Bartaman Patrika
বিশেষ নিবন্ধ
 

সভাপতি পদে সোনিয়াজির প্রত্যাবর্তনে কংগ্রেস কি ছন্দ ফিরে পাবে
শুভা দত্ত

ছন্দ তো হারিয়েছে বহুদিন। ছন্দে ফেরার চেষ্টা—সেও শুরু হয়েছে বহুদিন। কিন্তু কিছুতেই যেন সেই পুরনো দমদার ছন্দে ফিরতে পারছে না জাতীয় কংগ্রেস! নেহরু-ইন্দিরার আমল থেকে গান্ধী পরিবারের ছত্রচ্ছায়ায় এবং নেতৃত্বে দলের যে অপ্রতিরোধ্য ছন্দ গোটা দেশকে কংগ্রেসি তেরঙ্গায় বেঁধে রেখেছিল, যে ছন্দ কংগ্রেস প্রতীক ইন্দিরার পাঞ্জার উপর বছরের পর বছর দেশের মানুষের আস্থা বিশ্বাস ও আবেগ ধরে রেখেছিল, জরুরি অবস্থা, নাসবন্দির মতো কাণ্ডের পরও যে ছন্দ ক্ষমতার কেন্দ্রে ফিরিয়ে এনেছিল কংগ্রেসকে, ইন্দিরা এবং ইন্ডিয়া হয়ে উঠেছিলেন সমার্থক—জাতীয় কংগ্রেসের সেই অমিত শক্তি রাজনৈতিক ছন্দ অনেক কাল আগেই ইতিহাসের পাতায় ঠাঁই নিয়েছে। একথা বোধকরি কংগ্রেসের অতি বড় সমর্থকও আজ অস্বীকার করতে পারবেন না। তাঁরা একথাও নিশ্চয়ই মানবেন যে, কয়েক বছরের ব্যবধানে ইন্দিরা গান্ধী এবং তাঁর পুত্র রাজীবের মর্মান্তিক প্রয়াণের পর থেকেই কংগ্রেসের সেই আঁটোসাঁটো ছন্দে শিথিলতা দেখা দিতে শুরু করেছিল এবং আজ যে শিথিলতা একরকম দুর্বলতা হয়েই জেঁকে বসেছে দলের সর্বস্তরে, সব চিন্তা ও কার্যক্রমে। বিশেষ করে গত আড়াই মাসের অধিক সভাপতিহীন কংগ্রেসের চলনে-বলনে সেই দুর্বলতার লক্ষণগুলিই যে আরও প্রকটভাবে দেখা গেল তাতেই বা সন্দেহ কি?
১৯৯১ সালে রাজীব গান্ধীর আকস্মিক অকাল মৃত্যুর পর দলের নিয়ন্ত্রণভার কয়েক বছর নরসীমা রাও সীতারাম কেশরীর মতো পোড়খাওয়া প্রবীণদের হাতে ছিল ঠিকই, কিন্তু সেসময়ের বড় বড় স্পর্শকাতর ঘটনায় কী ভিতরে কী বাইরে কংগ্রেস দলের আচরণ অভিব্যক্তি অনেকের কাছেই অনেক ক্ষেত্রে অচেনা ঠেকেছে! ঘটনাগুলির পরিপ্রেক্ষিতে কংগ্রেসের রাজনৈতিক তৎপরতা ও প্রতিক্রিয়াও দেশের সাধারণ মানুষের প্রত্যাশার সঙ্গেও নানা সময় সামঞ্জস্য বজায় রাখতে পারেনি। আমজনতা কংগ্রেস দলের আচরণে খুঁজে পাননি তাঁদের চিরচেনা রাজনৈতিক ছন্দ। অযোধ্যার কথাই ধরা যাক। ১৯৯২ সালের ডিসেম্বরে অযোধ্যার বিতর্কিত সৌধ যেদিন ভাঙা হল সেদিন কেন্দ্রে নরসিমা রাওয়ের নেতৃত্বে কংগ্রেস সরকার, কংগ্রেস দলের প্রধান পরিচালক সভাপতিও তিনি! অথচ, কী প্রধানমন্ত্রী কী জাতীয় দলের সর্বপ্রধান কর্তা হিসেবে কী করলেন তিনি!? অযোধ্যার বিতর্কিত সৌধ ধূলিসাৎ হল প্রায় নির্বিঘ্নে—ইউপির কল্যাণ সিং সরকারের প্রশাসন-পুলিসের সঙ্গে কেন্দ্রীয়-বাহিনী নির্বিকারভাবে করসেবকদের সৌধনিধন দেখে গেল! এই চূড়ান্ত অপ্রীতিকর ঘটনার অনিবার্য ফলশ্রুতিতে দেশজুড়ে আগুন জ্বলল—ঘর-বাড়ি পুড়ল, মানুষ মরল, কলকাতার মতো শান্ত নগরীতে পর্যন্ত দাঙ্গা পরিস্থিতির সৃষ্টি হল, নামল সেনা—বাংলার সাম্প্রদায়িক প্রীতি ও সংহতির শত শতাব্দীপ্রাচীন ঐতিহ্য কিছুটা হলেও ম্লান হল! দেশের ধর্মনিরপেক্ষতা অখণ্ডতা সংহতি ইত্যাদি নিয়ে নানা মহলে নানান অবাঞ্ছিত প্রশ্ন উঠে গেল!
এমন এক ভয়াবহ পরিস্থিতিতে নরসিমা সরকারের ভূমিকা খুব বলিষ্ঠ ছিল তা বোধকরি কেউই বলবেন না। বলবেন কীভাবে? অযোধ্যার বিতর্কিত সৌধ বিনাশের ঘটনায় ইনট্যালিজেন্সের ওই নজিরবিহীন ব্যর্থতার পরও নরসিমা সরকার তেমন কোনও কঠিন পদক্ষেপ করেছিলেন কি? কল্যাণ সিং সরকারের বিরুদ্ধেই বা তেমন কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল? দেশের ঐক্য ও সংহতি রক্ষায় ভূরিভূরি প্রস্তাব পাঠের অন্ত ছিল না ঠিকই, কিন্তু পরবর্তীতে তার কটা যথাযথভাবে বাস্তবায়িত হয়েছিল? কিছু প্রতিবাদ ছাড়া দেশের শাসক দল হিসেবে কংগ্রেসই বা আর কী করেছিল! এমন আরও ডজন ডজন প্রশ্ন বিস্ময় সেদিনের কংগ্রেস সরকার ও কংগ্রেস দল সম্পর্কে আজও হয়তো দেশের মনের কোণে কাঁটা হয়ে বিঁধে আছে। এইসব প্রশ্নের সামনে দাঁড়ালে কে আর বলতে পারবেন—সেদিন সরকারের ভূমিকা বলিষ্ঠ ছিল। বলতে পারবেন, তৎকালীন কংগ্রেস সভাপতি সৌধ বিনাশকারীদের বিরুদ্ধে দলকে জাগিয়ে তুলে দেশব্যাপী একটা তোলপাড় সাড়া ফেলে দিতে পেরেছিলেন?!
তথ্যভিজ্ঞরা অনেকে অবশ্য বলেন, ঘটনার আকস্মিকতায় কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে পড়েছিল কংগ্রেসের সরকার ও দলের শীর্ষ নেতৃত্ব। তাই, ঘটনার প্রতিক্রিয়া ঠেকাতে তড়িঘড়ি কোনও কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে পারেননি তাঁরা। সেইসঙ্গে অযোধ্যা নিয়ে সরকারে এবং দলে কিছু ভিন্নমতের উদ্‌গম ব্যাপারটাকে আরও গুলিয়ে দিয়েছিল। সব মিলিয়ে নিজেদের স্বাভাবিক রাজনৈতিক ছন্দ হারিয়ে কার্যত দিশেহারা হয়ে পড়েছিল নরসিমা নেতৃত্বাধীন কংগ্রেস। পরবর্তীতে দলের সভাপতি বদলে নরসিমার জায়গায় সীতারাম কেশরীর মতো দুঁদে কংগ্রেসিকে এনেও যে বিশেষ সুরাহা হয়নি ১৯৯৮ সালের মার্চে সোনিয়া গান্ধী স্বয়ং মঞ্চে প্রবেশ করে সভাপতির আসনে আসীন হয়ে সেটা বুঝিয়ে দিয়েছিলেন!
কিন্তু শুরুতে সোনিয়াজিকেও একটা ধাক্কা খেতে হয়েছে। অটলবিহারী আদবানি যোশীর ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) কংগ্রেসকে ক্ষমতাচ্যুত করেছে। প্রথমবার কদিনের জন্য, তারপর ফুলটার্ম রাজত্ব চালিয়েছেন অটলবিহারী বাজপেয়ি। কার্গিল যুদ্ধ থেকে পোখরান পরমাণু বিস্ফোরণ—কত কিছুই না ঘটেছে তাঁর সময়কালে। পোখরানের পর ভারত পরমাণু শক্তিধর দেশ হিসেবে বিশ্বের দরবারে আত্মপ্রকাশ করেছে। তা সত্ত্বেও অবশ্য ২০০৪ সালে পতন ঠেকাতে পারেননি অটলজি আদবানিজির বিজেপি। দেশের মানুষ ফের একবার গান্ধী ফ্যামিলির প্রতি আস্থা বিশ্বাস দেখিয়ে ফিরিয়ে এনেছে কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন প্রথম ইউপিএ সরকার। জনতার আশীর্বাদে দ্বিতীয় ইউপিএ সরকারের ক্ষমতায় আসতেও অসুবিধে হয়নি। আর ক্ষমতায় থাকার মাহাত্ম্য এই যে, তখন সব কিছুকেই মনে হয় ‘শুভ্‌ শুভ্‌’ সব ঠিক হ্যায়—ফার্স্ট কেলাস। ফলে কংগ্রেস হাইকমান্ড তথা সভাপতি হিসেবে সোনিয়াজিকে অন্তত ২০১৪ অবধি দলের সর্বস্তরে কর্তৃত্ব বজায় রাখতে বেগ পেতে হয়নি। এমনকী কংগ্রেসি মন্ত্রী নেতাদের দুর্নীতি বা লাগাতার মূল্যবৃদ্ধির মতো ইস্যুতে দেশ যখন উত্তাল তখনও সভাপতি হাইকমান্ড সোনিয়াজির উপর ভরসা রাখতে কসুর করেনি দল। তখন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের কারও কারও মন্তব্য শুনে মনে হতো, সোনিয়া গান্ধীর সভাপতিত্বে কংগ্রেস খানিকটা হলেও তাঁদের হারানো ছন্দ ফিরে পেয়েছে। এবং এতদ্বারা সোনিয়াজি এটাও প্রমাণ করে দিতে পেরেছেন, জাতীয় কংগ্রেসের হাল ধরতে গান্ধী ফ্যামিলির বিকল্প নেই।
কিন্তু, নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বে ২০১৪ সালে নবরূপে বিজেপির প্রবল উত্থানের ধাক্কায় কংগ্রেসের আসন যখন সংসদে বিরোধী দলের মর্যাদা আদায়ের ন্যূনতম যোগ্যতা অর্জনে ব্যর্থ হল, এই মহাবিপর্যয়ের কারণ খুঁজতে দিশেহারা দল, তখন যেন সবকিছু ওলটপালট হতে শুরু করল। তার উপর কিছুদিনের মধ্যেই এসে পড়ল সোনিয়াজির অসুস্থতা! কংগ্রেসের সর্বস্তরে যেন একটা বিপর্যস্ত আবহ তৈরি হয়ে গেল। শীর্ষ নেতৃত্ব বুঝতেই পারছিলেন—সোনিয়াজি অব্যাহতি চাইবেন, আর তাই নতুন নেতা চাই অবিলম্বে।
বলা বাহুল্য, অনিবার্য এবং অবধারিত পছন্দ সোনিয়া-পুত্র গান্ধী রাহুল। হলও তাই। প্রাথমিকভাবে গুজরাত সহ বেশ কয়েকটি রাজ্যের বিধানসভা ভোটে কংগ্রেসের নজরকাড়া ফল কিছু সময়ের জন্য হলেও রাহুলের সুযোগ্যতার নির্ণায়ক হিসেবে দেশজনতার মনে জায়গাও পেল। কিন্তু, ২০১৯ সালের লোকসভা ফলে নরেন্দ্র মোদিজির রেকর্ড সাফল্য এবং কংগ্রেসের অবস্থার তেমন কোনও পরিবর্তন না হওয়ায় (৪৪ থেকে ৫২ আসন) রাহুলে মোহভঙ্গ হল অনেকেরই। সেটা আন্দাজ করেই সরে দাঁড়ালেন রাহুল—সাফ জানালেন, আপাতত সভাপতি থাকবেন না তিনি। ব্যাস, ছত্রখান কংগ্রেস। দেখা গেল, তালাক থেকে ৩৭০ রদ—কোনও ইস্যুতেই আর ঘুরে দাঁড়াতে পারছে না কংগ্রেস! বরং, কাশ্মীরে ৩৭০ ধারা রদ নিয়ে তো কংগ্রেসের অন্দরে-বাহিরে রীতিমতো মতপার্থক্য জনসমক্ষেই চলে এল! উত্তাল মাঝ সমুদ্রে ক্যাপটেনহীন জাহাজের মতো দেশ রাজনীতির গেরুয়া জোয়ারের মুখে রীতিমতো বিপর্যস্ত বিভ্রান্ত দেখাল কংগ্রেসকে! শক্ত হাল ধরার লোক খুঁজতে মুকুল ওয়াসনিক কুমারী শৈলজা থেকে জ্যোতিরাদিত্য সিন্ধিয়া—কত নামই না এল! টিকল না একটাও! ওয়াসনিকের নামটা চূড়ান্ত হয়েও হল না, নিন্দুকেরা বলছেন—স্বয়ং রাহুল নাকি তাঁর নামে সহমত হতে পারেননি। আর প্রিয়াঙ্কাও আপাতত গররাজি।
অগত্যা সেই সোনিয়াজি! শেষপর্যন্ত গান্ধী ফ্যামিলিতেই আস্থা রাখতে হল কংগ্রেসকে! এবং দলের স্বার্থে অসুস্থতা উপেক্ষা করে সোনিয়াজিকেই অন্তর্বর্তী হিসেবে সভাপতির দায়িত্ব নিতে হল! যুক্তি, বাইরের কেউ হলে দল ভেঙে যাবে। সঙ্গত কারণেই প্রশ্ন উঠছে, সাময়িক হলেও সভাপতি পদে সোনিয়া গান্ধীর এই প্রত্যাবর্তনে কংগ্রেস কি হারানো ছন্দ ফিরে পাবে? কিছুটা তো পাবেই। তার কারণ, যত না সোনিয়াজির ব্যক্তিত্ব ও রাজনৈতিক কলাকৌশল, তার চেয়ে বেশি দলের সর্বস্তরে তাঁর অবিসংবাদী মান্যতা। গান্ধী পরিবারতন্ত্র নিয়ে যাঁরা খোঁচা দেন কংগ্রেসকে, তাঁরা হয়তো এটাকে নতুন সুযোগ ভেবে মজা পাচ্ছেন। কিন্তু, বাস্তবটা হচ্ছে—কংগ্রেস দল এখনও গান্ধী পরিবার নির্ভরতা কাটিয়ে উঠতে পারেনি—কী প্রবীণ কী নবীন কোনও পক্ষই না! কংগ্রেসে গান্ধী পরিবারের প্রতি শর্তহীন আনুগত্যের ট্র্যাডিশন এখনও অব্যাহত।
সেই সুবাদেই হয়তো পরবর্তী স্থায়ী সভাপতি হিসেবে কংগ্রেসি রাজনীতিতে নবাগতা প্রিয়াঙ্কার নাম উঠে আসছে। অদূর ভবিষ্যতে তাঁকে সভাপতির আসনে দেখা যাবে কি যাবে না সেটা সময় বলবে। তবে, এটা নিশ্চিত—চট করে গান্ধী ফ্যামিলির বাইরের লোকের সভাপতির আসন লাভ মুশকিল। আর এক্ষেত্রে কংগ্রেসের সবচেয়ে বড় প্রতিকূলতা কংগ্রেসই। এই প্রতিকূলতা দূর করতে না পারলে কংগ্রেসের সর্বময় কর্তৃত্বে গান্ধীদের একচ্ছত্র আধিপত্য বজায় থাকবে ঠিকই, তবে তাতে দলের পুরনো ছন্দ পুরোপুরি ফিরবে কি না তা নিয়ে দেশরাজ্যের রাজনৈতিক মহলের একাংশে যথেষ্ট সংশয় আছে। তাঁদের বক্তব্য, আজকের রাজনীতিতে গতি এবং ভেদশক্তির তীব্রতা ছাড়া সফল হওয়া মুশকিল। বিশেষ করে নরেন্দ্র মোদি অমিত শাহের মতো জবরদস্ত জুটির সঙ্গে সমানে সমানে লড়তে ওই দুইয়ের বিকল্প নেই। এবং এক্ষেত্রে তাঁরা পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে এর সার্থক দৃষ্টান্ত হিসেবে তুলে ধরছেন। তাঁরা বলছেন, আনুগত্য দিয়ে নিষ্কণ্টক কর্তৃত্ব ভোগ করা চলতে পারে কিন্তু তার সঙ্গে গতি ও ভেদশক্তির সমন্বয় ঘটাতে না পারলে কংগ্রেসের পুরনো ছন্দে ফেরা বা আগামী দিনে সফল হওয়া খুব সহজ হবে না। রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা কি খুব ভুল বলছেন?
18th  August, 2019
পুজোর মুখে
শুভা দত্ত

পুজো আসছে। মাঝে আর মাত্র ক’টা দিন—তারপরই শুরু হয়ে যাবে দেবী দুর্গার আরাধনায় মত্ত বাঙালির উৎসব যাপন। আমাদের বিশ্বাস, সেই উৎসবের আনন্দ কোলাহলে আলোর বন্যায় জনস্রোতে ক’দিনের জন্য হলেও এনআরসি হোক কি যাদবপুর, কি সারদা নারদা রাজীব কুমার—সব তলিয়ে যাবে। চিহ্নমাত্র থাকবে না। এতদিন তাই হয়েছে—এবারও তার ব্যতিক্রম হবে না।
বিশদ

এনআরসি, সংখ্যালঘু ভোট ও বিজেপি
তন্ময় মল্লিক

‘এবার সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষদের আরও বেশি করে বিজেপির ছাতার তলায় নিয়ে আসতে হবে। সেই মতো গ্রহণ করতে হবে যাবতীয় কর্মসূচি।’ দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্ব নিয়েই বিজেপির বঙ্গ নেতৃত্বকে এই কথাগুলি যিনি বলেছিলেন তিনি আর কেউ নন, ‘গেরুয়া শিবিরের চাণক্য’ অমিত শাহ।
বিশদ

21st  September, 2019
সরকারি চাকরির মোহে আবিষ্ট সমাজ
অতনু বিশ্বাস

সমাজ বদলাবে আরও। আমি বা আপনি চাইলেও, কিংবা গভীরভাবে বিরোধিতা করলেও। সরকারি বা আধা-সরকারি চাকরির নিরাপত্তার চক্রব্যূহ ক্রমশ ভঙ্গুর হয়ে পড়বে আরও অনেকটা। এবং দ্রুতগতিতে। গোটা পৃথিবীর সঙ্গে তাল মিলিয়ে এ এক প্রকারের ভবিতব্যই। একসময় আমরা দেখব, চাকরি বাঁচাতে গড়পড়তা সরকারি চাকুরেদেরও খাটতে হচ্ছে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের চাকুরেদের মতো। সরকারি চাকরির নিশ্চিন্ত আশ্রয়ের নিরাপত্তার ‘মিথ’ ভেঙে চুরচুর হয়ে পড়বে। এবং সে-পথ ধরেই ক্রমে বিদায় নেবে পাত্রপাত্রী চাই-য়ের বিজ্ঞাপন থেকে ‘সঃ চাঃ’ নামক অ্যাক্রোনিম।
বিশদ

21st  September, 2019
আলোচনার অভিমুখ
সমৃদ্ধ দত্ত

 প্রাচীন বিশ্বের বিভিন্ন সভ্যতায় দেখা যায় সম্রাটরা অসীম ক্ষমতার অধিকারী প্রমাণ করার জন্য অতি প্রাকৃতিক শক্তি সম্পন্ন হিসেবে নিজেদের প্রতিভাত করতেন। এর ফলে প্রজা শুধু সম্রাটকে যে মান্য করত তাই নয়, ভয়ও পেত, সমীহ করত। প্রাচীন মিশরে শতাব্দীর পর শতাব্দীর ধরে ফারাওরা নিজেদেরই ঈশ্বর হিসেবে ঘোষণা করতেন।
বিশদ

20th  September, 2019
হিন্দু বাঙালির বাড়ি ভাঙছে, হারাচ্ছে দেশ 
শুভময় মৈত্র

জয় গৃহশিক্ষকতা করেন, বাড়ি সিঁথি মোড়ের কাছে, বরানগরে। নিজেদের তিরিশ বছরের পুরনো বাড়ি, সারানোর প্রয়োজন। একান্নবর্তী পরিবার, দাদা বড় ইঞ্জিনিয়ার। তিনি আর একটি ফ্ল্যাট কিনেছেন কাছেই। 
বিশদ

20th  September, 2019
বাংলায় এনআরসি বিজেপির স্বপ্নের পথে কাঁটা হয়ে দাঁড়াবে না তো 
মেরুনীল দাশগুপ্ত

লোকসভা ভোটে অপ্রত্যাশিত ফলের পর বাংলার বিজেপি রাজনীতিতে যে জমকালো ভাবটা জেগেছিল সেটা কি খানিকটা ফিকে হয়ে পড়েছে? পুজোর মুখে এমন একটা প্রশ্ন কিন্তু পশ্চিমবঙ্গের আমজনতার মধ্যে ঘুরপাক খেতে শুরু করেছে। 
বিশদ

19th  September, 2019
জন্মদিনে এক অসাধারণ নেতাকে কুর্নিশ
অমিত শাহ

 আজ, মঙ্গলবার আমাদের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ৬৯তম জন্মদিন। অল্প বয়স থেকেই মোদিজি নিজেকে দেশের সেবায় উৎসর্গ করেছেন। যৌবন থেকেই তাঁর মধ্যে পিছিয়ে পড়া শ্রেণীর উন্নয়নে কাজের একটি প্রবণতা লক্ষ করা যায়। দরিদ্র পরিবারে জন্মগ্রহণের কারণে মোদিজির শৈশবটা খুব সুখের ছিল না। বিশদ

17th  September, 2019
ব্যাঙ্ক-সংযুক্তিকরণ কতটা সাধারণ মানুষ এবং সামগ্রিক ব্যাঙ্কব্যবস্থার উন্নতির স্বার্থে?
সঞ্জয় মুখোপাধ্যায়

অনেকগুলি ব্যাঙ্ক সংযুক্ত করে দেশে সরকারি ব্যাঙ্কের সংখ্যা কমিয়ে আনা হল আর সংযুক্তির পর চারটি এমন বেশ বড় ব্যাঙ্ক তৈরি হল, আকার আয়তনে সেগুলিকে খুব বড় মাপের ব্যাঙ্কের তকমা দেওয়া যাবে। এসব ঘোষণার পর অর্থমন্ত্রীর বক্তব্য, এতে দেশের অর্থনীতির খুব উপকার হবে।  
বিশদ

16th  September, 2019
রাজনীতির উত্তাপ কি পুজোর আমেজ
জমে ওঠার পথে বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে?
শুভা দত্ত

 পরিস্থিতি যা তাতে এমন কথা উঠলে আশ্চর্যের কিছু নেই। উঠতেই পারে, উঠছেও। বাঙালির সবচেয়ে বড় উৎসবের মুখে প্রায় প্রতিদিনই যদি কিছু না কিছু নিয়ে নগরী মহানগরীর রাজপথে ধুন্ধুমার কাণ্ড ঘটে, পুলিস জলকামান, লাঠিসোঁটা, কাঁদানে গ্যাস, ইটবৃষ্টি, মারদাঙ্গা, রক্তারক্তিতে যদি প্রায় যুদ্ধ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয় এবং তাতে সংশ্লিষ্ট এলাকার জনজীবন ব্যবসাপত্তর উৎসবের মরশুমি বাজার কিছু সময়ের জন্য বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে তবে এমন কথা এমন প্রশ্ন ওঠাই তো স্বাভাবিক।
বিশদ

15th  September, 2019
আমেরিকায় মধ্যবয়সের
সঙ্গী সোশ্যাল মিডিয়া
আলোলিকা মুখোপাধ্যায়

যে বয়সে পৌঁছে দূরের আত্মীয়স্বজন ও পুরনো বন্ধুদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা ক্রমশ আগের মতো সম্ভব হয় না, সেই প্রৌঢ় ও বৃদ্ধ-বৃদ্ধার জীবনে ইন্টারনেট এক প্রয়োজনীয় ভূমিকা নিয়েছে। প্রয়োজনীয় এই কারণে যে, নিঃসঙ্গতা এমন এক উপসর্গ যা বয়স্ক মানুষদের শরীর ও মনের উপর প্রভাব ফেলে। বিশদ

14th  September, 2019
মোদি সরকারের অভূতপূর্ব কাশ্মীর পদক্ষেপ পরবর্তী ভারতীয় কূটনীতির সাফল্য-ব্যর্থতা
গৌরীশঙ্কর নাগ

 এই অবস্থায় এটা অস্বীকার করার উপায় নেই যে, ৩৭০ ধারা বিলোপ পর্বের প্রাথমিক অবস্থাটা আমরা অত্যন্ত উৎকণ্ঠার মধ্য দিয়ে অতিক্রম করেছি।
বিশদ

14th  September, 2019
ব্যর্থতা নয়, অভিনন্দনই
প্রাপ্য ইসরোর বিজ্ঞানীদের
মৃণালকান্তি দাস

 কালামের জেদেই ভেঙে পড়েছিল ইসরোর রোহিনী। না, তারপরেও এ পি জে আব্দুল কালামকে সে দিন ‘ফায়ার’ করেননি ইসরোর তদানীন্তন চেয়ারম্যান সতীশ ধাওয়ান! বলেননি, ‘দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হল কালামকে’! তার এক বছরের মধ্যেই ধরা দিয়েছিল সাফল্য। ধাওয়ানের নির্দেশে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়েছিলেন সেই কালাম-ই। তাঁর কথায়, ‘ওই দিন আমি খুব গুরুত্বপূর্ণ পাঠ পেয়েছিলাম। ব্যর্থতা এলে তার দায় সংস্থার প্রধানের। কিন্তু,সাফল্য পেলে তা দলের সকলের। এটা কোনও পুঁথি পড়ে আমাকে শিখতে হয়নি। এটা অভিজ্ঞতা থেকে অর্জিত।’ বিশদ

13th  September, 2019
একনজরে
 ওয়াশিংটন ও হিউস্টন, ২১ সেপ্টেম্বর (পিটিআই): ‘হাউডি মোদি’ অনুষ্ঠান ঘিরে আমেরিকায় সাজ সাজ রব। মোদি-জ্বরের উন্মাদনায় অন্তিম মুহূর্তের জন্য প্রহর গুনছে ভারতীয় বংশোদ্ভূত মার্কিন নাগরিকরা। ...

 জম্মু, ২১ সেপ্টেম্বর (পিটিআই): দক্ষিণ কাশ্মীরের পুলওয়ামা জেলার বিভিন্ন জায়গায় তল্লাশি চালাল পুলিস। গ্রেপ্তার করা হল জয়েশ-ই-মহম্মদের দুই সক্রিয় কর্মীকে। কিছুদিন আগেই ট্রাক নিয়ে পাঞ্জাব থেকে কাশ্মীর আসার পথে কাঠুয়ায় প্রচুর অস্ত্রশস্ত্র সহ গ্রেপ্তার হয়েছিল তিন জঙ্গি। ...

সংবাদদাতা, কালনা: কালনা থানার বাঘনাপাড়া এলাকায় শুক্রবার রাতে এক প্রৌঢ়ার অস্বাভাবিক মৃত্যু হয়েছে। মৃতার নাম কল্পনা দুর্লভ(৫০)। বাড়ি স্থানীয় দেউলপাড়া এলাকায়। শনিবার কালনা হাসপাতালে মৃতদেহ ময়নাতদন্ত করা হয়। পুলিস একটি অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু করেছে।  ...

বিএনএ, রায়গঞ্জ: শনিবার দুপুরে রায়গঞ্জের বাহিন গ্রাম পঞ্চায়েতের শঙ্করপুরে জমিতে কাজ করার সময় এক মহিলা শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। পুলিস জানিয়েছে, মৃতের নাম লক্ষ্মী দাস(২৫)। মৃতের বাড়ি বাহিনের হাঁটমুনি গ্রামে।  ...




আজকের দিনটি কিংবদন্তি গৌতম
৯১৬৩৪৯২৬২৫ / ৯৮৩০৭৬৩৮৭৩

ভাগ্য+চেষ্টা= ফল
  • aries
  • taurus
  • gemini
  • cancer
  • leo
  • virgo
  • libra
  • scorpio
  • sagittorius
  • capricorn
  • aquarius
  • pisces
aries

বেফাঁস মন্তব্যে বন্ধুর সঙ্গে মনোমালিন্য। সম্পত্তি নিয়ে ভ্রাতৃবিরোধ। সৃষ্টিশীল কাজে আনন্দ। কর্মসূত্রে দূর ভ্রমণের সুযোগ।প্রতিকার— ... বিশদ


ইতিহাসে আজকের দিন

১৫৩৯: পাঞ্জাবের শহর কর্তারপুরে প্রয়াত গুরু নানক
১৭৯১: ইংরেজ বিজ্ঞানী মাইকেল ফ্যারাডের জন্ম
১৮৮৮: ন্যাশনাল জিওগ্রাফিক ম্যাগাজিন প্রথম প্রকাশিত
১৯১৫ - নদিয়া পৌরসভার নামকরণ বদল করে করা হয় নবদ্বীপ পৌরসভা
১৯৩৯: প্রথম এভারেস্ট জয়ী মহিলা জুনকো তাবেইয়ের জন্ম
১৯৬২ – নিউজিল্যাণ্ডের প্রাক্তন ক্রিকেটার তথা ধারাভাষ্যকার মার্টিন ক্রোর জন্ম
১৯৬৫: শেষ হল ভারত-পাকি স্তান যুদ্ধ। রাষ্ট্রসংঘের আহ্বানে সাড়া দিয়ে দু’দেশ যুদ্ধ বিরতি ঘোষণা করল
১৯৭০: লেখক শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়ের মৃত্যু
১৯৭৬: ব্রাজিলের প্রাক্তন ফুটবলার রোনাল্ডোর জন্ম
১৯৮০: ইরান আক্রমণ করল ইরাক
১৯৯৫: নাগারকোভিল স্কুলে বোমা ফেলল শ্রীলঙ্কার বায়ুসেনা। মৃত্যু হয় ৩৪টি শিশুর। যাদের মধ্যে বেশিরভাগই তামিল
২০১১: ক্রিকেটার মনসুর আলি খান পতৌদির মৃত্যু

ক্রয়মূল্য বিক্রয়মূল্য
ডলার ৬৯.১৯ টাকা ৭২.৭০ টাকা
পাউন্ড ৮৬.৪৪ টাকা ৯১.১২ টাকা
ইউরো ৭৬.২৬ টাকা ৮০.৩৮ টাকা
[ স্টেট ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়া থেকে পাওয়া দর ]
21st  September, 2019
পাকা সোনা (১০ গ্রাম) ৩৮, ৩৩৫ টাকা
গহনা সোনা (১০ (গ্রাম) ৩৬, ৩৭০ টাকা
হলমার্ক গহনা (২২ ক্যারেট ১০ গ্রাম) ৩৬, ৯১৫ টাকা
রূপার বাট (প্রতি কেজি) ৪৬, ১০০ টাকা
রূপা খুচরো (প্রতি কেজি) ৪৬, ২০০ টাকা
[ মূল্যযুক্ত ৩% জি. এস. টি আলাদা ]

দিন পঞ্জিকা

৫ আশ্বিন ১৪২৬, ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৯, রবিবার, অষ্টমী ৩৫/৫৪ রাত্রি ৭/৫০। মৃগশিরা ১৫/৪৪ দিবা ১১/৪৬। সূ উ ৫/২৮/৪০, অ ৫/৩০/৩৮, অমৃতযোগ দিবা ৬/১৬ গতে ৮/৪১ মধ্যে পুনঃ ১১/৫৪ গতে ৩/৭ মধ্যে। রাত্রি ৭/৫৫ গতে ৯/৩০ মধ্যে পুনঃ ১১/৫৪ গতে ১/২৯ মধ্যে পুনঃ ২/১৭ গতে উদয়াবধি, বারবেলা ৯/৫৯ গতে ১/০ মধ্যে, কালরাত্রি ১২/৫৯ গতে ২/২৯ মধ্যে।
৪ আশ্বিন ১৪২৬, ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৯, রবিবার, অষ্টমী ২৩/৭/৩২ দিবা ২/৪৩/৩১। মৃগশিরা ৬/৫২/৫৬ দিবা ৮/১৩/৪০, সূ উ ৫/২৮/৩০, অ ৫/৩২/৩০, অমৃতযোগ দিবা ৬/২০ গতে ৮/৪১ মধ্যে ও ১১/৪৭ গতে ২/৫৪ মধ্যে এবং রাত্রি ৭/৪২ গতে ৯/২১ মধ্যে ও ১১/৪৯ গতে ১/২৭ মধ্যে ও ২/১৭ গতে ৫/২৯ মধ্যে, বারবেলা ১০/০/০ গতে ১১/৩০/৩০ মধ্যে, কালবেলা ১১/৩০/৩০ গতে ১/১/০ মধ্যে, কালরাত্রি ১/০/০ গতে ১১/৩০/৩০ মধ্যে।
 ২২ মহরম

ছবি সংবাদ

এই মুহূর্তে
এরআরসি আতঙ্ক, বসিরহাটে আত্মহত্যা এক ব্যক্তির  
ফের এনআরসি আতঙ্কের ছায়া। বসিরহাট এক নম্বর ব্লকের সোলাদানা গ্রামে ...বিশদ

12:29:00 PM

মোবাইলের টাওয়ার বসানোর নামে প্রতারণা, অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করল বিধাননগর সাইবার ক্রাইম পুলিস 

11:25:00 AM

রাজীব কুমার ঘনিষ্ঠ ৪ জনকে জিজ্ঞাসাবাদ সিবিআইয়ের, রয়েছেন ২ ব্যবসায়ীও 

11:00:00 AM

বিশাখাপত্তনামে স্ত্রী, কন্যাকে খুন করে আত্মঘাতী এক ব্যক্তি 

10:35:00 AM

তৃণমূল-বিজেপি সংঘর্ষে উত্তপ্ত পাড়ুই 
তৃণমূল-বিজেপি সংঘর্ষে উত্তপ্ত হয়ে উঠল বীরভূমের পাড়ুই। গতকাল রাতে সাত্তোর ...বিশদ

10:32:00 AM

পরবর্তী বায়ুসেনা প্রধানের নামেই রাফালের নম্বর আরবি-০১
 

ফ্রান্সের দাসো অ্যাভিয়েশনের পক্ষ থেকে বৃহস্পতিবারই প্রথম রাফাল যুদ্ধবিমান ভারতকে ...বিশদ

10:31:04 AM