Bartaman Patrika
বিশেষ নিবন্ধ
 

ন্যাশনাল মেডিক্যাল কমিশন বিল: কিছু আশঙ্কা 
বিষাণ বসু

চারদিকে বড় হইচই। বিষয় ন্যাশনাল মেডিক্যাল কমিশন বিল। স্বাধীনতার পর থেকেই দেশের মেডিক্যাল শিক্ষার ব্যাপারটা দেখছিলেন এমসিআই, অর্থাৎ মেডিক্যাল কাউন্সিল অফ ইন্ডিয়া। এমসিআই নিয়ে অভিযোগ ছিল বিস্তর—বিশেষত, তাঁদের কিছু কর্তাব্যক্তিকে নিয়ে। দেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থার হালটিও ঠিক পাঁচজনকে নেমন্তন্ন করে জানানোর মতো নয়। কিন্তু, দেশের মেডিক্যাল শিক্ষাব্যবস্থা থেকে উৎপাদিত চিকিৎসকদের জ্ঞানগম্যি বা দক্ষতার গুণগত মান নিয়ে প্রশ্ন সেরকম ওঠেনি।
এইবার একেবারে বড়সড় রদবদল। এমসিআই বাতিল করে তার জায়গায় ন্যাশনাল মেডিক্যাল কমিশন, সংক্ষেপে এনএমসি। দেশজুড়ে চিকিৎসকেরা প্রতিবাদ জানাচ্ছেন। এদেশে চিকিৎসকদের সর্ববৃহৎ সংগঠন আইএমএ প্রতিবাদে দেশজুড়ে কর্মবিরতি পালন করলেন। বিভিন্ন কেন্দ্রীয় প্রতিষ্ঠানে জুনিয়র ডাক্তারদের অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি পালন চলছিল—রীতিমতো সরকারি হুমকির পরে কর্মবিরতি প্রত্যাহার হয়। ব্যাপারটা ঠিক কী?
চিকিৎসকদের প্রথম আপত্তি, ব্রিজ কোর্স নিয়ে। দেশে নাকি চিকিৎসকের আকাল। অতএব, তথাকথিত মডার্ন মেডিসিন বাদ দিয়ে চিকিৎসাবিদ্যার বাকি সব ধারা, যেমন আয়ুর্বেদ, হোমিওপ্যাথি ইত্যাদি, যাদেরকে একসঙ্গে আয়ুশ বলা হয়ে থাকে, তাঁদের অল্পকিছুদিনের জন্যে ট্রেনিং দিয়ে মডার্ন মেডিসিনের চিকিৎসকে পরিণত করা হবে। যদিও বিলে সরাসরিভাবে এই ব্রিজ কোর্স চালুর কথা বলা নেই, কিন্তু পথটি খোলা রাখা আছে নিশ্চিত।
পাশাপাশি, তিন লক্ষের বেশি বিশেষভাবে প্রশিক্ষিত স্বাস্থ্যকর্মীর কথা ভাবা হয়েছে, যাঁরা কিনা মুখ্যত প্রাথমিক ও নিবারণী চিকিৎসাটুকু দেবেন। অন্যান্য চিকিৎসা যদি তাঁদের করতে হয়, সেক্ষেত্রে তাঁদের থাকতে হবে মডার্ন মেডিসিনের পাশ করা ডাক্তারের তত্ত্বাবধানে। প্রস্তাবটি আপাতদৃষ্টিতে নিরীহ শুনতে লাগলেও, কিছু প্রশ্ন রয়ে যায়।
যেমন, দেশের প্রাথমিক স্বাস্থ্যের হাল খারাপ। বিভিন্ন স্বাস্থ্যসূচকে আশপাশের বিভিন্ন দেশের তুলনায় আমরা পিছিয়েই চলেছি। বাজেটে স্বাস্থ্যখাতে বরাদ্দ বাড়ানোর কোনও কথা শোনা যাচ্ছে না। যেটুকু বরাদ্দ হচ্ছে, তার সিংহভাগই যাচ্ছে হাই-টেক হেল্‌থ- কেয়ারের পিছনে। দেশের হেল্‌থকেয়ার পুরোপুরিই ইলনেস-কেয়ার। সেইখানে, টিমটিম করে চলা প্রাথমিক স্বাস্থ্যব্যবস্থাকে শুধুমাত্র স্বাস্থ্যকর্মীর হাতে সঁপে দিলে আগামী দিনে ভালো কিছুর আশা কম। হ্যাঁ, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে প্রাথমিক স্বাস্থ্যব্যবস্থায় স্বাস্থ্যকর্মীরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকেন। কিন্তু, এই এনএমসি বিলের কিছুদিন আগেকার নয়া জাতীয় স্বাস্থ্যনীতিতে যেভাবে ঢালাও বেসরকারি- করণের কথা বলা হয়েছে, তাতে প্রাথমিক স্বাস্থ্যকে লাটে তুলে দেওয়ার পরিকল্পনা হচ্ছে, এমন আশঙ্কার যথেষ্ট কারণ রয়েছে।
দ্বিতীয়ত, যদি ডাক্তারের আকালই হয়ে থাকে, সেক্ষেত্রে এই প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত স্বাস্থ্যকর্মীদের তত্ত্বাবধানের জন্যে যথেষ্ট চিকিৎসক আসবে কোত্থেকে? এই স্বাস্থ্যকর্মীরা প্রাথমিক স্বাস্থ্যপরিষেবা বাদ দিয়ে যদি অন্যান্য চিকিৎসা শুরু করেন, নজরদারি করবেন কে?
দেশে ডাক্তারের আকালটা ঠিক কতখানি? বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলে, সুষ্ঠু স্বাস্থ্যপরিষেবার জন্যে প্রতি হাজার জনসংখ্যা পিছু একজন ডাক্তার থাকা জরুরি। বছর দুয়েক আগে লোকসভাকে সরকার তথ্য দিয়েছিল, দেশে রেজিস্টার্ড এমবিবিএস ডাক্তার রয়েছেন প্রায় সোয়া দশ লক্ষ। জনসংখ্যা কমবেশি একশো তিরিশ কোটি। হাজারে এক হিসেব করতে হলে, প্রয়োজন কমসেকম তেরো লক্ষ। বেশ কথা। তাহলে কি আয়ুশ ডাক্তারদের হিসেবের মধ্যেই আনব না? এঁরা পড়ছেন সরকারি কলেজে, এঁরা নিযুক্ত হচ্ছেন সরকারি স্বাস্থ্যব্যবস্থায়—কিন্তু, সরকার যখন ডাক্তারের সংখ্যা গুনবেন, তাঁরা সেইখানে হিসেবে আসবেন না? এ কেমন দ্বিচারিতা!
প্রশ্ন এটাই, সরকার বাহাদুর স্বয়ং যখন আয়ুশ ব্যবস্থার উপর ভরসা রাখছে না, এবং যেন তেন প্রকারে এঁদের দিয়ে মডার্ন মেডিসিন প্র্যাকটিস করাতে চাইছেন, তাহলে সরকার সরাসরি এইসব চিকিৎসাপদ্ধতি, বিশেষত, এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলি তুলে দিয়ে সেই অর্থ মডার্ন মেডিসিনের কলেজ তৈরির পিছনে ঢালছেন না কেন? ব্রিজ কোর্সের প্রস্তাব বা সরকারি খতিয়ানে আয়ুশ চিকিৎসকদের অনুল্লেখ বা দায়সারা উল্লেখ যে এই চিকিৎসাপদ্ধতির প্রতি নিদারুণ অপমান, তা তো বলে দিতে হবে না!!
বিল অনুসারে মডার্ন মেডিসিনের উচ্চতর নিয়ামক কর্তৃপক্ষ নিয়মিত কথোপকথন চালু রাখবেন, বাকি সব ধারার চিকিৎসাপদ্ধতির নিয়ামক কর্তৃপক্ষের সঙ্গে। সেইখানে কিন্তু ঘুরপথে ব্রিজ কোর্স চালুর সম্ভাবনা রয়েছে। কেননা এই বিল অনুসারে মেডিক্যাল কমিশনের দু’চারজন বাদ দিলে বেশিরভাগই হবেন সরকার মনোনীত এবং অনুমান করাই যায়, সরকার যেমন চাইছেন, তাঁরা তদনুযায়ী আচরণই করবেন।
বিল নিয়ে চিকিৎসকদের দ্বিতীয় বড় আপত্তির জায়গাটা এখানে। সাবেক এমসিআই নিয়ে হাজার অভিযোগের মধ্যেও একটা স্বস্তি ছিল—সেফটি ভাল্‌ভও বলতে পারেন, যে তার প্রতিনিধিরা নির্বাচিত, চিকিৎসকদের ভোটে নির্বাচিত। ঠিক যেমন, দেশের হাল নিয়ে যত আক্ষেপই করি না কেন, গণতন্ত্রের শক্তির উপর আমাদের আস্থা সদা অটুট। এনএমসি বিল সেই আস্থার জায়গাটাই ভেঙে দিয়েছে। প্রস্তাবিত কমিশনের বেশিরভাগ সদস্যই হবেন কেন্দ্রীয় সরকার কর্তৃক মনোনীত। দেশের যুক্তরাষ্ট্রীয় ব্যবস্থায় স্বাস্থ্যে রাজ্যের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা সত্ত্বেও সেই কমিশনে নিয়মিত ভিত্তিতে অধিকাংশ রাজ্যের প্রতিনিধিত্ব থাকার অবকাশ নেই। রাজ্যের প্রতিনিধিরা যেখানে থাকবেন, তাঁদের ভূমিকা মূলত পরামর্শদাতা বা উপদেষ্টার—সেই পরামর্শ অনুসারে চলতেই হবে, কমিশনের এমন বাধ্যবাধকতা নেই।
সুষ্ঠু পরিচালনার জন্যে ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ যেখানে শ্রেয় বলে সর্বত্র মেনে নেওয়া হচ্ছে, সেইখানে এই বিল ক্ষমতার কেন্দ্রীকরণের পক্ষে। চিকিৎসকের বিরুদ্ধে অভাব-অভিযোগের চূড়ান্ত নিয়ামক এই কমিশন, এবং রাজ্যের সর্বোচ্চ কর্তৃপক্ষ কমিশনের সিদ্ধান্ত মানতে বাধ্য।
চিকিৎসকদের তৃতীয় বড় আপত্তির জায়গা, চিকিৎসাশিক্ষার বেসরকারিকরণের ইঙ্গিতটি নিয়ে। প্রাইভেট মেডিক্যাল কলেজ খোলার ব্যাপারে ঢালাও উৎসাহ দেওয়া হয়েছে—মাত্র একবার খতিয়ে দেখার পরেই বেসরকারি মেডিক্যাল কলেজের ছাড়পত্র মিলবে। পরিকাঠামো ঠিকঠাক আছে কি না, বারবার খুঁটিয়ে যাচাই করা হবে না। কলেজ চালু হওয়ার বছর কয়েকের মধ্যেই কর্তৃপক্ষ সিট বাড়াতে পারবেন, খুলতে পারবেন নতুন পোস্টগ্র্যাজুয়েট কোর্স—নতুন করে পরিদর্শন বা ছাড়পত্র লাগবে না। আসন সংখ্যার পঞ্চাশ শতাংশের ফিজ বেঁধে দেবেন কমিশন, বাকি পঞ্চাশ শতাংশের ক্ষেত্রে মালিক-কর্তৃপক্ষ যথেচ্ছ অর্থমূল্য ধার্য করতে পারেন।
দেখুন, নতুন এই যে এনএমসি বিল, তার প্রস্তাবগুলিকে যদি আলাদা আলাদা করে, একটি একটি করে দেখেন, খুব একটা অযৌক্তিক বলে হয়তো বোধ হবে না। প্রাথমিক স্বাস্থ্যে ডাক্তার পাওয়া যাচ্ছে না, তাই প্রশিক্ষিত স্বাস্থ্যকর্মীর ব্যবস্থা। তাই আরও বেশি ডাক্তার তৈরি করে দীর্ঘমেয়াদি সমাধান খোঁজা। বেশি ডাক্তার তৈরি করতে বেসরকারি উদ্যোগের দ্বারস্থ হওয়া, ‘লাইসেন্সরাজ’ এড়িয়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণ। কিন্তু, একটি একটি করে গাছের দিকে চেয়ে দেখতে থাকলে এই অরণ্যের ভয়াবহতার রূপটি আপনার চোখের আড়ালেই রয়ে যাবে।
দেশে ডাক্তারের অভাব কতখানি, সেটা তর্কযোগ্য হলেও প্রত্যন্ত অঞ্চলে ডাক্তারের অভাব নিয়ে প্রশ্নের অবকাশ নেই কিন্তু সেসব অঞ্চলে স্বাস্থ্য পরিকাঠামোর হাল? প্রশিক্ষিত স্বাস্থ্যকর্মী দিয়ে ক্ষতস্থানের মুখটা ব্যান্ডেজ দিয়ে লুকানো হয়তো যাবে। তারপর? সেনাবাহিনীর সঙ্গে যুক্ত ডাক্তারেরা দুর্গম জায়গায় পোস্টেড হলেও যেতে আপত্তি করেন না। কিন্তু, গ্রামে ডাক্তার অমিল কেন? শুধু ডাক্তারদের উপর দোষ চাপালে হবে? লক্ষ লক্ষ টাকা ব্যয়ে প্রাইভেট মেডিক্যাল কলেজ থেকে পাশ করা ডাক্তারেরা প্রান্তিক মানুষের স্বাস্থ্যপরিষেবা জোগাবেন?
আপাতনিরীহ কিছু প্রস্তাবনার মাধ্যমেই খুলেছিল শিক্ষার বেসরকারিকরণের পথ। তার সম্পূর্ণ সামাজিক অভিঘাত এখনও পুরোপুরি স্পষ্ট না হলেও অনেকখানি অনুভব করা যায়, দেখা যায় সরকারি স্কুলের বেহাল দশা। স্বাস্থ্যশিক্ষার বেসরকারিকরণের পথে হাঁটার অভিঘাত হবে আরও অনেক বেশি গভীর। পোস্ট-গ্র্যাজুয়েট এন্ট্রান্স পরীক্ষায় বেসরকারি কলেজ থেকে কৃতকার্য হওয়া ছাত্রের সংখ্যা ছিল লক্ষণীয়ভাবে কম—কারণ অনুমানযোগ্য। ডাক্তারি পাশ করার কমন এক্সিট টেস্ট-এর ফলের সঙ্গে পোস্টগ্র্যাজুয়েশনে ঢোকাকে জুড়ে দিয়ে সেই বাধা অতিক্রম করার প্রয়াস কেন?
এই এনএমসি বিল-এর কতখানি শেষমেশ লাগু হবে, আর কতখানি পুনর্বিবেচিত—দেখার বিষয়। কিন্তু, আপাতত যে বিলটি প্রস্তাবিত, তার অভিঘাত, দেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থা এবং বৃহত্তর সামাজিক ক্ষেত্রের পক্ষে সুবিধের হবে না, এমন আশঙ্কা অন্যায্য নয়।
 লেখক বিশিষ্ট চিকিৎসক 
20th  August, 2019
চক্রব্যূহে জাতীয় কংগ্রেস:
সোনিয়ার প্রত্যাবর্তন
প্রণবকুমার চট্টোপাধ্যায়

 আগস্ট মাস জাতীয় কংগ্রেস ও ভারতীয় রাজনীতিতে স্মরণীয় মাস। ১৯৪২ সালের ৮ আগস্ট ভারত ছাড়ো আন্দোলনের সূচনা হয়, আবার ১৯৪৭ সালের ১৫ আগস্ট ভারত স্বাধীনতা অর্জন করে। মজার কথা, বিগত ১০ আগস্ট মধ্যরাত্রে কংগ্রেস ওয়ার্কিং কমিটি নতুন কংগ্রেস সভাপতির নাম স্থির করার জন্য পাঁচটি কমিটি শলা-পরামর্শে বসে।
বিশদ

জম্মু-কাশ্মীর: উন্নয়ন ও অন্তর্ভুক্তির নতুন প্রভাত
রবিশঙ্কর প্রসাদ
 

জম্মু-কাশ্মীরের সাধারণ মানুষের কল্যাণে সংবিধানের ৩৭০ ধারা বাতিল করা হয়েছে। এর ফলে, ৭০ বছরের পুরনো একটা সমস্যার নতুন সরকারের ক্ষমতা গ্রহণের ৭০ দিনেরও কম সময়ে সমাধান হল। এই কারণে আমাদের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সাহস ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের ইচ্ছাশক্তিকে প্রশংসা করা উচিত।
 
বিশদ

20th  August, 2019
নিস্তেজ অর্থনীতির সত্যটা সরকার ভুলে যাচ্ছে 
পি চিদম্বরম

রাষ্ট্রপতি ভবন হল সরকারের ক্ষমতার আসনের প্রতীক। এক কিলো মিটার ব্যাসার্ধের মধ্যে সংসদ ভবন, প্রধানমন্ত্রীর অফিস (পিএমও), নর্থ ব্লক ও সাউথ ব্লক—মানে স্বরাষ্ট্র, অর্থ, প্রতিরক্ষা ও বিদেশ-এর মতো উচ্চ মন্ত্রকগুলি রয়েছে।   বিশদ

19th  August, 2019
সভাপতি পদে সোনিয়াজির প্রত্যাবর্তনে কংগ্রেস কি ছন্দ ফিরে পাবে
শুভা দত্ত

ছন্দ তো হারিয়েছে বহুদিন। ছন্দে ফেরার চেষ্টা—সেও শুরু হয়েছে বহুদিন। কিন্তু কিছুতেই যেন সেই পুরনো দমদার ছন্দে ফিরতে পারছে না জাতীয় কংগ্রেস! নেহরু-ইন্দিরার আমল থেকে গান্ধী পরিবারের ছত্রচ্ছায়ায় এবং নেতৃত্বে দলের যে অপ্রতিরোধ্য ছন্দ গোটা দেশকে কংগ্রেসি তেরঙ্গায় বেঁধে রেখেছিল, যে ছন্দ কংগ্রেস প্রতীক ইন্দিরার পাঞ্জার উপর বছরের পর বছর দেশের মানুষের আস্থা বিশ্বাস ও আবেগ ধরে রেখেছিল, জরুরি অবস্থা, নাসবন্দির মতো কাণ্ডের পরও যে ছন্দ ক্ষমতার কেন্দ্রে ফিরিয়ে এনেছিল কংগ্রেসকে, ইন্দিরা এবং ইন্ডিয়া হয়ে উঠেছিলেন সমার্থক—জাতীয় কংগ্রেসের সেই অমিত শক্তি রাজনৈতিক ছন্দ অনেক কাল আগেই ইতিহাসের পাতায় ঠাঁই নিয়েছে।
বিশদ

18th  August, 2019
ওয়াল স্ট্রিটের ‘নেকড়ে’-র গল্প!
মৃণালকান্তি দাস

ওয়াশিংটনের অপরিচিত কোনও এক পথে হাঁটতে হাঁটতে গল্পটা শুনিয়েছিলেন এমিলি ব্রাউন। গল্প বলতে, এক অপরাধীর ঘুরে দাঁড়ানোর কাহিনী। জর্ডন বেলফোর্টের গল্প। যিনি জীবনে অপরাধের নেশায় পড়ে সবকিছু হারিয়েছিলেন। কে এই জর্ডন বেলফোর্ট, জানেন? যাঁর জীবন কাহিনী শুনলে মনে হবে, এ এই মার্কিন মুলুকেই সম্ভব! বিশদ

17th  August, 2019
স্বাধীনতা ৭৩ এবং ভূস্বর্গের মুক্তি
মেরুনীল দাশগুপ্ত

গরিবি যতদিন না যাবে ততদিন এই উপত্যকায় শান্তি আসবে না। কারণ, কাশ্মীরি মানুষের গরিবিই ওদের একটা বড় হাতিয়ার। গরিব মানুষজনের অনেকেই ক’টা টাকার লোভে পড়ে সীমান্তর ওপার থেকে আসা লোকজনকে আশ্রয় দিয়ে, লুকিয়ে রেখে, খাবারদাবারের ব্যবস্থা করে ভ্যালির বিপদ বাড়িয়ে তুলছে।
বিশদ

15th  August, 2019
বনে থাকে বাঘ 
অতনু বিশ্বাস

ছেলেবেলায় ‘সহজ পাঠ’-এ পড়েছিলাম ‘বনে থাকে বাঘ’। যদিও এই পাঠটা যে খুব সহজ আর স্বাভাবিক নাও হতে পারে, অর্থাৎ বনে বাঘ নাও থাকতে পারে, সেটা বুঝতে বেশ বড় হতে হল। ছোটবেলায় অবশ্য মনে বদ্ধমূল ধারণা ছিল, বন-জঙ্গল গিজগিজ করে বাঘে। 
বিশদ

13th  August, 2019
রক্ষক আইন যেন ভক্ষক না হয়
শান্তনু দত্তগুপ্ত 

ভিক্টরি ম্যানসনে ঢুকলেন উইনস্টন স্মিথ। বহুতলে ঢুকেই নজরে আসবে দো’তলা সমান আখাম্বা ছবিটা। শুধু একটা মুখ। নীচে ক্যাপশন করা, বিগ ব্রাদার কিন্তু তোমাকে দেখছে। জর্জ অরওয়েলের কালজয়ী উপন্যাস ১৯৮৪-এর শুরুতেই উল্লেখ এই ছবির। আর এই নভেলের সারমর্মও লুকিয়ে এই ছবিতে—বিগ ব্রাদার দেখছে, তাই সাবধান। সাবধান হও সবাই... সরকারি কর্মচারী, ব্যবসায়ী, সাফাইকর্মী, বেসরকারি চাকুরে... মোদ্দা কথা নারী-পুরুষ নির্বিশেষে। সবসময় নজরদারি।  
বিশদ

13th  August, 2019
পুতিন কি পারবেন নতুন বিশ্বের নেতৃত্ব দিতে?
গৌরীশঙ্কর নাগ

 ১৯১৭ খ্রিস্টব্দে বা তার কিছু আগে থেকে লেনিন, ট্রটস্কি প্রমুখ নিবেদিত প্রাণ কমরেডের হাত ধরে সোভিয়েত সমাজতন্ত্র নামক যে মহীরুহটি ধীরে ধীরে গড়ে উঠেছিল তা গর্বাচেভ ক্ষমতাসীন হওয়ার পর কীভাবে তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়েছে—বিস্ময়ের সঙ্গে আমরা সেটা দেখেছি।
বিশদ

12th  August, 2019
স্টেট নয়, শুধুই রিয়াল এস্টেট
পি চিদম্বরম

 জম্মু ও কাশ্মীর নিয়ে প্রায়ই লিখি কিন্তু আজকেরটা অন্যরকম। জম্মু ও কাশ্মীর আর আগের জম্মু ও কাশ্মীর নেই। এটা আর রাজ্য নয়। এটাকে বিভক্ত করা হয়েছে। এখন দুটি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল—লাদাখ এবং জম্মু ও কাশ্মীর। ভারতের সংবিধানে কোনও রাজ্যকে কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের স্তরে নামিয়ে আনার ঘটনা এর আগে ঘটেনি।
বিশদ

12th  August, 2019
রাহুল সরে দাঁড়াতেই কংগ্রেস এমন নেতৃত্বহীনতায় ভুগছে কেন?
শুভা দত্ত

 প্রশ্নটা আজ দেশের সর্বস্তরে। পথে-ঘাটে অফিসে আড্ডায় যেখানেই চলতি রাজনীতি নিয়ে তর্ক-বিতর্কের উদয় হচ্ছে সেখানেই প্রশ্নটা যেন অনিবার্যভাবে এসে পড়ছে! কংগ্রেসের হলটা কী! রাহুল গান্ধী না বলে দিতেই আর সভাপতি খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না কংগ্রেসে! গান্ধী ফ্যামিলি ছাড়া কংগ্রেস সভাপতি খুঁজে পাচ্ছে না— এ তো বড় অদ্ভুত ব্যাপার! কংগ্রেসের জন্মের পর থেকে গান্ধী ফ্যামিলির বাইরের দেশ রাজনীতির কত দিকপালই তো জাতীয় কংগ্রেসের সভাপতির আসন অলঙ্কৃত করেছেন—উমেশচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়, দাদাভাই নৌরজি, সুরেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়, সুভাষচন্দ্র, অ্যানি বেসান্ত, চিত্তরঞ্জন, সরোজিনী নাইডু, বল্লভভাই প্যাটেল, কামরাজ, জগজীবন রাম—কত নাম বলব। নিশ্চয়ই এই তালিকায় নেহরু থেকে ইন্দিরা, রাজীব, সোনিয়া হয়ে রাহুল—গান্ধী পরিবারের সদস্যরাও ছিলেন।
বিশদ

11th  August, 2019
শুধু উন্নয়ন নয়, ভোটের জন্য চাই ভালো মাস্টার
তন্ময় মল্লিক

মোটা বেতন দিয়ে মাস্টার রাখলেই ছেলেমেয়ে মানুষ হয় না। তেমনটা হলে সব বড়লোকের ছেলেমেয়েই উচ্চশিক্ষিত হতো। কিন্তু, তা তো হয় না। ছাত্রছাত্রীর পড়াশোনায় আগ্রহ, মেধা যেমন থাকা দরকার, তেমনই নজরদারিটাও জরুরি। ফাঁকিবাজি থাকলেই ছাত্র হয় গাড্ডু খাবে, অথবা ‘বিবেচনায়’ পাশ।
বিশদ

10th  August, 2019
একনজরে
 নিজস্ব প্রতিনিধি, বেঙ্গালুরু: কাল, শুক্রবার স্যামসাং বাজারে নিয়ে আসছে উন্নতমানের মোবাইল গ্যলাক্সি নোট টেন ও টেন প্লাস। এস পেন নামের একটি কলম দিয়ে এই মোবাইল পরিচালনা করা যাবে। ...

সংবাদদাতা, নকশালবাড়ি: বুধবার উত্তরবঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল গবেষক বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন। কলেজের অতিথি অধ্যাপকদের স্থায়ী করার বিষয়ে রাজ্য সরকার সম্প্রতি উদ্যোগ নিয়েছে। ...

  সংবাদদাতা, তেহট্ট: বুধবার সকালে তেহট্ট থানার বেতাই বাজারে কৃষ্ণনগর-করিমপুর রাজ্য সড়কে যন্ত্রচালিত মোটরভ্যানের ধাক্কায় জখম হলেন এক বৃদ্ধা। তেহট্ট থানার বেতাই পোস্টঅফিস পাড়ার বাসিন্দা সুনীতা দত্ত নামে ওই বৃদ্ধাকে স্থানীয়রা উদ্ধার করে তেহট্ট মহকুমা হাসপাতালে ভর্তি করেছে। ...

 সঞ্জয় গঙ্গোপাধ্যায়, কলকাতা: উইপ্রো নিউটাউনে তথ্যপ্রযুক্তির দ্বিতীয় ক্যাম্পাস করতে চায় বলে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছেন। তাদের ৫০ একর জমি দেওয়া হবে বলে নবান্ন সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তবে ইনফোসিস যে ধরনের সুবিধা পেয়েছে, তা দেওয়ার জন্য আবেদন করেছে উইপ্রো। ...




আজকের দিনটি কিংবদন্তি গৌতম
৯১৬৩৪৯২৬২৫ / ৯৮৩০৭৬৩৮৭৩

ভাগ্য+চেষ্টা= ফল
  • aries
  • taurus
  • gemini
  • cancer
  • leo
  • virgo
  • libra
  • scorpio
  • sagittorius
  • capricorn
  • aquarius
  • pisces
aries

সঠিক বন্ধু নির্বাচন আবশ্যক। কর্মরতদের ক্ষেত্রে শুভ। বদলির কোনও সম্ভাবনা এই মুহূর্তে নেই। শেয়ার বা ... বিশদ


ইতিহাসে আজকের দিন

১৬৩৯: মাদ্রাজ (বর্তমান চেন্নাই) শহরের প্রতিষ্ঠা করে ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি
১৮১৮: ভারতে ব্রিটিশ গভর্নর জেনারেল ওয়ারেন হেস্টিংস-এর মৃত্যু
১৯১১: গায়ক দেবব্রত বিশ্বাসের জন্ম
১৯১৫: অভিনেতা শম্ভু মিত্রের জন্ম
১৯৫৫: রাজনীতিক ও প্রখ্যাত চিত্রতারকা চিরঞ্জীবীর জন্ম
১৯৮৯: নেপচুন গ্রহে প্রথম বলয় দেখা গেল

ক্রয়মূল্য বিক্রয়মূল্য
ডলার ৭০.৬৯ টাকা ৭২.৩৯ টাকা
পাউন্ড ৮৫.৪৬ টাকা ৮৮.৬১ টাকা
ইউরো ৭৭.৯০ টাকা ৮০.৯০ টাকা
[ স্টেট ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়া থেকে পাওয়া দর ]
পাকা সোনা (১০ গ্রাম) ৩৮,১৩৫ টাকা
গহনা সোনা (১০ (গ্রাম) ৩৬,১৮০ টাকা
হলমার্ক গহনা (২২ ক্যারেট ১০ গ্রাম) ৩৬,৭২৫ টাকা
রূপার বাট (প্রতি কেজি) ৪৩,৯০০ টাকা
রূপা খুচরো (প্রতি কেজি) ৪৪,০০০ টাকা
[ মূল্যযুক্ত ৩% জি. এস. টি আলাদা ]

দিন পঞ্জিকা

৫ ভাদ্র ১৪২৬, ২২ আগস্ট ২০১৯, বৃহস্পতিবার, ষষ্ঠী ৪/২৮ দিবা ৭/৬। ভরণী ৫৩/১১ রাত্রি ২/৩৬। সূ উ ৫/১৯/২১, অ ৬/০/৩, অমৃতযোগ রাত্রি ১২/৪৭ গতে ৩/৩ মধ্যে, বারবেলা ২/৪৯ গতে অস্তাবধি, কালরাত্রি ১১/৩৯ গতে ১/৪ মধ্যে।
৪ ভাদ্র ১৪২৬, ২২ আগস্ট ২০১৯, বৃহস্পতিবার, সপ্তমী ৫৫/২৪/৯ রাত্রি ৩/২৮/৭। ভরণীনক্ষত্র ৪৫/২৬/১৪ রাত্রি ১১/২৮/৫৭, সূ উ ৫/১৮/২৭, অ ৬/২/৫৯, অমৃতযোগ রাত্রি ১২/৪৪ গতে ৩/৪ মধ্যে, বারবেলা ৪/২৭/২৫ গতে ৬/২/৫৯ মধ্যে, কালবেলা ২/৫১/৫১ গতে ৪/২৭/২৫ মধ্যে, কালরাত্রি ১১/৪০/৪৩ গতে ১/৫/৯ মধ্যে।
২০ জেলহজ্জ

ছবি সংবাদ

এই মুহূর্তে
চন্দ্রযান ২-এর তোলা চাঁদের প্রথম ছবি 
চন্দ্রযান ২-এর তোলা চাঁদের প্রথম ছবি প্রকাশ করল ইসরো ...বিশদ

08:25:16 PM

২৬ আগস্ট পর্যন্ত চিদম্বরমের সিবিআই হেফাজত 
পি চিদম্বরমের ৫ দিনের সিবিআই হেফাজতের নির্দেশ দিল আজ সিবিআই঩য়ের ...বিশদ

06:50:00 PM

ফের আক্রান্ত পুলিস, এবার আমতায়
ফের একবার পুলিসকে মারধর করে উদি ছিঁড়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠল। ...বিশদ

04:49:07 PM

রায়গঞ্জে বিজেপি সমর্থকের কান কাটার অভিযোগ তৃণমূলের বিরুদ্ধে 
রায়গঞ্জের পূর্বপাড়া এলাকায় হাঁসুয়া দিয়ে এক মহিলার কান কেটে নেওয়ার ...বিশদ

04:21:05 PM

তারকেশ্বর ডিগ্রি কলেজে গোলমাল, জখম ১ 
তারকেশ্বর ডিগ্রি কলেজে তৃণমূল ছাত্র পরিষদের সদস্য এবং অখিল ভারতীয় ...বিশদ

04:03:52 PM

চিদম্বরমকে ৫ দিনের হেফাজতে চাইল সিবিআই
সিবিআইয়ের বিশেষ আদালতে পি চিদম্বরমকে ৫ দিনের হেফাজতে চাইল সিবিআই। ...বিশদ

04:03:00 PM