Bartaman Patrika
বিশেষ নিবন্ধ
 

আত্মশক্তি ও আমরা
সমৃদ্ধ দত্ত

বীরভূমের এক গ্রামবাসী শান্তিনিকেতনে এসে সি এফ অ্যান্ড্রুজের হাতে চিঠি পাঠিয়েছেন মহাত্মা গান্ধীকে। ১৯৩৬ সালের ডিসেম্বর মাসে। সেই চিঠিতে তিনি প্রশ্ন করেছেন, আপনার মতে একটি আদর্শ গ্রাম কাকে বলে? আর আজকের এই সামাজিক রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে কোনও একটি সাধারণ গ্রামকে আদর্শ গ্রাম হিসেবে গড়ে তোলাই বা কীভাবে সম্ভব? ১৯৩৭ সালের হরিজন পত্রিকার ৯ জানুয়ারি সংখ্যায় গান্ধীজি সেই চিঠির উল্লেখ করে লিখছেন, একটি আদর্শ গ্রামের সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ শর্ত হল সবার আগে সেটির নিকাশি ব্যবস্থা আর পরিচ্ছন্নতা। এমন কুটির নির্মাণ করা যেটিতে যথেষ্ট আলোবাতাস আসে। সেই কুটিরের সামনে অথবা পিছনে জমি থাকে এবং সেই জমিতে প্রয়োজনীয় সব্জি বা ফল গ্রামবাসীরা নিজেরাই উৎপাদন করে নিজেদের চাহিদা মেটাতে পারেন। আদর্শ গ্রামে থাকা সরকারি একটি কমন প্রার্থনা স্থল, যেখানে সকলেই এসে প্রার্থনা করতে পারবেন। একটি সমবায় ডেয়ারি, একটি প্রাথমিক ও সেকেণ্ডারি স্কুল। নিজের খাদ্য নিজেরা উৎপন্ন করার পাশাপাশি সেগুলি বিক্রয়ের ব্যবস্থাও থাকবে। আর থাকবে খাদি সেন্টার। যাতে বাইরে শহরে গিয়ে কোনও পরিধান কিনতেই না হয়।
এসব থাকলে যেটা হবে তা হল সর্বদা সরকারের উপর নির্ভর করে থাকতে হবে না। আমার কাছে সবথেকে আদর্শ হল গ্রামবাসীরা যদি নিজেদের ভালোর জন্য পারস্পরিক সহায়তায় নিজেরাই জোট বাঁধে। ভেদাভেদ ভুলে কী করলে গোটা গ্রামের উন্নতি ও মঙ্গল হবে, সেটা উপলব্ধি করে নিজেরাই পরিশ্রম করলে দেখা যাবে উন্নতির আলো। গান্ধীজির ওই বার্তার ৮২ বছর পর আমাদের রাজনৈতিক দল কিংবা সরকার এরকম কোনও আদর্শ গ্রাম কি উপহার দিতে পেরেছে? গান্ধীজি এই নিবন্ধের শেষে লিখেছিলেন, সবথেকে হতাশার বিষয় হল মানুষের অগ্রবর্তী হয়ে কিছু করার প্রতি অনীহা। শহুরে গবেষক, রং বে-রং দলীয় সমর্থক, রিসার্চ স্কলার, নেতানেত্রীর ভক্ত এবং দিনভর সোশ্যাল মিডিয়ায় দেশোদ্ধার করা জাতি নয়, গান্ধীজির এসব বার্তার প্রকৃত অনুসরণকারী ভারতের অসংখ্য গ্রামের নিরক্ষর মানুষের দল। আমরা যখন তিন তালাক থেকে ৩৭০ নং নিয়ে প্রচুর মাতামাতি করছি তখন রাজস্থানের প্রত্যন্ত কয়েকটি গ্রামে একটি বিপ্লব চলছে।
২০১২ সাল থেকে আজ পর্যন্ত ৬টি সন্তানের জন্ম দিয়েছেন হীরা। রাজস্থানের বাঁশওয়াড়া জেলার সেওয়ানা গ্রামের হীরার সন্তানেরা প্রত্যেকেই কন্যা। বাঁশওয়াড়ার এইসব গ্রামের সবথেকে দুঃখজনক একটা প্রবণতা হল এখানে ৩৫ থেকে ৪০ বছর বয়স হওয়ার পরই গৃহবধূরা বৃদ্ধা হয়ে যান, মানসিক রোগীর লক্ষণ দেখা যায় এবং আত্মহত্যা করার চেষ্টা করেন। কেউ সফল হন। কেউ হন না। স্থায়ী কোনও অসুস্থতায় ঘরের বাইরের খাটিয়ায় বাকি জীবন কেটে যায় শয্যাশায়ী হয়ে। যাই হোক। হীরার পরপর পাঁচটি কন্যাসন্তানের পর যখন গত ডিসেম্বর মাসে ষষ্ঠ সন্তান প্রসব হল, তখন তাঁকে বলা হয়নি কী সন্তান হয়েছে। তিনি কয়েকবার প্রশ্নও করেন। কিন্তু কারও কাছে জবাব না পেয়ে যখন শুনলেন শাশুড়ির কণ্ঠে উচ্চস্বরে কান্না, তখন বুঝলেন এবারও কন্যা। তিনিও কাঁদতে লাগলেন। স্বামীও। প্রতিটি সন্তানের পরই পাশের গ্রামের এক সাধুর কাছে যাওয়া হয়। তিনি পরবর্তী সন্তানধারণের সম্ভাবনা জানার পর একটি মন্ত্রঃপূত নারকেল দিয়ে থাকেন। সেটা ফাটিয়ে খেতে হয় নির্দিষ্ট দিনে।
সেই সাধু অবশেষে হাল ছেড়ে দিয়েছেন। বলেছেন, হীরা তুই তোর মায়ের থেকেও বেশি অভিশপ্ত। তোকে মনে হয় কিছু করা যাবে না। হীরার মায়ের চার মেয়ে। সুতরাং হীরার মাকে হীরা হারিয়ে দিয়েছে। এই কাহিনীগুলি এখানেই সমাপ্ত হয়ে যায় অথবা চলতে থাকে। কিন্তু রাজস্থানের ওয়াকা গ্রামের ক্লাস এইট পাশ কল্পনা নামের এক রাওয়াল জাতির মেয়ে অন্যরকম ভাবলো। বাড়ি থেকে দেড় কিলোমিটার দূরে তিনটি মাটির কলসি মাথায় নিয়ে জল আনার সময় কুয়োর অদূরে বসে কাঁদছিল হীরা। তাঁকে সান্তনা দিচ্ছিলেন আরও কয়েকজন নারী, যাঁদের প্রত্যেকের কন্যাসন্তান হওয়ায় উপেক্ষা আর অত্যাচারই জোটে। এই মহিলাদের বলা হয় কৃষিমজুরি করে মেয়ের বিয়ের টাকা জমানো শুরু করতে। কারণ যে মা কন্যাসন্তানের জন্ম দিয়েছে তাঁরই দায় সেই মেয়ের বিয়েতে খরচ করার। এভাবে পরিশ্রম, স্বল্প পুষ্টি, প্রতি বছর সন্তান গর্ভে ধারণ করা, পুত্রসন্তান জন্ম না দেওয়ার কারণে বদনাম এবং তারপর ডিপ্রেশন। এই চক্রে গ্রামের পর গ্রাম বধূরা অসুস্থ অথবা মানসিক রোগগ্রস্থ হয়ে যান। এই নারীরা সারাবছর কৃষি কিংবা ১০০ দিনের কাজে অমানুষিক পরিশ্রম করেন এবং প্রতি বছর নতুন করে গর্ভবতীও হন। কল্পনা এই মেয়েদের কাঁদতে দেখে একটি শপথ নিয়েছিল। ২৫ জন গ্রাম্য মহিলা একটি কুয়োর পাশে দাঁড়িয়ে গঠন করলেন ‘তাজো পরিবার’ নামক কর্মসূচি।
সেই থেকে এই মহিলারা সময় করে গ্রামে গ্রামে ঘুরছেন আর বিভিন্ন পরিবারের স্বামী শাশুড়িদের বোঝাচ্ছেন কেন কন্যা ও পুত্রসন্তানের মধ্যে বিভেদ না করে মেয়েদের সমানভাবে শিক্ষা দিলে কতটা লাভ। আর এভাবে পাঁচটি ছটি সাতটি সন্তানের জন্ম না দিয়ে একটি বা দুটিতেই সীমাবদ্ধ রাখলে সুখী সংসার হবে। সেই তাজো পরিবার কর্মসূচিকে আটকানোর বহু চেষ্টা হয়। বহু অত্যাচার হয় এঁদের উপর। কিন্তু পিছু না হটে এই গ্রাম্য মহিলারা শক্তি সঞ্চয় করেই চলেছেন। সরকারের দ্বারস্থ না হয়েই এঁরা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। দাঁতে দাঁত চেপে। তাঁরা দেখলেন একটি করে নতুন গ্রামে যাচ্ছেন, আর সেই গ্রামের দু তিনজন মেয়ে যোগ দিচ্ছেন এগিয়ে এসে। সম্প্রতি এঁদের একটি বৈঠকে জানতে চাওয়া হয়েছিল কেন্দ্রীয় বা রাজ্য সরকারের নানারকম সিদ্ধান্ত নিয়ে তাঁদের কী অভিমত? এইট পাশ কল্পনা ‘তাজো পরিবার’ কর্মসূচির প্রধান। তিনি হেসে বলেছেন, আমরা কেউ জানি না...জানার সময় নেই আসলে...এটা জানি আমাদের কাজ আমাদেরই করতে হবে।
ওড়িশার কোরাপুটের ৭১ বছর বয়সি কমলা পূজারি প্রতিদিন ভোরে উঠে স্নান করে উঠোনে পুজো সেরে আগের রাতের জলে ভেজানো ভাত খেয়ে বেরিয়ে পড়েন। এরপর হাঁটা। কমলার চোখ রাস্তায় থাকে না। থাকে রাস্তার পাশের ক্ষেতে, গ্রাম্য বাড়ির অঙ্গনে কিংবা একটুকরো রান্নাঘর সংলগ্ন বাগানে। রাসায়নিক আর পেস্টিসাইড ব্যবহার করে করে ভারতের গ্রামে গ্রামে ধান কিংবা অন্য ফসলের বহু বৈচিত্র্য নষ্ট হয়ে গিয়েছে। কমলা পূজারির কাজ হল যখন যেখানে যে ফসল দেখলেন সেটারই বীজ জোগাড় করে নিলেন। আর সেটা জমিয়ে ফেললেন। এভাবে বীজ জমাচ্ছেন কমলা পূজারি। একটি থেকে দুটি বীজ। তিনটি থেকে কুড়িটা বীজ। কমলা পূজারির বাড়িতে হাজার হাজার বোতলে বীজ রাখা আছে। গ্রামে গ্রামে যাচ্ছেন আর বিরল প্রজাতির বীজ দিয়ে চাষিদের বলেন পেস্টিসাইড আর কেমিকেল ব্যবহার করলে সব বীজ একদিন নষ্ট হবে। শুধুই বীজ কিনতে হবে বড়লোক ব্যবসায়ী কোম্পানির থেকে। কমলা পূজারি হাঁটছেন এখনও। বীজ সংগ্রহ করতে। নেমে পড়ছেন কাদামাঠে, নেমে পড়ছেন অর্ধেক জলমগ্ন পুকুরে। কমলা পূজারি হেঁটে চলেছেন। ভারতের নিজস্ব বীজ বাঁচাতে। আজ গোটা ভারত থেকে বিদেশ থেকে বিজ্ঞানীরা আসেন কোরাপুটের গ্রামে। কমলা পূজারির কাছে বীজ দেখতে। কমলা পূজারির মাটির বাড়িতে এক অভিনব সম্ভার। ভারতের বীজব্যাঙ্ক! কমলা পূজারি কারও উপর ভরসা করে বসে নেই। তিনি নিজের কাজ নিজে করছেন।
ভারতের অর্থনীতি একটা সময় সবথেকে বেশি নির্ভরশীল ছিল কৃষির উপর। সম্পূর্ণ পরিবর্তিত হয়ে সেই অর্থনীতি এখন নির্ভর করে ইণ্ডাস্ট্রি আর সার্ভিস সেক্টরের উপর। ভারতের জনসংখ্যার বিপুল অংশ একসময় গ্রামে থাকত। সম্পূর্ণ ভিন্ন প্রবণতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। ভারতের জনসংখ্যা ক্রমেই এখন শহরমুখী। কেন? কারণ গ্রামীণ অর্থনীতি প্রায় ধ্বংসের কিনারায় উপনীত হয়েছে। ন্যাশনাল ব্যাঙ্ক ফর এগ্রিকালচারাল অ্যান্ড রুরাল ডেভেলপমেন্ট একটি সমীক্ষা করেছে। সেটির নাম অল ইন্ডিয়া রুরাল ফিনান্সিয়াল ইনক্লুশন।
সেই সার্ভেতে দেখা যাচ্ছে ভারতে ২০১৭ সাল পর্যন্ত গ্রামীণ পরিবারের সংখ্যা ২২ কোটি। আর এই ২২ কোটি পরিবারের মধ্যে আয়ের ক্ষেত্রে কৃষির সঙ্গে সংযোগ রয়েছে এরকম পরিবার ১০ কোটি। বাকি ১২ কোটি পরিবার কৃষির সঙ্গে যুক্তই নয়। আর ওই সার্ভে অনুযায়ী গ্রামীণ পরিবারের মাসিক গড় আয় ৮০৫৯ টাকা। এর মধ্যে গড়ে ৩৫০৪ টাকাই আসে দিনমজুরি থেকে। ১৯০৬ টাকা গড় আয় হয় সরকার কিংবা বেসরকারি কোনও কাজ থেকে। আর মাত্র ১৮৩২ টাকা গড় আয় কৃষি থেকে। সুতরাং কৃষি থেকে আয় কমছে। গ্রাম থেকে মানুষ চলে যাচ্ছে সেমি আরবান শহরে। ভারতের গ্রামীণ চরিত্র বদলে যাচ্ছে। আর এই কারণেই আমাদের সরকার বেসিক বিষয়গুলি নিয়ে আর ভাবিত নয়। কৃষি উন্নয়নের একটা প্লাস্টিক প্লাস্টিক উন্নয়নের ভাবমূর্তি প্রকাশ করা হয় সাবসিডি বা সহায়ক মূল্য দিয়ে। যা সমস্যার সমাধান নয়। কারণ ভারতের কৃষিকে আসলে কিনে নিচ্ছে তাবৎ কর্পোরেট। ভারতজুড়ে ক্যাশ ক্রপ আর কর্পোরেট ফার্মিং চলছে। জলের সাপ্লাই কিনে নিয়েছে কর্পোরেট। নদী, পাহাড়, অরণ্যের অধিকার চলে যাচ্ছে মাল্টিন্যাশনালের কাছে। তামিলনাড়ুর থুটুকোড়ি জেলায় একটি বিখ্যাত মাল্টিন্যাশনাল সংস্থার ইউনিটের বিষবর্জ্য গোটা জেলার বৃহৎ অঞ্চল জুড়ে সমস্ত ভূগর্ভস্থ জল ও মাটির উর্বরতা দূষিত করে দিয়েছিল। গ্রামবাসীদের বিশুদ্ধ পানীয় জল আনতে যেতে হয় ৫ কিলোমিটার দূরে। কিন্তু আবার নতুন করে কপার ইউনিট করার অনুমতিও পেয়েছে সেই সংস্থা। প্রতিবাদে ২০ হাজার গ্রামবাসী দিনের পর দিন অবস্থানে বসেছিল জেলাশাসকের দপ্তরের সামনে। আবেদন ছিল ওই কপার কারখানা যেন না হয়। তাহলে চাষবাস বন্ধ হয়ে যাবে। পরিবর্তে গুলি চালায় পুলিস। ১৪ জন মারা যান।
সেই সংস্থাটি কত দামে জল পেয়েছে? ১০ টাকায় ১ হাজার লিটার। গ্রামবাসীকে কত দামে জল কিনতে হয়েছে? ১০ টাকার ২৫ লিটার। গ্রামবাসীরা ফেসবুকে প্রতিবাদ করেননি। রাস্তায় নেমেছেন, গুলি খেয়েছেন। আমরা কি একদিনও আলোচনা করেছি? এই মুহূর্তে ১৬টি রাজ্যের ১০ লক্ষ আদিবাসী যে আন্দোলনটি করছে নিজেদের ভিটেমাটি ও জঙ্গল বাঁচাতে আমরা কি আদৌ সেটা নিয়ে চিন্তিত? কেউ জানি না কোথায় কী কর্মসূচি চলছে কোল ভিল গোন্দ আদিবাসীদের? আমরা নিজেদের চারপাশে ঘটে যাওয়া অন্যায়ের প্রতিবাদ করি না। ক্ষুদ্র গণ্ডিতে কোনও সমস্যা সমাধানে নিজেরা একটা কিছু করার শপথ নিয়ে অগ্রসরও হই না।
আমরা অনেক দূরের কাশ্মীর, অযোধ্যা, বালাকোট নিয়ে ভয়ানক উদ্বিগ্ন। কিন্তু কেন? রাষ্ট্রশক্তি ওটাই চায়। নিজেদের দৈনন্দিন সমস্যা ভুলে দূরের আলোছায়া মেশা ঘটনা নিয়ে যাতে জনগণ মেতে থাকে। রবীন্দ্রনাথ পল্লীপ্রকৃতি গ্রন্থে লিখেছিলেন, ‘‘বিধাতা তো তেত্রিশ কোটির ভার আমাদের হাতে দেননি? তিনি শুধু একটি প্রশ্ন করেন, ‘তুমি কী করছ?’ যে কার্যক্ষেত্র তোমার, সেখানে তুমি নিজেকে সত্য করেছো কিনা?’’ রাজস্থানের কল্পনা, কোরাপুটের কমলা পূজারিরা সেটাই করছেন। আমরা নয়!
23rd  August, 2019
পুজোর মুখে
শুভা দত্ত

পুজো আসছে। মাঝে আর মাত্র ক’টা দিন—তারপরই শুরু হয়ে যাবে দেবী দুর্গার আরাধনায় মত্ত বাঙালির উৎসব যাপন। আমাদের বিশ্বাস, সেই উৎসবের আনন্দ কোলাহলে আলোর বন্যায় জনস্রোতে ক’দিনের জন্য হলেও এনআরসি হোক কি যাদবপুর, কি সারদা নারদা রাজীব কুমার—সব তলিয়ে যাবে। চিহ্নমাত্র থাকবে না। এতদিন তাই হয়েছে—এবারও তার ব্যতিক্রম হবে না।
বিশদ

এনআরসি, সংখ্যালঘু ভোট ও বিজেপি
তন্ময় মল্লিক

‘এবার সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষদের আরও বেশি করে বিজেপির ছাতার তলায় নিয়ে আসতে হবে। সেই মতো গ্রহণ করতে হবে যাবতীয় কর্মসূচি।’ দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্ব নিয়েই বিজেপির বঙ্গ নেতৃত্বকে এই কথাগুলি যিনি বলেছিলেন তিনি আর কেউ নন, ‘গেরুয়া শিবিরের চাণক্য’ অমিত শাহ।
বিশদ

21st  September, 2019
সরকারি চাকরির মোহে আবিষ্ট সমাজ
অতনু বিশ্বাস

সমাজ বদলাবে আরও। আমি বা আপনি চাইলেও, কিংবা গভীরভাবে বিরোধিতা করলেও। সরকারি বা আধা-সরকারি চাকরির নিরাপত্তার চক্রব্যূহ ক্রমশ ভঙ্গুর হয়ে পড়বে আরও অনেকটা। এবং দ্রুতগতিতে। গোটা পৃথিবীর সঙ্গে তাল মিলিয়ে এ এক প্রকারের ভবিতব্যই। একসময় আমরা দেখব, চাকরি বাঁচাতে গড়পড়তা সরকারি চাকুরেদেরও খাটতে হচ্ছে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের চাকুরেদের মতো। সরকারি চাকরির নিশ্চিন্ত আশ্রয়ের নিরাপত্তার ‘মিথ’ ভেঙে চুরচুর হয়ে পড়বে। এবং সে-পথ ধরেই ক্রমে বিদায় নেবে পাত্রপাত্রী চাই-য়ের বিজ্ঞাপন থেকে ‘সঃ চাঃ’ নামক অ্যাক্রোনিম।
বিশদ

21st  September, 2019
আলোচনার অভিমুখ
সমৃদ্ধ দত্ত

 প্রাচীন বিশ্বের বিভিন্ন সভ্যতায় দেখা যায় সম্রাটরা অসীম ক্ষমতার অধিকারী প্রমাণ করার জন্য অতি প্রাকৃতিক শক্তি সম্পন্ন হিসেবে নিজেদের প্রতিভাত করতেন। এর ফলে প্রজা শুধু সম্রাটকে যে মান্য করত তাই নয়, ভয়ও পেত, সমীহ করত। প্রাচীন মিশরে শতাব্দীর পর শতাব্দীর ধরে ফারাওরা নিজেদেরই ঈশ্বর হিসেবে ঘোষণা করতেন।
বিশদ

20th  September, 2019
হিন্দু বাঙালির বাড়ি ভাঙছে, হারাচ্ছে দেশ 
শুভময় মৈত্র

জয় গৃহশিক্ষকতা করেন, বাড়ি সিঁথি মোড়ের কাছে, বরানগরে। নিজেদের তিরিশ বছরের পুরনো বাড়ি, সারানোর প্রয়োজন। একান্নবর্তী পরিবার, দাদা বড় ইঞ্জিনিয়ার। তিনি আর একটি ফ্ল্যাট কিনেছেন কাছেই। 
বিশদ

20th  September, 2019
বাংলায় এনআরসি বিজেপির স্বপ্নের পথে কাঁটা হয়ে দাঁড়াবে না তো 
মেরুনীল দাশগুপ্ত

লোকসভা ভোটে অপ্রত্যাশিত ফলের পর বাংলার বিজেপি রাজনীতিতে যে জমকালো ভাবটা জেগেছিল সেটা কি খানিকটা ফিকে হয়ে পড়েছে? পুজোর মুখে এমন একটা প্রশ্ন কিন্তু পশ্চিমবঙ্গের আমজনতার মধ্যে ঘুরপাক খেতে শুরু করেছে। 
বিশদ

19th  September, 2019
জন্মদিনে এক অসাধারণ নেতাকে কুর্নিশ
অমিত শাহ

 আজ, মঙ্গলবার আমাদের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ৬৯তম জন্মদিন। অল্প বয়স থেকেই মোদিজি নিজেকে দেশের সেবায় উৎসর্গ করেছেন। যৌবন থেকেই তাঁর মধ্যে পিছিয়ে পড়া শ্রেণীর উন্নয়নে কাজের একটি প্রবণতা লক্ষ করা যায়। দরিদ্র পরিবারে জন্মগ্রহণের কারণে মোদিজির শৈশবটা খুব সুখের ছিল না। বিশদ

17th  September, 2019
ব্যাঙ্ক-সংযুক্তিকরণ কতটা সাধারণ মানুষ এবং সামগ্রিক ব্যাঙ্কব্যবস্থার উন্নতির স্বার্থে?
সঞ্জয় মুখোপাধ্যায়

অনেকগুলি ব্যাঙ্ক সংযুক্ত করে দেশে সরকারি ব্যাঙ্কের সংখ্যা কমিয়ে আনা হল আর সংযুক্তির পর চারটি এমন বেশ বড় ব্যাঙ্ক তৈরি হল, আকার আয়তনে সেগুলিকে খুব বড় মাপের ব্যাঙ্কের তকমা দেওয়া যাবে। এসব ঘোষণার পর অর্থমন্ত্রীর বক্তব্য, এতে দেশের অর্থনীতির খুব উপকার হবে।  
বিশদ

16th  September, 2019
রাজনীতির উত্তাপ কি পুজোর আমেজ
জমে ওঠার পথে বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে?
শুভা দত্ত

 পরিস্থিতি যা তাতে এমন কথা উঠলে আশ্চর্যের কিছু নেই। উঠতেই পারে, উঠছেও। বাঙালির সবচেয়ে বড় উৎসবের মুখে প্রায় প্রতিদিনই যদি কিছু না কিছু নিয়ে নগরী মহানগরীর রাজপথে ধুন্ধুমার কাণ্ড ঘটে, পুলিস জলকামান, লাঠিসোঁটা, কাঁদানে গ্যাস, ইটবৃষ্টি, মারদাঙ্গা, রক্তারক্তিতে যদি প্রায় যুদ্ধ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয় এবং তাতে সংশ্লিষ্ট এলাকার জনজীবন ব্যবসাপত্তর উৎসবের মরশুমি বাজার কিছু সময়ের জন্য বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে তবে এমন কথা এমন প্রশ্ন ওঠাই তো স্বাভাবিক।
বিশদ

15th  September, 2019
আমেরিকায় মধ্যবয়সের
সঙ্গী সোশ্যাল মিডিয়া
আলোলিকা মুখোপাধ্যায়

যে বয়সে পৌঁছে দূরের আত্মীয়স্বজন ও পুরনো বন্ধুদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা ক্রমশ আগের মতো সম্ভব হয় না, সেই প্রৌঢ় ও বৃদ্ধ-বৃদ্ধার জীবনে ইন্টারনেট এক প্রয়োজনীয় ভূমিকা নিয়েছে। প্রয়োজনীয় এই কারণে যে, নিঃসঙ্গতা এমন এক উপসর্গ যা বয়স্ক মানুষদের শরীর ও মনের উপর প্রভাব ফেলে। বিশদ

14th  September, 2019
মোদি সরকারের অভূতপূর্ব কাশ্মীর পদক্ষেপ পরবর্তী ভারতীয় কূটনীতির সাফল্য-ব্যর্থতা
গৌরীশঙ্কর নাগ

 এই অবস্থায় এটা অস্বীকার করার উপায় নেই যে, ৩৭০ ধারা বিলোপ পর্বের প্রাথমিক অবস্থাটা আমরা অত্যন্ত উৎকণ্ঠার মধ্য দিয়ে অতিক্রম করেছি।
বিশদ

14th  September, 2019
ব্যর্থতা নয়, অভিনন্দনই
প্রাপ্য ইসরোর বিজ্ঞানীদের
মৃণালকান্তি দাস

 কালামের জেদেই ভেঙে পড়েছিল ইসরোর রোহিনী। না, তারপরেও এ পি জে আব্দুল কালামকে সে দিন ‘ফায়ার’ করেননি ইসরোর তদানীন্তন চেয়ারম্যান সতীশ ধাওয়ান! বলেননি, ‘দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হল কালামকে’! তার এক বছরের মধ্যেই ধরা দিয়েছিল সাফল্য। ধাওয়ানের নির্দেশে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়েছিলেন সেই কালাম-ই। তাঁর কথায়, ‘ওই দিন আমি খুব গুরুত্বপূর্ণ পাঠ পেয়েছিলাম। ব্যর্থতা এলে তার দায় সংস্থার প্রধানের। কিন্তু,সাফল্য পেলে তা দলের সকলের। এটা কোনও পুঁথি পড়ে আমাকে শিখতে হয়নি। এটা অভিজ্ঞতা থেকে অর্জিত।’ বিশদ

13th  September, 2019
একনজরে
 অভিমন্যু মাহাত, সোদপুর, বিএনএ: ১৫০ বছরের পুরনো আস্ত জমিদার বাড়িকেই তুলে ধরছে সোদপুরের উদয়ন সংঘ। এবার তাদের থিম ‘খিড়কি থেকে সিংহদুয়ার’। থিম ড্রামা, থিম সং ...

বিএনএ, রায়গঞ্জ: শনিবার দুপুরে রায়গঞ্জের বাহিন গ্রাম পঞ্চায়েতের শঙ্করপুরে জমিতে কাজ করার সময় এক মহিলা শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। পুলিস জানিয়েছে, মৃতের নাম লক্ষ্মী দাস(২৫)। মৃতের বাড়ি বাহিনের হাঁটমুনি গ্রামে।  ...

 জম্মু, ২১ সেপ্টেম্বর (পিটিআই): দক্ষিণ কাশ্মীরের পুলওয়ামা জেলার বিভিন্ন জায়গায় তল্লাশি চালাল পুলিস। গ্রেপ্তার করা হল জয়েশ-ই-মহম্মদের দুই সক্রিয় কর্মীকে। কিছুদিন আগেই ট্রাক নিয়ে পাঞ্জাব থেকে কাশ্মীর আসার পথে কাঠুয়ায় প্রচুর অস্ত্রশস্ত্র সহ গ্রেপ্তার হয়েছিল তিন জঙ্গি। ...

 নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: বৃহস্পতিবার রাতে ছাত্র বিক্ষোভের জেরে অগ্নিগর্ভ পরিস্থিতির মধ্যে উপাচার্য-সহ উপাচার্যের অনুপস্থিতিতে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী বাবুল সুপ্রিয়কে উদ্ধার করতে রাজ্যপাল জগদীপ ধনকার ক্যাম্পাসে যেতে ...




আজকের দিনটি কিংবদন্তি গৌতম
৯১৬৩৪৯২৬২৫ / ৯৮৩০৭৬৩৮৭৩

ভাগ্য+চেষ্টা= ফল
  • aries
  • taurus
  • gemini
  • cancer
  • leo
  • virgo
  • libra
  • scorpio
  • sagittorius
  • capricorn
  • aquarius
  • pisces
aries

বেফাঁস মন্তব্যে বন্ধুর সঙ্গে মনোমালিন্য। সম্পত্তি নিয়ে ভ্রাতৃবিরোধ। সৃষ্টিশীল কাজে আনন্দ। কর্মসূত্রে দূর ভ্রমণের সুযোগ।প্রতিকার— ... বিশদ


ইতিহাসে আজকের দিন

১৫৩৯: পাঞ্জাবের শহর কর্তারপুরে প্রয়াত গুরু নানক
১৭৯১: ইংরেজ বিজ্ঞানী মাইকেল ফ্যারাডের জন্ম
১৮৮৮: ন্যাশনাল জিওগ্রাফিক ম্যাগাজিন প্রথম প্রকাশিত
১৯১৫ - নদিয়া পৌরসভার নামকরণ বদল করে করা হয় নবদ্বীপ পৌরসভা
১৯৩৯: প্রথম এভারেস্ট জয়ী মহিলা জুনকো তাবেইয়ের জন্ম
১৯৬২ – নিউজিল্যাণ্ডের প্রাক্তন ক্রিকেটার তথা ধারাভাষ্যকার মার্টিন ক্রোর জন্ম
১৯৬৫: শেষ হল ভারত-পাকি স্তান যুদ্ধ। রাষ্ট্রসংঘের আহ্বানে সাড়া দিয়ে দু’দেশ যুদ্ধ বিরতি ঘোষণা করল
১৯৭০: লেখক শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়ের মৃত্যু
১৯৭৬: ব্রাজিলের প্রাক্তন ফুটবলার রোনাল্ডোর জন্ম
১৯৮০: ইরান আক্রমণ করল ইরাক
১৯৯৫: নাগারকোভিল স্কুলে বোমা ফেলল শ্রীলঙ্কার বায়ুসেনা। মৃত্যু হয় ৩৪টি শিশুর। যাদের মধ্যে বেশিরভাগই তামিল
২০১১: ক্রিকেটার মনসুর আলি খান পতৌদির মৃত্যু

ক্রয়মূল্য বিক্রয়মূল্য
ডলার ৬৯.১৯ টাকা ৭২.৭০ টাকা
পাউন্ড ৮৬.৪৪ টাকা ৯১.১২ টাকা
ইউরো ৭৬.২৬ টাকা ৮০.৩৮ টাকা
[ স্টেট ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়া থেকে পাওয়া দর ]
21st  September, 2019
পাকা সোনা (১০ গ্রাম) ৩৮, ৩৩৫ টাকা
গহনা সোনা (১০ (গ্রাম) ৩৬, ৩৭০ টাকা
হলমার্ক গহনা (২২ ক্যারেট ১০ গ্রাম) ৩৬, ৯১৫ টাকা
রূপার বাট (প্রতি কেজি) ৪৬, ১০০ টাকা
রূপা খুচরো (প্রতি কেজি) ৪৬, ২০০ টাকা
[ মূল্যযুক্ত ৩% জি. এস. টি আলাদা ]

দিন পঞ্জিকা

৫ আশ্বিন ১৪২৬, ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৯, রবিবার, অষ্টমী ৩৫/৫৪ রাত্রি ৭/৫০। মৃগশিরা ১৫/৪৪ দিবা ১১/৪৬। সূ উ ৫/২৮/৪০, অ ৫/৩০/৩৮, অমৃতযোগ দিবা ৬/১৬ গতে ৮/৪১ মধ্যে পুনঃ ১১/৫৪ গতে ৩/৭ মধ্যে। রাত্রি ৭/৫৫ গতে ৯/৩০ মধ্যে পুনঃ ১১/৫৪ গতে ১/২৯ মধ্যে পুনঃ ২/১৭ গতে উদয়াবধি, বারবেলা ৯/৫৯ গতে ১/০ মধ্যে, কালরাত্রি ১২/৫৯ গতে ২/২৯ মধ্যে।
৪ আশ্বিন ১৪২৬, ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৯, রবিবার, অষ্টমী ২৩/৭/৩২ দিবা ২/৪৩/৩১। মৃগশিরা ৬/৫২/৫৬ দিবা ৮/১৩/৪০, সূ উ ৫/২৮/৩০, অ ৫/৩২/৩০, অমৃতযোগ দিবা ৬/২০ গতে ৮/৪১ মধ্যে ও ১১/৪৭ গতে ২/৫৪ মধ্যে এবং রাত্রি ৭/৪২ গতে ৯/২১ মধ্যে ও ১১/৪৯ গতে ১/২৭ মধ্যে ও ২/১৭ গতে ৫/২৯ মধ্যে, বারবেলা ১০/০/০ গতে ১১/৩০/৩০ মধ্যে, কালবেলা ১১/৩০/৩০ গতে ১/১/০ মধ্যে, কালরাত্রি ১/০/০ গতে ১১/৩০/৩০ মধ্যে।
 ২২ মহরম

ছবি সংবাদ

এই মুহূর্তে
মাথাভাঙায় তৃণমূল কাউন্সিলরের বাড়ি লক্ষ্য করে বোমাবাজি
 

গতকাল গভীর রাতে মাথাভাঙা শহরের ১২ নং ওয়ার্ডের তৃণমূল কাউন্সিলারের ...বিশদ

01:41:00 PM

ফের রাজীব কুমারের আবাসনে হানা সিবিআইয়ের
ফের রাজীব কুমারের বাড়িতে গেলেন সিবিআই আধিকারিকরা। এদিন সকালে আলিপুর ...বিশদ

01:10:00 PM

এরআরসি আতঙ্ক, বসিরহাটে আত্মহত্যা এক ব্যক্তির  
ফের এনআরসি আতঙ্কের ছায়া। বসিরহাট এক নম্বর ব্লকের সোলাদানা গ্রামে ...বিশদ

12:29:00 PM

মোবাইলের টাওয়ার বসানোর নামে প্রতারণা, অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করল বিধাননগর সাইবার ক্রাইম পুলিস 

11:25:00 AM

রাজীব কুমার ঘনিষ্ঠ ৪ জনকে জিজ্ঞাসাবাদ সিবিআইয়ের, রয়েছেন ২ ব্যবসায়ীও 

11:00:00 AM

বিশাখাপত্তনামে স্ত্রী, কন্যাকে খুন করে আত্মঘাতী এক ব্যক্তি 

10:35:00 AM