Bartaman Patrika
বিশেষ নিবন্ধ
 

ঐতিহাসিক নভেম্বর বিপ্লব: ফিরে দেখা
জিষ্ণু বসু

রুশ বিপ্লবের গৌরবগাথা শুনেই আজকের বাঙালি বড় হয়েছে। জারের অত্যাচার থেকে রাশিয়ার মানুষকে বাঁচানোর জন্য বিপ্লব হয়েছিল কমরেড লেনিনের নেতৃত্বে। আশির দশক পর্যন্ত বাঙালির ঘরে ঘরে ‘সোভিয়েত দেশ’ পত্রিকা আসত। ওইসব পত্রিকায় প্রকাশিত ছবি দেখে আর দেশের বর্ণনা পড়ে মনে হতো পৃথিবীতে যদি স্বর্গ কোথাও থেকে থাকে তো সেটা সোভিয়েত রাশিয়া। আর এই স্বর্গের যিনি নির্মাতা তিনি কমরেড জোসেফ স্তালিন।
১৯৯১ সালে সোভিয়েত ইউনিয়ন যখন ভেঙে গেল কেবল তখনই বাইরের সংবাদমাধ্যম রাশিয়ার ভেতরটা দেখতে পেল। দেখা গেল স্বর্গ তো দূরের কথা, দারিদ্র্য, অপুষ্টি, দুর্নীতিতে জর্জরিত দেশটার অবস্থা নরকের থেকেও খারাপ। ক্ষুধা এতটাই ভীষণ যে একটি ১৭ বছরের মেয়ে একবেলা পেট ভরে খেতে পাওয়ার বিনিময়ে জীবনের সবটুকু দিতেও রাজি আছে! সবকিছুই লুকিয়ে রাখা হতো। চেরনোবিল-এর পরমাণু বিদ্যুৎকেন্দ্রের ভয়ানক ঘটনাও কমিউনিস্ট সরকার প্রথমে লুকাবার চেষ্টা করেছিল।
সোভিয়েতের পতনের পরে ধীরে ধীরে সব সত্য সামনে এসে গেল। এমনকী রুশ গোয়েন্দা সংস্থা কেজিবি’র অতি গোপন ফাইলও সারা পৃথিবীর মানুষ দেখতে পেল। আজকের গবেষণার মাধ্যমে প্রাপ্ত বিস্তৃত বর্ণনা, বৈজ্ঞানিক যুক্তিবোধ এসবের নিরিখে নভেম্বর বিপ্লবের পুনর্মূল্যায়ন প্রয়োজন। কেবল কমিউনিজমের প্রতি ভক্তিভাব নিয়ে এই ঐতিহাসিক ঘটনার বিশ্লেষণ করা এক ধরনের ধর্মান্ধতা। আধুনিক যুক্তির আলোকে রুশ বিপ্লবের ঘটনাকে ফিরে দেখা প্রয়োজন।
প্রথমেই বলা দরকার যে, ১৯১৭ সালের নভেম্বর মাসের ৭ তারিখে মস্কোতে জারের শাসনের পতন হয়নি। সে বছর ফেব্রুয়ারি মাসেই জারের সাম্রাজ্য শেষ হয়ে গিয়েছিল। দেশে একটি গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থা শুরু হয়েছিল। একটি তত্ত্বাবধায়ক সরকার, কিয়েরেনস্কির নেতৃত্বে একটি মন্ত্রিসভা আর দেশের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে ধরে রাখার জন্য একটি সংসদও গঠিত হয়েছিল, রুশ ভাষায় যাকে ‘ডুমা’ বলা হতো। ৭ নভেম্বর মধ্যরাত্রে বলশেভিকরা এই ডুমার সদস্যদের হত্যা করে ক্ষমতা দখল করে। ত্রোৎস্কির নেতৃত্বে বলশেভিকদের এই অভিযানে সহায়তা করেছিলেন ‘জার্মান গোল্ড’ দিয়ে কেনা সরকারি আধিকারিক ও সৈনিকদের একাংশ। গণতন্ত্র সমাপ্ত হওয়ার পরে, ৮ নভেম্বর অজ্ঞাতবাস থেকে আত্মপ্রকাশ করেন ভ্লাদিমির ইলিচ উলিওনভ ওরফে লেনিন। পেত্রোগার্দ, মানে আজকের সেন্ট পিটার্সবাগে ঐতিহাসিক ভাষণ দেন লেনিন।
৫ মে ১৯২০ আরও একটি বিখ্যাত ভাষণ দেন লেনিন। মস্কোর শ্রেদলোফ স্কোয়ারে সেই বক্তৃতাস্তম্ভের ঠিক নীচে দাঁড়িয়েছিলেন লিঁওফ ত্রোৎস্কি। যাঁর আসল নাম ছিল লেভ ডাভিডোভিচ ব্রণস্টেইন। পরে অবশ্য স্তালিন সেই ছবিটিকে বিকৃত করে বিশ্বের দরবারে পেশ করেন। ত্রোৎস্কিকে সরিয়ে সেখানে কয়েকটি কাঠের তক্তা রাখা হয়। সেটা ফটোশপের যুগ ছিল না, তবু রুশ শিল্পীরা ভালোই কাজ করেছিলেন কমরেড স্তালিনের আদেশে। ঐতিহাসিক ওই দিনগুলির কথা বিস্তৃতভাবে লিখেছিলেন এক তরুণ মার্কিন সাংবাদিক জন রিড। ‘দুনিয়া কাঁপানো দশ দিন’ পুস্তকে ত্রোৎস্কির বীরত্বের কথাই বলা আছে। ১৯১৯ সালে লেনিন এই বইটি প্রসঙ্গে বলেছিলেন, ‘পৃথিবীর শ্রমিকদের কাছে এই বইটি পড়ার জন্য আমি সুপারিশ করছি। আমি চাই পৃথিবীর সব ভাষায় এই সত্যনিষ্ঠ বইটির কোটি কোটি কপি ছাপা হোক’। ১৯২০ সালের ১৭ অক্টোবর জনের মাত্র ৩৩ বছর বয়সে মৃত্যু হওয়ার পর তাঁকে অত্যন্ত সম্মানের সঙ্গে ক্রেমলিন ওয়াল নেক্রোপলিস প্রাঙ্গণে সমাহিত করা হয়। কিন্তু লেনিনের মৃত্যুর পরে পরিস্থিতি দ্রুত পাল্টাতে থাকে। যেহেতু জন রিড তাঁর গ্রন্থে স্তালিনের ভূমিকা বিশেষ বর্ণনা করেননি, তাই খোদ রাশিয়াতেই নিষিদ্ধ হয়ে গেল ‘দুনিয়া কাঁপানো দশ দিন’।
শুরু হল ত্রোৎস্কিকে মুছে ফেলার পালা। ত্রোৎস্কি ১৯১৮ সালের বসন্তে ‘রেড আর্মির’ প্রধান হয়েছিলেন। সেই বীরকেই নিজের দেশ ছেড়ে যেতে হল প্রাণ বাঁচাতে, স্ত্রী আর পুত্রকে নিয়ে পৃথিবীর এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে। প্রথমে তুরস্কে, তারপর ফ্রান্সে, এরকম হতে হতে তাঁর শেষ ঠিকানা হয়েছিল মেক্সিকো। কিন্তু ১৯৩৯ সালের শেষের দিকে স্তালিন ত্রোৎস্কিকে মারার জন্য এন কে ভি ডি’র আধিকারিক পাভেল সুডোপলাটভকে নিয়োগ করলেন। তাঁরা মেক্সিকোর স্থানীয় দু-একজন পেশাদার খুনিকেও ভাড়া করেন। ১৯৪০ সালের ২৪ মে এই দল ত্রোৎস্কির বাড়ি আক্রমণ করে, তাঁর ১৪ বছরের নাতিকে গুলি করে আততায়ীরা। সেই বছর ৮ জুন ত্রোৎস্কি লিখলেন, ‘স্তালিন আমার মৃত্যু চান।’ তারপর শেষের সেই দিন এসে গেল। ১৯৪০ সালের ২০ আগস্ট বরফ কাটার কুড়ুল দিয়ে মাথার পিছনে আঘাত করা হল তাঁকে। একদিন পরেই মৃত্যু হল লেনিনের মূল সহযোগী ত্রোৎস্কির, হত্যার মূল যন্ত্রী ছিলেন জোসেফ স্তালিন।
রোমানভ পরিবারের হত্যাকাণ্ডও পৃথিবীর নির্মমতার ইতিহাসে এক কলঙ্কজনক অধ্যায়। জার দ্বিতীয় নিকোলাস তো বহুদিন ক্ষমতাচ্যুত হয়েছিলেন। তার পর থেকে ওই পরিবারকে জবাই করতে
আনা পশুর মতো এক স্থান থেকে অন্য স্থানে
নেওয়া হতে থাকে।
পরিবারের সদস্যরা; জার, জারিনা আলেকজান্দ্রা, চার মেয়ে ওলগা, মারিয়া, তাতিয়ানা, আনাস্তাসিয়া, একটি মাত্র ছোট ছেলে অ্যালেক্সি। ইকাটেরিনবুর্গের এক ইঞ্জিনিয়ারকে হত্যা করেছিল বলশেভিকরা। শেষে সেই বাড়িটাতেই রোমানভদের রাখা হয়েছিল। বাড়ির কোনও দরজায় ছিটকানি ছিল না। চার-চারটি প্রাপ্তবয়স্ক মেয়েকে নিয়ে জারিনার জীবন মৃত্যুর সমান হয়ে গিয়েছিলেন। বাইরের যে কোনও লোক তাঁদের শয়ন কক্ষে, স্নানঘরে ঢুকে পড়ত। এত অত্যাচার করেও ওই পরিবারের সদস্যদের নিস্তার দেওয়া হয়নি। ১৯১৮ সালের ১৭ জুলাই ওই পরিবারের সব সদস্যকে গুলি করে হত্যা করা হয়। দুটি মেয়ে গুলি লাগার পরেও নড়ছিল। তাই বলশেভিকরা তাদের বেয়নেট দিয়ে খুঁচিয়ে খুঁচিয়ে মৃত্যু নিশ্চিত করে।
ইউরোভস্কি নামে চেকার এক অফিসার এই হত্যাকাণ্ডের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। তিনিই জারকে এক লাইনের বিচার শুনিয়েছিলেন, ‘নিকোলাই আলেকজান্দ্রোভিচ, যেহেতু তোমার আত্মীয়রা এখনও সোভিয়েত রাশিয়ার বিরুদ্ধে লড়াই চালাচ্ছে, তাই ইউরাল এক্সিকিউটিভ কমিটি তোমাদের হত্যা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।’ জার বাচ্চাদের দেখছিলেন, একবার জিজ্ঞাসা করলেন, ‘কী? কী বললে?’ ইউরোভস্কি ঝটপট রায়টি আরেকবার পড়েই নিজের কোল্ট রিভলভার বের করে গুলি চালানো শুরু করলেন। মারিয়া, ওলগা পালানোর চেষ্টা করেছিল। কিন্তু মিলিটারি অফিসার পিটার ইরমাকভের বন্দুক গর্জে উঠল। এই হত্যাকাণ্ডের বিস্তৃত বর্ণনা ইউরোভস্কি শ্রদ্ধাভরে মস্কোতে পাঠিয়েছিলেন।
এতকিছুর পরেও যে শাসন ব্যবস্থা রাশিয়াতে এসেছিল, তা যে কত নিষ্ঠুর ছিল সেটাও আলোচনা প্রয়োজন। সোভিয়েত ইউনিয়নের ভেতরে মানুষ কেমন ছিলেন? সে স্বপ্নের কথা শুনে বাংলার দুই প্রজন্ম বড় হয়েছে। সেই শ্রেণীহীন সমাজ বা সমগ্র সমাজে শ্রেণীচেতনার বিকাশ কেমন হয়েছিল? ১৯৯১ সালে সাত দশকের সোভিয়েত শাসনের পরে যখন ইউনিয়ন ভেঙে গেল তখন তার থেকে চারটি ইসলামিক রাষ্ট্র আজারবাইজান, তুর্কমেনিস্তান, কাজাকিস্তান আর উজবেকিস্তানের জন্ম হয়েছে। এত বছরের কমিউনিস্ট শাসনেও এইসব জায়গায় একবিন্দুও শ্রেণীচেতনা বাড়েনি আর মৌলবাদের প্রভাবও কমেনি।
কমিউনিস্ট শাসকরা এক একটি প্রাচীন জাতির উপর নিজেদের মত চাপিয়েছিলেন। যেসব জনগোষ্ঠী তা মানতে চায়নি তাদের উপর নির্দয় অত্যাচার নেমে এসেছে। এই রকম শত শত মর্মন্তুদ ঘটনার মধ্যে সবচেয়ে হৃদয়বিদারক ছিল ইউক্রেনের ‘হলোডোমার’। হলোডোমার অপারেশন স্তালিন চালিয়েছিলেন ১৯৩১-৩২ সালে। কেবল খাদ্যশস্য বন্ধ করে দিয়ে স্তালিন এক বছরের কিছু বেশি সময় প্রায় ১ লক্ষ ৩০ হাজার সাধারণ ইউক্রেনবাসীকে হত্যা করেছিলেন।
যতদিন পর্যন্ত সোভিয়েত ইউনিয়নের অস্তিত্ব ছিল ততদিন সারা পৃথিবীতে কমিউনিজমের নামে এই নিষ্ঠুরতাকে নির্লজ্জভাবে চালানো হয়েছে। শিক্ষিত রুচিশীল বাঙালি বুদ্ধিজীবীদের একাংশ বৃহত্তর মানবিক স্বার্থের নামে এইসব অমানবিক কাজের সমর্থন করতেন। ডুমা সদস্যদের হত্যা এক অর্থে গণতন্ত্রের হত্যাই ছিল। গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার সমাপ্তি না ঘটালে সর্বহারার একনায়কতন্ত্র সম্ভব নয়। তাই গণতান্ত্রিক পদ্ধতির সঙ্গে যারাই যুক্ত, তাদেরকে শেষ করলেই বিশ্বজুড়ে যৌথ খামার হবে। এই আকাশকুসুম কল্পনাতে লক্ষ লক্ষ নিরীহ মানুষের প্রাণ গেছে।
এই বছরই এপ্রিল মাসে ওড়িশার কান্দামাল জেলায় লোকসভা ভোটের সময় সংযুক্তা দিগলের হত্যায় আবার এক প্রশ্ন সামনে উঠে এল। ৩১ বছরের তফসিলি জাতির দরিদ্র পরিবারের মেয়ে সংযুক্তা ছিলেন প্রথম প্রজন্মের শিক্ষিত। সরকারি আধিকারিকের চাকরি পেয়েছিলেন নিজের যোগ্যতায়। গত বছরই বিয়ে হয়েছিল সংযুক্তার। কিন্তু অতিবিপ্লবীরা ভোট নিতে যাওয়ার অপরাধে তাঁর সব স্বপ্ন শেষ করে দিল। নভেম্বর বিপ্লবের শতবর্ষে ‘দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নালে’ ডেভিড স্যাটারের একটি প্রবন্ধ প্রকাশিত হয়েছিল, ‘হান্ড্রেড ইয়ার্স অফ কমিউনিজম অ্যান্ড হান্ড্রেড মিলিয়ন ডেড’। লেখায় উঠে এসেছে গত ১০০ বছরে বিপ্লবের নামে কীভাবে ১০ কোটি মানুষের প্রাণ গিয়েছে।
এই তালিকায় যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক গোপালচন্দ্র সেন বা কান্দামালের সংযুক্তা দিগলের মতো নিরপরাধ মানুষের নামও যুক্ত হওয়া উচিত। ঐতিহাসিক নভেম্বর বিপ্লবের দিবস সেই সব মানুষের বলিদানেরও স্মরণের দিন।
 লেখক কলকাতায় সাহা ইনস্টিটিউট অফ
নিউক্লিয়ার ফিজিক্স-এ কর্মরত।
07th  November, 2019
ব্যাঙ্কের রাহুমুক্তি কবে? তাকিয়ে দেশের মানুষ
মৃণালকান্তি দাস

 সাম্প্রতিক কালে দেশের বিভিন্ন ব্যাঙ্কে একের পর এক প্রতারণার অভিযোগ সামনে আসার পরে অস্বস্তি বেড়েছে মোদি সরকারের। সেই অস্বস্তি আরও কয়েক দফা বাড়িয়ে রিজার্ভ ব্যাঙ্কের বার্ষিক রিপোর্ট জানিয়েছে, গত অর্থবর্ষে বিভিন্ন ব্যাঙ্কে প্রতারণা-জালিয়াতির ঘটনা বেড়েছে আরও অনেকখানি। প্রায় ১৫ শতাংশ। শুধু তাই নয়, প্রতারণা সবচেয়ে বেশি হয়েছে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কগুলিতেই। জানা গিয়েছে, চলতি অর্থবর্ষের প্রথম ছ’মাসে দেশের রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কগুলিতে ৯৫,৭০০ কোটি টাকার বেশি প্রতারণা হয়েছে। এপ্রিল থেকে সেপ্টেম্বরের মধ্যে প্রতারণার ঘটনা ছুঁয়েছে ৫,৭৪৩টি। সম্প্রতি এই কথা জানিয়েছেন খোদ অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন। যেখানে তার আগের বছর ২,৮৮৫টি ঘটনায় নয়ছয়ের অঙ্ক ছিল ৩৮,২৬০ কোটি। প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক, কেন্দ্র বার বার নজরদারিতে জোর দেওয়ার কথা বললেও, প্রতারণা এতখানি বাড়ছে কী করে? কে বা কারা করছে এই প্রতারণা?
বিশদ

তিন বিধানসভা কেন্দ্রের উপনির্বাচন: মিলবে লোকসভা-উত্তর রাজ্য-রাজনীতির মতিগতি
বিশ্বনাথ চক্রবর্তী

 ২০১৯ সালে লোকসভা নির্বাচনের পর রাজ্যে প্রথম তিনটি বিধানসভা কেন্দ্রের উপনির্বাচনের জন্য ভোটগ্রহণ আগামী ২৫ নভেম্বর,ফলাফল ২৮ নভেম্বর। খড়্গপুর সদর করিমপুর এবং কালিয়াগঞ্জ বিধানসভা কেন্দ্রের উপনির্বাচনের ফলাফল থেকে বিবাদমান রাজ্য-রাজনীতির একাধিক প্রশ্নের উত্তর মিলতে পারে। বিশদ

21st  November, 2019
ভারত-মার্কিন সহযোগিতাই ঠেকাতে পারবে
অ্যান্টিবায়োটিকের যথেচ্ছ ব্যবহারের বিপদ 
কেনেথ আই জাস্টার

কেউ কি ভাবতে পেরেছিল, সামান্য একটি ছাতাপড়া ‘মেলন’ জাতীয় ফলের ভিতর লুকিয়ে রয়েছে অগণিত মানুষের জিয়নকাঠি? হ্যাঁ, পেনিসিলিন—এটাই হল সর্বপ্রথম অ্যান্টিবায়োটিক।   বিশদ

20th  November, 2019
শিবসেনা ও একটি পরম্পরার অপমৃত্যু
শান্তনু দত্তগুপ্ত

শিবাজি পার্কের জনসভায় তির-ধনুকটা নামিয়ে বক্তৃতা শুরু করতে গিয়েও থমকে গেলেন বাল থ্যাকারে। শব্দবাজির দাপট কানের যাবতীয় সহ্যক্ষমতা অতিক্রম করছে। সঙ্গে চিৎকার... উল্লাস। অপেক্ষা করছেন শিবসেনা ‘প্রমুখ’। তির-ধনুক তাঁর দলের প্রতীক। পৌরুষের প্রতীক। তিনি নিজেও তাই। ১৯৯৫ সালের বিধানসভা ভোটের শেষ পর্বের প্রচার।  
বিশদ

19th  November, 2019
প্রচলিত ছকে মৌসুমি বায়ু চরিত্র বোঝা যাচ্ছে না
শান্তনু বসু

২০১৯-এর এই উদ্বৃত্ত বৃষ্টিপাত আবহাওয়াবিদদের হিসেবেই ছিল না। উদ্বৃত্ত বৃষ্টিপাত ভূগর্ভস্থ জলস্তরকে পুনরুজ্জীবিত করবে সন্দেহ নেই, কিন্তু আগামী বছর যদি আরও দেরিতে কেরলে মৌসুমি বায়ু প্রবেশ করে, ভারতের কৃষি আবার অনিশ্চয়তায় চলে যাবে। চলতি বছরের উদ্বৃত্ত জলকে ধরে রাখা হয়েছে—এমন সুখবর কিন্তু নেই।
বিশদ

18th  November, 2019
একটি কাল্পনিক স্মরণসভা
সন্দীপন বিশ্বাস

সাদা কাপড়ে মোড়া মঞ্চজুড়ে সারি সারি চেয়ার-টেবিল। টেবিলের উপরে ফুলদানিতে সাদা ফুল। মঞ্চের একপাশে বড় একটি ছবি। তাতে সাদা মালা দেওয়া। শোকস্তব্ধ পরিবেশ। আজ এখানে প্রাক্তন নির্বাচন কমিশনার টি এন সেশনের স্মরণসভার আয়োজন করা হয়েছে। সেখানে সমাজের গণ্যমান্য সকলকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। অনেকেই এসেছেন।  
বিশদ

18th  November, 2019
মূল্যবোধের রাজনীতি ও
মহারাষ্ট্রের কুর্সির লড়াই
হিমাংশু সিংহ

আজকের নির্বাচনী রাজনীতি যে কতটা পঙ্কিল ও নোংরা তারই জ্বলন্ত প্রমাণ আজকের মহারাষ্ট্র। সঙ্কীর্ণ স্বার্থসর্বস্ব রাজনীতিতে ক্ষমতা দখলের নেশায় ছোটবড় প্রতিটি রাজনৈতিক দলই আজ মরিয়া। মহারাষ্ট্রের ফল বেরনোর পর গত তিন সপ্তাহের রাজনীতির নাটকীয় ওঠাপড়া সেই অন্ধকার দিকটাকেই বড় প্রকট করে তুলেছে। ভোটের ফল ও কে মুখ্যমন্ত্রীর কুর্সিতে বসবেন তা নিয়ে দুই পুরনো জোট শরিকের দ্বন্দ্ব যে দেশের বাণিজ্য পীঠস্থান মুম্বই তথা মহারাষ্ট্রকে এমন নজিরবিহীন সঙ্কটে ফেলবে, তা কে জানত? যে জোট পাঁচ বছর ধরে রাজ্য শাসন করল এবং এবারও গরিষ্ঠতা পেল, সেই জোটই ভেঙে খান খান!
বিশদ

17th  November, 2019
ঘর ওয়াপসি ও কিছু প্রশ্ন
তন্ময় মল্লিক

 ঘর ওয়াপসি। ঘরে ফেরা। ‘ভাইজান’ সিনেমার ছোট্ট মুন্নির ঘরে ফেরার কাহিনীর দৌলতে ‘ঘর ওয়াপসি’ এখন আমবাঙালির অতি পরিচিত শব্দ। সেই পরিচিত শব্দটি অতি পরিচিতির মর্যাদা পেয়েছে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক নেতাদের একাংশের ঘন ঘন জার্সি বদলের দৌলতে।
বিশদ

16th  November, 2019
জল বেড়েছে, বোধ বাড়েনি
রঞ্জন সেন

 সমুদ্রের জলস্তর বাড়ার ফলে পৃথিবীর বহু উপকূলবর্তী দেশ ও দ্বীপ বিপন্ন হবে বলে পরিবেশবিজ্ঞানীরা আশঙ্কা প্রকাশ করছেন। তাঁরা এটাও বলছেন আমরা সবাই মিলে এবং রাষ্ট্রনায়কেরা চাইলে গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণ কমিয়ে এই অবস্থার মোকাবিলা করতে পারি। বিশদ

16th  November, 2019
সংবিধানই পথ
সমৃদ্ধ দত্ত

 তিন বছর ধরে সংবিধান রচনার কাজ অবশেষে যখন সমাপ্ত হল, তখন ১৯৪৯ সালের ২৫ নভেম্বর ভারতীয় সংবিধানের চূড়ান্ত খসড়া পেশ করে সংবিধান-সভায় তাঁর সর্বশেষ বক্তৃতায় সংবিধান রচনা কমিটির চেয়ারম্যান ড.ভীমরাও আম্বেদকর আশঙ্কা প্রকাশ করেছিলেন, ভারতের এই সংবিধানের মূল সুর এবং গণতন্ত্র কি আদৌ শেষ পর্যন্ত আগামী দিনে রক্ষা করা সম্ভব হবে? বিশদ

15th  November, 2019
পঞ্চাশোর্ধ্বে বানপ্রস্থ?
অতনু বিশ্বাস

পঞ্চাশ ছুঁই-ছুঁই হয়ে একটা প্রায় বৃদ্ধ-বৃদ্ধ ভাব এসেছে আমার মধ্যে। সেটা খুব অস্বাভাবিক হয়তো নয়। এমনিতেই চারপাশের দুনিয়াটা বদলে গিয়েছে অনেক। চেনা-পরিচিত বাচ্চা বাচ্চা ছেলেমেয়েগুলো হঠাৎ যেন বড় হয়ে গিয়েছে। আমাকে ডাকনাম ধরে ডাকার লোকের সংখ্যাও কমে যাচ্ছে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে। বুড়ো হবার সব লক্ষণ একেবারে স্পষ্ট। 
বিশদ

14th  November, 2019
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির দৃঢ় নীতির
কাছে ভারতের স্বার্থটাই সবার উপরে
অমিত শাহ

 মোদিজির নেতৃত্বাধীন উন্নতশির ভারতের কথা বিবেচনা করে আরসিইপি সদস্য রাষ্ট্রগুলি বেশিদিন আমাদের এড়িয়ে থাকতে পারবে না। তারা আমাদের শর্তে ভারতের সঙ্গে বাণিজ্যে রাজি হবে। এর মধ্যে আমরা এফটিএ মারফত আসিয়ান রাষ্ট্রগুলির সঙ্গে অর্থনৈতিক সম্পর্করক্ষায় সফল হয়েছি। আরসিইপি প্রত্যাখ্যান করে চীনের সম্ভাব্য গ্রাস থেকে আমাদের শিল্পকে আমরা দৃঢ়তার সঙ্গে সুরক্ষা দিতে পেরেছি। আমাদের জন্য ভারতের স্বার্থটাই সবার আগে। বিশদ

13th  November, 2019
একনজরে
 কলম্বো, ২১ নভেম্বর (পিটিআই): শ্রীলঙ্কার নয়া প্রধানমন্ত্রী হিসেবে বৃহস্পতিবার শপথ নিলেন মহিন্দা রাজাপাকসে। কয়েকদিন আগেই তাঁর ভাই গোতাবায়া রাজাপাকসে সে দেশের নয়া রাষ্ট্রপতি পদে শপথগ্রহণ ...

 নয়াদিল্লি, ২১ নভেম্বর (পিটিআই): আইএনএক্স মিডিয়া অর্থ তছরুপ মামলায় ২২ ও ২৩ নভেম্বর দু’দিন চিদম্বরমকে তিহার জেলেই জেরা করবে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)। ইডির এক আবেদনের ভিত্তিতে বৃহস্পতিবার এমনটাই অনুমতি দিয়েছে দিল্লি হাইকোর্ট। ...

বিএনএ, বাঁকুড়া: বুধবার রাতে বাঁকুড়া থানার মৌলাডাঙায় তালা ভেঙে পরপর দু’টি মন্দির থেকে লক্ষাধিক টাকার সোনা ও রুপোর গয়না চুরি গিয়েছে। বৃহস্পতিবার সকালে বিষয়টি জানাজানি হতেই এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়ায়। ...

অভিজিৎ চক্রবর্তী, পূর্বস্থলী, সংবাদদাতা: মন্তেশ্বরের দেনুড় অঞ্চলের ঐতিহ্যবাহী নকশি কাঁথা এবার ভিন রাজ্যে বিপণনের জন্য উদ্যোগী হল ব্লক প্রশাসন। সম্প্রতি, দিল্লির একটি মার্কেটিং সংস্থার এজেন্ট দেনুড়ের মৌসা, গালাতুন, ধেনুয়া গ্রামে এসে গৃহবধূদের হাতের তৈরি নকশি কাঁথা দেখেন।  ...




আজকের দিনটি কিংবদন্তি গৌতম
৯১৬৩৪৯২৬২৫ / ৯৮৩০৭৬৩৮৭৩

ভাগ্য+চেষ্টা= ফল
  • aries
  • taurus
  • gemini
  • cancer
  • leo
  • virgo
  • libra
  • scorpio
  • sagittorius
  • capricorn
  • aquarius
  • pisces
aries

উচ্চতর বিদ্যায় শুভ ফল। ব্যবসায় শুভ। প্রেম-ভালোবাসায় মনোমালিন্য। মেজাজ বর্জন করা উচিত। শেয়ার বা ফাটকায় ... বিশদ


ইতিহাসে আজকের দিন

১৭৭৪ -রবার্ট ক্লাইভের মৃত্যু
১৮৫৬ - বিধবা বিবাহ আইনের প্রেক্ষাপটে ‘সংবাদ প্রভাকর’ পত্রিকায় এই মর্মে বিজ্ঞপ্তি ছাপা হয় যে, বিধবা বিবাহ করলে বরকে এক হাজার টাকা নগদ পুরস্কার দেওয়া হবে
১৮৭৭ - টমাস আলফা এডিসন গ্রামোফোন যন্ত্র আবিস্কার করেন
১৯৩৯: রাজনীতিক মুলায়ম সিং যাদবের জন্ম
১৯৬৩: টেক্সাসে খুন হলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জন এফ কেনেডি। হামলায় গুরুতর আহত হন টেস্কাসের গভর্নর জন কোনালি’ও। সন্দেহভাজন লি হার্ভে অসওয়াল্ডকে ধরা হল দু’দিন পর পুলিসি হেপাজতে তাকে গুলি করে হত্যা করে জ্যাক রুবি।
১৯৬৭: টেনিস তারকা বরিস বেকারের জন্ম
১৯৭০: শ্রীলঙ্কার ক্রিকেটার মারভান আত্তাপাত্তুর জন্ম
১৯৮৬: ট্রেভর বারবিককে হারিয়ে বক্সিংয়ের ইতিহাসে তরুণতম হেভিওয়েট চ্যাম্পিয়ন হলেন মাইক টাইসন
১৯৮৬: দক্ষিণ আফ্রিকার প্রতিবন্ধী অ্যাথলিট অস্কার পিস্টোরিয়াসের জন্ম
১৯৮৭ - সুরকার ও সঙ্গীতশিল্পী হেমাঙ্গ বিশ্বাসের মৃত্যু
১৯৯৫: প্রকাশিত হল কম্পিউটার ইমেজ দিয়ে তৈরি প্রথম ফিচারধর্মী ছবি ‘টয় স্টোরি’
২০০৩: বাগদাদে ডি এইচ এল এক্সপ্রেস নামক পণ্যবাহী বিমানে ভূমি থেকে আকাশ ক্ষেপণাস্ত্রের মাধ্যমে আঘাত হানে জঙ্গিরা। ওড়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই এই হামলায় বিমানটির বাঁদিকে পাখা ক্ষতিগ্রস্তগ্রস্ত হয়। জরুরি অবতরণ করতে বাধ্য হয় সেটি





ক্রয়মূল্য বিক্রয়মূল্য
ডলার ৭০.২৪ টাকা ৭৩.৪১ টাকা
পাউন্ড ৯০.৭২ টাকা ৯৫.১০ টাকা
ইউরো ৭৭.৭১ টাকা ৮১.৪৮ টাকা
[ স্টেট ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়া থেকে পাওয়া দর ]
পাকা সোনা (১০ গ্রাম) ৩৮,৭৫০ টাকা
গহনা সোনা (১০ (গ্রাম) ৩৬,৭৬৫ টাকা
হলমার্ক গহনা (২২ ক্যারেট ১০ গ্রাম) ৩৭,৩১৫ টাকা
রূপার বাট (প্রতি কেজি) ৪৫,১০০ টাকা
রূপা খুচরো (প্রতি কেজি) ৪৫,২০০ টাকা
[ মূল্যযুক্ত ৩% জি. এস. টি আলাদা ]

দিন পঞ্জিকা

৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৬, ২২ নভেম্বর ২০১৯, শুক্রবার, দশমী ৭/৪০ দিবা ৯/২। উত্তরফাল্গুনী ২৬/৪৯ অপঃ ৪/৪১। সূ উ ৫/৫৭/২৪, অ ৪/৪৭/৪৮, অমৃতযোগ দিবা ৬/৪১ মধ্যে পুনঃ ৭/২৪ গতে ৯/৩৫ মধ্যে পুনঃ ১১/৪৪ গতে ২/৩৮ মধ্যে পুনঃ ৩/২১ গতে অস্তাবধি। রাত্রি ৫/৪০ গতে ৯/১১ মধ্যে পুনঃ ১১/৪৯ গতে ৩/২০ মধ্যে পুনঃ ৪/১৪ গতে উদয়াবধি, বারবেলা ৮/৪০ গতে ১১/২২ মধ্যে, কালরাত্রি ৮/৫ গতে ৯/৪৪ মধ্যে।
৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৬, ২২ নভেম্বর ২০১৯, শুক্রবার, দশমী ২/১৯/৪১ দিবা ৫/৫৬/১৯ পরে একাদশী ৫৬/২৭/৪২ শেষরাত্রি ৪/৩৪/৪১। উত্তরফাল্গুনী ২৩/৫৫/৪৯ দিবা ৩/৩৩/৫৬, সূ উ ৫/৫৯/৩৬, অ ৪/৪৭/২৯, অমৃতযোগ দিবা ৬/৫২ মধ্যে ও ৭/৩৫ গতে ৯/৪২ মধ্যে ও ১১/৫৩ গতে ২/৪৩ মধ্যে ও ৩/২৩ গতে ৪/৪৭ মধ্যে এবং রাত্রি ৫/৪২ গতে ৯/১৫ মধ্যে ও ১১/৫৬ গতে ৩/২৯ মধ্যে ও ৪/২৩ গতে ৫/৫৯ মধ্যে, বারবেলা ৮/৪১/৩৪ গতে ১০/২/৩৩ মধ্যে, কালবেলা ১০/২/৩৩ গতে ১১/২৩/৩২ মধ্যে, কালরাত্রি ৮/৫/৩১ গতে ৯/৪৪/৩২ মধ্যে।
২৪ রবিয়ল আউয়ল

ছবি সংবাদ

এই মুহূর্তে
২১৬ পয়েন্ট পড়ল সেনসেক্স 

03:55:14 PM

ইডেন টেস্ট: বাংলাদেশ ৭৩/৬ (মধ্যাহ্নভোজের বিরতি) 

03:20:55 PM

ইডেন টেস্ট: মাঠে খেলা দেখতে এলেন শোভন চট্টোপাধ্যায় 

02:12:00 PM

রায়গঞ্জে সেপটিক ট্যাঙ্কে পড়ে গিয়ে শিশুর মৃত্যু 
রায়গঞ্জে চার বছরের এক শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনায় এলাকায় শোকের ...বিশদ

01:58:00 PM

গৌড়বঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ে বিক্ষোভ, পড়ল পোস্টার 
মালদহের গৌড়বঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ে বিক্ষোভে শামিল হলেন অশিক্ষক কর্মীরা। উপাচার্য ও ...বিশদ

01:30:00 PM

ইংলিশবাজার পুরসভার সামনে বিক্ষোভ
 

বেহাল নিকাশি ব্যবস্থার অভিযোগ তুলে মালদহের ইংলিশবাজার পুরসভার সামনে বিক্ষোভ ...বিশদ

01:25:00 PM