরলেও সহজে লুকোবার জায়গা পাবে না। ফলে সন্ত্রাস ছড়ানোও তাদের পক্ষে কঠিন হয়ে পড়বে। তখন আমরাও একটু ভালোভাবে বাঁচতে পারব, আপনাদের শ্রীনগরও তার হারানো শ্রী ফিরে পাবে। কয়েক বছর আগে শ্রীনগরের পামপোরে তাঁর বাড়িতে বসে কথাগুলো বলেছিলেন ওয়ানিসাব, গুলাম নবি ওয়ানি— তৎকালীন জম্মু ও কাশ্মীর সরকারের পদস্থ অফিসার। এই শহরেই তাঁর সঙ্গে আলাপ এবং কয়েকবছর আগে তাঁর সোৎসাহ প্ররোচনায় কাশ্মীর বেড়াতে গিয়ে এই সজ্জন সুদর্শন দীর্ঘদেহী সর্বদা হাসিমুখ কাশ্মীরি মানুষটির সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা গভীরতর হয়েছিল অনিবার্যভাবেই। সেই সুবাদে তাঁর বাড়িতে আমার নিমন্ত্রণ রক্ষা করতে গিয়ে দেখেছিলাম কাশ্মীরি অতিথিপরায়ণতা কত আন্তরিক, কত সুন্দর, কত প্রীতিপ্রদ হতে পারে। পরিবারের শিশু থেকে প্রবীণ সকলের সঙ্গে মিলেমিশে আড্ডা দিতে দিতে (যেন কতকালের চেনা) কাশ্মীরি চা ‘কাওয়া’ থেকে টা থেকে বাড়িতে তৈরি অপূর্ব স্বাদ মেইন কোর্স— আজও ভুলতে পারিনি। সেদিন ওয়ানিসাবের বাড়ি থেকে হোটেলে ফেরার পথে মোগল বাদশাহের মতো আমারও মনে হয়েছিল, এই ধরাধামে স্বর্গ যদি কোথাও থাকে তো সে এইখানে, এইখানে, এইখানে।
আমরা যখন কাশ্মীরে তখন উপত্যকার সন্ত্রাসে একটু যেন ভাটার টান ধরেছিল। ফলে, পর্যটক ভিড় খুব বেশি না হলেও ছিল এবং বন্ধ হোটেল দোকানপাট হাউসবোটগুলোর একাংশও উদ্বেগ সংশয় কাটিয়ে জেগে ওঠার চেষ্টা করছিল। জঙ্গি দাপটে দিশেহারা প্রায় স্তব্ধ বিভ্রান্ত ত্রস্ত কাশ্মীরি জনজীবনে প্রাত্যহিকের স্বাভাবিক ছন্দও ফিরে এসেছিল অনেকটাই। কিন্তু, আমরা ফিরে আসার পরপরই ফের শুরু হয়ে গিয়েছিল জঙ্গি তাণ্ডব। বেশ মনে আছে তিনি এবং তাঁর পরিবারের খোঁজ নিতে যখনই ফোন করেছি তখনই ওয়ানিসাবের গলায় একটা জড়তার আভাস পেয়েছি। মুখে হয়তো তিনি বলেছেন, না না— চিন্তা করবেন না। আমরা ভালো আছি। পামপোরেতে গোলমাল নেই। অন্য জায়গায় হয়েছে— আমরা এখানে ঠিকঠাকই আছি। আপনাকে তো বলেইছি— এসব ততদিন যাবে না, যতদিন না...! ফোন কেটে গেছে লাইন বিভ্রাটে নাকি এক কথা বলার ক্লান্তি এড়াতে তিনিই সরে গেছেন বুঝতে পারিনি। আবার কখনও ফোনেই কিছুটা বিষণ্ণ শুনিয়েছে তাঁর কণ্ঠ— আমরা তো বন্দি, ভারতে থেকেও আমরা তো পুরোপুরি ভারতের নই! তাই আমাদের বিপদ আমাদের অসুবিধে আর পাঁচজনের চেয়ে অনেক বেশি।
মানে!? আপনারা তো ভারতের বিশেষ-অঞ্চল, বিশেষ সুবিধেভোগী! ওয়ানিসাব হেসেছেন— থ্রি সেভেন্টির কথা বলছেন? ৩৭০ ধারা? ওটাই তো একধরনের বন্ডেজ। গরিব মানুষজন সস্তায় চাল-ডাল কিছু পায় ব্যাস। আর কী? কিন্তু, লাস্ট সাড়ে ছয় দশকে এখানে উন্নয়ন কী হল, গরিব কাশ্মীরিদের জীবনমানে কতটা পরিবর্তন হল ওই ৩৭০ দিয়ে একটু খোঁজ করতে বলুন না আপনাদের জার্নালিস্টদের। কথাটার অন্তর্নিহিত ব্যঙ্গ বুঝতে অসুবিধে হয়নি। বরং, তাঁর কথায় মনে পড়ল শ্রীনগরের রেস্তরাঁর সেই বসিরের মন্তব্য, ওই ৩৭০টায় আমাদের পায়ের বেড়ি হয়ে আছে। হ্যাঁ, ওই ভাঙিয়ে কেউ কেউ আরাম আয়েশে দিন কাটাচ্ছে সন্দেহ নেই, তবে আম পাবলিকের ওতে কোনও ফায়দা হয়নি। ফায়দা হয়েছে কটা পরিবারের। এই পরিবারগুলো শুরু থেকে এই ভ্যালিটাকে জমিদারি হিসেবে দেখেছে আর মানুষের দুঃখ-দারিদ্র্য ভাঙিয়ে রাজনীতি করে গেছে। এমনকী, এদের এক-আধজন প্রকারান্তরে সীমান্ত সন্ত্রাসেও পরোক্ষ মদত জুগিয়েছে আর উপত্যকায় অস্থিরতা তৈরি হলে তাকে সামনে রেখে গদি গুছিয়েছে। এদেরই একজনের মেয়েকে বাঁচাতে মারাত্মক জঙ্গিকে ছেড়ে দিতে হয়েছে— এমনও তো দেখেছি আমরা। দেখিনি? কাশ্মীরিদের এই কব্জা থেকে মুক্তি নেই। এবং এখানেই না থেমে সেদিন ওই বসির এবং তাঁর বন্ধুরা যা বলেছিলেন তার সারমর্ম মিলে গিয়েছিল ওয়ানিসাবের বক্তব্যের সঙ্গে। তাঁরাও বলছিলেন— যে যাই বলুক, এই ৩৭০টা আমাদের চারপাশে একটা বেরিয়ার, বাধার বেড়া দিয়ে রেখেছে। এটাকে হটিয়ে গোটা ভারতের সঙ্গে একাত্ম হতে না পারলে আমাদের মুক্তি নেই।
স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন ওঠে, এবার কি সেই বহু প্রত্যাশিত মুক্তির আলো দেখা দিল ভূস্বর্গে? সংবিধানের ৩৭০ ধারা রদের সিদ্ধান্তে স্বাধীনতার সাত দশক পরে সত্যিই কি ভূস্বর্গের মুক্তি ঘটল? বিশ্বের বৃহত্তম গণতন্ত্র ভারতবর্ষের মূল স্রোতে এসে মিশল ৭৩ বছর ‘বিশেষ সুবিধাভোগী’ হয়ে কার্যত বহুজনার ঈর্ষানজরে একঘরে আমাদের শ্রীনগর, কাশ্মীর, আমাদের স্বপ্নের সৌন্দর্যলোক? সেই অপরূপের রাজ্যে মানুষজন কি এবার সত্যিই শিক্ষা, স্বাস্থ্য, পরিষেবা, জীবন-জীবিকায় আধুনিক উন্নয়ন-উন্নতির সুযোগ-সুবিধা পাবেন, কাশ্মীরি তরুণ-তরুণী পাবেন মনমতো চাকরিবাকরি? এবার কি শান্তি ফিরবে ভূস্বর্গে, বন্ধ হবে সীমান্তপারের হানাদারদের সন্ত্রাস, হত্যালীলা? আরও আরও বহু অনিবার্য প্রশ্নও উঠে আসছে আগস্টের শুরুতে সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের ঘোষণার পর। জম্মু ও কাশ্মীর থেকে লাদাখকে পৃথক করে দুটি স্বতন্ত্র কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল ঘোষণা এবং সেই সঙ্গে এই অঞ্চলে ৩৭০ ধারার বিশেষ সুবিধা রদের ঘোষণায় অনিবার্যভাবে দেশজুড়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে। বিজেপি বিরোধীদের অনেকেই, বিশেষত সিপিএম ৩৭০ রদের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে প্রতিবাদে মুখর হয়েছে। তাদের তালে তাল মিলিয়েছেন অনেকেই। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৃণমূল সংশ্লিষ্ট প্রস্তাব পেশের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে সংসদ থেকে ওয়াকআউট করেছে। কিন্তু ৩৭০ রদের সিদ্ধান্তে গোটা দেশের সাধারণ মহল তেমন বিরূপতা দেখাল কি? এই মহানগরীর পথঘাট অফিসকাছারি আড্ডা কিন্তু দেখায়নি। খুচখাচ বিতর্ক-তর্ক বেধেছে বটে, তবে শেষপর্যন্ত এক দেশ এক পতাকা এক আইন তত্ত্বকে সরাসরি খারিজ করার মতো জোরালো যুক্তি খুঁজে পায়নি কলকাতা। তবে গেরুয়া শিবির এই সিদ্ধান্তের মধ্যে শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের স্বপ্ন সাকার হওয়ার যে কথা বলছে তাতে বঙ্গবাসীজনের অনেকেই হয়তো শামিল হচ্ছেন না। নাই হতে পারেন। কিন্তু, আশ্চর্যজনক হলেও সত্যি— নরেন্দ্র মোদিজির সরকারের এই সিদ্ধান্তকে ঐতিহাসিক বলে চিহ্নিত করতে কিন্তু তাঁদেরও বাধছে না!
আসলে এখানে একটা সেন্টিমেন্ট একটা জাতীয়তাবাদী আবেগও হয়তো কাজ করছে। স্বাধীন ভারতে আসমুদ্রহিমাচল তেরঙা ছাড়া কেন বিশেষ একটি রাজ্যের জন্য বিশেষ পতাকা থাকবে— আবেগের মূল কথা এটাই। ৩৭০ ধারা রদের কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তের পর এই কথাটা অনেকের মুখে শুনেছি। কথাটাকে যুক্তিহীন বলে উড়িয়ে দেওয়া যায় কি? অনেকে এদিক সেদিক সোশ্যাল মিডিয়া খবরের কাগজ ইত্যাদি ঘেঁটে পড়ে এখন কাশ্মীর বিশেষজ্ঞ— তাঁরা উপত্যকায় জমি-বাড়ি কেনা ব্যবসাপাতি করায় এতদিনের নিষেধাজ্ঞা নিয়ে সরব। অসভ্যতাও চলছে ভূস্বর্গের মানুষজন মহিলা পুরুষদের নিয়ে। নির্বোধ মূঢ় বিকৃতরুচি ছাড়া কে আর কাশ্মীরের তরুণীদের নিয়ে ওইসব ইতর চিন্তা প্রকাশ করতে পারে! এইসব পচা পাঁক নিয়ে আলোচনা যত কম করা যায় ততই ভালো। দুর্ভাগ্য এই যে, যে পদ্মদলের উদ্‌঩যোগে এমন ঐতিহাসিক একটা দৃষ্টান্ত তৈরি হল সেই দলেরই এক অপোগণ্ড বিধায়কের নাম ওই ইতরভাষণে যুক্ত হয়ে গেছে! আমরা নিশ্চিত দেশ রাজ্যের সাধারণ রুচিমান মানুষ চাইছেন, উন্নাওকাণ্ডের পাষণ্ডটাকে যেমন কড়া নজরে দেখেছেন দেশের শাসক এবং চরম শাস্তির ব্যবস্থা করার উদ্যোগ নিয়েছেন— ভূস্বর্গের তরুণীদের নিয়ে কদর্য মন্তব্য করা ওই লোকটার জন্যও একই পদক্ষেপ করবেন তাঁরা। কারণ, জাতীয় সংহতি যেখানে লক্ষ্য সেখানে এমন মন্তব্য যে তার পরিপন্থী তা বলার অপেক্ষা রাখে না। অনেকে হয়তো বলবেন, কোথাকার কোন অখ্যাত একটা লোক একটা বিধায়ক— তার বর্বর কথা উপেক্ষা করাই ঠিক। হয়তো ঠিক। কিন্তু, ঘোষিত উদ্দেশ্য যেখানে মহৎ, সারা ভারত এক হয়ে একাকার হয়ে এক পতাকাতলে থাকার মতো গরিমাময় সনাতন ঐতিহ্যের দিকে আমাদের টানছে সেখানে এক মন দুধে এক ফোঁটা চোনার মতো ওইসব কিড়েমাকোরে কেন থাকবে?
এরা জানে বিগত শতকের নব্বই দশকের প্রায় গোড়া থেকে কী অবর্ণনীয় কষ্টের মধ্যে জম্মুর ক্যাম্পে দিনের পর দিন বছরের পর বছর কাটিয়েছেন কাটাচ্ছেন কাশ্মীরের লাখ লাখ পণ্ডিত পরিবার! এঁরাও তো কাশ্মীরি। আজও যাঁরা ভূস্বর্গের বাসিন্দাদের নিয়ে অসভ্য মশকরা করছেন তাঁরা একটু খোঁজখবর নিন। হুমকি নির্দেশে রাতারাতি সেদিন ঘর ছাড়তে হয়েছিল তাঁদের। সহায় সম্বলহীন সেই মানুষজনেদের জায়গা হয়েছিল জম্মুর খোলা মাঠে, অস্থায়ী ছাউনিতে। তাঁদের অনেকেই ছিলেন সম্পন্ন গৃহস্থ। হঠাৎ করে অমন অস্বচ্ছ অস্বাস্থ্যকর যাপনের সঙ্গে মানিয়ে নিতে কী যন্ত্রণা হয়েছিল তাঁদের, তা তখন ওই আশ্রয় শিবিরগুলোয় বসবাসকারীদের সঙ্গে কথা বলেই হাড়ে হাড়ে বুঝেছিলাম। অপরাধ কী ছিল তাঁদের? জানি না। যেটুকু জেনেছিলাম তার উল্লেখও আজ নিষ্প্রয়োজন। তাছাড়া, সেইসময় থেকে আজ অবধি আমরা কেউ কি জানতে চেয়েছি ওঁরা কেমন আছেন? জানতে চাইনি কোনওদিন, খোঁজও রাখিনি। তাই নামটা ভুলে গেছি সেই উচ্চশিক্ষার্থী (যতদূর মনে পড়ছে মেডিক্যাল ছাত্রী) তরুণীর যিনি ১৯৯৩ সালের শেষ ডিসেম্বরের কোনও এক বিকেলে ভেজা চোখ আকাশে রেখে শুধু বলেছিলেন, বলতে পারেন কবে ফিরব আমরা আমাদের বাড়ি? এখানে এই বেআব্রু নোংরায় কি থাকা যায় বলুন? বলতে পারিনি। আজ এত বছর পরে তিনি কোথায় জানি না। তাঁদের শ্রীনগরের বাড়িতে শেষপর্যন্ত ফিরতে পেরেছেন কি না তাও জানি না। হয়তো খুব ভালো একজন ডাক্তার হয়ে দেশের অন্য কোথাও অন্য কোনওখানে তিনি এখন রোগীর সেবায় রত।
কিন্তু যেখানেই থাকুন চাইলে এবার স্বাধীনতার ৭৩তম উৎসবটা তিনি মুক্ত ভূস্বর্গে ওয়ানিসাব কি বসিরের পরিবারের সঙ্গে মিলেমিশে একাকার হয়ে মানাতেই পারেন। ভারত সরকার ৩৭০ সরিয়ে যে বার্তাটি দিয়েছে তাতে এই আশ্বাস পরিষ্কার। ধর্মনিরপেক্ষ সংহতিকামী ভারতে স্বাধীনতা দিবসে এমন তোফা—এও কি নজিরবিহীন নয়?
15th  August, 2019
আত্মশক্তি ও আমরা
সমৃদ্ধ দত্ত

 এসব থাকলে যেটা হবে তা হল সর্বদা সরকারের উপর নির্ভর করে থাকতে হবে না। আমার কাছে সবথেকে আদর্শ হল গ্রামবাসীরা যদি নিজেদের ভালোর জন্য পারস্পরিক সহায়তায় নিজেরাই জোট বাঁধে। ভেদাভেদ ভুলে কী করলে গোটা গ্রামের উন্নতি ও মঙ্গল হবে, সেটা উপলব্ধি করে নিজেরাই পরিশ্রম করলে দেখা যাবে উন্নতির আলো। বিশদ

অ্যাট দ্য হোয়াইট হাউস কলাম থেকেই
খবরের কেন্দ্রে মার্কিন প্রেসিডেন্টের বাড়ি
মৃণালকান্তি দাস

 ১৮৯৬ সাল। উইলিয়াম ‘ফ্যাটি’ প্রাইস ওয়াশিংটন ইভিনিং স্টার পত্রিকায় কাজ করার একটা সুযোগ খুঁজছিলেন। পত্রিকার সিটি এডিটর হ্যারি গডউইন প্রাইসকে স্থায়ী চাকরি দেওয়ার আগে হোয়াইট হাউসে পাঠালেন একটি সংবাদ তৈরি করার জন্য। ওই সময় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ছিলেন গ্রোভার ক্লিভল্যান্ড। বিশদ

ন্যাশনাল মেডিক্যাল কমিশন বিল: কিছু আশঙ্কা
বিষাণ বসু

চারদিকে বড় হইচই। বিষয় ন্যাশনাল মেডিক্যাল কমিশন বিল। স্বাধীনতার পর থেকেই দেশের মেডিক্যাল শিক্ষার ব্যাপারটা দেখছিলেন এমসিআই, অর্থাৎ মেডিক্যাল কাউন্সিল অফ ইন্ডিয়া। এমসিআই নিয়ে অভিযোগ ছিল বিস্তর—বিশেষত, তাঁদের কিছু কর্তাব্যক্তিকে নিয়ে। বিশদ

22nd  August, 2019
চক্রব্যূহে জাতীয় কংগ্রেস:
সোনিয়ার প্রত্যাবর্তন
প্রণবকুমার চট্টোপাধ্যায়

 আগস্ট মাস জাতীয় কংগ্রেস ও ভারতীয় রাজনীতিতে স্মরণীয় মাস। ১৯৪২ সালের ৮ আগস্ট ভারত ছাড়ো আন্দোলনের সূচনা হয়, আবার ১৯৪৭ সালের ১৫ আগস্ট ভারত স্বাধীনতা অর্জন করে। মজার কথা, বিগত ১০ আগস্ট মধ্যরাত্রে কংগ্রেস ওয়ার্কিং কমিটি নতুন কংগ্রেস সভাপতির নাম স্থির করার জন্য পাঁচটি কমিটি শলা-পরামর্শে বসে।
বিশদ

22nd  August, 2019
ন্যাশনাল মেডিক্যাল কমিশন বিল: কিছু আশঙ্কা 
বিষাণ বসু

চারদিকে বড় হইচই। বিষয় ন্যাশনাল মেডিক্যাল কমিশন বিল। স্বাধীনতার পর থেকেই দেশের মেডিক্যাল শিক্ষার ব্যাপারটা দেখছিলেন এমসিআই, অর্থাৎ মেডিক্যাল কাউন্সিল অফ ইন্ডিয়া। এমসিআই নিয়ে অভিযোগ ছিল বিস্তর—বিশেষত, তাঁদের কিছু কর্তাব্যক্তিকে নিয়ে। 
বিশদ

20th  August, 2019
জম্মু-কাশ্মীর: উন্নয়ন ও অন্তর্ভুক্তির নতুন প্রভাত
রবিশঙ্কর প্রসাদ
 

জম্মু-কাশ্মীরের সাধারণ মানুষের কল্যাণে সংবিধানের ৩৭০ ধারা বাতিল করা হয়েছে। এর ফলে, ৭০ বছরের পুরনো একটা সমস্যার নতুন সরকারের ক্ষমতা গ্রহণের ৭০ দিনেরও কম সময়ে সমাধান হল। এই কারণে আমাদের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সাহস ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের ইচ্ছাশক্তিকে প্রশংসা করা উচিত।
 
বিশদ

20th  August, 2019
নিস্তেজ অর্থনীতির সত্যটা সরকার ভুলে যাচ্ছে 
পি চিদম্বরম

রাষ্ট্রপতি ভবন হল সরকারের ক্ষমতার আসনের প্রতীক। এক কিলো মিটার ব্যাসার্ধের মধ্যে সংসদ ভবন, প্রধানমন্ত্রীর অফিস (পিএমও), নর্থ ব্লক ও সাউথ ব্লক—মানে স্বরাষ্ট্র, অর্থ, প্রতিরক্ষা ও বিদেশ-এর মতো উচ্চ মন্ত্রকগুলি রয়েছে।   বিশদ

19th  August, 2019
সভাপতি পদে সোনিয়াজির প্রত্যাবর্তনে কংগ্রেস কি ছন্দ ফিরে পাবে
শুভা দত্ত

ছন্দ তো হারিয়েছে বহুদিন। ছন্দে ফেরার চেষ্টা—সেও শুরু হয়েছে বহুদিন। কিন্তু কিছুতেই যেন সেই পুরনো দমদার ছন্দে ফিরতে পারছে না জাতীয় কংগ্রেস! নেহরু-ইন্দিরার আমল থেকে গান্ধী পরিবারের ছত্রচ্ছায়ায় এবং নেতৃত্বে দলের যে অপ্রতিরোধ্য ছন্দ গোটা দেশকে কংগ্রেসি তেরঙ্গায় বেঁধে রেখেছিল, যে ছন্দ কংগ্রেস প্রতীক ইন্দিরার পাঞ্জার উপর বছরের পর বছর দেশের মানুষের আস্থা বিশ্বাস ও আবেগ ধরে রেখেছিল, জরুরি অবস্থা, নাসবন্দির মতো কাণ্ডের পরও যে ছন্দ ক্ষমতার কেন্দ্রে ফিরিয়ে এনেছিল কংগ্রেসকে, ইন্দিরা এবং ইন্ডিয়া হয়ে উঠেছিলেন সমার্থক—জাতীয় কংগ্রেসের সেই অমিত শক্তি রাজনৈতিক ছন্দ অনেক কাল আগেই ইতিহাসের পাতায় ঠাঁই নিয়েছে।
বিশদ

18th  August, 2019
ওয়াল স্ট্রিটের ‘নেকড়ে’-র গল্প!
মৃণালকান্তি দাস

ওয়াশিংটনের অপরিচিত কোনও এক পথে হাঁটতে হাঁটতে গল্পটা শুনিয়েছিলেন এমিলি ব্রাউন। গল্প বলতে, এক অপরাধীর ঘুরে দাঁড়ানোর কাহিনী। জর্ডন বেলফোর্টের গল্প। যিনি জীবনে অপরাধের নেশায় পড়ে সবকিছু হারিয়েছিলেন। কে এই জর্ডন বেলফোর্ট, জানেন? যাঁর জীবন কাহিনী শুনলে মনে হবে, এ এই মার্কিন মুলুকেই সম্ভব! বিশদ

17th  August, 2019
বনে থাকে বাঘ 
অতনু বিশ্বাস

ছেলেবেলায় ‘সহজ পাঠ’-এ পড়েছিলাম ‘বনে থাকে বাঘ’। যদিও এই পাঠটা যে খুব সহজ আর স্বাভাবিক নাও হতে পারে, অর্থাৎ বনে বাঘ নাও থাকতে পারে, সেটা বুঝতে বেশ বড় হতে হল। ছোটবেলায় অবশ্য মনে বদ্ধমূল ধারণা ছিল, বন-জঙ্গল গিজগিজ করে বাঘে। 
বিশদ

13th  August, 2019
রক্ষক আইন যেন ভক্ষক না হয়
শান্তনু দত্তগুপ্ত 

ভিক্টরি ম্যানসনে ঢুকলেন উইনস্টন স্মিথ। বহুতলে ঢুকেই নজরে আসবে দো’তলা সমান আখাম্বা ছবিটা। শুধু একটা মুখ। নীচে ক্যাপশন করা, বিগ ব্রাদার কিন্তু তোমাকে দেখছে। জর্জ অরওয়েলের কালজয়ী উপন্যাস ১৯৮৪-এর শুরুতেই উল্লেখ এই ছবির। আর এই নভেলের সারমর্মও লুকিয়ে এই ছবিতে—বিগ ব্রাদার দেখছে, তাই সাবধান। সাবধান হও সবাই... সরকারি কর্মচারী, ব্যবসায়ী, সাফাইকর্মী, বেসরকারি চাকুরে... মোদ্দা কথা নারী-পুরুষ নির্বিশেষে। সবসময় নজরদারি।  
বিশদ

13th  August, 2019
পুতিন কি পারবেন নতুন বিশ্বের নেতৃত্ব দিতে?
গৌরীশঙ্কর নাগ

 ১৯১৭ খ্রিস্টব্দে বা তার কিছু আগে থেকে লেনিন, ট্রটস্কি প্রমুখ নিবেদিত প্রাণ কমরেডের হাত ধরে সোভিয়েত সমাজতন্ত্র নামক যে মহীরুহটি ধীরে ধীরে গড়ে উঠেছিল তা গর্বাচেভ ক্ষমতাসীন হওয়ার পর কীভাবে তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়েছে—বিস্ময়ের সঙ্গে আমরা সেটা দেখেছি।
বিশদ

12th  August, 2019
একনজরে
সংবাদদাতা, লালবাগ: জিয়াগঞ্জ শহরের ভট্টপাড়ায় ভাগীরথীর পাশে সবুজে ঘেরা পরিবেশে ভবঘুরেদের জন্য চারতলা ঝাঁ চকচকে আবাসন তৈরি হলেও তা এখন ফাঁকা পড়ে। ৫০শয্যার ‘ভালোবাসা’য় চলতি বছরের প্রথম থেকেই শহর বা পুরসভা এলাকার ভবঘুরেদের নিয়মিত থাকা-খাওয়ার কথা থাকলেও তাঁদের দেখা নেই। ...

 ইসলামাবাদ, ২২ আগস্ট (পিটিআই): সেপ্টেম্বরে রাষ্ট্রসঙ্ঘের সাধারণ সভার অধিবেশন চলাকালীন নিউ ইয়র্কে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বিরুদ্ধে বিক্ষোভ দেখানোর নির্দেশ দিলেন ইমরান খান। কাশ্মীর ইস্যুকে সামনে রেখে তাঁর পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ দলের নেতা-কর্মীদের এই নির্দেশ দিয়েছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী। ...

সংবাদদাতা, ইসলামপুর: ইসলামপুর পুরসভার ১৪ নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলার তৃণমূল কংগ্রসের রঞ্জন মিশ্রের কাছ থেকে কাটমানি ফেরত পেতে বৃহস্পতিবার শতাধিক বাসিন্দা এবার পুরসভার চেয়ারম্যান কানাইয়ালাল আগরওয়ালের দ্বারস্থ হলেন। এদিন সকালে তাঁরা পুরসভা কার্যালয়ে এসে কানাইয়াবাবুর কাছে কাটমানি ফেরাতে পদক্ষেপের দাবি করেন। ...

 ন্যাশনাল স্টক এক্সচেঞ্জে যেসব সংস্থার শেয়ার গতকাল লেনদেন হয়েছে শুধু সেগুলির বাজার বন্ধকালীন দরই নীচে দেওয়া হল। ...




আজকের দিনটি কিংবদন্তি গৌতম
৯১৬৩৪৯২৬২৫ / ৯৮৩০৭৬৩৮৭৩

ভাগ্য+চেষ্টা= ফল
  • aries
  • taurus
  • gemini
  • cancer
  • leo
  • virgo
  • libra
  • scorpio
  • sagittorius
  • capricorn
  • aquarius
  • pisces
aries

উচ্চপদস্থ ব্যক্তির সহায়তায় কর্মস্থলে জটিলতার সমাধান। বাতজ বেদনায় কষ্ট পাবার সম্ভাবনা। প্রেম-প্রণয়ে সাফল্য। পরশ্রীকাতর ব্যক্তির ... বিশদ


ইতিহাসে আজকের দিন

১৮৯৮-কথা সাহিত্যিক তারাশংকর বন্দ্যোপাধ্যায়ের জন্ম
১৯৪৪- অভিনেত্রী সায়রাবানুর জন্ম
১৯৯৪- ইংলিশ চ্যানেল অতিক্রমকারী সাঁতারু আরতি গুপ্তর (সাহা) মৃত্যু

ক্রয়মূল্য বিক্রয়মূল্য
ডলার ৭০.৭৯ টাকা ৭২.৪৯ টাকা
পাউন্ড ৮৫.৩৪ টাকা ৮৮.৫১ টাকা
ইউরো ৭৭.৯৮ টাকা ৮০.৯৪ টাকা
[ স্টেট ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়া থেকে পাওয়া দর ]
পাকা সোনা (১০ গ্রাম) ৩৮,২৮৫ টাকা
গহনা সোনা (১০ (গ্রাম) ৩৬,৩২৫ টাকা
হলমার্ক গহনা (২২ ক্যারেট ১০ গ্রাম) ৩৬,৮৭০ টাকা
রূপার বাট (প্রতি কেজি) ৪৪,০৫০ টাকা
রূপা খুচরো (প্রতি কেজি) ৪৪,১৫০ টাকা
[ মূল্যযুক্ত ৩% জি. এস. টি আলাদা ]

দিন পঞ্জিকা

৬ ভাদ্র ১৪২৬, ২৩ আগস্ট ২০১৯, শুক্রবার, সপ্তমী ৭/৪ দিবা ৮/৯। কৃত্তিকা ৫৬/৯ রাত্রি ৩/৪৭। সূ উ ৫/১৯/৪১, অ ৫/৫৯/১৩, অমৃতযোগ দিবা ৭/০ মধ্যে পুনঃ ৭/৫১ গতে ১০/২৩ মধ্যে পুনঃ ১২/৫৬ গতে ২/৩৭ মধ্যে পুনঃ ৪/১৮ গতে অস্তাবধি। রাত্রি ৭/৩০ গতে ৯/১ মধ্যে পুনঃ ৩/৩ গতে ৩/৪৮ মধ্যে, বারবেলা ৮/২৯ গতে ১১/৩৯ মধ্যে, কালরাত্রি ৮/৪৯ গতে ১০/১৪ মধ্যে।
৫ ভাদ্র ১৪২৬, ২৩ আগস্ট ২০১৯, শুক্রবার, অষ্টমী ৫৫/৩০/৩৯ রাত্রি ৩/৩১/১। কৃত্তিকানক্ষত্র ৪৭/২৮/৩০ রাত্রি ১২/১৮/৯, সূ উ ৫/১৮/৪৫, অ ৬/২/১৩, অমৃতযোগ দিবা ৭/২ মধ্যে ও ৭/৫২ গতে ১০/২০ মধ্যে ও ১২/৪৮ গতে ২/২৭ মধ্যে ও ৪/৬ গতে ৬/২ মধ্যে এবং রাত্রি ৭/১২ গতে ৮/৫১ মধ্যে ও ৩/৪ গতে ৩/৫১ মধ্যে, বারবেলা ৮/২৯/৩৭ গতে ১০/৫/৩ মধ্যে, কালবেলা ১০/৫/৩ গতে ১১/৪০/২৯ মধ্যে, কালরাত্রি ৮/৫১/২১ গতে ১০/১৫/৫৫ মধ্যে।
২১ জেলহজ্জ

ছবি সংবাদ

এই মুহূর্তে
লুধিয়ানায় সাইকেল মার্কেট এলাকায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড 

02:28:00 PM

চাকরি দেওয়ার নামে প্রতারণা, গ্রেপ্তার ৩
চাকরি পাইয়ে দেবার নাম করে ৩৭ লক্ষ টাকার প্রতারণার অভিযোগ। ...বিশদ

02:17:00 PM

৭০০ পয়েন্ট উঠল সেনসেক্স 

02:15:00 PM

সোমবার পর্যন্ত চিদাম্বরমকে গ্রেপ্তার করতে পারবে না ইডি, জানাল সুপ্রিম কোর্ট  

01:40:37 PM

কচুয়ায় পদপিষ্টের ঘটনায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৫ 
কচুয়ায় পদপিষ্টের ঘটনায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে হল ৫ জন। জানা ...বিশদ

01:15:00 PM

পাকিস্তানকে বর্ধিত কালো তালিকাভুক্ত করল এফএটিএফ

12:27:00 PM